জাতীয়

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর পথে সরকার, নতুন এডিপিতে থাকছে প্রাথমিক বরাদ্দ

আক্তারুজ্জামান মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এ দুটি সেতুর জন্য প্রাথমিক বরাদ্দও রাখা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দীর্ঘদিনের চাপ এবং বিদ্যমান যমুনা সেতুতে যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সমীক্ষা শেষে সেতু দুটির সম্ভাব্য রুট, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, নকশা, রেলসংযোগ ও ব্যয়সহ বিস্তারিত প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হবে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া রুটে। অন্যদিকে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান যমুনা সেতুর কাছাকাছি এলাকা ছাড়াও বগুড়া-জামালপুর এবং গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত সম্ভাব্য করিডোর বিবেচনায় রয়েছে।

 

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্রান্স, কোরিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কাজ করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা ডিপিপি তৈরি করা হবে।

 

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস বলেন, যানবাহনের চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেতু নির্মাণ দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হওয়ায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, দুটি সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা একসঙ্গে চলছে এবং সমীক্ষা শেষ হলে প্রকল্পের ব্যয়, অবস্থান, সময়কাল ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় জানা যাবে।

 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা জোগানের প্রস্তাব রয়েছে। নতুন এডিপিতে দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর প্রাথমিক কাজের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও দেশের পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ এখনো ফেরি পারাপারের ওপর নির্ভরশীল। এতে দীর্ঘ অপেক্ষা, যানজট ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে হয় যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনকে।

 

সরকারি পরিকল্পনায় ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং এতে রেলপথ সংযুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

 

অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে যমুনা সেতু বর্তমানে বড় চাপ বহন করছে। প্রতিদিন গড়ে ২২ থেকে ২৩ হাজার যানবাহন এ সেতু ব্যবহার করছে। সেতুটি তুলনামূলক সংকীর্ণ হওয়ায় প্রায়ই দুই প্রান্তে যানজট তৈরি হয়। ঢাকা-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়া এবং এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হলে এ চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংসদে জানিয়েছেন, সেতু কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনায় ২০৩৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের সুপারিশ রয়েছে। বর্তমানে এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর ঐক্যবদ্ধ ও অব্যাহত কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহির প্রক্রিয়ায় সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।     জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওআইসির রোহিঙ্গাবিষয়ক কন্টাক্ট গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলা হয়।       বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় এক দশক ধরে নিজেদের সীমিত সম্পদের মধ্যেও বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) আশ্রয় দিয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।       এতে আরও বলা হয়, প্রতিবছর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট এখন শুধু মানবিক সমস্যা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ছে।       বাংলাদেশের বক্তব্যে সতর্ক করে বলা হয়, অনিয়মিত সমুদ্রপথে যাতায়াত, মানব পাচার, মাদক পাচারসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে। সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, এসব ঝুঁকিও তত বাড়বে। আজকের নিষ্ক্রিয়তা আগামী দিনের হুমকিকে আরও তীব্র করতে পারে।       বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ জন্য মিয়ানমারে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।       ওআইসির ২০২৬-২০৩৫ সালের ১০ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বোঝা ও দায়িত্ব ভাগাভাগি আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।       বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জন্য ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন। কিন্তু ২০২৫ সালের তুলনায় এবারের আবেদন ২৬ শতাংশ কমানো হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এর অর্থ প্রয়োজন কমে যাওয়া নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার বাস্তবে কতটা অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব—তার প্রতিফলন।       এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকটে জরুরি, পূর্বানুমেয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা দিতে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রায় এক দশক ধরে এই সংকটের ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তার আওতায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ একা এই বোঝা বহন করতে পারবে না: বক্তব্যে এ বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।       রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) করা মামলায় ওআইসি সদস্য দেশগুলোর কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তার প্রশংসা করে বাংলাদেশ।       বক্তব্যে জানানো হয়, বাংলাদেশ সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্য ওআইসি তহবিলে প্রায় ১৩ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তায় ব্যবহারের কথা। একই সঙ্গে বাগদাদে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রত্যাশা জানানো হয়।       বাংলাদেশের বক্তব্যে বলা হয়, জবাবদিহি শুধু অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয় নয়; ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, তা প্রতিরোধের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহির ব্যবস্থাগুলোতে ওআইসির সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।       বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তিনটি তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—জাতিসংঘ ও আসিয়ানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা, ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের জন্য জরুরি ও পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহির প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা।     শেষে বলা হয়, প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি, মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারের পরীক্ষা নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে এই সংকটকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা যাবে না। মানবিক ক্লান্তি যেন রাজনৈতিক উদাসীনতায় পরিণত না হয়।     রোহিঙ্গাদের শুধু সাময়িকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ নয়, তাদের নিজ ভূমিতে একটি ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বক্তব্যে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ওআইসিকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ড. মঈন খানের

হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

পেনশন বঞ্চিত প্রতিবন্ধী ছেলের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির গুলশান বিভাগের নতুন ডিসি মোহাম্মদ রুহুল কবির খান

ছবি: সংগৃহীত
নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে বাংলাদেশে চালু হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা

কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত খবর ছড়িয়ে দেওয়া তার সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশে চালু হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’ নামে একটি সতর্কতা ব্যবস্থা।     এর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর তথ্য যাচাই করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। শিশু নিখোঁজ হলে টোল-ফ্রি ১৩২১৯ নম্বরে ফোন করে অথবা অনলাইনে তথ্য দিয়ে এ সেবার সহায়তা নেওয়া যায়।       বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ যৌথভাবে এই উদ্যোগ চালু করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা।     কোনো শিশু নিখোঁজ হলে পরিবারের প্রথমেই পুলিশকে বিষয়টি জানানো উচিত। পাশাপাশি মুন অ্যালার্টের ১৩২১৯ নম্বরে কল করে শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানানো যায়। এ ছাড়া munalert.org ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে সতর্কবার্তা দেওয়ার আবেদন করা সম্ভব।     মুন অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম তিন ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে যত দ্রুত নিখোঁজের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, তত দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করা সম্ভব।       তবে মুন অ্যালার্ট পুলিশের বিকল্প নয়; বরং পুলিশের অনুসন্ধানের পাশাপাশি তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।       মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে কোনো শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে দেওয়া হলে যাচাইকৃত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেল স্টেশন, এটিএম বুথ ও ব্যাংকের ডিজিটাল স্ক্রিনেও নিখোঁজ শিশুর ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মসজিদের মাইকেও শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।       মুন অ্যালার্টের সঙ্গে মেটার অংশীদারত্বের কারণে যাচাইকৃত নিখোঁজ শিশুর সতর্কবার্তা নির্দিষ্ট এলাকার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে কোনো ব্যক্তি শিশুটিকে দেখে থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য জানানোর সুযোগ পান।     কোনো মুন অ্যালার্ট নোটিফিকেশন পাওয়ার পর শিশুটিকে কোথাও দেখা গেছে বলে মনে হলে নিজের উদ্যোগে শিশুটির কাছে যাওয়া বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে পুলিশ অথবা সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। নোটিফিকেশনে থাকা শিশুটির ছবি, নাম, পোশাক ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখাও জরুরি।       মুন অ্যালার্ট জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের একটি উদ্যোগ। নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা এবং প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর রিপোর্টকে জরুরি গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।       বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে নিখোঁজ শিশু সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখে ফাউন্ডেশন ২০২৪ সালে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ’ পিটিশন চালু করে। এতে এক লাখ মানুষের সমর্থন পাওয়া যায়। এরপর চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় পাইলট উদ্যোগ হিসেবে মুন অ্যালার্টের কার্যক্রম শুরু হয় বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির সহযোগিতায়।       ‘মুন অ্যালার্ট’ নামটির পূর্ণরূপ Missing Urgent Notification। মুনতাহার স্মৃতিকে ধারণ করে এই নামকরণ করা হয়েছে। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা দেশে কার্যকর নিখোঁজ শিশু সতর্কতা ও সাড়াদান ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।       মুন অ্যালার্ট ১৩২১৯ হেল্পলাইন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর রিপোর্ট গ্রহণ করে। এরপর স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন এবং রিপোর্ট করা ঘটনার অগ্রগতি অনুসরণ করেন। যাচাইকৃত তথ্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারগুলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সহায়তা করা হয়।       ঢাকায় পাইলট কার্যক্রম শুরুর পর ২০২৬ সালের ২৫ মে আন্তর্জাতিক নিখোঁজ শিশু দিবসে মেটার সহযোগিতায় মুন অ্যালার্ট জাতীয়ভাবে চালু করা হয়। এই সহযোগিতার ফলে যাচাইকৃত নিখোঁজ শিশুর সতর্কবার্তা সংশ্লিষ্ট এলাকার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।       মুন অ্যালার্টের কার্যকারিতা নির্ভর করে নিখোঁজ শিশুর খবর কত দ্রুত জানানো হচ্ছে, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কত দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে, সতর্কবার্তা কত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ শিশুটিকে শনাক্ত করার পর কত দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন তার ওপর। তাই কোনো শিশু নিখোঁজ হলে দেরি না করে পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি মুন অ্যালার্টের ১৩২১৯ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হলেন আলীমুল আমীন

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানির দাম কমানোর দাবিতে মহাখালীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

জামতৈল স্টেশনে অস্ত্র হাতে যুবকদের ভিডিও, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

ছবি: সংগৃহীত
শাহজালালে বিমানের ফ্লাইটে অভিযান, শতাধিক স্বর্ণবার জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে শতাধিক স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ১০০টিরও বেশি স্বর্ণবার উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের পর বিমানবন্দরে তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা স্বর্ণের মোট সংখ্যা, ওজন এবং আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।   এ ছাড়া স্বর্ণের চালানটির সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।   কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই শেষে জানানো হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

আজমুল হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে খুলনায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

‘বিএনপি কোনো খুচরা দল নয়, জনগণের দল’ - বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সালাম

0 Comments