জাতীয়

চট্টগ্রামে পোশাকশ্রমিককে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

আক্তারুজ্জামান মে ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে এক নারী পোশাকশ্রমিককে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২ মে) দিবাগত রাতে ২ নম্বর মাইলের মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্রকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, গত ১ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত পপি তালুকদার (২২) চট্টগ্রাম ইপিজেডের ইয়ং ওয়ান গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তার স্বামী উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্র আগে চাকরি করলেও বর্তমানে বেকার ছিলেন। তিনি মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেশার টাকা নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন তিনি।

 

এজাহারে বলা হয়, গত ১ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় নেশার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্র স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় এক চিকিৎসককে বাসায় আনা হলে তিনি পরীক্ষা করে বলেন, পপির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে অভিযুক্ত স্বামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্বামীর বোন ও আত্মীয়রা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পপিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় শনিবার বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত পপি তালুকদারের বাবা। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত স্বামীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি।
মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ জনের বিচার শুরু, অভিযোগ গঠন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।   আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমান চার্জ) গঠনের মধ্যে দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কাজ শুরু হলো ট্রাইব্যুনালে।   নির্ধারিত দিন রোববার (১১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন ঠিক করে আদেশ দেন।   জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন পিছিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।   গত ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে অভিযোগ গঠনের আদেশ না দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন। কিন্তু সেদিন আরও এক দফা পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নতুন দিন দেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।   গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।   ওইদিন আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম লিটন আহমেদ। আর স্টেট ডিফেন্স ছিলেন আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম। তারা পলাতক আসামির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অন্য স্টেট ডিফেন্স শহিদুল ইসলামসহ অন্য আসামির আইনজীবীরাও শুনানি করেন।   এ মামলায় পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ মোট ২৬জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৮ জন পলাতক।   গ্রেফতার আট আসামি হলেন—ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী ইরফানুল হক গাজী।   পলাতক ১৮ আসামির মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল আবু ছায়েম, সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার ও সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান।   পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম শামীম, সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল ও তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু।   মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বিইউপির শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ছাত্র-জনতার কয়েকজন তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় মুগ্ধসহ ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।   প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।   একই দিন উত্তরায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ওইদিন উত্তরায় একটি এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।   দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পথে বড় বাধা শেখ হাসিনাকে আশ্রয়: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

ছবি: সংগৃহীত

ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রাণ গেল দুই সহোদরের

ছবি: সংগৃহীত

ফটিকছড়িতে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার জেরে ৫ ফ্লাইট বাতিল, মাঝপথ থেকে ঢাকায় ফিরল ইউএস-বাংলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশ থেকে রিয়াদগামী পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে রওনা হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মাঝপথে ওমানের মাস্কাটে অবতরণ করে পরে ঢাকায় ফিরে আসে।   বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বরাতে জানা গেছে, শনিবার থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোট পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইট রয়েছে।   বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্ন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গন্তব্যে না গিয়ে ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে ফ্লাইটটি ঢাকায় ফিরে আসে।   এদিকে, শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ মিশর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।   হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা ও বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।   গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় এক পাইলটসহ সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়। ওই হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজও লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদের বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ ফ্লাইটের সময়সূচি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক সফর ও ওমরাহ শেষে দেশে ফিরলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

আইপিইউ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, বিমানবন্দরে ধরা পড়ল জাল ভিসা

ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ফয়জুল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার চাকরিপ্রার্থী মো. ফয়জুল আলম। তার দাবি, উপজেলা পর্যায়ের মেধাতালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে তাকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।   লালমোহন উপজেলায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪৩ জনের মধ্যে দুই ধাপে ৪২ জন নিয়োগপত্র পেলেও ফয়জুলের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   ফয়জুল আলম উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া গ্রামের কাজী মো. নূরুল ইসলামের ছেলে।   তার দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশও পান। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভোলা জেলায় মোট ২৫৬ জন এবং লালমোহন উপজেলায় ৪৩ জন নির্বাচিত হন।   ফয়জুলের অভিযোগ, শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার আশায় তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও ভাইবোনের দায়িত্বও তার ওপর রয়েছে। কিন্তু নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তিনি ও তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।   তিনি জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় তার নিয়োগ আটকে গেছে।   তবে রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফয়জুল। তার দাবি, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের পদে ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই।   এর আগেও তিনবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন বলে জানান তিনি। এবার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন।   ফয়জুল আরও জানান, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় নতুন করে আবেদন করার সুযোগও নেই তার। এ অবস্থায় ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। নিয়োগ না পাওয়ার হতাশায় নিজের জীবন নিয়েও উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন এই চাকরিপ্রার্থী।   এদিকে, স্থানীয় বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন জমাদার জানান, তার জানামতে ফয়জুল কিংবা তার পরিবারের কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং ফয়জুল স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।   জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলায় লালমোহনের ফয়জুলসহ মোট চারজন প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চার প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এদিকে, ফয়জুলের নিয়োগ আটকে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এবং ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ফয়জুল আলম। এখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, পর্যটকবাহী গাড়ির চলাচলে নতুন সময়সূচি

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আজ: শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিতের আহ্বান

সংগৃহীত ছবি

সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে অপপ্রচার, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান আইএসপিআরের

0 Comments