জাতীয়

চট্টগ্রামে জাপানিজ এনসেফালাইটিসে সিভাসুর শিক্ষিকার মৃত্যু

আক্তারুজ্জামান মে ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বিরল মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। বৃহস্পতিবার ভোরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি জাপানিজ এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন। রোগটির সঙ্গে মিল থাকা একাধিক উপসর্গ তার শরীরে দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তারা।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ মে ড. জুথির জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও বমি শুরু হয়। প্রথমদিকে বিষয়টি সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

 

হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, রোগীকে হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান। প্রাথমিক উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি জাপানিজ এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন।

 

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিউলেক্স প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাস সরাসরি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে। ড. জুথির ক্ষেত্রেও ভাইরাসজনিত জটিলতায় একাধিক ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি হার্ট অ্যাটাকেও আক্রান্ত হন।

 

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। সহকর্মীরা জানান, ড. জুথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্টডক সম্পন্ন করেছিলেন। সম্প্রতি সিভাসুর ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে অধ্যাপক পদে পদোন্নতিও পান তিনি।

 

ব্যক্তিগত জীবনে ড. জুথির স্বামী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্নব। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু আগস্টের শেষ সপ্তাহে : মাহদী আমিন

আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বোয়েসেলের (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড) মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টায় কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি হন মাহদী আমিন।   এ সময় তিনি বলেন, বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।   বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মী পাঠানো শুরু হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকার শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে বদ্ধপরিকর—যাতে সাধারণ কর্মীরা কম খরচে নিরাপদে মালয়েশিয়ায় আসতে পারেন সে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে ঠিক কত টাকা খরচ হবে সে বিষয় যেমন স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।   কী পরিমাণ কর্মী বাংলাদেশ থেকে যেতে পারবে সেটাও বলা হয়নি। তবে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে আগের মত সব সেক্টরে কর্মী যেতে পারবে বলে আলোচনা হয়েছে।   প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কোন প্রশ্ন করার সুযোগ না দিলেও মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে তথ্য দেওয়া হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

‘ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন বড় জুলাই-যোদ্ধা’—মির্জা ফখরুল

সম্পত্তি লিখে দেওয়া হচ্ছে এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও ভোগ-দখলের অধিকার থাকবে বাবা-মায়ের : আইনমন্ত্রী

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর

এই ৪–৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে: মির্জা ফখরুল

এই চার পাঁচমাসে কিছুই বদলায়নি, একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,চার পাঁচ মাসেকিছুই বদলায়নি। একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে। ভালো পরিকল্পনা আগের মতোই আটকে দিচ্ছে। আমি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলাম। তারেক রহমান ছাড়া আর কারও মধ্যে পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।   তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারলেই কেবল জুলাই সফল হবে। যে যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা আশা করি, তরুণদের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারব।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোল পাল্টে এখন সবাই জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছে। যারা ভোল পাল্টিয়েছে, তারা এখন বেশি অপকর্মে লিপ্ত।   বিএনপি মহাসচিবের মতে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। ক্ষমতায় গেলেই ক্ষমতাসীনদের মধ্যে একটি রসায়ন কাজ করে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরার। এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য জুলাই আন্দোলনে রক্ত দিয়েছে তরুণরা। জুলাইয়ের ত্যাগ ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে এত রক্ত বৃথা যাবে। বিএনপি এই সমাজটাকে পাল্টে দিতে চায়।   জুলাই আন্দোলনে শহীদদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। ক্ষমতায় গেলেই ক্ষমতাসীনদের মধ্যে একটি রসায়ন কাজ করে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরার। এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য জুলাই আন্দোলনে রক্ত দিয়েছে তরুণরা। জুলাইয়ের ত্যাগ ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে এত রক্ত বৃথা যাবে। বিএনপি এই সমাজটাকে পাল্টে দিতে চায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ৩০, ২০২৬

৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

কূটনীতি সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করে চলে না

বাধা পেরিয়ে রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা, আসামি ১১

গুমের মামলার তদন্ত পুলিশের হাতে, সরকারের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের ভয়াবহতা ও নির্মমতার চিত্র উঠে এসেছে ভুক্তভোগীদের নানা সময়ের বর্ণনায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ভুক্তভোগী ও স্বজনদের ডেকে শুনেছেন করুণ আর্তনাদ। বাংলাদেশ সরকার গঠিত গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য বলছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনা ঘটেছে।   বছরের পর বছর গুম করে রাখা হয়েছে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষদের, যার মধ্যে ৯৬ শতাংশই রাজনৈতিক ভিকটিম। জুলাই-পরবর্তী সময়ে গুম প্রতিরোধে অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার।   খসড়ায় প্রচলিত ফৌজদারি মামলার মতো পুলিশকে দিয়ে গুমের মামলার তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।   সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মানবাধিকার কর্মী ও গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেন, ‘গুমের ঘটনাটা কীভাবে ঘটে? অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোই এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে। পুলিশের নিজস্ব সদস্য, অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা সেনাবাহিনীর সদস্য—যারা এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে অন্য বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তদন্ত করার কোনো নজিরও আমরা দেখিনি, আর তা সম্ভবও নয়।’   পুলিশকে দিয়ে গুমের মামলার তদন্তের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান বলেন, ‘হাসিনার শাসনামলে গুমের ঘটনায় সেনাবাহিনীর অনেক বড় বড় কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যদি এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটে এবং বড় বড় সেনা কর্মকর্তারা এতে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে পুলিশের ওই কর্মকর্তার কি তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া বা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা থাকবে?’   গুমের আলামত নষ্ট করলে তার শাস্তি আগে ৭ বছর থাকলেও বর্তমান আইনে তা ৫ বছর করা হয়েছে। তাই গুম প্রতিরোধে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নূর খান লিটন আরও বলেন, ‘আইন অনুযায়ী পুলিশই চার্জশিট দেওয়ার এবং তদন্ত করার অধিকারী। আইনটি যদি একটু এক্সটেন্ড করেন, অর্থাৎ মানবাধিকার কমিশন বা অন্য কোনো সংস্থাকে ক্ষমতা দিয়ে দেন, তাহলে সেটিও কাজ করতে পারে। আর পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার সংস্কৃতি থেকে আমরা সরে এসেছি—এ কথা বলারও সুযোগ নেই।’   সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্ন করে এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান বলেন, ‘গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের যে অভিজ্ঞতা, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি (অর্ডিন্যান্স) তৈরি করেছে। সরকারের সদিচ্ছার তো অভাবই। সদিচ্ছার অভাব না থাকলে তারা ওই অধ্যাদেশটিই করল কেন?’   এই খসড়া আইনের জন্য একদিনের মধ্যে জনগণকে মতামত জানাতে আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিষয়টি প্রহসন হিসেবে দেখছে টিআইবি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ৩০, ২০২৬

দুপুরে ঢাকায় আসছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত

ডা. মুরাদ হাসানের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ

ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এগ্রিভোল্টাইক এগিয়ে নিতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

0 Comments