জাতীয়

চলনবিলে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিচ্ছন্নতা অভিযান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

নাটোর চলনবিলের কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিক বর্জ্য পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার চলনবিলের তিশিখালী মাজার এলাকায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

এ সময় ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, বিলের তিশিখালী মাজারে শুক্রবারে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে এবং শিন্নির আয়োজন করা হয়। সেখানে প্লাস্টিক প্লেট, গ্লাস ও খাদ্য-দ্রব্যের প্যাকেট ফেলার কারণে জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ বিনাশী এই কার্যক্রম রোধ করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ রফিক, পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় ইউএনও মাজারে উপস্থিত মানুষের মধ্যে একবার ব্যবহৃত প্লেট ও গ্লাসসহ প্লাস্টিক বর্জ্য পরিহার ও নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলার জন্য সচেতনতনামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংশোধন হবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধিত এই বিধান অনুযায়ীই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দেশে সাংবিধানিকভাবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিরোধী দলের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকা উচিত। এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাবে।   সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে গঠিত কমিটিতে এখনো বিরোধী দল অংশ নেয়নি। তবে সরকার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রেখেছে এবং ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এই সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।   বর্তমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যায়। এই বিধানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক চলে আসছে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে এ অনুচ্ছেদ নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭০ অনুচ্ছেদে সম্ভাব্য পরিবর্তন সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগে অধিক স্বাধীনতা এনে দিতে পারে, যা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২০, ২০২৬

বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর: ড. ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। মামলা গ্রহণ করার মতো উপাদান না থাকায় আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।   মামলার আবেদনে আরও যাদের আসামি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপি নেতা ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, এনসিপির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, এনসিপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেন, অ্যাক্টিভিস্ট কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্ণেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।   মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের প্রত্যক্ষ মদদে বা উসকানিতে এবং সার্বিক সহযোগিতায় অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৫ হাজার আসামি বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দাহ্য পদার্থসহ মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধানমন্ডি ৩২-এ অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিজড়িত বাসভবনে দলবদ্ধভাবে আক্রমণ চালায়। ওইদিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তারা ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন, দলিল, মুক্তিযুদ্ধের দলিল, প্রামাণ্যচিত্র, বই, পুস্তকসহ মূল্যবান সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন ও লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং ভবনটি আগুন দেয়। দুটি বুলডোজার, এক্সক্যাভেটর, হ্যামার এবং ভারী যন্ত্র এনে রাতভর উক্ত বাড়িটি ভাঙা শুরু করে। পরদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।   আরও বলা হয়, মামলার কয়েকজন আসামি ইউটিউব ও ফেসবুকে সরাসরি লাইভে এসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ওই বাড়িতে থাকা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও কাগজপত্র লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য উসকানি ও মদদ দেয়। কেউ কেউ অর্থসহায়তা প্রদান করেন। আসামিরা পূর্বঘোষণা দেয়ার পরও বাড়িটি রক্ষার জন্য সরকারের দায়িত্বে থাকা আসামিরা কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সাড়ে ৮ বছর পর ফের চালু হচ্ছে নন্দনগাছী রেলস্টেশন

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের কারণে দেশের ওপর বহুমুখী চাপ: সেনাপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত

আস্থা ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি হলেই ভারত সফর: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

সংগৃহীত ছবি
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত, চায় নতুন সম্পর্কের অধ্যায়

আসন্ন সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে 'সম্মানজনক অভ্যর্থনা' দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। এতে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে চায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতেও আগ্রহী ভারত। তারেক রহমানের সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। সফরটি হলে দেশ দুইটির সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানো, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো এবং গঙ্গার পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ভারতের পক্ষ থেকে সফরটি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বড় কোনো সমস্যা না হলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।   বাংলাদেশ ও ভারত- উভয় পক্ষই তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে। নয়াদিল্লি চায়, সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকের ওপর নির্ভর না করে আগস্টেই দুই নেতার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হোক। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে কর্মরত কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিকও সফর নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন।  বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। এর পরিবর্তে তিনি দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন। এমনকি সফরটি সেপ্টেম্বরে পিছিয়ে গেলেও ভারত সফরের বিষয়ে তার আগ্রহ থাকবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দুই নেতার সরাসরি বৈঠক হলে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সম্পর্ককে আরো গঠনমূলক পর্যায়ে নেওয়ার পথও খুলতে পারে। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা এই সফরকে সম্পর্কের দূরত্ব কমানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। এসব বৈঠকে অর্থমন্ত্রীও অংশ নেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।   বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহল এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিনিধিদলের সফর আয়োজন ও সমন্বয়ে ভূমিকা রাখে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতা বলেন, সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পর তারা তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী। ১৮ আগস্ট ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতা এবং সফররত ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সম্মানে আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারতীয় নেতা দীনেশ ত্রিবেদীও দুই নেতার বৈঠক নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় বৈঠকে নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ সীমিত থাকে। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, নৈশভোজ এবং দুই নেতার সরাসরি আলোচনার সুযোগ থাকে। এসব বৈঠকে ভবিষ্যতে কী কাজ করা হবে, তা ঠিক করা এবং যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সুযোগও থাকে। ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ককে অতীতের বিরোধ থেকে বের করে নতুন অধ্যায়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতীতে আটকে না থেকে দুই দেশের উচিত একটি নতুন ও ইতিবাচক অধ্যায় শুরু করা। তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাবেন কি না জানতে চাইলে ত্রিবেদী বলেন, এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে তিনি খুবই আশাবাদী যে সফরটি শিগগিরই হবে।   ভারতীয় এই নেতা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত সফরের সময় তারেক রহমানকে ‘সম্মানজনক অভ্যর্থনা’ দেওয়া হবে। ত্রিবেদীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোদি চান তারেক রহমানের সফরটি স্মরণীয় হোক। দুই নেতার মধ্যে সরাসরি ও নিয়মিত যোগাযোগ বাড়লে শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমাতে ব্যবসায়ীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত সফরটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সফরের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ১৪ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে দলের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ভারত শেখ হাসিনা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত ওসমান হাদীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর করা উচিত নয়। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করে তারেক রহমান যদি দেশটি সফর করেন, তাহলে বিএনপির জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অবস্থান নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হবে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার শুধু বিবৃতি দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। নাহিদ বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জনগণ তারেক রহমানের ভারত সফর মেনে নেবে না।   নাহিদের বক্তব্যের দুই দিন পর, ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একেএম শহীদুল করিম বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ চাচ্ছে। তিনি জানান, তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। এর আগে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করার পর। এরপর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী। বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছে ঢাকা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় রয়েছে।   ১৯৯৬ সালে দুই দেশ গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি করে। এখন সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন করে আরও কার্যকর করা হলে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের পর তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে দেখতে হবে। তার মতে, এই সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, মর্যাদা এবং দুই দেশের সার্বভৌম সমতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে প্রস্তুত। তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নয়াদিল্লিকেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখনো সম্পর্ক অনেকটা স্থবির। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের কথিত ‘পুশ-ইন’ নিয়েও বাংলাদেশে উদ্বেগ রয়েছে। এসব ঘটনা দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি সংবেদনশীলতা আরো বাড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ এবং এর আগে মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ- দুটি বিষয়ই দেখায় যে, ভারত সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস এবং পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারত গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের সমাধান বাংলাদেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ভারতের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু আনুষ্ঠানিক সফর নয়, কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুই নেতার বৈঠকে পানি বণ্টন, বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত, নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। হুমায়ুন কবিরের মতে, বাংলাদেশকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হলে দেশের ভেতরেও রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক ঐক্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির অর্থ হলো দেশের রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমকে একটি সমন্বিত জাতীয় অবস্থান থেকে কাজ করা। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়। তাই পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন ফখরুল, সংসদ কক্ষে ঢুকতে পারবেন না অলি

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ভ্রমণকারীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করল বাংলাদেশ

ইউজিসির বোর্ডসভা। ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের মধ্যে ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা কোর্স

0 Comments