ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানের জন্য ম্যানচেস্টার সিটি এবং আর্সেনালের মধ্যে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে নটিংহ্যামের বিরুদ্ধে সিটির জয়ের প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আর্সেনাল মাঠে নামে। ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওনকে ২-১ গোলে পরাজিত করে পেপ গার্দিওলার দলকে সরিয়ে আবারও লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠেছে মিকেল আর্তেতার দল।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আর্সেনাল। চতুর্দশ মিনিটে তারা এগিয়ে যায়। ব্রাইটনের ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পেয়ে বুকায়ো সাকা মার্টিন ওডেগোরকে পাস দেন, এবং ডি-বক্সের বাইরে থেকে ওডেগোর দুর্দান্ত শটে আর্সেনালকে ১-০ লিড এনে দেন। প্রথমার্ধের শেষের দিকে, ব্রাইটনের গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন ভিক্টর ইয়োকেরেশকে ফাউল করলে হলুদ কার্ড পান।
দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে (৫২ মিনিটে) আর্সেনালের লিড দ্বিগুণ হয়ে যায়। ডেক্লান রাইসের কর্নার কিক প্রতিহত করার চেষ্টায় ব্রাইটনের জর্জে আত্মঘাতী গোল করে। ফলে স্কোর দাঁড়ায় ২-০।
দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাইটন ম্যাচে ফিরে আসতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ৬৪তম মিনিটে ইয়াসিন আইয়ারির শট পোস্টে লেগে ফিরে এসে দিয়েগো গোমেস সেই বলের নাগাল পেয়ে গোল করে। ফলে ব্যবধান ২-১ এ নেমে আসে এবং ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৭৬তম মিনিটে ব্রাইটনের সমতাপ্রাপ্তির একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল, তবে ইয়ানকুবার বাঁ পায়ের শক্তিশালী শট আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়া এক হাতে অসাধারণ দক্ষতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় আর্সেনাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এই জয়ের মাধ্যমে আর্সেনাল ১৮ ম্যাচে ১৩ জয় এবং ৩ ড্রয়ে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে চলে এসেছে। একই সংখ্যক ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গত মৌসুমে ব্রাইটনের কাছে পয়েন্ট হারালেও, এবার পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান পাকা করেছে আর্সেনাল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
২৫০ রান তাড়া করে আগের ম্যাচে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ২২৪ রানের লক্ষ্যও প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ক্যারিবীয়রা। তবে শেষ পর্যন্ত ১৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ভারত। ইন্দোরে এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষানের ১০৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দুর্দান্ত সূচনা পায় ভারত। মাত্র ১৮ বলে ফিফটি ছোঁয়া অভিষেক শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৯ রান করেন। ঈশান ৩৭, তিলক বর্মা ২৮ ও নিতীশ কুমার রেড্ডি ২১ রান যোগ করেন। শেষদিকে অক্ষর প্যাটেলের ২০ ও প্রিন্স যাদবের অপরাজিত ১৩ রানে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে ২২৩ রানে অলআউট হয় ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই হারায় আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অধিনায়ক শাই হোপকে (৫)। তবে কামিল পুরানের ৪২ ও শিমরন হেটমায়ারের ৪৩ রানের ইনিংস লড়াইয়ে থাকে দলটি। শেষদিকে শেরফান রাদারফোর্ড ২০ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আশা জাগিয়েছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাদারফোর্ডকে বোল্ড করে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন অর্শদীপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ওভারটা শুরু করে ৩৭ রানের প্রয়োজন নিয়ে। অক্ষরের করা ওভারটায় ২২ রান তুলে ব্যবধান কমান শামার স্প্রিঙ্গার। আগামী বুধবার হায়দরাবাদে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ।
সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পরিত্যক্ত হয়েছে স্প্যানিশ লা লিগায় রায়ো ভায়েকানো ও অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মধ্যকার ম্যাচ। ক্লাবের অবকাঠামোর বেহাল দশা এবং সভাপতি রাউল মার্টিন প্রেসার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে মাঠে কাগুজে বিমান ও রাবারের বল ছুড়ে প্রতিবাদ জানান সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। শনিবার (১০ অক্টোবর) রায়ো ভায়েকানোর মাঠ এস্তাদিও দে ভায়েকাসে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে খেলার ১৩তম মিনিটে গ্যালারি থেকে মাঠে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ শুরু করেন সমর্থকেরা। এ সময় প্রেসার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন তারা। পরিস্থিতির কারণে প্রথমে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। স্টেডিয়ামের মাইকে সমর্থকদের মাঠে কোনো বস্তু না ছোড়ার অনুরোধ জানানো হয়। একই সময়ে মাঠকর্মীরা ঘাসের ওপর পড়ে থাকা বস্তু সরিয়ে নেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর খেলা আবার শুরু হলেও দক্ষিণ গ্যালারি থেকে পুনরায় বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থায় ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ রায়ো ভায়েকানোর সমর্থকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়ামটি জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোর আধুনিকায়নে ব্যর্থতা এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারার দায়ও ক্লাব সভাপতি প্রেসার ওপর চাপাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুতর ঝুঁকির কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্টেডিয়ামটির লাইসেন্স বাতিল করেছিল। এর ফলে চলতি মৌসুমের প্রথম তিনটি হোম ম্যাচ অন্য মাঠে, লেগানেসে আয়োজন করতে হয় ক্লাবটিকে। দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের মাঠে ফিরেও এবার ম্যাচ শেষ করতে পারেনি দলটি। গত মৌসুমেও রায়ো ভায়েকানোর মাঠ ও অনুশীলন সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন খেলোয়াড়েরা। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশ করা খেলোয়াড়দের একটি চিঠিতে মাঠের খেলার অনুপযোগী অবস্থা, ড্রেসিংরুমের গোসলখানায় গরম পানির সংকট এবং অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছিল। সমর্থকদের ভোগান্তি নিয়েও প্রশ্ন শুধু অবকাঠামো নয়, টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থাও সমর্থকদের অসন্তোষের কারণ। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে টিকিট কেনার ওয়েবসাইট না থাকায় দর্শকদের স্টেডিয়ামের ছোট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এদিকে, ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর অ্যাথলেটিক বিলবাও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদে দলকে সমর্থন জানাতে যাওয়া সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। চলতি লা লিগা মৌসুমে প্রথম সাত ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৩তম স্থানে ছিল রায়ো ভায়েকানো। তবে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা ক্লাবটির অবকাঠামো ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সমর্থকদের প্রতিবাদ এবং ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা রায়ো ভায়েকানোর দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ক্লাব পরিচালনা নিয়ে চলমান অসন্তোষকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিপদে পড়া দলকে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পথ দেখালেন ম্যাট রেনশ। উপহার দিলেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন ন্যাথান লায়ন। নবম উইকেটে দুজনের রেকর্ড জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে চারশর কাছাকাছি সংগ্রহ গড়ল অস্ট্রেলিয়া। ডারবান টেস্টে শনিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে থামে ৩৯০ রানে। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ উইকেট ২৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এখনও ৩৬৩ রানে পিছিয়ে আছে তারা। ৪ উইকেটে ৮৪ ও ৬ উইকেটে ১২৪ রানের ধ্বংসস্তূপ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহ গড়ার কারিগর রেনশ। একটি ছক্কা ও ২১টি চারে ৩৯৭ বলে ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। টেস্টে বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। গত অগাস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্ট দিয়ে তিন বছর পর ফেরেন রেনশ। ওই ম্যাচে একমাত্র ইনিংসে কেবল ৮ রান করতে পারেন তিনি। এবার চমৎকার ব্যাটিংয়ে ছাড়িয়ে গেলেন নিজের আগের সেরা ১৮৪ রান। তার সঙ্গে ১৩৪ রানের জুটিতে ৯২ বলে ২৭ রান করেন লায়ন। নবম উইকেটে দেশের বাইরে টেস্টে এটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের রেকর্ড ছিল জেসন গিলস্পি ও স্টিভ ওয়াহর, ২০০১ সালে কলকাতা টেস্টে ১৩৩ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। প্রথম দিনের মতো এ দিনও আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে শেষ হয় খেলা। ৬ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ৪৬ রান নিয়ে খেলতে নামা রেনশ দিনের দ্বিতীয় বলে চার মেরে স্পর্শ করেন ফিফটি। দিনের প্রথম ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ছোবল দেন ভিয়ান মুল্ডার। আগের দিনের ৩৩ রানের সঙ্গে ১০ রান যোগ করতেই স্লিপে ধরা পড়েন প্যাট কামিন্স। ভাঙে ৮৬ রানের যুগলবন্দি। মিচেল স্টার্ককেও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মুল্ডার। এরপর শুরু রেনশ-লায়নের জুটি। যেখানে রান বাড়ানোর কাজটি করেন রেনশ। উইকেট ধরে রাখায় মনোযোগ দেন লায়ন। ৯৬ থেকে আনরিখ নরকিয়াকে চার মেরে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন রেনশ, ২০৪ বলে। ওই ওভার দিয়ে শেষ হয় প্রথম সেশনের খেলা। দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝিতে ৩১১ বলে দেড়শ স্পর্শ করেন রেনশ। রেনশ ও লায়নের জুটির রান একশ স্পর্শ করে ২১৩ বলে। দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে ভাঙে তাদের চমৎকার জুটি। মার্কো ইয়ানসেনের বলে এলবিডব্লিউ হন লায়ন। শেষ জুটিতে জশ হেইজেলউডের সঙ্গে ২৬ রান যোগ করে থামেন রেনশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই রায়ান রিকেলটনকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। হেইজেলউডের বলে তৃতীয় স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। দিন শেষে এইডেন মার্করাম ১৫ ও ডেভিড বেডিংহ্যাম ১২ রানে অপরাজিত আছেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৩৭.২ ওভারে ৩৯০ (আগের দিন ১৮৭/৬) (রেনশ ১৯০, কামিন্স ৪৩, স্টার্ক ৬, লায়ন ২৭, হেইজেলউড ৫; ইয়ানসেন ৩১-৯-৬৮-৩, মুল্ডার ২৭-৬-৬৮-৪, নরকিয়া ২৮-৫-৮৮-২, মহারাজ ২০-০-৭৫-০, হার্মার ২৮.২-০-৬৮-১, মার্করাম ৩-০-৩-০) দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৮.৪ ওভারে ২৭/১ (মার্করাম ১৫*, রিকেলটন ০, বেডিংহ্যাম ১২*; স্টার্ক ৪-১-১৬-০, হেইজেলউড ৪-০-৯-১, কামিন্স ০.৪-০-২-০)