ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পর্যায়ে। টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি মাত্র ২৭ দিন। এই উপলক্ষে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রকাশ করেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী তথ্য।
ফিফার তথ্যমতে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২৭ জোড়া বাবা ও ছেলে খেলোয়াড় হিসেবে মূল পর্বে অংশ নিয়েছেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে সবসময়ই বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।
বিশ্বকাপে প্রথম বাবা-ছেলের রেকর্ড গড়েছিলেন মেক্সিকোর লুইস পেরেজ ও তার ছেলে মারিও পেরেজ। লুইস অংশ নিয়েছিলেন ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে, আর মারিও খেলেছিলেন ১৯৫০ সালের আসরে।
ইতিহাসে ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করা বাবা-ছেলের উদাহরণও রয়েছে। মার্তি পান্তোলরা ১৯৩৪ বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে খেললেও তার ছেলে হোসে পান্তোলরা ১৯৭০ সালে প্রতিনিধিত্ব করেন মেক্সিকোর হয়ে।
এদিকে ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার লিলিয়ান থুরাম এবং তার ছেলে মার্কাস থুরাম-এর গল্পও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। লিলিয়ান থুরাম ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে মার্কাস থুরাম খেলেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে, যদিও সেবার আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে পরিবারভিত্তিক এই ধারাবাহিকতা ফুটবলের আবেগ ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দীর্ঘ ৪০ দিনের বিশ্বকাপ উৎসবের পর ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পর্দা নামবে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের। ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে মাঠের ঘাস সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। পরে সেই ঘাসের অংশবিশেষ স্মারক হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রি করে ফিফা প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ডলার আয় করতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সমান। এদিকে নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট গভর্নর মিকি শেরিলের কার্যালয় জানিয়েছে, যদি ফিফা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আয় করে, তাহলে সেই আয়ের একটি অংশ পাওয়ার অধিকার নিউ জার্সিরও রয়েছে। শেরিলের মুখপাত্র শন হিগিন্স সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠের পিচ প্রস্তুতের মোট ব্যয়ের অধিকাংশই বহন করেছে নিউ জার্সি। তাই ফিফার এই নতুন অর্থ উপার্জনের উদ্যোগ থেকে যে আয় হবে, তার অংশীদার হওয়ার অধিকার নিউ জার্সির করদাতাদেরও রয়েছে।’ সর্বনিম্ন ৪৫০ ডলারের প্যাকেজ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ৫৫২৩৯ টাকা। ৯০০ ডলার (১ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং ১২০০ ডলারের (১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা) প্যাকেজেও ঘাস বিক্রি হবে। এসব প্যাকেজে থাকছে মূলত ২.৫ ইঞ্চি × ২.৫ ইঞ্চি × ২.৫ ইঞ্চি আকারের আসল ঘাসের টুকরো। তবে এই তিনটি মূল্যের মধ্যে পার্থক্য কী, তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, গোলমুখ, পেনাল্টি স্পট বা সেন্টার সার্কেল থেকে নেওয়া ঘাসের টুকরোর দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে। রয়েছে ৩০০০ ডলারের প্রিমিয়াম প্যাকেজও। বাংলাদেশি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা দামের প্যাকেজে থাকছে— ৩ ইঞ্চি × ৩ ইঞ্চি × ৩ ইঞ্চি আকারের মাঠের ঘাসের অংশ, সোনালি খোদাই করা ধাতব স্মারক টিকিট, বিশ্বকাপ ফাইনালের বলের একটি ক্ষুদ্র প্রতিরূপ (মিনি রেপ্লিকা) এবং স্ফটিক কাঁচে তৈরি বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ। সেমিতে উঠলে যে আর্জেন্টিনা হারে না, সেটা আরও একবার প্রমাণিত। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন। কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপে যে শিরোপা জিতেছিল লিওনেল স্কালোনির দল, এবার সেটা ধরে রাখতে নামবেন মেসি-এমিলিয়ানো মার্তিনেজরা। দেখা যাক, নিউজার্সির মঞ্চে কোন দল শিরোপা নিয়ে করবে বাঁধভাঙা উদযাপন। এর আগে পরশু মায়ামিতে হবে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে ওঠা ফিফার পক্ষপাতিত্বের সব অভিযোগ এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলবিসেলেস্তেদের এই টানা সাফল্য সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব যোগ্যতা ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফসল বলে দাবি করেছেন তিনি। বুধবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের কড়া জবাব দেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এনডিটিভির প্রতিবেদন। চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির একটি ফাউল কিংবা মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআরের কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফুটবলবিশ্বে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ফুটবলপ্রেমী ও সমালোচকদের একটি বড় অংশ দাবি করতে শুরু করে যে, ফিফা ইচ্ছাকৃতভাবে আর্জেন্টিনাকে সুরক্ষা দিচ্ছে এবং টুর্নামেন্টটি একপ্রকার সাজানো। এমনকি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে পিটিশনে স্বাক্ষরও করেছে। তবে অবশেষে এসব বিতর্ক ও দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মেসি। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনাল ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডনের ৫৫ মিনিটের গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। বিদায়ের দোলাচলে থাকা আর্জেন্টিনাকে আবারও ম্যাচে ফেরান মেসি নিজেই। তার চমৎকার দুটি অ্যাসিস্ট থেকে এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় এনে দেন। ম্যাচ শেষে সমালোচকদের উদ্দেশ করে মেসি বলেন, যার গায়ে লাগে লাগুক; কিন্তু সত্যি এটাই যে, মানুষ পছন্দ করুক আর না করুক, গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা দুটি দলের একটি হিসেবে ফাইনালে উঠেছি। এটা প্রমাণ করে যে, আমরা যা অর্জন করেছি তা ভাগ্যক্রমে আসেনি এবং কেউ আমাদের এটি উপহার হিসেবে দেয়নি। টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা মোটেও সহজ কথা নয়, যা খুব কম দলই করতে পেরেছে এবং আমাদের এই দলটি সেটি করে দেখিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, ইংল্যান্ডের কাছে যদি আমরা হেরে যেতাম, তবে অনেকেই অনেক ফালতু কথা বলার সুযোগ পেয়ে যেত। আমরা তাদের সে সুযোগটি দিইনি। আমরা জানতাম যে, ফুটবলীয় দক্ষতায় আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম। তবে এ ধরনের বড় ম্যাচে অনেক ঐতিহাসিক আবেগ জড়িয়ে থাকে। ঐতিহাসিক এই জয়টি মেসি উৎসর্গ করেছেন ফুটবলের কিংবদন্তি প্রয়াত দিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ঠিক ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের স্মৃতি স্মরণ করে মেসি বলেন, নিঃসন্দেহে দিয়েগো ওপর থেকে এ জয়টি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। আজকের দিনটি তার জন্য অত্যন্ত বিশেষ ছিল এবং তাকে এই আনন্দ দিতে পারাটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। তিনি ওপর থেকে যেভাবে চান এটি উদযাপন করুন, কারণ এই জয়টি তার জন্যও একটি বিশেষ উপহার।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আবারও ফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচজুড়েই মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল মেসিরা। এই নিয়ে সপ্তমবারের মত ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আলবিসেলেস্তারা। খেলার ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির প্রথম অ্যাসিস্টে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-১ সমতায় ফেরান চেলসি তারকা এনজো ফের্নান্দেস। এরপর ম্যাচ যখন নিশ্চিতভাবে অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লিওনেল মেসির জাদুকরী পাস (দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট) থেকে বল পেয়ে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে দেন বদলি নামা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেস। তার গোলেই ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তারা। এর আগে ১৯৩০, ১৯৭৮, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০২২ সালে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে তারা। এর মধ্যে ১৯৭৮ সালে নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে, ১৯৮৬ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোল এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে মোট ৩ বার বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছিল লাতিন আমেরিকার এই দেশটি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আজকের খেলাসহ এ পর্যন্ত মোট ৮ টি ম্যাচ খেলেছে মেসিরা। এর মধ্যে সব ম্যাচেই জয় পেয়েছে স্কালোনির শিষ্যরা। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে ৮ম বারের মত খেলবে মেসি- মার্টিনেজরা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান জায়েন্ট স্পেন। এখন দেখার অপেক্ষে কে হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা। ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।