প্রথমার্ধে যেন চেনা ব্রাজিলকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহার একের পর এক আক্রমণও কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি। বরং জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে গিয়ে উল্টো গোল হজম করে চরম চাপে পড়ে যায় সেলেসাওরা।
তবে বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ বদলে যায় ব্রাজিল। প্রথমার্ধের হতাশা ঝেড়ে ফেলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আক্রমণে ধার বাড়িয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা।
ম্যাচ শেষে এই দারুণ প্রত্যাবর্তনের পেছনের কৌশল তুলে ধরেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানান, শুরুতে সরাসরি আক্রমণের পরিকল্পনা কাজে না লাগায় বিরতির পর কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়। ডি-বক্সে বেশি বেশি ক্রস তোলার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।
সেই পরিকল্পনারই সফল বাস্তবায়ন দেখা যায় দ্বিতীয়ার্ধে। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে সমতা ফেরান কাসেমিরো। এরপর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া ব্রাজিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে।
কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাওয়া এই জয়কে টুর্নামেন্টে দলের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স বলে আখ্যা দেন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, “এটাই বিশ্বকাপে আমাদের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। প্রথমার্ধে জাপান আমাদের কোনো জায়গাই দেয়নি, ফলে আমরা ভুগেছি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা কৌশল বদলে ডি-বক্সে আরও বেশি ক্রস তুলতে শুরু করি। নিশ্চিতভাবেই এটি আমাদের কৌশলগত উন্নতির বড় উদাহরণ।”
বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের দেওয়া বার্তাও তুলে ধরেন ইতালিয়ান এই কোচ।
তিনি বলেন, “আমি ছেলেদের ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম। কারণ আমি জানতাম, আমরা গোলের সুযোগ পাবই। তবে তার আগে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হবে এবং আর কোনো গোল হজম করা যাবে না। ধৈর্য ও শৃঙ্খলাই শেষ পর্যন্ত আমাদের জয় এনে দিয়েছে।”
প্রতিপক্ষ জাপানেরও প্রশংসা করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, “জাপান খুবই শক্তিশালী ও সুসংগঠিত একটি দল। বিশেষ করে তাদের রক্ষণভাগ ছিল অসাধারণ দৃঢ়। প্রথমার্ধে তারা আমাদের খুব কম জায়গাই দিয়েছে এবং আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন করে তুলেছিল।”
কঠিন এই পরীক্ষায় উতরে দিয়ে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামবে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করতে তাদের মুখোমুখি হতে হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের। দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষেই নিজেদের পরবর্তী পরীক্ষা দেবে ব্রাজিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় আজ শনিবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম টেস্টে ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে বড় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে। টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশি ব্যাটারদের একের পর এক সাজঘরে ফেরান মিচেল স্টার্ক। স্টার্কের তোপে টপ অর্ডার ইনিংসের ১৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ২৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক ৬ ওভার বল করে মাত্র ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। অপর উইকেটটি পেয়েছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বাংলাদেশের টপ অর্ডারের কেউই অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলাম রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসও শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। মুমিনুল হক করেন ৯ রান, আর মুশফিকুর রহিম ফেরেন ৫ রান করে। প্রথম টেস্টে হারের পর সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে এখন লড়ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭/৬ (১৮ ওভার) মেহেদী হাসান মিরাজ ৯* হাসান মাহমুদ ২*
একসময় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলেছেন। খেলেছেন ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিও। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অলরাউন্ডার ময়জেস হেনরিকস এখন পর্তুগালের অধিনায়ক। দেশটা অবশ্য তাঁর জন্য অপরিচিত নয়, এই পর্তুগালেই হেনরিকসের জন্ম। ৩৯ বছর বয়সে সেই জন্মভূমিকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। আর সেই অভিযানে শুরুটা হয়েছে সেঞ্চুরি দিয়ে। পর্তুগাল এখন খেলছে ২০২৮ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপীয় সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ারে। হেনরিকস দলটিতে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত খেলেছেন তিন ম্যাচ। এর মধ্যে গতকাল চেকিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন ৫১ বলে ১১১ রানের ঝোড়ো ইনিংস। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। হেনরিকসের জন্ম পর্তুগালের শহর মাদেইরাতে। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর পর সেখানেই গড়ে ওঠে তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার। নিউ সাউথ ওয়েলস ও সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলেছেন দীর্ঘদিন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন ৪ টেস্ট, ১৬ ওয়ানডে ও ২৪ টি-টুয়েন্টি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন পাঁচ বছর আগে। আর অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন গত মাসে। লক্ষ্য একটাই—পর্তুগালকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া। আর সেই অভিযানের শুরুটাও দুর্দান্ত। ফিনল্যান্ডে চলমান ইউরোপ সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার ‘সি’তে পর্তুগাল পেয়েছে টানা চার জয়। এই চার ম্যাচের তিনটিতে খেলে হেনরিকসের রান ১৭৮। সর্বশেষ চেকিয়ার বিপক্ষে তাঁর ব্যাটে ভর করে ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে পর্তুগাল। জবাবে ৮.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৪ রান করে চেকিয়া। এরপর বৃষ্টিতে খেলা আর না গড়ালে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৯১ রানের জয় পায় পর্তুগাল। এই টুর্নামেন্টে এখন তিনিই সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। এর আগে ইসরায়েলের বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন ৬৬ রানে। সেই ম্যাচে পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে দুই দেশের হয়ে টি-টুয়েন্টিতে ৫০ বা তার বেশি রান করার কীর্তি গড়েন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাঁর সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ৬২*। এর আগে এ দুই দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফিফটি ছিল মার্ক চ্যাপম্যান, টিম ডেভিড, কোরি অ্যান্ডারসন ও নীতীশ কুমারের। তবে পর্তুগালের পরের রাউন্ডে যাওয়া এখনো নিশ্চিত হয়নি। ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল স্পেনের বিপক্ষে আজ মাঠে নামবে পর্তুগাল। এই ম্যাচের জয়ী দল যোগ দেবে স্কটল্যান্ড, জার্সি ও ডেনমার্কের সঙ্গে ইউরোপীয় আঞ্চলিক ফাইনালে।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সেই খবরে আরও জ্বালানি দিয়েছে তুরস্কের সরকারি দল একে পার্টির সংসদ সদস্য আলি শাহিনের টুইট এবং গণমাধ্যমের সূত্র। তবে প্রথমবার মুখ খুলে কার্লোস ধর্মান্তরিত হওয়ার খবরটি ‘মিথ্যা’ বলে জানিয়েছেন। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং (তাদের রীতি মেনে) আমার স্ত্রীকে প্রার্থনা করতে দেখাটা সত্যিই চমৎকার। তবে আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়।’ এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কান নাগরিক সুহাইলা এল তাহিরিকে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই ডিফেন্ডার বিয়ে করেছেন বলে আরেকটি খবর বেরোয়। তাহিরি ফিফার লাইসেন্সধারী খেলোয়াড় এজেন্ট এবং ফুটবলারদের পেশাগত ক্যারিয়ার ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। কার্লোস ও তার শুরুতে পেশাগত সম্পর্ক থাকলেও, পরবর্তী সময়ে তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে রূপ নেয় বলে খবর গণমাধ্যমের। ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানালেও মরক্কান মুসলিম তাহিরিকে বিয়ের কথা নিশ্চিত করেছেন রবার্তো কার্লোস। যার যার ধর্মীয় রীতি মেনে সেটি সম্পন্ন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি একাধিক পদ্ধতিতে আয়োজন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, পাশাপাশি আমার স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের জন্য উপযুক্ত আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেও আমরা আগ্রহী ছিলাম।’ এর আগে কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের দাবি ছড়িয়ে পড়ে তুরস্কের একে পার্টির সংসদ সদস্য আলি শাহিনের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টকে কেন্দ্র করে। নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ব্রাজিলের সাও পাওলোতে বসবাসরত এবং ইসলামি বিশ্বের অন্যতম ৫০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত শেখ জিহাদ হাম্মাদেহ’র (হামাদা) সঙ্গে আমরা ‘ব্রাজিলিয়ান ইসলামিক ফিলানথ্রপিক ইয়ুথ ইউনিয়ন’-এ সাক্ষাৎ করেছি। শেখ জিহাদ সুখবর জানিয়েছেন, ব্রাজিলীয় ফুটবলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস দীর্ঘ সময় ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং চার সপ্তাহ আগে দেখা করে ‘শাহাদাহ’ পাঠের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া গত ১৭ আগস্ট কার্লোস-তাহিরির বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিয়েটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। জানুয়ারিতেই তাদের সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ্যে আসে। পরে ২৫ জুলাই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে সীমিত পরিসরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা। গণমাধ্যমের দাবি– তাদের সম্পর্কের শুরুটা ছিল ব্রাজিল ও ইউরোপের মধ্যে খেলোয়াড়দের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার সময়।