খেলা

বিপিএলকে ফিক্সিংমুক্ত করতে কড়া নজরদারি

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২২, ২০২৫

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মানেই ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া—এই বাস্তবতা থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিপিএলও। বছরের পর বছর ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং বিতর্কে জড়িয়ে টুর্নামেন্টটির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বহুবার। তবে এবার সেই কলঙ্ক মুছতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফিক্সিং রুখতে নেওয়া হয়েছে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ; আসন্ন আসর থেকেই বিপিএলকে রাখা হচ্ছে কড়া নজরদারিতে।

এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিসিবির নবগঠিত ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের স্বাধীন চেয়ারম্যান ও আইসিসির সাবেক অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। বিপিএল সামনে রেখে দুর্নীতি দমন ও নজরদারির কৌশল চূড়ান্ত করতে রোববার তিনি বৈঠক করেছেন দেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ছিবগাত উল্লাহর সঙ্গে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও লিগ্যাল প্রতিনিধিরাও।


আগামী ২৬ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগ বিপিএলের নতুন আসর। ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই নানা সময় ফিক্সিং বিতর্কে জড়িয়েছে টুর্নামেন্টটি। এমনকি ২০১৪ সালে ফিক্সিংয়ের অভিযোগের জেরে বিপিএল স্থগিত করতেও বাধ্য হয়েছিল বিসিবি। ২০১৩ সালের বিপিএলে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বিপিএল অ্যান্টি-করাপশন ট্রাইব্যুনাল—যার পাঁচ বছর কার্যকর করতে হয়েছিল মাঠের বাইরে।

এই প্রেক্ষাপটে বিপিএলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে বিসিবি প্রথমে অ্যালেক্স মার্শালকে এক বছরের জন্য পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তাকে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান করা হয়। বিপিএলের ১১তম আসরে ওঠা ব্যাপক ফিক্সিং অভিযোগের তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী মৌসুমের নিলাম থেকে ৯ ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়—যাদের মধ্যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়ও রয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে মার্শাল।


সিআইডি প্রধান ছিবগাত উল্লাহ জানান, মার্শালের সঙ্গে বৈঠকটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো বিসিবি টিমের সঙ্গে বসেছি। তাদের লিগ্যাল প্রতিনিধিরাও ছিলেন। দুর্নীতিমুক্ত বিপিএল গড়তে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।’ তিনি আরও জানান, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সঙ্গে যুক্ত সিআইডি কর্মকর্তারাও নজরদারিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।


‘আন্তর্জাতিক কিছু নীতি ও প্রোটোকল রয়েছে, যেগুলো অনুসরণ করা হচ্ছে। কোথায় ঘাটতি বা ধূসর এলাকা আছে—তা চিহ্নিত করে কাঠামো দাঁড় করানো হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।
ক্রিকেটকে কলঙ্কমুক্ত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। আমরা চাই এটি যেন দুর্নীতিমুক্ত থাকে। সেই লক্ষ্যেই সিআইডি, অ্যালেক্স মার্শাল ও বিসিবি একসঙ্গে কাজ করছে।’
এবারের বিপিএলে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গেই থাকবেন সিআইডি কর্মকর্তারা। বাড়তি নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় সম্পৃক্ততায় টুর্নামেন্টটি দুর্নীতিমুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মারা গেছেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কিংবদন্তি কেভিন কিগান

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক, কোচ এবং দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার কেভিন কিগান। সোমবার (২০ জুলাই) পরিবার ও সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করা হয়।   দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিগান। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তার অসুস্থতার কথা প্রথমে জানা যায়। পরবর্তীতে জুনে চিকিৎসকরা জানান, তিনি ক্যান্সারের চতুর্থ স্টেজে ছিলেন।      কেভিন কিগান তার প্রজন্মে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ফরোয়ার্ড ছিলেন। ছোটখাটো গড়ন কিন্তু দুর্দান্ত গতি ও লড়াইয়ের মানসিকতার জন্য ভক্তরা তাকে ভালোবেসে ডাকতেন মাইটি মাউস।   লিভারপুলের জার্সিতে তিনি ৩টি ফার্স্ট ডিভিশন (বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ) শিরোপা, ১টি এফএ কাপ, ২টি ইউয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালে তাদের প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয় করেন।     জার্মান লিগে খেলতে গিয়ে ১৯৭৯ সালে বুন্দেসলিগা জেতেন। সেখানে তিনি পরপর দুই বছর (১৯৭৮ ও ১৯৭৯) ইউরোপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর অর্জন করেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি ৬৩ ম্যাচে ২১টি গোল করেন এবং ৩১টি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দেন।   খেলোয়াড়ি জীবনের পর কিগান নাম লেখান কোচিংয়ে। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবটিকে প্রিমিয়ার লিগে তুলে আনেন এবং দর্শকনন্দিত ফুটবল উপহার দিয়ে বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়ান। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দল (১৯৯৯–২০০০), ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্বও পালন করেন।

মারিয়া রহমান জুলাই ২১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্স-ইংল্যান্ডসহ আজ টিভিতে যেসব খেলা

ছবি: সংগৃহীত

ভিনিসিয়ুসের বাতিল গোল নিয়ে বিতর্ক, সত্যিই কি ফাউল ছিল?

ছবি : সংগৃহীত

অবশেষে গ্র্যান্ডস্লাম জিতলেন জেভেরেভ

ছবি : সংগৃহীত
৪৪ বছর বয়সে কুইন্স ক্লাবের ডাবলসে খেলবেন কিংবদন্তি

দীর্ঘ চার বছর পর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। চলতি মাসের শেষের দিকে লন্ডনের কুইন্স ক্লাবে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউটিএ-৫০০ টুর্নামেন্টের নারী ডাবলসে অংশ নেবেন ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকান তারকা। টুর্নামেন্টটির মূল পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৮ জুন, যেখানে খেলার জন্য সেরেনাকে একটি ওয়াইল্ডকার্ড দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেরেনা জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান উদীয়মান তারকা ভিক্টোরিয়া মবোকোর সাথে। ২২ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম সিঙ্গেলস শিরোপাজয়ী সেরেনা ২০২২ সালের ইউএস ওপেনের পর টেনিস থেকে দূরে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৯৬ সপ্তাহ পর এই ঘাসের কোর্টের টুর্নামেন্ট দিয়েই তার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে সেরেনা জানান, ‘এই নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য কুইন্স ক্লাবকে আমার একদম নিখুঁত জায়গা বলে মনে হচ্ছে। ঘাসের কোর্ট আমার ক্যারিয়ারে অনেক অর্থবহ মুহূর্ত উপহার দিয়েছে এবং টেনিসের অন্যতম আইকনিক এই মঞ্চে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারার জন্য আমি রোমাঞ্চিত।’ সেরেনার এই প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন মূলত শুরু হয়েছিল গত বছর, যখন ড্রাগ-টেস্টিং পুলের খেলোয়াড়দের তালিকায় তার নাম দেখা যায়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সির পুনর্বহাল তালিকায় তার নাম আসার পর সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। অবশেষে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টেনিস কোর্টে প্রবেশের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে সেরেনা নিজেই এই ফেরার ইঙ্গিত দেন। আধুনিক টেনিসের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে সর্বাধিক ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম সিঙ্গেলস শিরোপার মালিক সেরেনা। এছাড়া বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামসের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম ডাবলস শিরোপা জিতেছেন। অলিম্পিক গেমসেও ৩টি ডাবলস এবং ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে একটি একক গোল্ড মেডেলসহ ক্যারিয়ার গোল্ডেন স্লাম পূর্ণ করার অনন্য কীর্তি রয়েছে তার।

মারিয়া রহমান জুন ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সরে দাঁড়ালেন ৩ জন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতছেন নান্নু-মঈন

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ঘিরে স্কুল ছুটি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত বাতিল করল মেক্সিকো

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ রক্ষার মিশনে কি থাকছেন লিওনেল মেসি?

ছবি: সংগৃহীত
টানা দ্বিতীয়বার লিগ ওয়ানের বর্ষসেরা খেলোয়াড় দেম্বেলে

ফরাসি ফুটবলের শীর্ষ প্রতিযোগিতা লিগ ওয়ান-এ টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে। তার এই অর্জন ইউরোপিয়ান ফুটবলে চলতি মৌসুমে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   দুর্দান্ত গতি, অসাধারণ ড্রিবলিং দক্ষতা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল ও অ্যাসিস্ট করে দেম্বেলে পুরো মৌসুমজুড়েই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে বারবার ছিন্নভিন্ন করে দলকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসে যেভাবে তিনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই নয়, দলের আক্রমণভাগে তার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।   পুরস্কার ঘোষণার পর দেম্বেলে বলেন, এই অর্জন তার জন্য গর্বের হলেও তিনি এটিকে পুরো দলের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখেন। কোচিং স্টাফ, সতীর্থ এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।   এই টানা দ্বিতীয় সাফল্যের মাধ্যমে লিগ ওয়ানের ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন দেম্বেলে। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান ফুটবলে তিনি নিজেকে আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, ঘরের মাঠে প্রথমবার হারল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর্সেনালের ইতিহাস বদলে দিতে পারে: আর্তেতা

ছবি: সংগৃহীত

রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা উৎসবে বার্সেলোনা

0 Comments