জাতীয়

বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা ও সেনাবাহিনীর বিশেষ অনুষ্ঠান

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত বীর শহীদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করেছে। সকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৬টি গান থেকে এই বিশেষ তোপধ্বনি অনুষ্ঠিত হয়।


এরপর জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল অর্পণ করে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে বাজে করুণ সুর। শ্রদ্ধা জানানোর পর রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সেনা কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন।

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং প্রদর্শন করে একটি বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সকাল ১১টা থেকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করবে এবং একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হবে।

এছাড়া ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবে। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী হিসেবে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে ওয়েবসাইট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো যখন তাদের ইশতেহার প্রকাশ করছে সে সময় একটি গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধান দলগুলোর ইশতেহারসমূহ একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।   এতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্যে ইতোমধ্যে প্রকাশিত ইশতেহারগুলোও যুক্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রকল্পের গবেষক হচ্ছেন আলী রীয়াজ এবং এম এম মুসা। ওয়েবসাইটটির এ্যাড্রেস https://www.votemanifesto.com/ ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কী প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন এবং কী কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন গবেষক, সাংবাদিক এবং নাগরিকদের তা বিবেচনা করতে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই ডাটাবেজে বিভিন্ন দলের প্রকাশিত ইশতেহার একত্রিত করা হয়েছে। গবেষণা প্রকল্পের বর্ণনায় বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি প্রধান অঙ্গ হচ্ছে নির্বাচন। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নাগরিকরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। অবাধ, সুষ্ঠূ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন একটি দেশের শাসনব্যবস্থায় নাগরিকের অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে। নির্বাচনে একাধারে রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় প্রত্যেকটি দল ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ প্রকাশ করে যাতে দলের আদর্শিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচী সন্নিবেশিত হয়। নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে নাগরিকদের কাছে দলের প্রতিশ্রুতি। সেই বিবেচনায় ইশতেহার হচ্ছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের পরবর্তী কার্যক্রম বিচারের মাপকাঠি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আমেরিকান ইন্সিটিটিউট অব বাংলাদেশ (এআইবিএস)-এর প্রেসিডেন্ট। ড. রীয়াজ বর্তমানে উপদেষ্টা পদ-মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে কর্মরত। এম এম মুসা লেখক ও গবেষক, পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি নিয়মিতভাবে উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন বিষয়ে লেখালেখি করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তথ্য জানা যাবে ৪ উপায়ে : ইসি

ছবি : সংগৃহীত
ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত এলাকা নিশ্চিত করার নির্দেশ ইসির

 আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি সকল রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়া হয়েছে।   চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা মর্মে নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। বর্ণিতাবস্থায়, উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইশারা ভাষার মাধ্যমে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব: সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোণায় ৩ আসনে জনসভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান

ছবি : সংগৃহীত

গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান প্রধান তথ্য কর্মকর্তার

ছবি : সংগৃহীত
এবারের নির্বাচন দেশ গঠনের নির্বাচন : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ আবারো ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। কিন্তু শুধু ভোট দিলেই চলবে না। আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। এই দেশ যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।’ আজ শনিবার দুপুরে নীলফামারী শহরের বড় মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বেকার সমস্যা দূরীকরণে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।  তিনি জানান, নীলফামারীতে ইপিজেড আছে। এ ইপিজেডকে আরো বড় করা হবে। আরো কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। এলাকায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে; হয় তারা বিদেশে যাবেন অথবা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আগামী দিনে রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি, রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলকে সাথে নিয়ে দেশ গঠন করতে চাই। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মানুষকে আমরা বিবেচনা করবো তার মেধা, তার যোগ্যতা দিয়ে। তার বর্ণ দিয়ে নয়, তার ধর্ম দিয়ে নয়।’ তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বহু বছর ধরে আমরা আন্দোলন করেছি। আজ সেই অধিকার ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো দেশকে পুনর্গঠন করা। আমাদের টার্গেট দেশের কোটি তরুণদের তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা, সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। দেশের মানুষ, বিশেষ করে মা-বোনেরা যাতে নির্বিঘ্নে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারে, নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পাওে, সেই পরিবেশ আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে।’ মানুষের ভোটাধিকারের আন্দোলন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ভোটের অধিকারকে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল এক দল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করার জন্য বিএনপিসহ বহু দলের নেতাকর্মী, বহু সাধারণ মানুষ ওই স্বৈরাচারের সময় জীবন দিয়েছে। অত্যাচার নির্যাতনে শিকার হয়েছে, মামলা-মোকাদ্দমার শিকার হয়েছে। কতগুলো নিরীহ মানুষকে রাতের অন্ধকারে মেরে ফেলা হয়েছে, এই নীলফামারী হচ্ছে তার সাক্ষী।’ এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে গুরত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান দরকার। এই এলাকার ইপিজেডটাকে (উত্তরা ইপিজেড) আরো বড় করতে চাই। এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আরো কলকারখানা তৈরি করতে চাই। ছেলেমেয়েদের  ট্রেনিংয়ের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে চাই। যেখানে এলাকার ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং গ্রহণ করবে এবং দক্ষ শ্রমিকে তারা পরিণত হবে। এতে করে তারা নিজেরা কিছু করতে পারবে এবং বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবে’। ঘরে ঘরে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা এই দেশের মা-বোন এবং গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। আমরা প্রত্যেকটি নারীর কাছে যেই ধর্মের হোক সে যদি বাংলাদেশের একজন মা হয়ে থাকে , বাংলাদেশের একজন গৃহিণী হয়ে থাকে, আমরা তার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেকটি খেটে খাওয়া পরিবারের মা প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাবে।’ কৃষকদের জন্য পরিকল্পনার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই এলাকার বহু মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। এই কৃষকরা যদি ভালো থাকে, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষকরা যাতে ভালো থাকে, তারা যাতে সহজে কৃষিজাত দ্রব্য, বীজ, সার প্রয়োজন মতো পেতে পারে, সেজন্য আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে সহজে কৃষি ঋণ পেতে পারবে। যার মাধ্যমে সে সহজে কীটনাশক ওষুধ, বীজ, সার সহজে পাবে। শুধু তাই নয়, ১২ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা বাংলাদেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো।’ এসময় তিনি মসজিদের ইমাম এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে সরকারের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। যাতে করে এই এলাকা আবার সবুজ শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠতে পারে, খাল-বিল যাতে পানিতে ভরে যায়। এলাকার মানুষের যেন পানির কষ্ট না হয়। সেজন্য বিএনপি সরকার গঠনের সাথে সাথে দ্রুততার সাথে আমরা তিস্তা মহা পরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চাই।’ এসময় তিনি নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান। নির্বাচনে একটি দল বিভ্রান্তি ছড়াছে উল্লেখ কওে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি দলকে আমরা খেয়াল করছি সমাজের বিভিন্ন মানুষকে তারা ভয় দেখাচ্ছে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। আমি তাদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই— বাংলাদেশের কোনো ভোটারকে যারা ভয় দেখাবে, যারা তাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, কারো সাথে অন্যায় হলে আমরা সেই অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ দেশের মালিক জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনের যে পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে বললাম, সেগুলো তখনই বাস্তবায়ন সম্ভব, যখন এই মাঠ ভরা লোক, এই শহর ভরা লোক, এই সমগ্র জেলার মানুষ আমাদেরকে সমর্থন দেবে। আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। আপনারা যদি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে যে পরিকল্পনার কথা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, সেই পরিকল্পনা আমরা ইনশাল্লাহ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। প্রতিপক্ষের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথাই বলতে পারতাম। কিন্তু, ওইসব কথা বলে কি জনগণের উপকার হতো? মানুষ জানতে চায় যে, কোন রাজনৈতিক দল তাদের জন্য কী করবে। দেশ গঠনে কী কাজ করবে,  মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তনের জন্য কী কাজ করবে? আজ বিএনপি একমাত্র দল, যারা পরিষ্কারভাবে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে যে, বিএনপি মা-বোন, কৃষক, তরুণ, যুবকদের জন্য কী করবে। ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা, দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে কী করবে, সকল পরিকল্পনা বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।’ সবশেষে তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় আপনাদের সঙ্গে নিয়ে খাল খননের কাজ শুরু করতে চাই। আসুন আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি— যাতে আল্লাহ আমাদেরকে যে সকল পরিকল্পনা আমরা এলাকার জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য গ্রহণ করেছি, সে সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি যেন আমাদেরকে সুযোগ দেন।’ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল পারভেজ, মোস্তফা হক প্রধান, রিয়াজুল ইসলাম, সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, ভগিনীপতি মো. রফিকুল ইসলাম। পরে নীলফামারীর চারটি আসনে বিএনপির তিন প্রার্থী ও শরিক দলের এক প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। এর আগে তারেক রহমান দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে শহরের বড় মাঠ মিনি স্টেডিয়ামে নামেন। দুপুর ২টার দিকে তিনি জনসভাস্থলে আসেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। দুপুর ২টা ৭ মিনিটে  তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। ২১ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিট তিনি হেলিকপ্টারে করে দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। ছবি : সংগৃহীত

ভিজিট ভিসায় কাজ করার অনুমোদন নেই, জানাল দূতাবাস

ছবি : সংগৃহীত

৪ উপায়ে জানা যাবে ভোটকেন্দ্রের তথ্য

ছবি : সংগৃহীত

মাঘের শেষে তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

0 Comments