জাতীয়

বিএমইউতে থিসিস, গবেষণা লেখা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৭, ২০২৬

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে থিসিস, গবেষণাপত্র ও ম্যানুস্ক্রিপ্ট লেখা, হিনারি ব্যবহার করে জার্নাল ও আর্টিক্যাল খুঁজে বের করা বিষয়ে একটি হাতে কলমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার বিএমইউ’র এ ব্লক অডিটোরিয়ামে ‘হ্যান্ডস অন ট্রেনিং অন ইউজিং হিনারি ফর জার্নাল, আর্টিক্যাল সার্চিং ফর প্রটোকল, থিসিস এন্ড ম্যানুস্ক্রিপ্ট রাইটিং শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিএমইউ’র ৭০০ ফেইজ বি রেসিডেন্ট ছাত্র-ছাত্রী ও চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, দেশের মানুষের জন্য প্রয়োজন এমন গবেষণা করুন। যাতে গবেষণা সমূহ রোগীদের কল্যাণে কাজে লাগে। গবেষণাসমূহ যাতে রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে অবদান রাখতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, গবেষণার মাধ্যমে যাতে কোনো বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়, কারণসমূহ খুঁজে বের করা যায় এবং প্রতিকারের উপায়সমূহ চিহ্নিত করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। 

অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, গবেষণা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের এবং গবেষণাসমূহ আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশ করার ওপর আরো জোর দিতে হবে। বিভিন্ন গবেষণাসমূহ অনুবাদ করে সেখান থেকে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগানোর জন্য রোগীদের কল্যাণে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, নিজেকে আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে তৈরি করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিএমইউ’র প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ডিজিটালাইজেশনের যুগে এনালগ থাকার সুযোগ নাই। উন্নতমানের থিসিস, গবেষণাপত্র লেখার জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষণের বিকল্প নাই। সেই বিবেচনায় রেসিডেন্ট ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আজকের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচী। আজকের রেসিডেন্টরাই নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য এবং বিশ্বমানের চিকিৎসক ও গবেষক হিসেবে তৈরির মাধ্যমে আগামী দিনে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় সঠিক নেতৃত্ব দেবেন সেটাই প্রত্যাশিত।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। 

কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন গ্রন্থাগারিক ও এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল। 

এই কর্মশালায় বিএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার ইরতেকা রহমান, অতিরিক্ত গ্রন্থাগারিক সুফিয়া বেগম, উপ-গ্রন্থাগারিক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদ প্রমুখসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংক কর্মীদের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ২ মাসে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ব্যাংক কর্মীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠলে তা চাকরিবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।   সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের সংশ্লিষ্ট নিয়ম সংশোধন করে অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা দুই মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক কর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা বাড়বে।   ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ২০০৫ সালের মূল সার্কুলারের অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে ১৫৫ অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা

ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছরের কমবয়সী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবে না

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা, সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট নয় তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ )-এর ডিরেক্টরেট অব অপারেশন্সের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেরাল্ড পি. হ্যামিল্টন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে তার বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন দূতাবাস বা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হ্যামিল্টনের ঢাকায় আসার তথ্য প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সংরক্ষণসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান নিয়েছেন সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। হোটেল সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তার ঢাকায় থাকার কথা রয়েছে।   জেরাল্ড পি. হ্যামিল্টন প্রায় ৩৫ বছর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়া CIA সদর দপ্তরে বিভাগীয় প্রধান ও দপ্তর পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।   অবসরের আগে গোয়েন্দা কার্যক্রমে অবদানের জন্য তিনি ‘ডিস্টিঙ্গুইশড ক্যারিয়ার ইন্টেলিজেন্স মেডেল’সহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন।   তবে হ্যামিল্টনের বর্তমান ঢাকা সফরকে ঘিরে কোনো সরকারি বৈঠক বা কর্মসূচির তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তার সফরটি নিরাপত্তা সহযোগিতা, ব্যক্তিগত বিষয় নাকি অন্য কোনো কারণে—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এদিকে আগামী ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর-এর ঢাকা সফরের কথা রয়েছে। পরদিন ৩০ জুলাই তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬

‘বাংলাদেশকে জ্ঞান ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার’

চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থার ঘোষণা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর

ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা অবকাঠামো

রাজধানী ঢাকায় ঝুঁকিসংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নিরাপদ নির্মাণমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে।   রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালিত প্রকল্পটির নাম আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প (ইউআরপি)। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগর এলাকার ভূমির গুণগত মান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বালু নদের অববাহিকার প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।   মাটি দুর্বল এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এ এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্প ও বৃহৎ অবকাঠামো ভূমিকম্পের সময় দ্রুত ধসে পড়তে পারে বলে সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর মূল নগর এলাকার বাইরে জলাশয় ও জলাভূমি ভরাট করে গত দুই দশকে গড়ে তোলা আবাসন প্রকল্প ও মেগা অবকাঠামোগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।   ইউআরপি প্রকল্পের আওতায় ঢাকার চার শতাধিক স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে রাজউক। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকার পুরনো অংশের তুলনায় সম্প্রসারিত এলাকাগুলো ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বেশি। তবে এলাকাভেদে ঝুঁকির মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। এ বিবেচনায় ঢাকার মধ্যে বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা অবকাঠামোগুলো সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।   ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে এ এলাকার আবাসন প্রকল্পগুলো মাটিতে ডেবে যাওয়ার পাশাপাশি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউআরপি প্রকল্পের পরিচালক ও রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ড. আবদুল লতিফ হেলালী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো ঢাকার মাটির অবস্থা পরীক্ষা করে দেখেছি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বালু নদের আশপাশের এলাকায়। এখানে যেসব অবকাঠামো ও আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে, সেগুলো মূলত পানির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’   ড. আবদুল লতিফ হেলালী আরো বলেন, ‘বনশ্রী থেকে শুরু করে আফতাবনগর, মাদানি এভিনিউ হয়ে বসুন্ধরা ৩০০ ফুট সড়ক ধরে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত পুরো এলাকাই ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থাৎ বনশ্রীর পর থেকে যে অংশ জলাভূমি ভরাট করে উন্নয়ন করা হয়েছে সবই ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়বে। দেশে তো এখনো ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়নি। গত বছর যে বড় ভূমিকম্প হয়েছে, সেটি ছিল ৫ দশমিক ৪ মাত্রার। ৭ মাত্রার হলে বালু ভরাট করে গড়ে ওঠা এলাকায় সব সমান হয়ে যাবে।’   রাজউক পরিচালিত ইউআরপি প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী। রাজউকের মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে তিনি পৃথক একটি গবেষণা করেন। ‘লিকুইফ্যাকশন পটেনশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট অব দ্য ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান এরিয়া (ডিএমডিপি) অব বাংলাদেশ ইউজিং সিপিটি-বেজড মেথড’ শীর্ষক গবেষণাটি ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা প্লাটফর্ম স্প্রিংগার নেচার লিংকে প্রকাশিত হয়।   বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজউক পুরো ঢাকার চার শতাধিক জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে বালু নদের অববাহিকায় প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দেখা গেছে।   মেহেদী আনসারী জানান, ভূমির গঠনগত কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মূলত দুইভাবে বাড়তে পারে। কোনো এলাকার ভূগর্ভে নরম কাদামাটি বা আলগা বালির স্তর থাকলে ভূমিকম্পের কম্পন সেখানে কয়েক গুণ বেড়ে অনুভূত হয়। এ ঘটনাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফিকেশন বা কম্পনের তীব্রতা বৃদ্ধি। অন্যদিকে ভূগর্ভে আলগা বালির স্তরের পাশাপাশি পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকলে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বালি ও পানি মিশে মাটি ভার বহনের সক্ষমতা হারায়। এতে ভবন মাটিতে ডেবে যেতে বা হেলে পড়তে পারে। এ ঘটনাকে বলা হয় লিকুইফ্যাকশন বা ভবন ডেবে যাওয়া। তিনি বলেন, ‘রাজউকের পরীক্ষায় দেখা গেছে, বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা কোনো কোনো আবাসিক এলাকার ভূমির অবস্থা খুবই দুর্বল। কোথাও কোথাও সাত মিটার পর্যন্ত লুজ বালি। তারপর অন্তত ৩৫ মিটার পর্যন্ত নরম কাদামাটি। ফলে এখানে ভূমিকম্প হলে লিকুইফ্যাকশন এবং অ্যামপ্লিফিকেশন দুটোই হবে।’   বালু নদের অববাহিকার প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা মূলত জলাশয় ও জলাভূমি ছিল। ঢাকার পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোয় এলাকাটিকে সংরক্ষিত জলাধার হিসেবে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযোগী না হওয়ায় এটিকে প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে (ডিএমডিপি ১৯৯৫-২০১৫) মোট পাঁচটি এলাকাকে সংরক্ষিত জলাধার হিসেবে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি জলাধারই ছিল বালু নদের অববাহিকার ওই ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে। রাজউকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত এসব জলাধার ধীরে ধীরে ভরাট করেই সেখানে বসতি ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।   ঢাকার জন্য প্রণীত সর্বশেষ বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায়ও (ড্যাপ ২০২২-৩৫) বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ড্যাপে বলা হয়েছে, বালু নদের অববাহিকায় অবস্থিত আবাসন প্রকল্পগুলো ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ নকশার ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ড্যাপের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বনশ্রী থেকে শুরু করে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত পুরো বালু নদের অববাহিকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর কারণ হলো এ পুরো এলাকা ছিল প্রাকৃতিক জলাধার। ভরাট করার কারণে এসব এলাকা ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। ড্যাপে বিষয়টি আমরা ম্যাপের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দিয়েছি।’   প্রায় চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ঢাকার ভূমির গঠন নিয়ে একটি গবেষণা করেন। ‘সিম্পলিফায়েড ইঞ্জিনিয়ারিং জিওমরফিক ইউনিট-বেজড সিসমিক সাইট ক্যারেক্টারাইজেশন অব দ্য ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান অব ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ভূমি ও মৃত্তিকার গঠনের সঙ্গে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।   গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার ভূমি প্রধানত দুই ধরনের। সদরঘাট থেকে গাজীপুরের মধুপুর পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটি প্লাইস্টোসিন যুগের লাল মাটি দিয়ে গঠিত। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর, টঙ্গী, গাজীপুর ও সাভারের একাংশ এ ধরনের তুলনামূলক শক্ত ভূমির অন্তর্ভুক্ত। গবেষকদের মতে, এসব এলাকায় মাটির ধারণক্ষমতা বিবেচনায় পাঁচ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণে সাধারণত পাইলিংয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জ, হেমায়েতপুর, বালু নদের অববাহিকা ও নারায়ণগঞ্জের একাংশ সাম্প্রতিক প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত। বন্যা ও বর্ষার পানির সঙ্গে আসা পলি জমে এসব ভূমি এখনো গঠিত হচ্ছে। এ ধরনের এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী ৩০-৪০ মিটার পর্যন্ত গভীর পাইলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে যথাযথ পাইলিং করা হলেও ভূমিকম্পের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।   গবেষণা দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার পুরনো অংশের প্লাইস্টোসিন যুগের সোপানভূমি প্রায় ১৮ থেকে ২৫ লাখ বছর আগে গঠিত হয়েছে। এ অংশের ভূমি শক্ত লাল কাদামাটি ও বালির স্তরের ওপর গড়ে উঠেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে এ ধরনের ভূমির পরিমাণ মাত্র ৮ শতাংশ। এসব এলাকায় পাঁচ থেকে ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণে সাধারণত পাইলিং তেমন জরুরি নয়। অন্যদিকে ঢাকার সম্প্রসারিত অংশে জলাভূমি ও নিচু জমি ভরাট করে অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রকৌশলগত নিয়ম মেনে পাইলিং করে অবকাঠামো নির্মাণ অত্যাবশ্যক। তবে এখানে যথাযথ নিয়মে পাইলিং করা হলেও অবকাঠামোগুলো ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে মুক্ত বলা যায় না। ভূমিকম্পের সময় এ ধরনের দুর্বল ভূমি ডেবে যেতে পারে। তখন রাস্তা ও ভবন অক্ষত থাকলেও মাটি নিচে নেমে ভবনের ফাউন্ডেশন উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে কিংবা পুরো ভবন হেলে পড়তে পারে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৬, ২০২৬

স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করার চক্রান্ত হয়: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদন থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশ কি পেতে যাচ্ছে প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি?

0 Comments