জাতীয়

বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠায় অধ্যাদেশ জারি

Unknown জানুয়ারী ০২, ২০২৬

বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক আস্থা জোরদার এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে থাকা অবস্থায় বিদ্যমান জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন।
অধ্যাদেশে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও বিশেষ আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এসব আদালতের এখতিয়ার, কার্যক্রম পরিচালনা, মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াবলিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসা সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় ও ব্যয় উভয়ই হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সরকার মনে করছে, বাণিজ্যিক আদালত কার্যকরভাবে চালু হলে ব্যবসায়িক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে, যা দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে স্থিতিশীলতা আসবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাঠানো হয় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। সেই প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় এবার অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হলো।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বদলির পরও মামলায় চার্জশিট দিলেন এসআই মাহিদুল

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলি হওয়ার পরও ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দিয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম। বদলিজনিত প্রস্থান বা সিসি নেওয়ার পরদিনই মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশে এসআই মাহিদুল ওসির ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করেন।   এসআই মাহিদুল ইসলামের বদলির আদেশ, বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) এবং সংশ্লিষ্ট মামলার চার্জশিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।   নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে এসআই মাহিদুল ইসলামকে তেজগাঁও থানায় বদলির আদেশ দেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) নেন তিনি।   কোনো কর্মকর্তা বদলিজনিত প্রস্থান নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে তার দায়িত্বগত সম্পর্ক শেষ হয়। একই সঙ্গে সিডিএমএসে তার আইডি লক হয়ে যায়। কিন্তু নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোহাম্মদপুর থানায় দায়িত্ব শেষ করে সিসি নেওয়ার পরদিনই অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন এসআই মাহিদুল ইসলাম।   অভিযোগ উঠেছে, ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং এর পেছনে মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশ ছিল।   মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমরা যেহেতু সরকারি চাকরি করি আমাদের যে কোনো সময় বদলির অর্ডার হতে পারে। যদি কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বদলির অর্ডার হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিয়ে তার কাছে থাকা মামলার ডকেট (কাগজপত্র) দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করে সিসি নিয়ে নিতে হয়। সিসি নেওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি মামলার চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্ট মামলার তদন্ত যে কোনো কিছু করতে পারবেন। সেটির সুযোগ থাকে। কিন্তু আপনি যখন থানা থেকে সিসি নেবেন তখন আপনার সঙ্গে এই থানার সমস্ত সম্পর্ক শেষ। আপনি কোনোভাবেই মামলার কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।   চার মাসের মধ্যে চার্জশিট মোহাম্মদপুর থানার এ বছরের জানুয়ারি মাসের ৩ নম্বর মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২ জানুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত পাইলট সৈয়দ নাজিম মাহমুদ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাহিদুল ইসলাম।   মামলা রুজুর প্রায় চার মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগপত্র দাখিলের সময় এসআই মাহিদুল আর মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত ছিলেন না। এর আগেই তিনি বদলির আদেশ পেয়ে ১৮ এপ্রিল সিসি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানা ছাড়েন। পরদিন ১৯ এপ্রিল তিনি অভিযোগপত্র (অভিযোগপত্র নম্বর-২৫৮) দাখিল করেন।   ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার এসআই মাহিদুলের বদলির পরও চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   অভিযুক্ত এসআই ও ওসির বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বদলির পরও চার্জশিট দেওয়া এসআই মাহিদুল ইহলাম জানান, আমি সিসি নিয়েছি ১৮ তারিখ সেটা সঠিক। কিন্তু আমি নিয়ম মেনেই চার্জশিট দিয়েছি। আমার আইডি যদি লক হয়ে যায় তাহলে আমি চার্জশিট দিয়েছি কীভাবে। আমি রাত ১২টার আগে সিডিএমএস এন্ট্রি দিয়েছিলাম, ত্রুটির কারণে সেটি পরদিন নিয়েছে।   আপনি তো আপনার আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেননি। তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন- এমন তথ্য আছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি তার সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করিনি, বিষয়টি সঠিক নয়।   বদলির পরেও কীভাবে এসআই মাহিদুল মামলার চার্জশিট দিয়েছেন সে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন (বর্তমানে ডিবি রমনায় কর্মরত) ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, বদলি হওয়ার পরেও তিনি চার্জশিটে দিতে পারবেন। যেহেতু তার একই ডিভিশনে বদলি হয়েছে। তার সিডিএমএস আইডি লক হয়নি। লক হলে তিনি কীভাবে চার্জশিট দিয়েছেন?   আপনার আইডি ব্যবহার করে চার্জশিট দিয়েছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, তিনি আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড জানবেন কীভাবে? আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড তো তার কাছে থাকার কথা নয়। আর আমি তো ওখান থেকে চলে এসেছি, এখন এটা নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করে কী লাভ।   মামলার বিচারে প্রভাব পড়ে : আইনজীবী এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব বা পোস্টিং নেই, সেই থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রিপোর্ট দাখিল করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ একজন তদন্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট থানার কর্মকর্তা হিসেবে একটি মামলার তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ওই থানায় তার পোস্টিং না থাকলে সেখানে তার দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।   তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি এক তারিখে থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বদলি হয়ে চলে যান, কিন্তু পরদিন ওই মামলার চার্জশিটে স্বাক্ষর করেন, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেবে। কারণ চার্জশিট দাখিলের দিন ওই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   মনজিল মোরসেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার ভুল বা অসতর্কতার কারণে মামলাটি দুর্বল হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিচার পর্যায়ে আসামিপক্ষ বিষয়টি জানতে পারলে তারা জেরার সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তখন তদন্ত কর্মকর্তার ওই দিন মামলার রিপোর্ট দাখিলের আইনগত কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি আদালতের সামনে আসবে। এতে আসামিপক্ষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং মামলাটিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।   আদালত চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি ফেরতও দিতে পারেন। তবে সাধারণত রিপোর্ট গ্রহণের পর্যায়ে এ ধরনের বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয় না। বিচারপর্বে আসামিপক্ষ বিষয়টি তুলে ধরলে তখন এর গুরুত্ব বাড়তে পারে।   এই আইনজীবী আরও বলেন, দায়িত্বে না থাকা থানার মামলায় রিপোর্ট দাখিল করা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার জন্য দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের বিষয়ও হতে পারে। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও শর্ত রয়েছে। সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা রিপোর্ট দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   তবে যদি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি তার পক্ষে একটি সুরক্ষার বিষয় হতে পারে। কিন্তু এমন কোনো অনুমতি না থাকলে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা মিসকন্ডাক্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় তার দায়িত্বই নেই, সেই থানার মামলায় তিনি কীভাবে রিপোর্ট দাখিল করেন এটা তো তিনি করতে পারেন না।   তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এখানে কারো কোনো গাফিলতি আছে কি না, এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত এবং আইনগতভাবে হয়েছে কি না সে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।   এখন তদন্তে বেরিয়ে আসবে, সিসি নেওয়ার পর এসআই মাহিদুল কীভাবে চার্জশিট দাখিল করল, তার সিডিএমএস আইডি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিবগঞ্জে পিস্তল-ম্যাগাজিন ও গুলিসহ দুইজন আটক

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের পিকআপ ভ্যান থেকে সোয়া লাখের বেশি বিড়ি জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়িতে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ছয়জন আটক

জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক। ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক সাইডলাইন বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।   এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।   প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।   তিনি জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।   একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৪ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন।   এ ছাড়া সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের স্টেনারগার্ডের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।   জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারির ভূমিকা জোরদার এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।   বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে।   সূত্র: বাসস

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক আকাশপথে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখল ইউএস-বাংলা

ছবি: সংগৃহীত

কীর্তিনাশায় নৌকাবাইচ, বৈঠার তালে মেতেছে হাজারো দর্শক

ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৭৭৮ জনের নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ, প্রশ্ন তুললেন গোলাম পরওয়ার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি—এমন অভিযোগের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, দেশের ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তাদের অনেকে ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।   তবে প্রার্থীদের এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেছেন, নিয়োগপত্র ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে এবং অনেক এলাকায় তা পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। নতুন করে ভেরিফিকেশনের কারণে কোনো প্রার্থী বাদ পড়েছেন—এমন আনুষ্ঠানিক তথ্য তার কাছে নেই।   গোলাম পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের সব ধাপ শেষ করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হলে এর কারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক, পারিবারিক বা মতাদর্শগত পরিচয়ের কারণে কেউ বঞ্চিত হয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তিনি সরকারের কাছে নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের কারণ জানানো এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড প্রকাশের আহ্বান জানান।   তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।   প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, খুলনা, ভোলা, জামালপুরসহ ২৭ জেলার বিভিন্ন প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এই সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সরকারি যাচাই এখনো হয়নি।   উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়োগপত্র ডাকযোগেও পাঠানো হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুরাইনে পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন সভাপতি মানসুর সাকী, সেক্রেটারি রহমাতুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে টুকুর হুঁশিয়ারি, ‘বিশৃঙ্খলা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ’

0 Comments