জাতীয়

বাংলাদেশের জন্য ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু পুনরায় শুরু করেছে ভারত

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১৯, ২০২৫

 বাংলাদেশের জন্য ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম আবারও চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি জানান, জরুরি প্রয়োজনের ভিসা আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

 

রাজধানীর বারিধারায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময় অনুষ্ঠান ‘ফার্মা কানেক্ট’ এ তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। হাইকমিশনার বলেন, আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভিসা আবেদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে এখন সীমিত জনবল দিয়েও প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিসা ইস্যুর কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু আবার শুরু হয়েছে এবং জরুরি আবেদনগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক ভিসার প্রয়োজন হলে আবেদনকারীরা হাইকমিশনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।

 

ভারতের আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রদর্শনী সিপিএইচআই–পিএমইসি ইন্ডিয়া ২০২৫-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে সামনে রেখে ‘ফার্মা কানেক্ট’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আগামী ২৫–২৭ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রদর্শনী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সরকারের আচরণ গণতন্ত্র ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল: এ টি এম আজহার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা রহস্যজনকভাবে এই শপথ গ্রহণ করেনি। তারা জনগণের রায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে, সরকারের আচরণ গণতন্ত্র ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।   মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-রংপুর লংমার্চ বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।   এ টি এম আজহার বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন জনদাবি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় ও সমাবেশে শামিল হয়েছে, জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। তার মানে জনণন এই দাবির পক্ষে রায় দিয়েছে।’   সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘১১ দলীয় এক্যের দাবি জনগণের দাবি। বাংলাদেশের ইতিহাসে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হয়নি এমনটি হয়নি। জিয়াউর রহমান, এরশাদও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেছে, কিন্তু এবারই ব্যাত্যয় ঘটছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের দিকে যেতে দেয়া হবে না, জনগণ হতে দেবে না। বর্তমান সরকার কিছুটা ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে, এভাবে চলতে থাকলে জনগণ আবারও জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায় গনআন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’   এসময় জামায়াতে ইসলামির বগুড়া অঞ্চল পরিচালক প্রফেসর নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা আমির অধ্যক্ষ শাহিনুর আলম, সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

সমকামী সহিংসতা প্রতিরোধে ৩৭৭ ধারা কার্য‌কর করতে হবে

ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোনো অনুরাগ-বিরাগ নেই: জাহেদ উর রহমান

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় : চিফ প্রসিকিউটর

ছবি; সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি: ইসি আনোয়ারুল

দেশের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেই ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।   স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে কমিশনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আইনগত বিষয়, সার্বিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন পরীক্ষা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।   ইসি সূত্র ও কমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দেশের বিপুলসংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ভোট আয়োজনের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের বিভিন্ন পরীক্ষা বিবেচনায় রেখে ভোটের সময় নির্ধারণের কথা জানিয়েছিল কমিশন।   নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।   নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জনপ্রতিনিধি নেই কিংবা আইনগতভাবে নির্বাচন আয়োজনের সময় হয়েছে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।   স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে এর আগে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য হলো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে। ফলে সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি, প্রার্থীদের যোগ্যতা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ও পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন। এসব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি স্পষ্ট হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
ছবি; সংগৃহীত

হাটহাজারীতে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা

ছবি; সংগৃহীত

বাংলাদেশের ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকারের বৈঠক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে সংবর্ধিত হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

সংগৃহীত ছবি
এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি: কাটাতে শুরু করেছে দেশের সার্বিক গ্যাস সংকট

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মারাত্মক সংকটের পর অবশেষে জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।     সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক ৯৮ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানে মোট দৈনিক সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুটে। আমদানিকৃত এলএনজির নতুন কার্গো নিয়মিত পৌঁছানো শুরু করায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার্বিক গ্যাস সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।       পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সাধারণত ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে নিয়মিত কার্গো না থাকায় গতকাল সরবরাহ নেমে এসেছিল মাত্র ২৩৭ কোটি ঘনফুটে, যার মধ্যে এলএনজি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৭৫ কোটি ঘনফুট। আজ দেশীয় বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে দৈনিক ১৬২ কোটি ঘনফুট উত্তোলনের পাশাপাশি এলএনজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।       রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি ও দরপত্র জটিলতায় শেষ পর্যন্ত ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে পাঁচটি কার্গো কেনা হয়েছে। ইতোমধ্যে আরামকো ও ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের পর আজ কোরীয় প্রতিষ্ঠান পস্কোর একটি কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করা হয়েছে। এ ছাড়া গানভর, আরামকো ও টোটাল এনার্জির অবশিষ্ট কার্গোগুলো আগামী ১৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী অক্টোবর মাসের জন্য ইতোমধ্যে ছয়টি কার্গো নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও পাঁচটি কার্গো কিনতে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।     দেশে বিগত ৯ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত ২১ জুলাই এক দুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। টানা ২৫ দিনের তীব্র সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় চালু হলেও নতুন কার্গোর অভাবে এতদিন সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। গত বছরের জুলাই-আগস্টে যেখানে ২১টি কার্গো এসেছিল, সেখানে চলতি বছর এসেছে মাত্র ১৫টি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গ্যাস সময়মতো না পাওয়ায় সরকারকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে খোলাবাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

জনগণের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও ৬ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

0 Comments