জাতীয়

বাজেটে অর্থের যোগানের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই : মান্না

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

অর্থের যোগানের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহামুদুর রহমান মান্না। 

 

বৃহস্পতিবার (১১  জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ করের তুলনায় সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়ে বাজেটের টাকার সংস্থান করা হবে। বিগত অর্থবছর গুলোতে কেন রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, কেন খেলাপি ঋণ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে, কেন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি- সেই পর্যালোচনা সরকার করেনি। বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই বর্তাবে। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণে নির্ভরতাও বেড়ে যাবে। মূল্যস্ফীতি বাড়বে। বাড়বে আয় বৈষম্য। 

 

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা হয়েছে কিন্তু অর্থের যোগানের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। এক অর্থে দিশাহীন সুবিশাল বাজেট ঘোষণার সেই পুরনো পথেই হেঁটেছে সরকার। এই বাজেটে আশাবাদ আছে তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেই।


 
মান্না বলেন, এবারও বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার পুরনো ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। দেশের আবাসন খাত পুরোপুরি দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাবে। জমি এবং ফ্ল্যাটের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাতে ভারসাম্য, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে বাজেটে স্পষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই। 

 

তিনি আরও বলেন,  বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্থান পায়নি বাজেটে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা মূল্যায়ন না করে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারকে সামনে রেখে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ রেখেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা থেকে এবারের বাজেটও সরে আসতে পারেনি। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলা হলেও সেই ব্যাপারে কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই। 

 

নাগরিক ঐক্য সভাপতি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে আসার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। প্রস্তাবিত বাজেট গত দুই বছরের সংকোচনমূলক নীতি থেকে সরে এসে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি সম্প্রসারণমূলক কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক দিক রয়েছে যা স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন জরুরি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনা

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন করে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগের মাস্টারপ্ল্যানে পরিবর্তন করে এই নতুন প্লান করা হবে। নতুন করে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে যে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ আছে, তা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি হোটেলগুলোকে ভেঙে নতুন করে তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আলোচনাও চলছে, কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশন হিসেবেও ঘোষণা আসতে পারে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবেশের যে বিধিনিষেধ রয়েছে সেখানে কিছু শিথিলতা এবং সবকিছুর জন্য দ্রুত পরিবেশের ছাড়পত্র চায় পর্যটন মন্ত্রণালয়।   বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আফরোজা খানম (রিতা), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হলেন জাকারিয়া তাহের সুমন ও ভূমিমন্ত্রী হলেন মো. মিজানুর রহমান মিনু উপস্থিত ছিলেন। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বৈঠকে একটি উপস্থাপনা করেন। এসময় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   জানা যায়, কক্সবাজারকে আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে গত ২০২২ সালে একটি মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) করা হয়। প্রকল্পটি ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর মোট ১৭৪ দশমিক ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু করেছিল। এটি ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলার কথা ছিল।   বৈঠকে সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকার আগের সেই মাস্টারপ্ল্যানে পরিবর্তন আনতে চায়। ওই প্ল্যানকে ভিত্তি করে নতুন করে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। চলতি বছরের মধ্যেই এই প্ল্যান তৈরি হবে। এছাড়া আগের পরিবেশগত বিধিনিষেধের কিছু শিথিলতা চেয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা তিনটি হোটেল ভেঙে নতুন করে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর জন্য পরিবেশের দ্রুত ছাড়পত্রও চেয়েছেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা। এ ছাড়া বৈঠকে শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের কিছু পর্যটন মডেল উপস্থাপন করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।   বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের শুরুতে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার ঘিরে সরকারের বড় পরিকল্পনা আছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগোচ্ছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে। সেইসঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপ দেওয়া হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবা খাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এই জেলার অবদান আরও বাড়বে।   অর্থমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিভিন্ন বিধিনিষেধ নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। যেখানে পর্যটন উন্নয়ন হবে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ থাকতে হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।   অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা করা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তবে এমন কঠোর বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়, যাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।   অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ছোট দেশ। তাই পরিকল্পিতভাবে বহুতল বা উল্লম্ব উন্নয়ন উৎসাহিত করতে হবে। তা না হলে শিল্পাঞ্চল, জলাধার ও কৃষিজমি রক্ষা করা কঠিন হবে। বিশ্বের বড় পর্যটন নগরীগুলোও বহুতল ভবনভিত্তিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। কক্সবাজারেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের বৈঠকে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ কমিটির সভাপতি। আমরা কক্সবাজারের সংসদ সদস্যরা এখানে অংশগ্রহণ করেছি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে এ পরিকল্পনা প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্য কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা। সেইসঙ্গে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ইকো টুরিজম এলাকা নির্ধারণ করা, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় এলাকাসহ সেসকল ক্রিটিক্যাল উন্নয়ন করা হয়েছে সেগুলোর ভিত্তিগুলোকে পুনর্বিবেচনা করা হবে। কারন সেগুলো কিসের ভিত্তিতে করা হয়েছে আমরা জানি না। যার কারণে সেখানকার ট্যুরিজমটা ফ্লারিশ হচ্ছে না। এতে বিনিয়োগও হচ্ছে না।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শত কিলোমিটারের সমুদ্র আমাদের। বিশ্বের দীর্ঘতম এ সমুদ্রসৈকতকে জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য কীভাবে বানাতে পরি, রাজস্ব আয়ের বড় অংশীদার করতে পারি, কীভাবে আমরা এটাকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্র বানাতে পারি এজন্য সামগ্রিক রিকল্পনা করা হচ্ছে।   এগুলোর উদ্দেশ্যেই কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা হতে পারে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, সেখানে ব্লু ইকোনমি ও সি রিসোর্সেস উন্নয়নের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানকে আনা প্রয়োজন সেগুলোকে প্রতিস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া আমরা আরও অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। ডিপসি পূর্ণদ্যোমে শুরু হলে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণদ্যোমে শুরু হলে এখানে অনেক বিনিয়োগ আসবে। দেশি বিদেশি এসব বিনিয়োগকে বৃদ্ধি করতে আমরা চেষ্টা করব। যাতে করে বাংলাদেশে একটা আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজমের হাব তৈরি হয়।   কক্সবাজারে বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পানি শোধনাগারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।   একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানালেন মোদি

ছবি: সংগৃহীত

গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের পর সিইসিকে চিঠি দিল জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
হাজারীবাগে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় মধ্যরাতে বাসা থেকে ডেকে নেওয়ার পর সাগর হোসেন ওরফে বুলেট (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ জুলাই দিবাগত রাত ১টার দিকে এক কিশোর সাগরকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   নিহতের বড় বোন শারমিন বেগম দাবি করেন, তার ভাইকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নন তারা।   ছোট ভাই শাওন বলেন, ১৪ বছর বয়সী ইমন নামে এক কিশোর সেদিন রাতে সাগরকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তার দাবি, ওই কিশোরের মাধ্যমেই পরিকল্পিতভাবে সাগরকে হত্যার ফাঁদে ফেলা হয়। বর্তমানে ইমন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানান তিনি।   পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   হাজারীবাগ থানা সূত্র জানায়, নিহত সাগর ওরফে বুলেটের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্তসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তিনি এলাকায় একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   মামলার এজাহার অনুযায়ী, পূর্ববিরোধের জেরে কয়েকজন অভিযুক্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাগরের ওপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।   তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হুমায়ুন কবির, আকাশ, সাব্বির ও মোল্লা ইমনসহ অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে হুমায়ুন কবির ও মোল্লা ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি লোহার রড ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।   হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসির কক্ষে অগ্নিকাণ্ড, পুড়েছে আসবাবপত্র

বাংলাদেশি পাসপোর্টের মান কমেনি, ভিসা জটিলতার পেছনে অবৈধ বিদেশযাত্রা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

চীনে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে সভা

ছবি: সংগৃহীত
বাবার গলায় করাত ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে বাবার গলায় করাত ধরে হত্যার চেষ্টা এবং মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিরাজ আলী (২৪) সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের বাসিন্দা।   উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত বুধবার মিরাজের বাবা মো. জাহিদুল ইসলাম ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং চুরি, মারামারি, পারিবারিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হলেও তিনি আবারও মাদক সেবন ও অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।   অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদকের টাকা না পেলে মিরাজ বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন, চুরির সঙ্গে জড়িত থাকেন এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এর আগে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে তিনি দুইবার কারাভোগও করেছেন। তার আচরণের কারণে স্ত্রীও তাকে তালাক দিয়ে চলে গেছেন।   গত ২২ জুলাই পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে বাবা কারণ জানতে চাইলে মিরাজ ঘর থেকে একটি করাত এনে তার গলায় ধরে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় মা বাধা দিতে গেলে তাকেও আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরে বাবা-মা দুজনই পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।   ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানির সময় মিরাজ মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, স্বীকারোক্তি এবং উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।   নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ, তার স্বীকারোক্তি এবং উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সহযোগিতা চাই‌লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জুবাইদা রহমানের

0 Comments