শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতল পাকিস্তানই। লো স্কোরিং এই সিরিজের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। লাহোরে ১৫৭ রান তাড়ায় ১১২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়েছিল শাহিন আফ্রিদির দল।
তবে শাদাব খানের ২৯ রানের ইনিংসে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা। তাতে ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে পাকিস্তান।
বোলিং সহায়ক উইকেটে ১৫৮ রানের লক্ষ্য ছুঁতে পাকিস্তানের লেগেছে ৪১.৫ ওভার। দলীয় ২৭ রানে সাহিবজাদা ফারহানকে হারানোর পর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে গেছে দলটি। সর্বোচ্চ ৪০ রান এসেছে বাবর আজমের ব্যাট থেকে।
শাদাবের পাশাপাশি আবদুল সামাদও কৃতিত্ব পাবেন। অপরাজিত ছিলেন ১৮ রানে। সপ্তম উইকেট জুটিতে দুজনে মিলে গড়েছেন অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটি।
বল হাতে নিজেদের কাজটা করেছেন পাকিস্তানের বোলাররাও। পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়েছে তাদের সর্বনিম্ন রানে। টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়া আজও উইকেট হারিয়েছে শূন্য রানে।
শাহিন আফ্রিদির করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হয়েছেন ম্যাথু শর্ট। এরপর অধিনায়ক জশ ইংলিস ও মারনাস লাবুশেন গড়েন ৪৬ রানের জুটি। তবে ১৯ রানে লাবুশেন রানআউট হলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর অ্যালেক্স ক্যারির সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়েন ইংলিস।
একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ২ উইকেটে ৯৮। সেই অস্ট্রেলিয়াই ১৩৭ রানে হারায় ৮ উইকেট। মূলত দলীয় ১১৯ রানে ইংলিস আফ্রিদির বলে ৬৫ রানে আউট হলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসে পড়ে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছিল ওই লাবুশেন ও ক্যারির ব্যাট থেকেই। ৩ উইকেট নিয়েছেন আফ্রিদি। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন আবরার আহমেদ ও শাদাব খান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য আজ এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টায় ফিফা প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোর মুখোমুখি হচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই ম্যাচটি দুটি কারণে বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকবে— প্রথমত, বাংলাদেশ দল এই প্রথম ইউরোপের মাটিতে কোনও ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হচ্ছে; এবং দ্বিতীয়ত, জামাল ভূঁইয়ারা এই প্রথম ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি সম্বলিত কোনও ম্যাচ খেলতে নামছেন। ফিফা র্যাংকিংয়ের তলানিতে থাকা দল হলেও সান মারিনোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউরোপীয় ক্ষুদ্র দেশটিতে ফুটবল অবকাঠামো অত্যন্ত আধুনিক ও উন্নত। নিজেদের ফুটবল কাঠামোর এই উন্নতির কারণেই তারা নিয়মিত ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। যার ফলে এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো ভিএআর-এর অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবলারদের। বাংলাদেশ পুরুষ দলের জন্য ভিএআর প্রযুক্তি একেবারেই নতুন হলেও, দেশের নারী ফুটবলাররা কিন্তু তিন মাস আগেই এই প্রযুক্তির স্বাদ পেয়েছেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে খেলেছেন ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা। সেই টুর্নামেন্টে ভিএআর-এর সুফল বেশ ভালোভাবেই পেয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল; প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিপক্ষের একাধিক গোল অফসাইড বা ফাউলের কারণে বাতিল হয়েছিল।
ফেবারিটদের তালিকায় কিছুটা পিছিয়ে থেকেই বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর বক্তব্যেই বিষয়টি পরিষ্কার, ‘আমরা তুমুল ফেবারিট দল নই।’ ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষণা করা বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য বিশ্লেষণ করে একই চিত্র উঠে এসেছে। ‘ট্রান্সফাররুম’–এর বিশেষায়িত গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারমূল্যের হিসাবে বিশ্বকাপের দলগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ দামি স্কোয়াড ব্রাজিলের। দলবদলের বাজারে ক্লাব, এজেন্ট ও খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে প্রায় দশ বছর আগে ‘ট্রান্সফাররুম’ নামে প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়। এই সমীক্ষায় বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে—খেলোয়াড়ের বয়স, গত মৌসুমের পারফরম্যান্স, পুনর্বিক্রয় মূল্য, ভবিষ্যৎ উন্নতির সম্ভাবনা, চুক্তির বাকি সময় এবং তারা যে ক্লাবে খেলেন সেখানকার লিগের মান। এসব হিসাব-নিকাশে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স ফুটবল দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে এবং আরও অনেক তারকার কারণে ফ্রান্সের স্কোয়াড দামে সবার ওপরে। তাদের বাজারমূল্য ১৪৬ কোটি ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার ৮৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এরপরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও পর্তুগাল। এই পাঁচটি দেশকে ইউরো মুদ্রার হিসেবে ‘বিলিয়নিয়ার ক্লাব’ হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ তাদের স্কোয়াডের মোট বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। এরপর ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার মতো ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়, এনদ্রিক ও রায়ানের মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ এবং নেইমার, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে ব্রাজিল দলে শক্তিশালী ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। ফলে ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ২৬ জন খেলোয়াড়ের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। দুই বছর আগে ফিফার বর্ষসেরা হওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্তমানে ব্রাজিলের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলার। তবে এই সমীক্ষায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁর অবস্থান দশম। ভিনির আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। তালিকায় শীর্ষ তিনে আছেন যথাক্রমে লামিনে ইয়ামাল, আর্লিং হলান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে বাজারমূল্যের এই হিসাবকে সম্ভবত খুব একটা গুরুত্ব দেবেন না ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তাঁর মতে, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় জাতীয় দলে সেরা পাঁচ খেলোয়াড়দের মধ্যে দুজনই ব্রাজিলের। আনচেলত্তির ভাষায়, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে দলে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। জাতীয় দলে থাকা বিশ্বের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের মধ্যে দুজনই ব্রাজিলিয়ান। ... এই দল বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারবে—এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস আছে।’ একই তালিকায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অবস্থান দেখে কিছুটা খুশি হতে পারে ব্রাজিল ভক্তরা। ৮ নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনার স্কোয়াডের বাজারমূল্য ৭৩ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। বেশির ভাগ খেলোয়াড় ইউরোপিয়ান শীর্ষ ক্লাবে না খেলার কারণেই মূল্য তালিকায় লিওনেল মেসিদের এমন পতন দেখা গেছে।
বিশ্বকাপের পর কি ইংল্যান্ড ছাড়বেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ? ইতালির গণমাধ্যমের খবরে তেমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। দেশটির গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, এমি মার্টিনেজকে দলে ভেড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস। সম্প্রতি অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ জয় করা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এখন তুরিনের ক্লাবটির নজরে রয়েছেন। বর্তমানে ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের ভাঙা হাড়ের চোট থেকে সেরে উঠতে লড়াই করছেন মার্টিনেজ। লক্ষ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা। এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইতালিতে তার সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ইতালির ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ জিয়ানলুকা ডি মারজিওর তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ বছর বয়সী মার্টিনেজকে নতুন গোলরক্ষক খোঁজার তালিকায় রেখেছে জুভেন্টাস। গত মৌসুমে সেরি আতে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করে পঞ্চম স্থানে শেষ করে দলটি, ফলে আগামী মৌসুমে তাদের খেলতে হবে ইউরোপা লিগে। জুভেন্টাসের সম্ভাব্য গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আরও রয়েছেন আলিসন বেকার (লিভারপুল) এবং গুইলিয়ের্মে ভিকারিও (টটেনহ্যাম)। তবে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে চুক্তি ও ক্লাবের বর্তমান অবস্থানের কারণে মার্টিনেজকে দলে আনা সবচেয়ে কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ছয় বছর ধরে অ্যাস্টন ভিলায় খেলার পর অবশেষে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে বড় কোনো শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন মার্টিনেজ। ইউরোপা লিগ জয়ের মাধ্যমে ভিলা আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, যা তারা প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ স্থান অর্জনের মাধ্যমেও নিশ্চিত করেছিল। অন্যদিকে, জুভেন্টাস আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে পারবে না। ইগর তুদর এবং পরে লুসিয়ানো স্প্যালেত্তির অধীনে হতাশাজনক মৌসুম কাটানোর পর তাদের ইউরোপা লিগেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।