ব্যাংক হিসাব তলবের পর সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তার নিজের অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি টাকা রয়েছে।
নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, তার চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের নির্বাচনে দলের তরফে তার নাম আসার পর থেকে নতুন প্রোপাগান্ডা শুরু হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরেও বিভিন্নভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়কদের চরিত্রহননের চেষ্টা চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার একটি অ্যাকাউন্টে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা এবং অন্যটি ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। তার বাবার পাঁচটি অ্যাকাউন্টে মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগের পর তার ব্যাংক হিসাব মঙ্গলবার তলব করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এক অভিযোগের ভিত্তিতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য চাওয়া হয়।
তিনি বলেন, “৫৬ জনের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমার তথ্য আলাদাভাবে সাংবাদিকদের গ্রুপে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি প্রাইভেসি লঙ্ঘন।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের সময় আয় ও সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি পরিবারের সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন, যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
বাবার পাঁচটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে স্যালারি, সেভিংস, কারেন্ট ও অ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। মোট ক্রেডিট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। বাবার সার্ভিস লোন বাকি থাকায় ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, ফলে বর্তমান দেনা ৮৩ হাজার ৩৫ টাকা।
মায়ের একটিমাত্র অ্যাকাউন্টে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর একটিতে ৬১৩ টাকা রয়েছে।
নিজের দুটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে একটি সোনালী ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা, আরেকটি স্যালারি অ্যাকাউন্টে ১৬ মাসের স্যালারি ও বিভিন্ন ভাতা, পাঁচটি বিদেশ সফরের টিএ-ডিএসহ মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা জমা আছে। এই অ্যাকাউন্টের মোট ক্রেডিট ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তার এবং পরিবারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে ১০ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতির মতো অকল্পনীয় এবং অবাস্তব অভিযোগ দিয়ে শুধু চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে কোনো প্রমাণ বা লিড নেই।”