রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং করদাতাদের সুবিধার্থে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ছাড়া অন্যান্য সব করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ইতোমধ্যে ১৫ মে (শুক্রবার) পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। বর্ধিত সময়সীমা আগামী ১৫ মে শেষ হতে যাচ্ছে।
তা সরকারি ছুটির দিন হওয়ায়, উক্ত ছুটির অব্যবহিত পরবর্তী কর্মদিবস (১৭ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ এর বিধান অনুযায়ী আগামী ১৫ মে সরকারি ছুটির দিন (শুক্রবার) হওয়ায়, উক্ত ছুটির অব্যবহিত পরবর্তী কর্মদিবস (১৭ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হবে। আইনানুগভাবে নির্ধারিত ও বর্ধিত এই সময়সীমা পার হওয়ার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আর কোনো সময় বৃদ্ধি করা হবে না।
স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ছাড়া অন্যান্য সব করদাতা এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে অসমর্থ হলে তারা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৪ অনুযায়ী নির্ধারিত কর পরিশোধ সাপেক্ষে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সচল রাখতে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা পরিপালনে সব সম্মানিত করদাতার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং করদাতাদের সুবিধার্থে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ছাড়া অন্যান্য সব করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ইতোমধ্যে ১৫ মে (শুক্রবার) পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। বর্ধিত সময়সীমা আগামী ১৫ মে শেষ হতে যাচ্ছে। তা সরকারি ছুটির দিন হওয়ায়, উক্ত ছুটির অব্যবহিত পরবর্তী কর্মদিবস (১৭ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ এর বিধান অনুযায়ী আগামী ১৫ মে সরকারি ছুটির দিন (শুক্রবার) হওয়ায়, উক্ত ছুটির অব্যবহিত পরবর্তী কর্মদিবস (১৭ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হবে। আইনানুগভাবে নির্ধারিত ও বর্ধিত এই সময়সীমা পার হওয়ার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আর কোনো সময় বৃদ্ধি করা হবে না। স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ছাড়া অন্যান্য সব করদাতা এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে অসমর্থ হলে তারা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৪ অনুযায়ী নির্ধারিত কর পরিশোধ সাপেক্ষে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সচল রাখতে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা পরিপালনে সব সম্মানিত করদাতার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।
বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) বোর্ড সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে বিএফটিআইকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বনির্ভর জ্ঞান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিএফটিআইয়ের ৬২তম বোর্ড সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশকে আরও দক্ষ ও প্রস্তুত হতে হবে। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি, বাণিজ্যনীতি বিশ্লেষণ এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় সহায়তার জন্য বিএফটিআইয়ের অধীনে একটি স্থায়ী বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হবে। তিনি বলেন, এই প্যানেলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও গবেষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিএফটিআইকে একটি স্থায়ী ও কার্যকর রিসোর্স বেইস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।’ সভায় বিএফটিআইকে আরও দক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে একজন যোগ্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের সুপারিশ গৃহীত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে বিএফটিআই-এর অধীনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্য আইন ও বাণিজ্যনীতি গবেষণায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। বোর্ড সভায় প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় বক্তব্য দেন বাণিজ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মো. নজরুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি রহমান এবং বিএফটিআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ।
উচ্চ সুদহার, গ্যাসসংকট, ডলারের চাপ এবং কমে যাওয়া বাজার চাহিদার কারণে দেশের উৎপাদন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানায় অর্থায়ন না করে যেসব দুর্বল কারখানা এখনো টিকে আছে, সেগুলোকে সহায়তা দিলে শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষা করা সম্ভব হবে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ব্যবসায়ী নেতা ও বিআইসি সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি জানান, শিল্প খাত সচল রাখতে কার্যকর মূলধন সহায়তা, সুদহার কমানো, পেনাল ইন্টারেস্ট হ্রাস এবং বিদেশি রিফাইন্যান্সিং সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসাইন, জসীম উদ্দীন, বিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বিসিএমইএর চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএমএএমএ সভাপতি মতিউর রহমান, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ শাহরিয়ার, বিসিআইয়ের সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী প্রমুখ। আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, কভিড-পরবর্তী সময় থেকে শিল্প খাতে কার্যকর মূলধনের সংকট তৈরি হয়েছে। পরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, সুদহার বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। এতে উৎপাদন খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও মনে করে, অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হলে শিল্প খাত টিকিয়ে রাখতে হবে। সেই জায়গা থেকেই আমরা গভর্নরের কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে বিদ্যমান কারখানাগুলো সচল রাখা যায় এবং আরো শক্তিশালী করা সম্ভব হয়। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এলসি সীমা নিয়ে জটিলতা কমানোর দাবি জানানো হয়। তাঁরা বলেন, যেসব এলসি সীমা অতিক্রম করেছে, সেগুলো ব্লক করে মূল সীমা সচল রাখলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদেশি তহবিল ও রিফাইন্যান্সিং সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়, যাতে কম সুদে অর্থায়ন পাওয়া যায় এবং ব্যবসার ব্যয় কমে। সুদহার প্রসঙ্গে পারভেজ বলেন, ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যয় ৮ থেকে ১০ শতাংশের বেশি নয়। এর পরও অতিরিক্ত স্প্রেড যোগ করে ঋণের সুদ ১৪-১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকার চাইলে এই স্প্রেড কমিয়ে শিল্প খাতকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তিনি আরো বলেন, ঋণখেলাপি হওয়ার পর অতিরিক্ত পেনাল ইন্টারেস্ট আরোপ করাও শিল্পের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। শিল্প-কারখানাকে শাস্তি না দিয়ে বরং কিভাবে তারা ঋণ পরিশোধে সক্ষম হয়, সেই পরিবেশ তৈরি করা উচিত। সিআইবি রিপোর্টে ‘গ্রুপ কনসেপ্ট’ নিয়েও আপত্তি তোলেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, একই পরিচালক থাকার কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে গ্রুপ হিসেবে দেখানো হয়। ফলে একটি কম্পানি সমস্যায় পড়লে অন্য ভালো প্রতিষ্ঠানও নেতিবাচক সিআইবি রিপোর্টের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাঁরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে মূল্যায়নের দাবি জানান। এমএসএমই খাত নিয়েও গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পারভেজ। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে অনাগ্রহী। এ ছাড়া জটিল কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল চালু এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে শুনেছে। গভর্নর জানিয়েছেন, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, বিদেশি রিফাইন্যান্সিং ও পেনাল ইন্টারেস্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—শিল্প-কারখানা বাঁচাতে হবে। কারণ একটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে সেটি পুনরায় সচল করা অত্যন্ত কঠিন। তাই যেগুলো এখনো চালু আছে, সেগুলো টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাসসংকট, গ্যাসের মূল্য ২৮৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিপদে পড়েছে। শিল্প শুধু ব্যক্তির সম্পদ নয়, এটি জাতীয় সম্পদ। তাই সম্ভাবনাময় শিল্পগুলো টিকিয়ে রাখতে সরকারের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন। তহবিল সহায়তা প্রসঙ্গে পারভেজ বলেন, রপ্তানি খাতের ক্যাশ ইনসেনটিভের অর্থ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে গভর্নর জানিয়েছেন। এ ছাড়া গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের বেতন সহায়তার প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান গভর্নরের নেতৃত্বে শিল্প খাত টিকিয়ে রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তরিক বলে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।