ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে মতামত দিতে জ্যেষ্ঠ দুই আইনজীবীকে মনোনয়ন দিয়েছেন আদালত। তাঁরা হলেন এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ কথা জানিয়েছেন।
পাশাপাশি আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি ১৫ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি নিয়ে ওই সময় পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তাঁর ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।
নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। তবে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন।
জামায়াত প্রার্থীর করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (আসলাম চৌধুরী) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) এ–সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী গত ৩১ মার্চ পৃথক আপিল করেন। গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে নির্ধারণ করেন। আগের ধারাবাহিকতায় শুনানির জন্য আপিলটি গত ১৪ মে আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। আপিলের সঙ্গে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথের জন্য বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর করা আবেদনও সেদিন কার্যতালিকায় ওঠে।
আপিল বিভাগ গত ১৪ মে আপিল শুনানির জন্য গতকাল মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন। পাশাপাশি ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথের জন্য বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর করা আবেদন নথিতে রাখা হয়।
আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি একটি লিভ টু আপিল করে। জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের সঙ্গে ব্যাংক এশিয়া পিএলসির করা লিভ টু আপিলটি একসঙ্গে শুনানির জন্য গতকাল আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। গতকাল ও আজ শুনানি হয়।
আদালতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম শুনানি করেন।
পরে আসলাম চৌধুরীর অন্যতম আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, আদালত আপিলের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী সোমবার (১৫ জুন) দিন রেখেছেন। শুনানিতে আদালতকে আইনি মতামত দিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী মনোনীত হয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের কয়েকজন ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) কাছে একাধিক চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব চিঠিতে দেশে ফিরতে না পারা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দলটির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন তারা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ও মতবিনিময় বৈঠকে এসব চিঠির বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত রোববার রাতে বাংলাদেশে আসেন অ্যান্ডা ফিলিপ। তার সফরের আগে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি বৈঠকগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও সময়কার সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও আলোচনায় আসে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের পাঠানো চিঠিতে দেশে ফেরার সুযোগ, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং তাদের আমলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার ছিল। তবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিদের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংসদ সদস্য বলেন, অ্যান্ডা ফিলিপ দীর্ঘদিন ধরে আইপিইউর সঙ্গে যুক্ত থাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিদের কারও কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তাদের পাঠানো চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিপরীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন তথ্য বর্তমান সংসদ সদস্যরা আইপিইউ প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরছেন। আইপিইউ মহাসচিবকে জাতিসংঘের প্রতিবেদন দিলেন স্পিকার সোমবার সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। এ সময় স্পিকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন আইপিইউ মহাসচিবের কাছে হস্তান্তর করেন। স্পিকার বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল প্রহসনের নির্বাচন। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের অবসান ঘটে। তিনি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে নারী ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভাতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারী এমপিরা। ‘আইপিইউতে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে’ সোমবার বিকেলে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আইপিইউর কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আইপিইউকে দেওয়া বিভিন্ন চিঠিতে ২০২৪ সালের আগের সময়ের গুম, খুন, নিপীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের জনগণকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে। আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং ছাত্রনেতারা অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার কিছু তথ্য আইপিইউ প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তবে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, আইপিইউর কাছে বর্তমান সরকারকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি। তবে সরকার ও বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন সোমবার বিকেলে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দমন-পীড়নের চিত্র তার কাছে তুলে ধরা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতন ও গুমের শিকার হওয়া কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীকে এ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া গুমের শিকার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী এবং গুমের শিকার বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ কয়েকজনকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিনকাসেম, নাজিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজনেরও বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ভুক্তভোগী সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অতীতে তাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হয়রানির ঘটনা আইপিইউ মহাসচিবের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক এদিকে সোমবার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। বৈঠকে জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা ও সংলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে সংসদকে পরিণত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সমতাভিত্তিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আইপিইউ মহাসচিবের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামে নতুন করে আলোচনায় আসছে।
প্রায় ৯০ কিলোমিটার নতুন রেলপথের বড় অংশ হবে এলিভেটেড; ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ, চলছে নকশা প্রণয়ন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এবার বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে ‘ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন’ রেলপথ প্রকল্প। প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন রেলপথের বেশিরভাগ অংশ এলিভেটেড বা উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। নতুন এই রেলপথ চালু হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেনে যাতায়াতের সময় কমে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান রেলপথের তুলনায় দূরত্ব কমবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত হলে আগামী বছর থেকেই নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেলেও অর্থায়নের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে কেন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়: সড়কপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। কিন্তু বিদ্যমান রেলপথ টঙ্গী, ভৈরব ও আখাউড়া হয়ে কুমিল্লার দিকে যাওয়ায় রেলপথের দূরত্ব বেড়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার হয়েছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী আন্তঃনগর ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। লোকাল ও মেইল ট্রেনে এই সময় আরও বেড়ে প্রায় নয় ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। নতুন কর্ড লাইন চালু হলে ঘুরপথের পরিবর্তে সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ, এখন নকশা: বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) প্রকৌশলী আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। বর্তমানে নকশা তৈরির কাজ চলছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এরপর মূল নির্মাণকাজে যাওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আলাদা ডিপিপি প্রস্তুত করা হবে। অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এডিবি ও ইআইবি প্রকল্পটিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। যেভাবে তৈরি হবে নতুন রুট: রেলওয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কর্ড লাইন ঢাকা থেকে ফতুল্লা, শ্যামপুর ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে সরাসরি কুমিল্লার সঙ্গে যুক্ত হবে। বর্তমানের টঙ্গী-ভৈরব-আখাউড়া রুট ধরে ঘুরে কুমিল্লায় যেতে হবে না। প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রুটটির বড় অংশ উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ঢাকা থেকে দাউদকান্দির গোমতী এলাকা পর্যন্ত এলিভেটেড অংশ বিস্তৃত হতে পারে। এই রেলপথে কোনো লেভেল ক্রসিং না রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। ফলে ট্রেন চলাচলে সড়কপথের যানবাহনের কারণে বাধা কমবে এবং উচ্চগতির ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনেও বড় পরিবর্তনের আশা: শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকার মধ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও কর্ড লাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে রেলওয়ে। বর্তমানে পণ্যবাহী ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন কর্ড লাইন চালু হলে এই সময় কমে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে মোট পণ্য পরিবহনের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ রেলপথে হয়ে থাকে। নতুন রুট চালু হলে এই অংশ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলের সক্ষমতা বাড়বে এবং চট্টগ্রামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও এগিয়ে যাবে। নতুন কোচ-ইঞ্জিনও যুক্ত হবে: কর্ড লাইন নির্মাণের পাশাপাশি রেলের বিদ্যমান বহর আধুনিকায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ৩০টি লোকোমোটিভ, ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ, চারটি হুইল লেদ এবং চারটি রিলিফ ট্রেন সংগ্রহের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন রেলপথের সঙ্গে আধুনিক কোচ ও লোকোমোটিভ যুক্ত করা গেলে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুতগতির ট্রেন পরিচালনাও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তিন দশকের আলোচনার পর বাস্তবায়নের উদ্যোগ: ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নে দুটি প্রকল্পে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় ট্রেনের গতি বাড়েনি। বরং গত দুই দশকে এই রুটে ট্রেনের গড় গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬৬ কিলোমিটার থেকে কমে ৫৭ কিলোমিটারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এবার কর্ড লাইন নির্মাণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাজেটেও গুরুত্ব পেয়েছে প্রকল্প: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ড লাইন নির্মাণের কথা জানান। এতে এই রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে বলে উল্লেখ করা হয়। এর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোরকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি চট্টগ্রামকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার মতে, নতুন লাইন চালু হলে ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। সব মিলিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হয়ে নকশা প্রণয়নের পর্যায়ে পৌঁছানোয় দীর্ঘদিনের আলোচিত ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন এখন বাস্তবায়নের আরও কাছাকাছি এসেছে। তবে প্রকল্পের অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ ও চূড়ান্ত ডিপিপি অনুমোদনের পরই নির্মাণকাজের গতি স্পষ্ট হবে।
স্পেনের মাদ্রিদে একটি সাইকেল গ্যারেজে অগ্নি দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ ইউসুফ হাসান আলিফ মারা গেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক বার্তায় মাদ্রিদের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। ইউসুফ হাসান আলিফের অকালপ্রয়াণের বিয়োগান্তক ও শোকাবহ সংবাদে মাদ্রিদের বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দূতাবাস এ বিষয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং মাদ্রিদ পুলিশসহ স্পেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।