ভারতের কেরালার পর উড়িষ্যায় কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক মুসলমান শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কট্টরপন্থী উগ্র হিন্দু মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে। নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজ্যের সম্বলপুর জেলায়।
মৃত যুবকের নাম জুয়েল শেখ (২১)। তার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি থানার চকবাহাদুরপুর এলাকায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজের সন্ধানে কয়েকদিন আগেই উড়িষ্যার সম্বলপুরে গিয়েছিলেন জুয়েল। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।
জানা গেছে, স্থানীয় কিছু কট্টরপন্থী তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে ঘরে প্রবেশ করে বেধড়ক মারধর করে। নির্মম মারধরের জেরেই গুরুতর আহত হন জুয়েল শেখ। অমানবিক প্রহারের পরে তার মৃত্যু ঘটে। শুধু জুয়েলই নন, তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন শ্রমিককেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মৃত যুবকের গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তানের এমন অকাল মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনেরা।
দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সেই দাবিও তুলেছেন তারা।
এমন ঘটনা পুনরায় সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ও বাংলাভাষী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য না মিললেও পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
পশ্চিমবঙ্গের আরও এক বাংলাভাষী যুবককে বাংলাদেশি সন্দেহে গত সপ্তাহে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইমার্শন ডিপ-আল্ট্রাভায়োলেট (ডিইউভি) লিথোগ্রাফি যন্ত্রের গণউৎপাদন শুরু করেছে চীন। মূলত এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উন্নতমানের এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি যন্ত্র কিনতে পারে না চীন। তাই এবার নিজেরাই সেই প্রযুক্তি উৎপাদন করতে যাচ্ছে দেশটি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বেইজিংয়ের বড় অগ্রগতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের। সূত্রটির দাবি, সাংহাইভিত্তিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাংহাই আইশেংনা ইলেকট্রনিক টেকনোলজি গ্রুপ এই উৎপাদন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি লিথোগ্রাফি স্টার্টআপের বিশেষজ্ঞ দলকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রটি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেনি। এই অগ্রগতি চীনের সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের জাতীয় কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ডাচ প্রতিষ্ঠান এএসএমএলের বাণিজ্যিক অবস্থানে তাৎক্ষণিক কোনো বড় প্রভাব পড়বে না। ডিইউভি লিথোগ্রাফি প্রযুক্তির বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য ধরে রেখেছে এএসএমএল। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’ সোমবার প্রথম জানায়, সাংহাইয়ের একটি রাষ্ট্রীয় সমর্থিত প্রতিষ্ঠান এই যন্ত্রের উৎপাদন শুরু করেছে। চলতি বছরে প্রায় পাঁচটি এবং ২০২৭ সালে প্রায় ২০টি যন্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। রয়টার্স প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় প্রকাশ করেছে। সূত্রটি জানায়, আইশেংনার তৈরি ডিইউভি যন্ত্র এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি এএসএমএলের সমমানের নয়। তবে ভবিষ্যতে পশ্চিমা দেশগুলো যদি লিথোগ্রাফি যন্ত্র বা রক্ষণাবেক্ষণ সেবার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে চীনের চিপ নির্মাতারা বিকল্প উৎস হিসেবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরই চীনের শীর্ষ চিপ নির্মাতা সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন, হুয়া হং সেমিকন্ডাক্টর এবং মেমোরি চিপ নির্মাতা চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিসের কাছে এই যন্ত্র সরবরাহ করা হবে। ইমার্শন ডিইউভি প্রযুক্তিতে প্রজেকশন লেন্স ও সিলিকন ওয়েফারের মাঝখানে পানির একটি স্তর ব্যবহার করা হয়, যা প্রচলিত শুষ্ক পদ্ধতির তুলনায় আরও ক্ষুদ্র সার্কিট নকশা তৈরি করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। একই স্তরে বারবার আলোকপ্রক্ষেপণের মাধ্যমে আরও উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টরও তৈরি করা সম্ভব। এএসএমএল, এসএমআইসি, হুয়া হং এবং চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার এএসএমএলের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশ কমে যায়। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৬ মিনিট পর্যন্ত শেয়ারটির দাম আরও ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে। যদিও একই সময়ে ইউরোপের অন্যান্য চিপ খাতের শেয়ারও নিম্নমুখী ছিল, তবু সামগ্রিক ইউরোপীয় শেয়ারবাজার সূচকের তুলনায় এএসএমএলের দরপতন বেশি ছিল। ২০২৩ সালের আগস্টে প্রায় ৭০০ কোটি ইউয়ান নিবন্ধিত মূলধন নিয়ে আইশেংনা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পেছনে রয়েছে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগকারী সাংহাই ইলেকট্রিক হোল্ডিং এবং সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্টের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে জনসমক্ষে খুব কম তথ্য রয়েছে। তাদের কোনো ওয়েবসাইট নেই এবং কার্যক্রম সম্পর্কেও কিছু প্রকাশ করা হয়নি। সূত্রটি জানায়, ডিইউভি প্রযুক্তির একটি প্রোটোটাইপ নিয়ে গত বছর পরীক্ষা চালানো ইউলিয়াংশেং এবং সাংহাই মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স ইকুইপমেন্টের (এসএমইই) বিশেষজ্ঞদেরও আইশেংনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসএমইই এবং ইউলিয়াংশেং দুই প্রতিষ্ঠানই চীনের সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্বনির্ভরতা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউলিয়াংশেং আবার হুয়াওয়ে-সমর্থিত যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিক্যারিয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, আইশেংনা ও ইউলিয়াংশেং একই ঠিকানা থেকে পরিচালিত হয়। আইশেংনা, এর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, এসএমইই এবং ইউলিয়াংশেং কোনো পক্ষই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন এএসএমএলের সবচেয়ে উন্নত এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি যন্ত্র কিনতে পারে না। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ফলে উন্নতমানের কিছু ডিইউভি যন্ত্রের সরবরাহও সীমিত করা হয়েছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এএসএমএলের জন্য চীন একটি বড় বাজার। চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট বিক্রির প্রায় ১৬ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। উন্নত ইইউভি যন্ত্র না পেলেও চীনের চিপ নির্মাতারা এখনো তুলনামূলক কম উন্নত ডিইউভি যন্ত্র ব্যাপকভাবে কিনছে। গত ডিসেম্বরে রয়টার্স জানিয়েছিল, চীন নিজস্ব ইইউভি লিথোগ্রাফি যন্ত্রের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে। বিশ্লেষকদের মতে, আইশেংনার অগ্রগতি তাৎপর্যপূর্ণ হলেও স্বল্পমেয়াদে এএসএমএলের আয় বা বাজার অবস্থানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। জেপি মরগান চেজের বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেন, কয়েকটি ইমার্শন ডিইউভি যন্ত্র তৈরি করা আর হাজার হাজার ওয়েফারে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ উৎপাদন সক্ষম, নির্ভুল, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যন্ত্র তৈরি করা এক বিষয় নয়। সূত্র : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসবেন। খবর সিএনএনের। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ইরান যুদ্ধ, লেবাননের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইরান ইস্যুতে তার সঙ্গে নেতানিয়াহুর শতভাগ মতের মিল নেই। তবে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে; কিন্তু আমরা প্রায় একই অবস্থানে আছি। অন্যদিকে, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা বলেন, এখনই যুদ্ধ শেষ করার উপযুক্ত সময়। সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে দিচ্ছে জেলেনস্কির এমন অভিযোগ তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না তারা এটা করছে, অন্তত বড় পরিসরে নয়। এদিকে নেতানিয়াহু ও জেলেনস্কি উভয়েই মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে পরিচালিত নিট আন্দোলনের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ইতোমধ্যে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের এই পদক্ষেপে চিহ্নিত করা অধিকাংশ আপত্তিকর ভিডিও, পোস্ট ও মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একটি বিশেষ পুলিশ দল নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্ট নজরদারিতে রাখছে এবং নতুন কোনো বিতর্কিত উপাদান নজর এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের আন্দোলন গুটিয়ে নেওয়ার ঠিক এক দিন পরই দিল্লি পুলিশের এই সাইবার অভিযানের খবর সামনে এলো। মে মাসের শুরুতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রায় ৩৭ দিন ধরে চলার পর গত শনিবার (২৫ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের আরও দুটি প্রধান দাবি মেনে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে রুজু করা সমস্ত এফআইআর বা মামলা প্রত্যাহার করা। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া শর্তগুলো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস পেয়েই শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। সাবেক আপ (এএপি) কর্মী অভিজিৎ দিপকের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিল। পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক আন্দোলনে যোগ দিলে তা আরও গতি পায়। গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘সংসদ চলো মার্চ’-এর সময় পুলিশি লাঠিচার্জের পর তৈরি হওয়া চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে শান্ত হয় এবং আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। সূত্র: এনডিটিভি।