প্রায় এক দশক পর পূর্বাঞ্চলের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মূল ভাড়া অপরিবর্তিত থাকলেও ‘পন্টেজ চার্জ’ যোগ হওয়ায় যাত্রীদের এখন থেকে ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হবে। নতুন ভাড়া কার্যকর হবে ২০ ডিসেম্বর থেকে।
রেলওয়ে জানায়, কোনো যাত্রাপথে সেতু বা অনুরূপ অবকাঠামো থাকলে তার জন্য বাড়তি যে মাশুল যুক্ত করা হয়, সেটিই পন্টেজ চার্জ। নতুন হিসাব অনুযায়ী ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুকে আড়াই কিলোমিটার হিসেবে ধরা হবে। ফলে কাগজে যাত্রার দূরত্ব বাড়বে এবং সে অনুযায়ী বাড়বে ভাড়া।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলের ছয়টি রুটে মোট ১১টি সেতুর জন্য পন্টেজ চার্জ যুক্ত হয়েছে। রুটগুলো হলো—ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–কক্সবাজার, ঢাকা–সিলেট, চট্টগ্রাম–সিলেট, চট্টগ্রাম–জামালপুর এবং ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ।
ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৩৮১ কিলোমিটার ধরা হয়েছে। এর ফলে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। কমিউটার ভাড়া ১৭০ থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা এবং শোভন চেয়ারের ভাড়া ৪০৫ থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকা হয়েছে।
এই রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ভাড়াও বেড়েছে। স্নিগ্ধা আসনে ৭৭৭ টাকার বদলে এখন দিতে হবে ৮৫৭ টাকা। এসি সিটের ভাড়া ৯৩২ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৩০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ১,৪৪৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ১,৫৯১ টাকা। বিরতিহীন ট্রেনগুলোর স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৮৫৫ থেকে বেড়ে ৯৪৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
কক্সবাজারগামী ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ১,৩২২ থেকে বেড়ে ১,৪৪৯ টাকা হয়েছে। এসি সিট ১,৫৯০ থেকে বেড়ে ১,৭৪০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ২,৪৩০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৬৫৬ টাকা।
ঢাকা–সিলেট রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১২৫ থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা, কমিউটার ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, শোভন চেয়ার ৩৭৫ থেকে বেড়ে ৪১০ টাকা হয়েছে। স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম–সিলেট, চট্টগ্রাম–জামালপুর ও ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ রুটেও একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণির আসনের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক জানান, ১০০ মিটারের বেশি দীর্ঘ পুরোনো সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটাতেই এই পন্টেজ চার্জ সমন্বয় করা হয়েছে। সব রুটে নয়, কেবল নির্বাচিত রুটগুলোতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে এবং বাড়তি পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি নয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পবিত্র কুরআনের তাফসীর গ্রন্থে আগুন দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন। তদন্ত শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান আসামিকে আদালতে হাজির কারাগারে রাখার আবেদন করেন। তবে তাকে এজলাসে তোলা হয়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির রিমান্ড আবেদন এবং জামিন আবেদন ছিল না। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পশ্চিম পাশের পাদদেশে সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী রচিত ‘তাফহীমূল কুরআন’-এর তিনটি খণ্ডে আগুন দিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক জনতা ওই যুবককে আটক করে। খবর পেয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। উত্তেজিত জনতার মারধরে আসামি সামান্য আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এই ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল উদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আসামিকে কারাগারে রাখা হোক।পরবর্তীতে তার রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
বিএনপি সরকার মানুষের হাতে বিদ্যুতের বদলে হারিকেন ও মোমবাতি তুলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৪টায় নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থান বৃদ্ধি ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে নোয়াখালী জেলা এনসিপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে। হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো ২০২৪ সালেও ভোট চুরি হয়েছে। তবে, এবার ভোটের ফল প্রকাশের পর তা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এনসিপির এই নেতা বলেন, ২০১৪-১৮ সালের নির্বাচন ছিল মিডনাইট ইলেকশন। তখন ভোটের ফল প্রকাশের আগেই ভোট চুরি করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আমরা নতুন ধরনের মেকানিজম দেখলাম। এবারও ভোট চুরি হয়েছে, তবে ফল প্রকাশের পরে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ছিল, কিন্তু বিএনপি সেই ভোট চুরি করে ফেলেছে। জুলাইয়ের আগেও ভোট চুরি ছিল, সেটা ভোটের ফল প্রকাশের আগে। জুলাইয়ের পরেও ভোট চুরি থেকে গেছে, সেটা দিনের আলোতে ফল প্রকাশের পরে হয়েছে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের বিপক্ষে গিয়ে দেশ পরিচালনা বা সংস্কার করা সম্ভব নয়। আপনারা সংস্কার করতে পারবেন, জনগণের বিপক্ষে গিয়ে তাহলে আপনারা ভুল ভাবছেন। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও একটি নতুন কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করা যায়নি। নতুন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও দেখা যাচ্ছে না। লোডশেডিং প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন, আগে বিদ্যুৎ মানুষের বাড়িতে মাঝে মাঝে যেত, এখন বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে। বিএনপি সরকার মানুষের হাতে বিদ্যুতের বদলে হারিকেন ও মোমবাতি তুলে দিয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, দেশে কোনো লোডশেডিং নেই। কিন্তু জনগণের মধ্যে গেলে তিনি বুঝতে পারবেন, অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এবং তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বর মাসের দিকে ভারত থেকে নির্বাসন শেষ করে দেশে ফেরার এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্সকে বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং তার দল আওয়ামী লীগের সদস্যরা দুই বছর আগে দেশ ত্যাগ করেছিলেন। এখন তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে হাজির হতে চান। ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, ফিরে গেলে তারা আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। মৃত্যু যদি আসেই, তাহলে আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতে আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত এবং যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত চলে যান শেখ হাসিনা। পরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে গত নভেম্বরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। নির্বাসন থেকে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, শুধু তিনি নন, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন, যিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। শেখ হাসিনা বলেন, তার দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। তিনি বলেন, তারা আমাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চায়। এ জন্য ভারতকে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই ফিরে যাব। শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্ররা কোনও সাড়া দেননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে গত এপ্রিলে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছিল যে তারা শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে এবং তারা নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। নির্বাসনে থাকা অবস্থায় এটাই শেখ হাসিনার প্রথম গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার। এর আগে তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের লিখিত প্রশ্নের জবাব দিলেও কোনও সাক্ষাৎকার দেননি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকে আত্মগোপনে আছেন। তাই আমি বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও সবাই ফিরে এসো। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করবো। তবে তিনি দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, কখন আত্মসমর্পণ করবেন বা কোন আদালতে করবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, আমি বিচারব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবে আদালত কতটা প্রহসনমূলক। আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকার সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং বিচার এসব গোপন আলোচনার বিষয় নয়। কারাভোগ নিয়ে শেখ হাসিনা উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। অতীতে একাধিকবার গ্রেফতার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় এবং ২০০৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। পরে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তার বাসভবনের দিকে জনতা অগ্রসর হলে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি দেশ ছাড়েন। তিনি বলেন, কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, তারা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। হয়তো আমি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবো না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন স্থগিত করা হবে? যদি আমরা খারাপ করে থাকি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নিক। সূত্র: রয়টার্স