শুধু ভোটার তালিকা থেকেই নয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শনিবার আসামে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু দখল করা জমি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদ করলেই চলবে না, তাদের দেশ থেকেই তাড়াতে হবে। শুধু জমি থেকে উচ্ছেদ করলে তারা অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে শুরু করবেন। তাই তাদের দেশ থেকেই বিতাড়িত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অনেক বাংলাদেশিকে পুশব্যাকও করা হয়েছে।
এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে নির্বাচন লড়তে চাইছে বিজেপি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সামনেই আসামে বিধানসভা নির্বাচন। এদিকে ইঙ্গিত করে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি আবার ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে দেশ থেকে তাড়ানো হবে। যখন দেশের একটি বড় অংশ মাওবাদ থেকে মুক্ত হতে পারে, তখন অনুপ্রবেশকারী মুক্তও হতে পারে। এর জন্য দরকার ইচ্ছাশক্তি, সাহস এবং দৃঢ়তা। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সবগুলোই রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শুধু ভোটার তালিকা থেকেই নয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার আসামে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু দখল করা জমি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদ করলেই চলবে না, তাদের দেশ থেকেই তাড়াতে হবে। শুধু জমি থেকে উচ্ছেদ করলে তারা অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে শুরু করবেন। তাই তাদের দেশ থেকেই বিতাড়িত করতে হবে। প্রসঙ্গত, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অনেক বাংলাদেশিকে পুশব্যাকও করা হয়েছে। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে নির্বাচন লড়তে চাইছে বিজেপি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সামনেই আসামে বিধানসভা নির্বাচন। এদিকে ইঙ্গিত করে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি আবার ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে দেশ থেকে তাড়ানো হবে। যখন দেশের একটি বড় অংশ মাওবাদ থেকে মুক্ত হতে পারে, তখন অনুপ্রবেশকারী মুক্তও হতে পারে। এর জন্য দরকার ইচ্ছাশক্তি, সাহস এবং দৃঢ়তা। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সবগুলোই রয়েছে।
রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় বৈকাল হ্রদে বরফ ভেঙে একটি বাস ডুবে আট চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক শাখা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। ইরকুত্স্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ টেলিগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, হিমায়িত হ্রদ পার হওয়ার সময় একজন চীনা পর্যটক বাস থেকে বের হয়ে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন চীনা পর্যটক এবং চালক রয়েছেন। চীনের কনস্যুলেট জেনারেলকে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় তিন মিটার চওড়া বরফের ফাটলে বাসটি পড়ে যায় এবং পরে হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা পানির নিচে ক্যামেরা ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়ে সাতজনের লাশ উদ্ধার করেছেন। আঞ্চলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, পর্যটকবাহী বাস ডুবে যাওয়ার পর ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের গভীরতম স্বাদুপানির হ্রদ হিসেবে পরিচিত লেক বৈকাল সাইবেরিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এটি মঙ্গোলিয়ার ঠিক উত্তরে অবস্থিত এবং বিশেষ করে চীনা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। শীতকালে হ্রদটির বিশাল জলরাশি বরফে ঢেকে যায়। তখন বরফের স্তরে স্ফটিকের মতো স্তম্ভ তৈরি হয় এবং নিচে আটকে থাকা ঢেউয়ের কারণে ভাঙনের বিশেষ ধরনের শব্দ শোনা যায়, যা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। বরফ জমে গেলে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু বরফ-সড়ক চালু করে, যা নিয়মিত তদারকি করা হয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ধরনের যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত পথের বাইরে গাড়ি চালানো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। মস্কো এবং বেইজিংয়ের মধ্যে পারস্পরিক ভিসামুক্ত ব্যবস্থা চালু করার পর সাম্প্রতিক বছরে বৈকাল হ্রদে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ধীরে ধীরে ইরানের কাছাকাছি তাদের বিমান ও নৌ শক্তি বাড়াচ্ছে, এমন সময়ে যখন তেহরান কর্মকর্তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টির বেশি মার্কিন যোদ্ধা বিমান, যার মধ্যে F-35, F-22 এবং F-16 অন্তর্ভুক্ত, পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে। এটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে, জেনেভায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পারমাণবিক আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরান অগ্রগতি করেছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এখনো অনেক বিস্তারিত বিষয় আলোচনা করা বাকি; যা নির্দেশ করে যে এখনো অবিলম্বে সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, মঙ্গলবারের আলোচনা মাসকাটে এই মাসের প্রথম রাউন্ডের চেয়ে বেশি গঠনমূলক ছিল এবং দাবি করেছেন যে দুই পক্ষই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির নেতৃত্বমূলক নীতিমালাতে একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছে সম্ভাব্য অভিযান চালানোর জন্য ভারী সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা এবং জানুয়ারির প্রতিবাদের সময়ের সহিংস দমনমূলক কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতা ইতোমধ্যেই জানুয়ারির শেষে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে পাঠিয়েছেন। পরে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে, বিবিসি রিপোর্ট করেছে যে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ১২টি F-15 যোদ্ধা বিমান, একটি MQ-9 Reaper ড্রোন, এবং বেশ কিছু A-10C Thunderbolt II গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান পৌঁছেছে। স্যাটেলাইট চিত্র দেখিয়েছে যে USS Delbert D Black গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মেদিটেরানিয়ান থেকে রেড সাগরে যাওয়ার জন্য সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে চলেছে, এবং গালফ অঞ্চলে একটি MQ-4C Triton নজরদারি ড্রোন কাজ করছে। এছাড়াও অঞ্চলটিতে E-11A কমিউনিকেশনস বিমান, P-8 Poseidon, E-3G Sentry নজরদারি এবং কিছু গোয়েন্দা বিমান উপস্থিত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরীও অঞ্চলটিতে পাঠিয়েছে। ইরানও জানিয়েছে যে তারা সামরিক মহড়ার কারণে Strait of Hormuz-এর একটি অংশ কয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ করবে। পূর্বেও তেহরান হুমকি দিয়েছিল পুরো স্ট্রেইট বন্ধ করার, কিন্তু তা কখনো কার্যকর করেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রতিটি পারমাণবিক চুক্তির জন্য খসড়া প্রণয়ন ও বিনিময় করতে একমত হয়েছে, তারপর তৃতীয় রাউন্ডের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে পরবর্তী ধাপ আরও কঠিন ও বিস্তারিত হবে। আলোচনায় সফলতা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির পথ খুলতে পারে, যা ইরানের তেলের শিল্প এবং বিস্তৃত অর্থনীতিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচির বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে। সূত্র: এনডিটিভি