প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে দুই দেশের যৌথ ঘোষণাপত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।
শুক্রবার প্রকাশিত ১৫ দফার এই যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, দুই দেশ তাদের ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও এগিয়ে নিয়ে ‘নতুন যুগের চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তুলবে, যাতে দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হয়।
বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহায়তা এবং দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ‘টু প্লাস টু’ কৌশলগত সংলাপ চালুর মত বিষয় যৌথ ঘোষণায় এসেছে।
এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি; চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারকে আলোচনায় আনতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করেন। সফরের শেষ দিন শুক্রবার তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এছাড়া বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে ‘গভীর মতবিনিময়’ হয়েছে এবং ‘বিস্তৃত ঐকমত্যে’ পৌঁছেছেন দুই দেশের নেতারা।
১৯৭৫ সালের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা জোরদার করেছে, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করেছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
চীন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ নীতির প্রশংসা করেছে বেইজিং।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মনে করে চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়ন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
দুই দেশ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা, সরকারি পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
একই সঙ্গে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘টু+টু সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনাও যৌথভাবে খতিয়ে দেখবে ঢাকা ও বেইজিং।
‘এক চীন’ নীতিতে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত
যৌথ ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সেখানে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার।
বাংলাদেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণে চীনের উদ্যোগকে সমর্থন জানায়।
অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
চীন বলেছে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে উন্নয়নপথ বেছে নিয়েছে, তাকে তারা সম্মান করে।
বেল্ট অ্যান্ড রোডে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দুই দেশ।
চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আরও সমন্বয় করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট কিন্তু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও তারা কাজ করবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে সহযোগিতা
যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বাংলাদেশ ও চীন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও একসঙ্গে কাজ করবে দুই দেশ।
বাংলাদেশের সব ধরনের পণ্যের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা বজায় রাখায় চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা।
দুই দেশ যৌথভাবে মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
নতুন সংযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে দুই দেশ
যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।
এ ছাড়া আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের নতুন বিকল্প খুঁজে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।
যৌথ ঘোষণাপত্রে বিশেষভাবে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি সংযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতা
যৌথ ঘোষণাপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি।
এতে বলা হয়েছে, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা, পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে দুই দেশ।
চীন জানিয়েছে, নিজেদের ‘সক্ষমতা অনুযায়ী’ তারা তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা করবে এবং প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা দেবে।
এ ছাড়া সামুদ্রিক বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হবে
যৌথ ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, দুই দেশ প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করবে।
এর আওতায় সামরিক প্রতিনিধি বিনিময়, সফর, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য সহযোগিতা জোরদার করা হবে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে চীন ও বাংলাদেশ।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা
২০২৫ সালে চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ‘চীন-বাংলাদেশ জনগণের মধ্যে বিনিময় বর্ষ’ সফলভাবে উদযাপনের প্রশংসা করেছে দুই দেশ।
যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
এ ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।
স্বাস্থ্যসেবা ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে ইউনান প্রদেশসহ চীনের স্থানীয় সরকারগুলোর প্রশংসা করেছে।
ব্রিকস ও এসসিওতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে চীনের সমর্থন
যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, মানবজাতির জন্য ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গঠনের ধারণা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্থাপিত বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছে ঢাকা।
অন্যদিকে, চীন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
একই সঙ্গে ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদনে সমর্থনের কথা জানিয়েছে বেইজিং।
এ ছাড়া আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং এ প্রক্রিয়ায় আরও দেশকে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই দেশ।
জাতিসংঘভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন
যৌথ ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালার প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও চীন।
দুই দেশ সমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং সবার জন্য কল্যাণকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ফলাফল অক্ষুণ্ন রাখা এবং ফ্যাসিবাদ ও সামরিকবাদের পুনরুত্থানের যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কায়রো ঘোষণা, পটসড্যাম ঘোষণা এবং জাতিসংঘ সনদসহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ।
রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারকে আলোচনায় আনতে সহযোগিতা
যৌথ ঘোষণাপত্রে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের ‘গঠনমূলক’ ভূমিকার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে চীন।
চীন বলেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে।
এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে নিজেদের ‘সক্ষমতা অনুযায়ী’ ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।
সহযোগিতা
সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এমওইউ সই হওয়ার কথা যৌথ ঘোষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ঘোষণাপত্রে এসব চুক্তির সংখ্যা বা পৃথক বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে বলা হয়নি।
চীনা নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ
সফরের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ও তার সফরসঙ্গীদের প্রতি উষ্ণ ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য চীনের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তার সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান। আজ সোমবার জীবনের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তিনি। লিখিত আবেদনে ওবায়দুর রহমান জানান, গত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন উত্তর কালশীর আলীনগরে ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর ডি-২ ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন তিনি। সে সময় তাকে হত্যার উদ্দেশে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারাত্মক হামলা চালান দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত পুলিশের সাবেক এসআই আমিন এবং ইউনুস সরদারের ছেলে মাসুম বিল্লাহ ও মোক্তাসিম বিল্লাহ। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওবায়দুরের ওপর শারীরিক হামলার শব্দ শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার মা ও ছোট বোন এসে অনেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তী সময়ে মা ও বোনের সহায়তায় একটি সিএনজিযোগে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে আছেন এবং হামলাকারীরা তাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। ওবায়দুর রহমানের দাবি, এই হামলার নির্দেশদাতা সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন গাজী নজরুলের ড্রাইভার ও পিএস হিসেবে কাজ করার সূত্রে তার নানা দুর্নীতি, জমি দখল, বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং নারীঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী। লিখিত আবেদনে এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করেন ওবায়দুর রহমান। এই অবস্থায়, জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও পরিবারের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) সদস্য দেশগুলো ভিসা সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিমসটেক সচিবালয়ে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ-ডিকাব সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন মহাসচিব। ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি ভিসা সহজীকরণ স্কিম চূড়ান্ত করার কথা ভাবছে, যেখানে বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। যেহেতু এই স্কিমে কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকবে সে বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এই স্কিমে কী থাকতে পারে তা নিয়ে এখন কথা বলা আমার জন্য অনুচিত হবে। মহাসচিব বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি বাণিজ্য, ভ্রমণ, পর্যটন এবং পারস্পরিক আদান-প্রদান হবে। গত বছর যখন ভিসা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দল বৈঠক করে, তখন তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমরা সদস্যদের মধ্যে ভিসা সহজীকরণের একটি স্কিম নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব। তিনি বলেন, এখন তারা শেষ পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের স্কিমে সম্মত হবেন, তা জানতে আমাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিমসটেক দেশগুলোর বাণিজ্য বাড়ানোর নিয়ে মহাসচিব বলেন, আমরা বেশ আশাবাদী আগামী মাস ও বছরগুলোতে আমরা কিছু চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি দেখতে পাব। শুধু এটুকুই বলতে চাই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-এফটিএ’র অধীনে আলোচনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। এমনকি যখন দ্বিপাক্ষিক এফটিএ নিয়ে আলোচনা হয়, তখনও অনেক সময় লেগে যায়। সার্কের সঙ্গে বিমসটেকের তুলনার প্রশ্নে মহাসচিব বলেন, বিমসটেক ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে। এটি এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল যে, আমাদের একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার যেখানে আমরা কৃষি এবং অর্থনৈতিক প্রকৃতি উভয় ক্ষেত্রেই সহযোগিতায় জড়িত হতে পারি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আগামী বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের আবেদনের পর এ নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আদালতকে জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে মিলিটারি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন মোজাফফর হোসেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগে তদন্ত চলছে। এ কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার মোজাফফরকে হাজির করার নির্দেশ দেন। এদিকে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে করা হবে। রাজধানীর পিলখানার শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।