দক্ষিণি সিনেমার আলোচিত জুটি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা অবশেষে পর্দার প্রেমকে বাস্তবের সম্পর্কে রূপ দিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঘনিষ্ঠজন ও তারকাদের উপস্থিতিতে সাতপাকে বাঁধা পড়েন তারা। তবে তাদের বিয়ের জমকালো আয়োজনের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে আরেকটি বিষয়—বর-কনের শরীরজুড়ে ঝলমলে বিপুল স্বর্ণালঙ্কার। রাজকীয় সাজে সেজে ওঠা এই জুটির সেই সোনালি উপস্থিতি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ভক্তদের কৌতূহল ও বিস্ময় দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই তারকা দম্পতির বিয়ের গহনাগুলো তৈরি করা হয়েছে হায়দরাবাদের এক বিখ্যাত জুয়েলারি হাউস থেকে। বিয়ের সাজে রাশমিকা মান্দানা বেছে নিয়েছিলেন দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্য। তার পরনে ছিল বিশেষ 'কাসু মালা', যা গলার লকেট থেকে কোমর পর্যন্ত বিস্তৃত। গহনাটিতে খোদাই করা ছিল দেবী লক্ষ্মীর প্রতিকৃতি ও নিপুণ কল্কার নকশা। মাথায় টায়রা-টিকলি, কানে ঝুমকা আর হাতে বাহারি চুড়ির সঙ্গে রাশমিকা পরেছিলেন বিশেষ 'হাতপদ্ম'। জানা গেছে, সব মিলিয়ে কনের অঙ্গে ছিল প্রায় তিন কেজি ওজনের স্বর্ণ । এদিকে পিছিয়ে ছিলেন না বর বিজয় দেবেরাকোন্ডাও। সিল্কের ধুতি আর লাল উত্তরীয়র সঙ্গে তিনি পরেছিলেন প্রায় আধা কেজির বেশি ওজনের স্বর্ণের অলঙ্কার। বিশেষ করে বিজয়ের কবজিতে থাকা 'বাহুবলী' সিনেমার আদলে তৈরি ব্রেসলেটটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। দুই তারকার আংটি থেকে শুরু করে প্রতিটি গহনাতেই ছিল মন্দির ও বিগ্রহের কারুকার্য। বর্তমানে বাজারে স্বর্ণের আকাশচুম্বী দামের মধ্যে এ দম্পতির এমন জাঁকজমকপূর্ণ সাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ‘টক অব দ্য টাউন’।
বলিউডের গ্ল্যামার জগতে প্রেমে পড়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে বলিউড কিং শাহরুখ কন্যা সুহানা খান। শোনা যায় তার মন জয় করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কে-পপ তারকা কিম জুন মিয়ন। ভক্তদের সঙ্গে এক খোলামেলা কথোপকথনে নিজের এই ‘ক্রাশ’-এর কথা অকপটে স্বীকার করে নেটদুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। সূত্র : পিঙ্কভিলা সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে ভক্তদের নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন সুহানা। সেখানে এক ভক্ত জানতে চান—কোন অভিনেতার সঙ্গে তিনি ডেটে যেতে চান। প্রশ্নের জবাবে সবাইকে চমকে দিয়ে কোরিয়ান গায়ক, গীতিকার ও অভিনেতা কিম জুন-মিয়নের নাম বলেন সুহানা। শুধু তাই নয়, কে-পপ তারকার একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন—‘তাকে।’ আর এতেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় বিষয়টি। বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান ও প্রযোজক-ডিজাইনার গৌরী খানের মেয়ে হওয়ায় শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সুহানা। নেপোটিজম বিতর্কের মাঝেও তিনি বরাবরই নিজেকে আলাদা পরিচয়ে গড়ে তুলতে চান। অভিনয়ের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি তায়কোয়ান্দো শেখার মতো শারীরিক প্রস্তুতিতেও নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন এই তরুণ অভিনেত্রী। গ্ল্যামারের বাইরেও সুহানার আগ্রহ বিস্তৃত। গান, নাচ, লেখালেখি এমনকি খেলাধুলাতেও রয়েছে তার সমান ঝোঁক। সামাজিকমাধ্যমে বেশ সক্রিয় তিনি, প্রায়ই লাইভে এসে ভক্তদের সঙ্গে খোলামেলা আড্ডা দেন এবং ব্যক্তিগত নানা প্রশ্নের উত্তরও দেন অকপটে। এদিকে ক্যারিয়ারের দিক থেকেও বড় এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সুহানা। চলতি বছরের শেষ দিকে তিনি বড় পর্দায় হাজির হবেন তার বাবা শাহরুখ খানের সঙ্গে। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত আসন্ন অ্যাকশনধর্মী সিনেমা কিং-এ প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দেখা যাবে বাবা-মেয়েকে। ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি এবং অভিষেক বচ্চনের মতো বড় তারকারা।
সাত পাকে বাঁধা পড়তে আর মাত্র কয়েক দিন। আর ঠিক সে মুহূর্তের আগেই যেন নতুন জীবনের স্বপ্নে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতিকা কামরা ও উপস্থাপক-প্রযোজক গৌরব কাপুর। প্রেম থেকে সংসার— জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন তারা। আর সেই অধ্যায়ের সূচনা হবে নিজেদের নতুন ঠিকানায়, ভারতের ব্যস্ততম শহর মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা বান্দ্রায়। জানা যায়, আগামী ১১ মার্চ বিয়ের পরই তারা উঠবেন বান্দ্রায় অবস্থিত নিজেদের বাসায়। তবে তার আগে সেই বাড়িকে সাজিয়ে তোলার কাজে চলছে জোর প্রস্তুতি। ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই বাড়িটিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক সংস্কার কাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ বিয়ের পর এই বাড়িটিই হতে যাচ্ছে তাদের যৌথ সংসারের প্রথম ঠিকানা, যা স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাছে বিশেষ আবেগ ও গুরুত্ব বহন করছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শুধু সাধারণ সংস্কার নয়, ঘরের কাঠামোগত কিছু পরিবর্তনও করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার প্রতিটি বিষয়েই দেওয়া হচ্ছে সূক্ষ্ম মনোযোগ। লক্ষ্য একটাই— পুরো জায়গাটিকে যেন একই সঙ্গে আরামদায়ক, কার্যকর এবং নান্দনিক করে তোলা যায়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কৃতিকা নিজেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। ডিজাইন টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি। ঘরের প্রতিটি কোণ যেন তাদের নতুন জীবনের উষ্ণতা বহন করে— সেই দিকেই নজর দিচ্ছেন তিনি। বাড়ির সাজসজ্জায় রাখা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ছোঁয়ার সঙ্গে মিড-সেঞ্চুরি মডার্ন স্টাইলের মিশেল। অর্থাৎ ক্লাসিক নকশা ও আধুনিক আরামের এক সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা চলছে। দম্পতির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, “বিয়ের আগে পুরো বাড়িটিই নতুন করে সাজানো হচ্ছে। কৃতিকা পুরো প্রক্রিয়ায় খুবই সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি উষ্ণ ও অতিথিপরায়ণ পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতে পারবেন— যার শুরু হবে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকেই।” এদিকে বিয়ের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চললেও সব কিছুই এগোচ্ছে পরিকল্পনা অনুযায়ী। আর সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসছে তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন—যে দিন থেকে শুরু হবে নতুন এক গল্প।
হঠাৎ করেই পিছিয়ে গেল বলিউডের আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক’ মুক্তির তারিখ । আগামী ১৯ মার্চ একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল আলোচিত দুটি সিনেমা ‘ধুরন্ধর ২’ ও ‘টক্সিক’। কিন্তু বুধবার (৪ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ইনস্টাগ্রামে ছবিটির মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার খবর দেন অভিনেতা যশ। সোশ্যাল হ্যান্ডেলে প্রকাশিত সেই পোস্টে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে ছবিটির মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য, বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে সিনেমাটি। কিন্তু সেই দর্শকদের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাতে বাধা হতে পারে এই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। তিনি আরও জানান, ১৯ মার্চ মুক্তি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল পুরো টিম। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে। যশের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘টক্সিক’ বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আগামী ৪ জুন। সিনেমাটি ইংরেজিসহ একাধিক ভারতীয় ভাষায় একযোগে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আসন্ন ঈদ উৎসবকে ঘিরে ছোট পর্দায় তৈরি হচ্ছে একের পর এক নতুন চমক। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো নতুন একটি নাটক ‘গুডলাক’, যেখানে জুটি বেঁধেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান ও আলোচিত অভিনেত্রী নাজনীন নীহা। ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি আর মজার সব বোকামিতে ভরপুর এই নাটকটি নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা ইমরোজ শাওন। জানা যায়, সিএমভির ব্যানারে নির্মিত এই নাটকের চিত্রনাট্য লিখেছেন রায়হান মাহমুদ। জানা গেছে, সম্প্রতি নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন নাঈম ফুয়াদ। নাটকটিতে এক বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে প্রবীণ অভিনেত্রী দিলারা জামানকে। নাটকের গল্প নিয়ে এখনই সব প্রকাশ করতে নারাজ নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। তবে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, এটি মূলত একজন ‘বোকা প্রেমিকের’ চনমনে প্রেমের গল্প। যেখানে ক্যাম্পাস জীবনের উচ্ছ্বাস এবং পারিবারিক আবহের এক চমৎকার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে। নাটক সংশ্লিষ্টদের দাবি, ‘গুডলাক’-এ জোভানের চরিত্রে এমন এক বড় চমক রয়েছে, যা দেখে দর্শকরা বেশ চমকে যাবেন। তার চরিত্রের এই ভিন্নতাই নাটকটির মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। প্রযোজক এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু জানান, এবারের ঈদে সিএমভির ব্যানারে ২০টি বিশেষ নাটক মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ‘গুডলাক’ সেই তালিকার অন্যতম একটি কাজ। চাঁদরাত থেকে শুরু করে ঈদের পরবর্তী কয়েক দিন ধারাবাহিকভাবে নাটকগুলো সিএমভির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে অবমুক্ত করা হবে।
অল্পসময়েই নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শক জনপ্রিয়তায় উঠে আসেন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। তবে এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী পর্দার চরিত্র নয়, বরং ভক্তদের সামনে উন্মোচন করলেন নিজের মনের অবস্থা ও দীর্ঘ সংগ্রামের কথা । সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের মনের অবস্থা ও দীর্ঘ সংগ্রামের কথা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই সুন্দরী। সুনেরাহ লিখেছেন, ‘আজ যখন আমি আয়নায় নিজের দিকে তাকালাম, নিজের চোখে এমন কিছু একটা দেখলাম যা আমার ভালো লাগেনি। এমন কিছু যা আমি নিজের মধ্যে দেখতে চাই না; তাকে বিষণ্ণতা, অসহায়ত্ব কিংবা শোক যা-ই বলুন না কেন।’ নিজের ভেতরের এই অদ্ভুত অনুভূতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুভূতিটা ছিল খুব অদ্ভুত। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল না, কিন্তু তবুও সবকিছু ঠিকঠাক মনে হচ্ছিল না। আমি প্রতিদিন নিজের ওপর কাজ করেছি আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য, প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটি আনন্দময় জীবন কাটানোর জন্য।’ অভিনেত্রী আরও জানান, তিনি নিজেকে মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছেন। তার জীবনের এমন কিছু সংগ্রামের পথচলা আছে যা নিয়ে তিনি সচরাচর জনসম্মুখে কথা বলেন না। তার কথায়, ‘সেই পথটা ছিল একান্তই আমার। আমি একাই সবটুকু পথ পাড়ি দিয়েছি। আর আমি এই পরিশ্রম বৃথা যেতে দেব না।’ নিজের প্রতি নিজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক করেছি, আমি হাসব এবং খুশি থাকব। এই হাসিটাই আমার সাথে মানায়। আমি সুখ এবং এক উন্নত জীবন পছন্দ করি। আমি কোনো কিছু বা অন্য কাউকে আমার থেকে এসব কেড়ে নিতে দেব না। এটা আমার নিজের কাছে নিজের প্রতিশ্রুতি।’
বলিউডের ঝলমলে আলোয় দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে ভেতরে এক গভীর অন্ধকারে ডুবে ছিলেন অর্জুন কাপুর। ক্যামেরার সামনে হাসি, প্রিমিয়ারে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি; কিন্তু সবকিছুর আড়ালে জমে উঠেছিল দীর্ঘদিনের মানসিক হেনস্তা আর বিষণ্ণতার ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ কিছু পোস্টে তিনি বারবার বুঝিয়েছেন, যুদ্ধটা ছিল নিজের সঙ্গেই। তবে এবার ভাইয়ের এই কঠিন সময় ও হেনস্তা নিয়ে মুখ খুললেন বোন জাহ্নবী কাপুর। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী জানান, তারকাদের নাম ব্যবহার করে অনেকে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করে। তার মতে, আজকের দিনে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার নেশায় মত্ত। কেউ যখন কোনো তারকার নাম ব্যবহার করে বিতর্ক তৈরি করে, তখন বুঝতে হবে তারা আসলে সেই নামটিকে পুঁজি করে নিজেদের প্রচার চাইছে। জাহ্নবী বলেন, ‘অনেকে বিতর্ক তৈরি করে খ্যাতি বাড়াতে চায়। এটাকে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া ঠিক নয়। কেউ ভিডিও বানালে বা কটাক্ষ করলে তা মনে গেঁথে রাখলে কষ্ট বাড়বে। দিনশেষে সবাই যার যার কাজ করছে এবং সংসার চালানোর চেষ্টা করছে। তাই এসব বিষয়কে খুব গভীরে নেওয়া উচিত নয়।’ তবে ভাই অর্জুনের ক্ষেত্রে বিষয়টি যে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে, তা মেনে নিয়েছেন জাহ্নবী। তার কথায়, ‘যখন সমালোচনা কেবল আর সমালোচনা থাকে না বরং হেনস্তায় রূপ নেয়, তখন খুব খারাপ লাগে।’ ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে ঠিক এটাই হয়েছে। এর পেছনে আসলে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তাই এ ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।’ অর্জুনের এই প্রতিকূল সময়ে বোন হিসেবে জাহ্নবীর এই সমর্থন ভক্তদের নজর কেড়েছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, সাইবার বুলিং বা অনলাইন হেনস্তা যে একজন শিল্পীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, অর্জুন কাপুর তার অন্যতম উদাহরণ।
দেশের ছোট পর্দার আলোচিত মুখ তানজিন তিশা। অভিনয়ের মায়াজালে যিনি দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে আছেন বহুদিন। কিন্তু এবার বিতর্কই যেন তাকে ঘিরে ধরেছে চারদিক থেকে। অভিনেত্রী সামিয়া অথৈকে মারধরের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন ঝড় উঠেছে তার এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ‘স্পেশাল চাইল্ড (অটিস্টিক)’ প্রসঙ্গে দেওয়া তিশার বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, তার মন্তব্যে তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে, যা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, সংবেদনশীল একটি বিষয়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। ছোট পর্দার অভিনেত্রী অথৈর সঙ্গে মারধরের ঘটনার ব্যাখ্যার এক পর্যায়ে তিশা স্পেশাল চাইল্ড নিয়ে বলেন, ‘আমি এমন একটি চরিত্র করছি যেখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ড বা অটিস্টিক। চরিত্রের প্রয়োজনে আমাকে মানুষকে মারতে হতে পারে, কামড় দিতে হতে পারে, এমনকি পানিতে চুবিয়েও ধরতে হতে পারে।’ স্পেশাল চাইল্ড নিয়ে তার এমন ভুল্ভাল মন্তব্যে ফুঁসে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম । এ বিষয়ে সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট ও আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তা সুদীপ্ত বিশ্বাস বিভু নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অভিনেত্রী তানজিন তিশা বলেছেন, সে স্পেশাল চাইল্ডের চরিত্র করছে৷ স্পেশাল চাইল্ডরা নাকি মানুষকে পানিতে চুবিয়ে মারতে পারে। আসলেই কি তারা সেটা পারে? তিনি আরও বলেন, স্পেশাল চাইল্ডের প্রতি মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর জন্য যখন ক্যাম্পেইনের পর ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে, সমাজের কাছ থেকে একটুখানি এম্প্যাথি পাওয়ার জন্য স্পেশাল চাইল্ডের মা-বাবারা স্ট্রাগল করছে তখন এই অভিনেত্রী এসব বলে স্পেশাল চাইল্ড ও তাদের প্যারেন্টসের জীবন দুঃসহ করে তুলছে। সুদীপ্ত বিশ্বাস বিভুর দাবি, তানজিন তিশাকে তার কথার স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে হবে নইলে ওর কথা উইথড্র করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে আমি নিজে বাদী হয়ে তিশার বিরুদ্ধে মামলা করব। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রীর এমন মন্তব্যে নেটিজেনদের পাশাপাশি বেশ নারাজ হয়েছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরাও। উল্লেখ্য, পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকুর নতুন নাটকের শুটিং সেটে অভিনেত্রী সামিয়া অথৈকে সজোরে চড় ও খামচি দিয়ে রক্তাক্ত করার এই অমানবিক ঘটনায় আলোচনায় উঠে আসেন তানজিন তিশা। তবে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তিশার পক্ষ নিয়ে বলেন, দৃশ্য ধারণের জন্যই এমনভাবে সিন পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিশা ইচ্ছা করে কিছুই করেননি, চরিত্রের প্রয়োজনেই তিনি এমনটা করেছেন।
দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। অভিনয় জগতে নিজের দক্ষতা দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করলেও, বর্তমানে রাজনীতির ময়দানে লড়ছেন তিনি। সম্প্রতি অভিনয় ছেড়ে বিজয় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজনীতিতে। ব্যক্তিগত জীবনে সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন তিনি। কিন্তু এবার পরকীয়ার অভিযোগে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়ের স্ত্রী। বিজয়ের পরকীয়া প্রেমিকা কে তা পরিষ্কারভাবে বলেননি সংগীতা। তবে তার বলা তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে নেটিজেনরা দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বিজয়ের পরকীয়া প্রেমিকা অন্য কেউ নন, দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান। কিন্তু সত্যি কি তৃষার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন বিজয়? ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে বিজয়ের স্ত্রী সংগীতা দাবি করেছেন, একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন বিজয়। ২০২১ সালে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন, এখনো সে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন বিজয়। সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম দাবি করেছেন, সেই অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজয়। তবে তা করেননি। ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফর করেন বিজয়। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও দুজনের ছবি প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে দুই সন্তান ও তিনি অপমান বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন সংগীতা। কেবল তাই নয়, সংগীতাকে সামাজিক ও পেশাগত জীবন থেকে দূরে রাখা হয়েছে, এমনকি আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাতেও বিজয় হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ সংগীতার। বিজয়ের সঙ্গে পুনরায় তৃষার নাম জড়ানোর অন্যতম কারণ হলো— তারা প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা। পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তৃষা-বিজয়। এটি ২০০৫ সালের ঘটনা। ‘গিলি’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্ত্রী সংগীতার সঙ্গে বিজয়ের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে এ সম্পর্ক আর আগায়নি এবং সংসারে মন দেন বিজয়। তবে এ ঘটনার পর অর্থাৎ ২০০৮ সালেও ‘কুরুভি’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। এরপর তাদের আর কোনো সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যায়নি। এদিকে সংগীতা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনপত্রে বলেছেন, পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে তোলা বিজয়ের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে নেটিজেনরা তৃষা নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ছবিকে মিলিয়েছেন। সেই পোস্টে বলা হয়েছে— “আমি খুবই অধিকার প্রিয়। আমি তোমাকে আর কারও সঙ্গে ভাগ করে নেব না। তুমি শুধু আমার।” নেটিজেনদের অনেকে মনে করেন তৃষার এই বার্তা বিজয়ের স্ত্রী সংগীতাকে খোঁচা দেওয়ার জন্য লেখা। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি তৃষার অফিসিয়াল কোনো অ্যাকাউন্ট নয়। ফলে সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সংগীতার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিজয়কে নিয়ে চর্চা চলছে, এ চর্চায় যুক্ত হয়েছেন তৃষা কৃষ্ণানও। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এই সুন্দরী।
দেশের ছোট পর্দার অভিনেত্রী সামিয়া অথৈকে মারধরের অভিযোগে এবার মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। অথৈয়ের করা অভিযোগকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এবং ‘অপেশাদার আচরণ’ বলে দাবি করেছেন এই সুন্দরী। এ বিষয়ে তানজিন তিশা বলেন, ‘মূলত চরিত্রের প্রয়োজনে এবং স্ক্রিপ্টের খাতিরেই আমাকে আক্রমণাত্মক হতে হয়েছিল।‘ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি পুরোপুরি আমার চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলছিলাম। আমি এমন একটি চরিত্র করছি যেখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ড বা অটিস্টিক। চরিত্রের প্রয়োজনে তাকে মানুষকে মারতে হতে পারে, কামড় দিতে হতে পারে এমনকি পানিতে চুবিয়েও ধরতে হতে পারে। আপনারা ১৫ থেকে ২০ দিন পরেই কাজটি দেখতে পারবেন এবং তখন বুঝতে পারবেন কোন চরিত্রের জন্য কী করা হয়েছে।’ এদিকে অথৈয়ের ফেসবুক লাইভ ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিনেত্রী বলেন, ‘সে হয়তো এমনভাবে লাইভ করেছে যে মনে হচ্ছে আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছি, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণের কিছুই এখানে নেই। এটি তার বুঝতে ভুল হয়েছে। আমি যা করেছি তা পুরোপুরি আমার চরিত্রের প্রয়োজনে এবং স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী করেছি। ইম্প্রোভাইজেশন করতে হলেও সেটি চরিত্রের মধ্যে থেকেই করতে হয় এবং আমি চরিত্রের বাইরে কিছুই করিনি। এটি ওই মেয়েটির ব্যক্তিগত দুর্বলতা যে, সে একটি পেশাদার বিষয়কে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে নিয়েছে।’ তিশা আরও বলেন, সেখানে অভিনেতা সেলিম আহমেদ ও পরিচালক রিঙ্কুসহ পুরো টিম উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই দেখেছেন যে কাজটা কতটা পেশাদারিত্বের সাথে করা হচ্ছিল। কিন্তু অথৈ দৃশ্যটি শেষ না করেই শুটিং সেট ত্যাগ করেছে, যা কাজের ক্ষতি করেছে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমি যে চরিত্রে অভিনয় করছি সেখানে পরিষ্কার থাকার কোনো সুযোগ নেই। সারাদিন আমাকে গোবরের পাশে, নদীর মধ্যে, মাটির মধ্যে ও বালুর মধ্যে থাকতে হয়েছে এবং শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এমতাবস্থায় একজন নারী শিল্পী হয়ে অন্য একজন নারী শিল্পীর ওয়াশরুমে থাকা বা পরিষ্কার হওয়া নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা আমার কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক মনে হয়। আমি শুধু এটাই বলব, যা যা বলা হয়েছে তা পুরোপুরি একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই শোবিজ অঙ্গনে আবারও সামনে এলো পরকীয়া ও নারী নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এবার ছোট পর্দার পরিচিত মুখ অভিনেতা আফজাল সুজনের বিরুদ্ধে পরকীয়া, মাদকাসক্তি এবং অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী জান্নাত দীপ্তি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামীর অন্ধকার জীবনের নানা দিক তুলে ধরে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন জান্নাত দীপ্তি। তার দাবি, আফজাল সুজন বর্তমানে মডেল সুমাইয়া খন্দকার তৃষ্ণার সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। প্রমাণ হিসেবে তৃষ্ণার সঙ্গে সুজনের বেশ কিছু অশালীন কথোপকথন ও আপত্তিকর ছবির স্ক্রিনশট জনসমক্ষে এনেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন সংবলিত ছবি পোস্ট করে দীপ্তি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ছয় বছরের সংসার জীবনে তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি অসুস্থ বাবার সামনে এবং নিজের বাড়িতেও সুজন তাকে মারধর করতেন। সুজনের বিরুদ্ধে চরম অমানবিকতার চিত্র তুলে ধরে দীপ্তি জানান, তার চোখের সামনেই সুজন মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশায় ডুবে থাকতেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক তথ্য হলো, দীপ্তি যখন গর্ভবতী ছিলেন, তখন সুজন অন্য এক নারীর সঙ্গে প্রায় ৪-৫ মাস লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এতদিন চুপ থাকলেও, সুজনের মিথ্যা অপবাদ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বর্তমানে আফজাল সুজন উল্টো তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘টাকার লোভে সংসার ছাড়ার’ অভিযোগ তুলছেন। এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে দীপ্তি প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন জালিমের ঘর ছেড়ে শান্তিতে বাঁচার চেষ্টা করা কি চরিত্রের দোষ? আত্মহত্যা করলেই কি সমাজ আমাকে ভালো বলত?” জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার হয়ে দীপ্তি বিচ্ছেদ চাইলেও মিডিয়াতে নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার ভয়ে সুজন তাকে তালাক দিচ্ছেন না, উল্টো স্ত্রীর সামাজিক স্বীকৃতি বা মর্যাদাও দিচ্ছেন না। এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিনেতা আফজাল সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এসব বিষয় নিয়ে এখন কিছু বলতে চাই না। এ বিষয়ে আমি নিজেই সবার সঙ্গে কথা বলব, ওইটুকু পর্যন্ত সময় আমাকে দিন। আপনারা এক পাশ থেকে শুনেছেন, এ বিষয়ে আমারও বলার আছে, আমি এইটার জন্য একটু সময় চাচ্ছি। এমন একটা সময়ের মধ্যে আছি, কিছু বলার মতো পরিস্থিতি নেই।” অন্যদিকে, মডেল তৃষ্ণাকে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ঈগল মিউজিকের ব্যানারে ক্যারিয়ার শুরু করা তরুণ অভিনেতা আফজাল সুজন বর্তমানে নিয়মিত নাটকে অভিনয় করছেন। স্ত্রীর এমন বিস্ফোরক অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় এবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্বামী যাহের আলভী এবং তার কথিত প্রেমিকা ও সহ-অভিনেত্রী তিথিকে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টায় পল্লবী থানায় মামলাটি রুজু হয়। ইকরার মর্মান্তিক আত্মহত্যার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন নতুন রহস্যের জন্ম হচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে আলভীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকায় ছুটে আসেন ইকরার পরিবারের সদস্যরা। এরপর রাতেই ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় শুধু আলভী এবং তিথিই নন, তার পরিবারের আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিনেতার মাকেও আসামি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। পারিবারিক কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ইকরার স্বজনরা আগে থেকেই আলভীর পরিবারের বিচার দাবি করে আসছিলেন। এবার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল। মামলার পরিণতি সম্পর্কে পল্লবী থানার ওসি এ কে এম আলমগীর জাহান জানান, তদন্ত শেষে আদালতে যদি আত্মহত্যার প্ররোচনার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে এই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি এবং এরপর মামলা দায়েরের খবরে বিনোদন অঙ্গনসহ সারা দেশে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে মামলার তদন্ত এবং আসামিদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় বিনোদন জগতে শোক ও রহস্যের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশার ফাঁস করা দীর্ঘ মেসেঞ্জার চ্যাট এবং সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অবহেলিত স্ত্রীর আর্তনাদ। যেখানে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে আলভীর সঙ্গে এক সহ-অভিনেত্রীর (তিথি) পরকীয়া এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের চরম অবহেলার। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মানসিক দূরত্ব জনসমক্ষে আসে। গত শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী তাঁর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না”। স্বামীর সেই পোস্টের নিচেই পাল্টা মন্তব্যে ইকরা লেখেন, “অভিনন্দন! ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমিন। আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?”। এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ইকরা নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখেন, “কেউ একজন একজনের পুরো জীবন ধ্বংস করে দিয়ে নিজের একটি দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে; কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ”। নুসরাত জাহান ত্রিশার শেয়ার করা ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাটে দেখা যায়, আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী ‘তিথি’র সম্পর্ক নিয়ে ইকরা নিদারুণ যন্ত্রণায় ছিলেন। ইকরা লিখেছিলেন, “যাকে আমি পনেরো বছর ধরে আগলে রেখেছি, তার জীবনে আজ বাইরে থেকে আসা একটি মেয়ে (তিথি) এতটা আপন হয়ে উঠেছে?”। ইকরার অভিযোগ ছিল, আলভী ওই মেয়েটিকে এতটাই প্রশ্রয় দিতেন যে সে অনেক কিছু করার সাহস পেত। এমনকি আলভী যখন শুটিংয়ের জন্য পুবাইলে থাকতেন, তখন ছেলের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি ওই মেয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ইকরা আরও জানান, আলভী তাকে আড়াল করে লুকিয়ে লুকিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। ফাঁস হওয়া চ্যাটে ইকরার মাতৃত্বকালীন হাহাকারও ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছিলেন, সন্তানের প্রতি মায়া থাকলে তিথি আলভীর জীবনে এতটা অগ্রাধিকার পেত না। শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি আলভীর পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর নিজের কোনো সত্যিকারের চাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ইকরা আরও জানিয়েছিলেন, ফেসবুকে আলভীকে নিয়ে গর্ব করে পোস্ট দিলেও দিনশেষে মানুষ যখন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হাসাহাসি করত, তখন তাঁর খুব লজ্জা লাগত। এমনকি মেসেঞ্জারে ইকরার নাম ‘জালিমা’ লিখে রাখা হয়েছিল, যা ইকরার মতে ওই মেয়ের আপত্তির কারণেই করা হয়েছিল। ২০১০ সালে ভালোবেসে পালিয়ে ঘর বাঁধা এই দম্পতির সংসারে ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। চ্যাটে ইকরা লিখেছিলেন, “আমি ওর জীবনে বাধা—এটাও মনে হয়। সবাইকে বলে বিয়ে না করতে, সে সুখী না কারণ ভালোবাসার মানুষকে কোনোদিন পাবে না আমার জন্য”। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা ইকরা আরও লিখেছিলেন যে, আলভী তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা তিনি পাচ্ছিলেন না। ইকরার বন্ধু ত্রিশার দাবি, ইকরা মোটেও আত্মহত্যার মতো মেয়ে ছিলেন না, বরং ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে তিলে তিলে ‘ট্রিগার’ করা হয়েছে এবং এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার সময় জাহের আলভী ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে অবস্থান করছিলেন। ইকরার মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর শোবিজ অঙ্গনের তারকারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। বর্তমানে পুলিশ বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অভিনয়ের কাজে নেপালে অবস্থানরত আলভী খবরটি নিশ্চিত করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মিরপুর পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে থানায় ফোন আসে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মৃত নারী অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন জাহের আলভী। তিনি লেখেন, “আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই”। নিজের একমাত্র সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, “আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল”। শোকাতুর এই অভিনেতা সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছেন এবং ফিরে সবার সাথে কথা বলবেন। সেই সাথে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোনো ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে ইকরাকে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী। দীর্ঘ ১৫ বছরের এই দাম্পত্য জীবনে তাঁদের ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিনোদন অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ছোটপর্দায় জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। অভিনেতার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার সময় আলভী শুটিংয়ের প্রয়োজনে নেপালে অবস্থান করছিলেন। ঈদুল ফিতরের বিশেষ নাটক ‘দেখা হলো নেপালে’-এর শুটিংয়ে বর্তমানে নেপালে রয়েছেন জাহের আলভী। সেখান থেকেই স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান তিনি। শোকাতুর এই অভিনেতা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল”। তিনি আরও জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছেন। ইকরার মরদেহ বর্তমানে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের ছাড়পত্র পাওয়ার পর পারিবারিকভাবে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইকরার চাচা বিপু খান জানান, খবর পেয়ে পরিবারের সবাই ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে ইকরাকে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনে তাদের ‘ইকরা’ (মতান্তরে রিজিক) নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। শোকের এই মুহূর্তে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন অভিনেতা। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ইকরার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) অভিনেতার শ্বশুরবাড়ির পরিবার থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে আজ দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। তবে কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি। অভিনেতা জাহের আলভী বর্তমানে ঈদের একটি বিশেষ নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী ও ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।
দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বলিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক আরিফিন শুভর। আগামী ১৯ মার্চ মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত রাজনৈতিক থ্রিলার সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’। তবে এই যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং এক রোমাঞ্চকর অডিশন প্রক্রিয়া। অনেকে ধারণা করেছিলেন কলকাতার মাধ্যমে শুভর বলিউড যাত্রা হচ্ছে, কিন্তু বিষয়টি ছিল ভিন্ন। সম্প্রতি কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সিরিজের প্রচারণা অনুষ্ঠানে শুভ জানান, তিন বছর আগে যখন তিনি নেপালে ছিলেন, তখন প্রখ্যাত কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়ার একটি মেসেজ থেকে এই যাত্রার শুরু হয়। মুকেশ ছাবড়াই তাকে অডিশনের প্রস্তাব দেন। হলিউড বা বলিউডের বড় প্রজেক্টে সুযোগ পাওয়া যে কতটা কঠিন, শুভর অভিজ্ঞতা তারই প্রমাণ। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে অডিশন দিতে হয়েছে। শুভ বলেন, “দুই বছর ধরে চিত্রনাট্য পাঠানো হতো। মুম্বাইয়ে ডেকেছিল, গিয়েছিলাম। ওই সময়ে একই চরিত্রের জন্য তারা আরও অনেকের অডিশন নিয়েছেন। একটা দৃশ্য অন্যকে দিয়ে করানোর পর সেই দৃশ্যই হয়তো আমাকেও পাঠানো হয়েছে।” অডিও এবং ভিডিও পাঠিয়ে বারবার নিজেকে প্রমাণ করার পর অবশেষে ‘জিমি রয়’ চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত হন তিনি। সনি লিভ-এ মুক্তি পেতে যাওয়া এই সিরিজে আরিফিন শুভকে দেখা যাবে ‘জিমি রয়’ নামক কেন্দ্রীয় চরিত্রে। সিরিজে তিনি বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি—এই চার ভাষায় অভিনয় করেছেন। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন ‘গুলাব গ্যাং’ ও ‘জুবিলি’ খ্যাত পরিচালক সৌমিক সেন। এই প্রজেক্টটি দাঁড় করাতে পরিচালকের সময় লেগেছে প্রায় সাত বছর। পরিচালক জানান, সিরিজের প্রতিটি এপিসোডে থাকবে অন্তত একটি গান ও একটি খুনের রহস্য। সিরিজে শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সৌরসেনী মিত্র। এছাড়াও রয়েছেন শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহার মতো পরিচিত মুখেরা। বিশেষ দিক হলো, সনি লিভের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো সিরিজ হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায়ও মুক্তি পাচ্ছে। আসন্ন ঈদে আরিফিন শুভর এই বলিউড অভিষেক দেশি দর্শকদের জন্য একটি বড় চমক হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়–এর ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরকীয়ার জেরে তার স্ত্রী সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গম বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে তামিল চলচ্চিত্রাঙ্গনে। ভারতীয় এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঙ্গীতা জেলা আদালতে দায়ের করা আবেদনে অভিযোগ করেছেন—বিজয় এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। তার দাবি, ২০২১ সালে তিনি প্রথম এ সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন। পরবর্তীতে একাধিকবার আশ্বাস দিলেও সেই সম্পর্কের অবসান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪-এর ২৭(১)(ক) ও ২৭(১)(ঘ) ধারার আওতায় ব্যভিচার ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি জেলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট বিজয় ও সঙ্গীতার বিয়ে হয়। হিন্দু ও খ্রিস্টান এ ধর্মীয় রীতির সমন্বয়ে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল। এই দম্পতির দুই সন্তান—জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা শাশা। জনপ্রিয় তারকা ও একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনের এই সংকট ঘিরে ভক্ত, চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আদালতের পরবর্তী শুনানি ও রায়ের দিকেই এখন সবার নজর।
নাটকের শুটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকেন নিলয় আলমগীর। নিজেকে বা পরিবারকে খুব একটা সময় দেওয়ার সুযোগও হয়ে উঠে না তার। একটানা কাজে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন এ অভিনেতা। তাই নিজেদের মতো একটু সময় কাটাতে স্ত্রী তাসনুভা তাবাসসুমকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। তবে সেখানে যাওয়ার আরও একটি কারণও রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে বাবা হন এই অভিনেতা। নিজেই বাবা হওয়ার খবর সামাজিক মাধ্যমে জানান নিলয়। সন্তান জন্ম হয় যুক্তরাষ্ট্রে। আর এ কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে পাড়ি জমান এ অভিনেতা। কন্যাসন্তানের নাম রেখেছেন রুশদা মাইমানাহ। বিরতি শেষে সাত মাস পর স্ত্রী-সন্তানসহ ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেছেন নিলয়। দুই দিন বিশ্রাম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শুটিং নিয়ে। অভিনয় করছেন অনামিকা মণ্ডলের রচনায় ও নাজমুল রনির পরিচালনায় একটি নাটকের। তবে এর নাম এখনো ঠিক হয়নি। ঢাকার উত্তরায় চলছে শুটিং। পরিচালক নাজমুল বলেন, ‘নিলয় ভাইয়ের নাটকের আলাদা একটা দর্শক রয়েছে। গল্পের মধ্য দিয়ে কমেডির সঙ্গে সামাজিক একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মূলত ঈদে দর্শক যে ধরনের গল্প পছন্দ করেন, তেমন গল্প নিয়েই আমাদের নাটক। এটি কমেডি নাটক। দর্শক পছন্দ করবেন।’ নাটকে নিলয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন সহশিল্পী নীলাঞ্জনা নীলা। তাদের খুব একটা জুটি হিসেবে দেখা যায় না। নাজমুল জানালেন, এই নাটকের শুটিং শেষে তার আরও দুটি নাটকে টানা শুটিংয়ে অংশ নেবেন নিলয় আলমগীর। বাকি নাটক দুটিতে নিলয়ের সঙ্গে জুটি হিসেবে দেখা যাবে জান্নাতুল সুমাইয়া হিমিকে। পরিচালক জানান, টানা ঈদ পর্যন্ত শুটিং করবেন এই অভিনেতা। দেশের বাইরে থাকলেও এ সময় নিলয় অভিনীত ‘মায়াবনের হরিণ’, ‘অন্য মানুষ’, ‘বাঁচবো না’, ‘পিতাপুত্রের বয়স’, ‘ঘরের নেত্রী’সহ বেশ কিছু নাটক প্রচার হয়েছে।
সারাদিন রোজা রাখার পর সারা বিশ্বের কোটি রোজদার খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন। এটি ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর সময় থেকেই খেজুর দিয়ে ইফতারের প্রচলন রয়েছে। মহানবী (সা.) নিজে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করতেন। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি খেজুরের পুষ্টিগুণও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা ভাঙার পর শরীর তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ শরীরে জ্বালানি হিসেবে এটির প্রয়োজন হয়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকায় অন্যান্য খাবারের তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি করে। খেজুরে শর্করা এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকায় এই ফলটি শরীরকে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খেয়ে থাকেন তাদের জন্য এটি আদর্শ। খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে শরীরকে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করতেও সহায়তা করে এই ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও, এটি মানুষের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। সারা দিন পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে যে ঘাটতি থাকে, তা পূরণ করে। প্রাকৃতিকভাবেই এতে ইলেক্ট্রোলাইট পটাসিয়াম থাকে, যা পানির জন্য চুম্বকের মতো কাজ করে, শরীরের কোষগুলোকে পানিতে পরিপূর্ণ করে তোলে। রোজাদারদের অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন। খেজুর ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের বর্জ্য পদার্থকে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হজমে সহায়তা করে।
উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ের পর স্বামী–স্ত্রী হিসেবে প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন দক্ষিণী তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। বুধবার হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে উদয়পুর বিমানবন্দর–এ ক্যামেরাবন্দী হন নবদম্পতি। এই মুহূর্ত ঘিরে ভক্ত ও পাপারাজ্জিদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উচ্ছ্বাস। বিমানবন্দরে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে ক্যামেরার সামনে আসেন বিজয়–রাশমিকা। এরপর পাপারাজ্জিদের উদ্দেশে হাতজোড় করে শুভেচ্ছা জানান এবং উড়ন্ত চুমু ছুড়ে দেন তাঁরা। রাশমিকার মুখে ছিল স্পষ্ট নববধূর আভা, আর বিজয়ের মুখজুড়ে শান্ত হাসি। সব মিলিয়ে যেন পর্দার ‘শ্রীভল্লী’ ও বাস্তব জীবনের ‘সামি’র নতুন জীবনের সূচনা। স্বামী–স্ত্রী হিসেবে প্রথম প্রকাশ্যে আসার দিনে দুজনেই বেছে নেন পরিমিত ও মার্জিত পোশাক। বিজয় পরেছিলেন স্যাটিন সাদা কুর্তা–পাজামা, সঙ্গে সাদা জুতা ও কালো সানগ্লাস। অন্যদিকে লাল রঙের সোনালি কারুকাজ করা হাই–কলার অনারকলি স্যুটে নজর কাড়েন রাশমিকা। স্বামীর পাশে হাঁটতে হাঁটতে আবারও ভক্তদের মন জয় করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অসংখ্য ভক্ত। একজন লিখেছেন, ‘দুজনকে একসঙ্গে দারুণ লাগছে, কারও নজর না লাগুক।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘এই জুটি সত্যিই অসাধারণ।’ অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে, বিজয়–রাশমিকার সুখ যেন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে বিয়ের ছবি শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। তিনি লেখেন, ‘একদিন ওকে খুব মনে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল, ও পাশে থাকলে দিনটা আরও সুন্দর হতো। বুঝলাম, ও-ই আমার ঘর, আমার শান্তি। তাই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেই বানালাম আমার স্ত্রী।’ পোস্টের শেষে তিনি যোগ করেন—২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যা তাদের নতুন জীবনের শুরুর দিন। উদয়পুরে বিয়ের পর এবার হায়দরাবাদ–এ অনুষ্ঠিত হবে জমকালো রিসেপশন। তার আগেই স্বামী–স্ত্রী হিসেবে বিজয় ও রাশমিকার এই প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ভক্তদের মনে তৈরি করল নতুন উচ্ছ্বাস ও আবেগ। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।