বলিউড অভিনেতা সালমান খানের পর এবার সুপারস্টার আমির খানকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট প্রকাশ করে আমির খানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে অভিনেতাকে উদ্দেশ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারিমূলক বার্তাও দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্ট এবং একটি ভয়েস নোটের মাধ্যমে হুমকির বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত আমির খান কিংবা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে সালমান খানকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। ১৯৯৮ সালে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে। এছাড়া ২০২৪ সালে সালমান খানের মুম্বাইয়ের বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণ এবং পরে মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও এই গ্যাংয়ের নাম আলোচনায় আসে। তবে এসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া পৃথকভাবে চলমান রয়েছে।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে আবার বিয়ে করার ঘোষণা দিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা এক পোস্টে পরীমনি লিখেছেন বিয়েটা আর করতে হলো না। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে। রোববার রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল ৯০ মিনিট গোলশূন্য শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে গোলের দেখা পায় স্পেন। বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের দুর্দান্ত গোলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিওনেল মেসিকে সামনে রেখে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও সমতায় ফিরতে পারেনি ১০ জনের আর্জেন্টিনা। খেলার মাঝখানে এনজো ফার্নান্দেজ পর পর দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় সংখ্যাগত সুবিধা নিয়ে অতিরিক্ত সময় শুরু করে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ডান দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে স্পেন। পেদ্রো পোরোর ক্রস দূরের পোস্টে নিয়ন্ত্রণে নেন নিকো উইলিয়ামস। অসাধারণ দক্ষতায় বলটি নামিয়ে দেন ফেরান তোরেসের সামনে। এক মুহূর্ত দেরি না করে ডান পায়ের জোরালো ভলিতে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। ১০৬ মিনিটের সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করা ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ফুটবলার হন তোরেস। ২০১৪ সালে জার্মানির মারিও গ্যোৎসের পর প্রথম বদলি হিসেবে ফাইনালে গোলের কীর্তিও গড়েন তিনি।
ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির কাছে হার মেনে না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমেরিকার জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘এলসেভেন’ (L7)-এর কিংবদন্তি বেসিস্ট জেনিফার ফিঞ্চ। ৫৭ বছর বয়সেই থেমে গেল এই মার্কিন সংগীত তারকার জীবনযুদ্ধ। তার এই প্রয়াণে স্তম্ভিত ও শোকাচ্ছন্ন পুরো বিশ্ব সংগীতপাড়া। চলতি মাসের শুরুর দিকে জেনিফারের মস্তিষ্কে ক্যানসার ধরা পড়ে। শনাক্ত হওয়ার পর প্রিয় তারকার চিকিৎসার খরচ জোগাতে তহবিল গঠনে নেমেছিলেন তার বিশ্বজুড়ে থাকা ভক্ত-অনুরাগীরা। কিন্তু সবাইকে সেই সুযোগ না দিয়েই, চলতি সপ্তাহের শেষে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। জেনিফারের মৃত্যুর পর ‘এলসেভেন’ ব্যান্ডের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করে ভক্তদের এই হৃদয়বিদারক খবরটি নিশ্চিত করা হয়। ব্যান্ডটি তাদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানায়, “আমরা আমাদের প্রিয় ব্যান্ডমেট, বোন এবং বন্ধু জেনিফার ফিঞ্চকে হারিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি। তার তীব্র মানসিক শক্তি এবং সীমাহীন সৃজনশীলতা এলসেভেন ব্যান্ডকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল, যা আমাদের সবার জীবনকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।” বিবৃতিতে তার অনন্য ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করে আরও বলা হয়, “জেনিফার ছিলেন একজন সত্যিকারের অনন্য মানুষ, যিনি সম্পূর্ণ নিজের শর্তে জীবনযাপন করেছেন। সংগীত, শিল্প এবং তার সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য যাদের হয়েছে, তাদের সবার ওপর তার যে প্রভাব ছিল তা পরিমাপ করা অসম্ভব। আমরা তাকে ভালোবাসতাম এবং তিনি সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। শান্তিতে ঘুমাও আমাদের প্রিয় বন্ধু।” রক মিউজিকের ইতিহাসে জেনিফার ফিঞ্চ একটি অতি পরিচিত নাম। ১৯৮৭ সালে তিনি ‘এলসেভেন’ ব্যান্ডে যুক্ত হন। এরপর ব্যান্ডের প্রতিটি উত্থান-পতনের গল্পে তিনি ছিলেন অন্যতম কাণ্ডারি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বিশ্বজুড়ে গ্রঞ্জ ও ‘রায়ট গার্ল’ আন্দোলনের জোয়ার বইছিল, তখন এলসেভেন তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র ঘরানা ধরে রেখে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে, ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ‘রিডিং ফেস্টিভ্যাল’-এ বিখ্যাত ব্যান্ড নির্ভানার সঙ্গে একই মঞ্চে এলসেভেনের সেই পারফরম্যান্স আজও রক ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে শারীরিক অসুস্থতা আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যান্ডের বহুল আলোচিত ‘লাস্ট হুররাহ ট্যুর’-এর ইউএস লেগ থেকে বাধ্য হয়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন জেনিফার। মূলত এই মরণব্যাধি ক্যানসারই এই রক তারকার মঞ্চ ও তার প্রিয় গিটারের মাঝে একমাত্র দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ছোট পর্দার একসময়ের জনপ্রিয় ও দাপুটে অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু আবারও নিয়মিত হচ্ছেন ধারাবাহিক নাটকে। একক কিংবা ধারাবাহিক—সব ধরনের নাটকেই যার অভিনয় একসময় দর্শককে বুঁদ করে রাখত, ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছিলেন লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়া থেকে কিছুটা দূরে। তবে দর্শক ও ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার বড় ধামাকা নিয়ে ছোট পর্দায় ফিরছেন এই গুণী অভিনেত্রী। জনপ্রিয় নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নতুন মেগা ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’-তে একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরতি ভাঙছেন তিনি। নাটকটিতে ‘রুকাইয়া’ নামের একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। সম্প্রতি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা এন্টারটেইনমেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিরে আসার গল্প’ নাটকে সুমাইয়া শিমুর রাজকীয় লুক প্রকাশ করেছে। তবে দীর্ঘ বিরতি শেষে কামব্যাকের এই প্রজেক্ট এবং নিজের চরিত্রটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে নারাজ ছোট পর্দার এই প্রিয় মুখ। এমনকি নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজও পুরো বিষয়টি নিয়ে আপাতত চমক বজায় রাখতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এর আগে নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূনের ওটিটি প্রজেক্ট ‘২ষ’ সিরিজের ‘বেসুরা’ পর্বে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন শিমু। সে সময়ই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, মনের মতো চিত্রনাট্য ও পছন্দসই চরিত্র পেলে তিনি অবশ্যই পর্দায় নিয়মিত হবেন। সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাতা রাজের ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকটি দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই এবার তিনি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন ‘ফিরে আসার গল্প’। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নাটকটির চূড়ান্ত প্রি-প্রোডাকশন ও শুটিংয়ের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে এবং আগামী মাস থেকেই ক্যামেরা ওপেন হবে। এই ধারাবাহিকে সুমাইয়া শিমুর পাশাপাশি আর কোন কোন তারকা অভিনয় করছেন, তা একে একে প্রকাশ করবেন নির্মাতা। উল্লেখ্য, সুমাইয়া শিমুর ক্যারিয়ারে ‘হাউজফুল’, ‘এফএনএফ’, ‘ললিতা’, ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ এবং ‘ফাঁদ ও বগার গল্প’-এর মতো অসংখ্য দর্শকনন্দিত ধারাবাহিক রয়েছে, যা এখনো দর্শকের মনে গেঁথে আছে।
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। এবার তার গ্যাংয়ের দুই সদস্য হুমকি দিয়েছে বলিউডের আরেক সুপারস্টার আমির খানকে। গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসায় পারিবারিকভাবে বান্ধবী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন আমির খান। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। আমির খান নিজে মুসলমান হলেও তার তিন স্ত্রীই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তৃতীয় বিয়ের পর বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠন আমির খানের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’এর অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে তার গ্যাংএর অপর এক সদস্য মিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আমির খানের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ আনে। শনিবার সকালে ফেসবুক পোস্ট এবং ভিডিও বার্তায় বলা হয়, আমি আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই (লরেন্স বিষ্ণোই গ্রুপ) বলতে চাই যে, আমির খানের মতো মানুষ আমাদের দেশে ‘লাভ জিহাদ’ নামে পরিচিত বিষয়টি প্রচার করছেন, যা আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। আমরা এই লোকটিকে সহ্য করব না এবং শিগগিরই তাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এটি সনাতন ধর্ম এবং দেশের বিরুদ্ধে। এতে আরো যোগ করা হয়, ‘আমরা আমাদের ভাই, বোন এবং নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, যারা এই ধরনের লজ্জাজনক কাজ প্রচার করবে তাদের আমাদের নিজস্ব উপায়ে মোকাবেলা করা হবে। যারা স্টারডমের নামে এটিকে উৎসাহিত করছে তাদের থামিয়ে দেওয়া হবে।’ সূত্র অনুযায়ী, পুলিশ ফেসবুক এবং একটি ভয়েস নোটের মাধ্যমে এই কথিত হুমকির তথ্য পেয়েছে, যা তারা যাচাই করে দেখছে। সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, মুম্বাই পুলিশ এখনও আমির খান বা তার টিমের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পায়নি। আমির খানের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে বলিউড অভিনেতা সালমান খান ও তার পরিবার বছরের পর বছর ধরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকে একের পর এক হুমকি পেয়ে আসছেন। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে সালমান খানের বিরুদ্ধে দুটি ‘কৃষ্ণসার হরিণ’ শিকারের অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণী রক্ষাকে তাদের পরম ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করে। তারা ‘কৃষ্ণসার হরিণ’কে অত্যন্ত পবিত্র জ্ঞান করে এবং তাদের আধ্যাত্মিক নেতা গুরু জাম্বেশ্বরের পুনর্জন্ম হিসেবে বিশ্বাস করে। তাই হরিণ হত্যার এই ঘটনা পুরো বিষ্ণোই সম্প্রদায়কে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে। তাদের দায়ের করা মামলায় ২০১৮ সালে যোধপুর আদালত সালমান খানকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। হরিণ শিকারের ঘটনার সময় লরেন্স নিতান্তই শিশু ছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি তার মনে গভীর রেখাপাত করে। ২০১৮ সালে যোধপুর আদালতে হাজিরার সময় লরেন্স প্রকাশ্যে প্রথমবার ঘোষণা দেন, ‘আমরা যোধপুরেই সালমান খানকে হত্যা করব। তখন তিনি বুঝবেন আমরা কারা।’ তবে হুমকি দিয়ে বসে থাকেননি লরেন্স বিষ্ণোই। এরপর ধারাবাহিক হুমকি সালমান পরিবারকে শঙ্কিত করে তোলে। ২০২২ সালে সালমানের বাবা সেলিম খান প্রাতঃভ্রমণের সময় একটি চিরকুট পান, যাতে বাবা-ছেলেকে হত্যার হুমকি ছিল। ২০২৩ সালেও গোল্ডি ব্রারের পক্ষ থেকে সালমানকে হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ১৪ই এপ্রিল ভোর ৫টায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় সালমানের বিলাসবহুল ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর বাইরে মোটরবাইকে চড়ে আসা দুই শ্যুটার ভবনের দেয়াল ও সালমানের বারান্দা লক্ষ্য করে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। ২০১৫ সাল থেকে কারাগারেবন্দি লরেন্স বিষ্ণোই। তার বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মামলার বিচার চলছে। তবে কারাগারে বসেই ভারত এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত গ্যাং পরিচালনা করছেন লরেন্স বিষ্ণোই। এ মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ লরেন্স বিষ্ণোইসহ ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে।
দীর্ঘ ৭৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এ অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান। আসন্ন ৭৫তম আসরে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবেন আনিকা মেরাজ। বৃহস্পতিবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তানের দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাহোরের ফালেট্টিস হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনিকার মাথায় বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দেন ‘মিস পাকিস্তান ইউনিভার্সাল ২০২২’ ড. শাফাক আখতার এবং ‘মিস্টার পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড’ আত্তাউল্লাহ গুজ্জর। ২৪ বছর বয়সী আনিকা ব্যবসা ও অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি অডিটিং ও অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। মিস ওয়ার্ল্ড-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আনিকা বলেন, তার লক্ষ্য রাষ্ট্র অনুমোদিত পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার ও মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে পাকিস্তানের জন্য আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান। এর আগে আনিকা মিস আর্থ, মিস গ্লোবাল, মিস কসমো, মিস ইকো ইন্টারন্যাশনাল এবং মিস অরা ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়া কসোভোয় অনুষ্ঠিত ফ্রিডম অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় তিনি চারটি শিরোপাও অর্জন করেন। আগামী ৯ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হবে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর ৭৫তম আসর। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সামানজার সাঈদ।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রি মাততে যাচ্ছে জম্বি ঘরানার সিনেমায়। আগামী বছর বেশ কয়েকটি জম্বি থ্রিলার উপভোগ করতে পারবেন সিনেপ্রেমীরা। রোমান্টিক, অ্যাডভেঞ্চোর কিংবা অ্যাকশন ছেড়ে এসব সিনেমায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে দর্শকদের। আর সিনেমাগুলোয় মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন রণবীর-কার্তিকসহ কয়েকজন বলিউড তারকা। বক্স অফিস তোলপাড় করে ভারতীয় সিনেমায় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’। আদিত্য ধর পরিচালিত সিনেমাটি বলিউডের অনেক পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেয়। ‘ধুরন্ধর’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর এবার জম্বি থ্রিলার ‘প্রলয়’ নিয়ে পর্দা কাঁপাতে প্রস্তুত রণবীর। তবে এবার আর একা মাঠ মাতানোর সুযোগ পাচ্ছেন না রণবীর। তাকে টক্কর দেবেন বলিউডের আরেক সেনসেশন কার্তিক আরিয়ান। পরিচালক বিষ্ণুবর্ধনের পরিচালনায় ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই মুক্তি পেতে পারে কার্তিকের একটি নতুন জম্বি সিনেমা, যা রণবীরের ‘প্রলয়’-এর আগেই থিয়েটারে ঝড় তুলবে বলে শোনা যাচ্ছে। ফলে প্রথম মুক্তির যে বাড়তি সুবিধা রণবীর পাওয়ার আশা করেছিলেন, তা হয়তো হাতছাড়া হতে চলেছে। ডেকান ক্রনিকলের রিপোর্ট অনুযায়ী, কার্তিক আরিয়ানের নাম ঠিক না হওয়া জম্বি থ্রিলারটির শুটিং আগামী মাসেই শুরু হচ্ছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা নির্মাতাদের। অন্যদিকে, ‘প্রলয়’-এর শুটিং আগামী বছরের শেষদিকে সম্পন্ন হবে। জয় মেহতার পরিচালনায় ও নোবেলজয়ী লেখক জোসে সারামাগোর ‘ব্লাইন্ডনেস’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে রণবীরের ‘প্রলয়’। তবে কেবল রণবীর বা কার্তিকই নন, ভারতের এই নতুন জম্বি ট্রেন্ডে শামিল হচ্ছেন আরও অনেকেই। আহমেদ খানের একটি জম্বি-কমেডি সিনেমায় দেখা যাবে টাইগার শ্রফকে। এ ছাড়া তেজা সাজ্জা ও শানায়া কাপুরও ব্লকবাস্টার তেলেগু সিনেমা ‘জম্বি রেড্ডি’র সিক্যুয়েল নিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালে সাইফ আলী খানের কাল্ট কমেডি ‘গো গোয়া গন’ এবং ২০২০ সালে নেটফ্লিক্সের ‘বেতাল’ দিয়ে ভারতের দর্শক জম্বি ঘরানার স্বাদ পেয়েছিল। বর্তমানে ‘ট্রেন টু বুসান’ বা ‘অল অব আস আর ডেড’-এর মতো কোরিয়ান ও হলিউড কনটেন্ট দেখে ভারতীয় দর্শকরা এখন অভ্যস্ত। তাই নির্মাতাদের মতে, এখন শুধু জম্বি দেখালেই চলবে না, ছবির মানও হতে হবে বিশ্বমানের। রণবীর, কার্তিক নাকি টাইগার—বলিউডের এই আসন্ন জম্বি মহাযুদ্ধে শেষ হাসি কে হাসবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম ও অভিনেতা শেহেরিয়ার মুনাওয়ারের নতুন নাটক ‘দার-ই-নিজাত’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, নাটকটি আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রচার শুরু হতে পারে। জানা গেছে, নাটকটি পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই ডিজিটাল-এ প্রচারের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য ইউটিউবেও প্রকাশ করা হতে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচারের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। সম্প্রতি নাটকটির প্রথম ঝলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। সাদাকালো সেই পোস্টারে দুরেফিশান সেলিম, শেহেরিয়ার মুনাওয়ার ও নামির খানকে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘দার-ই-নিজাত লোডিং’, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। নাটকটির চিত্রনাট্য লিখেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার উমাইরা আহমেদ। পরিচালনা করেছেন সাকিব খান। প্রযোজনায় রয়েছেন সালমান ইকবাল, সোনিয়া ইকবাল এবং শেহেরিয়ার মুনাওয়ার। অভিনয়ে দুরেফিশান, শেহেরিয়ার ও নামির খানের পাশাপাশি রয়েছেন সানিয়া সাইদ, মেহমুদ আসলাম এবং বিশেষ উপস্থিতিতে সাহার হাশমি। নাটকটিতে দুরেফিশান সেলিমকে ‘জারিয়াব’ নামের একটি ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা যাবে। এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রটির কিছু ঝলকও শেয়ার করেছিলেন। নতুন জুটি, জনপ্রিয় নির্মাতা এবং উমাইরা আহমেদের গল্প—সব মিলিয়ে ‘দার-ই-নিজাত’ মুক্তির আগেই পাকিস্তানি নাটকপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এখন দর্শকদের অপেক্ষা, কবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর সম্প্রচারের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়।
অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘আলফা’-তে নিজেকে একেবারে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে কঠোর প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে গেছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তার সেই প্রস্তুতির নেপথ্যের গল্প সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন ফিটনেস ট্রেইনার করণ সাওহনি। করণ জানান, শক্তিশালী ও চটপটে একটি অ্যাকশন চরিত্রের জন্য আলিয়ার পুরো জীবনযাপনই বদলে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিদিন তিনি ১০০ থেকে ১২৫ গ্রাম প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতেন। পাশাপাশি নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং, অ্যাজিলিটি ড্রিল, রিঅ্যাকশন এক্সারসাইজ এবং অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য বিশেষ অনুশীলন করতেন। শুটিং চলাকালেও এই রুটিনে কোনও ছাড় ছিল না। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা শুটিংয়ের পাশাপাশি দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরচর্চা এবং প্রায় এক ঘণ্টা নাচের অনুশীলন করতেন আলিয়া। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করাও ছিল এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু শরীরচর্চাই নয়, রিকভারিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান করণ। এজন্য আলিয়ার রুটিনে রাখা হয় সাউনা, আইস বাথ এবং ক্রায়োথেরাপি। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে সাড়ে সাত ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা হতো, যাতে দীর্ঘ সময়ের শুটিং ও কঠোর অনুশীলনের ধকল সামলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন তিনি। করণ সাওহনির ভাষ্য, ‘আলফা’র জন্য লক্ষ্য ছিল আলিয়াকে শুধু রোগা দেখানো নয়, বরং এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে পর্দায় প্রতিটি অ্যাকশন দৃশ্য শক্তিশালী, স্বাভাবিক এবং বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। সেই লক্ষ্যেই তার খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও বিশ্রামের পুরো পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল।
তরুণ স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে অনলাইন চলচ্চিত্র উৎসব ‘১ম ফিউচারনেশন ফিল্ম ফেস্ট (এফএনএফএফ) ২০২৬’। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান নির্মাতাদের বৈচিত্র্যময় গল্প বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরাই এই স্বাধীন উৎসবের মূল লক্ষ্য। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও অনলাইন ভেন্যুতে আয়োজিত এই উৎসবে কোনো প্রকার ফি ছাড়াই চলচ্চিত্র জমা দেওয়া যাচ্ছে। আগ্রহী নির্মাতারা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তিনটি বিভাগে (স্বাধীন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, জুলাই তথ্যচিত্র এবং জুলাই কথাসাহিত্য) তাদের কাজ futurenationfilmfest.org এ জমা দিতে পারবেন। আগামী ৭ ও ৮ আগস্ট দুদিনব্যাপী বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী এবং জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা ঘরে বসেই এই ভার্চুয়াল আয়োজনে যুক্ত হতে পারবেন।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আর্জেন্টিনা বরাবরই এক আবেগের নাম। শুধু সাধারণ সমর্থকরাই নন, শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এই উন্মাদনায় নিজেদের সম্পৃক্ত রাখেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের একটি ছোট্ট ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি আর্জেন্টিনা দলের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন। গত রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা জেতার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কেয়া পায়েল লেখেন, ‘Argentina তুমি একটা বিউটি’। সংক্ষিপ্ত এই বার্তাটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটিতে অসংখ্য লাইক ও মন্তব্য জমা পড়ছে। কেয়া পায়েলের ভক্তদের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও মন্তব্যের মাধ্যমে দলটির প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। অনেকেই অভিনেত্রীকে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির একজন সমর্থক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। বর্তমানে কেয়া পায়েল দেশের ছোট পর্দার পরিচিত ও ব্যস্ত অভিনেত্রীদের একজন। বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ আয়োজনে নির্মিত নাটকে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও ফুটবলের প্রতি তার এই ভালোবাসা ভক্তদের মাঝে নতুন করে সাড়া ফেলেছে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন টালিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। কয়েক মাস ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিজে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময় এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে গত জুনে একবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন কোয়েল। তবে তখন জানানো হয়েছিল, নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যকে নিজে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এবার তিনি সরাসরি হাজির হন। কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের পর রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। এর আগে দলটির সংসদ সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক পদত্যাগ করেছিলেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে মেনকা গুরুস্বামী, বাবুল সুপ্রিয় ও রাজীব কুমারের পাশাপাশি কোয়েল মল্লিকের নামও ছিল। পরে এপ্রিল মাসে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। শপথ নেওয়ার পর কোয়েল জানিয়েছিলেন, এটি তার জন্য বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশ ও মানুষের সেবাকে তিনি একটি মহৎ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
প্রেক্ষাগৃহে দারুণ সাফল্যের পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসছে সামান্থা রুথ প্রভুর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’। নন্দিনী রেড্ডি পরিচালিত এবং রাজ নিদিমোরু সৃষ্ট অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার এই সিনেমাটি আগামী ১৭ জুলাই থেকে স্ট্রিমিং হবে জিওহটস্টার-এ। ওটিটি প্ল্যাটফর্মটি সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, ‘১৭ জুলাই... দেখো কীভাবে একে একে সবাইকে জবাব দেওয়া হয়। 'মা ইন্টি বাঙ্গারাম' ১৭ জুলাই থেকে জিওহটস্টারে।’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ২৮ দিন পর ওটিটিতে আসছে সিনেমাটি। বর্তমানে তেলেগু চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে চার সপ্তাহ পর ডিজিটাল মুক্তির যে ধারা চলছে, সেটিই অনুসরণ করেছে নির্মাতারা। জিওহটস্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি তেলেগু, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষায় দেখা যাবে। তবে আপাতত হিন্দি ডাব সংস্করণ মুক্তির কোনো পরিকল্পনা নেই। ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক দর্শক হিন্দি সংস্করণের দাবি তুললেও এ বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা আসেনি। সিনেমার গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্বর্ণা, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সামান্থা রুথ প্রভু। বিয়ের দুই বছর পর প্রথমবার স্বামীর পরিবারে এসে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে। কিন্তু অন্য পুত্রবধূর সঙ্গে বারবার তুলনা এবং অতীত থেকে ফিরে আসা করুণা নামের এক ব্যক্তির উপস্থিতি স্বর্ণার জীবনে নতুন সংকট তৈরি করে। নিজের অন্ধকার অতীত গোপন রাখতে গিয়ে তাকে আবারও সহিংসতার পথে ফিরতে হয়। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন গুলশন দেবাইয়া, দিগন্ত মানচালে, শ্রীমুখী, গৌতমী ও মঞ্জুষা মুক্কাভিল্লি। সংগীত পরিচালনা করেছেন সন্তোষ নারায়ণন। মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শক—উভয়ের কাছ থেকেই প্রশংসা কুড়ায় ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’। বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটির বেশি রুপি আয় করে এটি ১০০ কোটির ক্লাবে জায়গা পাওয়া প্রথম নারীপ্রধান তেলেগু সিনেমার ইতিহাস গড়ে। এই সাফল্যের পর এক সাক্ষাৎকারে সামান্থা জানান, মুক্তির আগে এক প্রদর্শক তাকে বলেছিলেন, ‘নায়িকাকেন্দ্রিক সিনেমা দেখতে কে আসবে? বড় নায়কের ছবি হলে মানুষ আসে, কিন্তু শুধু একজন নায়িকাকে কেন্দ্র করে বানানো সিনেমা কেউ দেখবে না।’ তবে বক্স অফিসের সাফল্যের মাধ্যমে সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করেছে ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’।
রুপালি পর্দার আলো ঝলমলে জীবনে তিনি ছিলেন কোটি দর্শকের প্রিয় মুখ। অভিনয়ের জাদুতে কখনো ‘অনঙ্গ বউ’, কখনো ‘গোলাপী’, কখনো আবার সাধারণ বাঙালি নারীর আবেগ, ভালোবাসা আর সংগ্রামকে জীবন্ত করে তুলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার, সম্মান আর দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। কিন্তু জীবনের এই সময়ে এসে তার ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই নতুন কোনো সিনেমা, পুরস্কার কিংবা তারকাখ্যাতি। বরং তিনি স্বপ্ন দেখছেন এমন একটি কাজের, যা তাকে মানুষের দোয়ার সঙ্গে চিরদিন বাঁচিয়ে রাখবে। বেশ কয়েক বছর ধরেই একটি ইচ্ছা বুকে লালন করছেন ববিতা। সেই ইচ্ছা হলো, নিজের পৈতৃক ভিটায় একটি সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করা। ববিতার দাদাবাড়ি যশোরের বিজয়নগরে। সেখানেই জড়িয়ে আছে তার শৈশবের অগণিত স্মৃতি। সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে নিয়ে যশোরে গিয়েছিলেন ববিতা। ববিতা বলেন, ‘এবার দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদের জন্য জমি দেখে এসেছি। জমি চূড়ান্ত করে এসেছি। এতে আমার খুব শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তা আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আমি খুব সুন্দর করে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘একদিন তো সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জন্ম হয়েছে, মৃত্যু একদিন হবেই। তাই চলে যাওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যেতে চাই। খুব শিগগিরই মসজিদের নকশা করব। তারপর ধীরে ধীরে কাজ শুরু করব। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’ যশোর সফর ববিতার কাছে শুধু ভবিষ্যতের পরিকল্পনার নয়, অতীতের আবেগময় স্মৃতিরও এক দীর্ঘ ভ্রমণ হয়ে উঠেছিল। বিজয়নগরের দাদাবাড়ি আর বালিয়াচরের নানাবাড়ির প্রতিটি কোণ যেন তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে শৈশবে। কিন্তু সেই স্মৃতির ভিড়ে ছিল না অনেক পরিচিত মুখ। সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের কথা মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছে তার শৈশবের বন্ধু কুলসুমকে। একসময় দুজনে একসঙ্গে মাছ ধরতে যেতেন, খেলতেন, ঘুরে বেড়াতেন। বহু বছর পর ফিরে গিয়ে জানতে পারেন, কুলসুম আর বেঁচে নেই। এই সংবাদ তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। স্মৃতির মানুষগুলো যে একে একে হারিয়ে যায়, সেই বাস্তবতা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা দিয়েছে তার কাছে। তবে সফরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা। দাদাবাড়ি ও নানাবাড়িতে খবর পেয়ে বহু মানুষ ছুটে এসেছেন শুধু একবার ববিতাকে দেখার জন্য। কেউ জড়িয়ে ধরেছেন, কেউ খোঁজ নিয়েছেন, কেউ আবার পুরোনো দিনের গল্প শুনিয়েছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য সম্মান পেলেও এই ভালোবাসার তুলনা হয় না বলে মনে করেন তিনি। ববিতা বলেন, ‘দাদাবাড়ি ও নানাবাড়িতে যাওয়ার পর কত মানুষ যে এসেছেন! সবাই জড়িয়ে ধরেছেন, ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। এই আনন্দ, এই শান্তি আর কোথায় পাব? কাছের মানুষের কাছে গেলেই এমন অনুভূতি পাওয়া যায়।’ এই সফরে আরেকটি স্মৃতি তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া বোন জেলির কবরেও গিয়েছিলেন তিনি। মাত্র চার বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া সেই বোনের কথা মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ববিতা। পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির পাশে শায়িত জেলির কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ভাবছিলেন, বেঁচে থাকলে আজ সেও হয়তো পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিত। ব্যক্তিগত জীবনেও সামনে রয়েছে একটি বিশেষ দিন। আগামী ৩০ জুলাই তার জন্মদিন। প্রতি বছরের মতো এবারও জন্মদিন উদযাপন করবেন কানাডায়, একমাত্র ছেলে অনীকের সঙ্গে। ছেলে সেখানে চাকরি করেন। মা-ছেলের একসঙ্গে সময় কাটানোই এখন তার জন্মদিনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। ববিতা বলেন, ‘প্রায় প্রতি বছরই জন্মদিনটা ছেলের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করি। এবারও তাই করব। খুব শিগগিরই কানাডায় যাব। তারপর মা-ছেলে মিলে সময় কাটাব। ছেলে কী পরিকল্পনা করেছে, সেটা এখনো জানি না। সেখানে গিয়েই জানতে পারব।’ জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে ববিতার চাওয়া খুব ছোট, কিন্তু তার অর্থ অনেক বড়। তিনি আর নতুন কোনো প্রাপ্তির হিসাব করেন না। জীবনের এই সময়ে এসে নিজের সবচেয়ে বড় চাওয়ার কথা জানাতে গিয়ে ববিতা বলেন, ‘এখন আমার একটাই স্বপ্ন—মসজিদটা করে যেতে চাই। নিজেকে ভালো কাজের সঙ্গে রাখতে চাই। আল্লাহ যেন আমাকে এই স্বপ্ন পূরণের তৌফিক দেন।’ হয়তো একদিন যশোরের সেই মসজিদে প্রতিদিন নামাজ আদায় করবেন অসংখ্য মানুষ। কেউ হয়তো জানবেন, এই ইবাদতখানার পেছনে রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের এক কিংবদন্তি অভিনেত্রীর নীরব স্বপ্ন, নিজের জীবনের শেষবেলায় রেখে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর উপহার। আর তখন ববিতার নাম শুধু চলচ্চিত্রের ইতিহাসেই নয়, মানুষের দোয়ার মধ্যেও বেঁচে থাকবে।
প্রথমবার জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন ঢালিউড অভিনেতা আরিফিন শুভ ও অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। মিনিস্ট্রি অব লাভ (এমওএল) ব্যানারে নির্মিত এটি সপ্তম চলচ্চিত্র, যার সহপ্রযোজনায় রয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছবিয়াল। নির্মাতার ভাষ্য, সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব—এই ৩টি বিষয়কে এক সুতোয় গেঁথে তুলে ধরা হয়েছে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ। নতুন এই কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত আরিফিন শুভ। তিনি বলেন, ‘উনিশ ২০-এর পর আবার চরকির সঙ্গে কাজ করছি। এ ধরনের চরিত্রে আগে কাজ করিনি। দর্শক সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত, এখানে সেভাবে দেখবে না। এটি প্রচলিত শক্তিশালী নায়ক চরিত্র নয়। আমি অভিনয় করছি মফস্বলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক যুবকের চরিত্রে, যার পুরো পৃথিবীজুড়ে রয়েছে তার পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষেরা।’ অন্যদিকে কেয়া পায়েলের কাছেও কাজটি বিশেষ। তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো কারণে কাজটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত সহশিল্পী হিসেবে আছেন আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত, এটি চরকির সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। আর তৃতীয়ত, পরিচালক জাহিদ প্রীতম। আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। অভিনয়েরও অনেকগুলো লেয়ার রয়েছে। দর্শক আমাকে বিভিন্নভাবে দেখেছেন, এবারও নতুনভাবে দেখবেন বলে বিশ্বাস করি।’ পরিচালক জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘প্রতিদিনের সামাজিক দূরত্ব, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধের সংঘাত—এসবই বাস্তবসম্মতভাবে উঠে আসবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ। এতে যেমন রয়েছে হিউমার ও রোমান্স, তেমনি রয়েছে আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্ত, যা প্রতিটি বাঙালি পরিবারকে স্পর্শ করবে।’
২০১১ সালে জনপ্রিয় বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ‘রেডি’ সিনেমায় জুটি হয়ে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী জেরিন খান। সেই সিনেমার সুপারহিট ‘ক্যারেকটর ঢিলা হ্যায়’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা এনে দেয় অভিনেত্রীকে। সেই গান জনপ্রিয় হলেও বাস্তবে জেরিন খান রক্ষণশীল তা অভিনেত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে নতুন বিপণিবিতানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অভিনেত্রী। সেখানে আলোকচিত্রীর 'অশালীন' আবদারে রেগে আগুন ভাইজানের নায়িকা। মেজাজ হারিয়ে কড়া জবাব দিলেন জেরিন খান। মায়ানগরীর সিনেপাড়ায় সেলিব্রেটিরা পাপারাজ্জিদের বাড়াবাড়িতে ‘অতিষ্ঠ’— এটা এক রকম সবার জানা। সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে— পাপারাজ্জিদের আচরণে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ‘দাবাং গার্ল’ অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশে নাস্তানাবুদ শাহরুখপুত্র আরিয়ানসহ উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা। এবার মুম্বাইয়ে পাপারাজ্জিদের ‘হুঁশিয়ারি’ অভিনেত্রী জেরিন খানের। সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল ‘অগ্নিশর্মা’ জেরিনের মন্তব্য। এযাবৎকাল সিনেপর্দায় আনাগোনা না থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় চর্চায় রয়েছেন সালমানের নায়িকা জেরিন খান। পাপারাজ্জিদের সঙ্গে যে কারণে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় অভিনেত্রীর? সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি বিপণিবিতানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জেরিন খান। সেখানেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। নতুন বিপণিবিতানের পোশাক প্রদর্শনের সময় হঠাৎ এক পাপারাজ্জি তাকে পোশাকটি পরে দেখানোর আবদার করে বসেন। আর সে কথা শুনেই মেজাজ হারান জেরিন খান। কড়া ভাষায় ওই আলোকচিত্রীকে সতর্ক করে দেন অভিনেত্রী। সুর চড়িয়ে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে জেরিন খান বলেন, 'সবার সামনে পোশাক পরে দেখাব! এ ধরনের বাজে কথা ভবিষ্যতে আর কখনো আমাকে বলবেন না। শালীনতার সীমা অতিক্রম করবেন না। আমি কিন্তু এসব সহ্য করব না।' অতঃপর সেখানে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে এ মুহূর্তে সেই ভিডিও একেবারে দাবানলের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুতই নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। পেশাগত সীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য জেরিন খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের একাংশ। অভিনেত্রীর সমর্থনে এক নেটিজেন লিখেছেন— ‘একদম ঠিক করেছেন। জেরিনের প্রতিক্রিয়া যথাযথ।’ আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘পাপারাজ্জিরা কীভাবে এ ধরনের কথা বলতে পারেন?’ জেরিনের মন্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে আরেক নেটিজেন বলেছেন— ‘উনি একদম সঠিক জবাব দিয়েছেন।’
বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেই কিছুটা সময় বের করে উড়াল দিয়েছেন নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপে। সেখানেই প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে মেলে ধরছেন গ্ল্যামারাস কুইন কেয়া পায়েল। মালদ্বীপ ভ্রমণের দারুণ কিছু মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে তার ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রের নীল পানি, বালুময় সৈকত আর ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের সেসব মোহময়ী ছবি তার ভক্তদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিদেশের মাটিতেও বাঙালি নারীর চিরচেনা রূপ! মালদ্বীপের সাগরের বুকে কাঠের তৈরি ওয়াকওয়েতে হালকা নীল ও বেগুনি রঙের শাড়ির সঙ্গে লাল রঙের কাঁচের চুড়ি পরে পোজ দিয়েছেন কেয়া পায়েল। মালদ্বীপের সমুদ্রসৈকতে কাচের মতো স্বচ্ছ নীল জলরাশিতে জলকেলিতে মেতেছেন ওঠেন কেয়া পায়েল। ফ্লোরাল প্রিন্টের পোশাকে সাগরের পানি ছুঁয়ে ক্যামেরার বিপরীতে থাকা তার এ ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে এখন বেশ ভাইরাল। আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে, সৈকতের পাশে ক্যাফেতে বসে হালকা গোলাপি পোশাকে চুলে হাত বুলিয়ে ক্যাজুয়াল লুকে পোজ দিচ্ছেন কেয়া পায়েল। চোখে সানগ্লাস আর শান্ত প্রকৃতির মাঝে তার এই স্নিগ্ধ রূপ ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। সমুদ্রের একেবারে কোলঘেঁষে তৈরি কটেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সাগরের ঢেউ উপভোগ করছেন তিনি। মাথায় স্টাইলিশ হ্যাট ও সাদা সিল্কের গাউনের সঙ্গে ম্যাচিং লেস শ্রাগ জড়িয়ে তার এই ক্ল্যাসিক পোজটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। সমুদ্রসৈকতে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ব্যাকলেস ফ্লোরাল পোশাকে আর সানগ্লাস চোখে এক অন্য রকম লুকে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী কেয়া। ব্যাকগ্রাউন্ডে রিসোর্টের ওয়াটার ভিলা আর নীল আকাশ তার এই রূপকে আরও আবেদনময়ী করে তুলেছে। মালদ্বীপের রাতের মায়াবী আবহে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের রোমান্টিক মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন কেয়া পায়েল। সামনের টেবিলে সাজানো বাহারি খাবার, ড্রিংকস আর লণ্ঠনের আলো-আঁধারির মাঝে তার এই মিষ্টি হাসি নেটিজেনদের দারুণ মন কেড়েছে।
বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান ‘মায়া শালিক’, ‘ইন্টার্নশিপ’ কিংবা বড়পর্দার ‘কাজলরেখা’ দিয়ে যিনি অল্প সময়েই কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। ব্যস্ত অভিনেত্রী কাজের ফাঁকে নিজেকে বিশ্রাম আর একটু মানসিক প্রশান্তি পেতে ছুটে গেছেন প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি থাইল্যান্ডের নীল সমুদ্রসৈকত ফুকেট দ্বীপে। ফুকেটের চোখজুড়ানো আর মনমাতানো সম্প্রতি একগুচ্ছ ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নিয়েছেন সাদিয়া আয়মান, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। পোস্ট করা ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী নিজের ভালোলাগার অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন— শুধু সমুদ্র আর আমি! ঠিক এখানেই আমার থাকা উচিত। সেই সঙ্গে সেখানকার ফুরফুরে পরিবেশ ও সুস্বাদু খাবারের প্রশংসা করে সাদিয়া আয়মান আরও লিখিছেন— সমুদ্রের তীরে সোনালি বিকেল আর একটুখানি রোদে পোড়া তামাটে ত্বকেই যেন জীবনটা একদম নিখুঁত মনে হচ্ছে। আর সমুদ্রের গর্জন, লোনা হাওয়া আর নীরবতার মাঝে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন নিজের সত্যিকারের ঠিকানা বলে জানান অভিনেত্রী।
রাজনীতিবিদ ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডের নাম বারবার বিতর্কে উঠে আসছে। কিছু দিন আগেই খবর ছড়িয়ে পড়ে— তিনি একসময়ে যৌন হেনস্তার মিথ্যা অভিযোগ এনেছিলেন। নিজেই জানান সে কথা। তারপর থেকে সমালোচিত ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ অভিনেত্রী। বর্তমানে শিল্পা শিন্ডে রয়েছেন নেটফ্লিক্সের রিয়্যালিটি শো ‘লকআপ সিজন ২’-তে। সেখানেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী। এদিকে ‘বিগ বস ১১’-এর সময় থেকে শিল্পা শিন্ডের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক জড়িয়ে পড়েন অভিনেত্রী হিনা খান। আবার শিল্পা শিন্ডেকে কটাক্ষ করলেন অভিনেত্রী। একসময় তার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া নিয়েও মশকরা করেছিলেন শিল্পা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিনা ও তার স্বামী রকি জয়সওয়াল। সেখানে এ তারকা দম্পতি শিল্পার কড়া সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ— হিনা যখন স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখনো শিল্পা তাকে নিয়ে মজা করেছিলেন। যৌন হেনস্তার ভুয়া অভিযোগ নিয়ে শিল্পা শিন্ডের উদ্দেশে হিনা খান বলেন, যদি ওই মানুষটি আত্মহত্যা করতেন তাহলে কী হতো? যৌন হেনস্তার অভিযোগ খুবই গুরুতর বিষয়। এ ভুয়া অভিযোগের জন্যই মানুষ সত্যিকারের ভুক্তভোগীদেরও বিশ্বাস করতে চাইবে না। স্ত্রীর মন্তব্য সমর্থন করে রকি জয়সওয়ালও বলেন, এবার সত্যিকারের ভুক্তভোগীদের কী হবে? কেউ যদি নিজে ভুক্তভোগী না হয়েও আইনের অপব্যবহার করে, তাহলে তো যে কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা যায়। অনেক সময়েই পারিশ্রমিক পেতে দেরি হয়। তাই বলে কি আমরা সবার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মামলা করব? যৌন হেনস্তার অভিযোগ যে মিথ্যা ছিল, তা নিজেই প্রকাশ্যে এনেছেন শিল্পা শিন্ডে। তাই সে প্রসঙ্গে হিনা বলেন, ৮-১০ বছর পর প্রকাশ্যে এসে এসব বলার কোনো মানে হয় না। আমার মনে হয়, শিল্পা ভেবেছিলেন— সবাই তাকে বাহবা দেবে সত্যিটা বলার জন্য। কিন্তু উল্টোটা হয়েছে। তার ভাবা উচিত ছিল— অনেকেই ভবিষ্যতে এ আইনের অপব্যবহার করতে পারে। অনেক দিন ধরে হিনা ও শিল্পার মধ্যে বিতর্ক। সেই প্রসঙ্গে হিনা বলেন, শিল্পা বলেছেন— আমি নাকি নিজের প্রচারের জন্য ওর নাম নিয়েছি। কিন্তু গত ১০ বছরে আমি কখনো তাকে নিয়ে কিছু বলিনি। অথচ শিল্পা আমার অসুস্থতাকে টেনে এনেছেন। এ প্রসঙ্গে কিছুটা সুর চড়িয়ে হিনার স্বামী রকি বলেন, শিল্পা শিন্ডের মতো মানুষ সম্মান পাওয়ার যোগ্য নন। তিনি নিজের ইচ্ছামতো ধারাবাহিক (ভাবিজি ঘর পর হ্যায়) ছেড়েছিলেন। নিজের নারী পরিচয় ও যৌন হেনস্তার অভিযোগকে ব্যবহার করেছিলেন তিনি। তারপরও তিনি হিনার ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা নিয়ে মন্তব্য করার সাহস দেখিয়েছেন। তিনি কে যে এমন কথা বলবেন?
দেশের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট ও হবিগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা এখন পানির নিচে। সেই সঙ্গে বন্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ধস। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ধস হচ্ছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ দুর্যোগে আরও প্রাণ হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। দেশের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও। গত দুদিন ধরে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে এ মানবিক সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানাচ্ছেন। এ তালিকায় শামিল হয়েছেন বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। দেশের মানুষের এ দুর্ভোগ দেখে স্থির থাকতে পারেননি অভিনেত্রী। সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে বন্যার্তদের অবস্থান তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী। ইতোমধ্যে সেই পোস্টটি নেটিজেনদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। তার ভক্ত-অনুরাগীরাও এ আহ্বানকে সাধুবাদ জানিয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বন্যার্তদের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে তাসনিয়া ফারিণ লিখেছেন— দেশের মানুষ মারা যাচ্ছে, লাশ ভেসে চলে যাচ্ছে, মানুষের বাসায় খাবার নেই, পানি উঠে বসে আছে। এ অবস্থায় মানুষ পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, অফিসে যাচ্ছে। সমাজের সামর্থ্যবানদের অবস্থান তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, 'আমার মতো যারা বাসায় বসে থাকতে পারছেন, মাথার ওপর ছাদ, ঘরে বিদ্যুৎ আর পর্যাপ্ত খাবার আছে, নিজেকে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মনে করুন। আসুন নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু পারা যায় একটু সাহায্য করি।'
বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিসিয়াল থিম সং নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যস্ত সময় কাটছে বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীত প্রযোজক, সুরকার ও শিল্পী সানজয়ের। বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রচারণামূলক কনসার্টে অংশ নিয়ে ফুটবল উন্মাদনায় মাতিয়েছেন তিনি। তবে সেই বিশ্বমঞ্চের ব্যস্ততার মাঝেও দেশের মানুষের ভালোবাসার টানেই ফিরছেন বাংলাদেশে। আর দেশে ফেরার আগেই ভক্তদের জন্য নিয়ে এলেন বাংলার লোকগান ‘কার জন্য’। দেশের অন্যতম অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রতিষ্ঠান কাইনেটিক মিউজিক থেকে প্রকাশিত গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মাখন মিয়া। জুয়েল মোরশেদ ও রিয়াজ আলীর কথায় নির্মিত গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সানজয়। এতে ঐতিহ্যবাহী লোক ও বাউলসংগীতের আবহকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন এক সংগীতধারা উপস্থাপন করা হয়েছে। গানটির মিউজিক ভিডিওতেও রয়েছে ভিন্নধর্মী নির্মাণ। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহলের মধ্যে সংগীতের মাধ্যমে মুক্তি ও আত্মঅন্বেষণের গল্প উঠে এসেছে এতে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ধারণ করা ভিডিওটির কোরিওগ্রাফি করেছেন রিদি শেখ। নৃত্য পরিবেশন করেছেন শানজিদা জাহান পুষ্প। কাইনেটিক মিউজিকের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একটি নতুন গান প্রকাশ নয়; বরং বাংলার লোকঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক সংগীতভাষায় নতুনভাবে তুলে ধরা। নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে লোকসংগীতকে আধুনিক আঙ্গিকে পৌঁছে দিতেই এই প্রয়াস। সনজয় বলেন , “সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে এসেছিলাম। তখনই গানটা করা হয়েছে। শুটিংও সেসময় করা। বিশ্বকাপ ফাইনালের দিনে দেশে কনসার্ট করছি। শুধুমাত্র এ জন্যই আসছি এবার।” তিনি জানান, আগামী ১৮ জুলাই দেশে পৌঁছাবেন। পরদিন ১৯ জুলাই রাজধানীর বনানী পূজা মাঠে আয়োজিত ফ্যানফেস্টে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত হোমকামিং কনসার্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ পরিবেশনা। এরপর উপস্থিত দর্শকরা জায়ান্ট স্ক্রিনে একসঙ্গে উপভোগ করবেন বিশ্বকাপের গ্র্যান্ড ফাইনাল। সানজয় দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সংকে ঘিরে নোরা ফাতেহির সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রচারণামূলক কনসার্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে মাখন মিয়া ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’, ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র প্রথম মৌসুমের জনপ্রিয় গান ‘লীলাবালি’ এবং শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে ‘সংস অব বেঙ্গল’ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে সুপরিচিত। ‘কার জন্য’ গানে মাখন মিয়ার মাটির ঘ্রাণমাখা কণ্ঠ এবং সানজয়ের আধুনিক সংগীতায়োজনের মেলবন্ধন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। একদিকে বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক মঞ্চ, অন্যদিকে বাংলার লোকসংগীতের শেকড়—দুই ভুবনকে এক সুতোয় গেঁথে দেশে ফিরছেন সানজয়। আর সেই ফেরাটা কেবল একটি কনসার্টের জন্য নয়, নিজের মাটি, নিজের ভাষা ও নিজের সংগীতের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরিরও এক উপলক্ষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।