নাটক হিসেবে নির্মিত একটি কাজকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে মুক্তির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন জনপ্রিয় তারকা দম্পতি ওমর সানি ও মৌসুমী। নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ শিরোনামের একটি প্রজেক্ট ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। ওমর সানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ধারণ করা এই কাজটি মূলত একটি নাটক ছিল, যা পরে টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচারের কথা ছিল। কিন্তু সেটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর ছাড়পত্র নেওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, “মৌসুমীর লিখিত সম্মতি বা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়া এটি কীভাবে সিনেমা হিসেবে মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়, তা বোধগম্য নয়। একজন পেশাদার শিল্পীর কাজ নিয়ে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি এবং সিনেমা হিসেবে মুক্তি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।” ভিডিওতে মৌসুমীর একটি বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি জানান, কাজটি ছিল প্রায় এক ঘণ্টার নাটক। নির্মাতার অনুরোধে তিনি অতিরিক্ত সময় দিয়ে শুটিং শেষ করেছিলেন এবং টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচারের বিষয়ে মৌখিক সম্মতি দিয়েছিলেন। মৌসুমীর অভিযোগ, সিনেমা হিসেবে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ডাবিংসহ কারিগরি কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। পাশাপাশি চলচ্চিত্রের জন্য যে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা, সেটিও তিনি পাননি। একটি নাটককে জোরপূর্বক সিনেমায় রূপ দেওয়ার এই উদ্যোগকে তিনি শিল্পের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় বিনোদন জগতে শোক ও রহস্যের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশার ফাঁস করা দীর্ঘ মেসেঞ্জার চ্যাট এবং সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অবহেলিত স্ত্রীর আর্তনাদ। যেখানে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে আলভীর সঙ্গে এক সহ-অভিনেত্রীর (তিথি) পরকীয়া এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের চরম অবহেলার। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মানসিক দূরত্ব জনসমক্ষে আসে। গত শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী তাঁর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না”। স্বামীর সেই পোস্টের নিচেই পাল্টা মন্তব্যে ইকরা লেখেন, “অভিনন্দন! ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমিন। আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?”। এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ইকরা নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখেন, “কেউ একজন একজনের পুরো জীবন ধ্বংস করে দিয়ে নিজের একটি দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে; কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ”। নুসরাত জাহান ত্রিশার শেয়ার করা ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাটে দেখা যায়, আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী ‘তিথি’র সম্পর্ক নিয়ে ইকরা নিদারুণ যন্ত্রণায় ছিলেন। ইকরা লিখেছিলেন, “যাকে আমি পনেরো বছর ধরে আগলে রেখেছি, তার জীবনে আজ বাইরে থেকে আসা একটি মেয়ে (তিথি) এতটা আপন হয়ে উঠেছে?”। ইকরার অভিযোগ ছিল, আলভী ওই মেয়েটিকে এতটাই প্রশ্রয় দিতেন যে সে অনেক কিছু করার সাহস পেত। এমনকি আলভী যখন শুটিংয়ের জন্য পুবাইলে থাকতেন, তখন ছেলের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি ওই মেয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ইকরা আরও জানান, আলভী তাকে আড়াল করে লুকিয়ে লুকিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। ফাঁস হওয়া চ্যাটে ইকরার মাতৃত্বকালীন হাহাকারও ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছিলেন, সন্তানের প্রতি মায়া থাকলে তিথি আলভীর জীবনে এতটা অগ্রাধিকার পেত না। শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি আলভীর পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর নিজের কোনো সত্যিকারের চাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ইকরা আরও জানিয়েছিলেন, ফেসবুকে আলভীকে নিয়ে গর্ব করে পোস্ট দিলেও দিনশেষে মানুষ যখন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হাসাহাসি করত, তখন তাঁর খুব লজ্জা লাগত। এমনকি মেসেঞ্জারে ইকরার নাম ‘জালিমা’ লিখে রাখা হয়েছিল, যা ইকরার মতে ওই মেয়ের আপত্তির কারণেই করা হয়েছিল। ২০১০ সালে ভালোবেসে পালিয়ে ঘর বাঁধা এই দম্পতির সংসারে ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। চ্যাটে ইকরা লিখেছিলেন, “আমি ওর জীবনে বাধা—এটাও মনে হয়। সবাইকে বলে বিয়ে না করতে, সে সুখী না কারণ ভালোবাসার মানুষকে কোনোদিন পাবে না আমার জন্য”। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা ইকরা আরও লিখেছিলেন যে, আলভী তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা তিনি পাচ্ছিলেন না। ইকরার বন্ধু ত্রিশার দাবি, ইকরা মোটেও আত্মহত্যার মতো মেয়ে ছিলেন না, বরং ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে তিলে তিলে ‘ট্রিগার’ করা হয়েছে এবং এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার সময় জাহের আলভী ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে অবস্থান করছিলেন। ইকরার মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর শোবিজ অঙ্গনের তারকারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। বর্তমানে পুলিশ বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অভিনয়ের কাজে নেপালে অবস্থানরত আলভী খবরটি নিশ্চিত করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মিরপুর পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে থানায় ফোন আসে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মৃত নারী অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন জাহের আলভী। তিনি লেখেন, “আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই”। নিজের একমাত্র সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, “আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল”। শোকাতুর এই অভিনেতা সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছেন এবং ফিরে সবার সাথে কথা বলবেন। সেই সাথে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোনো ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে ইকরাকে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী। দীর্ঘ ১৫ বছরের এই দাম্পত্য জীবনে তাঁদের ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিনোদন অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ছোটপর্দায় জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। অভিনেতার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার সময় আলভী শুটিংয়ের প্রয়োজনে নেপালে অবস্থান করছিলেন। ঈদুল ফিতরের বিশেষ নাটক ‘দেখা হলো নেপালে’-এর শুটিংয়ে বর্তমানে নেপালে রয়েছেন জাহের আলভী। সেখান থেকেই স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান তিনি। শোকাতুর এই অভিনেতা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল”। তিনি আরও জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছেন। ইকরার মরদেহ বর্তমানে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের ছাড়পত্র পাওয়ার পর পারিবারিকভাবে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইকরার চাচা বিপু খান জানান, খবর পেয়ে পরিবারের সবাই ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে ইকরাকে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনে তাদের ‘ইকরা’ (মতান্তরে রিজিক) নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। শোকের এই মুহূর্তে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন অভিনেতা। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ইকরার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) অভিনেতার শ্বশুরবাড়ির পরিবার থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে আজ দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। তবে কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি। অভিনেতা জাহের আলভী বর্তমানে ঈদের একটি বিশেষ নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী ও ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।
দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বলিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক আরিফিন শুভর। আগামী ১৯ মার্চ মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত রাজনৈতিক থ্রিলার সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’। তবে এই যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং এক রোমাঞ্চকর অডিশন প্রক্রিয়া। অনেকে ধারণা করেছিলেন কলকাতার মাধ্যমে শুভর বলিউড যাত্রা হচ্ছে, কিন্তু বিষয়টি ছিল ভিন্ন। সম্প্রতি কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সিরিজের প্রচারণা অনুষ্ঠানে শুভ জানান, তিন বছর আগে যখন তিনি নেপালে ছিলেন, তখন প্রখ্যাত কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়ার একটি মেসেজ থেকে এই যাত্রার শুরু হয়। মুকেশ ছাবড়াই তাকে অডিশনের প্রস্তাব দেন। হলিউড বা বলিউডের বড় প্রজেক্টে সুযোগ পাওয়া যে কতটা কঠিন, শুভর অভিজ্ঞতা তারই প্রমাণ। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে অডিশন দিতে হয়েছে। শুভ বলেন, “দুই বছর ধরে চিত্রনাট্য পাঠানো হতো। মুম্বাইয়ে ডেকেছিল, গিয়েছিলাম। ওই সময়ে একই চরিত্রের জন্য তারা আরও অনেকের অডিশন নিয়েছেন। একটা দৃশ্য অন্যকে দিয়ে করানোর পর সেই দৃশ্যই হয়তো আমাকেও পাঠানো হয়েছে।” অডিও এবং ভিডিও পাঠিয়ে বারবার নিজেকে প্রমাণ করার পর অবশেষে ‘জিমি রয়’ চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত হন তিনি। সনি লিভ-এ মুক্তি পেতে যাওয়া এই সিরিজে আরিফিন শুভকে দেখা যাবে ‘জিমি রয়’ নামক কেন্দ্রীয় চরিত্রে। সিরিজে তিনি বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি—এই চার ভাষায় অভিনয় করেছেন। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন ‘গুলাব গ্যাং’ ও ‘জুবিলি’ খ্যাত পরিচালক সৌমিক সেন। এই প্রজেক্টটি দাঁড় করাতে পরিচালকের সময় লেগেছে প্রায় সাত বছর। পরিচালক জানান, সিরিজের প্রতিটি এপিসোডে থাকবে অন্তত একটি গান ও একটি খুনের রহস্য। সিরিজে শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সৌরসেনী মিত্র। এছাড়াও রয়েছেন শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহার মতো পরিচিত মুখেরা। বিশেষ দিক হলো, সনি লিভের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো সিরিজ হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায়ও মুক্তি পাচ্ছে। আসন্ন ঈদে আরিফিন শুভর এই বলিউড অভিষেক দেশি দর্শকদের জন্য একটি বড় চমক হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়–এর ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরকীয়ার জেরে তার স্ত্রী সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গম বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে তামিল চলচ্চিত্রাঙ্গনে। ভারতীয় এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঙ্গীতা জেলা আদালতে দায়ের করা আবেদনে অভিযোগ করেছেন—বিজয় এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। তার দাবি, ২০২১ সালে তিনি প্রথম এ সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন। পরবর্তীতে একাধিকবার আশ্বাস দিলেও সেই সম্পর্কের অবসান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪-এর ২৭(১)(ক) ও ২৭(১)(ঘ) ধারার আওতায় ব্যভিচার ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি জেলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট বিজয় ও সঙ্গীতার বিয়ে হয়। হিন্দু ও খ্রিস্টান এ ধর্মীয় রীতির সমন্বয়ে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল। এই দম্পতির দুই সন্তান—জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা শাশা। জনপ্রিয় তারকা ও একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনের এই সংকট ঘিরে ভক্ত, চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আদালতের পরবর্তী শুনানি ও রায়ের দিকেই এখন সবার নজর।
নাটকের শুটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকেন নিলয় আলমগীর। নিজেকে বা পরিবারকে খুব একটা সময় দেওয়ার সুযোগও হয়ে উঠে না তার। একটানা কাজে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন এ অভিনেতা। তাই নিজেদের মতো একটু সময় কাটাতে স্ত্রী তাসনুভা তাবাসসুমকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। তবে সেখানে যাওয়ার আরও একটি কারণও রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে বাবা হন এই অভিনেতা। নিজেই বাবা হওয়ার খবর সামাজিক মাধ্যমে জানান নিলয়। সন্তান জন্ম হয় যুক্তরাষ্ট্রে। আর এ কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে পাড়ি জমান এ অভিনেতা। কন্যাসন্তানের নাম রেখেছেন রুশদা মাইমানাহ। বিরতি শেষে সাত মাস পর স্ত্রী-সন্তানসহ ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেছেন নিলয়। দুই দিন বিশ্রাম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শুটিং নিয়ে। অভিনয় করছেন অনামিকা মণ্ডলের রচনায় ও নাজমুল রনির পরিচালনায় একটি নাটকের। তবে এর নাম এখনো ঠিক হয়নি। ঢাকার উত্তরায় চলছে শুটিং। পরিচালক নাজমুল বলেন, ‘নিলয় ভাইয়ের নাটকের আলাদা একটা দর্শক রয়েছে। গল্পের মধ্য দিয়ে কমেডির সঙ্গে সামাজিক একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মূলত ঈদে দর্শক যে ধরনের গল্প পছন্দ করেন, তেমন গল্প নিয়েই আমাদের নাটক। এটি কমেডি নাটক। দর্শক পছন্দ করবেন।’ নাটকে নিলয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন সহশিল্পী নীলাঞ্জনা নীলা। তাদের খুব একটা জুটি হিসেবে দেখা যায় না। নাজমুল জানালেন, এই নাটকের শুটিং শেষে তার আরও দুটি নাটকে টানা শুটিংয়ে অংশ নেবেন নিলয় আলমগীর। বাকি নাটক দুটিতে নিলয়ের সঙ্গে জুটি হিসেবে দেখা যাবে জান্নাতুল সুমাইয়া হিমিকে। পরিচালক জানান, টানা ঈদ পর্যন্ত শুটিং করবেন এই অভিনেতা। দেশের বাইরে থাকলেও এ সময় নিলয় অভিনীত ‘মায়াবনের হরিণ’, ‘অন্য মানুষ’, ‘বাঁচবো না’, ‘পিতাপুত্রের বয়স’, ‘ঘরের নেত্রী’সহ বেশ কিছু নাটক প্রচার হয়েছে।
সারাদিন রোজা রাখার পর সারা বিশ্বের কোটি রোজদার খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন। এটি ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর সময় থেকেই খেজুর দিয়ে ইফতারের প্রচলন রয়েছে। মহানবী (সা.) নিজে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করতেন। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি খেজুরের পুষ্টিগুণও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা ভাঙার পর শরীর তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ শরীরে জ্বালানি হিসেবে এটির প্রয়োজন হয়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকায় অন্যান্য খাবারের তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি করে। খেজুরে শর্করা এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকায় এই ফলটি শরীরকে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খেয়ে থাকেন তাদের জন্য এটি আদর্শ। খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে শরীরকে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করতেও সহায়তা করে এই ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও, এটি মানুষের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। সারা দিন পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে যে ঘাটতি থাকে, তা পূরণ করে। প্রাকৃতিকভাবেই এতে ইলেক্ট্রোলাইট পটাসিয়াম থাকে, যা পানির জন্য চুম্বকের মতো কাজ করে, শরীরের কোষগুলোকে পানিতে পরিপূর্ণ করে তোলে। রোজাদারদের অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন। খেজুর ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের বর্জ্য পদার্থকে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হজমে সহায়তা করে।
উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ের পর স্বামী–স্ত্রী হিসেবে প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন দক্ষিণী তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। বুধবার হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে উদয়পুর বিমানবন্দর–এ ক্যামেরাবন্দী হন নবদম্পতি। এই মুহূর্ত ঘিরে ভক্ত ও পাপারাজ্জিদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উচ্ছ্বাস। বিমানবন্দরে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে ক্যামেরার সামনে আসেন বিজয়–রাশমিকা। এরপর পাপারাজ্জিদের উদ্দেশে হাতজোড় করে শুভেচ্ছা জানান এবং উড়ন্ত চুমু ছুড়ে দেন তাঁরা। রাশমিকার মুখে ছিল স্পষ্ট নববধূর আভা, আর বিজয়ের মুখজুড়ে শান্ত হাসি। সব মিলিয়ে যেন পর্দার ‘শ্রীভল্লী’ ও বাস্তব জীবনের ‘সামি’র নতুন জীবনের সূচনা। স্বামী–স্ত্রী হিসেবে প্রথম প্রকাশ্যে আসার দিনে দুজনেই বেছে নেন পরিমিত ও মার্জিত পোশাক। বিজয় পরেছিলেন স্যাটিন সাদা কুর্তা–পাজামা, সঙ্গে সাদা জুতা ও কালো সানগ্লাস। অন্যদিকে লাল রঙের সোনালি কারুকাজ করা হাই–কলার অনারকলি স্যুটে নজর কাড়েন রাশমিকা। স্বামীর পাশে হাঁটতে হাঁটতে আবারও ভক্তদের মন জয় করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অসংখ্য ভক্ত। একজন লিখেছেন, ‘দুজনকে একসঙ্গে দারুণ লাগছে, কারও নজর না লাগুক।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘এই জুটি সত্যিই অসাধারণ।’ অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে, বিজয়–রাশমিকার সুখ যেন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে বিয়ের ছবি শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। তিনি লেখেন, ‘একদিন ওকে খুব মনে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল, ও পাশে থাকলে দিনটা আরও সুন্দর হতো। বুঝলাম, ও-ই আমার ঘর, আমার শান্তি। তাই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেই বানালাম আমার স্ত্রী।’ পোস্টের শেষে তিনি যোগ করেন—২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যা তাদের নতুন জীবনের শুরুর দিন। উদয়পুরে বিয়ের পর এবার হায়দরাবাদ–এ অনুষ্ঠিত হবে জমকালো রিসেপশন। তার আগেই স্বামী–স্ত্রী হিসেবে বিজয় ও রাশমিকার এই প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ভক্তদের মনে তৈরি করল নতুন উচ্ছ্বাস ও আবেগ। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
আমাদের শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া এবং খাবার হজমে লিভারের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু ভুল জীবনযাপন আর অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। শুরুর দিকে এর কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না বলে একে নিঃশব্দ ঘাতকও বলা হয়। চলুন, জেনে নিই লিভার সুস্থ রাখতে যেসব খাবার উপকারী। ব্ল্যাক কফি চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি লিভারে চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং প্রদাহ কমায়। এটি লিভারের রোগ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। ব্লুবেরি ব্লুবেরিতে থাকা বিশেষ উপাদান লিভারের কোষের ক্ষতি হওয়া আটকায় এবং ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। আমলকি প্রতিদিন অন্তত দুটি আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।এর ভিটামিন-সি লিভারকে সচল রাখে এবং ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। অ্যাভোকাডো এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষ মেরামত করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। হলুদ ও গোলমরিচ হলুদের সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে তা লিভারের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এটি লিভারের ভেতরের প্রদাহ দ্রুত কমায়। সুস্থ থাকার বাড়তি টিপস: ব্যায়াম: নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। ঘুম: পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো জরুরি। চিনি বর্জন: খাবারে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন। সমস্যা গুরুতর মনে হলে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র : এবিপি
হলিউডের বহুল আলোচিত হরর ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি ‘স্ক্রিম ৭’। আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেয়েছে এটি। একই দিনে বাংলাদেশেও স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া ‘স্ক্রিম’ সিরিজের এটি সপ্তম চলচ্চিত্র এবং ২০২৩ সালের ‘স্ক্রিম ৬’-এর সিক্যুয়েল। নতুন কিস্তিটি পরিচালনা করেছেন সিরিজের মূল চিত্রনাট্যকার কেভিন উইলিয়ামসন। প্রথমবারের মতো পুরো চলচ্চিত্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন তিনি। সিনেমাটি সিডনি প্রেসকট চরিত্রে ফিরেছেন নেভ ক্যাম্পবেল। তার সঙ্গে রয়েছেন কোর্টেনি কক্স, ডেভিড আর্কেট, জেসমিন স্যাভয় ব্রাউন এবং ম্যাসন গুডিং। গল্পে দেখা যাবে, ইন্ডিয়ানার শান্ত শহর পাইন গ্রোভে নতুন জীবন শুরু করা সিডনির পরিবার ফের ঘোস্টফেস খুনির টার্গেটে পরিণত হয়। মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে তাকে অতীতের ভয়ংকর স্মৃতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রযোজনা পর্যায়ে একাধিক পরিবর্তনের পর সিনেমাটি নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুটিং শুরু হয়ে মার্চে শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে শক্ত উদ্বোধনের পূর্বাভাস মিলেছে, যা এটিকে সিরিজের সফলতম কিস্তিগুলোর একটি করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হররপ্রেমীদের জন্য ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বড় পর্দায় অপেক্ষা করছে রক্তাক্ত উত্তেজনা ও পুরোনো ভয়ের নতুন অধ্যায়।
অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড দল ওয়ারফেজকে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের হাতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ তুলে দেন। মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্ত আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। পদক গ্রহণের পর ফেরদৌস আক্তার চন্দনা সামাজিক মাধ্যম লিখেছেন, ‘এটা শুধু আইয়ুব বাচ্চুর শিল্পী হিসেবে সম্মাননা নয়, এটা বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ও সঙ্গীতের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।’ তিনি বলেন, ‘যিনি গিটার হাতে তার ভক্তদের মাঝে বেচে নেই। যিনি সারাটা জীবনই দিয়ে গেছেন সংগীতের জন্য। বাংলাদেশের প্রতি বর্গকিলোমিটার জুরে উনি আছেন এবং বেঁচে থাকবেন। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে উনি আছেন এবং থাকবেন। তাকে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য এর সাথে জুড়ি বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।’ অন্যদিকে পদক গ্রহণের পর এলআরবির ফেসবুক পেজে একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি এই রাষ্ট্রীয় সম্মান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি তার আজীবন সঙ্গীতসাধনার প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা। বাংলা রকের পথচলায় তিনি যে সাহস, সততা এবং নতুনত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে আলাদা পরিচয় এনে দিয়েছে। এই সম্মান প্রদানের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। রাষ্ট্র যখন একজন শিল্পীর অবদানকে স্বীকৃতি দেয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সঙ্গীতাঙ্গনকেই সম্মানিত করে। এটি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা। বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আইয়ুব বাচ্চুর অবদান আরও বৃহত্তর স্বীকৃতির দাবিদার। তার সৃষ্টিশীলতা, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব বিবেচনায় স্বাধীনতা পদকের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একদিন তাঁর নামের পাশেও যুক্ত হবে—এই প্রত্যাশা আমাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে। শেষ বলা হয়, ‘আইয়ুব বাচ্চু আজ নেই, কিন্তু তার সুর আছে। তার সাহস আছে। তার স্বপ্ন আছে। আর সেই স্বপ্নই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি দেয়। ধন্যবাদ সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’
গজদাঁতের সেই চেনা হাসি আর রামধনু ওড়নায় ঢাকা সাদা সালোয়ার কামিজ— পর্দা ও বাস্তবের ‘বৌদি’ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় আবারও আলোচনায়। তবে এবার কোনো বিতর্ক নয়, বরং ২৫ বছরের অভিনয় জীবন এবং তাঁর আসন্ন ছবি ‘প্রমোটার বৌদি’ নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় ধরা দিলেন এই টালিউড কুইন। পরিচালক শৌর্য দেবের আগামী ছবি ‘প্রমোটার বৌদি’-তে স্বস্তিকাকে দেখা যাবে এক অন্য মেজাজে। ধুলো উড়িয়ে বাইক নিয়ে এন্ট্রি, অ্যাকশন আর ভোজপুরি গানের তালে নাচ— একসময়ের কমার্শিয়াল হিরোরা যা করতেন, এবার স্বস্তিকা তাই করেছেন। তাঁর মতে, “একই কাজ ২৫ বছর করলে লোকে কেন দেখবে? তাই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। মেয়েরা সাধারণত প্রমোটিং করে না, আমি পর্দায় সেই অসাধ্য সাধন করেছি।” ক্যারিয়ারের শুরুতে যে ‘পুতুল’ সৌন্দর্যের জন্য তিনি জনপ্রিয় ছিলেন, আজ সেই ইমেজ ধরে রাখতে নারাজ তিনি। বয়সের সাথে শারীরিক পরিবর্তন (ওজন বৃদ্ধি) এবং অভিনয়ের পরিপক্কতাকে তিনি সহজভাবেই গ্রহণ করেছেন। স্বস্তিকার স্পষ্ট কথা, “গত ২৫ বছরে পুরুষের ফ্যান্টাসি করার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। আমি আগের মতো থাকলে কি চলত? সময়ের সাথে নিজেকে না বদলালে আমি ২৫ বছর টিকে থাকতে পারতাম না।” সহকর্মীরা রাজনীতিতে নাম লেখালেও স্বস্তিকা সেই পথে হাঁটতে নারাজ। স্পষ্ট জানালেন, “রাজনীতি বুঝি না, তাই ওসব আমার দ্বারা হবে না।” অন্যদিকে, লন্ডনে থাকা মেয়ে অন্বেষার প্রেম নিয়ে চর্চাকেও খুব একটা পাত্তা দেন না তিনি। মা-মেয়ে দুজনেই এ সব খবর নিয়ে ‘খিল্লি’ করতে ভালোবাসেন। অন্বেষা এখন পিএইচডি আর নিজের চাকরি নিয়ে ব্যস্ত। কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ছোটপর্দায়, কিন্তু আপাতত সেখানে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর। তবে ‘টেক্কা’-তে দেবের পর এবার জিতের সঙ্গে ফের কাজ করার সুপ্ত ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
২০২৫ সালের নভেম্বরে মা হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। নবজাতককে সময় দিতে কোনো নতুন ছবির চুক্তিতেও সই করেননি তিনি। অবশেষে মা হওয়ার সাড়ে তিন মাস পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এলেন এই অভিনেত্রী। তবে একা নন, তাঁর সঙ্গে দেখা গেছে দীর্ঘদিনের ফিটনেস প্রশিক্ষককেও। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে গাড়িতে থাকা অবস্থায় লেন্সবন্দি হন ক্যাটরিনা। মুখে মাস্ক থাকলেও ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে হাত নাড়েন তিনি। তার সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন সেলিব্রিটি ফিটনেস ট্রেইনার ইয়াসমিন করাচিওয়ালা। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় তারকাকে একঝলক দেখে উচ্ছ্বসিত ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ লিখেছেন, “এতদিন পর ক্যাটকে দেখে মুগ্ধ”, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “ক্যাটরিনা কবে পর্দায় ফিরবেন? আমরা অপেক্ষায় আছি।” ২০২১ সালে রাজকীয় আয়োজনে ভিকি কৌশলের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ক্যাটরিনা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গর্ভাবস্থার খবর জানানোর পর ৭ নভেম্বর তাঁদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। ছেলের জন্মের পর ক্যাটরিনা ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, “আমাদের জীবনের সেরা অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। আমাদের হৃদয় আনন্দ এবং কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়েছে।” বর্তমানে সন্তানকে সময় দিতেই ক্যাটরিনা কোনো নতুন প্রজেক্ট নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ভিকি-ক্যাটরিনার প্রেমের গল্পে বড় ভূমিকা ছিল নির্মাতা করণ জোহরের। একটি চ্যাট শো-তে ক্যাটরিনা যখন ভিকির সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, সেখান থেকেই তাদের সম্পর্কের সূত্রপাত। পর্দার রসায়ন বাস্তবে রূপ পেলেও মা হওয়ার পর ক্যাটরিনা কবে নাগাদ লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতে ফিরবেন, তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। গত ২৭ জানুয়ারি এক আকস্মিক বার্তায় তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন সিনেমার গানে কণ্ঠ দেবেন না তিনি। ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় অরিজিতের এমন সিদ্ধান্তে তাঁর কোটি কোটি অনুরাগী যেমন মুষড়ে পড়েছেন, তেমনি নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ট্রোল। অবসরের কারণ স্পষ্ট না করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন অরিজিৎ। শুধুমাত্র প্রকৃত শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “এই মেসেজটি শুধুমাত্র আমার শ্রোতাদের জন্য। যদি আপনি শ্রোতা না হন, তাহলে দয়া করে এটি পড়বেন না। কারণ আপনার প্রয়োজন নেই।” এই ‘নিষ্ঠুর এবং নির্দয় পৃথিবীতে’ তাঁকে ভালোবাসার জন্য ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন কোনো অ্যাসাইনমেন্ট না নিলেও অরিজিতের কণ্ঠ এখনই থেমে যাচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অনেক গানের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। শিল্পী বলেন, “আপনারা জানেন যে অনেক গান এখনও রিলিজ বাকি আছে। অনেক অসমাপ্ত গান রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ হলে তবে মুক্তি পাবে। হয়তো সারা বছর ধরে চলবে।” ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, “শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে অগাধ ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আমি আর প্লেব্যাকের নতুন কোনো দায়িত্ব নেব না। আমি এখানেই শেষ করছি। এটি একটি দুর্দান্ত জার্নি ছিল।” অরিজিতের এই প্রস্থান সংগীত জগতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রোল বা সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি এখন তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতেই বেশি আগ্রহী।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, কাস্টিং নিয়ে নানা জল্পনা আর বলিউড বনাম দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির ঠান্ডা লড়াই— সব বিতর্ককে পেছনে ফেলে অবশেষে হায়দরাবাদে শুরু হলো ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়ালের শুটিং। তবে শুটিং শুরুর খবরের চেয়েও সিনেমা প্রেমীদের কাছে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে এক ঐতিহাসিক পুনর্মিলন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর একই সেটে মুখোমুখি হলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই স্তম্ভ— অমিতাভ বচ্চন এবং কমল হাসান। ২০২৫ সাল জুড়েই ‘কল্কি ২’-এর কাস্টিং নিয়ে সরগরম ছিল টিনসেল টাউন। দীপিকা পাড়ুকোনের ওপর ওঠা অপেশাদারিত্বের অভিযোগ থেকে শুরু করে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জন— বারবার নেতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিল এই ছবি। কিন্তু পরিচালক নাগ অশ্বিন যখন হায়দরাবাদে নতুন করে ক্যামেরা চালু করলেন, তখন সব নেতিবাচকতা ধুয়ে মুছে গেল দুই কিংবদন্তির উপস্থিতিতে। শুটিং সেট থেকে অমিতাভ বচ্চন নিজেই তার ব্লগে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায়, অশ্বত্থামার লুকে থাকা অমিতাভকে উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরছেন সুপ্রিম ইয়াসকিন থুড়ি কমল হাসান। আবেগঘন অমিতাভ লিখেছেন, “দ্য গ্রেট কমল হাসানের সঙ্গে দেখা। ‘গিরাফতার’-এর পর ফের একসঙ্গে কাজ করব আমরা।” সর্বশেষ ১৯৮৫ সালে ‘গিরাফতার’ ছবিতে এই দুই তারকাকে একসঙ্গে পর্দা ভাগ করতে দেখা গিয়েছিল। চার দশক পর আবারও তাদের রসায়ন দেখার জন্য মুখিয়ে আছে দর্শক। প্রথম কিস্তিতে অমিতাভ এবং কমল হাসান উভয়ই থাকলেও, তাদের একফ্রেমে দেখা যায়নি। নাগ অশ্বিনের এবারের গল্প কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ৬ হাজার বছর পরের সময়কে কেন্দ্র করে। যেখানে সুপ্রিম ইয়াসকিনের (কমল হাসান) অশুভ পরিকল্পনা থেকে রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়াবেন চিরঞ্জীবী অশ্বত্থামা (অমিতাভ বচ্চন)। সিক্যুয়ালে এই দুই শক্তির সরাসরি সংঘাতই হবে মূল আকর্ষণ। চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, ‘কল্কি ২’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি ভারতীয় সিনেমার উত্তর ও দক্ষিণের সেতুবন্ধনের এক অনন্য নিদর্শন হতে চলেছে।
‘কান্তারা-২’ সিনেমা ও কর্নাটকের স্থানীয় দৈব ঐতিহ্য নিয়ে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউড তারকা রণবীর সিং। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার এফআইআর বাতিল চেয়ে তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। বিষয়টি এখন আদালতের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। খবর এনডিটিভির। গত বছরের ২৮ নভেম্বর গোয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’ (ইফি)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে রণবীর সিংয়ের একটি পরিবেশনা ও বক্তব্য ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বেঙ্গালুরুর আইনজীবী প্রশান্ত মেথাল অভিযোগ করেন, ওই অনুষ্ঠানে রণবীর পঞ্জুরলি ও গুলিগা দৈবের অভিব্যক্তি অনুকরণ করেন এবং পবিত্র ‘চাভুন্ডি দৈব’-কে ‘মেয়ে ভূত’ বলে উল্লেখ করেন। ২ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। উপকূলীয় কর্ণাটকে ‘চাভুন্ডি দৈব’ দেবীশক্তির প্রতীক হিসেবে পূজিত হন। অভিযোগে বলা হয়, তাকে ‘ভূত’ হিসেবে উল্লেখ এবং বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এ ঘটনার পর ২৭ ডিসেম্বর রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বেঙ্গালুরুর হাই গ্রাউন্ডস থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬, ২৯৯ ও ৩০২ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বেঙ্গালুরুর প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল এ মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এফআইআর বাতিলের মাধ্যমে আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেতেই কর্ণাটক হাইকোর্টে আবেদন করেছেন এ অভিনেতা।
চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী। ঢাকাই সিনেমায় অভিষেকের পর থেকেই প্রতি ঈদে তার অভিনীত এক থেকে একাধিক সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কিছুদিন আগেও পরিচালক সূত্রে খবর ছিল, আসন্ন ঈদুল ফিতরে বুবলী অভিনীত তিন সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, দর্শক আগ্রহ তত বাড়ছে। এবার দেখার পালা শেষ পর্যন্ত ঈদে অভিনেত্রীর কয়টি সিনেমা মুক্তি পায়। তিন সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘প্রেশার কুকার’, ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ ও ‘পিনিক’। তবে এরমধ্যে ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং আপাতত স্থগিত রেখেছেন এ অভিনেত্রী। জানা যায়, তিনি মা হতে চলেছেন। তাই সব ধরনের শুটিং থেকে বিরতি নিয়েছেন । শিগগিরই উড়াল দিবেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকে ফিরেই সিনেমার বাকি কাজ করবেন। তা-ও ফিরতে প্রায় ৮ মাসের মতো সময় লাগবে। স্বাভাবিক ভাবেই এ সিনেমাটি ঈদে আসছে না এটাই আপাতত নিশ্চিত। এদিকে বুবলী প্রচারণায় মেতেছেন ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে সিনেমার ফার্স্ট অফিশিয়াল পোস্টার। এটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফী । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টারটি শেয়ার করে নির্মাতা জানিয়েছেন, ‘দেখা হচ্ছে ঈদুল ফিতরে, আপনার কাছের সিনেমা হলে।’ অফিশিয়াল পোস্টারে একসঙ্গে দেখা গেছে চার অভিনেত্রীকে। চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর সঙ্গে নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত। নায়কবিহীন এই সিনেমার পোস্টারের ভিজ্যুয়ালেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নারীকে কেন্দ্র করেই এগোবে এ সিনেমার গল্প। জানা গেছে, ঢাকার নাগরিক জীবনের চাপ, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম—এই বাস্তবতার ভেতর দিয়ে চার নারীর ভিন্ন ভিন্ন যাত্রা তুলে ধরা হবে সিনেমায়। পোস্টার প্রকাশ করে রায়হান রাফী ফেসবুকে লিখেছেন,‘এই ঢাকা শহর আসলে মেয়েদের জন্য একটা প্রেশার কুকার। তাদের চিৎকার সহ্য না করতে পারলে এই প্রেশার কুকারে সিটি বেজে ওঠে। না তারা এই শহর থেকে বের হতে পারে, না এই শহর তাদের থেকে…।’ সঙ্গে জানিয়েছেন, এই সিনেমার মাধ্যমে বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমায় নতুন এক ধারা তৈরি করার আশা করছেন তিনি। এটি নির্মিত হয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে। প্রযোজনা করছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও রায়হান রাফী। এটি শুধু একটি সিনেমার মুক্তিই নয় বরং ইমপ্রেস টেলিফিল্মের জন্যও বিশেষ উপলক্ষ। কারণ, দীর্ঘ ২১ বছর পর ঈদ উৎসবে সিনেমা নিয়ে ফিরছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এ সিনেমা নিয়ে বুবলী নিজেও বেশ আশাবাদী। চরিত্র ও গল্পের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বুবলী বলেন, ‘গল্পটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। চরিত্রটাও খুব ইন্টারেস্টিং। মনে হয়েছে, এখানে নতুন কিছু করার সুযোগ আছে, এই জায়গাটা আমাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে।’ পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এই সিনেমার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে প্রচলিত অর্থে কোনো নায়ক নেই। পুরো গল্প আবর্তিত হবে নারী চরিত্রদের ঘিরে। ঢালিউডে যেখানে এখনো নায়কনির্ভর গল্পই বেশি দেখা যায়, সেখানে এমন নারীকেন্দ্রিক সিনেমা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে গত বছর কোরবানি ঈদেই মুক্তির কথা ছিল বুবলী অভিনীত ‘পিনিক’ সিনেমার। জাহিদ জুয়েল নির্মিত এ সিনেমায় অভিনেত্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন আদর আজাদ। তবে এ সিনেমাটি নানা কারণে আর মুক্তি পায়নি। এটি আসন্ন ঈদে মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগে বিতর্কিত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকা থেকে ডেমরা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে বর্তমানে থানা হাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নোবেলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। মুরাদ হোসেন বলেন, নোবেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তার অভিযোগে মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে একটি ওয়ারেন্ট জারি হয়, সেই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর আটকের খবরে যখন নেটদুনিয়া তোলপাড়, ঠিক তখনই সামনে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাস্টমসের সেই ‘রহস্যজনক’ ছাড়ের নেপথ্যে নাকি প্রভাব খাটিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোপন সূত্রের বরাতে এমনই বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে। গোপন ওই সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশের এক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আড্ডায় অংশ নেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সেখানে কথার প্রসঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরীর এই মদকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে। আড্ডায় তিশা নিজেই নিশ্চিত করেন যে, মেহজাবীনের মদসহ আটকের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্যি। সূত্রমতে, বিমানবন্দরে আটকের পর মেহজাবীনের পক্ষ থেকে তিশা-ফারুকীর কাছে ফোনকল আসে এবং তারাই প্রভাব খাটিয়ে অভিনেত্রীকে কাস্টমসের জাল থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করেন বলে আড্ডায় স্বীকার করেন তিশা। প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন, তাঁর স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমসের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে অ্যালকোহল বহনের দায়ে মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও, অদৃশ্য ইশারায় মুচলেকা ছাড়াই তাদের সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় জব্দ পণ্যের রসিদ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রটোকল দিতে আসা এভিয়েশন সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তাও মুচলেকা দিয়ে জানান, মদের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। মদকাণ্ড ও কাস্টমসের ছাড়ের বিষয়টি শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে আসার পর আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে মুখ খোলেন মেহজাবীন। সেখানে মদের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার বা স্পষ্ট না করলেও তিনি দাবি করেন, ক্যারিয়ারের এই সময়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।