‘আমলনামা’ চলচ্চিত্রে তমা মির্জার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন নির্মাতা রায়হান রাফী। বিশেষ করে চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যে তমার হৃদয়স্পর্শী অভিনয় সেটে উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। দর্শকদের মধ্যেও সেই আবেগের প্রতিফলন দেখে নির্মাণযাত্রাটিকে আরও অর্থবহ মনে হয়েছে পরিচালকের। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তমা মির্জার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে ‘আমলনামা’ নির্মাণের অভিজ্ঞতা ও চলচ্চিত্রটি ঘিরে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন রায়হান রাফী। পোস্টে তিনি জানান, চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় তমার অভিনয় পুরো টিমকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। পরে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় একই আবেগ অনুভব করতে পেরে তিনি আনন্দিত হন। রাফীর ভাষ্যে, ‘আমলনামা’ তার কাছে বিশেষ একটি জায়গা দখল করে আছে। ভালোবাসা, আস্থা এবং একটি অসাধারণ দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মিত এই চলচ্চিত্র তার জন্য ছিল ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি যাত্রা। চলচ্চিত্রটি ঘিরে পাওয়া স্বীকৃতির কথাও তুলে ধরেন পরিচালক। ‘দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এ তমা মির্জা সেরা অভিনেত্রী এবং রায়হান রাফী সেরা পরিচালক (চলচ্চিত্র) বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন। এ অর্জনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি গর্বের কথা জানান তিনি। রায়হান রাফীর পরিচালনায় ‘আমলনামা’ চরকিতে মুক্তি পাওয়া একটি অরিজিনাল চলচ্চিত্র। ওয়েব সিরিজ নয়, একক চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মিত এই কাজের গল্পে সত্য ঘটনা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ছায়া রয়েছে। চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যে তমার অভিনয়, দর্শকদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া এবং পুরস্কারপ্রাপ্তি—সব মিলিয়ে ‘আমলনামা’ নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীর জন্য স্মরণীয় একটি কাজ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন রায়হান রাফী।
মা হওয়ার পর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও এবার নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। তার বার্তা—অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য দিয়ে নিজের আত্মসম্মান বিচার করা উচিত নয়। লন্ডনে নিজের প্রসাধনী ব্র্যান্ডের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্যাটরিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা ও সমালোচনা নিয়ে কথা বলেন। কাউকে সরাসরি লক্ষ্য না করেই তিনি জানান, অন্যকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা হারানো ঠিক নয়। ক্যাটরিনার ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে কী বলছে, তা দিয়ে নিজের আত্মসম্মান নির্ধারণ করা ভুল। সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করলে একসময় নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে যেতে পারে। নেতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিণতি তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, এসব মন্তব্যকে নিজের জীবন পরিচালনা করতে দিলে ভয়ের কারণে মানুষ এক জায়গায় থমকে যেতে পারে। জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহসও হারিয়ে ফেলতে পারে। নিজের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ক্যাটরিনা আরও বলেন, বিশ্ব যখন আপনাকে সমর্থন করবে না, তখন নিজেকেই নিজের সবচেয়ে বড় সমর্থক হতে হবে। জীবনের প্রতিটি পর্যায় এক রকম নয়—কখনো সবকিছু মনের মতো থাকবে, আবার কখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছুই হবে না। তার মতে, কখনো নিজের সেরা রূপে থাকা সম্ভব হয়, আবার কখনো সেই অবস্থানে পৌঁছানোর যাত্রা চলতে থাকে। তাই জীবনের পরিবর্তনগুলো সহজভাবে গ্রহণ করা এবং নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করাই গুরুত্বপূর্ণ। মা হওয়ার পর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সমালোচনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে ক্যাটরিনার এই বক্তব্য। তার কথায় উঠে এসেছে আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং অন্যের নেতিবাচক মন্তব্যের বাইরে নিজের জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। নতুন এই দায়িত্বের সঙ্গে তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অবিলম্বে এ নিয়োগ কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উপদেষ্টা হিসেবে ভূমিকা রাখবেন মিঠুন। তবে তার দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানা যেতে পারে। এর আগে কলকাতার নিউ টাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মিঠুনকে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় তিনি। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে দলটির বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর এবার রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেলেন এই অভিনেতা। তার নতুন ভূমিকা ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের বয়স যেন থমকে আছে। বয়স ৪৩ পেরিয়ে গেলেও চেহারায় তার নেই কোনো বয়সের ছাপ। যেন সময়ের সঙ্গে আরও তরুণী হয়ে উঠছেন তিনি। রুপালি পর্দার চাকচিক্য পেরিয়ে এবার নীলে ডুব সাঁতার দিলেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন জয়া আহসান। এর পরই ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। সব মিলিয়ে অভিনেত্রীর নতুন ছবিগুলো আবারও প্রমাণ করল— তার জন্য বয়স শুধু একটি সংখ্যামাত্র। যার সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে রূপের জাদু। অভিনেত্রীর পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, নীলের আবেশে তোলা চোখের চাহনি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে। ছবি প্রকাশের পর থেকেই তার সৌন্দর্য ও বয়স নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। অভিনেত্রীর আভিজাত্যের বাইরে রয়েছে নিজের মতো এক স্বতন্ত্র জগৎ। সেখানে তিনি বেশ সাধারণ ও প্রকৃতিপ্রেমী। নিজের মতো করে সময় কাটাতেই পছন্দ করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা খোলামেলা না হলেও নিয়মিতই নিজের নানা মুহূর্ত ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নেন জয়া। ছবিগুলো পোস্ট করে ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন— ‘নীল রঙ আমাতেই সাজে, আর আমার মুড পুরোপুরি আমার নিজের।’ জয়া আহসানের ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে তার রূপের প্রশংসায় মেতেছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। এক নেটিজেন লিখেছেন— ‘সময় যতই গড়িয়েছে, জয়া আহসানের বয়স যেন ততই কমছে।’ আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘আমি ছোটবেলায় যেমন দেখেছি, এখনো ঠিক সে রকমই দেখি।’ অন্য আরেকজনের মন্তব্য— ‘আপনি দিন দিন আরও সুন্দর হয়ে যাচ্ছেন।’ আরেক নেটিজেনের ভাষ্য— ‘নীল রঙ দেখলে মনটা জানি কেমন হয়ে যায়। সুন্দর, অনেক সুন্দর।’
বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাওয়ার জন্য ৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা সরাসরি নাকচ করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি এ ধরনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) কোহলির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, কোনো আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নয়, বরং প্রেমানন্দ মহারাজের প্রতি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থেকেই কোহলি তার আশ্রমে যান। সম্প্রতি শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি দীনেশ শর্মা, যিনি ফলাহারী মহারাজ নামে পরিচিত, দাবি করেন—বৃন্দাবনের ওই আশ্রমে বিরাট কোহলিকে নিয়ে যেতে ৫ কোটি রুপি ব্যয় করা হয়েছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজস্থানভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই সফরের আয়োজন ও অর্থায়ন করেছিলেন। তবে ওই দাবির পক্ষে কোনো চুক্তিপত্র, আর্থিক লেনদেনের নথি কিংবা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোহলির প্রতিনিধি দল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি পরিষ্কার করে। মুখপাত্রের বক্তব্য, ফলাহারী মহারাজ দীনেশ শর্মার করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট এবং তথ্যগতভাবে ভুল। কোহলি কেবল প্রেমানন্দ মহারাজের প্রতি বিশ্বাস ও ভক্তি থেকেই আশ্রমে যান। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিরাট কোহলি ও তার স্ত্রী, বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা, এর আগে একাধিকবার বৃন্দাবনের প্রেমানন্দ মহারাজের ‘রাধা কেলি কুঞ্জ’ আশ্রমে গেছেন। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি প্রথমবার তারা সেখানে যান। এরপর বিভিন্ন সময়ে আশ্রমে গিয়ে মহারাজের আশীর্বাদ নিয়েছেন এই তারকা দম্পতি। এদিকে সম্প্রতি আশ্রম ভবনের চারতলা থেকে পড়ে রসিক দুলারি নামে এক ভক্তের মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে মথুরা পুলিশ। গত ২৫ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর আশ্রমটি নিয়ে আলোচনা ও নজরদারি বাড়ার মধ্যেই কোহলিকে ঘিরে ৫ কোটি রুপির অর্থ লেনদেনের দাবি সামনে আসে।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের প্রায় ৪৫ মিনিটের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর নানা পাটেকারকে টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তার হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময় নানা পাটেকারের ছেলে মালহার পাটেকার পুনেতে অবস্থান করছিলেন। বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। নানা পাটেকারের মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকারের প্রকৃত নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়, দৃঢ় সংলাপ উপস্থাপন এবং ব্যতিক্রমী চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার কারণে ভারতীয় সিনেমায় তিনি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। পরবর্তী সময়ে নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়েন তিনি। ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) এবং ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬) সিনেমায় তার অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। চরিত্রটির জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ সিনেমাতেও একই ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় এই অভিনেতাকে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা পাটেকার বলিউডে শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র অভিনয়ের জন্য দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
বলিউড তারকা শাহরুখ খানের কাছ থেকে ক্যারিয়ারের শুরুর আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছিলেন অভিষেক বচ্চন। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই কথাটিকে নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে মেনে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই পুরোনো স্মৃতি ও শাহরুখের দেওয়া পরামর্শের কথা জানিয়েছেন অভিষেক। অভিষেক জানান, অভিনয়ে আসার আগে প্রতি রবিবার যশরাজ ফিল্মসের কর্ণধার আদিত্য চোপড়ার বাড়িতে ক্রিকেট খেলার আড্ডা বসত। সেখানে উদয় চোপড়া, হৃতিক রোশান ও সিকান্দার খেরসহ আরও কয়েকজন থাকতেন। সেই আড্ডায় নিয়মিত যোগ দিতেন শাহরুখ খানও। তরুণদের সেই আড্ডায় শাহরুখকে অনেকটা বড় ভাইয়ের মতোই মনে করতেন অভিষেক। অভিনয়ের পাশাপাশি জীবনের নানা বিষয়েও তিনি অভিষেককে পরামর্শ দিতেন। বহু বছর পর সেই পরামর্শের গুরুত্ব এখনও অনুভব করেন বচ্চনপুত্র। অভিষেক বলেন, একদিন কৌতূহল থেকে তিনি শাহরুখকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—নিজের অভিনীত কোন সিনেমাটি তার সবচেয়ে বেশি পছন্দের? জবাবে শাহরুখ তাকে বোঝান, একজন অভিনেতার কাছে তার বর্তমান কাজটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, যে কাজটি এখন করছেন সেটিকেই সবচেয়ে ভালো কাজ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। অতীতের কাজ নিয়ে পড়ে না থেকে বর্তমান কাজের প্রতি পুরো মনোযোগ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেকের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরুখের সেই কথাটি তার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। এরপর থেকে প্রতিটি নতুন কাজকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখার চেষ্টা করেন তিনি। এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় আবারও একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে শাহরুখ খান ও অভিষেক বচ্চনকে। সিনেমাটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে শাহরুখের মেয়ে সুহানা খানের। পাশাপাশি বিশেষ একটি নাচের দৃশ্যে কারিনা কাপুর খানকে দেখা যেতে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে। সিনেমাটি আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন বিশ্বফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি। মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আবেগ ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারি থেকে শুরু করে বিশ্বের কোটি ফুটবলপ্রেমীর মধ্যে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর মেসিকে মাঠে দেখা যাবে না—এই বাস্তবতা অনেক ভক্তের কাছেই হয়ে উঠেছে আবেগঘন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। প্রিয় তারকার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে বাংলাদেশেও দেখা গেছে সেই আবেগের প্রতিফলন। মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি জানিয়েছেন দেশের বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও। ঢালিউড অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা মেসির বিদায় নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জীবনের সব দুঃখ এক পাশে, আর অন্য পাশে মেসিকে হয়তো শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দেখতে পাওয়ার বেদনা!’ অন্যদিকে ছোটপর্দার অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদও মেসির শেষ ম্যাচ নিয়ে আবেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের সোনালি যুগের জাদুকর, তোমার যাত্রা শেষ হলেও আমাদের স্মৃতিতে তুমি থাকবে আজীবন! শেষবারের মতো আরও একবার লিওনেল মেসি।’ জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে কোপা আমেরিকার সাফল্য—আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে তার পথচলা হয়ে উঠেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও সেই পরিচিত জাদুর ছাপ রেখেছেন তিনি। একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন। ফলে জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচটিও স্মরণীয় হয়ে থাকল ভক্তদের কাছে। মাঠে বিদায়ের মুহূর্ত, গ্যালারিতে আবেগ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের স্মৃতিচারণ—সব মিলিয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলের শেষ অধ্যায়টি যেন পরিণত হলো আবেগঘন এক বিদায়গাথায়।
বলিউড তারকা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানির সংসারে আবারও আসতে চলেছে নতুন অতিথি। প্রথম সন্তান সারায়াহর জন্মের পর এবার দ্বিতীয়বার মা হওয়ার সুখবর ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন কিয়ারা। ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ ছবি প্রকাশ করে সুখবরটি জানান অভিনেত্রী। ছবিতে সিদ্ধার্থ, কিয়ারা ও তাদের মেয়ে সারায়াহর হাতে ছোট্ট শিশুর বোনা একজোড়া জুতা দেখা যায়। প্রথমবার সন্তান আসার খবর জানানোর সময়ের মতো এবারও আবেগঘন ছবি দিয়েই নতুন অতিথির আগমনের বার্তা দিয়েছেন এই তারকা দম্পতি। ছবির ক্যাপশনে কিয়ারা লিখেছেন, এমন মূল্যবান আশীর্বাদে তার হৃদয় কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমেরে জমকালো আয়োজনে বিয়ে করেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। এরপর গত বছরের নভেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান সারায়াহর জন্ম হয়। মা হওয়ার পরও অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেননি কিয়ারা। চলতি বছর দক্ষিণী তারকা যশের সঙ্গে ‘টক্সিক’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন কিয়ারা। তিনি জানান, মা হওয়ার পর তার জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীনচেতা ও মানসিকভাবে শক্ত করেছে বলেও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। কিয়ারার কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসাও করেছেন ‘টক্সিক’-এর সহশিল্পী হুমা কুরেশি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমার একটি ভারী বৃষ্টির দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় কিয়ারা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। শারীরিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দৃশ্যটির শুটিং সম্পন্ন করেন। সিদ্ধার্থ ও কিয়ারার প্রেমের শুরু ২০২১ সালের আলোচিত সিনেমা ‘শেরশাহ’-এর সেটে। সিনেমাটিতে সিদ্ধার্থ অভিনয় করেন ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার চরিত্রে এবং কিয়ারা ছিলেন ডিম্পল চিমার ভূমিকায়। পর্দার সম্পর্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখার পর ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে তারা পরোক্ষভাবে বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ২০২৩ সালে বিয়ের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক পূর্ণতা পায়।
বিতর্ক আর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড যেন বলিউড র্যাপার হানি সিংয়ের জীবনের নিত্যসঙ্গী। প্রায়শই নানা মন্তব্য ও কাণ্ড ঘটিয়ে শিরোনামে উঠে আসা এই তারকা এবার বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন। চলতি বছরের গোড়ার দিকে একটি কনসার্টে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সাইবার সেলে মামলা দায়ের করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার সমন পাঠানো হলেও তা এড়িয়ে গিয়েছেন এই গায়ক। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কনসার্টে বিতর্কিত মন্তব্যের পর আইনি জটিলতায় পড়া হানি সিংকে গত ৫ অক্টোবর মহারাষ্ট্র সাইবার সেলে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি পুলিশি জেরা এড়াতে প্রতিনিধি মারফত বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। দিল্লির একটি কনসার্টে পারফর্ম করতে গিয়ে তীব্র শীতের মধ্যে গাড়িতে সঙ্গম করার পরামর্শ দেন হানি সিং। সেই সাথে অসংযত ভাষায় কনডম ব্যবহারের উপদেশ দেন শ্রোতা-দর্শকদের। মুহূর্তেই তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। চরম কটাক্ষের মুখে পড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ক্ষমা চান হানি। ক্ষমা চাইতে গিয়ে তিনি জানান, অনিরাপদ যৌনতার কারণে তরুণ প্রজন্ম যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, সে সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতেই তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জেন-জি বা বর্তমান প্রজন্মের কাছে কথাটি সহজ ও বোধগম্য উপায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন রূপক ও অনানুষ্ঠানিক ভাষা বেছে নিয়েছিলাম।’ তবে চিকিৎসকদের দোহাই দিয়ে এমন মন্তব্য করায় বিতর্ক না কমে আরও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। ভাষার শালীনতা বজায় না রাখা ও অশালীন মন্তব্য ছড়ানোর দায়ে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। এই মাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার এক বছর পর জীবনে অনেক বেশি শান্তি খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিনেত্রী স্বীকার করেছেন, অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু সুবিধাও রয়েছে। বর্তমানে নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘#লাভ’-এর প্রচারে ব্যস্ত ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। সিরিজটির প্রচারে প্রযোজক সৌন্দর্যা রজনীকান্ত ও সহশিল্পী অর্জুন দাসের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে ইউটিউবের ‘দ্য পূজা তালওয়ার শো’-তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার সিদ্ধান্ত ও তার প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘সবকিছু ধীরে ধীরে ঠিক জায়গায় আসছে। এই মুহূর্তে আমার জীবন যেমন আছে, তাতে আমি খুশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকার সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শান্তিতে আছি।’ অভিনেত্রী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার পেছনে যেসব কারণ কাজ করেছিল, সেগুলো এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে সেসব বিষয় প্রতিনিয়ত দেখার এবং সেগুলোর কারণে প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ এখন তার নেই। ঐশ্বরিয়ার ভাষায়, ‘যে বিষয়গুলো আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল, সেগুলো এখনো কিছুটা আছে। কিন্তু অন্তত আমি সব সময় সেগুলো দেখছি না বা এসব বিষয়ে প্রভাবিত হচ্ছি না। সামগ্রিকভাবে জীবনের এখন অনেক ভালো একটা জায়গায় আছি।’ তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এটি নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘অনেক কনটেন্ট নির্মাতার জন্য এখন ক্ষমতাটা তাদের হাতে। সম্প্রতি একটি বিষয় পড়েছিলাম—এখন আর বলা যায় না যে ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে সুযোগ দেয়নি। নিজের প্রতিভা দেখানোর কিংবা নিজেকে এমনভাবে তৈরি করার সুযোগ এখন আছে, যাতে মানুষ আপনাকে দেখতে পারে।’ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার সময় ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মনে করতেন অভিনয় ক্যারিয়ারে টিকে থাকার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপরিহার্য। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্যও এটিকে প্রয়োজনীয় মনে করেছিলেন তিনি। চলতি বছর ‘গাট্টা কুস্তি ২’ ও ‘আশা’ সিনেমায় দেখা গেছে ঐশ্বরিয়াকে। তার নতুন সিরিজ ‘#লাভ’ বর্তমানে নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া একটি তেলুগু সিনেমায় অভিনয় করবেন তিনি। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
অজয় দেবগণের ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। রহস্য, সাসপেন্স আর বুদ্ধির লড়াইয়ে ভরপুর এই সিরিজের নতুন কিস্তি ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’ ঘিরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে প্রথম সপ্তাহান্তে এর আয় ২৭২ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিষেক পাঠক পরিচালিত এই সিনেমায় আবারও বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে ফিরেছেন অজয় দেবগণ। তার সঙ্গে রয়েছেন টাবু, জয়দীপ আহলাওয়াত, অক্ষয় খান্না, প্রকাশ রাজ ও রজত কাপুরের মতো তারকারা। আগের দুই কিস্তির রহস্যময় আবহ ধরে রেখেই নতুন গল্পে হাজির হয়েছে ছবিটি। তবে এবার গল্পের মোড় ও পরিণতি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল আরও বেশি। অজয়ের অভিনয় ও ক্লাইম্যাক্সে মুগ্ধ দর্শক ছবিটি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে অজয় দেবগণের সংযত অথচ প্রভাবশালী অভিনয়ের কথা। বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে তার অভিব্যক্তি, চোখের ভাষা ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে জয়দীপ আহলাওয়াতের সঙ্গে তার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এবং ছবির শেষ অংশ নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু দর্শকের কাছে শুরুর দিকের গল্পের গতি কিছুটা ধীর মনে হলেও, রহস্যের জট খোলা এবং শেষ মুহূর্তের চমক ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বক্স অফিসে বড় অঙ্কের আয়ের দাবি হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, সোমবার দিন শেষে ভারতে ছবিটির মোট ‘নেট’ আয় দাঁড়িয়েছে ১৯৭.৫০ কোটি রুপিতে এবং ‘গ্রস’ আয় পৌঁছেছে ২৩৭ কোটিতে। আন্তর্জাতিক বাজারসহ বিশ্বব্যাপী মোট ‘গ্রস’ আয় ৩০৩ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এই আয় দিয়ে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের সিনেমার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ‘দৃশ্যম ৩’। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’ (ওপেনিং উইকেন্ডে ২৮৩.০৪ কোটি)। অন্যদিকে ‘ওয়ার’ (১৬৬ কোটি রুপি), ‘বর্ডার ২’ (১২৯.৮৯ কোটি রুপি) ও ‘টক্সিক’ (পাঁচ দিনের উইকেন্ডে ১২৪.৫০ কোটি রুপি) -এর হিন্দি সংস্করণের মতো সিনেমাকেও পেছনে ফেলার দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ (উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ৯৭.৬৯ কোটি), ‘আওয়ারাপান ২’ (প্রথম সপ্তাহান্তে ৮৪.৩১ কোটি), ‘ধামাল ৪’ (৬৭.২১ কোটি), ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ (৬৫.৮৩ কোটি), ‘ভূত বাংলা’ (৬৫.৬৫ কোটি) ও ‘ককটেল ২’ ( ৫০.১০ কোটি)-এর মতো ছবির উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয়ের হিসাবও আলোচনায় এসেছে। রহস্য আর চিত্রনাট্যই কি সাফল্যের চাবিকাঠি? ‘দৃশ্যম’ সিরিজের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর গল্প বলার ধরন। সাধারণ একটি পরিবারকে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতি, পুলিশের তদন্ত এবং প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন রহস্য—সব মিলিয়ে দর্শকদের শেষ পর্যন্ত গল্পের সঙ্গে আটকে রাখে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। নতুন কিস্তিতেও সেই রহস্যময় আবহ, চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং চমকে ভরা পরিণতি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের জন্য সাম্প্রতিক সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগে জনপ্রিয় কুইজ শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র (কেবিসি) সেটে পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। সেই চোট সামলে ওঠার মধ্যেই এবার ঘুমের সমস্যার কথা জানিয়েছেন এই মেগাস্টার। সম্প্রতি নিজের ব্লগে শারীরিক অবস্থা ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে লেখার সময় অমিতাভ জানান, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় তিনি সমস্যায় পড়ছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্বও নতুন করে উপলব্ধি করছেন তিনি। অমিতাভের মতে, শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে রাতের ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে প্রয়োজনীয় সময় ঘুমের জন্য বের করতে পারছেন না তিনি। ব্লগে অভিনেতা জানান, এবার থেকে দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে চান। কারণ কাজের প্রয়োজনে তাকে ভোরেই ঘুম থেকে উঠতে হয়। তাই সুস্থ থাকতে হলে দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। অমিতাভ আরও জানান, কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি বিভিন্ন চিন্তাভাবনাও সবসময় তার মাথায় ঘুরতে থাকে। জীবনে অর্জন করা ভালো বিষয়গুলোই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। তবে দীর্ঘদিন কর্মজীবন চালিয়ে যেতে হলে শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া জরুরি—এই বিষয়টি এখন আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করছেন ৮০-এর বেশি বয়সী এই অভিনেতা। কেবিসির সেটে দুর্ঘটনার পর এবার ঘুমের সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই অমিতাভের স্বাস্থ্য নিয়ে তার ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে নিজের লেখায় তিনি দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলে শরীরকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেওয়ার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন।
দীর্ঘ ১০ বছরের পথচলার পর দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং অভিনেত্রী ও গায়িকা শেহতাজ মনিরা। পারস্পরিক সম্মতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান শেহতাজ। রাত ১০টা ৪২ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জানান, প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর দুজনের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই তারা বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটানোর পথে এগোচ্ছেন। শেহতাজ তার পোস্টে বলেন, একসঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময় ও নানা স্মৃতির জন্য তারা দুজনই কৃতজ্ঞ। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেও একে অপরের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও যত্নের জায়গাটি এখনও অটুট রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পেরেছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়াই তাদের জন্য ভালো হবে। দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা ও নিজেদের মধ্যে আলোচনার পরই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান শেহতাজ। তিনি আরও জানান, দুই পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়ে তারা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন। নতুন এই অধ্যায়ে প্রবেশের সময়ে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি ব্যক্তিগত বিষয়টির প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি তাদের গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন শেহতাজ। একই সঙ্গে সবার সহমর্মিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেমের পরিচয় ও সম্পর্কের শুরু বিয়ের কয়েক বছর আগেই। প্রায় পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শ্রীমঙ্গলের মনোরম পরিবেশে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। দাম্পত্য জীবনের কয়েক বছর পর এবার পারস্পরিক সিদ্ধান্তে আলাদা হওয়ার পথে হাঁটছেন দেশের বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত এই দুই তারকা।
দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্ক ও দাম্পত্য জীবনের পর আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগীতশিল্পী প্রীতম ও শাহতাজ। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পরিবারের সম্মতিতে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। রোববার (৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রীতম ও শাহতাজ। বিবৃতিতে তারা জানান, দীর্ঘ ১০ বছরের পথচলার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। একসঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পেরেছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার পার্থক্য রয়েছে। তাই দুজনের জন্য আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়াই ভালো হবে বলে তারা মনে করছেন। প্রীতম ও শাহতাজ জানান, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন তারা। পাশাপাশি পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়েই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বর্তমানে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জীবনের নতুন অধ্যায়ে তারা আলাদাভাবে এগিয়ে যেতে চান। এ সময় তাদের ব্যক্তিগত বিষয়, গোপনীয়তা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। যৌথ বিবৃতিতে তারা একে অপরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা বজায় থাকবে বলেও জানান। পাশাপাশি এতদিন যারা তাদের পাশে ছিলেন এবং ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন প্রীতম ও শাহতাজ। তবে বিয়ের আগে থেকেই তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি ও স্মৃতি শেয়ার করতে দেখা গেছে তাদের।
অভিনেত্রী সাবিলা নূরের ফ্যাশনে ব্যক্তিত্ব ও রুচি প্রকাশের বিষয়টি বরাবরই বেশ স্পষ্ট। সাধারণত সাদামাটা ও পরিমিত সাজেই তাকে দেখা গেলেও তার স্টাইলিংয়ে থাকে নান্দনিকতা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া। সাবিলা নূরের এবারের সাজেও ছিল ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সুন্দর সমন্বয়। তার পরনে ছিল গাঢ় সবুজ রঙের সিল্ক শাড়ি। শাড়িজুড়ে ছোট ছোট সোনালি বুটি এবং চওড়া সোনালি জরি পাড় পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে উৎসবের আবহ। গাঢ় সবুজের সঙ্গে সোনালির মেলবন্ধনে সাজটি হয়ে উঠেছে জমকালো, তবে একেবারেই বাড়াবাড়ি রকমের নয়। শাড়ির সঙ্গে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে সাবিলা পরেছিলেন রয়্যাল ব্লু ব্লাউজ। কনুই পর্যন্ত হাতার এই ব্লাউজের গলা ও হাতার কিনারে ছিল ভারী সোনালি কারুকাজ। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিল রেখে করা এই নকশা পুরো পোশাককে করেছে আরও আকর্ষণীয়। ব্লাউজের পেছনে মাঝ বরাবর স্লিট ডিজাইন, সূক্ষ্ম গোল্ড এমব্রয়ডারি এবং স্ক্যালপড বর্ডার এতে যোগ করেছে আধুনিক ডিজাইনার লুক। পোশাকের সঙ্গে গয়নাতেও ছিল বেশ আয়োজন। গলায় পান্না সবুজ পাথর ও ছোট মুক্তা বসানো ভারী চোকার নেকলেস পরেছিলেন সাবিলা। কানে ছিল বড় স্টোনের টপ ও ঝুলন্ত দুল। দুই হাতে একাধিক চওড়া নকশাদার সোনালি চুড়ি ও বালা তার সাজে এনেছে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয়তার আবহ। তবে পোশাক ও গয়না ভারী হলেও মেকআপে ছিল বেশ কোমলতা। গ্লোয়িং বেসের সঙ্গে চোখে ডিফাইনড লাইনার, গালে হালকা ব্লাশ এবং ঠোঁটে ন্যুড-পিঙ্ক রঙ ব্যবহার করা হয়েছিল। কপালের ছোট টিপ সাজে যোগ করেছে বাঙালি ঐতিহ্যের পরিচিত ছোঁয়া। চুল রাখা হয়েছিল পরিপাটি করে নিচু খোঁপায়। সামনের দিকে আলতো করে ছেড়ে দেওয়া দুই গুচ্ছ হালকা কোঁকড়ানো চুল মুখের সৌন্দর্যকে আরও কোমল করে তুলেছে। তবে খোঁপার সাজেই ছিল আলাদা চমক। প্রচলিত সাদা ফুলের বদলে সেখানে ব্যবহার করা হয়েছিল গাঢ় নীল ও বেগুনি আভাযুক্ত ছোট ফুল। ব্লাউজের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা এই ফুলের ব্যবহার পুরো লুকে দিয়েছে আধুনিক উৎসবের আমেজ। সাজের সঙ্গে সাবিলার হাতে ছিল ছোট মিন্ট বা প্যাস্টেল গ্রিন রঙের হ্যান্ডব্যাগ। চেইন স্ট্র্যাপের ব্যাগটির সামনে থাকা সোনালি ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা লোগো এতে যোগ করেছে বিলাসবহুল ছোঁয়া। গাঢ় সবুজ শাড়ির সঙ্গে ব্যাগের হালকা রঙের বৈপরীত্য পুরো সাজে তৈরি করেছে সুন্দর ভারসাম্য। সব মিলিয়ে সাবিলা নূরের এই সাজে একসঙ্গে ধরা দিয়েছে রঙের গভীরতা, ঐতিহ্যবাহী গয়না, নরম মেকআপ এবং সমকালীন স্টাইলিং। গাঢ় সবুজ, রয়্যাল ব্লু ও সোনালির আকর্ষণীয় সমন্বয় আরও একবার তুলে ধরেছে অভিনেত্রীর পরিমিত অথচ নজরকাড়া ফ্যাশনবোধ।
রান্নাঘরের দৈনন্দিন খরচের একটি বড় অংশ যায় সিলিন্ডার গ্যাসের পেছনে। গ্যাসের দাম বাড়া বা বাজারে অস্থিরতার সময়ে বাড়তি খরচ সামলাতে অনেক পরিবারকেই হিমশিম খেতে হয়। তবে রান্নার পদ্ধতি ও চুলা ব্যবহারের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে গ্যাসের ব্যবহার অনেকটাই কমানো সম্ভব। সঠিকভাবে চুলা ও বার্নার ব্যবহার, রান্নার আগে উপকরণ প্রস্তুত করা, ঢাকনা ব্যবহার এবং কম আঁচে রান্নার মতো সহজ কিছু কৌশল গ্যাস সাশ্রয়ে কার্যকর হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘরের রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমানোর কিছু উপায়— রান্নার আগে সব প্রস্তুতি রান্না শুরুর আগেই সবজি, মাংস ও অন্যান্য উপকরণ ধুয়ে, কেটে ও মসলা প্রস্তুত করে রাখুন। অনেকেই পাত্র গরম করার সময় রান্নার উপকরণ প্রস্তুত করতে থাকেন। এতে অপ্রয়োজনে চুলা বেশি সময় জ্বালিয়ে রাখতে হয়। তাই চুলা জ্বালানোর আগেই সব উপকরণ হাতের কাছে প্রস্তুত রাখুন। সম্ভব হলে শক্ত খাবারগুলো ছোট টুকরো করে নিলে দ্রুত রান্না হয় এবং গ্যাসও কম লাগে। বার্নার ও রান্নার পাত্র পরিষ্কার রাখুন চুলার বার্নার অপরিষ্কার থাকলে গ্যাসের দহন সঠিকভাবে হয় না। সাধারণত স্বাভাবিকভাবে জ্বললে শিখা নীল থাকে। হলুদ বা কমলা শিখা দেখা গেলে বার্নার অপরিষ্কার থাকার মতো সমস্যা থাকতে পারে। এ ছাড়া রান্নার পাত্রের নিচে পানি লেগে থাকলেও তা শুকাতে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োজন হয়। তাই চুলায় বসানোর আগে পাত্রের তলা ভালোভাবে শুকিয়ে নিন এবং বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। সঠিক আকারের পাত্র ব্যবহার করুন চুলার বার্নারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আকারের পাত্র ব্যবহার করা জরুরি। পাত্রের চারপাশ দিয়ে আগুন বেরিয়ে গেলে তাপের একটি অংশ সরাসরি বাতাসে চলে যায়। এতে গ্যাসের অপচয় হয়। সমতল তলার পাত্র সাধারণত তাপ সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। পাত্রের তলা যদি বার্নারের তুলনায় খুব ছোট বা বড় হয়, তাহলে তাপের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। রান্নার সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন খোলা পাত্রে রান্না করলে তাপ দ্রুত বাইরে চলে যায়। ফলে খাবার রান্না করতে বেশি সময় লাগে এবং গ্যাসও বেশি খরচ হয়। পাত্রে ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ ও আর্দ্রতা ভেতরে আটকে থাকে। এতে খাবার তুলনামূলক দ্রুত রান্না হয় এবং গ্যাসের ব্যবহার কমে। কম বা মাঝারি আঁচে রান্না করুন রান্না দ্রুত করার জন্য অনেকে চুলার আঁচ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সব খাবারের ক্ষেত্রে বেশি আঁচ প্রয়োজন হয় না। অতিরিক্ত তাপে খাবার পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের অপচয়ও হয়। পানি ফুটে যাওয়ার পরও চুলা সর্বোচ্চ আঁচে রাখার প্রয়োজন নেই। বরং কম বা মাঝারি আঁচে রান্না চালিয়ে গেলে একই খাবার তুলনামূলক কম গ্যাসে রান্না করা যায়। এ ছাড়া ভাত বা পাস্তার মতো খাবারের ক্ষেত্রে রান্না শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে চুলা বন্ধ করে অবশিষ্ট তাপে রান্না সম্পন্ন করা যেতে পারে। হিমায়িত খাবার আগে গলিয়ে নিন ফ্রিজ থেকে বের করা জমাট খাবার সরাসরি চুলায় দিলে রান্নার আগে খাবারটির তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োজন হয়। এতে রান্নার সময় বাড়ে এবং গ্যাসও বেশি লাগে। তাই রান্নার প্রয়োজনীয় খাবার কিছুক্ষণ আগে ফ্রিজ থেকে বের করে স্বাভাবিকভাবে গলিয়ে নিলে রান্নার সময় কমানো সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ব্যবহার করুন রান্নার ধরন অনুযায়ী পরিমিত পানি ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত পানি দিলে সেটি ফুটিয়ে রান্নার উপযোগী করতে বেশি সময় ও গ্যাস প্রয়োজন হয়। আবার পানি খুব কম হলে খাবার ঠিকমতো সিদ্ধ বা রান্না নাও হতে পারে। তাই খাবারের ধরন অনুযায়ী যতটুকু পানি প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যবহার করা ভালো। প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন ডাল, মাংস বা দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করতে হয় এমন খাবারের ক্ষেত্রে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে সময় ও গ্যাস দুটোই সাশ্রয় করা যায়। প্রেসারের কারণে খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয়। খাবার গরম করার জন্য বাড়িতে মাইক্রোওয়েভের মতো বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চুলা অপ্রয়োজনে জ্বালিয়ে রাখতে হয় না। একসঙ্গে একাধিক খাবার রান্না করুন যেসব খাবার একই ধরনের তাপমাত্রা বা পদ্ধতিতে রান্না করা যায়, সেগুলো একসঙ্গে তৈরি করা যেতে পারে। এতে আলাদা আলাদা সময়ে চুলা জ্বালানোর প্রয়োজন কমে। বিশেষ পাত্র ব্যবহার করে একটি খাবার থেকে উৎপন্ন তাপ দিয়ে অন্য খাবারও সিদ্ধ বা গরম করা সম্ভব। এ ধরনের পদ্ধতি গ্যাস সাশ্রয়ে কার্যকর হতে পারে। তাপ ধরে রাখে এমন পাত্র ব্যবহার করুন ঢালাই লোহা বা তামার মতো উপাদানের পাত্র তাপ ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে। বিশেষ করে ঢালাই লোহার পাত্র দীর্ঘ সময় গরম থাকে। ফলে কম আঁচে রান্না করা এবং চুলা বন্ধ করার পর অবশিষ্ট তাপ কাজে লাগানো সম্ভব হয়। তবে পাত্রের ধরন যাই হোক, সেটি চুলার বার্নারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন গ্যাস সাশ্রয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। গ্যাসের চুলার শিখা অস্বাভাবিক হলুদ বা কমলা হলে, বার্নার ঠিকমতো কাজ না করলে কিংবা গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চুলা বন্ধ করে দক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করানো উচিত।
গত ২৫ জুলাই হলিউড অভিনেত্রী এমা রবার্টস ও কোডি জন বিয়ে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর সান ভ্যালিতে কোডি জনের পরিবারের এস্টেটে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের দুই মাস পর ভক্তদের সঙ্গে বিয়ের ছবি শেয়ার করেছেন এমা রবার্টস। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে একাধিক ছবি পোস্ট করেন এমা। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, ‘হিটচড’। ছবিগুলোতে দেখা যায়, কাপল একে অপরকে কিস করছেন, ওয়েডিং ভাউস বিনিময় করছেন এবং হাত ধরে আইল দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে এমা রবার্টস পরেছিলেন শিফনের তৈরি একটি ওয়েডিং গাউন। এর সঙ্গে ছিল ম্যাচিং হেডব্যান্ড এবং উরু পর্যন্ত লম্বা স্লিট। অন্যদিকে কোডি জন বেছে নিয়েছিলেন ক্লাসিক কালো টাক্সেডো। ২০২২ সালের আগস্টে এমা রবার্টস ও কোডি জনের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা বাগদানের ঘোষণা দেন। এরপর ২৫ জুলাই তাঁরা বিয়ে করেন। ব্লো সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে ডেবিউ করেন এমা রবার্টস। এরপর নিকেলোডিয়নের সিরিজ আনফ্যাবুলাস-এ অভিনয় করে ফেম পান তিনি। পরে অ্যাকোয়ামারিন, ওয়াইল্ড চাইল্ড, স্ক্রিম ৪, উই আর দ্য মিলার্স, পালো আল্টো, নার্ভ, হলিডেট এবং ম্যাডাম ওয়েব-সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে সরাস সিটি সিনেমায়। নেট স্মিথ পরিচালিত এই স্টপ-মোশন ফ্যান্টাসি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এমা রবার্টস।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া তাকে নিয়ে তৈরি করা অনুমতিহীন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সামান্থার করা এক মামলার শুনানিতে বিচারপতি মাধব জামদার এ নির্দেশ দেন। মামলাটি অভিনেত্রীর ব্যক্তিসত্তার অধিকারসংক্রান্ত। আদালত বলেন, সামান্থার অনুমতি ছাড়া এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেক ও বিকৃত ছবি বা ভিডিও ব্যবহারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিসত্তা ও প্রচার-সংক্রান্ত অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী সামান্থার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদার অধিকার রয়েছে। এ ছাড়া কপিরাইট আইনের আওতায় অভিনয়শিল্পী হিসেবে তার নৈতিক অধিকারও সুরক্ষিত। সামান্থা তার নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া এআই-নির্মিত ডিপফেক ও বিভিন্ন ধরনের বিকৃত কনটেন্ট তৈরি এবং ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আদালতের সুরক্ষা চান। এ জন্য তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, এআই নির্মাতা, ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও ই-কমার্স সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অনুমতিহীন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা, ভবিষ্যতে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ বন্ধ করা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে। মামলায় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, এআই নির্মাতা, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাসহ মোট ১৮ জন বিবাদী রয়েছে। সামান্থার পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, তার ব্যবসা ও সুনাম মুম্বাইভিত্তিক হলেও বিদেশে থাকা কয়েকজন বিবাদীর কার্যক্রমও মামলার সঙ্গে যুক্ত। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে সামান্থাকে নিয়ে অনুমতিহীন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর অনুমতি ছাড়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ ডিসেম্বর। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের ছেলে জেসন সঞ্জয় এবার চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অভিষেক করতে যাচ্ছেন। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সিগমা’ আগামী ২ অক্টোবর শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারকা পরিবার থেকে এলেও বাবার পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিতে চান না জেসন। বরং নিজের কাজ ও নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে আলাদা পরিচয় তৈরি করাই তার লক্ষ্য। সিনেমাটির প্রধান অভিনেতা সন্দীপ কিষাণও জানিয়েছেন, প্রথম কাজেই জেসন নিজের স্বাতন্ত্র্য দেখাতে পেরেছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জেসন জানান, সিনেমাটি দেখার পর বাবার প্রতিক্রিয়ার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। তার মতে, ছবিটি পুরোপুরি বুঝতে থালাপতিকে কিছুটা সময় দিতে হবে। তবে প্রথম সিনেমা হিসেবে ছেলে যে কাজটি করেছে, তা নিয়ে বাবা গর্বিত হবেন—এমনটাই বিশ্বাস জেসনের। জেসনের দাদু এস এ চন্দ্রশেখরও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। অন্যদিকে থালাপতি বিজয় বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। তবে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করতে চান জেসন। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘সিগমা’ মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেন্সর ও ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতা এবং থালাপতি বিজয়ের ‘জন নায়কন’ সিনেমার মুক্তির সময়সূচির কারণে ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে যায়। অবশেষে শুক্রবার বড় পর্দায় দেখা যাবে জেসন সঞ্জয়ের প্রথম নির্মাণ।
বালিতে দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে চোট পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নুসরাত ভারুচা। চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে মুম্বাই নেওয়া হবে। সেখানে তার মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রীর প্রচারক। বর্তমানে বালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নুসরাত। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকা এই অভিনেত্রীকে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে কিছুটা সময় নিতে হবে। এর প্রভাব পড়তে পারে তার আগামী দিনের কাজের সূচিতেও। নুসরাতের প্রচারকের দেওয়া বিবৃতিতে তার চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য সবার কাছে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত সময় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিনেত্রীর খোঁজ নেওয়া ও শুভকামনার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানানো হবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে। কাজের প্রয়োজনে বালিতে গিয়েছিলেন নুসরাত। পরে সেখানে আরো কয়েক দিন থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অভিনেত্রী। এদিকে নুসরাতকে টাইগার শ্রফের পরবর্তী একটি সিনেমায় দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটিতে এই প্রথম একসঙ্গে কাজ করবেন টাইগার ও নুসরাত। এতে আরও অভিনয় করছেন পাশমিনা রোশন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও এলভিশ যাদব। সিনেমাটিতে নুসরাতের চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গল্পে তার চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নুসরাতকে সর্বশেষ সোহম শাহের সঙ্গে ‘উফফ ইয়ে সিয়াপ্পা’ সিনেমায় দেখা গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।