অভিনেত্রী জয়া আহসান মানেই পর্দায় এক জাদুকরী উপস্থিতি আর বাস্তব জীবনে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্টাইল আইকন। দুই বাংলার দর্শকদের দশকের পর দশক মুগ্ধ করে রাখা এই অভিনেত্রী এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধরা দিলেন এক ভিন্ন ও স্নিগ্ধ অবতারে। কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্য নয়, বরং প্রকৃতির মাঝে খরগোশের সঙ্গে কাটানো তার কিছু একান্ত মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। সম্প্রতি জয়া আহসান তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে এক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে একজোড়া সাদা খরগোশের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, লকা সবুজ রঙের একটি দৃষ্টিনন্দন শাড়িতে। শাড়িটির পাড় এবং আঁচলের নকশা তার সাজে এনেছে এক আলাদা আভিজাত্য। এর সঙ্গে মানানসই এমব্রয়ডারি করা ব্লাউজ, গয়না আর চুলের সাজে জয়াকে বেশ মানিয়েছে। পরম মমতায় একটি খরগোশকে কোলে নিয়ে আদর করছেন তিনি, আর খরগোশটিও শান্ত হয়ে তার কোলে মিশে আছে। আবার কখনো নিজের হাতে তাদের ঘাস খাওয়াচ্ছেন। ভিডিওটি শেয়ার করার পরপরই তা ভক্তদের নজরে আসে। কমেন্ট বক্সে ভক্তরা জয়ার স্নিগ্ধ রূপের এবং প্রাণীদের প্রতি তার এই মমতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। কেউ তাকে ‘চিরযৌবনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, আবার কেউ বলছেন— জয়ার প্রতিটি সাধারণ মুহূর্ত যেন একেকটি শৈল্পিক ফ্রেম।
সিয়াম আহমেদ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা 'রাক্ষস'-এর আইটেম গান ‘বিলেত রাজা’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ভার্চুয়াল জগতে ঝড় তুলেছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়ে প্লেব্যাক মাতালেন জি এম আশরাফ ও দোলা রহমান। আসন্ন ঈদুল ফিতরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘রাক্ষস’। মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত এই সিনেমার আইটেম গান ‘বিলেত রাজা’ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। গানটি প্রকাশের পর থেকেই ইউটিউব ও ফেসবুকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাঁকজমকপূর্ণ এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের পরিচিত দুই শিল্পী জি এম আশরাফ ও দোলা রহমান। ‘বিলেত রাজা’ গানটিতে সিয়াম আহমেদের সঙ্গে নেচেছেন ইউরোপিয়ান বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন বলিউডের নামী কোরিওগ্রাফার আদিল শেখ। গানটির সংগীত পরিচালনাও করেছেন জি এম আশরাফ এবং কথা লিখেছেন রিয়াজ এ মাহমুদ। গানটির ভিডিওতে সিয়ামের ভিন্নধর্মী লুক এবং নাতালিয়ার নাচ দর্শকদের নজর কেড়েছে। প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গানটি লক্ষ লক্ষ ভিউ অতিক্রম করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, অনেক দিন পর বাংলা সিনেমায় এমন ‘এনার্জেটিক’ গান পাওয়া গেল। উল্লেখ্য, সিয়াম আহমেদ ছাড়াও সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুস্মিতা চ্যাটার্জি, আবরার আতহার, সাদনিমা বিনতে নোমান সহ আরও অনেকে। ‘বিলেত রাজা’ গানটি প্রকাশের পর এখন দর্শকরা অধীর আগ্রহে সিনেমাটির মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছেন।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করল দক্ষিণ কোরিয়ান মেগাস্টার বয় ব্যান্ড দল বিটিএস। শুক্রবার (২০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম 'আরিরাং'। একইসঙ্গে অ্যালবামের প্রধান গান ‘সুইম’-এর চোখ ধাঁধানো মিউজিক ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে চার বছর পর ফিরল এই জনপ্রিয় দলটি। বিটিএস-এর এবারের প্রত্যাবর্তনে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী লিলি রাইনহার্ট। জনপ্রিয় সিরিজ 'রিভারডেল' খ্যাত এই অভিনেত্রী মিউজিক ভিডিওটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছেন। প্রখ্যাত পরিচালক তানু মুইনোর নির্দেশনায় নির্মিত এই ভিডিওতে বিটিএস সদস্য আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জাং কুককে গভীর সমুদ্রে পাল তুলে এক রোমাঞ্চকর যাত্রা করতে দেখা যায়। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে লিলি রাইনহার্টের একটি হৃদয়স্পর্শী নাচ ভিডিওটিকে এক নান্দনিক রূপ দিয়েছে। নতুন এই অ্যালবামে মোট ১৪টি গান স্থান পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অনানুষ্ঠানিক জাতীয় সংগীত হিসেবে পরিচিত একটি জনপ্রিয় লোকগানের নামানুসারে অ্যালবামটির নামকরণ করা হয়েছে 'আরিরাং'। আগের সুপারহিট গান ‘বাটার’ ও ‘পারমিশন টু ড্যান্স’-এর মতো ‘সুইম’ গানটিও ইংরেজি ভাষায় করা হয়েছে। গানটিতে রয়েছে গভীর ও মর্মস্পর্শী লিরিক্স এবং লিডার আরএম-এর একটি শক্তিশালী র্যাপ পার্ট। অ্যালবাম প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামীকাল ২১ মার্চ সিউলের প্রাণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিটিএস-এর বিশেষ ওপেন এয়ার কামব্যাক কনসার্ট। প্রায় চার বছর পর এটিই হতে যাচ্ছে দলটির প্রথম লাইভ পারফরম্যান্স। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই কনসার্টে ৩ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীত ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে।
রাজধানীর বুকে এক অনন্য সন্ধ্যার সাক্ষী হতে যাচ্ছে রবীন্দ্র সরোবর। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ), ঢাকার এই প্রাণকেন্দ্রে রাজনীতির কঠোর স্লোগান ছাপিয়ে শোনা যাবে সুরেলা কণ্ঠ। তিন দিনব্যাপী ‘নাগরিক ঈদ উৎসব’-এর প্রথম দিনে মাইক্রোফোন হাতে গান গাইতে মঞ্চে উঠছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ঢাকার প্রাচীন নাগরিক ঐতিহ্য ও উৎসবের সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঈদ উৎসব আয়োজক কমিটি। ঈদ উৎসব আয়োজক কমিটির ভাষ্যমতে, যান্ত্রিক এই শহরে নাগরিকদের মাঝে সম্প্রীতি ও আনন্দের ছোঁয়া পৌঁছে দিতেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। উৎসবের প্রথম দিন রবীন্দ্র সরোবরে মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন রয়েছে, ঈদের দিন আয়োজন করা হবে বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল, যা শুরু হবে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে। উৎসবের তৃতীয় দিনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ঘুড়ি উৎসব। বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে আকাশজুড়ে রঙিন ঘুড়ি উড়ানোর মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ উদযাপন করা হবে।
ছোটপর্দার গণ্ডি পেরিয়ে বড় পর্দার রূপালি জগতে নিজের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার যে লড়াই, তাতে আশনা হাবিব ভাবনা বরাবরই অনবদ্য। তবে অভিনয়ের নিপুণতা ছাপিয়ে এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন এই অভিনেত্রী! পুরানো ভিডিও ‘ভাইরাল’ করার নামে নেটিজেনদের একাংশের অপ্রাসঙ্গিক চর্চা আর অপপ্রচারে ত্যাক্ত-বিরক্ত ভাবনা এবার আর চুপ থাকলেন না। সরাসরি কড়া ভাষায় সতর্ক বার্তা দিলেন সমালোচকদের। প্রকাশিত সেই পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, ‘আপনারা এক ভিডিও আর কতবার ভাইরাল করবেন। যে ভিডিও ভাইরাল করছেন, সেটিও যেমন স্টেজে আমার নৃত্যনাট্যের একটি অংশ। আমি নাচের কাপড় পরে আছি। মুক্তিযুদ্ধের নৃত্যনাট্য। নৃত্যনাট্য কী, সেটা গুগলে সার্চ করে নেবেন। আবার এখন যেসব রাজনৈতিক মানুষের সাথে আমার ছবি দেখছেন, সেটিও ঈদের অনুষ্ঠানের।’ এক বিন্দু সুবিধা নেননি দাবি করে ভাবনা বলেন, ‘৫০ মিনিটে তাদের সাথে কী কী কথা হয়েছে, সব টেলিভিশনে দেখতে পারবেন। অনেকদিন চুপ ছিলাম। একজন শিল্পী হিসেবে আমি জীবনেও কারও কাছ থেকে এক বিন্দু সুবিধা নিইনি। তবুও যেভাবে আমি বুলিং, অপমান থেকে শুরু করে আরও ভয়ংকর অনেক কিছুর শিকার হয়েছি, তা বলব কোনো একদিন।’ ‘আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে লাভ নেই। আমি একজন শিল্পী, আমি কাজ করব। সবার সাথেই কাজ করব। যেমন একজন ব্যবসায়ী সবার সাথে কাজ করে, যেমন একজন চাকরিজীবী সবসময় কাজ করে। একজন শিল্পী হিসেবে আমাকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ডাকলে আমি যাব, আমি কাজ করব।’ শেষে লিখেছেন, ‘আমি কোনো দলের হয়ে কাজ করিনি, রাজনীতির প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, ছিলও না। ভবিষ্যতে হলে অবশ্যই আপনারা জানবেন। আমি কেবলমাত্র একজন শিল্পী হয়ে থাকতে চাই। অনেক পেছনে লাগছেন, এবার একটু আমাকে কাজ করতে দিন। ছবি আঁকতে দিন, কবিতা লিখতে দিন।’
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশির ব্যস্ততা আর নানা আয়োজনে অংশ থাকা। তবে এই আনন্দের মধ্যেই অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে কখনো কখনো বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা কিংবা বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ আরও গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাসও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া মানেই সব সময় বড় বিপদের সংকেত নয়, তবে বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করাও উচিত নয়। কারণ রক্তচাপ খুব বেশি বেড়ে গেলে তা হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয় ১. নিজেকে শান্ত রেখে নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শরীর ও মন দুটোই কিছুটা স্বস্তি পাবে। ২. ধীরে ধীরে এক গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন। অনেক সময় শরীরে পানির ঘাটতির কারণে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়তে পারে। ৩. শরীর গরম লাগলে বা ঘাম হলে মাথা বা ঘাড়ের পেছনে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন। ৪. ভেজা কাপড় বা আইস প্যাক ব্যবহার করলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে এবং স্বস্তি পাওয়া যায়। ৫. প্রতি ১৫-২০ মিনিট পরপর রক্তচাপ পরিমাপ করে দেখুন তা কমছে কি না। যদি রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি থাকে, অথবা বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। যা করা উচিত নয় ১. অনেকেই হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে তেঁতুলের শরবত বা অন্য কিছু খেয়ে থাকেন। তবে এগুলোর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে-এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ২.চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। ভুল ওষুধ বা মাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সতর্ক থাকা জরুরি যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলেও অস্থির না হয়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকা খুবই জরুরি।
জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বিশ্বখ্যাত কার্টুন সিরিজ ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা আর নেই। গত ৬ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘আজিয়াদো’ (যা আজিয়া-ডু অ্যানিমেশন ওয়ার্কস নামেও পরিচিত) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছে। সুতোমু শিবায়ামাকে জাপানি অ্যানিমেশন শিল্পের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতনামা অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি একে একে বহু জনপ্রিয় কাজ উপহার দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই স্টুডিও গড়ে তোলেন। বিশেষ করে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘ডোরেমন’ সিরিজ ও এর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে তিনি এই সিরিজটিকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলেন। তার নিপুণ পরিচালনায় নবিতা, শিজুকা ও ডোরেমনের মতো চরিত্রগুলো কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। ডোরেমন ছাড়াও ‘নিন্তামা রান্তারো’, ‘চিবি মারুকো-চান’ এবং ‘মাজিমে নি ফুমাজিমে কায়েকেতসু জোরোরি’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তিনি প্রধান পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর বাইরেও ‘ডোকোনজো গায়েরু’ ও ‘গানসো টেনসাই বাকাবন’-এর মতো প্রজেক্টে অ্যানিমেশন ডিরেক্টর হিসেবে তার কাজের স্বাক্ষর রয়েছে। অ্যানিমেশন শিল্পে এমন অসামান্য ও কালজয়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে জাপানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিশ্বজুড়ে অ্যানিমেশন প্রেমীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্টুডিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী অত্যন্ত ব্যক্তিগত পরিসরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পরিবারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে সরাসরি সমবেদনা জানানো বা ভিড় করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। ২২ শতকের রোবট বিড়াল ডোরেমন আর তার বন্ধু নবিতার গল্পের মধ্য দিয়ে সুতোমু শিবায়ামা তার অগণিত ভক্তের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনুশকা শেঠি। দুই পরিবারের সম্মতিতে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের পরিকল্পনাও হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কথা কয়েকদিন ধরে চলছে। তবে গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি আনুশকার টিম থেকে জানানো হয়েছে, কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলার আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা উচিত। আনুশকার টিমের পক্ষ থেকে লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সঠিক তথ্য আর গুজবের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় সেই পার্থক্য এড়িয়ে যাওয়া হয়। কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শিরোনাম তৈরি করার আগে অন্তত একটা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগে কিছু সীমারেখা মেনে চলা উচিত। একই সঙ্গে তারা আহ্বান জানায়, পুরুষ অভিনেতাদের মতো নারী অভিনেত্রীদের প্রতিও সমান সম্মান দেখানো প্রয়োজন। এদিকে বিয়ের গুঞ্জনের পর তার বয়স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আনুশকার এ বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার টিম। তাদের জানিয়েছে, বারবার ৪৪ বছর বয়সটিকে সামনে আনা হচ্ছে কেন? এতে কি বোঝাতে চাওয়া হচ্ছে যে এই বয়সে বিয়ে করা কোনো অস্বাভাবিক বা বিতর্কিত বিষয়? যদি বয়স এত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে পুরুষ অভিনেতাদের ক্ষেত্রে এই আলোচনা কেন হয় না? নারীদের ক্ষেত্রেই কেন ভিন্ন মানদণ্ড?
ঢালিউড অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। কিন্তু অভিনয় নিয়মিত না হলেও সামাজিক মাধ্যমে তার রয়েছে সরব উপস্থিতি। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও স্টাইল স্টেটমেন্ট— সব কিছু মিলিয়ে তিনি বরাবরই থাকেন আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তার নতুন লুক প্রকাশ পেয়েছে। এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তিনি তার নতুন হেয়ার বোটক্স, সুন্দর হেয়ার কালার এবং স্টাইলিশ হেয়ার কাট নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে নিজের একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে নতুন লুক সম্পর্কে একটি পোস্ট দিয়েছেন পূর্ণিমা। শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, পরিপাটি সাজের সঙ্গে তার নতুন হেয়ারস্টাইল বেশ মানিয়েছে। বিশেষ করে সফট লেয়ার কাট, চকচকে হেয়ার ফিনিশ এবং ব্রাউনিশ কালার টোন তার লুকে এনে দিয়েছে এক ভিন্নমাত্রা। সেই পোস্টের ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন—আমার নতুন হেয়ার বোটক্স, সুন্দর কালার আর এই স্টাইলিশ কাট— আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে— আমি একদম নতুন এক মানুষ। শুধু সামনের দিক থেকে নয়, পেছনের দিক থেকেও তার চুলের এই নতুন কাটটি সবার নজর কেড়েছে। পেছনের তার চুলের ভলিউম ও স্টাইলিং নজর কেছেড়ে নেটিজেনদের। তিনি হেয়ার বোটক্স ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে চুলে এনেছেন মসৃণতা ও প্রাণবন্ত উজ্জ্বলতা। পাশাপাশি চোখে স্টাইলিশ ফ্রেমের চশমা এবং সাদামাটা কালো পোশাক তার লুককে করেছে আরও পরিণত ও এলিগ্যান্ট। তার এই নতুন রূপে মুগ্ধ হয়েছেন ভক্ত-অনুরাগীরাও। কমেন্ট বক্সে অনেকে তার সৌন্দর্য ও নতুন স্টাইলের প্রশংসা করে ভালোবাসা জানিয়েছেন।
অবশেষে বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করল নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয় দত্তের বহুল আলোচিত গান ‘সারকে চুনার তেরি সারকে’। ‘কেডি-দ্য ডেভিল’ সিনেমার এই গানের কথা এবং দৃশ্যায়ন নিয়ে দর্শক মহলে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার প্রেক্ষিতেই আজ এই কঠোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পুরো বিষয়টি নিয়ে যখন উত্তাল নেটদুনিয়া, তখনই এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন নোরা। অভিনেত্রীর দাবি, গানটির হিন্দি সংস্করণ সম্পর্কে তার আগে থেকে কোনো ধারণাই ছিল না। নোরা জানান, মূলত তিন বছর আগে তিনি কন্নড় ভাষার একটি গানের জন্য শুটিং করেছিলেন, যার শিরোনাম ছিল ‘সারসি নিন্না’। বিশাল বাজেটের প্রজেক্ট এবং সহশিল্পী হিসেবে সঞ্জয় দত্তের উপস্থিতি সব মিলিয়ে কাজটি করতে দ্বিধা করেননি তিনি। তবে সেই গানের হিন্দি সংস্করণ যে ‘সরকে চুনর’ নামে আসবে এবং এর লিরিক্সে অসংলগ্নতা থাকবে, সেটি ছিল তার চিন্তার বাইরে। অভিনেত্রী বলেন, ‘পরে যখন গানটি হিন্দিতে প্রকাশ করা হয়, এর উপস্থাপন ও কথা নিয়ে যে এত বড় বিতর্ক তৈরি হবে তা আমার জানা ছিল না। আমি চাই না কেউ ভাবুক যে আমি কুরুচিপূর্ণ বা বিতর্কিত কোনো বিষয়কে সমর্থন করি।’ জনরোষের চাপে গানটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন নির্মাতারা। এ অবস্থায় ভক্তদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে নোরা বলেন, ‘গানের পেছনের আসল গল্পটা জানুন। ভুল বোঝাবুঝির শিকার হবেন না। অনুরোধ করছি, কেউ গানটি শেয়ার করে আরও ছড়িয়ে দেবেন না।’ বর্তমানে গানটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নোরার এই ভিডিও বার্তা ভক্তদের মাঝে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করলেও, গানটি নিয়ে সমালোচনার রেশ কাটেনি এখনো।
ঢালিউড কিং শাকিব খান মানেই নতুন কোনো চমক, আর ঈদ মানেই শাকিবীয় উন্মাদনা। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতর-এর আবহে এবার যেন নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন এই সুপারস্টার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পেল ‘প্রিন্স’ সিনেমার প্রথম রোমান্টিক গান ‘পরী’। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পর্দায় জুটি বেঁধেছেন শাকিব খান ও কলকাতার গুণী অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। গানটির দৃশ্যায়নে দুই বাংলার দর্শকদের জন্য এক মায়াবী ও জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তারা। ইমরান ও কোনালের দরদী কণ্ঠ আর রবিউল ইসলাম জীবনের কাব্যিক ছোঁয়ায় ‘পরী’ গানটি এখন সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। গ্যাংস্টার লুকে অ্যাকশনের ঝড়ের পর শাকিবের এই রোমান্টিক অবতার সিনেমা হল মালিক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক—সবার মাঝেই তৈরি করেছে এক অন্যরকম উন্মাদনা। ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের দীর্ঘ এই গানটি যেন এক একটি ক্যানভাস। গানে শাকিব খানকে দেখা গেছে লম্বা চুল, কানের দুল আর মাল্টিকালার এমব্রয়ডারি জ্যাকেটে একদমই ভিন্ন এক লুকে। অন্যদিকে জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু নীল ও লাল শাড়িতে মোহময়ী রূপ ধারণ করেছেন। মরুভূমির তপ্ত বালুর বুকে শাকিব-জ্যোতির্ময়ীর আবেদনময়ী রোমান্স দর্শকদের নজর কেড়েছে। কখনও পাহাড়ের চূড়ায় রাজমহলে, আবার কখনও উটের কাফেলার মাঝে রাজস্থানি আমেজে ধরা দিয়েছে। এ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় জুটি ইমরান মাহমুদুল ও সোমনুর মনির কোনাল। রবিউল ইসলাম জীবনের কাব্যিক কথায় গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন খোদ ইমরান। গানটির প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছে ভালোবাসার তীব্র আকুতি। ‘ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস’ প্রযোজিত ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। এই সিনেমার মাধ্যমে শাকিব খান ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু প্রথমবার বড় পর্দায় জুটি বাঁধছেন।
দাদু ও নানাবাড়ির বড় মেয়ে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই ঈদে বাড়তি আদর পেয়ে এসেছেন চিত্রনায়িকা ফারিন খান। তবে ছোটবেলার ঈদ এলেই তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে ছোট খালুর কথা। ছোট খালু তার জন্য রানি ফ্রক এনে আলমারিতে লুকিয়ে রাখতেন এবং ঈদের আগের দিন সারপ্রাইজ হিসেবে উপহার দিতেন। সব জামা কেনার পরও এই বিশেষ সারপ্রাইজটির জন্য অপেক্ষায় থাকতেন তিনি যা এখন সবচেয়ে বেশি মিস করেন এই অভিনেত্রী। ঈদের সকালের সেই তাড়াহুড়ো করে ভোরে ওঠা এবং গোসল করে দ্রুত রেডি হওয়ার মুহূর্তগুলোও খুব মিস করেন ফারিন। এমনকি ছোটবেলায় খালু ও খালাতো ভাইদের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তেও যেতেন তিনি। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে সেই প্রিয় খালু মারা যাওয়ার পর থেকে এই অভিনেত্রীর ঈদের আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কষ্ট এখন কিছুটা হালকা হয়েছে। প্রসঙ্গত ঈদে সালামি হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার এবং সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন। অনেক বছর পর এবারের ঈদে আত্মীয়স্বজনের বাসায় ঘুরে বেড়ানোর এবং একটু সাজগোজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ঈদের প্রথম দিনটি তিনি সম্পূর্ণ নিজের পরিবারের জন্যই বরাদ্দ রেখেছেন। তবে ঈদের পরদিন সিনেমা দেখতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। অন্যান্য বছরের মতো এবারও তিনি সবার আগে সুপারস্টার শাকিব খানের সিনেমা দিয়ে হলে যাওয়া শুরু করতে চান। কারণ প্রতি বছরই তিনি প্রথম শাকিব খানের সিনেমা দেখেন এবং এরপর অন্যান্য সিনেমা উপভোগ করেন।
মাত্র ৩৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন যুক্তরাজ্যের তারকা অভিনেতা জর্ডান রাইট। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি নর্দমা থেকে। থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ ফুকেটে ঘটে এ ঘটনা। দুদিন ধরে এ অভিনেতার মরদেহ নর্দমায় পড়েছিল বলে ধারণা পুলিশের। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে ফুকেটের ব্যাং তাও সৈকতের কাছে একটি নর্দমায় জর্ডান রাইটের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এক বার্মিজ শ্রমিক। তিনি দেখেন উপুড় হয়ে পড়া একটি দেহ। পরনে একটি ধূসর শার্ট ও কালো প্যান্ট। পায়ে জুতা নেই। পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মরদেহ তারকা অভিনেতা জর্ডান রাইটের বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে এলোমেলোভাবে ছোটাছুটি করছিলেন জর্ডান রাইট। তার শরীরে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন ছিল না। জর্ডান রাইট যে হোটেলে উঠেছিলেন সেখানেও খোঁজখবর নিয়ে ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তেমন কোনো সন্দেহজনক আলামত পায়নি পুলিশ। তার রুমে তল্লাশি চালিয়েও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। হোটেলের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি একাই চেক-ইন করেছিলেন এবং গত ১৩ মার্চ চেক-আউট করার কথা ছিল তার। কিন্তু কর্মচারীরা জানিয়েছেন, জর্ডান রাইট চেক-আউট করেননি। যে কারণে জর্ডান রাইটের মৃত্যুর কারণ জানার জন্য স্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। চেং থালের পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুথিরাক জানিয়েছেন, ধারণা করছি মরদেহ খুঁজে পাওয়ারও দু’দিন আগে মৃত্যু হয়েছে জর্ডান রাইটের। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করছি এবং সে পর্যন্ত মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এসেক্সের বাসিলডেন বাসিন্দা জর্ডান রাইট ব্যক্তিজীবনে ব্রিটিশ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, রেডিও উপস্থাপক ও লেখক ভিকি প্যাটিসনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। ২০১৭ সালে ‘এক্স অন দ্য বিচ’-এর আটটি পর্বে এবং ২০১৮ সালে ‘টিওডব্লিউআইই’-এর ১৭টি পর্বে অভিনয় করেন জর্ডান রাইট। সুঠাম দেহের এই অভিনেতা একজন দমকলকর্মী। নিজের সাবেক প্রেমিক মাইলস বারনেটের সঙ্গে শোয়ের ইতিহাসে পর্দায় প্রথমবারের মতো মারামারি করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন জর্ডান। এরপর জানা যায়, শোটির দৃশ্যধারনের জন্য লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড থেকে বেতনসহ অসুস্থতাজনিত ছুটি নিচ্ছিলেন—এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে আইটিভি সিরিজটি থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে তিনি দমকলকর্মী হিসেবে নিজের কাজে ফেরার জন্য টিভি ইন্ডাস্ট্রি একদম ছেড়ে দেন।
বলিউডে বাংলাদেশের কোনো অভিনেতার কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাওয়ার নজির নেই—সেই শূন্যস্থানে এবার নিজের নাম লেখালেন আরিফিন শুভ। সনি লিভের ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’তে লিড চরিত্রে বলিউডে অভিষেক হলো ঢাকার এই চিত্রনায়কের। আজ (১৯ মার্চ) সিরিজটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এই যাত্রা। সর্বমোট ১০ পর্বের, প্রায় ১১ ঘণ্টার এই সিরিজের পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে জিমি রয়কে কেন্দ্র করে। আর সেই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। এই সিরিজে শুভ ৪টি ভাষায় অভিনয় করেছেন—বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি। আজ (১৯ মার্চ) মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সনি লিভে ট্রেন্ডিংয়ে ২ নম্বরে অবস্থান করেছে আরিফিন শুভর এই সিরিজ। হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি এবারই প্রথম বাংলা ভাষায় মুক্তি পেয়েছে প্ল্যাটফর্মটির কোনো সিরিজ। ‘জ্যাজ সিটি’ পরিচালনা ছাড়াও গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সৌমিক সেন। যিনি এর আগে আলোচিত ‘জুবিলি’ সিরিজের সহ-স্রষ্টা হিসেবে বলিউডে খ্যাতি পেয়েছেন। সিরিজে আরিফিন শুভর বিপরীতে দেখা যাবে সৌরসেনী মিত্রকে। এ ছাড়াও শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর ও অমিত সাহাসহ বলিউড ও টলিউডের আরো কয়েকজন পরিচিত মুখকে দেখা যাবে এই সিরিজে। ‘জ্যাজ সিটি’ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সত্তরের দশকের পটভূমিতে। সেই সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের টানাপোড়েন এবং পরিবর্তনের গল্পই উঠে এসেছে সিরিজটিতে।
ঈদুল ফিতরের রঙিন উৎসবকে ঘিরে যখন বড় পর্দায় নতুন গল্পের উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই হঠাৎ করে ছন্দপতন। প্রতীক্ষার তালিকা থেকে ছিটকে গেল বহুল আলোচিত সিনেমা ‘পিনিক’। জাহিদ জুয়েলের পরিচালনায় আদর আজাদ ও শবনম বুবলীর জুটিকে ঘিরে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল দর্শকদের মনে, তা যেন মুহূর্তেই রূপ নিল হতাশায়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছবিটির মুক্তি ও পরিবেশনার দায়িত্বে থাকা পরিচালক সায়মন তারিক। পরিচালক সায়মন তারিক গণমাধ্যমকে জানান, সময়মতো সেন্সর ছাড়পত্র না পাওয়ায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঈদে ছবিটি মুক্তি দিতে পারছি না। সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেছেন। অথচ আমরা ২১ দিন আগেই ছবিটি জমা দিয়েছিলাম।’ ছাড়পত্র পেতে দেরি হওয়ায় বিপণন ও হল বুকিংয়ের সময় হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘১৬ মার্চ এসে হাতে ছাড়পত্র পেলাম। ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি। এই অল্প সময়ে প্রচারণা কীভাবে করব।‘ শেষে বলেন, ‘আর হলই বা চূড়ান্ত করব কী করে। অথচ ঈদের অন্য সিনেমাগুলো জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা হলো, কিন্তু আমাদেরটা আটকে রাখা হলো। এতে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলাম।’
বছরের শুরুতেই অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণা ভক্তদের মনে বিষাদের সুর ছড়িয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার যেন বিনোদন জগতের আকাশে আবারও কালো মেঘের ঘনঘটা! অরিজিতের পথে হেঁটেই কি তবে সুরের ভুবনকে বিদায় জানাবেন ভারতের সুরসম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল?সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়ার করা কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য এখন টলিপাড়া থেকে বলিপাড়া, সর্বত্রই যেন এক বড়সড় আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমারও খুব বিরতি নিতে ইচ্ছে করে। অরিজিৎ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ও মন থেকে একজন প্রকৃত শিল্পী গান থেকে কী উপার্জন হলো বা হলো না, সেটা ও কখনও ভাবে না। ও শুধু সেটাই করে যা ওকে মানসিক প্রশান্তি দেয়।’ অরিজিতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শ্রেয়া আরও বলেন, ‘সংগীতের প্রতি এই যে গভীর মমতা, এটাই শ্রোতাদের সঙ্গে ওর যোগসূত্র তৈরি করে দেয়। ওর কাছে গান সবকিছুর ঊর্ধ্বে। অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত আমাকেও ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।’ ‘লিপ সিঙ্ক’ বা ঠোঁট মেলানোর সংস্কৃতি নিয়ে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেন এই শিল্পী। তিনি জানান, যে দিন তাকে বাধ্য হয়ে এমন কিছু করতে হবে, সেদিনই তিনি গান ছেড়ে দেবেন। শুধু তাই নয়, ‘চিকনি চামেলি’র মতো চটুল লিরিকের গান ভবিষ্যতে আর না গাওয়ার ব্যাপারেও নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানান তিনি। শ্রেয়া ও অরিজিৎ অসংখ্য সুপারহিট গানে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ক্লান্তি আর সমসাময়িক সঙ্গীত ভাবনার পরিবর্তন থেকেই কি তবে শ্রেয়াও অরিজিতের মতো দীর্ঘ বিরতির পথে হাঁটছেন? গায়িকার সাম্প্রতিক এই মন্তব্যে এখন সেই জল্পনাই তুঙ্গে।
প্রয়াত বলিউড কিংবদন্তি শ্রীদেবীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে আইনি বিড়ম্বনায় পড়েছেন তার দুই মেয়ে জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর। ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের একটি জমি কেনা নিয়ে ওঠা জালিয়াতির অভিযোগ, যা এখন গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুর এবং দুই মেয়ে জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর। এরই মধ্যে মায়ের সম্পত্তি জটিলতা নিরসনে তারা মাদ্রাজ হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন। আরও জানা যায়, বহু বছর আগে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের ইস্ট কোস্ট রোড এলাকার প্রায় ৫ একর জমি কেনেন শ্রীদেবী। সেখানে ভোগদখলে থাকা কিছু ব্যক্তির দাবি, ওই জমির ওপর তাদেরও অধিকার রয়েছে। এ নিয়েই শুরু আইনি বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, কিছু জাল নথি দিয়ে জমিটি কেনা হয়েছিল। তাই আদালতে মামলা করে জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। মামলার পরপরই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। আদালতে গিয়ে বনি ও তার দুই মেয়ে আবেদন করেন, যেন এই মামলা খারিজ করা হয়। তাদের দাবি, জমিটি সম্পূর্ণ আইন মেনেই কেনা হয়েছিল এবং এত বছর পরে হঠাৎ করে এ ধরনের দাবি তোলা ঠিক নয়। উল্লেখ্য, ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন শ্রীদেবী। ২০১৮ সালে দুবাইয়ে তার আকস্মিক মৃত্যু হয়। এরপরই কাপুর পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে বিভিন্ন আইনি বিষয় সামনে এসেছে। এই নতুন মামলা ঘিরে এখন বলিউড মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আদর্শ দাম্পত্যের উদাহরণ হিসেবে দেখা হতো থালাপতি বিজয় ও তার স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমকে। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সম্পর্কের ভিত নড়ে উঠেছে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগে। এখন ভাঙনের পথে তাদের ২৭ বছরের সংসার। বিচ্ছেদের আবেদন ঘিরে যখন একের পর এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত সামনে আসছে, তখনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক পরিচিত নাম তৃষা কৃষ্ণান। সরাসরি কিছু না বললেও সংগীতার অভিযোগের ইঙ্গিত ঘিরে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন, পরকীয়া প্রেম করছেন বিজয়-তৃষা। আর এখানেই শেষ নয়— গুঞ্জন এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে। শোনা যাচ্ছে, সম্পর্কের জটিলতা পেরিয়ে নাকি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন এই তারকা জুটি। বিবাহবিচ্ছেদের আলোচনার মাঝে গুঞ্জন উড়ছে, বিয়ে করবেন বিজয়-তৃষা। মূলত, ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল একটি রিলকে কেন্দ্র করে এই গুঞ্জনের সূচনা। এ রিলে দাবি করা হয়েছে— বিজয় ও তৃষা খুব শিগগির বিয়ে করতে পারেন। আসন্ন নির্বাচনের পর তারা তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনতে পারেন বলেও এ পোস্টে জানানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তৃষার মা উমা কৃষ্ণানের প্রতিক্রিয়া। ভাইরাল রিলটিতে লাইক দিয়েছেন তিনি। পরে সেই লাইকের স্ক্রিনশট রেডিটে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিয়ের গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। সম্প্রতি একটি বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যায় বিজয় ও তৃষাকে। জানা যায়, এটি চলচ্চিত্র প্রযোজক কল্পতি সুরেশ-মীনাক্ষী সুরেশ দম্পতির পুত্রের বিয়ে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিজয় অনুষ্ঠানে প্রবেশ করছেন। আর তার ঠিক পেছনে হাঁটছেন তৃষা। বিবাহবিচ্ছেদের খবরের পর একসঙ্গে তাদের উপস্থিতি ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এদিকে বিজয়ের সঙ্গে পুনঃরায় তৃষার নাম জড়ানোর অন্যতম কারণ হলো— তারা প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা। পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তৃষা-বিজয়। এটি ২০০৫ সালের ঘটনা। ‘গিলি’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্ত্রী সংগীতার সঙ্গে বিজয়ের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে এ সম্পর্ক আর আগায়নি এবং সংসারে মন দেন বিজয়। তবে এ ঘটনার পর অর্থাৎ ২০০৮ সালেও ‘কুরুভি’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। এরপর তাদের আর কোনো সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যায়নি। কিছুদিন আগে তৃষা-বিজয়কে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তামিলনাড়ু রাজ্যের বিজেপির সভাপতি নাইনন নাগেদ্রন। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপাতি বিজয়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজয় খুবই সরল, রাজনীতি বোঝেন না। প্রথমে তাকে নিজের খোলস থেকে বের হতে হবে। তামিলনাড়ুর তৃণমূল স্তরের পরিস্থিতি বুঝতে হলে তাকে তৃষার বাড়ি থেকেও বের হতে হবে।‘ সংগীতার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিজয়কে নিয়ে চর্চা চলছে, এ চর্চায় যুক্ত হয়েছেন তৃষা কৃষ্ণানও। এর মধ্যে যুক্ত হলো তাদের বিয়ের গুঞ্জন। বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো মুখ খোলেননি এই দুই তারকা।
বলিউডের কিং শাহরুখ খান। গত এক দশক ধরে পর্দায় তার সেই চেনা রোম্যান্টিক অবতারের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। অ্যাকশন হিরোর খোলস ছেড়ে আবারও প্রেমিকের বেশে পর্দায় ফিরছেন বলিউড বাদশা। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কিং’ সিনেমার কাজ শেষ করেই বড়সড় ধামাকা দিতে চলেছেন শাহরুখ। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’ দিয়ে বক্স অফিসে ঝড় তুললেও সেখানে রোম্যান্সের চেয়ে অ্যাকশনের আধিপত্যই ছিল বেশি। এবার শোনা যাচ্ছে, শাহরুখ তার পরবর্তী মেগাবাজেট প্রজেক্টের জন্য সম্পূর্ণ রোম্যান্টিক একটি চিত্রনাট্য বেছে নিয়েছেন। শাহরুখ ইতোমধ্যেই কয়েকজন লেখক ও পরিচালকের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। একটি বিশেষ চিত্রনাট্য তার মন ছুঁয়ে গেছে। নতুন এই সিনেমাটি নাকি বাদশার ক্যারিয়ারের ব্লকবাস্টার ‘ম্যায় হুঁ না’র ধাঁচে তৈরি হতে যাচ্ছে। এমনকি এটি সেই ছবির সিক্যুয়েল হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর বড় এই প্রজেক্টের হাল ধরতে পারেন শাহরুখের প্রিয় বন্ধু ও সফল নির্মাতা ফারহা খান। টানা কয়েক বছর অ্যাকশন সিনেমা করতে গিয়ে বারবার চোটের সম্মুখীন হয়েছেন শাহরুখ। ‘পাঠান’ থেকে শুরু করে আসন্ন ‘কিং’ পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি ও স্টান্ট করতে গিয়ে চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। শরীরের ওপর বাড়তি চাপ না দিতেই এবার রোম্যান্টিক ঘরানায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে এটি কেবল সাধারণ প্রেমের গল্প নয় বরং পরিণত বয়সের এক বাস্তবধর্মী প্রেমের আখ্যান হতে যাচ্ছে। এই সিনেমার বাজেট হবে আকাশচুম্বী। ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই মেগাবাজেট রোম্যান্টিক ড্রামায় দ্বৈত চরিত্রে দেখা যেতে পারে শাহরুখকে। চিত্রনাট্যের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। আর ২০২৭ সালের জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে পারে এই প্রতীক্ষিত সিনেমার শুটিং।
ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির আলোচিত নায়িকা পরীমনি। ২০১৩ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে ঢালিউডের প্রধান নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে অভিনয়ের শুরু থেকেই আলোচনার পাশপাশি সমালোচনাও যেন তার নিত্যসঙ্গী। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবর থাকতে দেখা যায় তাকে। ফেসবুকে রহস্যময় এক বার্তা দিয়েছেন পরীমনি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়াবা আসক্ত এক নারীকে নিয়ে পোস্ট দেন পরীমনি। ওই নারীর পরিচয় উল্লেখ না করলেও তাকে ভালো হওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন এই নায়িকা। পোস্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘বাচ্চার বয়স তিন মাস। বাচ্চার মা ইয়াবা আসক্ত। বাচ্চার বাবা মানুষের টাকা লুট করার জন্য জেল খাটতেছে। বাচ্চার মাকে রিহাব করানো খুবই জরুরি। বাচ্চাটা কোনোভাবেই মায়ের কাছে নিরাপদ না এই মুহূর্তে। এরপরই পরীমণি সতর্ক করে বলেন, ‘আমি তাকে শেষ সুন্দর সুযোগটা দিতে এই স্ট্যাটাসটি দিচ্ছি। এরপর বাকি সব আমার সিদ্ধান্ত হবে।’ যাকে উদ্দেশ্য করে পোস্ট দিয়েছেন, তিনি এই পোস্টটি দেখবেন বলেও আশা করেছেন পরীমনি, ‘আমি আশা করছি তুমি আমাকে সমস্ত কন্টাক্ট ব্লক করলেও এটা তুমি দেখবে এবং তোমার এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাকে সহযোগিতা করবে। নিশ্চয়ই তুমি এতোটা নির্বোধ নও।’ পরীমনির এই পোস্টে প্রথম ১ ঘণ্টাতেই রিয়্যাক্ট পড়েছে সাড়ে ছয় হাজারের মতো, কমেন্ট চার শতাধিক। রাজু ওয়াসিফ জিতু নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বাচ্চাটিকে নিরাপদ করো আপু।’ পরীমনির জবাব, চেষ্টা করছি, দোয়া করবেন।’
বিনোদন জগতের ছোট-বড় দুই পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম এবার ঈদের নাটকে অভিনয় করেছেন ‘কিপ্টে কারে কয়’। এ নাটকের মাধ্যমে অভিনেতা বুঝিয়ে দিয়েছেন—কিপ্টেমি কত প্রকার ও কী কী। সেই সঙ্গে উদাহরণসহ বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ‘কিপ্টে কারে কয়’ শিরোনামের এ নাটকটি দর্শকদের দেখতে চোখ রাখতে হবে দীপ্ত টিভিতে। ‘কিপ্টে কারে কয়’ নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। তার সঙ্গে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁই, শামীম জামান ও তাবাসসুম মিথিলা প্রমুখ। এ নাটকটি নির্মাণ করেছেন শামীম জামান। নাটকে তাকে দেখা যাবে বাড়িওয়ালার ছেলের চরিত্রে। অন্যদিকে ভাড়াটিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। ‘কিপ্টে কারে কয়’ নাটকটি প্রসঙ্গে নির্মাতা শামীম জামান বলেছেন, আমি অভিনেতা হলেও নির্মাতা হিসাবেও আমাকে কিছু কিছু নাটক নির্মাণ করতে হয়। এবারের ঈদেও তাই করেছি। তিনি বলেন, এবার 'কিপ্টে কারে কয়' নাটকে মোশাররফ করিম ও জুঁইয়ের অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’ এদিকে শামীম জামান শিগগির নির্মাণ করতে যাচ্ছেন আহমেদ শাহাবুদ্দিনের রচনায় নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘এক পাতিলের সংসার’। এতে অভিনয় করবেন মোশাররফ করিম, শামীম জামান ও আ খ ম হাসান প্রমুখ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।