সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে ইরান, দাবি ইরানের রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের।   সংবাদ সংস্থাটির দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।   এছাড়া, জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মেহর নিউজ।   এর আগে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।   একই সঙ্গে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ভিক্টরি বেস-এ বিস্ফোরণের খবরও দিয়েছে এই সংবাদমাধ্যম।

২৩ মিনিট আগে
অভিযোগ প্রমাণিত:৪ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।   বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, ডিএমপির সাবেক এডিসি ও জামালপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাবেক র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহ) জুয়েল চাকমা, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান এবং সাবেক শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত ও পলাতক) আফজালুন নেছা।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব, অভিযোগের গুরুত্ব এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ পর্যালোচনার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

৩৪ মিনিট আগে
ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ডিপোজিটে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক

  প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তির বছরে রিটেইল ডিপোজিটে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকটি জানিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ডিপোজিটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।   ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ বলছে, গত চার বছরে ব্যাংকটির রিটেইল ডিপোজিট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুনে ব্যাংকটির রিটেইল খাতে আমানত ছিল ১৭ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, যা চার বছরের ব্যবধানে বেড়ে ৫০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত এক বছরে এটি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ।   দেশব্যাপী ব্র্যাক ব্যাংকের বিস্তৃত ব্রাঞ্চ ও সাব-ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্ক এ সাফল্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে উল্লেখ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এছাড়াও ব্যাংকটির রিটেইল সেলস ও এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলও আমানত বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।   ব্র্যাক ব্যাংকের এমন লক্ষণীয় মাইলফলক অর্জন সম্পর্কে ব্যাংকটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তির বছরে রিটেইল ডিপোজিটে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমাদের এ অর্জন ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। গ্রাহকদের আস্থা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আমাদের সহকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।’   শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা, উদ্ভাবনী প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের অন্যতম শীর্ষ রিটেইল ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তিতে ব্যাংকটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণ, গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১ ঘন্টা আগে
তুরস্কের সহায়তায় বগুড়ায় হবে ড্রোন নির্মাণ কারখানা

তুরস্কের সহায়তায় বগুড়ায় ড্রোন নির্মাণ কারখানা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বিএসআরএফ সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ কথা জানান তিনি।   প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বগুড়া বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য নতুন কেনা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বগুড়া বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে।   বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। সেই বঞ্চনা কাটাতে বগুড়ার উন্নয়নে স্থানীয় এমপি হিসেবে আমরা দৌড়াদৌড়ি করেছি মাত্র। বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করলে কি দোষ হবে? বগুড়ার উন্নয়ন চাওয়া কি দোষ?   শাহে আলম বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে আমার একটা পাগলামো আছে। এলাকায় নিজ নামে স্কুল-কলেজ কোথাও নিজের অর্থে কোথাও নিজের জমিতে করেছি। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে অতীতে এসব স্কুল কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়নি।’   নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে যত নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, আজ পর্যন্ত পরাজিত হইনি। পারিবারিকভাবে আমরা ব্যবসায়ী। আমি একজন সফল উদ্যোক্তা।’   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি ছিল মোকাতলা উপজেলা হোক। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই এটা করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    এসময় প্রতিমন্ত্রী জানান, সমালোচনা হবে ভেবে তিনি তার ছেলেকে বলার পর সে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। এসব নিয়ে গণমাধ্যমগুলো হাইলাইট করে না বলেও উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম।

১ ঘন্টা আগে
বগুড়ায় হবে সামরিক ড্রোন কারখানা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয়
বগুড়ায় হবে সামরিক ড্রোন কারখানা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।   বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।   অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৮, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
তিস্তার ভয়াল ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা, ঘর সরাতে গিয়ে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চরাঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বসতভিটা রক্ষার শেষ চেষ্টা করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা।   নিহত আব্দুস সালাম (৪৫) রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙনের মুখে পড়া বাড়িঘর সরানোর সময় নদীর ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।   সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম তীরের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী প্রতিনিয়ত তীর ভেঙে নিচ্ছে, ফলে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।   নদীভাঙনে ইতোমধ্যে বহু বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা বিলীন হয়েছে। বাদাম, আমনের বীজতলা, পাট, ভুট্টা, মরিচ ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেতও নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের একাধিক চরাঞ্চলের নিম্নভূমি প্লাবিত হয়েছে।   স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে অন্তত আট থেকে দশটি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। আরও অনেক পরিবার এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। নিজেদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।   স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি মসজিদও ঝুঁকির মুখে পড়বে। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।   বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।   কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীতীর রক্ষায় প্রায় ৩০টি পয়েন্টে দুই লাখ জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলে কাজের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় সেখানে এখনো প্রতিরক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।   এদিকে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মোজাহিদ জানিয়েছেন, ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ছবি: সংগৃহীত
৪৩২ কোটি টাকার মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি দাবি করেছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ ৯ রিপার ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।   বুধবার আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহবি বলেন, বুশেহর শহরের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভূপাতিত করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা।   এমকিউ ৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন। এর মৌলিক কাঠামোর উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এতে মাল্টি স্পেক্ট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম, থার্মাল ক্যামেরা, উন্নত রাডার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হলে একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রোনের দাম ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।   বিশেষায়িত নজরদারি প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত সংস্করণের মূল্য ৫ কোটি থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া স্বাধীনভাবেও এ দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্স–মরক্কো লড়াই: অভিজ্ঞতার বিপক্ষে নতুন শক্তির আত্মপ্রকাশ

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন ধারার দল—দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত উত্থান ঘটানো মরক্কো। শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত বোস্টনে ম্যাচ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে মরক্কোর জার্সি পরা সমর্থকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।   এই ম্যাচ শুধু শেষ চারে ওঠার লড়াই নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত শক্তি ও উদীয়মান শক্তির মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ফ্রান্স তাদের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে চাইবে, অন্যদিকে মরক্কো নিজেদের নতুন পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ খুঁজছে।   ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানান, তাদের লক্ষ্য কেবল কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চায় এবং প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না।   ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল মরক্কো। এবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আবারও শেষ আটে জায়গা করে তারা প্রমাণ করেছে, আগের সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। তবে সেই কাতার বিশ্বকাপেই সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল মরক্কো। তাই আজকের ম্যাচটি তাদের জন্য প্রতিশোধের পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় মঞ্চ।   ওয়াহবি বলেন, গত বিশ্বকাপের তুলনায় দুই দলই আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি জানান, ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো বিশেষ গোপন পরিকল্পনা নেই; নিজেদের কৌশল ও দলীয় ফুটবলের ওপরই তারা আস্থা রাখছেন।   তবে গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার সাইবারি চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না, যা মরক্কোর জন্য বড় ধাক্কা। এরপরও কোচ আশা প্রকাশ করেছেন, দল পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাকে ফিরে পাবে। তিনি আরও জানান, তাদের মূল পরিকল্পনা হলো বলের দখল ধরে রেখে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করা এবং দুই প্রান্তের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানো।   বিশ্লেষকদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড ও অভিজ্ঞতার কারণে ফ্রান্স এখনও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে আজ যদি মরক্কো জয় পায়, তাহলে তারা বিশ্বকাপ জয়ের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।   মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সাংগঠনিক উন্নয়নেও মরক্কো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। দেশটি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এবং আফ্রিকান ফুটবলের অবকাঠামো, একাডেমি ও ক্লাব উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোকে আর সম্ভাবনাময় দল নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংগৃহীত ছবি
আর্জেন্টিনাকে টপকে বিশ্বকাপের মাঝপথে এক নম্বরে ফ্রান্স

মিশরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ চলাকালেই লিওনেল মেসিদের হটিয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে ফ্রান্স।   শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিদিয়ের দেশমের দল মূল্যবান র‍্যাঙ্কিং পয়েন্ট অর্জন করে। ফলে সামান্য ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে তারা।   সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের রেটিং পয়েন্ট ১৯২৫.৮৬, আর আর্জেন্টিনার ১৯২৫.১৫। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ০.৭১ পয়েন্ট। ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করে আবারও শীর্ষস্থান বদল হতে পারে।   বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রীতি ম্যাচে স্পেনের ড্র এবং ফ্রান্সের পরাজয়ের সুযোগে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। বর্তমানে ১৯১২.৩৪ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে স্পেন। তিন দলই এবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।   এদিকে ইতিহাস বলছে, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ জেতার নজির এখনো নেই। ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এক নম্বর দল হিসেবে আসর শুরু করেছিল জার্মানি, কিন্তু তারা বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। শিরোপা জেতে ব্রাজিল।   এরপর ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১০ ও ২০২২ বিশ্বকাপে শীর্ষ র‍্যাঙ্কিং নিয়ে খেলেও শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। একইভাবে ২০০২ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে স্পেন এবং ২০১৮ সালে জার্মানিও এক নম্বর দল হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু করেও ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা হলে ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি ভ্যান্সের
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬

ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার কঠোর জবাব দেবে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।   ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি এই প্রণালিটি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটাই চূড়ান্ত কথা।   তিনি পূর্ববর্তী একটি সমঝোতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মধ্যে মূল চুক্তিটি ছিল এমন—আপনারা যদি জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ করেন, তবে আমরা আমাদের অবরোধ তুলে নেব। কিন্তু আপনারা যদি জাহাজে গুলি বা হামলা চালিয়ে যান, তবে আমরাও পাল্টা আঘাত করব।   গত রাতে ঘটে যাওয়া একটি হামরার দিকে ইঙ্গিত করে ভ্যান্স ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তারা চাইলে এই নিয়ম মেনে চলতে পারে, অথবা গত রাতে যা ঘটেছে ঠিক একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। যতক্ষণ না তারা সেই নৌপথটি উন্মুক্ত করছে এবং জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই ব্যবস্থা ক্রমাগত চলতেই থাকবে। সূত্র: আল-জাজিরা।

ছবি: সংগৃহীত
৪৩২ কোটি টাকার মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি দাবি করেছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ ৯ রিপার ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।   বুধবার আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহবি বলেন, বুশেহর শহরের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভূপাতিত করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা।   এমকিউ ৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন। এর মৌলিক কাঠামোর উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এতে মাল্টি স্পেক্ট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম, থার্মাল ক্যামেরা, উন্নত রাডার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হলে একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রোনের দাম ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।   বিশেষায়িত নজরদারি প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত সংস্করণের মূল্য ৫ কোটি থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া স্বাধীনভাবেও এ দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের মন্তব্যে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা: ইরান
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ও যুদ্ধবিরতি শেষের ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে।   ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা গোটা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ‘আগুন ধরানোর ঝুঁকি’ তৈরি করছে।   ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনির উর্ধ্বতন উপেদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুঃসাহসিক অভিযানের তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।”   তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক শান্তিচুক্তি বাতিল নিয়ে ট্রাম্প যে নতুন উস্কানিমূলক মৌখিক ঘোষণা দিয়েছেন, তা এ অঞ্চলকে আগুন জ্বলে ওঠার দিকে ঠেলে দিয়েছে।”   বেলায়েতি জানান, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইরানের প্রতিরোধের অক্ষ (ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মিত্রদের নেটওয়ার্ক) ‘ট্রিগারে আঙুল দিয়ে রেখেছে।’   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অর্ন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে এর আগে মৌখিক ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তুরস্কের আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে যাওয়াটা কেবল সময়ের অপচয় এবং তিনি আর তাদের সাথে কোনও চুক্তি চান না।   তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, এই যুদ্ধবিরতি শেষ।” তিনি সরাসরি ইরানের নেতাদের “অসুস্থ, সহিংস ও পাগলও” আখ্যা দেন। ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, “আমরা ইতরামির জবাব ইতরামি দিয়ে দেইনা, বরং নির্ভয়ে এবং বাহাদুরির সঙ্গে কাজ করে দেখানোর মাধ্যমে দেই।”

ছবি: সংগৃহীত
সাজাপ্রাপ্ত বিদেশিদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরাতে নতুন উদ্যোগ ইতালির
আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৮, ২০২৬

বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইতালি। এক বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তাদের ইতালীয় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দল।   বুধবার (৮ জুলাই) ব্রাদার্স অব ইতালি দলের আইনপ্রণেতারা এ প্রস্তাব প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের কোনো দেশের নাগরিক এক বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে তাকে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে না।   প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরে আপিলের সুযোগ থাকবে। তবে কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে নিজ দেশে ফিরে তিনি অমানবিক আচরণ, নির্যাতন বা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়বেন, সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন।   খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইতালিতে পুনরায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি এমন কিছু অপরাধের তালিকা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে বিদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের ইতালীয় নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ সৃষ্টি হবে।   এদিকে ক্ষমতাসীন জোটের আরেক শরিক দল ‘দ্য লিগ’ নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করা এবং নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান সহজ করতে পৃথক একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে।   আগামী বছর ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়া নতুন ডানপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের চাপে রয়েছে শাসক জোটের দলগুলো। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়ছে।   সূত্র: রয়টার্স।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি