শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষককে উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামছুল আলম উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, তারা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসরে যাওয়ার তারিখ- যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। দুই উপ-উপাচার্য তাদের বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন। এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত এবং উপাচার্য কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কীভাবে বাদী হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। শুক্রবার সকালে ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনা মাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভার কেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি। “এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভার কেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিল কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি।” মাসুমা হাদি বলেছেন, “আমাকে বুঝানো হয় যে, ওমরের (হাদির বড় ভাই) কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে- ‘এখন আমারা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছিনা।’ “উল্লেখ্য যে, এধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদীর ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোন আইনি জটিলতা নেই । এমনকি বাদীপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে।” জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে আততায়ীর গুলিতে মারাত্মক আহত হন তিনি। পরে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদি ফেইসবুকে দুটি পোস্টে দাবি করেন, ওসমান হাদি হত্যায় বিএনপি, জামায়াত ও অন্তর্বর্তী সরকারের লোকজন জড়িত। এরপর তাকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় আক্রমণ শুরু হলে পরদিন এক পোস্টে তিনি লেখেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলা তদন্তাধীন থাকায় আমার পোস্ট প্রত্যাহার করে নিলাম।” হাদি হত্যার পর ওমর হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি কেন এই সুবিধা নিয়েছেন কিংবা ওমর বা তার পরিবারের কেউ কেন মামলার বাদী হয়নি এ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। অনেকেই লেখেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ পরিবারের কেউ তখন মামলার বাদী হতে চাননি। হাদি হত্যা মামলার বাদী হওয়া নিয়ে দুদিন ধরে সোশাল মিডিয়ায় ‘নোংরামি হচ্ছে’ মন্তব্য করে মাসুমা লিখেছেন, “আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদী নিয়ে কিছুই বলত চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। “সেই বিষয়েও এখন অবধি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আসে পাশে যারা থাকে, তার পরিবারেকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে।” হাদির বোন লিখেছেন, “আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী- সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিক্সায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো, ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো। “ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল, সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নিবে, সেই দিন সকালে ওমর এভার কেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।” মাসুমা প্রশ্ন রেখেছেন, “মামলার বাদীর ব্যাপারে কার কাছে বলছে কে বলছে যে,আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদী হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা কোনো প্রশ্ন ছিল না। “কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘ দিন চলাফেরা করছে, এমন কোন লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদী হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সঙ্গে শুক্রবার বিকালে যোগাযোগ করা হলে আরেকজন ফোন ধরেন। তিনি কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য আগে প্রশ্ন জানতে চান। প্রশ্ন শোনার পর ওই ব্যক্তি পাঁচ মিনিট পর যোগাযোগ করিয়ে দেবেন বলে জানান। তবে এরপর একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও জাবেরের ফোন রিসিভ করা হয়নি।
বিএনপি’র অ্যাডমিনিস্টেশন ও দেশ পরিচালনার কোনও অভিজ্ঞতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলায় একটি পার্টি সেন্টারে এনসিপি আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশে গ্যাস, তৈল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে মানুষ অস্বস্তিতে আছে। শেখ হাসিনার আমলে গত ১৭ বছরে যা দাম বেড়েছিল তিন মাসে ততটুকু গ্যাসের দাম বাড়াতে তারা সক্ষম হয়েছে। সবমিলিয়ে বিএনপি একটি অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মব বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও মব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে সরকার দলীয় লোকজনের সেখানে সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে। বিএনপি সরকার কখনোই দেশ পরিচালনায় ভালো ছিল না।’ এনসিপি এই নেতা বলেন, ‘যারা একটা ছায়া বাজেট দিতে পারে, তারা বাজেটও প্রণয়ন করতে পারে। এই সক্ষমতা এনসিপির তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার কোনও ব্যক্তি বা দল নেই। দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার একমাত্র বিরোধী দলের ভূমিকায় আছে এনসিপিই।’ তিনি বলেন, ‘যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন জনগণকে দেখিয়েছি, সেটা বাস্তবায়ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’ আগামীতে বাংলাদেশে এনসিপির রোল মডেল জেলা হিসেবে কুমিল্লাকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু রায়হানের উপস্থাপনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’র সভাপতি তারিকুল ইসলাম। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব হলেন- সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন শিশিরসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দরা।
ঢাকার অলিগলি, কাঁচাবাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ড্রেন ও আবাসিকের আশপাশে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। দিনের বেলায়ও খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া এসব প্রাণী নগরবাসীর জন্য শুধু বিরক্তির কারণই নয়, বরং একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঁদুর বিভিন্ন রোগ জীবাণুর বাহক। এদের মলমূত্র ও শরীরের সংস্পর্শে খাবার বা পানি দূষিত হলে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় এ ঝুঁকি আরো বেশি। নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানীতে ইঁদুরের বংশবিস্তার ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়া, খোলা জায়গায় ময়লা ফেলে রাখা এবং পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাব পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। অথচ নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো কার্যকর ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরীতে ইঁদুর, মশা ও রোগবাহক অন্যান্য প্রাণীর উপদ্রব ক্রমেই বাড়ছে। আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত অবস্থায় গত মে মাসে হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজন মৃত্যুবরণ করেন। ইঁদুরবাহিত এ ভাইরাস মানুষে সংক্রমিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞরা তার পরও সতর্ক করে বলছেন, হান্টা ভাইরাস ছাড়াও ইঁদুর থেকে অন্তত ৬০ ধরনের রোগ বিভিন্নভাবে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে, যার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে নগর এলাকায় বসবাসরতদের ক্ষেত্রে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম ও বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণী। মানুষের বসতবাড়ির আশপাশের পরিবেশেই মূলত এর বাস। সাধারণত গর্ত, ড্রেন, নর্দমা, আবর্জনার স্তূপ, গুদামঘর, রান্নাঘরের ফাঁকফোকর কিংবা দেয়ালের ফাটলের মতো অন্ধকার ও নির্জন স্থান ইঁদুরের বসবাসের জন্য উপযোগী। ইঁদুরের প্রধান দুটি প্রজাতি হলো বড় আকারের ব্রাউন র্যাট ও গৃহস্থালি বা ছাদের ইঁদুর। তবে বিভিন্ন পরিবেশে আরো নানা প্রজাতির ইঁদুর দেখা যায়। সর্বভুক প্রাণী হওয়ায় এরা শস্যদানা, চাল, গম, ফলমূল, সবজি, খাদ্যবর্জ্য এমনকি পচা জৈব পদার্থও খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। খাদ্য সংকটে কাগজসহ অন্যান্য নরম বস্তু কুটে খাওয়ার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। ফলে অপরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যপূর্ণ পরিবেশে ইঁদুর দ্রুত বংশবিস্তার করে। একসময় গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের জন্য ইঁদুর ছিল বড় দুশ্চিন্তার কারণ। খেতের ধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন শস্য রক্ষায় এর উপদ্রব ছিল দীর্ঘদিনের এক বড় চ্যালেঞ্জ। ফসল রক্ষায় তাই এসব প্রাণীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বাড়তি শ্রম দিতে হতো, পাশাপাশি বহন করতে হতো অতিরিক্ত ব্যয়ও। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে গ্রামাঞ্চলে ইঁদুরের উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বিপরীতে শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানীতে, ইঁদুরের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। ঢাকার কাঁচাবাজার, আবর্জনার স্তূপ এবং আধুনিক আবাসিক ভবনেও এখন ইঁদুরের বিচরণ চোখে পড়ার মতো। প্রাণী গবেষকদের মতে, নগরজীবনের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও খাদ্যবর্জ্যের সহজলভ্যতা শহরে ইঁদুরের আধিপত্য বৃদ্ধি বা বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকসহ নানা বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন, নালা-নর্দমা ও খালগুলো পরিণত হয়েছে প্রাণীটির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে। এছাড়া দ্রুত নগরায়ণের ফলে জলাভূমি ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় ইঁদুর তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ছেড়ে শহরমুখী হয়েছে বলেও মনে করেন প্রাণী গবেষকরা। পাশাপাশি নগরজুড়ে চলমান নির্মাণকাজ এবং উচ্চ জনঘনত্বও এ সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইঁদুর বেড়েছে এটা নিশ্চিত। রাজধানীর যেকোনো কাঁচাবাজার এলাকায় গেলেই দিনদুপুরে বড় বড় ইঁদুর দেখা যায়। হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে গেলে তো প্রচুর দেখা মেলে।’ রাজধানীতে ইঁদুর বাড়ার পেছনে বর্জ্যই মূল কারণ জানিয়ে ড. নিয়ামুল নাসের বলেন, ‘যেকোনো প্রাণী বা কীটপতঙ্গের সংখ্যা বাড়ার একটি মৌলিক সূত্র রয়েছে—খাবারের প্রাপ্যতা যত বাড়ে, সেই প্রাণীর সংখ্যাও তত বাড়ে। রাজধানীতে ইঁদুরের অস্বাভাবিক বাড়ার পেছনেও কাজ করছে একই কারণ। নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, রাস্তার পাশে ও আবাসিক এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, অব্যবস্থাপিত বর্জ্য এবং পড়ে থাকা শস্যবর্জ্য ইঁদুরের জন্য সহজলভ্য খাদ্য সরবরাহ করছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রাণীটির দ্রুত বংশবিস্তার হচ্ছে। শুধু বাজার বা খোলা স্থানেই নয়, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ঢাকার বাসাবাড়িতেও ইঁদুরের উপস্থিতি বেড়েছে।’ সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এভাবে ইঁদুর বাড়তে থাকলে একসময় নগরীতে সাপের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। কারণ সাপের খাবার হলো ইঁদুর। তাই পরিচ্ছন্ন নগরী নিশ্চিত করতে না পারলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি জীবননাশী অন্যান্য পোকামাকড় ও প্রাণীও রাজধানীতে বাড়তে থাকবে।’ ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর বাহক। তাদের মল, মূত্র ও শরীরের সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে নানা রোগে। সেই সঙ্গে খাদ্যদ্রব্য দূষিত হওয়া, পানির উৎস দূষণ এবং ঘরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়া—সব মিলিয়ে এ ঝুঁকি বহুমাত্রিক। নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলে ইঁদুরের পাশাপাশি মশা, মাছি ও অন্যান্য রোগবাহী প্রাণীর সংখ্যাও বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ইঁদুরের বর্ধিত উপস্থিতির সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও সরাসরি জড়িত—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইঁদুর থেকে হান্টা ভাইরাস ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো জীবননাশী রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে বাতজ্বর ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বিস্তারে প্রাণীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইঁদুরের মাধ্যমে সাধারণত হান্টা ভাইরাস ছড়ায় এবং বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। তবে এর ভ্যারিয়েন্টটি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী। তা সত্ত্বেও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। ইঁদুর শুধু ভাইরাসই নয়, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াও ছড়ায়। এর শরীর, লোম, মলমূত্র থেকে এসব জীবাণু সরাসরি বা বাতাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে, এমনকি খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইঁদুর সরাসরি টাইফয়েডের জীবাণু বহন না করলেও যদি কোনো খাদ্য বা বাসনপত্রের ওপর দিয়ে হাঁটে, তখন তার শরীরে থাকা জীবাণুটি সেসবের সঙ্গে লেগে যেতে পারে। এর ফলে মানুষ পরোক্ষভাবে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।’ ইঁদুরের পাশাপাশি ‘চিকা’ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই ইঁদুর ও চিকার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। অথচ চিকার কামড়ে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) হতে পারে, যা চিকিৎসা না নিলে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার মতে, হান্টা ভাইরাসের চেয়েও চিকার মাধ্যমে ছড়ানো র্যাবিস ভাইরাস বেশি ভয়ংকর।’ রাজধানীর অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো রোগী ও তাদের স্বজন চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে ভিড় করেন। তবে হাসপাতালটির সার্বিক পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন সেবাগ্রহীতারা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর, বারান্দা এবং খোলা জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, তীব্র দুর্গন্ধ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। অনেক স্থানে খোলা ড্রেনের পাশেই জমে থাকে বর্জ্যের স্তূপ, যা পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তোলে। এসব এলাকায় মাছি ও মশার পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রবও চোখে পড়ার মতো। ফলে একদিকে যেমন রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানীতে ইঁদুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া মানেই জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইঁদুর সরাসরি সব সময় রোগ ছড়ায় না, তবে এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ইঁদুর থেকে সরাসরি রোগ সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক কম। কিন্তু ইঁদুর সাধারণত পচা-গলা বর্জ্যের মধ্যে বসবাস করে। সেখান থেকে তারা পানিতে যায়, খাদ্যদ্রব্য বা বাসনপত্রে বসে। তখন ওই বর্জ্যে থাকা বিভিন্ন জীবাণু ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রাজধানীতে প্রাণীটি বেড়ে যাওয়া মানে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।’ রাজধানীতে শুধু ইঁদুরই নয়, বর্জ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কীটপতঙ্গ, বিশেষ করে মশা ও মাছির বিস্তারও বাড়ছে; যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অথচ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে বেশ পিছিয়ে বলে জানান পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদা পারভীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো উৎস থেকেই বর্জ্য আলাদা করা। এরপর তা বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে তা সম্পদে রূপান্তর করা। পৃথিবীর অনেক দেশেই এখন বর্জ্য বলে কিছু নেই, সবই সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ঢাকায় মাছের আঁশ, শাকসবজির বর্জ্য, পুরনো কাপড়, এমনকি ওষুধের বোতল—সব একসঙ্গে সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ সমস্যার শুরুটাই গোড়া থেকে।’ দ্রুত কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে ইঁদুর ও মশা-মাছির মতো রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার আরো বাড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নগরবাসীর জন্য যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, আধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর কথাও জানান তারা। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উৎস থেকে বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ করাই সঠিক পদ্ধতি, কিন্তু আমরা এক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছি। তবে নগরবাসীর সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথককরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে, যা ধীরে ধীরে পুরো নগরীতে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।’
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার এলাকায় ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির দ্রুত অবস্থান নেওয়ায় পুরো ঘটনা জটিল পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, খবর পাওয়ার পরই সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয় এবং মানবিক বিবেচনায় প্রথমে তাদের শূন্য লাইনে অবস্থান করতে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের নোম্যান্স ল্যান্ডে রাখা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৯ ঘণ্টা ধরে দুই বাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন চলে। রাতের দিকে বিএসএফ সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দিয়ে তাদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে রাত ১টার দিকে ১৭ জনকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয় তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ১৭ জনের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছিল। তারা যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং কান্নাকাটির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়রা বিজিবির অবস্থানকে মানবিক ও দৃঢ় বলে প্রশংসা করেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকায় ‘পুশইন’ ইস্যুতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩২ শিশু। শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় দুই শিশু এবং সিলেটে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫২২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯১ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৭৭ হাজার ৭৯১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ১৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৮ হাজার ৯৬৪ শিশু। এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৯ হাজার ৬২০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের যে কোনো উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত বরাবরই নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় রাখবে। সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত তার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার নির্বাচন করার পূর্ণ অধিকার রাখে। পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের মতো একটি স্বাধীন দেশকে চাপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব নয়। দেশের প্রয়োজন, কার্যকারিতা এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই নয়াদিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। ভারত যদি রাশিয়ার অত্যাধুনিক এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান বা এস-৫০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক চাপ বা নিষেধাজ্ঞা সেই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না বলেও ইঙ্গিত দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক এগিয়ে চলছে। পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং ভারতের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। কোনো তৃতীয় পক্ষের নির্দেশনা মেনে মস্কো তার সহযোগিতা সীমিত করবে না। এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান প্রসঙ্গে তিনি জানান, একসময় ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আলোচনা হয়েছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি, পরে রাশিয়া নিজস্ব উদ্যোগে প্রকল্পটি সম্পন্ন করে। বর্তমানে ভারত আগ্রহ দেখালে দেশটির কাছে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, এসইউ-৫৭ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কাজে ফিরেই চাকরি হারানোর খবর পেলেন শত শত পোশাক শ্রমিক। ব্যবসায়িক মন্দা ও বিদেশি ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার তিনটি কারখানা থেকে একযোগে ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে আল-মুসলিম গ্রুপ। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সাভারের উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেডের ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনির প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যারের ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলসের ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সকালে উলাইল ও রেডিও কলোনি এলাকার কারখানাগুলোর সামনে গিয়ে দেখা যায়, চাকরি হারানো অনেক শ্রমিক কারখানার ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজছেন। কেউ কেউ ছাঁটাইয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, বৈশ্বিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২০ ধারা অনুযায়ী শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সব ধরনের পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। উলাইল কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক সাব্বির হোসেন বলেন, ঈদের আগে ২০ দিনের বেতন দিয়ে ছুটি দেওয়া হয়। অর্ডার কমার অজুহাতে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আজ এসে জানতে পারলাম চাকরি নেই। অথচ এতদিন নিয়মিত ওভারটাইম করেছি। একই অভিযোগ করেন শ্রমিক নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে কাজ করছি। ছুটি শেষে কারখানায় ঢুকতেই আইডি কার্ড নিয়ে নেয়। পরে বলে মোবাইলে মেসেজ দেওয়া হয়েছে (পাওনাদি)। কিন্তু বাড়ি গিয়ে দেখি কোনো মেসেজই পাইনি। শ্রমিক নেতাদের দাবি, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের পর প্রয়োজন হলে পুনঃনিয়োগের সুযোগ রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানো উদ্বেগজনক। তার মতে, পোশাক খাতে অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক বেশি বেতন পাওয়া শ্রমিকরাই অনেক সময় ছাঁটাইয়ের শিকার হন, যা শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় সংকট তৈরি করে। ঈদের পরপরই প্রায় দুই হাজার শ্রমিকের চাকরি হারানোর ঘটনায় সাভারের শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের একাংশের আশঙ্কা, ক্রয়াদেশ সংকট অব্যাহত থাকলে আরও কারখানায় একই ধরনের ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত কিছু অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন। ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট), গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের আবেদন ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতায় থাকা হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি মিলল। রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল শুক্রবার (৫ জুন) এই রায় দেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) যেসব নীতি গ্রহণ করেছিল, তা এশীয়, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ডজনখানেক দেশের নাগরিকদের এক অনির্দিষ্টকালের আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কংগ্রেসের আইন মেনে অভিবাসীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা সত্ত্বেও ইউএসসিআইএস মাসের পর মাস ধরে তাদের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোনো সংবিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ছাড়াই এই নীতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংস্থাটি মূলত অভিবাসনবিরোধী মনোভাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিচারক ম্যাককনেল তার পর্যবেক্ষণে আরও যুক্ত করেন, এই আবেদনগুলো আটকে থাকার পেছনে আবেদনকারীদের কোনো ভুল ছিল না, বরং তাদের জন্মস্থান কোন দেশে—কেবল সেই পরিচয়ের কারণেই তাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে বেশ কিছু অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা দায়ের করে। আদালতের এই রায়কে সেই জোটের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী লিবারেল লিগ্যাল গ্রুপ ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’-এর প্রধান স্কাই পেরিমান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আদালত একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন—তা হলো, কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং মানুষের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। তবে এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই হামলার পেছনে একজন আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন, যিনি অবশ্য আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ওই ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে তিনি সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবেন। পরবর্তীতে তার প্রশাসন আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ মোট ৩৯টি দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার পক্ষে নিরাপত্তা এবং কঠোর স্ক্রিনিংয়ের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ইউএসসিআইএস ওই ৩৯টি দেশের নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন সুবিধা সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে থমকে দেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেসের তৈরি মূল অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক আইন—উভয়েরই চরম লঙ্ঘন। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং এই ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস সঠিক উপায়ে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আদালত চূড়ান্ত রায় দেন। সূত্র: রয়টার্স।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত কিছু অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন। ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট), গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের আবেদন ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতায় থাকা হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি মিলল। রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল শুক্রবার (৫ জুন) এই রায় দেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) যেসব নীতি গ্রহণ করেছিল, তা এশীয়, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ডজনখানেক দেশের নাগরিকদের এক অনির্দিষ্টকালের আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কংগ্রেসের আইন মেনে অভিবাসীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা সত্ত্বেও ইউএসসিআইএস মাসের পর মাস ধরে তাদের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোনো সংবিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ছাড়াই এই নীতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংস্থাটি মূলত অভিবাসনবিরোধী মনোভাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিচারক ম্যাককনেল তার পর্যবেক্ষণে আরও যুক্ত করেন, এই আবেদনগুলো আটকে থাকার পেছনে আবেদনকারীদের কোনো ভুল ছিল না, বরং তাদের জন্মস্থান কোন দেশে—কেবল সেই পরিচয়ের কারণেই তাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে বেশ কিছু অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা দায়ের করে। আদালতের এই রায়কে সেই জোটের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী লিবারেল লিগ্যাল গ্রুপ ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’-এর প্রধান স্কাই পেরিমান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আদালত একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন—তা হলো, কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং মানুষের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। তবে এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই হামলার পেছনে একজন আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন, যিনি অবশ্য আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ওই ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে তিনি সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবেন। পরবর্তীতে তার প্রশাসন আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ মোট ৩৯টি দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার পক্ষে নিরাপত্তা এবং কঠোর স্ক্রিনিংয়ের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ইউএসসিআইএস ওই ৩৯টি দেশের নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন সুবিধা সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে থমকে দেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেসের তৈরি মূল অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক আইন—উভয়েরই চরম লঙ্ঘন। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং এই ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস সঠিক উপায়ে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আদালত চূড়ান্ত রায় দেন। সূত্র: রয়টার্স।
টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটডান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং সম্পদের পরিমাণে ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ছাড়িয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে উঠে এসেছেন। সাম্প্রতিক সম্পদ বৃদ্ধির ফলে চীনের ধনকুবেরদের তালিকায় নিজের শীর্ষ অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছেন তিনি। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ফলে আম্বানি এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন। ঝ্যাং ইমিং ২০১২ সালে বাইটডান্স প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে টিকটক ও এর চীনা সংস্করণ ডউইন বাইটডান্সের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত। প্রযুক্তি খাতে কোম্পানিটির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকটক নিয়ে রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাইটডান্সের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কোম্পানিটির মূল্যায়ন বাড়াতে সহায়তা করেছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত সম্পদের ওপরও। এদিকে, ১১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি। অবকাঠামো, বন্দর, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ব্যবসার সম্প্রসারণ এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় নতুন পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ঝ্যাং ইমিংয়ের উত্থান সেই প্রবণতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বর্তমানে এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথম স্থানে গৌতম আদানি, দ্বিতীয় স্থানে ঝ্যাং ইমিং এবং তৃতীয় স্থানে মুকেশ আম্বানি রয়েছেন। এছাড়া বৈশ্বিক ধনীদের তালিকাতেও ঝ্যাং ইমিংয়ের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের ভাবমূর্তি এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের তিন ডজন দেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ দেশের সিংহভাগ মানুষ ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর বিশ্বজুড়ে এই নেতিবাচক মনোভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত ‘স্প্রিং ২০২৬ গ্লোবাল অ্যাটিটিউড সার্ভে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বিশ্বের ৩৬টি দেশে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রাপ্ত তথ্যের গড় অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ বা নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ দেশটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব সবচেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের বিরুদ্ধে রেকর্ড পরিমাণ নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৭৯ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এই জরিপ চালানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পিউ রিসার্চ সেন্টার। ইউরোপের দেশগুলোতেও ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনের মতো দেশগুলোতে প্রায় অর্ধেক বা তার চেয়েও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রতি তাদের মনোভাব অত্যন্ত প্রতিকূল। বিপরীতে একমাত্র সাব-সাহারা অঞ্চলের কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এবং ভারতের মতো কিছু রাষ্ট্রে ইসরাইলের পক্ষে তুলনামূলক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে, ভারতের নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম। এই জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বয়স ও রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে মতামতের ভিন্নতা। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে বয়স্কদের তুলনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব অনেক বেশি প্রবল। উদাহরণস্বরূপ, হাঙ্গেরিতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সিদের মধ্যে ৭২ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে পছন্দ করেন না, যেখানে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ। রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কট্টরপন্থী বামপন্থী বা লিবারেল ভাবধারার মানুষেরা ডানপন্থীদের চেয়ে ইসরাইলের প্রতি বেশি ক্ষুব্ধ। এই আদর্শিক ব্যবধান সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ৮৩ শতাংশ লিবারেল বা উদারপন্থী নাগরিক ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, অথচ অনুদারপন্থী বা কনজারভেটিভদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩৭ শতাংশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং সুইডেনে বামপন্থী মতাদর্শের প্রায় ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মানুষ ইসরাইলকে নেতিবাচক চোখে দেখেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, গত ২০১৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি দ্রুত ভেঙে পড়েছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনামূলক ডেটা থাকা ২৪টি দেশের মধ্যে ১৩টি দেশেই ইসরাইল বিরোধী মনোভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যেমন আর্জেন্টিনায় গত বছর যেখানে ৪৬ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন, এবার তা বেড়ে ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যেও ইসরাইলের ওপর মানুষের ক্ষোভ আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। কেবল গ্রিসে ইসরাইলের পক্ষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে, যদিও সেখানেও মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে সমর্থন করেন। এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর থেকে বিশ্ববাসীর আস্থা প্রায় সম্পূর্ণ উঠে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, স্পেন, সুইডেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। জরিপভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র কেনিয়া এবং ফিলিপাইনে অর্ধেকের বেশি মানুষ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রতি কিছুটা আস্থা দেখিয়েছেন। নেতানিয়াহুর প্রতি বিশ্ববাসীর এই অনাস্থা গত বছরের তুলনায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই পরিবর্তনের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে গত বছর ৬৪ শতাংশ মানুষ নেতানিয়াহুর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন, তা এবার বেড়ে ৭৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ইতালিতেও নেতানিয়াহুর ওপর সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশকারীর সংখ্যা গত বছরের ৪৫ শতাংশ থেকে লাফিয়ে এক লাফে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কারণেই বিশ্বজুড়ে ইসরাইল এবং নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় এই ঐতিহাসিক ধস নেমেছে।
জম্মু ও কাশ্মীর ‘কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং কখনো হবেও না’ বলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। বিতর্কিত এ অঞ্চলটি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে শুরু হওয়া এক কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে নয়াদিল্লির দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ এ মন্তব্য করেছে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর পাকিস্তানের পক্ষে জবাব দেওয়ার অধিকার (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে এ মন্তব্য করেন পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি। ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর যে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং কখনো হবেও না। এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জম্মু-কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন—উভয় সংকটেরই ধারাবাহিক প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি উঠে এসেছে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী এ দুই সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি। তার ই বক্তব্যের পরই দুদেশের মধ্যে এ কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়। সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আসিম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালীন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সাত দশকেরও বেশি সময় পরও কাশ্মীর বিরোধটি এখনো নিরাপত্তা পরিষদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আসিম আহমেদ বলেন, পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি বজায় রাখতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাশ্মীর বিরোধের একটি ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। কাশ্মীরি জনগণকে অবশ্যই তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে। পাকিস্তানি এই দূত আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিরোধগুলোর প্রাসঙ্গিকতা বারবার ফুটে উঠছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং এগুলোর সমাধান হওয়া আবশ্যক। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিনিধি বলেন, ফিলিস্তিনের চলমান ট্র্যাজেডি, বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে। রক্তপাত বন্ধে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর, নিরাপত্তা পরিষদ অবশেষে গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবটি পুরোপুরি এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। আসিম আহমেদ আরও যোগ করেন, ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে ইসলামাবাদ। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং বিশেষ রাজনৈতিক মিশনগুলোর অপরিহার্য ভূমিকার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত আসিম আহমেদ। তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং এ মিশনগুলো যেন কার্যকর, পর্যাপ্ত সম্পদসমৃদ্ধ ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো একটি অধিকতর গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল এবং জবাবদিহিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে ‘ভেটো’ ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তাই এটি স্পষ্ট যে, নিরাপত্তা পরিষদে একক স্থায়ী সদস্য পদের সম্প্রসারণ এবং ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন লক্ষ্যের পরিপন্থি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।