সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
যে কারণে নিয়মিত পান করবেন আদা চা

ক্লান্তি দূর কিংবা অতিথি আপ্যায়নে চায়ের জুড়ি নেই। তবে চায়ের সাথে আদা ব্যবহার করতে পারেন। এতে রয়েছে দারুণ উপকারিতা।   হার্ট ভালো রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মিত আদা চা পান করলে হার্ট ভালো থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্ত জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ করে, কোলেস্টরল কমিয়ে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।   রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে আদায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে ও স্ট্রেস কমায়। আদা পানির বাষ্প নিলে বন্ধ নাক খুলে যায়।    মাথা ঘোরা কমে প্লেনে উঠলে বা পাহাড়ি রাস্তায় যদি মাথা ঘোরার সমস্যা থাকে, তা হলে আদা চা পান করলে সেটা কমে যায়।   ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে যাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য প্রতিদিন আদা চা পান করার সুফল অনেক। কারণ এই চা এইচবিএ১সি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্ক সচল রাখে এবং অ্যালঝাইমারের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ক্রনিক ইনফ্লেমেশন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মানুষকে আরও বুড়ো করে তোলে। আর এটাই পরবর্তীকালে অ্যালঝাইমার নামক অসুখে রূপান্তরিত হয়। আদার মধ্যে উপস্থিত বায়ো-অ্যাকটিভ উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মস্তিষ্কের এই ইনফ্লেমেশন রোধ করে মস্তিষ্ক সচল ও সক্রিয় রাখে।   বদহজমের সমস্যা দূর করে পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হলো বদহজম। আদা চা এই সমস্যা দূর করে এবং তার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সেটাও কম করতে সাহায্য করে। ঋতুস্রাবের সময় পেট ব্যথা কম করে। অনেক মহিলাই ঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথায় ভোগেন। আদা চা হলো এর কার্যকরী সমাধান। আদা চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে আরাম পাওয়া যায়। তা ছাড়া গরম পানিতে আদা দিয়ে সেই পানি তোয়ালে ভিজিয়ে তলপেটে ধরলেও উপকার পাওয়া যায়।   স্ট্রেস কমায় আধুনিক যুগে আমরা কম-বেশি সকলেই স্ট্রেসের শিকার। আদার কড়া গন্ধ ও স্বাদ স্ট্রেস, টেনশন দুটোই দূর করে। ক্যানসার প্রতিরোধ করে। প্যানক্রিয়াস ও কোলোন ক্যানসারে দারুণ কাজ দেয় আদা চা। নিয়মিত আদা চা পানে এই জাতীয় ক্যানসারের কোষ সহজে ছড়িয়ে পড়ে না।    রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে আদা চায়ে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেল। এগুলো রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং কার্ডিও ভাস্কুলার সমস্যা থাকলে সেটা দূর করে। ধমনীর চারপাশে মেদ জমতেও বাধা দেয় আদা চা। এটি একটি প্রাকৃতিক পেন কিলার। পেন কিলার না খেয়ে আদা চায়ের উপরে ব্যথা উপশমের জন্য ভরসা রাখা যেতে পারে। অস্টিয়ো আরথ্রাইট্রিস, মাথা ব্যথা, ঋতুস্রাবের ব্যথা, গলা ব্যথা এবং পেশীর ব্যথার মতো নানা ব্যথার দূর করে এই চা।    ওজন কমায় আদা চা পান করলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে, ফলে বাড়তি খাওয়া অনেক কম হয়। এতে ওজন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫ মিনিট আগে
ফের ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা ফেরায় রিজার্ভ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১২ আগস্ট) দিন শেষে দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।   চলতি মাসের শুরুতে ২ আগস্ট রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ ছিল ৩১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি মাসে উভয় সূচকেই রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।    তবে মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। যদিও এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলারের মত আছে। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত অন্তত ৩ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়।   আওয়ামী লী‌গ সরকা‌রের শেষ সম‌য়ে অর্থ পাচার ও রেমিট্যান্স রপ্তানিতে ধীরগতির কারণে রিজার্ভ চাপে পড়ে। ওই সময় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।   বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ছিল। তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভে চাপ তৈরি হয় এবং তা কমতে থাকে।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফের হিসাবে তা ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন আমদানিতে নানা বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়।   পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে ডলারের বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করা হয়। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। তুলনামূলক উদার বাণিজ্য নীতির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে, যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে।   বর্তমন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার সময় রিজার্ভ ছিল ৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার।

৮ মিনিট আগে
গুম ও মানবাধিকার আইনে দায়মুক্তি, উদ্বেগ জানাল টিআইবি

পতিত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের গুম-খুনসহ বহুমাত্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতা থেকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল কোনো শিক্ষা নিয়েছে কি না এমন প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।    অংশীজনদের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ উপেক্ষা করে খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ এবং খসড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।   বুধবার (১২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এমন উদ্বেগের কথা জানায় টিআইবি।    টিআইবি বলছে, অনুমোদিত দুই খসড়া আইনে বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় রাখা হলেও মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে অংশীজনরা আপত্তি জানিয়েছিলেন, সেগুলো বহাল রাখা হয়েছে। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের যে খসড়াটি অনুমোদিত হয়েছে, সেখানেও অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে দায়মুক্তি সহায়ক ধারাসমূহ বহাল রাখা হয়েছে।     এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় শৃঙ্খলাবাহিনী হিসেবে সংজ্ঞায়িত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অথচ নতুন খসড়ায় ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারা প্রায় অপরিবর্তিত রেখে এসব ঘটনায় কমিশনকে সরকার বা বাহিনী প্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। ২০০৯ সালের আইনের এ দুর্বলতার কারণেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। একই কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদাও অর্জন করতে পারেনি।   টিআইবি অভিযোগ করে বলেছে, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটিতে স্পিকার, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে রাখা হয়েছে। অন্য সদস্যদের মনোনয়নের ক্ষেত্রেও সরকারের প্রভাব থাকার সুযোগ থাকায় কমিশনের ওপর সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   কমিশনে নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা না থাকায়ও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি।   এ ছাড়া কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বলা হলেও এটি সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতামুক্ত থাকবে এ বিষয়টি খসড়ায় স্পষ্ট করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।    অন্যদিকে ঢাকার বাইরে কার্যালয় স্থাপন, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে সরকারের পূর্বানুমোদন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ কমিশনকে কার্যত সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে টিআইবি।   ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের সময় প্রণীত মানবাধিকার কমিশন আইনের প্রথম খসড়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘কেবল সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ’কে অজুহাত হিসেবে গ্রহণ না করার বিধান ছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় ওই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, একই সঙ্গে ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ বা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন স্থান পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ‘সামরিক আটক কেন্দ্র’কে কমিশনের এখতিয়ার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ কী? তাহলে কি আয়নাঘর বহাল রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সমর্থন রয়েছে? গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গুমের মতো স্পর্শকাতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার কমিশনের বাইরে রেখে পুলিশের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। গুমের অধিকাংশ ঘটনায় যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তারা শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য। ফলে তাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্ত পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।   তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমে জড়িত থাকার অভিযোগের ক্ষেত্রে অধস্তন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন’ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সন্তোষজনক সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কার্যধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দিতে পারবেন। বাস্তবে এ ধরনের বিধান গুমের অপরাধের বিচারহীনতা নিশ্চিত করবে কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে।   টিআইবি বলছে, অনুমোদিত খসড়ায় গুমের সংজ্ঞায় জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি ২০২৫ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনকে যে ধরনের আটককেন্দ্র, কারাগার, হাজতখানা ও গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, অনুমোদিত খসড়ায় তার অনেকটাই রাখা হয়নি।   জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় মানবাধিকার, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংসদে উত্থাপনের আগে দুই খসড়া আইনই ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করারও দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

১৭ মিনিট আগে
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগেই দেশে ফিরছেন জাকের-মুশফিক

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে আগামীকাল মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। তার আগে জাকের আলি অনিক ও মুশফিক হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ 'এ' দলের প্রস্তুতিতে যোগ দেবেন তারা।   অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস। শতভাগ ফিট হয়ে ওঠায় তাকে একাদশে রাখতে আর কোনো বাধা নেই। পাশাপাশি ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও।   লিটন ফেরায় ব্যাটিং লাইন আপে বাড়তি শক্তি যোগ হচ্ছে। সেটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এই সিরিজে নাহিদ রানাকে না পাওয়া বড় ধাক্কা বাংলাদেশের। তবে শরিফুল দ্বিতীয় টেস্টে ফিরলে বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণে সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে।

২৭ মিনিট আগে
ফাইল ছবি
জাতীয়
গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

দেশে গ্যাসের চাহিদা পূরণে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। বাকি তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে।    বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়।    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।    এছাড়া হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার দরে এসব এলএনজি কেনার সুপারিশ করা হয়।    অন্যদিকে, সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।    এছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।    জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   বুধবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রাশীদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।   সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।   বিশেষ করে পর্যটন, মানবসম্পদ ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক কল্যাণমূলক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।   মানবসম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে হুমায়ুন কবির মালদ্বীপকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানান।   দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

ছবি: সংগৃহীত
মাঝ আকাশে বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি, পাইলটের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ

দিল্লি থেকে থাইল্যান্ডের ফুকেট গিয়ে আবার ফিরতি ফ্লাইট নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি ফেরার মাঝে বিরতি ছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টার। এরইমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট বিমানের ক্রুদের নিয়ে পার্টিতে গিয়েছিলেন।   গত ৪ আগস্ট মাঝ আকাশে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনিতে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের পাইলটের বিরুদ্ধে পার্টি করা ছাড়াও আরো সব গুরুতর অভিযোগ আনছেন যাত্রী ও ফ্লাইটের ক্রু মেম্বাররা।   এর আগে পরপর দুটি ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হন অভিযুক্ত পাইলট। তার রক্তে মারিজুয়ানা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত পাইলট দিল্লি থেকে ফুকেট যাওয়ার সময় একবার ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন।   নিয়ম অনুযায়ী তখন একজন ক্রু মেম্বারকে ককপিটের জাম্প সিটে বসিয়ে রেখে যান তিনি। কিন্তু সেই নারী ক্রু ককপিটের কাজে অভ্যস্ত ছিলেন না। তাই পাইলট ফিরে এসে তাকে তিরস্কার করেন। তবে ফুকেটে নামার পর তার মনে হয়, বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। বিষয়টি মিটমাট করতে তিনি সবাইকে পার্টিতে নিয়ে যান।   তবে পার্টিতেও মন গলেনি সেই ক্রু মেম্বারের। ফেরার সময় তিনি ইনচার্জের কাছে চেয়ে বিমানের পেছনের দিকে দায়িত্ব নেন। বকার ভয়ে তিনি ককপিটের আশপাশে থাকতে চাননি।     ফ্লাইটের আগে, ফ্লাইটের ভেতরে এবং নামার পরও পাইলটের আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলট সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো-এর একজন তদন্তকারী তাকে সতর্ক করে দিয়ে মনে করিয়ে দেন, সিসিটিভি-র মাধ্যমে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তারপরও তাকে বসানোর জন্য সাহায্য করতে হয়েছিল। এমনকি প্রস্রাবের নমুনা জমা দেওয়ার সময়ও পাইলটকে শারীরিকভাবে সাহায্য করতে হয়েছিল।   একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তত একজন কেবিন ক্রু পাইলটের বিরুদ্ধে মারিজুয়ানা সেবনের অভিযোগ এনে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি ফিরছিল। ওড়িশার আকাশসীমায় মাঝ-আকাশে হঠাৎ বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনার সময় বিমানের প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না, দায়িত্বে ছিলেন কো-পাইলট।   বিমানটি তীব্র গতিতে নিচে নামার সময় ভেতরে সাময়িকভাবে 'নেগেটিভ গ্র্যাভিটি' বা ঋণাত্মক মাধ্যাকর্ষণ তৈরি হয়। ফলে ককপিটের জিনিসপত্র এবং সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীরা শূন্যে ভেসে উঠে ছিটকে পড়েন। এআই২৩৭৯ ফ্লাইটের সেই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু আহত হন।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্লাইটের একজন যাত্রী পাইলটের কথা বলতে গিয়ে জানান, ‘আমার ভাই এবং আমিই ছিলাম ফ্লাইটে ওঠা শেষ যাত্রী। পাইলটও আমাদের সাথেই ফ্লাইটে উঠেছিলেন। আমি তার সাথে কথা বলেছিলাম এবং জিজ্ঞেস করেছিলাম যে ফ্লাইটটি সঠিক সময়ে আছে কি না এবং আমাদের দেরি হয়ে গেছে কি না। তিনি উত্তর দিতে অনেক সময় নিচ্ছিলেন এবং তার চোখগুলো ছিল লাল। আমি তখন আমার ভাইকে বলেছিলাম যে, তাঁকে নেশাগ্রস্ত মনে হচ্ছে, আর তারপর কী ঘটেছিল তা তো আপনারা সবাই জানেনই।’    ফ্লাইটটি যখন হঠাৎ উচ্চতা হারাচ্ছিল, সেই মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ফ্লাইট শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টা পর, যখন সকালের নাশতা দেওয়া শেষ এবং সবাই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন আমার ভাই আর আমি একসাথে বসেছিলাম এবং আমাদের চোখ বন্ধ ছিল। হঠাৎ আমরা খুব জোরালো একটা শব্দ শুনলাম, ঠিক যেন একটা ফাইটার জেটের মতো। পরের মুহূর্তেই আমি দেখলাম আমার ভাই তিন থেকে চারবার ছাদে গিয়ে বাড়ি খাচ্ছে, আর চারপাশের সবকিছু উড়ে বেড়াচ্ছে। মানুষ রক্তাক্ত হচ্ছিল, চিৎকার করছিল, কান্নাকাটি করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছিল এবং পাইলটকে এটি থামাতে বলছিল।’    পাইলটের আচরণের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে এই প্রথমবার আমি দেখলাম কোনো পাইলট ককপিট থেকে বের হয়ে যাত্রীদের নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে কেউ ভিডিও রেকর্ড না করে বা এটা-সেটা না করে।    তার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল- তিলকে তাল করবেন না। আমরা তখন জীবন-মরণের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম; এই পরিস্থিতিতে কার এত ভিডিও রেকর্ড করা নিয়ে মাথাব্যথা থাকে? যাত্রীদের নিরাপত্তা বা চিকিৎসা তার মাথায় ছিল না। তার উদ্দেশ্য ছিল যেকোনোভাবে দিল্লিতে ল্যান্ড করা, যাতে তাকে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে না হয় বা এই জাতীয় কিছু এড়ানো যায়। এই কারণেই তিনি অন্য কোথাও কোনো ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং করেননি।’   তবে অভিযুক্ত পাইলট মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘুমের সমস্যার জন্য ঔষধ সেবনের কথা জানিয়েছেন। একটি ফ্লাইট সেফটি বিবৃতিতে পাইলট বলেন, ‘ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে আমি আগের কিছু সময় ধরে আলাদাভাবে ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলাম, যার জন্য আমার পারিবারিক ডাক্তার আমাকে ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন।’    তিনি আরও বলেন, ’যাত্রাবিরতির সময় আমি নিজে ঘুমানোর চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু সহজে ঘুম আসছিল না।’   তিনি জানান, ’ডিউটি রোস্টারটি আইনিভাবে নির্ধারিত বিশ্রামের সীমার মধ্যে থাকলেও, এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা দিনের বেলার প্রাপ্য বিশ্রামের সময় কমিয়ে দিয়েছিল।’   ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা যৌথভাবে এয়ারবাসের বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত চলার সময়ে পাইলট ও কো পাইলটকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
গুম ও মানবাধিকার আইনে দায়মুক্তি, উদ্বেগ জানাল টিআইবি

পতিত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের গুম-খুনসহ বহুমাত্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতা থেকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল কোনো শিক্ষা নিয়েছে কি না এমন প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।    অংশীজনদের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ উপেক্ষা করে খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ এবং খসড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।   বুধবার (১২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এমন উদ্বেগের কথা জানায় টিআইবি।    টিআইবি বলছে, অনুমোদিত দুই খসড়া আইনে বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় রাখা হলেও মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে অংশীজনরা আপত্তি জানিয়েছিলেন, সেগুলো বহাল রাখা হয়েছে। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের যে খসড়াটি অনুমোদিত হয়েছে, সেখানেও অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে দায়মুক্তি সহায়ক ধারাসমূহ বহাল রাখা হয়েছে।     এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় শৃঙ্খলাবাহিনী হিসেবে সংজ্ঞায়িত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অথচ নতুন খসড়ায় ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারা প্রায় অপরিবর্তিত রেখে এসব ঘটনায় কমিশনকে সরকার বা বাহিনী প্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। ২০০৯ সালের আইনের এ দুর্বলতার কারণেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। একই কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদাও অর্জন করতে পারেনি।   টিআইবি অভিযোগ করে বলেছে, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটিতে স্পিকার, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে রাখা হয়েছে। অন্য সদস্যদের মনোনয়নের ক্ষেত্রেও সরকারের প্রভাব থাকার সুযোগ থাকায় কমিশনের ওপর সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   কমিশনে নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা না থাকায়ও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি।   এ ছাড়া কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বলা হলেও এটি সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতামুক্ত থাকবে এ বিষয়টি খসড়ায় স্পষ্ট করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।    অন্যদিকে ঢাকার বাইরে কার্যালয় স্থাপন, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে সরকারের পূর্বানুমোদন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ কমিশনকে কার্যত সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে টিআইবি।   ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের সময় প্রণীত মানবাধিকার কমিশন আইনের প্রথম খসড়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘কেবল সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ’কে অজুহাত হিসেবে গ্রহণ না করার বিধান ছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় ওই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, একই সঙ্গে ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ বা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন স্থান পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ‘সামরিক আটক কেন্দ্র’কে কমিশনের এখতিয়ার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ কী? তাহলে কি আয়নাঘর বহাল রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সমর্থন রয়েছে? গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গুমের মতো স্পর্শকাতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার কমিশনের বাইরে রেখে পুলিশের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। গুমের অধিকাংশ ঘটনায় যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তারা শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য। ফলে তাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্ত পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।   তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমে জড়িত থাকার অভিযোগের ক্ষেত্রে অধস্তন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন’ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সন্তোষজনক সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কার্যধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দিতে পারবেন। বাস্তবে এ ধরনের বিধান গুমের অপরাধের বিচারহীনতা নিশ্চিত করবে কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে।   টিআইবি বলছে, অনুমোদিত খসড়ায় গুমের সংজ্ঞায় জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি ২০২৫ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনকে যে ধরনের আটককেন্দ্র, কারাগার, হাজতখানা ও গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, অনুমোদিত খসড়ায় তার অনেকটাই রাখা হয়নি।   জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় মানবাধিকার, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংসদে উত্থাপনের আগে দুই খসড়া আইনই ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করারও দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে ভারতের কৃষিপণ্যে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা

ভারতের কৃষিপণ্য রফতানিতে একের পর এক ধাক্কা আসছে। কখনও আম, কখনও চাল, আবার কখনও মসলা- বিভিন্ন দেশের আপত্তি ও নিষেধাজ্ঞায় প্রশ্ন উঠছে ভারতের খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, কীটনাশকের ব্যবহার, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং রফতানি সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে।   সম্প্রতি জাপান ভারতীয় আম আমদানি স্থগিত করেছে, চীন তিনটি ভারতীয় চাল রফতানিকারকের আমদানি অনুমতি বাতিল করেছে। এছাড়া হংকং কয়েকটি ভারতীয় মসলা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতীয় জিরার চালান পরীক্ষা আরও বাড়িয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনও সমস্যা নয়। বরং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্য উৎপাদক ভারত এবং উন্নত দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান খাদ্য নিরাপত্তা, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণের চাহিদার মধ্যে একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।   জাপানে আম রফতানিতে বড় ধাক্কা ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌয়ের রেহমানপুর গ্রামের ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) কেন্দ্রে তখন ব্যস্ত সময়ের প্রস্তুতি চলছিল। ফল ও সবজিকে জীবাণুমুক্ত ও পোকামাকড়মুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত এই কেন্দ্রে জাপানে আম রফতানির মৌসুম শুরু হওয়ার কথা ছিল। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের চাষিরা রফতানির জন্য তাদের সেরা আলফানসো ও কেসর আম সংরক্ষণ করেছিলেন। রফতানি নথিপত্রও প্রস্তুত ছিল, পণ্য পাঠানোর সময়সূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছিল।   কিন্তু মার্চে জাপানের কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শকেরা ওই কেন্দ্রে পরিদর্শনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ধূমায়ন, জীবাণুমুক্তকরণ এবং সনদ দেওয়ার পদ্ধতি পর্যালোচনা করে তারা পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর পরই জাপান ভারতীয় আমের আমদানি স্থগিত করে।   ৩১ মার্চ জাপানের ইয়োকোহামার উদ্ভিদ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানায়, ২৫ মার্চ বা তার পর ইস্যু করা পরিদর্শন সনদযুক্ত কোনও ভারতীয় আমের চালান আপাতত গ্রহণ করা হবে না। কার্যক্রমের মান উন্নত হয়েছে- এ বিষয়ে জাপানি পরিদর্শকেরা নিশ্চিত হওয়ার পরই আমদানি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   প্রায় দুই দশকের মধ্যে ভারত-জাপান আম বাণিজ্যে এটি ছিল বড় ধরনের বিঘ্ন। এর আগে ১৯৮৬ সালে ফলমাছি বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আশঙ্কায় জাপান ভারতীয় আম আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল। ২০০৬ সালে ভারত ভিএইচটি অবকাঠামো তৈরি, কীটপতঙ্গ পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং প্রতি বছর জাপানি পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।   ২০২৬ সালের নতুন নিষেধাজ্ঞায় জাপানে অনুমোদিত ভারতের ছয় জাতের আম- আলফানসো, কেসর, ল্যাংড়া, বাঙ্গানাপল্লি, চৌসা ও মালিকা- ওপর প্রভাব পড়েছে। মূলত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আম রফতানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টিই এর আওতায় পড়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপান ভারত থেকে প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের তাজা ও প্রক্রিয়াজাত আম আমদানি করেছিল। অর্থের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও ভারতীয় রফতানিকারকদের কাছে জাপানের বাজারের গুরুত্ব অনেক বেশি।   কারণ, জাপান বিশ্বের অন্যতম উচ্চমূল্যের বাজার। দেশটি ভালো মানের আমের জন্য তুলনামূলক বেশি দাম দেয়। একই সঙ্গে জাপানের মতো কঠোর বাজারে প্রবেশের অনুমোদন অন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও ভারতীয় পণ্যের মানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।   মুম্বাইভিত্তিক আম রফতানিকারক বিক্রম শাহ ২০২৫ সালে প্রায় আড়াই টন আম জাপানে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পরিমাণের দিক থেকে জাপান ভারতের সবচেয়ে বড় বাজার না হলেও বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্রম শাহ বলেন, জাপানের ক্রেতাদের সঙ্গে আস্থা তৈরি করতে তাদের ছয় বছর সময় লেগেছে। তিনি দুইবার ওসাকা গিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তাদের কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করে পণ্যের মান নিয়ে তাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। তার ভাষায়, এমন সম্পর্ক তৈরি করতে বছরের পর বছর লাগে, কিন্তু একটি মৌসুমেই তা নষ্ট হয়ে গেল।   জাপানি বাজার হারিয়ে বিপাকে আমচাষিরা জাপানের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতের আমচাষিরা এমনিতেই নানা সমস্যায় রয়েছেন। মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে আলফানসো আমের বড় অংশের ফলন নষ্ট হয়েছে। এর ওপর পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। জাপানের বাজার গড়ে তুলতে বছরের পর বছর বিনিয়োগ করা রফতানিকারকেরা হঠাৎ চুক্তি বাতিল এবং গুদামে আম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরির আলফানসো আমচাষি রাজেশ পাতিল বলেন, তার পরিবার দুই প্রজন্ম ধরে কোঙ্কন উপকূলের ৩ একর জমিতে আম চাষ করছে।   তার মতে, জাপানের বাজারে দেশীয় নিলামের তুলনায় অনেক বেশি দাম পাওয়া যেত। তাই জাপানের কঠোর আমদানি মান পূরণ করতে তিনি বাগানে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেন। রাজেশ পাতিল জানান, গ্রেডিং ও প্যাকেজিং সরঞ্জাম কিনতে প্রায় ৮০ হাজার রুপি খরচ করেছেন। একই সঙ্গে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং আম সংগ্রহ ও প্যাকেজিংয়ের পদ্ধতিও পরিবর্তন করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারের তুলনায় জাপানের বাজার থেকে প্রায় দ্বিগুণ আয় করা সম্ভব হতো। তাই রফতানি ব্যবস্থাও ফল উৎপাদনের মতোই নির্ভরযোগ্য হবে- এটাই তার প্রত্যাশা ছিল।   চীনের আপত্তি ভারতীয় চালে শুধু আম নয়, ভারতীয় চালও এবার বড় আন্তর্জাতিক বাজারে সমস্যার মুখে পড়েছে। ১৭ এপ্রিল চীন তিনটি ভারতীয় চাল রফতানিকারকের আমদানি অনুমতি বাতিল করে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস তাদের চালানে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড অরগানিজম বা জিএমও’র উপস্থিতির দাবি করে চালান প্রত্যাখ্যান করে। তবে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকেরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, চালান পাঠানোর আগেই পণ্যগুলো জিএমওমুক্ত হিসেবে সনদ পেয়েছিল। ভারত সরকারও জানিয়েছে, দেশটির ধান ও চাল উৎপাদনব্যবস্থা জেনেটিক পরিবর্তনমুক্ত।   ভারতের কৃষিপণ্য রফতানিতে চালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ১২৫০ কোটি ডলারের চাল রফতানি করেছে ভারত। দেশটির মোট কৃষিপণ্য রফতানির ২০ শতাংশেরও বেশি আসে চাল থেকে। তিনটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের সামনে এখন চীনের বাজারে ফিরে যাওয়ার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এপেডা) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানায়। পরে ৮ জুন চীনে রফতানির জন্য জিএমও পরীক্ষা করতে অনুমোদিত পরীক্ষাগারগুলোর একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়।   পরীক্ষাগারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন নয়াদিল্লির কৃষিবিজ্ঞানী এস কে সিংয়ের মতে, চীনের সঙ্গে এই বিরোধ ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে। তিনি বলেন, ভারতের পরীক্ষাগারগুলো মূলত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও অ্যাফ্লাটক্সিন পরীক্ষায় দক্ষতা অর্জন করেছে, কারণ এত দিন অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পরীক্ষার চাহিদাই বেশি ছিল। কিন্তু চীনের জিএমও যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন ধরনের সক্ষমতা ও অবকাঠামো দাবি করে।   রফতানিকারকদের সনদ স্বীকৃত পরীক্ষাগার থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতের সনদ দেওয়ার পুরো নেটওয়ার্ক এখনও সমানভাবে উন্নত হয়নি। জিএমও পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বিশ্লেষণ করতে পারে- এমন পরীক্ষাগারের সংখ্যা খুবই কম। এগুলোর বেশির ভাগই নয়াদিল্লি ও তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদে অবস্থিত। ফলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যের রফতানিকারকদের নমুনা পরীক্ষার জন্য শত শত কিলোমিটার দূরে পাঠাতে হয়।   মসলা রফতানিতেও সতর্কবার্তা আম ও চালের আগে ভারতীয় মসলার রফতানিতেও বেশ কিছু সতর্কবার্তা এসেছে। হংকং কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের কারণে ভারতের কয়েকটি মসলা পণ্যের আমদানি স্থগিত করেছে। পরীক্ষায় প্রায় ১২ শতাংশ নমুনায় মানগত বিচ্যুতি পাওয়া যায়।   অন্যদিকে, ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের র‍্যাপিড অ্যালার্ট সিস্টেমে ভারতীয় মসলার বিষয়ে ৩১২টি সতর্কতা পাওয়া যায়। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ভারতীয় জিরার চালানে পরীক্ষা করার হার বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করেছে ইইউ। খাদ্য নিরাপত্তা বিজ্ঞানী অনন্যা বোসের মতে, এসব সমস্যার বড় কারণ ভারতের কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার বিচ্ছিন্নতা। তিনি বলেন, একজন কৃষক তার পণ্য একজন সংগ্রহকারীর কাছে বিক্রি করেন, সেই সংগ্রহকারী বিক্রি করেন ব্যবসায়ীর কাছে, পরে ব্যবসায়ী তা প্রক্রিয়াজাতকারীর কাছে পাঠান। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কৃষক কী কীটনাশক ব্যবহার করেছেন- সেই তথ্য অনেক সময় হারিয়ে যায়।   অনন্যা বোস বাধ্যতামূলক ডিজিটাল কীটনাশক ব্যবহারের রেকর্ড চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রকেরা এখন মাঠ থেকে রফতানি চালান পর্যন্ত পণ্যের পূর্ণাঙ্গ উৎস-অনুসরণ বা ট্রেসেবিলিটি চান। ভারতের অনেক রাজ্যে এখনও এটিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।   কৃষি উৎপাদনে শক্তিশালী, কিন্তু মান নিশ্চিতে পিছিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা ভারতের কৃষি উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত প্রত্যাশার ব্যবধানকে স্পষ্ট করেছে। জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো বড় বাজারগুলো এখন খাদ্যপণ্যের উৎস, নিরাপত্তা, কীটনাশকের ব্যবহার এবং মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর।   ভোক্তাদের স্বচ্ছতার দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন ধরনের কীটপতঙ্গের বিস্তার, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা- সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য নিরাপত্তার মান আরও কঠোর হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রতিযোগী দেশগুলো দ্রুত নিজেদের ব্যবস্থার উন্নতি করছে। থাইল্যান্ড দেশব্যাপী ট্রেসেবিলিটি বা পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ভিয়েতনাম কৃষকদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করছে। ব্রাজিল ও চিলি কোল্ড-চেইন অবকাঠামোতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে।   কোল্ড স্টোরেজ ও প্যাকহাউসের ঘাটতি ভারতের অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর। দেশটিতে নিবন্ধিত প্যাকহাউসের সংখ্যা মাত্র ২০৭টি, যার প্রায় ৭২ শতাংশই মহারাষ্ট্রে কেন্দ্রীভূত। এর পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজের ঘাটতি ও পরিবহন ব্যয়ও রফতানিকারকদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। এসব খাতে রফতানি পণ্যের মূল্যের প্রায় ১৫ শতাংশ ব্যয় হয়, যা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আরেকটি বড় সমস্যা হলো কৃষকদের জমির আকার। ভারতের ৮৬ শতাংশের বেশি কৃষকের মালিকানায় ২ হেক্টরের কম জমি রয়েছে। ফলে পুরো দেশে একই ধরনের উৎপাদন, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, সংগ্রহ ও প্যাকেজিং মান চালু করা কঠিন। কৃষি অর্থনীতিবিদ অনিল গুপ্ত বলেন, ভারত এত দিন বেশি উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে কৌশল তৈরি করেছে। কিন্তু উন্নত বাজারগুলো এখন শুধু বেশি উৎপাদন নয়, উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়ায় মান বজায় রাখার প্রমাণ চায়।   কিছু অগ্রগতি হলেও চ্যালেঞ্জ বড় তবে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও রফতানি ব্যবস্থায় কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। গত এক দশকে স্বীকৃত পরীক্ষাগারের সংখ্যা ২২ থেকে বেড়ে ৮৯ হয়েছে। একই সময়ে অনুমোদিত রফতানি সনদের সংখ্যা প্রায় ৬১ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্রগতি হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও যথেষ্ট নয়। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য বিভাগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার ঘোষ মসলা, চা, ফল ও সবজিতে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ, কীটনাশক ও অ্যাফ্লাটক্সিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, পরীক্ষাগার আধুনিকায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা, পরিদর্শন ও পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শন, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং দ্রুত স্ক্রিনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   বিশ্ব কৃষিপণ্য রফতানিতে ভারতের অংশ মাত্র ২.৪ শতাংশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিপণ্য উৎপাদক হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্বিক কৃষিপণ্য রফতানিতে ভারতের অংশ মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশটির কৃষিপণ্য রফতানির বড় অংশ এখনও কাঁচা বা কম প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রফতানির হার প্রায় ১৭ শতাংশ। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ২৫ শতাংশ এবং চীনে প্রায় ৫০ শতাংশ। এর প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপরও পড়ছে। গুজরাটের কেসর আমচাষিরা জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হারিয়েছেন। হরিয়ানার কারনালের এক বাসমতি চালচাষি জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজারে এরই মধ্যে চালের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে। কেরালার এরোডের এক হলুদ প্রক্রিয়াজাতকারী বলেছেন, গত প্রান্তিকে শুধু অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার পেছনেই তার ১৫ হাজার রুপি খরচ হয়েছে, যা তার মোট মুনাফার প্রায় ১০ শতাংশ।   সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ভারতের কর্মসংস্থানে কৃষির ভূমিকা এখনও বিশাল। দেশটির মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪২ শতাংশ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। অথচ জাতীয় উৎপাদনে কৃষির অবদান এক-পঞ্চমাংশেরও কম। কৃষি অর্থনীতিবিদ অনিল গুপ্তের মতে, বিষয়টি কেবল কয়েকটি চালান প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হবে, যারা নিয়মিতভাবে বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মান বজায় রাখতে পারবে। সূত্র: আল-জাজিরা

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে প্রশিক্ষণ মহড়ায় এফ-১৬ বিধ্বস্ত, পাইলট নিরাপদ
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬

তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইয়ালোভা অঞ্চলে প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় দেশটির বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।   বুধবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাইলট সময়মতো বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তিনি সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।   দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইয়ালোভা অঞ্চলটি ইস্তাম্বুলের দক্ষিণ-পূর্বে মারমারা সাগরের তীরে অবস্থিত।   তুরস্কের বার্তা সংস্থা আইএইচএ নিউজের প্রচারিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিমানটি নিচু দিয়ে দ্রুত উড়ে যাওয়ার পর কিছু গাছের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে যায়। এর পরপরই আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।   বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানটি একটি বিমান ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং পাইলটকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে বুলগেরিয়া সীমান্তের কাছে সতর্কতামূলক মিশনের সময় উড্ডয়নের পরপরই তুরস্কের আরেকটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হন।   এছাড়া গত বছরের নভেম্বরে আজারবাইজান থেকে ফেরার পথে জর্জিয়ায় তুরস্কের একটি সি-১৩০ কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় ২০ আরোহীর সবাই নিহত হন। সেই ঘটনার পর দেশটি সি-১৩০ বহরের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।   সূত্র: এএফপি

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার তথ্য নিয়ে তুরস্কের সংশয়
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় সফর করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফর শেষে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রথমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখান থেকে নেমে একটি খাবার পরিবহনকারী ট্রাকে করে অন্য একটি সামরিক বিমানে যান এবং সেই বিমানে করেই তুরস্ক ত্যাগ করেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে তখন সাংবাদিক ও অন্যান্য সফরসঙ্গীরা অবস্থান করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মিডেল ইস্ট আইয়ের দাবি, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে ইসরায়েল থেকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল যে ইরানের একটি সেল ট্রাম্পের বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। সম্ভাব্য হামলায় কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র বা ম্যানপ্যাড ব্যবহারের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছিল।   তবে তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা তথ্যটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান। তাদের ধারণা, ইসরায়েল ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক আলোচনা এবং তুরস্কের সম্ভাব্য এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রাপ্তির বিষয়কে প্রভাবিত করতে এমন তথ্য দিয়ে থাকতে পারে।   তুর্কি সূত্রগুলোর দাবি, ন্যাটো সম্মেলন উপলক্ষে আঙ্কারায় অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং সম্মেলন চলাকালে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এ অবস্থায় সম্ভাব্য হামলা চালানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন ছিল বলে তারা মনে করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে ট্রাম্পের আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে তুরস্ক ত্যাগ করার কথা থাকলেও পরে তার যাত্রা এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে সম্পন্ন করা হয়।   তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক বা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রাম্পের নিরাপত্তা হুমকি, বিমান পরিবর্তন বা তথাকথিত ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চায় কিয়েভ, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬

ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ লক্ষ্যে কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মঙ্গলবার জেলেনস্কি এ প্রস্তাব জমা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশই জানিয়েছিল, মার্কিন আলোচকেরা শিগগিরই তাদের দেশ সফর করবেন।   রাতের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা মার্কিন পক্ষকে আমাদের প্রস্তাবগুলো জানিয়েছি।’   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে পারে। এতে রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে এর অবসানের জন্য প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হবে।   আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রস্তাব সম্পর্কে জেলেনস্কি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।   ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধের আলোচনা মূলত থমকে গেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করেছেন এবং এখনো কিয়েভ সফর করেননি।   বছরের পর বছর ধরে চলা লড়াইয়ে ইউক্রেন বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া বলছে, তারাও এ যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। তবে এজন্য ইউক্রেনকে মস্কোর দাবি করা চারটি অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলোর’ সমাধান করতে হবে।   নিজের ভাষণে জেলেনস্কি রাশিয়াকে আগামী মাসের সংসদীয় নির্বাচনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আরেকটি বড় আকারের সামরিক সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন।   তিনি বলেন, ‘তারা শরতে সংসদীয় নির্বাচনের ঠিক পরেই সৈন্য সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চায় যে রুশরা দৃশ্যত যুদ্ধকে সমর্থন করছে।’   তবে মস্কোর কর্মকর্তারা এর আগেই সেনা সমাবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার করেছেন।   এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া চার বছর আটক থাকার পর সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিয়েছে।   তিনি বলেন, পুতিন মানবিক কারণে ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন কোনো বন্দিকে মুক্তি দেয়নি।   সূত্র : আল জাজিরা 

ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের পর জাহাজে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলা, নিহত ৬
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬

লোহিত সাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা। এতে অন্তত ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো হুথিদের জাহাজে হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।   ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল মাখা বন্দরের দক্ষিণে জাহাজটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয়সহ চার নাবিক নিহত হন।   পরে ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, দ্বিতীয় একটি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।   হুথিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে কোনো জাহাজের ওপর গোষ্ঠীটির এটিই প্রথম প্রাণঘাতী হামলা।   গত মাসে হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা শুরু করে। এই অঞ্চলে সংঘাত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এ সময়ে একটি যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।   হুথিদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকার ও তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।   ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি গত মাসে ভেঙে যাওয়ার পর সর্বশেষ এই হামলা হয়েছে।   হুথিরা উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। রাজধানী সানা হুথিদের দখলে থাকায় সরকার দক্ষিণে অবস্থিত এডেন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।   বিবিসি ভেরিফাই কর্তৃক যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে ইয়েমেনের উপকূলের কাছে লোহিত সাগরের মোহনায় অবস্থিত বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ দেখা গেছে।   এক বিবৃতিতে ইয়েমেন সরকার বলেছে, জাহাজটি খাদ্য বহন করছিল। বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা হুথিদের আগ্রাসনের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।   এর আগে এক বিবৃতিতে সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, জাহাজটিকে সহায়তা করতে গিয়ে ইয়েমেনি নৌবাহিনী হামলার শিকার হয়েছে। এতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।   কাছ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জাহাজটির নাম ‘তিহামাহ’। জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ওয়ার্নার পয়েন্টের কাছে লোহিত সাগরে রয়েছে।   ভ্যানগার্ড জাহাজটিকে তানজানিয়ার পতাকাবাহী হিসেবে শনাক্ত করেছে। অন্যদিকে, শিপিং ওয়েবসাইট মেরিনট্র্যাফিক বলছে, এটি একটি মিশরীয় অপারেটরের মালিকানাধীন।   সূত্র : বিবিসি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি