দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে শান্তিবাদী নীতিতে থাকা জাপান এবার অস্ত্র রপ্তানির নিয়ম শিথিল করেছে। এর ফলে দেশটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দেশে অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে। মঙ্গলবার জাপান সরকার জানায়, এতদিন অস্ত্র রপ্তানি শুধু উদ্ধার, পরিবহন, নজরদারি ও মাইন অপসারণের মতো সীমিত খাতে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে জাপান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব ১৭টি দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, তাদের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্রও বিক্রি করতে পারবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। তাই একা কোনো দেশের পক্ষে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে তিনি দাবি করেন, জাপান এখনও শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র হিসেবেই থাকবে এবং সতর্কতার সঙ্গে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সংঘাতে জড়িত দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে জাপানের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। দেশটি বলেছে, জাপান ‘বেপরোয়া সামরিকীকরণের’ পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াও বলেছে, জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি যেন শান্তি সংবিধানের চেতনা বজায় রেখেই পরিচালিত হয়। এদিকে জাপান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে। আগে তারা শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালের সংবিধানে জাপান যুদ্ধ পরিত্যাগ করে এবং সামরিক শক্তি না রাখার অঙ্গীকার করে। তবে গত এক দশকে ধীরে ধীরে সেই অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর প্রতিবেশীদের ঘিরে থাকা নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই জাপান এই নীতি পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে জাপান আবার সামরিক শক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। তথ্যসূত্র : বিবিসি
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে—এমন তথ্য তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর এক সৌজন্য বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল রাখা, নতুন শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।’ তিনি জানান, প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ সমৃদ্ধ শিল্প খাতকে কার্যকর করে উৎপাদনমুখী করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এসময় বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বালানি—বিশেষ করে নবায়নযোগ্য খাতে—বাংলাদেশে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সবুজ জ্বালানি, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার সুযোগ পর্যালোচনা করছে।’ তিনি আরো জানান, অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ২৮ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা-সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করেছে এবং এটিকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত করেছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, শিক্ষা ও বৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মহানগরীর ১৫০ জন শিক্ষার্থী ছয়টি শর্ত মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষের সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ১০০ জন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ২৫ জন এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী এ সুযোগ পাবেন। এতে বলা হয়, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষকরণের সুবিধার্থে দর্শনার্থী গ্যালারি হতে শিশু গ্যালারির ৫০টি এবং শিউলী/শিমুল গ্যালারির ১০০টি আসনসহ মোট ১৫০টি আসন বরাদ্দ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে ছয়টি শর্তের কথা বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে এই অনুমোদন বাতিল করার ক্ষমতা রাখে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ছয় শর্ত জাতীয় সংসদ ভবন ভিজিট নীতিমালা-২০১৮ এর ৩.১ (খ) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের প্যাডে পরিদর্শনকারীর তালিকা সংযুক্ত করে আবেদন এবং কমপক্ষে সাত কার্যদিবস পূর্বে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শনকালীন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর এবং প্রযোজ্যক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র/ জন্মনিবন্ধন এবং স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি সংযুক্ত থাকতে হবে। প্রবেশ পথে নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পরিদর্শনকালে ভবনের ভেতর মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেট, ব্যাগ কোন প্রকার ধারালো বস্তু বা খাবার বহন করা যাবে না। মার্জিত ও শালীন পোশাক পরিধান করা বাঞ্ছনীয় এবং প্রযোজ্যক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরিধানপূর্বক স্টুডেন্ট আইডি কার্ড প্রদর্শিত অবস্থায় রাখতে হবে। সংসদ ভবনের ভেতর শোরগোল করা বা যত্রতত্র ঘোরাফেরা করা নিষেধ এবং দায়িত্বরত গাইড বা কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
আগামী ২ জুলাই থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) একটি বেসরকারি টিভিকে তিনি এই কথা জানান। জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করার। জানা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকলেও সাধারণ বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হতো।
দালালের প্রলোভনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান (২৭) নামে এক যুবক। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাশিয়ায় তিনি নিহত হলেও সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়। মুহিবুর রহমান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মসুদ মিয়ার ছেলে। তিনি রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন বাংকারে খাবার রান্নার কাজ করতেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। মৃত্যুর বিষয়টি রাশিয়া থেকে পরিবারের কাছে প্রথমে জানান তার সহকর্মী মেহেদী হাসান। পরে দেশে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুহিবুরের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, উচ্চশিক্ষার আশায় কয়েক বছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান মুহিবুর। সেখানে প্রায় আড়াই বছর পড়াশোনা করার পর দেশে ফিরে কিছুদিন অবস্থান করে আবার রাশিয়ায় যান। পরবর্তীতে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান যে তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য রান্নার কাজ করছেন। হাবিবুর রহমান জানান, প্রায় দুই বছর আগে দালালদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রলোভন দেওয়া হয় তার ভাইকে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই প্রলোভনে পড়ে তিনি যুদ্ধে সম্পৃক্ত হন, যদিও বিষয়টি পরিবারকে আগে জানাননি। তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে একটি বাংকারে অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মুহিবুর রহমান। পরিবারের দাবি, তাদের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন মুহিবুর। তারা দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি পরিবার সূত্রে জেনেছেন বলে জানিয়েছেন।
ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৫.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.১। আর্থকোয়াক ট্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকা, যা ভারতের মণিপুর সীমান্তের কাছাকাছি। কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এর তীব্রতা ভূপৃষ্ঠে কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। এর ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ঢাকায় তা মৃদু আকারে অনুভূত হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হালকা কম্পনের কথা জানান। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরাসরি বড় কোনো ফল্ট লাইনের ওপর না থাকলেও, মিয়ানমার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সক্রিয় টেকটোনিক অবস্থানের কারণে এসব অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির ছায়ায় কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যা আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। মঙ্গলবার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি ভুল ধারণার ভিত্তিতে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছেন। চাপ সৃষ্টি করে আলোচনাকে আত্মসমর্পণের প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গালিবাফ অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ ও ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা আমরা গ্রহণ করি না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রয়োজনে নতুন কৌশল বা নতুন তাস সামনে আনা হবে। এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন দফা আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপথে উত্তেজনা ও পারস্পরিক অভিযোগের কারণে আলোচনার পরিবেশ আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক মহলও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা যেকোনো ধরনের উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ইরানকে চাপ প্রয়োগ ও কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ইরান বলছে, এ ধরনের চাপের মুখে কোনো আলোচনায় তারা অংশ নেবে না।
দেশজুড়ে তাপমাত্রার পারদ বাড়তে থাকায় গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতেই দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। তবে এর মধ্যে স্বস্তির খবর দুপুরের মধ্যে দেশের ৩ বিভাগে বইতে পারে প্রচণ্ড বেগের ঝড়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পৃথক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই তাপপ্রবাহ কেবল অব্যাহতই থাকবে না, বরং আগামী কয়েক দিনে তা আরও কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় দেখা গেছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সন্ধ্যায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫৯ শতাংশ।
ইরানের রাজধানী তেহরানে দুটি প্রধান বিমানবন্দর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ইরানের সংবাদসংস্থা আইএসএনএ সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চালু হওয়া বিমানবন্দর দুটি হলো ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মেহরাবাদ বিমানবন্দর। এছাড়া দেশজুড়ে আরও ১০টি বিমানবন্দর আগামী শনিবার থেকে চালু করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে এসব বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু করতে আবারও পাকিস্তানে যাচ্ছে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ আলোচনায় যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এ সময় শরিফ চলমান সংকট নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ হোক এমনটাই চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, আলোচনা ভেস্তে গেলে ইরান ও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে পারবে ইসরায়েল। অন্তত এমনটাই মনে করছেন নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। বর্তমানে দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ। তবে এ বিরতি ইসরায়েল সরকারের জন্য অনুকূল নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, তারা ইরান ও লেবানন দুই দেশের বিরুদ্ধেই বড় ধরনের সাফল্যের আশা করছিল। এর আগে ইসরায়েল দাবি করে আসছিল, ইরান ও লেবাননের পরিস্থিতি আলাদা। কিন্তু এখন বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননেও তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এদিকে হুমকি অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধানকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন, তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি ও দখল করা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা। এছাড়াও তারা এমন চুক্তিগুলো ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করবে যা তাদের ইরান ও লেবাননে ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নীতির প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভে ৬০ জনেরও বেশি সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ক্যাপিটল হিলে অবস্থিত ক্যানন হাউস অফিস বিল্ডিং দখল করে অবস্থান নেন। এই কর্মসূচি আয়োজন করে কয়েকটি ভেটেরান সংগঠন। প্রতিবাদকারীরা ভবনের রোটান্ডা অংশে জড়ো হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করো লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন। তারা হাতে লাল টিউলিপ ফুল নিয়ে ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় নিহতদের স্মরণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পতাকা ভাঁজ করার আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। তারা একই সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী নানা স্লোগান দেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাপিটল পুলিশ পরে হস্তক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীদের হাত বেঁধে (জিপ টাই ব্যবহার করে) আটক করে স্থান ত্যাগ করায়।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হলে পাকিস্তানে যাবেন জে ডি ভ্যান্স। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে তার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যদি আলোচনায় বসার নিশ্চয়তা দেয় তবেই পাকিস্তানে যাবে মার্কিন প্রতিনিধিদল। আলোচনা নিশ্চিত হলে মঙ্গলবার সকালে ইসলামাবাদে যাবে ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন দল। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে আরও থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। এর আগে সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু করতে পাকিস্তানে যাচ্ছে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। অন্যদিকে ইরান বলেছে, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বোঝাপড়ার কাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পরবর্তী দফা বৈঠক নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা ইরান ভুলে যায়নি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী অবস্থানের ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দুই দেশের আলোচনার সম্ভাবনা। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তারা সেখানে যাননি। আলোচনার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও এখনও নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইরান।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির ছায়ায় কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যা আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। মঙ্গলবার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি ভুল ধারণার ভিত্তিতে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছেন। চাপ সৃষ্টি করে আলোচনাকে আত্মসমর্পণের প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গালিবাফ অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ ও ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা আমরা গ্রহণ করি না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রয়োজনে নতুন কৌশল বা নতুন তাস সামনে আনা হবে। এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন দফা আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপথে উত্তেজনা ও পারস্পরিক অভিযোগের কারণে আলোচনার পরিবেশ আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক মহলও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা যেকোনো ধরনের উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ইরানকে চাপ প্রয়োগ ও কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ইরান বলছে, এ ধরনের চাপের মুখে কোনো আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। সূত্র : প্রেসটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।