ডিজিটাল যুগের আধুনিক প্রযুক্তির যেমন অসীম সুফল রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও কম নয়। সম্প্রতি রিমোট বা দূরবর্তী কাজের জন্য চলা একটি অনলাইন চাকরির ইন্টারভিউতে ঘটা এক অবাক করা ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। আমেরিকার মিশিগানের এক রিক্রুটার অভিনব কায়দায় ধরে ফেলেছেন এক ‘ডিপফেক ক্যান্ডিডেট’-কে, যিনি রিয়েল-টাইম ফেস ফিল্টার বা কৃত্রিম মুখের অবয়ব ব্যবহার করে ইন্টারভিউ দিতে বসেছিলেন। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চাকরি নিয়োগের প্রক্রিয়া কতটা জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এই ঘটনাই তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। মিশিগানের বাসিন্দা জেসন নামক ওই রিক্রুটার সম্প্রতি রিমোট পদের জন্য প্রার্থী বাছাই করছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছিল, তবে প্রথম থেকেই ওই প্রার্থীর আচরণ ও চেহারায় কিছুটা সন্দেহজনক কিছু একটা লক্ষ করেছিলেন তারা। জেসন জানান, এটি তার পেশাগত জীবনে দেখা প্রথম কোনো ডিপফেক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি ধরতে না পারলেও তার এক সহকর্মী প্রার্থীর চেহারার অসংগতি প্রথম লক্ষ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি শেয়ার করে জেসন লেখেন, ইন্টারভিউ চলাকালীন তার সহকর্মী খেয়াল করেন যে প্রার্থীর চশমাটি কিছুটা অদ্ভুত দেখাচ্ছে এবং তার গালের চারপাশে একটি দ্বিতীয় ঘোলাটে অবয়ব বা ছায়া ভেসে উঠছে। প্রার্থীর এই অস্বাভাবিকতা দেখে তারা বুঝতে পারেন যে ওই ব্যক্তি পুরো ইন্টারভিউজুড়েই একটি লাইভ ফেস ফিল্টার ব্যবহার করে নিজের আসল চেহারা লুকিয়ে অন্য একজনের ছদ্মবেশ ধারণ করে আছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা গেছে, জেসন হঠাৎ করেই ইন্টারভিউ থামিয়ে ওই প্রার্থীকে তার মুখের সামনে হাত নাড়ানোর অনুরোধ জানান। বিখ্যাত রেসলার জন সিনার জনপ্রিয় ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ বা তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছ না ভঙ্গিতে হাত নেড়ে দেখাতে বলেন তিনি। কিন্তু প্রার্থীর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি ধরা পড়ে গেছেন, কারণ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই সঠিক উপায়ে হাত নাড়াতে অস্বীকৃতি জানান। জেসন যখন তাকে সরাসরি নিজের মুখের সামনে হাত রাখতে বলেন, তখন ওই প্রার্থী হাতের পাতাটি মুখের সামনে না রেখে ঠিক কানের পাশে বা মুখের একটু পাশে সরিয়ে রাখেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি নির্দেশমতো হাত সামনে রাখেননি। জেসন আরও জানান যে ওই প্রার্থীর আসল চেহারার সঙ্গে তার লিংকডইন এবং গিথাব প্রোফাইলের ছবির কোনো মিল ছিল না। বর্তমান এআই-এর যুগে নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের প্রতারণা এড়াতে ভবিষ্যতে হয়তো বাধ্য হয়েই সমস্ত ইন্টারভিউ সরাসরি বা সশরীরে অফলাইনে করতে হবে। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রতারক প্রার্থীর আসল পরিচয় বা লিঙ্ক প্রকাশ করার দাবি জানান। এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন যে, একজন স্ক্যামারের গোপনীয়তা রক্ষার কোনো মানে হয় না, কারণ তার দেওয়া তথ্য ও পরিচয় এমনিতেই ভুয়া হতে পারে। আবার কেউ কেউ প্রার্থীর এই মরিয়া প্রচেষ্টাকে কিছুটা কৌতুকের ছলে নিলেও, বেশির ভাগ মানুষই রিক্রুটারের বিচক্ষণতা এবং বুদ্ধিমত্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি
অধিকৃত পশ্চিম তীরের তাইবেহ এলাকায় জলপাই সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী উগ্রবাদীদের অতর্কিত হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন ইউরোপীয় কূটনীতিক, একজন ফরাসি মেয়র এবং একজন আর্চবিশপ। ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব জমি থেকে জলপাই উত্তোলনে বাধা দেওয়ার এই সহিংস প্রক্রিয়ায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন এবং একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবারের এই ঘটনায় উত্তর ফ্রান্সের অলনয়-এমেরিস শহরের মেয়র বের্নার বোদু, তার স্ত্রী এবং কমব্রাইয়ের আর্চবিশপ ভিনসেন্ট দোলমান উগ্রবাদীদের সরাসরি তোপের মুখে পড়েন। মেয়রের সরকারি ফরাসি প্রতীক সংবলিত স্কার্ফ পরিহিত থাকা অবস্থাতেই মাস্ক পরা এক উগ্রবাদী তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এ সময় প্রায় সাতজনের একটি সশস্ত্র উগ্রবাদী দল তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং তীব্র হুমকি দেয়। এর আগে ফরাসি, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকরা ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় জলপাই তোলার কার্যক্রমে অংশ নিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উগ্রবাদীরা প্রথমে গাছের নিচের অংশে কর্মরত সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। তারা জলপাই ছিনতাই করার পাশাপাশি সত্তরোর্ধ্ব এক ফিলিস্তিনি নারীকে নির্মমভাবে প্রহার ও গালিগালাজ করে। এ ছাড়া অপর এক ব্যক্তিকে এত মারধর করা হয় যে তার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি আক্রমণকারীরা, পরবর্তীতে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের দিকে অগ্রসর হয় এবং বেলজিয়াম মিশনের একটি সাঁজোয়া গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার করে দেয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সামাজিক মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সরকারবিরোধী স্ট্যাটাস ও মন্তব্য করার অভিযোগে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার কবির রুবেলকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাগেরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শাহেদ আলী রবি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল ইসলাম জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস ও মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক মনে করেনি দলীয় নেতৃত্ব। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের কোনো কর্মকাণ্ড যথাযথ না হলে কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে তিনি দলকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পরও শাহরিয়ার কবির রুবেল অন্যান্য সরকারবিরোধী পোস্টে সহমত প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়। তার এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব কারণ উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছেন নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের বুকিং ছিল। অথচ হাসপাতাল, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পরিবারের সবার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহত ও আহতদের তালিকায়ও তাদের নাম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। বুকিংয়ের নথি থাকার পরও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগে রয়েছেন তারা। নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা এবং সাত বছর বয়সি মেয়ে রোবাইনা ও তিন বছর বয়সি মেয়ে সুনাইনাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। রিসোর্টের বুকিং নথি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য নাহিদুর রহমানের নামে ২০২ নম্বর সুপার ডিলাক্স কক্ষটি দুই অতিথির জন্য বুক করা হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। বুকিংয়ের বিলের একটি কপি সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তার ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি নাহিদুরকে ফোন করেন। কিন্তু নাহিদুর বা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামান জানান, তিনি চীনে রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর শোনার পর তিনি ও প্রতিষ্ঠানের অন্যরা নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। নাহিদুরকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর থেকে তিনি অসহায় বোধ করছেন। নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহিরা সিদ্দিকা সূচি জানান, নাহিদুরের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বাড়িতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন; তারাও যোগাযোগ করতে পারছেন না। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদ নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ জেনেছে। পরে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। সেগুলো উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে; পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জন আহত হন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহতদের তালিকায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ, নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম। আহত ছয়জন হলেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর প্রায় ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা প্রশাসক আ. মো. মান্নান জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, টুপটুপ রিসোর্টের কউকের অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান থাকায় অনুমোদন যাচাইয়ে সময় লাগছে। ইতিমধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানান, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেয়নি। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রিসোর্টটি ছাড়াও দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স না থাকায় নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা শনিবার ঢাকায় থেকে এসেছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ভেতরে থাকা পর্যটকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কয়েকজন দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারও অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। একই পরিবারের ছয়জন নিহত অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা রয়েছেন। নিহত হয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও। নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ইসরাত জাহান মালিহা, নাফিসতা মীম, ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহমেদসহ অন্যরা। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিজ তেহামী, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির ছিলেন নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তার ভাগ্নে। তাদের পরিবারের ৯ সদস্য বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই রিসোর্টে। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আশিকুল ইসলামের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগুন লাগার পর আশিকুল ইসলাম রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। তবে তার স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। ওই স্বজন কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানান। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ও তার স্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় পাঁচ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে একাধিক বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন। রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন ইসলাম বলেন, আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তারা ধারণা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ঘুম থেকে উঠে তিনি রিসোর্টটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি আগুনে পুড়ে যায়। একই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার পর কয়েকজন পর্যটককে জীবন বাঁচাতে লাফ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ইউনুস নামের এক স্থানীয় যুবক অভিযোগ করেন, রিসোর্টটিতে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, পর্যটন এলাকায় প্রায়ই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে উখিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। তদন্ত কমিটি গঠন জেলা প্রশাসন গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে। কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ২৯ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে এর অবস্থান। আগুনে রিসোর্টটির পুরো স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে। শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে এরকম একটা ভিডিও আপলোড করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় শনিবার ঘটেছে বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে। ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়। গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "উনারা ৬ জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, সেগুলো কী, তা পরীক্ষায় জানা যাবে।” তারা এ ধরনের 'অভিযান' চালানোর সময় পুলিশকে জানিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ওসি। ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, ছয়-সাতজনকে ধরে তিনি থানায় দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় (অভিযানের বিষয়ে) পুলিশকে আগে থেকে জানাননি, আমরা পরে বিষয়টি জেনেছি।” পিস্তল হাতে একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এরকম অভিযানের ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইশরাকের ভিডিওর নিচে সাখাওয়াত হোসেন খান নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, “এভাবে ওপেন কেউ পিস্তল ব্যবহার করতে পারে!” তার মন্তব্যের নিচে ৪৫টি মন্তব্য পড়েছে। বেশির ভাগ উত্তরে বলা হয়েছে, পিস্তলের লাইসেন্স থাকলে এভাবে ব্যবহার করতে পারে। মো. হোসেইন আক্তার তানজিন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “গরীবের ফাটাকেষ্ট”। মো. মাসুম নামে একজন লিখেছেন, “প্রথমে ভাবছিলাম কোনো ছবির শ্যুটিংয়ের দৃশ্য,পরে দেখি বাস্তব ঘটনা।” মোহাম্মদ হোসেইন লিখেছেন, “দেশে পুলিশের অভাব পড়ছে?” সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইশরাকের ভিডিওতে পাঁচ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন। সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে আরেকটি পোস্টে আসে। সেখানে বলা হয়, “ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও বড় হবে।” পোস্টে আরও বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সব ঠিক থাকলে আগামীকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) ভুটানের থিম্পু সফর করবেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে সব বিমান সেখানে সরাসরি যাতায়াত করে না। থিম্পু যাওয়ার পথে সৈয়দপুর, ঢাকা কিংবা ভারতের কোথাও ট্রানজিট করতে পারেন ইনফান্তিনো। ফলে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার আগামীকাল বাংলাদেশে স্বল্প সময় অবস্থান করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাফুফে এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। জানা গেছে, বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেছেন। যদি ফিফা সভাপতি বাংলাদেশে ট্রানজিট নেন এবং তিনি যদি চান তাহলে যেন ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা খুব দ্রুত হয়। ইনফান্তিনো যদি বিমানবন্দরে ভিআইপি জোনে ট্রানজিটে থাকেন, সেক্ষেত্রে বাফুফে সভাপতি ও সহসভাপতিরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এর আগে আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপ চলাকালে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজের ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আগামীকাল ঢাকায় পা রাখলে ফিফা সভাপতির সঙ্গে আবারও দেখা করবেন তাবিথ আউয়াল।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছেন নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের বুকিং ছিল। অথচ হাসপাতাল, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পরিবারের সবার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহত ও আহতদের তালিকায়ও তাদের নাম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। বুকিংয়ের নথি থাকার পরও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগে রয়েছেন তারা। নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা এবং সাত বছর বয়সি মেয়ে রোবাইনা ও তিন বছর বয়সি মেয়ে সুনাইনাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। রিসোর্টের বুকিং নথি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য নাহিদুর রহমানের নামে ২০২ নম্বর সুপার ডিলাক্স কক্ষটি দুই অতিথির জন্য বুক করা হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। বুকিংয়ের বিলের একটি কপি সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তার ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি নাহিদুরকে ফোন করেন। কিন্তু নাহিদুর বা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামান জানান, তিনি চীনে রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর শোনার পর তিনি ও প্রতিষ্ঠানের অন্যরা নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। নাহিদুরকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর থেকে তিনি অসহায় বোধ করছেন। নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহিরা সিদ্দিকা সূচি জানান, নাহিদুরের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বাড়িতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন; তারাও যোগাযোগ করতে পারছেন না। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদ নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ জেনেছে। পরে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। সেগুলো উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে; পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জন আহত হন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহতদের তালিকায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ, নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম। আহত ছয়জন হলেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর প্রায় ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা প্রশাসক আ. মো. মান্নান জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, টুপটুপ রিসোর্টের কউকের অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান থাকায় অনুমোদন যাচাইয়ে সময় লাগছে। ইতিমধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানান, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেয়নি। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রিসোর্টটি ছাড়াও দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স না থাকায় নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা শনিবার ঢাকায় থেকে এসেছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৭১ রানের জবাবে তাওহীদ হৃদয়রা থেমেছে ১৭২ রানে; তাও আবার ৩৩.৪ ওভারেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ২১ অক্টোবর তাদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। ফাইনালে যেতে সে ম্যাচ জেতার বিকল্প নেই বাংলাদেশের জন্য। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স বলছে, কাজটা বেশ কঠিনই হবে। আবুধাবির এই উইকেটে লক্ষ্যটা হাতের নাগালে না থাকলেও অসম্ভব কিছু ছিল না। বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল দারুণ। উদ্বোধনী জুটিতে ৬.৩ ওভারে ৪৭ রান এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। সৌম্য ৯ রান করে ফেরার পরই ছন্দপতন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত, হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান—কেউই দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি। বাংলাদেশও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ ১২৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়। বাংলাদেশের হয়ে এক তামিম ছাড়া আর কেউ বলার মতো ইনিংস খেলতে পারেননি। নিউম্যান নিয়াম্বুরির বলে রায়ান বার্লের হাতে ধরা পড়ার আগে ৪৬ রান করেন এই ওপেনার। সাইফের ২৬ রান বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শেষ দিকে রিশাদ ২৩ রান করলেও সেটা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। বাংলাদেশকে অলআউট করার পথে সবচেয়ে বড় অবদান ব্রাড ইভান্সের। ৪৫ রানে ৪ উইকেট নেন এই পেসার। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের চিত্রটা অবশ্য ভিন্ন ছিল। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় বাংলাদেশের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় তারা। দুজনের ব্যাট থেকে আসে ১৭৪ রান। চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রান যোগ করেন টেলর ও আরভিন। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ৪০তম ওভার শেষে তাঁদের স্কোরবোর্ডে ওঠে ২০১ রান। অর্থাৎ মাঝের ৩০ ওভারে ১৭১ রান তোলে তারা। ভয়ংকর হয়ে ওঠা টেলর-আরভিন জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন সাইফ। ৩৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই টেলরকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যাচ বানান। ১০১ বলে ১০ বাউন্ডারিতে টেলর ফিরলে ভাঙে ১৫০ রানের জুটি। টেলর ফিরলেও সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন আরভিন। কিন্তু নড়বড়ে নব্বইয়ের ঘরে কাটা পড়েন তিনি। শরীফুল ইসলামের বলে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ধরা পড়ার আগে ৯৩ রান করেন আরভিন। ১০৬ বলে ৯ চারে সাজানোর তাঁর ইনিংস। মাঝে ওয়েসলে মাধেভেরে (১৭) ও সিকান্দার রাজাকে (৪) হারায় জিম্বাবুয়ে। শেষদিকে বাংলাদেশের ওপর ছোট ঝড় বইয়ে দেন নিউমান নায়ুম্বুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তাঁদের জুটিতে আসে ৩৭ রান। দুজনেই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন।
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডিজিটাল যুগের আধুনিক প্রযুক্তির যেমন অসীম সুফল রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও কম নয়। সম্প্রতি রিমোট বা দূরবর্তী কাজের জন্য চলা একটি অনলাইন চাকরির ইন্টারভিউতে ঘটা এক অবাক করা ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। আমেরিকার মিশিগানের এক রিক্রুটার অভিনব কায়দায় ধরে ফেলেছেন এক ‘ডিপফেক ক্যান্ডিডেট’-কে, যিনি রিয়েল-টাইম ফেস ফিল্টার বা কৃত্রিম মুখের অবয়ব ব্যবহার করে ইন্টারভিউ দিতে বসেছিলেন। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চাকরি নিয়োগের প্রক্রিয়া কতটা জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এই ঘটনাই তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। মিশিগানের বাসিন্দা জেসন নামক ওই রিক্রুটার সম্প্রতি রিমোট পদের জন্য প্রার্থী বাছাই করছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছিল, তবে প্রথম থেকেই ওই প্রার্থীর আচরণ ও চেহারায় কিছুটা সন্দেহজনক কিছু একটা লক্ষ করেছিলেন তারা। জেসন জানান, এটি তার পেশাগত জীবনে দেখা প্রথম কোনো ডিপফেক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি ধরতে না পারলেও তার এক সহকর্মী প্রার্থীর চেহারার অসংগতি প্রথম লক্ষ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি শেয়ার করে জেসন লেখেন, ইন্টারভিউ চলাকালীন তার সহকর্মী খেয়াল করেন যে প্রার্থীর চশমাটি কিছুটা অদ্ভুত দেখাচ্ছে এবং তার গালের চারপাশে একটি দ্বিতীয় ঘোলাটে অবয়ব বা ছায়া ভেসে উঠছে। প্রার্থীর এই অস্বাভাবিকতা দেখে তারা বুঝতে পারেন যে ওই ব্যক্তি পুরো ইন্টারভিউজুড়েই একটি লাইভ ফেস ফিল্টার ব্যবহার করে নিজের আসল চেহারা লুকিয়ে অন্য একজনের ছদ্মবেশ ধারণ করে আছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা গেছে, জেসন হঠাৎ করেই ইন্টারভিউ থামিয়ে ওই প্রার্থীকে তার মুখের সামনে হাত নাড়ানোর অনুরোধ জানান। বিখ্যাত রেসলার জন সিনার জনপ্রিয় ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ বা তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছ না ভঙ্গিতে হাত নেড়ে দেখাতে বলেন তিনি। কিন্তু প্রার্থীর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি ধরা পড়ে গেছেন, কারণ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই সঠিক উপায়ে হাত নাড়াতে অস্বীকৃতি জানান। জেসন যখন তাকে সরাসরি নিজের মুখের সামনে হাত রাখতে বলেন, তখন ওই প্রার্থী হাতের পাতাটি মুখের সামনে না রেখে ঠিক কানের পাশে বা মুখের একটু পাশে সরিয়ে রাখেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি নির্দেশমতো হাত সামনে রাখেননি। জেসন আরও জানান যে ওই প্রার্থীর আসল চেহারার সঙ্গে তার লিংকডইন এবং গিথাব প্রোফাইলের ছবির কোনো মিল ছিল না। বর্তমান এআই-এর যুগে নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের প্রতারণা এড়াতে ভবিষ্যতে হয়তো বাধ্য হয়েই সমস্ত ইন্টারভিউ সরাসরি বা সশরীরে অফলাইনে করতে হবে। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রতারক প্রার্থীর আসল পরিচয় বা লিঙ্ক প্রকাশ করার দাবি জানান। এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন যে, একজন স্ক্যামারের গোপনীয়তা রক্ষার কোনো মানে হয় না, কারণ তার দেওয়া তথ্য ও পরিচয় এমনিতেই ভুয়া হতে পারে। আবার কেউ কেউ প্রার্থীর এই মরিয়া প্রচেষ্টাকে কিছুটা কৌতুকের ছলে নিলেও, বেশির ভাগ মানুষই রিক্রুটারের বিচক্ষণতা এবং বুদ্ধিমত্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি
অধিকৃত পশ্চিম তীরের তাইবেহ এলাকায় জলপাই সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী উগ্রবাদীদের অতর্কিত হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন ইউরোপীয় কূটনীতিক, একজন ফরাসি মেয়র এবং একজন আর্চবিশপ। ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব জমি থেকে জলপাই উত্তোলনে বাধা দেওয়ার এই সহিংস প্রক্রিয়ায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন এবং একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবারের এই ঘটনায় উত্তর ফ্রান্সের অলনয়-এমেরিস শহরের মেয়র বের্নার বোদু, তার স্ত্রী এবং কমব্রাইয়ের আর্চবিশপ ভিনসেন্ট দোলমান উগ্রবাদীদের সরাসরি তোপের মুখে পড়েন। মেয়রের সরকারি ফরাসি প্রতীক সংবলিত স্কার্ফ পরিহিত থাকা অবস্থাতেই মাস্ক পরা এক উগ্রবাদী তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এ সময় প্রায় সাতজনের একটি সশস্ত্র উগ্রবাদী দল তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং তীব্র হুমকি দেয়। এর আগে ফরাসি, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকরা ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় জলপাই তোলার কার্যক্রমে অংশ নিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উগ্রবাদীরা প্রথমে গাছের নিচের অংশে কর্মরত সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। তারা জলপাই ছিনতাই করার পাশাপাশি সত্তরোর্ধ্ব এক ফিলিস্তিনি নারীকে নির্মমভাবে প্রহার ও গালিগালাজ করে। এ ছাড়া অপর এক ব্যক্তিকে এত মারধর করা হয় যে তার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি আক্রমণকারীরা, পরবর্তীতে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের দিকে অগ্রসর হয় এবং বেলজিয়াম মিশনের একটি সাঁজোয়া গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার করে দেয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ভারতের কলকাতার উত্তরাঞ্চলে দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গিরিশ পার্ক থানা এলাকার চোরে বাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। কলকাতা পুলিশ জানায়, বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রবেশপথে পদদলনের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে এমসিএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘চোরে বাগান পূজামণ্ডপে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের শক্তি ও সাহসের জন্য প্রার্থনা করছি। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পদদলনের সময় অনেকেই জ্ঞান হারান। তাদের অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ খুব সরু ছিল। ওই এলাকায় আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। আমার মেয়ে ও নাতনি হাসপাতালে ভর্তি।
পারস্য উপসাগরের ইরান উপকূলজুড়ে সাধারণত বানদারি সুর ভেসে আসে। যেখানে ভোরের আলো ফুটতেই ঢোল আর তালির ছন্দে কাঠের নৌকা নিয়ে জেলেরা সাগরে ভেসে পড়েন। তবে এই সপ্তাহে তারা একদমই অন্যরকম এক শিকারে বেরিয়েছেন। শিপিং কন্টেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ গত ১৪ অক্টোবর ডুবে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির পানিতে ভেসে ওঠে আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি এবং হরেক রকমের মালামাল। সেগুলো তুলে আনতেই উদ্ধারকারী নৌকা ও স্কিফ নিয়ে প্রণালিজুড়ে ছড়িয়ে পড়েন শত শত জেলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমরা সবাই মিলে হরমুজ প্রণালীর দিকে যাচ্ছি। শুনতে পেলাম একটা কন্টেইনার জাহাজ ডুবে গেছে, তাই আইফোন আর সেন্ট কুড়াতে যাচ্ছি। জাহাজটির ফ্ল্যাগ রাষ্ট্র ছিল সিঙ্গাপুর। তারা জানিয়েছে, জাহাজে আগুন লাগার পর এটি ডুবে যায়। তবে এর ২১ জন ক্রু সদস্যের সবাইকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র নৌবাহিনী দাবি করেছে, জাহাজটি একটি অননুমোদিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ রুটে চলে গিয়েছিল এবং এটি একটি সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে সৃষ্ট আগুনে ২৫শ'রও বেশি কন্টেইনার নিয়ে জাহাজটি তলিয়ে যায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান বহু জাহাজে হামলা চালালেও খুব কম জাহাজই ডুবেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’-এর পর ‘জিএফএস প্রাইড’ হলো এই যুদ্ধের তৃতীয় ডুবে যাওয়া জাহাজ। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, অর্ধেক ডুবে থাকা কন্টেইনারগুলোর মাঝখান দিয়ে ডজন ডজন নৌকা একে অপরকে এড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জেলেরা উত্তাল তরঙ্গ থেকে বাক্সগুলো টেনে নৌকায় তুলছেন। একটি ক্লিপে দেখা যায়, একটি মাত্র ছোট্ট নৌকা তার পেছনে আস্ত একটি বিশালাকার শিপিং কন্টেইনার টেনে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আইআরজিসি-র নৌ হামলার মাত্রা গত কয়েকদিনে সবচেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে এ এলাকা থেকে দূরে থাকার সতর্কতা জারির পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদেরকেও ভেসে থাকা কন্টেইনারগুলোর আশপাশে সাবধানে নৌকা চালাতে অনুরোধ করেছে। শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যায় তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে যৌথ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির উন্নতি ঘটবে। আর যদি আমেরিকা না যায়, তবে আমরা তাদের বিতাড়িত করব। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।