সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
পাকিস্তানে গাড়ি বোমা হামলায় নিহত ৩ পুলিশ কর্মকর্তা

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিও চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।   শনিবার রাতে বান্নু শহরের উপকণ্ঠে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হলে ফাঁড়ির ছাদ ধসে পড়ে। সে সময় সেখানে থাকা ১৫ জন পুলিশ সদস্য হতাহত হন।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের পর জঙ্গিরা ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। পরে সহায়তায় আসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।   পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করেছে জঙ্গিরা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেয়। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।   ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামের একটি জঙ্গি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে।   এ হামলার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

১ ঘন্টা আগে
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সরকারের ৫ অগ্রাধিকার

রাজধানী ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, লেক পরিষ্কার ও সবুজায়ন, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা শৃঙ্খলায় আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে কিছু বড় সমস্যা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে অন্যান্য সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কেবল অভিযান চালিয়ে বা সাময়িক উদ্যোগ নিয়ে ঢাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন সুপরিকল্পিত ও টেকসই কর্মপরিকল্পনা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর সমস্যা দিন দিন জটিল হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের কারণে প্রতিনিয়ত নতুন মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। ফলে ফুটপাত দখল, যানজট, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে উঠছে।   বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযানের কিছুদিন পরই আবারও অনেক এলাকায় হকারদের দখলে চলে যায় ফুটপাত। এ অবস্থায় হকারদের জন্য আইডি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নগরবিদরা বলছেন, ফুটপাত কখনোই বিকল্প বাজার হতে পারে না; কর্মসংস্থানের আলাদা সমাধান খুঁজতে হবে।   এদিকে গুলশান ও ধানমন্ডি লেক পরিষ্কার এবং লেকপাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সবুজায়ন বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।   যানজট নিরসনে পুলিশ ও রাজউক যৌথভাবে কাজ করছে। ভবনের নির্ধারিত পার্কিং স্পেসে গাড়ি রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।   ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সরকারের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তা বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি হতে হবে। শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান বা সাময়িক পদক্ষেপে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। তিনি মনে করেন, ঢাকার সমস্যার মূল সমাধান রাজধানীর বাইরে উন্নয়ন ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে।   নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া ঢাকার ওপর চাপ কমানো সম্ভব নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারলে মানুষ ঢাকামুখী হবে না। তবেই রাজধানীকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

২ ঘন্টা আগে
‘ইবলিসও লজ্জা পাবে সাধারণ শিক্ষার্থী বেশধারী গুপ্ত শিবিরকে দেখলে’

ছাত্রীসংস্থার গুপ্ত কর্মীদের ইন্ধনে ইডেন কলেজে মব সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, “ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। অতীতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গুপ্ত সংগঠনের কর্মীরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের উদ্দেশ্যে মব সৃষ্টি করেছে। পরবর্তীতে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কেউ কেউ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়েও উঠে এসেছে।”   নাছির উদ্দিন নাছির আরও অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে তিতুমীর কলেজে রাতের আঁধারে গেট ভেঙে মব সৃষ্টি করা হয় এবং সেখানে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্তা করা হয়। একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ইডেন কলেজেও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।   তিনি বলেন, “ছাত্রীসংস্থার গুপ্ত কর্মীদের ইন্ধনে ইডেন কলেজে মব সৃষ্টি করে ছাত্রদলের নেত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।”   এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “গুপ্ত রাজনীতির নামে মব সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”   কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

২ ঘন্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার উপনির্বাচনে ডানপন্থী দলের কাছে হেরে বিপাকে বিরোধী রক্ষণশীলরা

 অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিরোধী লিবারেল পার্টি একটি উপনির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী দল ‘ওয়ান নেশন’-এর কাছে বড় ধরনের পরাজয়ের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। সরকার দলীয় ওই সিনিয়র মন্ত্রী বলেন, উপনির্বাচনে যাদের কাছে লিবারেল পার্টি হেরেছে, সেই ডানপন্থী দলের সঙ্গেই ভবিষ্যতে তাদেরকে জোট করতে হতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। শনিবার অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ‘ওয়ান নেশন’ তাদের প্রথম ফেডারেল নিম্নকক্ষ আসনে বিজয় অর্জন করে। উপনির্বাচনে জয়ের পর দলের নেতা পলিন হ্যানসন বলেন, ‘আমরা এখন অন্য আসনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি।’ তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা আর অবহেলিত থাকবেন না। আমরা আপনাদের জন্য জোরালোভাবে কাজ করবো।’  পলিন হ্যানসন অভিবাসন কমানোর পক্ষে এবং বারবার ইসলামবিরোধী মন্তব্যের জন্য তিনি সমালোচিত হয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রামীণ আসন ফ্যারার-এ ওয়ান নেশনের প্রার্থী ডেভিড ফার্লি ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন।  জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট ও অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে দেখা গেছে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৮ শতাংশ ভোট, লিবারেল পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১২ শতাংশ ভোট ও গ্রামীণ ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছেন ১০ শতাংশ ভোট।  এই আসনটি ১৯৪৯ সাল থেকে লিবারেল-ন্যাশনাল জোটের দখলে ছিল।

৩ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন; এটাই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।’ আজ রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পুলিশ সদস্যদের নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের-আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহীদ পুলিশ ভাইরা আত্মত্যাগ করেছিলেন, যে কোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন, আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।’ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইন, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সুতরাং শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অন্যদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ; এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিল না।’ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শুনে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ইতিহাস নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়েছে।’ ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সকল পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি ছিল, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য এখনও একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে।’ বক্তব্যের শেষে প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি। এর আগে সকালে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১০, ২০২৬ 0

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করা কিশোরগঞ্জের যুবক ড্রোন হামলায় নিহত

রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক ড্রোন হামলায় নিহতের খবর পাওয়া গেছে।   রুশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে থাকা ওই যুবকের এক বন্ধু শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি নিহতের স্বজনদের জানিয়েছেন।   খবর পেয়ে শনিবার সকালে ওই যুবকের বাড়িতে যান করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. এমরানুল কবির।   নিহত মো. রিয়াদ রশিদ (২৮) উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে।   রিয়াদের স্বজনদের বরাতে ওসি এমরানুল বলেন, ২ মে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রিয়াদ নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান রুশ সেনাবাহিনীতে একই ক্যাম্পে থাকা বন্ধু লিমন দত্ত।   রিয়াদের বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় লিমন দত্ত মেসেঞ্জারে রিয়াদের মৃত্যুর খবর জানান। লিমন নিজেও ওই হামলায় আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলায় লিমন একটি পা হারিয়েছেন।   “ওই ঘটনায় দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন আরও তিনজন”, বলেন তিনি।   জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, রিয়াদ তার এলাকার ছেলে। ঘটনাটি জানার পর রিয়াদের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারটি শোকে আছে। সরকারের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।   পরিবার জানায়, রিয়াদ ২০২৫ সালের অক্টোবরে কাজের উদ্দেশে রাশিয়ায় যান। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। ২৮ এপ্রিল শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন রিয়াদ।  

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীনের কাছে তেল বিক্রিতে তৎপর ইরান

আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে থাকা জ্বালানি তেল চীনের কাছে বিক্রির চেষ্টা জোরদার করছে ইরান। তেহরানভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ডিপ্লোহাউস’এর পরিচালক হামিদ রেজা গোলামজাদেহ সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের এক সপ্তাহ আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করেন। ওই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা।    গোলামজাদেহের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্রপথে নানা বাধার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বর্তমানে চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা তেলের মজুদ বিক্রির বিষয়ে চীনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে তেহরান।   তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ইরানের অবস্থান পরিষ্কার থাকে।   তেলের বাণিজ্যের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুও সফরে গুরুত্ব পায়। গোলামজাদেহ জানান, চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ওই অঞ্চলের নৌচলাচল নিরাপদ রাখা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইরানের আগের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।   সূত্র: আল জাজিরা।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী চিরতরে বন্ধের হুঁশিয়ারি, বাহরাইনকে কঠোর বার্তা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের আনা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানানোয় প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে জোট বেঁধে এই অঞ্চলে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার ফল হবে ভয়াবহ। এমনকি বাহরাইনের জন্য হরমুজ প্রণালীর পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।   ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সরাসরি বাহরাইনকে লক্ষ্য করে এই সতর্কবার্তা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, "আমরা বাহরাইনের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে সতর্ক করছি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিলে তার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। বাহরাইনকে লক্ষ্য করে আজিজি আরও যোগ করেন, "নিজেদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা চিরতরে বন্ধ করবেন না।   মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরান দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাহরাইনের ঘনিষ্ঠতা এবং সাম্প্রতিক মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি তাদের সমর্থন তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে, যার প্রতিফলন এই কঠোর হুঁশিয়ারি।   আন্তর্জাতিক ডেস্কগুলোতে এই খবর উত্তাপ ছড়াচ্ছে, কারণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
রোববার টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের কাছাকাছি থাকা গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের কাজ করা হবে। এ কারণে রোববার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।   নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেসকো রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫ এর আওতাধীন দেওয়ানপাড়া ফিডারের (সোর্স থেকে উকিলের মোড় আইসোলেটর পর্যন্ত) বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ থাকবে না।   যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে সেগুলো হলো— দেওয়ানপাড়া, বাখরাবাজ, আমিনের মোড়, চেয়ারম্যানের মোড়, নজিরের মোড়, বেলঘড়িয়া, পশ্চিমপাড়া ও উকিলের মোড়।   সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সড়কে স্ত্রীকে মারধর করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার যুবক, ভিডিও ভাইরাল
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬ 0

রাস্তায় দেখেই স্কুটি থামিয়েছিলেন যুবক। স্ত্রীর দিকে তেড়েও গেলেন তিনি। প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করলেন। কিন্তু ফল হল উলটো। স্ত্রীকে মারতে গিয়ে নিজেই জনগণের কাছে পিটুনি খেয়ে গেলেন তিনি। ইরান   চাঞ্চল্যকর তেমনই একটি ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি রীতিমত ভাইরাল। ঘটনাটি ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও স্বাধীনভাবে সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার। ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক স্কুটিতে করে এসে রাস্তায় হেঁটে যাওয়া এক তরুণীর কাছে থেমে যান। এরপর দৌড়ে তরুণীকে ধরে ফেলেন তিনি। তার ওপর হামলা শুরু করেন। কিন্তু তিনি যখন তরুণীর ওপর হামলা শুরু করেন, তখন সেখানে আমজনতার ভিড় জমে যায়। সবাই পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। তার পরেই যুবককে থামানোর চেষ্টা করেন তারা। কয়েকজন এসে যুবককেই পেটাতে শুরু করেন। আর সেই ঘটনার ভিডিওই প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর এবং ওই যুবক এবং তরুণী সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী বলে জানা গেছে। ভাইরাল ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে ‘মিহির ঝা’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতোমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিও। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিওটি দেখার পর নেটিজেনদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। যুবকের শাস্তির দাবিতেও সরব হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। অনেকে আবার উপস্থিত জনতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। ভিডিওটি দেখার পর এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মহিলাকে মার খেতে দেখে ভিডিও না বানিয়ে কয়েকজন সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন দেখে ভাল লাগল।’  অন্য একজন লিখেছেন, ‘যুবককে দেখে মনে হচ্ছিল তরুণীকে মেরেই ফেলবেন। কড়া শাস্তি দেওয়া হোক।’

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী চিরতরে বন্ধের হুঁশিয়ারি, বাহরাইনকে কঠোর বার্তা ইরানের
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের আনা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানানোয় প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে জোট বেঁধে এই অঞ্চলে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার ফল হবে ভয়াবহ। এমনকি বাহরাইনের জন্য হরমুজ প্রণালীর পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।   ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সরাসরি বাহরাইনকে লক্ষ্য করে এই সতর্কবার্তা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, "আমরা বাহরাইনের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে সতর্ক করছি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিলে তার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। বাহরাইনকে লক্ষ্য করে আজিজি আরও যোগ করেন, "নিজেদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা চিরতরে বন্ধ করবেন না।   মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরান দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাহরাইনের ঘনিষ্ঠতা এবং সাম্প্রতিক মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি তাদের সমর্থন তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে, যার প্রতিফলন এই কঠোর হুঁশিয়ারি।   আন্তর্জাতিক ডেস্কগুলোতে এই খবর উত্তাপ ছড়াচ্ছে, কারণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
সব জটিলতার অবসান, তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজয়
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬ 0

সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েই জননেতা বনে যাওয়া চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয় হতে যাচ্ছেন ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।   শনিবার তামিলনাডুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি তুলেছেন বিজয়। রাজ্যপাল তার এ দাবিতে সায় দিয়েছেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো থেকে এমন ধারণাই পাওয়া যাচ্ছে।   বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজগমের (টিভিকে) সরকার রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শপথ নেবে।   তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় সরকার গঠন করতে পারছিল না টিভিকে। বিজয় দুটি আসনে জয় পাওয়ায় টিভিকের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭।   ৫টি আসনে জয় পাওয়া কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার পর তাদের মোট আসন দাঁড়ায় ১১২। কিন্তু সরকার গঠন করার জন্য বিধানসভার মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে প্রয়োজন ছিল অন্তত ১১৮টি আসন।   শুক্রবার দুই বাম দল সিপিএম ও সিপিআই টিভিকের প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করে। এই দুই দলের চার আসন মিলিয়ে সংখ্যাটি ১১৬ থেকে ঠেকে। কিন্তু আরও দুই আসনের ঘাটতি রয়েই যায়।   শনিবার দ্রাবিড় তামিল জাতীয়তাবাদী দল ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) টিভিকের প্রতি শর্তহীন সমর্থন জানায়। বিধানসভায় এই দুই দলের প্রত্যেকের দুইটি করে আসন থাকায় তাদের সমর্থনে টিভিকের নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন ১২০টিতে পৌঁছে যায়। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ এর ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার হয়ে যায় তারা।   এর মধ্য দিয়ে চার দিন ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হয়। টিভিকে প্রধান রাজ্যপাল আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে ১২০ বিধায়কের সমর্থনের চিঠি উপস্থাপন করেন। আর এরপর সব উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে টিভিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল।   এর আগে বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার- পরপর তিন দিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন বিজয়, কিন্তু আরলেকার বিধানসভায় টিভিকের প্রয়োজনীয় প্রতিনিধিত্ব নেই জানিয়ে তার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা শেখ হাসিনার
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬ 0

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি শুভেন্দুর নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।   বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিধানসভার ভোটে জয়ী হওয়ায় এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।   বাংলাদেশের লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গে টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে ধসিয়ে দিয়ে এবার ইতিহাস গড়ে বিজেপি।   বিধানসভার ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতে নিয়ে প্রথমবারের মত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ৮০টি আসনে জিতে ভরাডুবি হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সংগ্রেসের।   বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, “ভোটের এই ফল শুভেন্দু অধিকারীর দৃঢ় ও জনমুখী নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধার স্পষ্ট প্রতিফলন।   বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তরিক বন্ধুত্বের ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। আমাদের সম্পর্ক অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।   তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে আমরা সবসময় পশ্চিমবঙ্গের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছি। আশা করছি, শুভেন্দু অধিকারীর মেয়াদে পারষ্পরিক সহযোগিতার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আরও শক্তিশালী হবে এবং দুই বাংলার মানুষের অভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব।   শুভেন্দু অধিকারীও অবশ্য এর আগে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি নিজের সমর্থন প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনাও এসেছে তার মুখ থেকে।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর পরগনায় এক অনুষ্ঠানে এই বিজেপি নেতা বলেন, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের 'বৈধ' প্রধানমন্ত্রী। অন্তর্বর্তী সরকার 'অবৈধ'।   শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই শাহজালাল বিমানবন্দরে নামবে এবং তাকে স্যালুট দিয়ে নিয়ে যেতে হবে।   ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন।   গতবছর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে।   এর আগে গেল বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি