খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক একাডেমিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে যথাযথ ও উচ্চমানের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত 'রিভিউ অব রাইটিং এটিএফ সাব-প্রজেক্ট প্রপোজাল' শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা ও কার্যকর গবেষণা নিশ্চিত করতে যথাযথ ও মানসম্পন্ন প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কারিগরি কর্মশালা শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। কুয়েট ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন অধ্যাপক রিসোর্স পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কারিগরি সেশনে অংশগ্রহণকারীরা পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও অনলাইন প্রদর্শনের মাধ্যমে হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা পান। এতে এটিএফ সাব-প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির মূল পদ্ধতিগত ধাপ, সাধারণ চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রস্তাবনা লেখার সক্ষমতা জোরদার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিক গবেষণামুখী একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। কুয়েটের চলমান মান নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং গবেষণা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রচেষ্টার প্রতিফলনই এই উদ্যোগ।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দায়িত্বপালন শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি-শুরু করেছি মাইনাস থেকে। ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে তারপর সংস্কারের পথ ধরেছি। আজ অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও অধিকার চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে-তা যেন কখনো থেমে না যায়।’ নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের একদিন আগে আজ সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে তিনি ভাষণ দেন। ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। আমাদের সকলের দায়িত্ব দেশকে সত্যিকারের গণতন্ত্র হিসেবে পরিস্ফুটিত করা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জন্য এই দরজা খুলে দিয়েছে। আমরা যদি সেই স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি, তবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।’ গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছে, শরীরের অঙ্গ হারিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছে, যাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যাদের লাশ এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে-তাদের সকলের আত্মত্যাগকে এ জাতি যেন কোনোদিন ভুলে না যায়। প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা যেন তাদের ছবি মনে রেখে সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ক্ষমতাবানদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, সে শিক্ষাটি যেন দিয়ে যেতে পারি’। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাবানদের ক্ষমতা মানুষকে কীরকম মনুষ্যত্বহীন করে তুলতে পারে সেটা জাতির ইতিহাসে ধরে রাখার জন্য আমরা পলাতক প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান গণভবনকে জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে রেখে যাচ্ছি।’ প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন,‘এখানে আপনাদের স্মৃতির বাস্তব নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। জাদুঘর যখন জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে তখন আপনি যেখানেই থাকুন, দেশে থাকুন, বিদেশে থাকুন- আমি অনুরোধ করব আপনি সপরিবারে একবার এসে কিছুক্ষণ জাদুঘরে কাটিয়ে যাবেন’। সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল-তার কেন্দ্র ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে’। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আজ পুলিশ আর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না, বেআইনিভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যায় না, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করে না, পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীর ভয়ে কাউকে ডিলিট বাটন চাপতে হয় না। জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে’। বিচার বিভাগ সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে যুগান্তকারী সংস্কার করা হয়েছে।’ অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, অর্থপাচার ছিল লাগামহীন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার। আমাদের দেশপ্রেমিক প্রবাসী ভাই-বোনদের রেমিট্যান্সের টাকায় এই রিজার্ভ ক্রমেই বাড়ছে।’ অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা-এই তিনটি মূল ভিত্তি আমরা দৃঢ়ভাবে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি কিংবা অপর দেশের নির্দেশনা ও পরামর্শনির্ভর বাংলাদেশ এখন আর নয়-আজকের বাংলাদেশ নিজের স্বাধীন স্বার্থ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল’। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মৃতপ্রায় এই ইস্যুটিকে পুনরায় বিশ্ব মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।’ উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ১৮ মাসে ক্রমান্বয়ে এ দেশের মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র, একটি কল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থা, বাক-স্বাধীনতা, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে পারা-সমালোচনা করতে পারা-জবাবদিহিতায় আনতে পারার যে চর্চা শুরু হলো, তা অব্যাহত রাখতে হবে। এই ধারা যেন কোনোরকমেই হাতছাড়া হয়ে না যায়।’ জুলাই সনদ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই সনদ, যার ভিত্তিতে গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করব এটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন হবে’। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়াও সন্ধ্যায় বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, আজ সোমবার দুপুরে টেলিফোনে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান এবং আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে আমন্ত্রণ জানান। জানা গেছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সর্বস্তরের অংশগ্রহণমূলক ও তাৎপর্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামের আমিরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামীকাল নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে আজ এক পোস্ট দেন। এই পোস্টে তিনি তার দায়িত্বপালনকালে কী কী পদক্ষেপ ও কার্যক্রম করেছেন তা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ্য করেন, ‘কি কাজ হয়েছে?’ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এগুলো হলো : ১) ২২ টি আইনি সংস্কার। ২) ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন। ৩) ২৪ হাজার ২৭৬টি হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার। ৪) গণহত্যার বিচার ব্যবস্থাপনা। ৫ ) প্রায় তিনগুণ পরিমাণে দৈনন্দিন কার্যক্রম। ১) আইনি সংস্কার ক) আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ : এই আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এতে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা, সাক্ষীর সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, অন্তবর্তীকালীন আপিল, এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। খ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ : এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বতন্ত্র জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে মেধা, সুযোগের সমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গ) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ : বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিচার বিভাগের নিজস্ব কর্তৃত্বে ন্যস্তকরণের বিধান করা হয়েছে। ঘ) বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ : এর মাধ্যমে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে দালিলিক সাক্ষ্যভিত্তিক বিচার, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, মধ্যস্থতা, ভার্চুয়াল শুনানি এবং অনলাইন মামলা ব্যবস্থাপনার সুবিধা রাখা হয়েছে। ঙ) মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন : জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে কমিশনের তদন্ত, ক্ষতিপূরণ আদায় ও নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ওপিসিএটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো গণবিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সুযোগ্য কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। চ) গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ : গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নির্ধারণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ক্ষমতা প্রদান, ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্পত্তি ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। ছ) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা প্রদান এবং একই সঙ্গে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণীত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধে অংশগ্রহণের কারণে গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন মামলা দায়ের নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। জ) দেওয়ানি কার্যবিধিতে সংশোধন: এই সংশোধন করে দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। মৌখিক সাক্ষ্যগ্রহণের পরিবর্তে এফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ, অনলাইনে সমনজারি এবং মূল মামলার অধীনেই রায় কার্যকর করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ঝ) ফৌজদারি আইনে সংস্কার: ফৌজদারি আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রেফতার ও রিমান্ড প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে। সেই সাথে অভিযুক্তের অধিকারের নিশ্চয়তা, জেন্ডার সংবেদনশীল শব্দ পরিহার, তদন্ত প্রক্রিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনা, মিথ্যা মামলার হয়রানী রোধ করাসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে। ঞ) মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান সংযোজন: আইন সংশোধন করে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের মামলার ক্ষেত্রে মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান করা হয়েছে। মধ্যস্থতা-চুক্তি আদালতের ডিক্রির সমতুল্য মর্যাদা পাচ্ছে। প্রতি জেলায় একজন বিচারকের স্থলে তিনজন বিচারককে লিগ্যাল এইড অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া চালু করে ২০টি জেলায় এডিআর ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের ফলে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে সফল নিষ্পত্তির গড় হার ৩৩৯ দশমিক ৮৬% বৃদ্ধি পেয়েছে ও যৌতুকের মামলা ৭৯ দশমিক ৭৪% হ্রাস পেয়েছে। বন্টনের মামলা, অগ্রক্রয় সহ বিভিন্ন বিরোধের একদিনেই নিষ্পত্তি হচ্ছে। ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন: এই সংশোধনীর মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সম্পন্নে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাক্ষীদের সুরক্ষা, শিশু ধর্ষণ মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং পুরুষ শিশু নিপীড়নকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন যুগোপযোগী বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ঠ) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংস্কার: প্রবাসীদের জন্য ডাক ব্যালট প্রবর্তন, নির্বাচনী অপরাধ বিচারে বিচারকদের সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও বিচার কমিটি গঠন এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিচারিক ক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে। ড) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে পূর্বের সাইবার নিরাপত্তা আইনের নিপীড়নমূলক ধারাগুলো এবং এসবের অধীনে দায়ের হওয়া মামলাগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ঢ) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধনী: পূর্বে বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এখন বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট না থাকলেও, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিগণ তাদের পাসপোর্টে ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ স্টিকার থাকলে বা জন্মসনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্র থাকলেই বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করতে পারছেন। এতে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সম্পত্তি হস্তান্তরসহ নানা আইনি কাজ অনেক বেশি সহজ হয়েছে। ণ) বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন: বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন করে জেন্ডার বৈষম্যমূলক বিধান বাতিল করা হয়েছে। কাবিননামা ফরম সংশোধন করে তা সময় উপযোগী ও অধিকতর স্পষ্ট করা হয়েছে। অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার কমিশন অধ্যাদেশ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীসহ বিভিন্ন আইনে অধ্যাদেশ প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে সহযোগিতা প্রদান করেছে। ২) প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন ক) জুডিশিয়াল সার্ভিসের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তিনটি পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের পদসৃজনের ক্ষমতা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫’ এবং সার্ভিসের সদস্যদের সরকারের আইন ও বিচার বিভাগে পদায়নের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। পূর্বে পদ সৃজনের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল বিধায় বিচারকের পদ সৃজনে বিলম্ব হতো এবং মামলা জট বাড়তো। এখন সুপ্রিম কোর্টের অধীন একটি বিশেষ কমিটিকে বিচারিক পদ সৃজনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সঠিকভাবে পদায়ন ও পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্য পদায়ন ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। খ) তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন: বিচারপ্রার্থী জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণে দেশের সকল আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মামলার সর্বশেষ অবস্থা, শুনানির তারিখ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি কমেছে। গ) কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ: একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে দক্ষ কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিধিসমূহ সংশোধন করা হয়েছে এবং সারাদেশের আদালতের মোট ২ হাজার ৭৩৩টি শূন্যপদে নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ঘ) দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম: অধস্তন আদালতের বিচারকদের সম্পত্তির হিসাব গ্রহণ এবং সংগৃহীত হিসাবের নথিসমূহ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী তৈরি করা হয়েছে। ঙ) প্রসিকিউশন মনিটরিং সেল: জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসিকিউশন কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। চ) বিচার কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন: বিচার কার্যক্রম দ্রুততর করার লক্ষ্যে ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য সরকারী চাকরিজীবীদের অনলাইনে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পত্রের আলোকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্র্যাক্টিস ডিরেকশন্স জারি করেছে। এছাড়া ৮০% আদালতে ই-কজলিস্ট নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে, একে দ্রুততম সময়ে শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ছ) ই-ফ্যামিলি কোর্ট : আদালত ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুইটি পারিবারিক আদালতে ই-ফ্যামিলি কোর্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইনে মামলা দায়ের, হাজিরা ও শুনানি, কোর্ট ফি প্রদান এবং রেকর্ড সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। এই ডিজিটাল কাঠামো পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম আধুনিক ও সহজতর করেছে। জ) অনলাইন বেইলবন্ড : ৯টি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে যার ফলে জামিন প্রাপ্তির পর পূর্বে ১৪টি ধাপকে কমিয়ে এক ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে। ঝ) আইন মন্ত্রণালয়ে ডিজিটালাইজেশন : আইন ও বিচার বিভাগে ডি-নথির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া, এ মন্ত্রণালয়ের অ্যাটেসটেশন সেবাকে শতভাগ অনলাইন প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করা হয়েছে। ঞ) জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা : এই সময়কালে আইনগত সহায়তা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার সাধিত হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়াও, জরুরি আইনগত সহায়তা, প্রবাসী নাগরিকদের সহায়তা প্রদান এবং পেশাদার মধ্যস্থতাকারী সৃষ্টির লক্ষ্যে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে আইনি পরামর্শের জন্য সহজে মনে রাখার মতো নতুন ফোন নম্বর (১৬৬৯৯)-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট) দেওয়ানি আদালতের পরিচিতি : দেওয়ানি বা সিভিল আদালত হওয়া সত্ত্বেও আদালতের নামের সাথে ‘সিভিল’ শব্দটির পরিবর্তে ‘সহকারী’ শব্দটি থাকায় ‘সহকারী জজ আদালত’ ও ‘সিনিয়র সহকারী জজ আদালত’-এর স্বাধীনতা ও এখতিয়ার বিষয়ে বিচারপ্রার্থী ও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরী হতো। বর্তমানে আইন সংশোধন করে আদালতের নাম পরিবর্তন করে ‘সিভিল জজ আদালত’ ও ‘সিনিয়র সিভিল জজ আদালত’ করা হয়েছে। ঠ) দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ এবং রেকর্ড সংখ্যক নতুন আদালত সৃজন : এই সময়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথক করা হয়েছে, যার ফলে এক বিচারককে একাধিক প্রকৃতির মামলার বিচার করতে হবে না। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমবে। এসময়ে রেকর্ডসংখ্যক ১ হাজার ৬০৫টি নতুন আদালত সৃষ্টি হয়েছে। ণ) নিবন্ধন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন বিভাগের সংস্কার: রেজিস্ট্রেশন সেবার মানোন্নয়ন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, এবং জনবান্ধব সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নিবন্ধন অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরুর দ্বার প্রান্তে। এ পদ্ধতি চালু হলে দাতা/বিক্রেতার বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাইপূর্বক রেকর্ডপত্র অনলাইনে ডিজিটাল বালামে সংরক্ষিত হবে। সূচিবহি ও দলিল অনলাইনে থাকবে। ভূমি অফিস থেকে এলটি নোটিশ এবং রেজিস্ট্রিকৃত দলিল অনলাইনে দেখা যাবে। ফলে জাল দলিলে নামজারি বন্ধ হবে। ৩। হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার কার্যক্রম, রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলা : এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি এবং আইন ও বিচার বিভাগের পর্যালোচনার পর এধরনের ২৩ হাজার ৮৬৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। সূচারুভাবে সকল ভূক্তভোগীকে এই সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এরূপ হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সাইবার আইনের অধীনে ৪১০টি স্পিচ অফেন্স সংক্রান্ত মামলা, এবং জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় সকল মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহারে সীমাহীন ভোগান্তি ও হয়রানী থেকে মুক্তি পেয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। ৪) গণহত্যার বিচার সহায়তা: জুলাই গণ-অভূত্থানে সংগঠিত গণ-হত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিয়োগ, তাদের সকল লজিস্টিক সহায়তা প্রদান, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন ও প্রসিকিউশন কাজের তদরকীর দায়িত্ব পালন করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এই আদালতে চারটি মামলার রায় হয়েছে, আরো কমপক্ষে ছয়টি মামালার বিচার চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, গুম সহ বহু মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ৫) দৈনন্দিন কার্যক্রম: এ সরকারের কার্যকালে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে লক্ষ্যনীয় গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দেড় বছরে মন্ত্রীপর্যায়ে নিষ্পত্তিকৃত নথির সংখ্যা ২ হাজার ২৮১টি, বিগত সরকারের একই সময়ে ১ হাজার ২৩৫ টি নথি নিষ্পত্তি হয়েছিলো। গত দেড় বছরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ অন্যান্য দপ্তরে ৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত প্রদান করা হয়েছে (গত সরকারের আমলে ২১০টি)। আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রেকর্ড ১৫টি অংশীজন মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনগুলো, গুম সংক্রান্ত অপরাধ তদন্ত কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো বিধিমালা ও প্রবিধানগুলোকে কোডিফাই করার কাজ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রণীত ১২৭টি অধ্যাদেশ ও একটি আদেশ নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগকৃত সকল আইন কর্মকর্তা পালিয়ে যাওয়ার কারণে গত দেড় বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যাক আইন কর্মকর্তাকে (প্রায় সাড়ে ৫ হাজার) নিয়োগ করতে হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগে ৪৮ জন বিচারপতি নিয়োগে সাচিবিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ (সোমবার) জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এনসিপির পক্ষে সনদে স্বাক্ষর করেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বলেন, এনসিপির সনদে স্বাক্ষর করার জন্য জাতির বিশ্বাস ছিল, এবং আজ সে বিশ্বাস পূর্ণতা পেল। জুলাই জাতীয় সনদ এখন পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠেছে। এনসিপিকে ধন্যবাদ, তাদের এই মহতী কাজে অংশগ্রহণের জন্য। তিনি আরও বলেন, এই সনদ নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা আগামীকাল (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন সম্পর্কে আশা প্রকাশ করেন, সবাই যেন সামনের দিনগুলোতে সফল হন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার শপথ নেবেন। আমরা একইসঙ্গে দুটো শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। দেশের মানুষ আমাদের উপর যে আস্থা রেখেছেন, তা বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও বলেন, যদিও জুলাই সনদে সবশেষ স্বাক্ষর করা হয়েছে, কিন্তু এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এনসিপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন মনিরা শারমিন, সারওয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন এবং জহিরুল ইসলাম।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো একক ইস্যুর কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ভারতের উচিত তাকে বাংলাদেশকে হস্তান্তর করা। তবে তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে পাঠানো না হলেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য সম্পর্ক স্থাপনে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না এবং তারা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসনে জিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফখরুল জানান, বাংলাদেশের স্বার্থে প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জটিলতা থাকলেও সহযোগিতার ক্ষেত্র বন্ধ হওয়া উচিত নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমেরিকা ও চীনের সম্পর্কেও জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে।
চট্টগ্রামের কক্সবাজার থেকে ২২২ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে বঙ্গোপসাগরে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, এটি অগভীর ভূমিকম্প ছিল, যার গভীরতা ছিল মাটির নিচে ১০ কিলোমিটার। তবে এখনও কেউ এটি অনুভব করার খবর জানায়নি। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের মেঘালয় রাজ্যসংলগ্ন অঞ্চলে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.০। এতে বাংলাদেশের সিলেটেও কম্পন অনুভূত হয়। ইএমএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২ মিনিটে ঘটে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মেঘালয় অঞ্চলে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের কেন্দ্র ছিল ভারতের গোয়াহাটি শহর থেকে প্রায় ১২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং বাংলাদেশের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার উত্তরে। ভূমিকম্পের কম্পন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও আশপাশের এলাকায়ও অনুভূত হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম হবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে, অনুষ্ঠান চলাকালীন খেজুর বাগান ক্রসিং হতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) হতে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে যানচলাচল সীমিত করা হবে। যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের ফলে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা নিরসনকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ডাইভারশনের মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে যানবাহনের প্রবাহ সচল রাখা হবে। ডাইভারশন পয়েন্ট এবং বিকল্প সড়কসমূহ ১. মিরপুর রোড টু ফার্মগেট ভায়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন প্রতিরক্ষা গ্যাপ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে গমন করবে। ২. ধানমন্ডি হতে ফার্মগেট ধানমন্ডি-২৭ হতে আগত যানবাহন আসাদগেট-প্রতিরক্ষা গ্যাপ দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে গমনাগমন করবে। ৩. আসাদগেট হতে ফার্মগেট ক্রসিং আসাদগেট বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিং (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর) প্রতিরক্ষা গ্যাপ-ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র -উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে গমন করবে। ৪. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ ইন্দিরা রোড হতে ধানমন্ডি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ইন্দিরা রোড হতে আগত যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বামে মোড় নিয়ে প্রতিরক্ষা গ্যাপ-বামে মোড় নিয়ে আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডির দিকে গমন করবে। ৫. মিরপুর রোড হতে ধানমন্ডি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হতে ব্লকেড সরিয়ে ফেলা হবে বিধায় মিরপুর রোড হতে দক্ষিণ অভিমুখী যানবাহন শ্যামলী-শিশুমেলা-গণভবন (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-আসাদগেট হতে সোজা ধানমন্ডি ২৭য়ের দিকে গমনাগমন করবে। ৬. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন যানজট/দুর্ভোগ এড়াতে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প সচল থাকবে। সব প্রকার যানবাহন চালকদের মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোড এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্মানিত নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে বিসিবি সিইও বলেন, ‘বুলবুল ভাই পারিবারিক কারণে দেশের বাইরে গিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ফিরে আসবেন বলে আশা করছি।’ বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, দেশ ছাড়ার আগে বিসিবি পরিচালকদে’র হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সভাপতি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে আমি দেশের বাইরে যাচ্ছি, দ্রুতই ফিরে আসব।’ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ছিটকে যাওয়ার পর থেকেই বিসিবিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বোর্ড পরিচালকদে’র মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা চলছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। এদিকে বিসিবি’র প্রধান প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মিনহাজুল আবেদীন নান্নু আজ বিসিবি প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রিকেটের বর্তমান অচলাবস্থা কাটবে। নান্নু বলেন, ‘নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে, আশা করি এখন সব কিছু নিয়মের মধ্যে ফিরবে। ক্লাবগু্লোর সঙ্গে বিসিবি’র যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।’ বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বোর্ডের অধীনে অনেক ক্লাবই ঘরোয়া লিগে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। এই ‘বিসিবি বনাম ক্লাব’ দ্বন্দ্বের বিষয়ে নান্নু সাফ জানিয়ে দেন যে, ক্রিকেটের স্বার্থে কোনো আপস করা চলবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ক্রিকেটই সবার আগে। সব কিছুর উপরে বাংলাদেশ—এই নীতি মেনে আমাদের এগোতে হবে। খেলার মাঠে কোনো আপস নেই। আমরা চাই সবার জন্য একটি সুন্দর সমাধান আসুক।’
অবশেষে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনায় যাবে। প্রতিনিধিদলে থাকবেন সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন, জাবেদ রাসিন ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেবানন-সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজন্সি জানিয়েছে, নিহতদের একজন সিরীয় নাগরিক। তার নাম খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমাদ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা লেবাননে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) সদস্যদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে তাদের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তারা জানিয়েছে, লেবাননের মাজদাল আনজার এলাকায় এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় পিআইজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পিআইজে হলো অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডভিত্তিক একটি সশস্ত্র সংগঠন, যা গাজায় হামাসের সঙ্গে মিলিতভাবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে। সংগঠনটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মিত্র হিসেবেও পরিচিত। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালায়। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তির পরও ইসরায়েল লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির পর এক বছরে ইসরায়েলি বাহিনী ১০ হাজারের বেশি বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর গত নভেম্বরে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত বা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২১ জন নারী ও ১৬ জন শিশু রয়েছে। এ সময়ে অন্তত ১১ জন লেবানিজ বেসামরিক নাগরিককে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। বারবার ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে লেবানন সম্প্রতি জাতিসংঘে একটি অভিযোগ করেছে এবং নিরাপত্তা পরিষদকে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ ও লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ সরে যেতে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শুধু ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসেই ইসরায়েল লেবাননের সার্বভৌমত্ব অন্তত দুই হাজার ৩৬ বার লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া লেবাননের পাঁচটি এলাকায় ইসরায়েল এখনো অবস্থান করছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামগুলোর পুনর্গঠন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ এখনো ঘরে ফিরতে পারছেন না।
ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরান, রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতরা তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আরও এক দফা ত্রিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন। রাশিয়ান প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিভিন্ন ইস্যুতে তিন দেশ নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও এই তিন দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ ও নানাবিধ অভিযোগের মুখে থাকা ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের এই পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির পর ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরানও ধাপে ধাপে তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে শুরু করে। ২০২১ সালে এই চুক্তি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালানো হলেও পশ্চিমাদের অতিরিক্ত দাবি ও গড়িমসির কারণে তা সফল হয়নি।
সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম তার সাবেক অধিনায়ক ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি জানা গেছে, ইমরান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন এবং তার ডান চোখের দৃষ্টি প্রায় ৮৫% হারিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আকরাম সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আকরাম লিখেছেন, আমাদের অধিনায়ক স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন শুনে মন ভেঙে গেছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং তার জন্য সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। আইনজীবী সালমান সফদারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরানের ডান চোখে মাত্র ১৫% দৃষ্টি অবশিষ্ট আছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে তিনি ঝাপসা দেখার সমস্যায় ভুগছিলেন, কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। পরে জানা গেছে, তার চোখের রেটিনায় রক্ত জমাট বাঁধায় স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে। ইমরানকে ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার পূর্ণ চক্ষু পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। আকরাম ছাড়াও ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার, শাহীদ আফ্রিদি, রমিজ রাজা ও মোহাম্মদ হাফিজ প্রমুখ সাবেক ক্রিকেটাররা ইমরানের জন্য মানবিক আচরণের দাবি জানিয়েছেন। ওয়াকার ইউনুস বলেছেন, রাজনীতিকে একপাশে রেখে আমাদের জাতীয় বীরকে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ইমরান শওকত খানম ক্যানসার হাসপাতালে তার মায়ের স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন। শোয়েব আখতার জানিয়েছেন, তার চোখের দৃষ্টি হারানো খবর শুনে তিনি মর্মাহত এবং আশা করছেন ইমরান সুচিকিৎসা পাবেন। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান অজয় জাদেজাও পাকিস্তান ক্রিকেটারদের ইমরানের প্রতি সমর্থন জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পিটিআই দলের নেতা ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে বিরোধী দলগুলো ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট হাউসে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচিতে পিটিআই এবং টিটিএপি অংশ নিচ্ছে, খবর জানিয়েছে ডন। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশ কার্যকর, যা সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করার পরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে, বিশেষ করে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল এ স্থানান্তরের দাবি জোরালো হয়েছে। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিটিএপি চেয়ারম্যান মেহমুদ খান আচাকজাই, আর পিটিআই’র নেতা ব্যারিস্টার গহর আলী খানসহ দলের শীর্ষ নেতারাও অংশগ্রহণ করছেন। পিটিআই অভিযোগ করেছে, পার্লামেন্ট হাউস ও কেপি হাউসকে ‘কারাগারের মতো’ পরিণত করা হয়েছে এবং পুলিশ ভিতরে খাবার বা নাশতা প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে আওয়াম পাকিস্তান দলও এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা তাদের মূল অগ্রাধিকার। এদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘ইমরান খানের স্বাস্থ্য আমার কাছে রাজনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
ইতালির ডানপন্থী সরকার নতুন একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে, যা দেশের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করবে। নতুন আইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী জাহাজ আটকানো এবং নির্দিষ্ট শর্তে তাদের জলসীমায় প্রবেশ রোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে। ইতালির মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, এই আইন বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হবে—যেখানে অভিবাসী প্রবাহ দেশটির জন্য ব্যতিক্রমী চাপ সৃষ্টি করে বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসীদের আগমনজনিত চাপের কারণে ইতালি দেশের সমুদ্রপথে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আইনটি সংসদের উভয় কক্ষে অনুমোদিত হলে কার্যকর হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে, অভিবাসীদের ইতালিতে প্রবেশের আগে আলবেনিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরকারি আশ্রয় প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হতে পারে। একই সঙ্গে, ইতালির জলসীমায় প্রবেশে বাধা দেওয়া অভিবাসী জাহাজগুলিকে অন্য দেশে স্থানান্তরের সুযোগ থাকবে, যদি ইতালির সঙ্গে সেই দেশের চুক্তি থাকে। নতুন আইনের অধীনে সীমান্তে কঠোর নজরদারি এবং ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। যারা আইন ভঙ্গ করবে তাদের ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা বা নৌকা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। নৌ-অবরোধ ৩০ দিন পর্যন্ত আরোপ করা যাবে, এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। মূলত দাতব্য সংস্থাগুলোর উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংক্ষেপে, নতুন আইন ইতালির অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে যখন এটি দেশীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় মনে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।