বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ এখন শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, এটি ক্রমেই মানবাধিকার, নাগরিকত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে। গত এক মাসে একাধিক সীমান্ত দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগের ধারাবাহিকতায় এবার বেনাপোল সীমান্তে ১০ জনকে নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় রবিবার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে তারকাটার বেড়ার গেট খুলে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিজিবি বিষয়টি জানতে পেরে ওই পুশ-ইন প্রতিহত করলে তারা বর্তমানে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর গ্রামের বোম্বেতলা সংলগ্ন জিরো লাইনে (নোম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও সাড়া দেয়নি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার স্বীকৃত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে গত এক মাসে আবারও ভারতের বিএসএফের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পুশ-ইনের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ও চেকপোস্টভিত্তিক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না। ফলে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ড বা জিরো লাইনে আটকে পড়েছে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন। যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তে নিয়ে আসা ১০ জন এখনও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছে। বিষয়টি সমাধানে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এক মাসে একাধিক সীমান্তে পুশ-ইনের অভিযোগ মে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে কথিত ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ পরিচয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। যদিও মে মাসে মোট কতজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছে বা কতজনকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট কোনও সরকারি সংস্থা এখন পর্যন্ত সমন্বিত পরিসংখ্যান বা সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি। ঈদুল আজহার আগে ২৪ মে থেকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্তে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এর আগে ২৭ মে সাতক্ষীরার কুশখালি সীমান্ত দিয়ে ২৩ জনকে পুশ-ইনের অভিযোগ ওঠে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। একই সময়ে ধলই সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। মে মাসের শেষদিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টাকালে ১০ জনকে আটক করে বিজিবি। এছাড়া মেহেরপুর, যশোর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায়ও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তে নজরদারি জোরদার ক্রমবর্ধমান পুশ-ইন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজিবি সদর দফতরের উপ-মহাপরিচালক (ডিডিজি) ও বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, ‘‘অবৈধভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কাউকে বিজিবি গ্রহণ করবে না। কোনও ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করা হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে নির্ধারিত চেকপোস্টের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। পুশ-ইনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে দায়িত্বে থাকা অনেক সদস্যের ছুটিও সীমিত করা হয়েছিল।’’ মানবাধিকার ও কূটনৈতিক প্রশ্ন ভারত থেকে কথিত ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাগুলোর সংখ্যা এবং বিস্তৃতি বাড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকারকর্মী ও সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে তাকে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি ও স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১ জুন) উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় শহীদ জিয়া পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাগুরা জেলা যুবদল নেতা সোহেল রানার সমর্থকদের সঙ্গে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। স্থানীয়দের দাবি, গত সপ্তাহে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুকুর নামে এক ব্যক্তিকে আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকরা মারধর করেন। পরে ঈদের পরদিন অ্যাডভোকেট রুবেল শিকদারকে ঘুল্লিয়া বাজারে সোহেল রানার সমর্থকরা মারধর করেন। এরপর সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান ও বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব ঘটনার জেরে রোববার রাতে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে শেখপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় আবারও হামলা-পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আমজেদ মোল্যা, আরজিনা বেগম, আরিফ শিকদার, জুয়েল মোল্যা ও জাহিরুল মোল্যাসহ অন্তত ১২ জন। তাদের মধ্যে আটজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত জাহিরুল মোল্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে মতিন ফকির, আরজু মোল্যা, অলিয়ার ফকির, হান্নান মোল্যা, এরশাদ মোল্যা ও আকবর শেখসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মহম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসান বা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চুক্তি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় । একই সাথে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে যাবে তেহরান। সোমবার (১ জুন) নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই উল্লেখ করেছেন, জায়নবাদী আগ্রাসন বন্ধ করতে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ইরান সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি হওয়াটাকে তারা যেকোনো চুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখছে। এদিকে ঠিক একই দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের বৈরুত শহরতলীতে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার আগে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে দখলদারিত্ব আরও বাড়ানো এবং সম্প্রসারণ করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। ইরান হিজবুল্লাহকে তার অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, লেবাননের স্বাধীনতা ও প্রতিরোধ আন্দোলনকে সহায়তা করতে ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। বর্তমানে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইসরায়েল লেবাননে তার আগ্রাসন বাড়িয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, হিজবুল্লাহ ও লেবাননকে সমর্থন দেওয়া তারা কোনোভাবেই বন্ধ করবে না। সূত্র: রয়টার্স
১০ জন খেলোয়াড় নিয়েও পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। মালদ্বীপে চার জাতির ফুটবল টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে রুখে দেয় লাল সবুজের দল। সোমবার মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। এদিন ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ গোলের সুযোগ পেয়েছিল। ফরোয়ার্ডদের ভুলে আর লিড নেওয়া হয়নি। পাকিস্তানের এই দলে প্রবাসী ফুটবলারদের আধিক্য। শারীরিক গঠন ও টেকনিকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে তারা বাজে ফিনিশিংয়ে গোল পায়নি। ম্যাচে বাংলাদেশ এক পয়েন্টের পাশাপাশি ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। নিশ্চিত কয়েকটি গোল বাঁচিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ৬৭তম মিনিটে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ডের দূরপাল্লার শট বা দিকে ঝাঁপিয়ে আংশিক সেভ করেন। এরপর বল সাইড পোস্টে লেগে ফেরত আসে। এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি আক্রমণ পাকিস্তানি ফুটবলার বক্সের মধ্যে দারুণ দক্ষতায় ভলির মাধ্যমে ড্রপ করে বল পোস্টে পাঠানোর চেষ্টা নসাৎ করে দেন শ্রাবণ। এ রকম আরও কয়েকটি আক্রমণ তিনি একাই রুখে দেন। বাংলাদেশ ৬২তম মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হয়। মঞ্জুরুর রহমানকে রেফারি লাল কার্ড দেখান। যদিও ফাউলের ঘটনায় তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। এজন্য বাংলাদেশের ফুটবলাররা প্রতিবাদ করলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। উল্টো দেখা গেছে, পাকিস্তানের গোলরক্ষক বাংলাদেশের ফুটবলারকে আঘাত করছিলেন। আক্রমণে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশও একেবারে কম যায়নি। বিশেষ করে আব্দুল্লাহ ওমর দুটি ভালো সুযোগ মিস করেন। বাংলাদেশে এই ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল।
দক্ষিণ সুদানে মিশনে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ভোলার লালমোহনের মো. মহিউদ্দিন চপল। তিনি সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই মাস আগে সেনাবাহিনী থেকে মিশনে দক্ষিণ সুদান যান মহিউদ্দিন চপল। শনিবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে তাৎক্ষণিক তাকে উগান্ডার একটি হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৃত্যু হয় তার। মহিউদ্দিন চপলের বাড়ি লালমোহন ফরাজী বাজার এলাকায়। বাবা দেলোয়ার হোসেন মেম্বার ও মা পুত্রশোকে বারবার মূর্ছা যান। তারা মানতে পারছেন না তাদের ছেলে আর নেই। শনিবার রাতে মৃত্যুবরণ করলেও মৃত্যু সংবাদ তাদের কাছে পৌঁছে রোববার দুপুরে। মৃত্যুর খবরে পরিবারে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার স্ত্রী ও ২ ছেলে সন্তান রয়েছে।
জুন মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন ঘোষণায় পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। রোববার (৩১ মে) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন মূল্য সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম আগের মতোই ১১৫ টাকা প্রতি লিটার বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে মে মাসের তুলনায় অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বেড়েছে। মে মাসে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে ডিজেলের মূল্য ছিল ১১৫ টাকা, যা জুন মাসেও অপরিবর্তিত থাকছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে সরকার ডিজেলের দাম বাড়িয়ে ১১৫ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। একই প্রজ্ঞাপনে পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই মূল্য অনুযায়ী এতদিন দেশের বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। সরকারের বিদ্যমান মূল্য সমন্বয় ব্যবস্থার আওতায় প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। জুন মাসের নতুন মূল্যও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৯ শিশু। এতে মৃত্যু বেড়ে ৫৮৮ তে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুগুলো হামের উপসর্গজনিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ শিশু এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৯৮ শিশুসহ মোট ৫৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ৭২ হাজার ৭০ শিশুর শরীরে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ৯০২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৭২২ শিশু। এ সময়ের মধ্যে ৯ হাজার ৯৪ শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ১৭৯ শিশুর মধ্যে ৪৫ জনের হামে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সারা দেশে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সৈয়দপুর স্টেশনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজকের দিনে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তীব্র রোদ ও গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অনেকে কাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বা ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন। রিকশাচালক ও শ্রমিকরা জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচণ্ড রোদে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই অতিরিক্ত গরমে কাজ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় বাজার ও ফুটপাতে আখের রস, লেবুর শরবতসহ ঠান্ডা পানীয় বিক্রি বেড়েছে, তৃষ্ণা মেটাতে এসবের ওপরই নির্ভর করছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়টিতে তাপমাত্রার ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুজব নাকচ করে দিয়েছে। রোববার (৩১ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাসনিমের বরাতে একটি সূত্র জানায়, ‘পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তিনি আজও স্বাভাবিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।’ সূত্রটি আরও দাবি করে, ‘এসব গুজব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভেদ সৃষ্টি এবং ইরানের সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।’ একই সূত্রের মতে, ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ নেটওয়ার্ক যেসব তথাকথিত সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে সেগুলো সাধারণত ওই নেটওয়ার্কের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কল্পনা ও ভ্রান্ত ধারণার ফল।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
লেবানন ও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা বা বার্তা বিনিময় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তাসনিম নিউজের বরাতে জানা যায়, লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ বার্তা বিনিময় প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরানের প্রতিনিধি দল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান এবং তাদের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ (আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীসমূহ) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন উপকূলে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালিসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলোকে সক্রিয় করার বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। উল্লেখ্য, ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হুতিরা ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে তাদের হাত রয়েছে এবং ইরানের বিবৃতিতে মূলত এই হুতিদের মতো মিত্র বাহিনীগুলোকেই ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ১৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটিকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রায় সংঘাত বন্ধ হয়নি, তবুও বৈরুতকে সরাসরি হামলার বাইরে রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরপরই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের ব্যাপকভাবে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়। প্রধান সড়কগুলো যানবাহনে ভরে যায়। গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়া স্থানীয়দের জন্য এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় নিয়মিত বিমান হামলার পাশাপাশি বহু শহর ও গ্রামে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে রোববার দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ দখলের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে গভীর স্থল অগ্রগতি বলে দাবি করা হচ্ছে। দুর্গ দখলের পর নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আমাদের উপস্থিতি আরও গভীর ও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং শক্তিশালী। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা বিউফোর্ট দুর্গের আশপাশে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে। সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ লেবাননি আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ পরিস্থিতির জন্য লেবানন সরকারকে দায়ী করে বলেন, সরাসরি আলোচনার পথ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মাত্রার সামরিক বিস্তারের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও ইসরায়েলের নতুন অভিযানের সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে। তেহরান ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি বা নতুন কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলছাড়া কোনো চুক্তি গ্রহণ করা হবে না। রোববার (৩১ মে) ইরানের পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুনর্নির্বাচিত স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গালিবাফ বলেন, কোনো আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির ওপর ইরান ভরসা করবে না। তিনি বলেন, ‘শত্রুর কথা ও প্রতিশ্রুতির ওপর কোনো আস্থা নেই।’ তার মতে, ইরানের একমাত্র মানদণ্ড হলো—নিজেদের কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগে চুক্তি থেকে বাস্তব, যাচাইযোগ্য এবং কার্যকর ফল পাওয়া নিশ্চিত করা। এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও অনাস্থারই প্রতিফলন। দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে নানা বিষয়ে উত্তেজনা ও মতবিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে ‘আস্থা নেই’ গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণভাবে ফলাফলনির্ভর। তিনি বলেন, ‘আমরা পালটা কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণের আগে বাস্তব ফলাফল অর্জন করাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখি।’ তিনি আরও জানান, ইরানের ঘোষিত শর্তগুলো পূরণ হয়েছে—এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো চুক্তির পথে এগোবে না। এতে বোঝা যায়, আলোচনার ক্ষেত্রে দেশটি এখন আরও সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ইরানের আলোচক দল তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতেও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের এই অবস্থান দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং প্রয়োজন হলে জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে। এমন সময়ে এই বক্তব্য এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরোক্ষ। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শান রাজ্যের একটি গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় রোববার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে চীন সীমান্তের পাশে নামখাম টাউনশিপের কাউং তাত গ্রামে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ নারী এবং ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে অন্যান্য প্রতিবেদনে এই সংখ্যা কিছুটা কমবেশি উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই গ্রামটির ওপর দিয়ে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। এলাকাটির নিয়ন্ত্রণকারী এবং জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ট্যআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই ‘আকস্মিক বিস্ফোরণ’ ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় এক বাসিন্দা লিখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলের এটি কোনো বিমান হামলা হবে। টেলিগ্রাম পোস্টে বলেছে, এই বিস্ফোরণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট/টিএনএলএ গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ঘটা এই বিস্ফোরণের তদন্ত চলছে এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির আশপাশে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে এবং ইট-পাথরের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সূত্র: নিক্কেই এশিয়া
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।