ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কয়েকটি ছোট নৌযানও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি আরব দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এদিকে হামলার আগে ইরানের দুটি সংবাদ সংস্থা জানায়, বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস এবং হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে কেশম দ্বীপের গভর্নর হোসেইন আমির জানান, শত্রুপক্ষের ছোড়া ১০ থেকে ১১টি সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র দ্বীপে আঘাত হেনেছে। তার দাবি, হামলাগুলো কেবল সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সাম্প্রতিক এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাঙামাটির চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে আদায় বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পাশাপাশি আগামী মাসে এসব ঋণের ওপর অতিরিক্ত সুদ আরোপ না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করতেই আপাতত কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী মাসে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ওপর অতিরিক্ত সুদের বোঝা না পড়ে, সে বিষয়েও প্রশাসনকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে সড়ক, বিদ্যুৎ, কৃষি ও মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী রাঙামাটি শহরের ওমদা মিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাইস্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয় নেওয়া মানুষের খোঁজখবর নেন।
গাইবান্ধায় পুকুরে গোসলের সময় তর্কের জেরে কিশোর রাহাত (১৫)কে পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কিশোরকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। রোববার (১২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুই কিশোর হলেন সদর উপজেলার উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের সাকিব (১৫) ও রিফাত (১৫)। নিহত রাহাতও একই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুন বিকেলে উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের হাওয়াই দিঘির মোড় এলাকায় একটি পুকুরে গোসল করতে নামে তিন বন্ধু। গোসলের সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে পানির নিচে চেপে ধরে। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর আত্মগোপনে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রথমে ঢাকার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে সাকিবকে এবং পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুই আসামিকে গাইবান্ধায় আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, ঘটনার পরদিন অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান নিহত রাহাতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে ১৯ জুন নিহতের বাবা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় দুই কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার পর প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন কলম্বিয়ার উইঙ্গার হামিন্তন কাম্পাস। নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার আত্মগোপনে গেছেন বলে জানা গেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি কাম্পাস। পরে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে সুইজারল্যান্ড, আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে বোগোতাগামী বিমানে না ওঠায় তার অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। পরে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, হুমকির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং হুমকিদাতাদের আচরণের নিন্দা জানায় সংস্থাটি। এরপর ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় কাম্পাস লেখেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি কলম্বিয়ার জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। দেশের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় দলের প্রতি তার ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না এবং দেশের জন্য তিনি সবসময় সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন কাম্পাস। তবে শেষ ষোলোর সেই মিস করা সুযোগের পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন। ঘটনাটি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে নিহত হওয়া কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের সদস্যদের কখনোই হুমকি বা সহিংসতার শিকার হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে কাম্পাস ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কয়েকটি ছোট নৌযানও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি আরব দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এদিকে হামলার আগে ইরানের দুটি সংবাদ সংস্থা জানায়, বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস এবং হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে কেশম দ্বীপের গভর্নর হোসেইন আমির জানান, শত্রুপক্ষের ছোড়া ১০ থেকে ১১টি সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র দ্বীপে আঘাত হেনেছে। তার দাবি, হামলাগুলো কেবল সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সাম্প্রতিক এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গাইবান্ধায় পুকুরে গোসলের সময় তর্কের জেরে কিশোর রাহাত (১৫)কে পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কিশোরকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। রোববার (১২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুই কিশোর হলেন সদর উপজেলার উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের সাকিব (১৫) ও রিফাত (১৫)। নিহত রাহাতও একই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুন বিকেলে উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের হাওয়াই দিঘির মোড় এলাকায় একটি পুকুরে গোসল করতে নামে তিন বন্ধু। গোসলের সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে পানির নিচে চেপে ধরে। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর আত্মগোপনে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রথমে ঢাকার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে সাকিবকে এবং পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুই আসামিকে গাইবান্ধায় আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, ঘটনার পরদিন অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান নিহত রাহাতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে ১৯ জুন নিহতের বাবা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় দুই কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মালয়েশিয়ায় মানব পাচারচক্রের একটি গোপন ট্রানজিট আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৮ বাংলাদেশিসহ মোট ১৯ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিকও রয়েছেন। দেশটির সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের চেরাস এলাকায় একটি দোকানঘরের ওপরের তলায় গড়ে তোলা আস্তানায় গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, আটক ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে ১৫ জন এবং পাকিস্তানের ওই নাগরিক মানব পাচারের শিকার হয়ে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর তিন বাংলাদেশিকে মানব পাচারচক্রের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রানজিট হাউস পরিচালনা ও পাচার কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাঁদের একজন চক্রটির স্থানীয় সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করতেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক অভিবাসীরা ওই দিনই মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি অবৈধ সীমান্তপথ দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। পরে তাঁদের সড়কপথে ক্লাং ভ্যালি এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে সক্রিয় এই চক্রটি প্রথমে অভিবাসীদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যেত। এরপর দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করানো হতো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত পাচারকারীরা। এভাবে চক্রটি প্রায় ৩২ লাখ রিঙ্গিতের অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানে পাচারচক্রের ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। ২০ থেকে ৫২ বছর বয়সী আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭-এর আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার পর প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন কলম্বিয়ার উইঙ্গার হামিন্তন কাম্পাস। নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার আত্মগোপনে গেছেন বলে জানা গেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি কাম্পাস। পরে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে সুইজারল্যান্ড, আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে বোগোতাগামী বিমানে না ওঠায় তার অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। পরে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, হুমকির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং হুমকিদাতাদের আচরণের নিন্দা জানায় সংস্থাটি। এরপর ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় কাম্পাস লেখেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি কলম্বিয়ার জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। দেশের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় দলের প্রতি তার ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না এবং দেশের জন্য তিনি সবসময় সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন কাম্পাস। তবে শেষ ষোলোর সেই মিস করা সুযোগের পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন। ঘটনাটি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে নিহত হওয়া কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের সদস্যদের কখনোই হুমকি বা সহিংসতার শিকার হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে কাম্পাস ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুত সঙ্কট আরও তীব্র হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুত এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’ ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুত যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়নি। সিএসআইএস’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; ততদিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে। পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর। সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন। মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেওয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি। যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে, তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কয়েকটি ছোট নৌযানও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি আরব দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এদিকে হামলার আগে ইরানের দুটি সংবাদ সংস্থা জানায়, বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস এবং হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে কেশম দ্বীপের গভর্নর হোসেইন আমির জানান, শত্রুপক্ষের ছোড়া ১০ থেকে ১১টি সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র দ্বীপে আঘাত হেনেছে। তার দাবি, হামলাগুলো কেবল সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সাম্প্রতিক এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কর্ণাটকের পরিবহনমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বাসে ভ্রমণ করতে গিয়ে নিজেই গণপরিবহনের নিত্যদিনের ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন। ভাড়ার জন্য ১০০ রুপির নোট দেওয়ায় এবং কন্ডাক্টরের কাছে ভাঙতি না থাকায় তাকে বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার রাতে বেঙ্গালুরুর হেব্বাল থেকে নাগাশেট্টিহাল্লি রুটের একটি বিএমটিসি (Bangalore Metropolitan Transport Corporation) বাসে মাস্ক পরে সাধারণ যাত্রীর মতো ওঠেন মন্ত্রী। তিনি দুটি টিকিট চাইলে ভাড়া হিসেবে ১০০ রুপির একটি নোট দেন। কন্ডাক্টর সঠিক ভাঙতি চাইলে মন্ত্রী জানান, তার কাছে খুচরা টাকা নেই। কন্ডাক্টরও নিজের টাকার ব্যাগ দেখিয়ে জানান, তার কাছেও পর্যাপ্ত ভাঙতি নেই। তাই সঠিক ভাড়া দিতে না পারলে বাস থেকে নেমে যেতে হবে। মুখে মাস্ক থাকায় কন্ডাক্টর বুঝতেই পারেননি যে তিনি রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী। কোনো ধরনের পরিচয় না দিয়ে বা তর্কে না জড়িয়ে মন্ত্রী শান্তভাবে বাস থেকে নেমে যান। প্রায় দুই ঘণ্টার এই আকস্মিক পরিদর্শনে বাইরাথি সুরেশ বেঙ্গালুরুর জয়মহল, টিভি টাওয়ার, আরটি নগর, সিবিআই রোড, হেব্বাল, মান্যতা টেক পার্ক, নাগাওয়ারা, হেন্নুর, হেন্নুর বান্দে, বাইরাথি বান্দে ও গেদ্দালাহল্লিসহ বিভিন্ন রুটে বাসে ভ্রমণ করেন। এছাড়া নাগাশেট্টিহাল্লি এলাকায় কিছু দূর অটোরিকশায়ও যাতায়াত করে যাত্রীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ করেন।
যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুত সঙ্কট আরও তীব্র হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুত এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’ ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুত যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়নি। সিএসআইএস’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; ততদিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে। পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর। সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন। মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেওয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি। যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে, তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
বিশ্বের দুই চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক প্রতিযোগিতা কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যার ইঙ্গিত মিলেছে চীনের জিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত মরুভূমির রুওকিয়াং পরীক্ষা কেন্দ্রে মার্কিন ‘আর্লেই বার্ক’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারের একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিকল রেপ্লিকা তৈরিতে। নতুন উপগ্রহ চিত্রে এই দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপগ্রহ চিত্রে ৬ মিটার চওড়া একটি রেল ট্রাক দেখা গেছে; যার ওপর একটি যুদ্ধজাহাজের আকারের লক্ষ্যবস্তু স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা নির্ভুল করতে একটি চলন্ত সামুদ্রিক জাহাজের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এটি। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ইনস্টিটিউট বলছে, এই জটিল পরীক্ষা কেন্দ্রটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করে আসছে বেইজিং। সামরিক খাতের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান আলসোর্স অ্যানালাইসিস বলছে, কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সম্ভাব্য এই রেপ্লিকা এবং রেললাইনের ওপর বসানো চলন্ত অন্যান্য কাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও তা অর্জনের সক্ষমতা পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সব যুদ্ধজাহাজের ওপর ও চারপাশে একাধিক সেন্সর বসানোসহ রেপ্লিকাগুলোর অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বিবরণ দেখে ওই অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ধরে বহুমুখী উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুলিপিটি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা অনুশীলন এবং সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য কোনও সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা জোরদার করার যে ব্যাপক প্রচেষ্টা বেইজিং চালাচ্ছে, এটি তারই অংশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক বলছে, আর্লেই বার্ক-শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি বিমানবাহী রণতরীগুলোর নিরাপত্তায় এসকর্ট, বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার এবং দূরপাল্লার হামলা পরিচালনা করে থাকে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়ও এসব রণতরীর এই ধরনের ব্যবহার দেখা গেছে। জাপানে নিয়োজিত মার্কিন সপ্তম নৌবহরের অধীনে থাকা ‘ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন ১৫’র বহরে এ ধরনের ১০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে; যা এই শ্রেণির বৃহত্তম ইউনিট। এই স্কোয়াড্রনের সব জাহাজ প্রশান্ত মহাসাগরে অভিযান পরিচালনার সময় নিয়মিতই চীনা নৌবাহিনীর মুখোমুখি হয়। মরুভূমিতে এই রেপ্লিকা তৈরির ঘটনাটিকে বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, বেইজিং অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কাকে বেশ জোরালোভাবে বিবেচনা করছে। চীন যদি এই ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মোতায়েন করা সামরিক বাহিনীতে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সফলভাবে যুক্ত করতে পারে, তাহলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।