পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, খাল খনন ও মৃতপ্রায় খাল পুনরুজ্জীবন কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মিরেরপোল এলাকায় দাদনার খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক খাল বর্তমানে দখলে রয়েছে। এসব খালের সীমানা দ্রুত নির্ধারণের জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেলে দখল সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি খাল ও নদীর সীমানা নির্ধারণে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণের পর যদি কোথাও দখলের বিষয় থাকে, তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি আশা করছেন, স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। মন্ত্রী বলেন, খাল খনন বা মৃত খাল পুনরুজ্জীবনের কাজে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সবাই মিলে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, দূষণ হ্রাস, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খাল খনন ও পুনঃখননের বিকল্প নেই। দেশের কৃষি উৎপাদন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে এসব খাল সরাসরি জড়িত। মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি অংশ। খনন করা খালগুলো যদি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, তাহলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে। সরকারের পাঁচটি দপ্তর বর্তমানে খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ সময় ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিএডিসির উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরনবী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিক উল্ল্যাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার শরণার্থী যুক্ত হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ১০৭ জন। এক বছর পর ২০২৬ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৭ জন। ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৫০২ জন। তবে ২০১৭ সালের আগস্টের পর মিয়ানমারে সহিংসতার ঘটনায় নতুন করে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
ওমানে ঋণ ও আর্থিক দায়বদ্ধতার কারণে কারাবন্দী ব্যক্তি এবং প্রবাসীদের মুক্ত করতে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন দেশটির সুলতান হাইথাম বিন তারিকের স্ত্রী সাঈয়িদা আহাদ। ‘ফাক কুরবা’ নামের একটি সুপরিচিত মানবিক উদ্যোগের তহবিলে তিনি এই অনুদান প্রদান করেন। রাজপরিবারের এই বদান্যতার ফলে আর্থিক সংকটে পড়ে আইনি জটিলতায় থাকা বহু পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। ওমানি লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনায় ২০১২ সাল থেকে ‘ফাক কুরবা’ কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়ে আসছে। দেওয়ানি, বাণিজ্যিক বা শ্রম আইনের অধীনে হওয়া আর্থিক মামলায় যাঁরা ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে কারাগারে বন্দী আছেন, তাঁদের মুক্ত করাই এই ক্যাম্পেইনের প্রধান লক্ষ্য। যদিও আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই সহায়তা কোনো অপরাধমূলক বা ফৌজদারি মামলার আসামিদের জন্য নয়; বরং পরিস্থিতির শিকার হয়ে যাঁরা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের আইনি ও আর্থিক দায় মেটানোর জন্য এই তহবিল ব্যবহার করা হয়। এই মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে ওমানের স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক প্রবাসীও সরাসরি উপকৃত হন। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে কর্মরত অনেক প্রবাসী শ্রমিক নানা কারণে আর্থিক দৈন্যদশার শিকার হয়ে জেলে যেতে বাধ্য হন। সুলতানের স্ত্রীর এই অনুদান সেই সব অসহায় প্রবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পুনরায় একত্রিত হওয়ার পথ সুগম করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির মাধ্যমে আট হাজারেরও বেশি কারাবন্দী ঋণখেলাপিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং এবার এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অবস্থান ভিন্ন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, কিছু দেশ এ বিষয়ে সহযোগিতায় আগ্রহ দেখালেও অন্য কয়েকটি দেশ তেমন উৎসাহ প্রকাশ করছে না। সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, বেশ কয়েকটি দেশ তাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে সব দেশের মনোভাব এক নয়—কেউ খুব আগ্রহী, আবার কেউ তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হুমকি থেকে রক্ষা করে আসছে, কিন্তু তারাও এই বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়। এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা এখনই কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনে জড়িত ৩০টি জাহাজ ধ্বংস করেছে।
দেশের বিভিন্ন রুটে বাস মালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। অনেক পরিবহন যাত্রী কম থাকলে আগেও কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করত। সেই অভ্যাসের কারণে এখনো কেউ কেউ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কম নিচ্ছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো রুটে যদি নির্ধারিত ভাড়া ৭০০ টাকা হয়, সেখানে অনেক পরিবহন ৬০০ থেকে ৬৮০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করছে। গত সাত দিনে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। সড়কমন্ত্রী আরও বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট, ভিজিলেন্স টিম এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি রংপুরে একজন যাত্রী ১০০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে যাচাই করা হয়। পরে দেখা যায় নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়া হয়নি। এদিকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে না এবং মালিকরা পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন। কোথাও জ্বালানি সংকটের অভিযোগ থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে ড. ফায়েজ উল্লেখ করেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে কমিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, শারীরিক ও মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে যেন দ্রুত ইউজিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে অসুস্থতার কারণে তাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে হলো। ড. এসএমএ ফায়েজ ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা জীবনের সূচনা করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ষষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাকে ইউজিসি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার শরণার্থী যুক্ত হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ১০৭ জন। এক বছর পর ২০২৬ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৭ জন। ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৫০২ জন। তবে ২০১৭ সালের আগস্টের পর মিয়ানমারে সহিংসতার ঘটনায় নতুন করে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, খাল খনন ও মৃতপ্রায় খাল পুনরুজ্জীবন কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মিরেরপোল এলাকায় দাদনার খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক খাল বর্তমানে দখলে রয়েছে। এসব খালের সীমানা দ্রুত নির্ধারণের জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেলে দখল সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি খাল ও নদীর সীমানা নির্ধারণে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণের পর যদি কোথাও দখলের বিষয় থাকে, তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি আশা করছেন, স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। মন্ত্রী বলেন, খাল খনন বা মৃত খাল পুনরুজ্জীবনের কাজে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সবাই মিলে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, দূষণ হ্রাস, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খাল খনন ও পুনঃখননের বিকল্প নেই। দেশের কৃষি উৎপাদন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে এসব খাল সরাসরি জড়িত। মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি অংশ। খনন করা খালগুলো যদি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, তাহলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে। সরকারের পাঁচটি দপ্তর বর্তমানে খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ সময় ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিএডিসির উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরনবী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিক উল্ল্যাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর পায়ের জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কুয়েতি সংবাদমাধ্যম। তেহরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছিল, ইসরায়েলি হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছেন। তেহরানের সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে তিনি কোমায় আছেন। এরই মধ্যে কুয়েতের আল জারিদার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। এরপর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্যোগে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দেশ থেকে নতুন আয়াতুল্লাহকে বের করার মিশনটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। একটি রুশ সামরিক বিমানে তাকে মস্কো পাঠানো হয়। আল জারিদার বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল জানায়, মোজতবা খামেনিকে পুতিনের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে রাখা হয়েছে। সেখানেই তার পায়ে ‘সফল’ অস্ত্রোপচার করা হয়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ এক ‘উচ্চপদস্থ সূত্র’ এ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে আল-জারিদা। সূত্রটি জানায়, আমেরিকার অপারেশন এপিক ফিউরির শুরুতেই মোজতবা খামেনি আহত হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মধ্যে ইরানে তার সুচিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছিল না। ইরানের আরেকটি সূত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে জানায়, মোজতবা খামেনির একটি অথবা দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তার যকৃত এবং পাকস্থলীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভবত তিনি কোমায় আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি জানায়, নতুন সর্বোচ্চ নেতার চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন ইরানের অন্যতম শীর্ষ ট্রমা সার্জন মোহাম্মদ মোহাম্মদ রেজা জাফারগান্দি। এদিকে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার ধারণা মোজতবা আহত হয়েছেন। হেগসেথ বলেন, ‘আমরা জানি নতুন সর্বোচ্চ আহত এবং সম্ভবত অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন।’ ইরানের কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত নতুন নেতা আহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘মোজতবা খামেনির বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না। তিনি জীবিত নাকি মৃত সে বিষয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য কারো কাছে নেই।’ ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমাদের শুধু বলা হয়েছে তিনি আহত। তিনি এখানে নেই, তাই যুদ্ধের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অধিকাংশ কমান্ডারই তার বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না।’
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অবস্থান ভিন্ন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, কিছু দেশ এ বিষয়ে সহযোগিতায় আগ্রহ দেখালেও অন্য কয়েকটি দেশ তেমন উৎসাহ প্রকাশ করছে না। সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, বেশ কয়েকটি দেশ তাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে সব দেশের মনোভাব এক নয়—কেউ খুব আগ্রহী, আবার কেউ তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হুমকি থেকে রক্ষা করে আসছে, কিন্তু তারাও এই বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়। এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা এখনই কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনে জড়িত ৩০টি জাহাজ ধ্বংস করেছে।
লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে সহায়তাকারীদেরও নিশানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় কমান্ডের এক মুখপাত্র এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, লোহিত সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে সহায়তা প্রদানকারী সব ধরনের লজিস্টিক ও সেবা স্থাপনা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ওই মুখপাত্র বলেন, লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনকে ইরান নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ওই রণতরী বহরকে সহায়তা দেওয়া লোহিত সাগর অঞ্চলের লজিস্টিক ও সেবা কেন্দ্রগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশকে ওই অঞ্চলে জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। তার মতে, এতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ট্রাম্প যেসব দেশের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের কয়েকটির সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। চীনের দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সবার দায়িত্ব এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনী কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ছাড়া অন্য দেশের জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার জন্য শরণার্থী ভিসা গ্রহণ করা ইরানের নারী ফুটবল দলের আরও ১ সদস্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রবিবার এমনটা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। টনি বার্ক জানিয়েছেন, রবিবার মধ্যরাতের আগেই ওই খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন। এর ফলে শুরুতে সাতজন সদস্য যারা অস্ট্রেলিয়ায় রয়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে মাত্র দুইজন এখনো অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। দুইজন খেলোয়াড় ও দলের একজন সহায়ক কর্মী ইতোমধ্যে শনিবার সিডনি ছেড়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। উল্লেখ্য, ইরান মহিলা দল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওমেনস এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় আসে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে। প্রাথমিকভাবে ২৬ সদস্যের দলে ছয়জন খেলোয়াড় ও একজন সহায়ক কর্মী মানবিক ভিসা গ্রহণ করে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বাকি সদস্যরা ১০ মার্চ সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরে চলে যান। পরে একজন খেলোয়াড় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়া ছাড়েন। দলের বাকি সদস্যরা এখনও কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছেন। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করা তিনজন খেলোয়াড় তাদের পরিবার ও মাতৃভূমির ভালোবাসায় ফিরে যাচ্ছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত শুক্রবারের একটি ভিডিও দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও এআই দিয়ে সম্পাদনা করা কিনা। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবহারকারীরা তার শুক্রবারের (১৩ মার্চ) সর্বশেষ ভিডিওতে একটি বিশেষ অসংগতি লক্ষ করেন। ভিডিওতে তার এক হাতে ছয়টি আঙুল আছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করার সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শুক্রবার নেতানিয়াহু ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, যা বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শনিবার যুদ্ধের ১৫তম দিন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে আগ্রাসনের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ব্যবহারকারীরা দাবি করেন, নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওতে তার ডান হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে। ‘ক্ল্যাসিক এআই ফিঙ্গার গ্লিচ’ লিখে পোস্ট করা এই ভিডিওগুলো লাখ লাখ মানুষ দেখছেন। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করছেন, তিনি আসলে মারা গেছেন। তবে এক্সের এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ ফ্যাক্ট চেক করে এসব মন্তব্যকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেছে। হিব্রু ভাষায় এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘হে বিবি, আপনি কি এতই বিশেষ যে আপনার ছয়টি আঙুল? নাকি আপনি অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন?’ এই উদ্বেগের তালিকায় যোগ দিয়েছেন মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডাস ওয়েনস। তিনি তার ডাক নাম ধরে প্রশ্ন করেছেন, ‘বিবি কোথায়?’ একটি পোস্টে ওয়েনস লিখেছেন, ‘কেন তার অফিস থেকে ভুয়া এআই ভিডিও প্রকাশ করে আবার ডিলিট করা হচ্ছে এবং হোয়াইট হাউসে কেন এত আতঙ্ক?’ এক্সের এআই চ্যাটবট গ্রোক ছয় আঙুলের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, ‘না, অন্য সবার মতো নেতানিয়াহুরও প্রতি হাতে পাঁচটি করে আঙুল আছে। ভিডিওতে তিনি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে আঙুল দিয়ে ইশারা করছিলেন। লাল বৃত্ত ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণে একটি অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়েছে, যা দেখতে অস্বাভাবিক লাগছে। ছবিটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও থেকে নেওয়া।’ অন্য একটি পোস্টের জবাবে গ্রোক লিখেছে, ‘নেতানিয়াহু জীবিত আছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা স্নোপস, টাইমস অব ইসরাইল এবং অন্যরা ভিত্তিহীন তথ্য বলে দাবি করেছে। কেবল ভেরিফায়েড সূত্রের ওপর ভরসা রাখুন।’ ‘ক্রেমলিন’ নামের একটি পেজ (যার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে হঠাৎ চলে যাওয়া এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসার ঘটনাটি উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের দিকেও সবার নজর পড়েছে। সচরাচর এক্সে বেশ সক্রিয় থাকলেও ইয়ার নেতানিয়াহু গত ৯ মার্চের পর আর কোনো পোস্ট শেয়ার করেননি। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।