সামিট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। সামিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুরুতে দৈনিক প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। রাত ২টার মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বেড়ে প্রায় ৫৫০ এমএমসিএফডিতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এলএনজি কার্গো আসার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জজুড়ে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। টুঙ্গিপাড়ায় পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের তিনটি প্রবেশপথ ও ফটকের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কমপ্লেক্সের সামনে, আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড, চৌরঙ্গী ও কলেজ রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান দেখা গেছে। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, গত ১ আগস্ট থেকে জেলায় কোনো ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। ১৫ আগস্ট যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও গোয়েন্দা পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই তারা টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এদিকে শুক্রবার বিকেল ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ টহল বের করা হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এতে নেতৃত্ব দেন। টহলে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের সদস্যরা অংশ নেন। টহলটি জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোড ও চৌরঙ্গী হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ এলাকায় যায়। পরে টহলটি আবার জেলা শহরে ফিরে আসে।
মাস খানেক আগে ঢাকায় ডিমের দামে যে চড়া ভাব শুরু হয়, সেটা আরো খানিকটা চড়েছে; আর গেল সপ্তাহের মতো ১০০ টাকার আশপাশে আছে অধিকাংশ সবজির কেজি। কাঁচা বাজারে স্বস্তি কিছুটা যা ফিরেছে, সেটা কাঁচা মরিচে; ৪০০ টাকা থেকে কমতে কমতে কেজি নেমেছে ২০০ টাকায়। রাজধানীর রায়ের বাজার কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুরের টাউন হল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে শুক্রবার এসব বাজারে প্রতি ডজন বিক্রি হয় ১৫৫-১৬০ টাকায়। ঢাকার বাজারে ডিমের দাম চড়তে শুরু করে গেল মাসের শুরুর দিকে। গেল ১০ জুলাই ফার্মের প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ টাকা। এর এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। ১৩০ থেকে পরের সপ্তাহে ১৪০ টাকায় ওঠে প্রতি ডজন ডিমের দাম। এরপর বেড়ে হয় দেড়শ টাকা, যা এখন ঠেকেছে ১৬০ টাকায়। খামারিদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের হাত থেকে খুচরা ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে প্রতি ডজন ডিমের দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জের খামারি শাহীন মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লাল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। আর সাদাটা ৯ টাকা ৫০ পয়সা।” তার হিসাবে, খামারি পর্যায়ে এক ডজন লাল ডিমের দাম পড়ছে ১২৬ টাকা। বৃহস্পতিবার আগাঁরগাওয়ে বিএনপি বাজারে ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তেঁজাগাও আড়তে ডিমের দাম বেশি। “একশ লাল ডিম কিনতে ১১৫০ টাকায় দিতে হয়; ডজন পড়ছে ১৩৮ টাকা। আমরা খুচরা বিক্রি করছি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।” টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আহমদ মিয়া বলেন, তারা এখন ফার্ম থেকে ১০০টি ডিম ১ হাজার ২২০ টাকায় কিনছেন। আর্থাৎ, এই খুচরা ব্যবসায়ীর প্রতি ডজনে কেনা পড়েছে ১৪৬ টাকা ৪০ পয়সা। চাহিদা বাড়ায় ডিমের দাম চড়েছে বলে মনে করেন তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “উৎপাদন ঠিক ছিল। চাহিদা বাড়ছিল। বর্ষায় শাক-সবজি মার খাইছিল। এজন্যই ডিমের দামটা একটু বেশি ছিল। আর বাড়বে না; কমবে।” খামারি থেকে খুচরা বাজারে আসতে প্রতি ডজনে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এটা বেশি না। তিন চার ধাপ পার হয়ে বাজারে আসে। ৫ থেকে ১০ টাকা তো লাভ করতে হবে।” ডিমের দাম বাড়লেও তার সুফল না পাওয়ার অভিযোগ খামারিদের। শাহীন মিয়া বলেন, “আমাদের কোনো লাভ নেই। সাভার ও তেজগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম ঠিক করে। “তারা মেসেজের মাধ্যমে কয়েক দিন কমায়। আমাদের কাছ থেকে কিনে জমা করে। পরে তারাই ডিমের দাম বাড়িয়ে বাজারে বিক্রি করে। এদিকে আমাদের খরচ ওঠে না। তারা কিছুই করে না; উৎপাদন করে না; খাবার-ওষুধ কিনে না। সব খরচ খামারিদের। কিন্তু লাভটা যায় সিন্ডিকেটের পকেটে।” চলতি মাসে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ভারত থেকে আমাদানি বাড়ায় কমতে শুরু করে। গত সপ্তাহে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। মধ্যে। তবে শুক্রবার আরো কমে নেমেছে ২০০ টাকায়। সাদেক খান কৃষি মার্কেটে পাইকারিতে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এ বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. ছালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের বাইরে থেকে মরিচ আসায় দুই সপ্তাহ ধরে দাম কমছে। সামনে আরো কমতে পারে। “তবে ভারত থেকে আসা মরিচের চেয়ে দেশি মরিচের দাম একটু বেশি। কারণ ভারতের মরিচ আকারে ছোট; ময়লাও আছে।” সরবরাহ ঘাটতির কথা শোনা না গেলেও সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। দাম আছে গেল সপ্তাহের মতোই; বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ টাকার উপরে। এদিন বাজারে লম্বা আকৃতির বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা। গোল বড় বেগুনের কেজি আরো বেশি ১৫০-১৬০ টাকা। বরবটি ও করলা কেজি ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া শসার কেজি ৮০ টাকা; ঢেঁড়স ও পটল ৫০ থেকে ৬০ এবং ৩০ থেকে ৪০ টাকা ছিল পেঁপের কেজি। একেকটি চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সাদেক খান কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আড়তে সবজি বেড়েছে। দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা। কিন্তু এখনো আড়তে দাম বেশি। বেশির ভাগের কেজিই ৮০ টাকার উপরে।” দামে একটু স্বাস্তি পেতে সাপ্তাহিক বাজার করতে শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারে আসেন মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার বাসিন্দা সাইফুল হক জেলিড। তিনি বলেন, “কয়েক সপ্তাহ ধরে শাক-সবজির দাম বেশি ছিল; মুরগির দামও বেশি। এজন্যই ডিম একটু বেশি কেনা হয়। “কিন্তু ডিমেরও দাম বেড়ে গেছে। ৪০ টাকার ডিম এখন ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।” দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম স্থির রয়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। এদিন কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে এক পাল্লার (পাঁচ কেজি) দাম ছিল ১৩০ টাকা। গত শুক্রবার খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল ২০০ টাকায়। গলির দোকান থেকে কিনতে আরো ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। এই সপ্তাহেও একই দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে কারওয়ান বাজারে কেজিতে ১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আগের মতোই সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৭ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতিউর রহমান (১৯) নামে আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা ৯ জনে দাঁড়ায়। এর আগে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। নিহতরা হলেন—সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫১), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫), নাসির উদ্দিন (৫১), আবদুল আলীম (৩৬), রানা মিয়া (২৩), খোকন মিয়া (২৩) ও মতিউর রহমান (১৯)। নিহতদের মধ্যে সানি, পলাশ, হাবিবুর, মনসুর ও নাসির ভাটিয়ারীর বাসিন্দা। মনসুর ও নাসির দুই ভাই। খোকন ও রানা গাইবান্ধার এবং আবদুল আলীম পাবনার বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে ভাটিয়ারি স্টেশন রোডের ওই শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে উদ্ধারকাজ শুরু হলে একে একে হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়।
সামিট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। সামিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুরুতে দৈনিক প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। রাত ২টার মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বেড়ে প্রায় ৫৫০ এমএমসিএফডিতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এলএনজি কার্গো আসার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীরা ‘এমিরেটস হলিডেজ’-এর নির্দিষ্ট প্যাকেজের আওতায় ৯৬ ঘণ্টার দুবাই ট্রানজিট ভিসা পেতে পারেন। এই সুবিধার মাধ্যমে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সর্বোচ্চ চার দিন পর্যন্ত অবস্থান করার সুযোগ পাবেন। ‘এমিরেটস হলিডেজ’-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মরিশাস, জর্ডান, মিসর ও তুরস্কসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী এবং ওমরাহ পালনে গমনকারীদের জন্য এই সুবিধাটি বিশেষভাবে উপযোগী। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায়, যোগ্য বাংলাদেশি যাত্রীরা দুবাইয়ে চার দিন অবস্থানের সুবিধাসহ এমিরেটস হলিডেজের নির্ধারিত প্যাকেজ কিনে এই ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই সুবিধার ফলে বাংলাদেশি যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের মাঝে দুবাইয়ে একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির সুযোগ পাবেন। এতে মূল যাত্রার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল ও পর্যটন কেন্দ্রে স্বল্পসময়ের বিনোদনমূলক ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া দূরপাল্লার ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুবাইকে সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য এই ট্রানজিট ভিসা যাতায়াত আরো সুবিধাজনক ও সহজ করবে।
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জজুড়ে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। টুঙ্গিপাড়ায় পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের তিনটি প্রবেশপথ ও ফটকের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কমপ্লেক্সের সামনে, আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড, চৌরঙ্গী ও কলেজ রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান দেখা গেছে। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, গত ১ আগস্ট থেকে জেলায় কোনো ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। ১৫ আগস্ট যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও গোয়েন্দা পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই তারা টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এদিকে শুক্রবার বিকেল ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ টহল বের করা হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এতে নেতৃত্ব দেন। টহলে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের সদস্যরা অংশ নেন। টহলটি জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোড ও চৌরঙ্গী হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ এলাকায় যায়। পরে টহলটি আবার জেলা শহরে ফিরে আসে।
রাজধানীতে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জনসমাগমস্থল ও প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী। ডিএমপি কর্মকর্তা নিয়াজ মেহেদী জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত ও মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থল, মেট্রোরেল স্টেশন, বাস ও ট্রেন টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, শপিংমলসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। ডিএমপির তথ্যমতে, নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পিকেট ও তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) বসানো হয়েছে। মহানগরের প্রবেশপথগুলোতে কড়া নজরদারির পাশাপাশি তল্লাশি কার্যক্রমও চলছে। নিরাপত্তা কার্যক্রমে মাঠে রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন (কুকুর) দল। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছেন সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা। ডিএমপির পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তায় র্যাব ও সিআইডির অতিরিক্ত সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন।
ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-অবরোধ আরোপের মার্কিন হুমকির জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম। এই প্রবণতা সাপ্তাহিক বৃদ্ধির পথে রয়েছে। শুক্রবার(১৪ আগস্ট) ব্রেন্ট ফিউচারসের দাম ১২ সেন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারস ৫০ সেন্ট বা ০.৬২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১.৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই-এর ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক বৃদ্ধির হার যথাক্রমে প্রায় ৪.৩ শতাংশ এবং ৪.৬ শতাংশ হতে চলেছে। এসইবি রিসার্চের বিয়ার্ন শিল্ড্রপ বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের একটি স্বাভাবিক ফলাফল। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্বল্পমেয়াদী সমাধানের আশা ক্ষীণ। যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা তেহরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-অবরোধ অব্যাহত এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সের ‘রব স্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী সপ্তাহে আরও ঘোষণার জন্য চোখ রাখুন, কারণ আমরা এমন সব পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি যা কোনো দেশের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নকরণের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে শিল্ড্রপ বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধারের কোনো স্বল্পমেয়াদী আশা এখন আর নেই বললেই চলে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই দাবি করায় এই চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচল মাসিক গড় হারের নিচে নেমে গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর আগে, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ওয়াম’ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এই প্রণালী অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এই ঘটনাকে তেহরানের হামলা দাবি করে নিন্দা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়লেও ওপেক -এর পূর্বাভাসে চাহিদার প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। জুলিয়াস বায়ের-এর অর্থনীতি ও নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ বিভাগের প্রধান নরবার্ট রুকার বলেন, ‘আইইএ এবং ইআইএ-র এই সপ্তাহের প্রতিবেদনগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে। তেলের মজুদ আশঙ্কার চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে, যা তেলের দাম কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে। সূত্র: রয়টার্স।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একসময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কাঠামোগত সংকটে ভুগছে। প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এই সংগঠনটি এখন বিভক্ত হয়ে তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। একসময় মিশরসহ গোটা আরব বিশ্বে যাদের ব্যাপক রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল, তারা আজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। সংগঠনটির এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিবন্ধটিতে তাদের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিভক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে স্পষ্টতই দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার একটির কেন্দ্র লন্ডনে এবং অন্যটির অবস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। নেতৃত্বের বৈধতা, তহবিলের নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এই দুই শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছে। প্রবীণ নেতাদের এই ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং দিকনির্দেশনাহীনতার কারণে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ কর্মীরা ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন, যার ফলে অনেকেই সংগঠন থেকে নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে নিচ্ছেন। নিবন্ধে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে মিশরের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকেই ব্রাদারহুড দেশটির সরকারের ধারাবাহিক ও কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আসছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী হয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন, নয়তো বিদেশে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতেও সংগঠনটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। একসময় তুরস্ক ও কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রকাশ্য সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তারা মিশর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ইস্তাম্বুল বা দোহার মতো নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোতেও এখন তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। শুধু মিশর নয়, বরং তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মিত্ররা ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ বলছে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারি এবং নতুন প্রজন্মের ভিন্ন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে মুসলিম ব্রাদারহুড সাধারণ মানুষের কাছে তাদের পুরনো আবেদন হারিয়েছে। ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও বিভক্তির কারণে সংগঠনটি আদৌ এই গভীর সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার ইরানকে ‘বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি—এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা’র মুখে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে। টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, এর মধ্যে এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা থাকবে, ‘যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।’ তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে কোনো পণ্য বা জ্বালানি প্রবেশ বা বের হতে পারবে না। বেসেন্ট বলেন, আগামী সপ্তাহে আরও ঘোষণা আসতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় দুটি প্রধান দিক রয়েছে—ইরানের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি এবং দেশটির বন্দরগুলোকে অবরোধ করা। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আমেরিকানদের জন্য তেল ও পেট্রলের দাম কমানো। আর ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র আদায় করতে না পারে, সেটি এখন দ্বিতীয় অগ্রাধিকার। বেসেন্টের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান তার ৪ আগস্টের বক্তব্যের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। ওই দিন তিনি সিএনবিসিকে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা হতে পারে। সেই বক্তব্যের পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে উত্থান এবং তেলের দামে পতন দেখা গিয়েছিল। সূত্র: আল-আরাবিয়া
ভারতের লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)। লোকসভার মোট আসনসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ রাখার পাশাপাশি রাজ্যগুলোর বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী লোকসভা ও পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব দাবি জানান বিজয়। চিঠির সঙ্গে তামিলনাড়ু বিধানসভায় বুধবার গৃহীত একটি প্রস্তাবের অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।তামিলনাড়ু বিধানসভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী জনগণনার পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তাদের প্রতি এটি অন্যায় হবে বলে মনে করছে তামিলনাড়ু। বিজয় তার চিঠিতে বলেন, লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি রাজ্যের জন্য বর্তমানে যে সংখ্যক লোকসভা আসন নির্ধারিত রয়েছে, সেটিও অপরিবর্তিত রাখতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আলোচনার সময় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, জনসংখ্যার নতুন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর লোকসভা আসন কমে যেতে পারে। অন্যদিকে জনসংখ্যা বেশি এমন উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর আসন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিধানসভায় এ প্রসঙ্গে তামিলনাড়ুর অতীতের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে ১৯৬৭ সালে রাজ্যটির লোকসভা আসন ৪১ থেকে কমে ৩৯ হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। তামিলনাড়ুর যুক্তি, ১৯৭১ সালের পর জনসংখ্যার পরিসংখ্যানকে ভিত্তি করে নতুন করে লোকসভা আসন নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য, যে রাজ্যগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, নতুন আসন পুনর্বিন্যাসে তাদের পুরস্কৃত করার বদলে যদি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যায়, তাহলে তা ন্যায্য হবে না।এদিকে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন বিজয়। আগামী লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।চিঠিতে বিজয় তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রস্তাবটি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান সামনে আসার পর লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নটি ফের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। বিজয়ের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-এ স্থায়ী করা, রাজ্যভিত্তিক বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখা এবং আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা।এখন মূল নজর কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের দিকে। কারণ লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নটি শুধু নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যও জড়িয়ে রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রয়োগ করা সামরিক কৌশল এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে ইরান। আকাশ প্রতিরক্ষাকে বিভ্রান্ত করতে কোনো একক অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে একসঙ্গে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে সমন্বিত আক্রমণ চালাচ্ছে তেহরান। মূলত মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ানো এবং ব্যয়বহুল ‘প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত শেষ করে দেওয়াই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। জর্ডানের তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে টানা পাঁচ দিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ পাঠায় ইরান। এর মধ্যে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা আকাশে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে পারে। প্রথম চার দিন যুক্তরাষ্ট্র বেশির ভাগ হামলা ঠেকালেও ১৭ জুলাই একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে মার্কিন ঘাঁটির অস্থায়ী আবাসে আঘাত হানে। এই হামলায় ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা গেলেও একটি ভেতরে ঢুকে পড়ে। জানা গেছে, চলমান এই যুদ্ধে পেন্টাগন ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে এবং তাদের কাছে এখন ১ হাজার ৭০০টিরও কম মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক সেথ জি জোন্স জানান, ইউক্রেনে ব্যবহৃত রুশ কৌশল দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তাকে কঠিন করে তুলছে ইরান। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো মেরামত করে তারা আবারও আক্রমণ শুরু করেছে। এমনকি মাটির ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর মতো অতি সুরক্ষিত স্থানে নিজেদের পরমাণু সরঞ্জাম ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিরাপদ রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।