সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
গ্যাস সিলিন্ডারে অনিয়ম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে সোয়া ৪ লাখ টাকা জরিমানা

সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ ১৬ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।   শনিবার অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করে।   অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বন্ধ করতেই এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।   অভিযানের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে কি না, সিলিন্ডারের নিরাপত্তাবিধি মানা হচ্ছে কি না এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় পরীক্ষা করা হয়।   এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক মজুত এবং সরবরাহে বাধা সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা রাখার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।   গ্যাস সিলিন্ডার কেনার আগে ভোক্তাদের ওজন, সিল, মেয়াদ এবং সিলিন্ডারে দৃশ্যমান কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। কেনার সময় মূল্যতালিকার সঙ্গে দাম মিলিয়ে দেখা এবং রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের আহ্বানও জানানো হয়েছে।   কোনো বিক্রেতার বিরুদ্ধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে।   অধিদপ্তর বলেছে, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

১ ঘন্টা আগে
আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধার অভিযোগ

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।   আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হবে—এ খবর পেয়ে দুপুরের আগে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তবে আদালতের দিকে যাওয়ার সময় নিচেই দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। পরে কেউ কেউ আদালতের ওপরে উঠতে পারলেও প্রবেশপথে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের এজলাসে ঢুকতে দেননি।   বাধার কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   সাংবাদিক তসলিম হোসেন রনি জানান, আখতারুজ্জামানকে আদালতে তোলার আগেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি এজলাসে অবস্থান করছিলেন। বেলা পৌনে ১টার দিকে আখতারুজ্জামানকে আদালতে আনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেল তাকে বাইরে চলে যেতে বলেন বলে দাবি করেন তিনি।   তসলিম হোসেন রনির ভাষ্য, এর কারণ জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, এটি আদালতের নির্দেশ।   এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।   অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের প্রবেশে ডিসি প্রসিকিউশনের বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শুনানির সময় আসামির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সবাইকে আদালতকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।   তিনি বলেন, শুনানির সময় আখতারুজ্জামানের আচরণ এবং তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক এমন নির্দেশ দেন। সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে ডিসি প্রসিকিউশন কোনো বাধা দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।   এদিকে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, ডিসি প্রসিকিউশন সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আদালত এবং আদালতের বারান্দায় প্রবেশ করতে দেননি। কোনো কিছু গোপন রাখার উদ্দেশ্যে এ ধরনের বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, সাধারণত ছুটির দিনে মামলার শুনানি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে হলেও এদিন দ্রুত শুনানি হয়েছে। আখতারুজ্জামান আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকলে ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। শনিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অষ্টম তলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে নেওয়া হয়। তাকে ঘিরে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে আখতারুজ্জামানও বক্তব্য দেন। শুনানি শেষে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

১ ঘন্টা আগে
বরিশালে সরু সড়কের পাশে মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডের আবাসিক এলাকায় সরু সড়কের পাশে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল শাখার পাশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   মানববন্ধনে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিনসহ বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।   কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, প্রায় ১০ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা একটি মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। সরু সড়কের পাশে একটি ড্রেন বন্ধ করে মার্কেটটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ওই এলাকার যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।   বক্তারা আরও বলেন, ওই এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল শাখা, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে সরু সড়কটিতে নিয়মিত যানজট তৈরি হয়। তাদের মতে, মার্কেট নির্মাণের পরিবর্তে সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন জায়গাটি ব্যবহার করে সড়কের মোড় প্রশস্ত করা হলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।   মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেওয়া আফরোজা নাসরিন বলেন, বগুড়া রোডের ওই অংশটি মূলত আবাসিক এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।   তিনি আরও বলেন, নগরীতে সরু সড়ক, ফুটপাত দখল ও সড়কের ওপর ভ্রাম্যমাণ বাজারসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না করে নতুন করে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কোনোভাবেই সেখানে মার্কেট নির্মাণ করতে দেবেন না বলেও জানান তিনি।   তবে মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার। তিনি বলেন, কর্পোরেশনের নিজস্ব জমিতে একটি মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়েছে।   মার্কেট নির্মাণে বাধা বা স্থানীয়দের আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

১ ঘন্টা আগে
চুরির অভিযোগে কিশোরকে বেঁধে মারধর, ফেসবুকে ছড়াল ভিডিও

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুরির অভিযোগ তুলে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।   মারধরের শিকার কিশোরের নাম শান্ত মজুমদার। তিনি উপজেলার চরআবাবিল ইউনিয়নের দিঘলদি গ্রামের বাসিন্দা।   পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেওড়াডুগি এলাকায় শান্ত মজুমদারকে আটক করে তার ভাই অন্তর মজুমদারসহ কয়েকজন যুবক হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, প্রায় এক মাস আগে হায়দরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন কেওড়াডুগি এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ও দোকানে রাতের বেলায় চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কিশোরটি জড়িত বলে সন্দেহ করে স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটক করেন। পরে তাকে বেঁধে মারধর করা হয় বলে তাদের দাবি।   ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটির হাত বাঁধা অবস্থায় কয়েকজন তাকে মারধর করছেন।   স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, তিনি কিশোরকে হাত বেঁধে মারধরের ভিডিওটি দেখেছেন। তার মতে, প্রকাশ্যে এভাবে কাউকে নির্যাতন করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।   এদিকে খবর পেয়ে হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে কিশোরটির বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা জানা গেলেও তার কাছ থেকে কোনো চোরাই মাল উদ্ধার করা হয়নি।   তবে শান্ত মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নন। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে এবং পরে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে চোর হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   ঘটনার বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দীন ভুইয়া বলেন, কিশোরকে হাত বেঁধে মারধরের ভিডিও তিনি দেখেছেন। এলাকায় কয়েকদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটায় কিশোরটির ভাইসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে আটক করে মারধর করেন বলে জানা গেছে।   ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় চরআবাবিল ইউনিয়নের দিঘলদি গ্রামের রাকিব হোসেন ও কাইয়ুম নামে দুই যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

১ ঘন্টা আগে
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংগৃহীত ছবি
জাতীয়
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রটির দুই ইউনিট মিলিয়ে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।   শনিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকার পর দুটি ইউনিট থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।    বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে চুক্তি সই হয়। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) গঠন করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর বাসার সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রিডে ১২০০ ইউনিট

রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর নিজ বাসভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১ হাজার ইউনিট নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ২০০ ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, গত তিন দিনে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনে দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।   সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।   মীর শাহে আলম বলেন, সরকারি বিভিন্ন ভবনের ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট ভবনের নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।   তিনি জানান, সমবায় ভবনসহ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে শুধু ব্যয় হিসেবে না দেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রম হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।   প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণ ও উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

ছবি: সংগৃহীত
চার প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের অভিযান, মদ-জাফরানসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ

অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ মজুদ ও শুল্ক-ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে রাজধানীর চার প্রতিষ্ঠানে একযোগে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যৌথ দল। অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ বোতল মদ, ৬০৮ লিটার লিকার, অনুমোদনহীন বিদেশি জিনসেং এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ১ কেজি জাফরান জব্দ করা হয়েছে।   শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, র-ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হলিডে ইন ও মার্গারিটা লাউঞ্জে অভিযান পরিচালনা করা হয়।   এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে নিরাপত্তা সহায়তা ও সশস্ত্র নিরাপত্তা দেয় স্পেশাল র‍্যাপিড ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বাংলাদেশ আনসার।   অভিযানের শুরুতে গুলশানের ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় ২৩০ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অনুমোদনহীন মদ ও লিকার জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র বা আমদানি-সংক্রান্ত চালান দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি বলে জানিয়েছে অভিযানকারী দল।   এ ছাড়া ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন ছাড়া আমদানি করা প্যাকেটজাত জিনসেং এবং কাস্টমস শুল্ক পরিশোধ না করে সুটকেসে লুকিয়ে রাখা প্রায় এক কেজি উচ্চমূল্যের জাফরানও জব্দ করা হয়।   উত্তরার মার্গারিটা লাউঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৬০৮ লিটার অবৈধ ও অনুমোদনহীন মদ ও লিকার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ লিটার দেশীয় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি হলেও এর ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। বাকি ৫৭২ লিটার ছিল বিদেশি মদ।   তেজগাঁওয়ের একটি আন্তর্জাতিক হোটেল হলিডে ইনের বারে অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, বার পরিচালনার লাইসেন্সটি হোটেলের নামে নয়; বরং ‘হাবিব হোটেল’ নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা লাইসেন্স রূপান্তরের বৈধ নথিও প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে এনবিআর। এ সময় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সফটওয়্যারে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা হয়।   অন্যদিকে গুলশানের র-ক্যানভাস বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অনুমোদনহীন লিকার জব্দ করেছে যৌথ দল।   অভিযান শেষে কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সফটওয়্যার, সার্ভার ও ডাটাবেজ থেকে ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ, আমদানি এবং স্থানীয়ভাবে পণ্য কেনার চালানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য পারস্পরিকভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।   তদন্ত শেষ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ছবি: সংগৃহীত
চুরির অভিযোগে কিশোরকে বেঁধে মারধর, ফেসবুকে ছড়াল ভিডিও

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুরির অভিযোগ তুলে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।   মারধরের শিকার কিশোরের নাম শান্ত মজুমদার। তিনি উপজেলার চরআবাবিল ইউনিয়নের দিঘলদি গ্রামের বাসিন্দা।   পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেওড়াডুগি এলাকায় শান্ত মজুমদারকে আটক করে তার ভাই অন্তর মজুমদারসহ কয়েকজন যুবক হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, প্রায় এক মাস আগে হায়দরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন কেওড়াডুগি এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ও দোকানে রাতের বেলায় চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কিশোরটি জড়িত বলে সন্দেহ করে স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটক করেন। পরে তাকে বেঁধে মারধর করা হয় বলে তাদের দাবি।   ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটির হাত বাঁধা অবস্থায় কয়েকজন তাকে মারধর করছেন।   স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, তিনি কিশোরকে হাত বেঁধে মারধরের ভিডিওটি দেখেছেন। তার মতে, প্রকাশ্যে এভাবে কাউকে নির্যাতন করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।   এদিকে খবর পেয়ে হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে কিশোরটির বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা জানা গেলেও তার কাছ থেকে কোনো চোরাই মাল উদ্ধার করা হয়নি।   তবে শান্ত মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নন। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে এবং পরে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে চোর হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   ঘটনার বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দীন ভুইয়া বলেন, কিশোরকে হাত বেঁধে মারধরের ভিডিও তিনি দেখেছেন। এলাকায় কয়েকদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটায় কিশোরটির ভাইসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে আটক করে মারধর করেন বলে জানা গেছে।   ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় চরআবাবিল ইউনিয়নের দিঘলদি গ্রামের রাকিব হোসেন ও কাইয়ুম নামে দুই যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস সিলিন্ডারে অনিয়ম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে সোয়া ৪ লাখ টাকা জরিমানা

সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ ১৬ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।   শনিবার অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করে।   অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বন্ধ করতেই এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।   অভিযানের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে কি না, সিলিন্ডারের নিরাপত্তাবিধি মানা হচ্ছে কি না এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় পরীক্ষা করা হয়।   এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক মজুত এবং সরবরাহে বাধা সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা রাখার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।   গ্যাস সিলিন্ডার কেনার আগে ভোক্তাদের ওজন, সিল, মেয়াদ এবং সিলিন্ডারে দৃশ্যমান কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। কেনার সময় মূল্যতালিকার সঙ্গে দাম মিলিয়ে দেখা এবং রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের আহ্বানও জানানো হয়েছে।   কোনো বিক্রেতার বিরুদ্ধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে।   অধিদপ্তর বলেছে, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
স্পেনে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে জনস্রোত
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

স্পেনে তীব্র আবাসন সংকট এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বাসস্থান পাওয়ার দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ।    শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টে জরুরি আবাসন সংক্রান্ত আইন পাস করতে সরকার ব্যর্থ হওয়ার পরই মূলত এই জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটে।    এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া এবং বার্সেলোনার মতো প্রধান শহরগুলোতে প্রায় ৫০টি বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালিত হয়।   ভ্যালেন্সিয়া টেন্যান্টস ইউনিয়নের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে বর্তমানে রাজপথে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিক্ষোভ চলাকালে ভ্যালেন্সিয়া শহরে কিছু বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।    মূলত গত মাসে ৮৭ বছর বয়সি এক প্রবীণ নারী অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তার বাসা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। সেই ঘটনার পরই পেদ্রো সানচেজের বামপন্থী জোট সরকার কিছু নতুন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করেছিল।   ওই উচ্ছেদের ঘটনাই স্পেনের মূল ভূখণ্ডে ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায়। বিক্ষোভকারীরা কম ভাড়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং বিনিয়োগ তহবিল বা সরকারের ভাষায় ‘ভালচার ফান্ড’ বা চিল-শিকারি তহবিলের মাধ্যমে সম্পত্তি কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে আসছেন।   এদিকে শুক্রবার কংগ্রেসে আইন পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের পতন ঘটতে পারে কিংবা আগামী গ্রীষ্মের নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করতে পারেন এমন জল্পনা-কল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।    উল্লেখ্য, পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট পার্টি এবং তাদের জুনিয়র অংশীদার সুমার জোটের সমন্বয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের পার্লামেন্টে কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।   সূত্র: বিবিসি।

ছবি: সংগৃহীত
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশে বাধা
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

কেবল হাতে একটি বৈধ ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের জন্য ভারতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়ে যায় না বলে জানিয়েছে ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট। দেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো বিদেশিকে দেশে ঢোকা থেকে আটকাতে পারে।   তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিকের করা একটি মামলার শুনানির সময় আদালত এই কথা স্পষ্ট করে। ওই নারী একটি বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে ভারতে পৌঁছালেও ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে দেশে প্রবেশ করতে না দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এরপর তিনি ও তার স্বামী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের জন্য হাইকোর্টে যান।   আদালত এই মামলার বিশদ পর্যালোচনায় দেখেছে যে, ওই নারী এর আগে মাত্র এক বছরে প্রায় ৪৭ বার ভারতে যাতায়াত করেছিলেন এবং তার বেশিরভাগ সফরই ছিল খুব স্বল্পসময়ের। এছাড়া, তার কাছে কোনো প্রকৃত ব্যবসার প্রমাণপত্র বা আমন্ত্রণপত্র ছিল না, অথচ তিনি ব্যবসার ভিসা নিয়েছিলেন।   বিচারপতিরা জানান, বিদেশ থেকে ভিসা পাওয়া এবং দেশে পৌঁছে ইমিগ্রেশন পার হওয়া দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ভিসা থাকা মানেই কাউকে দেশে ঢুকতেই দিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।    দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও নিয়মের কথা মাথায় রেখেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই ধরনের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সব দিক বিবেচনা করে আদালত ওই নারীর ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে বহাল রেখেছে।   সূত্র: দ্য হিন্দু।

ছবি: সংগৃহীত
স্বর্ণের দামে এবার কী হতে পারে, মিলছে যে পূর্বাভাস
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমায় বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণের বাজার। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সপ্তাহজুড়ে মূল্যবান এই ধাতুর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৫ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে আসে। এর ফলে পুরো সপ্তাহ মিলিয়ে স্বর্ণের দামের পতন হয়েছে প্রায় তিন দশমিক তিন শতাংশ। একই সঙ্গে মার্কিন বাজারে গোল্ড ফিউচারের দামও শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৩ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   ডলার ও বন্ডের সুদের চাপ বিদায়ী সপ্তাহে মার্কিন ডলারের দর মাঝে কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে তা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর্থিক বাজারে সাধারণত বন্ডের সুদ বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা অন্যান্য আয়ের উৎসের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। যদিও শুক্রবার মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্য প্রকাশের পর শুরুতে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে সেই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।   চাকরির বাজারে ধীরগতি ও ফেডের নীতি মার্কিন শ্রম বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে নন-ফার্ম পেরোল বা নতুন কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার, যা আগস্ট মাসের সংশোধিত ১ লাখ ৩৩ হাজার এবং রয়টার্সের পূর্বাভাসকৃত ৯০ হাজার অর্জনের চেয়ে বেশ কম। শ্রমবাজারের এই ধীরগতি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নির্ধারণের কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।   বর্তমানে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি মাসের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। সাম্প্রতিক নরম মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং অক্টোবর মাসে আরও এক দফা সুদ বাড়ানোর বিপক্ষে অন্তত দুজন শীর্ষ নীতিনির্ধারকের অবস্থান এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে বাইবিট-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান সতর্ক করে বলেছেন যে, ফেডের নীতিতে কড়াকড়ির মনোভাব পুরোপুরি কেটে গেছে এমনটা ভেবে এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।     দাম কি আরও কমবে? গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উঁচুতে ধরে রাখতে পারে। সুদের হার বেশি থাকলে সাধারণত স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ থাকে।    মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ারের মতে, বাজারের বর্তমান চার্ট বিশ্লেষণ করলে স্বর্ণের দামের দুর্বল অবস্থাই দেখা যায় এবং সুদের হারের চক্র যদি ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে।   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর অবস্থা স্বর্ণের পাশাপাশি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন ঘটেছে। স্পট রুপার দাম এক দশমিক এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম এক দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৬৬ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে স্বর্ণ, রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়াম চারটি প্রধান ধাতুই সপ্তাহ শেষে পতনের মুখে শেষ করেছে। সূত্র: রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে চীনের নীরব ভূমিকা, পাল্টে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে এখন আর কেবল ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরাসরি সংঘাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুদ্ধের সামরিক ময়দানের বাইরে অর্থনীতি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও কূটনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই চলছে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে উঠে এসেছে চীন।   বেইজিং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেনি। তবে ইরানের সঙ্গে চীনের গভীর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে ইরানি তেল কেনা এবং চীনা পণ্যের বিনিময়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা কৌশলকে জটিল করে তুলছে। ফলে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   এ কারণেই বড় প্রশ্নটি এখন সামনে এসেছে—ইরান যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আরেকটি পরোক্ষ মঞ্চ হয়ে উঠছে?   ইরানের অর্থনীতির বড় ভরসা চীন ইরানের অর্থনীতিতে চীনের গুরুত্ব নতুন নয়। তবে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার সময়ে এই সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ কিনে থাকে। এসব তেলের বড় অংশ যায় চীনের ছোট ও স্বাধীন ‘টিপট’ শোধনাগারগুলোতে।   এসব শোধনাগারের আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততা তুলনামূলক কম। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানি তেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান ও চীনের মধ্যে তেল ও পণ্য বিনিময়ের একটি গোপন বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে ইরান চীনা পণ্য, যোগাযোগ সরঞ্জাম, যানবাহন ও অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করছে এবং বিনিময়ে তেল সরবরাহ করছে। এই ব্যবস্থায় প্রচলিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ব্যবহারও এড়িয়ে চলা হচ্ছে।   ওয়াশিংটনের জন্য এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা যত কঠোরই হোক, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি যদি তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যায়, তাহলে নিষেধাজ্ঞার চাপ পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন।   চীনা প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিশানায় ইরানের সঙ্গে চীনের এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই। ইরানের তেল বাণিজ্য, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।   সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তালিকায় চীন, হংকং, রাশিয়া ও পাকিস্তানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও ছিল।   এর আগে মার্কিন প্রশাসন ইরানি তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত চীনা ‘টিপট’ শোধনাগারগুলোর ব্যাপারেও সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য চীনা সরবরাহ নেটওয়ার্কের ভূমিকা নিয়েও ওয়াশিংটনের নজরদারি বেড়েছে।   তবে চীনের বড় ব্যাংক বা আর্থিক ব্যবস্থাকে সরাসরি নিশানা করা ওয়াশিংটনের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ইরানকে চাপ দিতে গিয়ে চীনের সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।   তেল থেকে প্রযুক্তি, বদলে যাচ্ছে লড়াইয়ের ধরন ইরান-চীন সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তি ও পণ্য সরবরাহ। আধুনিক যুদ্ধে একটি দেশকে সরাসরি অস্ত্র বা সেনা পাঠানোই একমাত্র সহায়তার পথ নয়। যোগাযোগব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক উপাদান, নেভিগেশন প্রযুক্তি, উৎপাদন সরঞ্জাম ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিও সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   এ কারণেই ইরানের সরবরাহব্যবস্থায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বাড়ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক সরবরাহ সরাসরি সামরিক ব্যবহারে গেছে কি না, সে বিষয়ে সব অভিযোগেরই একই মাত্রার প্রমাণ নেই। ফলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও সরাসরি সামরিক সহায়তার মধ্যে পার্থক্যটিও গুরুত্বপূর্ণ।   হরমুজে একই সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত ও মিল ইরান যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটির ওপর ইরানের ভৌগোলিক প্রভাব রয়েছে। আর চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির কারণে হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বেইজিংয়ের জন্য বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি।   যুক্তরাষ্ট্রও চায় এই নৌপথে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকুক। ফলে এখানে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের স্বার্থের একটি অদ্ভুত মিল রয়েছে।   চীন একদিকে ইরানের পতন বা সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিপর্যয় চায় না। অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধও বেইজিংয়ের স্বার্থে নয়। কারণ যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়বে।   চীনের এই দ্বৈত অবস্থানই বেইজিংয়ের কৌশলকে জটিল করে তুলেছে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের জ্বালানি স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, আবার এমন কোনো অবস্থানও নেওয়া যাবে না যাতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   মধ্যস্থতাকারী হওয়ার সুযোগও দেখছে বেইজিং   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চীনের জন্য শুধু ঝুঁকি নয়, কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে এবং বেইজিং সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখার আগ্রহ দেখিয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও চীনের গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তেহরানের প্রতি প্রকাশ্য ও সীমাহীন সমর্থনের বদলে বেইজিংকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে হচ্ছে।   অর্থাৎ চীনের লক্ষ্য শুধু ইরানকে টিকিয়ে রাখা নয়। একই সঙ্গে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক স্বার্থ ও মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রভাবও ধরে রাখা।   দ্বৈরথের ভেতর আরেক দ্বৈরথ ইরান যুদ্ধ তাই ধীরে ধীরে আরেকটি বড় প্রতিযোগিতার চিত্র সামনে আনছে। ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তেহরানকে দুর্বল করতে চাইছে। বিপরীতে বেইজিং বাণিজ্য, জ্বালানি ক্রয়, কূটনীতি ও বিকল্প সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে।   তবে এটিকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-চীন ‘অঘোষিত যুদ্ধ’ বলা এখনই অতিরঞ্জিত হবে। দুই দেশ ইরানের মাটিতে সরাসরি পরস্পরের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়ায়নি। বরং ইরানকে ঘিরে তাদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের সংঘাত ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে।   এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হলো—যুক্তরাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং চীন কতটা পর্যন্ত সেই চাপ উপেক্ষা করে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে।   ফলে ইরান যুদ্ধের আসল ‘চীন সমীকরণ’ হয়তো চীনের সরাসরি যুদ্ধে নামার প্রশ্নে নয়। বরং প্রশ্নটি হলো, বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক শক্তি ও কূটনৈতিক প্রভাব কি ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের কার্যকারিতাকে সীমিত করতে পারবে?   আর সেই পরীক্ষার ফল শুধু ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎই নয়, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরবর্তী অধ্যায়ের গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে।   এশিয়া টাইমসে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ আলতাফ মোতির কলাম 

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব