সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
নৌবহর আটকের ঘটনায় ইসরায়েলি কূটনীতিককে তলব করল স্পেন

গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকের ঘটনায় ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে স্পেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘নতুন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   সোমবার মাদ্রিদে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নৌবহরে থাকা বেশ কয়েকজন স্প্যানিশ নাগরিক আটক হয়েছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় ৪৫ জন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, স্পেন সরকার বিষয়টি মিনিটে মিনিটে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে।   স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনাকে  অগ্রহণযোগ্য এবং অবৈধ আটক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, শান্তিপূর্ণ মানবিক মিশনের ওপর এমন অভিযান আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি।   এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ জন কর্মীকে আটক করে।   তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করা এই বহরে ৫০টির বেশি নৌযান ছিল। গাজায় ২০০৭ সাল থেকে আরোপিত অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য।   আয়োজকদের তথ্যমতে, এ মিশনে ৪২৬ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৯৬ জন ছিলেন তুরস্কের নাগরিক। এছাড়া স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, পাকিস্তান, মিসর, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ৪০টির কাছাকাছি দেশের নাগরিক এতে অংশ নেন।   এর আগেও গত ২৯ এপ্রিল গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে একই ধরনের একটি ত্রাণবাহী বহরে অভিযান চালিয়ে কর্মীদের ফেরত পাঠায় ইসরায়েলি বাহিনী।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

৩ মিনিট আগে
গাজার পথে ত্রাণবাহী নৌবহর জব্দ করল ইসরায়েল

গাজা উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে তুরস্ক থেকে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জব্দ করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।   সোমবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৪টি নৌকা ও জাহাজ নিয়ে গঠিত এই বহরে ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। তারা গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি নৌবাহিনী পুরো বহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের প্রথমে একটি ভাসমান আটককেন্দ্রে নেওয়া হবে, পরে তাদের আশদোদ বন্দরে স্থানান্তর করা হবে।   ফ্লোটিলার আয়োজকেরা এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি ছিল একটি বৈধ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক উদ্যোগ। তারা বিভিন্ন দেশের সরকারকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন, গাজার অবরোধ বজায় রাখতে ‘জলদস্যুতার মতো’ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।   এর আগে গত ৩০ এপ্রিলও গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা একই ধরনের একটি ত্রাণবাহী বহর আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।   ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর স্থল, নৌ ও আকাশপথে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৬৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।   সূত্র : শাফাক নিউজ

১ ঘন্টা আগে
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার সুযোগ দিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।   মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেল ২ দশমিক ০৮ ডলার কমে ১০২ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমে আসে।   এ ছাড়া সবচেয়ে কাছের সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী জুন মাসের তেলের দাম ১ দশমিক ৫৪ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে।   এর আগে সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ভয়ও কমেছে। এতে বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তেলের দাম নিচে নেমেছে।   সূত্র : রয়টার্স

১ ঘন্টা আগে
বার্নলির বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়, শিরোপার আরও কাছে আর্সেনাল

ধীরলয়ে শুরু ম্যাচে সময় গড়ানোর সঙ্গে আক্রমণের ধার বাড়াল আর্সেনাল। পোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় গোলের অপেক্ষা বাড়ল বটে, তবে তা দীর্ঘ হলো না। কাই হাভার্টজ দলকে এগিয়ে নিলেন প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও পোস্ট দাঁড়াল দেয়াল হয়ে। তাতে ব্যবধান না বাড়লেও, কষ্টের জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেল মিকেল আর্তেতার দল।   এমিরেটস স্টেডিয়ামে সোমবার প্রিমিয়ার লিগের ৩৭তম রাউন্ডে টেবিলের নিচের দিকের দল বার্নলির বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে আর্সেনাল। ১-০ ব্যবধানের জয়ে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর পাচ্ছে প্রথম লিগ শিরোপার ঘ্রাণ।   ৩৬ ম্যাচে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে সিটি। তাদের বাকি আছে দুই ম্যাচ, আর্সেনালের একটি। সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ৫ হলেও, স্বপ্ন পূরণে কাজ এখনও বাকি। শেষ রাউন্ড ‘গানার’ খ্যাত দলটি খেলতে যাবে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে।   ঘরের মাঠে উৎসবের আমেজে শুরু হওয়া ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে বুকায়ো সাকার শট এক ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে দিক পাল্টে পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। সেই কর্নার থেকে কাই হাভার্টজের বাম পায়ের শটও থাকেনি লক্ষ্যে। এরপরই দুর্ভাগ্য পথ আগলে দাঁড়ায় আর্সেনালের। লেয়ান্ড্রো ট্রসাডের ডান পায়ের জোরাল শট গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে পোস্টে লাগে।   আর্সেনালের চাপ সামলে ২৭তম মিনিট পাল্টা আক্রমণে ওঠে প্রথম লেগের দেখায় ২-০ গোলে হারা বার্নলি। তবে, সতীর্থের ক্রসে হান্নিবাল মেজেব্রির শট যায় পোস্টের অনেক বাইরে। একটু পর ডান দিকের বাইলাইনের একটু ওপর থেকে সাকার আড়াআড়ি ক্রসে হেড দেওয়ার কেউ ছিল না গোলমুখে।   ৩৪তম মিনিটে বক্সে লুকাস পিয়ার্স বল দখলের লড়াইয়ে সাকার পা মাড়িয়ে দিলে পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে আর্সেনাল। মেলেনি রেফারির সাড়া। ভিএআরে পা মাড়ানোর দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেলেও রেফারি বদলাননি আগের সিদ্ধান্ত।   তিন মিনিট পরই হতাশ গ্যালারি মেতে ওঠে উল্লাসে। সাকার নিখুঁত কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে হাভার্টজের হেডে বল চোখের পলকে জালে জড়ায়। আর্সেনাল সমর্থকদের মধ্যে ফিরে আসে ম্যাচ শুরুর আগের উচ্ছ্বাস। লিগে সবশেষ হোম ম্যাচ হওয়ায় কিক অফের আগেই উৎসবে মেতেছিল তারা। নানা রঙের ফ্লেয়ার আর হর্ষধ্বনিতে তারা মাতিয়ে রাখে স্টেডিয়ামের ভেতর-বাহির।   প্রথমার্ধে ৯ শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারা আর্সেনাল দ্বিতীয়ার্ধে বার্নলিকে চেপে ধরার চেষ্টা করতে থাকে। ৫৩তম মিনিটে আবারও দূর্ভাগ্যের শিকার তারা। এবার এবেরেচি এজের সাইড ভলি ড্রপ খেয়ে ক্রসবারের উপরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়।   এরপর থেকে আর্সেনালের আক্রমণের ধার কমতে থাকে। ৬৭তম মিনিটে লেসলিকে অহেতুক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন হাভার্টজ। জার্মান এই ফরোয়ার্ডের ভাগ্য ভালো যে ভিএআর চেক করলেও, কার্ডের রং বদলাননি রেফারি। একটু পরই হাভার্টজকে তুলে নেন আর্তেতা।   সতীর্থের ব্যকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ৭৯তম মিনিটে বার্নলি গোলকিপার ম্যাক্স ওয়েসিস একটু সময় নেন। একই সময়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ছুটে যান ভিক্তর ইয়োকেরেশ। তবে ওয়েসিস শট নেওয়ার সময় তার সাথে সংঘর্ষে পড়ে যান ইয়োকেরেশ। তাদের ফাউলের আবেদনে যদিও সাড়া মেলেনি।   যোগ করা সময়ের শুরুতে উড়ে আসা বলের নিয়ন্ত্রণ পেতে আর্সেনাল গোলকিপার দাভিদ রায়া ও বার্নলির জিয়ান ফ্লেমিং প্রায় একই সময়ে লাফিয়ে ওঠেন। তাতে সংঘর্ষ হলে রেফারি হলুদ কার্ড দেখান ফ্লেমিংকে।   শেষের বাঁশি বেজে ওঠার আগ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণের ভালো সুযোগ পান গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। কিন্তু গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকারের চ্যালেঞ্জে শটই নিতে পারেননি তিনি।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
অন্যান্য
স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা, সিইসির কপালে চিন্তার ভাঁজ

আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারে নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।   তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমে দেখছি, বিভিন্ন দল থেকে অলরেডি মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে। এটা আমার জন্য চিন্তার, আমার কপালে ভাঁজ পড়েছে।   স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয় না, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি ইনডিপেডেন্ট হয়ে যেত, পার্টির মালিকানা থাকত না, ওনারশিপ থাকত না, দলে দলে গোলমাল হত না। এজন্য মনে করি, দলগুলোর উচিত হবে নিজেরা বসে ফায়সালা করা; আমাদের সহায়তা থাকবে।   সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিরেন সিইসি।   তিনি বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, সব ধরনের নির্বাচনই ‘ভালো’ করতে হবে। ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর ‘রক্তপাতহীন’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা দরকার।   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তবর্তী সরকারের ‘পূর্ণ সহায়তার’ কথা তুলে ধরেন সিইসি বলেন, “স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সামনে আসছে। প্রয়োজনীয় আইন-বিধি সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্ভব হয় না।   আমরাও দলের সহযোগিতা চাই। প্রয়োজনে আপনারা নিজেরা নিজেরা বসেন। একটা ফায়সালায় আসেন, আমরা রক্তপাত দেখতে চাই না। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাই।   বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে সহিংসতার যে ইতিহাস, সে কথা তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, অতীতে দেখা গেছে অনেক মার্ডার হয়, একই পরিবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, খুব স্বল্প ব্যবধানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বর্শা নিয়ে মারামারির প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, টেঁটা মেরে দুই পাড়ায় মারামারি হয়। এখন দুই পাড়ায় যদি প্রার্থী দাঁড়ায়, তাহলে কি হবে? কারবালা হয়ে যাবে। এ ধরনের সিচুয়েশনে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করা উচিত, স্থানীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের ঝামেলায় যাবে না।   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ভালোভাবে আয়োজনের পর স্থানীয় নির্বাচনও ‘সুন্দরভাবে’ করে নির্বাচনি সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চান এএমএম নাসির উদ্দিন।   তিনি বলেন, এক নির্বাচন ভালো হল। এটার মানে এ নয় যে বাংলাদেশের নির্বাচন সবসময় ভালো হবে। আমরা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। শুধু একটা নয়, সব নির্বাচন ভালো হবে। নির্বাচনের ভালো সংস্কৃতি যেন গড়তে পারি, এজন্য দলগুলো নিজেরাও বসেন। আমরা চাই, সত্যিকার অর্থে শতভাগ ভালো একটা স্থানীয় নির্বাচন।   সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টারা এ বছরের শেষে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার আভাস দিয়ে এসেছেন।   এ বিষয়ে সিইসি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন কবে হবে এখনও ফাইনাল হয়নি। নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হবে না, আমাদের কিছু বিধিবিধান সংস্কার করতে হবে। এ নিয়ে কাজ শেষ করে আমরা সরকারের সঙ্গে বসব। সরকার তো চাই-ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের মধ্যে শুরু করবে। এটার জন্য সময় লাগে।   অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসির চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।   আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলার নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত কমিটি এ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণ করে।   ভোট নিয়ে জামায়াত- এনসিপির অসন্তোষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নানা বিষয়ে অনুষ্ঠানে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতারা   জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ভোটে অনেক দল অংশ নিলেও মোটা দাগে এ নির্বাচন ‘পুরোপুরি সন্তোষজনক বলা যাবে না’।   তিনি বলেন, উপরে সব ঠিকঠাক, ভেতরে সদরঘাট। ভেতরে যে কাজটা হয়েছে, আগেও বলেছি সরিষায় ভূত থাকলে ভূত তাড়াবে কে? প্রক্রিয়ার ভেতরে সে স্বচ্ছতা মেনটেইন হয়নি।   এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীউদ্দীন পাটওয়ারী ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ করেন।   তিনি বলেন, “আমি একজন প্রার্থী হিসেবে এই ইলেকশনে যেটা দেখেছি, আমি নির্বাচন কমিশনে ফোন দিয়েছিলাম। উনারা মামুনুল হকের আসনে একটা নির্দেশনা দিয়েছিল যে ব্যালট পেপারে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে না। কিন্তু আমার আসনে নির্দেশনা দিয়েছিল যে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে।   সেখানে নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে কীভাবে ডিসি অফিসে নগ্নভাবে একটা ইলেকশনের ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে, সেটা এই বাংলাদেশ দেখেছে। সে রিপোর্টগুলো আমরা বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছেও দিয়েছি।   এর ‘বিচার’ দেশেই হবে মন্তব্য করে নাসীউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এ নির্বাচনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, এর বিচার বাংলার মাটিতে আমরা করেব। আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে হাত দেব, যাতে আপাদমস্তকে পরিবর্তন করব, ফাস্ট টার্গেট হবে এটা।   এনসিপি নেতার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কীভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে? ভোটগ্রহণই তো সুষ্ঠু ইলেকশন নয়। সুষ্ঠু ইলেকশনের জন্য ফেয়ার রেজাল্ট ডিক্লারেশন হতে হবে। এখানে স্বচ্ছতার বিষয় রয়েছে। কোয়ালিটিটিভ কিছু ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। কিন্তু মোটাদাগে সুষ্ঠু ইলেকশন আমরা বলতে পারছি না বলে দুঃখিত।   পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে সিইসি বলেন, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন উল্লেখ করেন।   নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী যেটা অনুভব করেছেন, যেটা বিশ্বাস করেছেন, তিনি সেটা বলেছেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এ বক্তব্যে আহত হইনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার সুযোগ দিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।   মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেল ২ দশমিক ০৮ ডলার কমে ১০২ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমে আসে।   এ ছাড়া সবচেয়ে কাছের সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী জুন মাসের তেলের দাম ১ দশমিক ৫৪ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে।   এর আগে সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ভয়ও কমেছে। এতে বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তেলের দাম নিচে নেমেছে।   সূত্র : রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে স্বর্ণ উৎপাদনে শীর্ষ ১০ দেশ, কত তাদের বার্ষিক উৎপাদন?

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ শুধু অলংকার বা বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, মূল্যবান এই ধাতু এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ বাড়ানো ও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই ধাতুর গুরুত্ব দিনকে দিন বাড়ছে।   বিশ্বের স্বর্ণ উৎপাদন এখনো মূলত কয়েকটি শক্তিধর দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত। ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন। এরপরেই রয়েছে রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলোও বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ঘানা, মালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো এখন বিশ্বের মোট স্বর্ণ উৎপাদনে বড় অবদান রাখছে।   চীন শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ উৎপাদকই নয়, একই সঙ্গে অন্যতম বড় ভোক্তা দেশও। ফলে খনি, পরিশোধন, গয়নার চাহিদা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে দেশটির প্রভাব ব্যাপক ও গভীর। দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ কোনগুলো:   বিশ্ববাজারে স্বর্ণের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ বাড়ানো এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে উৎপাদনকারী দেশগুলোর ভূমিকাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি।   ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশের তালিকা। তালিকায় শীর্ষে আছে চীন। এরপর রয়েছে রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আফ্রিকার কয়েকটি দেশও দ্রুত বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ২০২৪ সালের উৎপাদনের ভিত্তিতে এ তালিকা করা হয়েছে।  

ছবি: সংগৃহীত
নৌবহর আটকের ঘটনায় ইসরায়েলি কূটনীতিককে তলব করল স্পেন

গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকের ঘটনায় ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে স্পেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘নতুন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   সোমবার মাদ্রিদে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নৌবহরে থাকা বেশ কয়েকজন স্প্যানিশ নাগরিক আটক হয়েছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় ৪৫ জন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, স্পেন সরকার বিষয়টি মিনিটে মিনিটে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে।   স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনাকে  অগ্রহণযোগ্য এবং অবৈধ আটক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, শান্তিপূর্ণ মানবিক মিশনের ওপর এমন অভিযান আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি।   এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ জন কর্মীকে আটক করে।   তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করা এই বহরে ৫০টির বেশি নৌযান ছিল। গাজায় ২০০৭ সাল থেকে আরোপিত অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য।   আয়োজকদের তথ্যমতে, এ মিশনে ৪২৬ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৯৬ জন ছিলেন তুরস্কের নাগরিক। এছাড়া স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, পাকিস্তান, মিসর, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ৪০টির কাছাকাছি দেশের নাগরিক এতে অংশ নেন।   এর আগেও গত ২৯ এপ্রিল গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে একই ধরনের একটি ত্রাণবাহী বহরে অভিযান চালিয়ে কর্মীদের ফেরত পাঠায় ইসরায়েলি বাহিনী।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
ভারতে ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ইনজেকশন, প্রতি ডোজের দাম কত

ক্যানসার চিকিৎসায় এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করলো ভারত। ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের জন্য মাত্র সাত মিনিটের একটি নতুন ইনজেকশন বাজারে আনা হয়েছে। টেসেন্ট্রিক নামের এই ওষুধটি ভারতে নিয়ে এসেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া, যা ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসাকে আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক করবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।   প্রচলিত পদ্ধতিতে শিরায় বা আইভি ইনফিউশনের মাধ্যমে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপির জন্য রোগীদের হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটাতে হতো। তবে নতুন এই ইনজেকশনটি সরাসরি ত্বকের নিচে দেওয়া হয়, যাতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিটের মতো। চিকিৎসকরা মনে করছেন, এই পদ্ধতি রোগীদের ভোগান্তি কমাবে, হাসপাতালের ওপরও চাপ কমবে।   ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ রূপ এনএসসিএলসি রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা ব্যবহার করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকা এবং বারবার যাতায়াতের কারণে বিশেষ করে বয়স্ক বা দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা যে ক্লান্তিতে ভুগতেন, নতুন ইনজেকশনের গতি ও সুবিধার কারণে তা অনেকটাই লাঘব হবে।   এই নতুন ইনজেকশনে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা ‘পিডি-এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ক্যানসার কোষগুলো মূলত এই প্রোটিন ব্যবহার করেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকে। প্রোটিনটি ব্লক হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে তা ধ্বংস করতে পারে। টিউমারে উচ্চমাত্রার পিডি-এল১ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই চিকিৎসার যোগ্য হতে পারেন।   চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করেন। কারণ কেমোথেরাপি ক্যানসার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষের ক্ষতি করে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে, ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।   চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটি বড় সাফল্য হলেও এর আকাশচুম্বী দাম ভারতীয় পরিবারগুলোর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। চিকিৎসা চলাকালীন একজন রোগীর সাধারণত প্রায় ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়, যার মোট খরচ দাঁড়ায় কয়েক লাখ রুপি। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই চিকিৎসা একেবারেই নাগালের বাইরে। ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা জানান, উন্নত গবেষণা ও প্রযুক্তির কারণে সাধারণত আধুনিক ইমিউনোথেরাপির প্রতি সাইকেলের খরচ ভারতে দেড় লাখ থেকে চার লাখ রুপি পর্যন্ত হয়ে থাকে।   রোগীদের এই আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রোশ একটি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে, যার নাম ব্লু ট্রি। এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনারদের জন্য এটি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা রোগীদের খরচের অর্থ ফেরত বা ক্ষতিপূরণ পেতে সাহায্য করতে পারে।   এসব সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের একটি বড় অংশের মানুষের কাছে এই উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকারি হস্তক্ষেপ এবং আরও সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নৌবহর আটকের ঘটনায় ইসরায়েলি কূটনীতিককে তলব করল স্পেন
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬

গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকের ঘটনায় ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে স্পেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘নতুন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   সোমবার মাদ্রিদে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নৌবহরে থাকা বেশ কয়েকজন স্প্যানিশ নাগরিক আটক হয়েছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় ৪৫ জন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, স্পেন সরকার বিষয়টি মিনিটে মিনিটে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে।   স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনাকে  অগ্রহণযোগ্য এবং অবৈধ আটক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, শান্তিপূর্ণ মানবিক মিশনের ওপর এমন অভিযান আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি।   এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ জন কর্মীকে আটক করে।   তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করা এই বহরে ৫০টির বেশি নৌযান ছিল। গাজায় ২০০৭ সাল থেকে আরোপিত অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য।   আয়োজকদের তথ্যমতে, এ মিশনে ৪২৬ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৯৬ জন ছিলেন তুরস্কের নাগরিক। এছাড়া স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, পাকিস্তান, মিসর, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ৪০টির কাছাকাছি দেশের নাগরিক এতে অংশ নেন।   এর আগেও গত ২৯ এপ্রিল গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে একই ধরনের একটি ত্রাণবাহী বহরে অভিযান চালিয়ে কর্মীদের ফেরত পাঠায় ইসরায়েলি বাহিনী।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
গাজার পথে ত্রাণবাহী নৌবহর জব্দ করল ইসরায়েল
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬

গাজা উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে তুরস্ক থেকে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জব্দ করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।   সোমবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৪টি নৌকা ও জাহাজ নিয়ে গঠিত এই বহরে ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। তারা গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি নৌবাহিনী পুরো বহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের প্রথমে একটি ভাসমান আটককেন্দ্রে নেওয়া হবে, পরে তাদের আশদোদ বন্দরে স্থানান্তর করা হবে।   ফ্লোটিলার আয়োজকেরা এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি ছিল একটি বৈধ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক উদ্যোগ। তারা বিভিন্ন দেশের সরকারকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন, গাজার অবরোধ বজায় রাখতে ‘জলদস্যুতার মতো’ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।   এর আগে গত ৩০ এপ্রিলও গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা একই ধরনের একটি ত্রাণবাহী বহর আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।   ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর স্থল, নৌ ও আকাশপথে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৬৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।   সূত্র : শাফাক নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
যেভাবে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠল যুক্তরাষ্ট্র
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬

যুদ্ধ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করাকে রোববার নিজেদের ইতিহাসের ‘উজ্জ্বল মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।   যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খানের মূল্যায়নও একই রকম।   তার ভাষায়, আমার দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে পাকিস্তানকে এত উঁচু অবস্থানে কখনও দেখিনি।   পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের অতীত টানতে গিয়ে এই কূটনীতিক বলেন, ২০২২ সালে আমি যখন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ওয়াশিংটনে যাই, তখন পরিস্থিতি ছিল খুব কঠিন। অথচ এখন পাকিস্তান সেই কাজটি করছে, যা করার কথা জাতিসংঘের।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’ লিখেছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হাজির হওয়াটা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে। কিন্তু দেশটি এখন বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে বড় ধরনের ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।   পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসলেও তেহরান অবশ্য ইসলামাবাদকে খুব একটা ভরসা করে না।   রোববার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই টুইটারে লেখেন, পাকিস্তান আমাদের ভালো বন্ধু ও প্রতিবেশী। কিন্তু আলোচনার জন্য উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়। মধ্যস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্যতাও তাদের নেই।   তারা সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলে না।   পাকিস্তান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভালোবাসার পাত্র হয়ে উঠল, সেই আলোচনায় ‘ড্রপ সাইট’ লিখেছে, এটা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চাপ ও নানা কৌশলের গল্প। একই সঙ্গে তা পাকিস্তানের রাজনীতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর আধিপত্য ধরে রাখার দক্ষতার প্রমাণও।   ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের কাছে আসার ঘটনাক্রম হিসেবে ২০২২ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া; ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘কারচুপি করা’ এবং দেশটির সামরিক শক্তিকে আরো ক্ষমতাবান করার বিষয়গুলো সামনে এনেছে ‘ড্রপ সাইট’।   তবে নতুন এই সম্পর্ক আঞ্চলিক রাজনীতির অবয়বে পরিবর্তনের আশা জাগালেও তা দুর্বল ভিত্তির কারণে ধসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   পাকিস্তানকে নিয়ে এখন যেসব প্রশংসা সংবাদমাধ্যমে আসছে, সেগুলোর কারণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে ইরান যুদ্ধে তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাকে। কিন্তু এই গল্পের বুনন শুরু হয়েছে অনেক আগেই।   ইসলামাবাদে বার্নস ২০২১ সালের জুনে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইসলামাবাদ সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা— সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম জে. বার্নস।   ওই সময়ের খবর অনুযায়ী, তিনি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার জন্য পুরো একটা দিন অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি।   ইমরান খানের কার্যালয় ফোনে বার্নসকে জানিয়ে দেয়, কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী কেবল তার সমপর্যায়ের নেতার সঙ্গেই কথা বলবেন।   ওই সময় ইমরান খানের সমপর্যায়ের ব্যক্তি ছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যিনি ওই বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর ইমরান খানের ফোনালাপের অনুরোধ একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।   বাইডেনের এই অস্বীকৃতি ছিল তার আগের প্রশাসনের অবস্থান থেকে অনেকটাই ভিন্ন।   ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইমরান খানকে হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যদিও সেই বৈঠক চলে দেড় ঘণ্টার বেশি।   ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইমরান খানের মধ্যে তখন উষ্ণ সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছু বিষয়ে মিলও ছিল তাদের মধ্যে।   দুজনই রাজনীতির বাইরের মানুষ হিসেবে আশি ও নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এছাড়া দুজনই প্রায় একই সময়ে রাজনীতিক পরিচয়ে হাজির হন।   ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ও ইমরান খান আবার দেখা করেন। পরের বছরের জানুয়ারিতে তাদের আরেক দফা সাক্ষাৎ হয় হোয়াইট হাউজে।   কিন্তু বাইডেন প্রশাসনের কাছে ইমরান খান ছিলেন ‘পাকিস্তানের ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মাত্র।   দুই দশক ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছিলেন, পাকিস্তান একদিকে তালেবানকে আশ্রয় দেয়, অন্যদিকে উপরে উপরে মিত্রতা দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার সামরিক সহায়তা নেয়।   ২০১১ সালে পাকিস্তানের সামরিক একাডেমির শহর অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। ওই ঘটনার পর পাকিস্তাননের সামরিক বাহিনী বেশ সমালোচনায় পড়ে যায়। কারণ সেই অভিযান চালানো হয় ইসলামাবাদকে না জানিয়েই।   ২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহল বলতে থাকে, ওয়াশিংটনের আফগানিস্তান ছেড়ে দেওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা উচিত।   ড্রপ সাইট লিখেছে, একই সময়ে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু ইমরান খানের সরকার সেটি প্রত্যাখ্যান করে।   নীতিগতভাবে ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটন ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ— উভয়ের সঙ্গেই একটা কূটনৈতিক সীমারেখা টেনেছিল। কিন্তু ইমরানের খানের এই নীতির কারণে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভাবতে শুরু করেছিল, দেশটি হয়ত আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।   এমন মনোভাবের কারণেই ২০২১ সালের জুলাইয়ে ইমরানের অজান্তেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সিআইএর ইসলামাবাদ স্টেশনের সাবেক প্রধানকে ওয়াশিংটনে লবিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়।   পাকিস্তানের জেনারেলরা যে নির্বাচিত সরকারের বাইরে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছে, এ ঘটনা ছিল তার প্রাথমিক ইঙ্গিত।   ‘সবই ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। ওই সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মোকাবেলা করাই ছিল তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।   মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।   রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ ঘিরে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন পাকিস্তান অপ্রত্যাশিতভাবে নিজেকে এই বিভক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আবিষ্কার করে।   ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, যেদিন রুশ বাহিনী ইউক্রেইনে প্রবেশ করে, সেদিন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত একটি বৈঠক করতে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন ইমরান খান।   সেই বৈঠকের কয়েক দিন আগে বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ফোন করে ইমরান খানকে রাশিয়া সফর বাতিল করার অনুরোধ জানান।   ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপ থেকে জানা যায়, সুলিভান সেদিন ইমরান খানের সফরের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন এবং ইউক্রেইন যুদ্ধে ইসলামাবাদকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কতা তোয়াক্কা করেননি।   ওই বৈঠকের পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে আনা একটি প্রস্তাবে পাকিস্তান ভোটদানে বিরত থাকে।   ড্রপ সাইট লিখেছে, সবকিছু মিলিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিন কূটনীতিকরা গোপনে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের এই বার্তা দেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ক আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।   ২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান।   সেই কথোপকথন পরে ফাঁস হয়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।   ফাঁস হওয়া সেই কথোপকথন অনুযায়ী, লু সেদিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলেন, একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে যদি ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ প্রশমিত করা যাবে, অর্থাৎ ‘সব ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (এই বাক্যটি পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের মুখ থেকে এসেছিল)।   এরপর ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনে একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।   সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার ওয়াশিংটনকে এমন সব সুবিধা দিতে থাকে, যা ইমরান খান প্রত্যাখ্যান করেছিল।   কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তান ইউক্রেইনের জন্য কামানের গোলাসহ বিভিন্ন সামরিক রসদ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়।   ফাঁস হওয়া নথিপত্র থেকে জানা যায়, এসব অস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার এবং তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতায় পাঠানো হয়েছিল। পাকিস্তানের এসব রসদ ইউক্রেইনের অস্ত্রের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।   ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী যখন ব্যাপকভাবে নির্বাচনে কারচুপি করে ইসলামাবাদে পছন্দের সরকার বসায়, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র, কেউই কোনো কথা বলেনি।   পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল, যেদিন ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটে, সেদিনই একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান। ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল 'শাহীন-৩’। এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।   পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভারতকে মাথায় রেখে পরিচালিত হয়। কিন্তু সেদিন যে ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়, সেটি ইসরায়েলেও আঘাত হানতে সক্ষম।   ক্ষেপণাস্ত্রের এই পরীক্ষার সূত্র ধরে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আবার সামনে আনা হয়।   যে সেনাপ্রধানের হাতে ইমরান খানের পতন ঘটে, সেই কামার জাভেদ বাজওয়ার ২০২২ সালের অক্টোবরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন সফর করেন। সফরটি হয় সেনাপ্রধান হিসেবে তার মেয়াদের শেষ মাসে।   সফরকালে বাজওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানসহ বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।   সেসব বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেন, পাকিস্তান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, যা ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাবে না।   যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশি সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টায় বাজওয়া এই আশ্বাসও দেন, চীনের কাছ থেকে পাকিস্তান দূরে সরে আসতে চায়।   ২০২২ সালের অক্টোবরে দেশে ফেরার পরেই জেনারেল বাজওয়া ‘স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশনের’ (এসপিডি) প্রধানকে ফোন করেন। এসপিডি মূলত পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র তদারকি করে থাকে।   বাজওয়া ও এসপিডি প্রধানের কথোপকথনের বিবরণ সম্পর্কে জানা যায়, জেনারেল বাজওয়া সেদিন তাকে দেশের কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন প্রতিনিধিদের পরিদর্শন ও পরীক্ষা করার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেন।   পাকিস্তানে এসপিডি প্রধান সরাসরি জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএসসি) কমিটির কাছে জবাবদিহি করেন। এই কমিটি আবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করে, সেনাপ্রধানের অধীনে নয়।   এই যুক্তি দেখিয়ে এসপিডি প্রধান সেদিন সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করেন। অমান্য করার কারণে এটা স্পষ্ট হয় যে, সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন না।   একই মাসের শেষ দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ। কারণ এই দেশটির কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও অভ্যন্তরীণভাবে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।   হুট করে আসা এই বিবৃতি অনেক পর্যবেক্ষককে অবাক করেছিল। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভাষ্য, এই বিবৃতির সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার সম্পর্ক ছিল।   এই ঘটনার এক মাস পর বাজওয়া পদত্যাগ করেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে তার স্থলাভিষিক্ত হন জেনারেল আসিম মুনির, যিনি ২০২৫ সালে নিজেকে 'ফিল্ড মার্শাল' পদে উন্নীত করেন। নিজের জন্য 'চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস' নামে একটি নতুন পদও তৈরি করেন।   এছাড়া সংবিধানে সংশোধনী এনে জেসিএসসির ভূমিকা বিলুপ্ত করেন তিনি, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে যুক্তরাষ্ট্রপন্থি আসিম মুনিরকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও দেয়।   আসিম মুনিরের দ্বিতীয় অধ্যায় আসিম মুনির হলেন ট্রাম্পের ভাষায় ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’। মুনির নিজেও এই উপাধি বেশ উপভোগ করেন। তবে মুনির যে এমন পদে আসীন হবেন, তা কখনোই হিসাবে ছিল না।   ২০১৯ সালের এপ্রিলে মুনির যখন দেশের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন, তখন তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তা এবং ইরানের রেভলুশনারি গার্ড কোরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছিলেন।   ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মতে, ইরান-পাকিস্তান সীমান্তের বেলুচ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ নিয়ে ইরানিদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান আসিম মুনির।   কিন্তু বেলুচ অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে পাকিস্তান ও ইরানের পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশকে আরো কাছে টানতে পারত। কিন্তু সেটা হতো ইরানকে একঘরে করার মার্কিন পরিকল্পনার পরিপন্থি।   মার্কিন নির্দেশে হোক, কিংবা নিজের সহজাত প্রবৃত্তির কারণে হোক, আসিম মুনির সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে মার্কিনিদের মস্ত বড় উপকার করেছিলেন।   আসিম মুনিরের এই আচরণ নিয়ে ইরানের কর্মকর্তারা ইমরান খানের কাছে নালিশ জানান। সেই নালিশের জেরেই ২০১৯ সালের জুনে ইমরান খান তাকে সরিয়ে দেন বলে ধারণা করা হয়।   আইএসআই প্রধান হিসেবে আসিম মুনিরই সবচেয়ে কম সময় দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বাজওয়া তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যাদের তালিকা করেছিলেন, সেখানে আসিম মুনিরের নামই ছিল না।   ইমরান খান পরে অভিযোগ করেন, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর মুনির লন্ডনে যান এবং নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেন।   ইমরান খানের মতে, ওই বৈঠক ছিল সেই ষড়যন্ত্রের সূচনা, যাকে তিনি পরে ‘লন্ডন প্ল্যান’ বলে অভিহিত করেন।   বলা হয়, ওই পরিকল্পনাটি ছিল আসিম মুনির, নওয়াজ শরিফ এবং পাকিস্তানের উচ্চ আদালতের কিছু বিচারপতির মধ্যকার একটি সমঝোতা, যার অধীনে ইমরান খানের সরকার ও তার দলকে ধ্বংস করার বিনিময়ে আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধানের পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কয়েক মাসের মাথায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুর্নীতি, আদালত অবমাননা ও জাতীয় নিরাপত্তার একগুচ্ছ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।   ২০২৩ সালের অক্টোবরে নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানে ফিরে আসেন এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার দণ্ড বাতিল হয়ে যায়।   ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার ছোট ভাই শেহবাজ শরিফ আবারও প্রধানমন্ত্রী হন এবং আসিম মুনির হয়ে যান দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ইমরান খান এখনো কারাগারেই আছেন।   চীনকে ঠেকানো গত দশকের প্রায় পুরোটা সময় পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক ছিল। বেইজিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প হিসেবে ২০১৫ সালে চালু হয় ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’।   এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাকিস্তানে শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল, যারা কিনা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে হিমশিম খাচ্ছিল।   ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সম্পর্ককে কখনো কখনো ‘সবচেয়ে গভীর সমুদ্রের চেয়েও গভীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   আসিম মুনিরের অধীনে সেই সম্পর্ক প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।   চীনের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যে ৯০টি প্রকল্প ছিল, তার মধ্যে মাত্র ৩৮টি সম্পন্ন হয়েছে। ২৩টি এখনো নির্মাণাধীন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাজই শুরু হয়নি।   কাজ শেষ হওয়া সর্বশেষ বড় প্রকল্প ছিল ‘গোয়াদার ইস্ট বে এক্সপ্রেসওয়ে’। এটি শেষ হয় ২০২২ সালে। এরপর থেকে পাইপলাইনে নতুন কোনো বড় প্রকল্প যুক্ত হয়নি।   নতুন অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালে চীন সফর করার পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ খালি হাতে বেইজিং ছাড়েন।   চীনের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের বকেয়া পরিশোধ না করায় পাকিস্তানের দেনা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যা দুই দেশের দ্বন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   পর্দার আড়ালের সম্পর্ক ছিল আরও শীতল। পাকিস্তান বেইজিংকে গোপনে আশ্বস্ত করেছিল যে, তারা চীনকে গোয়াদারের গভীর সমুদ্র বন্দরে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি বানানোর অনুমতি দেবে। সেই ঘাঁটির বিনিময়ে বেইজিংয়ের কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরে পাকিস্তান।   তারা চীনের কাছে দাবি করে, এই অনুমোদনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রতিশোধ হিসেবে কোনো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেয়, তবে চীন যেন তার ক্ষতিপূরণ বা সুরক্ষা দেয়।   তারা ভারতের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতায় পাল্লা দিতে চীনের সহায়তাও চান। সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, তারা বেইজিংয়ের কাছে পাকিস্তানের জন্য একটি সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক 'সেকেন্ড-স্ট্রাইক' সক্ষমতা অর্জনের দাবি তুলেছিল। তবে চীন তাতে রাজি হয়নি।   ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়ে ২০২৫ সালের অগাস্টে এক সাক্ষাৎকারে আসিম মুনির বলেছিলেন, আমরা এক বন্ধুকে অন্য বন্ধুর জন্য কোরবানি দেব না।   তবে নিজেদের স্বার্থে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটাই করেছে।   জোটের জাল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে পাকিস্তান। তিন বছর আগে ইমরান খানের সরকার এই চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।   অন্যদিকে পাকিস্তানের নতুন সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে তৎপর হয়ে ওঠে।   ট্রাম্প পরিবার যখন ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসায় নামে, ইসলামাবাদও তা অনুসরণ করে ‘পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিল’ গঠন করে।   এই কাউন্সিল গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স’ এর শীর্ষ কর্তারা ইসলামাবাদে যান।   ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল পাকিস্তানে পা রাখা সেই প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওয়ার্ল্ড লিবার্টির প্রধান নির্বাহী এবং স্টিভ উইটকফের ছেলে জ্যাচ উইটকফ এবং এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাক ফোকম্যান ও চেজ হিরো।   সফরের শেষ দিকে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এই স্মারকের মাধ্যমে পাকিস্তান তার বার্ষিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের একটি অংশ ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন ফার্মের মাধ্যমে লেনদেন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।   যখন চীনের ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মার্কিন নির্ভরতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছিল, পাকিস্তান তখন মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে একটি ‘বিরল খনিজ’ চুক্তি ঘোষণা করে।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সেই চুক্তিটি হয় সামরিক বাহিনী পরিচালিত ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন এবং মিসৌরি-ভিত্তিক ফার্ম ‘ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস’-এর মধ্যে।   এই চুক্তির অধীনে, পাকিস্তানি অ্যান্টিমনি, তামা, টংস্টেন এবং বিরল খনিজ উপাদানের বিনিময়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আসে।   এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন যখন গাজায় তার প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্য একটি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সন্ধান করছিল, তখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী স্বেচ্ছায় সেখানে সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেয়।   ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পুরোটা সময় পাকিস্তান প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা করেছে। এই চেষ্টায় তারা প্রতিশ্রুতি অনেক দিয়েছে, বাস্তবায়ন করেছে খুবই কম।   ইসলামাবাদ থেকে অনবরত প্রচার চালানো হলেও ইরান যুদ্ধের শান্তি আলোচনা অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে।   ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে বাদ দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দেওয়া শুরু করেছে।   তবে ট্রাম্প এখনো পাকিস্তান নিয়ে বিরক্ত নন। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তারা চমৎকার। আমি মনে করি পাকিস্তানিরা দারুণ কাজ করেছে। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী এক কথায় অসাধারণ।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করলেন ট্রাম্প
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬

ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২০ মে) নির্ধারিত ওই হামলা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কারণে সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।   সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশের নেতাদের অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনায় গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।   ট্রাম্প পরিকল্পিত হামলাটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যদি কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ও বড় আকারের হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে।   যদিও এর আগে প্রকাশ্যে ১৯ মে হামলার কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি ট্রাম্প, তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিনি ইরানকে একাধিকবার সতর্ক করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক মিত্ররা উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।   ট্রাম্প তার পোস্টে জানান,কাতার, সৌদি আরব, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে।   এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং শি জিনপিং-এর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইরান ইস্যু এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি নতুন কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। তবে আপাতত কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকায় সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর সুযোগ এখনও রয়েছে।   সূত্র : এনডিটিভি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি