কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন। সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়েও কর্মস্থলে যোগ দেননি তারা। পরে নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় তাদের বিরুদ্ধে বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তারা জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। এরপর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাতেও তারা কোনো জবাব দেননি। তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। পরবর্তীতে সরকারি কর্ম কমিশন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড অনুমোদনের প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দমনপীড়নের ঘটনায় তাকে এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। গোলাম রুহানী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় (ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী) ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনে অনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার নানাবিধ অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতা হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। রাজন কুমার দাস ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সুনামগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে নির্বিচারে বলপ্রয়োগ ও গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আন্দোলন চলাকালীন সুনামগঞ্জ শহরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ এবং শর্টগানের গুলি চালানোর ঘটনায় মাঠ পর্যায়ে তিনি অন্যতম নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বরখাস্ত হতে যাওয়া পঞ্চম কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তার একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। ভিডিওতে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার...।’
সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন সিরিয়ার একটি আদালত। মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত অনুপস্থিতিতে বিচার করে তাকে হত্যা ও হত্যায় উসকানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন। খবর তুর্কি টুডের। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সব বিচারক বাশার আল-আসাদকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে একমত হন। আদালত বলেছেন, শিশুসহ একাধিক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পাশাপাশি নির্যাতনের জন্যও তিনি দায়ী। আদালতের বিচারক বলেন, এসব অপরাধে বাশার আল-আসাদ ছিলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ব্যবস্থাকে এসব অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার করেছেন। বাশার আল-আসাদের ভাই মাহের আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাকে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও হত্যায় উসকানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তারি তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান হওয়ার পর বাশার আল-আসাদ সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। ফলে মঙ্গলবারের বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের রায় তার অনুপস্থিতিতেই দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারে মহেশখালীতে এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি পুরো সক্ষমতায় ফেরাতে, সেটি আবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। জুলাইয়ের শেষের দিকে টার্মিনালটিতে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করা হয়। ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে আবার বন্ধ রাখার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেছেন, কোন সময়ে টার্মিনালটি বন্ধ রাখলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্য গ্রাহকের ওপর সবচেয়ে কম প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত এফএসআরইউতে সমস্যার কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় টার্মিনালটির কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। “এর একটি অংশ এখন চালু রয়েছে। তবে অন্য অংশটি এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি। দ্বিতীয় অংশটি সচল করতে গেলে বর্তমানে চলমান অংশটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।” ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ-এফইআরবি আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন এমন একটি সময় ঠিক করার চেষ্টা করছে, যখন এলএনজি টার্মিনালটি বন্ধ রাখলে মানুষের কষ্ট সবচেয়ে কম হবে। টার্মিনালটি পুরো সক্ষমতায় ফেরানোই সরকারের লক্ষ্য বলে তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গ ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মন্ত্রী টুকুও এফএসআরইউর সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, একটি এলএনজি টার্মিনালে সমস্যা হওয়ার পর সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আগে থেকেই বিকল্প অবকাঠামো থাকা দরকার ছিল। আগের সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের নামে এমন জায়গায় বিনিয়োগ হয়েছে যেখানে অর্থ খরচের সুযোগ ছিল। কিন্তু কোথায় অবকাঠামো করলে উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে, সেদিকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।” একটি টার্মিনালে সমস্যা হলে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহে এমন প্রভাব পড়ার বিষয়টিকে সেই দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। ‘বিনিয়োগ করতে চায় বিদেশি উদ্যোক্তা’ দেশে নতুন ও বড় পরিসরের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তুলে ধরেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তবে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেননি। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “উদ্যোক্তা গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা বড় পরিসরে এলএনজি টার্মিনাল করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সরকার তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।” প্রস্তাব পাওয়ার পর তা পরীক্ষা করে দেখা হবে, বলেন তিনি। বর্তমান গ্যাস সংকটের প্রেক্ষাপটে এলএনজি গ্রহণ ও সরবরাহের অবকাঠামো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সেমিনারের আলোচনায় উঠে আসে। একটি নতুন এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রকল্প সরাসরি অনুমোদন করা হয়নি। “সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রকল্পটি সরকার পর্যায়ে বা জিটুজি পদ্ধতিতে করা হবে। এই পদ্ধতিতে সরকার অন্য দেশের সরকার বা সরকার-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে।” তিনি বলেন, “প্রথমে যারা আগ্রহ দেখিয়েছিল, তাদের মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ধরে প্রক্রিয়া এগোনো হয়েছে।” দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন থেকেই জিটুজি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে, বলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব পাওয়ার পর সরকার দরকষাকষি করবে। আলোচনা সন্তোষজনক হলে তবেই চুক্তির পর্যায়ে যাওয়া হবে। ‘উৎপাদন না বাড়ালে সমাধান নেই’ দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বর্তমান জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে না বলে মনে করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মার্চে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। বাড়ানো হয় জ্বালানির দাম। কয়েক দিন আগে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়ে গেলে গ্যাস সংকটও তীব্র হয়। এ অবস্থা প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেছেন, দেশে উৎপাদন বাড়াতে না পারলে যত আলোচনা করা হোক, তাতে স্থায়ী সমাধান আসবে না। “সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সরকার নতুন দরপত্র দিয়েছে। আগামী নভেম্বরে এই দরপত্রের সময় শেষ হবে।” তিনি বলেন, “সরকার আশা করছে, আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো এবার বাংলাদেশের ‘অফশোর ব্লকে’ আগ্রহ দেখাবে। “বাংলাদেশের অতীতে সফল অফশোর বিডিং রাউন্ডের অভিজ্ঞতা রয়েছে।” সমুদ্রের পাশাপাশি স্থলভাগেও নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান দরপত্র আনার প্রস্তুতি চলছে তুলে ধরে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। হিউস্টন যেতে চান টুকু সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে আনতে সরাসরি প্রচারের পরিকল্পনার কথা বলেছেন জ্বালানিমন্ত্রী টুকু। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি হিউস্টনে যেতে চান। সেখানে বড় তেল-গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের ‘অফশোর’ দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানাতে চান। মন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সামনে সরাসরি তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। বাপেক্স কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শুধু নতুন যন্ত্রপাতি কিনে দিলেই বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়বে না। প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণও প্রয়োজন।” অতীতে সাত থেকে ১০ দিনের জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর উদাহরণ তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “এত কম সময়ে বাস্তব কাজ শেখার সুযোগ থাকে না। এ কারণে বাপেক্স কর্মকর্তাদের ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদী বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিতে অনেক বাংলাদেশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন তুলে ধরে তিনি বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে বাপেক্সের কর্মকর্তারাও দেশের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রস্তাব জ্বালানিমন্ত্রী টুকু বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়া দরকার। সেমিনারের আলোচনা শোনার পর তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেবেন। জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ অবকাঠামো এবং দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সরাসরি শোনা প্রয়োজন, বলেন জ্বালানিমন্ত্রী।
কোনো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দিতে নয়, যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে একটি সাধারণ নীতিমালা করার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, নীতিমালা হলে তা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য হবে না। মঙ্গলবার ঢাকার ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ-এফইআরবি আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলছিলেন তিনি। সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বেসরকারি খাতের জন্য জ্বালানি তেলের বাজার খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে, এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়। সরকার স্পষ্ট করেছে যে বিষয়টি তা নয়। বরং সবাই যেন ব্যবসা করতে পারে, সেজন্য একটি সাধারণ নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তার কথায়, সরকার এখন বেসরকারি খাত থেকেও কিছু ধরনের জ্বালানি তেল কিনছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা, মেঘনা বা যমুনার পাম্পের পাশাপাশি কোনো বেসরকারি কোম্পানির পাম্প থাকলে ক্রেতা নিজের পছন্দ অনুযায়ী তেল কিনতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থায় কম দামে তেল পাওয়া গেলে কেউ সেখানে যাবেন। কেউ যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে চান, সেই সুযোগও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতে সরকারি কোম্পানির পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানির জ্বালানি তেল বিক্রির উদাহরণও দেন টানেন মন্ত্রী। বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে বলে বক্তব্যে জানিয়েছেন টুকু। এমনকি এই উদ্যোগ ঘিরে নিজের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন বলে জানান মন্ত্রী। এ ধরনের অভিযোগকে ‘উদ্ভট’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি সংকট নিয়ে একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতে পারে। কিন্তু দেশের জ্বালানি সংকটকে আরও বাড়িয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা দেশের স্বার্থের পক্ষে নয়। জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতকে আরও যুক্ত করার চিন্তার পেছনে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতার কথাও বলেন মন্ত্রী। তার কথায়, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তিনি বলেন, মানুষকে আতঙ্কিত না হতে বারবার বলার পরও ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে গেলেও ঢাকা পুরোপুরি তেলশূন্য হয়নি। তবে সংকটের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও ‘কালোবাজারি শুরু হয়েছিল’। অনলাইনেও বেশি দামে তেল বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতার পর প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি তেলের ব্যবসায় বেসরকারি খাতকে আরও যুক্ত করার চিন্তা এগিয়ে নেওয়া হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের বড় ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রাথমিক জ্বালানির অবকাঠামোতেও তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন টুকু। সেমিনারে আলোচকেরা বলেন, দেশের প্রাথমিক জ্বালানি সংকট এককভাবে সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন। প্রাথমিক জ্বালানি বলতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস, কয়লা, তেলসহ মূল জ্বালানিকে বোঝানো হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব’; বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন জ্বালানিমন্ত্রী। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে তিনবার বসেছেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও নিয়মিত ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। শিল্প খাত যেন জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেদিকেই সরকারের লক্ষ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।।
কোনো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দিতে নয়, যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে একটি সাধারণ নীতিমালা করার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, নীতিমালা হলে তা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য হবে না। মঙ্গলবার ঢাকার ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ-এফইআরবি আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলছিলেন তিনি। সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বেসরকারি খাতের জন্য জ্বালানি তেলের বাজার খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে, এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়। সরকার স্পষ্ট করেছে যে বিষয়টি তা নয়। বরং সবাই যেন ব্যবসা করতে পারে, সেজন্য একটি সাধারণ নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তার কথায়, সরকার এখন বেসরকারি খাত থেকেও কিছু ধরনের জ্বালানি তেল কিনছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা, মেঘনা বা যমুনার পাম্পের পাশাপাশি কোনো বেসরকারি কোম্পানির পাম্প থাকলে ক্রেতা নিজের পছন্দ অনুযায়ী তেল কিনতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থায় কম দামে তেল পাওয়া গেলে কেউ সেখানে যাবেন। কেউ যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে চান, সেই সুযোগও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতে সরকারি কোম্পানির পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানির জ্বালানি তেল বিক্রির উদাহরণও দেন টানেন মন্ত্রী। বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে বলে বক্তব্যে জানিয়েছেন টুকু। এমনকি এই উদ্যোগ ঘিরে নিজের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন বলে জানান মন্ত্রী। এ ধরনের অভিযোগকে ‘উদ্ভট’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি সংকট নিয়ে একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতে পারে। কিন্তু দেশের জ্বালানি সংকটকে আরও বাড়িয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা দেশের স্বার্থের পক্ষে নয়। জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতকে আরও যুক্ত করার চিন্তার পেছনে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতার কথাও বলেন মন্ত্রী। তার কথায়, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তিনি বলেন, মানুষকে আতঙ্কিত না হতে বারবার বলার পরও ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে গেলেও ঢাকা পুরোপুরি তেলশূন্য হয়নি। তবে সংকটের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও ‘কালোবাজারি শুরু হয়েছিল’। অনলাইনেও বেশি দামে তেল বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতার পর প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি তেলের ব্যবসায় বেসরকারি খাতকে আরও যুক্ত করার চিন্তা এগিয়ে নেওয়া হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের বড় ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রাথমিক জ্বালানির অবকাঠামোতেও তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন টুকু। সেমিনারে আলোচকেরা বলেন, দেশের প্রাথমিক জ্বালানি সংকট এককভাবে সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন। প্রাথমিক জ্বালানি বলতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস, কয়লা, তেলসহ মূল জ্বালানিকে বোঝানো হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব’; বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন জ্বালানিমন্ত্রী। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে তিনবার বসেছেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও নিয়মিত ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। শিল্প খাত যেন জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেদিকেই সরকারের লক্ষ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।।
কক্সবাজারে মহেশখালীতে এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি পুরো সক্ষমতায় ফেরাতে, সেটি আবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। জুলাইয়ের শেষের দিকে টার্মিনালটিতে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করা হয়। ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে আবার বন্ধ রাখার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেছেন, কোন সময়ে টার্মিনালটি বন্ধ রাখলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্য গ্রাহকের ওপর সবচেয়ে কম প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত এফএসআরইউতে সমস্যার কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় টার্মিনালটির কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। “এর একটি অংশ এখন চালু রয়েছে। তবে অন্য অংশটি এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি। দ্বিতীয় অংশটি সচল করতে গেলে বর্তমানে চলমান অংশটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।” ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ-এফইআরবি আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন এমন একটি সময় ঠিক করার চেষ্টা করছে, যখন এলএনজি টার্মিনালটি বন্ধ রাখলে মানুষের কষ্ট সবচেয়ে কম হবে। টার্মিনালটি পুরো সক্ষমতায় ফেরানোই সরকারের লক্ষ্য বলে তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গ ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মন্ত্রী টুকুও এফএসআরইউর সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, একটি এলএনজি টার্মিনালে সমস্যা হওয়ার পর সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আগে থেকেই বিকল্প অবকাঠামো থাকা দরকার ছিল। আগের সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের নামে এমন জায়গায় বিনিয়োগ হয়েছে যেখানে অর্থ খরচের সুযোগ ছিল। কিন্তু কোথায় অবকাঠামো করলে উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে, সেদিকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।” একটি টার্মিনালে সমস্যা হলে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহে এমন প্রভাব পড়ার বিষয়টিকে সেই দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। ‘বিনিয়োগ করতে চায় বিদেশি উদ্যোক্তা’ দেশে নতুন ও বড় পরিসরের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তুলে ধরেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তবে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেননি। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “উদ্যোক্তা গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা বড় পরিসরে এলএনজি টার্মিনাল করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সরকার তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।” প্রস্তাব পাওয়ার পর তা পরীক্ষা করে দেখা হবে, বলেন তিনি। বর্তমান গ্যাস সংকটের প্রেক্ষাপটে এলএনজি গ্রহণ ও সরবরাহের অবকাঠামো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সেমিনারের আলোচনায় উঠে আসে। একটি নতুন এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রকল্প সরাসরি অনুমোদন করা হয়নি। “সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রকল্পটি সরকার পর্যায়ে বা জিটুজি পদ্ধতিতে করা হবে। এই পদ্ধতিতে সরকার অন্য দেশের সরকার বা সরকার-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে।” তিনি বলেন, “প্রথমে যারা আগ্রহ দেখিয়েছিল, তাদের মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ধরে প্রক্রিয়া এগোনো হয়েছে।” দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন থেকেই জিটুজি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে, বলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব পাওয়ার পর সরকার দরকষাকষি করবে। আলোচনা সন্তোষজনক হলে তবেই চুক্তির পর্যায়ে যাওয়া হবে। ‘উৎপাদন না বাড়ালে সমাধান নেই’ দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বর্তমান জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে না বলে মনে করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মার্চে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। বাড়ানো হয় জ্বালানির দাম। কয়েক দিন আগে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়ে গেলে গ্যাস সংকটও তীব্র হয়। এ অবস্থা প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেছেন, দেশে উৎপাদন বাড়াতে না পারলে যত আলোচনা করা হোক, তাতে স্থায়ী সমাধান আসবে না। “সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সরকার নতুন দরপত্র দিয়েছে। আগামী নভেম্বরে এই দরপত্রের সময় শেষ হবে।” তিনি বলেন, “সরকার আশা করছে, আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো এবার বাংলাদেশের ‘অফশোর ব্লকে’ আগ্রহ দেখাবে। “বাংলাদেশের অতীতে সফল অফশোর বিডিং রাউন্ডের অভিজ্ঞতা রয়েছে।” সমুদ্রের পাশাপাশি স্থলভাগেও নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান দরপত্র আনার প্রস্তুতি চলছে তুলে ধরে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। হিউস্টন যেতে চান টুকু সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে আনতে সরাসরি প্রচারের পরিকল্পনার কথা বলেছেন জ্বালানিমন্ত্রী টুকু। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি হিউস্টনে যেতে চান। সেখানে বড় তেল-গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের ‘অফশোর’ দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানাতে চান। মন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সামনে সরাসরি তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। বাপেক্স কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শুধু নতুন যন্ত্রপাতি কিনে দিলেই বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়বে না। প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণও প্রয়োজন।” অতীতে সাত থেকে ১০ দিনের জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর উদাহরণ তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “এত কম সময়ে বাস্তব কাজ শেখার সুযোগ থাকে না। এ কারণে বাপেক্স কর্মকর্তাদের ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদী বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিতে অনেক বাংলাদেশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন তুলে ধরে তিনি বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে বাপেক্সের কর্মকর্তারাও দেশের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রস্তাব জ্বালানিমন্ত্রী টুকু বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়া দরকার। সেমিনারের আলোচনা শোনার পর তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেবেন। জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ অবকাঠামো এবং দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সরাসরি শোনা প্রয়োজন, বলেন জ্বালানিমন্ত্রী।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন। সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়েও কর্মস্থলে যোগ দেননি তারা। পরে নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় তাদের বিরুদ্ধে বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তারা জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। এরপর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাতেও তারা কোনো জবাব দেননি। তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। পরবর্তীতে সরকারি কর্ম কমিশন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড অনুমোদনের প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দমনপীড়নের ঘটনায় তাকে এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। গোলাম রুহানী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় (ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী) ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনে অনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার নানাবিধ অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতা হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। রাজন কুমার দাস ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সুনামগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে নির্বিচারে বলপ্রয়োগ ও গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আন্দোলন চলাকালীন সুনামগঞ্জ শহরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ এবং শর্টগানের গুলি চালানোর ঘটনায় মাঠ পর্যায়ে তিনি অন্যতম নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বরখাস্ত হতে যাওয়া পঞ্চম কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তার একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। ভিডিওতে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার...।’
মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে আটক হয়ে সাজা শেষে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে থাকা ৮৩ জন বাংলাদেশিকে দ্রুত দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে অননুমোদিতভাবে কাজ করা, এক প্রতিষ্ঠানের ভিসা নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তারা আটক হন। কারাদণ্ড শেষে দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষায় থাকলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকা, জাতীয়তা যাচাই এবং বিমান টিকিটের জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ফিরতে পারছিলেন না তারা। বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত ৩ আগস্ট পেরাক রাজ্যের লাংকাপ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে। সেখানে আটক ৮৩ জন বাংলাদেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ট্রাভেল পারমিট (টিপি) ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং বিমান টিকিট পাওয়া সাপেক্ষে তাদের পরবর্তী ফ্লাইটে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। এদিকে মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ চালু থাকলেও ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে আটক হয়ে সাজা ভোগের পর বহু বাংলাদেশি বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরাতে নিয়মিত ক্যাম্প পরিদর্শন, ট্রাভেল পাস ইস্যু এবং মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করা হচ্ছে।
মালদ্বীপে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে এসব মৃত্যু ঘটে। মৃত ব্যক্তিদের বয়স ছিল ২১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা এবং একটি সন্দেহজনক আত্মহত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনাগুলো: হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী— ২৫ জুলাই: রবিউল ইসলাম রোশন (২৩) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মারা যান। ২৭ জুলাই: হুমায়ুন কবির (৪৫) স্ট্রোকে মারা যান। ২৮ জুলাই: মকবুল মিয়া (৪৭) স্ট্রোকে মারা যান। ৩০ জুলাই: শেখ ফরিদ (৪৫) ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা থেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১ আগস্ট: সুলাইমান মাতাব্বার (২১) কাজ করার সময় ভুলবশত বিষাক্ত রাসায়নিক তরল থিনার পান করে মারা যান। একই দিন: সৈয়দ মোল্লা (৪৪) স্ট্রোকে মারা যান। ১ আগস্ট: বদিউর রহমান (৩৭) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ৩ আগস্ট: দেলওয়ারা নবী (৭০) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা, অতিরিক্ত কর্মচাপ এবং আর্থিক সংকটের কারণে প্রবাসীদের মধ্যে স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মুত্তাসিম বিল্লাহ জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোও দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমানোর বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মালদ্বীপে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। এই অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম বৃহৎ অংশ।
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন শিশুদের জন্য প্রচলিত টিকাদান কর্মসূচি কমিয়ে আনার নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে মাম্পস, হাম ও রুবেলার (এমএমআর) টিকা আলাদাভাবে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ওভাল অফিসে এ বিষয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, কয়েক দশক আগে শিশুদের তুলনামূলকভাবে অনেক কম টিকা দেওয়া হতো এবং তখন মানুষ বেশি সুস্থ ছিল। বর্তমানে শিশুদের মধ্যে অটিজমের হার বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তবে একাধিক গবেষণায় এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের নির্দেশে শিশুদের জন্য আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের (এএপি) বর্তমান সুপারিশকৃত ১৮টি টিকার পরিবর্তে ১১টি টিকা রাখার কথা বলা হয়েছে। এসব টিকার মধ্যে রয়েছে হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, পোলিও, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি, নিউমোকক্কাল রোগ, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস এবং ভ্যারিসেলা বা চিকেন পক্স। তবে ট্রাম্পের এই নির্দেশ বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তি বা উপস্থিতির জন্য কোন কোন টিকা প্রয়োজন হবে, তা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন ও নীতির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। ট্রাম্প বলেন, শিশুদের জন্য গুরুতর ও বিপজ্জনক রোগের বিরুদ্ধে ১১টি মূল টিকার সুপারিশকে তার প্রশাসন স্বীকৃতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি টিকার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের কাছে বারবার গিয়ে টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও কমানোর কথা বলেন। এমএমআর টিকা একসঙ্গে দেওয়ার বিরুদ্ধেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এটি শিশুর শরীরে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এক সাংবাদিক এ দাবির প্রমাণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমনটাই শুনেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, এমএমআর টিকা নেওয়া বেশিরভাগ মানুষের কোনো গুরুতর সমস্যা হয় না। শিশুদের ক্ষেত্রে টিকার পর জ্বরজনিত খিঁচুনির সামান্য ঝুঁকি থাকলেও হাম, মাম্পস বা রুবেলায় আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় টিকা নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। সিডিসি আরও বলেছে, সমন্বিত এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করলে কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় এমন প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টিকার মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান তৈরি হলে শিশুরা সেই সময়ের মধ্যে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাশাপাশি একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হলে টিকাদানের কোনো কোনো ধাপ বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো অভিভাবকদের আরও বেশি পছন্দের সুযোগ দেওয়া; শিশুদের টিকা পাওয়া বন্ধ করা নয়। ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেনেডি টিকা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো এমএমআর টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নতুন নির্দেশ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরা আগের সূচির তুলনায় অনেক কম টিকা পাবে। তবে টিকা বিশেষজ্ঞরা এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, সমন্বিত টিকাকে একাধিক ইনজেকশন হিসেবে গণনা এবং বার্ষিক ফ্লু ও কভিড-১৯ টিকা হিসাবের মধ্যে রাখার কারণে ডোজের সংখ্যা অতিরঞ্জিত হয়েছে। এদিকে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের নির্দেশকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। তিনি বলেন, হামের বিস্তার অব্যাহত থাকা এবং শিশুদের স্কুলে ফিরে যাওয়ার সময় টিকা দিতে দেরি করা বা টিকা বাদ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও ট্রাম্পের নির্দেশের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর এবং এর সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই। ক্যাসিডি অভিভাবকদের টিকা নিয়ে ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সন্তানদের শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের নির্দেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প খোঁজা এবং সেসব বিকল্প আরও নিরাপদ ও কার্যকর কি না, তা পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। টিকায় থাকা অ্যালুমিনিয়াম লবণ অটিজমসহ বিভিন্ন স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা সৃষ্টি করে এমন দাবি রয়েছে। তবে এএপি এসব দাবিকে দীর্ঘদিনের গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, গবেষণায় টিকায় ব্যবহৃত অতি অল্প পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কয়েক দশক ধরে কিছু টিকায় অ্যালুমিনিয়াম লবণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরিয়ে ফেলার পর কৌশলগত এই নৌপথের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ এখন খোলা। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে।’ ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে এখনো মাঝে মাঝে মাইন পেতে রাখা হচ্ছে। তবে মার্কিন বাহিনী সেগুলো শনাক্ত করছে এবং সরিয়ে ফেলছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় তিনি ক্ষতিপূরণের দাবি তুলবেন। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর ট্রাম্পও পাল্টা ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ট্রাম্প বিশেষ করে ইরানের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা জানান। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের দাবি করে আসছে।
ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় দেশটির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ওয়াশিংটনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর ট্রাম্পও পাল্টা এই দাবি তুললেন। সোমবার ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী যে কোনো আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি তুলতে হবে। তিনি বলেন, ইরান এর আগে আলোচনায় ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেনি। ইরানের হামলায় নিহত বা গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইরানের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজায় ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি’ হয়েছে, সেগুলোর জন্যও ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘অবৈধ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কয়েক মাসে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থও ছাড়তে হবে। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট নৌপথ বা করিডোর চালুর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভর করবে। সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির এই ঘটনায় দেশটিতে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। সোমবারের (১০ আগস্ট) এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট আবেলাদো দে লা এসপ্রিয়েলা এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং ১ হাজার ৫৭৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস অব কলম্বিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠকের পর এই জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত সম্পদ ও সহায়তা পাঠানো আরও সহজ হবে। এর আগে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, সোমবার রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। শুরুতে নিহতের সংখ্যা ৪৭ জন বলে জানানো হয়েছিল। পেরেইরা শহরে ১৮ জন, মানিজালেস শহরে দুজন এবং ভ্যালে দে কাউকায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে বোগোটায় বিভিন্ন ভবন থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘আমরা এইমাত্র চোকো বিভাগে একটি বড় ভূমিকম্প অনুভব করেছি। আমরা আফটারশক নিয়ে উদ্বিগ্ন।’ তিনি জানান, রাজধানী কুইবদোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, জুনের শেষের দিকে ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পরই কলম্বিয়ায় এই ঘটনা ঘটল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।