জামালপুরে রাজীব পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জামালপুরে দুটি বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাগামী কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি।এতে ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা। জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট রাত ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসটি অটোরিকশার ওপর উল্টে পড়লে চারজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে গতকাল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় স্থানীয় লোকজন মানববন্ধন করে। পরে সেখানে রাজীব পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ওই রাতেই বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, বাস ভাঙচুরের পাশাপাশি চালকদের মারধর করা হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং চালক-শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, চালকদের মারধর ও বাস ভাঙচুরের ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এ কারণে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করে কোনো ধরনের পর্যটন বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন পার্বত্য চট্টগ্রামে এলাউ করা হবে না। পরিবেশকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটন বিকাশ বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন যাই হোক, পরিবেশকে অক্ষত রেখে আমরা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করব। রাঙামাটি জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসয় বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন,দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সকলে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। যেখানেই আমরা দুর্নীতির আলামত দেখতে পাবো বা প্রমাণ পাবো আমরা কঠিন ব্যবস্থা নেব। আমরা সকলে সমন্বিতভাবে কাজ করে এই অঞ্চলটাকে অন্যতম সমৃদ্ধ এবং সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দলের আদর্শিক নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। তিনি সরকারবিরোধীদের সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করার পথ খুলে দিয়েছিলেন এবং আমি মনে করি এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ওরা সমালোচনা করবে আমরা তার জবাব দেব। তিনি আরও বলেন, তবে শুনলাম তারা লংমার্চে এক হাজার গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। যে বিষয়টির বিরুদ্ধে তারা লংমার্চ করছে, অর্থাৎ জ্বালানি নেই কিন্তু এই লংমার্চে তারা এক হাজার গাড়িতে দুই লাখ লিটার জ্বালানি খরচ করবে। তবে এতে আমাদের জ্বালানি খাতে কিছু আয় হবে। সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ ও সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে কোমোর হয়ে এক ঐতিহাসিক অভিযানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সিরি 'আ'-র বর্ষসেরা কোচের খেতাব জিতে নিয়েছেন সেস্ক ফাব্রেগাস। দলটিকে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ 'গ্রান গালা দেল কালচিও এআইসি' অনুষ্ঠানে আর্সেনাল ও বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডারের হাতে ইতালিয়ান ফুটবলের অন্যতম সম্মানজনক এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোলডটকম জানিয়েছে, ঐতিহাসিক এই অর্জন ইউরোপের তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল ম্যানেজারদের কাতারে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন ফাব্রেগাস। ইতালিয়ান ফুটবলের সেরা পারফর্মারদের পুরস্কৃত করার বার্ষিক এই আয়োজনে মঞ্চটি যেন তিনি নিজেই আলো করে রাখলেন। স্তাদিও জিউসেপে সিনিগাগলিয়ায় নিজের কৌশলী দর্শনের যে অনন্য প্রদর্শন ফাব্রেগাস দেখিয়েছেন, এই পুরস্কার তারই অফিসিয়াল স্বীকৃতি। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে কোমোর হয়েই ফুটবলার হিসেবে বুট জোড়া তুলে রাখেন তিনি। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ক্লাবটিকে সিরি 'বি' থেকে প্রমোশন পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে পূর্ণাঙ্গ কোচের দায়িত্ব পেয়ে তো মোড়ই ঘুরিয়ে দেন পুরো দৃশ্যপটের। অতীতে নিচের সারির ফুটবল নিয়ে সংগ্রাম করা কোমোকে ইতালিয়ান ফুটবলের অন্যতম অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপান্তর করেছেন তিনি। এই পুরস্কারের জয়ের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল গত মৌসুমে কোমোর সেই অবিশ্বাস্য দৌড়, যেখানে তারা পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করে টিকিট কাটে স্বপ্নের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের। ফাব্রেগাসের অধীনে শীর্ষ লিগে নিজেদের প্রথম মৌসুমে দশম হওয়ার পর, দ্বিতীয় মৌসুমেই ট্র্যাডিশনাল বড় দলগুলোকে চমকে দেয় লম্বার্ডির এই ক্লাবটি। সাবেক এই স্প্যানিশ তারকার দূরদর্শী দর্শনে ভেঙে পড়ে ইতালির ফুটবলের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত পাওয়ার হাউসগুলোর দেয়াল। নতুন মৌসুমেও সেই একই গতি ধরে রেখেছে কোমো। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উদিনেসের মাঠ থেকে ১-১ ব্যবধানের সমতায় ফেরেন তারা। এরপরই নাপোলির মতো পরাশক্তিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার স্পষ্ট জানান দেয় ফাব্রেগাসের শিষ্যরা। ফাব্রেগাসের কোচিং দর্শনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিল তরুণদের ওপর ভরসা রাখা। এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি রাখেন তরুণ প্লে-মেকার নিকো পাজকে, ফাব্রেগাসের হাত ধরে যিনি যেন পুরোপুরি ডানা মেলেছেন। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০টি ম্যাচে মাঠে নেমে ১৩টি গোল করার পাশাপাশি ৮টি অ্যাসিস্ট করে নজর কেড়েছেন এই উদীয়মান তারকা। তবে ফাব্রেগাসও কোমোর জন্য আসল পুরস্কারটি অপেক্ষা করছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে, যেখানে নতুন ফরম্যাটের লিগ পর্বে ৮টি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। ঘরের মাঠ স্তাদিও জিউসেপে সিনিগাগলিয়ায় তারা আতিথ্য দেবে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লাইপজিগ এবং এইকে এথেন্সকে। অন্যদিকে বার্সেলোনা, রিয়াল বেতিস, ফেইনুর্দ ও লেন্সের মাঠে কঠিন সব অ্যাওয়ে ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাবটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বন্দুক হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। হামলার পর আহত ছয়জনকে হেনেপিন কাউন্টি মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বন্দুক হামলায় একাধিক মানুষ হতাহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। হামলার পর পুলিশ ১৫ ইস্ট গ্রান্ট স্ট্রিট ও এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করে। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুলিশ বন্দুক হামলার খবর পায়। এরপর ঘটনাস্থলে কয়েক ডজন পুলিশের গাড়ি ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে ওই এলাকার আশপাশে পথচারীদের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে সিএনএন। হামলার ঘটনাস্থলের কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবন, মিনিয়াপোলিস কনভেনশন সেন্টার, কয়েকটি হোটেল ও একটি হাসপাতাল রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কাছাকাছি থাকা সেন্ট থমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনিয়াপোলিস ক্যাম্পাসও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ জানান, তার জননিরাপত্তা দল ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওয়ালজ বলেন, মিনিয়াপোলিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ওয়ালজ আরো বলেন, মিনেসোটা রাজ্য জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য প্রার্থনা করছে। এদিকে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরো (এটিএফ) এক পোস্টে এটিএফ জানায়, ওই এলাকায় সক্রিয় বন্দুকধারীর খবর পাওয়ার পর তাদের বিশেষ এজেন্টরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)ও জানিয়েছে, তারা মিনিয়াপোলিসের বন্দুক হামলার বিষয়ে অবগত। সংস্থাটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করছেন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার এই বন্দুক হামলার বিষয়ে এফবিআই জানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেন্দ্রটির সঙ্গে জাতীয় লোড পরিচালনা কেন্দ্রের (এনএলডিসি) সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এনএলডিসি দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। কোথায় কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, কোন পথে কত বিদ্যুৎ যাচ্ছে এবং গ্রিডের কোথায় কতটা চাহিদা রয়েছে—এসব তথ্য এখান থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রূপপুরকে এনএলডিসির সঙ্গে যুক্ত করার ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনের তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে এখান থেকে দেখা যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তথ্য এনএলডিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে। দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইনের তথ্য এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের দুটি উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া যাবে এনএলডিসিতে। গতকাল বুধবার ঢাকায় পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রূপপুরের পক্ষে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন এবং জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা। প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য প্রেরণে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। এটি কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখবে। রূপপুরের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগের ফলে রূপপুর ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে, যা কেন্দ্র ও গ্রিডের সমন্বয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজ করবে। এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। গত ২৮ এপ্রিল সেখানে জ্বালানি লোডিং শেষ হয়েছে, এখন চলছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে, পরে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো হবে। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। গ্যাস সংকট ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশে যখন বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ রয়েছে, তখন রূপপুরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতের রেলপথে তীব্র যানজট ও পণ্য বোঝাইয়ের ওপর একাধিক বিধিনিষেধের কারণে কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে বলে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লাবাহী রেক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়লা সরবরাহ কমে গেছে এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন সমন্বয় করতে হয়েছে। আদানি পাওয়ারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতে রেলপথে তীব্র যানজট এবং বর্তমানে পরিবহন ব্যবস্থায় আরোপিত একাধিক পণ্য বোঝাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রে মালবাহী ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম পরিমাণে কয়লা সরবরাহ হচ্ছে। যার ফলে উৎপাদন সাময়িকভাবে সীমিত বা সমন্বয় করতে হচ্ছে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘সন্ধ্যায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিনের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকার সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে এনেছে। আদানি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-কে এ বিষয়ে জানিয়েছে। সেই সঙ্গে রেল-র্যাকের স্বাভাবিক চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য ভারতের রেলওয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তারা আশা করছে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এই সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর সম্ভাব্য প্রভাব সর্বনিম্ন রাখতে কোম্পানি সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।’
সাইবার হামলা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশেই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, সমুদ্রে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। মহিলা আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়।’ এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল’-এর আওতায় বিভিন্ন দুর্যোগ ও ক্রান্তিকালে অসামরিক প্রশাসনকে সরাসরি সহায়তা করে সশস্ত্র বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর ১২৯ ধারার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে আইনি ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো নতুন ক্ষেত্রেও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার নির্দেশনায় আমাদের সব ব্যবস্থা এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য কাজ করছে।’ ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেওয়াই তার উদ্দেশ্য বলেও জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে ইসরায়েল সরাসরি জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করেননি তিনি। এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কানকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ফের যুদ্ধ শুরু হতে পারে; এ নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট, আমি বিষয়টি সামলে নেব।’ এর আগে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসবের মৌসুম আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার আগে ইরান হামলা চালালে প্রচণ্ড শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজা অন্যদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তেহরানের প্রতি সংহতি জানিয়েছে ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত সরকার। একই সঙ্গে যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীকে অবস্থানের সুযোগ দিচ্ছে, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে তারা। হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা তেহরানের মনোবল দুর্বল করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইরানের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর পরিণতির জন্য ওয়াশিংটন এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলো দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সূত্র : আল জাজিরা
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং কোম্পানি বাহরির একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলায় দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রিয়াদ। খবর রয়টার্সের। বুধবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাহরির মালিকানাধীন ‘সিদর’ নামের সুপারট্যাংকারটি সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। এ ঘটনায় দুই নাবিক নিহত হন। সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি তেলসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি হয়ে থাকে। বাহরি জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে জাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই নাবিক নিহত হন। জাহাজটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সামুদ্রিক শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উত্তেজনা বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সৌদি তেল বহনকারী দুটি সুপারট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া যায়। তেহরান অনুমতি ছাড়া ওই সরু জলপথ দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোকে হুমকি দিয়ে আসছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত জুলাইয়ে ওমানের উপকূলের কাছ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় বাহরির আরেকটি সুপারট্যাংকার ‘ওয়াদিয়ান’ হামলার শিকার হয়। এছাড়া ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর জুলাই ও আগস্টে বাহরির ‘মাসা’ ও ‘আমজান’ নামের আরও দুটি জাহাজ লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়। সূত্র : রয়টার্স
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের হামলায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল বুধবার সকালের বাণিজ্যে তেলের দাম বাড়লেও দিনশেষে কিছুটা কমেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৯৩.৯৩ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম হয় ৮৯.৪৪ ডলার। এক সপ্তাহে উভয় তেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন সম্পদ বা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরান কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি ‘একেবারেই মাথা ঘামান না’। চলতি সপ্তাহের শুরুতে শুরু হওয়া সর্বশেষ হামলাগুলো প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রথম। এসব হামলা সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টাকে আরো জটিল করে তুলেছে এবং তেল সরবরাহে আরো বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক দিনে সর্বোচ্চ পরিমাণ। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়ে তথ্য জানিয়েছে। কমান্ড বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি হামলার চেষ্টা করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরো সীমিত হয়ে পড়বে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের পাঁচ ভাগের প্রায় এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে ইরান কার্যত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। আইআরজিসির আরো দাবি, তারা জর্দানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইনের এক মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। জর্দানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়েছিল। তবে এর মধ্যে ১০টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এদিকে গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময় ডিজেল, হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুদ কমেছে দুই লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও চলতি বছরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমনটি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩০১ জন শিশু রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় সম্মতি দেওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধে রাজি হয় হামাস ও ইসরায়েল। ওই পরিকল্পনায় ‘বিমান ও গোলাবর্ষণসহ সব ধরনের সামরিক অভিযান’ স্থগিত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এরপরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিবিসি ভেরিফাই ডজন খানেক ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে, যাতে দেখা গেছে ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ। এর মধ্যে ছিল গাজার সৈকত তীরবর্তী একটি ক্যাফেসহ বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবু এবং একটি জানাজার মিছিলও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রাণহানি ছিল সবচেয়ে বেশি। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতিমাসেই ১০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে দায়ী করেছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন যোদ্ধা, তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য মনে করে এবং বিশেষজ্ঞরা বিবিসি ভেরিফাই-কে বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন বিশ্লেষণ এই তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তবে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা বিবিসি ভেরিফাই-কে জানিয়েছে ,তালিকায় থাকা সবাই আইডিএফ-এর অভিযানের কারণে নিহত হয়েছে এমন ধরে নেওয়ার ‘কোনও ভিত্তি নেই’। ইসরায়েলের দাবি, হুমকি দূর করতে ও নিজেদের সেনা এবং ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে। সূত্র: বিবিসি
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘তেলাপোকাদের’ দাবি মেনে নিয়েছে। যন্তর-মন্তর আন্দোলনের সময় গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখী পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এবং তারপর ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যত এফআইআর দায়ের হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সব খারিজ করে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) খুশি করেছে। ফলে তারাও ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ মিছিল করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় সরকার এক বড়সড় বিড়ম্বনা এড়াতে পারল। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। নয়াদিল্লিতে যন্তর-মন্তর আন্দোলনের সময় সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, তাতে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি ছিল অন্যতম। জেন-জি প্রজন্মের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সিজেপি নেতাদের অন্য দুটি দাবির একটি ছিল আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের করা এফআইআর প্রত্যাহার। অন্যটি ছিল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর দেশজুড়ে যেসব পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিলেন, তাদের পরিবারকে এককালীন অর্থ সাহায্য করা। এই দুই দাবি মানতে টালবাহানা করায় সিজেপি নেতৃত্ব ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে মিছিল করে পুলিশ সদর দফতরে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিক্ষোভ মিছিলে জেন-জি অটল থাকায় এবং তাদের বিরত করতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপে অস্বীকার করায় কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপে বাধ্য হয় বলে মনে করা হচ্ছে। সিজেপির বিক্ষোভ সমাবেশ রুখতে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত কেউ কেউ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে এ ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ দেশের ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকর। অতএব তা বন্ধে সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করুন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবি খারিজ করে দেন। এর পরেই গতকাল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর এজলাসে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেন সব এফআইআর খারিজ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল এ কথাও বলেন, যেসব পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দরুন আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সে জন্য সরকার ৯০ দিন সময় চেয়েছে। সিজেপি নেতাদের দাবি ছিল, আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবার পিছু ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। সিজেপির সঙ্গে আলোচনার সময় দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং সেই দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি মেনে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরেই সিজেপি নেতারা তাদের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ মিছিল প্রত্যাহার করে নেন। সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস এক বিবৃতিতে সে কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের আরজি মেনে সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ সিজেপি নেতৃত্ব নিজেদের জয় বলে মেনে নিচ্ছেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, মহারাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০-২৫ জুলাইয়ের আন্দোলনের জন্য দায়ের করা এফআইআর বাতিল তো হলোই, ওই অপরাধে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নতুর করেও কোনো এফআইআর দায়ের করা যাবে না। দায়ের করা সব মামলা খারিজ বলে ধরে নেওয়া হবে। ফলে ১৩০টিরও বেশি এফআইআর গতকাল খারিজ হয়ে গেল। সিজেপি নেতাদের মতো দিল্লি পুলিশও অবশ্য মনে করছে, এই সিদ্ধান্তে তারাও জয়ী। কারণ, তারা তাদের মনোভাবে অটল থাকতে পেরেছে। যন্তর মন্তরে ছাত্রসমাজের আন্দোলন ও ২০ জুলাই সংসদমুখী অভিযানকে কেন্দ্র করে ঘটা হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দিল্লি পুলিশ মোট ২ হাজার ৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অতীত অপরাধের অভিযোগ আছে। সেই সব অভিযোগ গুরুতর। দিল্লি পুলিশ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ‘ফেশিয়াল রেকগনিশন’ করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে। এই ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে দিল্লি পুলিশ রাজি হচ্ছিল না। তাদের দাবি, চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা ধরনের গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপের পর তাদের বিরুদ্ধে অতীত অপরাধের অভিযোগে নতুন করে মামলা করা যাবে।
শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। মূল ছবিটি এমনভাবে ক্রপ করা হয়েছে যাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ কয়েকজন বিশ্বনেতা বাদ পড়ে গেছেন এবং শেহবাজ শরিফকে ছবির কেন্দ্রে দেখা যায়। এ নিয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ছবিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিওয়েভ এবং কিরগিজ কর্নেল উলারবেক জারলিকোভিচ শারশিভকে দেখা যায়। ছবিটি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের একটি অধিবেশনের আগে তোলা হয়েছিল। সেখানে সদস্য দেশগুলোর নেতারা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মূল ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। মূল ছবিতে দেখা যায়, শেহবাজ শরিফ ডান দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন। পাকিস্তানের প্রকাশিত ছবিতে তাকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে দেখাতে বাঁ পাশের পাঁচজন বিশ্বনেতাকে ক্রপ করে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ১০টি সদস্য দেশ, ১৫টি অংশীদার দেশ এবং দুটি পর্যবেক্ষক দেশ অংশ নেয়। সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার প্রেক্ষাপটেও তিনি বক্তব্য দেন। মোদি এসসিওর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ নিরাপত্তা, সংযোগ ও সুযোগ নিয়ে আরও কার্যকর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। শুধু পরিকল্পনা বা লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, পরিমাপযোগ্য ফলাফলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানকে নিয়ে এসসিও প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্য হয়। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।