সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট নিরসনে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে কাজ চলছে।   তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন। উপজেলা পর্যায়ে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সচল করা গেলে রোগ নির্ণয় সহজ হবে এবং রোগীদের ভোগান্তি কমবে।   শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে সম্প্রসারিত টিকাদান ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাই মিলে সারাদেশে ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে কাজ করছি দীর্ঘদিন ধরে। আমরা প্রতিদিনই আলাপ করছি ডেঙ্গু এবং হাম নিয়ে। হামের বিষয়টা আমরা দেখেছি। আগেও আমরা বেশ একবার বলেছি যে এই জিনিসটা (হাম) কিন্তু আমরা পেয়েছি উত্তরাধিকার সূত্রে। এটা আমরা সৃষ্টি করি নাই। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটা টিকা দেয়নি বলে এই অবস্থায় এসেছে। এখন হাম একটা অত্যন্ত ইনফেকশিয়াস একটা ডিজিজ। এটা একবার যখন শুরু হয়ে যায় এটাকে থামানো অত্যন্ত কঠিন। কোভিডেরর চেয়েও কিন্তু হামের ইনফেক্টিভিটিটা অনেক বেশি।   তিনি বলেন, আমাদের শতচেষ্টা সত্ত্বেও এটাকে আমরা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হইনি। কিন্তু আমাদের চিকিৎসকরা কাজ করছে। যাতে মৃত্যুর হারটা কমে। আমাদের যেই ক্যাম্পেইনগুলো চলছে হামের ক্ষেত্রে আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে আমরা প্রায় দুই কোটির উপরে শিশুকে টিকা দিয়েছি এবং সেই ক্যাম্পেইন চলমান আছে। এখনো আমাদের ক্যাচাপ ক্যাম্পেইন চলছে।    ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলো, বিগত সময়ে যখন ঘটনা ঘটে যেত অনেক মানুষের মৃত্যু হতো। তারপরে এই নিউজগুলো যখন আসত তখন দেখে সরকার একটু নড়েচড়ে বসত। কিন্তু এই বছর আমরা তিন-চার মাস আগে থেকে এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এই বিষয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা প্রেডিক্ট করেছি যে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসটায় এটার প্রকোপ বাড়তে পারে। সেই অনুযায়ী আমরা আরও তিন মাস আগে থেকে ব্যবস্থা নিয়েছি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়ে এই ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি , এটাকে প্রতিরোধ করতে গেলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। যাতে এই মশার প্রকোপটা না বাড়ে।   তিনি বলেন, যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের জন্য আমরা আরও দুই মাস আগেই সারাদেশে ২০ হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যাতে প্রতিটা হাসপাতালে সঠিকভাবে এদের চিকিৎসা হয়। এই পদক্ষেপগুলো নেওয়ার কারণ, যদি তিন-চার বছর আগের তথ্য দেখবেন, এখনকার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিন থেকে চার গুণ এবং মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেশি ছিল। সম্ভবত ২০১৯ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক আমরা দেখেছিলাম। আজকে সেই সংখ্যার সাথে তুলনা করেন, বর্তমান সরকারের সমন্বিত চেষ্টায় এবং জনগণের সচেতন হওয়ার কারণেই এটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে।    খুলনা ও বরিশাল বিভাগে এবার প্রকোপটা একটু বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই তুলনায় রাজশাহী বিভাগে কম। তো এটা একটা সামগ্রিক চিত্র। এই জিনিসগুলো একদিনে হয় না এবং একদিনে চলে যায় না। দীর্ঘমেয়াদে যদি আমরা জনগণকে স্বাস্থ্য সেবার সাথে সচেতন করতে পারি তাহলেই কেবল এই রোগগুলোর প্রতিকার সম্ভব। টিকার সেখানে ভূমিকা রয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যনীতির মূল ভিত্তি কিন্তু প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর। আমরা সব কিছুতে রোগ প্রতিরোধের উপর সবচেয়ে জোর দেব যাতে আরো কম মানুষ অসুস্থ হন।   রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

২ ঘন্টা আগে
জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সাশ্রয়ী রাখার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের পাশাপাশি তা যেন ধনী-গরিব সবার নাগালে থাকে, সেটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। সেই সঙ্গে তিনি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সাশ্রয়ী উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।   শনিবার (১০ অক্টোবর) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস সম্মেলনের (আইসিপিএস-২০২৬) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।   মামুন আহমেদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ওষুধ আবিষ্কার, ন্যানোমেডিসিন ও লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি ওষুধবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এসব প্রযুক্তি ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ওষুধ উদ্ভাবনের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর বিষয়টিও গবেষকদের বিবেচনায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, প্রযুক্তির উন্নয়নের সুফল যেন শুধু সচ্ছল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। উচ্চ প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ঘটিয়ে আর্থিক সামর্থ্য নির্বিশেষে সবার চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।   গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা, বড় স্বপ্ন দেখা এবং মানবকল্যাণকে গবেষণার মূল লক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওষুধ গবেষণায় তথ্যের সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এসব নীতির বিকল্প নেই।   নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ।   নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন শাহরিয়ার, ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার ড. মোহাম্মদ ফৌজি আবদুল জলিল ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক দীপক কুমার সাহা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ ও এম এ কাশেম উপস্থিত ছিলেন।   সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত ও শ্রীলঙ্কাসহ ১১টি দেশের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেশনস ইন ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস ফর গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভান্সমেন্ট’। এতে গবেষণা প্রবন্ধ ও পোস্টার উপস্থাপনার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ওষুধশিল্পের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

২ ঘন্টা আগে
১০ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ ককরোচ পার্টির শীর্ষ নেতারা

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নেতা অভিজিৎ দ্বীপকেসহ শীর্ষ নেতাদে ১০ ঘণ্টা ধরে কোনো খোঁজ নেই বলে জানিয়েছে দলটি।   শনিবার (১০ অক্টোবর) মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে ককরোচ পার্টি এ ব্যাপারে বলেছে, ‘বিষয়টি অতীব জরুরি, ১০ ঘণ্টা হয়েছে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দ্বীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে অপহরণ করেছে। আমরা এখনো জানি না তারা কোথায়। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। দিল্লি পুলিশ তাদের কোথায় রেখেছে? এভাবে কাউকে অপহরণ করা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?’   প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছি ককরোচ পার্টি। এর অংশ হিসেবে সকালে মুম্বাই থেকে বিমানে করে দিল্লি আসেন অভিজিৎসহ দলটির শীর্ষ তিন নেতা।    কিন্তু দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই তাদের ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর থেকে আর মিডিয়ার সামনে আসেননি তারা। এরমধ্যে অভিজিতের দাদি মারা যান। বিভিন্ন জায়গায় দাবি করা হচ্ছে, অভিজিৎকে এ খবর দেওয়া হয়নি।    তবে দিল্লি পুলিশ এক্সে জানিয়েছে, ককরোচ পার্টির প্রধানকে তার দাদি মারা যাওয়ার খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে এবং তাকে বলা হয়েছে যদি তিনি চান, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে দাদির শেষ বিদায়ে থাকার জন্য। তবে আগে তাকে আন্দোলন বন্ধ করতে হবে।   এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত অভিজিতের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ছাড়াও আজ দিল্লিতে যেসব তরুণ যন্তরমন্তরের দিকে এসেছিলেন তাদের সবাইকে আটক করেছে পুলিশ।

২ ঘন্টা আগে
মুম্বাইয়ে আটক ইমরান খান

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামায় বলিডউ তারকা ইমরান খানকে আটক করেছে মুম্বাই পুলিশ। তিনি দেশটির তারকা অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে।   শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ককরোচ পার্টি বিক্ষোভের আয়োজন করে। সেখানে যান অভিনেতা ইমরান খান। এরপর তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, আটক হওয়ার পরও আতঙ্কিত হননি তিনি।   হিন্দুস্তান টাইমসের আপডেট অনুযায়ী, আজাদ ময়দানের কাছে পুলিশের অভিযানে আটক প্রায় ৪০০ প্রতিবাদকারীর মধ্যে ছিলেন অভিনেতা ইমরান খান। তবে তাকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ, আটকের পর কোথায় নেওয়া হয়েছে কিংবা পরে তিনি মুক্তি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এদিকে মোদি সরকারের রক্তচক্ষু ও পুলিশি বাধাকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের আন্দোলনে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।    দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামীকাল রোববার তারা পুনরায় দিল্লির যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাবেন।   সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে অজিঙ্ক শিন্ডে দাবি করেন যে বর্তমান মোদি সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিরোধীরা যদি আরও একবার ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবে সরকারের ক্ষমতার গদি কাঁপতে বাধ্য।   দলের অনমনীয় মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি লিখেছেন, তারা কোনোভাবেই পিছপা হচ্ছেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরেই একটানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই পোস্টে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
বাঁ থেকে তাজমিন ও রাজু। ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
রাজুর ডাকে কক্সবাজার গিয়েছিল স্কুলছাত্রী তাজমিন

রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবকের ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। তাদের সম্পর্ক ১৭ দিনের। ফেসবুকের মাধ্যমে তারা সম্পর্কে জড়ায় বলে জানা যায়।   চারদিন ধরে তাজমিন নিখোঁজ থাকলেও কবে কক্সবাজার গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমদিন পাশের জেলা ব্রাক্ষণবাড়িয়া যায়। সেখানে থেকে কুমিল্লা ফিরে কক্সবাজার যায়। যাওয়ার সময় বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে বলে মাকে জানায়।   কক্সবাজার থেকে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড হোটেল নূরজাহানে আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে তাজমিন নেমেছে সিসিটিভি ফুটেজে এমনটাই দেখা গেছে।   কক্সবাজার কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ শনিবার রাতে কালবেলাকে জানান, মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর তাজমিন বন্ধু রাজুসহ বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসে। তখন তারা তাদেরকে একজন মেয়ে ও ছেলে হিসেবেই মনে রাখে, মাত্র কাস্টমার ভাবে। পরদিন বুধবারের জন্য টিকিট কাটে ছেলেটি। একটি টিকিট। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ে। রাতে হোটেল নূরজাহানে এসে পৌঁছে। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।   এদিকে, হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসার পর আবদুল্লাহ ঘটনায় মনোযোগী হয় ও মেয়েটি তাজমিন বলে শনাক্ত করে, পুলিশ জানতে চাইতে পারে বলেই সে আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়। পরে জানতে পারে সঙ্গে আসা ছেলে বন্ধুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে একজনই, বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। তাই ছেলেটির আর কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।   এদিকে ঘটনার পর তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিল। কেয়া খাতুন মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু জানায়নি।   মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন তাজমিনের মা। কোনো অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন। জানতে চাইতেন তার চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে। কিন্তু এত সতর্কতার পরও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি।   এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যে বান্ধবীকে দুষছেন তাজিনিমের মা তিনি তার চেয়ে বয়সে বড়। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা এখনো মেলেনি। তবে মেয়ে অবাধ্য হয়ে উঠেছিল। পাপজিসহ মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল।   তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এ কারণে তার বাবা সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত।   পুলিশ বলেছে, ঘাতক একজনই, সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন মিয়া। সে আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।   সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান মনে করেন, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক না হলে তাকে কক্সবাজার যেতে হতো না। এতে মৃত্যুর মতো বিপদ থেকে হয়ত সে বেঁচে যেত।   পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজার হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্স বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।   পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১০, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীন হত্যা, অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমন

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর জান্নাতুল তাজমীন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমীনকে ধর্ষণের পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।   শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।     পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর এলাকার ধানখেতের আইলের পাশে তাজমীনের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তার বাবা এসে লাশটি জান্নাতুল তাজমীনের বলে শনাক্ত করেন।   জান্নাতুল তাজমীন রেনাটা পিএলসি কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত তাজমীন। সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।   পুলিশের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডস্থ ‘তিশা বাস কাউন্টার’-এর সামনে থেকে নিজ বাসা রেসকোর্সে যাওয়ার জন্য একটি অটোরিকশা ভাড়া করে। ৩০০ টাকা ভাড়ায় চালক সুমন মিয়া (৩৫) তাজমীনকে নিয়ে রওয়ানা হয়। পথে তাকে ১০০ টাকার কলা ও রুটি কিনে দেয়। তবে চালক সুমন সোজা রেসকোর্সে না গিয়ে অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে একটু সামনে গিয়ে চাঁদপুরগামী সড়কে নিয়ে যান। পথ পরিবর্তন দেখে তাজমীন ভয় পেয়ে যায় এবং সুমনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করে। নিরুপায় হয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে নির্জন স্থানে সুমন তাকে ধরে ফেলে।   এরপর সুমন মিয়া তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। তাজমীন ধস্তাধস্তি ও চিৎকার শুরু করলে সুমন গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন। এতে তাজমীন নিস্তেজ হয়ে পড়লে সুমন তাকে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।     হত্যাকাণ্ডের পর তাজমীনের ব্যবহৃত ভ্যানিটি ব্যাগ, আইফোন এবং স্কুলব্যাগ নিয়ে নেন। ব্যাগটি পার্শ্ববর্তী ধানখেতে ফেলে দিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় চেপে স্থান ত্যাগ করেন সুমন। পরে পাশের কাচিকাটা মসজিদের পুকুরে হাত-মুখ ধুয়ে আইফোনটি সেখানে লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামে আত্মগোপনে চলে যান।     তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাগমারা এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।   সুমনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে রোনালদোকে সাময়িক নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরুর পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)।   এফপিএফ শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি তাদের ‘ডিসিপ্লিনারি ইনভেস্টিগেশন কমিশন’-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।   গত সপ্তাহে ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে পর্তুগালের প্রধান কোচ জর্জে জেজুসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান।   নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি রোনালদো। জেজুসের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন যে, দলে তার ভূমিকা নিয়ে কোচ দুবার নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন।   এফপিএফ জানিয়েছে, পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে রোনালদোকে প্রাথমিকভাবে স্বয়ংক্রিয় সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে এবং বিষয়টিকে ‘জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   এখনও কোনো চূড়ান্ত শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তিমূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হবে।   পর্তুগিজ গণমাধ‍্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় ক‍্যাম্প থেকে চলে গেলে এক থেকে ছয় মাসের জন‍্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক শাস্তির বিধান রয়েছে এফপিএফের নিয়মে।   নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং সতীর্থদের ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় গত মঙ্গলবার ক্ষমা চেয়ে রোনালদো বলেছিলেন, যে কোনো শাস্তিই তিনি মেনে নেবেন এবং এখনও পর্তুগালের হয়ে খেলতে চান।   বিতর্কিত ওই ঘটনার পর শুক্রবার ক্লাবের হয়ে মাঠে ফেরেন রোনালদো এবং সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে আল দিরিয়াহর বিপক্ষে আল নাস্‌রের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি, যা তার পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৮০তম গোল।

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপিকে নিয়ে সমাবেশে মামুনুল হকের বিস্ফোরক মন্তব্য

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি ‘বেইমানি’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক।    বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে এবং জনগণের অধিকার ‘পদদলিত’ করছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের প্রশ্নে দলটি নিজেদের অবস্থান থেকে ‘সরে এসেছে’।   শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চের কাচারিপাড়া মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।    কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।   মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। যে দল গণভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকারব্যবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নজির তৈরি করেছিল, সেই দলই এখন গণভোটের রায় নিয়ে ‘ছলচাতুরী’ করছে।   ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অসম্মতি জানানোর মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি ‘অবজ্ঞা’ দেখানো হয়েছে।    মামুনুল হক বলেন, আমরা সংবিধান সংশোধন চাই না, আমরা চাই সংবিধান সংস্কার। এমন সংস্কার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সহজে বাতিল হয়ে না যায়।   তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অন্যায়, জুলুম ও বঞ্চনার সুযোগ থাকবে না। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানের পদ ও ক্ষমতা পৃথক করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের নিয়োগ ও কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলোও সংস্কারের অংশ হওয়া প্রয়োজন।   বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী প্রমুখ। 

ছবি: সংগৃহীত
সৌদির বিমানবন্দরে আবারও হামলা, বিকট বিস্ফোরণে কাঁপল এলাকা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ধরনের এই বিস্ফোরণের পর পুরো বিমানবন্দর এলাকা থেকে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।    শনিবার বিকট একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই রিয়াদের মূল এই বিমানবন্দরটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনার পর এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ভ্রমণে বের হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এর আগে গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে একাধিক সফল হামলার দাবি করেছিল। গত শুক্রবার হুথিদের চালানো দুটি পৃথক হামলায় এক পাইলটসহ তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন। এছাড়া গত ৬ ও ৭ অক্টোবর সৌদির দুটি বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় আরও তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।   ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং দেশটির উত্তর-পশ্চিমের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকেই এই হামলাগুলো ঘটছে। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরকারি বাহিনীকে যে সমর্থন দিয়ে আসছে, তারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এই হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো হুথিরা দখল করার পর থেকেই মূলত পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। এর মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এবং লোহিত সাগরের সংকীর্ণতম বিন্দু বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মোখা বন্দরও রয়েছে। পরবর্তীতে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করে।   সূত্র: বিবিসি 

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
১০ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ ককরোচ পার্টির শীর্ষ নেতারা
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নেতা অভিজিৎ দ্বীপকেসহ শীর্ষ নেতাদে ১০ ঘণ্টা ধরে কোনো খোঁজ নেই বলে জানিয়েছে দলটি।   শনিবার (১০ অক্টোবর) মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে ককরোচ পার্টি এ ব্যাপারে বলেছে, ‘বিষয়টি অতীব জরুরি, ১০ ঘণ্টা হয়েছে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দ্বীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে অপহরণ করেছে। আমরা এখনো জানি না তারা কোথায়। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। দিল্লি পুলিশ তাদের কোথায় রেখেছে? এভাবে কাউকে অপহরণ করা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?’   প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছি ককরোচ পার্টি। এর অংশ হিসেবে সকালে মুম্বাই থেকে বিমানে করে দিল্লি আসেন অভিজিৎসহ দলটির শীর্ষ তিন নেতা।    কিন্তু দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই তাদের ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর থেকে আর মিডিয়ার সামনে আসেননি তারা। এরমধ্যে অভিজিতের দাদি মারা যান। বিভিন্ন জায়গায় দাবি করা হচ্ছে, অভিজিৎকে এ খবর দেওয়া হয়নি।    তবে দিল্লি পুলিশ এক্সে জানিয়েছে, ককরোচ পার্টির প্রধানকে তার দাদি মারা যাওয়ার খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে এবং তাকে বলা হয়েছে যদি তিনি চান, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে দাদির শেষ বিদায়ে থাকার জন্য। তবে আগে তাকে আন্দোলন বন্ধ করতে হবে।   এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত অভিজিতের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ছাড়াও আজ দিল্লিতে যেসব তরুণ যন্তরমন্তরের দিকে এসেছিলেন তাদের সবাইকে আটক করেছে পুলিশ।

ছবি: সংগৃহীত
মুম্বাইয়ে আটক ইমরান খান
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামায় বলিডউ তারকা ইমরান খানকে আটক করেছে মুম্বাই পুলিশ। তিনি দেশটির তারকা অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে।   শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ককরোচ পার্টি বিক্ষোভের আয়োজন করে। সেখানে যান অভিনেতা ইমরান খান। এরপর তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, আটক হওয়ার পরও আতঙ্কিত হননি তিনি।   হিন্দুস্তান টাইমসের আপডেট অনুযায়ী, আজাদ ময়দানের কাছে পুলিশের অভিযানে আটক প্রায় ৪০০ প্রতিবাদকারীর মধ্যে ছিলেন অভিনেতা ইমরান খান। তবে তাকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ, আটকের পর কোথায় নেওয়া হয়েছে কিংবা পরে তিনি মুক্তি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এদিকে মোদি সরকারের রক্তচক্ষু ও পুলিশি বাধাকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের আন্দোলনে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।    দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামীকাল রোববার তারা পুনরায় দিল্লির যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাবেন।   সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে অজিঙ্ক শিন্ডে দাবি করেন যে বর্তমান মোদি সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিরোধীরা যদি আরও একবার ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবে সরকারের ক্ষমতার গদি কাঁপতে বাধ্য।   দলের অনমনীয় মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি লিখেছেন, তারা কোনোভাবেই পিছপা হচ্ছেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরেই একটানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই পোস্টে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করল ব্লুমবার্গ
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুত, নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সমীকরণ ও পরিকল্পনাকে চরম জটিলতার মুখে ফেলেছে।    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল মায়াদিন জানিয়েছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলার পরও দেশটির প্রতিরোধ ও পুনরায় অস্ত্র তৈরির সামর্থ্য এখনো অটুট রয়েছে।   ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ইরান তার শক্তিশালী পাল্টাহামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দেশটির ভেতরে নিজস্ব প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সুবিধা থাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আবার পূর্ণ করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। ফলে কেবল সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কৌশলবিদদের হিসাব-নিকাশ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   এই প্রতিবেদনটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের সাম্প্রতিক দাবিগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি ফুটিয়ে তোলে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক শিল্প সক্ষমতা এবং পুরো প্রতিরক্ষা ভিত ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বারবার দাবি করে আসছেন যে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।    তবে চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত অপর এক পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যায়, যুদ্ধ বিরতির সুযোগে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র অর্ধেকেরও বেশি পুনর্গঠন করেছে এবং পূর্বের মজুতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ব্লুমবার্গের এই সাম্প্রতিক মূল্যায়নটি ওয়াশিংটনের সেই সব দাবির সত্যতাকে আবারও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

ছবি: সংগৃহীত
দীপকে ও ধ্রুব ছাড়া ৩ হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দিল দিল্লি পুলিশ
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১০, ২০২৬

ভারতের নয়া দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমে আটক হওয়া প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।   মুক্তি পাওয়া আন্দোলনকারীদের তালিকায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন।   তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা অভিজিৎ দীপকে ও ধ্রুব রাঠি এখনও পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে শনিবার রাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।   দাবি আদায়ে এদিন নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল সিজেপি। তাদের কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিজুড়ে ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালানো হয়।   এনডিটিভি লিখেছে, এসব অভিযানে অন্তত ৩ হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী— আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামপন্থি রাজনীতিক পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার।   এনডিটিভি লিখেছে, রোববারও দিল্লিতে একই পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। কারণ সিজেপি প্রতিদিনই যন্তর মন্তরে মিছিল করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে সোমবার সোমবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটও।   অন্যদিকে পুলিশ বলেছে, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।  

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব