‘অতিরিক্ত’ কর আরোপের কারণে দেশের কোমল পানীয় খাতের প্রবৃদ্ধি ‘থমকে আছে’ বলে মনে করছেন কাজী নাজমুল হাসান। আব্দুল মোনেম লিমিটেডের কোকাকোলা বিজনেস ইউনিটের এই প্রধান নির্বাহীর (সিইও) পর্যবেক্ষণ হলো, কর কমালে কোমল পানীয় খাতে সরকারের রাজস্ব তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। নানা উৎসব কিংবা গ্রীষ্মের খরতাপে কোমল পানীয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। সামনে কোরবানির ঈদেও পণ্যটির কাটতি বাড়বে। এমন প্রেক্ষাপটে কোমল পানীয় খাতের ব্যবসার হালচাল কেমন যাচ্ছে, রপ্তানির সুযোগ কতটা কিংবা ব্যবসা বাড়াতে কেমন পরিবেশ প্রয়োজন— এমন নানা বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ এ কথা বলেন কাজী নাজমুল হাসান। পণ্যটির প্রধান ক্রেতা কারা, সেই প্রশ্নে কোমল পানীয় খাতে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করা কাজী নাজমুল বলেন, “যে দেশে মধ্যবয়সী মানুষ যত বেশি, সে দেশে কোমল পানীয়ের গ্রোথ ততো বেশি। আমাদের দেশে, বিশেষ করে তরুণ থেকে মধ্যবয়সী ভোক্তা অনেক বেশি। আমরা পণ্যটাকে এমনভাবে বাজারজাত করেছি, যেন সেটা প্রত্যেকে কিনতে পারেন। আমরা কাঁচের বোতল ২০ টাকায় দিচ্ছি। আবার ‘প্রিমিয়াম সেগমেন্টের’ জন্য ৭০ টাকা আছে। সুতরাং পণ্যটা সবার জন্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা ২০২১ সালে কোকাকোলা বিক্রিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখেছি। আমাদের মরহুম মোনেম স্যার যখন ছিলেন, উনার যে অ্যাগ্রেসিভনেস ছিল কোকাকোলার প্রতি, দেখা গেছে যে কোকাকোলা উনাকে একটা লক্ষ্য দিয়েছে। উনি সেটা কমপ্লিট করার জন্য এমনও হয়েছে যে, এক কেইস কোকাকোলা বিক্রি করলে যে রেভিনিউ আসে, তার চেয়ে বেশি খরচ উনি সেখানে করেছেন। কোমল পানীয় খাতে আব্দুল মোনেমের যুক্ত হওয়া নিয়ে কাজী নাজমুল বলেন, “আমরা কোকাকোলার সঙ্গে আছি ১৯৮২ সাল থেকে। আমাদের বর্তমানে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে দুটি কারখানা আছে। চট্টগ্রামেরটা মূলত কাঁচের বোতলের। ওটাতে এখন প্রোডাকশন হচ্ছে না। আমাদের পুরো প্রোডাকশন এখন আসছে কুমিল্লা থেকে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই খাতের প্রবৃদ্ধি কেমন হতে পারে, সেই জিজ্ঞাসায় কাজী নাজমুল বলেন, এটা নির্ভর করবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এই খাতের প্লেয়ারদের চেষ্টার ওপর। তবে আমরা যেটা দেখছি, বর্তমান মন্দাবস্থার কারণে গ্রোথ অনেকটা থমকে আছে। ইকোনমি যতো পজিটিভ টার্নে যাবে… আমরা যেটা দেখছি, আগামী পাঁচ বছরে বর্তমান ইন্ডাস্ট্রি যেটা আছে, সেটা অন্তত দ্বিগুণ হবে। সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা, সেটা জানতে চাইলে কাজী নাজমুল বলেন, “যত বেশি বিজনেস হবে, সরকার তত রেভিনিউ পাবে। আমাদের বেভারেজে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ট্যাক্স। এত ট্যাক্স আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোথাও নেই। আমরা যেটা চাইব, যদি ট্যাক্সটা সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়, তাহলে সরকারের রাজস্ব তিন থেকে চারগুণ বাড়বে। রাজস্ব বাড়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। অতিরিক্ত ট্যাক্সের কারণে আমরা দামটা কমাতে পারছি না। ইন্ডাস্ট্রির গ্রোথ গড়পড়তা। সরকার যদি ট্যাক্স কিছুটা কমায়, তাহলে আমরা দাম কমাতে পারব। তখনই পণ্যটা দেশের সবাই কিনতে পারবে। বিক্রি বাড়লে এখন এই খাত থেকে সরকারের যে রেভিনিউ, তা তিন থেকে চারগুণ করা সম্ভব। কোমল পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, এমন একটা ধারণা অনেকের মধ্যে আছে। তবে এ ধারণার সঙ্গে একমত নন কোকাকোলার এই কর্মকর্তা। পাল্টা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কোকে (কোকাকোলা) কী আছে, যেটা স্বাস্থ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক? আছে চিনি। আমাদের প্রত্যেকটা জিনিসে চিনি আছে। কোক অস্বাস্থ্যকর নয়। আমি যে চা খাচ্ছি…একটা কোকে ১১ শতাংশ চিনি থাকে। কিন্তু চায়ে কত চিনি খাচ্ছি, সেটা কিন্তু বলছি না। আমাদের চিনিমুক্ত পণ্য আছে; স্বাদ একই রকম। যারা একেবারে চিনি এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্যও পণ্য আছে। তাই কোক ও সুস্বাস্থ্যকে আমি সাংঘর্ষিক মনে করি না। দেশের বাজারে নতুন নতুন দেশীয় ব্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। সেই প্রতিযোগিতা সামলাচ্ছেন কীভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজার বড় হলে নতুন নতুন ব্র্যান্ড আসে। আর এই বাজারে কিন্তু বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলোই এতদিন প্রভাব বিস্তার করেছে। যখন ইন্ডাস্ট্রির পরিসর বাড়ছে, তখন নতুন নতুন স্থানীয় ব্র্যান্ড আসছে এবং প্রতিযোগিতা করছে। দাম বাড়ানোর প্রশ্নে কাজী নাজমুল বলেন, কোভিডের পর পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সংকট, ইউক্রেইন যুদ্ধ… সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে। আমরা চিনির কেজি কিনতাম ৪৬ টাকায়। সেই একই চিনি আমাদের ১৪৫ টাকায় কিনতে হয়। আমাদের বোতলে যে প্লাস্টিক ব্যবহার হয়…এর প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে। ২০২২-২৩ সালের দিকে এসব কারণে সবগুলো ব্র্যান্ড যখন দাম বাড়াল, তখন বিক্রি উল্লেখযোগ্য কমে গেল। তখন কোম্পানিগুলো দামটাকে সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকে মনোযোগ দিল। যেমন আমরা ২০০ মিলিতে মনোযোগ দিলাম। কোম্পানিগুলোর সবাই মুনাফা কমিয়ে চেষ্টা করেছে বাজারকে সহনীয় রাখা। কিছুদিন আগে ইসরায়েল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দেশব্যাপী কোকাকোলা বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টিকে কীভাবে সামলালেন, সেই প্রশ্নও করা হয় কাজী নাজমুলকে। জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত এটা ডিজিটাল যুগ। সবার কাছেই তথ্য সহজলভ্য। কোকাকোলা যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড, এটা সবাই জানে। কোকাকোলার যখন জন্ম হয়, তখন ইসরায়েল বলে কোনো রাষ্ট্র ছিল না। কোকাকোলার প্রতিষ্ঠাতা জন পোমবারটন ইসরায়েলের ছিলেন, এরকম কোনো তথ্য নেই। তিনি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। উনাকে ইহুদিদের সঙ্গে যুক্ত করে, এমন কোনো তথ্য নেই। কোকাকোলা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এটাকে কেউ যদি মুসলমান কোম্পানি বলে, বলতে পারে, মুসলিম শেয়ার হোল্ডার আছে। হিন্দু কিংবা খ্রিষ্টানও বলতে পারে। কিন্তু এগুলো আসলে কোনোটাই সত্য না; এটা একটা গ্লোবাল কোম্পানি। বোতলজাত পানীয় খাতের অন্যতম সমালোচনা প্লাস্টিক দূষণ। কোকাকোলা এ বিষয়ে কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে জানতে চাইলে সিইও বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন, বাজারে অন্য পানীয়ের চেয়ে কোকাকোলার বোতলের প্লাস্টিক একটু পাতলা। এটা করা হয়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহারটা কমানোর জন্য। আর দ্বিতীয়ত দেখবেন, আমাদের বোতলে লেখা আছে, আমরা ‘রিসাইকেল’ করি। এটার জন্য আমাদের পার্টনার আছে। আমরা চেষ্টা করি, আমরা যতটুকু প্লাস্টিক মার্কেটে দিচ্ছি, অন্তত তার ৭০ শতাংশ যেন আমরা ‘রিসাইকেল’ করে ব্যবহার করতে পারি। আমরা এখনো ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারিনি, তবে চেষ্টা করছি।
ক্যারিয়ারের প্রথম তিন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মোট উইকেট ছিল মাত্র তিনটি। এবার সেই সংখ্যার দ্বিগুণ উইকেট এক ম্যাচেই শিকার করে ইতিহাস গড়লেন বতসোয়ানার পেসার নাবিল মাস্টার। মিতব্যয়ী বোলিংয়ে গড়ে ফেলেছেন নতুন বিশ্বরেকর্ডও। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকান উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বে রোববার মালির বিপক্ষে ২.৪ ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন ৩৪ বছর বয়সী এই পেসার। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৬ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম রান খরচের রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সিঙ্গাপুরের হার্শা ভারদ্বাজের দখলে। ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বতসোয়ানার হয়ে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার এখন নাবিল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। মালির ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বোলিংয়ে এসে মাত্র ১ রান দেন নাবিল। পরে অষ্টম ওভারে ফিরে টানা আঘাতে কোনো রান না দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। নিজের পরের ওভারের প্রথম চার বলেই আরও ৩ উইকেট নিয়ে মালির ইনিংস গুটিয়ে দেন মাত্র ২৪ রানে। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বতসোয়ানা ১০ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় মাত্র ২.২ ওভারে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল নাবিলের। প্রথম ম্যাচে একটি উইকেট পেলেও পরের ম্যাচে বোলিং করার সুযোগই পাননি। এরপর দীর্ঘ সাত বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর গত শনিবার আবার মাঠে ফেরেন তিনি। সেদিন ১০ রানে ২ উইকেট নিয়ে জয়ে অবদান রাখা এই পেসার এবার হয়ে গেলেন ম্যাচের নায়ক।
ধারাবাহিক ব্যর্থতায় চোখরাঙানি ছিল ৪৯ বছরে প্রথমবার দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার শঙ্কা। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াল টটেনহ্যাম হটস্পার। শেষ ম্যাচের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে এভারটনকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টিকে রইল উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে রোববার লিগের শেষ রাউন্ডে ১-০ গোলে জিতেছে টটেনহ্যাম। প্রথমার্ধে গোলটি করেন জোয়াও পালিনিয়া। শেষ ছয় ম্যাচে তৃতীয় এবং ৩৮ ম্যাচে দশম জয় পেল টটেনহ্যাম। সেই সঙ্গে ১১ ড্রয়ে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭তম হলো রবের্তো দে জেরবির দল। ভীষণ চাপে মাঠে নেমে শুরু থেকে আক্রমণে আধিপত্য করলেও, ডেডলক ভাঙতে পারছিল না টটেনহ্যাম। অবশেষে ৪৩তম মিনিটে দলকে পথ দেখান পালিনিয়া। কর্নারে প্রথমে তার হেড পোস্টে বাধা পাওয়ার পর, ফিরতি বল ছয় গজ বক্সে পেয়ে নিচু শটে গোলটি করেন পর্তুগিজ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। প্রথমার্ধে গোলের জন্য ১৪ শট নিয়ে ওই একটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে টটেনহ্যাম। ওই একটি গোল যে তাদের কাছে কতটা কাঙ্ক্ষিত, তা তাদের বাঁধভাঙা উদযাপনেই ফুটে ওঠে। একই সময়ে শুরু ম্যাচে লিডস ইউনাইটেডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়েও, দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেল ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড। ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে দলটি। প্রিমিয়ার লিগে টানা ১৪ বছর খেলে চ্যাম্পিয়নশিপে অবনমন হলো ওয়েস্ট হ্যামের। আর টেবিলের নিচের দুই দল বার্নলি ও উলভারহ্যাম্পটনের অবনমন আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। আগের রাউন্ডেই শিরোপা নিশ্চিত করা আর্সেনাল জয়ের আনন্দেই আসর শেষ করেছে। ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জয়ী দলটি এদিন ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেসকে। ৩৮ ম্যাচে ২৬ জয় সাত ড্রয়ে মিকেল আর্তেতার দলের পয়েন্ট ৮৫। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে আসর শেষ করল ম্যানচেস্টার সিটি। ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ পেপ গুয়ার্দিওলার দল। ব্রাইটনকে ৩-০ গোলে হারানো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৭১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়। ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ অ্যাস্টন ভিলা। আর ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা লিভারপুল ৬০ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম দল হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিশ্চিত করেছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম হয়ে বোর্নমাউথ ও সান্ডারল্যান্ড ইউরোপা লিগের টিকেট পেয়েছে। আর আট নম্বর দল ব্রাইটন খেলবে উয়েফা কনফারেন্স লিগে।
দুই অর্ধে দুই চেহারায় দেখা গেল ম্যানচেস্টার সিটিকে। কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা এবং দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার বের্নার্দো সিলভা ও জন স্টোন্সের বিদায়ী ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভীতি ছড়াল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাস্টন ভিলার গতিময় ফুটবলের সামনে বারবার খেই হারাল দলটি। উত্থান-পতনের মধ্য যাওয়া মৌসুমের শেষটায় হেরেই গেল সিটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোববার এক সঙ্গে মাঠে নামে ২০ দল। ৩৮তম রাউন্ডে সিটির বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতে কদিন আগে ইউরোপা লিগ জেতা ভিলা। ২৩তম মিনিটে অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর গোলে এগিয়ে যায় সিটি। স্বাগতিকদের একটি কর্নারে ভিলার একজন ডিফেন্ডার ফ্লিক করলে পেছনের পোস্টে পেয়ে যান সেমেনিও। অনায়াসে জাল খুঁজে নেন তিনি। প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়ানো দুটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে সিটি। বিরতির পর বিস্ময়কভাবে পাল্টে যায় খেলার চিত্র। প্রথমার্ধে গোলের জন্য একটি শটও নিতে না পারা ভিলা সমতা ফেরায় ৪৭তম মিনিটে। কর্নার থেকে সিটি ডিফেন্ডার স্টোন্সের হেডে বল লাগে অলি ওয়াটকিন্সের শরীরে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি। খুব কাছ থেকে জাল খুঁজে নেন ওয়াটকিন্স। ৫৯তম মিনিটে দুই দলের খেলোয়াড়দের গার্ড অব অনার এবং গ্যালারি জুড়ে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্যে মাঠ ছাড়েন বের্নার্দো সিলভা। এই ম্যাচ দিয়েই সিটি অধ্যায় শেষ হচ্ছে পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের। সিলভার চোখে ছিল জল। ডাগ আউটে দাঁড়ানো সিটির বিদায়ী কোচ পেপ গুয়ার্দিওলাকেও ছুঁয়ে যায় আবেগ। অশ্রু দেখা যায় স্প্যানিশ কোচের চোখেও। ৬১তম মিনিটে ভিলাকে এগিয়ে নেন ওয়াটকিন্স। অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বল ধরে দ্রুত এগিয়ে যান ইংলিশ ফরোয়ার্ড। স্টোন্সকে এড়িয়ে গতিময় শটে বাকিটা সারেন তিনি। ৭৮তম মিনিটে আবারও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। সিলভার মতো একইভাবে মাঠ ছাড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার স্টোন্স। ইংলিশ ফুটবলে সিটির গত কয়েক বছরের আধিপত্যে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তার। এই ম্যাচ দিয়ে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পথচলা শেষ হলো স্টোন্সের। ৮৯তম মিনিটে গতিময় শটে ভিলার জালে বল পাঠান ফিল ফোডেন। তবে অফসাইডের জন্য মেলেনি গোল। ভিএআরে যে ছবি দেখানো হয় সেটিতে স্পষ্ট হয়নি, ফোডেন অফসাইডে ছিলেন কিনা। ছবি দেখামাত্রই ফুঁসে ওঠে স্বাগতিকদের সমর্থকরা। ৩৮ ম্যাচে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থেকে আসর শেষ করল সিটি। শেষ হলো গুয়ার্দিওলার দারুণ সফল অধ্যায়।
চীনের শানঝি প্রদেশে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গ এবং চীনের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আহতদের এবং নিখোঁজদের সন্ধানে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, সেই উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য আমাদের প্রার্থনা রইল। দেশ এই বিপদে চীনের পাশে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, আহতদের সেবা এবং এই ঘটনার তদন্তে আপনাদের চলমান প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।’ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাই যেন ধৈর্য, সাহস ও সান্ত্বনা খুঁজে পায় সেই কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, চীনের উত্তরের শানঝি প্রদেশে একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে। এতে অন্তত ৯০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দুর্ঘটনার সময় খনির ভেতরে ২৪৭ হন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-নাহদা এলাকায় মর্মান্তিক এক ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে বহুতল ভবন থেকে নিচে ফেলে দিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক প্রবাসী নারী। বুধবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ তলাবিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবনের ১৫ তলার বারান্দা থেকে প্রথমে শিশুকন্যাকে নিচে ফেলে দেন ওই নারী। এরপর তিনি নিজেও লাফ দেন। ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। ভবনের এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, বিকট শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে তিনি মা ও মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে দ্রুত পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ভবনটি সাময়িকভাবে ঘিরে রাখে এবং তদন্ত শুরু করে। জানা গেছে, নিহত নারীর স্বামী দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার আগের দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও ডাকা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বাসমালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। বাসমালিক ও শ্রমিকদের জন্য নির্দেশনা: ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস ছাড়তে হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। একই সিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা ও যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বাসের ছাদে যাত্রী বহন, পণ্য বা পশুবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকায় ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। একই সঙ্গে নেশাগ্রস্ত বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য সতর্কতা: যাত্রীদের নির্ধারিত টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে ওঠার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করতেও সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখার পাশাপাশি চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করা এবং পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পথচারীদের জন্য নির্দেশনা: পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পারাপারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইলে কথা বলা বা দৌড়ানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় কোনো জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যাবে।
‘অতিরিক্ত’ কর আরোপের কারণে দেশের কোমল পানীয় খাতের প্রবৃদ্ধি ‘থমকে আছে’ বলে মনে করছেন কাজী নাজমুল হাসান। আব্দুল মোনেম লিমিটেডের কোকাকোলা বিজনেস ইউনিটের এই প্রধান নির্বাহীর (সিইও) পর্যবেক্ষণ হলো, কর কমালে কোমল পানীয় খাতে সরকারের রাজস্ব তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। নানা উৎসব কিংবা গ্রীষ্মের খরতাপে কোমল পানীয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। সামনে কোরবানির ঈদেও পণ্যটির কাটতি বাড়বে। এমন প্রেক্ষাপটে কোমল পানীয় খাতের ব্যবসার হালচাল কেমন যাচ্ছে, রপ্তানির সুযোগ কতটা কিংবা ব্যবসা বাড়াতে কেমন পরিবেশ প্রয়োজন— এমন নানা বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ এ কথা বলেন কাজী নাজমুল হাসান। পণ্যটির প্রধান ক্রেতা কারা, সেই প্রশ্নে কোমল পানীয় খাতে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করা কাজী নাজমুল বলেন, “যে দেশে মধ্যবয়সী মানুষ যত বেশি, সে দেশে কোমল পানীয়ের গ্রোথ ততো বেশি। আমাদের দেশে, বিশেষ করে তরুণ থেকে মধ্যবয়সী ভোক্তা অনেক বেশি। আমরা পণ্যটাকে এমনভাবে বাজারজাত করেছি, যেন সেটা প্রত্যেকে কিনতে পারেন। আমরা কাঁচের বোতল ২০ টাকায় দিচ্ছি। আবার ‘প্রিমিয়াম সেগমেন্টের’ জন্য ৭০ টাকা আছে। সুতরাং পণ্যটা সবার জন্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা ২০২১ সালে কোকাকোলা বিক্রিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখেছি। আমাদের মরহুম মোনেম স্যার যখন ছিলেন, উনার যে অ্যাগ্রেসিভনেস ছিল কোকাকোলার প্রতি, দেখা গেছে যে কোকাকোলা উনাকে একটা লক্ষ্য দিয়েছে। উনি সেটা কমপ্লিট করার জন্য এমনও হয়েছে যে, এক কেইস কোকাকোলা বিক্রি করলে যে রেভিনিউ আসে, তার চেয়ে বেশি খরচ উনি সেখানে করেছেন। কোমল পানীয় খাতে আব্দুল মোনেমের যুক্ত হওয়া নিয়ে কাজী নাজমুল বলেন, “আমরা কোকাকোলার সঙ্গে আছি ১৯৮২ সাল থেকে। আমাদের বর্তমানে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে দুটি কারখানা আছে। চট্টগ্রামেরটা মূলত কাঁচের বোতলের। ওটাতে এখন প্রোডাকশন হচ্ছে না। আমাদের পুরো প্রোডাকশন এখন আসছে কুমিল্লা থেকে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই খাতের প্রবৃদ্ধি কেমন হতে পারে, সেই জিজ্ঞাসায় কাজী নাজমুল বলেন, এটা নির্ভর করবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এই খাতের প্লেয়ারদের চেষ্টার ওপর। তবে আমরা যেটা দেখছি, বর্তমান মন্দাবস্থার কারণে গ্রোথ অনেকটা থমকে আছে। ইকোনমি যতো পজিটিভ টার্নে যাবে… আমরা যেটা দেখছি, আগামী পাঁচ বছরে বর্তমান ইন্ডাস্ট্রি যেটা আছে, সেটা অন্তত দ্বিগুণ হবে। সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা, সেটা জানতে চাইলে কাজী নাজমুল বলেন, “যত বেশি বিজনেস হবে, সরকার তত রেভিনিউ পাবে। আমাদের বেভারেজে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ট্যাক্স। এত ট্যাক্স আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোথাও নেই। আমরা যেটা চাইব, যদি ট্যাক্সটা সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়, তাহলে সরকারের রাজস্ব তিন থেকে চারগুণ বাড়বে। রাজস্ব বাড়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। অতিরিক্ত ট্যাক্সের কারণে আমরা দামটা কমাতে পারছি না। ইন্ডাস্ট্রির গ্রোথ গড়পড়তা। সরকার যদি ট্যাক্স কিছুটা কমায়, তাহলে আমরা দাম কমাতে পারব। তখনই পণ্যটা দেশের সবাই কিনতে পারবে। বিক্রি বাড়লে এখন এই খাত থেকে সরকারের যে রেভিনিউ, তা তিন থেকে চারগুণ করা সম্ভব। কোমল পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, এমন একটা ধারণা অনেকের মধ্যে আছে। তবে এ ধারণার সঙ্গে একমত নন কোকাকোলার এই কর্মকর্তা। পাল্টা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কোকে (কোকাকোলা) কী আছে, যেটা স্বাস্থ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক? আছে চিনি। আমাদের প্রত্যেকটা জিনিসে চিনি আছে। কোক অস্বাস্থ্যকর নয়। আমি যে চা খাচ্ছি…একটা কোকে ১১ শতাংশ চিনি থাকে। কিন্তু চায়ে কত চিনি খাচ্ছি, সেটা কিন্তু বলছি না। আমাদের চিনিমুক্ত পণ্য আছে; স্বাদ একই রকম। যারা একেবারে চিনি এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্যও পণ্য আছে। তাই কোক ও সুস্বাস্থ্যকে আমি সাংঘর্ষিক মনে করি না। দেশের বাজারে নতুন নতুন দেশীয় ব্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। সেই প্রতিযোগিতা সামলাচ্ছেন কীভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজার বড় হলে নতুন নতুন ব্র্যান্ড আসে। আর এই বাজারে কিন্তু বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলোই এতদিন প্রভাব বিস্তার করেছে। যখন ইন্ডাস্ট্রির পরিসর বাড়ছে, তখন নতুন নতুন স্থানীয় ব্র্যান্ড আসছে এবং প্রতিযোগিতা করছে। দাম বাড়ানোর প্রশ্নে কাজী নাজমুল বলেন, কোভিডের পর পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সংকট, ইউক্রেইন যুদ্ধ… সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে। আমরা চিনির কেজি কিনতাম ৪৬ টাকায়। সেই একই চিনি আমাদের ১৪৫ টাকায় কিনতে হয়। আমাদের বোতলে যে প্লাস্টিক ব্যবহার হয়…এর প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে। ২০২২-২৩ সালের দিকে এসব কারণে সবগুলো ব্র্যান্ড যখন দাম বাড়াল, তখন বিক্রি উল্লেখযোগ্য কমে গেল। তখন কোম্পানিগুলো দামটাকে সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকে মনোযোগ দিল। যেমন আমরা ২০০ মিলিতে মনোযোগ দিলাম। কোম্পানিগুলোর সবাই মুনাফা কমিয়ে চেষ্টা করেছে বাজারকে সহনীয় রাখা। কিছুদিন আগে ইসরায়েল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দেশব্যাপী কোকাকোলা বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টিকে কীভাবে সামলালেন, সেই প্রশ্নও করা হয় কাজী নাজমুলকে। জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত এটা ডিজিটাল যুগ। সবার কাছেই তথ্য সহজলভ্য। কোকাকোলা যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড, এটা সবাই জানে। কোকাকোলার যখন জন্ম হয়, তখন ইসরায়েল বলে কোনো রাষ্ট্র ছিল না। কোকাকোলার প্রতিষ্ঠাতা জন পোমবারটন ইসরায়েলের ছিলেন, এরকম কোনো তথ্য নেই। তিনি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। উনাকে ইহুদিদের সঙ্গে যুক্ত করে, এমন কোনো তথ্য নেই। কোকাকোলা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এটাকে কেউ যদি মুসলমান কোম্পানি বলে, বলতে পারে, মুসলিম শেয়ার হোল্ডার আছে। হিন্দু কিংবা খ্রিষ্টানও বলতে পারে। কিন্তু এগুলো আসলে কোনোটাই সত্য না; এটা একটা গ্লোবাল কোম্পানি। বোতলজাত পানীয় খাতের অন্যতম সমালোচনা প্লাস্টিক দূষণ। কোকাকোলা এ বিষয়ে কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে জানতে চাইলে সিইও বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন, বাজারে অন্য পানীয়ের চেয়ে কোকাকোলার বোতলের প্লাস্টিক একটু পাতলা। এটা করা হয়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহারটা কমানোর জন্য। আর দ্বিতীয়ত দেখবেন, আমাদের বোতলে লেখা আছে, আমরা ‘রিসাইকেল’ করি। এটার জন্য আমাদের পার্টনার আছে। আমরা চেষ্টা করি, আমরা যতটুকু প্লাস্টিক মার্কেটে দিচ্ছি, অন্তত তার ৭০ শতাংশ যেন আমরা ‘রিসাইকেল’ করে ব্যবহার করতে পারি। আমরা এখনো ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারিনি, তবে চেষ্টা করছি।
সৌদি আরবের মক্কায় ভুয়া হজ প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশিসহ চার প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কার নিরাপত্তা টহল দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের আটক করে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর হজ প্যাকেজের বিজ্ঞাপন প্রচার করে হজযাত্রীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। হজের নামে বিভিন্ন ভুয়া সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাতের বেলা নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি গাড়ি একটি সাদা গাড়িকে ধাওয়া করে। পরে গাড়িটির গতিরোধ করে ভেতরে থাকা সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে জাল হজ কার্ড, ভুয়া নথিপত্র, একাধিক মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব সরঞ্জাম প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী তদন্ত ও বিচারের জন্য তাদের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কাছাকাছি একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে অন্তত ১৯ জন আটকা পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজধানী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে নয়তলা একটি কংক্রিট ভবন হঠাৎ ধসে পড়ে। খবর এএফপির। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবনের দেয়াল ও নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত মাচা ভেঙে পড়ার কারণে শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। ওই সময় সেখানে মোট ১৯ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাশের একটি আবাসিক হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখান থেকেও আরও ২ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সবাই সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো নিখোঁজ ১৯ জনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও থাকতে পারেন। উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা করে তুরস্ক সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ছুটি যুক্ত করায় সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘ বিরতির সুযোগ পাবেন। তুরস্কে এবার ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ছুটি শুরু হবে ২৬ মে মঙ্গলবার দুপুর থেকে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, সোমবার (২৫ মে) পূর্ণ দিবস এবং মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল পর্যন্ত প্রশাসনিক ছুটি দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে ঈদের মূল সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে আগে ও পরে থাকা সাপ্তাহিক ছুটি (শনিবার-রবিবার) যোগ হওয়ায় পুরো ছুটি মিলিয়ে টানা ৯ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে। সরকার মনে করছে, দীর্ঘ এই ছুটির ফলে মানুষ সহজে নিজ নিজ শহর ও গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ভ্রমণও বাড়বে। এতে অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তুরস্কে ঈদুল আজহা, স্থানীয়ভাবে ‘কুরবান বায়রাম’ নামে পরিচিত, মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ সময় দেশজুড়ে ব্যাপক ভ্রমণ, পারিবারিক আয়োজন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র : আরব নিউজ
ভারতের তামিলনাড়ুতে ১০ বছরের এক নাবালিকাকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কোয়েম্বাটুর জেলার সুলুর এলাকার কান্নামপালায়ম হ্রদের ধারে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনাও তুঙ্গে উঠেছে। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে ক্ষমাহীন অপরাধ উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, নারী ও শিশু নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার কোনও ধরনের আপস করবে না। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির কাছের একটি দোকানে জিনিস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ওই নাবালিকা।পরে শুক্রবার (২২ মে) হ্রদের ধারে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে কার্তিক ও মোহন রাজ নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর বিরোধী দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বিজেপি এই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতা নারায়ণন তিরুপতি দাবি করেছেন, আগের সরকারের সময় থেকেই আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বর্তমান পরিস্থিতি তারই ফল। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমন নৃশংস ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে। এখন সাধারণ মানুষের নজর, সরকার কত দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পারে।
পশু জবাই সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর না করায় রাজ্য সরকারকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এ ঘটনায় রাজ্যজুড়ে কুরবানি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গেছে, গবাদিপশু জবাই সংক্রান্ত রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার ফোরামের করা মামলায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ ধারার আওতায় কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা দেওয়া যায় কিনা, তা বিবেচনা করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। সংবাদমাধ্যমেও কোনও সরকারি অবস্থান জানানো হয়নি। এরপরই আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্যসচিব, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সচিবের কাছে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার ফোরামের পক্ষে আইনজীবী নাসিরুল হক এ নোটিশ পাঠান। তিনি বলেন, আদালত স্পষ্টভাবে বলেছিল আইন অনুযায়ী ছাড় বা শিথিলতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি। এ মামলায় আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির সমালোচনা করেন। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন মূলত কৃষিকাজের স্বার্থে গবাদিপশু রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে কৃষিকাজ আর গরু বা মহিষের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার দাবি, আইনটির ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে এবং মূলত পৌর এলাকার মধ্যেই এটি প্রযোজ্য ছিল। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরোনো আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম বড় এ ধর্মীয় উৎসবে কুরবানির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে পশু জবাই নিয়ে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গবাদিপশু ব্যবসায়ী ও খামারিরা। বছরের এ সময়টিতে কুরবানির পশু বিক্রির জন্য তারা দীর্ঘ প্রস্তুতি নেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যেও দ্বিধা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আইনি জটিলতা মিলিয়ে বিষয়টি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় পৌঁছেছে। ঈদের আগে আদালতের পরবর্তী অবস্থান এবং রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।