দীর্ঘ প্রায় নয় মাসের মোতায়েন শেষে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বদলে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে আরেকটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা লিংকনের নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে লিংকনকে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথমে এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ছিল। পরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানতে চান, লিংকন কবে দেশে ফিরবে। তবে নিরাপত্তার কারণে বিমানবাহী রণতরির চলাচলের নির্দিষ্ট সময় সাধারণত প্রকাশ করে না মার্কিন নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর সচিব হাং কাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ হিসেবে লিংকন শিগগিরই দেশে ফিরবে। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থানের কারণে লিংকনের নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে নৌবাহিনী এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো তথ্য তারা পায়নি। বরং মোতায়েনের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা কমেছে। চলতি মাসের শুরুতে লিংকনের একজন নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কীভাবে তিনি পানিতে পড়ে গেলেন, তা এখনো তদন্ত করছে নৌবাহিনী। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে লিংকনের সঙ্গে থাকা একটি ডেস্ট্রয়ার থেকেও একজন নাবিক পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তাকেও দ্রুত উদ্ধার করা হয়। নাবিকদের মানসিক সহায়তা বাড়াতে লিংকনে অতিরিক্ত সমাজকর্মী ও কাউন্সেলর পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। জাহাজে খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এক নাবিকের পরিবারের সদস্য জানান, মোতায়েনের শুরুর দিকে নতুন সরবরাহ আসতে দেরি হওয়ায় কিছু সময় খাবারের ঘাটতি ছিল। তবে পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। নৌবাহিনীও কিছু সরবরাহে বিলম্বের কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রচলিত সরবরাহ কেন্দ্রগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জাহাজে কিছু সামগ্রী পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। তবে বর্তমানে লিংকনে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও পেন্টাগনের কাছে তথ্য চেয়েছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জাহাজের পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’। তার দাবি, প্রতিটি জাহাজ, নাবিক ও কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এদিকে জাপানের ইয়োকোসুকা ঘাঁটিতে থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন গত মে মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে টহলের জন্য যাত্রা করে। চলতি সপ্তাহে এটিকে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর জর্জ ওয়াশিংটন সেখানে থাকা আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে যুক্ত হবে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু । এমনকি ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ‘প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দা গার্ডিয়ান এ খবর প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন’ বলা যায়। তিনি দাবি করেন, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি আগের ব্রিটেনের চেয়ে অনেক বদলে গেছে। সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, নেতানিয়াহু শুধু ব্রিটেনকে কেন লক্ষ্য করছেন—পুরো ইউরোপের পরিস্থিতিই কি এমন নয়? জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইউরোপের অনেক দেশেই একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এরপর তিনি বলেন, কেউ একজন মন্তব্য করেছিলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন।’ তবে বাস্তবে ব্রিটেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র নয়। পাকিস্তানের সরকারি নাম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান’ এবং দেশটি ১৯৯০-এর দশক থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পেছনে ব্রিটেনের সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনও রয়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও খারাপ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে অ্যান্ডি বার্নহাম গাজা যুদ্ধ নিয়ে লেবার পার্টির আগের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে দলটি সঠিক অবস্থান নিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল সরকারের ওপর আরও চাপ দেওয়া হবে। জুলাইয়ে বার্নহাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিক আভি দাবুশ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল যখন ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা ‘ভয়াবহ কূটনৈতিক ব্যর্থতার’ উদাহরণ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। দপ্তরটি বলেছে, তার মন্তব্য ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের কাছে আপত্তি জানানো হয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় অবশ্য এই মন্তব্য ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ইসলামবিদ্বেষী ডানপন্থি বক্তব্যের প্রতিফলন রয়েছে বলেও সমালোচনা উঠেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে ‘ইসলামপন্থি দেশ’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ৫০০ বেডের ভবন উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অক্টোবর মাসে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল খুলে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না। যাতে বিদেশে যেতে না হয় এমন একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা আমরা গড়তে চাই । এর আগে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। দেশে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত করতে নতুন এই ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ার ফলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজারে। দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশে এত বড় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনে প্রথম ৩০০ বেডের হাসপাতাল চালু করা হয়। ব্যাপক হারে রোগী আসতে থাকায় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরে আরো ২০০ বেড বাড়ানো হয়। এবার নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনে আরো ৫০০ বেড বাড়ানো হলো।
মেহেরপুর পৌর শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৈদ্যুতিক তারে ঝুলন্ত অবস্থায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের সামনে বৈদ্যুতিক তারে ঝুলন্ত একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। এরপর শহরের কোর্ট মোড় এলাকায় একই ধরনের আরেকটি বস্তু পাওয়া যায়। পরে সোনালী ব্যাংকের সামনেও বৈদ্যুতিক তারে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একই ধরনের বস্তু পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাগুলো নিয়ে শহরজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, উদ্ধার করা বস্তুগুলো পানিভর্তি বালতিতে রেখে সদর থানায় নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বস্তুগুলো দেখতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাউন্ড বক্সের মতো। তবে এগুলো প্রকৃতপক্ষে কী এবং এতে কোনো বিস্ফোরক উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। একই সকালে তিনটি স্থানে সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ৫০০ বেডের ভবন উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অক্টোবর মাসে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল খুলে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না। যাতে বিদেশে যেতে না হয় এমন একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা আমরা গড়তে চাই । এর আগে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। দেশে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত করতে নতুন এই ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ার ফলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজারে। দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশে এত বড় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনে প্রথম ৩০০ বেডের হাসপাতাল চালু করা হয়। ব্যাপক হারে রোগী আসতে থাকায় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরে আরো ২০০ বেড বাড়ানো হয়। এবার নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনে আরো ৫০০ বেড বাড়ানো হলো।
আন্তর্জাতিক বাজারে এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ট্যাঙ্কারে নতুন করে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না থাকায় তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৪৫ ডলার বা ১.৬৭ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে ব্যারেলের দাম দাড়ায় ৮৮.৫২ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১.১৫ ডলার বা ১.৪২ শতাংশ বেড়ে ৮২.৪০ ডলারে দাড়িয়েছে। সাপ্তাহিক হিসাবেও তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্রেন্ট প্রায় ৬ শতাংশ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ৫.৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কারে হামলা ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। ১৪ আগস্ট দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী ট্যাঙ্কার ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও জাহাজ দুটির ক্ষতি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু লিপোর মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত থাকলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং ট্যাঙ্কার চলাচলের ওপরই এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটা নির্ভর করছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দামে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ করার পর—যারা খুব খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে—খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব। এরপর তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটা সত্যি। ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান জলপথটিতে চলাচল সীমিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরকে ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যায়। এর আগের দিন নয়টি পণ্যবাহী জাহাজ পার হলেও আগস্টে প্রতিদিনের গড় ছিল প্রায় ১২টি। একই সময়ে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। এর আগেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ১২ আগস্ট তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে প্রণালিটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। জাহাজ পরিবর্তন করে এই অবরোধ দীর্ঘ সময় বজায় রাখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার বক্তব্যটি তিনি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন বা এটি আনুষ্ঠানিক মার্কিন নীতিতে পরিণত হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এখনও কিছু বলেনি ইরান।
ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু । এমনকি ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ‘প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দা গার্ডিয়ান এ খবর প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন’ বলা যায়। তিনি দাবি করেন, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি আগের ব্রিটেনের চেয়ে অনেক বদলে গেছে। সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, নেতানিয়াহু শুধু ব্রিটেনকে কেন লক্ষ্য করছেন—পুরো ইউরোপের পরিস্থিতিই কি এমন নয়? জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইউরোপের অনেক দেশেই একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এরপর তিনি বলেন, কেউ একজন মন্তব্য করেছিলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন।’ তবে বাস্তবে ব্রিটেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র নয়। পাকিস্তানের সরকারি নাম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান’ এবং দেশটি ১৯৯০-এর দশক থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পেছনে ব্রিটেনের সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনও রয়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও খারাপ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে অ্যান্ডি বার্নহাম গাজা যুদ্ধ নিয়ে লেবার পার্টির আগের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে দলটি সঠিক অবস্থান নিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল সরকারের ওপর আরও চাপ দেওয়া হবে। জুলাইয়ে বার্নহাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিক আভি দাবুশ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল যখন ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা ‘ভয়াবহ কূটনৈতিক ব্যর্থতার’ উদাহরণ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। দপ্তরটি বলেছে, তার মন্তব্য ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের কাছে আপত্তি জানানো হয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় অবশ্য এই মন্তব্য ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ইসলামবিদ্বেষী ডানপন্থি বক্তব্যের প্রতিফলন রয়েছে বলেও সমালোচনা উঠেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে ‘ইসলামপন্থি দেশ’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
দীর্ঘ প্রায় নয় মাসের মোতায়েন শেষে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বদলে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে আরেকটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা লিংকনের নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে লিংকনকে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথমে এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ছিল। পরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানতে চান, লিংকন কবে দেশে ফিরবে। তবে নিরাপত্তার কারণে বিমানবাহী রণতরির চলাচলের নির্দিষ্ট সময় সাধারণত প্রকাশ করে না মার্কিন নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর সচিব হাং কাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ হিসেবে লিংকন শিগগিরই দেশে ফিরবে। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থানের কারণে লিংকনের নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে নৌবাহিনী এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো তথ্য তারা পায়নি। বরং মোতায়েনের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা কমেছে। চলতি মাসের শুরুতে লিংকনের একজন নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কীভাবে তিনি পানিতে পড়ে গেলেন, তা এখনো তদন্ত করছে নৌবাহিনী। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে লিংকনের সঙ্গে থাকা একটি ডেস্ট্রয়ার থেকেও একজন নাবিক পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তাকেও দ্রুত উদ্ধার করা হয়। নাবিকদের মানসিক সহায়তা বাড়াতে লিংকনে অতিরিক্ত সমাজকর্মী ও কাউন্সেলর পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। জাহাজে খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এক নাবিকের পরিবারের সদস্য জানান, মোতায়েনের শুরুর দিকে নতুন সরবরাহ আসতে দেরি হওয়ায় কিছু সময় খাবারের ঘাটতি ছিল। তবে পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। নৌবাহিনীও কিছু সরবরাহে বিলম্বের কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রচলিত সরবরাহ কেন্দ্রগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জাহাজে কিছু সামগ্রী পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। তবে বর্তমানে লিংকনে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও পেন্টাগনের কাছে তথ্য চেয়েছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জাহাজের পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’। তার দাবি, প্রতিটি জাহাজ, নাবিক ও কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এদিকে জাপানের ইয়োকোসুকা ঘাঁটিতে থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন গত মে মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে টহলের জন্য যাত্রা করে। চলতি সপ্তাহে এটিকে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর জর্জ ওয়াশিংটন সেখানে থাকা আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে যুক্ত হবে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
দীর্ঘ প্রায় নয় মাসের মোতায়েন শেষে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বদলে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে আরেকটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা লিংকনের নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে লিংকনকে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথমে এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ছিল। পরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানতে চান, লিংকন কবে দেশে ফিরবে। তবে নিরাপত্তার কারণে বিমানবাহী রণতরির চলাচলের নির্দিষ্ট সময় সাধারণত প্রকাশ করে না মার্কিন নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর সচিব হাং কাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ হিসেবে লিংকন শিগগিরই দেশে ফিরবে। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থানের কারণে লিংকনের নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে নৌবাহিনী এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো তথ্য তারা পায়নি। বরং মোতায়েনের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা কমেছে। চলতি মাসের শুরুতে লিংকনের একজন নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কীভাবে তিনি পানিতে পড়ে গেলেন, তা এখনো তদন্ত করছে নৌবাহিনী। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে লিংকনের সঙ্গে থাকা একটি ডেস্ট্রয়ার থেকেও একজন নাবিক পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তাকেও দ্রুত উদ্ধার করা হয়। নাবিকদের মানসিক সহায়তা বাড়াতে লিংকনে অতিরিক্ত সমাজকর্মী ও কাউন্সেলর পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। জাহাজে খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এক নাবিকের পরিবারের সদস্য জানান, মোতায়েনের শুরুর দিকে নতুন সরবরাহ আসতে দেরি হওয়ায় কিছু সময় খাবারের ঘাটতি ছিল। তবে পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। নৌবাহিনীও কিছু সরবরাহে বিলম্বের কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রচলিত সরবরাহ কেন্দ্রগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জাহাজে কিছু সামগ্রী পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। তবে বর্তমানে লিংকনে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও পেন্টাগনের কাছে তথ্য চেয়েছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জাহাজের পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’। তার দাবি, প্রতিটি জাহাজ, নাবিক ও কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এদিকে জাপানের ইয়োকোসুকা ঘাঁটিতে থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন গত মে মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে টহলের জন্য যাত্রা করে। চলতি সপ্তাহে এটিকে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর জর্জ ওয়াশিংটন সেখানে থাকা আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে যুক্ত হবে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু । এমনকি ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ‘প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দা গার্ডিয়ান এ খবর প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন’ বলা যায়। তিনি দাবি করেন, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি আগের ব্রিটেনের চেয়ে অনেক বদলে গেছে। সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, নেতানিয়াহু শুধু ব্রিটেনকে কেন লক্ষ্য করছেন—পুরো ইউরোপের পরিস্থিতিই কি এমন নয়? জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইউরোপের অনেক দেশেই একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এরপর তিনি বলেন, কেউ একজন মন্তব্য করেছিলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন।’ তবে বাস্তবে ব্রিটেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র নয়। পাকিস্তানের সরকারি নাম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান’ এবং দেশটি ১৯৯০-এর দশক থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পেছনে ব্রিটেনের সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনও রয়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও খারাপ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে অ্যান্ডি বার্নহাম গাজা যুদ্ধ নিয়ে লেবার পার্টির আগের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে দলটি সঠিক অবস্থান নিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল সরকারের ওপর আরও চাপ দেওয়া হবে। জুলাইয়ে বার্নহাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিক আভি দাবুশ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল যখন ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা ‘ভয়াবহ কূটনৈতিক ব্যর্থতার’ উদাহরণ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। দপ্তরটি বলেছে, তার মন্তব্য ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের কাছে আপত্তি জানানো হয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় অবশ্য এই মন্তব্য ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ইসলামবিদ্বেষী ডানপন্থি বক্তব্যের প্রতিফলন রয়েছে বলেও সমালোচনা উঠেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে ‘ইসলামপন্থি দেশ’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা ভূমিকম্পে বেশ কিছু ভবন ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কে হাজারো মানুষ নিরাপদ স্থানে ছুটে যান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দা গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলের কাছে ছিল ভূমিকম্পটির কেন্দ্র। ভূমিকম্পের পর ৬.১ মাত্রার একটি আফটারশকসহ আরও দুটি কম্পন অনুভূত হয়। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত একজন পুরুষ ও একজন নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনও জানা যায়নি। ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উপকূলীয় এলাকার মানুষ দ্রুত উঁচু স্থানে চলে যান। পরে সমুদ্রপৃষ্ঠে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকায় সতর্কতা তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে সমুদ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পটি শক্তভাবে অনুভূত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ কিছু ভবনে ফাটল ধরেছে এবং কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে। মাউমেরে শহরের একটি বন্দর টার্মিনালের অপেক্ষাকক্ষও ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকায় অবস্থানের কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে শাফাক নিউজ জানায়, বৃহস্পতিবার মাত্র ৯টি জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। এর আগের দিন পার হয়েছিল ৫টি। আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ১২টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছিল। কেপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। আরেকটি তেলবাহী জাহাজ উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল। তবে তিনটি জাহাজের কোনোটিতেই তেল ছিল না। হরমুজে আরও দুটি জাহাজে হামলার পর নৌযান চলাচল কমে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারে। ১৪ জুলাই থেকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় চালুর পর এখন পর্যন্ত ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে মার্কিন বাহিনী। এ ছাড়া তিনটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করা এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বৃহস্পতিবারও হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে। তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের জবাব দেয়নি। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, অবরোধ কার্যকর রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপও আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। সূত্র: শাফাক নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।