সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করতে চারদশকের বেশী সময় পরে কার্যকর হতে যাচ্ছে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা। এরই মধ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করে জনসাধারণের মতামত চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া আইনটির বিষয়ে মতামত পাঠাতে পারবেন নাগরিকরা। স্থানীয় সরকার বিভাগেরর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ই-মেইল ঠিকানায় মতামত পাঠাতে হবে। নাগরিকদের মতামত পাওয়ার পর আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, সমবায়, কুটিরশিল্প, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করতে কার্যকর হতে যাচ্ছে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা। স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায়ও সহায়তা করবে নতুন এই গ্রাম সরকার ব্যবস্থা। স্থানীয় পর্যায়ে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয়ও পর্যালোচনা করবে গ্রাম সরকার। এই ব্যবস্থা ফেরাতে কাজ করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে গ্রাম সরকার পুনর্বহালের বিষয়ে প্রস্তাব ওঠে। ২০০৯ সালে রহিত হওয়া ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার আইন পরিমার্জন করে এই নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়। আইনটি পাশ হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগে আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ফিরবে। নতুন খসড়ায় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়েকটি নতুন দায়িত্ব যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বিতরণ এবং তথ্য সংগ্রহে সহায়তা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্যক্রমে সহযোগিতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহায়তা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের কর্মী সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বাসস’কে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ভালো উদ্যোগ। সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনগণের অংশগ্রহনের একটি পথ তৈরী হবে এই ব্যবস্থায়। এ জন্য সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে হবে। যদি গ্রাম সরকার ব্যবস্থা আইন মেনে চলে তবে জনগণের দীর্ঘ দিনের রাজনীতি বিমুখতা দূর হবে।’ গ্রাম সরকার চালুর বিষয়ে নতুন আইনের খসড়া নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা বাসসকে জানিয়েছেন, ‘খসড়া করা হয়েছে। খসড়াই চূড়ান্ত নয়। এটি আইনে পরিণত হতে হলে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। সংসদে পাশ হলে তারপর প্রয়োগে যাবে সরকার। তবে এটি কতটা দ্রুত কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সিদ্ধান্তের ওপর।’ ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’ এ প্রস্তাবিত আইনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে থাকবেন একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য— সব মিলিয়ে মোট ১৭ জন। পাঁচ বছর মেয়াদি গ্রাম সরকারের সদস্য নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের অংশগ্রহণে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। সারা দেশে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়নের ৪১ হাজার ওয়ার্ডে প্রায় ৭ লাখ স্থানীয় লোকের নেতৃত্বে গ্রাম সরকার গঠিত হবে। খসড়া অনুযায়ী গ্রাম সরকারে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের সদস্য উপদেষ্টা হবেন। সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকবে। এ ক্ষেত্রে মোট ভোটারের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। গ্রাম সরকার প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার সভা করবে। আর প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার সাধারণ সভা হবে। ওয়ার্ডের ভোটারদের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতি থাকতে হবে। প্রতিটি দায়িত্বের জন্য কমিটি এবং প্রয়োজন হলে সাব-কমিটি গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। গ্রাম সরকারের জন্য আলাদা তহবিল থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদ এবং অন্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ ওই তহবিলে জমা হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা নারী ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম সরকারের কাজ পরিদর্শন করতে পারবেন। জেলা প্রশাসক তদন্তের পর প্রয়োজন মনে করলে গ্রাম সরকার বাতিলও করতে পারবেন। তবে তার আগে গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। গ্রাম সরকারের ইতিহাস : দেশে গ্রাম সরকার ব্যবস্থার সূচনা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। গ্রামীণ জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তার সময়ে এ সরকার চালু করা হয়। ১৯৮০ সালের আইনের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে ব্যবস্থাটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম অংশ হিসেবে গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী চালু করা হয়েছিল। তবে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর গ্রাম সরকার ব্যবস্থা বেশিদিন টেকেনি। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে এটি বিলুপ্ত করা হয়। পরে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৭ সালে ‘স্থানীয় সরকার (গ্রাম পরিষদ) আইন’ করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নতুন করে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩’ করা হয়। আইনটি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সালে প্রণীত হয়। এরপর ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘গ্রাম সরকার (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে গ্রাম সরকার বাতিল করা হয়।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীনে বরাদ্দ পাওয়া বাসার কোনো অংশ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দেওয়া যাবে না। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে যারা সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতাকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর সরকারি বাসায় সাবলেট বা ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হবে। গত ২৯ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এ বিষয়ে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কতিপয় বরাদ্দপ্রাপক তাদের নামে বরাদ্দ করা সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের এক কক্ষ, দুই কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্য ব্যক্তির কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী। এ অবস্থায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীন কোনো বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ অংশ কিংবা আংশিক অংশ, অর্থাৎ এক বা একাধিক কক্ষ অন্য কারও কাছে সাবলেট বা ভাড়া না দেওয়ার জন্য বরাদ্দপ্রাপকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতাকে না সরালে বা কোনো সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে সাবলেট কিংবা ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বিরুদ্ধে আর কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাট পরিদর্শন করে সাবলেট দেওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেছেন বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য বাসা বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপ্রাপক নিজে বসবাসের উদ্দেশ্যে এ সুবিধা পান। কিন্তু কোনো কোনো বরাদ্দপ্রাপক বাসার একটি অংশ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সরকারি আবাসন বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত আবাসন সুবিধাভোগীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকৌশলীদেরও অবহিত করা হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তির অনুলিপি প্রধান প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ঢাকা ও চট্টগ্রামের উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এ পদক্ষেপের ফলে সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অননুমোদিত সাবলেট বাণিজ্য বন্ধে তদারকি জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় পর জাপানে মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুক্রবার ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) এ ঘোষণা দেয়। তবে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায় আপাতত সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রয়েছে ব্যাংকটি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যপতনের প্রবণতা বা মুদ্রাসংকট কাটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করতে কয়েক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে জাপানের বিভিন্ন সরকার। মূল্যপতন বলতে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য ও সেবার দাম কমে যাওয়াকে বোঝায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ব্যাপকভাবে মুদ্রানীতি শিথিল করার উদ্যোগ নেয় ব্যাংক অব জাপান। ২০২০-এর দশকের শুরুর দিকে কয়েক দফায় মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও শুক্রবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির প্রবণতা এখন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভিত্তিগত ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) মূল্যস্ফীতি এখন ২ শতাংশ মূল্যস্থিতিশীলতার লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ হার কাছাকাছি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ তবে মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী হলেও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যপতনের যুগের অবসান ঘোষণা করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটির অর্থনীতিমন্ত্রী মিনোরু কিউচি বলেন, ‘আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’ ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রণোদনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তাকাইচির সরকার। এতে সুদের হার কম রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সরকারের চাপ রয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এদিকে ব্যাংক অব জাপান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আট-এক ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা মূল সুদের হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায় আগামী ডিসেম্বর মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২২ সালের বসন্তকাল থেকে জাপানে ধারাবাহিকভাবে ভোক্তামূল্য বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ বছর ধরে চলা অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতি থেকে সরে এসে ২০২৪ সালের মার্চে সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ব্যাংক অব জাপান। সরকারের গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জাপানের মূল মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, তাজা খাদ্যপণ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা ভোক্তা মূল্যসূচকের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের উল্লেখযোগ্য ওপরে উঠতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি অন্যতম। এতে বিশেষ করে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সেমিকন্ডাক্টরের দামও বাড়ছে। এ ছাড়া জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবমূল্যায়নও মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ মার্সেল থিলিয়ান্ট বলেন, ‘সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই বেশি। আমাদের ধারণা, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে নীতিনির্ধারণী সুদের হার ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর পরও সুদের হার বাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’
তুরস্কের পর্যটনকেন্দ্র ক্যাপাডোসিয়ায় ভারি বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের পর বিশাল পাথরের স্তম্ভ ধসে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক এবং বাকি দুজন তুরস্কের নাগরিক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ক্যাপাডোসিয়ার গোরেমে শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শহরটির উন্মুক্ত জাদুঘরের কাছে একটি গাড়ি পার্কিং এলাকার পাশে থাকা পাথরের স্তম্ভটি ভূমিধসের কারণে ভেঙে পড়ে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু এবং পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করেন। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়ায়। নেভশেহির প্রদেশের গভর্নর হুসেইন কোক জানান, নিহতদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক। বাকি দুজন তুরস্কের নাগরিক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাথরের স্তম্ভটি ধসে পড়ার সময় বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই চারপাশ ধুলায় ঢেকে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্ধারকর্মীরা শক্তিশালী আলোর ব্যবস্থা করে সারা রাত ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। এ কাজে খননযন্ত্রও ব্যবহার করা হয়। উদ্ধার অভিযান শেষে গভর্নর হুসেইন কোক জানান, উদ্ধার ও তল্লাশির সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করার পর উদ্ধারকারী দলগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানে আর অভিযান চালানোর প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, শুক্রবার থেকে প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের উদ্যোগে ঘটনার তদন্ত শুরু হবে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। উল্লেখ্য, তুরস্কের ক্যাপাডোসিয়া অঞ্চল বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই অঞ্চলটি আগ্নেয়গিরির প্রাচীন কার্যকলাপে তৈরি শঙ্কু আকৃতির পাথুরে স্তম্ভের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয়ভাবে এসব গঠনকে ‘ফেরি চিমনি’ বলা হয়। তথ্যসূত্র: সিএনএ
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরীর (২৮) লাশ উদ্ধারের স্থান থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে পাওয়া গেছে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি।’ এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরে তুরাগ নদ থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। তাকে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযানও চালানো হয়। দীপের দেওয়া বক্তব্যসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছে তদন্ত সংস্থা। মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।’ তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ।
পশ্চিমা বিশ্বের টানা নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরান এক বিশাল ও গোপন সামরিক ক্রয় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাঁচ হাজারের বেশি সামরিক সংলগ্ন সংস্থার মাধ্যমে তেহরান কোটি কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরীর কাঁচামাল আমদানি করেছে। আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তেহরান দাবি করেছে যে, বিগত যুদ্ধগুলোর চেয়ে বর্তমানে তাদের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী। রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই নেটওয়ার্কের কেবল একটি সংস্থাই ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ মাত্র ১৮ মাসে ২৩০০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে। এসব আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে রকেট জ্বালানির উপাদান, বিমানের যন্ত্রাংশ, উন্নত শিল্পযন্ত্র এবং শত শত ভারী ট্রাক। অনুসন্ধানে ‘এমওডি’ দিয়ে নাম শুরু হওয়া এমন ৫০০০টিরও বেশি সংস্থার সন্ধান মিলেছে। এটা মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সবকটিই তেহরানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিক বিভাগের ঠিকানায় নিবন্ধিত। এর মধ্যে কয়েকটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক সংগঠন বা বোনিয়াদ এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাথে সম্পর্কিত। নথি অনুযায়ী ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠাকাল উল্লেখ করা হলেও অধিকাংশ সংস্থাই তৈরি হয়েছিল ২০১৩ সালে। তখন মূল ইরান চরম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিল। ইসরায়েলি-আমেরিকান ঝুঁকি বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান '২৪০ অ্যানালিটিক্স'-এর সহযোগিতায় রয়টার্স ইরানের প্রায় ১৯ হাজার আমদানির তথ্য, ব্যাংকিং রেকর্ড ও কর্পোরেট নথি বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং তেল বিক্রির অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী এই লেনদেনগুলো সম্পন্ন করেছে। পর্যালোচনা করা মোট চালানের ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর ছাড়াই লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার ফলে ইরানের বাইরে রক্ষিত তহবিল থেকে সহজেই অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়। তবে এই নির্দিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর পশ্চিমাদের পৃথক নিষেধাজ্ঞা ছিল না। নির্দিষ্টভাবে ‘এমওডি ৩৪৬৪২৮’ নামের সংস্থাটি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বিপুল পরিমাণ রকেট জ্বালানির রাসায়নিক, বিস্ফোরক, পেসিশন মেশিনারি এবং ৪৩৫টি ইভেকো ট্রাক আমদানি করেছে। এর মধ্যে অনেক ট্রাকই ছদ্মবেশী মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া হাজার হাজার টয়োটা হিল্যাক্স, ল্যান্ড ক্রুজার এবং টুন্ড্রা ট্রাক আমদানির তথ্যও নথিতে রয়েছে। যদিও গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, থার্ড পার্টির মাধ্যমে এসব গাড়ি পুনঃবিক্রি হওয়ায় তাদের কিছু করার ছিল না। নথিতে আরও দেখা যায়, যুদ্ধ শুরুর ঠিক পূর্বে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান চীন থেকে ৯৩ মেট্রিক টন টাইটানিয়াম ও শত শত টন রাসায়নিক পদার্থ আমদানি করে। তাছাড়া রাশিয়া থেকে মোট ৭৬ লাখ ডলারের ৫টি চালানে ডেটোনেটর আনা হয়, যার একটি চালান পৌঁছেছিল ২০২৬ সালের জুনেই। যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসে আমদানি কিছুটা কমলেও মে মাসেই তা আবার উর্ধমুখী হয়। রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে, মধ্য এশিয়া হয়ে ট্রাকে এবং চীন থেকে কার্গো বিমানে করে এসব সরঞ্জাম ইরানে পৌঁছায়। এই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদরেজা আরেফ নিশ্চিত করেছেন যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশটি খুব সহজেই এটি পরিচালনা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন শত্রুর জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই প্রণালী ইরানেরই অংশ। তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অতীতের ১২ দিনের বা ৪০ দিনের যুদ্ধের চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী বলে তিনি দাবি করেন। আরেফের এই কঠোর বক্তব্য এমন সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানের ওপর সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আঞ্চলিক দেশগুলো কূটনৈতিক উপায়ে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে ২০০৬ সালের জাতিসংঘ পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের মতো দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০২৬ সালে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত ও নৌ-অবরোধ সত্ত্বে তেহরান যেভাবে এই সরবরাহ লাইন সচল রেখেছে, তা বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে মস্কো এমন কোনো সংঘাত চায় না। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ফোনালাপের পর পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেয়া উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত। উত্তেজনা যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে, তাহলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না। পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা নিতে পারে।’ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন পুতিন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছি না। তবে ইউরোপ যদি হঠাৎ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা শুরু করে, তাহলে আমরা এখনই প্রস্তুত।’ বৃহস্পতিবার পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে পশ্চিমারা ব্যর্থ হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না’। আর ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই বিষয়টি ‘ভুলে না যাওয়ার’ আহ্বান জানান তিনি। এর আগে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। রুশ নেতা জানান, ইউরোপীয় নেতারাই এই ফোনালাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি আলোচনাটিকে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন। সূত্র: টেলিগ্রাফ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতিতে মাঠে সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন এলাকায় চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে দলটি। দলীয় সূত্রের দাবি, কোথাও কোথাও প্রায় এক বছর আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে টানাপোড়েন বাড়তে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে নির্বাচনি সমন্বয় না হলে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটবদ্ধ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই জামায়াতের। জাতীয় নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থীদের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় দলটি। এতে একই এলাকায় জামায়াত ও শরিক দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন। ফলে নির্বাচনি সমীকরণের পাশাপাশি জোটের পারস্পরিক সম্পর্কেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো জেলা, উপজেলা বা এলাকায় শরিক দলগুলো আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দলটির নারী উইং ‘জাতীয় নারীশক্তি’-কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, এনসিপি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ এবং ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মেয়র পদে লড়ার প্রস্তুতির কথা রয়েছে। ১১-দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে অংশ নিলে তারাও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এক বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে অন্তত এক বছর আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে জামায়াত। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কর্মশালা, প্রশিক্ষণ সভা ও সাংগঠনিক বৈঠক করছে দলটি। এসব কর্মসূচিতে প্রার্থীদের সততা, যোগ্যতা, নৈতিকতা, জনসম্পৃক্ততা এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার আশঙ্কা : ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমন্বয় থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে একই ধরনের সমঝোতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে শরিক দলগুলোকেও নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এতে একই ইউনিয়ন, পৌরসভা বা উপজেলায় ঐক্যের শরিকরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন। বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির সাংগঠনিক উপস্থিতি রয়েছে-এমন এলাকায় প্রার্থী সমন্বয় না হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ভোটের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রার্থী বাছাই, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কোনো এলাকায় এক দলের প্রার্থী অন্য দলের সমর্থন প্রত্যাশা করলে সমঝোতা না হওয়ার বিষয়টি পারস্পরিক অসন্তোষের কারণ হতে পারে।
সনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত ইতালির একটি সামরিক হেলিকপ্টার বৃহস্পতিবার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে চারজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটিতে চালকসহ মোট ১৫ জন ছিলেন এবং তারা সবাই ইতালির নাগরিক। নিহত ৪ জনের মধ্যে ২ জন ইতালির সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বাকি ২ জন ইতালীয় রেডক্রসের স্বেচ্ছাসেবী সামরিক বাহিনীর সদস্য। আহত ১১ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা-সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাদের কারোরই অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, “এই গভীর শোকের মুহূর্তে, আমার প্রথম ভাবনা নিহতদের পরিবারের প্রতি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং পুরো প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে নিহতদের স্বজনদের গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।" ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জিগোভিনার ব্রকো জেলার গোরিচে গ্রামে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টার মাটিতে উল্টে পড়ে আছে এবং সেটি টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। হেলিকপ্টারটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফোর্সের ‘অপারেশন আলথিয়া’ এর অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। এই মিশনটি ডেটন শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকি করে। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “আমার ভাবনা নিহত ব্যক্তি, তাদের পরিবার এবং সেই সব মানুষের সঙ্গে রয়েছে, যারা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মিশনে যুক্ত থেকে বর্তমানে চরম যন্ত্রণাময় মুহূর্ত পার করছেন।" সূত্র : রয়টার্স
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
তুরস্কের পর্যটনকেন্দ্র ক্যাপাডোসিয়ায় ভারি বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের পর বিশাল পাথরের স্তম্ভ ধসে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক এবং বাকি দুজন তুরস্কের নাগরিক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ক্যাপাডোসিয়ার গোরেমে শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শহরটির উন্মুক্ত জাদুঘরের কাছে একটি গাড়ি পার্কিং এলাকার পাশে থাকা পাথরের স্তম্ভটি ভূমিধসের কারণে ভেঙে পড়ে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু এবং পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করেন। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়ায়। নেভশেহির প্রদেশের গভর্নর হুসেইন কোক জানান, নিহতদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক। বাকি দুজন তুরস্কের নাগরিক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাথরের স্তম্ভটি ধসে পড়ার সময় বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই চারপাশ ধুলায় ঢেকে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্ধারকর্মীরা শক্তিশালী আলোর ব্যবস্থা করে সারা রাত ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। এ কাজে খননযন্ত্রও ব্যবহার করা হয়। উদ্ধার অভিযান শেষে গভর্নর হুসেইন কোক জানান, উদ্ধার ও তল্লাশির সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করার পর উদ্ধারকারী দলগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানে আর অভিযান চালানোর প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, শুক্রবার থেকে প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের উদ্যোগে ঘটনার তদন্ত শুরু হবে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। উল্লেখ্য, তুরস্কের ক্যাপাডোসিয়া অঞ্চল বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই অঞ্চলটি আগ্নেয়গিরির প্রাচীন কার্যকলাপে তৈরি শঙ্কু আকৃতির পাথুরে স্তম্ভের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয়ভাবে এসব গঠনকে ‘ফেরি চিমনি’ বলা হয়। তথ্যসূত্র: সিএনএ
সৌদি আরবে কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ন্যূনতম মজুরি দুই ধাপে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল। ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে এই মজুরি ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার সৌদি রিয়াল করা হবে। পরের বছর একই তারিখ থেকে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার রিয়ালে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে আরব নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের (এইচআরডিএফ) এ উদ্যোগের লক্ষ্য দেশটির নাগরিকদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে সৌদি নারী-পুরুষের নিয়োগ উৎসাহিত করা এবং শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ‘নিতাকাত’ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নিতাকাতের আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌদি নাগরিকদের নিয়োগের হার বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম সহায়তাপ্রাপ্ত মজুরি ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার রিয়াল করা হবে। বিদ্যমান আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও ২০২৭ সালের মে মাসের সহায়তার অর্থ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার রিয়াল করা হবে। বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন কার্যকর হবে ২০২৮ সালের মে মাসের সহায়তার অর্থ থেকে। কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সৌদি কর্মীদের মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দেবে মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল। তবে এ সহায়তার পরিমাণ মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত বিধি ও শর্ত অনুযায়ী এ অর্থ দেওয়া হবে। তহবিলের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি নাগরিকদের নিয়োগে আরও উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও কার্যকর হবে। কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য ও যোগ্যতার শর্ত জানতে সুবিধাভোগীদের মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের সরকারি ওয়েবসাইট দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের নির্বাচনে এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশের পর এক ভাষণে ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট নতুন রাজনৈতিক পর্বের সূচনা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের জনগণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে প্রত্যাখান করেছে এবং একটি দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে। আইজেনকোট বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ইসরায়েলের জনগণ দেশের ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে তাদের সুস্পষ্ট মতামত প্রদান করেছে। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে নেতানিয়াহু বর্তমানে একটি জাতীয় ও ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখোমুখি, যা তার নিজ সমর্থক গোষ্ঠীর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। দেশের মূল কর্মক্ষম ও সেবা প্রদানকারী জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এই ব্যর্থ জোট সরকারের ওপর জনগণ তাদের আস্থা হারিয়েছে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল নেতার উচিত জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে আইজেনকোট বলেন, নতুন করে আবার নির্বাচনে যাওয়া এক বিরাট ভুল হবে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। দেশে বিভাজন, মিথ্যাচার ও ব্যর্থতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সাধারণ মানুষ তা থেকে মুক্তি চায়। ইয়াশার পার্টি শুরু থেকেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক বিকল্প তুলে ধরেছে, যা দেশের ধর্মীয়, ধর্মনিরপেক্ষ, ডান, বাম ও মধ্যপন্থী; সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে তিনি দেশটির সকল সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেন। কারণ তারা কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত। তিনি নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করা বা দেশের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা যেন না করা হয়। আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী দিনে যে সরকার গঠিত হবে তা দেশের সার্বিক ঐক্য ও মূল আদর্শকে টিকিয়ে রাখবে। সেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা পাবে এবং বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবার আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের জয় নয় বরং এটি সমগ্র ইসরায়েলি জনগণের বিজয়। বিভাজন ও বিদ্বেষের দিন শেষ করে দেশ এখন একটি নতুন আশা, দায়িত্ববোধ ও সম্প্রীতির যুগে প্রবেশ করছে। ভাষণ শেষে তিনি দেশের সকল কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোর প্রধান রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত হন। একই দিন চেরনিহিভ ও ক্রেমেনচুক শহরে হামলায় আরো পাঁচজন নিহত হন। রাতে রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজনের মৃত্যু হয়। দেশটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়াও আরও অনেকে আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্স জানায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উক্রজালিজনিৎসিয়া জানায়, দনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে জেটচালিত ড্রোন আঘাত হানে। ওই সময় সেখান থেকে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলার পর প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে হতাহতদের দেহ। বিস্ফোরণের আঘাতে আশপাশের ফুটপাত ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দনিপ্রোতে আরেকটি হামলায় একটি ছাত্রাবাসে আগুন ধরে যায়। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানজা জানান, এক দিনের হামলায় শহরটির প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে রাজধানী কিয়েভেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। রাত ১১টার কিছু আগে চালানো এ হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। শহরের বিভিন্ন গুদামে আগুন ধরে যায়। দনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শহরের সামরিক প্রশাসন। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেৎস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনেও হামলা চালানো হচ্ছে। এসব হামলার কোনো যুক্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দনিপ্রো ছাড়াও ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি ব্যস্ত সড়কে চালানো এ হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান দিমিত্রো ব্রাইঝিনস্কি বলেন, সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তারা কেউ কাজে যাচ্ছিলেন, কেউ দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন, আবার কেউ দিনের পরিকল্পনা করছিলেন। মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবন ও ব্যক্তিগত স্থাপনায় হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় রুশ ড্রোনের পৃথক তিনটি হামলায় কয়েকটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ছয়জন আহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এসব হামলাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবাই যখন উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অপেক্ষায়, তখনই রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে। এটি ইচ্ছাকৃত। জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইউক্রেনের গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে তিনি মিত্রদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউক্রেন ও রাশিয়া- দুই পক্ষই জানিয়েছে, সেখানে মাইন নিষ্ক্রিয় করার কাজ শেষ হয়েছে। এখন শহরটিতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং ইচ্ছুক বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তবে খেরসনে সীমিত পরিসরে যুদ্ধবিরতি চললেও ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার কারণে দেশটির স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিও ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ চলছে। আগামী মাসে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইউক্রেনের কর্মকর্তারা মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।