তিন রাজনৈতিকদলের শীর্ষ নেতার হাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পৃথকভাবে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম আজ তিন নেতার হাতে এই বার্তা তুলে দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাপ্তাহিক ছুটিসহ তিনদিন বন্ধের পর আজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। হিলি স্থল বন্দরের কাস্টমস বিভাগের সুপার এম আর জামান জানান, নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিন বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার দুপুরে এই স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ভুট্টা, মসলা ও ফল বোঝাই বেশ কয়েকটি ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে। আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকগুলো থেকে মালামাল খালাসের কাজ চলছে। বন্দরের সবধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ নিরোধ কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিন বন্ধের পর আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক হয়েছে বন্দরের অভ্যন্তরীণ সব কার্যক্রম। তিনি জানান, ভারত থেকে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তা আনলোড হয়ে দেশি ট্রাকে লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে। হিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনদিন বন্ধের পর আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। শনিবার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, তারেক রহমানের অনন্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের অধিক আসনে যে অভূতপূর্ব ও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। এ বিজয়ের মাধ্যমে দেশের আপামর জনতার গণরায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। বার্তায় আরও বলা হয়, তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্ব বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে একটি সম্মানজনক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব কার্যকর হবে বলে বিজিএমইএ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে। বিজিএমইএ জানায়, দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করতে নতুন সরকারের দূরদর্শী নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসা-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অভিনন্দন বার্তায় ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আশাবাদও জানানো হয়। এছাড়া বিজিএমইএ পরিবারের যেসব সদস্য বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, জাতীয় সংসদে তাদের সক্রিয় ভূমিকা পোশাক শিল্পের সংকট নিরসন ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়। বার্তার শেষাংশে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ পরিচালনায় তার সকল উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করা হয়।
দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘পরীক্ষা গ্রহণ কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব হুরে জান্নাত স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। আদেশে এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সংস্থাটির সদস্যকে (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) সদস্য সচিব করা হয়েছে। ৯ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একজন প্রতিনিধি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের একজন প্রতিনিধি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়) এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়)। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশটি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল অধিদপ্তর ও দপ্তরে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাসসকে বলেন, সারা দেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ সুপারিশের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটি একটি মিটিং করেছে। তিনি জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সুপারসহ ১৩ হাজার ৫৯৯টি প্রশাসনিক পদে ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬’- এর অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এনটিআরসিএ’র তথ্য অনুযায়ী, মাউশির স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে মোট শূন্যপদ ১০ হাজার ২৭৮টি। এরমধ্যে স্নাতক (পাস) কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪, উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ পদে শূন্যপদ রয়েছে ৭৬৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ ৩ হাজার ৯২৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ ৩ হাজার ৮৭২টি। এছাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ ৫০৪টি। এনটিআরসিএ আরও জানিয়েছে, মাদরাসা অধিদপ্তরের আওতাধীন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষের শূন্যপদ ৩৪টি এবং উপাধ্যক্ষ পদে শূন্য রয়েছে ৫৩টি। ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদ ২০২টি, ফাজিলের উপাধ্যক্ষ পদ ৩৪৩টি, আলিমের অধ্যক্ষ পদ শূন্য ২১৯টি, উপাধ্যক্ষ পদ ৩৭৭টি। এছাড়া দাখিল মাদরাসায় সুপার পদ শূন্য ৮৯১টি এবং সহকারী সুপারের ১ হাজার ৪টি শূন্যপদ রয়েছে। সবমিলিয়ে মাদরাসায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্যপদ ৩ হাজার ১৩১টি। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য অধ্যক্ষ পদ ১১০টি, ভোকেশনালে শূন্য সুপার পদ ৪০টি এবং সহকারী সুপার ৪০টি। সবমিলিয়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদ শূন্য ১৯০টি বলে জানায় এনটিআরসিএ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। এবার দেশ গড়ার পালা-সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার পর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জনগণ বিএনপিকে বিপুল সমর্থন দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে দল ও নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিজয় উদযাপনে শান্ত ও সংযত থাকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐক্য অটুট রাখতে হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার ইতিবাচক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে। এদিকে ঘোষিত ফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া দলটির শরিকরা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি চিঠি দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম আজ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আজ বেলা পৌণে ১টায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূস নিজে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে ফোন করেন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধি জামায়াত আমীর এর হাতে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমীরকে উদ্দেশ করে লেখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।’ জামায়াত আমির এর প্রতি নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা লেখেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে- এমনটাই আমাদের আকাঙ্খা।’ প্রধান উপদেষ্টা লিখেন যে, 'জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি।' পরিশেষে প্রফেসর ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’
বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ী করায় দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন। তিনি দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে দেশ। তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো অপশক্তি দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলকে তিনি অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। সরকার ও বিরোধীদল নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দেশ গঠনে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্যই দেশের শক্তি। বিভাজনকে দুর্বলতা বলে মন্তব্যও করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণকে কনভিন্স করাটাই হলো আমাদের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’। ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা, সেটাতে আমরা আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি।’ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। দেশ পরিচালনার কঠিন দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি যখন ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে। তবে জনগণের শক্তি সঙ্গে থাকলে কোনো বাধা আমাদের রুখতে পারবে না।’ তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ আজ বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। এই বিজয় কোনো একক দলের নয়, এ বিজয় দেশের সাধারণ জনগণের। আজ থেকে আমরা প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’ সরকারের দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নতুন সরকার হবে জনগণের কাছে সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক এবং ফ্যাসিবাদের হাতে ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করাই হবে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য।’ বিজয়-পরবর্তী এই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ৫১টি রাজনৈতিক দলসহ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং গণ-অধিকার পরিষদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।
আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস সচিব বলেন, দ্রুতই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এটি কোনোভাবেই ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির পর হবে না। তিনি বলেন, শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
চলতি বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। পাকিস্তান ও ইরান থেকে তারা দেশে ফিরেছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এত বিপুল ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন আফগানিস্তানকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউএনএইচসিআরের আফগানিস্তান প্রতিনিধি আরাফাত জামাল জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন। কাবুল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, তীব্র শীত, তুষারপাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে এত মানুষের ফিরে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালে ইতোমধ্যে ২৯ লাখ মানুষ দেশে ফিরেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট প্রত্যাবর্তনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ লাখে। সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালুচ জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রত্যাবর্তনের হার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত বছর এ সময়ে সংখ্যা ছিল এক লাখের কিছু কম। দশকের পর দশক আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পর সম্প্রতি পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়ে ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ এমন এক দেশে ফিরছেন, যেখানে দারিদ্র্য, মানবাধিকার সংকটে নাজুক অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বিদ্যমান। জামাল বলেন, ইউএনএইচসিআরের জরিপ অনুযায়ী অনেক পরিবারের সদস্যদের নাগরিক নথিপত্র নেই এবং ৯০ শতাংশের বেশি পরিবার দৈনিক ৫ ডলারেরও কম আয়ে জীবনযাপন করছে। তিনি আরও জানান, অনেকে টেকসই জীবিকা গড়তে না পেরে আবার দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন। বর্তমানে ইউএনএইচসিআর পুনর্বাসন ও পুনঃএকীভূতকরণ কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর বাস্তুচ্যুত ও প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত তহবিলের মাত্র ৮ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে। জামাল বলেন, দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজ দেশে ফিরে আসা আফগানদের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার এখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়।
সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার কুখ্যাত অপরাধীকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র ২৩ দিনের অপারেশনে দেশটি থেকে ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আইএসআইএস (দায়েশ) যোদ্ধাকে ইরাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শুক্রবার জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি অপরাধীকে ইরাকের হেফাজতে স্থানান্তরের ২৩ দিনের মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই স্থানান্তর কার্যক্রম ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে সিরিয়া থেকে ইরাকে শেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ কারাগারে রাখার লক্ষ্যে সফলভাবে তাদের ইরাকে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের আটক অবস্থা নিরাপদ রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, স্থল ও আকাশপথে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এই মিশন পেশাদারিত্ব ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যৌথ বাহিনীকে অভিনন্দন। আটক ব্যক্তিদের স্থানান্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এ বিষয়ে ইরাকের নেতৃত্ব ও স্বীকৃতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মিশনের পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছে সিজেটিএফ-ওআইআর। সিজেটিএফ-ওআইআরের কমান্ডার মেজর জেনারেল কেভিন লামবার্ট বলেন, জোট বাহিনীর অসাধারণ কাজের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ এই স্থানান্তর কার্যক্রম সিরিয়ায় আইএসআইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে সহায়ক হবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশীদার বাহিনীকে পরামর্শ, সহায়তা ও সক্ষমতা বাড়াতে সেন্টকম সিজেটিএফ-ওআইআর গঠন করে। ২০১৯ সালে জঙ্গিগোষ্ঠীটি ভৌগোলিকভাবে পরাজিত হলেও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনও যৌথ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি আরব ও কাতার তাদের রাজধানী রিয়াদ ও দোহার মধ্যে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালু করতে একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে। সৌদি মন্ত্রিসভা এই উচ্চগতির বৈদ্যুতিক রেল প্রকল্পের চুক্তি অনুমোদন করেছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। সৌদি পরিবহন মন্ত্রী সালেহ আল-জাসসার ও কাতারের পরিবহন মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল থানি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ৭৮৫ কিমি দীর্ঘ এই রেললাইন রিয়াদ ও দোহাকে সংযুক্ত করবে। পথে আল-হোফুফ ও দাম্মামের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন এবং দুই দেশের প্রধান বিমানবন্দরও যুক্ত থাকবে। বুলেট ট্রেন ঘণ্টায় ৩০০ কিমি বেগে চলার কারণে যাত্রা সময় দুই ঘণ্টায় কমে যাবে। প্রকল্পটি দুই দেশের জিডিপিতে প্রায় ১১,৫০০ কোটি রিয়াল অর্থ যোগ করবে। এ রেল প্রকল্প সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। নির্মাণের কাজ শেষ হতে ছয় বছর লাগবে এবং এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই হবে।
সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-নেপালে অনুষ্ঠিত ও আসন্ন নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বুধবার দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে মার্কিন কংগ্রেসের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা ওই মন্তব্য করেছেন। শুনানিতে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ আজ প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে নেপালে স্বৈরাচারী সরকার উৎখাত হয় এবং দেশটি আগামী মাসে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্য হুইজেঙ্গা বলেন, ‘‘ওই দুটি ঘটনাই দক্ষিণ এশিয়ায় সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে এবং এসব দেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে।’’ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াকে গতিশীল অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এখানকার ক্রমবর্ধমান তরুণ জনগোষ্ঠী চীনের ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ বিকল্পের তুলনায় পশ্চিমা সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। হুইজেঙ্গা বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের বসবাস, গতিশীল অর্থনীতি এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রয়েছে; যা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফলভাবে এমন কিছু চুক্তি করেছেন; যা বাজার উন্মুক্ত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নিয়েছে। ‘‘বর্তমানে আমরা এসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বাড়াবো এবং সেই সংশ্লিষ্টতার ধরন আগামী কয়েক দশক ধরে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণ করবে।’’ চীনের বিষয়ে হুইজেঙ্গা বলেন, বেইজিং নিজের নিরাপত্তা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘‘শোষণমূলক ঋণ’’ দেয় এবং ছোট দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে পড়তে বাধ্য করে। তিনি বলেন, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সীমান্ত জোরদার করেছে চীন। আমাদের উপকূল থেকে অনেক দূরে হলেও, একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত মহাসাগর বজায় রাখা আমাদের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক করিডর, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানির জীবনরেখা প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি। অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে নৌ সহযোগিতা জোরদার করে এসব সমুদ্রপথ সুরক্ষিত করা হলে তা চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং এই অঞ্চলে তাদের ‘‘ক্ষতিকর আচরণ’’ সীমিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হুইজেঙ্গা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো তিনিও ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার গুরুত্ব দেখেন। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখলে ‘‘চীনা চাপ প্রয়োগ’’ প্রতিহত, জলদস্যুতা রোধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হবে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর একটি ভারত। দিয়েগো গার্সিয়ার ঠিক উত্তরে ভারতের অবস্থান। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রিপাবলিকান দলীয় এই কংগ্রেস সদস্য বলেন, মাত্র গত সপ্তাহেই ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যা দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গেও একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হুইজেঙ্গা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের শুল্কহার ১৮ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত এই শুল্কহার ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এ ছাড়া দিল্লি আরও বেশি করে মার্কিন জ্বালানি কেনার বিষয়ে রাজি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি অংশীদারত্বের মাধ্যমে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা যৌথ স্বার্থকে এগিয়ে নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে বিভিন্ন সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বিস্তৃত উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং চীনের সঙ্গে কিছু সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকি বাংলাদেশের সরকারের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চায়। বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিতে পারে, যা চীনা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ভারতপন্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দিল্লিতে চলে যান। এরপর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয় এবং এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে চীন, যা পশ্চিমা কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রকল্প জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন ও বাংলাদেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করে আসছে এবং এই সহযোগিতা পারস্পরিকভাবে লাভজনক। তারা বলেছে, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। হাসিনার দেশত্যাগের পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব ভিসা সেবা ও ক্রীড়া বিনিময়েও পড়েছে। বাণিজ্যিক বিষয়ে তিনি জানান, অনেক মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে তারা চায় নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি ব্যবসাবান্ধব। বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। বর্তমানে জ্বালানি কোম্পানি শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালালেও অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি সীমিত। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বিনিয়োগে বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের কোনো শাখা নেই। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বড় অবদান রেখে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে শক্তিশালী কর্মসূচি চালু রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোতে স্বাক্ষর হয়েছে, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মানবিক সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াবে। তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা একা যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না।
ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে আকাশে ঘটতে যাচ্ছে একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা—বলয়াকার সূর্যগ্রহণ, যা অনেকেই ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের বলয় বলে ডাকে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী ভারত থেকেও দেখা যাবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে তখন, যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে, কিন্তু চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকায় পুরো সূর্য ঢেকে দিতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল একটি বলয় দেখা যায়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণটি আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ১ মিনিটে (ইউটিসি) শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি দুপুর ১টা ১ মিনিটে শুরু হবে। বলয়াকার অংশটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে, তবে পৃথিবীর খুব সীমিত কিছু এলাকায় এই দৃশ্য দেখা যাবে। মূলত অ্যান্টার্কটিকার কিছু দুর্গম এলাকা, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে আংশিকভাবে গ্রহণ দেখা যেতে পারে। ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই গ্রহণের বাইরে থাকবে। তাই এ অঞ্চলের মানুষ সরাসরি এটি উপভোগ করতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সূর্যগ্রহণ দেখার সময় চোখের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা গ্রহণ দেখতে পাবেন, তাদের অবশ্যই অনুমোদিত (আইএসও ১২৩১২-২ মানসম্পন্ন) সূর্যগ্রহণ চশমা ব্যবহার করতে হবে। খালি চোখে বা সাধারণ চশমা পরে সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।