রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার একটি বাসা থেকে তানজিলা আক্তার (২৫) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তানজিলা বরগুনার বামনা থানার চেচান গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে। হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন আহমেদ জানান, খবর পেয়ে মাইটিভি গলির একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে ঝুলন্ত এক নারীকে অবস্থায় উদ্ধার করি। অচেতন অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, আমরা স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহের জেরে নিজ রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
দেশে হাম (মিজেলস) পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২২ দিনে সারাদেশে হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬১০ জন শিশু এবং প্রাণ হারিয়েছে ১১৩ জন। রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাজারো শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ৯২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১১৩ জন শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা ঢাকা বিভাগ-এ, যেখানে ৩২৫৯ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার চিত্রও উদ্বেগজনক। এ সময়ে নতুন করে ৯৭৪ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। একই সময়ে ৬৫৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। মৃত্যুর দিক থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগ-এ। এছাড়া ঢাকা বিভাগ-এও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে এই সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগ, রংপুর বিভাগ এবং সিলেট বিভাগ-এ কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে গালফ দেশগুলোর সহযোগীতা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রী কু ইউন চিওল গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ন্যাপথা ও ইউরিয়ার সরবরাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। এছাড়া, হরমুজ প্রণালির আশেপাশে চলাচলরত দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ইরান এই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ এ নৌপথে চাপ বেড়েছে। জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালীটি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত থাকলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অবকাঠামোয় হামলারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জবাব হিসেবে উল্লেখ করেন।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশিসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে দুতা-উলু কেলাং এক্সপ্রেসওয়েতে (ডিউক) এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আয়ের পানাস টোল প্লাজা থেকে আমপাংমুখী সড়কের মাঝখানে একটি লরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটিকে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে আরেকটি লরি সহায়তার জন্য সেখানে থামে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পেছন থেকে আসা তৃতীয় একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সবগুলো যানবাহনকে একসঙ্গে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। সিটি ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ইসা জানান, নিহত দুইজনের বয়স ৫২ ও ৫৩ বছর। তাঁদের মধ্যে একজন স্থানীয় লরিচালক এবং অপরজন বাংলাদেশি নাগরিক। দুর্ঘটনার সময় তারা গাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তৃতীয় লরির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৩ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৩৮ বছর বয়সী এক বিদেশি রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, শেষ লরিটির চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারও কাছে তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশিসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে দুতা-উলু কেলাং এক্সপ্রেসওয়েতে (ডিউক) এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আয়ের পানাস টোল প্লাজা থেকে আমপাংমুখী সড়কের মাঝখানে একটি লরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটিকে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে আরেকটি লরি সহায়তার জন্য সেখানে থামে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পেছন থেকে আসা তৃতীয় একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সবগুলো যানবাহনকে একসঙ্গে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। সিটি ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ইসা জানান, নিহত দুইজনের বয়স ৫২ ও ৫৩ বছর। তাঁদের মধ্যে একজন স্থানীয় লরিচালক এবং অপরজন বাংলাদেশি নাগরিক। দুর্ঘটনার সময় তারা গাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তৃতীয় লরির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৩ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৩৮ বছর বয়সী এক বিদেশি রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, শেষ লরিটির চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারও কাছে তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এসময় তাদের মধ্যে জ্বালানি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে, তবে গোপনীয়তার কারণে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস পাওয়া গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই এবং বিদ্যমান সব চুক্তিই প্রকাশ করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাওয়ার যে প্রচারণা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে যেখান থেকেই সম্ভব—ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া—সব উৎস থেকেই জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে। সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর হাতে দুটি ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি প্রতিরূপ উপহার হিসেবে তুলে দেন। একটি ছবিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অন্যটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রকে দেখা যায়।
ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব হামলার মূল লক্ষ্যই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাঙ্কার ও সাইলো (মিসাইল সংরক্ষণের ঘাঁটি) খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আবার সচল করে তুলছে ইরান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাটি খুঁড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো থেকে মিসাইল লঞ্চার উদ্ধার করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখনও বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার রয়েছে। ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন চলতি সপ্তাহে দাবি করেছিল, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের ১১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে বড় ধরণের সাফল্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভিন্ন কথা বলছে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে আছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ইরানের মিসাইল হামলার সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’ অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।’ তবে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ‘ইরান এখনও মিসাইল ছোড়ার সক্ষমতা রাখে, যদিও সেগুলো আকাশেই প্রতিহত করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ইরানের নৌ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বড় অংশ ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আকাশপথেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তাদের দাবি। তবে গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, ইরানের হামলা কমে যাওয়ার পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে। অনেক মিসাইল লঞ্চার পাহাড়ের গুহা বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলো হামলা থেকে রক্ষা করে সুযোগমতো আবার ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে ইরান। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইরান এখনও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০টি মিসাইল ইসরায়েলের দিকে ছুড়ছে। এদিকে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে ঠিক কত লঞ্চার ছিল, তার সঠিক তথ্যও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। ফলে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঙ্কার বা গুহাগুলোতে কত লঞ্চার অবশিষ্ট রয়েছে, তা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইরান বুলডোজার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া লঞ্চারগুলো দ্রুত খুঁড়ে বের করছে এবং সেগুলো পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে গালফ দেশগুলোর সহযোগীতা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রী কু ইউন চিওল গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ন্যাপথা ও ইউরিয়ার সরবরাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। এছাড়া, হরমুজ প্রণালির আশেপাশে চলাচলরত দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ইরান এই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ এ নৌপথে চাপ বেড়েছে। জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালীটি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত থাকলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অবকাঠামোয় হামলারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জবাব হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানকে একটি চু্ক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ফের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। ইরান যদি এই সময়সীমার মধ্যে একটি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় বা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে দেশটিতে আরও তীব্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, স্মরণ করুন যখন আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে- তাদের ওপর নরক নেমে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টা আছে। ঈশ্বরের গৌরব হোক! ৬ এপ্রিল, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। একবার কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোমা মেরে ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। ইরানে পরপর যুক্তরাষ্ট্রে দুটি সামরিক বিমান ধ্বংস হওয়া ও এক জীবিত ক্রুর দেশটিতে নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চাপে পড়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও শান্তি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না আর জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনসমর্থন হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের নেতৃবৃন্দ অনমনীয় মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। এরমধ্যেই শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য নীতিগতভাবে দরজা খোলা রাখলেও ট্রাম্পের দাবির কাছে নতি স্বীকার করার বিষয়ে তেহরানের ইচ্ছার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সামাজিক মাধ্যম এক্স এ তিনি বলেন, তাদের প্রচেষ্টার জন্য আমরা পাকিস্তানের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা আমরা কখনো অস্বীকার করিনি। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসানের শর্তাবলী নিয়েই শুধু আমরা ভাবিত। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে আর এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে গালফ দেশগুলোর সহযোগীতা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রী কু ইউন চিওল গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ন্যাপথা ও ইউরিয়ার সরবরাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। এছাড়া, হরমুজ প্রণালির আশেপাশে চলাচলরত দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ইরান এই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ এ নৌপথে চাপ বেড়েছে। জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালীটি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত থাকলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অবকাঠামোয় হামলারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জবাব হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব হামলার মূল লক্ষ্যই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাঙ্কার ও সাইলো (মিসাইল সংরক্ষণের ঘাঁটি) খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আবার সচল করে তুলছে ইরান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাটি খুঁড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো থেকে মিসাইল লঞ্চার উদ্ধার করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখনও বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার রয়েছে। ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন চলতি সপ্তাহে দাবি করেছিল, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের ১১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে বড় ধরণের সাফল্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভিন্ন কথা বলছে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে আছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ইরানের মিসাইল হামলার সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’ অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।’ তবে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ‘ইরান এখনও মিসাইল ছোড়ার সক্ষমতা রাখে, যদিও সেগুলো আকাশেই প্রতিহত করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ইরানের নৌ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বড় অংশ ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আকাশপথেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তাদের দাবি। তবে গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, ইরানের হামলা কমে যাওয়ার পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে। অনেক মিসাইল লঞ্চার পাহাড়ের গুহা বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলো হামলা থেকে রক্ষা করে সুযোগমতো আবার ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে ইরান। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইরান এখনও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০টি মিসাইল ইসরায়েলের দিকে ছুড়ছে। এদিকে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে ঠিক কত লঞ্চার ছিল, তার সঠিক তথ্যও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। ফলে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঙ্কার বা গুহাগুলোতে কত লঞ্চার অবশিষ্ট রয়েছে, তা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইরান বুলডোজার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া লঞ্চারগুলো দ্রুত খুঁড়ে বের করছে এবং সেগুলো পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূপাতিত সামরিক বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে রোববার (৫ এপ্রিল) ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের ছবি সম্বলিত এক পোস্টে বাঘের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন আরও তিনটি জয় পেলেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।’ বার্তাসংস্থা ফারস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এক্সে ভূপাতিত মার্কিন বিমানের ছবি পোস্ট করেন ইরানের স্পিকার। এছাড়াও, চলমান সংঘাতের মধ্যে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি ইরানের। ইরানে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিখোঁজ ওই মার্কিন পাইলটকে খুঁজে বের করার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সি-১৩০ বিমানও ধ্বংস করেছে ইরান। ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজতে গিয়ে একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসফাহান অঞ্চলে এই বিমানটি গুলি করে নামানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে। এসময় ইরানে একাধিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানে ২০০ টন মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে আজারবাইজান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আজারট্যাগ শনিবার (৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে পাঠানো সহায়তার মধ্যে রয়েছে ১৯০ টন খাদ্যপণ্য, ৭ টন ঔষধ ও ৩ টন চিকিৎসা সরঞ্জাম। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এর নির্দেশনায় এই সহায়তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতীম দেশ ইরানের জনগণের বর্তমান প্রয়োজন মেটানোর জন্য এ সহায়তা পাঠানো হয়। গত মার্চেও আজারবাইজান থেকে ইরানে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো হয়েছিল। সেই সহায়তার মধ্যে ছিল ১০ টন আটা, ৬ টন চাল, ২.৪ টন চিনি, ৪ টনের বেশি পানি, ৬০০ কেজি চা এবং প্রায় ২ টন ওষুধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের সূত্র অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামলায় ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।