শিশুদের ডিজিটাল ঝুঁকি ও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতের মন্ত্রিসভার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, মন্তব্য, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, পাবলিক গ্রুপে যোগদান বা কোনো অনলাইন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। খবর গালফ নিউজের। ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য বিশেষ শর্ত নতুন নীতিমালায় ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও তাদের জন্য কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে বয়সভিত্তিক কনটেন্ট শ্রেণিবিন্যাস, ঝুঁকিপূর্ণ ফিচার বন্ধ রাখা এবং প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নতুন দায়িত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এ জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয় যাচাই, বায়োমেট্রিক মিল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স নির্ধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। শিশুদের লক্ষ্য করে ট্র্যাকিংভিত্তিক বিজ্ঞাপন বা আচরণগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত? সরকার বলছে, বর্তমান প্রজন্ম ক্রমেই ডিজিটাল পরিবেশে বেড়ে উঠছে। প্রযুক্তি যেমন সুযোগ সৃষ্টি করছে, তেমনি নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই শিশুদের নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ ও বয়সোপযোগী ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রযুক্তির সুফল থেকে শিশুরা বঞ্চিত হবে না। বরং তাদের মানসিক বিকাশ, সামাজিক সম্পর্ক ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারকে ভারসাম্যপূর্ণ করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পরিবার ও স্কুলের ভূমিকা নতুন ব্যবস্থার আওতায় পরিবারগুলোকে নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহার, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন নির্দেশনা ও সহায়ক উপকরণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্কুলগুলোতে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও শিশুদের নিরাপদ অনলাইন আচরণ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হবে। কোন প্ল্যাটফর্মগুলো এর আওতায় প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিম্নোক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রযোজ্য হবে : এক্স (সাবেক টুইটার) ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম স্ন্যাপচ্যাট টিকটক
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল ও সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বাজেট সমালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতাকে নিয়ে করা কিছু মন্তব্যের পরিপ্রক্ষিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১তম দিনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট, সীমান্ত হত্যা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংসদীয় রীতিনীতি নিয়ে সদস্যরা পর্যায়ক্রমে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সংসদ অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট বর্তমান নতুন বিএনপি দলীয় সরকারের একটি আকাঙ্ক্ষার দলিল হলেও বাংলাদেশের বাস্তব পরিকল্পনার কোনো দলিল নয়। বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না। সরকার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৭.৯ শতাংশ ধরলেও গত বছর তা ছিল ৪.৪ শতাংশ। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি থাকবে এবং প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে, অথচ ব্যাংকিং খাতে এখন সর্বোচ্চ নিট ঘাটতি চলছে। তিনি বলেন, করমুক্ত আয়সীমা মাত্র ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা ঢাকা বা এর আশপাশে বসবাসকারী মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে এডিপি বরাদ্দ হ্রাস পাওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ১০ টাকার পণ্য ৭০ টাকায় রূপান্তরিত হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। বক্তব্যের এক পর্যায়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বিগত সরকারের আমলের নামকরণের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, ২০২৪ পরবর্তী সংসদে এসে আমরা একটা খ্যাতির বিড়ম্বনা দেখতে পাচ্ছি। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা গিয়েছিল, যার নামে সবকিছু নামকরণ করা হতো। বর্তমানে আমাদের এই সংসদের একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই বিড়ম্বনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে উনার অজান্তেই ১০-১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নের নাম উনার পরিবারের নামে হয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের মতো বর্তমান সংসদের কোনো কোনো মন্ত্রীও একই ভাষায় কথা বলছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন সব সীমান্ত হত্যাকে সীমান্ত হত্যা বলা যাবে না। তিনি একে সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে মব কালচার, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, বাজেট ঘোষণার পরদিনই বাজারে চাল ও তেলের দাম বেড়ে গেছে। সংসদ নেতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে অসত্য তথ্য দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের সমালোচনা করেন এবং ব্যাংক ঋণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঋণ নেওয়াকে উৎসাহিত করেন। যা অত্যন্ত আশাহত করার মতো। আব্দুল হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা এই সংসদকে কার্যকর করার জন্য একটি সম্মতিতে এসেছি, সংসদে কোনো অসত্য বাক্য উত্থাপন করা হবে না বা এমন কোনো কথা বলা হবে না যাতে মান-সম্মান হানি হয়। জুলাই আন্দোলনের নেতা এবং নোয়াখালীর এই সংসদ সদস্য, সংসদ নেতাকে নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে আমরা খুবই ক্ষুব্ধ। আমাদের সরকার কোনো লুটের ভোটে বা হুন্ডা-গুন্ডার ভোটে গঠিত হয়নি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান আমাদের নেতা। দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছেন। তাই সংসদ নেতাকে নিয়ে যে অসত্য কথা বলা হয়েছে, তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা প্রত্যাহার করার জন্য স্পিকারের কাছে বিনীত অনুরোধ। জয়নাল আবেদিন ফারুকের বক্তব্যেও পর বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ঢালাওভাবে অসত্য বলেছেন এমন দাবি না করে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে কোন তথ্যটি ভুল ছিল। তিনি মূলত সংসদ নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। সংসদ নেতার সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও মানুষ এবং বক্তব্য দেওয়ার সময় উনারও ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে। আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি এবং কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যেতে চাই না। তাই স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক যে কথাটি বলেছেন তা সম্পূর্ণ সত্য ও সঠিক। নোয়াখালীর সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসত্য বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা ফ্যাসিবাদের কথা বলেন, অথচ ফ্যাসিস্টসুলভ আচরণ আপনাদের মাঝেই দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রী স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ যে অংশটুকু অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সংসদ নেতার সম্মান রক্ষার্থে সেই বক্তব্যটুকু যেন দয়া করে কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হয়। এসময় অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্পিকার সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে তার আসন গ্রহণ করার অনুরোধ জানান এবং বলেন, এটি শাহবাগ চত্বর নয়, এটি জাতীয় সংসদ। তাই সংসদের ভেতরে সংসদীয় নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। স্পিকারের এমন মন্তব্যেও পর বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের এই হাউজের একজন সদস্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু মন্তব্য করেছেন। সংসদের ভেতরে একটি সংসদীয় রীতি বা ‘নর্মস’ রয়েছে এবং বাইরেরও একটা ব্যাকরণ আছে। বাইরের জবাব বাইরে দেওয়া হোক এবং সংসদের জবাব সংসদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তিনি স্পিকারকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংসদের ভেতরে কোনটি সত্য আর কোনটি অসত্য, এই ঝগড়ায় মেতে উঠলে তা সবার জন্যই লজ্জাজনক হতে পারে। তাই কারো সম্মানের হানি না করে এই পুরো বিতর্কিত বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়াই সবার জন্য কল্যাণকর হবে। বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার জানান, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বরিশালে গ্রেফতার এড়াতে পালাতে গিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেননের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) দুপুরে বরিশাল নগরীর ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কাউনিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ নগরীর ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে। কাউনিয়া থানা পুলিশ জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেনন একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি। এছাড়াও তিনি সরকারবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রোববার দুপুরে গ্রেফতার করতে তার বাসায় যায় কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি দল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই খবর পেয়ে রাশেদ খান মেনন আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার না করেই ফিরে আসে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ গ্রেফতার করতে আসছে- এমন খবরে রাশেদ তার ভবনের ছাদে উঠেন। তারপর রাশেদ তার ভবন থেকে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা আতিকের ভবনের ছাদে লাফ দিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে লাফিয়ে নিচে নামে রাশেদ। বাড়ির দেয়াল টপকিয়ে পার্শ্ববর্তী গোরস্থান দিয়ে প্রতিবেশীর বাড়ির কাঁচা সড়ক দিয়ে দৌঁড়ে পালাচ্ছিলেন, তখন পা পিছলে পরে যান তিনি। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পালানোর সময় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। এছাড়াও তিনি আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মৃত রাশেদের বড় ছেলে সাহেল বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। বাবা পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে এমন খবর আমায় জানানোর পর এসে দেখি বাবাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হচ্ছে। তারপর তাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কাউনিয়া থানার ওসি সনজিত নাথ জানান, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাসায় গিয়েছিল। তাকে বাসায় না পাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পরে জানতে পেরেছি তিনি মারা গেছেন।
কক্সবাজারে দিন দিন এইচআইভি রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবাধ যৌন সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে, স্বাস্থ্যশিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে। সূত্র জানায়, জেলার মোট এইচআইভি আক্রান্তদের প্রায় ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা শরণার্থী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা আরো জানান, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের পাশাপাশি কক্সবাজার এখন আরেকটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে কক্সবাজারেই রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মাত্র ১৭০ জন। বাকি অধিকাংশই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বড় ঢলের পর থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ২১৭ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, যাদের সবাই রোহিঙ্গা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিল ২১৫ জন। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার অনেক বেশি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত মায়েদের মাধ্যমে নবজাতকদের শরীরেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। অনেকেই জানেন না কীভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় বা প্রতিরোধ করা যায়। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অসচেতন থাকলে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতা নিশ্চিত না করা হলে গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মের সময় শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে। কক্সবাজার এআরটি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মেজবাহ জানান, বর্তমানে কয়েকজন শিশু এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা জন্মগতভাবে মায়ের কাছ থেকে ভাইরাসটি পেয়েছে। এ ধরনের সংক্রমণ রোধে ‘প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি)’ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত মায়েদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন ব্যাপক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতা কার্যক্রম, নিয়মিত পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ভবিষ্যতে এটি আরও বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।
দেশের বন্ধ ও অলাভজনক কারখানা চালু করতে বিনিয়োগ করলে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত ‘রোড শো’ অনুষ্ঠানে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা চাই আপনারা আরও এগিয়ে যান, বিকশিত হোন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ আকর্ষণে এ রোড শো’র আয়োজন করে শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে মোট ৪৪টি কারখানার বিস্তারিত তথ্যসহ (কারখানাগুলোর অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামো, বিনিয়োগ সুবিধা, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা) বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা খোলামেলাভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে দেশি শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, ট্রান্সকম গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ ও লাল তীর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি কোম্পানির মধ্যে জাপানি মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, জেট্রো বাংলাদেশ অফিসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি, আমরা চাই আপনারা এগিয়ে যান এবং আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। আপনারা নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। কীভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সেই মতামতও দিয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে কিছু বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হল প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সমস্যাগুলো কাটিয়ে তোলার পথ তৈরি করা। কিন্তু সরকারের পক্ষে তা একা সম্ভব নয়। বাস্তবতা হল, আমরা একবারে সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে সমাধান করতে পারি। আমার অনুরোধ, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন, যাতে আমরা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে পারি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।’ তিনি বলেন, শুধু বলতে চাই, আসুন আমরা পরিবর্তন আনার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। সমস্যা আছে, চ্যালেঞ্জও আছে। কিন্তু আমরা এটাও উপলব্ধি করেছি যে, যদি আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে এসব সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় এ মামলাটি করা করে দলটির এক কর্মী। হাসনাত হাসনাত আব্দুল্লাহ ছাড়া মামলায় অন্য আসামিরা হলেন এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমকে। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়া অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আজ শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স। এ তথ্য জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমাদের নামে মামলা করেছে। এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এ বিষয়টি দেখছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের “বেধড়ক পেটানোর” অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আবদুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে (Bunga Raya Complex) এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে। টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মিস সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন। সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময়ে ২ দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনীসহ সফরসঙ্গীরা এ হোটেলে থাকবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়ক পথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সফরে রয়েছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ। তারেক রহমান সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এই সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। সেই মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়েও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের শান্তি আলোচনা শুরুর মাঝেই হিজবুল্লাহকে ‘‘ঝামেলা সৃষ্টি করা’’ থেকে বিরত না রাখলে ইরানে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ওই হুমকি দিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ লেবাননে গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং তেহরানের মিত্র হিজবুল্লাহর মধ্যে চলা সংঘর্ষের মাঝে সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সংঘাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের বিপুল অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা গত সপ্তাহের মতোই ইরানের ওপর আবারও খুব জোরালো আঘাত হানব। তবে এবার আঘাত হবে আরও শক্তিশালী! শনিবার পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় ইসরায়েলি বাহিনীকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর লড়াই কিছুটা শিথিল হয়েছে। গত বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বৈরিতা বা সংঘাত অবসানের শর্ত দেওয়া হয়। রোববার সুইজারল্যান্ডে আলোচনার শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গত মাত্র কয়েক দিনে আমি দারুণ অগ্রগতি দেখেছি। তিনি বলেন, আমরা সবাই আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে কাজ করছি। লেবাননে আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি, তা নিয়ে আসলে আমি খুব আশাবাদী। এখনও কিছু বাড়তি কাজ করা বাকি আছে, তবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব। ভ্যান্স বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননের সংঘাত থামাতে ট্রাম্প এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় বেশি ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: এএফপি।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর প্রধান অব স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির বলেছেন, লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। তাই দেশটির সেনাদের সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ধরে রাখতে হবে। রোববার (২১ জুন) দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জামির বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকে আবারও হামলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, হিজবুল্লাহ গুরুতর ও উল্লেখযোগ্য ধাক্কা খেয়েছে। তাদের পুনর্গঠন ঠেকাতে এবং প্রয়োজন হলে আবার অভিযান চালাতে আমরা প্রস্তুত থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হিজবুল্লাহ বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি মোকাবিলা এবং দ্রুত আক্রমণাত্মক অভিযানে ফিরে যাওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে। এদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের জন্য তেল আবিবের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানও তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর স্বার্থে লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ফলে যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সূত্র : আল জাজিরা
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের শান্তি আলোচনা শুরুর মাঝেই হিজবুল্লাহকে ‘‘ঝামেলা সৃষ্টি করা’’ থেকে বিরত না রাখলে ইরানে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ওই হুমকি দিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ লেবাননে গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং তেহরানের মিত্র হিজবুল্লাহর মধ্যে চলা সংঘর্ষের মাঝে সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সংঘাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের বিপুল অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা গত সপ্তাহের মতোই ইরানের ওপর আবারও খুব জোরালো আঘাত হানব। তবে এবার আঘাত হবে আরও শক্তিশালী! শনিবার পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় ইসরায়েলি বাহিনীকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর লড়াই কিছুটা শিথিল হয়েছে। গত বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বৈরিতা বা সংঘাত অবসানের শর্ত দেওয়া হয়। রোববার সুইজারল্যান্ডে আলোচনার শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গত মাত্র কয়েক দিনে আমি দারুণ অগ্রগতি দেখেছি। তিনি বলেন, আমরা সবাই আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে কাজ করছি। লেবাননে আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি, তা নিয়ে আসলে আমি খুব আশাবাদী। এখনও কিছু বাড়তি কাজ করা বাকি আছে, তবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব। ভ্যান্স বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননের সংঘাত থামাতে ট্রাম্প এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় বেশি ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: এএফপি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে প্রাথমিক একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের পর চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির জন্য প্রথম সরাসরি আলোচনায় বসেছে সুইজারল্যান্ডে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিদল রোববারের এই আলোচনায় বসেছে। ইরান বৈঠকে বসার আগেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে বলেছে, আলোচনার মূল বিষয় হবে লেবানন। বৈঠক শুরুর আগে দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরনা বার্তা সংস্থার শেয়ার করা এক ভিডিওতে বলেছেন, ইহুদি রাষ্ট্র (ইসরায়েল) লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। আজকের বৈঠকে এটি হবে মূল আলোচ্য বিষয়। এর আগে রোববারই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সহকারী ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনকে তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তাবায়ন করতে হবে। নয়ত তেহরান কোনও কাগুজে চুক্তি মেনে নেবে না। ওদিকে, রোববার শান্তি বৈঠকেতর জন্য সুইজাল্যান্ডে রওনা হওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বৈঠকে তিনি “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি” হওয়ার আশা করছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে যে প্রথমিক সমঝোতা চুক্তি সই করেছে তাতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করা, লেবানন সহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিও খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু চুক্তির পরও লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকায় ইরান শনিবার ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। যদিও জাহাজ চলাচল বিষয়ক ডেটায় দেখা যাচ্ছে, জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার স্থানীয় সময় সকালে সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে আলোচনায় যোগ দিয়েছে পাকিস্তান এবং কাতারও। বৈঠক শুরুর ঠিক আগেই সমাজমাধ্যম পোস্টে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি লেখেন, “যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে গত ১৮ জুন সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজরল্যান্ডে এই বৈঠক, যে চুক্তির প্রথম শর্তের মধ্যেই আছে লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টি। বাঘাই আরও জানান, লেবানন সমস্যার সমাধান, ইরানের তেল রপ্তানি সংক্রান্ত বিষয় এবং ইরানের ‘জব্দ’ সম্পদ মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ইরান রোববারের বৈঠকে যোগ দিচ্ছে।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর প্রধান অব স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির বলেছেন, লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। তাই দেশটির সেনাদের সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ধরে রাখতে হবে। রোববার (২১ জুন) দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জামির বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকে আবারও হামলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, হিজবুল্লাহ গুরুতর ও উল্লেখযোগ্য ধাক্কা খেয়েছে। তাদের পুনর্গঠন ঠেকাতে এবং প্রয়োজন হলে আবার অভিযান চালাতে আমরা প্রস্তুত থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হিজবুল্লাহ বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি মোকাবিলা এবং দ্রুত আক্রমণাত্মক অভিযানে ফিরে যাওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে। এদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের জন্য তেল আবিবের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানও তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর স্বার্থে লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ফলে যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সূত্র : আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির দিকে উল্লেখযোগ্য এগিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আমরা বড় অগ্রগতি দেখেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি পূর্ণ আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি দেখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের যুদ্ধবিরতি সবসময় কিছুটা ‘অগোছালো বা জটিল’ হয়। খবর আল জাজিরার। ভ্যান্স বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সব মতভেদ একবারে সমাধান না হলেও এটি ভবিষ্যতে একসঙ্গে বসে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করবে। এটি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ভবিষ্যতে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে একইসঙ্গে তিনি ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার একটি চালিকাশক্তি’ বলেও উল্লেখ করেন। সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনার সময় এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন সংকটের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, মূল প্রশ্ন হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব কি না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।