ফ্লাইট ছাড়ছে দেরিতে, যাত্রী উঠিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে; অথবা সিট ভাঙা, এসি কাজ করছে না, কর্মীরা দুর্ব্যাবহার করছেন; কিংবা ব্যাগেজ হারিয়ে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে–এরকম নানা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয় না বলে ক্ষোভ রয়েছে যাত্রীদের। এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ারলাইন্সগুলো এসব অভিযোগ পাত্তা না দেওয়ার বড় কারণ হচ্ছে এখানে ফ্লাইট কম, যাত্রী প্রচুর। সে কারণে ‘লিগ্যাসি ক্যারিয়ারে’র ভাড়া নিয়েও ‘বাজেট ক্যারিয়ার’গুলো ন্যূনতম সেবা না দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে। আর বেশিরভাগ যাত্রীও নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন নয়। বেশিরভাগ সময় নিজেদের অভিযোগটা তারা যথাযথ জায়গায় দাখিল করেন না। ফলে দেশের বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সুযোগ হয় নিজেদের দায় এড়ানোর। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, মোট ৪১টি এয়ারলাইন্স এ বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালায়। এর মধ্যে মাত্র চারটি দেশি, বাকিগুলো বিদেশি। এসব এয়ারলাইন্স এদেশ থেকে উড়তে পারবে কি না, তা দেখভাল করে বেবিচক, কাজেই নিয়ন্ত্রণটা তাদেরই হাতে। যত অভিযোগ গত ১১ জুলাই ঢাকা থেকে কলম্বো যাওয়ার জন্য ‘ফিটস এয়ার’ নামের একটি বাজেট এয়ারলাইনের ফ্লাইটে উঠে ব্যাপক ভোগান্তি হওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন সোনিয়া রিফাত নামের একজন পর্যটন উদ্যোক্তা। তিনি ‘গো গার্লস’ নামে ঘুরে বেড়ানোর একটি পেইজ চালান। পর্যটকদের নিয়ে বেড়াতে গিয়ে ফিটস এয়ারের বিমানে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকার অভিজ্ঞতার কথা তিনি বলেছেন। ঢাকা থেকে কলম্বো পৌঁছে এক ভিডিও পোস্টে সোনিয়া বলেন, তাদের ফ্লাইট ছিল রাত ২টা ১৫ মিনিটের। যথাসময়ে যাত্রীদের এয়ারক্রাফটে উঠিয়ে সেই ফ্লাইটটি ছেড়ে যায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এই যাত্রীদের বিমানবন্দরে প্লেনের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি ঠিকমতো তথ্য না দেওয়া এবং দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও করেছেন। ফিটস এয়ারের দুর্ভোগ নিয়ে তারা ‘সাফারার অব ফিটস এয়ার’ নামে একটি ফেইসবুক পেইজও খুলেছেন, যেখানে আরও অনেক যাত্রী বিভিন্ন সময় ফিটস এয়ারে তাদের ভোগান্তির বিষয়ে লিখেছেন। এ ঘটনা গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হলেও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি ফিটস এয়ার। এমনকি তাদের অফিসিয়াল ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে এবং ই-মেইল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ফিটস এয়ারের ফ্লাইট যে সেদিন সত্যিই দেরি করেছিল, তা নিশ্চিত করেছেন শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ। তিনি বলছেন, উড়োজাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার আগে সেটিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম হাইড্রলিক ফ্লুইড রয়েছে বলে সংকেত আসে। এরপর সেটি মেরামত করে ওড়ার উপযোগী করতে বিলম্ব হয়। ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রাগীব সামাদ বলেন, এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে। ফিটস এয়ার নিয়ে আলোচনার মাঝেই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে চেন্নাই যাওয়া আরেক যাত্রী কাঙ্ক্ষিত সেবা না দেওয়া এবং ‘অপেশাদারত্বের’ অভিযোগ তুলেছেন। সামিয়া শতাব্দী নামে ওই নারী ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১২ জুলাই বেলা পৌনে ১১টায় ইউএস বাংলায় তার চেন্নাই যাওয়ার কথা ছিল। সেই ফ্লাইট শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যাা সোয়া ৬টায় ছাড়ে। তার অভিযোগ, যাত্রাপথে উড়োজাহাজের এয়ার কন্ডিশনিং কাজ না করায় যাত্রীদের ঘেমে-নেয়ে একাকার হতে হয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর যাত্রীদের অনেকে আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন, চিকিৎসার জন্যই তারা চেন্নাই যাচ্ছিলেন; এসি কাজ না করায় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, আবহাওয়া ও কিছুটা যান্ত্রিক কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়। এর ভেতরে এয়ার কন্ডিশনও চালু ছিল। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সেটা ‘ঠিকমত ঠান্ডা হচ্ছিল না’। এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ তারা ‘খুবই গুরুত্বের সঙ্গে’ খতিয়ে দেখেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় একজন যাত্রী সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে অভিযোগ করেন, এয়ারলাইন্সের প্রপার চ্যানেলে সেই অভিযোগটা আর জানান না। চেন্নাইয়ের ওই ঘটনাতেও তাই হয়েছে। তিনি বলেন, একই এয়ারক্রাফটে কিন্তু আমাদের পাইলট এবং অন্যান্য ক্রুরাও ভ্রমণ করছেন। হয়ত ওই এয়ারক্রাফটের এসি শতভাগ কার্যকর ছিল না। কিন্তু এসি চলেনি একথা ঠিক না। আবার ওইদিন আবহাওয়াজনিত ও যান্ত্রিক কারণে ফ্লাইট অনেক ডিলে হয়েছিল। এয়ারক্রাফটি উড্ডয়নযোগ্য হওয়ার পরপরই যাত্রীদের তোলা হয়। এক্ষেত্রে যাত্রীরা ধৈর্য হারাতে পারেন। হয়ত উড়োজাহাজটি পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার আগেই যাত্রীর কাছে মনে হয়েছে এসি কাজ করছে না। ওই ফ্লাইটের আর কোনো যাত্রীর কাছ থেকে এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি যিনি সোশাল মিডিয়ায় এমন অভিযোগ করেছেন তিনিও প্রপার চ্যানেলে কোনো অভিযোগ জানাননি। আমরা মনে করি, এয়ারলাইন্সের কাছে প্রপার চ্যানেলে অভিযোগ জানানোটা বেশি কার্যকর। ইউএস বাংলার জিএম (জনসংযোগ) কামরুল বলেন, ত্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার কোনো প্রশ্ন ওঠে না। টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। সেগুলো সঙ্গে সঙ্গেই মেরামত করা হয়। যাত্রীরা জানেন তো? দেশের এভিয়েশন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলছেন, যাত্রী হিসেবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যে অধিকার রয়েছে, সে বিষয়ে বেশিরভাগ যাত্রীই সচেতন নন। ইউরোপ বা আমেরিকার এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীর লাগেজ সঙ্গে আনতে না পারলে সেই যাত্রীকে দিন হিসেবে গুণে গুণে ক্ষতিপূরণ দেয়। আমাদের এখানে অনেক এয়ারলাইন্স যাত্রীর লাগেজ ‘লেফট বিহাইন্ড’ হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো রীতিই নেই। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়াভিত্তিক কিছু বাজেট ক্যারিয়ার যাত্রীদের অনেক বেশি পণ্য বহনের সুযোগ দেয়। এর ফলে তারা সব যাত্রীর লাগেজ বহন করতে পারে না। এসব ক্যারিয়ারে নিয়মিতভাবে যাত্রীর লাগেজ বাড় পড়ে এবং তারা পরে সেসব লাগেজ যাত্রীদের ঠিকানায় পৌঁছেও দেয় না। যাত্রীদের কষ্ট করে এসে লাগেজ নিয়ে যেতে হয়। দেড় দশক ধরে দেশের এভিয়েশন খাতে সাংবাদিকতা করে আসা তানজিম বলেন, “নিয়মটা হচ্ছে কোনো যাত্রী যদি ইন ফ্লাইট সেবা কাঙ্ক্ষিতমাত্রায় না পান, তবে তিনি তার গন্তব্যে নেমে ওই এয়ারলাইন্সকে ই-মেইলে অভিযোগ জানাতে পারেন। এয়ারলাইন্স যদি যথাযথভাবে সাড়া না দেয়, তাহলে তিনি নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট এভিয়েশন অথরিটিকে জানাতে পারেন, চাইলে আদালতেও যেতে পারেন। ইউরোপ বা আমেরিকায় যাত্রীরা এরকম অভিযোগ নিয়ে অহরহই আদালতের দ্বারস্থ হন এবং এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়। দেশের এভিয়েশন খাতের একজন বিশেষজ্ঞ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম বলছেন, প্রতিটি এয়ারলাইন্সের একটি ‘প্যাসেঞ্জার সার্ভিস প্রটোকল’ থাকে। সিভিল এভিয়েশনেরও নিয়ম থাকে যাত্রী ওঠানোর পর কতক্ষণ বিলম্ব করা যাবে। তবে যাত্রী নামানোর নানা সমস্যা আছে, সে সকারণে এয়ারলাইন্সগুলো একবার যাত্রী ওঠালে বিলম্ব হলেও নামাতে চায় না। তবে ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা এসেছে, সেটা খুবই ভ্যালিড। যাত্রীর অভিযোগে জানা যাচ্ছে, সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাদের প্লেনের ভেতর বসে থাকতে হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ আগেও এসেছে। এখন ক্রুদের দুর্ব্যবহারের কথাও উঠছে। ডেফিনিটলি এটা যাত্রী হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। সংক্ষুব্ধরা যদি সিভিল এভিয়েশনের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে তারা এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারে এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে। গত ৯ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যাত্রী ওঠানোর পর সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীদের ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে নিয়ে আসে এয়ালাইন কর্তৃপক্ষ। সে বিষয়টি তুলে ধরে ওয়াহেদুল আলম বলেন, “ফ্লাইটটা ডিলে হওয়ার পর ঢাকায় তারা যাত্রীদের হোটেলে রেখেছে। আবার গুয়াংজুতে যাওয়ার পর প্রত্যেক যাত্রীকে ৪০০ ইউয়ান (৭০০০ টাকা) করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। ফিটস এয়ার বাজেট ক্যারিয়ার হিসেবে অপারেট করে। যাত্রীদের খাবার দেয় না। শুধু মার্কেট ডিমান্ড থাকে সে কারণে অলমোস্ট লিগ্যাসি ক্যারিয়ারের মতই টাকা নিচ্ছে। লো কস্ট ক্যারিয়ার হয়ে তারা বাড়তি দাম নেয়, এরপরও ন্যূনতম সেবাটা যদি না দেয়, তাহলে তাদের বিষয়টি অবশ্যই দেখা উচিত। তবে যে কর্তৃপক্ষ এসব দেখভাল করবে, তাদের ওপর যাত্রীদের ‘আস্থার ঘাটতি’ আছে বলে মনে করছেন সাংবাদিক তানজিম আনোয়ার। তিনি বলেন, পুরো বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রেই এটা এক সমস্যা। কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে সোজাভাবে সমাধান পাব না। যাত্রীদের কিছু সচেতনতার ঘাটতি আছে। বাইরের দেশে যেটা হয়, আমি যদি লাগেজ না পাই বা কঙ্ক্ষিত সেবা না পাই, তারা এয়ারলাইন্সে অভিযোগ করে। ক্ষতিপূরণ দাবি করে। প্রত্যেকটাা এয়ারলাইন্সের নিয়ম আছে, ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পেলে আদালতেও যায় হরহামেশা। আবার ঢাকামুখী বা অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রতি এয়ারলাইনগুলোর আচরণ ‘বৈষম্যমূলক’ হয় বলে মন্তব্য করেন তানজিম। তিনি বলেন, আপনি যদি পশ্চিম এশিয়ার কোনো এয়ারলাইনের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে আসেন, দেখবেন আমেরিকা থেকে তাদের হাব পর্যন্ত খুবই চমৎকার একটা এয়ারক্রাফট দিয়েছে। আর সেখান থেকে ঢাকার কানেক্টিং ফ্লাইটে উঠেই মনটা খারাপ হয়ে যাবে। ঢাকার ফ্লাইটে ক্রুদের আচরণও থাকে অত্যন্ত কর্কশ। যদিও আমাদের যাত্রীদেরও সমস্যা আছে, তারা একটুতেই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েন। তানজিম বলেন, আমাদের বেশিরভাগ যাত্রীই বিদেশে কাজ করতে যান। তাদের অনেকের জন্য কোনোরকমে ইমিগ্রেশন পার করাটাই চ্যালেঞ্জ। তাই ইন-ফ্লাইট কী সেবা পেলেন বা পেলেন না, সেটা দেখার মত অবস্থায় তারা থাকেন না। কিন্তু এখন অনেক মধ্যবিত্ত ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য নিয়মিত বিদেশে যান ও বিমানে ভ্রমণ করেন। তারাই কিন্তু এই অভিযোগগুলো তুলছেন। অভিযোগ জানাবেন কোথায় দেশের কোথায় এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে, সে বিষয়টা জানেন না বেশিরভাগ যাত্রী। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেন, বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বুথ রয়েছে, সেখানে যাত্রীরা লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। অথবা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘কন্টাক্ট আস’ ট্যাবে ক্লিক করে একটি ফরম ফিলাপ করে অভিযোগ জানাতে পারেন। আবার বাংলাদেশ থেকে অপারেট করে এমন সব এয়ারলাইন্সের তালিকা রয়েছে বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে। যাত্রীরা সেসব এয়ারলাইন্সের ই-মেইলেও অভিযোগ জানাতে পারেন। কর্তৃপক্ষের ওপর অনাস্থার অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে বেবিচকের একজনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যেভাবে বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসে সেভাবে আমাদের কাছে আসে না। আমি মাঝে মাঝে দেখি কেউ কেউ চেয়ারম্যান স্যার বরাবর অভিযোগ জানিয়ে ই-মেইল করেন। তখন আমরা আবার সেগুলো প্রিন্ট আউট নিয়ে অভিযোগটা আন্ডারলাইন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দিই। লাগেজ হারানোর ক্ষেত্রে অভিযোগ করে যাত্রীরা নিয়মিত ক্ষতিপূরণও পান।
জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ খবর নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই হামলার পর থেকে আরও এক সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার সেন্টকম বলেছে, আহত চার মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করে দ্রুত জর্ডানের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আহত হওয়া বাকি সেনাসদস্যদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবারও ডিউটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, নিহতদের 'পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে' সেন্টকম এখনই বিস্তারিত তথ্য কিংবা সেনাসদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করছে না। তাদের নিকটাত্মীয়দের খবর দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় প্রকাশ করা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে পালটা হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইরাকের আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) দুটি বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ যান ছয়জনের। কুয়েতের এক কমান্ড পোস্টে ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত হন আরও ছয় মার্কিন সেনা। এছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে আরব সাগরে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলট। ইরানে এই আগ্রাসন চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৪০০-র বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল উইমেনস জুনিয়র এএইচএফ কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শনিবার ওমানের মাস্কাটে ফাইনালে কাজাখস্তানকে ২-০ গোলে হারায় তারা। পুরো টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচও হারেনি বাংলাদেশ। এই জয় বাংলাদেশের নারী হকির ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা। এর আগে ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২১ দল এই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়েছিল। সেই ফলাফলের সুবাদে তারা জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। পাঁচ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ফাইনালে ওঠে অপরাজিত থেকেই। গ্রুপ পর্বেও কাজাখস্তানকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। ফাইনালেও দুর্দান্ত খেলে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৫ মিনিটে ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন আইরিন রিয়া। পরে তাকে টুর্নামেন্টের ‘রাইজিং স্টার’ ঘোষণা করা হয়। এর চার মিনিট পর পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাদিরা ইমা। এরপর বাকি তিন কোয়ার্টারে আর কোনো গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধান ধরে রেখেই শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। ফাইনাল সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান অধিনায়ক শারিকা রিমন।
আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সিটি সফরের কথা রয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তবে তার এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মামদানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার আসল জায়গা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতে দাঁড় করানো উচিত। নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তার আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সরাসরি তার প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহুর মতো একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার সিটির মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না। এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সাথে তিনি নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সূত্র: আল-জাজিরা।
ফ্লাইট ছাড়ছে দেরিতে, যাত্রী উঠিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে; অথবা সিট ভাঙা, এসি কাজ করছে না, কর্মীরা দুর্ব্যাবহার করছেন; কিংবা ব্যাগেজ হারিয়ে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে–এরকম নানা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয় না বলে ক্ষোভ রয়েছে যাত্রীদের। এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ারলাইন্সগুলো এসব অভিযোগ পাত্তা না দেওয়ার বড় কারণ হচ্ছে এখানে ফ্লাইট কম, যাত্রী প্রচুর। সে কারণে ‘লিগ্যাসি ক্যারিয়ারে’র ভাড়া নিয়েও ‘বাজেট ক্যারিয়ার’গুলো ন্যূনতম সেবা না দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে। আর বেশিরভাগ যাত্রীও নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন নয়। বেশিরভাগ সময় নিজেদের অভিযোগটা তারা যথাযথ জায়গায় দাখিল করেন না। ফলে দেশের বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সুযোগ হয় নিজেদের দায় এড়ানোর। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, মোট ৪১টি এয়ারলাইন্স এ বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালায়। এর মধ্যে মাত্র চারটি দেশি, বাকিগুলো বিদেশি। এসব এয়ারলাইন্স এদেশ থেকে উড়তে পারবে কি না, তা দেখভাল করে বেবিচক, কাজেই নিয়ন্ত্রণটা তাদেরই হাতে। যত অভিযোগ গত ১১ জুলাই ঢাকা থেকে কলম্বো যাওয়ার জন্য ‘ফিটস এয়ার’ নামের একটি বাজেট এয়ারলাইনের ফ্লাইটে উঠে ব্যাপক ভোগান্তি হওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন সোনিয়া রিফাত নামের একজন পর্যটন উদ্যোক্তা। তিনি ‘গো গার্লস’ নামে ঘুরে বেড়ানোর একটি পেইজ চালান। পর্যটকদের নিয়ে বেড়াতে গিয়ে ফিটস এয়ারের বিমানে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকার অভিজ্ঞতার কথা তিনি বলেছেন। ঢাকা থেকে কলম্বো পৌঁছে এক ভিডিও পোস্টে সোনিয়া বলেন, তাদের ফ্লাইট ছিল রাত ২টা ১৫ মিনিটের। যথাসময়ে যাত্রীদের এয়ারক্রাফটে উঠিয়ে সেই ফ্লাইটটি ছেড়ে যায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এই যাত্রীদের বিমানবন্দরে প্লেনের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি ঠিকমতো তথ্য না দেওয়া এবং দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও করেছেন। ফিটস এয়ারের দুর্ভোগ নিয়ে তারা ‘সাফারার অব ফিটস এয়ার’ নামে একটি ফেইসবুক পেইজও খুলেছেন, যেখানে আরও অনেক যাত্রী বিভিন্ন সময় ফিটস এয়ারে তাদের ভোগান্তির বিষয়ে লিখেছেন। এ ঘটনা গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হলেও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি ফিটস এয়ার। এমনকি তাদের অফিসিয়াল ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে এবং ই-মেইল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ফিটস এয়ারের ফ্লাইট যে সেদিন সত্যিই দেরি করেছিল, তা নিশ্চিত করেছেন শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ। তিনি বলছেন, উড়োজাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার আগে সেটিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম হাইড্রলিক ফ্লুইড রয়েছে বলে সংকেত আসে। এরপর সেটি মেরামত করে ওড়ার উপযোগী করতে বিলম্ব হয়। ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রাগীব সামাদ বলেন, এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে। ফিটস এয়ার নিয়ে আলোচনার মাঝেই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে চেন্নাই যাওয়া আরেক যাত্রী কাঙ্ক্ষিত সেবা না দেওয়া এবং ‘অপেশাদারত্বের’ অভিযোগ তুলেছেন। সামিয়া শতাব্দী নামে ওই নারী ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১২ জুলাই বেলা পৌনে ১১টায় ইউএস বাংলায় তার চেন্নাই যাওয়ার কথা ছিল। সেই ফ্লাইট শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যাা সোয়া ৬টায় ছাড়ে। তার অভিযোগ, যাত্রাপথে উড়োজাহাজের এয়ার কন্ডিশনিং কাজ না করায় যাত্রীদের ঘেমে-নেয়ে একাকার হতে হয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর যাত্রীদের অনেকে আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন, চিকিৎসার জন্যই তারা চেন্নাই যাচ্ছিলেন; এসি কাজ না করায় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, আবহাওয়া ও কিছুটা যান্ত্রিক কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়। এর ভেতরে এয়ার কন্ডিশনও চালু ছিল। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সেটা ‘ঠিকমত ঠান্ডা হচ্ছিল না’। এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ তারা ‘খুবই গুরুত্বের সঙ্গে’ খতিয়ে দেখেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় একজন যাত্রী সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে অভিযোগ করেন, এয়ারলাইন্সের প্রপার চ্যানেলে সেই অভিযোগটা আর জানান না। চেন্নাইয়ের ওই ঘটনাতেও তাই হয়েছে। তিনি বলেন, একই এয়ারক্রাফটে কিন্তু আমাদের পাইলট এবং অন্যান্য ক্রুরাও ভ্রমণ করছেন। হয়ত ওই এয়ারক্রাফটের এসি শতভাগ কার্যকর ছিল না। কিন্তু এসি চলেনি একথা ঠিক না। আবার ওইদিন আবহাওয়াজনিত ও যান্ত্রিক কারণে ফ্লাইট অনেক ডিলে হয়েছিল। এয়ারক্রাফটি উড্ডয়নযোগ্য হওয়ার পরপরই যাত্রীদের তোলা হয়। এক্ষেত্রে যাত্রীরা ধৈর্য হারাতে পারেন। হয়ত উড়োজাহাজটি পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার আগেই যাত্রীর কাছে মনে হয়েছে এসি কাজ করছে না। ওই ফ্লাইটের আর কোনো যাত্রীর কাছ থেকে এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি যিনি সোশাল মিডিয়ায় এমন অভিযোগ করেছেন তিনিও প্রপার চ্যানেলে কোনো অভিযোগ জানাননি। আমরা মনে করি, এয়ারলাইন্সের কাছে প্রপার চ্যানেলে অভিযোগ জানানোটা বেশি কার্যকর। ইউএস বাংলার জিএম (জনসংযোগ) কামরুল বলেন, ত্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার কোনো প্রশ্ন ওঠে না। টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। সেগুলো সঙ্গে সঙ্গেই মেরামত করা হয়। যাত্রীরা জানেন তো? দেশের এভিয়েশন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলছেন, যাত্রী হিসেবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যে অধিকার রয়েছে, সে বিষয়ে বেশিরভাগ যাত্রীই সচেতন নন। ইউরোপ বা আমেরিকার এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীর লাগেজ সঙ্গে আনতে না পারলে সেই যাত্রীকে দিন হিসেবে গুণে গুণে ক্ষতিপূরণ দেয়। আমাদের এখানে অনেক এয়ারলাইন্স যাত্রীর লাগেজ ‘লেফট বিহাইন্ড’ হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো রীতিই নেই। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়াভিত্তিক কিছু বাজেট ক্যারিয়ার যাত্রীদের অনেক বেশি পণ্য বহনের সুযোগ দেয়। এর ফলে তারা সব যাত্রীর লাগেজ বহন করতে পারে না। এসব ক্যারিয়ারে নিয়মিতভাবে যাত্রীর লাগেজ বাড় পড়ে এবং তারা পরে সেসব লাগেজ যাত্রীদের ঠিকানায় পৌঁছেও দেয় না। যাত্রীদের কষ্ট করে এসে লাগেজ নিয়ে যেতে হয়। দেড় দশক ধরে দেশের এভিয়েশন খাতে সাংবাদিকতা করে আসা তানজিম বলেন, “নিয়মটা হচ্ছে কোনো যাত্রী যদি ইন ফ্লাইট সেবা কাঙ্ক্ষিতমাত্রায় না পান, তবে তিনি তার গন্তব্যে নেমে ওই এয়ারলাইন্সকে ই-মেইলে অভিযোগ জানাতে পারেন। এয়ারলাইন্স যদি যথাযথভাবে সাড়া না দেয়, তাহলে তিনি নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট এভিয়েশন অথরিটিকে জানাতে পারেন, চাইলে আদালতেও যেতে পারেন। ইউরোপ বা আমেরিকায় যাত্রীরা এরকম অভিযোগ নিয়ে অহরহই আদালতের দ্বারস্থ হন এবং এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়। দেশের এভিয়েশন খাতের একজন বিশেষজ্ঞ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম বলছেন, প্রতিটি এয়ারলাইন্সের একটি ‘প্যাসেঞ্জার সার্ভিস প্রটোকল’ থাকে। সিভিল এভিয়েশনেরও নিয়ম থাকে যাত্রী ওঠানোর পর কতক্ষণ বিলম্ব করা যাবে। তবে যাত্রী নামানোর নানা সমস্যা আছে, সে সকারণে এয়ারলাইন্সগুলো একবার যাত্রী ওঠালে বিলম্ব হলেও নামাতে চায় না। তবে ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা এসেছে, সেটা খুবই ভ্যালিড। যাত্রীর অভিযোগে জানা যাচ্ছে, সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাদের প্লেনের ভেতর বসে থাকতে হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ আগেও এসেছে। এখন ক্রুদের দুর্ব্যবহারের কথাও উঠছে। ডেফিনিটলি এটা যাত্রী হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। সংক্ষুব্ধরা যদি সিভিল এভিয়েশনের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে তারা এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারে এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে। গত ৯ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যাত্রী ওঠানোর পর সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীদের ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে নিয়ে আসে এয়ালাইন কর্তৃপক্ষ। সে বিষয়টি তুলে ধরে ওয়াহেদুল আলম বলেন, “ফ্লাইটটা ডিলে হওয়ার পর ঢাকায় তারা যাত্রীদের হোটেলে রেখেছে। আবার গুয়াংজুতে যাওয়ার পর প্রত্যেক যাত্রীকে ৪০০ ইউয়ান (৭০০০ টাকা) করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। ফিটস এয়ার বাজেট ক্যারিয়ার হিসেবে অপারেট করে। যাত্রীদের খাবার দেয় না। শুধু মার্কেট ডিমান্ড থাকে সে কারণে অলমোস্ট লিগ্যাসি ক্যারিয়ারের মতই টাকা নিচ্ছে। লো কস্ট ক্যারিয়ার হয়ে তারা বাড়তি দাম নেয়, এরপরও ন্যূনতম সেবাটা যদি না দেয়, তাহলে তাদের বিষয়টি অবশ্যই দেখা উচিত। তবে যে কর্তৃপক্ষ এসব দেখভাল করবে, তাদের ওপর যাত্রীদের ‘আস্থার ঘাটতি’ আছে বলে মনে করছেন সাংবাদিক তানজিম আনোয়ার। তিনি বলেন, পুরো বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রেই এটা এক সমস্যা। কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে সোজাভাবে সমাধান পাব না। যাত্রীদের কিছু সচেতনতার ঘাটতি আছে। বাইরের দেশে যেটা হয়, আমি যদি লাগেজ না পাই বা কঙ্ক্ষিত সেবা না পাই, তারা এয়ারলাইন্সে অভিযোগ করে। ক্ষতিপূরণ দাবি করে। প্রত্যেকটাা এয়ারলাইন্সের নিয়ম আছে, ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পেলে আদালতেও যায় হরহামেশা। আবার ঢাকামুখী বা অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রতি এয়ারলাইনগুলোর আচরণ ‘বৈষম্যমূলক’ হয় বলে মন্তব্য করেন তানজিম। তিনি বলেন, আপনি যদি পশ্চিম এশিয়ার কোনো এয়ারলাইনের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে আসেন, দেখবেন আমেরিকা থেকে তাদের হাব পর্যন্ত খুবই চমৎকার একটা এয়ারক্রাফট দিয়েছে। আর সেখান থেকে ঢাকার কানেক্টিং ফ্লাইটে উঠেই মনটা খারাপ হয়ে যাবে। ঢাকার ফ্লাইটে ক্রুদের আচরণও থাকে অত্যন্ত কর্কশ। যদিও আমাদের যাত্রীদেরও সমস্যা আছে, তারা একটুতেই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েন। তানজিম বলেন, আমাদের বেশিরভাগ যাত্রীই বিদেশে কাজ করতে যান। তাদের অনেকের জন্য কোনোরকমে ইমিগ্রেশন পার করাটাই চ্যালেঞ্জ। তাই ইন-ফ্লাইট কী সেবা পেলেন বা পেলেন না, সেটা দেখার মত অবস্থায় তারা থাকেন না। কিন্তু এখন অনেক মধ্যবিত্ত ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য নিয়মিত বিদেশে যান ও বিমানে ভ্রমণ করেন। তারাই কিন্তু এই অভিযোগগুলো তুলছেন। অভিযোগ জানাবেন কোথায় দেশের কোথায় এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে, সে বিষয়টা জানেন না বেশিরভাগ যাত্রী। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেন, বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বুথ রয়েছে, সেখানে যাত্রীরা লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। অথবা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘কন্টাক্ট আস’ ট্যাবে ক্লিক করে একটি ফরম ফিলাপ করে অভিযোগ জানাতে পারেন। আবার বাংলাদেশ থেকে অপারেট করে এমন সব এয়ারলাইন্সের তালিকা রয়েছে বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে। যাত্রীরা সেসব এয়ারলাইন্সের ই-মেইলেও অভিযোগ জানাতে পারেন। কর্তৃপক্ষের ওপর অনাস্থার অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে বেবিচকের একজনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যেভাবে বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসে সেভাবে আমাদের কাছে আসে না। আমি মাঝে মাঝে দেখি কেউ কেউ চেয়ারম্যান স্যার বরাবর অভিযোগ জানিয়ে ই-মেইল করেন। তখন আমরা আবার সেগুলো প্রিন্ট আউট নিয়ে অভিযোগটা আন্ডারলাইন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দিই। লাগেজ হারানোর ক্ষেত্রে অভিযোগ করে যাত্রীরা নিয়মিত ক্ষতিপূরণও পান।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, একাত্তরে একটি গোষ্ঠী আমাদের মা-বোনদের পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য বুদ্ধিজীবীদের তুলে দিয়েছে হত্যার করার জন্য। সেই রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জন করতে হবে। নয়তোবা এ বাংলাদেশ থাকবে না। তিনি বলেন, রাজাকার ও পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদীর গাংকুলকান্দী ভূইয়া বাজার মাঠ সংলগ্ন মাঠে নব দিগন্ত ক্লাব আয়োজিত মেধা বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নবদিগন্ত ক্লাবের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোস্তাক আহমেদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার ভূমি সজীব মিয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন শাহীন মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম ফরহাদ। অনুষ্ঠানে ৪০ জন শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তির ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তোলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের মালাতিয়া প্রদেশে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) এ তথ্য জানিয়েছে। এএফএডির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে মালাতিয়ার বাত্তালগাজি জেলায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার গভীরে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। ভূমিকম্পের কম্পন পাশের এলাজিগ, আদিয়ামান, তুনজেলি ও সানলিউরফা প্রদেশেও অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এএফএডি। তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী মুরাত কুরুম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এনসোস্যালে এক বার্তায় বলেন, ‘বাত্তালগাজিতে ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমরা সব ধরনের তথ্য ও প্রতিবেদন মূল্যায়ন করছি।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের সেনাবাহিনী। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি। তেহরানের দাবি, সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সি-র্যাম (কাউন্টার-রকেট, আর্টিলারি অ্যান্ড মর্টার) আর্লি ওয়ার্নিং রাডার ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। জানা যায়, রাডার ব্যবস্থাটি ধ্বংস করার পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে বিমান ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোতেও আঘাত হানা হয়। একই সঙ্গে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তেহরান এই সামরিক পদক্ষেপকে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এবং বন্দর আব্বাসের কাছে তাদের কমান্ড সেন্টারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর চালানো তীব্র বিমান হামলার জবাবেই এই ‘অপারেশন সায়েকেহ’ বা ‘নসর-২’ পরিচালনা করা হয়েছে। এই হামলার পর আইআরজিসি কুয়েতসহ পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে, যারা বর্তমানে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি গড়তে সহায়তা করছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হামলা চালাতে কুয়েতের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে কুয়েতের সাধারণ জনগণের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে এই হামলার ফলে কুয়েতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সামরিক স্থাপনা ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের দাবির সপক্ষে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, সেখানে মার্কিন ড্রোন হ্যাঙ্গার ও রাডার অবকাঠামো ধ্বংসের প্রমাণ রয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ওই অঞ্চলে দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। সূত্র: প্রেস টিভি।
জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ খবর নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই হামলার পর থেকে আরও এক সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার সেন্টকম বলেছে, আহত চার মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করে দ্রুত জর্ডানের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আহত হওয়া বাকি সেনাসদস্যদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবারও ডিউটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, নিহতদের 'পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে' সেন্টকম এখনই বিস্তারিত তথ্য কিংবা সেনাসদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করছে না। তাদের নিকটাত্মীয়দের খবর দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় প্রকাশ করা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে পালটা হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইরাকের আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) দুটি বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ যান ছয়জনের। কুয়েতের এক কমান্ড পোস্টে ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত হন আরও ছয় মার্কিন সেনা। এছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে আরব সাগরে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলট। ইরানে এই আগ্রাসন চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৪০০-র বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ খবর নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই হামলার পর থেকে আরও এক সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার সেন্টকম বলেছে, আহত চার মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করে দ্রুত জর্ডানের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আহত হওয়া বাকি সেনাসদস্যদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবারও ডিউটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, নিহতদের 'পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে' সেন্টকম এখনই বিস্তারিত তথ্য কিংবা সেনাসদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করছে না। তাদের নিকটাত্মীয়দের খবর দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় প্রকাশ করা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে পালটা হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইরাকের আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) দুটি বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ যান ছয়জনের। কুয়েতের এক কমান্ড পোস্টে ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত হন আরও ছয় মার্কিন সেনা। এছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে আরব সাগরে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলট। ইরানে এই আগ্রাসন চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৪০০-র বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সিটি সফরের কথা রয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তবে তার এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মামদানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার আসল জায়গা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতে দাঁড় করানো উচিত। নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তার আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সরাসরি তার প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহুর মতো একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার সিটির মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না। এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সাথে তিনি নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের সেনাবাহিনী। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি। তেহরানের দাবি, সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সি-র্যাম (কাউন্টার-রকেট, আর্টিলারি অ্যান্ড মর্টার) আর্লি ওয়ার্নিং রাডার ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। জানা যায়, রাডার ব্যবস্থাটি ধ্বংস করার পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে বিমান ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোতেও আঘাত হানা হয়। একই সঙ্গে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তেহরান এই সামরিক পদক্ষেপকে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এবং বন্দর আব্বাসের কাছে তাদের কমান্ড সেন্টারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর চালানো তীব্র বিমান হামলার জবাবেই এই ‘অপারেশন সায়েকেহ’ বা ‘নসর-২’ পরিচালনা করা হয়েছে। এই হামলার পর আইআরজিসি কুয়েতসহ পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে, যারা বর্তমানে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি গড়তে সহায়তা করছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হামলা চালাতে কুয়েতের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে কুয়েতের সাধারণ জনগণের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে এই হামলার ফলে কুয়েতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সামরিক স্থাপনা ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের দাবির সপক্ষে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, সেখানে মার্কিন ড্রোন হ্যাঙ্গার ও রাডার অবকাঠামো ধ্বংসের প্রমাণ রয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ওই অঞ্চলে দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। সূত্র: প্রেস টিভি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেছেন, কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি। খবর ইরনার। শনিবার (১৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গির বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে রাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসনের উদ্যোগ নেয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের আর্থিক ও মানবিক ক্ষতির জন্যও তাদের দায় বহন করতে হবে। তিনি জানান, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের বিচার বিভাগ, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রসিকিউটর, বিচার বিভাগের মানবাধিকার সদর দপ্তর, আইনজীবী কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি আইনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। জাহাঙ্গির বলেন, যুদ্ধের সময় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বিভিন্ন প্রদেশের প্রসিকিউটররা বিচারিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নথিভুক্ত করেছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঘটনায় তিন হাজারের বেশি দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্সিয়াল লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছেও এসব বিষয় তুলে ধরছে। বিচার বিভাগের মানবাধিকার দপ্তর যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গের বিভিন্ন ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। রোম সংবিধি অনুযায়ী এসব অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যা; এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ইরানের সপ্তম জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার দ্বিতীয় বছরে বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। এ বিষয়ে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সাম্প্রতিক এক বৈঠকে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।