সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে চায় লেবানন

ইরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে লেবানন। তবে দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ক ও যোগাযোগ অবশ্যই সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হতে হবে।   রোববার লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানায়।   এর আগে শুক্রবার আরাঘচি বলেছিলেন, ইরান লেবাননের সরকারসহ দেশটির সব রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করাই ইরানের নীতিনি। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।   তবে লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা সবসময় খোলামেলা ও গঠনমূলক অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সঙ্গেও তারা ভালো সম্পর্ক চায়। কিন্তু দুই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান থাকতে হবে।   মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, লেবাননের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশ কাটিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে যোগাযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন কোনো লেবানিজ রাষ্ট্রদূত যদি সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, ইরানও তা মেনে নেবে না।   লেবাননের এই বক্তব্য মূলত ইরানের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে। লেবানন চাইছে, ইরান যেন দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই সম্পর্ক পরিচালনা করে এবং কোনো রাজনৈতিক বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে রাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি যোগাযোগ না করে।   এদিকে আরাঘচি লেবাননের কিছু নীতির সমালোচনাও করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে আরও ‘বাস্তবসম্মত’ অবস্থান নেবে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

২ মিনিট আগে
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হেনেছে। রোববার এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।    ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের খাসাব বন্দরের প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভেতরের দিকে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে।   তবে কী ধরনের বস্তু ট্যাংকারটিতে আঘাত করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনার দায়ও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।   ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পাশাপাশি তেল ছড়িয়ে পড়া বা পরিবেশের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই পথে নিয়মিত তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে সেখানে এ ধরনের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

৪ মিনিট আগে
তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করেছেন ‎বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে তিনি এই স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গেমতবিনিময় করেন। ‎ রবিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সফরসঙ্গীদের নিয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমাড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত তিস্তা অবসর রেস্ট হাউজে পৌঁছান। এর আগে সকালে তিনি ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তিন দিনের এই সফরে তিনি লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর এবং নীলফামারীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন। ‎​ ‎রেস্ট হাউজের সম্মেলন কক্ষে পৌঁছানোর পর তিনি স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় তিস্তা ব্যারেজের পরিচালনা কার্যক্রম, পানি বণ্টন ব্যবস্থা এবং উত্তর অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ‎ ‎​মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিন, উত্তরাঞ্চল রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী ড. সরফরাজ বান্দ, রংপুর সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব, সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চন্দ্র, হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র এবং ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। ‎ ‎​এছাড়া নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই সভায় অংশ নেন। ‎​ ‎মতবিনিময় সভা শেষে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তিস্তা ব্যারেজের কন্ট্রোল রুম ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি তিস্তা নদীর বর্তমান পানির স্তর, সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ প্রক্রিয়া এবং ব্যারেজের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তিনি ব্যারেজের মূল সেতু পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রদূতের এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যারেজ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।   ‎‎​তিস্তা অবসর রেস্ট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ শেষে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের উদ্দেশ্যে তিস্তা ব্যারেজ এলাকা ত্যাগ করেন।

১৩ ঘন্টা আগে
বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

সুন্দরবনের দুবলার চরের মেহেরআলী এলাকায় বঙ্গোপসাগরে রবিবার দুপুরে জাল ফেলা নিয়ে জেলেদের দুই গ্রুপর মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময়ে ফিশিং ট্রলারের থাকা নগদ টাকা, ইলিশসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম লুট করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।   দুবলার মেহেরআলী থেকে মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আলিম রবিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে জানান, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সুন্দরবনের মেহেরআলী সংলগ্ন সাগরে জাল পাতাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের জেলেরা ট্রলারে করে এসে তার কেরিং বোটে হামলা করে দুই জেলেকে গুরুতর আহত করে। হামলাকারী জেলেরা কেরিং বোট থেকে নগদ টাকা, ইলিশসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত জেলেরা হচ্ছেন, আশিক (২৫) রিয়াজ হাওলাদার (৩৫)। অন্যপক্ষের জেলে মিজানুর রহমানও (৩০) গুরুতর আহত হয়।  আহত জেলেদের আলোরকোল কোষ্টগার্ড কন্টিনজেটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় কোষ্টগার্ড।   সুন্দরবনের দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, রবিবার দুপুরে বঙ্গোপসাগরের মেহেরআলী এলাকায় মাছ ধরার জাল পাতাকে কেন্দ্র কওে জেলেদের দুই গ্রুপর সংঘর্ষ হয়েছে। উভয়গ্রুপের গুরুতর আহত ৩ জেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরণখোলায় গেছে বলে জানতে পেরেছি।

১৩ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে দেশের বাইরে অবস্থান করবেন। সে সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও অন্যান্য সব বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সহায়তা করবেন।   রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   পরিপত্রে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রীদ্বয়ের নিকট অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরেও হুমায়ুন কবির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্বে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তার এ অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের কাজ যাতে ব্যাহত না হয় এবং বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেজন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান ড. খলিলুর রহমান।   গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গোপন ব্যালটে ড. খলিলুর রহমান সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে হারিয়ে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন।   বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ সালে এ পদ পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ পদে দায়িত্ব পাওয়া এক বিশাল গৌরবের।   উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার রদবদলে হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। শামা ওবায়েদ ইসলামও পদে বহাল থাকেন।   ২৩ আগস্টের পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে চিহ্নিত করে দায়িত্ব ভাগ করা হয়।   প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়, অনিবাসী বাংলাদেশি সংক্রান্ত বিষয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা করবেন। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে থাকাকালে তিনি মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম, জরুরি সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক বিষয়েও অতিরিক্ত ভূমিকা রাখবেন।   এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম দেখবেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, আইসিটি, সমুদ্র আইন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
‘সরকারকে পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই’, মত প্রকাশে সরকার ‘উদার’: তথ্য উপদেষ্টা

মত প্রকাশের ব্যাপারে সরকার ‘খুব উদার’ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।   গেল ছয় মাসে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারকে ‘পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই’।   রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিষ্ঠান একটা ডেটা আমাদের সামনে এনেছে। সেটা হল-১৮০ দিনে আমাদের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারিত হয়েছে বড় ধরনের ৪৬৪টা। এর মধ্যে এর মধ্যে ১৫৭টা হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।   “মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এবং উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যতগুলো হয়েছে এর মধ্যে বেশ ওপরের দিকে আমার অবস্থানও আছে।”   তিনি বলেন, “ঘটনাচক্রে আমি তথ্য উপদেষ্টা, মানে কেউ কিছু আর পাত্তাটাত্তা দিচ্ছে না। সরকারকে পাত্তা দেয়ার দরকার নেই, ‘আই লাইক ইট’। আমি এটা বলতে চাইছি সরকার মত প্রকাশের ব্যাপারে আসলে খুব উদার আছে, উদার থাকবে।   “একটা গণতান্ত্রিক সরকারের মত প্রকাশের ব্যাপারে উদার থাকাটারই কথা আসলে। মত প্রকাশ বন্ধ করে দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার, যেটা ভবিষ্যতে আরেকটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, তার কোনো লাভ নাই। জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি এভাবেই যদি বলি, খুব ক্রুডলি যদি বলি, একটু পার্সোনাল, তারপরও বলি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পাদকদের সাথে যখন বসেছেন, তিনি এই কথাটা আসলে বলেছিলেন যে, মানে সংবাদপত্র বা মিডিয়ার সাথে সংঘাতে গিয়ে সরকারের কোনো বেনিফিট নেই।”   সাংবাদিকতা বিষয়ে গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রশিক্ষণের জাতীয় প্রতিষ্ঠান পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক সাংবাদিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তথ্য উপদেষ্টা।   তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকীর্ণ করে স্বৈরাচারী সরকার, যা সাংবাদিক সালামের জীবনীতে পাওয়া যায় এবং তাকে এক ধরনের ‘অ্যাক্টিভিজম’ করতে হয়েছে।   সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘অ্যাক্টিভিজম’ হতে পারে বলেও মনে করেন জাহেদ উর রহমান। সাংবাদিকতায় ‘অ্যাক্টিভিজম’ করে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।   সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহবায়ক আবদুল হাই সিদ্দিক, সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম।

ছবি: সংগৃহীত
দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দেশের সকল জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য মজুত আছে। কোনো অসুবিধা নেই। সাধারণ জনগণের কাছে যে চাল-গম আছে সেগুলো আমরা ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারবো।    রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকায় অবস্থিত খাদ্য গুদামে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।   দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এই পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছি। যাতে দেশে যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি, ঠিক সেভাবেই মজুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   খাদ্যের সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে আমি তো বেশি দিন হয়নি দায়িত্ব নিয়েছি। মাত্র কয়েকদিন হয়েছে। অতএব আমাকে দেখতে হবে, অবজারভেশন করতে হবে, আসলেই সত্যি কোনটি বা কি হচ্ছে? তারপর এই সম্পর্কে মতামত দিতে পারবো।   এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাছরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

ছবি: সংগৃহীত
হজ নিবন্ধনে সাড়া কম, এবারও অপূর্ণ থাকতে পারে বাংলাদেশের কোটা

২০২৭ সালের হজের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন সেরেছেন ১ হাজার ২১৭ জন। ফলে বাংলাদেশ থেকে এবারও হজে যাওয়ার নির্ধারিত সংখ্যা বা কোটা অপূর্ণ থেকে যেতে পারে।   এই আশঙ্কার কারণ হিসেবে ওমরাহ হজের প্রবণতা বেড়ে যাওয়া ও হজের খরচ বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের তথ্যানুযায়ী, রোববার পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ৫২৪ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৬৯৩ জন প্রাথমিক নিবন্ধন সেরেছেন।   একই সময়ে সরকারি মাধ্যমে হজে যেতে প্রাক নিবন্ধন সেরেছেন ৩ হাজার ৫৯৩ জন, আর বেসরকারি মাধ্যমে প্রাক নিবন্ধন করেছেন ৬০ হাজার ১২৯ জন।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের গাইডলাইন অনুযায়ী, হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট দিয়ে ৩০ হাজার টাকা ফি জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সারতে হয়। এই প্রাক-নিবন্ধনের সিরিয়াল অনুযায়ী জাতীয় ডেটাবেজে স্থান নির্ধারণ করা হয়।   সৌদি রোডম্যাপ অনুসরণ করে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের কার্যক্রম ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যদিও প্রতিবছর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়।   প্রাক ও প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিতদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার সময় বেঁধে দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।   গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রাক-নিবন্ধিতদের মধ্য থেকে নির্ধারিত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।   সরকারি বা বেসরকারি (অনুমোদিত হজ এজেন্সি) যেকোনো দুটি মাধ্যমের একটি বেছে নিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।   বেড়েছে হজ প্যাকেজের মূল্য গেল ২১ জুলাই সচিবালয়ে সরকারি মাধ্যমে হজের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এবার হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা, যা গতবারের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি।   ২০২৬ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকার। সে হিসাবে এবার হজের খরচ ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা বেড়েছে।   তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দাবি, সার্বিক সেবা ও আনুষঙ্গিক খরচের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে আসল চিত্র উল্টো।   ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৭’ এবং প্রকাশিত ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে সরকার ঘোষিত ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকার প্যাকেজে হজযাত্রীদের প্রতিদিনের খাবারের খরচ যুক্ত ছিল না। হাজিদের সেই টাকা নিজ উদ্যোগে খরচ করতে হত।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সরকারি হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) এর খরচ ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজাত ৫৯৭ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে খরচ কমেছে ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা।   এছাড়া বেসরকারি এজেন্সির জন্য সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।   হজের প্যাকেজ ঘোষণার একদিন পর ২২ জুলাই বেসরকারি মাধ্যমে ৩টি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এবার সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।   দ্বিতীয় প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং বিশেষ হজ প্যাকেজের মূল্য রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।   গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।   আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি।   কোটা পূরণ হচ্ছে না ৩ বছর ধরে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মতো ২০২৭ সালেও বাংলাদেশের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রীর কোটা বহাল রেখেছে সৌদি আরব। তবে গেল তিন বারের হজযাত্রায় কোটা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ।   ২০২৬ সালে বাংলাদেশের কোটার বিপরীতে হজে গিয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৫০০ জন। হজ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্য, হজ গাইডসহ সব মিলিয়ে ৭৯ হাজার ১০০ জন সৌদি আরব থেকে হজ পালন শেষে দেশে ফেরেন।   ২০২৫ সালে হজ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যসহ ৮৭ হাজার ১০০ জন বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করেন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৬৫৫।   কেন পূরণ হচ্ছে না কোটা? কেন হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না জানতে চাইলে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোটা পূরণ না হওয়ার একটি বেসিক কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশের অনেক এজেন্সির দালালেরা মানুষকে ফুসলিয়ে ওমরাহ পালনে নিয়ে যায়। তারা ওমরাহ হজের নাম দিয়েছে ছোট হজ। অনেকেই ভাবে, ওমরাহ করলেই হজ পালন হয়ে যায়।   “দুই হজ তো এক নয়। গত বছর ৫ লাখ মানুষ ওমরাহ করেছেন। হয়ত ওমরাহ না করলে এর একটা বড়ো অংশ হজে যেতেন। তাতে আমাদের কোটা পূরণ হওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল। মূলত এ কারণেই হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না।”   হজ প্যাকেজের খরচ বাড়াও কোট পূরণে প্রতিবন্ধকতা কিনা জানতে চাইলে ফরিদ বলেন, “খরচের বিষয়টা তো আছেই। এবার খাবারের খরচ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কিছুটা খরচ বেড়েছে। তবে খরচ বাড়লেও ওমরাহ হজ নিয়ে ভুল প্রচারই অন্যতম কারণ।   “আমরা চেষ্টা করছি। সরকার, আলেম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।”   কোটা পূরণ না হওয়ার ‘মূল কারণ’ হিসেবে কোভিড মহামারীর প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাকে সামনে আনতে চান হাবের সাবেক মহাসচিব ও এয়ার টাচ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মন্দা পরিস্থিতির কারণে অনেকেই হজে যাওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছেন।   “এছাড়া অনেকে ফরজ হজ না করে নফল ওমরাহ পালনে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন, অথচ ওমরাহ কখনো হজের বিকল্প হতে পারে না।”   তিনি বলেন, “ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে শৈশব থেকেই হজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সঞ্চয়ের সরকারি ব্যবস্থা থাকায় তাদের কোটা সহজে পূরণ হয়, যা আমাদের দেশে নেই।”   এই পরিস্থিতি উত্তরণে হজ যে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য একটি ফরজ ইবাদত, সে বিষয়ে জনগণের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলেও মত তার।   হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অর্থনৈতিক যে অবস্থা, মানে মানুষের কাছে তো টাকা নাই, এক নম্বর। দুই নম্বর হলো, মানুষের একটা ধারণা হলো, তিন-চার লাখ টাকা দিয়ে হজ করবে। এখন তো সাড়ে পাঁচ লাখের নিচে হজই করতে পারবে না।   “মানুষের টাকা জোগাড় না হলে কীভাবে যাবে? মানুষের ইনকাম অনেক কমে গেছে। এজন্য হজে যাওয়া কমে গেছে। তারপরও এ বছর প্রাক-নিবন্ধন প্রায় ৬১ হাজার হয়ে গেছে।    এখন সময় আছে, আরও এক মাস সময় আছে না? ৮০ হাজার থাকবে আশা করছি।”   হজে যেতে ইচ্ছুক অনেকেই বাড়তি খরচের কথা সামনে এনেছেন।   লক্ষ্মীপুরের রামগতির বাসিন্দা আবদুল হান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রত্যেক বছর নানা অজুহাতে হজের খরচ বাড়ে। আমরা হজে যাইতে পাইরতেছি না। আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করমু, ওইখানেও ব্যবসা করার জন্য বসি থাকে। হজের খরচটা যদি আরেকটু কম হইত, আমরা আল্লাহর ঘরটা তাওয়াফ করতে পাইরতাম।”   সরকারের ভাষ্য কী হজের কোটা পূরণে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না জানতে চাইলে ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পূরণ না হলে কোটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, সেটা ঠিক। তবে আমরা সরকারের তরফ থেকে চেষ্টা করছি কোটা পূরণে কাজ করার। এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে।”   সৌদি সরকার ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা দেওয়া শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল শুরু হবে হজ ফ্লাইট। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে (৯ জিলহজ্ব) হজ হবে।   হজের জন্য সৌদি প্রান্তের খরচের অর্থ নুসুক মাসার প্লাটফর্মের ই-ওয়ালেটে সরাসরি স্থানান্তর কার্যক্রম চলবে এ বছরের ১৫ জুলাই থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।   ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, নুসুক মাসারের মাধ্যমে সামগ্রিক সেবা প্যাকেজ (তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ, মক্কা ও মদিনায় হোটেল, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা) নিতে চুক্তি স্বাক্ষর শুরু হয় ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই। শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।   হজযাত্রীদের ডেটা নুসুক মাসার সিস্টেমে আপলোড করতে হবে ২০২৬ সালের ১৪ অগাস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি মধ্যে।   আর হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি সই ও নুসুক মাসারে ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই হতে ৮ নভেম্বরের মধ্যে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে বাগে আনতে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে বাগে আনতে না পেরে এবং সামরিক অচলাবস্থা কাটতে না দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক হামলা চালানোর পথ বেছে নিতে পারেন।    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কাউন্টারটেররিজম উপদেষ্টা জো কেন্ট এই বড় আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরান সংকটে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছে না, তখন এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।   এর আগে এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের দাবি না মানলে ইরানের পুরো সভ্যতা মুছে ফেলা হবে। পরে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। তবে জো কেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করেও ইরান সরকারকে ফেলে দিতে বা তাদের হাঁটু গেড়ে বসাতে পারেনি।   তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানকে পুরোপুরি হার মানাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা আছে—হয় সরাসরি সৈন্য পাঠিয়ে যুদ্ধ করা, না হয় পরমাণু হামলা চালানো। তবে বিশাল জনসংখ্যার দেশ ইরানে সরাসরি সৈন্য পাঠানো কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। ফলে বাধ্য হয়ে ওয়াশিংটন হয়তো পাহাড়ের ভেতরে থাকা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে ছোট পরিসরে পরমাণু হামলা চালাতে পারে।   পেন্টাগনের কাছে নিখুঁত নিশানাযুক্ত সামরিক গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে—এমন খবর প্রকাশের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। যদিও ট্রাম্প গোলাবারুদ সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন।    ইরানকে আর্থিক চাপে পিষে মারতে ট্রাম্প সম্প্রতি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ নামে বিশাল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। যার অংশ হিসেবে চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে কড়া বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে, যাতে বিশ্ববাজার থেকে ইরানকে একদম একা করে দেওয়া যায়।   সূত্র: আরটি।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে বাগে আনতে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬

ইরানকে বাগে আনতে না পেরে এবং সামরিক অচলাবস্থা কাটতে না দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক হামলা চালানোর পথ বেছে নিতে পারেন।    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কাউন্টারটেররিজম উপদেষ্টা জো কেন্ট এই বড় আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরান সংকটে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছে না, তখন এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।   এর আগে এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের দাবি না মানলে ইরানের পুরো সভ্যতা মুছে ফেলা হবে। পরে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। তবে জো কেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করেও ইরান সরকারকে ফেলে দিতে বা তাদের হাঁটু গেড়ে বসাতে পারেনি।   তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানকে পুরোপুরি হার মানাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা আছে—হয় সরাসরি সৈন্য পাঠিয়ে যুদ্ধ করা, না হয় পরমাণু হামলা চালানো। তবে বিশাল জনসংখ্যার দেশ ইরানে সরাসরি সৈন্য পাঠানো কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। ফলে বাধ্য হয়ে ওয়াশিংটন হয়তো পাহাড়ের ভেতরে থাকা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে ছোট পরিসরে পরমাণু হামলা চালাতে পারে।   পেন্টাগনের কাছে নিখুঁত নিশানাযুক্ত সামরিক গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে—এমন খবর প্রকাশের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। যদিও ট্রাম্প গোলাবারুদ সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন।    ইরানকে আর্থিক চাপে পিষে মারতে ট্রাম্প সম্প্রতি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ নামে বিশাল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। যার অংশ হিসেবে চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে কড়া বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে, যাতে বিশ্ববাজার থেকে ইরানকে একদম একা করে দেওয়া যায়।   সূত্র: আরটি।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে মুসলিম বিশ্বের শত্রু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা : মোজতবা খামেনি
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুধু ইরানের বিরোধী নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।   রোববার (৩০ আগস্ট) মুসলিম ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মোজতবা খামেনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও অভিন্ন লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তাদের বিরোধিতা শুধু ইরান বা ইরানের জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ পুরো মুসলিম উম্মাহ তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।   পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর শাসকদেরও নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। খামেনির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত সরকারগুলোর ওপরও বিভিন্ন ধরনের চাপ ও অসম্মান করা হচ্ছে।   মুসলিম বিশ্বের বিভাজনকে ‘শত্রুদের বড় সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় ও মতাদর্শগত পার্থক্যের পাশাপাশি জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভেদও কাজে লাগানো হচ্ছে।   তার দাবি, মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করে তাদের শক্তি দুর্বল করা এবং পরে তাদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাই আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর উদ্দেশ্য।   মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন খামেনি। তার বক্তব্য, যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তারা জেনে বা না জেনে শত্রুদের স্বার্থকে এগিয়ে দিতে পারে।   বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে ফিলিস্তিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে খামেনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফিলিস্তিনিরা কি এতটা অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হতো?   পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল নিয়েও মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, ওই অঞ্চলের দেশগুলোর জনগণ ও সরকারগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাইরের কোনো শক্তির পক্ষে তাদের ভূখণ্ড ও সম্পদের দিকে আগ্রহ দেখানো কঠিন হতো।   মুসলিম ঐক্যের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। এগুলো হলো—বিভেদ এড়িয়ে ঐক্য ধরে রাখা, হুমকি ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একে অন্যকে সহযোগিতা করা এবং সম্পদ, নিরাপত্তা, জ্ঞান ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো।   খামেনির মতে, মুসলমানদের ঐক্যই শক্তিশালী ইসলামি সভ্যতা গঠনের অন্যতম ভিত্তি। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের মাধ্যমেই নতুন একটি ইসলামি সভ্যতার পথ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংগৃহীত ছবি
নেপালের বন্যায় জলবিদ্যুৎ টানেলে নিখোঁজ ৮৯৮, উদ্ধার ৩৬১
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬

নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে নিখোঁজ কর্মীদের উদ্ধারে জরুরি অভিযান চলছে। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া টানেলে বাতাস ঢোকানোর পাশাপাশি বড় গর্ত করে উদ্ধারকারী দল ভেতরে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   নেপালের ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার এসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আনুমানিক ৮৯৮ কর্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৩৬১ কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে।   নেপালের জ্বালানি, পানি সম্পদ ও সেচমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানান, ত্রিশূলী–৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। বন্যার পর কাদা ও পলিতে টানেলটি চাপা পড়ে যায়।   উদ্ধারকারীরা খননযন্ত্র দিয়ে টানেলের ভেতরের কাদা ও পলি সরানোর কাজ করছেন। এরই মধ্যে টানেলের ওপরের অংশে ছয় ইঞ্চি একটি গর্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে ভেতরে কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি।   এরপর ওই গর্ত দিয়ে টানেলের ভেতরে বাতাস, আলো ও শব্দ পাঠানো হয়েছে। তবে ভেতরে থাকা কারও সঙ্গে এখনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।   মন্ত্রী জানান, এবার ওই গর্তটি আরও বড় করে একটি প্রবেশপথ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে উদ্ধারকারী দলকে টানেলের ভেতরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামীকালের মধ্যে বিদ্যমান পথ ধরে মূল টানেলে পৌঁছানোই এখন লক্ষ্য।   এর আগে শুক্রবার নেপালি সেনাবাহিনী রসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, জীবিতরা ঘন কাদার মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসছেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের বাইরে নিয়ে আসছেন। সূত্র: সিএনএন

সংগৃহীত ছবি
নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা, মৃত বেড়ে ৬৮৬; নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬

নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দুই দেশে এখন পর্যন্ত ৬৮৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেপালে অন্তত ৬৭০ জন এবং চীনে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এখনও প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   শনিবার রাতে নেপালে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো সংরক্ষণ ও শনাক্ত করতেও হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।   বন্যায় বেঁচে যাওয়া মানুষজন ধ্বংস হয়ে যাওয়া বসতিতে ফিরে নিজেদের জিনিসপত্র খুঁজছেন। স্বজন হারানো পরিবারগুলো প্রতিদিন হাসপাতাল ও মর্গে গিয়ে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।   এদিকে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নেপাল ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ৫ লাখ ডলার সহায়তার কথা জানানো হয়েছিল।   এদিকে নেপালের বন্যাকবলিত এলাকার কাছের একটি নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, রসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে।   রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়। তবে তাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।   সূত্র: সিএনএন

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি