বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো এবং অপচয় রোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সোমবার (৯ মার্চ) থেকে প্রতিদিন ইফতারের পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর আগে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূলত অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে আনতে এবং গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তারাও মাঠে থাকবেন। নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন জোনে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। গুলশান ও হাতিরঝিল এলাকায় অভিযানের নেতৃত্বে থাকবেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব হাসান সাদী। মালিবাগ, মৌচাক ও মগবাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাছুদুর রহমান। অন্যদিকে, নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাজমুল হামিদ রেজা। বেইলি রোড ও শান্তিনগর এলাকায় তদারকির দায়িত্বে থাকবেন সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আল মনসুর। পুরান ঢাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম দেখবেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ। মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১২ নম্বর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবেন সিনিয়র সহকারী সচিব তাহমিলুর রহমান। এছাড়া এলিফ্যান্ট রোড ও শাহবাগ এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ হোসেন পাটওয়ারী এবং বনানী ও মহাখালী এলাকায় অভিযানের দায়িত্বে থাকবেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী। বিদ্যুৎ বিভাগের এই বিশেষ অভিযান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়মিত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার করে ইরান ‘বড় ভুল করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি তারা বড় ভুল করেছে। এরআগে মোজতবাকে ‘গুরুত্ব ও প্রভাবহীন’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এখনই ভাবার সময় আসেনি। তবে এমন কিছুর সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সূত্র: আলজাজিরা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বটতলা বাজার এলাকায় কর্মজীবী এক নারীকে প্রাইভেট কারে তুলে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজি মুজিব)। এ ঘটনায় জড়িত আসামিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের পর তিনি দক্ষিণ বালিগাঁও এলাকার ভুক্তভোগী ফাতেমা পারভেজ নিশির বাড়িতে যান। এসময় স্থানীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বটতলা বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন। ঘটনাস্থল থেকে তিনি মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন করে অপহরণের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমপি হাজি মুজিব বলেন, ‘ভুক্তভোগী মেয়েটি আমার এলাকার, আমার বোনের মতো। আমি পুলিশ সুপারকে বলেছি, দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স।’
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মাত্র পাঁচ মিনিট দেরিতে পৌঁছেছিলেন অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কিমি ওনোদা। এ জন্য পুরো জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গেজেট এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া হেরাল্ড, লেটেস্টলিসহ কয়েক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি–এর সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ওনোদার। তবে পথে একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৫ মিনিট পরে সেখানে পৌঁছান। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনোদা গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত দৌড়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছেন। বারবার সময়ের দিকে তাকাচ্ছিলেন তিনি। বৈঠক শুরু হয়ে যাওয়ার পর তিনি সেখানে পৌঁছান। সাংবাদিকদের সামনে তিনি দেরি হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে দেরি হয়েছে, তবে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে- সে বিষয়ে তিনি আরও সতর্ক থাকবেন। জাপানে সরকারি দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই মাত্র কয়েক মিনিট দেরি হলেও অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭,৫৬৪টি নারীপ্রধান পরিবার এ সুবিধা পাবেন। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী ১০ মার্চ সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত উপকারভোগীরা মাসিক আড়াই হাজার টাকা ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেই সুবিধা বাতিল গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের প্রাপ্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে পারবেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে উপকারভোগী পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে। কমিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং রেমিট্যান্স প্রবাহসহ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। পরে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬৭,৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭,৫৬৪টি পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত পরিবারকে একটি করে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে।
রমজান মাসের পরপরই সরকার সারাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমনে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে গ্রেফতার হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী শিগগিরই তাদের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সব ঘটনার “মব” হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। অনেক বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ভুলভাবে মব হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তবে সরকার কোনোভাবেই মব সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না এবং তা বন্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, রমজান মাসের পরপরই সারাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হবে। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা সংঘবদ্ধ অপরাধী আইনের বাইরে থাকবে না। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের প্রত্যাশা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যাতে স্বস্তিতে থাকতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা ও ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র, তাই সমুদ্র সৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অপরিহার্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে (এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত), যা ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর এক দিনে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। গত সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছিল। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের একাধিক তেল ডিপোসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়ছে। ফলে সরকারের ভর্তুকির চাপ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ বাড়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে দেশি-বিদেশি কোম্পানির পাওনা ইতোমধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আর্থিক সংকটকে আরও গভীর করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত অনুযায়ী ভর্তুকি কমানোর চাপ থাকায় সরকার নীতিগতভাবে দ্বিধায় পড়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই দ্রুত বেড়েছে। বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বাড়লে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আর তা যদি ১৫০ ডলারে পৌঁছায়, তাহলে আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে। দেশের জ্বালানি খাত মূলত আমদানিনির্ভর। অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। অন্যদিকে পরিশোধিত তেল আমদানি করা হয় চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। দেশে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কনডেনসেট থেকে বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধাক্কা এলে দেশের জ্বালানি মূল্য দীর্ঘদিন স্থির রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অতীতেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে সরকারকে কয়েক দফা জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তায় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ খাতে সংকট আরও তীব্র। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কয়েক দশ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়ায় সরকারকে হয় ভর্তুকি বাড়াতে হবে, নয়তো বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানি বিল, ভর্তুকি এবং বাজেট ঘাটতি বাড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হবে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি মজুত বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২৯ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৭০ ডলার, যা প্রায় ২৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনার মধ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। ইসরায়েল তেহরানের কাছে একটি বড় জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ইরান অঞ্চলজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। এই সংঘাত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন ও রফতানিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এরই মধ্যে ইরান তাদের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতায় নিহত শহীদদের স্মরণে আগামী ২৫ মার্চ সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ওইদিন রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা বা কেপিআইভুক্ত এলাকা ছাড়া সারাদেশে এই কর্মসূচি পালিত হবে। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫ মার্চ রাতে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না। বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসেও আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি এবং জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয় যে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত ২৭ জানুয়ারির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ২৫ মার্চের গণহত্যার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণহত্যা বিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ও দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচি সফল করতে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় ওইদিন সারাদেশে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২৫ মার্চ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে এই প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও জেলা প্রশাসন প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জাতীয় ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুই দিবসকে ঘিরে সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানোর ঘটনায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ভারতীয় শেয়ারবাজারেও। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিনিয়োগকারীদের সম্পদমূল্য থেকে প্রায় ৩১ লাখ কোটি রুপি মুছে গেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, বিদেশি তহবিল প্রত্যাহার এবং ভারতের মতো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা চাপে পড়েছেন। ফলে ভারতের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো ধারাবাহিকভাবে নেমে গেছে। শুধু সোমবারই বাজার মূলধন থেকে প্রায় ১২ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন বা প্রায় ১৩ লাখ কোটি রুপি হারিয়ে গেছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় বিএসই সেনসেক্স ছিল ৭৬,৬১৯ দশমিক ২৫ পয়েন্টে, যা আগের সেশনের ৭৮,৯১৮ দশমিক ৯০ পয়েন্ট থেকে ২,২৯৯ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯১ শতাংশ কম। এনএসই নিফটি ৫০ ছিল ২৩,৭৩৬ দশমিক ২৫ পয়েন্টে, যা ২৪,৪৫০ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট থেকে ৭১৪ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯২ শতাংশ নিচে। গত এক বছরের মধ্যে এটি দলাল স্ট্রিটের অন্যতম বড় অস্থিরতার ঘটনা। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির সম্মিলিত বাজার মূলধন দ্রুত কমে গেছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সপ্তাহে ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এই সংঘাত বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ভারতের জন্য তেলের বাড়তি দাম বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ দেশটি তার মোট তেলচাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। এতে মূল্যস্ফীতি, চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং সরকারি আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতার মধ্যে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরাও বিক্রি বাড়িয়েছেন। গত চারটি লেনদেন সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ২১ হাজার কোটি রুপি তুলে নিয়েছেন। ফলে ফেব্রুয়ারিতে আসা প্রায় ২২,৬১৫ কোটি রুপির বিনিয়োগের বড় অংশই উল্টে গেছে। বড় বড় কোম্পানির শেয়ারেও তীব্র পতন দেখা গেছে। ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতের শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ারও বড় ধাক্কা খেয়েছে। কারণ তেলের দাম বাড়লে জ্বালানির বিক্রয়মূল্য সমান হারে না বাড়ানো হলে তাদের মুনাফার মার্জিনে চাপ পড়ে। বিমান পরিবহন খাতের শেয়ারেও বড় পতন দেখা গেছে, কারণ জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে এ খাতের ব্যয় বেড়ে যায়। বাজারের বিস্তৃত অংশেও পতন দেখা গেছে। মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ার উল্টো বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে সামরিক ব্যয়ও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে তা ভারতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি, রুপির বিনিময়মূল্য এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে Saudi Arabia। দেশটি বলেছে, হামলা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত Iran নিজেই সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। এর আগে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khalid bin Salman Al Saud ইরানকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ না নেওয়ার আহ্বান জানান। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব হামলা শুধু সৌদি আরবের ওপরই নয়; বরং উপসাগরীয়, আরব ও ইসলামি অন্যান্য দেশগুলোর বিরুদ্ধেও পরিচালিত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক স্থাপনা—যেমন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা—প্রমাণ করে যে এসব আক্রমণের উদ্দেশ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলা। এটি আন্তর্জাতিক সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়। এদিকে হামলা নিয়ে ইরানের দেওয়া যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। তেহরান দাবি করেছিল, সৌদি আরব তাদের ভূখণ্ড থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, বিমানগুলো মূলত সৌদি আরব ও Gulf Cooperation Council–এর আকাশসীমাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষার জন্য টহল দিচ্ছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, “আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, আমাদের দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের বর্তমান পদক্ষেপগুলো বিচক্ষণতার পরিচয় দেয় না এবং উত্তেজনার এই চক্র থামানোর কোনো লক্ষণও এতে দেখা যাচ্ছে না। এই উত্তেজনা বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে ইরানই।” এর আগে গত শনিবার (৭ মার্চ) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা একটি বিমানঘাঁটির দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন। একই সঙ্গে একটি বড় তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টাও নস্যাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের রাস তানুরা তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান Asim Munir–এর সঙ্গে বৈঠকের পর খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তারা কোনো যুদ্ধবিরতি চাইছেন না। ইরানের ওপর আগ্রাসন ও হামলাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে কালিবাফ বলেছেন, “নিশ্চিতভাবেই আমাদের দেশ ও জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না। তারা লড়বে, সংগ্রাম করবে এবং আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি সতর্ক করেছেন, যদি কোনো উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয় ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য, তবে ইরান সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া, তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্রের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন, যিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন, যদি অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকে, আমরা দ্বিধা ছাড়া প্রতিক্রিয়া জানাব। সূত্র: আল-জাজিরা
যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতোবা হোসেইনি খামেনিকেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতোবা খামেনিকে রোববার যুদ্ধের পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশটির ধর্মীয় নেতারা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছেন। আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতোবাকে দীর্ঘদিন থেকেই তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হচ্ছিল; যাকে মোটেই পছন্দ নয় ডনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স, আল জাজিরা ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচন করল সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’। নতুন নেতা মোজতোবাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্যে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাবার ছায়ায় থাকা মোজতোবাকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরবর্তী নেতা ধরে নিয়েছিলেন। তাকে সেভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে বলে ভাষ্য খামেনি অনুসারীদের। তার পেছনে সমর্থন রয়েছে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীরও (আইআরজিসি)। ইরানে খুবই প্রভাবশালী এ বাহিনীতে মোজতোবার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে তার বিষয়ে সমালোচকরা বলছেন, বড় মাপের আলেম না হয়েও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে মোজতোবার আরোহনের পেছনে ভূমিকা রয়েছে আইআরজিসির। মোজতোবা বেশির ভাগ সময় লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকেছেন, সরকারি কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না; তার বক্তৃতার সংখ্যাও বিরল, গণমাধ্যমে তাকে দেখা গেছে হাতেগোনা কয়েকবার। কিন্তু ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোতে তার প্রভাব ব্যাপক ও বিস্তৃত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।