রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেলেন। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন। দুটি মনোনয়ন, একটি বৈধ নির্বাচন ভবনে সিইসির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে মির্জা ফখরুলের নামে জমা দেওয়া দুটি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, দুটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটি বৈধ ঘোষিত হওয়ায় অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু। অলি আহমদের মনোনয়নও বৈধ এর আগে একই দিনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়। তার নামেও দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একটি বৈধ ঘোষিত হওয়ায় অন্যটি বাতিল হয়ে যায়। ভোট ২০ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট। ভোট গ্রহণের জন্য ওই দিন জাতীয় সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে। যেভাবে হবে নির্বাচন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন কেবল জাতীয় সংসদের সদস্যরা। এই নির্বাচনে তারা প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে একটি অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন। সফর নিয়ে চলছে যোগাযোগ মুখপাত্র জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। তবে তিনি বলেন, সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। ‘প্রত্যর্পণ চুক্তি বাস্তবায়নের’ আহ্বান শহীদুল করিম বলেন, “আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে আমাদের অনুরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ওসমান হাদি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত বলে সরকার মনে করে। এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির পুনর্ব্যক্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে। তার ভাষায়, “সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আমরা আমাদের প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ব্রিকস সম্মেলন ও দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রেক্ষাপট আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি তাকে একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছে ভারত। কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। এতে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে পরবর্তীতে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার পর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ‘জুলাই ডায়লগ-২০২৬: স্মৃতি, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐক্য, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের অর্জনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে আন্দোলনের পক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সুদৃঢ় ঐক্য প্রয়োজন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বৃহত্তর প্যারিসের পন্তা এলাকার একটি হোটেলে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে। এফবিজেএ সমন্বয়ক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মুখপাত্র ও ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-মুখপাত্র ও কালের কণ্ঠের ফ্রান্স প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ তোহা। সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, অর্জন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এসব আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ দিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি ধারাবাহিক রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের উন্নত বিশ্বের মানুষের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তনের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও কাঠামোগত সংস্কারকে জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশ ছাড়লেও দেশের বাইরে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার করা প্রয়োজন। যেকোনো বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শফিকুল আলম জুলাই আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, আন্দোলনের সময় দেশের বাইরে থেকেও প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও আন্দোলনের সমর্থনে ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি ফরাসি গণমাধ্যমে আন্দোলনের খবর প্রকাশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে সহায়ক হয়েছে। ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য দেশের বিভিন্ন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের অর্জন সংরক্ষণ ও তা এগিয়ে নিতে আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রবাসী সাংবাদিকতার নানা চ্যালেঞ্জ, দায়িত্ব ও সম্ভাবনার বিষয়ও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে প্রবাসী সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী সমাজের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক আরও পেশাদার ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এফবিজেএর সদস্যদের মধ্যেও জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বক্তব্য দেন কলামিস্ট নিয়াজ মাহমুদ, দৈনিক যুগান্তরের ফ্রান্স প্রতিনিধি সরদার হাসান ইলিয়াছ তানিম, ডেইলি সানের ফ্রান্স প্রতিনিধি মুমিন আনসারী, বাংলা ভিশনের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইয়াসির আরাফাত, কালবেলার ফ্রান্স প্রতিনিধি মামুন মাহিন, পিএনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, লেখক হাবিবুল্লাহ ফাহাদ এবং স্বাধীন সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন।
আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলু। শনিবার (১৬ আগস্ট) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নে সানিয়াজান নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির সুপারিশের কথা তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি সংরক্ষণ ও এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ ধরে রাখা গেলে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এ লক্ষ্যেই কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভাটিতে নতুন ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ও এর আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী বছর থেকেই এ পরিকল্পনার কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলু। শনিবার (১৬ আগস্ট) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নে সানিয়াজান নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির সুপারিশের কথা তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি সংরক্ষণ ও এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ ধরে রাখা গেলে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এ লক্ষ্যেই কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভাটিতে নতুন ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ও এর আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী বছর থেকেই এ পরিকল্পনার কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে প্রবল ঝড় ও বন্যায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়িঘর থেকে মানুষকে নৌকা ব্যবহার করে উদ্ধার করা হচ্ছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হোয়াইট রিভারসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত করেছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট বলেছেন, গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ওই এলাকার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে ২৮০ মিলিমিটারের (১১ ইঞ্চি) বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন শুক্রবার প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুরোধ জানান, যাতে রাজ্যটি আরও বেশি ফেডারেল সহায়তা পেতে পারে। শনিবার তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই অনুরোধ অনুমোদনের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ব্রাউন বলেন, ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ ঝড় ও নজিরবিহীন বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ফেডারেল সরকার সহযোগিতা করবে। এদিকে, ডেলাওয়্যার কাউন্টির শেরিফের কর্মকর্তারা শুক্রবার ৫৮ বছর বয়সি এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করার সময় তিনি মারা যান। এ ছাড়া জেনিংস কাউন্টিতে একটি গাছ বাড়ির ওপর পড়ে চার বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করতে মানুষকে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, অল্প গভীর মনে হলেও প্রবল স্রোতের পানি গাড়িকে সহজেই ভাসিয়ে বা আটকে দিতে পারে। গভর্নর ব্রাউন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘ঝড় ও বন্যায় প্রাণ হারানো পাঁচজনসহ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে। সবাইকে বন্যার পানিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার এবং পানির কাছ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করছি।’
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৪৯টি মামলা করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩৯ জন, লালবাগ থেকে ৩৩ জন, ওয়ারী থেকে ৫১ জন, মতিঝিল থেকে ৬২ জন, তেজগাঁও থেকে ৭২ জন, মিরপুর থেকে ১২৬ জন, গুলশান থেকে ৫০ জন, উত্তরা থেকে ৬৭ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১১ জন রয়েছেন। অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৪০৩ পিস ইয়াবা, ৯৮ কেজি ৫৬৫ গ্রাম গাঁজা, এক গ্রাম হেরোইন এবং চার বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। অন্যদিকে অভিযানে একটি কম্পিউটার, ছয়টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৮০টি সিমকার্ড এবং সাতটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত কর্মকর্তারা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মো. আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রশাসকদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এখন নিজেদের মূল কর্মস্থল বাংলাদেশ ব্যাংকে ফিরে গেছেন। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান সরকারও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। একীভূতকরণ কার্যক্রম শুরুর পর প্রথমে স্বতন্ত্র পরিচালক এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এসব ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ জুলাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে শুধু এক্সিম ব্যাংকে একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রয়েছেন। অন্য চার ব্যাংকে এ পর্যায়ের শীর্ষ নির্বাহী নেই। নতুন এমডি এক্সিম ব্যাংকের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অন্য ব্যাংকগুলোর বিষয়ও দেখভাল করছেন। তবে পাঁচ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান ও মহাখালীর বিভিন্ন এলাকায় হওয়ায় একজন এমডির পক্ষে সবগুলো কার্যালয়ের কার্যক্রম একসঙ্গে সরাসরি তদারক করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শাইরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আর পাঁচ ব্যাংকের সরাসরি ব্যবসায়িক পরিচালনায় থাকবে না। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংকগুলোর ওপর পূর্ণ তদারকি বজায় রাখবে। দ্রুত জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে চার থেকে পাঁচজন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি জানান, আপাতত এমডি নিজেই পাঁচ ব্যাংকের কার্যক্রম তদারক করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যালয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে পুরোনো কর্মকর্তাদের সক্রিয় করে কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। একীভূতকরণের সময়সীমা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচটি ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি একক ও শক্তিশালী ব্যাংকে রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের দেওয়া মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের মধ্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঁচ ব্যাংকে আমানতকারীদের মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের দেশজুড়ে মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। ফলে নতুন ব্যাংকটির কার্যক্রমের পরিধি ও গ্রাহকসংখ্যা বড় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, একীভূতকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে কঠোর ও নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রশাসনিক দুর্বলতা বা অনিয়ম দেখা দিলে পুরো উদ্যোগটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং ব্যাংক খাতে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, একীভূতকরণ যেহেতু শুরু হয়েছে, তাই এটি সফলভাবে শেষ করা জরুরি। নতুন চেয়ারম্যান ও এমডির নেতৃত্বে দ্রুত যোগ্য জনবল নিয়োগ করে রূপান্তর প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে, যাতে কোনো পক্ষ বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ না পায়।
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউএনজিআরডির বরাতে শনিবার তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। ইউএনজিআরডি জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৯৩৫ জন আহত হয়েছেন। এখনো ৩২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আগের দিনের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮৮ জন। অর্থাৎ নতুন করে আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এবং ভূমিকম্পে কোথায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ের জরুরি কার্যক্রম সমন্বয় করছে ইউএনজিআরডি। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব হালনাগাদ করা হচ্ছে। নিখোঁজ ৩২০ জনকে খুঁজে বের করাই এখন উদ্ধার তৎপরতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও বাসিন্দাদের সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করছে। ভূমিকম্পে বিভিন্ন অবকাঠামোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তাও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও মৃত, আহত বা নিখোঁজ মানুষের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার তথ্য যাচাই শেষে সংখ্যায় পরিবর্তনও হতে পারে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন নৌপথের মানচিত্র নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর প্রকাশ করেছে। ইসমাইল বাঘাই বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা কারিগরি আলোচনার পর দুই দেশ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন রুটের মানচিত্র নিয়ে একমত হয়েছে। ইরান ও ওমান দুই দেশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপকূলীয় রাষ্ট্র। নিরাপদে জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণে গত তিন মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। বাঘাই জানান, গত ১৮ জুন নিরাপদ নৌচলাচলের রুট তৈরির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর আলোচনা আরও জোরদার হয়। গত তিন সপ্তাহে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের রুটের মানচিত্র নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এই পরিকল্পনা তৈরিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও পরিবেশবিষয়ক কর্তৃপক্ষও অংশ নিয়েছে। তবে এখনও কিছু বিষয় নিয়ে দুই দেশের আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তেহরান ও মাসকাট থেকে প্রকাশ করার জন্য একটি যৌথ বিবৃতির বিষয়ও রয়েছে। প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলবে বলে জানান বাঘাই। ইরানের এই মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, এটি ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি স্বাধীন সমঝোতা। এর মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা। তবে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। বাঘাইয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’, সামরিক হুমকি এবং নৌ অবরোধ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল নিয়ে এই আলোচনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় শুরু হয়েছিল। ওই সমঝোতায় তেহরান ও মাসকাটকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন কাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরান বারবার বলে আসছে, জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং তেল বিক্রির আয় কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খবর আল জাজিরার তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে পণ্য আমদানি করতে বেশি সময় ও খরচ হচ্ছে। ফলে বাজারে পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক। আগে আমরা জাহাজে করে পণ্য আনতাম। এখন পণ্যগুলোকে আমাদের কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদিত পণ্যের খরচ বেড়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের আয়ও কমে গেছে। আগে তেল বিক্রি করে আয় করা হতো, কিন্তু এখন সেই সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পকারখানায় বোমা হামলার কারণেও সরকারের রাজস্ব কমেছে। তিনি বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) বেশ কয়েকটি কারখানা ধ্বংস করেছে। ফলে আগের মতো সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কর আদায় করাও সম্ভব হচ্ছে না। ’ তবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে প্রবল ঝড় ও বন্যায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়িঘর থেকে মানুষকে নৌকা ব্যবহার করে উদ্ধার করা হচ্ছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হোয়াইট রিভারসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত করেছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট বলেছেন, গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ওই এলাকার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে ২৮০ মিলিমিটারের (১১ ইঞ্চি) বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন শুক্রবার প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুরোধ জানান, যাতে রাজ্যটি আরও বেশি ফেডারেল সহায়তা পেতে পারে। শনিবার তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই অনুরোধ অনুমোদনের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ব্রাউন বলেন, ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ ঝড় ও নজিরবিহীন বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ফেডারেল সরকার সহযোগিতা করবে। এদিকে, ডেলাওয়্যার কাউন্টির শেরিফের কর্মকর্তারা শুক্রবার ৫৮ বছর বয়সি এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করার সময় তিনি মারা যান। এ ছাড়া জেনিংস কাউন্টিতে একটি গাছ বাড়ির ওপর পড়ে চার বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করতে মানুষকে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, অল্প গভীর মনে হলেও প্রবল স্রোতের পানি গাড়িকে সহজেই ভাসিয়ে বা আটকে দিতে পারে। গভর্নর ব্রাউন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘ঝড় ও বন্যায় প্রাণ হারানো পাঁচজনসহ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে। সবাইকে বন্যার পানিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার এবং পানির কাছ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করছি।’
শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটানো ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় থাকা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার ওপর থেকে নতুন আরোপিত শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলিয়ার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ও মানসিক ‘ত্রাণ’ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ট্রাম্পকে প্রস্তাবিত ওই শুল্ক কার্যকরের বিষয়টি স্থগিত রাখার বিনীত আবেদন জানান। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কলম্বিয়ার অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত শুল্কের এই অতিরিক্ত ধাক্কা আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। গত সোমবার ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প কলম্বিয়ায় আঘাত হানে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশজুড়ে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই চরম দুঃসময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ধরে রাখা কলম্বিয়ার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রই দেশটির সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। তবে গত জুলাইয়ের শেষভাগে কফি ও তেলজাতীয় কিছু ব্যতিক্রমী পণ্য ছাড়া অন্যান্য কলম্বিয়ান পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ শতাংশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১০ মিনিটের একটি ফোনালাপকে ‘অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি তাকে বলেছি যে আমাদের সামনে এক বিশাল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমার পূর্বসূরিদের কাছ থেকে পাওয়া চরম আশঙ্কাজনক ও ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এখন পুরো কলম্বিয়াকে নতুন করে পুনর্নির্মাণ করতে হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্প-পরবর্তী এই পুনর্গঠন কাজের জন্য আনুমানিক ৬৪০ কোটি (৬.৪ বিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন হবে। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী মিগেল গোমেজ জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংস্থানের জন্য সরকার এখনই নতুন করে কর বাড়ানোর কথা ভাবছে না। উল্লেখ্য, কথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক-সম্পর্কিত একটি আইনি পরাজয়ের পরপরই হোয়াইট হাউস ঘোষণা করে যে তারা কলম্বিয়াসহ প্রায় সব মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে ডানপন্থী দে লা এসপ্রিয়েলা এক কোটিপতি আইনজীবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছেন। গত জুনে বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদাকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করার সময় ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছিলেন। চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দে লা এসপ্রিয়েলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজস্ব বলয় তৈরি করতে শুরু করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং একাধিক দক্ষিণ আমেরিকান দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত মাদক কার্টেলবিরোধী জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এ যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।