দক্ষিণ লাওসের সবুজ পাহাড়ি এলাকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে চীনে নির্মিত ১৩৩টি বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন। এসব টারবাইন থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে এ প্রকল্প জ্বালানির উৎস বহুমুখী করার আঞ্চলিক উদ্যোগেরও অংশ। ডাক ওয়াই গ্রামের কাঠের খুঁটির ওপর নির্মিত বাড়িতে বসে ২৩ বছর বয়সী তুকতা ফনসালা এএফপিকে বলেন, ‘দৃশ্যটা খুব সুন্দর। এগুলো গাছের চেয়েও বড়।’ এ সময় তার কোলে ছিল ছোট্ট শিশু। লাওসের সেকং প্রদেশ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অসংখ্য বাঁধ নির্মিত হয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে এসব বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। পাশাপাশি, পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার বায়ুবিদ্যুতের প্রসারের সময় এসেছে। এ ক্ষেত্রে তারা লাওসের ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘মুনসুন উইন্ড পাওয়ার প্রকল্পের’ উদাহরণ দিচ্ছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকল্পটি উৎপাদন শুরু করে। সিঙ্গাপুরের সমান আয়তনের এলাকায় বিস্তৃত ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্প এশিয়ার প্রথম আন্তসীমান্ত বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প। একই সঙ্গে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে। আর এর মালিকানায় রয়েছে থাইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্দিষ্ট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সরাসরি ভিয়েতনামের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র। দেশটি আগে থেকেই তার দরিদ্র প্রতিবেশী লাওস থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে। তবে অলাভজনক সংস্থা এনার্জি ল্যাব এশিয়ার কারিগরি কর্মসূচির প্রধান ট্রিস্টান বেলিংহাম বলেন, ‘অর্থনৈতিক হিসাব এখন বায়ুবিদ্যুতের পক্ষে যাচ্ছে।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘২০ থেকে ৩০ বছর আগে জলবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যেমনটা দেখা গিয়েছিল, এখন নতুন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমতি ও উন্নয়ন-অধিকার নিশ্চিত করতে তেমনই এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।’ লাওসে ইতোমধ্যে ৯০টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রয়েছে আরও কয়েক ডজন। ফলে উপযুক্ত নতুন স্থান খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। উন্নয়নের জন্য ভালো- বেলিংহাম বলেন, মুনসুন প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন অন্য বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে। লাওসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ১০ থেকে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তুকতা ফনসালা, তার সঙ্গে বসবাসকারী পরিবারের ১৮ সদস্য এবং টারবাইনের আশপাশের ধান ও কফিচাষিদের জন্য মুনসুন প্রকল্প নতুন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। তবে প্রকল্পটি থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী ঝড়ের সময় এখনো তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। লাওসের নিজস্ব বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুরোনো। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থাটিও বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। তবু দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদেশে পাঠাতে পেরে খুশি তুকতা। তিনি বলেন, ‘এটি উন্নয়নের জন্য ভালো এবং সমৃদ্ধি আনতে পারে।’ ভিয়েতনামের জন্য এ প্রকল্প তুলনামূলক কম খরচে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের উৎস। ২০২৩ সালে খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। এদিকে পরিকল্পিত বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ সংকটের ঝুঁকি রয়েছে বলে সেপ্টেম্বরে সতর্ক করেছিল দেশটির সরকার। ইন্দোচায়না এনার্জি পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস জ্যাকবসেন বলেন, ‘মুনসুন প্রকল্পের মাধ্যমে ভিয়েতনাম স্থানীয়ভাবে যে দামে বায়ুবিদ্যুৎ কিনছে, তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে লাওস থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’ তার হিসাব অনুযায়ী, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ভিয়েতনাম (ইভিএন) মুনসুন প্রকল্প থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রায় ৬ সেন্টে কিনছে। স্থানীয় বাজারের দামের চেয়ে এ হার ২ থেকে ৪ সেন্ট কম। তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক সফরে মুনসুন উইন্ড, ইভিএন এবং প্রকল্পটির অর্থায়ন ব্যবস্থাপক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরা বিদ্যুতের এ দাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান। ‘বিশেষ কিছু রয়েছে’- ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ভিয়েতনামের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন ইভিএনের ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন করপোরেশনের কর্মকর্তা নিন সুয়ান হিয়েপ। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে তিনি এএফপিকে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে লাওস থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশের সমান হবে। স্থাপিত সক্ষমতা বলতে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামর্থ্যকে বোঝায়। মুনসুন উইন্ড প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক নারুত বোয়াকাজর্ন জানান, প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতা আরও ১ হাজার মেগাওয়াট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি বিদ্যুতের একটি অংশ যেন লাওসের অভ্যন্তরে ব্যবহার করা যায়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ১১০ মিটার উঁচু একটি টারবাইনের ঘূর্ণায়মান পাখার নিচে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নারুত বলেন, ‘লাওসে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। বায়ু, পানি ও সৌরশক্তি—সবই আছে।’ তিনি বলেন, ‘একই জায়গায় এতগুলো ভালো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস খুব বেশি দেশে নেই। এদিক থেকে লাওসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’ নারুতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় কর এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা তহবিলসহ বিভিন্ন খাত থেকে লাওস সরকার ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করবে।
গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আজ এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রজ্ঞাপনে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চীন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ছোট পার্সেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রোববার থেকে নতুন হ্যান্ডলিং ফি চালু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জোটের বাইরের দেশগুলো থেকে আসা প্রতিটি পার্সেলের ওপর দুই ইউরো (২ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার) ফি আরোপ করা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে ও বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে এ নতুন ফি কার্যকর হলো। এর ফলে ছোট পার্সেলের ওপর আগে থেকে আরোপিত তিন ইউরো শুল্কের পাশাপাশি নতুন করে দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি দিতে হবে। কীভাবে কার্যকর হবে নতুন ফি? ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো দেশ থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে পাঠানো পার্সেলে থাকা প্রতিটি ধরনের পণ্যের ওপর এ ফি প্রযোজ্য হবে। পার্সেলের মূল্য যতই হোক, এ নিয়ম কার্যকর থাকবে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো পার্সেলে যদি ১০টি টি-শার্ট থাকে, তাহলে এর জন্য দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি দিতে হবে। কিন্তু একই পার্সেলে যদি দুটি টুপি ও ১০টি টি-শার্ট থাকে, তাহলে দুটি ভিন্ন ধরনের পণ্য থাকায় ফি দিতে হবে চার ইউরো। এর আগে গত জুলাইয়ে ১৫০ ইউরোর কম মূল্যের ছোট পার্সেলের ওপর তিন ইউরো শুল্ক আরোপ করেছিল ইইউ। নতুন দুই ইউরো ফি ওই শুল্কের অতিরিক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, নতুন হ্যান্ডলিং ফি সরাসরি ভোক্তাদের দিতে হবে না। তবে অনলাইন খুচরা বিক্রেতারা বিক্রির আগে পণ্যের দামের সঙ্গে দুই ইউরো যুক্ত করতে পারবেন। ইউরোপীয় ভোক্তা অধিকার সংস্থা (বিইইউসি) এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কেনাকাটার শেষ পর্যায়ে ক্রেতাদের ওপর নতুন এ খরচ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সংস্থাটি আরও বলেছে, এমনটি করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী বেআইনি। কারণ, আইন অনুসারে কেনাকাটার শুরুতেই ক্রেতাকে পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য জানাতে হবে।’ কেন নতুন ফি চালু করছে ইইউ? সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৬০০ কোটি ছোট পার্সেল প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ পার্সেলই এসেছে চীন থেকে। এসব পণ্য সাধারণত আলিএক্সপ্রেস ও টেমুর মতো জনপ্রিয় এশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছায়। ব্রাসেলসের মতে, বিপুলসংখ্যক পার্সেল আসার কারণে শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে তাদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। নতুন হ্যান্ডলিং ফি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে শুল্ক বিভাগের এ অতিরিক্ত কাজের ব্যয় মেটানো হবে। গত জুলাইয়ে ছোট পার্সেলের ওপর তিন ইউরো শুল্ক আরোপের পর ইউরোপে এ ধরনের পণ্য আমদানি প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনই সময় হয়নি বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া চীনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনকারী খেলনাসহ বিভিন্ন অনিরাপদ পণ্য প্রবেশের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপ। বিইইউসির কর্মকর্তা অগাস্টিন রেইনা বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে শুল্ক বিভাগকে অবৈধ পণ্য আমদানি ঠেকানোর দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। অথচ ছোট পার্সেলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েছে।’ এরপর কী হবে? নতুন দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি স্থায়ীভাবে কার্যকর থাকবে। তবে কম মূল্যের পার্সেলের ওপর আরোপিত তিন ইউরো শুল্ক আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে চালু রয়েছে, যা ২০২৮ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ওই তারিখ থেকে পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রচলিত নিয়মে নির্ধারিত শুল্ক কার্যকর হবে। এ ছাড়া নতুন হ্যান্ডলিং ফির পরিমাণ প্রতি দুই বছর পরপর পর্যালোচনা করতে হবে। শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে ফির পরিমাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এ পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াংকে লক্ষ্য করে চীনের গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে গভীরভাবে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় হুয়াংয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গতকাল শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘খুব সতর্কতার সঙ্গে’ খতিয়ে দেখছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চীনা এক নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন তথ্য বেইজিংয়ের কাছে পাচার করছিলেন। তবে চীন এ প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জেনসেনের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। নির্দিষ্ট ঘটনাটি সম্পর্কে আমি আগে জানতাম না। তবে আশা করি, তিনি ভালো থাকবেন। তিনি একজন অসাধারণ ও মেধাবী মানুষ। আমরা আমাদের মেধাবী মানুষদের সুরক্ষা দিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখব।’ এ ঘটনায় জেনসেন হুয়াংকে উপদেষ্টা হিসেবে বহাল রাখা হবে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই তাকে বহাল রাখতে চাই। তবে এ বিষয়ে বিপরীত কোনো তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত জেনসেন হুয়াংকে আমি সব সময়ই স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছি।’ তবে বিষয়টি বেশ জটিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিনির্ধারণের বিষয়ে জেনসেন হুয়াং ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। গত মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে ট্রাম্পের বেইজিং সফরসঙ্গী প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যেও তিনি ছিলেন। তাইওয়ানে জন্ম নেওয়া এই ব্যবসায়ী চীনে এনভিডিয়ার তৈরি চিপ ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। এদিকে চীন নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী চিপ প্রযুক্তির উন্নয়নে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে জমির রেকর্ড সংগ্রহ, খতিয়ান যাচাই এবং ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল রেকর্ড রুমের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত আট কোটির বেশি খতিয়ান বা পর্চা ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে জমির রেকর্ড সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমানো, সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং সহজে ভূমিসংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ হাসান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, দেশের সব খতিয়ান সরকারি ব্যবস্থায় অনলাইনে আপলোড করার লক্ষ্যে ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় ইতোমধ্যে ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে সারা দেশে কার্যক্রমটি সম্প্রসারণের জন্য একটি ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন এবং পরবর্তী দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। প্রকল্প পরিচালকের মতে, সব খতিয়ান অনলাইনে পাওয়া গেলে জমিজমা নিয়ে মানুষের দৈনন্দিন বিরোধ অনেকাংশে কমতে পারে। নাগরিকেরা সহজেই অনলাইন থেকে নিজেদের জমির খতিয়ান সংগ্রহ করতে পারবেন। এর ফলে জমির রেকর্ড খুঁজতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরি এবং তথ্য সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনলাইন ভূমিসেবার আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের পুরোনো খতিয়ান ও ভূমিসংক্রান্ত নথি ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, পর্যায়ক্রমে সব খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে নিয়ে আসা, যাতে নাগরিকেরা সহজে নিজেদের জমির রেকর্ড খুঁজে পেতে পারেন এবং ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ব্যবহার করতে পারেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত খতিয়ানের সংখ্যা আট কোটি ছাড়ানোর বিষয়টি দেশের ভূমি প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে এই সংখ্যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রেকর্ড রয়েছে। একদিকে রয়েছে সিএস, এসএ, আরএস ও বিএসসহ বিভিন্ন জরিপের খতিয়ান। অন্যদিকে রয়েছে ই-নামজারির মাধ্যমে তৈরি ও হালনাগাদ হওয়া খতিয়ান। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, অনলাইন সার্ভে খতিয়ানের ডাটাবেজে প্রায় পাঁচ কোটি ১২ লাখ থেকে পাঁচ কোটি ১৩ লাখ খতিয়ান রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় পাঁচ কোটি ১২ লাখ খতিয়ান অনলাইনে উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ই-নামজারি এবং অন্যান্য ভূমিসেবা ডিজিটাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাটাবেজে রেকর্ডের সংখ্যা বেড়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উপজেলা ও সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে ই-নামজারি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ৫১৬টি উপজেলা ও সার্কেল ভূমি অফিস এবং ৩ হাজার ৪৬৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ই-নামজারি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ লাখ নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। নামজারি হলো জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি ভূমি রেকর্ডে নতুন মালিকের তথ্য হালনাগাদ করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। জমি ক্রয়, উত্তরাধিকার, দান বা অন্যান্য বৈধ উপায়ে মালিকানা পরিবর্তনের পর প্রযোজ্য নিয়মে নামজারি প্রয়োজন হতে পারে। এ প্রক্রিয়া ডিজিটাল হলে আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত জানার ক্ষেত্রে নাগরিকদের সুবিধা বাড়ে। আগে নামজারি বা খতিয়ান সংগ্রহের কাজে অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার ভূমি অফিসে যেতে হতো। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ, আবেদন কোথায় রয়েছে তা জানা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সময় ব্যয় করতে হতো। অনলাইন ব্যবস্থার কারণে এসব ধাপের কাজগুলো সহজ হয়ে গেছে। ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনে আদায়ের ব্যবস্থাও ডিজিটাল ভূমিসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, ই-পর্চা এবং ই-নামজারির মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ১৫ মে পর্যন্ত ভূমিসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন খাতে রাজস্ব জমার হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কোটি ৭০ লাখ হোল্ডিংয়ের তথ্য ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং প্রায় এক কোটি ১০ লাখ অনলাইন দাখিলা দেওয়া হয়েছে। ই-পর্চার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সরকারের কোষাগারে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। ডিজিটাল খতিয়ানের ফলে সরাসরি জমির রেকর্ড সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। অনলাইনে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নাগরিকেরা ঘরে বসে তথ্য অনুসন্ধান করতে পারবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদনও করতে পারবেন। এতে যাতায়াত খরচ, কর্মঘণ্টার অপচয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। জমি কেনাবেচার আগে ক্রেতার জন্য রেকর্ড যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল ব্যবস্থায় খতিয়ানের তথ্য সহজে পাওয়া গেলে জমির দাগ নম্বর, রেকর্ডভুক্ত মালিকের নাম এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সহজ হবে। একইভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির রেকর্ড খুঁজে বের করা, পুরোনো দলিলের তথ্যের সঙ্গে খতিয়ান মিলিয়ে দেখা এবং নামজারির প্রস্তুতি নেওয়ার কাজও সহজ হয়ে গেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে অবস্থান করেও অনলাইনে জমির রেকর্ড খুঁজে দেখা গেলে দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের ওপর নির্ভরতা কমবে। জমির তথ্য যাচাইয়ের প্রাথমিক কাজ দ্রুত করা সম্ভব হবে। তবে প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাই, অনুমোদিত আবেদন এবং সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ডিজিটাল রেকর্ড প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। তথ্য সংরক্ষণ ও অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আসায় নথি খুঁজে পেতে বিলম্ব, কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দূর হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিসেবার আবেদন, ফি পরিশোধ ও নিষ্পত্তির তথ্য ডিজিটাল উপায়ে সংরক্ষিত থাকলে সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। তবে এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম, তথ্যের নিরাপত্তা, সহজ ব্যবহারব্যবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ডিজিটাল সেবা চালু থাকলেও কেউ যদি নিজের জমির তথ্য খুঁজে না পান, ভুল তথ্য সংশোধন করতে না পারেন কিংবা আবেদন সম্পর্কে জানতে না পারেন, তাহলে প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। ডিজিটাল ভূমিসেবার পাশাপাশি ভূমি অফিসগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নেও কাজ করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারাদেশে ১ হাজার ৩৩০টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ এবং ১৫০টি সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে ভূমির নথি সংরক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ এবং নাগরিকদের সেবা গ্রহণের পরিবেশ উন্নত হবে। পুরোনো কাগুজে নথি নিরাপদে সংরক্ষণ করা গেলে সেগুলো ডিজিটাইজ করার কাজেও সুবিধা হবে। কারণ, ডিজিটাল ডাটাবেজের নির্ভুলতা অনেকাংশে নির্ভর করে মূল নথির পাঠযোগ্যতা, সংরক্ষণ এবং যাচাইয়ের ওপর। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে ড্রোন ব্যবহার করে ভূমি জরিপের চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে সরকারের। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জরিপের সময় কমানো এবং তথ্য সংগ্রহের নির্ভুলতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে জমিসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, রাজস্ব মামলা ব্যবস্থাপনা এবং ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ কমানোর ক্ষেত্রেও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে। সরকারি জমির রেকর্ড সহজে অনুসন্ধানযোগ্য হলে দখল, রেকর্ডের অসামঞ্জস্য এবং মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বাসসকে বলেন, ‘ভূমিসেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সরকার ডিজিটাল কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছে। সব খতিয়ান পর্যায়ক্রমে অনলাইনে আনা সম্ভব হলে নাগরিকেরা ঘরে বসেই তাদের জমির রেকর্ড সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে পারবেন। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভূমি অফিসে মানুষের যাতায়াত কমবে। একই সঙ্গে ভূমির রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জমিজমা নিয়ে বিরোধ কমাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।’ তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সুফল নিশ্চিত করতে তথ্যের নির্ভুলতা, নিয়মিত হালনাগাদ, তথ্যের নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের সহজে সেবা পাওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর সেবার পাশাপাশি পুরোনো রেকর্ড সংরক্ষণ ও যাচাই, ভুল তথ্য সংশোধন এবং নাগরিকের অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।’
কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়িয়ে দেখানোর পুরোনো সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসে এবার উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় মেধার প্রকৃত ও নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফলাফলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং এসএসসি পরীক্ষার আদলে পূর্ণাঙ্গ খাতা পুনঃনিরীক্ষণের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষামন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভির আওতা বৃদ্ধি এবং ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে অত্যন্ত আনন্দমুখর ও ইতিবাচক পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন যেন শতভাগ নির্মোহভাবে সম্পন্ন হয়। জিপিএ-৫ কিংবা পাসের হার কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন এবং প্রশ্নপত্রের মান বজায় রেখে সততার সাথে উত্তরপত্র মূল্যায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি বছর ঝরে পড়া রোধে বিশেষ ঘোষণা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যেন মূল্যবান একটি বছর নষ্ট না হয়, সেজন্য খুব দ্রুততম সময়ে—সম্ভব হলে এক মাসের মধ্যেই পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে এবং অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, এইচএসসির ফলই জীবনের শেষ মাপকাঠি নয়। ফলাফলের চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও সাহস জোগানো বেশি জরুরি। সরকার কেবল প্রথাগত চিকিৎসক বা প্রকৌশলী তৈরি নয়, বরং আধুনিক কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল কোর্স ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পছন্দের পূর্ণ বিকাশে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত সচিব কেরামত আলীসহ সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নতুন নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’, যার অর্থ ‘ঢোল’ এবং এই নামটি ভারত প্রস্তাব করেছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শনিবার দুপুরে নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সদ্য বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তুলনায় এই ঝড়টির শক্তি কিছুটা কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। এই ঝড়ের প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে এবং পরদিনও এসব এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে এবং ২ ও ৩ নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলেও ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আর্থিক খাতের সুরক্ষাবলয় শক্তিশালী করতে এবং ব্যাংকিং খাতের তদারকি ও সংস্কারে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট টু’-এর আওতায় এই চুক্তি সই হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসম চুক্তিতে সই করেন। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে চলবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক এটি বাস্তবায়ন করবে। এই ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অব্যবহৃত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ‘কমিটমেন্ট ফি’ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরসহ বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের জন্য এই কমিটমেন্ট ফি মওকুফ করে আসছে। ঋণ পরিশোধের সময়কাল ২৫ বছর, যার মধ্যে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে।
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে এবার ১৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অবরোধ অমান্য ঠেকাতে এসব জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে জাহাজগুলোকে অন্য পথে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবরোধের নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অবরোধ কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি জর্জ ওয়াশিংটনও ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। রণতরিটি থেকে পরিচালিত সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে অবরোধ বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেন্টকমের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের বন্দর অভিমুখী ১৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল। নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৪৪টিতে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর রয়েছে। এই অবরোধের আওতায় ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন বাহিনী। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
দক্ষিণ লাওসের সবুজ পাহাড়ি এলাকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে চীনে নির্মিত ১৩৩টি বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন। এসব টারবাইন থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে এ প্রকল্প জ্বালানির উৎস বহুমুখী করার আঞ্চলিক উদ্যোগেরও অংশ। ডাক ওয়াই গ্রামের কাঠের খুঁটির ওপর নির্মিত বাড়িতে বসে ২৩ বছর বয়সী তুকতা ফনসালা এএফপিকে বলেন, ‘দৃশ্যটা খুব সুন্দর। এগুলো গাছের চেয়েও বড়।’ এ সময় তার কোলে ছিল ছোট্ট শিশু। লাওসের সেকং প্রদেশ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অসংখ্য বাঁধ নির্মিত হয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে এসব বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। পাশাপাশি, পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার বায়ুবিদ্যুতের প্রসারের সময় এসেছে। এ ক্ষেত্রে তারা লাওসের ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘মুনসুন উইন্ড পাওয়ার প্রকল্পের’ উদাহরণ দিচ্ছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকল্পটি উৎপাদন শুরু করে। সিঙ্গাপুরের সমান আয়তনের এলাকায় বিস্তৃত ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্প এশিয়ার প্রথম আন্তসীমান্ত বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প। একই সঙ্গে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে। আর এর মালিকানায় রয়েছে থাইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্দিষ্ট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সরাসরি ভিয়েতনামের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র। দেশটি আগে থেকেই তার দরিদ্র প্রতিবেশী লাওস থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে। তবে অলাভজনক সংস্থা এনার্জি ল্যাব এশিয়ার কারিগরি কর্মসূচির প্রধান ট্রিস্টান বেলিংহাম বলেন, ‘অর্থনৈতিক হিসাব এখন বায়ুবিদ্যুতের পক্ষে যাচ্ছে।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘২০ থেকে ৩০ বছর আগে জলবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যেমনটা দেখা গিয়েছিল, এখন নতুন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমতি ও উন্নয়ন-অধিকার নিশ্চিত করতে তেমনই এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।’ লাওসে ইতোমধ্যে ৯০টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রয়েছে আরও কয়েক ডজন। ফলে উপযুক্ত নতুন স্থান খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। উন্নয়নের জন্য ভালো- বেলিংহাম বলেন, মুনসুন প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন অন্য বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে। লাওসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ১০ থেকে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তুকতা ফনসালা, তার সঙ্গে বসবাসকারী পরিবারের ১৮ সদস্য এবং টারবাইনের আশপাশের ধান ও কফিচাষিদের জন্য মুনসুন প্রকল্প নতুন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। তবে প্রকল্পটি থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী ঝড়ের সময় এখনো তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। লাওসের নিজস্ব বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুরোনো। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থাটিও বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। তবু দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদেশে পাঠাতে পেরে খুশি তুকতা। তিনি বলেন, ‘এটি উন্নয়নের জন্য ভালো এবং সমৃদ্ধি আনতে পারে।’ ভিয়েতনামের জন্য এ প্রকল্প তুলনামূলক কম খরচে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের উৎস। ২০২৩ সালে খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। এদিকে পরিকল্পিত বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ সংকটের ঝুঁকি রয়েছে বলে সেপ্টেম্বরে সতর্ক করেছিল দেশটির সরকার। ইন্দোচায়না এনার্জি পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস জ্যাকবসেন বলেন, ‘মুনসুন প্রকল্পের মাধ্যমে ভিয়েতনাম স্থানীয়ভাবে যে দামে বায়ুবিদ্যুৎ কিনছে, তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে লাওস থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’ তার হিসাব অনুযায়ী, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ভিয়েতনাম (ইভিএন) মুনসুন প্রকল্প থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রায় ৬ সেন্টে কিনছে। স্থানীয় বাজারের দামের চেয়ে এ হার ২ থেকে ৪ সেন্ট কম। তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক সফরে মুনসুন উইন্ড, ইভিএন এবং প্রকল্পটির অর্থায়ন ব্যবস্থাপক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরা বিদ্যুতের এ দাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান। ‘বিশেষ কিছু রয়েছে’- ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ভিয়েতনামের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন ইভিএনের ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন করপোরেশনের কর্মকর্তা নিন সুয়ান হিয়েপ। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে তিনি এএফপিকে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে লাওস থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশের সমান হবে। স্থাপিত সক্ষমতা বলতে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামর্থ্যকে বোঝায়। মুনসুন উইন্ড প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক নারুত বোয়াকাজর্ন জানান, প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতা আরও ১ হাজার মেগাওয়াট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি বিদ্যুতের একটি অংশ যেন লাওসের অভ্যন্তরে ব্যবহার করা যায়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ১১০ মিটার উঁচু একটি টারবাইনের ঘূর্ণায়মান পাখার নিচে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নারুত বলেন, ‘লাওসে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। বায়ু, পানি ও সৌরশক্তি—সবই আছে।’ তিনি বলেন, ‘একই জায়গায় এতগুলো ভালো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস খুব বেশি দেশে নেই। এদিক থেকে লাওসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’ নারুতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় কর এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা তহবিলসহ বিভিন্ন খাত থেকে লাওস সরকার ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করবে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াংকে লক্ষ্য করে চীনের গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে গভীরভাবে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় হুয়াংয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গতকাল শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘খুব সতর্কতার সঙ্গে’ খতিয়ে দেখছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চীনা এক নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন তথ্য বেইজিংয়ের কাছে পাচার করছিলেন। তবে চীন এ প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জেনসেনের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। নির্দিষ্ট ঘটনাটি সম্পর্কে আমি আগে জানতাম না। তবে আশা করি, তিনি ভালো থাকবেন। তিনি একজন অসাধারণ ও মেধাবী মানুষ। আমরা আমাদের মেধাবী মানুষদের সুরক্ষা দিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখব।’ এ ঘটনায় জেনসেন হুয়াংকে উপদেষ্টা হিসেবে বহাল রাখা হবে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই তাকে বহাল রাখতে চাই। তবে এ বিষয়ে বিপরীত কোনো তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত জেনসেন হুয়াংকে আমি সব সময়ই স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছি।’ তবে বিষয়টি বেশ জটিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিনির্ধারণের বিষয়ে জেনসেন হুয়াং ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। গত মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে ট্রাম্পের বেইজিং সফরসঙ্গী প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যেও তিনি ছিলেন। তাইওয়ানে জন্ম নেওয়া এই ব্যবসায়ী চীনে এনভিডিয়ার তৈরি চিপ ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। এদিকে চীন নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী চিপ প্রযুক্তির উন্নয়নে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্রাজিল ছাড়ার বিষয়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর নেওয়া ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে যত দিন ইচ্ছা থাকতে পারবেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রোববারের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে পরাজিত হওয়ার পর গত বুধবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান বলসোনারো। তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত অব্যহত থাকায় আদালতের নির্দেশে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছিল। জর্জিয়ার আটলান্টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‘এর আগে তার ভিসা ছিল। প্রেসিডেন্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ দুই দিনব্যাপী জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আয়োজক হিসেবে উপস্থিত রুবিও আরও বলেন, ‘নিজ দেশ ছাড়ার বিষয়ে বলসোনারো যে ব্যবস্থা করেছিলেন, তাতে মার্কিন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল না।’ নির্বাচনে পরাজয়ের পর ৪৫ বছর বয়সী বলসোনারো আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর হয়ে একটি বিমানে ব্রাজিল ত্যাগ করেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানটি ভাড়া করেছিলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা জেসন মিলার। এদিকে বলসোনারো পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত বিমানের ভাড়া মার্কিন ব্যাংক হিসাব থেকে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছিল বলে এএফপিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রধান। ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলসোনারোর সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান ট্রাম্প। তবে ব্রাজিলের এই ডানপন্থী সিনেটরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করা হয়েছে। খুবই খারাপ আচরণ করা হয়েছে। তাই তিনি যত দিন ইচ্ছা এখানে থাকতে পারবেন।’ এদিকে ব্রাজিলের একটি কূটনৈতিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানিয়েছে, বলসোনারোকে ব্রাজিল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে ‘নিয়মিত বৈঠকে’ তলব করা হয়েছিল। তবে পরে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে ব্রাজিল বুয়েনস এইরেসের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর থেকে বলসোনারো নিজেকে ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা বলে দাবি করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ শিকার হওয়ায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হওয়ার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন।
ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির আরও এক বা দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এখনো হামলা চালানো বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব স্থাপনার মধ্যে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত সন্দেহভাজন একটি পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে ইরানকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক কর্মসূচির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন তাড়াহুড়ো করছে না। ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছি। তবে আমার হিসাবে এখনো এক বা দুটি স্থাপনার বিষয়টি বাকি রয়েছে। চাইলে মাত্র ১০ মিনিটেই সেগুলোতে হামলা চালাতে পারি।’ সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সম্ভবত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা বলতে পারেন। ওই স্থাপনাটির বিষয়টিও আমাদের সামাল দিতে হবে। চাইলে খুব দ্রুতই এসব কাজ শেষ করতে পারি।’ তবে ইরান সরকার ওই স্থানে কোনো ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক ওপায়ে সংকট সমাধানের পথও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খোলা রয়েছে। এদিকে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর আবারও হামলা চালানোর হুমকির প্রেক্ষাপটে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।