সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
৩৫০ দিন পর হারের স্বাদ পেল বার্সেলোনা

বার্সেলোনার মেয়েদের টানা ৪৫ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রা থামিয়ে দিয়েছে রেয়াল সোসিয়েদাদ। লিগা এফ-এর ম্যাচে রোববার প্রতিপক্ষের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে শিরোপাধারীরা। ৩৫০ দিনের মধ্যে তাদের প্রথম হার এটি।   ম্যাচের শুরুটা যদিও ভালো করে বার্সেলোনা। প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু পরে প্রথমার্ধেই গোল দুটি হজম করে দলটি।   বার্সেলোনা সবশেষ হেরেছিল একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে একই মাঠে! গত বছরের নভেম্বরে লিগ ম্যাচে এখানে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।   গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনা ওই একটি ম্যাচই কেবল হেরেছিল। সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগা এফ, কোপা দে লা রেইনা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ- মৌসুমে চার শিরোপার সবকটিই জিতেছিল তারা।   বার্সেলোনার ছেলেদের দল চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম ১১ ম্যাচেই জিতেছে।

২০ মিনিট আগে
দুর্দান্ত সব গোলে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ

সাত মিনিটের মধ্যে আর্দা গুল্যার ও কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত দুটি গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল রেয়াল মাদ্রিদ। বিরতির পর পানেনকা পেনাল্টিতে আরেকটি গোল করলেন ফরাসি তারকা। সেভিয়াকে উড়িয়ে শীর্ষস্থানের সঙ্গে ব্যবধান কমাল জুজে মরিনিয়োর দল।   সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে রোববার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতেছে স্পেনের সফলতম দলটি।   ইয়ান ডিওমান্ডের করা স্বাগতিকদের অন্য গোলটিও ছিল দেখার মতো। সেভিয়ার একমাত্র গোলটি করেন মানু বুয়েনো।   চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার লাইপজিগ ও লা লিগায় আগামী রোববার বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রস্তুতিটা দারুণ হলো রেয়াল মাদ্রিদের।   ৯ ম্যাচে সাত জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে এক ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠেছে মরিনিয়োর দল। তাদের চেয়ে ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে দুই নম্বরে আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।   শুরুতে কয়েক দফায় রেয়ালের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় সেভিয়া। ষোড়শ মিনিটে অল্পের জন্য গোল পায়নি সফরকারীরা। বক্সের ভেতর থেকে রুবেন ভার্গাসের জোরাল হাফ ভলি পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।   ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠে রেয়াল। ২১তম মিনিট বক্সের বাইরে থেকে এন্দ্রিকের নিচু শট সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়। দুই মিনিট পর বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডিওমান্ডের শট পাশের জালে লাগে।   ওই আক্রমণের সময় মাঝমাঠে গুল্যারের কনুইয়ের আঘাতে মাটিতে পড়ে যান সেভিয়ার ফের্নান্দেস, তাকে টেনে তুলতে যান ডিন হাউসেন। পরে রেয়ালের এই ডিফেন্ডার ও সেভিয়ার একজনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। খেলা বন্ধ থাকে বেশ কিছুক্ষণ।   ৩০তম মিনিটে গুল্যারের চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় রেয়াল। ডিওমান্ডের পাসে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে ওপরের কোণা দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তুরস্কের মিডফিল্ডার।   তিন মিনিট পর দ্বিগুণ হতে পারত ব্যবধান। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে এমবাপের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। একটু পরই চোখধাঁধানো এক গোল করেন এমবাপে।   ডান দিক থেকে ডিওমান্ডের পাস জুড বেলিংহ্যাম ব্যাকহিল ফ্লিকে বাড়ান এমবাপের উদ্দেশ্যে, বক্সের ঢোকার মুখে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দারুণভাবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে জালে পাঠান ফরাসি তারকা।   প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ সেভে জাল অক্ষত রাখেন তিবো কোর্তোয়া। বক্সের ভেতর থেকে প্রতিপক্ষের নিচু শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে আটকান বেলজিয়ান গোলরক্ষক।   ৫৫তম মিনিটে সুযোগ হারান ডিওমান্ডে। এমবাপের পাস ধরে বক্সে ঢুকে বাইরে মারেন আইভরি কোস্টের তরুণ উইঙ্গার।   ৬৩তম মিনিটে পানেনকা পেনাল্টিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপে। বক্সে তিনি নিজেই ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।   এই মৌসুমে রেয়ালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে এমবাপের গোল হলো ১১টি, যার ৯টি লা লিগায়।   ৮০তম মিনিটে একটি গোল শোধ করে লড়াইয়ে কিছুটা উত্তেজনা ফেরায় সেভিয়া। নিচু শটে গোলটি করেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা মানু বুয়েনো।   তবে দুই মিনিট পরই তিন গোলের লিড পুনরুদ্ধার করে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন ডিওমান্ডে। মাঝমাঠ থেকে অহেলিয়া চুয়ামেনির পাস বাঁ দিকে ধরে এগিয়ে যান তিনি। সামনে ছিল প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়। বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে তাদের মাঝ দিয়েই জালে পাঠান ১৯ বছর বয়সি ফুটবলার।   আসরে তৃতীয় হারের স্বাদ পেল সেভিয়া। ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে আছে তারা।

২৩ মিনিট আগে
হুতিদের ঠেকাতে ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে সমঝোতা

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতির মুখে তাদেরকে ঠেকাতে আবার সংঘাতে নামতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।   ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ান-কে জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সরকারপন্থি কিছু বাহিনীকে আবার অর্থ দেওয়া শুরু করবে আমিরাত। বিনিময়ে হুতি বিরোধী এসব বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।   ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে, নতুন এই সহযোগিতায় তা কমানোর প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, ইয়েমেনজুড়ে হুতিদের অগ্রগতি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী শাসকদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।   সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। হুতিদের এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।   ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে মূলত ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’কে একসময় প্রশিক্ষণ দিত এবং অর্থায়ন করত আরব আমিরাত। এটিকে হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম কার্যকর বাহিনী বলে গণ্য করা হয়।   তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালানো থেকে সরে যায় আরব আমিরাত। তখন জায়ান্ট ব্রিগেডসকে আমিরাতের দেওয়া অর্থায়নও বন্ধ হয়ে যায়।   ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ সপ্তাহে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের দাবি জানালেও সৌদি আরব বা আমিরাত—কেউ এ পর্যন্ত তার জবাব দেয়নি। এমন গণভোট হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যে সীমান্তে ইয়েমেন দুটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।   বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনে ব্যর্থ হয়ে আবুধাবিতে চলে যান। এরপর এসটিসির জন্য পাঠানো অস্ত্রের চালানে হামলা চালায় সৌদি আরব। পরে ইয়েমেন থেকে সব ধরনের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত।   এসটিসি এখনও পুরোনো ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের সীমানার বাইরে তাদের সেনাদের লড়তে দিতে রাজি হয়নি। তবে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে গণভোটে সম্মতি দিলে এ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হতে পারে।   ওদিকে রাজধানী সানা থেকে হুতিদের হটাতে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার। তবে মারিবের কাছে মাজজার ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি এলাকায় তাদের অগ্রগতি সীমিত।   এসটিসি নেতা জুবাইদির সঙ্গে সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই। গত জানুয়ারিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।   এ ঘটনার জবাবে এসটিসি বাহিনীর জন্য আমিরাতের পাঠানো অস্ত্রের চালানে বোমা হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব। এরপরই ইয়েমেন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও আল-জুবাইদিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেছিল।   যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পরও হুতিরা শেষ পর্যন্ত তাইজ ও মারিব দখলে নিতে সংকল্পবদ্ধ। শহর দুটি সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহর।   গত শুক্রবার হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে পড়ে। তবে এতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর এক দিন আগে এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়।   মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সৌদি আরবের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তাদেরকে রক্ষায় মিশরের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিতে পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকছেন তিনি।   তবে সিসি জোর দিয়ে বলেছেন, মিশর কোনও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। কেবল সৌদি আরবকে রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে।   সৌদি আরব সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকেও সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আলোচনা চলছে। দেশটি ইতিমধ্যেই কিছু সহায়তা পাঠিয়েছে। তবে আঞ্চলিক কূটনীতিকরা যুক্তরাজ্যকে আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।   একইসঙ্গে ওমান, কাতারসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

২৬ মিনিট আগে
সংসারের খরচ মেটাতে ঋণী দেশের ৪৭ শতাংশ পরিবার

আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেককে।    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ঋণ করেছে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ পরিবারগুলোতে এ সংকট বেশি। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল জরিপটি পরিচালনা করে।   গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রামীণ, শহরাঞ্চল ও সিটি করপোরেশন এলাকার তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।   জরিপ অনুযায়ী, গত এক বছরে গ্রামের ৫১.৯১ শতাংশ পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণ করেছে। শহরাঞ্চলে এই হার ৪০.১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২.১১ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলো বেশি আর্থিক চাপে রয়েছে।   জরিপের তথ্য বলছে, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড় আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি থাকছে এক হাজার ৭৯৮ টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে অনেক পরিবারকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে কিংবা ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অঞ্চলভেদে ব্যয়ের চিত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।   সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। শহরাঞ্চলে তা ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে মাসিক ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খাদ্য ও অর্ধেক খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়। তবে গ্রামে খাদ্য ব্যয়ের চাপ বেশি। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ব্যয়ের ৫৬.৭ শতাংশ যায় খাদ্যবহির্ভূত খাতে।   অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মহামারির পর থেকে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রবৃদ্ধি কমছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং কর্মসংস্থান স্থবির রয়েছে। কমছে মানুষের প্রকৃত মজুরি। ফলে আয় কমলেও ব্যয় বাড়ায় অনেক পরিবার ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। জীবনযাত্রার মান উন্নত নয়, বরং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিই বাড়তি ব্যয়ের কারণ। গ্রামে আয়ের সুযোগ কম থাকায় ঋণের চাপ বেশি। প্রবাস আয়ের সুফলও সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে।   এদিকে মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৮.০৫ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল।   বিশ্বব্যাংকের গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটেও অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি ও দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

২৯ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন: প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পদত্যাগ করেছেন কিংবা তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তার প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা।   রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।   বিবৃতিতে মাহফুজ কবির মুক্তা জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিয়মিতভাবে তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে তার পদত্যাগের বিষয়টিও ভিত্তিহীন।   তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অসত্য তথ্য প্রচার করছে।   সম্প্রতি নিজ সংসদীয় এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।   এ বিষয়ে প্রেস কর্মকর্তা দাবি করেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল। ওই ঘটনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।   তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রচার করা অনৈতিক এবং সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থি।   বিবৃতিতে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচারিত তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি যেসব গণমাধ্যমে পদত্যাগসংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়।   অন্যথায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
সরকার ও গণতন্ত্রকে সঠিক পথে রাখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী

সরকার, গণতন্ত্র ও রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার পাশাপাশি সমাজের অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু, নৌপরিবহণ এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি।   রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কবি হাসান হাফিজ। এতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ এবং ফটো সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিনসহ অন্যরা।   বক্তারা সাংবাদিকতার গুরুত্ব এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।   অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সপ্তাহব্যাপী ক্রীড়া উৎসবের বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি।   এ সময় দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া দৈনিক যুগান্তরের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক মুহাম্মদ ইমাম উদ্দীন হান্নানসহ বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের সংঘর্ষ, গোলাবর্ষণে উত্তেজনা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আপার কুররাম ও ঘোজগাড়হি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।   পাকিস্তানের সরকারি গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) সীমান্ত এলাকায় আফগান তালেবান সদস্যদের গোলাবর্ষণের পর পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এ সময় ভারী কামান ব্যবহার করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি সূত্র।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের পাল্টা গোলাবর্ষণে আপার কুররামের টপসার সীমান্ত পোস্ট ও শিপোলা নামের একটি ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঘোজগাড়হি এলাকায় তালেবান সদস্যরা একটি চৌকি ছেড়ে সরে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সংঘর্ষের পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সূত্রের নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।   দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুলের অবস্থান এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।   প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সরকারি হিসাবের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত বলে দাবি করা সশস্ত্র হামলায় পাকিস্তানে ১ হাজার ৩২৭ জন নিহত এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যানের উৎস ও হিসাবের পদ্ধতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।   পাকিস্তান জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে আফগান কর্তৃপক্ষের কাছে সীমান্তপারের সশস্ত্র হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।   সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

ছবি: সংগৃহীত
হকি এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বাংলাদেশের দল চূড়ান্ত, ফিরলেন নতুন তিন খেলোয়াড়

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকিকে সামনে রেখে ১৮ সদস্যের স্কোয়াড চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড ঢাকায় ফেরার পর নির্বাচক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দল নির্বাচন সম্পন্ন করেছেন।   আগামী ২৭ অক্টোবর ভারতে শুরু হবে এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই হকি প্রতিযোগিতা। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। এর আগে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন করার কথা রয়েছে।   এবারের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না বাংলাদেশের হকি খেলোয়াড়রা। সব মিলিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহের অনুশীলন নিয়েই আন্তর্জাতিক এই আসরে অংশ নিতে হচ্ছে তাদের।   এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সাধারণত এশিয়ান গেমসের শীর্ষ ছয় দল অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। সর্বশেষ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে থাকায় সরাসরি খেলার সুযোগ পায়নি। তবে পাকিস্তান ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশের সামনে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডের তুলনায় এবার দলে কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগের দল থেকে বাদ পড়েছেন সাজু ও দ্বীন ইসলাম ইমন। অন্যদিকে নতুন করে সুযোগ পেয়েছেন আব্দুল্লাহ, তৈয়ব ও আবেদ উদ্দিন।   দল চূড়ান্ত হলেও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির সময় স্বল্পতা এবং সফরের আগে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   বাংলাদেশের খেলোয়াড় তালিকা: বিপ্লব কুজুর, আশরাফুল হক সাদ, হুজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করীম বাবু, ওবায়দুল হাসান জয়, খালেদ মাহমুদ রাকিন, পুষ্কর ক্ষিসা মিমো, রাকিবুল হাসান, মাহবুব হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, ফরহাদ আহমেদ, রোমান সরকার, রাসেল মাহমুদ জিমি, সোহানুর রহমান ও আবেদ উদ্দিন। আসন্ন প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স দেখানোই হবে বাংলাদেশ দলের বড় চ্যালেঞ্জ।

ছবি: সংগৃহীত
হুতিদের ঠেকাতে ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে সমঝোতা

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতির মুখে তাদেরকে ঠেকাতে আবার সংঘাতে নামতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।   ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ান-কে জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সরকারপন্থি কিছু বাহিনীকে আবার অর্থ দেওয়া শুরু করবে আমিরাত। বিনিময়ে হুতি বিরোধী এসব বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।   ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে, নতুন এই সহযোগিতায় তা কমানোর প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, ইয়েমেনজুড়ে হুতিদের অগ্রগতি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী শাসকদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।   সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। হুতিদের এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।   ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে মূলত ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’কে একসময় প্রশিক্ষণ দিত এবং অর্থায়ন করত আরব আমিরাত। এটিকে হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম কার্যকর বাহিনী বলে গণ্য করা হয়।   তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালানো থেকে সরে যায় আরব আমিরাত। তখন জায়ান্ট ব্রিগেডসকে আমিরাতের দেওয়া অর্থায়নও বন্ধ হয়ে যায়।   ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ সপ্তাহে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের দাবি জানালেও সৌদি আরব বা আমিরাত—কেউ এ পর্যন্ত তার জবাব দেয়নি। এমন গণভোট হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যে সীমান্তে ইয়েমেন দুটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।   বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনে ব্যর্থ হয়ে আবুধাবিতে চলে যান। এরপর এসটিসির জন্য পাঠানো অস্ত্রের চালানে হামলা চালায় সৌদি আরব। পরে ইয়েমেন থেকে সব ধরনের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত।   এসটিসি এখনও পুরোনো ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের সীমানার বাইরে তাদের সেনাদের লড়তে দিতে রাজি হয়নি। তবে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে গণভোটে সম্মতি দিলে এ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হতে পারে।   ওদিকে রাজধানী সানা থেকে হুতিদের হটাতে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার। তবে মারিবের কাছে মাজজার ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি এলাকায় তাদের অগ্রগতি সীমিত।   এসটিসি নেতা জুবাইদির সঙ্গে সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই। গত জানুয়ারিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।   এ ঘটনার জবাবে এসটিসি বাহিনীর জন্য আমিরাতের পাঠানো অস্ত্রের চালানে বোমা হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব। এরপরই ইয়েমেন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও আল-জুবাইদিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেছিল।   যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পরও হুতিরা শেষ পর্যন্ত তাইজ ও মারিব দখলে নিতে সংকল্পবদ্ধ। শহর দুটি সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহর।   গত শুক্রবার হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে পড়ে। তবে এতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর এক দিন আগে এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়।   মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সৌদি আরবের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তাদেরকে রক্ষায় মিশরের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিতে পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকছেন তিনি।   তবে সিসি জোর দিয়ে বলেছেন, মিশর কোনও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। কেবল সৌদি আরবকে রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে।   সৌদি আরব সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকেও সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আলোচনা চলছে। দেশটি ইতিমধ্যেই কিছু সহায়তা পাঠিয়েছে। তবে আঞ্চলিক কূটনীতিকরা যুক্তরাজ্যকে আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।   একইসঙ্গে ওমান, কাতারসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হুতিদের ঠেকাতে ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে সমঝোতা
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতির মুখে তাদেরকে ঠেকাতে আবার সংঘাতে নামতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।   ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ান-কে জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সরকারপন্থি কিছু বাহিনীকে আবার অর্থ দেওয়া শুরু করবে আমিরাত। বিনিময়ে হুতি বিরোধী এসব বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।   ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে, নতুন এই সহযোগিতায় তা কমানোর প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, ইয়েমেনজুড়ে হুতিদের অগ্রগতি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী শাসকদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।   সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। হুতিদের এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।   ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে মূলত ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’কে একসময় প্রশিক্ষণ দিত এবং অর্থায়ন করত আরব আমিরাত। এটিকে হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম কার্যকর বাহিনী বলে গণ্য করা হয়।   তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালানো থেকে সরে যায় আরব আমিরাত। তখন জায়ান্ট ব্রিগেডসকে আমিরাতের দেওয়া অর্থায়নও বন্ধ হয়ে যায়।   ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ সপ্তাহে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের দাবি জানালেও সৌদি আরব বা আমিরাত—কেউ এ পর্যন্ত তার জবাব দেয়নি। এমন গণভোট হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যে সীমান্তে ইয়েমেন দুটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।   বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনে ব্যর্থ হয়ে আবুধাবিতে চলে যান। এরপর এসটিসির জন্য পাঠানো অস্ত্রের চালানে হামলা চালায় সৌদি আরব। পরে ইয়েমেন থেকে সব ধরনের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত।   এসটিসি এখনও পুরোনো ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের সীমানার বাইরে তাদের সেনাদের লড়তে দিতে রাজি হয়নি। তবে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে গণভোটে সম্মতি দিলে এ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হতে পারে।   ওদিকে রাজধানী সানা থেকে হুতিদের হটাতে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার। তবে মারিবের কাছে মাজজার ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি এলাকায় তাদের অগ্রগতি সীমিত।   এসটিসি নেতা জুবাইদির সঙ্গে সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই। গত জানুয়ারিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।   এ ঘটনার জবাবে এসটিসি বাহিনীর জন্য আমিরাতের পাঠানো অস্ত্রের চালানে বোমা হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব। এরপরই ইয়েমেন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও আল-জুবাইদিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেছিল।   যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পরও হুতিরা শেষ পর্যন্ত তাইজ ও মারিব দখলে নিতে সংকল্পবদ্ধ। শহর দুটি সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহর।   গত শুক্রবার হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে পড়ে। তবে এতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর এক দিন আগে এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়।   মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সৌদি আরবের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তাদেরকে রক্ষায় মিশরের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিতে পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকছেন তিনি।   তবে সিসি জোর দিয়ে বলেছেন, মিশর কোনও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। কেবল সৌদি আরবকে রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে।   সৌদি আরব সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকেও সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আলোচনা চলছে। দেশটি ইতিমধ্যেই কিছু সহায়তা পাঠিয়েছে। তবে আঞ্চলিক কূটনীতিকরা যুক্তরাজ্যকে আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।   একইসঙ্গে ওমান, কাতারসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের সংঘর্ষ, গোলাবর্ষণে উত্তেজনা
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আপার কুররাম ও ঘোজগাড়হি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।   পাকিস্তানের সরকারি গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) সীমান্ত এলাকায় আফগান তালেবান সদস্যদের গোলাবর্ষণের পর পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এ সময় ভারী কামান ব্যবহার করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি সূত্র।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের পাল্টা গোলাবর্ষণে আপার কুররামের টপসার সীমান্ত পোস্ট ও শিপোলা নামের একটি ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঘোজগাড়হি এলাকায় তালেবান সদস্যরা একটি চৌকি ছেড়ে সরে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সংঘর্ষের পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সূত্রের নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।   দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুলের অবস্থান এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।   প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সরকারি হিসাবের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত বলে দাবি করা সশস্ত্র হামলায় পাকিস্তানে ১ হাজার ৩২৭ জন নিহত এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যানের উৎস ও হিসাবের পদ্ধতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।   পাকিস্তান জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে আফগান কর্তৃপক্ষের কাছে সীমান্তপারের সশস্ত্র হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।   সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে অস্থিরতা অব্যাহত, প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬

ফ্রান্সে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শনিবারের সহিংসতার রেশ ধরে রোববারও রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত, পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে।   রোববার (১৮ অক্টোবর) প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরে কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন দোকানে লুটপাট, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।   জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য এবং জনসেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত। তবে বিক্ষোভের একাংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কারে বিশেষ উদ্যোগ শনিবারের সহিংসতার পর প্যারিসের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিষ্কার করতে নগর কর্তৃপক্ষ প্রায় এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত করেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিতে একটি বিশেষ সহায়তা সেল গঠন করা হয়েছে। বিক্ষোভের কারণে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। অনেক ব্যবসায়ীকে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে পড়তে হয়েছে।   দেশজুড়ে গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা জোরদার ফরাসি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিস অঞ্চলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৮৫৫ বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন শহরে শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   আন্দোলনের দাবি ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ আন্দোলনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে বিক্ষোভের পাশাপাশি লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়ীদের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা এবং সহিংসতা প্রতিরোধ—দুই ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষকে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমানে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট অসন্তোষ নিরসনে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর।

ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা ও উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে সাগরে নেমেছেন শত শত জেলে। ছবি: সংগৃহীত
আইফোনের লোভে হরমুজ প্রণালিতে জেলেদের ভিড়
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৮, ২০২৬

ইরানের উপকূলে ডুবে গেছে পণ্যবাহী জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’। জাহাজটিতে থাকা আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা ও উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে সাগরে নেমেছেন শত শত জেলে। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন এলাকায় এ দৃশ্য দেখা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমরা হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছি। শুনেছি, একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। তাই আইফোন ও সুগন্ধি সংগ্রহ করতে যাচ্ছি।   ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, পানিতে আংশিক ডুবে থাকা কনটেইনারের মধ্য দিয়ে নৌকা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলেরা। তারা পানির ভেতর থেকে বাক্স টেনে তোলার চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে ছোট একটি নৌকাকে আস্ত একটি কনটেইনার টেনে নেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।   যেভাবে ডুবল জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইডে আগুন লাগার পর সেটি ডুবে যায় বলে জানিয়েছে দেশটি। জাহাজটিতে থাকা ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।   তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজটি ‘অনুমোদনহীন ও বিপজ্জনক’ পথে চলছিল। একপর্যায়ে সেটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত করলে আগুন ধরে যায়।   ডুবে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে আড়াই হাজারের বেশি কনটেইনার ছিল।   হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। যুদ্ধ শুরুর পর আইআরজিসির হামলার তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক জাহাজ ডুবেছে।   যুদ্ধ শুরুর পর জিএফএস প্রাইড ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় জাহাজ। আর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি তৃতীয় ডুবন্ত জাহাজ। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হামলায় ডুবে যায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজ ‘কেপ দাও’।   আইআরজিসির নৌবাহিনী ওই এলাকা থেকে জাহাজগুলোকে দূরে থাকার সতর্কতা দিয়েছে। পাশাপাশি পানিতে ভেসে থাকা কনটেইনারের আশপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় জেলেদেরও সতর্ক থাকতে বলেছে।   তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

শিক্ষা
স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ