সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
সাধারণ সিম নাকি ই-সিম, ফোন কেনার আগে জেনে নিন কোনটি ভালো

স্মার্টফোনে এখন সাধারণ সিমের পাশাপাশি ই-সিমের ব্যবহারও বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন ফোন কেনার সময় অনেকেই দ্বিধায় পড়েন, কোনটি ব্যবহার করা বেশি সুবিধাজনক হবে। কারণ, দুই ধরনের সিমেরই রয়েছে কিছু ভালো দিক ও সীমাবদ্ধতা। তাই ফোন কেনার আগে এদের কাজের ধরন, সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।   সাধারণ সিম কী এবং কীভাবে কাজ করে? সাধারণ সিম হলো ছোট আকারের একটি প্লাস্টিকের কার্ড, যার মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এটি ফোনের নির্দিষ্ট সিম স্লটে প্রবেশ করালেই মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়।   এই সিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সহজে এক ফোন থেকে অন্য ফোনে ব্যবহার করা যায়। নতুন ফোন কিনলে পুরোনো সিমটি খুলে নতুন ফোনে লাগালেই সাধারণত সংযোগ পাওয়া যায়। এ জন্য অপারেটরের কাছে যাওয়ার বা নতুন করে সিম চালু করার প্রয়োজন হয় না।   তবে সাধারণ সিমের কিছু অসুবিধাও রয়েছে। ছোট হওয়ায় এটি হারিয়ে যেতে পারে। ফোন থেকে খোলা বা লাগানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এ ছাড়া ফোনে সিম রাখার জন্য আলাদা স্লট প্রয়োজন হয়।   ই-সিম কী এবং এর সুবিধা কী? ই-সিম মূলত একটি ডিজিটাল সিম, যা স্মার্টফোনের ভেতরেই স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকে। এতে সাধারণ সিমের মতো কোনো প্লাস্টিকের কার্ড ব্যবহার করতে হয় না। মোবাইল অপারেটরের দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এটি চালু করা যায়।   ই-সিমের অন্যতম সুবিধা হলো এটি হারিয়ে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়ার ভয় নেই। ফোন চুরি হলেও চোর সহজে সিম খুলে ফেলতে পারে না। ফলে ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু থাকলে সেটি খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হতে পারে।   এ ছাড়া ই-সিম ব্যবহারে ফোনের সিম স্লটের প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে একই ফোনে একাধিক সিম প্রোফাইল সংরক্ষণ করার সুবিধাও পাওয়া যায়।   তবে ই-সিমের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণ সিমের মতো খুলে অন্য ফোনে লাগানো যায় না। নতুন ফোনে ব্যবহার করতে হলে অপারেটরের নিয়ম অনুযায়ী আবার সক্রিয় করতে হতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সব স্মার্টফোন ও মোবাইল অপারেটরে ই-সিম ব্যবহারের সুবিধা নেই।   আপনার প্রয়োজন কোন সিম? কোন সিম ব্যবহার করবেন তা মূলত আপনার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।  আপনি যদি প্রায়ই ফোন পরিবর্তন করেন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে সহজে এক ফোন থেকে অন্য ফোনে সিম ব্যবহার করতে চান, তাহলে সাধারণ সিম আপনার জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।   অন্যদিকে, আপনি যদি ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা নিতে চান এবং সিম কার্ড হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝামেলা এড়াতে চান, তাহলে ই-সিম বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় বিভিন্ন দেশের মোবাইল সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ই-সিম বেশ সুবিধাজনক হতে পারে।   তবে ই-সিম নেওয়ার আগে আপনার ফোনের মডেলে এই সুবিধা আছে কিনা এবং আপনার মোবাইল অপারেটর ই-সিম সেবা দিচ্ছে কিনা, তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।   সাধারণ সিম ও ই-সিমের মধ্যে কোনটি সেরা, তার নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। যারা সহজে সিম পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য সাধারণ সিম সুবিধাজনক। আর যারা বাড়তি নিরাপত্তা, সহজ ডিজিটাল ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা চান, তাদের জন্য ই-সিম ভালো পছন্দ হতে পারে। তাই নতুন ফোন কেনার সময় নিজের ব্যবহার, প্রয়োজন এবং অপারেটরের সুবিধা বিবেচনা করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। 

৪৯ মিনিট আগে
অস্বাস্থ্যকর খাবার কি ক্যানসার চিকিৎসার কার্যকারিতা কমায়? যা বলছে গবেষণা

খাদ্যাভ্যাস ও ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যে এক অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব খাবার সাধারণত অস্বাস্থ্যকর বা ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়, সেসব খাবারের কিছু ইঁদুরের শরীরে ক্যানসারের একটি প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।   এই আবিষ্কার থেকে গবেষকেরা ধারণা করছেন, ক্যানসার চিকিৎসার সাফল্য শুধু অন্ত্রে কী ধরনের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং এসব ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকতে ও বেড়ে উঠতে কী ধরনের খাবার পাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং রোজালিন্ড অ্যান্ড মরিস গুডম্যান ক্যানসার ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড্যানিয়েলা কুয়েল বলেন, ‘আমাদের পরিপাকতন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া এবং আমরা যে খাবার খাই, তাদের মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সঠিক সমন্বয় থাকলেও সেগুলোকে পুষ্টি জোগাতে আমরা কী ধরনের খাবার খাচ্ছি, তার ওপর নির্ভর করতে পারে চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার বিষয়টি।’   কুয়েল ও তার সহকর্মীরা গবেষণাটিতে পরীক্ষা করেছেন, খাদ্যাভ্যাস কীভাবে ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর নামের ওষুধের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এসব ওষুধ ক্যানসার ইমিউনোথেরাপিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। এগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।   গবেষণায় ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী লোগান ওয়ালশ এবং সিআর-সিএইচইউএমের গবেষক বার্ট্রান্ড রুতি ও অ্যারিয়েল এলক্রিফও যুক্ত ছিলেন। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার-এ প্রকাশিত হয়েছে।   অস্বাস্থ্যকর খাবারে কেন মিলল ইতিবাচক ফল? গবেষণার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, ওজন বাড়ায় এমন কিছু খাদ্যাভ্যাস ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। এই ফলাফল পুষ্টি ও ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।   ড্যানিয়েলা কুয়েল বলেন, ‘আমাদের গবেষণার ফলাফল বিস্ময়কর। কারণ, এতে দেখা গেছে, স্থূলতা বাড়াতে পারে—এমন কিছু খাদ্যাভ্যাসেরও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এটি প্রমাণ করে, ক্যানসার চিকিৎসায় খাদ্যের ভূমিকা শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ব্যায়াম করার পরামর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিষয়টি আরও জটিল।’   তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে ক্যানসার রোগীদের ওজন বাড়ায় এমন খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ওজনের কারণে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তা ছাড়া ইঁদুরের ওপর পাওয়া এই ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর হবে, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।   গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো, বিভিন্ন ধরনের খাবার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা বোঝা।    স্থূলতা নিয়ে ক্যানসার গবেষণায় নতুন ব্যাখ্যা গবেষণাটি শুরু হয়েছিল ক্যানসারবিষয়ক একটি দীর্ঘদিনের রহস্যের সূত্র ধরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি অবেসিটি প্যারাডক্স বা স্থূলতার আপাতবিরোধী প্রভাব নামে পরিচিত।   সাধারণভাবে স্থূলতা ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং ক্যানসারে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ায়। কিন্তু কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ক্যানসার রোগীর বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) তুলনামূলক বেশি, তারা কখনো কখনো ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর চিকিৎসায় ভালো সাড়া দেন।   এই রহস্যের কারণ খুঁজতে গবেষকেরা ইঁদুরের ওপর ১২ ধরনের খাদ্যাভ্যাস পরীক্ষা করেন। এতে দেখা যায়, স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু খাদ্যাভ্যাস ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়িয়েছে। এমনকি অল্প সময় ধরে এসব খাবার খাওয়ানোর পরও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে।   গবেষকদের ধারণা, স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ক্যানসার চিকিৎসায় ভালো সাড়া পাওয়ার পেছনে শুধু অতিরিক্ত শারীরিক ওজন দায়ী নয়। বরং খাদ্যাভ্যাস ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সম্মিলিত প্রভাব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিবর্তন করতে পারে, যা চিকিৎসার কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে।   এই পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে স্থূলতার স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই ইমিউনোথেরাপির ইতিবাচক প্রভাব পাওয়ার নতুন উপায় বের করা সম্ভব হতে পারে।   সূত্র: সাইন্স ডেইলি

৫১ মিনিট আগে
স্মার্টফোন কেনার আগে র‌্যামের বাইরেও যে বিষয়গুলো দেখবেন

নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্রথমেই জানতে চান, ফোনটিতে কত জিবি র‌্যাম রয়েছে। ৮ জিবি, ১২ জিবি কিংবা ১৬ জিবি র‌্যামের বিজ্ঞাপনও এখন বেশ চোখে পড়ে। ফলে অনেকের মধ্যেই ধারণা তৈরি হয়েছে, র‌্যাম যত বেশি হবে, ফোনের গতিও তত বেশি হবে। তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। একটি স্মার্টফোন কতটা দ্রুত ও সাবলীলভাবে কাজ করবে, তা শুধু র‌্যামের ওপর নির্ভর করে না। প্রসেসর, স্টোরেজ, সফটওয়্যারসহ আরও বেশ কিছু বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   তাই ফোন কেনার সময় র‌্যামের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর কাজ এবং পারফরম্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়গুলোও জেনে নেওয়া প্রয়োজন।   র‌্যামের কাজ কী? র‌্যাম বা র‌্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি হলো ফোনের অস্থায়ী মেমোরি। ব্যবহারকারী যখন একাধিক অ্যাপ চালু রাখেন, তখন সেগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সাময়িকভাবে র‌্যামে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়ার পর আগের অ্যাপে ফিরে এলে সেটি অনেক সময় আগের অবস্থাতেই পাওয়া যায়।   ফোনের গতিতে প্রসেসরের ভূমিকা বেশি স্মার্টফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নির্ধারণে প্রসেসর বা চিপসেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ চালানো, গেম খেলা, ছবি তোলা কিংবা ভিডিও সম্পাদনার মতো কাজগুলো কত দ্রুত হবে, তার বড় একটি অংশ প্রসেসরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।   এ কারণে ৮ জিবি র‌্যাম থাকা পুরোনো চিপসেটের ফোনের তুলনায় ৬ জিবি র‌্যামের আধুনিক প্রসেসরযুক্ত ফোন ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।   ফোন কেনার সময় শুধু প্রসেসরের ব্র্যান্ড নয়, নির্দিষ্ট মডেল, প্রজন্ম ও সক্ষমতাও যাচাই করা উচিত। স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি, অ্যাপল এ-সিরিজ কিংবা এক্সিনোসের বিভিন্ন চিপসেটের মধ্যে পারফরম্যান্সের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গেমিং বা ভারী কাজের জন্য ফোন কিনলে চিপসেটের বাস্তব পারফরম্যান্স সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি।   স্টোরেজের গতিও প্রভাব ফেলে ফোনের স্টোরেজ বলতে সাধারণত ছবি, ভিডিও, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইল রাখার জায়গাকে বোঝানো হয়। তবে স্টোরেজের ধারণক্ষমতার পাশাপাশি এর প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।   বর্তমানে স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। যেমন, ইএমএমসি তুলনামূলক ধীরগতির। অন্যদিকে ইউএফএস ২.২, ইউএফএস ৩.৩ এবং ইউএফএস ৪.০ ক্রমান্বয়ে আরও উন্নত গতি দিতে পারে।   দ্রুত স্টোরেজ থাকলে অ্যাপ চালু করা, বড় ফাইল স্থানান্তর এবং গেম লোড করার মতো কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে বেশি র‌্যাম থাকা সত্ত্বেও ধীরগতির স্টোরেজযুক্ত ফোনে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স নাও পাওয়া যেতে পারে।   সফটওয়্যারের মানও গুরুত্বপূর্ণ একই পরিমাণ র‌্যাম ও কাছাকাছি হার্ডওয়্যার থাকা সত্ত্বেও দুটি ফোনের ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় পার্থক্য দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন।   ফোনের অপারেটিং সিস্টেম, ইউজার ইন্টারফেস এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপগুলো র‌্যাম ও প্রসেসরের ওপর প্রভাব ফেলে। কিছু ফোনে অতিরিক্ত প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ এবং ভারী ইউজার ইন্টারফেস থাকায় সিস্টেমের রিসোর্স বেশি ব্যবহার হয়।   অন্যদিকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করা সফটওয়্যার তুলনামূলক সীমিত হার্ডওয়্যারেও সাবলীল অভিজ্ঞতা দিতে পারে। এ কারণেই আইফোনের মতো ডিভাইসে তুলনামূলক কম র‌্যাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্স দেখা যায়।   তাই ফোন কেনার আগে শুধু স্পেসিফিকেশন না দেখে সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, আপডেট সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সের রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো।   ভার্চুয়াল র‌্যাম কি সত্যিই কাজে আসে? বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনে ৮ জিবি র‌্যামের পাশাপাশি আরও ৮ জিবি এক্সটেন্ডেড বা ভার্চুয়াল র‌্যামের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে মোট ১৬ জিবি র‌্যাম মনে হলেও বিষয়টি আসলে তেমন নয়।   ভার্চুয়াল র‌্যাম তৈরির জন্য ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের একটি অংশ ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি অস্থায়ী মেমোরির মতো কাজ করতে পারে। তবে স্টোরেজের গতি প্রকৃত র‌্যাম তুলনায় অনেক কম।   ফলে ভার্চুয়াল র‌্যাম কিছু পরিস্থিতিতে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করলেও এটি প্রকৃত  বিকল্প হতে পারে না। তাই ৮ জিবি র‌্যামের ফোনে ভার্চুয়াল র‌্যাম যোগ করে ১৬ জিবি হিসেবে প্রচার করা হলে সেটিকে আসল ১৬ জিবি র‌্যাম মনে করা ঠিক হবে না।   স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন একটি ভালো স্মার্টফোন বেছে নিতে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রসেসর: চিপসেটের মডেল, প্রজন্ম ও পারফরম্যান্স সম্পর্কে জেনে নিন। স্টোরেজ: ফোনে ইএমএমসি নাকি ইউএফএস স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে, তা যাচাই করুন।   ডিসপ্লে: পর্দার রিফ্রেশ রেট, রেজল্যুশন ও প্যানেলের মান দেখে নিন। ব্যাটারি: ব্যাটারির ধারণক্ষমতার পাশাপাশি চার্জিং প্রযুক্তি ও ব্যাকআপ কেমন, তা বিবেচনা করুন। সফটওয়্যার আপডেট: ফোনটি কত দিন অ্যান্ড্রয়েড ও নিরাপত্তা আপডেট পাবে, সেটি জেনে নিন।   বাস্তব অভিজ্ঞতা: কেনার আগে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলের রিভিউ দেখুন। সম্ভব হলে দোকানে ফোনটি নিজে ব্যবহার করে দেখুন। ওয়ারেন্টি ও দাম: অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং বর্তমান বাজারদর যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।   স্মার্টফোনের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য র‌্যাম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটিই সবকিছু নয়। শক্তিশালী প্রসেসর, দ্রুত স্টোরেজ এবং উন্নত সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন একসঙ্গে কাজ করেই একটি ফোনকে দ্রুত ও সাবলীল করে তোলে। তাই শুধু বিজ্ঞাপনে বড় করে লেখা র‌্যামের সংখ্যা দেখে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নিজের ব্যবহারের ধরন, প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সঠিক সমন্বয়ের ফোন বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। 

৫৬ মিনিট আগে
মাইকে ঘোষণা দিয়ে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।   এ ঘটনায় ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   সোমবার বিকাল ৪টায় উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোনা মহলদার মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ৬ ছেলে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফেরেন। এরপর স্থানীয় সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার ও নুরু মহলদারসহ কয়েক ব্যক্তি হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।   ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে তাদের দাদা হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড হওয়ার সময় মূল দাগটি তিনটি দাগে বিভক্ত হয়। তবে কবরস্থানের জমি এবং তাদের মার্কেটের জমির দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। কবরস্থানের জমির সঙ্গে মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই। রাস্তাসংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি করা হলেও প্রতিপক্ষ জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।   স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার বিকালে হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে একত্র করা হয়। পরে তাদের দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুট করা হয়।   ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, আমাদের দাদা কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন; কিন্তু বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও দোকানপাট রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই।   তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোনা মহলদার বলেন, ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। তারা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।   দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ভাঙচুরের বিষয়টিও জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

১ ঘন্টা আগে
ফাইল ছবি
জাতীয়
শিল্পের স্বার্থে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা।   তারা বলেছেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।   বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।   ফজলুল হক বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান ছিল। ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় ৫ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মালিকপক্ষও তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মেনে নিয়েছিল।   আগামী জানুয়ারিতে তিন বছরের এ সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি মিছিল বা আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমাধান করতে হবে। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।   শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফজলুল হক বলেন, শুধু বেতন বাড়ানোর দাবি করলেই হবে না, শিল্পের সেই বাড়তি ব্যয় বহনের সক্ষমতা রয়েছে কী না, সেটিও দেখতে হবে।   শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান নিয়মতান্ত্রিক পথেই হওয়া উচিত। সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দু’জন করে প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা রাখা প্রয়োজন।   কারখানা বন্ধের সংখ্যা সম্পর্কে ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ মুহূর্তে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকাই সমীচীন।   এদিকে, রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর বর্তমান কমিটির নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই চলমান আন্দোলনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করা প্রয়োজন।   ফজলে শামীম এহসান বলেন, মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের দাবি ও এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।   শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

পদ্মা সেতু হবে ওয়াই টাইপ (প্রতীকী ছবি)
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে ওয়াই-আকৃতিতে

পদ্মা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি হবে ওয়াই-টাইপের সেতু। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় সেতুর মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া যমুনা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।   মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার।   তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং ভৌত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির জন্য সভাটি হয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ব্যারাজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।   পদ্মা ব্যারাজ ও ওয়াই-টাইপ সেতুর মধ্যে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, কিংবা একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত হয়, পদ্মা ব্যারাজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলবে। একই সঙ্গে ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নির্মাণ করা হবে।   শেখ রবিউল আলম জানান, প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলমান রয়েছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল ডিজাইন) তৈরি এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে। এরপর শুরু হবে ভৌত কাজ।   পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনেক দূর এগিয়েছে এবং এরই মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। বিস্তারিত নকশা তৈরির পর্যায়ে কাছাকাছি এলাকায় পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণে প্রকল্প দুটির মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।   এর আগে ২০২২ সালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রথম পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এরপর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের সঙ্গে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের সংযোগ স্থাপনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আলোচনা সামনে আসে। এই সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব কমবে।   জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় ১৯৯৯ সালে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সেতুর প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়। ২০০৫ সালের মে মাসে এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে।   ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে অর্থ চাওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।   দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মঙ্গলবারের সভায় পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।   এদিকে যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করতে এই সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।   সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল, সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত
দেশ ছাড়লেন কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযুক্ত প্রসিকিউটর

‘কোটি টাকা ঘুস চাওয়া’র অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্ত চলার মধ্যেই সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। গত ৩১ অক্টোবর সাইমুম দেশ ছাড়েন—এ বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকরা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চান।   জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, সাইমুমের বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাই তিনি কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই।   এদিকে, দেশ ছাড়ার বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাইমুম রেজা তালুকদার। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘কিছুই জিজ্ঞেস করে নাই। এসব নিউজ আর করার দরকার নাই ভাই, আমার মেজাজ গরম।’   ইতালি যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কে বলছে ইতালি চলে গেছি? আমার এসব নিয়া কথা বলার ইচ্ছা নাই।’   জুলাই গণ-অভ্যুত্থয়ের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে সাইমুমের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাকে ওই মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। তবে ট্রাইব্যুনালের অন্য দায়িত্বে বহাল ছিলেন তিনি।   পরে গত ৯ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বরাবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন সাইমুম। আমিনুল ইসলাম আবেদনটি মঞ্জুর করে মন্ত্রণালয়ে পাঠান। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের আদেশে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।   আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই সাইমুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।’   ঘুস চাওয়ার অভিযোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমাণিত হয়েছে বলে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ঘুস দেওয়া ও নেওয়া দুটিই অপরাধ। যারা তাকে অর্থ দিয়ে থাকবেন, তাদেরও দায় রয়েছে।   ঘুসের অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হওয়ার পর গত ১০ মার্চ আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুস চাওয়ার অভিযোগসহ পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।   কমিটি ১১ মার্চ প্রথম বৈঠক করলেও গত আট মাসে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। প্রতিবেদন দিতে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তিনিও কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এ ছাড়া কমিটির আরেক প্রসিকিউটর তার মায়ের মৃত্যুর কারণে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।’   সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অন্য অভিযোগগুলোও কমিটি খতিয়ে দেখছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম। নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে না পারলেও যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংগৃহীত ছবি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

বাজারে গিয়ে মাছ-মাংসের দাম শুনে ফিরে আসতে হচ্ছে অনেককে। সন্তানের পছন্দের খাবার কেনার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্যে কুলাচ্ছে না। কোনো পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংস, আবার কারও সংসারে চাল, ডাল আর আলুই হয়ে উঠেছে প্রধান ভরসা। এমনকি কোনো কোনো পরিবারে সন্তানের জন্য দুধ কেনার টাকাও জুটছে না। সংসারের খরচ সামলাতে কেউ কমিয়েছেন খাবারের পরিমাণ, কেউ বাদ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় পণ্য। তবু মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না স্বল্প আয়ের মানুষ।   নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্তরাও। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযুদ্ধে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন সংকট। একদিকে বাজারের বাড়তি খরচ, অন্যদিকে যাতায়াত, রান্না ও অন্যান্য ব্যয়। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি আয়। বরং কারও কারও কাজ ও উপার্জন কমেছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে বিলাসিতা তো দূরের কথা, মৌলিক প্রয়োজনেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। কমছে খাবারের বৈচিত্র্য, সঞ্চয়ে পড়ছে টান, অপূর্ণ থাকছে সন্তানের আবদার।   রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা, বিক্রেতা ও নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমন চিত্র। তাদের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট, দ্রব্যমূল্যের চাপ এখন আর শুধু বাজারের হিসাব নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, খাদ্যাভ্যাস ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সংকট।   ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রিফাতের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে তার ব্যবসায়ও। আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা নেমে এসেছে প্রায় তিন হাজার টাকায়। আয় কমে যাওয়ায় সংসার ও ব্যবসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।   রিফাত বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। আগে যে আয় হতো, এখন তা হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় জিনিসও কিছুটা ত্যাগ করতে হচ্ছে। কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি, আর কি।’   রাস্তার পাশের আরেক দোকানি মিজানের অবস্থা আরও করুণ। আগে সপ্তাহে এক-দুবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন সবজি কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দৈনিক আয় ছয় থেকে সাতশ টাকা হলেও খরচ হচ্ছে সাত থেকে আটশ টাকা। ঘাটতি মেটাতে খাবারের খরচ কমানো ছাড়া উপায় নেই তার।   মিজান বলেন, ‘আমরা নিম্নমধ্যবিত্তরা বেশি কষ্টে আছি। অতি নিম্নবিত্তরা কারও কাছে হাত পাততে পারে, কিন্তু আমরা তো পারি না। সন্তানের আবদার পূরণ করা তো দূরের কথা, প্রয়োজনও ঠিকমতো মেটাতে পারছি না।’   বাজারের বাড়তি খরচে দিশাহারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মধ্যবিত্তরাও। এক দম্পতি জানান, বাজারে ঢুকলেই অন্তত দুই হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই চলে যায় পাঁচশ টাকা। মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতন হলে বাজারের খরচেই ব্যয় হয় অর্ধেকের বেশি। এরপর যাতায়াত ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় তো রয়েছেই।   একটি পোশাক কারখানায় মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজ করেন সাইফ। তার মতে, পণ্যের দাম বাড়ারও একটি সহনীয় সীমা রয়েছে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে মানুষের পক্ষে আগের জীবনযাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।   সাইফ বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার। আবেগের জায়গা থেকে সব সময় যেটা খেতে অভ্যস্ত, সেটাই খেতে চাই। কিন্তু সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের চাহিদার সঙ্গেও আপস করতে হচ্ছে। একেবারে খাওয়া বন্ধ করার সুযোগ নেই, তাই কমিয়ে-বাড়িয়ে খেতে হচ্ছে।’   আগে কম টাকায় বেশি পণ্য কেনা গেলেও এখন কেনাকাটায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বাজারে এসে বেশি দাম দেখে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই ফিরতে হয়। আবার একান্ত প্রয়োজনের কারণে কোনো কোনো পণ্য বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।   খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, ক্রেতারা আগের মতো কেনাকাটা করছেন না। অনেকে প্রয়োজনের তালিকা ছোট করেছেন, কমিয়েছেন পণ্যের পরিমাণ। আহাদ আলী নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘ক্রেতা খুবই কম। সবাই হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। আমরা পাইকারিতে আগে যে দামে পণ্য কিনতাম, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।’   তিনি বলেন, গত এক বছরে পাম তেল ও পোলাওয়ের চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে পাইকারিতে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে পাম তেল কিনতেন। এখন সেই দামে আর কিনতে পারছেন না। ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দরে। বিক্রির দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৮৫ থেকে ১৮৬ টাকায়।   মাছ বিক্রেতা শাকিলের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে ১৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে মোটামুটি ভালো পরিমাণে বাজার করা যেত। এখন শুধু সবজি কিনতেই পাঁচশ টাকা খরচ হয়ে যায়। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য হচ্ছে না।’   দিনমজুর আমীন আলীর জীবনেও সংকটের শেষ নেই। আগে একটি কাজ করে পাঁচ থেকে আটশ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এখন কাজই পান কম, পেলেও অনেক সময় আয় হয় মাত্র চার-পাঁচশ টাকা। সেই টাকায় সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো এবং রান্নার জ্বালানির ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।   আমীন আলী বলেন, ‘আমাদের জীবন অনেক কষ্টে আছে। কাজ পাই না। যা আয় হয়, তাতে অনেক কষ্টেই চলছি।’ গরুর মাংসের কথা উঠতেই আক্ষেপ ঝরে তার কণ্ঠে। বলেন, ‘গরুর মাংস আমাদের জন্য না, এটা বড় লোকদের খাবার। আমার আয় যদি ছয়-সাতশ টাকা হয় আর গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, তাহলে এক কেজি গরুর মাংস কিনলে চাল-তেল কিনব কিভাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে মাসে দুইবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন একবারও পারি না। আমাদের মতো মানুষের এখন দুই-বেলা চাল, ডাল কেনাই কঠিন।’ তার ভাষ্য, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য চাল, ডাল, তেল, আলু—এই চারটি জিনিসের দাম কমলেই আমরা খুশি। আমাদের আর কিছু লাগবে না।’   সংসারের টানাপোড়েনের সবচেয়ে নির্মম চিত্র উঠে আসে এক মধ্যবয়স্ক বাবার কথায়। পাঁচ বছর আগেও সীমিত আয়ে সংসার চালানো তুলনামূলক সহজ ছিল। এখন রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় কখনো কাঠের চুলা, কখনো কেরোসিন ব্যবহার করতে হয়।   তিনি বলেন, ‘আগে সীমিত আয়েও চলতে পারতাম। এখন মরা ছাড়া বাঁচার পথ নাই।’ সন্তানের খাবারের প্রসঙ্গ তুলতেই অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘সন্তানের দুধ কেনার টাকা নেই। সাবু জ্বাল দিয়ে খাওয়াতে হয়। বাচ্চা খেতে চায় না। সন্তানদের কিছুই দিতে পারিনি।’   সংসারের ব্যয় সামলাতে স্ত্রীকেও কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন সেলাইয়ের কাজ করা মিলন। তিনি জানান, ‘বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারি না। সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বউকেও বাইরে কাজে পাঠিয়েছি। কী করব, তিনটা সন্তান আছে, সংসার তো চালাতে হবে।’   সাধারণ মানুষের এমন দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাড়তি দ্রব্যমূল্যের চাপ সামাল দেওয়ার সামর্থ্য সচ্ছল মানুষের থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের সেই সুযোগ নেই। ফলে তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।   গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গ্রাহক নিয়মিত গ্যাস না পেলেও বিল দিচ্ছেন। টাকা দিয়েও সেবা না পাওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।   এদিকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উৎপাদন পর্যায় থেকে পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে কয়েক দফা হাতবদল ও পরিবহন খরচের কারণে দাম বাড়ে। চালের দাম জাত ও মানভেদে ভিন্ন। ডিমের দামও বর্তমানে ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের দাম সরকার নির্ধারণ করছে। বাজারে চাল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও অধিদপ্তর নজর রাখছে।

সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নয়, হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও শান্তি প্রস্তাব বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইরান। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর পাশাপাশি, নিজেদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   ইরানের আলোচক দলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সর্বশেষ যে শান্তি প্রস্তাবগুলো বিনিময় হয়েছে, সেখানে কোনো পক্ষই নতুন কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেনি। তবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, কূটনীতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কারণ বা সুযোগ নেই। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে আশাবাদের সব দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।   শান্তি আলোচনার পাশাপাশি যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এই মুখপাত্র। তিনি জানান, ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে তেহরান আত্মরক্ষার্থে তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে এবং শত্রুদের এমন যেকোনো পদক্ষেপের একটি ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।   তবে সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান। এ বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান তার আইনসংগত স্বার্থ ও ন্যায্য দাবিগুলো আদায় করার জন্য কূটনীতি ব্যবহারের কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না। মূলত শত্রুদের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে এবং ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরান একই সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অব্যাহত রাখবে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ফাইল ছবি
একসঙ্গে সাত উড়োজাহাজে বোমার হুমকি, ইউরোপজুড়ে আতঙ্ক
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় সাতটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।    বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি উড়োজাহাজকে নিরাপত্তার কারণে অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও উড়োজাহাজেই বিস্ফোরক বা বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি।   ঘটনাগুলোর মধ্যে ইতালির রাজধানী রোমে অবতরণের পর রায়ানএয়ারের দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে ডাবলিন থেকে আসা একটি উড়োজাহাজকে ইতালির বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে।   পোল্যান্ডের ওয়ারশতে অবতরণ করা আরও দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বোমার হুমকির পর সেটির গতিপথ পরিবর্তন করে ওয়ারশতে অবতরণ করানো হয়।   এছাড়া বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় অবতরণ করা দুটি উড়োজাহাজেও নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। একই ধরনের ঘটনার মুখে পড়ে স্পেনের মুরসিয়া বিমানবন্দর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি উড়োজাহাজ সেখানে অবতরণের পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা তল্লাশি চালান।   স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই উড়োজাহাজে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।   মুরসিয়ায় অবতরণ করা উড়োজাহাজের এক যাত্রী জানিয়েছেন, বিমানটি অবতরণের পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   এর আগে সোমবার লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী একটি উড়োজাহাজ বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর জরুরি অবতরণ করে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে।   ইউরোপের একাধিক দেশে একই সময়ে এ ধরনের হুমকির ঘটনায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব হুমকির উৎস বা এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। সূত্র: বিবিসি

সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নয়, হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও শান্তি প্রস্তাব বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইরান। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর পাশাপাশি, নিজেদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   ইরানের আলোচক দলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সর্বশেষ যে শান্তি প্রস্তাবগুলো বিনিময় হয়েছে, সেখানে কোনো পক্ষই নতুন কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেনি। তবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, কূটনীতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কারণ বা সুযোগ নেই। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে আশাবাদের সব দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।   শান্তি আলোচনার পাশাপাশি যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এই মুখপাত্র। তিনি জানান, ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে তেহরান আত্মরক্ষার্থে তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে এবং শত্রুদের এমন যেকোনো পদক্ষেপের একটি ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।   তবে সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান। এ বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান তার আইনসংগত স্বার্থ ও ন্যায্য দাবিগুলো আদায় করার জন্য কূটনীতি ব্যবহারের কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না। মূলত শত্রুদের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে এবং ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরান একই সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অব্যাহত রাখবে।

ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের লড়াই
ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি জড়াচ্ছে ইরানের আইআরজিসি
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কার্যক্রমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ‘সরাসরি সম্পৃক্ত’ থাকার অভিযোগ করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। ইয়েমেন সরকারের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি দাবি করেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের পরিচালনা করতে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে হুমকি তৈরিতে আইআরজিসি আগের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।   ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে রাশাদ আল-আলিমি জানান, আইআরজিসির বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ হুতিদের কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। তারা মূলত বিভিন্ন অভিযানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করছেন। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি সৃষ্টির পেছনেও এসব বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন বলে তিনি দাবি করেন। আল-আলিমি বলেন, হুতিদের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক এখন আর শুধু অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা এবং জলপথে হুমকি তৈরিতে অংশ নিচ্ছে।   তবে মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে ইরান। হুতিরাও দাবি করে থাকে, তারা তেহরানের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবেই নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। অবশ্য তাদের এই দাবির পরও উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর আদর্শিক মিল থাকার বিষয়টি স্পষ্ট।

রয়টার্স ছবি
জ্বালানি খাতের মেগা প্রকল্পে পৌনে ৭ লাখ কোটি রুপি ঢালছে ভারত
মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৩, ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পথে হাঁটছে ভারত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তেল পরিশোধন, পেট্রোকেমিক্যাল ও গ্রিন হাইড্রোজেন খাতে একের পর এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটি।   সরকারি ও বেসরকারি খাতের এসব প্রকল্পে সম্ভাব্য মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার কোটি রুপি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভারতের জ্বালানি উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।     ভারতের জ্বালানি খাতের এই অগ্রযাত্রায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৪৪ দশমিক ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে।   এতে মোট সক্ষমতা বেড়ে ২৫৪ গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশের বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত উৎস থেকে ৫০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে ভারতের।   ভারতের জনপ্রিয় মার্কেট অ্যানালিটিক্স ট্রেড ব্রেইনস বলছে, সরকারি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প অন্ধ্রপ্রদেশের রামায়াপত্তনমে ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসিএল) গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। এতে বিনিয়োগ হচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার কোটি রুপি।     প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে নির্মিতব্য এই প্রকল্পে বছরে ১২ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা থাকবে। পাশাপাশি ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন সক্ষমতার ইথিলিন ক্র্যাকার স্থাপন করা হবে। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে ৩ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।     দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি প্রকল্প রাজস্থানের বারমের জেলায় এইচপিসিএল রাজস্থান রিফাইনারি।     এতে সংশোধিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৯ হাজার ৪৫৯ কোটি রুপি। প্রকল্পটিতে বছরে ৯ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধন এবং ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। নির্মাণকাজের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এখানে ৪৩ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেছেন।     এ ছাড়া ওডিশার পারাদ্বীপে ৬১ হাজার ৭৭ কোটি রুপি ব্যয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন একটি সমন্বিত রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে।     প্রকল্পটি থেকে বছরে ৪০ লাখ টনের বেশি পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬৭ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।     মধ্যপ্রদেশের বিনায় ৪৯ হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে বিপিসিএলের পরিশোধনাগার সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং আসামের নুমালিগড়ে ২৮ হাজার ২৬ কোটি রুপির প্রকল্পও গুরুত্বপূর্ণ। বিনায় পরিশোধন সক্ষমতা বছরে ৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ১১ মিলিয়ন টনে উন্নীত করা হবে। নুমালিগড়ে সক্ষমতা ৩ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৯ মিলিয়ন টন করার পরিকল্পনা রয়েছে।     অন্যদিকে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় প্রস্তাবিত প্রকল্প মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরিতে ওয়েস্ট কোস্ট রিফাইনারি। এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ৩ লাখ কোটি রুপি। বছরে ৬০ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্পটি জমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত জটিলতায় এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে।     এছাড়াও গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সম্প্রসারণ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৫ হাজার কোটি রুপি।     সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতে ভবিষ্যতে ১০০ মিলিয়ন টনের বেশি অতিরিক্ত পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জ্বালানি ও রাসায়নিক পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।     একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিকারক হিসেবে ভারতের অবস্থান আরো শক্তিশালী হতে পারে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ

রাজনীতি
চাকরি
ব্যাবসা-বাণিজ্য
বিনোদন