সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
খেলাপি তালিকায় থেকেও ৩ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ পাচ্ছে সিটি গ্রুপ!

খেলাপি হওয়া সিটি গ্রুপকে নতুন করে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   এজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক (৩) ধারা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।   সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটেড ঋণের আওতায় সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে এ ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপটির এ পাঁচ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল লিঃ, সিটি ডাল মিলস্ ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস্।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা চালিয়ে যেতে চলতি মূলধন পাওয়ার পথ সুগম হলো।   দুই ডজন ব্যাংকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে সিটি গ্রুপ এখন খেলাপির কাতারে নাম লিখিয়েছে বলে খবরে এসেছে। গ্রুপটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। বিপুল এ ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ভোগ্যপণ্য থেকে বিভিন্ন খাতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কোম্পানিটি চাপের মধ্যে পড়েছে।   শিল্পগ্রুপটির বিপুল এ ঋণ খেলাপি হয়ে গেলেও গত সেপ্টেম্বরে তা খেলাপি না করার নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে গ্রুপটিকে উদ্ধারে এগিয়ে এসে নতুন ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু সব ব্যাংক তাতে রাজী না হলে গত সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে সভা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, সভায় খেলাপি করা নিয়ে দুই ধরনের মতামত দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। তাতে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে ধীরে ধীরে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   সিটি গ্রুপের সব ঋণকে কয়েকটি ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট ঋণে রূপান্তর করে বিষয়টি সামাল দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   প্রথম ধাপে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট ঋণের আওতায় পাচঁ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক। এসবই ভোগ্যপণ্য ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।   আগামী রোজার সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন কর্মকর্তারা।   ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর ২৭কক (৩) ধারায় বলা আছে, ‘‘কোনো খেলাপি ঋণ গ্রহীতার অনুকূলে কোনো ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনোরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না।”   অর্থাৎ কোনো খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কোনো ব্যাংক ঋণ নিতে পারবে না। আইনের সেই শর্তে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রস্তাবিত ঋণ-সুবিধার বিপরীতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক পিএলসি বা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনোরূপ আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।   নতুন ঋণ সুবিধা দিতে নতুন করে জামানত নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এর পাশাপাশি আরো শর্ত দিয়ে বলা হয়, নতুন করে দেওয়া সিন্ডিকেটেড ঋণের টাকায় কেনা পণ্য বিক্রয় করে পাওয়া অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখান থেকে আনুপাতিক হারে ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলো কিস্তি গ্রহণ করবে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘‘এ ঋণের আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর সিকিউরিটি এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে কিনবে এবং জিম্মাদার হিসেবে তা প্রক্রিয়াজাত করবে।’’   এর মানে হচ্ছে, সিন্ডিকেটেড ঋণের মাধ্যমে পণ্য আমদানি ও তা বাজারে বিক্রি করতে জড়িত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দেওয়া ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে। সেক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়া যুক্ত হতে পারবে।   পুরো অর্থ ও পণ্য ব্যবস্থাপনা নজরদারি করবে ব্যাংক। এ ঋণের অর্থ অন্য কোথাও ব্যবহার বা স্থানান্তর করতে পারবে না কোনো প্রতিষ্ঠান বলে বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।

২ মিনিট আগে
নোয়াখালীতে জেলা ট্রাফিক অফিসের উদ্বোধন

নোয়াখালী ট্রাফিক বিভাগের আয়োজনে নতুন ভবনে স্থানান্তরিত জেলা ট্রাফিক অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।   বুধবার দুপুরে ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন।    এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন (প্রশাসন ও অর্থ), জেলা ট্রাফিক অফিস ইনচার্জ এস.এম শওকত হোসেন, সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।    পরবর্তীতে ট্রাফিক আইন, সড়ক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানবাহন চলাচলে নির্ধারিত নিয়ম-নীতি অনুসরণ এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।   শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন জানান পুলিশ সুপার। এ সময় তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোয়াখালী ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দনপত্র ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

২৩ মিনিট আগে
সৌদি আরবে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা, সতর্কতা জারি

এক টানা প্রবল বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং হঠাৎ মারাত্মক বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে সৌদি আরব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে চরম আবহাওয়ার কঠোর সতর্কতা জারি করেছে সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে বইতে পারে তাণ্ডবী হাওয়া। এমনকি কিছু এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় (টর্নেডো) ও সাগরে জলস্তম্ভ তৈরির শঙ্কাও রয়েছে।   আবহাওয়া কেন্দ্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন দেশের প্রায় সব প্রান্তেই হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ঝোড়ো বাতাসের কারণে মরুভূমির ধূলাবালি উড়ে চারপাশ ঢেকে যেতে পারে, যার ফলে রাস্তাঘাটে দৃষ্টিসীমা কমে গিয়ে চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হবে।   সবচেয়ে বেশি সতর্কতায় রয়েছে পবিত্র মক্কা নগরী, জাজান, আসির ও আল বাহা অঞ্চল। এসব এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। মক্কা ছাড়াও তায়েফ, আল জুমুম, বাহরাহ ও আদহামের মতো এলাকাগুলোতে বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে।   অন্যদিকে রাজধানী রিয়াদ, মদিনা, তাবুক, শিলা ও নাজরানের বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জেদ্দা ও রাবিগেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।   উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সমুদ্রের ঢেউ অস্বাভাবিক উঁচু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়া আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত গড়ায়তে পারে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এনসিএম সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন ও এনসিএমের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সর্বশেষ খবরের দিকে চোখ রাখতে বলা হয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ

২৭ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।   অন্যদিকে, নির্বাচনে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। এছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সদস্য আবুল খানও নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে।   নির্বাচনে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের লড়াইয়ে নামতে হয়নি শেখ রহমানকে। প্রাথমিক নির্বাচনি ফলাফলে তার পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়েছে।    এর আগে গত ১৯ মে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পান তিনি। ওই নির্বাচনে শেখ রহমান ৬ হাজার ১৮৮ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাককয় ৫ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছিলেন।   বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ রহমান জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অঙ্গরাজ্যটির ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রার্থী লিসা ব্যাবেজকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হন শেখ রহমান।   উল্লেখ্য-সিনেটর শেখ রহমানের ছোট ভাই শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা) আসনে নির্বাচিত হন।   এদিকে, কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটি ইনসাইডারের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলেও তার জয়ের তথ্য উঠে এসেছে।    মাসুদুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হন।   অন্যদিকে, নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহাম ৩০ আসন থেকেও জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবুল খান। এ আসনে দু’জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক ভোট গণনায় ১ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী নির্বাচনি ফলাফলের তালিকায়ও তাকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই আসন থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী জেসন জ্যানভ্রিনও নির্বাচিত হয়েছেন।   বাংলাদেশের পিরোজপুরে জন্ম নেওয়া আবুল খান রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এর আগে ছয় মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের জয় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আরেকটি অর্জন যোগ করল।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারা হলেন শেখ রহমান, নাবিলা ইসলাম পার্কস, নূরুন নবী, এমডি মাসুদুর রহমান ও আবুল খান।

৩৭ মিনিট আগে
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
জাতীয়
বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

পোশাক শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষের মধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে যেসব কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলো খুলে দিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মালিকদের প্রতিও আহ্বান জানান।   বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর প্রতিনিধি এবং শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন।   শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।মালিক ও শ্রমিক-উভয় পক্ষই বোর্ডের সুপারিশ মেনে নেবে বলে তাকে জানিয়েছে।   শ্রমিকদের আন্দোলনে নিহত ব্যক্তির পরিবারের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আপাতত এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।   তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   শ্রমিকদের জন্য গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, বুধবারই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।   শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তবে তা আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে। সরকার সাড়া না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই রাস্তায় নেমে আসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।   তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানা চালু থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে। তাই শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে মালিকদের উদ্দেশে শ্রমমন্ত্রী বলেন, সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাদেরও কারখানা খুলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।   শ্রম অসন্তোষের পেছনে শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস করতে চায় এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।   মজুরি বোর্ড গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর রবিবার দুপুর ১২টার আগেই নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপরও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে সরকার কাজ থামিয়ে রাখেনি। বোর্ড গঠনের তিন দিনের মাথায় বুধবার বৈঠক হয়েছে এবং চার দিনের মাথায় আবারও বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে দ্রুত সব কারখানায় উৎপাদন চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শ্রমমন্ত্রী।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
তিন উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু নির্মাণ এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ কেনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ।    ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) আওতায় এসব প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দেশটির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছে।   বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি), শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে ৩০০ কোটি ডলারের ইডিসিএফ কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিলের আওতায় ৩০টি প্রকল্পের জন্য ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।   মঙ্গলবার কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বৈঠকে ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।   এ সময় কেক্সিম জানায়, তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেট্রোরেলসহ প্রস্তাবিত তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান তিনি।   এ সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান কারিগরি সহায়তার প্রশংসা করেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে কোরীয় পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন, ভবিষ্যতে ইডিসিএফের সহযোগিতা এবং আইজিএনডিতে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে।   কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   এ ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে আলোচনায় আনা হয়। পাশাপাশি কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখে দুই পক্ষ।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের এআই কর্মসূচির সঙ্গে কোরীয় সরকারের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।   দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।   এ ছাড়া ইয়ংওনের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক একটি ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ সময় কোরীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার মূল্য সংযোজনভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি: সংগৃহীত
রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।   বুধবার (৪ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে এবং এতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।   সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীদের প্রতি আগের সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। তবে মক্কা ও মদিনার আকাশসীমা এর আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন।   ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির এই দাবির বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সংগৃহীত ছবি
এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতেই বুলেট ট্রেন তৈরি করছে ভারত

উচ্চগতির রেল যোগাযোগের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ভারত। দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেনের নির্মাণকাজ চলছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেডে (বিইএমএল)। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরে চলাচলের জন্য তৈরি হচ্ছে ট্রেনটি।   রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনটির নকশা করা হয়েছে। এতে দেশীয় প্রকৌশল প্রযুক্তির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   আটটি কোচের ট্রেনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০২ মিটার। পরীক্ষামূলকভাবে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের সময় এর গতি থাকবে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার। ট্রেনটিতে একসঙ্গে ৫৫৭ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের জন্য দুটি নির্ধারিত জায়গা থাকবে।   ট্রেনটির আটটি কোচের মধ্যে চারটি মোটরচালিত এবং চারটি ট্রেলার কোচ। সাতটি কোচে থাকবে সাধারণ শ্রেণির আসন, যেখানে ৩×২ বিন্যাসে যাত্রীরা বসতে পারবেন। অন্য একটি কোচে থাকবে নির্বাহী শ্রেণির আসন, যার বিন্যাস হবে ২×২।   ট্রেনের দুই প্রান্তে চালকের কেবিন থাকবে। সেখানে থাকবে বুদ্ধিমান অনবোর্ড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। এর মাধ্যমে চালক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজনে দুটি আট কোচের ট্রেন জুড়ে ১৬ কোচের ট্রেন হিসেবেও চালানো যাবে।   যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে আসনগুলো। ভারতীয়দের শারীরিক গড়ন বিবেচনায় নিয়ে আসনগুলোর নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া থাকবে এলইডি বাতি, মাথার ওপর মালপত্র রাখার তাক, অতিরিক্ত লাগেজ রাখার জায়গা এবং ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুতের সংযোগ।   ট্রেনটির বড় জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি কোচগুলোর মধ্যে সংযোগপথ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারেন।   এতে থাকবে বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট, ওয়াই-ফাইভিত্তিক বিনোদনব্যবস্থা এবং এলসিডি পর্দায় যাত্রীদের জন্য তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা। ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় এসব তথ্য পাওয়া যাবে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা। জরুরি প্রয়োজনে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ টক-ব্যাক ইউনিট।   প্রতিবন্ধী ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে ট্রেনটির নকশায়। প্ল্যাটফর্মের উচ্চতার সঙ্গে কোচের মেঝের উচ্চতা সমন্বয় করে সহজে ওঠানামার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে থাকবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে এমন সিঁড়ি।   হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের উপযোগী দরজা, নির্ধারিত আসন ও টয়লেটের পাশাপাশি ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশনাও থাকবে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাত্রীরাও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বুঝতে পারবেন।   প্রতিটি কোচে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি করে হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) ইউনিট থাকবে। শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা, শব্দ কমানোর বিশেষ আবরণ, বগির কাভার ও অ্যারোডাইনামিক নকশা ট্রেনের শব্দ ও কম্পন কমাতে সহায়তা করবে।   ট্রেনটিতে ব্যবহার করা হবে ২৫ কিলোভোল্ট, ৫০ হার্টজের একক-ফেজ এসি বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থা। এর পুনরুৎপাদনমূলক ব্রেকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরুদ্ধার করে আবার বিদ্যুৎব্যবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার আরও সাশ্রয়ী হবে।   ট্রেনটির গতিবেগ ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ জন্য কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডাইনামিকস (সিএফডি) সিমুলেশনের মাধ্যমে ট্রেনের সামনের অংশ ও মূল কাঠামোর নকশা উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে বাতাসের বাধা ও ঘূর্ণি কমবে। পাশাপাশি টানেলের ভেতরে বায়ুচাপের আকস্মিক পরিবর্তন এবং শব্দের বিস্ফোরণধর্মী প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে।   বিশেষভাবে তৈরি ছাদের প্যানেল, বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রাংশ এবং বাইরের কাঠামোর নকশা বাতাসের প্রবাহ আরও উন্নত করবে। এতে উচ্চগতিতে এবং টানেলের ভেতর চলাচলের সময়ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকবে।   প্রকল্পটি উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: গালফ নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা, সতর্কতা জারি

এক টানা প্রবল বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং হঠাৎ মারাত্মক বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে সৌদি আরব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে চরম আবহাওয়ার কঠোর সতর্কতা জারি করেছে সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে বইতে পারে তাণ্ডবী হাওয়া। এমনকি কিছু এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় (টর্নেডো) ও সাগরে জলস্তম্ভ তৈরির শঙ্কাও রয়েছে।   আবহাওয়া কেন্দ্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন দেশের প্রায় সব প্রান্তেই হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ঝোড়ো বাতাসের কারণে মরুভূমির ধূলাবালি উড়ে চারপাশ ঢেকে যেতে পারে, যার ফলে রাস্তাঘাটে দৃষ্টিসীমা কমে গিয়ে চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হবে।   সবচেয়ে বেশি সতর্কতায় রয়েছে পবিত্র মক্কা নগরী, জাজান, আসির ও আল বাহা অঞ্চল। এসব এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। মক্কা ছাড়াও তায়েফ, আল জুমুম, বাহরাহ ও আদহামের মতো এলাকাগুলোতে বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে।   অন্যদিকে রাজধানী রিয়াদ, মদিনা, তাবুক, শিলা ও নাজরানের বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জেদ্দা ও রাবিগেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।   উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সমুদ্রের ঢেউ অস্বাভাবিক উঁচু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়া আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত গড়ায়তে পারে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এনসিএম সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন ও এনসিএমের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সর্বশেষ খবরের দিকে চোখ রাখতে বলা হয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা, সতর্কতা জারি
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

এক টানা প্রবল বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং হঠাৎ মারাত্মক বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে সৌদি আরব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে চরম আবহাওয়ার কঠোর সতর্কতা জারি করেছে সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে বইতে পারে তাণ্ডবী হাওয়া। এমনকি কিছু এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় (টর্নেডো) ও সাগরে জলস্তম্ভ তৈরির শঙ্কাও রয়েছে।   আবহাওয়া কেন্দ্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন দেশের প্রায় সব প্রান্তেই হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ঝোড়ো বাতাসের কারণে মরুভূমির ধূলাবালি উড়ে চারপাশ ঢেকে যেতে পারে, যার ফলে রাস্তাঘাটে দৃষ্টিসীমা কমে গিয়ে চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হবে।   সবচেয়ে বেশি সতর্কতায় রয়েছে পবিত্র মক্কা নগরী, জাজান, আসির ও আল বাহা অঞ্চল। এসব এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। মক্কা ছাড়াও তায়েফ, আল জুমুম, বাহরাহ ও আদহামের মতো এলাকাগুলোতে বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে।   অন্যদিকে রাজধানী রিয়াদ, মদিনা, তাবুক, শিলা ও নাজরানের বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জেদ্দা ও রাবিগেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।   উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সমুদ্রের ঢেউ অস্বাভাবিক উঁচু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়া আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত গড়ায়তে পারে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এনসিএম সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন ও এনসিএমের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সর্বশেষ খবরের দিকে চোখ রাখতে বলা হয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ

জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।   অন্যদিকে, নির্বাচনে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। এছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সদস্য আবুল খানও নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে।   নির্বাচনে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের লড়াইয়ে নামতে হয়নি শেখ রহমানকে। প্রাথমিক নির্বাচনি ফলাফলে তার পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়েছে।    এর আগে গত ১৯ মে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পান তিনি। ওই নির্বাচনে শেখ রহমান ৬ হাজার ১৮৮ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাককয় ৫ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছিলেন।   বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ রহমান জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অঙ্গরাজ্যটির ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রার্থী লিসা ব্যাবেজকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হন শেখ রহমান।   উল্লেখ্য-সিনেটর শেখ রহমানের ছোট ভাই শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা) আসনে নির্বাচিত হন।   এদিকে, কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটি ইনসাইডারের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলেও তার জয়ের তথ্য উঠে এসেছে।    মাসুদুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হন।   অন্যদিকে, নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহাম ৩০ আসন থেকেও জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবুল খান। এ আসনে দু’জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক ভোট গণনায় ১ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী নির্বাচনি ফলাফলের তালিকায়ও তাকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই আসন থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী জেসন জ্যানভ্রিনও নির্বাচিত হয়েছেন।   বাংলাদেশের পিরোজপুরে জন্ম নেওয়া আবুল খান রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এর আগে ছয় মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের জয় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আরেকটি অর্জন যোগ করল।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারা হলেন শেখ রহমান, নাবিলা ইসলাম পার্কস, নূরুন নবী, এমডি মাসুদুর রহমান ও আবুল খান।

ফাইল ছবি
‘আমার সঙ্গে বিরোধে জড়ালে পরিণতি ভোগ করতে হবে’, হুঁশিয়ারি মাস্কের
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ হাজার ২২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা) ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর এবার তার বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য তদন্তের মুখে পড়তে পারে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ডেমোক্র্যাটরা মাস্কের ব্যবসা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যাপক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাস্ক শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনেই নয়, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছিলেন। পাশাপাশি টেক্সাসে রিপাবলিকানদের অবস্থান ধরে রাখতেও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেন তিনি। টেক্সাসে তার ব্যক্তিগত বাসস্থান এবং বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান মাস্ক। কিন্তু নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয় ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ৩০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার কাছে পরাজিত হন রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবট।   নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর মাস্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তদন্তের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি প্রতিবেদনের জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।   ‘ক্যাপিটল এজেন্ডা: ডেমোক্র্যাটদের হাতুড়ি এবার ইলন মাস্কের দিকে’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনের জবাবে মাস্ক লেখেন, তলোয়ার দিয়ে যে বাঁচে, তলোয়ারেই তার মৃত্যু হয়। যারা আমার সঙ্গে বিরোধে জড়াবে, তাদের বুঝতে হবে—আড়াল থেকে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা আমি খুঁজে বের করব এবং শুধু তাদের পুতুলদের নয়, মূল ব্যক্তিদেরও মোকাবিলা করব।   এদিকে নির্বাচনের পর প্রাক্-বাজার লেনদেনে মাস্কের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেলে মাস্কের ব্যবসায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে স্পেসএক্সের পরিকল্পিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আগে বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা ২৮ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বাজারে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   এর আগেও ইউক্রেনের সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা আরোপ, সরকারি দক্ষতা বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই এবং তার প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি চুক্তি ও ভর্তুকি নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা মাস্কের সমালোচনা করেছেন।   নির্বাচনে জয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া ট্রাম্প, তার পরিবার ও প্রশাসনের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, আইনজীবী নিয়োগ করুন। সরকারি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা এই কমিটির সাক্ষীদের তলব, সরকারি নথি চাওয়া এবং সমন জারির মাধ্যমে সহযোগিতা আদায়ের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে মাস্কের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও নতুন করে কংগ্রেসের নজরদারিতে আসতে পারে।   সূত্র: এনডিটিভি

সংগৃহীত ছবি
এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতেই বুলেট ট্রেন তৈরি করছে ভারত
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

উচ্চগতির রেল যোগাযোগের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ভারত। দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেনের নির্মাণকাজ চলছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেডে (বিইএমএল)। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরে চলাচলের জন্য তৈরি হচ্ছে ট্রেনটি।   রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনটির নকশা করা হয়েছে। এতে দেশীয় প্রকৌশল প্রযুক্তির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   আটটি কোচের ট্রেনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০২ মিটার। পরীক্ষামূলকভাবে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের সময় এর গতি থাকবে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার। ট্রেনটিতে একসঙ্গে ৫৫৭ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের জন্য দুটি নির্ধারিত জায়গা থাকবে।   ট্রেনটির আটটি কোচের মধ্যে চারটি মোটরচালিত এবং চারটি ট্রেলার কোচ। সাতটি কোচে থাকবে সাধারণ শ্রেণির আসন, যেখানে ৩×২ বিন্যাসে যাত্রীরা বসতে পারবেন। অন্য একটি কোচে থাকবে নির্বাহী শ্রেণির আসন, যার বিন্যাস হবে ২×২।   ট্রেনের দুই প্রান্তে চালকের কেবিন থাকবে। সেখানে থাকবে বুদ্ধিমান অনবোর্ড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। এর মাধ্যমে চালক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজনে দুটি আট কোচের ট্রেন জুড়ে ১৬ কোচের ট্রেন হিসেবেও চালানো যাবে।   যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে আসনগুলো। ভারতীয়দের শারীরিক গড়ন বিবেচনায় নিয়ে আসনগুলোর নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া থাকবে এলইডি বাতি, মাথার ওপর মালপত্র রাখার তাক, অতিরিক্ত লাগেজ রাখার জায়গা এবং ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুতের সংযোগ।   ট্রেনটির বড় জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি কোচগুলোর মধ্যে সংযোগপথ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারেন।   এতে থাকবে বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট, ওয়াই-ফাইভিত্তিক বিনোদনব্যবস্থা এবং এলসিডি পর্দায় যাত্রীদের জন্য তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা। ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় এসব তথ্য পাওয়া যাবে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা। জরুরি প্রয়োজনে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ টক-ব্যাক ইউনিট।   প্রতিবন্ধী ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে ট্রেনটির নকশায়। প্ল্যাটফর্মের উচ্চতার সঙ্গে কোচের মেঝের উচ্চতা সমন্বয় করে সহজে ওঠানামার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে থাকবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে এমন সিঁড়ি।   হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের উপযোগী দরজা, নির্ধারিত আসন ও টয়লেটের পাশাপাশি ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশনাও থাকবে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাত্রীরাও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বুঝতে পারবেন।   প্রতিটি কোচে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি করে হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) ইউনিট থাকবে। শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা, শব্দ কমানোর বিশেষ আবরণ, বগির কাভার ও অ্যারোডাইনামিক নকশা ট্রেনের শব্দ ও কম্পন কমাতে সহায়তা করবে।   ট্রেনটিতে ব্যবহার করা হবে ২৫ কিলোভোল্ট, ৫০ হার্টজের একক-ফেজ এসি বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থা। এর পুনরুৎপাদনমূলক ব্রেকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরুদ্ধার করে আবার বিদ্যুৎব্যবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার আরও সাশ্রয়ী হবে।   ট্রেনটির গতিবেগ ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ জন্য কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডাইনামিকস (সিএফডি) সিমুলেশনের মাধ্যমে ট্রেনের সামনের অংশ ও মূল কাঠামোর নকশা উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে বাতাসের বাধা ও ঘূর্ণি কমবে। পাশাপাশি টানেলের ভেতরে বায়ুচাপের আকস্মিক পরিবর্তন এবং শব্দের বিস্ফোরণধর্মী প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে।   বিশেষভাবে তৈরি ছাদের প্যানেল, বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রাংশ এবং বাইরের কাঠামোর নকশা বাতাসের প্রবাহ আরও উন্নত করবে। এতে উচ্চগতিতে এবং টানেলের ভেতর চলাচলের সময়ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকবে।   প্রকল্পটি উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: গালফ নিউজ

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ

রাজনীতি
চাকরি
ব্যাবসা-বাণিজ্য
বিনোদন