সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জনতা ব্যাংকের প্রায় ৩০৪ কোটি টাকার একটি ঋণ নিয়ে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিতে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। জনতা ব্যাংক ঋণটিকে পুরোনো এবং দীর্ঘ আইনি ও সালিসি প্রক্রিয়া শেষে নিষ্পত্তি হওয়া দাবি করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে ইউএইর চার শাখায় বড় অঙ্কের ঋণ অবলোপন ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহ. ফজলুর রহমান ইউএই কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাংকের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণটি দীর্ঘদিনের। পাওনা আদায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ, কূটনৈতিক যোগাযোগ, আইনগত প্রক্রিয়া এবং সালিসি কার্যক্রম শেষে বিধিবিধান অনুসরণ করেই ঋণটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। জনতা ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাইন্যান্স মরিস ও মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের ঋণের সঙ্গে শেখ খলিফা গ্রুপের সম্পৃক্ততা ছিল। ব্যাংকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের সালিসি আদালতের নির্দেশনা এবং দুই দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতির ভিত্তিতে ২০০৩ সালে ওই ঋণের দায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রয়াত ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ছবি ব্যবহৃত হলেও প্রকৃত ঋণগ্রহীতা ছিলেন শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ইউএইতে জনতা ব্যাংকের চার শাখায় মোট ২০ কোটি ৫১ লাখ দিরহেম, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ২৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপনের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার দিরহেম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা। একই প্রতিবেদনে প্রায় ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার একটি ঋণ ‘ভুলক্রমে’ অবলোপনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ৪৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা হলো ইউএইর চার শাখায় ২৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মোট অবলোপিত ঋণ। আর ৩০৪ কোটি টাকার ঋণটি শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট ঋণের অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে এসেছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে ঋণটির নিষ্পত্তি ও হিসাবভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে শুধু ঋণ নয়, ইউএই শাখাগুলোর হিসাব ব্যবস্থাপনাতেও বিভিন্ন অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শারজাহ শাখার সান্ড্রি ডিপোজিট ও সান্ড্রি অ্যাসেটের হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য এবং দুবাই শাখার কয়েকটি হিসাবে গরমিলের বিষয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএই সিইও কার্যালয়ে ব্যবহৃত ছয়টি ল্যাপটপ নিয়েও পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে জনতা ব্যাংক বলছে, ল্যাপটপগুলো বিদ্যমান এবং দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউএইতে তিন ভারতীয় নাগরিককে নিয়োগের বিষয়েও ব্যাংক নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। ব্যাংকের দাবি, স্থানীয় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালের সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ ধরনের নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতির প্রয়োজন নেই। এদিকে ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (জেইসি) এসআরএল বন্ধ না করার বিষয়ে ব্যাংকের বক্তব্য হলো, প্রবাসী আয় এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির বিষয় বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ইউএইতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে মূল প্রশ্নটি এখন শুধু ৩০৪ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন হয়েছিল কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ঋণটির ২০০৩ সালের নিষ্পত্তি, পরবর্তী হিসাবরক্ষণ, অবলোপনের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা অন্যান্য অসঙ্গতির মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ৩০৪ কোটি টাকার ঋণকে সরাসরি অবৈধ বা দুর্নীতির অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি স্পষ্ট করতে ২০০৩ সালের নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথি, ঋণ অবলোপনের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরেকর্ড পর্যালোচনা প্রয়োজন। এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই ঋণটির নিষ্পত্তি ও পরবর্তী হিসাব ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এক ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মল্লিকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আগুনের সূত্রপাত হয়। সদর দক্ষিণ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরীফ আহমদ কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফিলিং স্টেশনে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে সদর দক্ষিণ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কুমিল্লা ইপিজেড ও কুমিল্লা সদর ফায়ার স্টেশনের আরও দুটি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও স্টেশনের পাইপলাইন থেকে বিকট শব্দে গ্যাস বের হতে দেখা যায় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। অগ্নিনির্বাপণের সময় ফুয়াদ হোসেন (২৪) নামে এক ফায়ার ফাইটার আহত হন। পরে তাকে সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দীন জানান, আহত ফায়ার ফাইটারকে হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম। ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইন লিকেজ অথবা কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে ফিলিং স্টেশনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা জামান। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই আদেশে মো. মোস্তফা জামানের চাকরি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর আগে মোস্তফা জামান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুল হক। অন্যদিকে আরইবির বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল আজিমকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগ ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসি) বদলি করে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রোববার (৪ অক্টোবর) ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি ও পদায়নের তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, ট্রাফিক-রমনা বিভাগের ট্রাফিক-নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার তোয়াহা ইয়াসীন হোসেনকে গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগে বদলি করা হয়েছে। সেখানে তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে মতিঝিল বিভাগের পেট্রোল-খিলগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মালিক নাজমুল হায়দারকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগের ট্রাফিক-নিউমার্কেট জোনে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়ারী বিভাগের পেট্রোল-ওয়ারীর সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল আলম খানকে ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে বদলি করা হয়েছে। নতুন কর্মস্থলে তিনি ট্রাফিক-লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। আদেশটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ভিডিও ধারণ ও সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক হামলার শিকার হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত করা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। তাদের ভাষ্য, গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও দখলদারিত্বের রাজনীতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো এবং শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার পরিবেশ, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতীতেও শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার প্রবণতা বাড়াচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির নেতারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলায় আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি হামলার সময় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসি) বদলি করে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রোববার (৪ অক্টোবর) ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি ও পদায়নের তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, ট্রাফিক-রমনা বিভাগের ট্রাফিক-নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার তোয়াহা ইয়াসীন হোসেনকে গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগে বদলি করা হয়েছে। সেখানে তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে মতিঝিল বিভাগের পেট্রোল-খিলগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মালিক নাজমুল হায়দারকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগের ট্রাফিক-নিউমার্কেট জোনে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়ারী বিভাগের পেট্রোল-ওয়ারীর সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল আলম খানকে ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে বদলি করা হয়েছে। নতুন কর্মস্থলে তিনি ট্রাফিক-লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। আদেশটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জনতা ব্যাংকের প্রায় ৩০৪ কোটি টাকার একটি ঋণ নিয়ে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিতে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। জনতা ব্যাংক ঋণটিকে পুরোনো এবং দীর্ঘ আইনি ও সালিসি প্রক্রিয়া শেষে নিষ্পত্তি হওয়া দাবি করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে ইউএইর চার শাখায় বড় অঙ্কের ঋণ অবলোপন ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহ. ফজলুর রহমান ইউএই কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাংকের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণটি দীর্ঘদিনের। পাওনা আদায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ, কূটনৈতিক যোগাযোগ, আইনগত প্রক্রিয়া এবং সালিসি কার্যক্রম শেষে বিধিবিধান অনুসরণ করেই ঋণটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। জনতা ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাইন্যান্স মরিস ও মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের ঋণের সঙ্গে শেখ খলিফা গ্রুপের সম্পৃক্ততা ছিল। ব্যাংকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের সালিসি আদালতের নির্দেশনা এবং দুই দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতির ভিত্তিতে ২০০৩ সালে ওই ঋণের দায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রয়াত ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ছবি ব্যবহৃত হলেও প্রকৃত ঋণগ্রহীতা ছিলেন শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ইউএইতে জনতা ব্যাংকের চার শাখায় মোট ২০ কোটি ৫১ লাখ দিরহেম, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ২৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপনের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার দিরহেম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা। একই প্রতিবেদনে প্রায় ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার একটি ঋণ ‘ভুলক্রমে’ অবলোপনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ৪৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা হলো ইউএইর চার শাখায় ২৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মোট অবলোপিত ঋণ। আর ৩০৪ কোটি টাকার ঋণটি শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট ঋণের অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে এসেছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে ঋণটির নিষ্পত্তি ও হিসাবভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে শুধু ঋণ নয়, ইউএই শাখাগুলোর হিসাব ব্যবস্থাপনাতেও বিভিন্ন অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শারজাহ শাখার সান্ড্রি ডিপোজিট ও সান্ড্রি অ্যাসেটের হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য এবং দুবাই শাখার কয়েকটি হিসাবে গরমিলের বিষয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএই সিইও কার্যালয়ে ব্যবহৃত ছয়টি ল্যাপটপ নিয়েও পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে জনতা ব্যাংক বলছে, ল্যাপটপগুলো বিদ্যমান এবং দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউএইতে তিন ভারতীয় নাগরিককে নিয়োগের বিষয়েও ব্যাংক নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। ব্যাংকের দাবি, স্থানীয় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালের সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ ধরনের নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতির প্রয়োজন নেই। এদিকে ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (জেইসি) এসআরএল বন্ধ না করার বিষয়ে ব্যাংকের বক্তব্য হলো, প্রবাসী আয় এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির বিষয় বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ইউএইতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে মূল প্রশ্নটি এখন শুধু ৩০৪ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন হয়েছিল কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ঋণটির ২০০৩ সালের নিষ্পত্তি, পরবর্তী হিসাবরক্ষণ, অবলোপনের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা অন্যান্য অসঙ্গতির মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ৩০৪ কোটি টাকার ঋণকে সরাসরি অবৈধ বা দুর্নীতির অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি স্পষ্ট করতে ২০০৩ সালের নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথি, ঋণ অবলোপনের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরেকর্ড পর্যালোচনা প্রয়োজন। এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই ঋণটির নিষ্পত্তি ও পরবর্তী হিসাব ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।
ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদলের এক নেতা ও রাকসুর এক নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট নিয়ে অবস্থান করেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব ও তার কয়েকজন অনুসারী। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন। এর আগে একই স্থানে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবিব একটি পোস্ট দেন। পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে রাকিবুল ইসলাম তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে মেসেঞ্জারে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হুমকির অভিযোগ ওঠে। পরে রাকিবুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহসান হাবিবের পাঠানো কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। এরপর তিনি রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে থাকার ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী, রাকিবুল সকাল থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। তবে ওই সময়ের মধ্যে আহসান হাবিব সেখানে উপস্থিত হননি। পরে রাকিবুল চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আহসান হাবিব কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একই স্থানে আসেন। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট দেখা যায়। আহসান হাবিব পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থানের বিষয়টি জানান। তিনি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পরিবহন চত্বরে থাকার ঘোষণা দেন। রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিনি সকাল থেকেই পরিবহন চত্বরে ছিলেন এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। ওই সময় আহসান হাবিব সেখানে আসেননি। পরে তিনি চলে আসার পর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী হকিস্টিক নিয়ে সেখানে আসেন বলে জানতে পারেন। অন্যদিকে আহসান হাবিব দাবি করেন, একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাকিবুল ইসলাম তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে তিনি রাকিবুলকে ব্যক্তিগত বার্তায় নিজের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আহ্বান জানান। আহসান হাবিব আরও বলেন, অসুস্থ থাকায় তিনি রাকিবুলের দেওয়া অবস্থানের পোস্টটি সময়মতো দেখতে পারেননি। পরে পোস্টটি দেখার পর ক্যাম্পাসে এসে তাকে আর পাননি। তিনি জানান, এরপর সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখবেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিকেলের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি অবগত হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত ও শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মৎস্য জনবল নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওমান। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশি দক্ষ জনবল নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) মৎস্য অধিদপ্তরে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনকের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ওমানের প্রতিনিধিদল মৎস্য অধিদপ্তর পরিদর্শন করে। বৈঠকে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে বিদ্যমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, অবকাঠামো, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। এ সময় মৎস্য অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটগুলোর কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কারিকুলাম, অবকাঠামো ও জনবল নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন ব্লু ইকোনমি উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. মোহাম্মদ শরিফুল আজম। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অবকাঠামো এবং সেখানে পরিচালিত বিভিন্ন কোর্স ও প্রশিক্ষণ কারিকুলাম সম্পর্কেও ওমানের প্রতিনিধিদের বিস্তারিত জানানো হয়। বৈঠকে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে মৎস্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করছে। দেশের প্রশিক্ষিত মৎস্য জনবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জেলে, ডেকহ্যান্ড, স্কিপার, মৎস্য প্রকৌশলী এবং অ্যাকুয়াকালচারে বিশেষায়িত ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য ওমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত জনবলকে ওমানে কাজের সুযোগ দেওয়া হলে উভয় দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। বৈঠকে ড. খালেদ কনক ওমানের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। এসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত মেরিন ক্যাডেট ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ হবে বলে তিনি জানান। বৈঠক শেষে ওমানের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মৎস্য খাতে কর্মরত ও প্রশিক্ষিত জনবলের দক্ষতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মৎস্য জনবল নেওয়ার বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করে।
নাসির উদ্দিন
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে এবার নতুন প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের তিন পরাশক্তি— যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য তারা পারমাণবিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনা করছে। সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চাঁদের দীর্ঘ রাতের আঁধারেও নিজেদের কার্যক্রম সচল রাখতেই মূলত এই উদ্যোগ। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে নাসা তাদের ঠিকাদারদের পারমাণবিক চুল্লি তৈরির নির্দেশ দিয়েছে, যা মহাকাশযাত্রা শেষে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই কাজ করবে। ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নাসার। এই ‘লুনার রিঅ্যাক্টর ১’ থেকে পাঁচ বছর ধরে ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। পিছিয়ে নেই রাশিয়া ও চীনও। ২০৩৬ সালের মধ্যে যৌথভাবে ‘সেলিনা’ নামের একটি চুল্লি তৈরি করবে তারা, যা ১০ বছর ধরে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ দেবে। চাঁদে পৃথিবীর হিসেবে রাত স্থায়ী হয় দুই সপ্তাহের বেশি। তাই সেখানে শুধু সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে বড় ঘাঁটি চালানো অসম্ভব। তবে এই পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন নিয়ে বিজ্ঞানীদের গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগও রয়েছে। রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়ানোর মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। পৃথিবীতে চুল্লির চারপাশে যেমন সুরক্ষাবলয় থাকে, চাঁদে তেমনটি করা বেশ কঠিন। তাই বিকিরণের ঝুঁকি এড়াতে যাত্রাপথে চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাঠানো হবে। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ বা মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশই চাঁদের মালিকানা দাবি করতে পারে না। কিন্তু নাসা আশঙ্কা করছে, চীন ও রাশিয়া সুরক্ষার অজুহাতে চাঁদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। দেশগুলোর এমন পারমাণবিক পরিকল্পনাগুলো এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে। কারিগরি ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে ভবিষ্যতে এসব প্রকল্পের সময়সীমা পাল্টাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত জুনে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে উল্লিখিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা জানান। খবর রয়টার্সের। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়ে বলেছিল, শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে। গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও দৃঢ়; ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।’ তিনি বলেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বুঝতে হবে, ‘(কূটনৈতিক) প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।’ পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা হবে না রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জবাবে নিজেদের সামগ্রিক অবস্থান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করেছে তেহরান। তবে আরও কিছু বিষয় ওয়াশিংটনকে জানানো বাকি রয়েছে। মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমেরিকানদের প্রস্তাবগুলো কম-বেশি তাদের আগের অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুর ক্ষেত্রে। আমরা তাদের জানিয়েছি, এই পর্যায়ে আমাদের মূল মনোযোগ হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে এবং এই জলপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।’ তিনি আরও অস্বীকার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাকে (আইএইএ) পরিদর্শনের প্রস্তাব দিয়েছে—এমন কথা অস্বীকার করেন বাঘাই। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরু করেনি ইরান। আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানান, বর্তমানে যে নথিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে সাত দিনব্যাপী বিশ্বাস-স্থাপনের প্রক্রিয়ার রূপরেখা রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে জুনে সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারকের একটি উন্নত সংস্করণে ফিরিয়ে আনা, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মতপার্থক্যের মূল কারণ পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নয়, বরং পদক্ষেপগুলো কোন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে। আরাগচির হুঁশিয়ারি রবিবার তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথই বেছে নেবে বলে প্রত্যাশা তেহরানের। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি বড় আকারের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করে, তবে ইরান আরও ব্যাপক ও কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরাগচি আরও বলেন, ‘তারা যদি আবারও সামরিক সমাধানের পথে এগোয়, তবে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত থাকব এবং নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেব।’ রোববার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানান, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবে।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই ও প্রদর্শন করাই ছিল এই সামরিক মহড়ার মূল উদ্দেশ্য। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশের পূর্ব অঞ্চল থেকে ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জের এই কৌশলগত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দেশটির পূর্ব উপকূলের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। মিসাইল ট্রুপস বা ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং দেশের ডেটারেন্ট ফোর্সের কার্যকারিতা ও গতিশীলতা মূল্যায়ন করাই ছিল এই মহড়ার লক্ষ্য। পরীক্ষা চলাকালীন কিম জং উন জানান, দেশের কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রগুলোর কার্যকারিতা এবং ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষকে সচেতন রাখতে এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই পরমাণু যুদ্ধ প্রতিহত করার সক্ষমতা অর্জন অপরিহার্য এবং এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার একের পর এক অস্ত্র পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গত মাসে ডেমিলিটারাইজড জোনে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এদিকে, এই মিসাইল উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের ট্র্যাকিং সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিম জং উনের বোন ও শাসক দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং দাবি করেছেন যে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ ট্র্যাক করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে তারা উৎক্ষেপণের পর পরই ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিবিধি নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করেছিল এবং এই ধরনের যেকোনো হুমকি প্রতিহত করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে সরাসরি অপারেশনাল মোডে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত সপ্তাহে বলেছেন, তিনি এমন এক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন, যা এক সময় অকল্পনীয় ছিল—আর তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন। যদিও এমনটা হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করেন কার্নি। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্ক নতুন মোড় নেওয়ায় সব ধরনের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করা তার দায়িত্ব। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি শুধু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ।’ ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নীতি এবং বারবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণের বিষয়টি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় পর্যালোচনা করছে কানাডা। ২০২৫ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা ‘অত্যন্ত ক্ষীণ’। এর পরিবর্তে তিনি বলেছিলেন, রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে তিনি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন। হোয়াইট হাউস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, কানাডার জনগণকে রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্য যে কারও চেয়ে বেশি কাজ করেছেন।’ সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, এমন আগ্রাসনের সম্ভাবনা খুবই কম। বরং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন তারা। তবে বিষয়টি যে কানাডীয়দের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, তা স্পষ্ট। গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর লেজারের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৩০ শতাংশেরও বেশি কানাডীয় মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন আগ্রাসনের সম্ভাবনা কেন ক্ষীণ রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটস বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হওয়াটা হবে অত্যন্ত জটিল এবং তা কল্পনা করাও কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমার পুরো কর্মজীবনই সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিল, কিন্তু আমরা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে কোনো সামরিক আক্রমণের আশঙ্কার কথা বিবেচনা করিনি।’ উত্তর আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর মিশনে দায়িত্ব পালন করা কোটস বলেন, সামরিক প্রতিরক্ষার অনেক ক্ষেত্রেই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরকে সহযোগিতা করে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয়ই ন্যাটোর সদস্য। এই জোটের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যের তার সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া দেশ দুটি ‘নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের’ অধীনে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ প্রতিরক্ষা অভিযান পরিচালনা করে এবং নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে থাকে। এ কারণেই কোটস মনে করেন, কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আক্রমণ সরাসরি সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে শুরু হবে না; বরং সাইবার যুদ্ধের মতো অপেক্ষাকৃত গোপনীয় উপায়ে এর সূচনা হতে পারে। সম্পর্ক সব সময় বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবে মিত্র হয়ে ওঠে এবং অর্থনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পরস্পরের সহযোগী হয়ে ওঠে। কানাডিয়ান ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক টিম ফোরান বলেন, তবে পরিস্থিতি সব সময় এমন ছিল না। প্রকৃতপক্ষে কানাডার নিজস্ব পরিচয়ের একটি মূল ভিত্তিই হলো অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত উপনিবেশগুলো যখন বিদ্রোহ করেছিল, তখন ব্রিটিশ উত্তর আমেরিকার যেসব উপনিবেশ ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি অনুগত ছিল; তাদের সমন্বয়েই কানাডা গঠিত হয়েছিল। কানাডা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ উত্তর আমেরিকার উপনিবেশগুলোতে আগ্রাসনের চেষ্টা চালিয়েছিল; ১৭৭৫ সালে তারা মন্ট্রিল দখল করে নেয় এবং কুইবেক শহরটিও প্রায় দখল করে ফেলেছিল। ১৮১২ সালের যুদ্ধে আমেরিকানরা বারবার তৎকালীন ‘আপার কানাডা’, ‘লোয়ার কানাডা’ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আক্রমণ চালায়, যার ফলাফল ছিল অমীমাংসিত। সেই যুদ্ধের সময় প্রতিশোধ হিসেবে ব্রিটিশ সেনারা হোয়াইট হাউস পুড়িয়ে দিয়েছিল, যা ইতিহাসের পাতায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ফোরান জানান, সে সময় যেসব উপনিবেশ নিয়ে পরে কানাডা গঠিত হয়, সেগুলো নিজেদের সুরক্ষার জন্য গ্রেট ব্রিটেন ও তাদের রয়্যাল নেভি এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলোতে সেনাপতির ভূমিকা পালন করা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডা আবারও দেশটির সঙ্গে যুদ্ধের কথা বিবেচনা করেছিল। এ লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছিল, যার ভিত্তি ছিল কানাডীয় সেনাবাহিনীর জেনারেলদের সীমান্ত শহরগুলোতে চালানো গোপন সফর। পর্যটক সেজে তারা সেখানে যেতেন এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সেতু ও মহাসড়কের ছবি তুলতেন। শত্রুপক্ষ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পেতে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলতেন। কানাডিয়ান ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক এবং বিংশ শতাব্দীর কানাডা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু বার্চ বলেন, সে সময় যুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকলেও কানাডীয়রা সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর কাজের ধরনই এমন। তারা নানাবিধ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে।‘ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন কেমন হতে পারে যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের আশঙ্কা অত্যন্ত কম, তবুও কানেকটিকাটের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক ম্যাথিউ শ্মিডট বলেছেন, কানাডিয়ানদের এ ধরনের প্রস্তুতির বিষয়টিই প্রমাণ করে যে, বিশ্বব্যবস্থা কতটা আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কানাডীয় নেতাদের এখন কঠিন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—যেমন, তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে চান। কারণ, এই অংশীদারত্বের সুবাদেই যুক্তরাষ্ট্র এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে থাকে, যা কানাডার ক্ষতি করার ক্ষেত্রে দেশটি কাজে লাগতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এ নিয়ে এক ধরনের যৌক্তিক ভীতিও কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে হয়তো আমেরিকানরা খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু কানাডীয়রা তা গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে এবং প্রয়োজনে নিজেদের রক্ষায় তারা প্রস্তুতও রয়েছে। তাহলে এমন ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে? যুদ্ধের প্রথম পর্যায়টি বেশ সংক্ষিপ্ত হতে পারে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘গ্লোব অ্যান্ড মেইল’ পত্রিকার প্রতিবেদনে কানাডার সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি মডেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মডেল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের মুখে এক সপ্তাহের মধ্যেই কানাডার কৌশলগত অবস্থানগুলো পরাস্ত হয়ে পড়তে পারে। তখন কানাডার সামরিক বাহিনী সংখ্যায় অনেক পিছিয়ে পড়বে এবং শত্রুকে প্রতিহত করতে কানাডীয় বাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন করতে হবে। জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কানাডাকে সহায়তা ও সুরক্ষার জন্য ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো মিত্র দেশগুলোর দ্বারস্থ হতে হবে। ধারণা করা হয়, গত এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পনার ছক কষল। কোটস জানান, সামরিক যুদ্ধের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই মডেলটি তুলনামূলকভাবে কম তীব্র বা প্রাথমিক পর্যায়ের একটি পরিকল্পনা। তিনি বলেন, ন্যাটো জোটের অন্যান্য মিত্র দেশের তুলনায় স্থলপথে আগ্রাসনের মোকাবিলায় কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে কানাডা পিছিয়ে ছিল; তবে ভূ-রাজনীতির এই অনিশ্চিত সময়ে তারা এখন সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে। এরই একটি প্রমাণ পাওয়া যায় কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধানের সাম্প্রতিক এক আহ্বানে, যেখানে সামরিক বাহিনীর আকার ব্যাপকভাবে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে—যার মধ্যে ৩ লাখ পর্যন্ত স্বল্প-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাগরিক-সৈনিক অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকেও কানাডায় আগ্রাসন চালানো হয়তো খুব একটা সহজসাধ্য বিষয় হবে না। শ্মিডট বলেন, বিশাল সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও কানাডার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন বা সম্মতি আদায় করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, কানাডায় আগ্রাসন চালানোর নির্দেশ দেওয়া হলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন কর্মকর্তা পদত্যাগ করবেন। তারা এটিকে একটি বেআইনি ও অনৈতিক আদেশ হিসেবেই গণ্য করবেন।’ তিনি আরও বলেন, কানাডীয় ও মার্কিন সেনারা নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণ নেয় এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে সম্পর্কের অবনতি হয়ে যদি সরাসরি সংঘাত বা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়—যা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম—সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত কানাডার মূল্যবান সম্পদ যেমন তেল ও খনিজ দখলের পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উৎখাত বা নিষ্ক্রিয় করার ওপরই মনোযোগ দেবে। তিনি বলেন, ‘তখন হয়তো এমন এক ধরনের অভিযানের দৃশ্য দেখা যাবে, যা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল।’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা যে অনেক বেশি, তা স্বীকার করে তিনি বলেন, শক্তির তুলনামূলক বিচারে কানাডীয় সেনারাও বেশ ভালোভাবেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।