সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
২,২৬৬ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।   মঙ্গলবার (০৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ২টি । সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন’ প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ, পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া, সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ৬টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প রয়েছে। একনেক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১২ তম এবং বর্তমান সরকারের চতুর্থ একনেক সভায় মোট ১২টি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। তবে সভায় যাচাইবাছাই শেষে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থাপিত ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক দুটি প্রকল্প নীতিগত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হলেও বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, অনুমোদন না পাওয়া বাকি দুটির মধ্যে একটি বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্প অন্যটি খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি। একনেকের আলোচ্যসূচিতে থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। যে কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সভায় প্রকল্পটির বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একনেক সভায় প্রকল্পের খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এলজিইডি-পিডাব্লিউডিসহ সব বিভাগের রেট সিডিউল এক না হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে দ্রুত সময়ে রেট সিডিউল একীভূত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া সড়কের পাশে যেন ইউক্লিপটাস-ইপিলি-ইপিল গাছ না লাগানো হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্পটি সভার আলোচ্যসূচিতে থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হতে পারে এবং তখন অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

৩ ঘন্টা আগে
জানতামই না উনি এত ভালো খেলেন’, বিজয়ের দাবার চালে মুগ্ধ চ্যাম্পিয়ন প্রজ্ঞানন্দ

একজন সদ্যই নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসাবে খেতাব জিতেছেন। অন্যজন ‘কিস্তিমাত’ করেছেন রাজনৈতিক মঞ্চে। প্রথম জন রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। দ্বিতীয় জন থলপতি বিজয়। সোমবার দেখা হল দুই ‘চ্যাম্পিয়ন’-এর। প্রজ্ঞানন্দ যেভাবে দেশ ও রাজ্যকে গর্বিত করেছেন, তার ‘পুরস্কার’ হিসেবে তাঁকে ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার দিলেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। এরই পাশাপাশি দাবাও খেললেন। এবং চমকে দিলেন প্রতিভাবান ভারতীয় তারকা দাবাড়ুকে! খেলার শেষে প্রজ্ঞানন্দ বলতে বাধ্য হলেন, ”জানতামই না উনি এত ভালো খেলেন।   জানা গিয়েছে, বিজয় আগেই প্রজ্ঞানন্দকে জানিয়েছিলেন তিনি যেন দাবার বোর্ড সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। এরপর সত্যিই প্রজ্ঞানন্দকে সম্মানিত করার ফাঁকে তাঁর সঙ্গে দাবাও খেললেন টিভিকে সুপ্রিমো। ২০ বছরের দাবাড়ুর সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা নাগলক্ষ্মীও। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রজ্ঞানন্দ বলেন, ”আমি সত্যিই এটা প্রত্যাশা করিনি। আমি শুনিইনি উনি দাবা খেলেন। উনি বলে দিয়েছিলেন যেন বোর্ড নিয়ে আসি। আমরা পরে খেলেছিও। আমিই জিতেছি। কিন্তু জানতাম না উনি এত ভালো খেলেন। জিজ্ঞেস করলাম, কার সঙ্গে দাবা খেলেন। বিজয় জানিয়েছেন, বন্ধুদের সঙ্গে তিনি প্রায়ই খেলেন।” সম্প্রতি নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসাবে খেতাব জিতে নজির গড়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। প্রতিযোগিতার শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। শেষ দিনে ১৫ পয়েন্ট পেয়ে তিনি ছিলেন তৃতীয় স্থানে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ সামলে কিস্তিমাত করেন ভারতীয় দাবাড়ু। এদিকে তামিলনাড়ুর দ্বিমুখী লড়াইকে কার্যতই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বিজয়। ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু কোনও দল বা জোটই তা ছুঁতে পারেনি। বিধানসভা ভোটে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাদুসংখ্যা থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল বিজয়ের দল টিভিকে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। এদিকে বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭-এ। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক সমর্থন করেন টিভিকে-কে। দুই বাম দলের চার বিধায়কও বিজয়ের পাশে দাঁড়ান। পরে ভিসিকে, মুসলিগ লিগের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন বিজয়।

৩ ঘন্টা আগে
১০২ জাতের আম এক বাগানে

ফেনীর সোনাগাজীতে একটি আম বাগানে চাষ হয়েছে প্রায় ১০২ জাতের আম। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন প্রজাতির আম। ফেনী নদীর তীরবর্তী মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকায় ৬৫ একর জমির খামারে চাষ হয়েছে এসব আম।   সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্সে নামে এ খামারে ৬ হাজার গাছের এই আমের বাগান। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. সোলায়মান এ খামারের মালিক। তিনি বলেন, বিদেশে না গিয়ে আম চাষ করেও দেশের যুবকরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুধু আমের মৌসুমে নয়, ১২ মাসই আম পাওয়া যায় এ বাগানে। আম কিনতে প্রতিদিন জেলা শহর ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষরা ছুটে আসেন এ বাগানে। কৃষি বিপ্লবের এ সাফল্য কেবল উদ্যোক্তার জীবন বদলায়নি, দেখিয়েছে নতুন প্রজন্মের সামনে স্বাবলম্বী হওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, নওগাঁসহ দেশের সব অঞ্চলের আম রয়েছে এ বাগানে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান, চীনসহ বিদেশি বাহারি নানা স্বাদের আমও রয়েছে এখানে। সব মিলিয়ে ১০২ জাতের আম মিলছে এই আম বাগানে। মো. সোলায়মান ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসরে যান। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আম, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু পালন, মধু, সরিষা উৎপাদন ও নার্সারি তৈরির বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে ১৯৯২ সালে তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে পারিবারিক জমিতে খামার প্রতিষ্ঠা করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে কৃষিতে শ্রম ও মেধা দিয়ে তিনি সফল হয়েছেন। নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগান ও খামার পরিচর্যার কাজ করেন বলে বৃদ্ধ বয়সেও সুস্থ, সবল আছেন। কৃষিতে সময় দিলে কৃষি ভালো ফল দেয় এমনটাই দাবি তার। চলতি মৌসুমে এ বাগান থেকে ৯০-১০০ টন আম উৎপাদন হবে বলে তিনি জানান। সাধারণ জাতের আমগুলো প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়। ব্যানানাসহ কয়েকটি জাতের আম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৫০ টাকায়। খামারের মালিক মেজর (অব.) সোলায়মান বলেন, এসব আম বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। খামারে এসেই ক্রেতারা কিনে নিয়ে যান। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কিছু ক্রেতা রয়েছেন যারা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম সংগ্রহ করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পরে ঠিকানায় পৌঁছে যায় অর্ডার করা আম। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা জানান, বাগানে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। কেবল আমের মুকুল আসার দুই মাস আগে একবার কীটনাশক ছিটানো হয়। আর সারা বছর ব্যবহার করেন জৈবসার। বাগানে স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা ২৫ জন। আর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে আছেন আরও ১০ জন। তারাই বাগান পরিচর্যা করেন, ফল তোলেন এবং বিপণন করেন। তিনি জানান, এ খামারটির শুরু করেছিলেন মাত্র ৬ একর জমিতে। বাড়তে বাড়তে এখন সেটি ৬৫ একরের সমন্বিত খামার। চট্টগ্রামের মীরসরাই থেকে আসা ক্রেতা বেলাল হোসেন বলেন, এ খামারের আমগুলো পোকা ও ফরমালিনমুক্ত। তাই আমার সন্তানদের খাওয়াতে কিনতে এসেছি। খামার ম্যানেজার সাবেক সেনা সদস্য হেলাল হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে চাষকৃত আম বাজারজাত করা হচ্ছে। ফরমালিনমুক্ত আমগুলো খামারেই প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। খামার কর্মচারী মো. নাহিদ বলেন, এ খামারে প্রতিদিন ৮০-১০০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে। খামার থেকেই ক্রেতারা আম সংগ্রহ করছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হানিফ বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় এ খামারে জৈবিক ও ব্যাগিং পদ্ধতিসহ না প্রক্রিয়ায় আম উৎপাদন করা হয়েছে। আগামীতে এ খামারের আম বিদেশে রপ্তানি করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফেনীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিক উল্যাহ বলেন, সোয়াস এগ্রোতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগ দুটি প্রদর্শনী প্লটে ভাগ করা হয়েছে। এবারের মৌসুমে ১শ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খামার থেকে উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে।

৩ ঘন্টা আগে
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দিতে ব্যাপক করছাড় ও ভ্যাট অব্যাহতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, অপরদিকে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে নতুন অর্থবছরে বাজারে কিছু পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নতুন করনীতির মূল লক্ষ্য হলো দেশে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা। এই কারণে কয়েকটি পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ বা বিদ্যমান করহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।     কাজু বাদামে বাড়তি শুল্ক দেশে বাণিজ্যিকভাবে কাজু বাদামের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে আমদানি করা কাজু বাদামের ওপর শুল্ক পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে আমদানি করা কাজু বাদামের দাম বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত কাজুবাদামের বাজার তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।    দাম বাড়বে আমদানি করা মাছের  দেশীয় মৎস্য খাতকে সুরক্ষা দিতে বিদেশ থেকে আমদানি করা কিছু মাছের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।  এর ফলে আমদানি করা সামুদ্রিক ও প্রিমিয়াম শ্রেণির মাছের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।    সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে নতুন চাপ  জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে তামাকজাত পণ্যের ওপর করের বোঝা আরও বাড়ানো হচ্ছে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী সিগারেটের দাম প্রতি প্যাকেটে পাঁচ থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।   এছাড়া সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ফিল্টার পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং নিকোটিন আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। নিকোটিন পাউচের ওপরও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হতে পারে।  কর বৃদ্ধির ফলে শুধু সিগারেট নয়, অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।    বিদেশি মদের দাম আরও বাড়তে পারে  বিদেশি মদের ওপর আগে থেকেই উচ্চহারে শুল্ক-কর রয়েছে। নতুন বাজেটে এই খাতে করের চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।   একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপরও প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের চিন্তা করছে সরকার। ফলে দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের মদের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    নির্মাণ খাতে বাড়তে পারে ব্যয়  নির্মাণ খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ এমএস রডের ওপর কর ও ভ্যাট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর এবং ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত কর আরোপ হতে পারে।   শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রডের দাম বাড়বে এবং এর প্রভাব আবাসন, অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতের ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।    বিদেশি প্রসাধনী হবে আরও ব্যয়বহুল  দেশীয় প্রসাধনী শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও বিলাসী সৌন্দর্যপণ্যের ওপর করের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। আমদানি পর্যায়ে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের কারণে বিদেশি প্রসাধনীর দাম বাড়তে পারে।  বিশেষ করে উচ্চমূল্যের স্কিনকেয়ার, কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।    বিলাসী খাদ্যপণ্যেও বাড়তি খরচ  আমদানিনির্ভর বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং প্রিমিয়াম ভোগ্যপণ্যের ওপরও অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এসব পণ্য কিনতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।    কেন বাড়ানো হচ্ছে কর?  অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, বরং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।  সেই লক্ষ্যেই বিদেশি ও বিলাসী পণ্যের ওপর কর বাড়িয়ে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের জন্য বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।    ভোক্তার জন্য কী বার্তা?  নতুন বাজেট কার্যকর হলে বাজারে দুই ধরনের চিত্র দেখা যেতে পারে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অনেক পণ্যের দাম কমতে পারে, আবার আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের দাম বাড়তে পারে।  ফলে যারা বিদেশি প্রসাধনী, আমদানি করা খাদ্যপণ্য, কাজু বাদাম, সিগারেট, মদ কিংবা প্রিমিয়াম মাছ ব্যবহার করেন, তাদের ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

৩ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
সীমান্তে পুশ-ইন উত্তেজনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অগ্রযাত্রায় নতুন চ্যালেঞ্জ?

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক পুশ-ইন ও পুশব্যাক ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে আরও একটি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।   অন্যদিকে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় কয়েকদিন ধরে অবস্থান করা ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নিজেদের ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।   এমন পরিস্থিতিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় না থাকা ৪ হাজার ৮০০ জন কথিত অনুপ্রবেশকারীকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আরও ৮৩৬ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন বাংলাদেশ ও ভারত নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা দিচ্ছে। আগামী দিনে তিস্তার পানি বণ্টন, গঙ্গা চুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সীমান্ত পরিস্থিতির এই উত্তেজনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।   ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, পুশ-ইন বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে ১২ থেকে ১৩টি কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে।   সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও বিষয়টি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৯, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই-জুন নয়, জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছরের প্রস্তাব জামায়াতের

দেশের প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্ষাকালে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে পরিকল্পিত ব্যয়ের পরিবর্তে অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।   মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬-২৭’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত হওয়ায় শেষ দিকে বর্ষা, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চাপ তৈরি হয়। ফলে অর্থবছরের শেষ মাসগুলোতে দ্রুত ব্যয় দেখানোর প্রবণতা দেখা যায়, যার সুফল জনগণ পায় না।   তিনি জানান, সংসদে অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বাজেট ঘোষণার অন্তত তিন মাস আগে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের বিধান কার্যকর করার দাবিও জানান তিনি।   গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত। তার দাবি, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিলেও তা বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ নেয়নি।   অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প জাতীয় বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন দলটির সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)।   এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান।   এছাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মজিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ছবি: সংগৃহীত
মরিশাসে আবার খুলছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মরিশাসে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আবারও চালু হতে যাচ্ছে। দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ ও মরিশাস।   সোমবার (৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলও) সাইডলাইনে দুই দেশের মন্ত্রিপর্যায়ের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে সম্মতি হয়। জেনেভাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম অংশ নেন। বৈঠকে মরিশাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকারকে শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক দ্রুত স্বাক্ষরের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান। বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স, হিসাবরক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি মরিশাসে পাঠাতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। বৈঠক শেষে মরিশাসের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানান তিনি। বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে তাদের সরকার অত্যন্ত আগ্রহী। বিশেষ করে দেশটির ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পের সম্প্রসারণে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এ সময় মরিশাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটির সরকার। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান, উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব মো. আমিনুল ইসলাম।

করিম খান। ছবি : সংগৃহীত
যৌন অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৯ জুন) আইসিসির পরিচালনাকারী সংস্থা এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।   সংস্থাটি জানায়, করিম খানকে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিসেবা কার্যালয় পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রের সামনে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তবে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এক বিবৃতিতে ব্যুরো জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের একটি অ্যাড হক প্যানেলের পরামর্শ এবং লিখিত উপস্থাপনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যুরো আরও বলেছে, সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত নথিপত্র গোপন রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গোপনীয়তা, অধিকার ও চলমান প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন যত দ্রুত সম্ভব আহ্বান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
সি চিন পিংয়ের সফরের আগে কিম জং-উনের বোনের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনড় বার্তা

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।   দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি আজ রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) ওই বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বরাবরই দাবি করে আসছে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে। দেশটির যোগাযোগ ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত কিম ইয়ো জংয়ের এ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, তাঁর মন্তব্যটি এসেছে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগমুহূর্তে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সি চিন পিং আগামীকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। তাঁর এ সফর মঙ্গলবার শেষ হবে। চীন উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা উত্তর কোরিয়ার জন্য বেইজিংয়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর এটিই হবে সি চিন পিংয়ের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। গত মাসে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টানা বৈঠক করেছেন।  

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জানতামই না উনি এত ভালো খেলেন’, বিজয়ের দাবার চালে মুগ্ধ চ্যাম্পিয়ন প্রজ্ঞানন্দ
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬

একজন সদ্যই নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসাবে খেতাব জিতেছেন। অন্যজন ‘কিস্তিমাত’ করেছেন রাজনৈতিক মঞ্চে। প্রথম জন রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। দ্বিতীয় জন থলপতি বিজয়। সোমবার দেখা হল দুই ‘চ্যাম্পিয়ন’-এর। প্রজ্ঞানন্দ যেভাবে দেশ ও রাজ্যকে গর্বিত করেছেন, তার ‘পুরস্কার’ হিসেবে তাঁকে ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার দিলেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। এরই পাশাপাশি দাবাও খেললেন। এবং চমকে দিলেন প্রতিভাবান ভারতীয় তারকা দাবাড়ুকে! খেলার শেষে প্রজ্ঞানন্দ বলতে বাধ্য হলেন, ”জানতামই না উনি এত ভালো খেলেন।   জানা গিয়েছে, বিজয় আগেই প্রজ্ঞানন্দকে জানিয়েছিলেন তিনি যেন দাবার বোর্ড সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। এরপর সত্যিই প্রজ্ঞানন্দকে সম্মানিত করার ফাঁকে তাঁর সঙ্গে দাবাও খেললেন টিভিকে সুপ্রিমো। ২০ বছরের দাবাড়ুর সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা নাগলক্ষ্মীও। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রজ্ঞানন্দ বলেন, ”আমি সত্যিই এটা প্রত্যাশা করিনি। আমি শুনিইনি উনি দাবা খেলেন। উনি বলে দিয়েছিলেন যেন বোর্ড নিয়ে আসি। আমরা পরে খেলেছিও। আমিই জিতেছি। কিন্তু জানতাম না উনি এত ভালো খেলেন। জিজ্ঞেস করলাম, কার সঙ্গে দাবা খেলেন। বিজয় জানিয়েছেন, বন্ধুদের সঙ্গে তিনি প্রায়ই খেলেন।” সম্প্রতি নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসাবে খেতাব জিতে নজির গড়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। প্রতিযোগিতার শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। শেষ দিনে ১৫ পয়েন্ট পেয়ে তিনি ছিলেন তৃতীয় স্থানে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ সামলে কিস্তিমাত করেন ভারতীয় দাবাড়ু। এদিকে তামিলনাড়ুর দ্বিমুখী লড়াইকে কার্যতই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বিজয়। ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু কোনও দল বা জোটই তা ছুঁতে পারেনি। বিধানসভা ভোটে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাদুসংখ্যা থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল বিজয়ের দল টিভিকে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। এদিকে বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭-এ। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক সমর্থন করেন টিভিকে-কে। দুই বাম দলের চার বিধায়কও বিজয়ের পাশে দাঁড়ান। পরে ভিসিকে, মুসলিগ লিগের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন বিজয়।

ছবি: সংগৃহীত
চীনের ইভি কোম্পানি বিওয়াইডি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬

এবার বিওয়াইডির পেছনে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু বিওয়াইডি নয়, চীনের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ও বাইদুকে চীনের সামরিক কার্যক্রমের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।   ফলে চীনের এই বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কালোতালিকায় যুক্ত হলো। এর আগে চীনের প্রযুক্তি খাতের প্রাণ হিসেবে খ্যাত হুয়াওয়েকে কালোতালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল–জাজিরার পেন্টাগন সোমবার এ হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার যে চেষ্টা চলছে, এ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর তা আরও জটিল হয়ে উঠল বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস এ সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা নিয়ে অযথা টানাটানি করছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশে কাজ করা চীনা কোম্পানিগুলো সব সময়ই সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও নিয়ম মেনে চলে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের নীতি থেকে সরে এসে চীনা কোম্পানির জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে আলিবাবা জানায়, তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ভিত্তিহীন। কোম্পানিটির বক্তব্য, তারা কোনোভাবেই চীনের সামরিক খাতের অংশ নয় এবং মিলিটারি-সিভিল ফিউশন বা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়নীতির সঙ্গে তাদের যোগ নেই। আলিবাবা আরও জানায়, তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিওয়াইডি ও বাইদু এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। পেন্টাগনের এ তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় এখন ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, গত বছরের তুলনায় যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তাদের নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চুক্তির জন্য বিবেচিত হবে না—এমন নিয়ম আগামী মাসের শেষ দিকে কার্যকর হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়নীতিতে সহায়তা করে, তাদের এ তালিকায় রাখা হয়। এ নীতির মাধ্যমে বেসামরিক গবেষণা ও সামরিক উন্নয়নের মিশেল ঘটানো হয়। হালনাগাদ তালিকায় বলা হয়েছে, আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইদু চীনের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে সামরিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এ সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের কিছু সময় পরই, যদিও দুই দেশ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতের উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছিল। আলিবাবা, বাইদু ও বিওয়াইডি চীনের প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। যথাক্রমে ই-কমার্স, সার্চ ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর আগে টেনসেন্টকেও একই ধরনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান এই টেনসেন্ট। নতুন তালিকায় আরও রয়েছে শেনজেনভিত্তিক রোবোটিকস, এআই প্রতিষ্ঠান রোবোসেন্স টেকনোলজি ও হাংঝুভিত্তিক ইউনিট্রি রোবোটিকস। বিশ্লেষকদের মতে, এমন বিস্তৃত তালিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এসব চীনা কোম্পানির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাদের মতে, বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের প্রতিটি দেশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন চীনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপ তেমন একটা ফলপ্রসূ হয় না।   হুয়াওয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে? হুয়াওয়ে একসময় অন্যতম জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ছিল। তবে ২০১৯ সালে মার্কিন সরকার হুয়াওয়েকে এনটিটি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার পর হুয়াওয়ের অফিশিয়াল স্মার্টফোন ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগে। এ বিধিনিষেধের কারণে গুগল হুয়াওয়েকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে হুয়াওয়ের ডিভাইসগুলো গুগল প্লে স্টোর ও বহুল ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি গুগল অ্যাপ্লিকেশনসহ গুগল মোবাইল সার্ভিসেস ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। গুগলের সেবা থাকায় বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে হুয়াওয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। কেননা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গ্রাহকেরা গুগলের ইকোসিস্টেমের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ে বড় ধাক্কা খেলেও ধীরে ধীরে ঘরোয়া প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। কোম্পানিটি নিজস্ব অ্যাপগ্যালারি প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। তার ভিত্তিতে কোম্পানিটি বাজারে ফিরে আসছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলা চললে ইসরায়েলকে একা লড়তে হবে : ট্রাম্প
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করলে ইসরায়েলকে হয়তো সম্পূর্ণ একা লড়াই করতে হতে পারে। গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটার পর তিনি এই মন্তব্য করলেন।    ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় কোনো প্রকার অজ্ঞতা বা বোকামির স্থান নেই বলে উল্লেখ করেন। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের সম্ভাব্য টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমি বিবিকে বলেছি, তোমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত, তা না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একা হয়ে যেতে হবে।’  রোববার (৭ জুন) ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আকস্মিক ও ভয়াবহ বোমা হামলা চালালে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান, যার জবাবে সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি পেট্রোমিক্যাল কারখানায় নিখুঁত বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা প্রয়োগ করছে। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন যে, তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার পর তারা আপাতত হামলা বন্ধ করেছে, তবে ইরান পুনরায় আক্রমণ করার ভুল করলে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার অবশ্য দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার এই উত্তেজনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই বাক্যবিনিময়কে দীর্ঘ বন্ধুত্বের মাঝে একটি সাময়িক উত্তপ্ত আলোচনা বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই জানেন যে ইসরায়েলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে তেল আবিব কোনোভাবেই চুপচাপ বসে থাকবে না। এই তীব্র আঞ্চলিক সংঘাতের জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকা এই যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারী, তাই লোহিত সাগরে জাহাজ আটক বা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের মতো যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য মার্কিন প্রশাসনই সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবে। তবে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ দাবি করেছেন, এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক নতুন উচ্চতা প্রদর্শিত হয়েছে, যা ইসরায়েলকে পুনরায় যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করতে বাধ্য করেছে। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক শান্তি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিশ্চিত করেছেন যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান নিয়মিত বার্তা বিনিময় করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও একটি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই সংঘাতের রেশ ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সোমবার সকালে লোহিত সাগরে ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েলি বাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। একই সাথে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার এবং নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিলিস বেনিস মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্পের এই মৌখিক সতর্কবার্তা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কাজে আসবে না যতক্ষণ না আমেরিকা ইসরায়েলকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের রক্ষা করা বন্ধ করছে।   সূত্র: আল জাজিরা 

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা: জিম্মি সংকট মূল কারণ
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজছেন। আপাতদৃষ্টিতে দুই পক্ষ বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বাস্তবে, ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাকে দেখছে ক্ষমতার চোখ দিয়ে, আর ইরান দেখছে নিয়ন্ত্রণে রাখার মানসিকতা থেকে। ওয়াশিংটন চায় অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে নতিস্বীকার করাতে। অপরদিকে, ইরানের লক্ষ্য হলো মূল্যবান কিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার মাধ্যমে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে। বাস্তবতা হলো–জিম্মি সংকট ক্ষমতার ভারসাম্যকে ভেঙে দেয়। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের কূটনীতিক হিসেবেও টেবিলে ইরানের এই কৌশলের কাছে মার্কিন কর্মকর্তাদের অসহায় থাকতে হয়েছে। কারণ, তেহরান এমন কিছু নিজেদের দখলে রেখেছে, যা ওয়াশিংটন ফেরত চায়। নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে জিম্মি উদ্ধার ছাড়া ওয়াশিংটনের আর কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সময় সর্বদা ইরানের পক্ষে কাজ করে, কারণ তারা তাড়াহুড়ো না করে চাপ বাড়ার জন্য অপেক্ষা করে।  ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এভিন কারাগার থেকে পাঁচ মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার কাতারে স্থানান্তর করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর ওয়াশিংটন আবারও সেই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়, যা আজও বহাল।   একই কৌশলের বড় প্রয়োগ, জিম্মি বিশ্ব অর্থনীতি  বর্তমানে ইরান একই কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেছে। এবার তাদের জিম্মি কোনো মার্কিন নাগরিক নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’। বিশ্ব খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তেহরানের চোখে, হরমুজ প্রণালি এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান জিম্মি। সম্প্রতি ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটন যতক্ষণ না তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ফেরত দেবে, ততক্ষণ এই প্রণালি বন্ধই থাকবে। এই অর্থের মধ্যে ২০২৩ সালের সেই ৬০০ কোটি ডলারও রয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের কাছে বর্তমান আলোচনাটি আরেকটি জিম্মি চুক্তি, যেখানে এবার জিম্মি খোদ বিশ্ব অর্থনীতি এবং দাবির অঙ্ক চার গুণ বড়।    মার্কিন চাপের সীমাবদ্ধতা  ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে তেল রপ্তানি বন্ধের মাধ্যমে তেহরানের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফলে ইরান তীব্র মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতিতে পড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। কিন্তু তেহরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব জনগণের এই অর্থনৈতিক কষ্টকে পরোয়া করে না। সামরিকভাবে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার মার্কিন চেষ্টাও মুখ থুবড়ে পড়েছে। ট্রাম্প যদি আবারও সামরিক পথ বেছে নেন, তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মহসেন রেজাইয়ের মতে, অবরোধ না তুললে তারা যুদ্ধকে ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরে টেনে নিয়ে যাবে। অর্থাৎ, তারা আরও নতুন জিম্মি তৈরি করবে।    ওয়াশিংটনের সামনে তিনটি পথ  এই কারণে আলোচনা এখন পুরোপুরি স্থবির। ওয়াশিংটনের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথম পথ হলো ধৈর্য ধরা। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সহ্য করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করা। দ্বিতীয় পথ নতিস্বীকার করা। অর্থাৎ ট্রাম্পের জন্য প্রচণ্ড অবমাননাকর হলেও, ইরানকে কোটি কোটি ডলার দিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া। আর তৃতীয় উপায় হলো আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও সোজা, মূল্যবান সম্পদটি দখলে রাখো এবং অপেক্ষা করো। যতক্ষণ না এই সমীকরণের পরিবর্তন ঘটবে, ততক্ষণ ইরান সহজে হাল ছাড়বে না। দুই পক্ষ ছাড় না দিলে আলোচনাও এ অচলাবস্থায় আটকে থাকবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি