বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন ও ১৭তম সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। রোববার (৭ জুন) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে বোর্ড পরিচালক এবং সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে গত দুই মাস অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর, আজ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে বিসিবির নতুন সভাপতি (নির্বাচিত হিসেবে ষষ্ঠ) নির্বাচিত হন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক ও জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে এক বিশাল বড় ও সাহসী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখন থেকে দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো ধরনের আপস বা স্যাক্রিফাইস করা হবে না। একই সঙ্গে বিগত এক-দেড় বছরে দেশের ক্রিকেটারসহ ক্রিকেটের সাথে জড়িত স্টেকহোল্ডারদের সম্মানের জায়গায় যে তীব্র ঘাটতি ও অবমাননাকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন নতুন এই বোর্ড সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের মানবিক মর্যাদা, অধিকার ও খেলার মান উন্নয়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের ওপরে কোনো ধরনের কোনো আপস করা হবে না। আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের যতটুক রেসপেক্ট বা সম্মান করা দরকার, তা নিশ্চিত করা হবে। এটা কেবল বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য নয়, বরং সাবেক ও উদীয়মান সকল ক্রিকেটার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিটি স্টেকহোল্ডার যেন পূর্ণ সম্মান পান, তা আমরা নিশ্চিত করব। বিগত এক-দেড় বছরে এখানে যে বড় ধরণের ঘাটতি ছিল, সেই ট্র্যাডিশন আমাদের অনতিবিলম্বে ঠিক করতে হবে।’ একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ক্রিকেটের ক্ষুণ্ন হওয়া ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নানামুখী বিতর্কের কারণে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে রেপুটেশন ড্যামেজ বা সুনাম নষ্ট হয়েছে, এই জিনিসটা আমাদের সম্মিলিতভাবে ঠিকঠাক করতে হবে। এটা আমি একা কোনোভাবেই পারব না, এখানে দেশের সংবাদমাধ্যমসহ ক্রিকেটপ্রেমী সবার নিঃশর্ত সাপোর্ট দরকার।’ বিসিবি সভাপতি হওয়াকে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন উল্লেখ করে তামিম ইকবাল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার এই স্বপ্নটা অনেক বছর ধরেই ছিল, এমনকি যখন আমি মাঠে খেলতাম তখনও। ওই সময় ক্রিকেটীয় নানা অসঙ্গতি দেখে আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, হয়তোবা আমি কোনোদিন এই নীতিনির্ধারণী জায়গায় আসতে পারলে একটা পজিটিভ ডিফারেন্স বা পরিবর্তন আনতে পারব। যেটা এখন আমাকে মাঠের বাইরে কাজ করে প্রমাণ করতে হবে। এটা নিঃসন্দেহে একটি ম্যাসিভ রেসপন্সিবিলিটি বা বিরাট বড় জাতীয় দায়িত্ব। যেহেতু টাইম টু টাইম এসব সংস্কার নিয়ে আমি অতীতে অনেক কথা বলেছি, আমি বলেছি যে আমি এটা করতে চাই, ওটা করতে চাই; নাও ইটস টাইম আই আস্ক মাইসেলফ টু ডেলিভার অর্থাৎ এখন আমার নিজের কাজ করে দেখানোর আসল সময়।’ বোর্ডে সুস্থ নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নতুন সভাপতি বলেন, ‘আমি যে ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক পদে নির্বাচন করেছি, সেখানে প্রচণ্ড পরিমাণ কনটেস্ট বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। অনেকে আমাকে আগেই প্যানেল ডিক্লেয়ার করতে বলেছিল। কিন্তু আমি প্যানেল দিলে নির্বাচনটা ওয়ান সাইডেড বা একতরফা হয়ে যেত। প্যানেল না করার সবচেয়ে বড় রিজন ছিল যাতে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পায় এবং নির্বাচনটা খুব নাইস ও স্মুথ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, নবনির্বাচিত ২৫ জন পরিচালকের ব্যক্তিগত আইডেন্টিটি বা রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক না কেন, সবার ইনটেনশন বা উদ্দেশ্য যদি ঠিক থাকে, তবেই দেশের ক্রিকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। বোর্ডে একাধিক সহ-সভাপতি রাখার পুরোনো প্রথা ভেঙে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির একমাত্র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম সিনহা। বোর্ডে কেবল একজন সহ-সভাপতি রাখার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তামিম ব্যাখ্যা দেন, ‘আমি নিজে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে বোর্ডে এখন একজনই ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকবেন। পাস্টের যে এক্সপেরিয়েন্স বা অতীত অভিজ্ঞতা, তাতে একাধিক ব্যক্তি থাকলে অনেক সময় নিজেদের মধ্যে একটা ইগো চলে আসে বা একটা ফাইট চলে আসে। সো আমি চাই না যে বোর্ডে এই ধরনের কোনো নেতিবাচক জিনিস হোক। পুরো বোর্ড আমার এই সংস্কার প্রস্তাবে একমত পোষণ করেছে এবং সবাই হাত তুলে সমর্থন দিয়েছে।’ অন্যদিকে বিসিবি টিভি চালু করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে তা নাকচ করে বলেন, ‘ভাইয়া, আমার মনে হয় বিসিবি টিভির আগে আমার আরও অনেক বেশি ইম্পর্টেন্ট কাজ আছে।’ পূর্বাচলের নতুন স্টেডিয়াম ও হাই পারফরম্যান্স সেন্টার নিয়ে নিজের বড় স্বপ্নের কথা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘হাই পারফরম্যান্স সেন্টার গড়ে তোলা প্রবাবলি আমার বিগেস্ট ড্রিম। পপুলারস নামের একটা কোম্পানি এটাকে আগে ডিজাইন করেছিল। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর ডিজাইনটা দেখে খুব বেশি পছন্দ হয়নি। তাই উনাদেরকে ইনভাইট করেছি, নতুন করে বিশ্বমানের ডিজাইন করা যায় কিনা দেখছি। দ্রুত এই ডিজাইন নিয়ে কাজ করে আমরা আশা করি পূর্বাচলে মূল কাজ স্টার্ট করে দিতে পারব। ইনিশিয়ালি হয়তোবা বিসিবি নিজস্ব ফান্ডিং করে কাজ স্টার্ট করতে পারে, তবে সরকারের সাপোর্টও দরকার।’ বোর্ডের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের মঙ্গলের জন্য যা যা করা দরকার, যদি কোনো গঠনতন্ত্রের চেঞ্জ আনতে হয়, তবে অবশ্যই আমরা তা নিয়ে বোর্ড সভায় আলোচনা করব। আমরা যতটুক বেশি পারি ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ থাকতে চাই। আমি বা আমার বোর্ড মেম্বাররা এমন কোনো কাজ করুক যেটার জন্য আমরা বিতর্কিত হই, এটা আমি অবশ্যই চাবো না।
আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রোববার সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ। এতে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৬০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জনকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪ হাজার ৬০ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে ২ হাজার ৫৭৪ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ১২৬ জন রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক হাজার ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইথিওপিয়ান ৭০ শতাংশ, ২৮ ইয়েমেনি ও বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করায় আরও ২৫ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেওয়ায় সৌদিতে বসবাসরত ১৬ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই সপ্তাহে ৪ হাজার ৬৯০ জন অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর ১৪ হাজার ৪৯৫ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। বহিষ্কারের আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ৮৫০ জনকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারীসহ মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী বর্তমানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তার চেষ্টাকারী ব্যক্তির ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়ে আসছে। মরু অঞ্চলের দেশ সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক সৌদিতে কর্মরত রয়েছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে দেশটিতে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন ধরপাকড় অভিযান ও অবৈধ প্রবাসীদের আটকের খবর প্রকাশ করছে। সূত্র : গালফ নিউজ।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার জেরে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তেহরান শুধু আলোচনা প্রক্রিয়া স্থগিত করবে না, বরং সরাসরি শত্রুপক্ষের মোকাবিলায় নামবে। রোববার (৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, আমরা শুধু আলোচনার পথ বন্ধ করব না, বরং শত্রুর সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে জড়াব। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দুই দেশই যুদ্ধবিরতি কিংবা কূটনৈতিক সংলাপের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। তার অভিযোগ, লেবানন-সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘন এবং সমুদ্র অবরোধের মাধ্যমে তারা আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে। গালিবাফ বলেন, তারা যুদ্ধবিরতি মানতে চায় না, সংলাপেও বিশ্বাস করে না। লেবানন ইস্যুতে চুক্তি লঙ্ঘন এবং নৌ অবরোধ আরোপের মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে যে তাদের কাছে শক্তিই একমাত্র ভাষা। ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার মতে, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এবং জায়নবাদী শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত আজ অঞ্চলজুড়ে আমেরিকা ও ওই শাসনের ঘাঁটি এবং সম্পদকে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। গালিবাফ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সমঝোতায় ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গালিবাফের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লেবানন পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেতে পারে। সূত্র : আল জাজিরা
পাকিস্তানের শোবিজ অঙ্গনে ফের তোলপাড়। প্রেম, বিচ্ছেদ আর গোপন বিয়ের জল্পনায় ঘেরা সজল আলি ও হামজা সোহেলকে নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে আলোচনার ঝড়। বিচ্ছেদের গুঞ্জনে যখন ভক্তদের হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল, ঠিক তখনই সামনে এলো চমকপ্রদ তথ্য সম্পর্কে কোনো ভাঙন নয়, বরং খুব শিগগিরই শোনা যেতে পারে তাদের বিয়ের সুখবর। ফলে বিনোদন দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন,কবে বাজবে সাজাল-হামজার বিয়ের সানাই? পাকিস্তানের বিশ্বস্ত বিনোদন প্রতিবেদক ও ভেতরের খবর রাখা এজাজ ওয়ারিসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই তারকা জুটির সম্পর্ক এখনো বেশ মজবুত রয়েছে এবং তাদের বিয়ের পরিকল্পনা যথানিয়মেই এগিয়ে চলছে। এমনকি ভক্তদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দ্রুত এই সুখবর আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এজাজ ওয়ারিস বলেন, ‘এই দুজনের ব্রেকআপ হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। আমার বিশ্বস্ত সূত্ররা যা জানাচ্ছে, তা হলো বিয়ে এখনো হওয়ার পথেই আছে। আর এই ব্রেকআপের খবরগুলো শুধুই গুজব ও মিথ্যা বলেই আমার মনে হচ্ছে।’ ‘গুজবের ক্ষেত্রে আসলে কী হয় জানেন? একটা পেজ খবর বানায়, আর বাকি পেজগুলো সেটা কপি করে নেয়। আমার কাছে যতক্ষণ পর্যন্ত ব্রেকআপের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না আসবে, ততক্ষণ আমি কেন আগ বাড়িয়ে তা ঘোষণা করতে যাব?’ বিচ্ছেদের খবরকে সম্পূর্ণ ভুয়া দাবি করে সজল-হামজার বিয়ের ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো সময় সাজাল ও হামজার বিয়ের ঘোষণা আসতে পারে। আমার কাছে কোনো ব্রেকআপের খবর নেই। এখন এর মধ্যে যদি কিছু হয়েও থাকে, তবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত এমন কোনো খবর পাইনি। যদি কখনো পাই, তবে আপনাদের জানিয়ে দেব। কারণ সত্যি বলতে, আমি তাদের প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ করা পছন্দ করি না। ওদের একসঙ্গে নিজেদের সংসার গড়তে দিন।’ উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চে আহাদ রেজা মীরের সাথে সজল আলি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ব হোন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তাদের সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। ২০২২ সালে এই দুই তারকা বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন।
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীকে গুলি করে দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ একটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন (৪৫) আহত হয়েছেন। রোববার (৭ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর সংলগ্ন জনতা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লোকমান হোসেন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ওই এলাকায় অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার সময় তার হাত ও পায়ে মোট তিনটি গুলি লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, আহত ব্যক্তি মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলাকারীরা ব্যাগে থাকা মুদ্রা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, মোট ছয়জন দুর্বৃত্ত তিনটি মোটরসাইকেলে এসে এই হামলা চালায় এবং ঘটনার পর দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাই হওয়া ব্যাগে দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও প্রায় ১৭ হাজার মার্কিন ডলার ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাইরে দেশের রপ্তানি খাতের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট পণ্য ও বাজারকেন্দ্রিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোর বিকাশে সহায়তা করতেই এ স্কিম চালু করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য দিয়ে এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে এবং এটি একটি ঘূর্ণায়মান (রিভলভিং) তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (পিএফআই) কাছে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে। আর রপ্তানিকারকরা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে অর্থায়ন পাবেন। এ সুবিধার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সুদ কমতি স্থিতি (রিডিউসিং ব্যালেন্স) পদ্ধতিতে হিসাব করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ স্কিমের মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো, বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়ন এবং অপ্রচলিত রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ অনুযায়ী ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ ও ‘বিশেষ উন্নয়ন’ খাতভুক্ত শিল্পগুলো এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন সুবিধা পাবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাট ও চামড়া খাতকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত রপ্তানিকারক, রপ্তানি আয় দেশে আনতে বকেয়া রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এবং ঋণ অবলোপনের (রাইট-অফ) ইতিহাস রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার জন্য যোগ্য হবে না। স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি (পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকগুলোও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে স্কিমের সুদহার ও মেয়াদসংক্রান্ত শর্ত মেনে চলতে হবে। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পেতে প্রতিটি অর্থ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করতে হবে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে ডিমান্ড প্রমিসরি নোট, লেটার অব কন্টিনিউটি, ডেবিট অথরিটি লেটার এবং হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন। এ স্কিমের আওতায় অর্থায়নকৃত সব বিনিয়োগে ন্যূনতম ঋণ-ইকুইটি অনুপাত ৭০:৩০ বজায় রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থাও চালু করেছে। অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিলে বা তহবিলের অপব্যবহার করলে পুনঃঅর্থায়নের স্বাভাবিক সুদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে জরিমানা সুদ আরোপ করা হবে। জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সরাসরি আদায় করা হবে। আরও বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এককালীন কর্তনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সম্পূর্ণ বকেয়া পুনঃঅর্থায়নের অর্থ আদায় করতে পারবে। ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন (২০২৩ সালে সংশোধিত) এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ স্কিম চালু করা হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না বলে সংসদে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে এ কথা জানান তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা লোডশেডিং বলি আর মেরামত সেডিংই বলি, গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, এটাই হলো বাস্তবতা। মন্ত্রীর কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন মন্ত্রী এই সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। এর পরে আরও এক মাস তিন চার দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সাপ্লাই আমরা পাইনি। আশুগঞ্জ সার কারখানায় কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে— সংসদে এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখেন এই সংসদ সদস্য। অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় (ফার্টিলাইজার) গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদ দেশে গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উনি বিদ্যুৎ চাচ্ছেন আবার উনার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেও গ্যাস চাচ্ছেন। গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এ জন্য আমাদের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালু রাখতে হচ্ছে এবং সেই কারণে তার ওখানে আমরা সংযোগ দিতে পারছি না।
সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে জয় পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এবার সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অবশ্য সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তাই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন আপতত একজন। তিনি ফাহিম সিনহা। আজ রোববার (৭ জুন) মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সকাল ১০টার দিকে শুরু ভোটগ্রহণ। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রাপ্ত ভোটে ঢাকার ক্লাব থেকে জিতেছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা: মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম। যেখানে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট। ফাহিম সিনহা এবং শানিয়ান তানিম ৬৬টি করে ভোট পেয়েছেন। আসিফ রাব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩টি ভোট পেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন । ক্লাব ক্যাটাগরিতে মোট ভোট ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সর্বমাধ্যম (অল মিডিয়া) সম্প্রচারস্বত্ব সরাসরি ফিফা থেকে ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে ফিফার কাছ থেকে এই সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের অনুমোদন চেয়ে কমিটির কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ে মোট চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রস্তাবের আওতায়, বিটিভি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া রাইটস’ অর্জন করবে। যার ফলে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচার মাধ্যমটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটি প্রস্তাবটির কারিগরি ও আর্থিক দিকসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র সাথে সরাসরি এই ক্রয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। সরকারি সম্প্রচার সেবার মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার বড় বড় আসর পৌঁছে দেওয়ার সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলনই এই উদ্যোগ। প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর, দেশব্যাপী ফুটবলপ্রেমীরা বিটিভির মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সরাসরি সম্প্রচার এবং এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হলে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংসে ওয়াশিংটন ও তেহরান যৌথভাবে কাজ করতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হলে আবারও যুদ্ধ শুরু হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হলে ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার নিষ্ক্রিয় করার কাজ দুই দেশ মিলে সম্পন্ন করতে পারে। এ বিষয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করলেও আলোচনার সফলতা নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও ওয়াশিংটন এখনই কোনো অর্থনৈতিক ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। তিনি বলেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না। এসব পদক্ষেপ কেবল তখনই বিবেচনা করা হবে, যখন একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা কার্যকর হবে এবং ইরানের আচরণে বাস্তব পরিবর্তন দেখা যাবে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, আলোচনা সফল না হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে যেতে পারে। তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দুই পক্ষ একটি সম্ভাব্য সমঝোতার বেশ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না। এ বিষয়ে তারা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং পারমাণবিক স্থাপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অনেক আলোচনা রয়ে গেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের অবস্থান ও পরিমাণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক হামলার পর কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ফ্রান্স। রোববার (৭ জুন) ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক সাক্ষাৎকারে জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার পরও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আগামী দিনগুলোতে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে গত মাসের শেষদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই পদক্ষেপের পরই ফ্রান্সের এই কড়া অবস্থান সামনে আসে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতার জন্য দায়ীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স। এসব প্রতিষ্ঠান বসতি স্থাপনকারীদের সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিম তীরের চলমান উত্তেজনা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর আগে ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ এবং সহিংসতা কমানোর আহ্বান জানায়। সূত্র: রয়টার্স
ভারতে বেকারত্ব, চাকরি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে নতুন এক প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোটি কোটি তরুণের সমর্থন পাওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। চাকরি না পাওয়া ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেই মন্তব্যকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি অনলাইন আন্দোলন শুরু করেন। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। আন্দোলনের মূল দাবি হচ্ছে শিক্ষা ও চাকরি ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। সম্প্রতি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শত শত তরুণ অংশ নেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটি এবং ফলাফল নিয়ে বিতর্কের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের হতাশা ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো তরুণদের কেবল ভোটার হিসেবে দেখে, তাদের বাস্তব সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেয় না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সিজেপি সরাসরি মোদি সরকারের জন্য বড় কোনো নির্বাচনী হুমকি নয়। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তবুও আন্দোলনটির দ্রুত বিস্তার দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই ধরনের আন্দোলন ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘তেলাপোকা পার্টি’ হয়তো এখনো একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, কিন্তু এটি যে তরুণদের ক্ষোভ ও হতাশার নতুন ভাষা হয়ে উঠছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।
ভারতের NEET ও NET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে। দলটির নাম 'ককরোচ জনতা পার্টি' রাখা হয়েছে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রেক্ষাপট থেকে, যেখানে তরুণরা নিজেদের 'তেলাপোকা' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তুলে ধরছে। বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং বিখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ শান্তিপূর্ণভাবে এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা তেলাপোকার মুখোশ পরে, বই হাতে এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ২,০০০ পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই আন্দোলনটি বর্তমানে ভারতের ছাত্র ও যুব সমাজের কর্মসংস্থান এবং পরীক্ষা নিয়ে বিদ্যমান গভীর সংকটের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।