মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখে, তাহলে সেটি মেনে নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।তার এ বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের আগের অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগে ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, ইরানকে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে এবং দেশটিকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। তবে এবার তিনি বলেন, ‘২০ বছরই যথেষ্ট। তবে এটি সত্যিকারের ২০ বছর হতে হবে।’ যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর সংঘাত শুরু হয়। পরে গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এ সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, তেহরানের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে হওয়া আলোচনায় ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ন্যূনতম ২০ বছরের শর্ত দেন। এবার প্রথমবারের মতো ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে ২০ বছরের সময়সীমার কথা বললেন। এদিকে ইসরায়েল এখনো ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলা যাবে না।
হরমুজ প্রণালিকে ‘উন্মুক্ত, নিরাপদ ও অবাধ’ রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাই এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মোদি শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের মাধ্যমে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় পাঁচ দেশ সফর শুরু করেছেন। আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত সফরকালে তিনি একথা বলেন। মোদির সফরটি মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল উদ্বেগের মধ্যে শুরু হলো, যা ইরান যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের ওপরও। দেশটি শুক্রবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ক্রেতা এবং সাধারণত তাদের তেলের প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আমদানি করে, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত সফরে মোদি বলেন, ‘আমি আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি।’ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হন। সফরের সময় তার বিমানকে আমিরাতের আকাশসীমায় সামরিক জেট দিয়ে এসকর্ট করা হয়, যা তিনি ‘সম্মান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর।
প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে বড় পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন বাবর আজম। এদিকে দল থেকে বাদ পড়েছেন শাহিন আফ্রিদি। প্রথম টেস্ট শুরুর ঠিক আগের দিন বাম হাঁটুতে চোট পান বাবর। এরপর প্রথম টেস্ট থেকে বাদ পড়তে হয় তাকে। তার জায়গায় ইমাম উল হক সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি খুব একটা। যার ফলে বাবর ফিরে আসেন দ্বিতীয় টেস্টে। এদিকে নোমান আলি মিরপুর টেস্টে আলো ছড়াতে পারেননি। তাকে দ্বিতীয় টেস্টে বসিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। তার জায়গায় দলে ফিরেছেন সাজিদ খান। শাহিন আফ্রিদিরও কপাল পুড়েছে। ২ ইনিংস মিলিয়ে ৫ উইকেট নিলেও তাকে দ্বিতীয় টেস্টে দলে রাখেনি পাকিস্তান। তার বদলে খুররম শেহজাদ ঢুকেছেন দলে। পাকিস্তান একাদশ আজান ওয়াইস, শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, আব্দুল্লাহ ফজল, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, খুররম শাহজাদ, সাজিদ খান, হাসান আলী ও মুহাম্মদ আব্বাস।
প্রথম টেস্টে জেতা দল থেকে দ্বিতীয় টেস্টে ২টি বদল এনেছে বাংলাদেশ। তারই সুবাদে আন্তর্জাতিক অভিষেকের প্রায় ৩ বছর পর টেস্ট অভিষেক হয়েছে তানজিদ হাসান তামিমের। ২০২৩ সালে এশিয়া কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তানজিদ হাসান তামিমের। এরপর থেকে সাদা বলে নিয়মিতই খেলছিলেন তিনি। বেশ কিছু ম্যাচ জেতানো পারফর্ম্যান্স আছে তার। তবে এবার টেস্ট আঙিনায় অভিষেক হচ্ছে তার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫টি সেঞ্চুরি আছে তার। ১৪৫ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশ দলে আরেক পরিবর্তন আছে। এবাদত হোসেন প্রথম টেস্টের ২ ইনিংসে ১৪ ওভার বল করে উইকেট পাননি। তাকে দ্বিতীয় টেস্টে বিশ্রাম দিয়েছে বাংলাদেশ। তার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশ একাদশ— নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম।
তারেক রহমান-এর চাঁদপুর সফর ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। সফরের অংশ হিসেবে আজ শনিবার (১৬ মে) সকালে তিনি গুলশানের বাসা থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে তাকে “প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মিল না থাকায় এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, তিনি বিভিন্ন দলীয় ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সফরসূচি অনুযায়ী, যাত্রাপথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বরুড়া-এর লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে একটি পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুপুরে চাঁদপুর জেলার একাধিক এলাকায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন এবং সদর উপজেলার কুমারডুগী এলাকায় বিশ্ব খাল পুনঃখনন কার্যক্রম। পরে বিকেলে চাঁদপুর সার্কিট হাউস ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দিনশেষে চাঁদপুর ক্লাবে একটি সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সফর শেষে সন্ধ্যায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার এই কর্মসূচি শেষ হবে বলে জানানো হয়।
বিশ্বের বায়ুদূষণ পরিস্থিতিতে আজ শনিবার (১৬ মে) সকালে লাহোর রয়েছে শীর্ষে। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ৪৪৭, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা তালিকায় ৩৮তম অবস্থানে রয়েছে। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ঢাকার AQI স্কোর ছিল ৬২, যা ‘মাঝারি বা সহনীয়’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, এদিন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি (স্কোর ২২৬), তৃতীয় স্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৬৩), চতুর্থ স্থানে উগান্ডার কামপালা (১৫২) এবং পঞ্চম স্থানে ফিলিপাইনের ম্যানিলা (১৩২)। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ০–৫০ স্কোরকে ‘ভালো’, ৫১–১০০ ‘মাঝারি বা সহনীয়’, ১০১–১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১–২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১–৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও ঢাকার বায়ুমান আজ তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, তবে শহরের ঘন জনসংখ্যা, যানবাহন ও শিল্প দূষণের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ও পর্যাপ্ত ক্ষমতার অভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে দেড় বছরে সরকার অর্থনীতিকে গভীর সংকট থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে ছিল। ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনসহ প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যও নেতিবাচক অবস্থায় ছিল। তিনি বলেন, “নতুন সংস্কারের আগে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—‘রিপেয়ার’ ও ‘রিফর্ম’। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।” সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, “অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে। কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব। পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সমর্থন না থাকায় অনেক সিদ্ধান্ত কাঙ্ক্ষিত গতিতে বাস্তবায়ন করা যায়নি।” ব্যাংক খাতের অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল আইন ও অনিয়মের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনা দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়; প্রয়োজন আইনগত সংস্কার। কিছু ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সহায়তাও দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। জ্বালানি খাত নিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শিল্পখাতে প্রণোদনা দেওয়া হলেও অনেক শিল্প এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব মোকাবিলায় কার্যকর সংস্কার, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত-এ বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আবারও জুমার নামাজ ও দুই ঈদের নামাজে বাংলা ভাষায় খুতবা পাঠের অনুমতি দিয়েছে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের জন্য নিজ নিজ মাতৃভাষায় খুতবা পাঠের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কুয়েতের সালমিয়া, বয়ান, সালুয়া ও মিসরেফ অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত রোমতিয়া ৪ নম্বর ব্লকের একটি মসজিদে আগে থেকেই বাংলা খুতবা পাঠের অনুমোদন ছিল। তবে মসজিদটির সংস্কারকাজ চলায় গত প্রায় ছয় মাস ধরে সেখানে বাংলা খুতবা বন্ধ ছিল। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার (১৫ মে) থেকে পুনরায় বাংলা ভাষায় খুতবা পাঠের অনুমতি দিয়েছে কুয়েতের ধর্ম মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মাতৃভাষায় খুতবা শোনার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রতি জুমায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু বাংলাদেশি পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ওই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। জানা গেছে, কুয়েতের বিভিন্ন বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রায় ২০টি মসজিদে বাংলা খুতবা পাঠের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রবাসী মুসল্লিদের মতে, মাতৃভাষায় খুতবা শুনলে ইসলামের শিক্ষা, দ্বিনি নির্দেশনা ও ধর্মীয় বিধান সহজে বোঝা যায়। তাদের বিশ্বাস, বাংলা ভাষায় খুতবা পাঠের মাধ্যমে ইসলামের মর্মবাণী আরও স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হবে।
নাকবা দিবসে গাজায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির এ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও কয়েক ডজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারীদের একজনকে’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। হামাস এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি এবং আল জাজিরাও স্বাধীনভাবে ইসরায়েলের এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। চিকিৎসা সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলায় নিহত হন এবং আরও চারজন পশ্চিম গাজা সিটির রিমাল এলাকায় একটি ভবনে হামলায় নিহত হন। সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। আনাদোলু জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গাজায় আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খলিলি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলায় অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনটিতে ‘ভয়াবহ আগুন’ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ফিলিস্তিনিকে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়। নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকীতে এ হামলা হয়েছে। এদিন ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর আনুমানিক ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলেন। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসেল বলেন, লক্ষ্যবস্তু হওয়া আবাসিক ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা বা নোটিশ ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা বহু নিহতের কথা বলছি। বিপুল সংখ্যক আহত মানুষের কথা বলছি, যাদের মধ্যে পুরো পরিবারও রয়েছে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
হরমুজ প্রণালিকে ‘উন্মুক্ত, নিরাপদ ও অবাধ’ রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাই এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মোদি শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের মাধ্যমে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় পাঁচ দেশ সফর শুরু করেছেন। আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত সফরকালে তিনি একথা বলেন। মোদির সফরটি মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল উদ্বেগের মধ্যে শুরু হলো, যা ইরান যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের ওপরও। দেশটি শুক্রবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ক্রেতা এবং সাধারণত তাদের তেলের প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আমদানি করে, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত সফরে মোদি বলেন, ‘আমি আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি।’ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হন। সফরের সময় তার বিমানকে আমিরাতের আকাশসীমায় সামরিক জেট দিয়ে এসকর্ট করা হয়, যা তিনি ‘সম্মান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর।
দক্ষিণ লেবাননে গত এক সপ্তাহে ২২০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দখলদা ইসরাইল। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। শুক্রবার (১৫ মে) এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, আইডিএফ সদস্যদের ওপর হামলার প্রস্তুতি ও তৎপরতায় জড়িত ২২০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে গত এক সপ্তাহে হত্যা করা হয়েছে। সামরিক বাহিনী আরও জানায়, একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর ৪৪০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। এদিকে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বৃদ্ধি করেছে লেবানন ও ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘ওয়াশিংটনে ইসরাইল এবং লেবানেননের দু’দিনের সংলাপ আজ শেষ হয়েছে। খুবই ফলপ্রসূ সংলাপ হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিন, তার মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বেড়েছে এই সংলাপের পর।’ গত ২৮ মার্চ ইরানে মার্কিন বাহিনী বিমান অভিযান শুরুর পর ২ মার্চ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। টানা প্রায় দেড় মাস আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল ও লেবানন। আগামী রোববার সেই বিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল; তবে তার আগেই মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ল।
নাকবা দিবসে গাজায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির এ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও কয়েক ডজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারীদের একজনকে’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। হামাস এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি এবং আল জাজিরাও স্বাধীনভাবে ইসরায়েলের এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। চিকিৎসা সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলায় নিহত হন এবং আরও চারজন পশ্চিম গাজা সিটির রিমাল এলাকায় একটি ভবনে হামলায় নিহত হন। সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। আনাদোলু জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গাজায় আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খলিলি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলায় অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনটিতে ‘ভয়াবহ আগুন’ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ফিলিস্তিনিকে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়। নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকীতে এ হামলা হয়েছে। এদিন ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর আনুমানিক ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলেন। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসেল বলেন, লক্ষ্যবস্তু হওয়া আবাসিক ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা বা নোটিশ ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা বহু নিহতের কথা বলছি। বিপুল সংখ্যক আহত মানুষের কথা বলছি, যাদের মধ্যে পুরো পরিবারও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বাতিল, স্থগিত ও রুট পরিবর্তন করছে। বৃহস্পতিবার একাধিক এয়ারলাইন্স জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে তাদের ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। জার্মানির লুফথানসা অক্টোবর ২৪ পর্যন্ত ইরাকের এরবিলে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউরোউইংস জুন ২২ পর্যন্ত এরবিলগামী ফ্লাইট বন্ধ রাখবে। গ্রিসের এইজিয়ান এয়ারলাইন্স জুলাই ২ পর্যন্ত এরবিল ও বাগদাদে ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া তুরস্কের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা পেগাসাস এয়ারলাইন্স জুন ১ পর্যন্ত ইরাকগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার অ্যারোফ্লট জানিয়েছে, তারা আগামী ১ জুন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ার আরও কয়েকটি বড় এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট সীমিত বা স্থগিত করেছে। এয়ার ফ্রান্স দুবাই, বৈরুত, রিয়াদ ও তেলআবিবে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ দুবাই, দোহা, রিয়াদ ও তেলআবিবে ফ্লাইট কমিয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, এয়ার কানাডা, ক্যাথে প্যাসিফিক, জাপান এয়ারলাইন্স এবং ফিনএয়ারও দোহা, দুবাই, আবুধাবি ও রিয়াদসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত বা সীমিত করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।