সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
উত্তরপত্রে নম্বর কম-বেশি দিলে বছরের জেল

পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদানকারী পরীক্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।   সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।   সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের অপরাধে শাস্তি দিতে হলে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসঙ্গতি নিশ্চিত করতে হবে।   সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’-কে সময়োপযোগী করে হালনাগাদ করা হয়েছে।   এ আইনে অনুমতি ছাড়া পরীক্ষার ডাটাবেজে প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য বিকৃত করা বা পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজিসহ যেকোনও ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি, পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা এবং অন্যান্য ডিজিটাল কারসাজির বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
ইআইইউ’র বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার পরে কেবল ত্রিপোলি ও দামেস্ক

সার্বিক এশিয়ায় জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক উন্নতি হলেও বসবাসের যোগ্য শহরের তালিকায় আরও পিছিয়েছে ঢাকা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, বসবাসের অযোগ্যতায় বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ঢাকার পরে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক।   ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৪২ স্কোর পেয়ে গত বছরের মতো এবারও একই অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশের রাজধানী। এর আগে ২০২৫ সালেও ঢাকা তিন ধাপ পিছিয়ে ১৭১তম হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৬৮তম এবং তার আগের বছর ছিল ১৬৬তম। ধারাবাহিকভাবে ঢাকার এই অবনতি রাজধানীর গভীর নগর-অকার্যকারিতাকেই স্পষ্ট করছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচি ৪৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার ঠিক এক ধাপ ওপরে (১৭০তম) রয়েছে।   অন্যদিকে, তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের খেতাব পেয়েছে কোপেনহেগেন। এর পরেই রয়েছে ভিয়েনা ও মেলবোর্ন।   ইআইইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের শহরগুলোতে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জাপানের অগ্রগতির কারণে এশিয়া অঞ্চলে গড় বাসযোগ্যতার স্কোর বেড়ে ৭৪ হয়েছে। তবে এই সুফল সমানভাবে বণ্টন হয়নি। ঢাকার মতো অনুন্নত দেশের শহরগুলোর কারণে এশিয়ার গড় মান ধরে রাখা যাচ্ছে না। এশিয়ার গড় স্কোরের চেয়ে ঢাকা ৩২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলো যুদ্ধবিগ্রহের কারণে পিছিয়ে পড়লেও ঢাকার এই তলানিতে থাকার মূল কারণ দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতা।   পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে অবকাঠামোতে মাত্র ২৭। এ ছাড়া স্থিতিশীলতায় ৪৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৪২ এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪১ স্কোর পেয়েছে ঢাকা। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা ভালো স্কোর (৬৭) পেলেও অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্বল নগর পরিবেশের কারণে ঢাকা এখনও বিশ্বের অন্যতম বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবেই রয়ে গেছে।

১ ঘন্টা আগে
পাবলিক পরীক্ষা আইনের সংশোধনী পাস, ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড

  ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষার ডাটাবেজে জালিয়াতি, সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ এবং নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে অনুমতি ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।   সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।   সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’-কে সময়োপযোগী করে হালনাগাদ করেছে। প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত এ আইনটি পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।   সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া পরীক্ষার ডাটাবেজে প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য বিকৃত করা বা পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজিসহ যেকোনও ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।   আইনে ‘অর্গানাইজড এক্সামিনেশন ক্রাইম’ নামে সংঘবদ্ধ পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা কিংবা এমন প্রস্তাব দেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।   এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। সংঘবদ্ধভাবে নকল বা প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টাও একই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।   সংশোধিত আইনে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করে পরীক্ষা কেন্দ্র বা পরীক্ষার হলে প্রবেশ কিংবা প্রবেশের চেষ্টাকেও অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।   ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ড দিতে হলে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসঙ্গতি নিশ্চিত করতে হবে।   পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতাও আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনও প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে, যোগসাজশে লিপ্ত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রাখলে তাদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, লাইসেন্স স্থগিত, কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি (ডিবারমেন্ট) বা কালো তালিকাভুক্তির (ব্ল্যাকলিস্ট) ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।   সংশোধিত আইনে তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষার ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এ সুরক্ষা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।   আইনে আরও বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে কোনও শিশু অপরাধে জড়িত হলে তার বিচার প্রাপ্তবয়স্কদের মতো না করে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।   মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সংশোধিত আইনের অধীন সব অপরাধকে আমলযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং মহানগরের বাইরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এসব মামলার বিচার করবেন। বিচার কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।   এ ছাড়া, আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।   বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির কারণে ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনটি সময়োপযোগী ছিল না। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংঘটিত অপরাধকে আইনের আওতায় আনতেই এ সংশোধন আনা হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
ফিফায় ট্রাম্পের নগ্ন হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়

‘উদ্ভট ও বিব্রতকর’ এক প্রেসিডেন্ট জালিয়াতি করার পরও ফুটবল মাঠে যুক্তরাষ্ট্র দলের এই ভরাডুবি দেখা সত্যিই দারুণ! তবে তাদের এই হার পুরো বিশ্বকে এক সুতোয় বেঁধেছে। বেলজিয়ামের এমন প্রতিরোধে শেষ কবে বিশ্বজুড়ে এত মানুষ একসঙ্গে উল্লাস করেছিল, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। সেটা সম্ভবত ১৯১৪ সালে, যখন জার্মানরা প্রথম মিউজ নদী পার হয়। আপনারা হয়ত এরইমধ্যে জেনেছেন, এবারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিদায় করেছে সবদিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো বেলজিয়াম।   এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়াই করে বলেছিলেন, ‘মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে তিনবার ফোন করেছি। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলেও জালিয়াতি করে, কথাটা সবাইকে জানিয়ে দিন।’ ফিফা ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে ‘শিটহাউসারি’ (মাঠে প্রতিপক্ষকে উসকানি দেওয়া বা নোংরা কৌশল খাটানো) শব্দটা আমাদের সামনে এসেছে, আপনারা অনেক শুনেছেন। এমনকি মার্কিন ধারাভাষ্যকারদের কেউ কেউ অত্যন্ত দৃষ্টিকটূভাবে তাদের আলোচনায় শব্দটা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন।   ভাইসব, দয়া করে থামুন- শব্দটা আপনাদের জন্য নয়। আপনাদের জন্য ‘আর্বস’, ‘আ কাপল থিংস’, কিংবা ‘আ ওয়েজ টু গো’-এর মতো বুলিই ঠিক আছে। তবে গত কয়েকদিন ক্ষমতা অপব্যবহারের যে নগ্ন রূপ দেখা গেছে, তাকে বিশ্বের সব ভাষায় যে নামে ডাকা উচিত, তা হলো- ‘হোয়াইটহাউসারি’ (হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার অপব্যবহার)। আর এই ‘হোয়াইটহাউসারি’ ভুলে যেতে আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ট্রাম্প নিজে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এতটাই আতঙ্কিত ছিলেন যে, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বিড়বিড় করে বলেন- সপ্তাহান্তে তার এই অন্যায্য হস্তক্ষেপ নাকি দারুণ এক কাজ ছিল! কারণ তিনি এসব কাজে ওস্তাদ।   মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প নাকি খেলাধুলা খুব ভালো বোঝেন! অথচ তিনি এই সহজ সমীকরণটা বোঝেন না যে, আপনি যদি প্রতিপক্ষের সঙ্গে চরম অন্যায় কিছু করেন, তবে তারা সেই অন্যায়কে নিজেদের তাতিয়ে তোলার হাতিয়ার বানিয়ে আপনাকে ধুয়ে দেবে।   অনেকে স্ট্রাইকার বালোগানের জন্য সহানুভূতি বোধ করছেন। কারণ তিনি তো সেধে প্রেসিডেন্টের এই কলুষিত ছায়া নিজের ওপর চাননি। লন্ডনে বেড়ে ওঠা বালোগান এটি একেবারেই চাওয়ার কথা নয়। কারণ তিনি এমন শ্রেণির মানুষ, যাদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার খর্ব করতে ট্রাম্প সবকিছু করতে পারতেন, যদি না গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রচেষ্টা নাকচ করে দিত। কী আর বলার- ‘যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে।’   ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর জন্য কারও মনে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি এই মুহূর্তে নেই- এটি দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। তবু এখন সব আলো তার দিকেই ঘুরিয়ে দেওয়া দরকার। কারণ, ফিফার তথাকথিত স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সংস্থাকে দিয়ে রহস্যময় ‘ধারা ২৭’ সচল করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পেছনে ইনফান্তিনো চরম আষাঢ়ে গল্প ফেঁদেছেন। আর তাকে বাহবা দিয়ে একটি মার্কিন সাময়িকী লিখেছে, ‘ফিফার সততা রক্ষা করলেন ইনফান্তিনো।’    আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, আমাদের এই দিনও দেখতে হচ্ছে! আমরা এখন আক্ষরিক অর্থেই শূন্যতাবাদী ‘ব্লাটারকে ফিরিয়ে আনো’ যুগে বাস করছি। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার, যাকে শেষবার দেখে মনে হয়েছিল তিনি গাড়ির ভেতর ঘুমান। গত বছর আপিলে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কোনোমতে খালাস পেয়েছেন তিনি। গতকাল তার উত্তরসূরির (ইনফান্তিনো) ওপর দুই পায়ে স্লাইডিং ট্যাকল করেছেন। ব্লাটার হুংকার দিয়ে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক তদবিরের ফোনে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল হয় না।’    তাহলে কীসে হয়? বস্তাভর্তি টাকা আর দামি হাতঘড়িতে? দৃশ্যত তাও নয়। ব্লাটার বলেন, ‘নিয়ম, প্রমাণ এবং স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমেই কেবল সিদ্ধান্ত বাতিল হতে পারে।’ বাঃ, কে জানত!   এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা যে ইনফান্তিনোকে এর চেয়ে বেশি ঘৃণা করতে পারত না, তা ভুল প্রমাণিত হলো। তারা এখন তাকে আরও বেশি ঘৃণা করে। উয়েফা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘যখন নিয়মের অভিভাবকরাই নিয়মের নিশ্চয়তা দিতে পারেন না, তখন খেলার সততা ঝুঁকির মুখে পড়ে। একটি টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয় এই ধরনের নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং অসমর্থনযোগ্য সিদ্ধান্তে আমরা বিস্ময় প্রকাশ করছি।’ উয়েফা বলেছে, ফিফার সিদ্ধান্তটি ‘রেড লাইন’ বা সব সীমা অতিক্রম করেছে। রেড লাইন, সব সীমা- এসব আবার কী?    মানচিত্রের বালাই যদি নাই-ই থাকে, নৈতিকতার গ্যালাক্সিও আমরা পেরিয়ে এসেছি কয়েক আলোকবর্ষ আগে। সম্ভবত তখনই, যখন ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’-এর ফটোসেশনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। অথবা যখন নিজেই ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ চালু করে তা ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছেন।    যাই হোক, জল অনেক দূর গড়িয়েছে। বালোগান-কাণ্ডের কারণে ফিফার বিরুদ্ধে নৈতিকতা তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েক সদস্য। একদিকে তদন্তের এই দাবি, অন্যদিকে সততা নিয়ে খোদ সেপ ব্লাটারের প্রশ্ন! একটা নাটক বটে!   আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই দলটি যদি ১৯৯৩ সালের ঘুস-সহায়তা পাওয়া মার্সেই দলের বিপক্ষে খেলে এবং ম্যাচটি যদি দুর্নীতিবাজ জার্মান রেফারি রবার্ট হয়জার পরিচালনা করেন, তবু ইনফান্তিনোর ফিফা প্রেসিডেন্ট পদ দুর্বল হবে না। কারণ, সবকিছু মিলিয়ে ইনফান্তিনো এই মুহূর্তে তার সংস্থায় অপরাজেয়। ইউরোপের বাইরের সদস্য দেশগুলোকে তিনি অনুদান ও উন্নয়ন তহবিল দিয়ে দারুণভাবে হাতের মুঠোয় রেখেছেন। তবে নিশ্চয় একদিন এই চিত্র বদলাবে। কেননা, ফিফায় ক্ষমতার জন্য আরও বেশি লোভী কেউ না কেউ সবসময় ওত পেতে আছেন।    এখন শুধু এটাই আশা করার, শেষ পর্যন্ত যারা চ্যাম্পিয়ন হবেন, তারা যেন তাদের গৌরব ছিনতাই করার সুযোগ না দেন। 

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
গ্রীষ্মকালীন সেনা মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটালেন।   মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীরের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি।   মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।   এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।   একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার খান এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরকারপ্রধান দীর্ঘ সময় কাটানোয় উপস্থিত সেনাসদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।   পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখছে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
এশিয়া কাপের জন্য তিন ভেন্যু বিবেচনায় বিসিবি, শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আগামী বছরের ওয়ানডে এশিয়া কাপ বাংলাদেশে আয়োজনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এ উপলক্ষে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে মিরপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামকে বিবেচনায় রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিসিবির নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ জানান, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। বিসিবি সেই তথ্য প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।   তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোই আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের এশিয়া কাপ সফলভাবে আয়োজনের জন্য বিসিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে।   প্রায় ১১ বছর পর বাংলাদেশে এশিয়া কাপ ফেরার সম্ভাবনায় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দর্শক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি মানসম্মত টুর্নামেন্ট উপহার দিতে বিসিবি প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে চান স্কালোনি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এগিয়ে চলা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি সম্ভাব্য ফাইনাল নিয়ে মুখ খুলেছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সুযোগ পেলে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে চান।   কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ মিশর। তবে সেই ম্যাচের আগে স্কালোনি বলেন, স্পেন টুর্নামেন্টে ম্যাচের পর ম্যাচ নিজেদের পারফরম্যান্সের উন্নতি করেছে এবং বর্তমানে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।   যদিও স্পেনের প্রশংসা করেছেন, তবুও কোনো দলকে একক ফেবারিট বলতে রাজি নন আর্জেন্টাইন কোচ। তার মতে, ভ্রমণ, আবহাওয়া, মাঠের অবস্থা এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি—এসব কারণে এবারের বিশ্বকাপ অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং কোনো দলই ধারাবাহিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি।   হাস্যরসের ছলে স্কালোনি বলেন, "স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে হলে আমি আজই চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগে আমাদের এবং স্পেন—উভয় দলেরই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।"   তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ক্লাব মৌসুম শেষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ায় অনেক ফুটবলার শারীরিকভাবে ক্লান্ত। এজন্য টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো দলই তাদের সর্বোচ্চ মানের ফুটবল উপহার দিতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরও জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে নেপালের জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান গুনাকর ভট্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সংযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, উন্নয়ন পরিকল্পনায় সহযোগিতা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ।   আলোচনায় বাংলাদেশ ও নেপাল ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আগুন

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে দূরপাল্লার ড্রোন হামলাগুলোর একটি চালিয়ে রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলা করেছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে বাল্টিক সাগর উপকূলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।   ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওমস্ক তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগে। গত বছর শোধনাগারটিতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন বা দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়েছিল।   ওমস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভিটালি খোতসেনকো হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   ইউক্রেন আরও জানিয়েছে, রাতভর বাল্টিক সাগরের উস্ত-লুগা ও ভিসোৎস্ক বন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার তেল রপ্তানির জন্য এই দুটি বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কালুগা ও ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।   এদিকে পাল্টা হামলায় রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালায়। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, এতে অন্তত ২২ জন নিহত এবং সাত শিশুসহ ৫৬ জন আহত হয়েছেন।   ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট থাকায় কিয়েভের দিকে ছোড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি।   হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি দ্রুত আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করা সম্ভব।   মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হতে পারে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
এরদোয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে ট্রাম্পের প্রতি নেতানিয়াহুর আহ্বান
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তুরস্কের কাছে উন্নত অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি বিক্রিতে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বিক্রির বিষয়ে সতর্ক থাকতে।   চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে। বৈঠকে তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এস-৪০০ থাকলে এফ-৩৫-এর গোপন প্রযুক্তি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   তবে সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আইনগত শর্ত পূরণ হলে তুরস্কের কাছে আবারও এফ-৩৫ বিক্রির সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পেন্টাগন।   নেতানিয়াহুর অভিযোগ, এরদোয়ান ও তুরস্কের শীর্ষ নেতারা ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। তাই এমন একটি সরকারের হাতে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র তুলে দেওয়া উচিত হবে না।   তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী চরমপন্থি আদর্শে প্রভাবিত একটি সরকারকে এফ-৩৫ বা যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন দেওয়া উচিত নয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।   তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও হোয়াইট হাউস।   গত দুই বছরে গাজা যুদ্ধ ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এরদোয়ান সম্প্রতি জায়নবাদকে গণহত্যার মতাদর্শ বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

ছবি: সংগৃহীত
ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আগুন
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে দূরপাল্লার ড্রোন হামলাগুলোর একটি চালিয়ে রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলা করেছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে বাল্টিক সাগর উপকূলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।   ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওমস্ক তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগে। গত বছর শোধনাগারটিতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন বা দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়েছিল।   ওমস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভিটালি খোতসেনকো হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   ইউক্রেন আরও জানিয়েছে, রাতভর বাল্টিক সাগরের উস্ত-লুগা ও ভিসোৎস্ক বন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার তেল রপ্তানির জন্য এই দুটি বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কালুগা ও ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।   এদিকে পাল্টা হামলায় রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালায়। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, এতে অন্তত ২২ জন নিহত এবং সাত শিশুসহ ৫৬ জন আহত হয়েছেন।   ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট থাকায় কিয়েভের দিকে ছোড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি।   হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি দ্রুত আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করা সম্ভব।   মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হতে পারে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
সম্মান দিয়ে কথা বলুন, মিস্টার ট্রাম্প; হুঁশিয়ারি ইরানের
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিমূলক বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর বলেছেন, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে হবে, অন্যথায় তেহরানও 'ভিন্ন ভাষায়' জবাব দেবে।   সোমবার এক বিবৃতিতে জোলঘাদর ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মান দেখিয়ে কথা বলুন। অন্যথায় আমরা আপনাকে ভিন্ন ভাষায় জবাব দেব।’   এর আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘একভাবে বা অন্যভাবে জয়ী হবে।’ তিনি বলেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো কাজ শেষ করে দেব। আর সেটি শেষ করা কঠিন হবে না।’   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জোলঘাদর তাকে ‘ভ্রান্ত ধারণায় থাকা’ নেতা বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস ও সভ্যতার অধিকারী ইরানকে অতীতেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার ফল হয়েছে ব্যর্থতা এবং পরে আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান।   তিনি আরও বলেন, ইরানিরা বিদেশি শক্তির হুমকিতে ভয় পায় না এবং এ ধরনের ভাষার সঙ্গে পরিচিতও নয়।   ইরানি কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, দেশটির সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তারা কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। তেহরানের দাবি, যেকোনো আগ্রাসন বা উসকানিমূলক আচরণের জবাব তারা দৃঢ় ও উপযুক্তভাবে দেবে।   সূত্র: প্রেস টিভি

ছবি: সংগৃহীত
খামেনির মরদেহ পৌঁছেছে পবিত্র নগরী কোমে
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা এখন পবিত্র শহর কোমে চলছে। এদিকে হামাস ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে না। এর ফলে বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি টেকনোক্র্যাট কমিটি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।   আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তেহরানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শেষ শ্রদ্ধা ও শোকযাত্রা শেষে সোমবার খামেনির মরদেহ কোমে পৌঁছায়। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরবর্তী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।   অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, গাজার শাসনব্যবস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি টেকনোক্র্যাট বা বিশেষজ্ঞনির্ভর বেসামরিক প্রশাসন গঠনের পথ উন্মুক্ত হলো।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ হামলায় গাজায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি এবং লেবাননে চারজন নিহত হয়েছেন।   এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক একটি সংস্থা গাজার চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়াকে ইসরায়েলের আটককে ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে এবং তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি