প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ২৪ হলো ৭১-এর এক্সটেনশন।’ শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘টিফিন’-এর স্বাধীনতা দিবস সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন ও ‘তরুণ প্রজন্মের চোখে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেছেন। আলোচনাসভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে ‘টিফিন’ ও ‘ব্রেইন’। টিফিন ম্যাগাজিনটি এবারই প্রথম প্রকাশিত হলো। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ড. সাইমুম পারভেজ, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল আশরাফ সিদ্দিকী, চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দা নীলিমা দোলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আদনান আরিফ সালিম, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়েদ আবদুল্লাহ, গণমাধ্যমকর্মী রাফসান গালিব প্রমুখ। আলোচনায় ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধকে তাদের মতো করে বর্ণনা করার চেষ্টা করতে পারে। এটাকে মারাত্মক ক্রাইম আমি মনে করি না। কেউ যদি রাজনীতি না করেন, তার নিজস্ব একটা রাজনীতি থাকে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো হিস্ট্রি যখন আমরা লিখতে যাই, তখন কি আনবায়াস্ট কোনো হিস্ট্রি লিখতে পারি? বলা হয়ে থাকে ফ্যাক্ট অবজেক্টিভ, ট্রুথ সাবজেক্টিভ। কিন্তু সমস্যাটা যে জায়গায় হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একটা জায়গায় বেঁধে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এখন বিএনপি দল ক্ষমতায়, হতেও পারে তারা তাদের মতো করে একটা ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকার ইতিহাস চর্চাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না। আমি মনে করি, সরকার সেই পথে যাবে না, একটা মুক্ত ইতিহাস চর্চার পরিবেশ থাকবে। সরকার সেটা করতে দেবে বলে মনে করি। ফ্যাক্ট হলো, ৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ২৪ হলো ৭১-এর এক্সটেনশন।’ সভায় ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘জুলাই আমাদের গর্বের একটা জায়গা। উপস্থিত এখানে অনেকেই আছেন, যারা কোনো না কোনো ফর্মে ওই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু জুলাইকে মুক্তিযুদ্ধের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা হয়েছে। যা সফল হয়নি। এটা যতবার চেষ্টা করা হবে, ততবারই তারা ব্যর্থ হবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করি। আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের বড় একটা পার্ট।’ সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, ‘বিগত সময়ে মুক্তিযুদ্ধ একটি দলের হয়ে গিয়েছিল। তারা মনে করত এটা শুধু তাদের দলের।’ ড. মো. আদনান আরিফ বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে যার যা অবদান তাকে তা দিয়ে দিতে হবে। ইতিহাসে যার যা অবদান তার মাধ্যমেই মূল্যায়ন করার চর্চা করতে হবে।’ ড. বুলবুল আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। দেশের একটা অংশ মুক্তিযুদ্ধ বিমুখ। এ ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ইতিহাস চর্চাকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, মাদক পাচার, প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, সশস্ত্র ডাকাতি-ছিনতাই এবং হামলার মতো নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ডিএইচএসের আওতাধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গত এক বছরে ৪ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে ৫৬ হাজার জনই দণ্ডপ্রাপ্ত গুরুতর অপরাধী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে থাকা ১০ বাংলাদেশিকে ‘খারাপের চেয়েও খারাপ’ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। উপসহকারী মন্ত্রী লরেন বিস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সাম্প্রতিক অভিযানে গুরুতর অপরাধে জড়িত হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এসব অপরাধী শিশুদের ওপর হামলা চালায় বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। কারণ তারা সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি।’ ‘খারাপের চেয়েও খারাপ’ অপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির মধ্যে কাজী আবু সাঈদ ধরা পড়েছেন ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট স্কট এলাকায়। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্ত বয়স্ককে খারাপ কাজে ব্যবহার, অবৈধ জুয়া পরিচালনা এবং জুয়াসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আরেক বাংলাদেশি শাহেদ হাসানকে নর্থ ক্যারোলিনার র্যালি শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গোপনে অস্ত্র বহন এবং দোকান থেকে চুরির অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহর থেকে। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন এবং যৌন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমডি হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। মাহতাবউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলি শহর থেকে। তার বিরুদ্ধে গাঁজা বিক্রি এবং হ্যালুসিনোজেন জাতীয় মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মার্লিন শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নেওয়াজ খান। তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক মাদকসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চুরির অভিযোগে শাহরিয়ার আবিরকে ফ্লোরিডা প্যানস্কলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে আলমগীর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিশিগানের মাউন্ট ক্লেমেন্স থেকে। ভার্জিনিয়ার মানাসাস শহর থেকে ইশতিয়াক রাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং সিন্থেটিক মাদক রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতারণার অভিযোগে অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহর থেকে কনক পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জে মাত্র ৫০০ টাকার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় চিকিৎসার অভাবে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্বজনরা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে এ ঘটনা। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে নবজাতকের মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজনরা। নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের মো. রোহানের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই সে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করেন। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় দুর্ভোগ। হাসপাতালের গেটে গিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স খোঁজেন স্বজনরা। চালকরা ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য ভাড়া দাবি করেন সাড়ে ৪ হাজার টাকা। স্বজনরা জানান, সরকারি ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা হলেও তারা প্রথমে ৩ হাজার ৫০০ এবং পরে ৪ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। তবুও চালকরা অনড় থাকেন। সিন্ডিকেটের কারণে অন্য কোনো গাড়িকেও রোগী নিতে দেওয়া হয়নি। এই দরকষাকষির মধ্যেই রাত ৩টার দিকে নবজাতকটি মারা যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিহত শিশুর নানি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক অনুরোধ করেছি, কেউ নেয়নি। আমার নাতিকে বাঁচতে দিল না। দাদা জুয়েল মিয়া বলেন, চোখের সামনে আমার নাতি মারা গেল, শুধু গাড়ি না পাওয়ার কারণে। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানতাম না। কেউ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এখন খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও লুকোচুরি কমাতে ফিলিং স্টেশনগুলোকে ডিপো থেকে পাওয়া দৈনিক তেলের হিসাব দৃশ্যমান বোর্ডে প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই নির্দেশনাটি বিপিসি তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট বা গণমাধ্যমে প্রকাশ না করে কেবল অভ্যন্তরীণভাবে বিতরণ করেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিপিসির এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, এই নির্দেশনাটি সরাসরি গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য নয়, বরং সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার অন্তত দুটি পৃথক নির্দেশনা জারি করেছে বিপিসি, যা আজ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। সেখানে বলা হয়েছে, ফিলিং স্টেশনগুলোর দৃশ্যমান স্থানে একটি ‘ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে’ জ্বালানি তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শন করতে হবে। সেখানে জ্বালানি পণ্যের নাম, গত বছরের মার্চ মাসের একই তারিখের প্রাপ্ত তেলের গড় এবং চলতি বছরের একই তারিখের গড় প্রাপ্তির তথ্য উল্লেখ থাকতে হবে। এ ছাড়া ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে সকাল ১১টা থেকে সংগ্রহ শুরু হলেও এখন তা এগিয়ে আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হবে। বিপিসির এই নির্দেশনাটি তাদের অধীন তিনটি বিপণন কম্পানিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বললেও বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিলিং স্টেশন পর্যায়ে তেলের মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে যে ‘লুকোচুরি’ চলে, তা বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ। তবে সরকারি এই সিদ্ধান্তটি কেন গণমাধ্যমে বা ওয়েবসাইটে দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও পাচার রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অনড় অবস্থানের পরপরই বিপিসির পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশনা এলো।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ৭টার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এদিকে, পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব কটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এসময় তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন। সড়কে নেতাকর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কোনোরকমে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে পারছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘হাসিনা সরকার আসার পর দেশ নকলে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে নকল করে পরীক্ষায় পাস করা আর চলবে না।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সম্মেলন কক্ষে শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষায় নকল শুরু করেছিল শিক্ষকরা, বন্ধও করেছিল শিক্ষকরা। আবার হাসিনা সরকার আসার পর দেশে নকলে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে নকল করে পরীক্ষা আর চলবে না। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। এই মন্ত্রণালয় আমার জন্য এবাদতখানা। আপনারা শিক্ষকরা যদি একজন ছাত্রকে মানুষ বানাতে পারেন সেটা আপনার জন্য সদকায়ে জারিয়া। এজন্য আপনাদের জন্যও এটা এবাদতখানা।’ নকল বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী আমলের মতো পরীক্ষা এদেশে আর হবে না। তখন শিক্ষকদের হাতে ২টা কলম থাকতো। ১টা কালো আরেকটা লাল। কালো কলম দিয়ে শিক্ষকরা ছাত্রদের খাতায় লিখে দিতো। শিক্ষকরা নকল সরবরাহ করতো। এখন থেকে তা বন্ধ। আগামী পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত পরীক্ষা।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে এসএসসি পরীক্ষা। প্রতিটা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। শুধু পরীক্ষার সময়ই না, সর্বদা প্রতিটা প্রতিষ্ঠান ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুল ইসলাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়াসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা এবার হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়। জীবিকার তাগিদে ঢাকার পথে যাত্রাই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ালো। নিহত নাসিমা বেগম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী। স্বজনরা জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চাকরির সন্ধানে সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাসায় যান নাসিমা। দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও চাকরি না হওয়ায় গত ২৫ মার্চ বিকালে ভাগনির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুর থেকে বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। বাসে নাসিমার সঙ্গে ছিলেন তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ৪ বছরের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান এবং আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে আব্দুল আজিজ ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হন বাকি তিনজন। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টায় নাসিমা, তার ভাগনি ও নাতির মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ নিয়ে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্বজনরা। কিন্তু নিয়তির খেলা যেন তখনও শেষ হয়নি। রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া পার হওয়ার সময় হঠাৎ চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সের চাকা ফেটে (ব্লাস্ট) গিয়ে ফের দুর্ঘটনার মুখে পড়ে লাশবাহী গাড়িটি। পরে মেরামত শেষে শুক্রবার ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম সংকটে ছিলেন নাসিমা। রানা প্লাজায় কাজ করার সময় ভবন ধসে পড়লে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার পেয়েছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তাকে আবার ঢাকার পথেই ধরতে হয়েছিল। এদিকে খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে যান পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারটিকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছে এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।
সম্প্রতি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একাধিক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ধরা পড়ে। এই ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীকেও জড়ানো হয়। হান্নান মাসউদকে উদ্ধৃত করে ‘আমার বউয়ের সঙ্গে হাতিয়ার ইউএনওর অপ্রীতিকর ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে বলে যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম। শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে রিউমর স্ক্যানার জানায়, হান্নান মাসউদ এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে সত্য ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যালোচনায় দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করলেও বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির সমর্থনে কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘গুপ্ত টেলিভিশন’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ২৪ মার্চ আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়। ‘গুপ্ত টেলিভিশন’ পেজটি পরিচিতি অংশে উল্লেখ রয়েছে, ‘This is Gupto TV। একটি Satire & Parody Platform। All contents are for entertainment purpose only। আমাদের কনটেন্ট হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও parody এর মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়, যার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিনোদন।’ এ ছাড়া পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরও অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে, হান্নান মাসউদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করলে আলোচিত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুতরাং, ‘আমার বউয়ের সঙ্গে হাতিয়ার ইউএনওর অপ্রীতিকর ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে বলে যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ শীর্ষক আব্দুল হান্নান মাসউদের মন্তব্য দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।
ইউক্রেনের ড্রোন বিধ্বংসী ডিপোতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে দেশটির ২১ ড্রোন বিশেষজ্ঞ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেশটির একটি ডিপোকে নিশানা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (২৮ মার্চ) তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি ইউক্রেনীয় অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সংরক্ষণাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা হয়েছে। এতে ২১ জন ইউক্রেনীয় নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইআরজিসির খাতাম আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, দুবাইয়ে মার্কিন কমান্ডার ও সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেন সংশ্লিষ্ট একটি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের গুদামও টার্গেট করা হয়। তিনি দাবি করেন, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে ওই স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। মুখপাত্র জানান, হামলার সময় সেখানে ২১ জন ইউক্রেনীয় উপস্থিত ছিলেন। তাদের ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি এ দাবি করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ১৭টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। সেগুলো ইতোমধ্যে ইরানি বাহিনী ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন, এসব ঘাঁটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ জুন শুরু হওয়া ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাত প্রসঙ্গে বলেন, ওই যুদ্ধের পর ইরান তাদের প্রতিরক্ষামূলক নীতি পরিবর্তন করে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে। শেখারচি দাবি করেন, গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে কেউ ইরানের ওপর হামলা চালালে পাল্টা আঘাত করে শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা হবে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে যে আগ্রাসন চালাচ্ছে এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি জড়িত বলে তেহরান বিশ্বাস করে। এক সাক্ষাৎকারে ইরানের দুটি উচ্চপদস্থ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলছে, আমিরাত ইরান-বিরোধী মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কোনো ধরনের স্থল অভিযান শুরু হলে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে। এক মাস ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্ববাজারকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির কৌশলগত দ্বীপগুলো দখলের জন্য স্থলসেনা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন, যাতে জ্বালানি সরবরাহে ইরানের বাধা দেওয়ার সক্ষমতা খর্ব করা যায়। বিশেষ করে খারগ দ্বীপ (যেখান দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়) এবং প্রণালির ওপর নজরদারি রাখা কেশম দ্বীপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের হামলা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে পরিচালিত হতে পারে। ইতোমধ্যে এসব দেশ ইরানি পাল্টা হামলার শিকার হয়েছে, যা মূলত ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছে। এদিকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ইরান-বিরোধী মনোভাব বাড়ছে, কারণ ইরানের পাল্টা হামলায় সেসব দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমিরাত থেকে বিশেষভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য আসছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এই সপ্তাহে একটি কলামে লিখেছেন যে, কেবল একটি যুদ্ধবিরতিই ‘যথেষ্ট’ হবে না; বরং যুদ্ধমান পক্ষগুলোর উচিত এমন একটি ‘চূড়ান্ত পরিণতির’ দিকে যাওয়া যা ‘ইরানের সব ধরনের হুমকি নির্মূল করবে’। এমনকি একটি প্রতিবেদন বলছে, কিছু উপসাগরীয় আরব দেশ ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। তবে ইরানের একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, তেহরানের নেতারা এখন বিশ্বাস করেন যে ইউএই যুদ্ধের শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানি নেতৃত্ব ‘আবুধাবির প্রতি কয়েক সপ্তাহের সহনশীলতা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, আমিরাতের ভূমিকা কেবল মার্কিন সামরিক স্থাপনা পরিচালনা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই (যেগুলো ইতোমধ্যে ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে)। ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বাস করে যে, ইউএই তাদের নিজস্ব কিছু বিমানঘাঁটিও ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশনের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, আবুধাবি এ অঞ্চলে ইসরাইলি স্বার্থ রক্ষার একটি উন্নত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে ‘প্রতারণামূলক অভিযান’ অন্তর্ভুক্ত ছিল—যেমন ওমান এবং অন্য অন্তত একটি দেশে ইসরাইলের ছদ্মবেশী হামলা, যাতে সেগুলোকে ইরানের কাজ বলে মনে হয়। তিনি বলেন, তেহরান মূল্যায়ন করেছে যে, ‘সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইউএই-র ভেতরে উন্নত এআই অবকাঠামো ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানি ব্যক্তিত্ব ও স্থাপনার তথ্যও রয়েছে।’ ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন যে, আমিরাতের ভূখণ্ড থেকে ইরানি জাহাজ, ছোট নৌকা বা উপকূলীয় অঞ্চলে যেকোনো আক্রমণকে এখন তেহরান একটি বড় ধরনের উস্কানি হিসেবে গণ্য করবে, যার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে। আসন্ন হামলার আশঙ্কা ইরানের এক পৃথক সিনিয়র কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানান, তেহরান বিশ্বাস করে একটি মার্কিন স্থল অভিযান এখন আসন্ন হতে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়াসহ ইরানের মিত্র দেশগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে করা গোয়েন্দা মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউএই থেকে এই হামলা চালানো হতে পারে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় (যুদ্ধের আগে যেখান দিয়ে বিশ্বের ৩০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হতো), তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেবেন। তবে এরপর থেকে তিনি দুবার এই হামলা পিছিয়ে দিয়েছেন; কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনার কথা বলা হয়েছে যা বোমাবর্ষণ বন্ধ করবে এবং তেল সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করবে। তবে ওই কূটনীতিক জানান, ইরান বর্তমান এই বিলম্বকে প্রকৃত কূটনৈতিক বিরতি হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন এবং যুদ্ধের নতুন পর্যায়ের প্রস্তুতির জন্য একটি ছদ্মবেশ বা সময়ক্ষেপণ হিসেবে দেখছে। রয়টার্স এই সপ্তাহে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে বিদ্যমান বিশাল মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সঙ্গে আরও হাজার হাজার সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যখন ১৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো 'সাউথ পার্স' গ্যাস ফিল্ডে বোমা হামলা চালায়, তখন তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এর জবাব দেয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের হোটেল, বিমানবন্দর, ডাটা সেন্টার, বন্দর এবং দূতাবাসগুলোতেও মিসাইল ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে ওই কূটনীতিক জানিয়েছেন যে, ইরান এখন পর্যন্ত যেসব দেশ থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাদের পুরোপুরি শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা থেকে সচেতনভাবে বিরত রয়েছে। সেই কারণে, তেহরান কেবল সরাসরি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে (যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের বেসামরিক এলাকায় অবস্থিত কিছু স্থাপনাও রয়েছে) হামলা সীমাবদ্ধ রেখেছে। সেই কূটনীতিক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সংযম ‘তৎক্ষণাৎ শেষ হয়ে যাবে যদি কোনো স্থল অভিযান শুরু হয় অথবা যদি ইরানের কোনো ভূখণ্ড বা কোনো দ্বীপ স্থল হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।’ তিনি বলেন, যে দেশ থেকে এই ধরনের হামলা চালানো হবে, ইরান অবিলম্বে সেই দেশকে শত্রু হিসেবে গণ্য করবে। তিনি আরও বলেন, ‘তখন ইরানি হামলা কেবল সামরিক বা গোয়েন্দা স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্বার্থগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে। এর মধ্যে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ রয়েছে এমন বাণিজ্যিক ও স্থাবর সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’ কূটনীতিক আরও যোগ করেন, ‘আগ্রাসন শুরু হলে আগের কোনো নিয়মই কার্যকর থাকবে না। যদি কোনো দেশ ইরানের এক টুকরো ভূখণ্ড দখলেও অংশ নেয়, তবে সেই দেশকেও আক্রমণকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’ তিনি জানান, এই বার্তা ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে স্থলবাহিনী নামানোর প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মার্কো রুবিও। তার দাবি, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ীই অভিযান সফলভাবে শেষ করা সম্ভব এবং এটি ‘মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই’ শেষ হতে পারে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই এগোচ্ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনার আগেও রয়েছে। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে সীমিতসংখ্যক সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এরই মধ্যে ইরানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, একটি পরিত্যক্ত পারমাণবিক গবেষণা রিয়্যাক্টর এবং ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, এসব ঘটনায় বিকিরণ ছড়ানোর কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ইসরায়েল দেশটির শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব হামলার “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো ১৫ দফা প্রস্তাব নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বানের মধ্যেই হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয়’ বলে উল্লেখ করেছে ইরান। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করা গেছে। বাকি অংশ এখনো সক্রিয় থাকায় সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের মুখে কঠিন এক চাল দিয়েছে ইরান। বিশ্বের জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র। এতে বিশ্ববাজারে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। এখন তারা এই সমুদ্রপথে শত্রু রাষ্ট্রের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে টোল আদায় শুরু করেছে। যারা তেহরানের অনুমতি নিয়ে হরমুজে ঢুকছে তারাই শুধু তেল নিয়ে আরব সাগরে বেরিয়ে আসতে পারছে, অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছে। এতে এই পানিপথে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পরও জ্বালানির দাম বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে সমুদ্রপথ দিয়ে পার হয়, সেই পথটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এটিকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের ফলাফল। কারণ, চলমান যুদ্ধে এই সমুদ্রপথকে ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান। বর্তমানে এই সরু পানিপথের আশেপাশে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যা ইরানের উত্তর পাশে এবং ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষিণ পাশের মাঝে অবস্থিত। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, বিশ্বের এই একক গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল বা শুল্ক আদায়ের জন্য দেশটির পার্লামেন্ট একটি আইন পাসের চেষ্টা করছে। ইরানের তসনিম এবং ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্টের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে যে একটি খসড়া আইন তৈরি করা হয়েছে এবং শিগগিরই তা ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির লিগ্যাল টিমের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়া জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইরানকে অবশ্যই ফি বা শুল্ক আদায় করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি খুবই স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর বা স্থলপথের মতোই যখন পণ্য একটি দেশের মধ্য দিয়ে যায়, তখন শুল্ক দিতে হয়। হরমুজ প্রণালিও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি, এবং জাহাজ ও ট্যাঙ্কারগুলো আমাদের শুল্ক দেবে এটাই স্বাভাবিক।’ তবে এই অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইতোমধ্যে সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে বলে বুধবার নামী শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর আগে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে যে, ইরান প্রতি জাহাজ থেকে দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ ডলার করে টোল আদায় করছে। একবারের যাত্রায় এই পরিমাণ ফি দিতে হচ্ছে জ্বালানিবাহী জাহাজ বা ট্যাঙ্কারগুলোকে। কেন ইরান টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমা এই প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত। তারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের শিকার হওয়ার পর থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের বাকি অংশে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে নিয়ে গেছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। এতে বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি রেশনিং করতে এবং শিল্প উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। টোল আদায়ের প্রক্রিয়াটি কী যদিও ইরানি পার্লামেন্ট এখনও টোল সংক্রান্ত আইন পাস করেনি, ‘লয়েডস লিস্ট’ বুধবার জানিয়েছে যে, গত দুই সপ্তাহে প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী ২৬টি জাহাজ আইআরজিসির ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থার অধীনে একটি পূর্ব-অনুমোদিত রুট অনুসরণ করেছে, যার জন্য জাহাজ অপারেটরদের একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এই জাহাজগুলো চলাচলের সময় তাদের এআইএস সচল রাখেনি। নতুন এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো লয়েডস লিস্টকে জানিয়েছে, প্রণালি পার হওয়ার জন্য জাহাজ অপারেটরদেরকে প্রথমে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এবং জাহাজের সব বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে নথিপত্র, আইএমও নম্বর, কী পণ্য বহন করা হচ্ছে, ক্রুদের নাম এবং জাহাজের গন্তব্যস্থল। এই মধ্যস্থতাকারীরা তখন তথ্যগুলো আইআরজিসির নৌ কমান্ডের কাছে জমা দেয়, যারা তথ্যগুলো যাচাই করে। যদি জাহাজটি এই স্ক্রিনিংয়ে উত্তীর্ণ হয়, তবে আইআরজিসি একটি ক্লিয়ারেন্স কোড এবং কোন রুট দিয়ে জাহাজটি যাবে তার নির্দেশনা দেয়। একবার জাহাজটি প্রণালিতে প্রবেশ করলে আইআরজিসি কমান্ডাররা ভিএইচএফ রেডিওর মাধ্যমে উচ্চস্বরে জাহাজের ক্লিয়ারেন্স কোড জানতে চান। জাহাজটি উত্তর দেয় এবং অনুমতি পেলে ইরানের একটি বোট এসে জাহাজটিকে লারাক দ্বীপের আশেপাশে তাদের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে পাহারা দিয়ে পার করে দেয়। আর যদি কোনও জাহাজ আইআরজিসির স্ক্রিনিং টেস্টে উত্তীর্ণ না হয়, তবে তাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না। গত মঙ্গলবার আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে জানিয়েছিলেন যে, ‘সেলেন’ নামে একটি কনটেইনার জাহাজকে ‘আইনি প্রোটোকল না মানা এবং অনুমতি না থাকার কারণে’ হরমুজ প্রণালি থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘এই জলপথ দিয়ে যে কোনো জাহাজ পারাপারের জন্য ইরানের মেরিটাইম অথরিটির সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় প্রয়োজন।’ ইসরাইল বৃহস্পতিবার দাবি করেছে যে, তারা বুধবার রাতে এক বিমান হামলায় তাংসিরিসহ নৌ-কমান্ডের ‘উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের’ হত্যা করেছে। ইরান অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। কারা এই টোল পরিশোধ করছে ইরান বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো বাদে বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত। গত মঙ্গলবার আইএমও-র ১৭৬টি সদস্য দেশের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান জানায়: ‘মিত্র ভাবাপন্ন জাহাজগুলো, যার মধ্যে অন্য রাষ্ট্রগুলোর মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট জাহাজও রয়েছে, তারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে অংশ না নেয় বা সমর্থন না দেয় এবং ঘোষিত নিরাপত্তা বিধিগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলে, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।’ লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত মালয়েশিয়া, চীন, মিশর, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের কিছু জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্তত দুটি জাহাজ চীনের মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এ টোল পরিশোধ করেছে। লয়েডস লিস্ট সোমবার জানায় যে, একটি ‘পারাপারের মধ্যস্থতা করেছে একটি চীনা মেরিটাইম সার্ভিস কোম্পানি, যারা ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পেমেন্টটিও হ্যান্ডেল করেছে।’ তবে জাহাজগুলো ঠিক কত অর্থ দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, ভারত সরকার দাবি করেছে যে, তাদের পক্ষ থেকে ইরানকে কোনও অর্থ দেওয়া হয়নি। ভারতের বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই। সেখানে চলাচলের স্বাধীনতা রয়েছে। যেহেতু প্রণালিটি সরু, তাই শুধু প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথগুলো চিহ্নিত করা থাকে যা শিপিং লাইনগুলোকে মেনে চলতে হয়। এটি চার্টারার এবং শিপিং কোম্পানির সিদ্ধান্ত যে তারা কখন চলবে বা চলবে না।’
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর লিটারপ্রতি ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমছে। এর ফলে পেট্রলের ওপর ধার্য করা শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায়, আর ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক নামিয়ে আনা হয়েছে শূন্যে। তবে এই শুল্ক কমানোর সুফল সাধারণ মানুষ সরাসরি কতটা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহকের সরাসরি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। মূলত দেশটিতে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর (ওএমসি) লোকসান লাঘব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারকে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতীয় সংস্থাগুলো যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার ওপর দেশটির সরকার অন্তঃশুল্ক আদায় করে। গত বছরই এই শুল্ক বাড়িয়েছিল মোদি সরকার। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি অনেকটা বাড়লেও ভারতের বাজারে সাধারণ পেট্রল ও ডিজেলের দাম এখনো বাড়েনি। এতে বিপণন সংস্থাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই ক্ষতির ধাক্কা সামাল দিতেই এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই ভারত এই পথে হেঁটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশটিতেও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে। শুল্ক কমানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। প্রথমত, অন্য দেশের মতো ভারতেও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া; দ্বিতীয়ত, আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে দেশবাসীকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। মোদি সরকার দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছে বলে তিনি জানান। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাতের আগে ভারতের তেল আমদানির অর্ধেকের বেশি আসত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে। তবে সংঘাতের পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে এবং কোনো জাহাজ পারাপার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয়। এমনকি কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে এবং ভারতের কয়েকটি জাহাজসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উৎকণ্ঠা থাকলেও মোদি সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে যে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত আছে, তা দিয়ে ৬০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক বড় কোনো সংকট তৈরি হলেও তেলের জোগান ব্যাহত হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশ থেকে গ্যাসবাহী জাহাজ দ্রুতই ভারতের বন্দরে পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে ৮ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দিয়ে আগামী এক মাস গ্যাসের কোনো সংকট হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।