টানা প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার রাতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলাজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন ধরনের জানমালের ঝুঁকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটক ও জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো। এর আগে, গত ৬ জুলাই জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটক ও জনসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে তা আরও ২ দিন বাড়িয়ে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণকেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার আলোচিত ম্যাচের পর নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিশরের জনপ্রিয় চিপস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চিপসি। প্রতিষ্ঠানটি লিওনেল মেসির ছবি ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করা সব ধরনের পণ্যের উৎপাদন ও প্যাকেজিং সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। মিশরের সংবাদমাধ্যম কায়রো ২৪ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাজারে আনা মেসির ছবি সংবলিত বিশেষ প্যাকেজিং ও ফ্লেভারের নতুন কোনো লট আর উৎপাদন করা হচ্ছে না। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বাজারে থাকা মেসির ছবিযুক্ত চিপসের প্যাকেটগুলো বিশ্বকাপ শুরুর আগেই উৎপাদন করা হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ম্যাচে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসি বলেন, মিশরের বিপক্ষে জয় পাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দলকে ম্যাচে ফেরানো ছিল কঠিন। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও এই জয়কে দলের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। কায়রো ২৪ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের লড়াকু পারফরম্যান্সের পর দেশটির ফুটবল সমর্থকদের আবেগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই চিপসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া পারফরম্যান্স শেষে মিশর জাতীয় ফুটবল দল দেশে ফিরেছে। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইজিপ্টএয়ারের একটি বিশেষ বোয়িং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে আটলান্টা থেকে কায়রোতে ফেরেন ফুটবলাররা। প্রথমবার বিশ্বকাপে এমন সাফল্যের জন্য দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইজিপ্টএয়ার। সূত্রঃ কায়রো ২৪
২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রশংসায় ভাসালেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এমন ফুটবল খেলছেন, যেন আবার ১৯ বছর বয়সে ফিরে গেছেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “লিওনেল মেসিকে দেখে মনে হয়, তার বয়স আবার ১৯ বছর। সে ক্লান্ত হয় না, ক্ষুধা হারায় না। সে সবার জন্যই অনুকরণীয়।” স্প্যানিশ কোচের মতে, মেসির প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তার অদম্য জয়ের ক্ষুধাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। এত সাফল্যের পরও একই উদ্যমে খেলে যাওয়া তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। চলতি বিশ্বকাপে গোল, নেতৃত্ব ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ সব ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনার মূল ভরসা মেসি। তার পারফরম্যান্সে আবারও প্রমাণ হয়েছে, বয়স তার ফুটবলে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়েও মেসির দিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার প্রায় সারা দিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। রুমন জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন। আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
ইরানের কোনো অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে ইসরায়েলকে ‘কোনো রেহাই’ দেওয়া হবে না এবং তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। খবর আল-জাজিরার। সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার এ হুঁশিয়ারি দেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর। তিনি বলেন, ইরানের স্থাপনা লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা হলে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও সমান্তরালভাবে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আশিক (৭) এবং একই ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার শিশু মোহাম্মদ মিরাজ (৩)। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বাহারছড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত রয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ নিজ বাড়ির উঠানে থাকা অবস্থায় পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতে দুই শিশু ভেসে যায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা মারা যায়। বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এনাম বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, ঘটনাটি পুলিশ জেনেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ব্যাকালোরিয়েট (বিএসি)-এর ২০২৬ সালের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ফলাফলেও প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ফলাফল প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। নতুন ভাষা, ভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করেছেন তারা। কমিউনিটির সদস্যদের মতে, এসব শিক্ষার্থীর অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি ফ্রান্সে বসবাসরত পুরো বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও গর্বের বিষয়। তাদের এ সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লেখাপড়ায় আরও উৎসাহিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তারা বিশ্বাস করেন, এসব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনে আরও সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স—উভয় দেশের সুনাম বৃদ্ধি করবেন। উল্লেখ্য, ফ্রান্সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ব্যাকালোরিয়েট (বিএসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া অন্যতম প্রধান শর্ত। প্রতিবছর জুলাই মাসে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় এবং সফল শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত শান্তি আলোচনাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি সমঝোতাকে কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোহার কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখতে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ওয়াশিংটন। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন বিস্ফোরণের খবর এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ার পর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এরপর আবারও ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ইরানের বুশেহর, কোনারক, চোগাদক এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। তবে এসব হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কার্যত শেষ। তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনাকে সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করেন। তবে পরদিন এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ তাদের লক্ষ্য নয় এবং তেহরান এখনও সমঝোতা করতে চায়। এদিকে মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দোহায় দুই পক্ষের কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং দাদাগিরির মূল্য দিতে হবে। তাদের ভাষ্য, হামলা চলতে থাকলে আলোচনা এগোনো সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় দুই পক্ষই নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৬০ দিন নিরাপদ ও বিনা খরচে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের কথা বলা হলেও কোন রুট ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একইভাবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি চুক্তিতে থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ ওই সমঝোতার অংশ না হওয়ায় বাস্তবায়ন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে তাদের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক মেনে চলার এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সাথে এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন এবং সতর্ক করে বলেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এই জলপথ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত বজায় রাখা অপরিহার্য। উল্লেখ্য-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত জুন মাসের যুদ্ধবিরতি সমঝোতা ভেঙে নতুন করে তীব্র সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তি সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, বুশেহর, কোনারাক এবং আক কালা অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে আইআরজিসির ব্যারাক, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে তাদের নির্ধারিত রুট ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই উত্তেজনার কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে তাদের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক মেনে চলার এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সাথে এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন এবং সতর্ক করে বলেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এই জলপথ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত বজায় রাখা অপরিহার্য। উল্লেখ্য-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত জুন মাসের যুদ্ধবিরতি সমঝোতা ভেঙে নতুন করে তীব্র সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তি সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, বুশেহর, কোনারাক এবং আক কালা অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে আইআরজিসির ব্যারাক, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে তাদের নির্ধারিত রুট ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই উত্তেজনার কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত শান্তি আলোচনাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি সমঝোতাকে কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোহার কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখতে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ওয়াশিংটন। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন বিস্ফোরণের খবর এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ার পর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এরপর আবারও ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ইরানের বুশেহর, কোনারক, চোগাদক এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। তবে এসব হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কার্যত শেষ। তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনাকে সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করেন। তবে পরদিন এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ তাদের লক্ষ্য নয় এবং তেহরান এখনও সমঝোতা করতে চায়। এদিকে মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দোহায় দুই পক্ষের কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং দাদাগিরির মূল্য দিতে হবে। তাদের ভাষ্য, হামলা চলতে থাকলে আলোচনা এগোনো সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় দুই পক্ষই নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৬০ দিন নিরাপদ ও বিনা খরচে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের কথা বলা হলেও কোন রুট ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একইভাবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি চুক্তিতে থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ ওই সমঝোতার অংশ না হওয়ায় বাস্তবায়ন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের কোনো অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে ইসরায়েলকে ‘কোনো রেহাই’ দেওয়া হবে না এবং তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। খবর আল-জাজিরার। সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার এ হুঁশিয়ারি দেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর। তিনি বলেন, ইরানের স্থাপনা লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা হলে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও সমান্তরালভাবে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ফ্রান্স হারানোর পর সেন্ট্রাল লন্ডনে ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে ব্রিটিশ পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। লন্ডন পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই সহিংস বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তাদের একজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সুনির্দিষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা মরক্কো ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, হাইড পার্কের কাছে এজওয়্যার রোডে কয়েক ডজন মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশের দিকে বোতলসহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছেন। পুলিশ জানিয়েছে, একদল মানুষ ওই সড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দিলে এই গোলযোগের সূত্রপাত হয়। পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, পরবর্তীতে ওই দলটির বোতল নিক্ষেপ এবং আতশবাজি ফোটানোর মাধ্যমে ঘটনাটি আরও চরম আকার ধারণ করে। তিনি আরও জানান, মাথায় আঘাত পাওয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; ধারণা করা হচ্ছে একটি কাচের বোতলের আঘাতে তিনি আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।