রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে গোপন বৈঠকের সময় জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিক্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উর্ধতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তেজগাঁও কলেজে গোপন বৈঠক চলাকালীন সেখান থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিক্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। তবে, আটককৃতদের যাচাই বাচাই চলছে। যাচাই বাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা–রংপুর লং মার্চে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে তা উপেক্ষা করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি জনগণের দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামীকালের লং মার্চ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে রংপুরের পথে লং মার্চে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে তারা তা মেনে নেবেন না। বাধা উপেক্ষা করেই রংপুরের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা জানান তিনি। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে তা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে—এমনটাই তার বক্তব্য। বক্তব্যে তিনি অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যক আসন পেয়েছিল এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীকে ব্যবহার করেছিল বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, শেষ পর্যন্ত ওই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। তিনি সরকারকে জনগণের মতামত গুরুত্ব দিয়ে শোনার আহ্বান জানান এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের মতামত ও দাবির প্রতিফলন দেখতে বলেন। এটিএম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, অতীতের সরকারের মতো বর্তমান সরকারও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবিকে অবহেলা করলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তার ভাষ্য, দাবিগুলো বিবেচনায় না নিলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণভাবে লং মার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আগামী সংসদে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া অথবা এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি দাবি করেন, অতীতে তেলের সংকটের সময় সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ সংকটের সময়ও একই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গুরুত্ব পায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন তিনি। লং মার্চের দাবিগুলো শুধু জামায়াতের নয়, বরং জনগণের দাবি—এমন দাবি করে তিনি কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, জামায়াতে ইসলামীর দিনাজপুর-রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজলসহ দল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চ: ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে এ লং মার্চের আয়োজন করা হয়েছে। এসব দাবিকে জোটটির পক্ষ থেকে কর্মসূচির উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লং মার্চ শুরু হওয়ার কথা। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা ও সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লং মার্চকে কেন্দ্র করে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, তোরণ নির্মাণ এবং ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
গত বছরের শেষের দিক থেকেই দেশে ঊর্ধ্বমুখী ছিল সার্বিক মূল্যস্ফীতি। তবে কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে মূল্যস্ফীতির সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। টানা তৃতীয় মাসে কমে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে ৭ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যচাপ কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এর আগে জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। সে হিসাবে মে মাসের তুলনায় তিন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছায়। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠে। বিবিএসের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, জুন থেকে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে। ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সর্বশেষ আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসে। ফলে মে মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর টানা তিন মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিবিএসের হিসাবে, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের তুলনায়ও চলতি বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি কমেছে বলেও বিবিএস জানিয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান বলছে, আগস্টে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগও মূল্যচাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু নিত্যপণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসা সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পুরোপুরি কমেছে, এমনটি বলা যাচ্ছে না।
এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। একই সঙ্গে এইচআইভি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানিয়েছেন, ২০২৫ সালেই ফিজিতে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম। বর্তমানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। পাঁচ বছর আগে এ হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। এ ছাড়া এইচআইভি-সম্পর্কিত জটিলতায় শিশুমৃত্যুও বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মাদক ব্যবহার বৃদ্ধি, অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, একই সুচ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং ‘ব্লুটুথিং’ নামে পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ মাদক গ্রহণের প্রবণতা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ‘ব্লুটুথিং’ বা ‘হটস্পটিং’ হলো এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি, যেখানে মাদক গ্রহণকারীরা ইতোমধ্যে মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজেদের শরীরে নেয়। একই সুচ ব্যবহারের কারণে এতে এইচআইভিসহ রক্তবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফিজিতে সুচ সহজলভ্য না হওয়ায় একাধিক ব্যক্তি একটি সুচ ভাগাভাগি করেও মাদক গ্রহণ করছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সুচ ও সিরিঞ্জের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে তোলা হবে। এইচআইভি আক্রান্তদের পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়ে লালাবালাভু বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার কারণে কারও লজ্জিত, হুমকির মুখে বা বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। সামাজিক কলঙ্ক মানুষকে সেই সেবা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা তাদের সহায়তা করতে পারে।’ জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি জানতেন। আর চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাত্র ২২ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণের হার ৭৮ শতাংশ। ফিজির জাতীয় এইচআইভি মোকাবিলা টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল মনে করেন, দেশটিকে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি। এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ফিজির স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে বলে জানান মিচেল। চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এবং বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসায় স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এদিকে ফিজির জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেছেন, এ ঘোষণা সরকার ও সমাজের সব পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এইডস এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং এইচআইভি মহামারির পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাট জেলায় জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদের কাছে শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও ১১ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। প্রদেশটির রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পুরোনো পুলিশ লাইনসের কাছে ওই মসজিদটি অবস্থিত। শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের অধিকাংশই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি। কোহাট জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট (এমএস) তাহির আলী শাহ জিও নিউজকে জানান, হামলার পর হাসপাতালটিতে ১৫টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। ডন-কে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) জুলফিকার হামিদও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান। তিনি বলেন, একটি গাড়িতে থাকা আত্মঘাতী হামলাকারী প্রথমে ভবনের ফটকে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে তাদের নিষ্ক্রিয় করা হয়। আর তিনজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে চলে যায়। রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমদ ফয়জি জানান, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
গত বছরের শেষের দিক থেকেই দেশে ঊর্ধ্বমুখী ছিল সার্বিক মূল্যস্ফীতি। তবে কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে মূল্যস্ফীতির সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। টানা তৃতীয় মাসে কমে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে ৭ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যচাপ কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এর আগে জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। সে হিসাবে মে মাসের তুলনায় তিন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছায়। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠে। বিবিএসের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, জুন থেকে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে। ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সর্বশেষ আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসে। ফলে মে মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর টানা তিন মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিবিএসের হিসাবে, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের তুলনায়ও চলতি বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি কমেছে বলেও বিবিএস জানিয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান বলছে, আগস্টে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগও মূল্যচাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু নিত্যপণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসা সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পুরোপুরি কমেছে, এমনটি বলা যাচ্ছে না।
এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। একই সঙ্গে এইচআইভি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানিয়েছেন, ২০২৫ সালেই ফিজিতে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম। বর্তমানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। পাঁচ বছর আগে এ হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। এ ছাড়া এইচআইভি-সম্পর্কিত জটিলতায় শিশুমৃত্যুও বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মাদক ব্যবহার বৃদ্ধি, অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, একই সুচ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং ‘ব্লুটুথিং’ নামে পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ মাদক গ্রহণের প্রবণতা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ‘ব্লুটুথিং’ বা ‘হটস্পটিং’ হলো এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি, যেখানে মাদক গ্রহণকারীরা ইতোমধ্যে মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজেদের শরীরে নেয়। একই সুচ ব্যবহারের কারণে এতে এইচআইভিসহ রক্তবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফিজিতে সুচ সহজলভ্য না হওয়ায় একাধিক ব্যক্তি একটি সুচ ভাগাভাগি করেও মাদক গ্রহণ করছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সুচ ও সিরিঞ্জের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে তোলা হবে। এইচআইভি আক্রান্তদের পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়ে লালাবালাভু বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার কারণে কারও লজ্জিত, হুমকির মুখে বা বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। সামাজিক কলঙ্ক মানুষকে সেই সেবা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা তাদের সহায়তা করতে পারে।’ জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি জানতেন। আর চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাত্র ২২ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণের হার ৭৮ শতাংশ। ফিজির জাতীয় এইচআইভি মোকাবিলা টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল মনে করেন, দেশটিকে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি। এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ফিজির স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে বলে জানান মিচেল। চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এবং বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসায় স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এদিকে ফিজির জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেছেন, এ ঘোষণা সরকার ও সমাজের সব পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এইডস এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং এইচআইভি মহামারির পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে গোপন বৈঠকের সময় জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিক্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উর্ধতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তেজগাঁও কলেজে গোপন বৈঠক চলাকালীন সেখান থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিক্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। তবে, আটককৃতদের যাচাই বাচাই চলছে। যাচাই বাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এশিয়া কাপের পর এবার এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালেও ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। শুক্রবার জাপানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। ফলে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হচ্ছে হরমনপ্রীত কৌরের দল। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ৪২ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় জ্যোতির দল। এবার এশিয়ান গেমসে আবারও একই প্রতিপক্ষের সামনে পড়ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে মাঠে গড়াতে পারেনি। পরে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালের টিকিট দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভারত-জাপান ম্যাচের ফলাফলই নির্ধারণ করেছে শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে হবে। শুক্রবার করোগি স্পোর্টস পার্কে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয় জাপান। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত মাত্র ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। ৮ উইকেটের এই জয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় করোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনাল। একই দিন প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে ২২ সেপ্টেম্বর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। একই সঙ্গে এইচআইভি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানিয়েছেন, ২০২৫ সালেই ফিজিতে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম। বর্তমানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। পাঁচ বছর আগে এ হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। এ ছাড়া এইচআইভি-সম্পর্কিত জটিলতায় শিশুমৃত্যুও বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মাদক ব্যবহার বৃদ্ধি, অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, একই সুচ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং ‘ব্লুটুথিং’ নামে পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ মাদক গ্রহণের প্রবণতা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ‘ব্লুটুথিং’ বা ‘হটস্পটিং’ হলো এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি, যেখানে মাদক গ্রহণকারীরা ইতোমধ্যে মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজেদের শরীরে নেয়। একই সুচ ব্যবহারের কারণে এতে এইচআইভিসহ রক্তবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফিজিতে সুচ সহজলভ্য না হওয়ায় একাধিক ব্যক্তি একটি সুচ ভাগাভাগি করেও মাদক গ্রহণ করছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সুচ ও সিরিঞ্জের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে তোলা হবে। এইচআইভি আক্রান্তদের পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়ে লালাবালাভু বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার কারণে কারও লজ্জিত, হুমকির মুখে বা বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। সামাজিক কলঙ্ক মানুষকে সেই সেবা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা তাদের সহায়তা করতে পারে।’ জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি জানতেন। আর চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাত্র ২২ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণের হার ৭৮ শতাংশ। ফিজির জাতীয় এইচআইভি মোকাবিলা টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল মনে করেন, দেশটিকে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি। এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ফিজির স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে বলে জানান মিচেল। চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এবং বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসায় স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এদিকে ফিজির জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেছেন, এ ঘোষণা সরকার ও সমাজের সব পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এইডস এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং এইচআইভি মহামারির পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাট জেলায় জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদের কাছে শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও ১১ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। প্রদেশটির রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পুরোনো পুলিশ লাইনসের কাছে ওই মসজিদটি অবস্থিত। শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের অধিকাংশই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি। কোহাট জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট (এমএস) তাহির আলী শাহ জিও নিউজকে জানান, হামলার পর হাসপাতালটিতে ১৫টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। ডন-কে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) জুলফিকার হামিদও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান। তিনি বলেন, একটি গাড়িতে থাকা আত্মঘাতী হামলাকারী প্রথমে ভবনের ফটকে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে তাদের নিষ্ক্রিয় করা হয়। আর তিনজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে চলে যায়। রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমদ ফয়জি জানান, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও লড়তে পারেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি অবজারভার। এরদোগানের উপদেষ্টা মেহমেত উচুম জানিয়েছেন, সংসদের ৬০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৩৬০ জন আগাম নির্বাচনের পক্ষে ভোট দিলে ২০২৮ সালের এপ্রিলে নির্বাচন হতে পারে। তিনি সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ওই বছরের ১৬ এপ্রিলের কথা বলেছেন। তুরস্কের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন সাধারণত ২০২৮ সালের মে মাসে হওয়ার কথা। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংসদ সদস্যের সমর্থন পেলে আগাম নির্বাচন ডাকা সম্ভব। এমন নির্বাচন হলে এরদোগানের আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে এরদোগানের একে পার্টি এবং জোটসঙ্গী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) মিলিয়ে সংসদে ৩২৬টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ ৩৬০ ভোটের প্রয়োজন হলে তাদের আরও ৩৪ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। এতদিন তুরস্কের সরকার বলে আসছিল, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি এরদোগানের দল একেপির মুখপাত্র ওমের চেলিকও সম্প্রতি বলেছেন, সরকারের নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে এরদোগানের উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আগাম নির্বাচন নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এরদোগানের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ এরদোগান ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরে এরদোগানের সময়েই তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতি থেকে প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তিত হয়। এরপর তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর এরদোগান সেটিকে তার শেষ প্রেসিডেন্ট মেয়াদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় তিনি ভোটারদের কাছে তাকে আরেকবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে আগাম নির্বাচন হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তুরস্কের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় সংসদ আগাম নির্বাচন ডাকলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে, নাকি আগেই হবে—এবং হলে এরদোগান আবারও প্রার্থী হবেন কি না, এখন তুরস্কের রাজনীতিতে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তদারককারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আনা একটি খসড়া প্রস্তাব ভেটো দিয়ে বাতিল করে দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৩৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির আওতাধীন এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে ভেটো প্রদানকারী দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়, আর পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু চং খসড়া প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে নিরাপত্তা পরিষদকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের জন্য ইরানের ওপর মার্কিন হামলা ও সর্বোচ্চ চাপের নীতিকে দায়ী করেন এবং সতর্ক করে বলেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা সংকট আরও বাড়াবে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর রেজোলিউশন ২২৩১-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বেইজিং জানায়, ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আলাদা আলোচনার আইনি ভিত্তি আগেই সমাপ্ত হয়েছে। চীন নিরাপত্তা পরিষদকে একতরফা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের মঞ্চ না বানিয়ে বহুপাক্ষিক কূটনীতির স্বার্থে গঠনমূলক পথ খোঁজার পরামর্শ দেয়। অন্যদিকে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভাসিলি নেবেনজিয়া ১৭৩৭ কমিটিকে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো আইনি উপায়ে ইরানের ওপর পুরনো নিষেধাজ্ঞাগুলো বা ‘স্ন্যাপব্যাক’ মেকানিজম পুনর্বহাল করা হয়নি। ফলে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর এই বৈঠক আইনগত ও কার্যপ্রণালীগতভাবে ভিত্তিহীন। নেবেনজিয়া জানান, মস্কো আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার বার্তা দিয়েছিল, কিন্তু ওয়াশিংটন রাজনৈতিক মুখোমুখি অবস্থানের পথই বেছে নিয়েছে। ভোটাভুটিতে বিরত থাকা পাকিস্তানের প্রতিনিধি পরমাণু ইস্যুর সমাধানে কূটনৈতিক আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: মেহের নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।