ইরান যুদ্ধে হতাশ, মানসিক চাপে থাকা পাঁচ হাজার সেনা নিয়ে দেশে ফিরে যাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। মার্কিন নৌবাহিনী ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হুং কাও শুক্রবার এই ঘোষণা দিয়েছেন। বিমানবাহী এই রণতরীর সাগরে দীর্ঘদিন মোতায়েন থাকা এবং এর নাবিকদের শোচনীয় কর্ম পরিবেশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও তদন্তের মুখে তরীটি ফিরছে বলে জানান তিনি। এক বিবৃতিতে হুং কাও বলেন, “ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন তাদের দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করেছে এবং পালাবদলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগিগিরই বাড়ি ফিরবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই: আমাদের নাবিক ও মেরিন সেনাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সবার্ধিক অগ্রাধিকার পাবে।” অভিযান সফল করা। সেনাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এভাবেই আমরা নেতৃত্ব দিই,” বলা হয় বিবৃতিতে। কাও বলেছেন, নভেম্বরে সানডিয়েগো থেকে রওনা হওয়ার পর ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে আব্রাহাম লিংকনকে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কারণেই নেওয়া হয়েছিল। কাও এও স্বীকার করেন যে, “যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন করা কঠিন, যুদ্ধকালীন সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে এবং যুদ্ধ একটি নরক, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা দৈনন্দিন রুটিন ঠিক থাকে না। যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যতম কঠিন দিক হল আমাদের সেনা সদস্যদের জেনেশুনে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া, আর তা হল- সেরা পরিকল্পনা এবং যোগাযোগ থাকার পরও পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা সবসময়ই থেকে যাবে। আমাদের সাফল্য নির্ভর করে আমরা কীভাবে নিজেদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিই তার ওপর," বলেন তিনি। কাও আরও বলেন, “নাবিক এবং মেরিন সেনাদের কাছ থেকে তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয় এবং তারা সবসময়ই তা করে। একজন নেতার দায়িত্ব হল অভিযানের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে তাদের অধীনস্তদের যথাসম্ভব সর্বোত্তম যত্ন নেওয়া। এই রণতরী (আব্রাহাম লিংকন) মোতায়েন অভিযানের সময় আমরা উভয় বিষয়ই লক্ষ্য করেছি: কাজও ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং আমাদের নেতারা তাদের অধীনস্ত কর্মীদের যত্নও নিচ্ছেন।” রণতরীটিতে রসদ সরবরাহ সংকট, কিছু নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, পচা খাবার এবং ছত্রাক পড়া গোসলখানাসহ শোচনীয় অবস্থার কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া এবং কংগ্রেসে আব্রাহাম লিংকনের অবস্থা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত শুরুর দাবি ওঠার পর কাও এই দীর্ঘ বিবৃতি দিলেন। আব্রাহাম লিংকন প্রায় ৯ মাস ধরে সাগরে অবস্থান করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কোনও স্বাভাবিক বন্দর বিরতি বা মাটিতে পা রাখার সুযোগ পাননি এর হাজার হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা। তরীটি টানা ২৫০ দিনের বেশি তীরে না ভিড়ে সমুদ্রে ছিল, যা আধুনিক সময়ে কোনও মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য রেকর্ড। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে এই রণতরীটিকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন রাখা হয়। নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে রণতরীর ভেতরের বাস অযোগ্য পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিক পরিবারের সদস্য তাদের উদ্বেগের কথা জানান। ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নারী জানিয়েছেন, তার স্বামী সেদিন তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি পরদিন আর ঘুম থেকে বেঁচে উঠতে চান না। আরেক নাবিকের স্ত্রী নেভি টাইমস’কে জানান, সমুদ্রে থাকার মেয়াদ বারবার বাড়তে থাকায় তার স্বামী একপর্যায়ে জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য আরেক ঘটনায় এক নাবিক লাফ দিতে গেলে তার সহকর্মী তাকে টেনে ধরে ডেকে ফিরিয়ে এনে রক্ষা করেন। কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ ‘সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়ছে’। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন সেনেটররাও। এক সেনেটর বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের তরী থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টার খবর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, তার ‘ভয়ংকর সতর্কসংকেত। আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা করেছিল। প্রথমে দক্ষিণ চীন সাগরে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয় ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর কারণে। সূত্র: দ্য হিল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, আওয়ামী লীগের সব বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত। রবিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করে আজকে আবার দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পেশিশক্তির মহড়া দিয়েছে জামায়াত-শিবির। জামায়াত আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে দাবি করে রাশেদ খান বলেন, অতীতে আমরা বিরোধীদলকে সবসময় মজলুম ও বিনয়ী হিসেবে দেখেছি। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল হয়েই আওয়ামী লীগের সব বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত। এরা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতকে ন্যূনতম স্পেস দেবে না। এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য গণ অধিকার পরিষদকে ধন্যবাদ জানান রাশেদ খান। তিনি বলেন, বিশেষ করে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনকে ধন্যবাদ জানাই যে, তারা গণঅধিকার পরিষদকে যারা জামায়াতমুখী করতে চেয়েছিল, সেসব নেতাদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে। দল হিসেবে জামায়াত ও তাদের সেক্রেটারি জেনারেল গণ-অধিকার পরিষদকে নিয়ে আজ জঘন্য বক্তব্য দিয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান। এ বক্তব্যের প্রতিবাদও জানান তিনি। রাশেদ খান বলেন, এই দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদের পতনে দল হিসেবে জামায়াতের তুলনায় গণ অধিকার পরিষদের অবদান বেশি। জামায়াত যখন গুপ্ত ছিলো, গণ অধিকার পরিষদ তখন রাজপথে ছিলো। কিন্তু আজকে তাদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে, তারাই সব করেছে! কিন্তু ইতিহাস তো বদলানো যায় না।
উত্তর আফ্রিকার ছোট্ট ভূখণ্ড সিউটায় সম্প্রতি প্রবেশ করা শত শত অভিবাসী রবিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। মরক্কোয় ফেরত না পাঠিয়ে স্পেনে আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে একটি জনপ্রিয় সৈকতে তারা এই বিক্ষোভ করেন। দুই সপ্তাহ আগে মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ ৮০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরে ঢুকে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বেশির ভাগই স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও এখনো সেখানে ৫ থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন। শহরের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় এই অভিবাসীরা এখন এল ট্রাম্পোলিন সৈকত বা শহরের উপকণ্ঠে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য—যেকোনোভাবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানো। মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলারউদ বলেন, আমরা সমুদ্রের তীরে ঠান্ডা আর দুর্গন্ধের মধ্যে ঘুমাচ্ছি। পুলিশ আমাদের শহরের কেন্দ্রে যেতে দিচ্ছে না। বিক্ষোভকারীদের হাতে স্পেনের পতাকা এবং ‘আমরা মরক্কো ফিরে যেতে চাই না’, ‘আমরাও মানুষ’-এর মতো ব্যানার ছিল। তারা ‘আমরা ক্লান্ত’, ‘আমরা সমাধান চাই’ স্লোগান দেন। সৈকতের পাথুরে অংশে কাউকে কাপড় ধুতে আবার কাউকে বাঁশ দিয়ে মাছ ধরতেও দেখা যায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফের্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছিলেন, বেআইনিভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের স্পেনে থাকার বা আইনি বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে। এদিকে সিউটার চিকিৎসাসেবা চরম সংকটে পড়েছে। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিক রোভিরাল্টা জানান, চিকিৎসাকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অভিবাসীদের মধ্যে সংক্রামক ডায়রিয়া, চুলকানি এবং মারামারির কারণে জখমের ঘটনা বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কথা অস্বীকার করলেও চাপের কথা স্বীকার করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরক্কোর অভিবাসীরা জানান, দেশে কাজের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় এবং কম বেতনের কারণে বাধ্য হয়ে তারা এসেছেন। ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ উয়ানজার বলেন, স্পেনের মাটিতে পা রেখেই মনে হলো নতুন জন্ম হলো। আমি মরতে রাজি, কিন্তু মরক্কো ফিরব না।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আল-লুগাতুল আরাবিয়াতুল ইত্তিসালিয়্যাহ’ পাঠ্য বইয়ের পরিমার্জিত সংস্করণ বাজারজাত করা হয়েছে। নতুন সংস্করণ অনুযায়ী ২০২৭ সালের আলিম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের পরিমার্জিত পাঠ্যবই অনুসরণ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। সম্প্রতি বোর্ডের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এফ এম শাকিরুল্লাহর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, পরিমার্জিত সংস্করণের বইটির একমাত্র পরিবেশক আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স। বোর্ড জানিয়েছে, নতুন সংস্করণে পুরোনো বইয়ের অনেক অপ্রাসঙ্গিক তথ্য বাদ ও সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ ও জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যপুস্তকটির বিষয়বস্তু হালনাগাদ করা হয়েছে। পরিমার্জিত সংস্করণে পুরোনো বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়টি নবম অধ্যায়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া পুরোনো নবম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠ নতুন সংস্করণে চতুর্থ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠ হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন সংস্করণের চতুর্থ অধ্যায়ের প্রথম ও তৃতীয় পাঠ নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকের মূল বিষয়বস্তু ঠিক রেখে বিভিন্ন তথ্যগত ভুলও সংশোধন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পরিমার্জিত সংস্করণ অনুযায়ী ২০২৭ সালের আলিম পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করা হবে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ওই পরীক্ষার প্রস্তুতি নতুন সংস্করণ অনুসারে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মাদরাসার অধ্যক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ থাকা চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সহযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি এস এস পাওয়ার-১ কে সকল পণ্য পুরো বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ায় এখন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সকল পণ্য আমদানিতে রূপালী ব্যাংক পুরো অর্থায়ন করতে পারবে। কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে কোনো প্রকার আগাম অর্থ দিতে হবে না। রোববার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা প্রয়োগ হবে না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাত বাণিজ্যিক ব্যাংক পুনরুদ্ধার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরই নতুন ঋণ না পেয়ে ও একের পর এক মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রুপটির বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এখন শুধু তাদের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যবসা টিকে আছে। ভোগ্যপণ্যর ব্যবসা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অর্থ সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খেলাপি হয়ে পড়ে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডও। রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থাপিত এসএস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গ্রাহককে শতভাগ মার্জিন সুবিধায় পণ্য আমদানি করার সুযোগ চেয়ে রূপালী ব্যাংক অনুমোদন চায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। তাতে সায় দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারা প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আইনে যা আছে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৩ (সংশোধিত ২০২৩) এর ২৭ কক(৩) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোন ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনোরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না: “তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৫ এর দফ (গগ) এর বিধান অনুসারে পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপী ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট যদি এটা প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, তা হলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলানি হওয়ার কারণে ওই গ্রুপভুক্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না। “এবং এরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তার জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারকে ‘ব্যর্থ’ দেখতে চায় না জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমরা সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে, শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” জ্বালানি সংকটের এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাজধানীর মগবাজারে রোববার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংবাদ সম্মেলনে’ দলের এই বক্তব্য তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই মা, যিনি সকালে চুলা জ্বালাতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই শ্রমিক, যার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই উদ্যোক্তা, যিনি সময়মত পণ্য তৈরি বা রপ্তানি করতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। “সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত করা যাবে না। জরুরি ভিত্তিতে যে কোনো সরকার জনগণের দুর্ভোগ দূর করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিতে পারে।’ গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকার বিদ্যুতের অবৈধ লাইন বন্ধ করতে পারে, ভুতুড়ে বিল বন্ধ করতে পারে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্টের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, এগুলো বন্ধ করুন।” তিনি অভিযোগ করেন, “সিন্ডিকেট করে লুটপাটের মার্কেট করে রেখেছে সরকার। এগুলো বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যায়, সেদিকে সরকারের নজর নেই। তাদের নজর বিরোধীদলের আন্দোলনের দিকে। গণভোটের গণরায় কার্যকর না করে তো উপায় নেই। সে জন্য জনগণের এই দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।” হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে সংসদে; এখন এগুলো খরচ করার দাবি তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ব্যর্থ সরকারগুলো সবসময় জনগণের দুর্ভোগের কথা লুকিয়ে নিজের গণবিচ্ছিন্নতা থেকে বাঁচতে নন ইস্যুকে সামনে এনে বিরোধীদলের উপর চাপিয়ে দিতে চায়।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে জ্বালানি সংকট সমাধানে পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি বলেছেন পরিকল্পনা দিন। আমরা বলছি, পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে। আপনি বলেছেন, ভালো পরিকল্পনা হলে বাস্তবায়ন করবেন। আমরা বলছি, বিরোধী দলের ১০ দফা এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে সামনে রেখে আজ থেকেই একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করুন।” বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিপিডিবি, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করার দাবি তোলেন গোলাম পরওয়ার। সংবাদ সম্মেলনের দিন থেকে ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সুপারিশ কোনটি বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি হয়নি, কত গ্যাস বেড়েছে, কত সিস্টেম লস কমেছে, কত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে জনগণ সেই হিসাব দেখুক। এখন প্রশ্ন একটাই, বাস্তবায়ন শুরু হবে, নাকি আবার নতুন পরিকল্পনা ও নতুন কমিটির অপেক্ষায় থাকতে হবে? “আমরা ৯০ দিন পর হিসাব চাইব। সরকারকে বিব্রত করার জন্য নয়। দেশের মানুষের পক্ষে। আর দেশের স্বার্থে সরকার যদি কোনো কার্যকর, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেয়, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমরা সহযোগিতা করব।” সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, মুহাম্মদ শাহজাহান, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানা গেছে। সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার প্রথম রমজান শুরু হতে পারে। আগামী ২৯ শাবান (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, এবার শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার শেষ হবে। ফলে এর পরদিন সোমবার থেকেই রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এবারের রমজান মাসটি ২৯ দিনে শেষ হতে পারে। সেই অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার রমজানের শেষ দিন হবে এবং পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৪৪৮ হিজরি সনের প্রথম দিন নির্ধারণ নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কিছু দেশে ১৬ জুন মঙ্গলবার নতুন বছর শুরু হলেও, অন্যান্য দেশে ১৭ জুন বুধবার থেকে হিজরি সন গণনা করা হয়। সূত্র: জর্ডান নিউজ।
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার মন্তব্য ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। হরমুজ রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দেবে’ বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে শাসিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার রাতে ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ অ্যাকাডেমির এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘‘ইরান খুব খারাপ ভাবে পরাস্ত হতে চলেছে। কাজ শেষ হলে, খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়ই ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি তাকে সতর্ক করে বললেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘রসিকতা’ করার উপযুক্ত জবাব পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। হাতামি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা বড় ভুল। কারণ এটি ইরান, এর রক্ষকরা আছে যারা আপনার পা ভেঙে দেবে।” ইরানের সেনাপ্রধান দাবি করেন যে, মার্কিন বাহিনীকে ‘কার্যত বিতাড়িত করা হয়েছে’। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের সুযোগ এখন আর নেই। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না এবং ইরান কখনও তা হতে দেবে না বলেও সতর্ক করেন হাতামি। ইরান যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে। শুক্রবারই ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজকে সেখানে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তবে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি শনিবারই উড়িয়ে দেয় ইরান সরকার। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম কারিবাবাদি বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানেরই থাকবে।’’ এবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সেনাপ্রধান হাতামির কঠোর অবস্থানের বার্তা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকের জন্য পুরস্কার কেবল হরমুজ নিয়ে হুঁশিয়ারিই নয়, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা আটক করার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদেরকে কোনও ব্যক্তি হত্যা বা আটক করতে পারলে তাকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান হাতামি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে একথা জানান তিনি। হাতামি আরও জানান, কোনও ‘সাহসী ইরানি নারী’ এ কাজ করতে পারলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।
ইরান যুদ্ধে হতাশ, মানসিক চাপে থাকা পাঁচ হাজার সেনা নিয়ে দেশে ফিরে যাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। মার্কিন নৌবাহিনী ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হুং কাও শুক্রবার এই ঘোষণা দিয়েছেন। বিমানবাহী এই রণতরীর সাগরে দীর্ঘদিন মোতায়েন থাকা এবং এর নাবিকদের শোচনীয় কর্ম পরিবেশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও তদন্তের মুখে তরীটি ফিরছে বলে জানান তিনি। এক বিবৃতিতে হুং কাও বলেন, “ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন তাদের দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করেছে এবং পালাবদলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগিগিরই বাড়ি ফিরবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই: আমাদের নাবিক ও মেরিন সেনাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সবার্ধিক অগ্রাধিকার পাবে।” অভিযান সফল করা। সেনাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এভাবেই আমরা নেতৃত্ব দিই,” বলা হয় বিবৃতিতে। কাও বলেছেন, নভেম্বরে সানডিয়েগো থেকে রওনা হওয়ার পর ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে আব্রাহাম লিংকনকে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কারণেই নেওয়া হয়েছিল। কাও এও স্বীকার করেন যে, “যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন করা কঠিন, যুদ্ধকালীন সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে এবং যুদ্ধ একটি নরক, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা দৈনন্দিন রুটিন ঠিক থাকে না। যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যতম কঠিন দিক হল আমাদের সেনা সদস্যদের জেনেশুনে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া, আর তা হল- সেরা পরিকল্পনা এবং যোগাযোগ থাকার পরও পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা সবসময়ই থেকে যাবে। আমাদের সাফল্য নির্ভর করে আমরা কীভাবে নিজেদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিই তার ওপর," বলেন তিনি। কাও আরও বলেন, “নাবিক এবং মেরিন সেনাদের কাছ থেকে তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয় এবং তারা সবসময়ই তা করে। একজন নেতার দায়িত্ব হল অভিযানের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে তাদের অধীনস্তদের যথাসম্ভব সর্বোত্তম যত্ন নেওয়া। এই রণতরী (আব্রাহাম লিংকন) মোতায়েন অভিযানের সময় আমরা উভয় বিষয়ই লক্ষ্য করেছি: কাজও ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং আমাদের নেতারা তাদের অধীনস্ত কর্মীদের যত্নও নিচ্ছেন।” রণতরীটিতে রসদ সরবরাহ সংকট, কিছু নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, পচা খাবার এবং ছত্রাক পড়া গোসলখানাসহ শোচনীয় অবস্থার কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া এবং কংগ্রেসে আব্রাহাম লিংকনের অবস্থা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত শুরুর দাবি ওঠার পর কাও এই দীর্ঘ বিবৃতি দিলেন। আব্রাহাম লিংকন প্রায় ৯ মাস ধরে সাগরে অবস্থান করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কোনও স্বাভাবিক বন্দর বিরতি বা মাটিতে পা রাখার সুযোগ পাননি এর হাজার হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা। তরীটি টানা ২৫০ দিনের বেশি তীরে না ভিড়ে সমুদ্রে ছিল, যা আধুনিক সময়ে কোনও মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য রেকর্ড। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে এই রণতরীটিকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন রাখা হয়। নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে রণতরীর ভেতরের বাস অযোগ্য পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিক পরিবারের সদস্য তাদের উদ্বেগের কথা জানান। ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নারী জানিয়েছেন, তার স্বামী সেদিন তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি পরদিন আর ঘুম থেকে বেঁচে উঠতে চান না। আরেক নাবিকের স্ত্রী নেভি টাইমস’কে জানান, সমুদ্রে থাকার মেয়াদ বারবার বাড়তে থাকায় তার স্বামী একপর্যায়ে জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য আরেক ঘটনায় এক নাবিক লাফ দিতে গেলে তার সহকর্মী তাকে টেনে ধরে ডেকে ফিরিয়ে এনে রক্ষা করেন। কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ ‘সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়ছে’। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন সেনেটররাও। এক সেনেটর বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের তরী থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টার খবর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, তার ‘ভয়ংকর সতর্কসংকেত। আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা করেছিল। প্রথমে দক্ষিণ চীন সাগরে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয় ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর কারণে। সূত্র: দ্য হিল
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
ইরান যুদ্ধে হতাশ, মানসিক চাপে থাকা পাঁচ হাজার সেনা নিয়ে দেশে ফিরে যাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। মার্কিন নৌবাহিনী ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হুং কাও শুক্রবার এই ঘোষণা দিয়েছেন। বিমানবাহী এই রণতরীর সাগরে দীর্ঘদিন মোতায়েন থাকা এবং এর নাবিকদের শোচনীয় কর্ম পরিবেশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও তদন্তের মুখে তরীটি ফিরছে বলে জানান তিনি। এক বিবৃতিতে হুং কাও বলেন, “ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন তাদের দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করেছে এবং পালাবদলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগিগিরই বাড়ি ফিরবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই: আমাদের নাবিক ও মেরিন সেনাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সবার্ধিক অগ্রাধিকার পাবে।” অভিযান সফল করা। সেনাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এভাবেই আমরা নেতৃত্ব দিই,” বলা হয় বিবৃতিতে। কাও বলেছেন, নভেম্বরে সানডিয়েগো থেকে রওনা হওয়ার পর ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে আব্রাহাম লিংকনকে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কারণেই নেওয়া হয়েছিল। কাও এও স্বীকার করেন যে, “যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন করা কঠিন, যুদ্ধকালীন সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে এবং যুদ্ধ একটি নরক, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা দৈনন্দিন রুটিন ঠিক থাকে না। যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যতম কঠিন দিক হল আমাদের সেনা সদস্যদের জেনেশুনে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া, আর তা হল- সেরা পরিকল্পনা এবং যোগাযোগ থাকার পরও পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা সবসময়ই থেকে যাবে। আমাদের সাফল্য নির্ভর করে আমরা কীভাবে নিজেদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিই তার ওপর," বলেন তিনি। কাও আরও বলেন, “নাবিক এবং মেরিন সেনাদের কাছ থেকে তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয় এবং তারা সবসময়ই তা করে। একজন নেতার দায়িত্ব হল অভিযানের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে তাদের অধীনস্তদের যথাসম্ভব সর্বোত্তম যত্ন নেওয়া। এই রণতরী (আব্রাহাম লিংকন) মোতায়েন অভিযানের সময় আমরা উভয় বিষয়ই লক্ষ্য করেছি: কাজও ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং আমাদের নেতারা তাদের অধীনস্ত কর্মীদের যত্নও নিচ্ছেন।” রণতরীটিতে রসদ সরবরাহ সংকট, কিছু নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, পচা খাবার এবং ছত্রাক পড়া গোসলখানাসহ শোচনীয় অবস্থার কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া এবং কংগ্রেসে আব্রাহাম লিংকনের অবস্থা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত শুরুর দাবি ওঠার পর কাও এই দীর্ঘ বিবৃতি দিলেন। আব্রাহাম লিংকন প্রায় ৯ মাস ধরে সাগরে অবস্থান করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কোনও স্বাভাবিক বন্দর বিরতি বা মাটিতে পা রাখার সুযোগ পাননি এর হাজার হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা। তরীটি টানা ২৫০ দিনের বেশি তীরে না ভিড়ে সমুদ্রে ছিল, যা আধুনিক সময়ে কোনও মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য রেকর্ড। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে এই রণতরীটিকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন রাখা হয়। নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে রণতরীর ভেতরের বাস অযোগ্য পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিক পরিবারের সদস্য তাদের উদ্বেগের কথা জানান। ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নারী জানিয়েছেন, তার স্বামী সেদিন তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি পরদিন আর ঘুম থেকে বেঁচে উঠতে চান না। আরেক নাবিকের স্ত্রী নেভি টাইমস’কে জানান, সমুদ্রে থাকার মেয়াদ বারবার বাড়তে থাকায় তার স্বামী একপর্যায়ে জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য আরেক ঘটনায় এক নাবিক লাফ দিতে গেলে তার সহকর্মী তাকে টেনে ধরে ডেকে ফিরিয়ে এনে রক্ষা করেন। কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ ‘সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়ছে’। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন সেনেটররাও। এক সেনেটর বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের তরী থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টার খবর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, তার ‘ভয়ংকর সতর্কসংকেত। আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা করেছিল। প্রথমে দক্ষিণ চীন সাগরে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয় ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর কারণে। সূত্র: দ্য হিল
উত্তর আফ্রিকার ছোট্ট ভূখণ্ড সিউটায় সম্প্রতি প্রবেশ করা শত শত অভিবাসী রবিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। মরক্কোয় ফেরত না পাঠিয়ে স্পেনে আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে একটি জনপ্রিয় সৈকতে তারা এই বিক্ষোভ করেন। দুই সপ্তাহ আগে মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ ৮০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরে ঢুকে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বেশির ভাগই স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও এখনো সেখানে ৫ থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন। শহরের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় এই অভিবাসীরা এখন এল ট্রাম্পোলিন সৈকত বা শহরের উপকণ্ঠে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য—যেকোনোভাবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানো। মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলারউদ বলেন, আমরা সমুদ্রের তীরে ঠান্ডা আর দুর্গন্ধের মধ্যে ঘুমাচ্ছি। পুলিশ আমাদের শহরের কেন্দ্রে যেতে দিচ্ছে না। বিক্ষোভকারীদের হাতে স্পেনের পতাকা এবং ‘আমরা মরক্কো ফিরে যেতে চাই না’, ‘আমরাও মানুষ’-এর মতো ব্যানার ছিল। তারা ‘আমরা ক্লান্ত’, ‘আমরা সমাধান চাই’ স্লোগান দেন। সৈকতের পাথুরে অংশে কাউকে কাপড় ধুতে আবার কাউকে বাঁশ দিয়ে মাছ ধরতেও দেখা যায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফের্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছিলেন, বেআইনিভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের স্পেনে থাকার বা আইনি বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে। এদিকে সিউটার চিকিৎসাসেবা চরম সংকটে পড়েছে। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিক রোভিরাল্টা জানান, চিকিৎসাকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অভিবাসীদের মধ্যে সংক্রামক ডায়রিয়া, চুলকানি এবং মারামারির কারণে জখমের ঘটনা বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কথা অস্বীকার করলেও চাপের কথা স্বীকার করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরক্কোর অভিবাসীরা জানান, দেশে কাজের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় এবং কম বেতনের কারণে বাধ্য হয়ে তারা এসেছেন। ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ উয়ানজার বলেন, স্পেনের মাটিতে পা রেখেই মনে হলো নতুন জন্ম হলো। আমি মরতে রাজি, কিন্তু মরক্কো ফিরব না।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত। এটি রাজনীতি বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে বলে জানিয়েছেন ভারত সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে রোববার (১৬ আগস্ট) এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, “প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের আদালত। এটি কোনো কূটনৈতিক অথবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না। আর আদালতে যেটি প্রমাণিত হতে হবে যে বাংলাদেশে তিনি যে অপরাধ সংঘটিত করেছেন সেগুলো ভারতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ কি না।” ভারত সরকারের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়েছিল, সেটি অনুযায়ী সব নথি যুক্ত করেই বাংলাদেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানেই আছেন। বর্তমানে দিল্লির একটি রেস্ট হাউজে রয়েছেন তিনি। এদিকে পতিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা মাঝে মধ্যে তার দলের ক্যাডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলেন। শেখ হাসিনার বর্তমান বয়স ৭৮। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানা গেছে। সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার প্রথম রমজান শুরু হতে পারে। আগামী ২৯ শাবান (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, এবার শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার শেষ হবে। ফলে এর পরদিন সোমবার থেকেই রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এবারের রমজান মাসটি ২৯ দিনে শেষ হতে পারে। সেই অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার রমজানের শেষ দিন হবে এবং পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৪৪৮ হিজরি সনের প্রথম দিন নির্ধারণ নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কিছু দেশে ১৬ জুন মঙ্গলবার নতুন বছর শুরু হলেও, অন্যান্য দেশে ১৭ জুন বুধবার থেকে হিজরি সন গণনা করা হয়। সূত্র: জর্ডান নিউজ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।