সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
মমতার বিপুল হারের কারণ কী, বিজেপি কেন এগিয়ে গেল

ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিপর্যয় এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-এর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ইস্যুর ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ, কৌশলগত প্রচার এবং ভোটের সমীকরণের পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব।   দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে টিএমসির বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বা সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা, সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। শিক্ষক নিয়োগ, আর্থিক অনিয়মসহ একাধিক ইস্যুতে টিএমসির ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিরোধী দল বিজেপি এসব ইস্যুকে সামনে এনে জোরালো প্রচার চালায়, যা ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করে।   অন্যদিকে বিজেপি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার এবং বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে তারা কার্যকর প্রচারণা চালায়।   ভোট বিভাজনও বড় একটি কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিরোধী ভোট একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়ায় টিএমসি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিজেপি তার সুবিধা পায়।   এছাড়া জাতীয় ইস্যুগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে বিজেপি ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে। এতে আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে অনেক ভোটার জাতীয় দলকে সমর্থন দেয়।   ধর্মীয় ও সামাজিক মেরুকরণও নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ধরে রাখতে টিএমসি চেষ্টা করলেও বিজেপি বিপরীত মেরুকরণ তৈরি করে ভোট টানতে সক্ষম হয়।   সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই বিপুল হার এবং বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল, সংগঠন, ইস্যুভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটের গাণিতিক সমীকরণের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনে এই সমীকরণ আবারও বদলে যেতে পারে।    

৪৩ সেকেন্ড আগে
ট্রাফিক আইন ভাঙলে অটো নোটিশ, হাজিরা না দিলে পরোয়ানা

সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনায় আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন থেকে কোনো চালক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিকভাবে ‘অটো নোটিশ’ পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজিরা না দিলে জারি করা হবে পরোয়ানা।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করা হবে। এরপর গাড়ির নিবন্ধন নম্বরের ভিত্তিতে মালিক বা চালকের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হবে।   নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হয়ে জরিমানা পরিশোধ বা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এ উদ্যোগের ফলে সড়কে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে অনিয়মকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তবে এই ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক ডেটাবেইস ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

২১ মিনিট আগে
কেরালা নির্বাচনে চমক, ইতিহাস গড়লেন ফাতিমা তাহিলিয়া

কেরালার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ৩৪ বছর বয়সী তরুণী আইনজীবী ফাতিমা তাহিলিয়া। বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরাম্ব্রা আসনে জয়ী হয়ে ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) প্রথম নারী হিসেবে রাজ্য আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।   দীর্ঘদিনের বাম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে তিনি সিপিআইয়ের (এম) জ্যেষ্ঠ নেতা ও এলডিএফ কনভেনর টি.পি. রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করেন। তিনি মোট ৮১ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়ে, ৫ হাজার ৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। মঙ্গলবার (০৫ মে) ‘দ্য উইক’- এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয় এসব তথ্য। এটি এলডিএফের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে একই আসনে রামকৃষ্ণন ২২ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। তাহিলিয়ার এই জয় মালাবার অঞ্চলে ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি মুসলিম তরুণীদের জন্য নতুন আশার বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আইইউএমএলের নারী প্রার্থীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে পারে। ইতিহাস বলছে, আইইউএমএল খুব কমই নারী প্রার্থী দিয়েছে। অতীতে তারা সফলও হয়নি। ২০২৬ সালের আগে দলটি মাত্র দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল— ১৯৯৬ ও ২০২১ সালে। দুজনই পরাজিত হন। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা তাহিলিয়া মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি এর নারী শাখা ‘হারিতা’র প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়। নির্বাচনী প্রচারে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রবীণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাদের কল্যাণ ও জীবিকার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। গত ৩১ মার্চ পেরাম্ব্রায় তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন রাহুল গান্ধী। ত্রিশূরের সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি বর্তমানে কোঝিকোড জেলা আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত। ২০২০ সালে তিনি কোঝিকোড সিটি করপোরেশনের কুট্টিচিরা ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সামাজিক সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার তাহিলিয়া বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি নারীর অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন। হিজাবকে পরিচয়ের অংশ হিসেবে রক্ষা করার পক্ষে অবস্থান নেন এবং মুসলিম নারীদের শিক্ষার অধিকার নিয়েও সক্রিয় ছিলেন। অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়লেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। এর আগে এমএসএফের জাতীয় সহ-সভাপতির পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সংগঠনের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা নারীদের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তারা নারীদের চুপ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি জানান। ২০২১ সালের আগস্টে তার নেতৃত্বে একদল নারী এ বিষয়ে রাজ্য মহিলা কমিশনে অভিযোগ করেন।

২২ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান সরকারের উদ্যোগে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে “উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া”—এমন মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।   মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে।”   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।   মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বাণিজ্যচুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা থাকে। তাই এ চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই,” যোগ করেন তিনি।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান ইতোমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে।   দেশের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।” এ কারণে এ বিষয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব কমাতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

৩৬ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
ফ্রান্সে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই ফরাসি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রোববার (৩ মে) রাতে তার আবাসিক হোস্টেল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্যারিসের নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নাম মহাদেব ঘোষ (২৪)। তিনি প্যারিসে অবস্থিত একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমন্বয়কারী প্রথমে ফোনে বিষয়টি মহাদেবের পরিচিতজনদের জানান। পরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মহাদেব ঘোষ বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শ্যামল কুমার ঘোষ ও সাগরদীপা ঘোষ রায়ের ছেলে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন।   তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৫, ২০২৬ 0

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিসের কারাগারে স্বজনহীন বাংলাদেশির মৃত্যু, সেখানেই দাফন

পরিচয়পত্রহীন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নেই কোনো বৈধ পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র। বিদেশের মাটিতে কারাবন্দি অবস্থায় নিভে গেছে জীবনের প্রদীপ। দেশে ফেরার পথও ছিল অনিশ্চিত।   অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে মানবিক বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ গ্রিসের মাটিতেই শেষ ঠিকানা হতে যাচ্ছে প্রবাসী কামরান দেলোয়ার হোসেন খানের।   দেশটির রাজধানী এথেন্সের উপকণ্ঠে করিদালোজ কারাগারে গত ১৪ মার্চ মারা যান কামরান। মৃত্যুর পর তার পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস।   তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা কোনো সরকারি নথিপত্র না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে গ্রিক নথিতে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় তার লাশের দায়িত্ব নেয় তারা।   এসব তথ্য জানিয়ে শনিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এতে বলা হয়, কামরানের পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানে নামেন তারা।   অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে এখন কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।   দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ‘অন্য একটি দেশে অবস্থানরত কামরানের এক ভাইয়ের’ খোঁজ মেলে। টেলিফোনে তিনি জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন অবশিষ্ট নেই। এ কারণে লাশ বাংলাদেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফন করার জন্য তিনি দূতাবাসের কাছে লিখিত অনাপত্তিপত্র দেন।   বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত বাজেট সাধারণত বৈধ নথিপত্রধারী কর্মীদের লাশ দেশে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বিদেশে দাফন করার জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ থাকে না। এছাড়া পরিচয় নিশ্চিত না হলে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো দায়বদ্ধতাও নেই।   কিন্তু কামরানের বিষয়টি ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে গ্রহণ করে দূতাবাস। একজন কর্মীর শেষ বিদায় যেন ধর্মীয় বিধানে হয়, সেই অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব উদ্যোগে দাফনের সব ব্যয়ভার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে তারা।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৃত কামরান একজন ‘আনডকুমেন্টেড’ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও মানবিক কারণে সরকার ও দূতাবাস বিষয়টি দেখভাল করছে। এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনি এলাকায় মুসলিম কবরস্থানে লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এই প্রক্রিয়াটি একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, অন্যদিকে স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদনেরও প্রয়োজনীয়তা ছিল। সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে ৭ মে লাশ দাফন করা হবে।

ছবি: সংগৃহীত
কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে নিউ ইয়র্কে র‍্যালি

যুক্তরাষ্ট্রে এক র‍্যালি থেকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার কয়েকজন সাংবাদিকের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।   ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষ্যে রোববার নিউ ইয়র্কে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয় ‘নিউ ইয়র্ক জার্নালিস্ট কমিউনিটি’ ব্যানারে।   পিনাকি তালুকদারের সঞ্চালনায় র‍্যালিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।   তিনি বলেন, ভিন্নমতের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের, সিনিয়র সাংবাদিকদের আটক এবং বহু সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে।   তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সাংবাদিক ও সম্পাদকের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে, পাসপোর্ট জব্দ করে বিদেশযাত্রা সীমিত করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে।   ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ বলেন, মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দখল, সাংবাদিক ছাঁটাই এবং শতাধিক সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনা উদ্বেগজনক।   ওয়াশিংটন ডি.সিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ বলেন, মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।   র‍্যালিতে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, অধ্যাপক হোসনেআরা, শহিদুল ইসলাম, আবু জাফর মাহমুদ, হাকিকুল ইসলাম খোকন, এম ফজলুর রহমান ও মোজাহিদ আনসারী।

ছবি: সংগৃহীত
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে জল্পনা নাকচ করল ইরান

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ পদার্থের মজুদ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির কারিগরি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। বরং ইরানের প্রধান লক্ষ্য এখন চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বন্ধ করা।   সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক মজুদ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর। তিনি দাবি করেন, এসব আলোচনা অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল নেই।   ইসমাইল বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, এখন মূল বিষয় হলো আমেরিকা ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা।” একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের একটি বার্তা তেহরান পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত ও পরিবর্তনশীল দাবি”র কারণে সেই বার্তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে আসে।   সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসমাইল বাঘাই। জবাবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা ইরানের দায়িত্বের অংশ। যদিও তেহরান এমন এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে, যারা বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তার মতে, এই পরিস্থিতি আলোচনা কঠিন করে তুললেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা জরুরি।   আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসমাইল বাঘাই স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে সরে গিয়েছিল। এরপরই ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার দাবি, বর্তমান অচলাবস্থার বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের “বৈপরীত্যপূর্ণ আচরণ”।   ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তির মাধ্যমে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পারমাণবিক আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবুও তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না বলেই ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা ঘোষণা ইরানের

হরমুজ প্রণালির যে অংশটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, এই নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি পশ্চিম দিকে ইরানের কেশম দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কোয়াইন আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রেখা দিয়ে শুরু হয়েছে।    অন্যদিকে, পূর্ব দিকে এই এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের মাউন্ট মোবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাত পর্যন্ত একটি রেখা দ্বারা।   তবে ইরানের দাবি করা এই নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা আগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার ব্যাপ্তি ঠিক কতটুকু, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ‘খাতামুল আনাম্বিয়া (স.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে।    তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হরমুজ প্রণালীর কাছে আসতে বা প্রবেশ করতে চায়, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মমতার বিপুল হারের কারণ কী, বিজেপি কেন এগিয়ে গেল
মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৫, ২০২৬ 0

ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিপর্যয় এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-এর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ইস্যুর ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ, কৌশলগত প্রচার এবং ভোটের সমীকরণের পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব।   দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে টিএমসির বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বা সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা, সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। শিক্ষক নিয়োগ, আর্থিক অনিয়মসহ একাধিক ইস্যুতে টিএমসির ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিরোধী দল বিজেপি এসব ইস্যুকে সামনে এনে জোরালো প্রচার চালায়, যা ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করে।   অন্যদিকে বিজেপি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার এবং বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে তারা কার্যকর প্রচারণা চালায়।   ভোট বিভাজনও বড় একটি কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিরোধী ভোট একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়ায় টিএমসি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিজেপি তার সুবিধা পায়।   এছাড়া জাতীয় ইস্যুগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে বিজেপি ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে। এতে আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে অনেক ভোটার জাতীয় দলকে সমর্থন দেয়।   ধর্মীয় ও সামাজিক মেরুকরণও নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ধরে রাখতে টিএমসি চেষ্টা করলেও বিজেপি বিপরীত মেরুকরণ তৈরি করে ভোট টানতে সক্ষম হয়।   সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই বিপুল হার এবং বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল, সংগঠন, ইস্যুভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটের গাণিতিক সমীকরণের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনে এই সমীকরণ আবারও বদলে যেতে পারে।    

ছবি: সংগৃহীত
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে জল্পনা নাকচ করল ইরান
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৫, ২০২৬ 0

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ পদার্থের মজুদ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির কারিগরি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। বরং ইরানের প্রধান লক্ষ্য এখন চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বন্ধ করা।   সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক মজুদ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর। তিনি দাবি করেন, এসব আলোচনা অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল নেই।   ইসমাইল বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, এখন মূল বিষয় হলো আমেরিকা ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা।” একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের একটি বার্তা তেহরান পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত ও পরিবর্তনশীল দাবি”র কারণে সেই বার্তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে আসে।   সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসমাইল বাঘাই। জবাবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা ইরানের দায়িত্বের অংশ। যদিও তেহরান এমন এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে, যারা বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তার মতে, এই পরিস্থিতি আলোচনা কঠিন করে তুললেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা জরুরি।   আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসমাইল বাঘাই স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে সরে গিয়েছিল। এরপরই ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার দাবি, বর্তমান অচলাবস্থার বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের “বৈপরীত্যপূর্ণ আচরণ”।   ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তির মাধ্যমে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পারমাণবিক আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবুও তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না বলেই ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা ঘোষণা ইরানের
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৫, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালির যে অংশটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, এই নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি পশ্চিম দিকে ইরানের কেশম দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কোয়াইন আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রেখা দিয়ে শুরু হয়েছে।    অন্যদিকে, পূর্ব দিকে এই এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের মাউন্ট মোবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাত পর্যন্ত একটি রেখা দ্বারা।   তবে ইরানের দাবি করা এই নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা আগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার ব্যাপ্তি ঠিক কতটুকু, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ‘খাতামুল আনাম্বিয়া (স.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে।    তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হরমুজ প্রণালীর কাছে আসতে বা প্রবেশ করতে চায়, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৫, ২০২৬ 0

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘাঁটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহারযোগ্য নেই।   স্যাটেলাইট ছবি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বড় অংশই ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।   কিছু সূত্রের মতে, ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন পাওয়া গেছে। কয়েকটি ঘাঁটি এতটাই ধ্বংস হয়েছে যে সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় আছে, তবে কিছু স্থাপনা কৌশলগত কারণে মেরামতের পরিকল্পনাও চলছে।   স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা যায়, ইরানের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং যুদ্ধবিমান। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন।   একটি সূত্র দাবি করেছে, ইরান এমন জায়গাগুলোতেই বেশি আঘাত করেছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে রাডার ব্যবস্থা যা এই অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সীমিত সম্পদ।   এদিকে মার্কিন পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, প্রকৃত খরচ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।   বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হচ্ছে না বলে তিনি হতাশ।   তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি