কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতাবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় মহেশখালীর মাতাবাড়ির গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন, বেলা সাড়ে ১২টায় মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লাম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সাক্ষাৎ, সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রা বিরতি, বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগদান। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে এবং ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রামে যাবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে একটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও দক্ষ তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় একই ভবনে থাকা হাসপাতাল, ব্যাংক ও আশপাশের বহু দোকান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৬টা ৫ মিনিটে লৌহজং ফায়ার স্টেশনে খবর আসে, উপজেলার মালির অংক বাজারে একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মার্কেটে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে লৌহজং ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার পর ভবনটিতে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির নিচতলায় মার্কেট, দ্বিতীয় তলায় ইসলামি জেনারেল হাসপাতাল এবং যমুনা ব্যাংকের কার্যক্রম ছিল। তিনি জানান, হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা চারজন মহিলা সিজারিয়ান রোগীসহ আবাসিক অংশে থাকা লোকজনকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন নিচতলার একটি কাপড়ের দোকানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়। এতে একই ভবনে থাকা হাসপাতাল ও ব্যাংকসহ আশপাশের বহু দোকান বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা পায়। অগ্নিকাণ্ডে আমির হোসেন বস্ত্রালয়ের কাপড় ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানটির মালিক আমির হোসেন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ। বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, রবিবার ভোর ৪টার দিকে কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে ভারতের মাগুরুলি এলাকায় একদল চোরাকারবারি যাওয়ার সময় বিএসএফ গুলি চালায়। এতে তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তিনি আরও জানান, নিহত তারা মিয়ার বিরুদ্ধে চোরাকারবারের একটি মামলাও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর ‘এডিটরস ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের লক্ষ্য—এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগকে শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে এর আওতায় আনা। তিনি বলেন, ‘চুক্তির মূলনীতি হলো—তিন দেশের কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক একটি ব্যবস্থা; এর কোনো সম্প্রসারণবাদী উদ্দেশ্য নেই।’ ফিদান বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য হলো, এই উদ্যোগ যেন শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রয়োজন হলে এই ছাতার নিচে অঞ্চলের সব দেশকে আনার সুযোগ তৈরি করা।’ তিনি আরও জানান, মিসরও পরবর্তী ধাপে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হতে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ‘অভিন্ন হুমকি’র কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে চুক্তির আওতায় তিন দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতাবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় মহেশখালীর মাতাবাড়ির গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন, বেলা সাড়ে ১২টায় মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লাম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সাক্ষাৎ, সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রা বিরতি, বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগদান। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে এবং ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রামে যাবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা চললেও সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এখনও বিধিনিষেধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই থেকে ইরানকে ঘিরে সামুদ্রিক বিধিনিষেধ পুনর্বহালের পর এখন পর্যন্ত ৫৩টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ সময় দুটি জাহাজও অচল করা হয়েছে। শনিবার সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব জাহাজকে বিকল্প পথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা চললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, তেহরান প্রণালির মধ্য দিয়ে যতটা সম্ভব বেশি পরিমাণে তেল পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বিশ্বাস করে না। অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের প্রতি নীতি পরিবর্তন না করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অন্যায্য’ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রত্যাহার।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ দুপুর পর্যন্ত আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে সম্ভাবনা রয়েছে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির। রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অধিদপ্তর আরও জানায়, আজ রবিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। গতকাল শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে। আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে। এদিকে আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কবার্তা নেই। এ সময় কোনো সংকেতও দেখাতে হবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সৌদি আরব এবং তুরস্কের সঙ্গে ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক একদিন পরই ইসরায়েলকে ‘অবৈধ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। শনিবার নিজ দেশের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলকে পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য সরাসরি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিমকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ফ্রন্ট বা জোট গঠনের জোর আহ্বান জানান। এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে খাজা আসিফ বলেন, ইসরায়েলের প্রেক্ষাপটে সমস্ত মুসলিম দেশকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। ১৯৪০-এর দশকের বালফোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ইসরায়েল হলো বালফোর ঘোষণারই এক ফসল, যা ১৯৪০-এর দশকে একটি অবৈধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি এই অঞ্চলের যেকোনো দেশের জন্যই সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯১৭ সালের ব্রিটিশ ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, তার ঠিক এক বছর আগে ১৯৪৭ সালে একই রকম ব্রিটিশ ঘোষণার মধ্য দিয়েই পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। পূর্বে ইসরায়েলকে ‘মানবজাতির জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যানসার আক্রান্ত রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দেওয়া এই পাকিস্তানি মন্ত্রী জানান, আসন্ন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলেও ইসরায়েলের প্রতি তার এই কঠোর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, জেরুজালেমের ক্ষমতায় কে আসল—নফতালি বেনেট নাকি অন্য কোনো নেতা—তাতে পরিস্থিতির খুব সামান্যই ফারাক ঘটবে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব এবং ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা কখনো দূর হবে না। তারা একের পর এক মুসলিম দেশকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে চলেছে। যতক্ষণ না ফিলিস্তিন-সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ পুরো ইসলামিক বিশ্বকে এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। খাজা আসিফের এই নতুন হুমকির বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফের দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সে সময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইসলামাবাদের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারী কোনো দেশের মন্ত্রীর মুখে ইসরায়েল ধ্বংসের এমন ডাক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। উল্লেখ্য, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে ইসলামাবাদ। এদিকে, শনিবার এক পৃথক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা কার্যত ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫-এর মতো একটি যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এর অর্থ হলো, এই তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি জানান, আঙ্কারা, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের এই জোটে ন্যাটোর আদলে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠিত হবে এবং এর প্রধান সচিবালয় থাকবে সৌদি আরবে। কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হলে মিসরও এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে জানান তিনি। প্রায় দুই বছর আট মাসের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই জোটটি ন্যাটোর বিকল্প নয় এবং আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের জন্যও এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে আঙ্কারা নিশ্চিত করেছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর ‘এডিটরস ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের লক্ষ্য—এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগকে শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে এর আওতায় আনা। তিনি বলেন, ‘চুক্তির মূলনীতি হলো—তিন দেশের কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক একটি ব্যবস্থা; এর কোনো সম্প্রসারণবাদী উদ্দেশ্য নেই।’ ফিদান বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য হলো, এই উদ্যোগ যেন শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রয়োজন হলে এই ছাতার নিচে অঞ্চলের সব দেশকে আনার সুযোগ তৈরি করা।’ তিনি আরও জানান, মিসরও পরবর্তী ধাপে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হতে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ‘অভিন্ন হুমকি’র কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে চুক্তির আওতায় তিন দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর ‘এডিটরস ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের লক্ষ্য—এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগকে শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে এর আওতায় আনা। তিনি বলেন, ‘চুক্তির মূলনীতি হলো—তিন দেশের কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক একটি ব্যবস্থা; এর কোনো সম্প্রসারণবাদী উদ্দেশ্য নেই।’ ফিদান বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য হলো, এই উদ্যোগ যেন শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রয়োজন হলে এই ছাতার নিচে অঞ্চলের সব দেশকে আনার সুযোগ তৈরি করা।’ তিনি আরও জানান, মিসরও পরবর্তী ধাপে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হতে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ‘অভিন্ন হুমকি’র কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে চুক্তির আওতায় তিন দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনে রাজি না হলে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত কি না, তা যাচাই করছে ওয়াশিংটন। ইরান এতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগের পথেই থাকবে। ভ্যান্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রচলিত সামরিক সক্ষমতাও ধ্বংস করা হয়েছে এবং তথাকথিত অসমমিত সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চাইছে, ইরান এমন দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে রাজি কি না, যা দেশ দুটির মধ্যে আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রয়োজন। ভ্যান্স আরও বলেন, ইরান পরিবর্তনে রাজি না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেটি কোনো সমস্যা নয়। সে ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর যতটা সম্ভব চাপ প্রয়োগ করে যাবে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যত বেশি সম্ভব তেল ও গ্যাস বের করে আনার চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে মার্কিন নাগরিকেরা তুলনামূলক কম দামে গ্যাস ও জ্বালানি পেতে পারেন। সূত্র: ফক্স নিউজ
সৌদি আরব এবং তুরস্কের সঙ্গে ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক একদিন পরই ইসরায়েলকে ‘অবৈধ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। শনিবার নিজ দেশের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলকে পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য সরাসরি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিমকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ফ্রন্ট বা জোট গঠনের জোর আহ্বান জানান। এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে খাজা আসিফ বলেন, ইসরায়েলের প্রেক্ষাপটে সমস্ত মুসলিম দেশকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। ১৯৪০-এর দশকের বালফোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ইসরায়েল হলো বালফোর ঘোষণারই এক ফসল, যা ১৯৪০-এর দশকে একটি অবৈধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি এই অঞ্চলের যেকোনো দেশের জন্যই সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯১৭ সালের ব্রিটিশ ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, তার ঠিক এক বছর আগে ১৯৪৭ সালে একই রকম ব্রিটিশ ঘোষণার মধ্য দিয়েই পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। পূর্বে ইসরায়েলকে ‘মানবজাতির জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যানসার আক্রান্ত রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দেওয়া এই পাকিস্তানি মন্ত্রী জানান, আসন্ন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলেও ইসরায়েলের প্রতি তার এই কঠোর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, জেরুজালেমের ক্ষমতায় কে আসল—নফতালি বেনেট নাকি অন্য কোনো নেতা—তাতে পরিস্থিতির খুব সামান্যই ফারাক ঘটবে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব এবং ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা কখনো দূর হবে না। তারা একের পর এক মুসলিম দেশকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে চলেছে। যতক্ষণ না ফিলিস্তিন-সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ পুরো ইসলামিক বিশ্বকে এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। খাজা আসিফের এই নতুন হুমকির বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফের দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সে সময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইসলামাবাদের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারী কোনো দেশের মন্ত্রীর মুখে ইসরায়েল ধ্বংসের এমন ডাক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। উল্লেখ্য, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে ইসলামাবাদ। এদিকে, শনিবার এক পৃথক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা কার্যত ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫-এর মতো একটি যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এর অর্থ হলো, এই তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি জানান, আঙ্কারা, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের এই জোটে ন্যাটোর আদলে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠিত হবে এবং এর প্রধান সচিবালয় থাকবে সৌদি আরবে। কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হলে মিসরও এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে জানান তিনি। প্রায় দুই বছর আট মাসের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই জোটটি ন্যাটোর বিকল্প নয় এবং আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের জন্যও এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে আঙ্কারা নিশ্চিত করেছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সার্বিয়ায় প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই তার প্রথম সার্বিয়া সফর। সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন জেলেনস্কি। ইউরোপে মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে সার্বিয়ার অবস্থান বিবেচনায় এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে জেলেনস্কি ও সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও বক্তব্য দেবেন। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য, জেলেনস্কির এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো সার্বিয়াকে রাশিয়ার প্রভাববলয় থেকে দূরে নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে বেলগ্রেডের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন ভুচিচ। তার মতে, এ বিষয়ে সার্বিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং বর্তমান নীতিই অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের নিন্দা জানালেও মস্কোর বিরুদ্ধে কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি সার্বিয়া। বেলগ্রেডের এই অবস্থান দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়াকে জটিল ও দীর্ঘায়িত করছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।