পর্যটক ভিসায় পর্তুগালে যাওয়ার পর দেশটির ভেতর থেকেই পেশাগত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে বসবাসের অনুমতি নেয়ার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় দেশটির সরকার। বাংলাদেশসহ সকল দেশের জন্য এটি কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার উদ্দেশ্যে বসবাসের অনুমতি পেতে হলে আবেদনকারীকে নিজ দেশের পর্তুগিজ দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে আগেই প্রয়োজনীয় ভিসা নিতে হবে। ফলে পর্তুগালে প্রবেশের পর পর্যটক ভিসা পরিবর্তন করে শিক্ষাভিত্তিক রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করা যাবে না। খসড়া আইনটি এখন সংসদে পাঠানো হবে। সংসদে অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডিয়ারিও ডি নোটিসিয়াসের (ডিএন) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটক ভিসায় পর্তুগালে এসে পরে পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে বৈধভাবে থাকার আবেদন করছিলেন। সরকার মনে করছে, এই প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে ‘মেনিফেস্টাসাও ডি ইন্টারেস্ট’-এর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ, ব্রাজিল, ভারত, নেপালসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা পড়াশোনা, কাজ ও বসবাসের উদ্দেশ্যে পর্তুগালে যান। নতুন এই সিদ্ধান্তে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন থেকে পর্তুগালে পড়াশোনা বা পেশাগত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে যেতে হলে নিজ দেশ থেকেই সঠিক ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সহ তিন অঙ্গসংগঠনের জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ (শনিবার) বেলা পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়। দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মতবিনিময়ে সভাপতিত্ব করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আরও উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম মতবিনিময় সভা। রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘সভায় দলের নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের পরিকল্পনাগুলো নেতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হবে।'
দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সঠিক সিদ্ধান্তের পথ বেছে নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনারা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ আজ (শনিবার) সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে আয়োজিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের ২০তম ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বিচারকদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ুক। জনগণ আমাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আপনাদের বলতে চাই, যে বিষয়গুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সেগুলো এড়িয়ে চলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন। এ কাজে সরকারকে সবসময় আপনাদের পাশে পাবেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের একটা কথা সবসময় অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত। তিনি প্রায়ই বলেন, আমাদের কাজের জায়গাটা দায়িত্ববোধের এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার; জনপ্রিয়তার নয়। তাই সব ধরনের অবস্থায় সবসময় সঠিক পথটিই বেছে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমি প্রতি মুহূর্তে আমার সীমারেখা সম্পর্কে অবগত থাকি। যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনো কারণে কখনোই সঠিক সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে পিছিয়ে আসিনি, আসবোও না। কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব, বিচারকদেরও সচেতন থাকতে হবে। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটি না পারলে এই প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নেওয়া ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিনের যে সংগ্রাম এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার-সবই ব্যর্থ হবে। আগামী প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে সেই দায়ভার আমরা নিতে চাই না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (জেএটিআই) মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য, কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থী, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল এডমিনস্ট্রেশন এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এ পর্যন্ত ১২৮টি ফ্লাইটে মোট ৫০ হাজার ১১১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে। বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, আজ (শনিবার) সকাল ১০টা পর্যন্ত ১২৮টি ফ্লাইট জেদ্দায় অবতরণ করেছে। হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১২ জন হজযাত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী রয়েছে। হজযাত্রীদের ১০ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মারা গেছেন। বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি মেডিকেল টিম গতকাল পর্যন্ত ১৮ হাজার ৯৮৭ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে চিকিৎসা পেয়েছেন ১৩ হাজার ১১ জন হজযাত্রী। পরিচালক জানান, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে। এয়ারলাইন্স ভিত্তিক তথ্যে জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৫৯টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ৫৬৩ জন; সৌদি এয়ারলাইন্সের ৪৭টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৯২ জন এবং ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট ২৮ হাজার ২৬২ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সগুলোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১ টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হজ অফিসের তথ্যমতে, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৩৭৩টি ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৪টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯১৯টি ভিসা দেওয়া হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬শে মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সহ তিন অঙ্গসংগঠনের জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ (শনিবার) বেলা পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়। দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মতবিনিময়ে সভাপতিত্ব করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আরও উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম মতবিনিময় সভা। রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘সভায় দলের নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের পরিকল্পনাগুলো নেতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হবে।'
চতুর্থবারের মত লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুর রহমান। অ্যাসপায়ার পার্টির প্রার্থী লুৎফুর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলামকে প্রায় ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে নিবার্চনে বিজয়ী হয়েছেন। লুৎফুর পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট, আর লেবার প্রার্থী পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট। লুৎফুর রহমান যুক্তরাজ্যের কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রথম বাঙালি ও মুসলমান মেয়র। ২০১০ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০১৪, ২০২২ সালেও মেয়র নির্বাচিত হন। বৃহস্পতিবার লন্ডনের ৩২টি বারা কাউন্সিলে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে পাঁচটি কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে নির্বাহী মেয়র ও কাউন্সিল নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস ছাড়াও পাশের বারা নিউহ্যামে প্রথম বাঙালি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টির ফরহাদ হোসেন। স্থানীয় কাউন্সিলের নির্বাচনে এবার পুরো ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভরাডুবি ঘটিয়ে সবচেয়ে বেশি কাউন্সলর পদ জিতে নিয়েছে ডানপন্থি নতুন দল রিফর্ম ইউকে। প্রধান দুটি দল লেবার পার্টি ও কনজারভেটিভ পার্টি এখন রিফর্ম ইউকের উত্থানে শঙ্কিত। চতুর্থবারের মত মেয়র নির্বাচিত হয়ে বারার বাসিন্দাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাকে পুনর্নির্বাচিত করায় টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণকে ধন্যবাদ। আমরা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় যুগান্তকারী সহায়তা এবং সাশ্রয়ী ও সামাজিক আবাসন নির্মাণের রূপান্তরমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। আশা ও ঐক্যের রাজনীতিকে ভয় ও বিভেদের রাজনীতির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। তিনি বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসে আমরা গর্ব করি যে এটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ এলাকাগুলোর একটি। আমরাই দেশের প্রথম কাউন্সিল যারা সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর জন্য সার্বজনীন ফ্রি স্কুল মিল চালু করেছি, এবং জাতীয় সরকারের কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত উল্টে দিয়েছি। লুৎফুর রহমান বলেন, আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমি আশা করি আজ নির্বাচিত নতুন প্রগতিশীল প্রশাসনগুলো আমাদের পথ অনুসরণ করবে, একই ধরনের রূপান্তরমূলক নীতি গ্রহণ করবে এবং আমাদের কমিউনিটির জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনতে একসঙ্গে কাজ করবে। লুৎফুর রহমান তার নির্বাচনি ইশতেহারে কিছু নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে কম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ট্র্যাভেল পাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে টাওয়ার হ্যামলেটস হবে দেশের প্রথম কাউন্সিল যারা এমন উদ্যোগ নেবে। এর আগে লুৎফুরের প্রশাসন দেশের প্রথম কাউন্সিল হিসেবে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর জন্য সার্বজনীন ফ্রি স্কুল মিল চালু করে। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কাউন্সিল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন’ এর নেটওয়ার্কে ব্যবহারের উপযোগী ট্র্যাভেল পাসের অর্থায়ন করবে। বর্তমানে লন্ডনে শুধু ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় নির্ধারিত আয়সীমার নিচে থাকা পরিবারের সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে।
পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূলে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা এবং বিমানবাহিনীর যৌথ তত্ত্বাবধানে এ পরীক্ষা পরিচালিত হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার প্রথম ফ্লাইট ট্রায়াল সফল হয়েছে। এটি ভারতের নিজস্বভাবে তৈরি এমন একটি প্রযুক্তি, যা সাধারণ বোমাকেও অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপ দিতে পারে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নি-৬ নামে ঘোষণা না করা হলেও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র শ্রেণির। এর পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছেই ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রয়েছে। ভারত এ সক্ষমতা পুরোপুরি অর্জন করতে পারলে বিশ্বের প্রায় যেকোনো অঞ্চল তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসবে। সম্প্রতি এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাত বলেন, সরকার অনুমোদন দিলেই অগ্নি-৬ কর্মসূচি এগিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগ্নি-৬ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, বহুমুখী ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশকে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর কাতারে নিয়ে যাবে। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও কিছু খাত ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বিপুল আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। তেল-গ্যাস কোম্পানির আয় বৃদ্ধি: বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবাহিত হয়। এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে বড় ওঠানামা দেখা দিয়েছে। এর সুযোগে ইউরোপীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো রেকর্ড মুনাফা করছে। প্রথম প্রান্তিকে ব্রিটিশ কোম্পানি বিপি ৩.২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ট্রেডিং বিভাগে শক্তিশালী পারফরম্যান্স এ আয়ের প্রধান কারণ। একই সময়ে শেলের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং টোটালএনার্জিস আয় করেছে ৫.৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে মার্কিন জায়ান্ট এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় কিছুটা কমলেও বাজার প্রত্যাশার তুলনায় ভালো ফল করেছে। অস্থির বাজারে ব্যাংকগুলোর রেকর্ড মুনাফা: যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বড় ব্যাংকগুলোও ব্যাপক আয় করছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন, ফলে ট্রেডিং কার্যক্রম বেড়েছে। জেপি মরগানের ট্রেডিং বিভাগ একাই ১১.৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে অন্যতম বড় আয়। ব্যাংক অব আমেরিকা, সিটিগ্রুপ, মরগান স্ট্যানলি ও গোল্ডম্যান স্যাকসসহ প্রধান মার্কিন ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফা প্রায় ৪৭.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে বাড়ছে চাহিদা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সামরিক খাতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো নতুন অর্ডার পাচ্ছে। লকহিড মার্টিন, বোয়িং, নর্থরপ গ্রুম্যান এবং বিএই সিস্টেমসের মতো কোম্পানিগুলো বড় অর্ডার ব্যাকলগের তথ্য দিয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতের কিছু শেয়ারের দামে সামান্য পতনও দেখা গেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন গতি: জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিকল্প শক্তির দিকেও আগ্রহ বাড়িয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেক্সটএরা এনার্জির শেয়ার প্রায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপের ভেস্টাস ও অরস্টেডও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যের অক্টোপাস এনার্জি জানিয়েছে, তাদের সৌর প্যানেল ও হিট পাম্প বিক্রি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও চাহিদা বাড়ছে, যেখানে চীনা নির্মাতারা দ্রুত সুবিধা নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত শুধু স্বল্পমেয়াদি বাজার অস্থিরতাই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির শক্তির ভারসাম্যেও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিছু খাত ক্ষতির মুখে পড়লেও অন্যদের জন্য এটি তৈরি করছে বিলিয়ন ডলারের নতুন সুযোগ।
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ ও জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপারনিকাস সেন্টিনেল-১, সেন্টিনেল-২ ও সেন্টিনেল-৩ স্যাটেলাইটে ৬ থেকে ৮ মে’র মধ্যে ধারণ করা ছবিতে খার্গ দ্বীপের পশ্চিমে বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ধূসর-সাদা রঙের একটি স্তর দেখা গেছে। পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির গবেষক লিওন মোরল্যান্ড জানিয়েছেন, ছবিতে দেখা স্তরটির আকৃতি তেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর বিস্তৃতি প্রায় ৪৫ বর্গকিলোমিটার হতে পারে। জলবায়ু ও জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থা ডাটা ডেস্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা লুই গডার্ডও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হতে পারে। তবে কী কারণে এ তেল ছড়িয়ে পড়েছে বা কোথা থেকে এর উৎস, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন করে তেল নিঃসরণের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এর বেশিরভাগ তেল চীনে রপ্তানি করা হয়। যুদ্ধ চলাকালে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা দ্বীপটিতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূলে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা এবং বিমানবাহিনীর যৌথ তত্ত্বাবধানে এ পরীক্ষা পরিচালিত হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার প্রথম ফ্লাইট ট্রায়াল সফল হয়েছে। এটি ভারতের নিজস্বভাবে তৈরি এমন একটি প্রযুক্তি, যা সাধারণ বোমাকেও অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপ দিতে পারে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নি-৬ নামে ঘোষণা না করা হলেও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র শ্রেণির। এর পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছেই ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রয়েছে। ভারত এ সক্ষমতা পুরোপুরি অর্জন করতে পারলে বিশ্বের প্রায় যেকোনো অঞ্চল তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসবে। সম্প্রতি এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাত বলেন, সরকার অনুমোদন দিলেই অগ্নি-৬ কর্মসূচি এগিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগ্নি-৬ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, বহুমুখী ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশকে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর কাতারে নিয়ে যাবে। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ ও জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপারনিকাস সেন্টিনেল-১, সেন্টিনেল-২ ও সেন্টিনেল-৩ স্যাটেলাইটে ৬ থেকে ৮ মে’র মধ্যে ধারণ করা ছবিতে খার্গ দ্বীপের পশ্চিমে বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ধূসর-সাদা রঙের একটি স্তর দেখা গেছে। পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির গবেষক লিওন মোরল্যান্ড জানিয়েছেন, ছবিতে দেখা স্তরটির আকৃতি তেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর বিস্তৃতি প্রায় ৪৫ বর্গকিলোমিটার হতে পারে। জলবায়ু ও জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থা ডাটা ডেস্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা লুই গডার্ডও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হতে পারে। তবে কী কারণে এ তেল ছড়িয়ে পড়েছে বা কোথা থেকে এর উৎস, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন করে তেল নিঃসরণের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এর বেশিরভাগ তেল চীনে রপ্তানি করা হয়। যুদ্ধ চলাকালে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা দ্বীপটিতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সব ধরনের পদক্ষেপের পথ খোলা রেখেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের বক্তব্যে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং এটি দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। এদিকে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী। চীন সফরের আগে তিনি উত্তেজনা কমানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প মনে করছেন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতাকে তিনি রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব বিকল্পই বিবেচনায় রাখছেন। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, চলমান আলোচনায় দ্রুত চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ভয়াবহ হামলা চালানো হতে পারে। তবে পরে তিনি হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সাময়িকভাবে থামাতে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। ৯ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এ জন্য তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ধন্যবাদ জানান। ট্রাম্প বলেন, এই তিন দিনে দুই পক্ষ সব ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে। পাশাপাশি উভয় দেশ ১ হাজার করে মোট ২ হাজার যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেবে। নিজের পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, রাশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে এই সময়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে ইউক্রেনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘ ও প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসানের সূচনা হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিকে সবচেয়ে বড় যুদ্ধগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি জানান, যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিদিন সমাধানের দিকে অগ্রগতি হচ্ছে। ট্রাম্পের ঘোষণার কিছু সময় পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও নিশ্চিত করেন যে, ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তাব কিয়েভ গ্রহণ করেছে। প্রসঙ্গত, ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা এবং ক্রিমিয়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে টানা সংঘাত চলছে। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।