সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন শিশুসহ ৩৩ বাংলাদেশি

ভারতে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। সাজাভোগ শেষে বিভিন্ন সেফ হোমের হেফাজতে ছিলেন তারা। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হল। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের নিকট উদ্ধারকৃত এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।  এছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোলে কর্মরত শফিকুল ইসলাম জানান, দালালের মাধ্যমে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে ভারত বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেখান থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।  বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুদের কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
এবার হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

নিজেদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা এই হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। খবর আলজাজিরা। রবিবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হলে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে’ বন্ধ করে দেওয়া হবে।স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হবে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের যেসব কম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। আইআরজিসি আরো জানায়, এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি পার হতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইরান বলছে, হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ হরমুজ পার হতে পারবে না। পার হতে গেলে হামলা চালানো হবে। এদিকে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে ন্যাটো মিত্রদের সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু অধিকাংশ দেশ বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে প্রস্তুত নয়।

২ ঘন্টা আগে
কষ্টের জয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল বার্সেলোনা

স্প্যানিশ লা লিগায় কষ্টের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে আজ কাতালান ক্লাবটি ১-০ গোলে হারিয়েছে রায়ো ভায়েকানোকে। এর ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানটাকে আরও শক্ত করেছে বার্সেলোনা। বার্সেলোনার জয়ের নায়ক রোনাল্ড আরাউহো। ম্যাচের প্রথমার্ধে তার গোলেই প্রথম এগিয়ে যায় কাতালান ক্লাবটি। এরপর আর কোন গোল না হলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। গত অগাস্টে এই রায়ো ভায়েকানোর কাছেই মৌসুমের প্রথম হোঁচট খেয়েছিল বার্সেলোনা। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এবারও বেশ চ্যালেঞ্জ জানাল ভায়েকানো। তবে কোনো ভুল করেনি হান্সি ফ্লিকের দল। ফলে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিক শিবির।

৩ ঘন্টা আগে
সালিশে চোর সাব্যস্ত করায় যা করলেন নারী

গলাচিপায় চুরির অপবাদ সইতে না পেরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক নারী গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেরোববার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে। সূত্র জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম দীর্ঘ দিন যাবত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ছেলে ও ছেলে স্ত্রী নিয়ে বসবাস করত। মাস দুয়েক আগে বেড়িবাঁধে সংস্কার কাজের জন্য উচ্ছেদ হয়ে পাশে ঝুপড়ি দিয়ে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে থেকে পাশের বাড়ির আল আমীন মাস্টারের ঘরের বারান্দায় রাতে ঘুমাতেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওই ঘর থেকে আলমগীরের স্ত্রীর ১২ আনা স্বর্ণ ও ৪ ভরি রুপার গহনা হারায়। এ ঘটনায় আলমগীর ও তার পরিবার সেলিনা বেগমকে সন্দেহ করে ওই দিন  সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন সিরাজুল সিকদারের বাড়িতে সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশ বৈঠকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাল পড়া খাওয়ায়ে সেলিনাকে চোর সাব্যস্ত করা হয়। সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলাম (২২) অভিযোগ করে বলেন, সালিশ বৈঠকে জসিম খান, রিয়াজ খান, নেওয়াজ সিকদার, মিজান সিকদার, শামীম সিকদারসহ ৪-৫ জন আমার মাকে মারধর করে চাল পড়া খাওয়ায়ে স্বীকারোক্তি নিয়ে ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে আমার মা, আমার স্ত্রী ও আমার স্বাক্ষর নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী নুরজাহান বেগম (৫৫) জানান, সিকদার বাড়ির লোকজন সেলিনাকে মারধর ও প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলার ভয় দেখায়। ওই এলাকার বাসিন্দা মোশারফ মুন্সি (৫৫) জানায়, দীর্ঘ দিন যাবত সেলিনা অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলেকে নিয়ে সংসার পরিচালনা করত। কখনো শুনি বা দেখিনি সেলিনা চুরি করেছে। সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলামের স্ত্রী সারমিন আক্তার জানায়, আমরা পাশের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোর পৌনে ৬টার দিকে শাশুড়ি আমার স্বামীর ফোনে মিস কল দেয়। ফোনে টাকা না থাকায় আমরা ঘরে এসে দেখি মারা গেছে। সালিশদারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুরি হাওয়া সোনা ও রুপা আজকে দেওয়ার কথা ছিল। আমার শাশুড়ি চুরির অপবাদ সইতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে। সালিশদার সিরাজুল সিকদার ৩শ টাকার স্ট্যাম্প রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, সেলিনাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। চুরি হওয়া সোনার মালিক আলমগীর মাস্টার জানায়, ১৭ মার্চ থেকে আমার স্ত্রীর কিছু গহনা হারিয়েছে। আমি স্থানীয় লোকজনকে চুরির বিষয় জানালে তারা সেলিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেলিনা চুরির বিষয় স্বীকার করে, আজকে চুরির মালামাল ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

৩ ঘন্টা আগে
ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী
সাইপ্রাসে যুদ্ধ ও বেকারত্বে বিপর্যস্ত বাংলাদেশিরা!

ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে এবারের ঈদুল ফিতরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে বিরাজ করছে যুদ্ধ আতঙ্ক আর চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে দেশটিতে পাড়ি জমানো হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এবারের ঈদ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম।   ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাইপ্রাস এখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কেন্দ্রে। ইরান থেকে মাত্র ১২০০ কিলোমিটার দূরত্বের এই দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি প্রবাসীদের মনে যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনায় স্থানীয় সিপ্রিয়টদের পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাংলাদেশিরাও। হামলার পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও থমথমে ভাব কাটেনি জনমনে। গত এক-দুই বছরে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাইপ্রাসে গিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় সেখানে কাজের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সিপ্রিয়টরাই যেখানে কাজ পাচ্ছে না, সেখানে প্রবাসী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেকেরই খাবারের টাকা পর্যন্ত এখন দেশ থেকে আনতে হচ্ছে। আক্ষেপ করে শিহাব শাহীন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘৮ মাস হলো আসছি। না পাইলাম জব, না পাইলাম শান্তি। পরিবার ছেড়ে এখানে এসে জীবন যেন থমকে গেছে।’ আরেক প্রবাসী রনি জানান, সারারাত ডিউটি শেষে অসুস্থ স্ত্রীর জন্য হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করাই এখন তার প্রবাস জীবন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো সাইপ্রাসে ঈদের কোনো সরকারি ছুটি বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নেই। শহরের বাইরে মসজিদের অভাবে আজান পর্যন্ত শোনা যায় না। কাজের চাপে অনেক প্রবাসী ১০ বছরেও একবার ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি। মিরাজ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, হাজার অনুরোধ সত্ত্বেও তার মালিক তাকে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেননি। সাইপ্রাসের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ থেকে নতুন কাউকে শুধু টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় মিডিয়াতেও মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব নিয়ে কোনো প্রচার না থাকায় প্রবাসীরা নিজেদের চরম একা ও অবহেলিত বোধ করছেন। সব মিলিয়ে যুদ্ধ আতঙ্ক, কর্মসংস্থান সংকট আর ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধার কারণে সাইপ্রাসে প্রবাসীদের এবারের ঈদ যেন এক বিষাদময় অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২২, ২০২৬ 0

ছবি : সংগৃহীত
কাতারে ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা—৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু!

কাতারে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন তুরস্কের নাগরিক।   তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন তুর্কি সেনা সদস্য এবং দুজন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেলসানের নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন। বাকি চারজন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। রোববার ভোরে কাতার জানায়, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। শুরুতে ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজের কথা জানানো হয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযান শেষে মোট সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে এখনো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি বলে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কাতার কর্তৃপক্ষ। সূত্র : আলজাজিরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়। তদন্তের মাধ্যমে এ সব দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ অবিলম্বে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।   রোববার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘পবিত্র ঈদ উদযাপনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং উদ্বেগজনক। প্রতিটি জীবন মূল্যবান। প্রতিটি মৃত্যুই অপূরণীয় ক্ষতি। আমি মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। হতাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনো শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ করতে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ ইতোমধ্যে তিনি দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার জন্য দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি। উল্লেখ্য, কুমিল্লায় রেল দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অপর কমিটি গঠন করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি তদন্ত কমিটিকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ইতোমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী, হবিগঞ্জ, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ । আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

দুর্ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় ট্রেন-বাস দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ভয়াবহ ট্রেন ও বাস দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।   দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে গেটম্যানের সঙ্গে মেইল ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে চিহ্নিত করেছেন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান হেলাল উদ্দিনসহ দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কুমিল্লা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক একজন গেটম্যান সিগন্যালের কাজে নিয়োজিত থাকেন। রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না গেটম্যানের। গেটম্যান বেড়িয়ার না ফেলানোর কারণে মামুন পরিবহন নামের বাসটি সোজা রেলক্রসিংয়ে উঠে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনায় মারা যান ১২ জন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেন লালমাই ক্রস করার সঙ্গে সঙ্গে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সিগন্যাল পেয়ে থাকেন। তখন ওই গেটম্যান বেড়িয়ার ফেলে সিগন্যাল দিয়ে দেয়। কিন্তু ঢাকা মেইল ট্রেনের সঙ্গে গেটম্যানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা গেটম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজতে আমরা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু রেজা হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রোববার ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামে একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে একে একে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, দেশেও কমার সম্ভাবনা?

বিশ্ববাজারে একদিনে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ পতন হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ‌‘গোল্ডপ্রাইস’ এ তথ্য জানিয়েছে।   সবশেষ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১০৮ দশমিক ৮৩ ডলার কমে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে। সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।   সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : রয়টার্স
এবার হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
মারিয়া রহমান মার্চ ২২, ২০২৬ 0

নিজেদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা এই হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। খবর আলজাজিরা। রবিবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হলে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে’ বন্ধ করে দেওয়া হবে।স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হবে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের যেসব কম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। আইআরজিসি আরো জানায়, এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি পার হতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইরান বলছে, হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ হরমুজ পার হতে পারবে না। পার হতে গেলে হামলা চালানো হবে। এদিকে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে ন্যাটো মিত্রদের সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু অধিকাংশ দেশ বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে প্রস্তুত নয়।

কাতারের জলসীমায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৬, নিখোঁজ ১
আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0

কাতার-এর জলসীমায় একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন, তাকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   রোববার (২২ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটিতে মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।   প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল তৎপর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
‘শত্রু জাহাজ’ ছাড়া সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত: ইরান
আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালি শত্রু দেশগুলোর জাহাজ ছাড়া অন্যান্য সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। রোববার (২২ মার্চ) জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আলি মৌসাভি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে এমন অবস্থান জানানো হলো।   ইরানের প্রতিনিধি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। যেসব জাহাজের সঙ্গে ইরানের শত্রুদের সম্পৃক্ততা নেই, তারা নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।   তবে অন্য দেশের জাহাজগুলোকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, প্রণালি ব্যবহারের আগে ইরানকে অবহিত করতে হবে।   ইরানি এই কূটনীতিক আরও বলেন, কূটনৈতিক সমাধানেই বিশ্বাস করে ইরান। তবে উত্তেজনা কমাতে হলে আগে সব ধরনের হামলা বন্ধ এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি জরুরি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সামরিক পদক্ষেপ দায়ী।   সূত্র: রয়টার্স

ছবি : সংগৃহীত
একদিনেই দুই সুর, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় অবস্থান
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২২, ২০২৬ 0

ইরানের বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকির পর কিছুটা সুর নরম করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এমন সময়ে তিনি এ কথা বললেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   এদিকে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসেও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসরায়েলের বেনগুরিয়েন বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাংকার ও রিফুয়েলিং উড়োজাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে মধ্য ইসরায়েলেও। এ ছাড়া ইরানের আকাশসীমায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিশানা করা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে তেল আবিব।   চলমান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে বারবার মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারের কাছাকাছি গেলে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। যদিও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ‘সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত’ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলায় চালায় ইরান। এতে আবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৫ ডলারের কাছে গিয়ে ঠেকে।   এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধবিরতি করতে চাই না। যখন আপনি আক্ষরিক অর্থেই প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন আপনি যুদ্ধবিরতি চাইবেন না।’   কিন্তু গভীর রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। ইরানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মহান সামরিক চেষ্টা গুটিয়ে নেওয়ার কথা আমরা বিবেচনা করছি।’   এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন, যখন ওই অঞ্চলে স্থল অভিযানে পারদর্শী আরও তিনটি মার্কিন উভচর জাহাজ এবং প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের খারগ দ্বীপ দখল বা অবরোধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে বাধ্য করা।   এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার তীব্রতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে’ বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মূল্যায়ন সভায় তিনি বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের ওপর থেকে প্রতিটি নিরাপত্তা হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যেতে, কমান্ডারদের নির্মূল করতে এবং তাদের কৌশলগত সক্ষমতা নস্যাৎ করতে ইসরায়েল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।’   ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন হুমকির মধ্যেই ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় দ্বিতীয়বারের মতো হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে ইরান। এ ছাড়া পারস্য উপসাগরে বেসামরিক কার্গো জাহাজ এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম হরমোজগান প্রদেশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, এ হামলায় ১৬টি ব্যক্তিমালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের আট হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩০টি যুদ্ধজাহাজকে নিশানা করা হয়েছে।   এদিকে এসব হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। এই প্রথম ভারত মহাসাগরে ডিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দেশটি। ইরান থেকে এই দ্বীপের দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। অথচ ইরান এত দিন দাবি করে আসছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার।   ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। কয়েক ডজন ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরবও। ইরাকে মার্কিন ঘাঁটির লজিস্টিক সাপোর্ট কেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। এ ছাড়া ইরান-সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর রকেট হামলায় ইসরায়েলে দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   অব্যাহত হামলা এবং যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন চিন্তাভাবনার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাপানের কিয়োডো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা হলো, এই যুদ্ধ আমাদের নয়। এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো, আমরা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করব না। কারণ, আমরা গত বছরের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাই না। যুদ্ধ অবশ্যই সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে হবে। এই পরিস্থিতির আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকতে হবে।’   ইরানের পাশে আছে রাশিয়া: পুতিন এদিকে ইরানের নেতাদের নওরোজ বা ফারসি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া এক বার্তায় শনিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তেহরানের পাশে রয়েছে মস্কো। ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের জনগণকে এই কঠোর পরীক্ষা সসম্মানে কাটিয়ে ওঠার শুভকামনা জানিয়েছেন।   ক্রেমলিন জানায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে এবং একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট তৈরি করেছে। পুতিন একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।   রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি রয়েছে। তবে এর প্রকাশিত নথিপত্রে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ নেই। এ ছাড়া রাশিয়া বারবার বলে আসছে, পারমাণবিক বোমা তৈরি করুক, তা চায় না ইরান।   ইরানি তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল জ্বালানি তেলের দামে ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এ ঘোষণার পর ভারতসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলো আবারও ইরানি তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।   ভারতের তিনটি রিফাইনারি (তেল শোধনাগার) সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির মতো বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।   জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে। অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ এই তেলের পরিমাণ ১৩-১৪ কোটি ব্যারেল বলে প্রাক্কলন করেছিল।   মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ হয়ে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ বিভিন্ন বিকল্প দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মধ্যে স্থল অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টিও তাঁর বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন তিনি। এ নিয়ে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই বিরোধিতা রয়েছে।   মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক নেভি সিল কর্মকর্তা ও উইসকনসিন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য ডেরিক ভ্যান ওরডেন সিএনএনকে বলেন, তিনি প্রশাসনকে বিশেষভাবে ইরানে স্থলসেনা না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন।   টেনেসি থেকে নির্বাচিত টিম বারচেটও একই সুরে বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের যত দ্রুত সম্ভব সরে আসার কৌশল (এক্সিট স্ট্র্যাটেজি) খুঁজে বের করা দরকার। আমি কোনোভাবেই সেখানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন চাই না।’   সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি