সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
রিজার্ভ চুরি: ৩ সাবেক গভর্নরের নথি তলব দুদকের

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির আলোচিত ঘটনার অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগটির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তিন সাবেক গভর্নরের কার্যক্রম ও তাদের ব্যক্তিগত নথি চেয়ে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিন সাবেক গভর্নর হলেন ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আবদুর রউফ তালুকদার। বুধবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, রিজার্ভ চুরির অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ওইসব নথি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনাসহ ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়মের দুর্নীতি সম্পর্কিত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। রিজার্ভ চুরির নথিসহ ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সব ধরনের নীতিগত ও ঋণসংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। রিজার্ভ চুরির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টেকনিক্যাল দায়িত্বে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিক সম্পর্কিত নথিপত্রও পাঠাতে বলা হয়েছে।  আকতারুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত কপি, এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন সংক্রান্ত নথিসহ আরও কিছু অনিয়মের নথি চাওয়া হয়েছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহা সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপিও পাঠাতে বলেছে দুদক। তিনি আরও বলেন, একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়, এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে নগদ সহায়তা প্রদান ও বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার নামে বেআইনি ঋণ সুবিধাসহ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে দুদকের কাছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, রণজিৎ কুমার কর্মকার ও উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ একটি টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে।

৫০ মিনিট আগে
ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে তৎপরতা, সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে উচ্চপর্যায়ের দল

রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে ঢাকার চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগে গতি এসেছে। এ লক্ষ্যে বিকল্প বাস টার্মিনাল ও অস্থায়ী বাস ডিপোর জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শুরু করেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে এ পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত ১৫ জুন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে অনুষ্ঠিত রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসংক্রান্ত এক সভায় ঢাকার চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবারের পরিদর্শনে অংশ নেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভিন, ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য বাস টার্মিনাল ও অস্থায়ী বাস ডিপোর জন্য পূর্বাচল ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন চুনকুটিয়া, জেলখানার বিপরীতে বাঘাইর-তেঘরিয়া আন্ডারপাস এলাকা, হাসনাবাদ (ইকুরিয়া), কাঁচপুর এবং ফুলবাড়িয়া এলাকা পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিদর্শনের পর উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে ধাপে ধাপে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর যানজট কমানো, আন্তঃজেলা বাস চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করা এবং নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

৫৬ মিনিট আগে
সংস্কার না হওয়ায় রাজপথে বিরোধী দল: জামায়াত আমির

সরকার গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার না করায় বিরোধী দল রাজপথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাবে বিরোধী দল। জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে আন্দোলন চলবে। বুধবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পাস হওয়া বাজেট জামায়াতের ছায়া বাজেটের কাছাকাছিই হয়েছে। বাজেটে প্রান্তিক ও মুদি দোকানের অগ্রিম করে ছাড়, সাইকেলের যন্ত্রাংশের করছাড়সহ বেশকিছু খাতে বিরোধী দলের প্রস্তাবনা সরকার মেনে নিয়েছে। উন্নত গণতন্ত্রের দেশগুলোর মতো বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রিসভা তৈরি করছে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সাংবিধানিক মর্যাদা না থাকলেও সারাবিশ্বে ছায়া মন্ত্রিসভা রয়েছে। তারা সরকারের কাজে নজর রাখবে। সময় হলেই তা প্রকাশ করা হবে। জামায়াত আমির বলেন, সংবিধান সংশোধনে গঠিত কমিটিতে বিরোধী দল অংশ নেবে না। সংবিধান সংশোধন আদালতের আওতায় পড়ে, কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সংস্কারের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। গনভোটে জনগণ সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে। শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে আলোচনা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত সমাধানে পৌঁছাতে হবে। বাংলাদেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি, নইলে দেশ বারবার পথ হারাবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও হাইকোর্ট বেঞ্চ বিকেন্দ্রীকরণের উদাহরণ তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে আদালতের রায়ে বিভিন্ন সাংবিধানিক সংশোধনী বাতিল হয়েছে। জনগণ সংস্কারের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে, সংশোধনের জন্য নয়।  জামায়াত আমির বলেছেন, নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে বলেছিলাম করমুক্ত গাড়ি ও প্লট নেবেন না জামায়াতের এমপিরা। কিন্তু বলা হচ্ছে, এমপিরা কেন ফ্ল্যাটে উঠেছেন। সংসদ সদস্য ভবনের ফ্ল্যাট এমপিরা যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই ব্যবহার করবে। এটাকে নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জলঘোলা করা হয়। মতবিনিময় সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

১ ঘন্টা আগে
আবারও বাড়ল অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা ফি, কার্যকর আজ থেকে

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ফি আরও বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। গতবছর বর্ধিত হারে ভিসা ফি নিলেও এই বছর তা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) থেকেই এই নতুন ফি কার্যকর হবে।  ২০২৫ সালের জুলাইয়ে স্টুডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) ২ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (১ হাজার ২৭৯ ডলার) পর্যন্ত বাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার সরকার। দেশটিতে অভিবাসনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয় শিক্ষা খাত। তার আগে শিক্ষার্থীদের ভিসা ফি বাবদ দিতে হতো ১ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলীয় ডলার। সেই বছরের জুলাই মাসে ৭১০ থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলিয়া ডলার ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়।  অস্ট্রেলিয়া সরকার এখন নতুন ভিসা ফি নির্ধারণ করেছে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এটি আজ ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে করে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ শিক্ষার খরচ আরও বাড়বে। কারণ নতুন ফি অনুযায়ী শুধু ভিসা ফি বাবদ প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে।  অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রধান ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন কোর্সে তালিকাভুক্ত হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার এবং পড়াশোনা করার সুযোগ পান। সাধারণত কোর্স শেষ হওয়া পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ৫ বছর) এই ভিসার মেয়াদ থাকে।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
১ জুলাই: কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা, যে আন্দোলন পরে রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে

আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত আন্দোলন নতুন গতি পায়। পরবর্তীতে সেই আন্দোলন বিস্তৃত হয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।   আন্দোলনের সূচনা: ২০২৪ সালের ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পরবর্তী কয়েক দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর আগে ৫ জুন হাইকোর্ট ২০১৮ সালের কোটা বাতিলসংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করলে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার এবং সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দাবি করেন।   দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন: ১ জুলাইয়ের কর্মসূচির পর আন্দোলন দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ এবং সমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। পরবর্তী সময়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি হয়। ধাপে ধাপে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় এবং শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।   সংঘাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধি: আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। পরবর্তীতে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন, ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ রাখা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে।   কোটা আন্দোলন থেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলন: শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের পরিধি ও দাবির ধরনে পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে এটি বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়।   ইতিহাসে ১ জুলাইয়ের তাৎপর্য: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ১ জুলাই একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, এই দিন থেকেই কোটা সংস্কারের দাবিতে সংগঠিত আন্দোলন এমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার সূচনা করেছিল, যা পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০১, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ধাওয়া খেয়ে কচুরিপানার নিচে আত্মগোপন, সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর ধরা পড়লেন চোর

রিশালের গৌরনদী উপজেলায় দোকানে চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে একটি খালের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে ছিলেন এক ব্যক্তি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পানির মধ্যে আত্মগোপন করেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের তল্লাশিতে ধরা পড়েন তিনি।   বুধবার (১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মাহিলাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামের একটি খাল থেকে সুজন হাওলাদার (৩২) নামে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার পার্শ্ববর্তী হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা।   স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের একটি দোকানের টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন সুজন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা চিৎকার করলে তিনি পালিয়ে পাশের খালে ঝাঁপ দেন এবং কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থাকেন।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার পরও তিনি শুধু নাক বাইরে রেখে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। পরে এলাকাবাসী খোঁজাখুঁজি চালিয়ে তাকে শনাক্ত করে উদ্ধার করেন।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং তাকে তার বড় ভাইয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়।   গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি: সংগৃহীত
সুইডেনে বাড়ছে দক্ষ মুসলিম পেশাজীবী, তবে সামনে রয়ে গেছে নানা সামাজিক চ্যালেঞ্জ

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের দক্ষিণে অবস্থিত সোডারটেলিয়া শহরে গত এক দশকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধি শরণার্থী প্রবাহের কারণে নয়; বরং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ মুসলিম পেশাজীবীদের স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার ফলেই এ পরিবর্তন এসেছে।   স্থানীয় ইসলামিক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ বছরে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত মুসলিম পরিবারের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ১০০ থেকে ৩০০-তে পৌঁছেছে। স্ক্যানিয়া ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রকৌশলী, গবেষক ও অন্যান্য পেশাজীবীরাই এ সম্প্রদায়ের সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখছেন।   কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নতুন বাস্তবতা: স্ক্যানিয়ার কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার আফিফ আসালি জানান, ২০০৮ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন শুরু হয় এবং ২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের পর এর গতি আরও বাড়ে। বর্তমানে অনেক মুসলিম পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয় মুসলিম সমাজও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আরেক প্রকৌশলী মোহাম্মদ অসীম ফিরোজ বলেন, সুসংগঠিত মুসলিম সমাজ ও ধর্মীয় পরিবেশের কারণেই তিনি সোডারটেলিয়াকে বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছেন। তার মতে, বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।   রাজনৈতিক বিতর্ক ও সামাজিক বাস্তবতা: সুইডেনে মুসলিমদের একীভূত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে দেশটির কিছু রাজনৈতিক মহলে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য নতুন নয়। তবে সোডারটেলিয়ার বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানকার মুসলিম পেশাজীবীরা কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছেন এবং পরিবার নিয়ে স্থানীয় সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।   ইসলামভীতি নিয়ে উদ্বেগ: স্থানীয় মুসলিম নেতারা বলছেন, মুসলিম সমাজের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের মধ্যে ইসলামভীতিও বেড়েছে। ঈদের জামাতের মতো বড় ধর্মীয় আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনাও সামনে এসেছে। অ্যাসোসিয়েশনের অপারেশন প্রধান দাউদ ওমর আলীর মতে, ধর্ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব থেকেই অনেক ক্ষেত্রে ভুল ধারণা ও অযৌক্তিক ভয় তৈরি হয়। তিনি বলেন, পারস্পরিক পরিচয় ও সংলাপ বাড়ানো গেলে এসব ভুল বোঝাবুঝি কমানো সম্ভব।   স্থায়ী ভিত্তি গড়ার লক্ষ্য: স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলো এখন শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, রমজানের আয়োজন আরও সুশৃঙ্খল করা এবং সমাজের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য, শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়—শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুইডিশ সমাজের একটি স্বাভাবিক ও স্থায়ী অংশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। বিশ্লেষকদের মতে, সোডারটেলিয়ার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে যে দক্ষ কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুসলিম কমিউনিটি সুইডেনে নতুন একটি বাস্তবতা তৈরি করছে। তবে এই অগ্রযাত্রার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, ইসলামভীতি মোকাবিলা এবং সফল একীভূতকরণ ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
এমবাপে–ওলিসের দাপটে ইতিহাস গড়ছে ফ্রান্স, বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড

ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় ও ১০ গোল করার পর শেষ ষোলোতেও সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিয়েছে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে কিলিয়ান এমবাপে ও মাইকেল ওলিসের ব্যক্তিগত কৃতিত্বের পাশাপাশি দল হিসেবেও একাধিক রেকর্ড গড়েছে ফ্রান্স।    এমবাপের বিশ্বকাপে নতুন উচ্চতা: সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হয়েছেন। এখন তার সামনে রয়েছেন শুধু লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা ১৯। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি এমবাপের চতুর্থ ম্যাচ, যেখানে তিনি একাধিক গোল করেছেন—যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া বিশ্বকাপে মোট সাতটি ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ডও এখন তার দখলে। বর্তমান আসরে এমবাপে ইতোমধ্যে ৬ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমান গোল করলেও অ্যাসিস্টের হিসেবে তিনি লিওনেল মেসির চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।   ওলিসের অ্যাসিস্টে ইতিহাস: ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৯৪ সালের পর এক আসরে এত বেশি অ্যাসিস্ট আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখনও ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে।   ফ্রান্সের একের পর এক রেকর্ড: সুইডেনকে হারানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার নজির গড়েছে ফ্রান্স, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। এছাড়া ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচ জিতে আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়েছে ফরাসিরা। ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রান্স মোট ৫৩টি গোল করেছে, যা এই সময়ে অংশ নেওয়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি।   দেশমের অনন্য অর্জন: ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের নবম জয় তুলে নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া কোচের রেকর্ড গড়েছেন।   এমবাপে-দেম্বেলে জুটির সাফল্য: চলতি বিশ্বকাপে এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে যৌথভাবে ছয়টি গোলে অবদান রেখেছেন। দেম্বেলের চারটি অ্যাসিস্টে গোল করেছেন এমবাপে, আর এমবাপের দুটি পাস থেকে গোল পেয়েছেন দেম্বেলে। গত ছয় দশকে বিশ্বকাপে কোনো জুটির এটি সর্বোচ্চ যৌথ গোল অবদান।   সুইডিশ গোলরক্ষকের লড়াই: স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত, যদি না সুইডেনের গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রম দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাতেন। ম্যাচে তিনি নয়টি সেভ করেন, যা গত ৬০ বছরে কোনো সুইডিশ গোলরক্ষকের বিশ্বকাপ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স এখন শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। এমবাপে ও ওলিসের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলটিকে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ

বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার এই কম্পনে পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা কেঁপে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর না মিললেও সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্পের বাড়তি তৎপরতার মধ্যে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) তথ্যটি নিশ্চিত করে জানায়, ভূমিকম্পটি এল প্রোগ্রেসো এলাকা থেকে ৭৫ কিলোমিটার (৪৬ দশমিক ৬ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার (৬ দশমিক ২ মাইল) গভীরে।   প্রাথমিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের তৎপরতা বেড়েছে।   সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত সমমাত্রার দুটি কম্পনকে ‘ডাবলেট’ বলা হয়, যা ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৪ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ৯৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বৈশ্বিক ভূকম্পন তৎপরতা বৃদ্ধির একটি ইঙ্গিত হতে পারে।   সূত্র : ফক্স ওয়েদার

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মোদীর মুখোশ পরে মোবাইলের দোকানে চুরির চেষ্টা, সিসিটিভি ভিডিও ভাইরাল
আক্তারুজ্জামান জুলাই ০১, ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখাবয়বের আদলে তৈরি একটি মুখোশ পরে মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির চেষ্টা করেছেন এক ব্যক্তি। ভারতের রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলার কারেদা থানার এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি লোহার রড দিয়ে দোকানের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মুখ ঢাকা ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীর মুখাবয়বসংবলিত একটি মুখোশে, যা সাধারণত রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।   তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও তালা ভাঙতে ব্যর্থ হন তিনি। পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পুরো ঘটনাটি দোকানের বাইরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়।   কারেদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুরণমল মিনা জানান, চুরির সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোদীর মুখোশ পরে থাকলেও আশপাশের অন্যান্য সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রকৃত মুখ দেখা গেছে। সেই ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।   পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার আগেই একই ব্যক্তিকে মুখোশ ছাড়া একই পোশাকে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরের আরেকটি মোবাইল ফোনের দোকানেও একই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। তবে দুটি ঘটনার সঙ্গে একই ব্যক্তি জড়িত কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এদিকে, ঘটনাটির সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।   সূত্র: পিটিআই

ছবি: সংগৃহীত
সুইডেনে বাড়ছে দক্ষ মুসলিম পেশাজীবী, তবে সামনে রয়ে গেছে নানা সামাজিক চ্যালেঞ্জ
আক্তারুজ্জামান জুলাই ০১, ২০২৬

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের দক্ষিণে অবস্থিত সোডারটেলিয়া শহরে গত এক দশকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধি শরণার্থী প্রবাহের কারণে নয়; বরং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ মুসলিম পেশাজীবীদের স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার ফলেই এ পরিবর্তন এসেছে।   স্থানীয় ইসলামিক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ বছরে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত মুসলিম পরিবারের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ১০০ থেকে ৩০০-তে পৌঁছেছে। স্ক্যানিয়া ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রকৌশলী, গবেষক ও অন্যান্য পেশাজীবীরাই এ সম্প্রদায়ের সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখছেন।   কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নতুন বাস্তবতা: স্ক্যানিয়ার কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার আফিফ আসালি জানান, ২০০৮ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন শুরু হয় এবং ২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের পর এর গতি আরও বাড়ে। বর্তমানে অনেক মুসলিম পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয় মুসলিম সমাজও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আরেক প্রকৌশলী মোহাম্মদ অসীম ফিরোজ বলেন, সুসংগঠিত মুসলিম সমাজ ও ধর্মীয় পরিবেশের কারণেই তিনি সোডারটেলিয়াকে বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছেন। তার মতে, বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।   রাজনৈতিক বিতর্ক ও সামাজিক বাস্তবতা: সুইডেনে মুসলিমদের একীভূত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে দেশটির কিছু রাজনৈতিক মহলে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য নতুন নয়। তবে সোডারটেলিয়ার বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানকার মুসলিম পেশাজীবীরা কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছেন এবং পরিবার নিয়ে স্থানীয় সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।   ইসলামভীতি নিয়ে উদ্বেগ: স্থানীয় মুসলিম নেতারা বলছেন, মুসলিম সমাজের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের মধ্যে ইসলামভীতিও বেড়েছে। ঈদের জামাতের মতো বড় ধর্মীয় আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনাও সামনে এসেছে। অ্যাসোসিয়েশনের অপারেশন প্রধান দাউদ ওমর আলীর মতে, ধর্ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব থেকেই অনেক ক্ষেত্রে ভুল ধারণা ও অযৌক্তিক ভয় তৈরি হয়। তিনি বলেন, পারস্পরিক পরিচয় ও সংলাপ বাড়ানো গেলে এসব ভুল বোঝাবুঝি কমানো সম্ভব।   স্থায়ী ভিত্তি গড়ার লক্ষ্য: স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলো এখন শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, রমজানের আয়োজন আরও সুশৃঙ্খল করা এবং সমাজের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য, শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়—শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুইডিশ সমাজের একটি স্বাভাবিক ও স্থায়ী অংশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। বিশ্লেষকদের মতে, সোডারটেলিয়ার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে যে দক্ষ কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুসলিম কমিউনিটি সুইডেনে নতুন একটি বাস্তবতা তৈরি করছে। তবে এই অগ্রযাত্রার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, ইসলামভীতি মোকাবিলা এবং সফল একীভূতকরণ ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
রাজস্থানে এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ বাস-ট্রেইলার সংঘর্ষ, আগুনে নিহত ৭
আক্তারুজ্জামান জুলাই ০১, ২০২৬

ভারতের রাজস্থানে দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি স্লিপার বাস ও ট্রেইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে দৌসা জেলার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরগামী বাসটি রাত প্রায় আড়াইটার দিকে একটি ট্রেইলারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পরপরই বাস ও ট্রেইলার—উভয় যানবাহনেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে দুটি যানবাহন এবং ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন।   কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় বাসের ওপরের তলায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নিচে ছিটকে পড়েন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে এবং দুজন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রাণ হারান।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। খবর পেয়ে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে। আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তাদের দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালকের তন্দ্রা বা ঘুমিয়ে পড়া এবং অতিরিক্ত গতি—দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।   এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করায় আগুনে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।   স্থানীয়দের আরও দাবি, বাসের লাগেজ রাখার অংশে বিপুল পরিমাণ সিগারেটের প্যাকেট থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

ছবি: সংগৃহীত
আলোচনায় অগ্রগতি না হলেও যুক্তরাষ্ট্র অনড় থাকবে: জেডি ভ্যান্স
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলেও যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন অবশ্যই চায় আলোচনা সফল হোক, তবে আলোচনা ভেস্তে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইরানের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত থাকবে।   ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান কোনো ধরনের হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জবাব দেবে, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।   ভ্যান্স আরও বলেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে যদি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়, তাহলে ইরান স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হবে।   এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে এবং ইরানের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি