সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
ভারতে যুদ্ধবিমান নিখোঁজ

  আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটি জোরহাট থেকে উড্ডয়ন করেছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি শেষবার রাডারে দেখা গেছে রাত ৭টা ৪২ মিনিটে। বিমানটি খুঁজে বের করতে একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।  এসইউ-৩০ এমকেআই হলো ১৯৮০-এর দশকে রাশিয়ার উন্নত বিশেষ সংস্করণের যুদ্ধবিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর মূল শক্তি হিসেবে কাজ করে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একাধিক স্কোয়াড্রন এই বিমান ব্যবহার করছে। রাশিয়ায় তৈরি এই বিমান প্রথম ১৯৯৭ সালে ভারতে পৌঁছায়। হিন্দুস্থান এয়ারক্রাফটস লিমিটেড এই বিমানের উৎপাদন করছে। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ২৫০টিরও বেশি এসইউ-৩০ বিমান রয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি

২ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশের বিপক্ষে বাবরকে না রাখায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটার

  টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখনো শেষ হয়নি। তবে বিদায় ঘণ্টা আগেই বেজেছে পাকিস্তানের। তাই বলে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই আফ্রিদিদের। কেননা, শিগগিরই যে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আগামী ৮ মার্চ বাংলাদেশ সফর করবে পাকিস্তান। সিরিজটি সামনে রেখে বুধবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বেশ কজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সঙ্গে সফর থেকে বাদ পড়েছেন বাবর আজম। ৩১ বছর বয়সী ব্যাটারের বাদ পড়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফ। ইউসুফের মতে, এমন অর্থহীন সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে কারা। বাদ পড়ায় বাবরের পাশে দাঁড়ালেও সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপে তার সুযোগ পাওয়াটা অবশ্য অবাক করেছে সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটারকে। বাবরকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে ৫১ বছর বয়সী সাবেক ব্যাটার লিখেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাবর আজমের সুযোগ পাওয়া ছিল চমক জাগানিয়া। তবে এখন তার বাদ দেওয়াটাও কম বিস্ময়কর নয়। এমন অর্থহীন সিদ্ধান্তগুলো কারা নিচ্ছে।’ টি-টোয়েন্টি সংস্করণে স্ট্রাইকরেটের কারণে অনেকদিন ধরেই সমালোচনার মুখে ছিলেন বাবর। তারপরেও হঠাৎই বিশ্বকাপে সুযোগ পান। তবে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। উল্টো টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৯১ রান করে নিজের সমালোচনা করার জায়গা আরও দিয়েছেন বাবর। তবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বাজে ফর্মের কারণে ওয়ানডে থেকে বাদ পড়াটা বাবরের ওপর যেন বেশিই জুলুম হয়েছে। কেননা ওয়ানডেতে ছন্দেই আছেন তিনি। সর্বশেষ তিন ওয়ানডের একটিতে ১০২ রানে অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। এর বাইরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১ম ও শেষ ওয়ানডেতে করেছেন যথাক্রমে ২৯ ও ৩৪ রান। এ জন্যই হয়তো নির্বাচকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইউসুফ।

২ ঘন্টা আগে
টঙ্গী বাজারের রাবেয়া মার্কেটে আগুন

  গাজীপুরের টঙ্গী বাজারের রাবেয়া মার্কেটে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার পর পর এই আগুনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ১২টার দিকে টঙ্গী বাজারের রাবেয়া মার্কেটে হঠাৎ আগুন লাগে। আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা যার যার মতো করে সাধ্যমতো আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত পৌনে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

২ ঘন্টা আগে
একযোগে এনসিপির সাত নেতার পদত্যাগ

  রাঙামাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাতজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পদত্যাগপত্র ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করে। পদত্যাগ করা নেতারা হলেন- রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব উজ্জল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা ও মিশন চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রনয় বিকাশ চাকমা এবং সদস্য বিনয় চাকমা ও সুলেখা চাকমা। পদত্যাগকারী নেতারা তাদের লিখিত পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। এতে দলীয় কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে তারা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এনসিপির আদর্শ ও অবস্থানের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান আর সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছেন না। পদত্যাগপত্রে রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব উজ্জল চাকমা লেখেন, অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শুরুতে দলটিকে বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মনে হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একটি বৃহৎ দলের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তে দলটি তার স্বতন্ত্র আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এ অবস্থায় ওই আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তিনি দল ও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও বিদ্যুৎ ব্যবহারকে সাশ্রয়ী করতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দফতরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫.১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন। সচিবালয়ের ১ নং ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দফতর। এই দফতরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগের পরে তাঁর দফতরের সব কক্ষে তাৎক্ষনিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারাদেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপনী বিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়ি-ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্যও সকলকে পরামর্শ দেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন মাত্র ৪ জন

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যাত্রা এবং সফর শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিতির তালিকা সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময় মাত্র চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন। আগে এ তালিকায় অনেক বেশি ব্যক্তি থাকতেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যাত্রা এবং দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন—মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ যাত্রা ও দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যাত্রা এবং সফর শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন—উপদেষ্টা পরিষদের জ্যেষ্ঠতম একজন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশ বা দেশগুলোর মিশন প্রধানরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান। এছাড়া উপস্থিত থাকার কথা ছিল মুখ্য সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধানের।

ছবি : সংগৃহীত
কুয়েতে ড্রোন আঘাত, ডুবে গেল তেলবাহী ট্যাংকার

ইরানের ছোড়া ড্রোনের আঘাতে কুয়েত উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে জাহাজটি ডুবে গিয়ে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটো। সংস্থাটি জানায়, জাহাজটির ক্রুদের বরাতে জানা গেছে—ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন কুয়েত উপকূলের কাছে থাকা ট্যাংকারটিতে আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সেটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার ফলে জাহাজের কার্গোতে থাকা তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে এ ঘটনায় জাহাজটির সব ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইউকেএমটো বলছে, ড্রোনের আঘাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে—এমন যথেষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল যদি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছে তেহরান। বুধবার (৪ মার্চ) ইসরায়েলের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

হামলার ফলে সক্রিয় কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা। ছবি: সংগৃহীত
কাতারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, পুরো দেশ কাঁপছে

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) কাতারের রাজধানী দোহা আবারও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে। স্থানীয় সূত্র এবং আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশটিতে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে। দোহার আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আটকাতে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ করেছে। ইরান একই সময়ে ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অভিযানটি ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। হামলার ঠিক স্থান প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুলাইমানিয়া প্রদেশের আরাবাত, জারকুইজ ও সুরদাশ এলাকায় অন্তত চারটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, লক্ষ্য ছিল কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন কমালার সদর দপ্তর। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল এবং মার্কিন স্থাপনার ওপরও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ১৯তম দফা চলছে।

ছবি : সংগৃহীত
কুয়েতে ড্রোন হামলায় ডুবে গেল তেলবাহী ট্যাংকার

ইরানের ছোড়া ড্রোনের আঘাতে কুয়েতের একটি ট্যাংকার জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে সেটি ডুবে গিয়ে তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে। বুধবার গভীর রাতে জাহাজটিতে আঘাত হানা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটো)।   ক্রুদের বরাত দিয়ে ইউকেএমটো জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা ড্রোনের আঘাতে কুয়েতের উপকূলে একটি ট্যাংকার জাহাজে আগুন ধরে যায়। শেষমেশ সেটি ডুবে গিয়ে কার্গো জাহাজটি থেকে তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে জাহাজটি ডুবে গেলেও ক্রুরা সবাই নিরাপদ আছেন। ড্রোনের আঘাতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে যথেষ্ট প্রমাণ থাকার কথা জানিয়েছে ইউকেএমটো।   এদিকে ইসরায়েল যদি ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। বুধবার (৪ মার্চ) ইসরায়েলের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তার সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ হুমকির পর নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্যে ইরানির যেভাবে কাটছে দৈনন্দিন জীবন
মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের মধ্যে কোনোভাবে স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ইরানের সাধারণ মানুষ। একই সময় দেশজুড়ে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগও কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার সময় নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিছু পানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তারা জনগণকে পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পূর্ব তেহরানের বাসিন্দা সেপেহর আল জাজিরাকে বলেন, “যুদ্ধ হয়তো কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। তাই পরিস্থিতি খুব খারাপ না হলে আমি ও আমার পরিবার শহর ছাড়ব না। আপাতত জীবন চলছেই নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। কখনো ঘন ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে, আবার কখনো বিস্ফোরণের কম্পনে জানালাও কেঁপে উঠছে। প্রায় এক কোটি মানুষের শহর তেহরানের বিভিন্ন এলাকায়ও প্রায় একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। গত শনিবার সকালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দিন-রাত যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে।এই হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু পানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় আকারে বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।   রাজধানীর রাস্তাঘাট স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ফাঁকা এবং যানজটও কম। অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এখনও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাওয়া যাচ্ছে, সরাসরি দোকান থেকে বা অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে। পশ্চিম তেহরানের বাসিন্দা মারজান বলেন, “কিছু সময়ের জন্য বোমাবর্ষণ থেমে গেলে আমি দিনে একবার কাছের দোকানে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনি। সাধারণত রুটির দোকানে লাইন থাকে, তবে খুব বড় নয়। কিছু পেট্রোল পাম্পেও লাইন দেখা যায়।” তিনি বলেন, “কয়েকটি পণ্যের ঘাটতি থাকতে পারে, তবে আপাতত দোকানে বেশির ভাগ জিনিসই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে কে জানে। যাই হোক, জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।” যুদ্ধ শুরুর দুই দিন আগে ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদা দুটি প্রতিবেদনে দেখায়, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রায় ৯ কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্র জানায়, ইরানি ক্যালেন্ডারের বাহমান মাসে (যা ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে) বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সময়ের মূল্যস্ফীতি ৬২ দশমিক ২ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়ের পর এত উচ্চ মূল্যস্ফীতি খুব কমই দেখা গেছে। এতে সম্ভাব্য অতি-মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির দিক থেকেও ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে। গত মাসের শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০৫ শতাংশ। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ২০৭ শতাংশ, মাংস ১১৭ শতাংশ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্য ১০৮ শতাংশ, ফল ১১৩ শতাংশ এবং রুটি ও ভুট্টার দাম বেড়েছে ১৪২ শতাংশ। ইরানের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানানন, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়ে সরকারের কিছু উদ্বেগ ছিল, তবে সৌভাগ্যবশত এখন পরিস্থিতি ভালো। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের ওষুধের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। অনেক ওষুধের দাম বেড়েছে এবং কিছু ওষুধের (যেমন: বিষণ্নতা প্রতিরোধী ওষুধ) তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে সংকটে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে শুধু দেশীয় তৈরি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, বিদেশি ওষুধ প্রায় অনুপস্থিত। সরকার এখনও মানুষের জন্য ন্যূনতম নগদ ভর্তুকি দিচ্ছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে। সম্প্রতি এই ভর্তুকি কর্মসূচিতে কেনা যায় এমন পণ্যের তালিকায় শিশুদের ডায়াপারও যোগ করা হয়েছে, যার দাম গত কয়েক মাসে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ চালু রাখা যায়, সে জন্য প্রাদেশিক গভর্নর ও মন্ত্রীদের কম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বড় পরিমাণে জরুরি পণ্য আমদানির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কের পর দশক দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতবিক্ষত ইরানি অর্থনীতি আবারও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সময়ে দেশটির বাহিনী অঞ্চলজুড়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানি রিয়ালের দর ছিল প্রতি মার্কিন ডলারে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার রিয়াল, যা প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে, তবে স্বর্ণের মতো সম্পদের দাম বেড়েছে। ‘অরওয়েলীয়’ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বোমাবর্ষণ চলার মধ্যেই টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে মানুষ মূলত রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি বার্তা সেবার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। এসব মাধ্যমে মূলত সরকারি বিবৃতি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিভিন্ন সফল হামলার খবর প্রচার করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক এলাকায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেসব খবরই বেশি প্রচার করা হচ্ছে। বিপরীতে বহু পুলিশ স্টেশন বা আধাসামরিক ঘাঁটিতে হামলার প্রভাব নিয়ে আলোচনা প্রায় নেই। সাংবাদিক মিলাদ আলাভি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “৫৯টির বেশি ভিপিএন ও প্রক্সি কনফিগারেশন চেষ্টা করে ছয় ঘণ্টা পর এই টুইটটি পাঠাতে পারলাম।” তিনি আরও বলেন, “ইরানে স্থায়ী ও মোবাইল দুই ধরনের ইন্টারনেটই বিচ্ছিন্ন। আমরা কোনো খবর পাচ্ছি না, অথচ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে ইরান যেন তেল আবিব ও ওয়াশিংটন দখলের দ্বারপ্রান্তে!” গত শনিবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ তীব্রভাবে কমে যায়। ওই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্টারনেট সংযোগ আগের তুলনায় ১ শতাংশেরও কমে নেমে আসে এবং এখনও সেই অবস্থায় রয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছে ক্লাউডফ্লেয়ার ও নেটব্লকসের মতো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। নেটব্লকস বৃহস্পতিবার জানায়, “ক্রমশ অরওয়েলীয় এক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে”, কারণ যারা বৈশ্বিক ইন্টারনেটে সংযোগের চেষ্টা করছে, টেলিকম কোম্পানিগুলো তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, ভিপিএন ব্যবহারের চেষ্টা বা তা শেয়ার করার পর তারা টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছেন। কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত একটি অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক চালু থাকায় স্থানীয় ওয়েবসাইট ও সেবাগুলো সীমিতভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে কয়েকটি বড় সংবাদ ওয়েবসাইটের মন্তব্য বিভাগই এখন অনেক ইরানির জন্য অনলাইনে মতপ্রকাশের একমাত্র জায়গা হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেখানে সরকারের সমালোচনা বাড়তে থাকায় বিচার বিভাগ প্রযুক্তিবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট জুমিট–এর মন্তব্য বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজনৈতিক, সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নাগরিকদের বারবার আহ্বান জানাচ্ছে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেখলে যেন তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে জানায়। গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় ২০ দিনের ইন্টারনেট বন্ধের মতোই এবারও বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগের জন্য কালোবাজার তৈরি হয়েছে। আল জাজিরা এমন দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে, যারা জানিয়েছেন তারা ইরানের ভেতরে বিক্রেতাদের কাছ থেকে কয়েক গিগাবাইট সীমাবদ্ধ প্রক্সি সংযোগ কিনতে পেরেছেন। এসব সংযোগ খুব ধীরগতির এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নিরাপত্তার কারণে তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা বলছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা কবে তুলে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি।

ছবি : সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে কেন দূরত্ব বজায় রাখছে রাশিয়া-চীন
মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। তেহরানের প্রধান দুই কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার রাশিয়া এবং চীন এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিলেও সামরিকভাবে ইরানের পাশে দাঁড়াতে অনীহা দেখাচ্ছে। শক্তিশালী এই দুই বন্ধু রাষ্ট্রের এমন ‘দূরত্ব বজায় রাখা’র নীতি নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে।   বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই নেপথ্য কারণগুলো উঠে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি একে ‘মানবিক নৈতিকতার সব নিয়মের নিষ্ঠুর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলি সমকক্ষ গিডন সারকে জানিয়েছেন, ‘শক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়’। রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানালেও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।   ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হয়। এতে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের কথা থাকলেও ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’র (মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স) কোনো শর্ত ছিল না। রুশ থিঙ্কট্যাংক ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের সদস্য আন্দ্রে কর্টুনভ জানান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, ইরানের সঙ্গে তেমনটি নেই। উত্তর কোরিয়া আক্রান্ত হলে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে চুক্তিতে কেবল ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার’ কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতার পথ খোলা রাখতে রাশিয়া এই মুহূর্তে সরাসরি ইরানে সেনা বা অস্ত্র পাঠাতে আগ্রহী নয়। এতে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে।   ২০২১ সালে চীনের সঙ্গে ইরানের ২৫ বছর মেয়াদী একটি বড় সহযোগিতা চুক্তি হয়। তবে চীনের তসিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জোডি ওয়েন বলেন, চীন বরাবরই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল। বেইজিং হয়তো তেহরানকে অস্ত্র দেবে না, তবে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, ইরানের বার্ষিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ যায় চীনে। ফলে ইরানের জন্য চীন অর্থনৈতিকভাবে অপরিহার্য হলেও, দেশটির বিশাল বৈশ্বিক বাণিজ্যের তুলনায় ইরান খুবই ছোট অংশীদার। সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডিলান লোহ মনে করেন, চীন মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক বিপর্যয় ঠেকাতেই বেশি মনোযোগী। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর থেকেই রাশিয়া ও চীন তাদের রাজনৈতিক ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করছে। ফলে কূটনৈতিক স্তরে তেহরানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও, যুদ্ধের ময়দানে ইরানকে আপাতত একাই লড়তে হচ্ছে।

মিনিটম্যান ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আমেরিকার। ছবি: সংগৃহীত
হিরোশিমায় ফেলা ‘লিট্‌ল বয়ের’ ২০ গুণ শক্তিশালী বোমা বইতে সক্ষম! ‘ডুম্‌সডে’ পরীক্ষা করিয়ে ট্রাম্প-বার্তা কি ইরান-সহ বিশ্বকে?
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের আবহে মিনিটম্যান ৩ (এলএমজি ৩০ মিনিটম্যান) ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল আমেরিকা। যাকে অনেক সময় ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র এমন পরমাণু বোমা (ওয়ারহেড) বহন করতে পারে, যার শক্তি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি।ইরানের সঙ্গে যখন আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের এই সামরিক সংঘাত তুঙ্গে, সেই আবহে পরমাণু বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে কি ইরান-সহ বিশ্বকে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়। এক বিবৃতি জারি করে আমেরিকার স্পেস ফোর্স এই পরীক্ষার কথা জানিয়েছে। বায়ুসেনার গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কাজ করেছে। ক্যালিফর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার থেকে মিনিটম্যান-৩ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে এটাও দাবি করা হয়েছে, এই পরীক্ষণের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের কোনও যোগসূত্র নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি আটকে ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সেই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হল বলে দাবি করেছে স্পেস ফোর্স। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় যখন সামরিক সংঘাত তুঙ্গে, বিশেষ করে যেখানে আমেরিকা জড়িয়ে রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, সেই মুহূর্তে এই ধরনের পরমাণু বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে কি শক্তি আস্ফালনের একটা নিদর্শন দেওয়ার চেষ্টা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?সামরিক উত্তেজনার আবহের মধ্যেই কেন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার করা হল, তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বার বারই সুর চড়িয়েছে আমেরিকা। ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য নানা ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।বার কয়েক বৈঠকও হয় দু’দেশের মধ্যে, কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। আমেরিকা বার বারই অভিযোগ তুলেছে, গোপনে পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে ইরান। তাদের এটা বন্ধ করতে হবে। যদিও তা অস্বীকার করেছে তেহরান। দাবি করেছে, তারা সামরিক ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তি কাজে লাগাতে চায় না। সেই সঙ্গে আমেরিকার কাছে নতিস্বীকার করতে চায়নি ইরানের প্রশাসন। যার জেরেই পশ্চিম এশিয়ায় এই সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত। আমেরিকার এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য কী? নাম মিনিটম্যান-৩। এটিকে ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হচ্ছে। আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম শক্তিশালী এই ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো আইসিবিএমের মধ্যে একটি হল মিটিনম্যান ৩। ১৯৭০-এর দশক থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থলভাগ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৪,১৪০ কিলোমিটার। এটি পরমাণু বোমা বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। তবে আমেরিকার দাবি, মঙ্গলবার যে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রে কোনও বোমা ব্যবহার করা হয়নি। আমেরিকার কাছে এ রকম ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র আছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম মিনিটম্যান এই কারণেই যে, এক মিনিটের মধ্যে নিশানাকে ধ্বংস করতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে প্রশ্রয় দেবে না ইরাক : প্রধানমন্ত্রী সুদানি
আক্তারুজ্জামান মার্চ ০৫, ২০২৬ 0

নিজেদের ভূখণ্ডে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার হুমকিকে প্রশ্রয় দেবে না ইরাক। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল সুদানির বরাত দিয়ে বুধবার এক লিখিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বুধবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সেই বৈঠকের পর বিবৃতি সামাজিক যোগযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফোনালাপে ইরানের শাহাদাৎবরণকারী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন যে তার নেতৃত্বাধীন সরকার ইরাকের ভূখণ্ডে কিংবা সীমান্তে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না।” ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল সুদানি। তিনি বলেছেন, ইরানে যে আগ্রাসী অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল— তা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং নীতি বহির্ভূত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা এবং ইরানের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানানোর জন্য ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি