সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
এমপি ফজলুর রহমানকে নতুন দায়িত্ব দিল সরকার

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে নতুন এই নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার।   মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ১৩ ধারার আওতায় কমিটি গঠন করা হয়েছে।   পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক। এ ছাড়া অর্থ বিভাগের সচিব, শিল্প সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন সদস্য-সচিব। নতুন নির্বাহী কমিটি ট্রাস্টের আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, অধীনস্থ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং হিসাব নিরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবে।

২ ঘন্টা আগে
সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নসহ যেসব দেশ বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল

ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবে উয়েফা সদস্যদের বিশ্বকাপ বয়কটের হুংকার এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে কোনো দল বা মহাদেশীয় সংস্থার ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এমন কঠোর অবস্থান নেওয়ার নজির ইতিহাসে এবারই প্রথম নয়।   ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের শেয়ার বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে ভোট দিয়েছে। উয়েফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কনকাকাফ’। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় সদ্য সমাপ্ত হওয়া এ বছরের বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ৪১টি সদস্য সংস্থাই ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবটি ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে।     উয়েফার মতো শক্তিশালী কোনো সংস্থা আগে কখনো সরাসরি এমন বর্জনের হুমকি না দিলেও, ভূ-রাজনীতি কিংবা ফুটবলের অভ্যন্তরীণ কারণে বিভিন্ন দেশ ও পরিচালনা পর্ষদের বিশ্বকাপ বর্জন করার বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক উদাহরণ রয়েছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে চার বছর পর ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দক্ষিণ আমেরিকায় আয়োজিত সেই প্রথম টুর্নামেন্টে পর্যাপ্ত ইউরোপীয় দল অংশ না নেওয়ার প্রতিবাদেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনাও, যারা নিজেরা সেই টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশা করেছিল। অন্যদিকে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও সুদান। পরবর্তীতে ইসরায়েলকে হারাতে একটি বিশেষ প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হয়েছিল ওয়েলসকে।     ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘ক্যাফ’-এর অন্তর্ভুক্ত ১৫টি আফ্রিকান দেশ বাছাইপর্ব থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তাদের ক্ষোভ ছিল—যেখানে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইউরোপের জন্য ১০টি স্পট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশের জন্য যৌথভাবে মাত্র ১টি স্পট রাখা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।     এর আট বছর পর, ১৯৭৩ সালে চিলিতে অগুস্তো পিনোশের ক্ষমতা দখলের পর সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। এর প্রতিবাদে সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্লে-অফ টাইয়ের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি খেলতে অস্বীকার করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফলে চিলির একাদশ একাই সান্তিয়াগোর ‘এস্তাদিও নাসিওনাল’ মাঠে নামে এবং কিক-অফের পর অধিনায়ক ফ্রান্সিসকো ভালদেস হেঁটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল প্রবেশ করান। পরবর্তীতে চিলিকে ২-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

২ ঘন্টা আগে
সাময়িক অব্যাহতি পেলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে দলটি।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে আপনাকে অবিলম্বে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কেন আপনার বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা নোটিশ প্রাপ্তির দুই কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে দাখিল করতে হবে।

৪ ঘন্টা আগে
অনলাইনের প্রেমের পরিণতি, নেত্রকোনায় বিয়ে করলেন চীনা যুবক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই সম্পর্ক গড়িয়েছে বিয়েতে। চীনের নাগরিক ওয়্যাং সুলিন (৩০) ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের কলেজছাত্রী নাজমিন আক্তার লিজার (২০) বিয়ে ঘিরে জেলায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।  শুক্রবার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় কনের বাবার ভাড়া বাসায় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর আগে ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন এবং ২১ জুলাই পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা নাজিম উদ্দিনের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মোহনগঞ্জে বসবাস করছেন। অন্যদিকে, চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিন পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করেন।   পরিবারের দাবি, কয়েক মাস আগে ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চীনা নাগরিকের আগমন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইতিবাচক ও নেতিবাচকদুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যায়। বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানেও বিদেশি জামাইকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন।   এদিকে চীনা নাগরিককে ধর্মান্তিরিত করে মুসলমান করে তার নাম নুর উদ্দিন রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে কনের পরিবারের। বিভিন্ন ধরনের মতভেদ তৈরি হলেও শুক্রবার বিবাহত্তোর অনুষ্ঠানে সবাই বিয়ের আনন্দ করেন।    লিজার বাবা নাজিমউদ্দিন জানান, ছেলের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা চীনা দূতাবাসে গিয়েও যাবতীয় খোঁজখবর নিয়েছি। সব তথ্য সঠিক পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জামাই চীনে গিয়ে ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে লিজাকে নিয়ে যাবে।

৪ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
উখিয়ায় মার্কিন বিশেষ দূতের সামনে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি রোহিঙ্গাদের

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের কাছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন।   শুক্রবার বিকেলে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সার্জিও গোরের গাড়িবহরের সামনে রোহিঙ্গারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজ দেশে ফেরার আকুতি তুলে ধরেন।   রোহিঙ্গা যুবক আহমদ উল্লাহ বলেন, “বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি। নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে দ্রুত আমরা নিজ দেশে ফিরতে চাই। শরণার্থী হিসেবে আর জীবন কাটাতে চাই না।”   রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীরা বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস ঘটনাকে প্রথমবারের মতো ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেন।   ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর সংগঠক মাস্টার সৈয়দ উল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।”   তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে সেখানে পূর্ণ নাগরিকত্ব, সমঅধিকার, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।   এর আগে শুক্রবার দুপুরে সার্জিও গোরের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে উখিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও ছিলেন।   শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় জানায়, প্রতিনিধি দল উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ৮ ওয়েস্ট (৮ ডব্লিউ) ও ৬ নম্বর ক্যাম্পও ঘুরে দেখেন তারা।   পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।   উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গোর। সফরের শেষ দিন শনিবার প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তার বাংলাদেশ সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩১, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
সাময়িক অব্যাহতি পেলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে দলটি।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে আপনাকে অবিলম্বে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কেন আপনার বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা নোটিশ প্রাপ্তির দুই কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে দাখিল করতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক সংকটে কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই

ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও তারল্যসংকটে জর্জরিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর ১১টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব কারখানার হাজার হাজার শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মূলত গ্রুপটির ব্যবসা ও ব্যাংকগুলোতে ধস নামতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়া এবং নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খোলা বা কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এস আলম গ্রুপের যেসব কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (ইউনিয়ট), চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড (ব্যাগ তৈরির কারখানা), এস আলম সিমেন্ট এবং এস আলম ভেজিটেবল অয়েলসহ ১১টি।   কারখানা-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে এসব কারখানায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে আনুমানিক আড়াই হাজার স্থায়ী এবং দেড় হাজার অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করতেন।   তবে ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতা এবং মূলধন ও কাঁচামালসংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এর আগে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে চূড়ান্তভাবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তালিকা টাঙানো হয় এবং শুক্রবার থেকে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।   এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নোটিশ বোর্ডে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানানো হয় যে, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আকস্মিক এই ছাঁটাইয়ের খবরে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।   এ বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে কর্মরতরা যেন নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরে যান।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশের প্রায় সবকটি কারখানার শ্রমিকদের নোটিশ দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সবকিছু চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কাঁচামাল না থাকা এবং এলসি বন্ধ থাকার পরও এতদিন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে গ্রুপের কোনো পজিশন বা তারল্য নেই। ফলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ টিকিয়ে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।

ছবি: সংগৃহীত
নারীর কর্মসংস্থান ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকার নিরলস কাজ করছে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তায় সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।    শুক্রবার দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।   জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা। নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ প্রদান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এসব সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   এদিন উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে বিরামপুরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির বিশেষ বরাদ্দে এসব সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।   কর্মসূচির আওতায় এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে ১২ জন নারীকে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অসচ্ছল ৮৫ জনের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে ১০৬ জন দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা সহায়তার অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া বিরামপুর উপজেলার ১০টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাঝে বার্ষিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালসহ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেউটায় অভিবাসীর ঢল। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীর ঢল ঠেকাতে স্পেনে জরুরি সেনা মোতায়েন

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। স্পেনের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক একটি রায়ের পর এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, যেখানে বলা হয়েছিল যে সেউটা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।    এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গোটা ঘটনাটিকে একটি ‘আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বেআইনিভাবে প্রবেশ করা সমস্ত অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন।   সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্পেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেউটা ও মেলিলা অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিবাসী স্রোত সেউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান, যা শহরটির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে।    তবে এর মধ্যেই ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন হারে মানুষ সেউটা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।   এই গণ-অভিবাসন সংকট ইউরোপজুড়ে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অপরাধ চক্রগুলো আদালতের রায়কে ভুলভাবে অপব্যবহার করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছে মাদ্রিদ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।    ইতালির পক্ষ থেকে স্পেনের সাথে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা বলা হলেও মাদ্রিদ এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বর্তমানে মরক্কো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে স্পেন। সূত্র: বিবিসি।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে তেল। ছবি : সংগৃহীত
ওমান উপকূলে রুশ তেলবাহী ট্যাংকারে দুর্ঘটনা, ছড়িয়ে পড়ছে তেল
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬

ওমানের উপকূলের কাছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে তেলের বিস্তার আরও বেড়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির নাম ক্যারোলিন বেজেঙ্গি। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সর্বশেষ যাত্রা শুরু করে।   সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ জুন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের মুকাল্লা বন্দরের কাছে জাহাজটি প্রথম সমস্যার কথা জানায়। প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল।   ২৮ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট ছবিতে জাহাজটির চারপাশে পানির ওপর গাঢ় রঙের তেলের স্তর এবং ওমান উপকূলসংলগ্ন সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল আল-কিবলিয়াহ দ্বীপের উত্তরে তেলের দাগ দেখা গেছে।   ডাচ শান্তি সংস্থা প্যাক্সের রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ উইম জুইনেনবার্গ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বলেন, গাঢ় তেলের স্তর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটির অন্তত একটি তেল সংরক্ষণ অংশে ফাটল তৈরি হয়েছে এবং সেখান থেকেই অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে।   তিনি আরও বলেন, জুলাই ও আগস্টে এ অঞ্চলে চলা মৌসুমি বায়ুর কারণে সাগরের বৈরী আবহাওয়া দ্রুত তেল ছড়িয়ে দিতে পারে, যা পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে। সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

সেউটায় অভিবাসীর ঢল। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীর ঢল ঠেকাতে স্পেনে জরুরি সেনা মোতায়েন
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। স্পেনের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক একটি রায়ের পর এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, যেখানে বলা হয়েছিল যে সেউটা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।    এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গোটা ঘটনাটিকে একটি ‘আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বেআইনিভাবে প্রবেশ করা সমস্ত অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন।   সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্পেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেউটা ও মেলিলা অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিবাসী স্রোত সেউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান, যা শহরটির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে।    তবে এর মধ্যেই ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন হারে মানুষ সেউটা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।   এই গণ-অভিবাসন সংকট ইউরোপজুড়ে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অপরাধ চক্রগুলো আদালতের রায়কে ভুলভাবে অপব্যবহার করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছে মাদ্রিদ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।    ইতালির পক্ষ থেকে স্পেনের সাথে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা বলা হলেও মাদ্রিদ এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বর্তমানে মরক্কো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে স্পেন। সূত্র: বিবিসি।

সংগৃহীত ছবি
অবৈধ পথে স্পেনমুখী অভিবাসনের ভয়াবহ চিত্র, মৃতের সংখ্যা ৪১
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬

মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টায় সৃষ্ট অভিবাসী সংকটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪১ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।   গত ২৪ ঘণ্টায় স্থল ও জলপথ ব্যবহার করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে সমুদ্রপথে সাঁতরে পানির ওপর নির্মিত সীমান্ত প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে স্পেনের এই ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি ঘটনাটিকে স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে।   স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে প্রবেশকারীদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুধু শুক্রবারই প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে সেউতা থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে।   এদিকে সেউতার সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের একটি স্থানীয় সংগঠনের নেতা রাচিত সবিহি বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, হাজার হাজার অভিবাসী, বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুরা খোলা আকাশের নিচে ফুটপাতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই আবার শহরের বিভিন্ন সড়কে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।   সবিহি জানান, নিহতদের বড় একটি অংশ সমুদ্রে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া মরক্কো সীমান্তসংলগ্ন তারাজাল সৈকতের ব্রেকওয়াটার অতিক্রমের সময় পদদলিত হয়ে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করেছে। সূত্র : এপি।

ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে চীনের বৃহৎ দূতাবাস নির্মাণের অনুমতি দিল আদালত
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬

লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল চীনা দূতাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে একটি ব্রিটিশ আদালত। একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছে। শুক্রবার(৩১ জুলাই) লন্ডনের হাইকোর্ট ‘রয়্যাল মিন্ট কোর্ট রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর দায়ের করা আইনি চ্যালেঞ্জটি খারিজ করে দেয়।   সংগঠনটি দূতাবাস নির্মাণের বিরোধিতা করে আদালতে রিট দায়ের করেছিল। তাদেরন অভিযোগ, দূতাবাসটি নির্মিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবাধিকারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।দুই বিচারক ভার্চুয়ালি শুনানিতে বাসিন্দাদের দাবিগুলো খারিজ করে দিয়ে জানান, আবাসন মন্ত্রী এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি মাসে পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়ে আইনসম্মত কাজই করেছে।   ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর কাছে অবস্থিত দুই শতাব্দীর পুরনো ‘রয়্যাল মিন্ট কোর্ট’ এলাকায় দূতাবাসটি নির্মাণের জন্য চীনের পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চীন সফরের ঠিক আগে। প্রস্তাবিত স্থানটির কাছাকাছি প্রায় ১০০টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ওই আবাসিক সংগঠনটি বলেছিল, দূতাবাসের উপস্থিতির ফলে সন্ত্রাসী হামলা ও বিক্ষোভ দমনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।   এছাড়া তারা দাবি করেছিল, এই স্থাপনাটি ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো এবং চীনের কঠোর বা দমনমূলক আইন কার্যকর করার চেষ্টা করা হতে পারে। সংগঠনটি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক দায়মুক্তির(ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি) কারণে যুক্তরাজ্য সরকার সেখানে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকর করতে পারবে না।   বাসিন্দা সংগঠনের প্রধান লুক পোলার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, বেইজিং হয়তো ভাবছে এই রায়ই শেষ কথা। কিন্তু তা নয়। আপিল করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তারা যদি আশা করে আমরা মাথা নত করব এবং আমাদের রাজধানীকেই সিসিপি (চীনা কমিউনিস্ট পার্টি)-র ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হতে দেব, তবে এই বিশাল দূতাবাসের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিরোধিতার শক্তিকে তারা পুরোপুরি ভুল বুঝেছে।   বেইজিং ২০১৮ সালে ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রয়্যাল মিন্ট’-এর জায়গাটি প্রায় ৩২৭ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিল। ২০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই স্থানটিতে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম দূতাবাস কমপ্লেক্স গড়ে উঠতে যাচ্ছে। আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বরো কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় তারা বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো ‘সতর্কতা ও বিবেচনার সঙ্গে’ আমলে নিয়েছিল।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি