ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূর আলী ও তাঁর মালিকানাধীন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বনানী থানায় মামলাটি করা হয়। সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জসীম উদ্দিন খান বলেন, মামলায় ঢাকার বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং’ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুমোদনহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা মানি লন্ডারিং করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুসন্ধানে জানা যায়, বনানী এলাকায় ১৪ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে। তারা অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি বলেছে, অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। এতে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় উড়োজাহাজ ওঠানামায় ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুমোদনহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করেছেন। পরে তা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলাকালে বেদখল করা সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর মানি লন্ডারিং করা অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ পরিচালনা করছে বলে জানায় সিআইডি। সংস্থাটি বলেছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটনসহ আসামিদের গ্রেফতারের স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নূর আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করে সিআইডি। এই মামলায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারণার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে দেশে কোনো হাসপাতালে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকার দেশের সব মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর মালিবাগে হোসাফ টাওয়ারে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয়ে জাতীয় গাইডলাইন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম প্রচারণার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে মানুষের মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতার মাধ্যমে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর রক্তের কিছু পরীক্ষা রাষ্ট্রীয় আইন করে বাধ্যতামূলক করলে অনেকাংশে কমে আসবে এ রোগ। মন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে মেডিসিন সহজলভ্য করা হবে। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি এ রোগীদের ব্লাড ডোনেটে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাহিদ হোসেন। এর আগে থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। দেশে এখন পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ হাজার রোগী আছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—‘আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি।’
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। দেশটির হালমাহেরা দ্বীপের মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ২০ পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৮ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ডুকোনোতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত আগুনের ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ভয়ংকর গর্জনের শব্দও শোনা গেছে। স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি রয়টার্সকে জানান, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আটকে পড়া ২০ জন পর্বতারোহীকে খুঁজে বের করতে পুলিশসহ কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে নয়জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক রয়েছেন। এএফপির বরাতে উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক। বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখার পর গত ১৭ এপ্রিল থেকেই এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটার থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই ক্রেটারটিকেই আগ্নেয়গিরির প্রধান সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। আগুনের ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার পরিচালিত আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, আগুনের ছাইয়ের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা পাথর এবং লাভার প্রবাহ থেকেও সরাসরি ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে।
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুলাইযোদ্ধা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাফসিন মেহনাজ আজিরিন। এছাড়াও তিনি শিক্ষামন্ত্রীর ‘ভাষা ও ব্যবহার উন্নত করা উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে নাফসিন মেহেনাজ বলেন, ‘যখন এহসানুল মিলন সাহেব এ কথাটা বললেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক বেশি ফ্রিডম দেওয়া হলে জঙ্গি প্রডিউস করা হবে। আসলে শিক্ষাটা আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশ্ন আসে না, শিক্ষাটা হচ্ছে তার নিজের শিক্ষা নিয়ে। আপনার কি শিক্ষা যে আপনি এরকম টাইপের ল্যাংগুয়েজ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করেন?’ শিক্ষামন্ত্রীকে দেখলে ‘উগ্র’ মনে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উনার আচার-ব্যবহার এমন যে উনি একাই সুপিরিয়ার আর সবাই চিটার-বাটপার। মানে উনি একাই পিউর সওল আর সবাই চিটার-বাটপার দিয়ে ভরা। কিন্তু ওনার যেসব আচরণ সেগুলো আসলে খুবই উগ্রবাদী আচরণ।’ উনার নিজের ল্যাংগুয়েজ ঠিক করা এবং উনার নিজের যে কথাবার্তা, আচার ব্যবহার ডেভেলপ করা উচিত বলে আমি মনে করি,’ বলেন জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ছাত্রী। মেহেনাজ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী দুই দিন আগে এক বক্তব্যে বলেছেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যদি বেশি ফ্রিডম দেওয়া হয় তখন তারা জঙ্গি প্রডিউস করবে। প্রথম কথা হচ্ছে, ১৮ তারিখ যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা না নামত তাহলে আপনারা কোথায় থাকতেন এটা আগে চিন্তা করেন।’ টেরোরিস্টের কোনো বাবা-মা নেই, কোনো সোসাইটি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ইনস্টিটিউশন নেই। একটা ইন্ডিভিজুয়াল ঘটনা দিয়ে আপনি তো পুরো ইনস্টিটিউশনে জাজ করতে পারেন না। আমাদের পলিটিক্স করার কোনো স্ট্রাকচার নেই, আমাদের তো ডাকসু নেই, আমাদের কোনো ছাত্র সংগঠন নেই, কিন্তু আপনারা দেখেছেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে রাজপথে ছিল এবং জুলাই অভ্যুত্থান সফল করেছিল।
দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ঘাটতির পর পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮টার পর বন্ধ থাকা শোধন কার্যক্রম আবার শুরু হয়। ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানিয়েছেন, কুতুবদিয়া এলাকায় নোঙর করা ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিং পদ্ধতিতে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছাতে শুরু করায় উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান পৌঁছেনি। এতে মজুত ফুরিয়ে গেলে গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বহনকারী ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজ কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বাংলাদেশে আসে। প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি আকারে বড় হওয়ায় কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে পারেনি। ফলে ছোট ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করে পতেঙ্গায় অবস্থিত ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াই লাইটারিং নামে পরিচিত। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জটিলতার কারণে ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে আছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে থাকে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। অবশিষ্ট চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। দেশে বর্তমানে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হলেও ফার্নেস অয়েল, অকটেন, পেট্রোল, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।
ওমানে আগামী মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়জুড়ে তীব্র গরমের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। দীর্ঘস্থায়ী এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন খোলা পরিবেশে কাজ করা প্রবাসী শ্রমিকরা। ওমান মেটিওরোলজির সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি তিন মাসে দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসে তাপপ্রবাহের তীব্রতা অতীতের তুলনায় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটিতে নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন কঠোর শ্রমনির্ভর কাজে নিয়োজিত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মে মাসে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তী দুই মাসে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস। তাই পরিস্থিতির পরিবর্তন জানতে নিয়মিত দৈনিক আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুপুরের তীব্র রোদে অপ্রয়োজনীয় বাইরে কাজ এড়িয়ে চলা এবং সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা প্রবাসীদের পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং কাজের ফাঁকে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নির্মাণ ও বহিরাঙ্গন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য এই সময়টিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অটোরিকশাচালক জুয়েল শেখ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) শেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শুক্রবার (৮ মে) রাত ২টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালপুর জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বন্ধভাটপাড়া এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪৫), গরুচরণ দুধনই এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আসমত আলী (৩২), পূর্ব বাকাকুড়া এলাকার হায়দর আলীর ছেলে খুরুম (২৫) এবং জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কাজীরপাড়া এলাকার বাদশা শেখের ছেলে সুজন (২২)। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ এপ্রিল ভোরে মেলান্দহ উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর এলাকার আবু হানিফের ছেলে জুয়েল শেখ (৩০) অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ইসলামপুর উপজেলার পশ্চিম শংকরপুর এলাকার একটি ভুট্টাখেত থেকে পলিথিন ও স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার ঝিনাইগাতী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় পূর্ব বাকাকুড়া এলাকা থেকে নিহতের লুট হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে জুয়েল শেখকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ভুট্টাখেতে ফেলে রাখা হয়। জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এক মাস আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা এখনও বহাল আছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এ গুলি বিনিময় হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে কে প্রথম হামলা করেছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড তাদের অভিযোগে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে আসা একটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ও অন্য নৌযানকে নিশানা বানিয়েছিল এবং আকাশপথে একাধিক উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলার’ মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরানি হামলার জবাব দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আজ আমাদের উত্যক্ত করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে এ হামলা, পাল্টা হামলার আগের দিনই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছে। বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমই প্রথম হরমুজ প্রণালিতে ‘বিস্ফোরণের’ খবর দিয়ে ‘শত্রুর সঙ্গে গুলিবিনিময়’ হয়েছে বলে জানায়। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করে। এর কিছুক্ষণ পর ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড বলে, যুক্তরাষ্ট্র বন্দর খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপে আকাশপথে হামলা চালিয়ে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ করেছে এবং এর পাল্টায় তারাও মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করে সেগুলোর ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ সাধন করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরান ‘বিনা উসকানিতে’ হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে জানায়, ইরানি সেনারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ‘অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা’ পাঠিয়েছিল। এসবের প্রতিক্রিয়ায় তারা ‘ধেয়ে আসা হুমকি নির্মূল এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় দায়ী স্থাপনাগুলো, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল স্থান এবং গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও রেকি কেন্দ্রগুলোকে’ নিশানা বানিয়েছে। সেন্টকম উত্তেজনা বাড়াতে চায় না তবে মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষায় প্রস্তুত ও অবস্থান নিয়ে রেখেছে, বিবৃতিতে বলেছে তারা। এদিকে ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে, যেগুলো খুব সুন্দরভাবে সমুদ্রে নেমে এসেছিল, অনেকটা প্রজাপতি যেমন তার কবরে নেমে আসে। ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ‘ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি’ হতে হয়েছে, বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ফের তেহরানকে দ্রুত চুক্তিতে আসার তাগাদা দিয়ে বলেন, আজকে আমরা যেমন তাদেরকে ফের উড়িয়ে দিয়েছি, তেমনই আমরা ভবিষ্যতে তাদেরকে আরও শক্তভাবে, আরও সহিংসভাবে উড়িয়ে দেবো, যদি না তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ইসরায়েলি একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় ‘ইসরায়েল কোনোভাবেই জড়িত’ ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘দ্রুত শেষ হবে’ বলে মন্তব্য করে যাচ্ছেন, তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এমন সংঘর্ষের খবর মিলল। দিনকয়েক আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৪ দফা সম্বলিত একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি আছে বলে হোয়াইট হাউস বিশ্বাস করছে। ওই স্মারকেই পরবর্তীতে বিস্তৃত পরমাণু আলোচনার রূপরেখা থাকবে। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছেন। এরপর তারা এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের জানাবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিতে রূপান্তরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের এক ঊর্ধ্বতন সদস্য ১৪ দফা সম্বলিত সমঝোতা স্মারকের খবরকে ‘আকাশকুসুম কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই শান্তি চুক্তিতে তাদের চাওয়া পূরণ না হলে ফের যুদ্ধে ফেরার হুমকি দিয়ে রেখেছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনজুর আলমকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগদান এবং আসন্ন চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার আলোচনা চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনায় রয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও পারিবারিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো। এনসিপির একাধিক নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, দলটির পক্ষ থেকে মনজুর আলমকে চট্টগ্রাম মহানগরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি এনসিপির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ তার বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করার পর এ গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। বৃহস্পতিবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রাম সফরে যান। বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে দলটির এক অনুষ্ঠানে মনজুর আলমকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ করানোর পরিকল্পনা ছিল বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। মনজুর আলমের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কয়েক মাস আগেও তিনি এনসিপিতে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। দলটির বিভিন্ন আয়োজনেও তিনি সহায়তা দিয়েছেন। বিশেষ করে রমজানে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে তার অনুদান এবং তার ছবি সংবলিত পানির বোতল বিতরণের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই দলবদলের জন্য আলোচিত মনজুর আলম প্রথমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন বলে আলোচনা ছিল। তবে বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সেখানে তার অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর এনসিপির কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে তার একাধিক বৈঠকের তথ্য সামনে আসে। তবে এনসিপিতে যোগদানের সম্ভাবনা প্রকাশ্যে আসতেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। রাজনৈতিক উপদেষ্টারাও তাকে সতর্ক করেন যে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করলে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগপন্থি ভোট হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তিনি প্রকাশ্যে দলটিতে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের চিন্তাও করছিলেন বলে জানা গেছে। গত ১৪ এপ্রিল হাসনাত আবদুল্লাহ তার বাসায় গেলে ঘটনাটি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মনজুর আলম আরও চাপে পড়েন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। বৃহস্পতিবার দিনভর তার বাসা ও অফিসে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র। তবে তার ছেলে সরওয়ার উল আলম বলেছেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত তার বাবা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন না এবং আড়ালে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনজুর আলম বর্তমানে মোস্তফা হাকিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং পরে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর আবারও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। দেশটির হালমাহেরা দ্বীপের মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ২০ পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৮ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ডুকোনোতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত আগুনের ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ভয়ংকর গর্জনের শব্দও শোনা গেছে। স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি রয়টার্সকে জানান, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আটকে পড়া ২০ জন পর্বতারোহীকে খুঁজে বের করতে পুলিশসহ কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে নয়জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক রয়েছেন। এএফপির বরাতে উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক। বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখার পর গত ১৭ এপ্রিল থেকেই এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটার থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই ক্রেটারটিকেই আগ্নেয়গিরির প্রধান সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। আগুনের ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার পরিচালিত আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, আগুনের ছাইয়ের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা পাথর এবং লাভার প্রবাহ থেকেও সরাসরি ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে।
চলমান যুদ্ধবিরতির আবহে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বৃহস্পতিবার প্রণালিটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছে উভয় পক্ষ। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের সময় দেশটির দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মার্কিন নৌবাহিনী। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজ দুটির একটি ছিল তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ। একই দিনে পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের খামির-সিরিক সমুদ্রবন্দরে মার্কিন বাহিনী বিমান অভিযানও চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। এর জবাবে হরমুজ প্রণালি ও চাবাহার বন্দরের আশপাশে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তর খাতাম আল আনবিয়া দাবি করেছে, ওই হামলায় মার্কিন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজে টহলরত মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে প্রথমে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ইরান তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং স্পিডবোট ব্যবহার করেছিল। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে সব হামলা প্রতিহত করেছে এবং কোনো জাহাজ বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি জানায়, হরমুজ প্রণালি, উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোতে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে এটি প্রথম সংঘর্ষ নয়। এর আগে গত সোমবার মার্কিন বাহিনী ইরানের ছয়টি স্পিডবোট ধ্বংস করে। জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও তা মার্কিন অ্যান্টি-মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত হয়। সূত্র: জিও নিউজ
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এক মাস আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা এখনও বহাল আছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এ গুলি বিনিময় হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে কে প্রথম হামলা করেছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড তাদের অভিযোগে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে আসা একটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ও অন্য নৌযানকে নিশানা বানিয়েছিল এবং আকাশপথে একাধিক উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলার’ মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরানি হামলার জবাব দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আজ আমাদের উত্যক্ত করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে এ হামলা, পাল্টা হামলার আগের দিনই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছে। বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমই প্রথম হরমুজ প্রণালিতে ‘বিস্ফোরণের’ খবর দিয়ে ‘শত্রুর সঙ্গে গুলিবিনিময়’ হয়েছে বলে জানায়। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করে। এর কিছুক্ষণ পর ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড বলে, যুক্তরাষ্ট্র বন্দর খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপে আকাশপথে হামলা চালিয়ে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ করেছে এবং এর পাল্টায় তারাও মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করে সেগুলোর ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ সাধন করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরান ‘বিনা উসকানিতে’ হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে জানায়, ইরানি সেনারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ‘অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা’ পাঠিয়েছিল। এসবের প্রতিক্রিয়ায় তারা ‘ধেয়ে আসা হুমকি নির্মূল এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় দায়ী স্থাপনাগুলো, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল স্থান এবং গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও রেকি কেন্দ্রগুলোকে’ নিশানা বানিয়েছে। সেন্টকম উত্তেজনা বাড়াতে চায় না তবে মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষায় প্রস্তুত ও অবস্থান নিয়ে রেখেছে, বিবৃতিতে বলেছে তারা। এদিকে ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে, যেগুলো খুব সুন্দরভাবে সমুদ্রে নেমে এসেছিল, অনেকটা প্রজাপতি যেমন তার কবরে নেমে আসে। ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ‘ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি’ হতে হয়েছে, বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ফের তেহরানকে দ্রুত চুক্তিতে আসার তাগাদা দিয়ে বলেন, আজকে আমরা যেমন তাদেরকে ফের উড়িয়ে দিয়েছি, তেমনই আমরা ভবিষ্যতে তাদেরকে আরও শক্তভাবে, আরও সহিংসভাবে উড়িয়ে দেবো, যদি না তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ইসরায়েলি একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় ‘ইসরায়েল কোনোভাবেই জড়িত’ ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘দ্রুত শেষ হবে’ বলে মন্তব্য করে যাচ্ছেন, তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এমন সংঘর্ষের খবর মিলল। দিনকয়েক আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৪ দফা সম্বলিত একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি আছে বলে হোয়াইট হাউস বিশ্বাস করছে। ওই স্মারকেই পরবর্তীতে বিস্তৃত পরমাণু আলোচনার রূপরেখা থাকবে। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছেন। এরপর তারা এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের জানাবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিতে রূপান্তরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের এক ঊর্ধ্বতন সদস্য ১৪ দফা সম্বলিত সমঝোতা স্মারকের খবরকে ‘আকাশকুসুম কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই শান্তি চুক্তিতে তাদের চাওয়া পূরণ না হলে ফের যুদ্ধে ফেরার হুমকি দিয়ে রেখেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের শুরুতে দৃঢ় অবস্থান নিলেও এখন তিনি এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন, যেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মূলত নিজের তৈরি দুটি জটিলতায় আটকে পড়েছেন—একটি আন্তর্জাতিক কৌশলগত সংকট, অন্যটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত সামরিক সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে, জ্বালানির দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি সাড়ে চার ডলারের বেশি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবও তীব্র হচ্ছে। ফলে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন বারবার শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিচ্ছে এবং হঠাৎ করেই সামরিক পরিকল্পনা ঘোষণা বা বাতিল করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা নথি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে বাকি অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রায় পাঁচ দশকের জটিল দ্বন্দ্ব—যার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত রয়েছে—সেগুলোর সমাধানে এমন সংক্ষিপ্ত চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এদিকে ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জ্বালানি পরিবহন থেকে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে। তেহরান বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে পারে বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, চলমান আলোচনা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দাবি করেছিলেন, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত এবং ইরান তার শর্ত মেনে নিয়েছে। বাস্তবে কঠোর মার্কিন অবস্থানের কারণে সেই অগ্রগতি বারবার থেমে গেছে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, পুরো সংঘাতজুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে অস্পষ্টতা ও হঠাৎ সিদ্ধান্তের প্রবণতা ছিল। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন। পরে ট্রাম্প ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্থগিত হয়ে যায়। কোয়িন্সি ইনস্টিটিউটের ইরান বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় তথাকথিত ‘সিলভার বুলেট’ কৌশল নিয়েছে। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরও দেশটির ক্ষমতাকাঠামো দুর্বল হয়নি। বরং নতুন কট্টরপন্থিদের উত্থানে শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হাজার হাজার স্থলসেনা মোতায়েন না করায় সুস্পষ্ট সামরিক বিজয় শুরু থেকেই অসম্ভব ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের ফেলো ইয়ান লেসারের মতে, এই সংঘাত দেখিয়েছে যে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল অর্জন করা কতটা কঠিন। এখনও ইরানের ভেতরে শাসকদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান দেখা যায়নি। তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরেও সম্মত হয়নি। পাশাপাশি লেবানন ও গাজায় তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধেরও কোনও নিশ্চয়তা দেয়নি। অ্যাসপেন সিকিউরিটি ফোরামের নির্বাহী পরিচালক আঞ্জা ম্যানুয়েল বলেছেন, “এই সংঘাত এখনও শেষ হওয়ার অনেক বাকি।” তার মতে, যুদ্ধবিরতি বা সামরিক অভিযানের নাম পরিবর্তন করলেই বাস্তবতা বদলায় না। হরমুজ প্রণালি এখনও অচল, জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং মার্কিন অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে। এদিকে মার্কো রুবিও আবারও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং নৌ অবরোধের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ইরানকে চাপে ফেলতে পারবে। তবে সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার অবস্থান বদল, অতিরিক্ত আশাবাদী বক্তব্য এবং এক পাতার সমঝোতার ওপর নির্ভরতা—এসবই কূটনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তব কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।