সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনে যেভাবে চ্যালেঞ্জিং প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেন জামায়াত আমির

একদিন বাদে (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইটা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। তবে বলাই বাহুল্য, আসন্ন নির্বাচনে দেশের রাজনীতিতে বেশ সরব দীর্ঘদিন প্রান্তিক অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার-বিলবোর্ডে এখন চোখে পড়ছে সাদা দাড়িওয়ালা এই নেতার (জামায়াতের আমির) চেহারা, যেখানে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, দেশের ‘প্রথম ইসলামপন্থী সরকারকে’ ক্ষমতায় আনার জন্য।    ৬৭ বছর বয়সী এই নেতা এতোদিন মূলত ইসলামপন্থী মহলের বাইরে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু দলের প্রধান হিসেবে তিনি এখন আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন।   এবারের নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও একসময়ের জোটশরিক বিএনপির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই গড়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের প্রায় ৯১ শতাংশই মুসলিম, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও দেশটির সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশটিতে জনসংখ্যার বড় অংশ হলো সুন্নি মুসলিম।   বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াত, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, এবার তারা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ফলাফল পেতে পারে।  বিষয়টি মধ্যপন্থী মহল ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়। জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতা কারাবন্দি হন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শেষমেষ দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাদের কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে ঠেলে দেওয়া হয়।   ২০২২ সালে দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানকেও একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনকে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৫ মাস কারাভোগ করেন তিনি।   তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান জামায়াত ও শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। ওই বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জামায়াতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। পরে ২০২৫ সালে আদালত দলটির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর ফলে বহু বছর গোপনে কার্যক্রম চালানো জামায়াত আবার প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ পায়।   নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর দ্রুত সংগঠিত হয় জামায়াত। দলটি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, বন্যা-ত্রাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে মাঠে নামে। সাদা পোশাক ও সাদা দাড়ি শোভিত শফিকুর রহমান এসব কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন।   গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন– আমরা আমাদের কথা বলার চেষ্টা করেছি কিন্তু বারবার আমাদের দমন করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা আবার উঠে আসার সুযোগ পেয়েছি।   রাজনৈতিক শূন্যতা ও উত্থান: বিশ্লেষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন জামায়াত আমির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ মোস্তফার ভাষায়, অভ্যুত্থানের পর প্রথম এক মাস দেশে তেমন কোনো দৃশ্যমান নেতা ছিল না। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই সময় তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করছিলেন, আর শফিকুর রহমান দেশজুড়ে সফর করে দ্রুত গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনেক ভোটারের মধ্যে সাড়া ফেলছে, যেখানে জামায়াত নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক বিকল্প শক্তি হিসেবে। গত ডিসেম্বরেই দলটি জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠন করে, যা তরুণ ও অপেক্ষাকৃত কম রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।   এদিকে, শফিকুর রহমানকে নিয়ে 'গেম অব থ্রোনস' থেকে অনুপ্রাণিত প্রচারণা পোস্টারও দেখা যাচ্ছে, যেখানে লেখা ‘দাদু ইজ কামিং’। অনেকের কাছে শফিকুর রহমান জামায়াতের তুলনামূলক মধ্যপন্থী মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান আচরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।   তবে নারীদের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জামায়াত এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, যাতে তারা পারিবারিক দায়িত্বে বেশি সময় দিতে পারেন।   সম্প্রতি তার নামে একটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ালে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ হয়। জামায়াতের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল।   নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তারা যুক্তিসঙ্গত ও নমনীয় নীতিতে বিশ্বাসী। তার ভাষায়, ইসলামি মূল্যবোধ শুধু মুসলমানদের জন্য নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য।   সূত্র: রয়টার্স

৫ ঘন্টা আগে
নিলামে ১৭১ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের অবমূল্যায়ন রোধ এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতে গতি সঞ্চার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে এ ডলার ক্রয় করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৯৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮৯৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

৬ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিকে স্বাগত জানালো বিজিএমইএ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিকে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। আজ মঙ্গলবার বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ নয় মাসের নিবিড় আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন-বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে আমরা এই চুক্তিকে স্বাগত জানাই। এই অর্জনের জন্য মার্কিন সরকারসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিজিএমইএ। এছাড়া চুক্তি প্রক্রিয়া গতিশীল করতে সহযোগিতার জন্য মার্কিন দূতাবাস ও ইউএসটিআর’কেও ধন্যবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিজিএমইএ জানতে পেরেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক গুণতে হবে না।  বিজিএমইএ মনে করে, এর ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের প্রবেশাধিকার আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহারের মূল্যায়ন ও ট্রেসেবিলিটি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিজিএমইএ’র মতে, মার্কিন তুলা গুণগতভাবে উন্নত ও ব্যয়বহুল হওয়ায় স্থানীয় স্পিনাররা যদি সুতার প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে রপ্তানি বৃদ্ধির বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।

৬ ঘন্টা আগে
উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীন চিত্তে ভোট দিন : দেশবাসীর প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

আগামী জাতীয় নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীন চিত্তে ভোট প্রদানের জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনারা দলে দলে, সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার প্রধান উপদেষ্টার ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে। এবারের ভোটের দিন নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আসুন, উৎসবমুখর নির্বাচন বাস্তবে রূপায়িত করে এই দিনটিকে ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি।’ তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না; এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে—এই দেশ তার তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।’ তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা—যাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি—এই ভোট আপনাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ। তরুণদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল—কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল—কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তবু আপনারা আশা ছাড়েননি, অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে।’ নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নারীরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব গণআন্দোলনে, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নারীরাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত।’ তিনি বলেন, ক্ষুদ্রঋণ, কুটির শিল্প ও নারী উদ্যোক্তার পেছনে রয়েছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে সাবলম্বী হওয়ার গল্প। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আপনারা ঘরে ও রাজপথে সমানভাবে সংগ্রাম করেছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ আগলে রেখেছেন, সমাজকে টিকিয়ে রেখেছেন। অথচ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন। এই নির্বাচন আপনাদের জন্য এক নতুন সূচনা।’

৬ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
নির্বাচনে যেভাবে চ্যালেঞ্জিং প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেন জামায়াত আমির

একদিন বাদে (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইটা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। তবে বলাই বাহুল্য, আসন্ন নির্বাচনে দেশের রাজনীতিতে বেশ সরব দীর্ঘদিন প্রান্তিক অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার-বিলবোর্ডে এখন চোখে পড়ছে সাদা দাড়িওয়ালা এই নেতার (জামায়াতের আমির) চেহারা, যেখানে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, দেশের ‘প্রথম ইসলামপন্থী সরকারকে’ ক্ষমতায় আনার জন্য।    ৬৭ বছর বয়সী এই নেতা এতোদিন মূলত ইসলামপন্থী মহলের বাইরে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু দলের প্রধান হিসেবে তিনি এখন আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন।   এবারের নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও একসময়ের জোটশরিক বিএনপির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই গড়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের প্রায় ৯১ শতাংশই মুসলিম, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও দেশটির সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশটিতে জনসংখ্যার বড় অংশ হলো সুন্নি মুসলিম।   বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াত, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, এবার তারা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ফলাফল পেতে পারে।  বিষয়টি মধ্যপন্থী মহল ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়। জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতা কারাবন্দি হন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শেষমেষ দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাদের কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে ঠেলে দেওয়া হয়।   ২০২২ সালে দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানকেও একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনকে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৫ মাস কারাভোগ করেন তিনি।   তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান জামায়াত ও শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। ওই বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জামায়াতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। পরে ২০২৫ সালে আদালত দলটির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর ফলে বহু বছর গোপনে কার্যক্রম চালানো জামায়াত আবার প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ পায়।   নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর দ্রুত সংগঠিত হয় জামায়াত। দলটি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, বন্যা-ত্রাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে মাঠে নামে। সাদা পোশাক ও সাদা দাড়ি শোভিত শফিকুর রহমান এসব কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন।   গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন– আমরা আমাদের কথা বলার চেষ্টা করেছি কিন্তু বারবার আমাদের দমন করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা আবার উঠে আসার সুযোগ পেয়েছি।   রাজনৈতিক শূন্যতা ও উত্থান: বিশ্লেষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন জামায়াত আমির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ মোস্তফার ভাষায়, অভ্যুত্থানের পর প্রথম এক মাস দেশে তেমন কোনো দৃশ্যমান নেতা ছিল না। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই সময় তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করছিলেন, আর শফিকুর রহমান দেশজুড়ে সফর করে দ্রুত গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনেক ভোটারের মধ্যে সাড়া ফেলছে, যেখানে জামায়াত নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক বিকল্প শক্তি হিসেবে। গত ডিসেম্বরেই দলটি জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠন করে, যা তরুণ ও অপেক্ষাকৃত কম রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।   এদিকে, শফিকুর রহমানকে নিয়ে 'গেম অব থ্রোনস' থেকে অনুপ্রাণিত প্রচারণা পোস্টারও দেখা যাচ্ছে, যেখানে লেখা ‘দাদু ইজ কামিং’। অনেকের কাছে শফিকুর রহমান জামায়াতের তুলনামূলক মধ্যপন্থী মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান আচরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।   তবে নারীদের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জামায়াত এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, যাতে তারা পারিবারিক দায়িত্বে বেশি সময় দিতে পারেন।   সম্প্রতি তার নামে একটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ালে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ হয়। জামায়াতের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল।   নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তারা যুক্তিসঙ্গত ও নমনীয় নীতিতে বিশ্বাসী। তার ভাষায়, ইসলামি মূল্যবোধ শুধু মুসলমানদের জন্য নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দিচ্ছেন

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ভোট দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয়ন হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভুক্ত একই এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিবেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার। রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার ই ব্লকের একটি কেন্দ্রে ভোট দিবেন সমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। শ্যামলী শিশু মেলার কাছে একটি কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।  নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ভোট দিবেন রাজধানীর মহাখালী ডিওএসএইচ এলাকার একটি স্কুল কেন্দ্রে।   নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।  এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের দপ্তরে যোগাযোগ করে জানা গেছে, অনেক উপদেষ্টাই নির্বাচনের দিন রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রত্যেকেই যার যার আবাসন ভিত্তিক এলাকার ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।   উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ভোট দিবেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।  চট্রগ্রাম মহানগরীর মেহেদীবাগের নিজ এলাকার ভোট কেন্দ্রে ভোট দিবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।  তবে চট্রগাম নিবাসী আরেক উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন যিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি সম্ভবত এবার ভোট কেন্দ্রে যেতে পারছেন না। জানতে চাইলে এ উপদেষ্টা বাসসকে বলেন, তার জরুরি কাজ থাকায় তিনি ঢাকায় থেকে যাচ্ছেন। চট্রগ্রামের ভোটার হওয়ায় এবার সম্ভবত চট্রগ্রামে যেতে পারছেন না।  তিনি জানান, আজ তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন।  বিদ্যুৎ জালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ভোট দিবেন গুলশান-২ এর গুলশান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ভোট কেন্দ্রে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ভোট দিবেন রাজধানীর ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে।

ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ ইতিবাচক: ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার প্রয়োজন আছে। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন পরিবেশ আশাব্যঞ্জক। তিনি আরও জানান, স্বল্প মেয়াদি ইইউ পর্যবেক্ষকরা আজ থেকে মাঠে থাকবেন। ইইউ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যেখানে সংখ্যালঘু ও নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।


ছবি : সংগৃহীত
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টিআইবির আপত্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময় ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে অবাধ তথ্য প্রবাহের পরিপন্থি, অযৌক্তিক ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ সিদ্ধান্তকে ‘মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার’ মতো বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অবাধ তথ্য প্রবাহ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশেষ করে ভোটারদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এতে ভোটারদের আস্থা ও অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করার মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। অবিলম্বে এ ধরনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মোবাইল ফোনসহ প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হলে লক্ষ্যভিত্তিক ও যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু ভোটারদের মৌলিক যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তার বিষয় উপেক্ষা করে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মূলত মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার তথ্যপ্রবাহ, স্বচ্ছতা ও জনআস্থায় ভাঙন ধরার ঝুঁকি বাড়ে। তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশ, পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ নিশ্চিত থাকা জরুরি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ সিদ্ধান্ত সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের কাজের ক্ষেত্রেও বাস্তব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ, ছবি ও ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে থাকেন। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণও অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই প্রকাশ্যে এসেছে। তার মতে, এ নিষেধাজ্ঞা একদিকে যেমন তথ্যপ্রবাহকে সীমিত করবে ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, অন্যদিকে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, অনিয়ম বা বলপ্রয়োগের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্ত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে ভোটাররা কীভাবে তাৎক্ষণিক সহায়তা চাইবেন—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছাড়া এমন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন অপরিণামদর্শী। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দূরবর্তী এলাকা থেকে আগত ভোটারদের জন্য এ সিদ্ধান্ত বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও মনে করে টিআইবি। একই সঙ্গে ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মতো বিস্তৃত এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি, হয়রানি ও নির্বিচার ক্ষমতা প্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে আরোপিত সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

ছবি : সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতি মিনিটে ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রতি মিনিটে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকার সমান। নতুন এক জরিপে বলা হয়েছে, জলবায়ু সংকট এখন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়—এটি ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। খবর এনডিটিভির। এফআইসিসিআই-ইওয়াই রিস্ক সার্ভে ২০২৬ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বছরে জলবায়ুজনিত ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও পরিবেশের অবনতিই এই ক্ষতির প্রধান কারণ। প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এরইমধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন ও শ্রম উৎপাদনশীলতাকে ব্যাহত করছে। ২০০০ সালের পর থেকে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন সরাসরি অর্থনীতি, ব্যবসা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে প্রভাবিত করছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
লাগোসের মাকোকো বস্তি হলেও এটি আফ্রিকার ভেনিস হিসেবে পরিচিত

নাইজেরিয়ার লাগোসে লেকের ওপর গড়ে ওঠা মাকোকো বসতিকে ঘিরে নতুন করে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বহু বছর ধরে এটিকে উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই এলাকাকে এবার ‘লাগোস ওয়াটার সিটি’ মডেলের আওতায় উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাকোকোতে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর পরিকল্পনায় সহানুভূতি ও দায়িত্ব দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত বর্ধনশীল লাগোস শহরের জন্য মাকোকো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে নগরায়ণ, পরিবেশ ঝুঁকি ও জলবায়ু সহনশীলতা একসঙ্গে বিবেচনায় আনতে হচ্ছে। মাকোকোকে প্রায়ই ‘আফ্রিকার ভেনিস’ বলা হয়। এখানে বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মাছ ধরা, নৌকা তৈরি ও জলপথ পরিবহনকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বসতির অনানুষ্ঠানিক চরিত্র মূলত আবাসন সংকট ও পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের ফল। ২০১২ সালে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে মাকোকো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তা সমালোচনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে উচ্ছেদের বদলে উন্নয়নভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিরাপদ খুঁটির ওপর ঘর, উন্নত স্যানিটেশন ও পরিকল্পিত জলপথ উন্নয়নের প্রস্তাব এলেও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২১ সালের পর থেকে লাগোস সরকার ‘ওয়াটার সিটি’ মডেলের আওতায় জলপথ বসতিগুলোকে পরিকল্পিত ও জলবায়ু সহনশীল নগর এলাকায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়। এ মডেলে নিরাপদ বাসস্থান, উন্নত স্যানিটেশন, জলপথ পরিবহন ও জলভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাটি সফল হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি মাছ ধরা, নৌকা তৈরি ও পর্যটন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও জীবিকার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম সফল হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা নিশ্চিত করা গেলে মাকোকো আফ্রিকায় জলভিত্তিক নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি | ছবি : সংগৃহীত
শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার আইনজীবী মোস্তফা নিলি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর এএফপির। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধ করার উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া ও এতে যোগসাজশের অভিযোগে নার্গিস মোহাম্মাদিকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ বছরের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার ওপর। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে নার্গিস মোহাম্মাদিকে দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইরানে মৃত্যুদণ্ড ও নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক পোশাক নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের কারণে গত ২৫ বছর ধরে বারবার বিচার ও কারাবরণের মুখে পড়েছেন নার্গিস মোহাম্মাদি। গত এক দশকের অধিকাংশ সময় তিনি কারাগারেই কাটিয়েছেন। মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে নার্গিস মোহাম্মাদিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

নিউজ ক্লিপস

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
লাগোসের মাকোকো বস্তি হলেও এটি আফ্রিকার ভেনিস হিসেবে পরিচিত
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0

নাইজেরিয়ার লাগোসে লেকের ওপর গড়ে ওঠা মাকোকো বসতিকে ঘিরে নতুন করে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বহু বছর ধরে এটিকে উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই এলাকাকে এবার ‘লাগোস ওয়াটার সিটি’ মডেলের আওতায় উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাকোকোতে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর পরিকল্পনায় সহানুভূতি ও দায়িত্ব দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত বর্ধনশীল লাগোস শহরের জন্য মাকোকো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে নগরায়ণ, পরিবেশ ঝুঁকি ও জলবায়ু সহনশীলতা একসঙ্গে বিবেচনায় আনতে হচ্ছে। মাকোকোকে প্রায়ই ‘আফ্রিকার ভেনিস’ বলা হয়। এখানে বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মাছ ধরা, নৌকা তৈরি ও জলপথ পরিবহনকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বসতির অনানুষ্ঠানিক চরিত্র মূলত আবাসন সংকট ও পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের ফল। ২০১২ সালে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে মাকোকো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তা সমালোচনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে উচ্ছেদের বদলে উন্নয়নভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিরাপদ খুঁটির ওপর ঘর, উন্নত স্যানিটেশন ও পরিকল্পিত জলপথ উন্নয়নের প্রস্তাব এলেও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২১ সালের পর থেকে লাগোস সরকার ‘ওয়াটার সিটি’ মডেলের আওতায় জলপথ বসতিগুলোকে পরিকল্পিত ও জলবায়ু সহনশীল নগর এলাকায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়। এ মডেলে নিরাপদ বাসস্থান, উন্নত স্যানিটেশন, জলপথ পরিবহন ও জলভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাটি সফল হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি মাছ ধরা, নৌকা তৈরি ও পর্যটন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও জীবিকার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম সফল হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা নিশ্চিত করা গেলে মাকোকো আফ্রিকায় জলভিত্তিক নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
কাতারে রমজান উপলক্ষে এক হাজার পণ্যে মূল্যছাড় ঘোষণা
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0

রমজান মাসকে সামনে রেখে কাতারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় কর্মসূচি চালু করেছে। এ তালিকায় এক হাজারের বেশি পণ্য রাখা হয়েছে, যা বড় বড় খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজানে সাধারণত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে এসব পণ্য নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় আটা, চিনি, পাস্তা, মুরগি, তেল, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রয়েছে। পাশাপাশি টিস্যু, ডিটারজেন্ট, ওয়াশিং পাউডার ও অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছাড়ের তালিকা দেশের সব বড় সুপারমার্কেটে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোনো দোকান নির্ধারিত দামের বেশি নিলে তা জানাতে ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সূত্র : কাতার নিউজ এজেন্সি

ছবি : সংগৃহীত
নথিতে যেভাবে বেরিয়ে এলো অ্যান্ড্রু-এপস্টেইনের আঁতাত
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0

জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন সব অভিযোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন রাজা চার্লস।    বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যান্ড্রুর বিষয়ে ওঠা নতুন অভিযোগগুলো নিয়ে রাজা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ এবং পুলিশ যদি তদন্তের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে, তবে রাজপ্রাসাদ তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।    টেমস ভ্যালি পুলিশ বর্তমানে রাজতন্ত্রবিরোধী গোষ্ঠী ‘রিপাবলিকের’ করা একটি অভিযোগ খতিয়ে দেখছে, যেখানে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সরকারি পদের অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।   সম্প্রতি প্রকাশিত তিন মিলিয়ন নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০১০ সালে বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অ্যান্ড্রু সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ভিয়েতনাম সফরের অত্যন্ত গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জেফরি এপস্টেইনকে পাঠিয়েছিলেন।    সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য অত্যন্ত গোপনীয় রাখার কথা থাকলেও, অ্যান্ড্রু তার বিশেষ উপদেষ্টার কাছ থেকে ইমেইল পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় তা এপস্টেইনকে ফরোয়ার্ড করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্যালেসের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজা এবং রানীর সমবেদনা সবসময় সব ধরনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে রয়েছে।   এই বিতর্কের রেশ ধরে রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রিন্স এবং প্রিন্সেস অব ওয়েলসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, উইলিয়াম এবং ক্যাথরিন এই নতুন তথ্যগুলোতে গভীরভাবে বিচলিত।    এদিকে ল্যাঙ্কাশায়ারে এক অনুষ্ঠানে রাজা চার্লসকে সরাসরি অ্যান্ড্রু সম্পর্কে প্রশ্ন করে এক বিক্ষোভকারী হট্টগোল সৃষ্টির চেষ্টা করেন, যদিও উপস্থিত জনতা তাকে থামিয়ে দেয়। গত অক্টোবর ২০২৫ সালে অ্যান্ড্রুর প্রিন্স এবং ডিউক পদবি কেড়ে নেওয়ার পর থেকে তার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।   নতুন নথিতে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে অ্যান্ড্রুর বিতর্কিত আলোকচিত্র এবং তার সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের সঙ্গে এপস্টেইনের অর্থ সংক্রান্ত ইমেইল যোগাযোগ। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত সপ্তাহে অ্যান্ড্রুকে তড়িঘড়ি করে উইন্ডসরের রয়্যাল লজ থেকে সরিয়ে স্যান্ড্রিংহামের ব্যক্তিগত এস্টেটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।    যদিও অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছেন এবং এপস্টেইন নথিতে নাম থাকা মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয় বলে দাবি করছেন।   সূত্র: বিবিসি

ছবি : সংগৃহীত
চাঁদে শহর বানাতে চান মাস্ক
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, তার মহাকাশযান প্রস্তুতকারক এবং মহাকাশ যাত্রা সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এখন চাঁদে মানুষের থাকার জন্য একটি শহর তৈরির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যেই চাঁদে এই শহর বানানো সম্ভব। খবর রয়টার্সের।  আগে মাস্কের মূল লক্ষ্য ছিল মঙ্গল গ্রহে যাওয়া। কিন্তু এখন তিনি বলছেন, মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে হলে আগে চাঁদে যাওয়া জরুরি।  ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই চাঁদে একটি রোবট চালিত যান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইলন মাস্কের কোম্পানি। ১৯৭২ সালের পর মানুষ আর চাঁদে যায়নি, তাই এবার দ্রুত সেখানে ফেরার চেষ্টা চলছে।  অনেকে মনে করেন স্পেসএক্স শুধু সরকারি কাজ করে; কিন্তু মাস্ক জানালেন তাদের আয়ের খুব ছোট একটা অংশ আসে নাসা থেকে। তাদের বেশিরভাগ টাকা আয় হয় স্টারলিংক ইন্টারনেটের ব্যবসা থেকে।  এমনকি টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়েও তারা এখন এ ইন্টারনেটের প্রচার চালাচ্ছে। রোবট ও এআই নিয়ে কাজ করা ইলন মাস্কের কোম্পানি এখন মহাকাশে বড় কম্পিউটার সেন্টার বানানোর কথা ভাবছে। এ ছাড়া তার গাড়ির কোম্পানি ‘টেসলা’ এখন রোবট বানানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি