ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন। তার দাপ্তরিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ কথা জানানো হয়েছে। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। আরাগচি জানিয়েছেন, তিনি সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সমন্বয় সাধন এবং যৌথ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রবিবার মস্কোতে নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এক পোস্টে এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে, আরাগচি তার বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে সোমবার পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন। এর আগে তিনি রবিবার পাকিস্তান ও ওমানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ চলাকালে রাশিয়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে কাজ করছে। রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে, তারা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রেখে সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। রাষ্ট্রদূত জালালি বলেন, ‘ইরান ও রাশিয়া একসঙ্গে কাজ করছে এবং তারা এমন একটি বিশ্ব চায় যেখানে পশ্চিমা দেশগুলোর একক প্রভাব থাকবে না।’
মানহানি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। এজন্য সশরীরে হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে আদালতে আসেন আমির হামজা। হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২১ এপ্রিল আমির হামজার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ বিষয়ে নির্দেশ দেন। এর আগে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। তবে তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক। ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা ও জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। তার অভিযোগ, সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদকে ‘নাস্তিক’ বলে অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন আমির হামজা। সেই সঙ্গে তিনি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা ও নিখোঁজের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটররা। নিহত জামিল আহমেদ লিমন (২৭) এবং নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টি (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহর (২৬) বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) হিলসবরো কাউন্টি আদালতে উপস্থাপিত নথিতে ঘটনাটির বিস্তারিত টাইমলাইন তুলে ধরা হয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এসব নথিতে বলা হয়, জামিল লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। প্রসিকিউটররা জানান, অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনায় অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, আসামি সমাজের জন্য হুমকি এবং কোনো শর্তেই তার জামিন দেওয়া উচিত নয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, নাহিদা বৃষ্টিকেও একই এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, ব্রিজটির দক্ষিণের জলাধার থেকে মানবদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্তের উপস্থিতির ভিত্তিতে ধারণা করছেন, বৃষ্টিও নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে তার পরিবারকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল। তার পিঠের নিচে গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে, যা লিভার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তদন্তে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ লিমন ও বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে দেখা যায়। পরদিন থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আবুঘারবিয়াহ দাবি করেন, তিনি ওইদিন লিমন ও বৃষ্টিকে দেখেননি। তবে তদন্তে ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকায় তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হয়, যেখানে লিমনের মোবাইল ফোনের লোকেশনও পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, লিমন তাকে অনুরোধ করেছিলেন তাকে ও তার প্রেমিকাকে ক্লিয়ারওয়াটারে পৌঁছে দিতে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় গোয়েন্দারা লক্ষ্য করেন, অভিযুক্তের বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ ছিল। তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আঙুল কেটেছেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া একটি রসিদে দেখা যায়, ১৬ এপ্রিল তিনি ময়লার ব্যাগ, জীবাণুনাশক ওয়াইপস এবং এয়ার ফ্রেশনার কিনেছিলেন। এর আগে শুক্রবার সকালে পৃথক একটি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, মৃতদেহ সরানো, মৃত্যু গোপন এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার তার প্রাক-বিচার আটক শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তার পক্ষে হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিস থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে রবিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ৮৯টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৩৫ হাজার ৭৬৬ জন বাংলাদেশি। সৌদি পৌঁছে এখন পর্যন্ত চারজন হজযাত্রী মারা গেছেন। তারা চারজনই পুরুষ। এরমধ্য রয়েছেন—টাঙ্গাইল সদরের মো. আবুল কাশেম, জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল, দিনাজপুরের বিরামপুরের মো. খলিলুর রহমান, ময়মনসিংহের মো. সেরাজুল হক। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের মো. আবুল কাশেম হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এ ছাড়া বাকি ৩ জন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। হজ বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমে সৌদি পৌঁছেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন হজযাত্রী। এ ছাড়া বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৩২ হাজার ৪৮২ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। বুলেটিন থেকে আরো জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৩৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ১৫ হাজার ৭৪৮ জন হজযাত্রী। সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ১২ হাজার ৪৬৯ জন হজযাত্রী।ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী। হজ বুলেটিনে আরো জানানো হয়, সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রদত্ত স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করেছে ২৮৫০ জন। এছাড়া সৌদি আরবের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে ৬৯২২টি।
চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ–সংকটের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা প্রায়শই বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে ১ জিবি ফ্রি ডাটা দিচ্ছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। একটি 'পিপল-ফার্স্ট' অপারেটর হিসেবে বাংলালিংকের এ উদ্যোগের লক্ষ্য, চলমান জ্বালানি সংকটের সময়ে ভোগান্তিতে থাকা গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়া। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যেমন বিরক্তি বাড়ে, তেমনি প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরণের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফ্রি ডাটা প্যাকের ঘোষণা দিয়েছে বাংলালিংক, যাতে গ্রাহকেরা নির্বিঘ্নে তাঁদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। এই উদ্যোগের আওতায়, যেসব এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, সেসব এলাকার নির্ধারিত গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টা মেয়াদের ১ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট পাবেন। অফারটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে বাংলালিংকের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মাহবুব হাসান বলেন, সংকটের সময়ে মানুষের পাশে থাকায় বিশ্বাস করে বাংলালিংক। তিনি বলেন, "দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সংযোগে বিঘ্ন ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য কিছু করার এটিই উপযুক্ত সময়। আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য সর্বোত্তম ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ নিশ্চিত করা। তবে বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। এই উদ্যোগ গ্রাহকদের পাশে দাঁড়াতে আমাদের একটি ছোট প্রচেষ্টা।" এই উদ্যোগটি প্রয়োজনের সময়ে গ্রাহকদেরকে সহমর্মিতাপূর্ণ এবং অর্থবহ সমাধান দেওয়ার প্রতি বাংলালিংকের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের প্রজেক্ট সার্ভিসেস অফিস। রোববার (২৬ এপ্রিল) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দা সিলভা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। এতে খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে উঠতে পারে এবং লাখো মানুষ ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি সার উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পরিবহনেও এ পথের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর উন্নয়নশীল ও নিম্ন-আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ সারের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট সরাসরি খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। অন্যথায়, এই সংকট আরও গভীর হয়ে বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি মালায়া একটি সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে ৫৮তম স্থান এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ লেকচারার হিসেবে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুরের কৃতী শিক্ষাবিদ ড. শাপলা খানম। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন বাংলাদেশির আমন্ত্রণ পাওয়া যেমন গর্বের, তেমনি দেশের জন্যও মর্যাদার। ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার সন্তান ড. শাপলা খানম। আমন্ত্রণ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এশিয়ার অন্যতম সেরা এমন শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া তার কাছে স্বপ্নের মতো। নিজের যোগ্যতা, মেধা ও পরিশ্রমের ফলেই তিনি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। তার এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার বাবা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মায়ের অকৃত্রিম দোয়া, ত্যাগ এবং পরিবারের সার্বিক সমর্থন—বিশেষ করে ভাইয়ের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা—এই অর্জনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। তবে এই অর্জনের মাঝেও রয়েছে ব্যক্তিগত বেদনা। যার সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, সেই বাবা আজ আর বেঁচে নেই। সম্প্রতি পবিত্র রমজান মাসেই তিনি মাকেও হারিয়েছেন। একদিকে বড় অর্জনের আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক—এই দ্বৈত অনুভূতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাদের ভালোবাসা ও আদর্শই তার প্রধান প্রেরণা। ড. শাপলা খানম ইউনিভার্সিটি অব মালায়া থেকেই মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সাইবার সিকিউরিটি। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও পেশাগত উন্নয়নকে উৎসাহিত করার একটি বিশেষায়িত বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে গবেষণা সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করেন, ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের এই আমন্ত্রণ প্রমাণ করে—ড. শাপলা খানম শুধু একজন সফল গবেষক নন, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন আস্থাভাজন একাডেমিক ব্যক্তিত্ব।
এপ্রিলের তাপপ্রবাহ শেষে সোমবার থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টানা বৃষ্টির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশ। ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে উত্তর-পূর্বের জেলা সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শেষ হতে চলেছে এপ্রিলের তাপপ্রবাহ। এ মাসের ২০ তারিখে শুরু হওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিদায় নিয়েছে শনিবার। এ বছর এখন পর্যন্ত তাপমাত্রার পারদ উঠেছে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বলছে—সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের শঙ্কা রয়েছে। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ, পরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে বজ্রমেঘ তৈরির ঘনঘটা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এটা আজকে সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী চার দিনের জন্য।’ বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, বৃষ্টির প্রকোপ বাড়লে উজানের ঢল তীব্র হয়ে ভাটির দিকে প্রবাহিত হবে। তাই সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, খোয়াই ও কংস নদ বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘এই অঞ্চলগুলোতে হাওরে পানি প্রবেশ করতে পারে এবং সেখানে বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি থাকতে পারে। ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা মেঘালয়ের এই অংশেই বেশি, কিন্তু পরে অব্যাহত থাকলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতার ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি রয়েছে।’ ২০১৭ সালে এপ্রিলের শুরুতে ভয়াবহ বন্যায় হাওরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতি থেকে রক্ষায় এবারও বন্যা শুরুর আগেই ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কলম্বিয়ার কাউকা অঞ্চলে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৮ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার কাজিবিওর এল টুনেল এলাকায় প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে এ বিস্ফোরণ ঘটে। কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্টাভিও গুজমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক রয়েছেন এবং এটি বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার হামলা। তিনি বলেন, “এই ঘটনার শোক প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট শব্দ নেই।” একই সঙ্গে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে সরকারের কাছে কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের দাবি জানান। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতে সড়কে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন ও ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। একই সময়ে আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেজ এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর জন্য ‘ইভান মোরদিস্কো’ নেটওয়ার্ক এবং ‘জাইমে মার্টিনেজ’ গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের ‘সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট ও মাদক পাচারকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের গভর্নর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। এই হামলার পর দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের প্রজেক্ট সার্ভিসেস অফিস। রোববার (২৬ এপ্রিল) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দা সিলভা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। এতে খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে উঠতে পারে এবং লাখো মানুষ ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি সার উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পরিবহনেও এ পথের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর উন্নয়নশীল ও নিম্ন-আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ সারের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট সরাসরি খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। অন্যথায়, এই সংকট আরও গভীর হয়ে বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে অনুরোধ জানিয়েছেন। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের বড় কোনো সংকট নেই। তবে অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় জনগণের কাছে অনুরোধ—বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করুন। এখনই কোনো বড় ত্যাগ স্বীকার করতে বলছি না, তবে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ জরুরি।” প্রেসিডেন্ট উদাহরণ দিয়ে বলেন, “বাড়িতে ১০টি বাতি জ্বালানোর বদলে দুটি বাতি ব্যবহার করলে তাতে কোনো সমস্যা হবে না।” বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী তেহরানে লোডশেডিং হয়নি। তবে পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি তাদের শর্ত মেনে না চলে, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। উল্লেখ্য, ইরানের অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। পাশাপাশি পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ‘মাজউত’ নামের ভারী তেল ব্যবহার করা হয়।
ইসরাইলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ওপর আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। ইসরাইলি গণমাধ্যম জানায়, তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ার ছিল বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। বিক্ষোভকারীরা বিশেষ করে গাজায় আটকে থাকা বন্দিদের বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার তদন্ত সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার দাবিও জানান তারা। জেরুজালেমে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এছাড়া হাইফার হোরেভ সেন্টারে প্রায় এক হাজার মানুষ জমায়েত হন। দেশের আরও কয়েকটি শহরেও একই ধরনের কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। এই বিক্ষোভের আয়োজন করে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ‘মুভমেন্ট ফর কোয়ালিটি গভর্নমেন্ট’সহ বিভিন্ন সুশীল সমাজের সংগঠন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনো ৭ অক্টোবরের ঘটনার ওপর রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনে অনাগ্রহী। তার দাবি, এ ধরনের কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে গুলির ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। অনুষ্ঠানের ঠিক আগে তার দেওয়া একটি মন্তব্য এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডিনারের আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভিট বলেছিলেন, “আজ রাতে কিছু গুলি ছোড়া হবে।” তিনি মূলত ট্রাম্পের বক্তৃতায় তীব্র সমালোচনা বা কটাক্ষের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের বাইরে বাস্তবেই গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে হলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ শোনার পর প্রায় দুই হাজারের বেশি অতিথি আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন। অনেকে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সিক্রেট সার্ভিস, তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প জানান, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় লেভিটের সেই মন্তব্যের ভিডিও। অনেকেই এটিকে কাকতালীয় বলে মন্তব্য করছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও প্রশ্ন তুলছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “অদ্ভুতভাবে সত্যি হয়ে গেল।” আরেকজন বলেন, “এটা এত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেবে ভাবিনি।” অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে ঘিরে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও তুলছেন। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, লেভিটের বক্তব্যটি ছিল রূপক অর্থে ব্যবহৃত—রাজনৈতিক ভাষণে ‘শটস ফায়ার্ড’ বলতে সাধারণত তীব্র বক্তব্য বা আক্রমণাত্মক মন্তব্য বোঝানো হয়। তবুও বাস্তব ঘটনার সঙ্গে এই মন্তব্যের মিল নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।