সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
ভোটের ফল বুঝে নিয়ে কেন্দ্র ছাড়বেন— নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি বিএনপি

সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে জামায়ত নেতার ৭৪ লাখ টাকা নিয়ে আটকসহ দেশব্যাপী চলা জামায়াত নানা অনৈতিক কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।   বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।   এসময় বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর প্রচারের ঘটনাও তুলে ধরেন বিএনপি এ নেতা। এধরনের বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ঘটনায় নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।   তিনি বলেন দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পর দেশে নির্বাচন এসেছে। এটা যেন বাধা দিতে না পারে কেউ।   এসময় কেন্দ্র পাহাড়া দেয়ার পাশাপাশি ভোটের ফলাফল বুঝে না নেয়ার আগ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র না ছাড়তে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।

৪৭ মিনিট আগে
প্রিজাইডিং অফিসারকে ধাক্কা, জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের হাতাহাতি

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঢাকা-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের নথিপত্রে স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, হাতাহাতি ও প্রিজাইডিং অফিসারকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের জুবলি স্কুল কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র (ডকুমেন্টস) জমা দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের বাধা দেন। হাতাহাতির একপর্যায়ে প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল হককে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।    এই ঘটনায় জামায়াতের পোলিং এজেন্টসহ অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।    প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল হক বলেন, কারও ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি; শুধু কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা সরে যাই।   তিনি বলেন, জামায়াতের পোলিং এজেন্টের কার্ডে স্বাক্ষর দিতে আসায় অনুমানভিত্তিক অভিযোগ এনে একটি পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এরপর সেখানে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমাদের আরেক সহকর্মীর ওপর বোতল নিক্ষেপ করা হয়। আমাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   ঘটনার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান অনু, ফরিদ উদ্দিন, জাবেদ কামাল রুবেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।   ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান অনু জানান, একপাক্ষিকভাবে নথিপত্র গ্রহণ করায় সন্দেহ থেকে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।    তিনি দাবি করেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, কেবল কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে।   কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত কমিশনার (এসি) মো. ফজলুর হক জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হয়েছে।

৫০ মিনিট আগে
রাজধানীতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন : জামায়াত কর্মীসহ ৫ জনের কারাদণ্ড

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাঘাত ঘটানোর দায়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।   বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার পৃথক তিনটি স্থানে এই অভিযান ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   পুলিশ জানায়, বুধবার রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় ভোটারদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণের প্রস্তুতিকালে হাবিবুর রহমান নামে এক জামায়াত কর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় লালবাগ বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলেই আদালত পরিচালনা করে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেন।   সাজাপ্রাপ্ত হাবিবুরের কাছ থেকে ১২টি খাম জব্দ করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ৫০০ টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা ছিল। জব্দ করা টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   এদিকে ওয়ারী বিভাগে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার অপরাধে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের অপরাধ আমলে নিয়ে একজনকে এক মাস ও অন্যজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।   অন্যদিকে, মতিঝিল বিভাগের মুগদা এলাকায় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ও নেতিবাচক মন্তব্য করায় দুই ব্যক্তিকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ৭৫ ধারায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুর রহমান এ রায় দেন।   ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

৫২ মিনিট আগে
ভোটের সব তথ্য মিলবে এক ক্লিকেই, স্মার্ট হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে ভোটাররা ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে তাদের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র ও প্রার্থী সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নিমিষেই জানতে পারবেন।   ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই স্মার্ট সেবার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   অ্যাপের নাম ও প্রাপ্তিস্থান:   ইসি জানায়, অ্যাপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Smart Election Management BD’। ভোটারদের সুবিধার্থে অ্যাপটি ইতোমধ্যে গুগল প্লে স্টোর (Android) এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে (iOS) অবমুক্ত করা হয়েছে।   অ্যাপ থেকে যেসব সুবিধা পাবেন ভোটাররা: অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন ভোটার নিচের সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন— ভোটকেন্দ্র শনাক্তকরণ : জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে সহজেই নিজের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যাবে।   ম্যাপ ও লোকেশন : কেন্দ্রের নাম ও ঠিকানার পাশাপাশি এতে রয়েছে জিও-লোকেশন (Geo-location) সুবিধা। এর মাধ্যমে ভোটার তার বর্তমান অবস্থান থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব এবং যাওয়ার সঠিক পথ ম্যাপে দেখতে পাবেন।   প্রার্থীর হলফনামা : নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অ্যাপটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। প্রার্থীর শিক্ষা, সম্পদ ও হলফনামা সরাসরি দেখার সুযোগ থাকায় ভোটাররা সচেতনভাবে সঠিক প্রার্থী বেছে নিতে পারবেন।   লাইভ ফলাফল : নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের ফলাফল এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি আপডেট করা হবে। ফলে ফলাফল নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ থাকবে না।   স্বচ্ছতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি: ইসি আশা করছে, এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তথ্য খুঁজতে হবে না। নতুন এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভোটের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে। প্রার্থীর যোগ্যতা ও সম্পদ সম্পর্কে ভোটাররা সরাসরি তথ্য পাওয়ায় নির্বাচনে স্বচ্ছতা আরও সুসংহত হবে।

৫৪ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
১৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান : রাত পোহালেই ত্রয়োদশ সংসদ ভোট

রক্তস্নাত জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম, দীর্ঘ দেড় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উদিত হতে যাচ্ছে এক নতুন সূর্য। ভোটাধিকারবঞ্চিত কোটি মানুষের দীর্ঘ আক্ষেপ ঘুচিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট’। ফ্যাসিবাদের পতনের পর আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে— তা ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে উন্মুখ হয়ে আছে গোটা জাতি।   নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণ প্রজন্ম। মোট ভোটারের প্রায় ৪৫ শতাংশ ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ। এছাড়া, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।   শুরু হচ্ছে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর ভোটযুদ্ধ: সংসদ ভোটে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। এ নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে লড়ছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন।   মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এবারের নির্বাচনে সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকি সামলাতে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।   মোট ভোটার ১২ কোটি, এগিয়ে পুরুষরা:   নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চলতি বছর তিনবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে ভোটেরযোগ্য মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।   এই বিশাল ভোটারকে সামলাতে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করেছে ইসি। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। আর ভোটারদের ভোট নিতে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দায়িত্ব পালন করবেন।   ইসি জানিয়েছে, আগামীকালের সংসদ ভোটে সেনাবাহিনী (১ লাখ ৩ হাজার), পুলিশ (১ লাখ ৮৭ হাজার), আনসার (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন), বিজিবি (৩৭ হাজার ৪৫৩), নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও বিএনসিসি মিলিয়ে মোট ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার নির্বাচনে সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করছে।   ভোটের মাঠে ৫৪০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক:   নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে এসেছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জনসহ কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।     নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং সন্তোষজনক। তবে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ৩০০টি মামলা দায়ের এবং ৫০০টিরও বেশি তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দুষ্টচক্র সহিংসতা ঘটাতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। কুমিল্লা, যশোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান তারই প্রমাণ।   ফিরে দেখা নির্বাচনী ইতিহাস:    প্রথম সংসদ  নির্বাচন: স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ওই নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন জয় পায় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১১টি আসনে দলটির প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ১৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিরোধীদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচজন প্রার্থী বিজয়ী হন। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৬১ শতাংশ। এই সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।   দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির নামক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের অধীনে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১.২৯ শতাংশ। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। বাকি ৯৩ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাতীয় লীগ দুটি, আওয়ামী লীগ (মিজান) দুটি, জাসদ আটটি, মুসলিম ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, ন্যাপ একটি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট দুটি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল একটি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল একটি এবং জাতীয় একতা পার্টি একটি আসনে জয়ী হয়। ১৬টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল তিন বছর।   তৃতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির অধীনে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও প্রথমবারের মতো ভোট বর্জন করে বিএনপি। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬৬.৩১ শতাংশ। অংশ নেয় ২৮টি রাজনৈতিক দল। জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলগুলো পায় ১১৫টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ন্যাপ (মোজাফফর) দুটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পাঁচটি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) তিনটি, জাসদ (রব) চারটি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, মুসলিম লীগ চারটি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসন পায়। বাকি ৩২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৭ মাস।   চতুর্থ সংসদ নির্বাচন: ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব চতুর্থ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলই বর্জন করে। নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। পরে ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এরশাদ। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১.৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেন সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)। এছাড়া জাসদ (সিরাজ) তিনটি ও ফ্রিডম পার্টি দুটি আসনে জয় পায়। বাকি ২৫টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।   পঞ্চম সংসদ নির্বাচন: এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৭৫টি দল অংশ নেয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৪৫ শতাংশ। বিএনপি ১৪০টি আসনে জয় পায়। আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি পাঁচটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়। বাকি তিনটি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। পরে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট ক্ষমতা যায়। আর আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকে। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।   ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন: ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়রির অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ দুটি দল অংশ নেয়। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া এ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো দল বর্জন করে। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়া ১০টি আসনের ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৬.৫৪ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন।   সপ্তম সংসদ নির্বাচন: ১৯৯৬ সালের ১২ জনু সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধয়াক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৮৮ দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ২৫৪৭ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে জোটগতভাবে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪.৯৬ শতাংশ। ৮১ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাসদ একটি করে আসন পায়। বাকি একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।   অষ্টম সংসদ নির্বাচন: ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৫৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ১৯৩৯ জন প্রার্থী ছিলেন। ভোট পড়েছিল ৭৫.৫৯ শতাংশ। এ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (নাজিউর) চারটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি, ইসলামিক ঐক্যজোট দুটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি আসন পায়। বাকি ছয়টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।     নবম সংসদ নির্বাচন: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটসহ ৩৮ দল অংশ নেয়। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি প্রথম ভোট। নির্বাচনে ১৫৭৬ জন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭.১৩ শতাংশ। আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। বাকি চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।   দশম সংসদ নির্বাচন: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সাতটি দল অংশ নেয়। এতে ১৫৩টি আসনে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৪টি আসনে জয় পায়। অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি ৩৪টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ (ইনু) পাঁচটি, তরিকত ফেডারেশন দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুটি, বিএনএফ একটি আসনে জয় পায়। বাকি ১৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০.০৪ শতাংশ। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।   একাদশ সংসদ নির্বাচন: ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় একাদশ সংসদ নির্বাচন। কাগজে–কলমে এটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও ‘রাতের ভোট’ হিসেবে বেশি পরিচিত এই নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ নিবন্ধিত ৩৯টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। প্রার্থী ছিল ১৮৬৫ জন। ভোট পড়েছিল ৮০.২০ শতাংশ। আওয়ামী লীগ ২৫৮টি আসন নিয়ে টানা তৃতীয়বার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। আর ২২টি আসন নিয়ে সংসদের বিরোধী দল হয় এরশাদের জাতীয় পার্টি। বিএনপি ছয়টি, গণফোরাম দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।   দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন: সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগসহ নিবন্ধিত ২৮টি দল এতে অংশ নেয়। বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল ভোট বর্জন করে। মোট প্রার্থী ছিল ১৯৭০ জন। ভোট পড়েছিল ৪১.৮ শতাংশ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পায়। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ও কল্যাণ পার্টি একটি করে আসন পায়। বাকি ৬২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করে। এটি ‘আমি’ ও ‘ডামি’ নির্বাচন নামে পরিচিত লাভ করে। সংসদ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মাস সাত দিন।   ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ওই দিন রাতেই রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ৮ আগস্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে লড়বেন ১৭৫৫জন প্রার্থী | ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন নিয়ে ভোটারের ১২ প্রশ্ন ও উত্তর

আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।   নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে লড়বেন ১৭৫৫জন প্রার্থী। আর নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করবেন দেশের পৌনে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটার। এর মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটারই তরুণ, যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। আর ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা দুই কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এবার ভোটারদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটও দিতে হবে। এদিকে, এবার ভোটগ্রহণের সময়ও এগিয়ে আনা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে আরও এক ঘণ্টা। বহুল কাঙ্ক্ষিত এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর ৭ ঘণ্টারও কম সময় হাতে রয়েছে। এরই মাঝে গুগল ও স্যোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, নির্বাচনে ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ। ইলেকশন ২০২৬, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি ২০২৬, ভোটার স্লিপ বিডি, ভোটার নম্বর চেক অনলাইন, ভোট সেন্টার চেক, ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম- এমন নানা শব্দ গুগলে লিখে এ সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাচ্ছে তারা। কেবল দুইটি শব্দ বাংলায় লিখে সার্চ করেছেন বা খুঁজেছেন ভোটাররা। তবে বেশিভাগ শব্দই ইংরেজিতে লিখে সেটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। গুগল বা সামাজিক মাধ্যমে মানুষ জানতে চেয়েছেন এমন বেশ কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর এই লেখায় তুলে ধরা হলো। ইলেকশন ২০২৬ গুগল সার্চের একদম উপরে রয়েছে এই শব্দটি। জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এরকম আরও কয়েকটি শব্দ দিয়ে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কেই বেশি জানতে চেয়েছেন। চলুন তাহলে সংক্ষেপে জেনে নিই, জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ১. নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯ টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১ টি দল। ২. বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১ দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। ৩. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিও এবারই প্রথমবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে। ৪. নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবার ভোটে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া নিবন্ধিত দল হলেও ভোট করছে না জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ইত্যাদি দল। ৫. নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে এবারের নির্বাচনে। সারাদেশের আসনভিত্তিক যে ভোটার তালিকা ইসি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার। এছাড়া হিজড়া ভোটার এক হাজার ১২০ জন। ভোট কখন শুরু, কখন শেষ? অতীতে দেশে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোতে সাধারণত সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হতো এবং বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারতেন। কিন্তু এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। ভোট সেন্টার চাঁদপুরের ভোটার সেলিনা আক্তারের মতো অনেক ভোটারই এবার নিজের ভোটকেন্দ্র নিয়ে এখনও সংশয়ে ভুগছেন। তবে সেলিনা আক্তারের মতো অনেকেই গুগলে নিজের ভোটকেন্দ্র কোনটি সেটি বের করতে ভোট সেন্টার চেক, ভোট সেন্টার এমন বেশ কিছু শব্দ দিয়ে তথ্য জানতে চাচ্ছেন। গুগল ট্রেন্ড ঘেঁটে দেখা যায়, গত একদিনে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি সার্চ করা হয়েছে সেটি হলো, ভোট সেন্টার চেক বিডি বা ভোট কেন্দ্র চেক। অর্থাৎ ভোটাররা এখনো তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি নিয়ে জানতে চান। এমন ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন এবার অ্যাপ, হটলাইন নম্বর, এসএমএস সেবা চালু করেছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়েও ভোটার তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি সম্পর্কে জানতে পারবেন। ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্র নামে একটি অপশন রয়েছে। সেখানে ভোট কেন্দ্র অনুসন্ধানের জন্য দুইটি তথ্য দিতে হয়। একটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং অপরটি জন্ম তারিখ। এই দুই তথ্য লিখে অনুসন্ধানে ক্লিক করলেই দেখা যায়, ভোট কেন্দ্রের তথ্যের বিস্তারিত পাওয়া গেছে। ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, ভোট কেন্দ্রের নাম এবং কেন্দ্রের অবস্থানও ম্যাপে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬ গুগল ট্রেন্ডের সার্চের একেবারে শুরুর দিকে এই শব্দটি পাওয়া যাচ্ছে। মূলত স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি, একটি অ্যাপ, যেটি নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নানা তথ্য পাওয়ার জন্য চালু করেছে। এই অ্যাপে ঢুকে একজন ভোটার তার ১০ নম্বর অথবা ১৩ নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই তার ভোটকেন্দ্র পেয়ে যাবেন। আবার ভোটার নম্বরও এই অ্যাপে পাওয়া যাবে। ভোটার নাম্বার বের করার নিয়ম অনেক ভোটার তাদের সিরিয়াল নম্বর চেক, ভোটার নম্বর চেক এবং ভোটার সিরিয়াল নম্বর বের করার নিয়ম জানতে চেয়ে সার্চ করছেন। এসব তথ্য যাতে ভোটার পূর্ণাঙ্গভাবে পায় সে কারণে নির্বাচন কমিশন নিজেদের ওয়েবসাইট, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি অ্যাপ, এসএমএস, হটলাইন নম্বরে ফোন করে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যে কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫ এ ফোন করে নিজের ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার নম্বর বের করতে পারবেন। ১০৫ এ ফোন করে অপারেটরের সাথে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। পরে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার নম্বর যেমন জানা যাবে তেমনি ভোট কেন্দ্রের নামও জানতে পারবেন ভোটাররা। ভোটার স্লিপ গুগল ট্রেন্ডে ঘেঁটে দেখা যায়, ভোটার স্লিপ, ভোটার স্লিপ চেক, ভোটার স্লিপ পিডিএফ ডাউনলোড ২০২৬ এমন শব্দ লিখে ভোটাররা গত সাতদিনে তথ্য খুঁজেছেন। ১. ভোটার স্লিপ হচ্ছে এমন একটি তথ্য সংবলিত কাগজ, যেখানে ভোটারের নামের পাশাপাশি ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্র লেখা থাকে। ২. বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেখা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার, কাউন্সিলর বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটারের নম্বর, ভোটকেন্দ্র সংবলিত একটি স্লিপ দেওয়া হতো। ৩. কিন্তু এই ভোটার স্লিপ আসলে সরকারি কোনো স্লিপ নয়। এবার বেশিভাগ জায়গাতেই এসব স্লিপ দেওয়া হয়নি। ৪. এবার এই স্লিপ ভোটাররা পাননি যেটি বিবিসি বাংলাকে মিজ আক্তারই বলেছিলেন। ৫. কোনোভাবেই ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে সেলফি তুলতে পারব? জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রথমবার দেবেন এমন ভোটাররা হয়তো ছবি তুলে রাখতে চাইবেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়। পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে এবং ছবিও তোলা যাবে। কিন্তু কোনোভাবেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। অর্থাৎ ভোটাররা বুথের যে গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন সেখানে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি বা সেলফি তোলার সুযোগ নেই। মুখের নিকাব খুলতে হবে? নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসারের দায়িত্বই হলো ভোটারের চেহারার দিকে তাকানো। ওই কর্মকর্তার কাছে থাকা ভোটার তালিকার ছবির সাথে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখে তিনি উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ও ভোটার নম্বর বলবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, আইন অনুযায়ী ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে থাকবে। ভোট দেওয়ার আগে ভোটারের চেহারার সঙ্গে তালিকাভুক্ত ছবির মিল করতেই হবে। এটি ভোট পরিচালনা বিধির বাধ্যতামূলক অংশ। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মুখ না দেখান, তাহলে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার দেওয়া যাবে না। তবে পর্দানশিন নারীদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করছে কমিশন। তিনি বলেন, নারী ভোটার যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব খুলতে না চান, তাহলে মহিলা পোলিং অফিসারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। নারী ভোটার নারীর কাছে মুখ খুললে পর্দা ভঙ্গ হবে না বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। ভোট কেন্দ্রে বাচ্চা নেওয়া যাবে? সন্তানের বয়স যদি প্রতীক বোঝার মতো না হয়, তাহলে যে কোনো মা ভোটার ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষেও ওই সন্তানকে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু যদি প্রতীক বোঝার মতো বয়সী কোনো সন্তান হয়, সেক্ষেত্রে ওই সন্তানকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারলেও তাকে বাইরে রেখেই ভোটারকে ভোট কক্ষে ঢুকতে হবে। গণভোটের ব্যালট ফেলব কোন বাক্সে? সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি ব্যালটেই একই সাথে ভোট দিতে হবে। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের জন্য যে ব্যালট থাকবে সেটি হবে সাদাকালো, আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রংয়ের। দুইটি ব্যালট পেপার এক বাক্সে ফেলবেন কিনা, এ বিষয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন অনেক ভোটার। এই বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবারহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের বাক্স হিসাবে ব্যবহৃত হবে। ভোটারগণ ভোট প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন।’ অর্থাৎ, ভোটার জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালটে সিল দেওয়ার পর সেটি একই বাক্সে ফেলবেন। ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে? কেননা এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে সময় বেশি লাগবে।সেটি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন সেটি জানিয়ে দিয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্র থেকে গণনার পরে সেই ফলাফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়। সেখান থেকে সেটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়। এরপর সেখান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সাধারণত বাংলাদেশের বেতার ও টেলিভিশনে এসব ফলাফল প্রচার করা হয়। অতীতের সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মধ্যরাত নাগাদ কোন আসনে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে, সেই সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এবার গণভোট এক সাথে গণনার ফলে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। তবে, ধারণা করা হচ্ছে, অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে শুক্রবার দুপুর কিংবা বিকেল হয়ে যেতে পারে। ফলাফল নিয়ে আপত্তি না থাকলে, যাচাই বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেটাই আনুষ্ঠানিক সরকারি ফলাফল। এটা আসতে আসতে শনিবার বা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যের শপথ পড়ানোর বিধান রয়েছে। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন কে? গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তিন দিন পরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, যেহেতু জাতীয় সংসদ কার্যকর নেই তাহলে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন কে? এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন। অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা চায় উল্লেখ করে আসিফ নজরুল আরও জানিয়েছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথের সম্ভাবনা বেশি।

ছবি: সংগৃহীত
ভোটের ফল বুঝে নিয়ে কেন্দ্র ছাড়বেন— নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি বিএনপি

সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে জামায়ত নেতার ৭৪ লাখ টাকা নিয়ে আটকসহ দেশব্যাপী চলা জামায়াত নানা অনৈতিক কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।   বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।   এসময় বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর প্রচারের ঘটনাও তুলে ধরেন বিএনপি এ নেতা। এধরনের বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ঘটনায় নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।   তিনি বলেন দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পর দেশে নির্বাচন এসেছে। এটা যেন বাধা দিতে না পারে কেউ।   এসময় কেন্দ্র পাহাড়া দেয়ার পাশাপাশি ভোটের ফলাফল বুঝে না নেয়ার আগ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র না ছাড়তে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।


ছবি: সংগৃহীত
তারুণ্যের উদ্দেশে জামায়াত আমির আগামীকালের দিনটি তোমাদের, তোমরা ইতিহাস গড়তে চলেছো

আগামীকালের দিনটি তোমাদের। তোমরাই রক্তের বিনিময়ে এই দিনটি অর্জন করেছো। তাই দৃঢ়তার সঙ্গে লাইনে দাঁড়াবে; কোনো ভয় বা রক্তচক্ষু পরোয়া করবে না। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের ভোট দেবে।   বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারুণ্যের উদ্দেশ্য এসব কথা লিখেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   পোস্টে তিনি আরও লেখেন, আগামীকাল তোমরা ইতিহাস গড়তে চলেছো। তাই সারাদিনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ছবি তুলে ও ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বকে তোমাদের এই ভোট উৎসব-এর কথা জানিয়ে দাও।    জামায়াত আমির বলেন, তোমাদের ভোট কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কারো নেই। আর তোমার মুঠোফোন ব্যবহারের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতাও কারো নেই। এগুলো তোমার নাগরিক অধিকার। তাই বুদ্ধিমত্তার সাথে তোমার মোবাইলের সর্বোত্তম ব্যবহার কর। তবে খেয়াল রেখো, ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষের (Voting Booth) ভেতরে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে জামায়াত আমিরের এমন পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে নেটিজেনদের মাঝে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করেন।    সাইদুল করিম আফনান নামে একজন লিখেছেন, এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হবে প্রায় চার কোটি তরুণ প্রজন্মের নতুন ভোটার। ওরা যেদিকে হেলবে নির্বাচনও সেদিকেই মোড় নেবে।   তরিকুল হাসান লেখেন, তারুণ্য, সিদ্ধান্ত তোমাদের হাতে। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার শক্তি আজ তরুণদের হাতে। স্বপ্ন, সাহস আর সততার পথেই হোক প্রথম পদক্ষেপ। তারুণ্যের প্রথম ভোট হোক ইনসাফের পক্ষে। ন্যায়, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের অঙ্গীকারে আমরাই গড়বো একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ। সময় এখন তারুণ্যের। সময় এখন সঠিক সিদ্ধান্তের।

ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ায় ভোটকেন্দ্রের সামনে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাত

বগুড়ার ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মিলন মিয়া (২২) ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকাশী ইউনিয়নের হটিয়ারপাড়া ভোটকেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে।   আহত মিলন মিয়া চিকাশী ইউনিয়নের ছোনপঁচা গ্রামের ইদ্রীস আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   চিকাশী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ধানের শীষ প্রতীকের একজন এজেন্টের ছবি নিয়ে মিলন ভোটকেন্দ্রের সামনে দিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে মিলনের মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়।   ধুনট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলম হাসান বলেন, আহত ছাত্রদল নেতা মিলন মিয়াকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দিয়েছেন।   ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদল নেতা মিলন মিয়ার মাথায় ছুরিকাঘাতের বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের লোকজনের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি: সংগৃহীত
ভোটের সব তথ্য মিলবে এক ক্লিকেই, স্মার্ট হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে ভোটাররা ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে তাদের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র ও প্রার্থী সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নিমিষেই জানতে পারবেন।   ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই স্মার্ট সেবার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   অ্যাপের নাম ও প্রাপ্তিস্থান:   ইসি জানায়, অ্যাপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Smart Election Management BD’। ভোটারদের সুবিধার্থে অ্যাপটি ইতোমধ্যে গুগল প্লে স্টোর (Android) এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে (iOS) অবমুক্ত করা হয়েছে।   অ্যাপ থেকে যেসব সুবিধা পাবেন ভোটাররা: অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন ভোটার নিচের সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন— ভোটকেন্দ্র শনাক্তকরণ : জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে সহজেই নিজের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যাবে।   ম্যাপ ও লোকেশন : কেন্দ্রের নাম ও ঠিকানার পাশাপাশি এতে রয়েছে জিও-লোকেশন (Geo-location) সুবিধা। এর মাধ্যমে ভোটার তার বর্তমান অবস্থান থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব এবং যাওয়ার সঠিক পথ ম্যাপে দেখতে পাবেন।   প্রার্থীর হলফনামা : নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অ্যাপটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। প্রার্থীর শিক্ষা, সম্পদ ও হলফনামা সরাসরি দেখার সুযোগ থাকায় ভোটাররা সচেতনভাবে সঠিক প্রার্থী বেছে নিতে পারবেন।   লাইভ ফলাফল : নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের ফলাফল এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি আপডেট করা হবে। ফলে ফলাফল নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ থাকবে না।   স্বচ্ছতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি: ইসি আশা করছে, এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তথ্য খুঁজতে হবে না। নতুন এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভোটের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে। প্রার্থীর যোগ্যতা ও সম্পদ সম্পর্কে ভোটাররা সরাসরি তথ্য পাওয়ায় নির্বাচনে স্বচ্ছতা আরও সুসংহত হবে।

ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন : জামায়াত কর্মীসহ ৫ জনের কারাদণ্ড

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাঘাত ঘটানোর দায়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।   বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার পৃথক তিনটি স্থানে এই অভিযান ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   পুলিশ জানায়, বুধবার রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় ভোটারদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণের প্রস্তুতিকালে হাবিবুর রহমান নামে এক জামায়াত কর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় লালবাগ বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলেই আদালত পরিচালনা করে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেন।   সাজাপ্রাপ্ত হাবিবুরের কাছ থেকে ১২টি খাম জব্দ করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ৫০০ টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা ছিল। জব্দ করা টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   এদিকে ওয়ারী বিভাগে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার অপরাধে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের অপরাধ আমলে নিয়ে একজনকে এক মাস ও অন্যজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।   অন্যদিকে, মতিঝিল বিভাগের মুগদা এলাকায় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ও নেতিবাচক মন্তব্য করায় দুই ব্যক্তিকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ৭৫ ধারায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুর রহমান এ রায় দেন।   ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজ ক্লিপস

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
১৭ ফেব্রুয়ারি সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যেসব এলাকায়
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0

ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে আকাশে ঘটতে যাচ্ছে একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা—বলয়াকার সূর্যগ্রহণ, যা অনেকেই ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের বলয় বলে ডাকে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী ভারত থেকেও দেখা যাবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে তখন, যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে, কিন্তু চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকায় পুরো সূর্য ঢেকে দিতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল একটি বলয় দেখা যায়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণটি আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ১ মিনিটে (ইউটিসি) শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি দুপুর ১টা ১ মিনিটে শুরু হবে। বলয়াকার অংশটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে, তবে পৃথিবীর খুব সীমিত কিছু এলাকায় এই দৃশ্য দেখা যাবে। মূলত অ্যান্টার্কটিকার কিছু দুর্গম এলাকা, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে আংশিকভাবে গ্রহণ দেখা যেতে পারে। ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই গ্রহণের বাইরে থাকবে। তাই এ অঞ্চলের মানুষ সরাসরি এটি উপভোগ করতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সূর্যগ্রহণ দেখার সময় চোখের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা গ্রহণ দেখতে পাবেন, তাদের অবশ্যই অনুমোদিত (আইএসও ১২৩১২-২ মানসম্পন্ন) সূর্যগ্রহণ চশমা ব্যবহার করতে হবে। খালি চোখে বা সাধারণ চশমা পরে সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১০
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় হামলাকারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, স্কুলের ভেতরেই সন্দেহভাজন হামলাকারীর লাশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা যান। এছাড়া কমিউনিটির একটি আবাসিক ভবন থেকে আরও দুজনের লাশ পাওয়া গেছে।   হামলার পরপরই টাম্বলার রিজ পুলিশ সতর্কতা জারি করে। বর্তমানে দ্বিতীয় কোনো সন্দেহভাজন জড়িত ছিলেন কিনা এবং প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কত তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার ছোট এই শহরের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা মোতায়েন করা হয়েছে।   পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, ঘটনার পর টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল এবং টাম্বলার রিজ এলিমেন্টারি স্কুলে ‘লকডাউন’ ও ‘সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ জারি করা হয়।   পিস রিভার সাউথের আইনপ্রণেতা ল্যারি নিউফেল্ড বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তবে চলমান অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।   প্রাদেশিক সরকারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা ও হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।   সূত্র: বিবিসি

ছবি : সংগৃহীত
লাগোসের মাকোকো বস্তি হলেও এটি আফ্রিকার ভেনিস হিসেবে পরিচিত
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0

নাইজেরিয়ার লাগোসে লেকের ওপর গড়ে ওঠা মাকোকো বসতিকে ঘিরে নতুন করে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বহু বছর ধরে এটিকে উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই এলাকাকে এবার ‘লাগোস ওয়াটার সিটি’ মডেলের আওতায় উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাকোকোতে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর পরিকল্পনায় সহানুভূতি ও দায়িত্ব দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত বর্ধনশীল লাগোস শহরের জন্য মাকোকো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে নগরায়ণ, পরিবেশ ঝুঁকি ও জলবায়ু সহনশীলতা একসঙ্গে বিবেচনায় আনতে হচ্ছে। মাকোকোকে প্রায়ই ‘আফ্রিকার ভেনিস’ বলা হয়। এখানে বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মাছ ধরা, নৌকা তৈরি ও জলপথ পরিবহনকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বসতির অনানুষ্ঠানিক চরিত্র মূলত আবাসন সংকট ও পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের ফল। ২০১২ সালে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে মাকোকো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তা সমালোচনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে উচ্ছেদের বদলে উন্নয়নভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিরাপদ খুঁটির ওপর ঘর, উন্নত স্যানিটেশন ও পরিকল্পিত জলপথ উন্নয়নের প্রস্তাব এলেও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২১ সালের পর থেকে লাগোস সরকার ‘ওয়াটার সিটি’ মডেলের আওতায় জলপথ বসতিগুলোকে পরিকল্পিত ও জলবায়ু সহনশীল নগর এলাকায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়। এ মডেলে নিরাপদ বাসস্থান, উন্নত স্যানিটেশন, জলপথ পরিবহন ও জলভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাটি সফল হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি মাছ ধরা, নৌকা তৈরি ও পর্যটন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও জীবিকার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম সফল হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা নিশ্চিত করা গেলে মাকোকো আফ্রিকায় জলভিত্তিক নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
কাতারে রমজান উপলক্ষে এক হাজার পণ্যে মূল্যছাড় ঘোষণা
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0

রমজান মাসকে সামনে রেখে কাতারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় কর্মসূচি চালু করেছে। এ তালিকায় এক হাজারের বেশি পণ্য রাখা হয়েছে, যা বড় বড় খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজানে সাধারণত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে এসব পণ্য নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় আটা, চিনি, পাস্তা, মুরগি, তেল, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রয়েছে। পাশাপাশি টিস্যু, ডিটারজেন্ট, ওয়াশিং পাউডার ও অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছাড়ের তালিকা দেশের সব বড় সুপারমার্কেটে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোনো দোকান নির্ধারিত দামের বেশি নিলে তা জানাতে ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সূত্র : কাতার নিউজ এজেন্সি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি