সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে সংবর্ধিত হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো একদিনের সফরে আজ মঙ্গলবার সিলেট আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে সুরমা তীরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা।      রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন রাষ্ট্রপতি। সেখান থেকে সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ ও বিশ্রাম শেষে হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।        পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ৩টায় সিলেট নগর ভবনের সামনে সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে রাত ৮টায় তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।         সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরো পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এসএসএফ, জেলা প্রশাসন ও সিসিকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে।        নাগরিক সংবর্ধনার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, নগর ভবনের সামনে ১ হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

৯ ঘন্টা আগে
চার শত কোটি টাকার প্রকল্পের পরও ইলিশের প্রজনন সংকটে বাংলাদেশ

একসময়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইলিশ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন অদ্ভুত এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। দেশের বাজারে পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় এবং দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রতিবেশী ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে ইলিশ আমদানি করতে হচ্ছে।     বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস তথা জুলাই ও আগস্টে ১৯টি নিবন্ধিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে তিন লাখ কেজির (৩৫০ টন) বেশি ইলিশ আমদানি করেছে। দেশীয় বাজারে ইলিশের তীব্র সংকট, মাছের আকাশছোঁয়া দাম এবং আমদানিকৃত মাছের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই বাণিজ্যে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছেন।     আমদানির নেপথ্য কারণ ও গুজরাটি ইলিশের আধিক্য: সংশ্লিষ্ট সূত্র, কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদী দূষণ, নির্বিচারে জাটকা নিধন, কারেন্ট জালের ব্যবহার, বালু উত্তোলন এবং সমুদ্রপথে অনিয়ন্ত্রিত মাছ শিকারের কারণে বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশীয় বাজারে পদ্মার ইলিশের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং ভালো মানের এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।     এর বিপরীতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে গুজরাটের ভারুচ ও নর্মদা নদীর মোহনা অঞ্চলে এ বছর প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়েছে, যার ফলে সেখানে মাছের উদ্বৃত্ত জোগান ও অপেক্ষাকৃত কম দাম নিশ্চিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, গত দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে, যার সিংহভাগই আসছে সুদূর গুজরাট থেকে। গুজরাটের এই ইলিশগুলো আকৃতিতে বড় এবং প্রচুর ডিমে ভরপুর থাকায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলোর চাহিদা রয়েছে। কম দামে কিনে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আনার পর কম খরচে বিক্রি করা সম্ভব হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এতে বেশ লাভবান হচ্ছেন।     মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে এই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ আইনগতভাবে ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। তবে বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের সিংহভাগ (প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ) যে দেশটিতে উৎপন্ন হয়, সেই দেশেই ভারতের মাছের ওপর নির্ভরতা তৈরি হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্বেগের বিষয়।     ইলিশ গবেষকরা মনে করছেন, ইলিশের মাইগ্রেটরি রুট বা চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। চার শ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নেওয়া বিগত ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ সংশ্লিষ্টরাই। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, কেবল সাময়িক আমদানির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে, বরং ইলিশের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা এবং জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, নতুবা ঐতিহ্যবাহী এই মাছের বাজার চিরতরে হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।       এখন বাংলাদেশ শুধু আমদানি করছে তা নয়। গত অর্থবছরে ইলিশ রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চরম ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। কর্মকর্তারা বলছেন, বারশ টন রফতানির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সেবার ১১০ টনেরও কম ইলিশ রফতানি করেছে। যদিও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ছয় বছর মেয়াদি প্রকল্প ২০২০ সালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি কতটা কার্যকর হয়েছে এখন সেই প্রশ্নও তুলেছেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডঃ মোঃ খালেদ কনক নিজেও।       তিনি বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চারশ কোটি টাকার প্রকল্প ছিল। গত সরকারের সময়ে সেটি কতটা কাজে লাগল কিংবা গাফিলতি ছিল কি-না সবকিছু খতিয়ে দেখতে হবে। ইলিশ উৎপাদন কমলো কেন সেটি বের করতে হবে।’       ভারত থেকে ইলিশ আমদানি সরকার কিভাবে দেখছে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ না এবং অল্প স্বল্প আগেও বিভিন্ন সময় এসেছে। এবার বাজারে ইলিশ কম দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আবেদনে সীমিত পরিসরে কিছু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইলিশ সাগরের মাছ। প্রজননের জন্য নদীতে আসে। সমুদ্র থেকে হয়তো ওরা (ভারতীয়রা) ধরে ফেলছে। আমাদের মজুত কমছে। এসব কারণেই অল্প পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।       যদিও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের কয়েকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা ইলিশের সর্বোচ্চ ক্রয় মূল্য পড়ে দুই ডলার ( প্রায় ২৪৬ টাকা) কিংবা তারও কম। এরপর দেশে কাস্টমসসহ নানা শুল্কসহ বিভিন্ন ব্যয় শেষে এর যা দাম পড়ে তা বাংলাদেশের বাজারের একই ওজনের একটি ইলিশের চেয়ে অনেক কম।     বাজারে সংকট কতটা গত কয়েক সপ্তাহে ঢাকার বাজারে দেখা গেছে ৫শ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকা, ১ কেজির ওপরে ২৮০০, আটশ/নয়শ গ্রামের মাছ ২২-২৪শ এবং ৭শ গ্রামের ইলিশ ১৮শ টাকা কিংবা এসব দামের কাছাকাছি মূল্যে বিত্রি হচ্ছে। অথচ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্যানুযায়ী দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। এছাড়া পৃথিবীর মোট ইলিশের প্রায় ৬০ ভাগ উৎপন্ন হয় বাংলাদেশে। এখন বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয় বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দাবি করে থাকে।     কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর ২০২৩-২৪ সময়ে উৎপাদন হয় ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন আর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন। আবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসেব না পাওয়া গেলেও কর্মকর্তারা যে ধারণা দিয়েছেন তাতে উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ টনেরও কম।     গুজরাতে ইলিশের বিপুল জোগান এ বছর গুজরাতে ইলিশের বিপুল জোগান হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানীকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। ফলে সেখানে মাছের উদ্বৃত্ত জোগান তৈরি হয়েছে এবং দামও কমেছে। তার বক্তব্য, বাংলাদেশে শুধু ইলিশেরই নয়, ইলিশের ডিমেরও বড় চাহিদা রয়েছে। আর গুজরাত থেকে আসা ইলিশে প্রচুর পরিমাণে ডিম পাওয়া যাচ্ছে।     তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রেতারা ডিম-সহ বড় আকারের ইলিশ পছন্দ করেন। আবার সেখানকার কারখানাগুলিতে ইলিশের ডিম প্রসেসিং, প্যাকেজিং করে আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানিও করা হয়। গুজরাতের ইলিশ আকারে বড় এবং ডিমে ভরা থাকে। ফলে বাংলাদেশে ইলিশ এবং ইলিশের ডিম, দু'টিরই বড় চাহিদা রয়েছে, যা গুজরাতের মাছ দিয়ে আমরা মেটাতে পারছি।’     মাকসুদের মতে, এখন ইলিশের এই বাণিজ্যিক পথটি মূলত গুজরাতের ভারুচ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। ভারুচের ভাদভূতের কাছে মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে। মূলত পশ্চিমবঙ্গেই এই মাছ পাঠানো হয়, সেখান থেকে তা বাংলাদেশেও রফতানি করা হয়।     তিনি বলেন, গুজরাত থেকে পাঠানো ইলিশের সবচেয়ে বেশি চাহিদা পশ্চিমবঙ্গেই। ভাদভূত থেকেও রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে সরাসরি বাংলাদেশে মাছ পাঠানো হয়। পরিমাণ কম হলে ট্রেনের কনটেনারে পাঠানো হয়, তবে সাধারণত পরিমাণ বেশি হলে ট্রাকই ব্যবহার করা হয়। তার মতে, প্রতিদিন ভারুচ থেকে তিনটি ট্রাক ছাড়ে, প্রতিটিতে গড়ে ২৫০টি বাক্স থাকে। প্রতি বাক্সে থাকে ৬০ কেজি ইলিশ।       হাওড়ার কালীবাবুর বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রথীকান্ত বার দাবি করেন, এই বছর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও পশ্চিমবঙ্গের বাজারে এসে খুচরো পরিমাণে, প্রায় দেড় থেকে ৩ মেট্রিক টন, ইলিশ কিনছেন। তবে তারাও গুজরাত ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা বড় আকারের ইলিশই বেশি পছন্দ করছেন।   সূত্র: বিবিসি বাংলা

৯ ঘন্টা আগে
সেলফি পরিবহনের ৬৪টি রুট পারমিটের বিপরীতে চলছে ১৭০টি বাস

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহণ প্রাইভেট লি. নামের যাত্রীবাহী বাসের রুট পারমিট রয়েছে ৬৪টির। চলাচল করছে ১৭০টি বাস! বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।     রুট পারমিটের সংখ্যা ও পরিবহণের ব্যানারে চলাচলকারী বাসের সংখ্যার মধ্যে এই ব্যবধানের কারণ কী, অতিরিক্ত বাসগুলো কোন অনুমোদনের আওতায় চলছে এবং এসব বাসের পৃথক রুট পারমিট রয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।     এরই মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহণের বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে ফের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা। সোমবার শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।       মানববন্ধনে খোন্দকার তুহিন হোসেন, অহিদুজ্জামান মাবুল, গোলাম রব্বানী, বাবুল হোসেন, মো. পীযূষ ফাইটার, চঞ্চল হোসেন, রাকিব হোসেন, সাকিব হোসেন, রমজান মিয়া, মির্জা আব্বাস, মামুন মিয়া বক্তব্য দেন।       বক্তারা সেলফি পরিবহণের বাস চলাচল নিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, বাসগুলো অতিরিক্ত গতিতে ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করে এবং প্রতিযোগিতামূলকভাবে ওভারটেকিং করে। এতে মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক জন চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং কেউ কেউ মাদক সেবন করে গাড়ি চালান বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবহণটির রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।       অভিযোগের বিষয়ে সেলফি পরিবহণের পাটুরিয়া ঘাট শাখার তত্ত্বাবধায়ক সুলতান মাহমুদ বলেন, তাদের পরিবহণের বাসের রুট পারমিট এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। কারও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ছাড়া বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালাতে চালকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।        এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অংশীজনদের সঙ্গে সভা করেছেন তিনি। দ্রুত আবারও সবাইকে নিয়ে সভা করে যাত্রী নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে পরিবহণটির কী কী অনিয়ম-অসঙ্গতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।     বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা-বিভাগীয় অফিস ও বিআরটিএ ঢাকা জেলা অফিসের বরাত দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল যুগান্তরকে জানান, একদিনের সরেজমিন প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেলফি পরিবহণ প্রাইভেট লি. ব্যানারে চলাচল করেছে ১৭০টি বাস। অথচ সরকারি তালিকায় সেলফি পরিবহণ প্রাইভেট লিঃ রুট পারমিট রয়েছে মাত্র ৬৪টির। 

৯ ঘন্টা আগে
রিয়াল মাদ্রিদের রিজার্ভ বেঞ্চের বাজারমূল্য ৫৩৭ মিলিয়ন ইউরো

রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে লা লিগার এক ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে বসে থাকা ১২ জন বিকল্প ফুটবলারের সম্মিলিত ট্রান্সফার মার্কেট মূল্য প্রায় ৫৩৭ মিলিয়ন ইউরো, যা বিশ্ব ফুটবলের ১৯টি ক্লাবের মূল স্কোয়াডের সামগ্রিক মূল্যের চেয়েও বেশি। লা লিগায় রিয়ালের এই শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চের বাজারমূল্যের চেয়ে কেবল দুটি ক্লাব—বার্সেলোনা (১.২৬৫ বিলিয়ন ইউরো) এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (৬৭৯.৭ মিলিয়ন ইউরো)-এর সম্পূর্ণ দল এগিয়ে রয়েছে।     ম্যাচটির ডাগআউটে থাকা রিয়ালের তরুণ তুর্কি সেনসেশন আরদা গুলারের একক ট্রান্সফার মার্কেট মূল্যই ৯০ মিলিয়ন ইউরো। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, এই একক খেলোয়াড়টির বাজারমূল্য প্রতিপক্ষ রায়ো ভ্যালেকানোর পুরো স্কোয়াডের (৮৬.৮৫ মিলিয়ন ইউরো) মোট মূল্যের চেয়ে বেশি।       শুধু তাই নয়, লা লিগার আরও পাঁচটি ক্লাব—মালাগা, আলাভেস, এলচে, ওসাসুনা এবং লেভান্তের সম্পূর্ণ স্কোয়াডের সম্মিলিত মূল্যের চেয়েও আরদা গুলারের একার বাজারমূল্য বেশি। এই তারকাবহুল বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন, কার্লোস এস্পি, থিয়াগো পিটার্চ এবং রাউল আসেসিও।     রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে ম্যাচের আগের একাদশে দারুণ পারফর্ম করা সত্ত্বেও কৌশলগত কারণে আরদা গুলারকে রিজার্ভে রাখেন কোচ হোসে মরিনহো এবং তরুণ ইয়ান দিওমান্দেকে প্রথমবারের মতো মূল একাদশে সুযোগ দেন। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোচ মরিনহো বলেন, দলের সব খেলোয়াড় সুস্থ ও ফিট হয়ে ওঠায় একটি মানসম্মত একাদশ নির্বাচন করা তাঁর জন্য বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিওমান্দেকে সুযোগ দেওয়া জরুরি ছিল উল্লেখ করে তিনি বেঞ্চে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়ের অসাধারণ ব্যক্তিগত মানের প্রশংসা করেন।     চলতি মৌসুমে রিয়াল কোচ মরিনহো এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জন ফুটবলারকে মাঠে ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে ১৭ জন শুরুর একাদশে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তবে দলের নিয়মিত মুখ মিলিতাও, মেন্ডি এবং রদ্রিগো বর্তমানে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া তরুণ তারকা এন্ড্রিক ও আসেসিও ইনজুরি সমস্যায় থাকার কারণে এখনো রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মাঠে নামার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

৯ ঘন্টা আগে
কার্লো আনচেলত্তি ও নেইমার জুনিয়র। ফাইল ছবি
খেলাধুলা
নেইমার অধ্যায়ের অবসান: তরুণদের নিয়ে নতুন দল গড়ছেন আনচেলত্তি

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলে সুপারস্টার নেইমারের অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপে দলের আশানুরূপ ফল না পাওয়ার পর এবার তরুণ প্রজন্মের ফুটবলারদের সমন্বয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল নতুন করে ঢেলে সাজানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।       আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘সিএনএন এস্পোর্তেস’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানান, নেইমার নিজেই জাতীয় দলে আর না ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নেইমারের অনন্য দক্ষতার প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘তার মানের কারণেই তার সেখানে (বিশ্বকাপে) থাকা উচিত ছিল। নেইমার নিজেই নিশ্চিত করেছে যে সে জাতীয় দলে আর ফিরতে চায় না। নেইমারের বিকল্প পাওয়া সম্ভব নয়, কারণ সে এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা।’     নেইমার-পরবর্তী যুগে ব্রাজিল দলকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষস্থানে ফিরিয়ে নিতে বয়স ও প্রতিভাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এখন আমাদের এমন তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে মনোযোগ দিতে হবে যারা ভবিষ্যৎ হতে পারে, যেমন ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়েরা। আমাদের ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া কিছু মানসম্পন্ন তরুণ আছে যারা এখনো খেলছে না, তবে খেলতে পারবে। এখন তাদের বয়সকে গুরুত্ব দিয়ে এবং সম্মান জানিয়ে তাদের দিকে তাকানোর সময়। এটা সত্যি যে একজন খেলোয়াড় ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও খুব ভালো খেলতে পারে। তবে এখন তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সময়।’       ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে আধুনিক দলগত ফুটবলের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আধুনিক ফুটবলে দলগত কাজটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যক্তিগত প্রতিভা নয়। আপনার যদি দারুণ ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকে, তবে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে, কিন্তু আধুনিক ফুটবলে দলগত কাজটা জরুরি। আমরা ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী দল গড়তে কাজ করছি, কোনো একক দুর্দান্ত ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর নির্ভর করার জন্য নয়।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে এ আগুন লাগে।   ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।   তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া জমে যায়। এ সময় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তবে অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।   ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের লিফটের মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

ছবি: সংগৃহীত
একাদশে ভর্তিতে প্রায় ১০ লাখ আবেদন, ফল ১৭ সেপ্টেম্বর

চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন শেষ হয়েছে। এতে ভর্তি হতে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।   সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, ভর্তি আবেদনের টেকনিক্যাল দিকগুলো বুয়েট দেখছে। আমরা তাদের কাছ থেকে একদম সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটা জানতে পারিনি। আমাদের সিস্টেম অ্যানালিস্টরাও তথ্যটা হাতে পাননি। মৌখিকভাবে জেনেছি, প্রায় ১০ লাখের মতো শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তির আবেদন করেছে। আমরা শিগগির কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে মনোনয়ন পেল, সেই তালিকা প্রকাশ করবো।   বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২-১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন নেওয়া হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়।   ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে।   শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। অনলাইন আবেদন, ফল প্রকাশ, শিক্ষার্থী নির্বাচন ও নিশ্চায়ন প্রক্রিয়ার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামী ২০-২২ সেপ্টেম্বর।   এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। তবে একই দিন ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি পড়লে পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
যে কারণে আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি পে-স্কেলের খসড়া

এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে, এখনো গেজেটের কোনো খবর নেই। এ কারণেই সবার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে— আবার কোথায় আটকে গেল!’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা।   তিনি আরও বললেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করার কথা থাকলেও গত ১০ বছরে তা হয়নি।   সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ৩১ অগাস্ট নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে বাংলাদেশের সরকার। মন্ত্রসভায় অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি জানানোও হয়। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হতে পারে বলে তখন ইঙ্গিত দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।   কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।   যদিও প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানাচ্ছেন সাবেক আমলারা।   সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পর গেজেট প্রকাশের জন্য যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেখানে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি অনেক সময় মাসও লেগে যেতে পারে। কিন্তু এবার বিষয়টি ঘিরে হতাশা দেখা যাচ্ছে, যেহেতু অনেকদিন পর পে-স্কেলের ঘোষণাটা এসেছে।   এদিকে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর খসড়াটি অর্থমন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে মন্ত্রণালয় দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খসড়াটি এখনও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে যায়নি, বরং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই আটকে আছে।   কেন গত দুই সপ্তাহ ধরে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে? যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে কতদিন সময় লাগতে পারে?   অতীতে কেমন সময় লেগেছে? চলতি বছরের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে।   ওই বছরের সাতই সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এরপর একই বছরের ১৫ই ডিসেম্বর, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন মাস পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।   এত সময় লাগার কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রশাসনিক ও আইনগত বেশকিছু প্রস্তুতি এবং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   এর মধ্যে প্রথম ধাপটিই হচ্ছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া প্রস্তুত করা। সেই কাজ করে থাকে অর্থ মন্ত্রণালয়।   সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, নতুন পে-স্কেলের অনুমোদন চেয়ে যে খসড়াটা মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়, সেখানে মূলত মোটাদাগে কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়ানো হবে, সেটার একটা প্রস্তাবনা থাকে। কিন্তু অনুমোদন পাওয়ার পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাদের ক্ষেত্রে কীভাবে সেটি বাস্তবায়িত হবে, সেটার হিসাবটা কী হবে- এসব বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা ও নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়।   এক্ষেত্রে জনপ্রশাসনের বাইরে সেনা-নৌ ও বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হবে, খসড়ায় সেটারও বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।   তিনি বলেন, আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে অনেক সময় এসব কাজ করতেই বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়।   বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেটি পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় সংবিধান বা চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের ব্যত্যয় বা বিরোধ আছে কি-না, সেটি খতিয়ে দেখা হয়।   সেইসঙ্গে, প্রজ্ঞাপনের খসড়ায় ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ, বাক্য এবং আইনি পরিভাষায় কোনো অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থবোধকতা আছে কি-না, সেটাও খতিয়ে দেখা হয়। এটি করা হয়, যাতে পরবর্তীতে কোনো আইনি জটিলতা বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ না থাকে।   পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য যেসব বিধিমালা বা সংবিধিবদ্ধ আদেশ জারি করার প্রয়োজন হয়, সেগুলোর খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়।   তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া শেষ করে প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো।   প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া হাতে পাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মুদ্রণের জন্য সেটি পাঠান সরকারি মুদ্রণালয়, তথা বিজি প্রেসে। মুদ্রণের পর সেটি সংগ্রহ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।   খসড়া পায়নি আইন মন্ত্রণালয়   মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।   রোববার বিকালে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহ আমরা শুনেছিলাম যে, দুই-এক দিনের মধ্যেই অনুমোদিত পে-স্কেলের ড্রাফটটা ভেটিংয়ের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটা আমাদের হাতে আসেনি।   খসড়াটি এখন রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার দুই সপ্তাহ পরও সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে কেন?   অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এটা আসলে আটকে রাখার বিষয় না। গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন, সেগুলো মেনে কাজ করতে একটু সময় লাগছে।   মূলত এখন সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলে জানা যাচ্ছে।   ‘দ্রুতই ভেটিংয়ের জন্য এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, তারপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে,’ বলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা।

ছবি: সংগৃহীত
বহিরাগতদের প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় রাজস্ব ভবনে পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআরের প্রধান কার্যালয় রাজস্ব ভবনে বহিরাগতদের প্রবেশ ‘অনেক বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা’ দেখা দিয়েছে দাবি করে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে কর আদায়ের এ সংস্থাটি।   সোমবার এক নোটিসে এনবিআর বলেছে, রাজস্ব ভবনে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এনবিআর ও ভবনের অন্যান্য দপ্তরে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) হতে দাপ্তরিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রাজস্ব ভবনে প্রবেশের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।   রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের দপ্তর রয়েছে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল-সিআইসি, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের বৃহৎ করদাতা ইউনিট এবং আপিল বিভাগ অন্যতম।   ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রায় দুই দশক পর বিএনপির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের অদলবদলের মধ্যে এনবিআরের চেয়ারম্যানের পদে পরিবর্তন আসে।   কর ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে এনবিআর সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।   এরপর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এনবিআর ভবনে আসতে শুরু করেন। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিতে ভিড় করলে তিনি সেসব ফিরিয়ে দেন।   ওইসময়ে আহসান হাবিবকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন ব্যাচভিত্তিক এনবিআর কর্মকর্তারা একযোগে আসা শুরু করলে সেটিও বন্ধ করা হয়। অফিসের সময়ে বিনা অনুমতিতে কারও কর্মস্থল ত্যাগ না করার নোটিস দেয় এনবিআর।   তবে রাজনৈতিক পরিচয়ে আসা লোকদের কমানো যাচ্ছিল না; এমনকি পোশাক দেখে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও তাদের আলাদা করতে পারছিলেন না।   এর প্রেক্ষিতে এনবিআর ও এই ভবনে থাকা দপ্তরগুলোর কর্মীদের আলাদা করার জন্য তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহারে সোমবার এ নোটিস দেওয়া হল।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর স্থগিত থাকার মতো কিছু জটিলতা সত্ত্বেও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী ভারত।    এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে পাশ কাটিয়ে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।   তারেক রহমান ভারতে তার পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত রাখলেও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তা স্থগিত রাখেন।    তবে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, রাজনীতি নিজ গতিতে চললেও দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি হাইকমিশনার ঢাকায় উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বর্তমান বাংলাদেশ প্রশাসনও ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।   এদিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আগামী ডিসেম্বরেই ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে এই চুক্তি নবায়ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হবে।

ছবি: সংগৃহীত
সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ দাবি করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   এক বিবৃতিতে সারি বলেন, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিমানঘাঁটির উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদামসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।   হামলায় ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন হুতিদের এই মুখপাত্র। তবে এসব দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।   হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। গত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদির এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ৩০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।   এদিকে খামিস মুশাইত গভর্নরেটে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছিল। পরে তারা জানায়, বিপদ কেটে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলা এবং ঘটনাস্থলে ভিড় করে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে হুতিরা। ভবিষ্যতে হামলা হলে তা আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এই হামলার দাবি করা হলো। সৌদি আরব ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা জোরদার করেছে। এর জবাবে হুতিরা সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।   গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান লক্ষ্য করে হুতিদের হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এসব হামলায় সৌদির কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগা ও সাময়িকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।   ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুতিরা। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সংঘাত চলছে।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত
প্রযুক্তি ও খনিজকে ‘অস্ত্র’ বানানোর বিরুদ্ধে মোদির কড়া বার্তা, পাশেই ছিলেন শি
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ঝুঁকি সম্পর্কে ব্রিকস নেতাদের সতর্ক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, এ ধরনের প্রবণতা বিশ্বে এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারে।   রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কোনো দেশই এড়িয়ে যেতে পারছে না। কোনো সংকটই এখন আর নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।   মোদি বলেন, মহামারি, জলবায়ু দুর্যোগ ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখিয়েছে যে পরস্পরনির্ভর এই বিশ্বে একটি অঞ্চলের সংকটও দ্রুত অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।   তিনি বলেন, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, সেগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকা এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।   এ বিষয়ে ব্রিকস দেশগুলো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলেও জানান মোদি। তিনি বলেন, আগাম সতর্কতার জন্য তথ্য একীভূত করার ব্যবস্থার নির্দেশিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।   ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে মোদির বক্তব্যের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   মোদি বলেন, ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের কার্যক্রমে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন এ চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অংশীদার দেশগুলোর সহযোগিতায় এই অভিন্ন লক্ষ্যকে পারস্পরিকভাবে লাভজনক উদ্যোগে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এর আগে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস নেতারা যৌথ ছবি তোলেন। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, মিসর, বুরুন্ডি, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদির।   সম্মেলনের আগের দিন প্রকাশিত নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে; এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।   ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ব্রিকসের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের আইনগত দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়।   ঘোষণায় একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষাবাদী নীতির বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বিচারে শুল্ক বাড়ানো ও পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যের নামে নতুন বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   সূত্র: এনডিটিভি

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার কিছুক্ষণ আগেই একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের শীর্ষ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।    ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় চালানো হামলায় ট্রেনটির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   বরিস জনসন এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কিয়েভে একটি সম্মেলন শেষে একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে ফিরছিলেন।   রাশিয়া জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনের ‘রেল অবকাঠামোতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি উক্রজালিজনিতসিয়া বলেছে, হামলার লক্ষ্য সম্ভবত কূটনৈতিক ট্রেনও হতে পারে।   হামলার সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা আরেকটি ট্রেনের যাত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রিয়াস ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, এটি এমন এক নেতার কাজ, যিনি ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছেন।   ইউক্রেনের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ হামলার আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনটি স্টেশন ছেড়েছিল। হামলার মাত্র ১৫ মিনিট আগে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।   ইউক্রেন ও পোল্যান্ড—দুই দেশের কর্তৃপক্ষই জানিয়েছে, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে।   সম্মেলন শেষে একই পথে ফিরছিলেন সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্টও। তিনি জানান, তার ট্রেন থামার পর যাত্রীদের সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানানো হলে ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে এবং নিরাপদে পোল্যান্ডের দোরোহুস্ক সীমান্ত স্টেশনে পৌঁছায়।   বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি স্থির ইউক্রেনীয় ট্রেনে হামলা চালানোর পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কী যুক্তি ছিল, তিনি বুঝতে পারছেন না।    তিনি এটিকে প্রতিদিনের ‘এলোমেলো ও অর্থহীন হামলার’ আরেকটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   জনসন ইউক্রেনের মিত্রদের দ্রুত দেশটিকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানান। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে।   ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, ইয়াহোদিনে হামলা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দরজায় রুশ ‘সন্ত্রাসের কড়া নাড়ার’ মতো। তিনি মস্কোর ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।   এদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ড ক্রমেই বাড়ছে এবং তা পোল্যান্ডের সীমান্তের আরও কাছে চলে আসছে।   বরিস জনসন ও ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কিয়েভে অনুষ্ঠিত ইয়াল্টা ইউরোপিয়ান স্ট্র্যাটেজি (ওয়াইইএস) সম্মেলন শেষে ফিরছিলেন। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে রাজনীতি, ব্যবসা, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।  

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি