জামায়াতের ইশতেহার প্রগতিশীল, উদ্ভাবনী ও তারুণ্যনির্ভর লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াত, শিবির বা এনসিপিতে যারা আছেন এখানে সব শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা; একেকজন পিএইচডি করছে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ডাক্তার। তারা টেকনোলজি ভিত্তিক একটা ইশতেহার দিয়েছে। এটা করা তাদের জন্য কোন অবিশ্বাস্য বিষয় না। তাদের ইচ্ছা আছে, জনশক্তি আছে, ক্যাপাসিটিও আছে, তাহলে এটা কেন বাস্তবসম্মত হবে না। এই ঢাবি শিক্ষিকা আরও বলেন, তাদের পুরো ইশতেহার আমার কাছে খুবই প্রগতিশীল, উদ্ভাবনী ও তারুণ্যনির্ভর লেগেছে। তারা বিভিন্ন অ্যাপ্সের কথা বলেছে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক কথা বলেছেন, এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে আমাদের দেশে। তিনি বলেন, নারী বিষয়ের ইশতেহারও আমি দেখেছি, যেহেতু এই বিষয়ে আগে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখেছিলাম তাই আমিও শুরুতে একটু উদ্বিগ্ন ছিলাম। কারণ আমিও একজন অ্যাম্বিশিয়াস একজন নারী, তাই আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমি সব জায়গায় যাই না, এনসিপির ইশতেহারে গিয়েছিলাম এবং এখানে এসেছি এই জন্য যে, যদি সামনে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করে তাহলে বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের ধারণা ও বিশেষ করে নারীদের নিয়ে তারা ভাবছেন কী। মোনামী বলেন, আমি যখন দেখলাম তারা যে পলিসিগুলো দিয়েছে খুবই ভালো ও ভালো চিন্তার, তা দেখে বুঝা যাচ্ছে তারা এবার যথেষ্ঠ ইনক্লুসিভ পলিসিতে বিশ্বাস করছেন এবং এগিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি এবার তারা হিজড়া কমিউনিটি নিয়েও একটি আলাদা পলিসি রেখেছে। ঢাবি শিক্ষিকা আরও বলেন, তাদেরকে অনেক কনজারভেটিভ মনে করতাম, কিন্ত মনে হচ্ছে এবার তারা সেখান থেকে সরে এসেছে। আমি অবাক হয়েছি তারা যে হিজড়া কমিউনিটির বিষয়টা মাথায় রেখেছেন। সবমিলিয়ে তারা নারীদের নিয়ে যে পলিসি দিয়েছেন আমার কাছে মনে হয়েছে খুব সুন্দর পলিসি। মোনামী বলেন, ইশতেহার পড়ে আমারও কিছু আইডিয়া হয়েছে, আবার জামায়াত আমির এটাও বলেছেন; ইশতেহার সম্পর্কে কেউ সাজেশন বা রিকমেন্ডেশন দিতে পারেন, পরে হয়তো কিছু সংশোধন আসতে পারে। আমি কয়েকটা আইডিয়া দিব তাদেরকে, আমার মাথায় ঘুরঘুর করছে। এতদিন কোনো অনুষ্ঠানে যাইনি। এই অনুষ্ঠানে এসে মনে হয়েছে দেশ গঠনের জন্য তারা যদি সচেষ্ট হন, ইশতেহারের কথাগুলো কার্যকর করতে পারলে দেশের জন্য ভালো হবে।
ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্য মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস জেলার একটি ‘অবৈধ’ কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে থাংস্কু এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে আরও শ্রমিক ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের অনেকে এখনো আটকা পড়তে পারেন। খবর এনডিটিভির। মেঘালয় পুলিশের মহাপরিচালক আই নংগ্রাং জানান, এখন পর্যন্ত ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সময় খনিতে মোট কতজন শ্রমিক ছিলেন, তা নিশ্চিত করা যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে। পূর্ব জৈন্তিয়া হিলসের পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার বলেন, বিস্ফোরণে আহত এক শ্রমিককে প্রথমে সুটংগা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শিলংয়ের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খনিটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তাই মনে হচ্ছে। বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হবে। উল্লেখ্য, পরিবেশগত ক্ষতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ২০১৪ সালে মেঘালয়ে কয়লা খননসহ অবৈজ্ঞানিক খনন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জাতীয় পরিবেশ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)। পরে সুপ্রিম কোর্টও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে কেবল বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে খননের অনুমতি দেয়। অবৈধ খননে খুব সরু ও নিচু সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়, যেখানে একজন শ্রমিক কষ্ট করে ঢুকে কয়লা তুলতে পারেন। এই ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিই দীর্ঘদিন ধরে মেঘালয়ে প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠছে।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পলাতক আ'লীগ নেতা রফিকুল আলমকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়। খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, রাজধানীর একটি আবাসিক বাসা থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করে ভাটারা থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ ৪৭টি মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী পালিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন রফিকুল আলম। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মামলার বিষয়ে বলেন, ঢাকার ভাটারা থানার রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিদ্রোহী প্রার্থী এম.এ. হান্নানের পূর্বনির্ধারিত জনসংযোগ ও উঠান বৈঠক চলাকালে প্রতিপক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক স্থানে কর্মসূচি স্থগিত করার পর খাজুরিয়া বাজার ও রূপসা এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় তিনটি সিএনজি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং একটি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত একটি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল, যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের নীতিমালা ধারাবাহিকভাবে পরিমার্জন করে আসছে। তিনি বলেন, জামায়াত সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য উইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। সাক্ষাৎকারে তিনি জামায়াতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত ইতিবাচক বলে জানান তিনি। সাক্ষাৎকারে *দ্য উইক*-এর দিল্লি ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজার প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথাগত নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকলেও জামায়াত কখনোই গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একই প্রতীকে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে জামায়াত শিখেছে—গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কতটা জরুরি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের এই সময় জামায়াতকে আরও শক্তিশালী করেছে। সংগঠনের কাঠামো মজবুত করা হয়েছে, শৃঙ্খলা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসংযোগ গভীর হয়েছে। একইসঙ্গে সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনৈতিক কৌশলও নতুন করে সাজানো হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থার মধ্যেও জামায়াত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াতপন্থি ছাত্র সংগঠনের সাফল্য এ আগ্রহের প্রমাণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত এখন কেবল একটি আদর্শিক দল নয়; বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের দেশ গঠনের অংশীদার করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। জোট রাজনীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দলটি নির্দিষ্ট কোনো আদর্শের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। জামায়াত বহুদলীয় গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। ইতোমধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন করেছে দলটি। তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে তারা ইতিবাচক। তিনি জানান, জোটবদ্ধ রাজনীতির ক্ষেত্রে জামায়াতের তিনটি মূলনীতি রয়েছে—জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি। নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থীকে মনোনয়নের কথা উল্লেখ করেন। তবে আসন বণ্টন ও জোটগত সমীকরণের কারণে এবার নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি। জোটের নারী প্রার্থীদের জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের নারী জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হওয়ার নজিরও তুলে ধরেন। অতীতের বিতর্ক প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জামায়াতের কোনো সদস্যের কারণে যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের প্রস্তাব জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে এ ঘোষণা এল। বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। প্রেস সচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল রয়েছে এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। রাতে যখন প্রেস সচিব এ সিদ্ধান্তের কথা জানান, তখন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংগঠনটির একাধিক সদস্য যমুনার দিকে অগ্রসর হন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যান। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক যুবক। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর ওই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং গাছের অতিরিক্ত শাখা প্রশাখা কর্তনের জন্য সিরাজগঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় সকাল থেকে অন্তত ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নেসকো (নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি)। নেসকো সিরাজগঞ্জের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বার্থে নেসকো সিরাজগঞ্জ দফতরের ১১ কেভি মাসুমপুর ও সার্কিট হাউস ফিডারে জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে সিরাজগঞ্জের মাসুমপুর, মাসুমপুর কারিগর পাড়া, হাজী আহম্মেদ আলী রোড বাজার স্টেশন, নিউ মার্কেট, কাচারী পাড়া, বগুড়া বাস স্ট্যান্ড, চক শিয়ালকোল, দিয়ার বৈদ্যনাথ ইত্যাদি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। জরুরি কাজের স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহের সাময়িক বিঘ্ন ঘটায় দুঃখ প্রকাশ করে নেসকো সবার সহযোগিতা চেয়েছে।
ভারতের ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম চালু করেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই নতুন সিস্টেমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইস্যু কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইভ্যাক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নতুন সিস্টেমে সাইনআপ কার্যক্রম চালু করা হয়। একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিং খোলা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে ৮ ফেব্রুয়ারির অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করা যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় পরবর্তী দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পাওয়া যাবে। তবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সাইনআপ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না। এর আগে আইভ্যাক এক নোটিশে জানায়, বৃহস্পতিবার একটি নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে, যার লিংক অফিশিয়াল আইভিএসি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আগামী রোববার ও পরবর্তী সব তারিখের অ্যাপয়েন্টমেন্ট এই নতুন সিস্টেমের মাধ্যমেই বুক করতে হবে। আইভ্যাক আবেদনকারীদের জাল বা অবৈধ অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সাইনআপের সময় ভিসা আবেদনে ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। সাইনআপ প্রক্রিয়ায় একটি ওটিপি ইমেইলে এবং আরেকটি এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে। ইমেইল ও মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন শেষে সাইনআপ সম্পন্ন করতে হবে। সাইনআপ শেষ হলে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। লগইনের পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করলে আবেদনকারীর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে যুক্ত হবে। সন্ধ্যা ৬টায় স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করে পরবর্তী দিনের জন্য নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনে স্লট একবার পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পলাতক আ'লীগ নেতা রফিকুল আলমকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়। খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, রাজধানীর একটি আবাসিক বাসা থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করে ভাটারা থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ ৪৭টি মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী পালিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন রফিকুল আলম। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মামলার বিষয়ে বলেন, ঢাকার ভাটারা থানার রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিদ্রোহী প্রার্থী এম.এ. হান্নানের পূর্বনির্ধারিত জনসংযোগ ও উঠান বৈঠক চলাকালে প্রতিপক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক স্থানে কর্মসূচি স্থগিত করার পর খাজুরিয়া বাজার ও রূপসা এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় তিনটি সিএনজি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং একটি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নতুন অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রমজানে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রেসসচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে ব্যাংক, বীমা, সুপ্রিম কোর্ট, অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী অফিস সূচি নির্ধারণ করবে।
জাপানে অস্বাভাবিক ভারী তুষারপাতে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাও রয়েছেন, যার মরদেহ নিজ বাড়ির সামনে তিন মিটার উঁচু তুষারের স্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল আওমোরিতে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো প্রায় ৪.৫ মিটার (প্রায় ১৫ ফুট) পর্যন্ত তুষার জমে আছে। মঙ্গলবার সকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে তুষারপাতজনিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানায়, ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই তুষারপাতে মঙ্গলবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। মূলত জাপান সাগর উপকূলজুড়ে শক্তিশালী শীতল বায়ুপ্রবাহের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ তুষার জমেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আওমোরির আজিগাসাওয়া এলাকায় ৯১ বছর বয়সি বৃদ্ধা মরদেহটি তুষারের নিচে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির ছাদ থেকে তুষার ধসে পড়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া উষ্ণ হলে জমে থাকা তুষার গলে পড়ে। তুষারের পরিমাণ ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে ছাদের নিচে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সোমবার আওমোরির গভর্নর সোইচিরো মিয়াশিতা জানিয়েছেন, তুষার সরাতে এবং একা বসবাসকারী বয়স্কদের সহায়তার জন্য তিনি সামরিক বাহিনীর সাহায্য চেয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছেই। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এবং তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ঢাকা চীনের দিকে ঝুঁকায় ভারত নতুন মাত্রার উদ্বেগে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের কৌশলগত অঞ্চল ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা দিয়েছেন, এই সংবেদনশীল এলাকায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র যোগাযোগ পথ হলো শিলিগুড়ি করিডোর। এই করিডোরের প্রশস্ততা কিছু জায়গায় মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হলে উত্তর-পূর্ব ভারত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। চারপাশে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান, আর কয়েকশ কিলোমিটার দূরে চীনের সীমান্ত। রেলমন্ত্রী বৈষ্ণব বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সাথে যুক্ত করার জন্য ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত করিডোরে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ভূগর্ভস্থ রেললাইন স্থাপন এবং বর্তমান লাইনগুলোকে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ অংশটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট ও রাঙাপানি স্টেশনের মধ্যে বিস্তৃত হবে এবং নিরাপত্তার দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশের একটি লাইন বাগডোগরার দিকে যাবে, যা ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেললাইনগুলো সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২০-২৪ মিটার গভীরে স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান দুই লেনের রেললাইনকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। সব মিলিয়ে এই কৌশলগত করিডোরে মোট ছয়টি রেললাইন থাকবে—চারটি মাটির উপরে, দুটি মাটির নিচে। ভারতের জন্য এই করিডোর দীর্ঘকাল ধরে দুর্বল জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কোনো বিঘ্ন ঘটলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, যা জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সেনা চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।
আরব সাগরে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দিকে ‘আগ্রাসীভাবে ধেয়ে আসা’ ইরানের একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টম হকিনস- এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটর জেট ড্রোনটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিবেদনে বিবিসি আরও জানায়, ড্রোনটি যখন এর দিকে অজানা উদ্দেশ্য নিয়ে উড়ে আসছিল তখন মার্কিন রণতরীটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে অবস্থান করছিল বলে জনান ক্যাপ্টেন হকিনস। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এমন সময় মার্কিন রণতরীর আশপাশে ইরানের ড্রোনের আনাগোনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইরান যদি এর চলমান পারমাণবিক প্রকল্প সীমিত করতে চুক্তিতে রাজি না হয় তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সাইফ আল-ইসলাম গত এক দশক ধরে জিনতানেই অবস্থান করছিলেন। তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কিভাবে তিনি নিহত হয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার রাজনীতিতে কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না। তবে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি কার্যত তার বাবার ‘নম্বর টু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালে লিবিয়ার বিরোধী বাহিনীর হাতে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার কয়েক দশকের শাসনের অবসান ঘটে। ২০১১ সালে রাজধানী ত্রিপোলি পতনের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে জিনতান থেকে তাকে আটক করা হয় এবং কারাবন্দি রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও সাবলীল বক্তা হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম তার বাবার কঠোর শাসনের বিপরীতে তুলনামূলক ‘সংস্কারমুখী’ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আরব বসন্তের পর লিবিয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লেও সাইফ আল-ইসলাম রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশজুড়ে রক্তের নদী বইবে এবং সরকার শেষ নারী-পুরুষ ও শেষ গুলি পর্যন্ত লড়াই করবে। পুরো লিবিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশ চালানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ৪০ বছর লাগবে। সাইফ আল-ইসলামের বিরুদ্ধে তার বাবার শাসনামলে বিরোধীদের ওপর নির্যাতন ও চরম সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালে তাকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হয় এবং তার বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। একই বছরের সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর লিবীয় কর্তৃপক্ষ তাকে নিজ দেশে বিচারের উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত অনুপস্থিত অবস্থায় তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। ২০১৭ সালে মুক্তির পর সম্ভাব্য হত্যার আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘ সময় জিনতানে আত্মগোপনে ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।