সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
বন্ধ্যাত্বের আধুনিক চিকিৎসায় উদ্যোগী সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়াতে পৃথক ও আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পিসিওএস সচেতনতা বিষয়ক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।   মন্ত্রী বলেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করতে হবে।   তিনি আরও বলেন, সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো দম্পতি যেন সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার না হন, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।   একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা অনেক কম। তাই, শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার পরিধিও বাড়াতে হবে।

২৭ মিনিট আগে
এআই ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নতুন কিছু সক্ষমতা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং।   যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য হুমকি হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক গবেষক।   চীন এত দিন এআইয়ের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি ঝুঁকি নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল। এর মধ্যে ছিল ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা।   তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা চীনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলো সাইবার হামলা চালাতে পারে—এমন প্রমাণ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একদল প্রোগ্রামার এআই ব্যবহার করে একটি সাইবার হামলার ‘ওয়ার্ম’ তৈরি করার কথা জানায়। এটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের লাখ লাখ অ্যাকাউন্টে হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে বলে তারা দাবি করে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারকানেক্টেড ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন শু বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি।   তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসব বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। চীনে সাধারণত এমন আলোচনা জনসমক্ষে ততটা দেখা যায় না।   এআই দিয়ে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করা সাইবার হামলাকারী এজেন্ট তৈরি হলে সেটি চীনা সরকারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।   চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশলবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক সুন চেংহাও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এখন এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বাস্তব ধারণা তৈরি করছে। এতে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।   তবে এআই নিয়ে দুই দেশের তীব্র প্রতিযোগিতা সহযোগিতার পথে বাধা হতে পারে। বিশেষ করে এআই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থায় দুই দেশের সমন্বয় কঠিন হতে পারে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে এবং তিনি এই অবস্থান ধরে রাখতে চান।   চীনের বিশেষজ্ঞ সুন চেংহাও বলেন, চীন আশঙ্কা করছে ‘নিরাপত্তা’র কথা বলে এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির উন্নয়ন সীমিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।   চীন ইতিমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর কিছু নিয়ম করেছে। যেমন, কারও অনুমতি ছাড়া তার চেহারা বা পরিচয় ব্যবহার করে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   বেইজিংভিত্তিক এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনকর্ডিয়া এআইয়ের প্রধান ব্রায়ান সে বলেন, চীনের এআই নীতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বর্তমান ক্ষতির বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়।   তার মতে, চীন এআইকে এমন একটি প্রযুক্তি হিসেবে দেখে, যা বিদ্যুৎ বা গাড়ির মতো সমাজ ও শিল্পের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করে বেইজিং।   সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু ঘটনা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সামনে এনেছে। এ কারণে চীনের নীতিনির্ধারকদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পাশাপাশি সাংহাইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এআই নিয়ে উদ্বেগ ও বাস্তববাদী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কিছু সমস্যা থাকবেই। তবে সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান করা গেলে প্রযুক্তির নিরাপত্তা আরও বাড়বে।   সাংহাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, উইচ্যাটে এআই দিয়ে সাইবার হামলার সম্ভাবনা সামনে আসা খারাপ বিষয় নয়। বরং এতে দুর্বলতা শনাক্ত করে তা ঠিক করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এআইয়ের ওপর কঠোর নিয়মের পক্ষেও অনেকে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তারা নিজেরাই যথেষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ নাও করতে পারে।   সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্পায়ার্ড এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া জিজিয়ান বলেন, তার বড় উদ্বেগ হলো শক্তিশালী এআই মডেল দিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কোড ভেঙে ফেলা।   তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একটি দেশের এআই সক্ষমতা খুব শক্তিশালী হলে অন্য দেশ নিজেকে নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল মনে করতে পারে।   তথ্যসূত্র: এএফপি/গালফ নিউজ

৩৪ মিনিট আগে
মস্কোয় ইউক্রেনের হামলায় তেল শোধনাগারে আগুন

রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। রোববার রুশ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, শনিবার থেকে রাশিয়া ১ হাজার ৬০০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি মস্কোর দিকে যাচ্ছিল।   তিনি জানান, কয়েকটি ড্রোন মস্কোর তেল শোধনাগার এলাকায় পৌঁছায়। একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনেও আঘাত করে। তবে মস্কো শহরে কেউ হতাহত হননি।   রয়টার্সের সাংবাদিকরা মস্কোতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তারা তেল শোধনাগার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখেছেন। শোধনাগারটির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।   সোবিয়ানিন দাবি করেন, হামলাটি বড় ধরনের এবং নজিরবিহীন। তার ভাষ্য, রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যেই হামলাটি চালানো হয়েছে। তবে হামলাকারীরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।   মস্কোর তেল শোধনাগারটি এর আগেও কয়েকবার ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালে সেখানে ১ কোটি ১৬ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল। একই বছরে ২৯ লাখ টন পেট্রোল ও ৩২ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করা হয়।   ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট, দাম বৃদ্ধি এবং পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষার ঘটনা ঘটেছে।   মস্কোর বাইরের অঞ্চলেও হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, রামেনস্কোয়ে এলাকায় একটি ২১ তলা আবাসিক ভবন থেকে ৪০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ জন শিশু রয়েছে।   এ ছাড়া কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অঞ্চলে দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর।   সূত্র: রয়টার্স

৩৬ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি না রাখলে হরমুজ খুলবে না : গালিবাফ

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান ফের স্পষ্ট করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।   রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা জানান।   গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তিটি বর্তমানে অকার্যকর। তবে ওই চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষের কাছে নিজেদের বার্তা ও শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।   ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, প্রবঞ্চনা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ যে বন্ধ হয়ে গেছে, তা শত্রুপক্ষ ভালো করেই জানে।   গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ না হলে এবং দেশটির জনগণের ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলারও কোনো সুযোগ নেই। সূত্র: আল-জাজিরা

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে ৪ জন গ্রেফতার, স্বীকারোক্তির কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।   রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনাটা একটা মর্মান্তিক ঘটনা। সারাদেশবাসী খুব মর্মাহত। একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুই বলা যায়। তার বয়স সম্ভবত ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং ডেড বডি উদ্ধার করা হয়।’   তিনি বলেন, ‘তার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন সমস্ত আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবমতে, আগে তিনজন, আজ একজনসহ মোট চারজন গ্রেফতার হয়েছে। এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।’   অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে মোবাইল নিয়ে ঘটনা, সেই মোবাইলটা উদ্ধার করা হয়েছে প্রধানতম সন্দেহভাজন আসামির কাছে। ওর নাম তুহিন।’   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম বা ১৬৪ করানো যায় কি না, এগুলো নিয়ে কাজ করছে।’   পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এখানে পুলিশের আমরা প্রশংসা করতে পারি যে তারা ১২ ঘণ্টার ভেতরে সমস্ত আসামিদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয়গুলো জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ফরেনসিক অ্যানালাইসিস করছে এবং নিহতের পোস্টমর্টেম করানো হয়েছে, তার দাফন হয়েছে আজকে।’   দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটা আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা সহযোগিতা করব আমাদের সমস্ত যেটা আইনানুগ প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে।’   তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি বিচার বিভাগ সে বিষয়টায় গুরুত্ব দিয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের জন্য যেভাবে দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হয়েছে, সেরকম একটা পদক্ষেপ নিবেন।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ, শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ ডিসেম্বর  দিন ধার্য করেন ঢাকার একটি আদালত।   রবিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এ জন্য ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের  বিচারক শাহজাহান কবির  মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য  ১০ ডিসেম্বর  দিন ধার্য করেন।   ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ড-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।   শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।   মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়।   সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।   ২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস উৎপাদনে বড় লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।   সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে বিজিএফসিএল পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।   তিনি বলেন, আরও নয়টি নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা করছে।   বিজিএফসিএলের এই কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, ‘সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’   বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি ( তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা) গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করে।   ভবিষ্যতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের সম্ভাবনাময় কাঠামো চিহ্নিত করতে বিজিএফসিএল সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করছে। বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ও এর সংলগ্ন এলাকায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার রয়েছে।   এছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিম এবং নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ২ডি ও ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।   ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন শেষ হয়। গতকাল এই কূপটি জাতীয় গ্রিডের জন্য উদ্বোধন করা হয়। কূপটি থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।   বিজিএফসিএলের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমন্বিত খনন চুক্তির আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি) কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করে। কূপটি ৩ হাজার ৬০১ মিটার মাপা গভীরতা (এমডি) এবং ৩ হাজার ৪৭১ মিটার প্রকৃত উল্লম্ব গভীরতা (টিভিডি) পর্যন্ত খনন করা হয়।   এছাড়া আরও গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে বিজিএফসিএল তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ পরিচালনা করছে।

ফাইল ছবি।
টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, ভোগান্তির শঙ্কা

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ সময়ে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।   ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি জমেছে। পাঁচ দিনের শেষের দিকে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।   রোববার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতাও বাড়তে থাকে। সকাল প্রায় সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি পড়েছে। এতে তেজগাঁও, মগবাজার, গ্রিন রোড, পান্থপথ, আগারগাঁও, নয়াপল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, ফকিরাপুল, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও নটর ডেম কলেজের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়।   কয়েকটি এলাকায় সড়কে হাঁটুসমান পানি থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক পথচারীকে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। এ সময় সকালের শিফটের অনেক স্কুলের ক্লাস ক্যান্সেলও করা হয়।    আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, শনিবার ভোর ৬টা থেকে আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৪৯ মিলিমিটার। এই বৃষ্টি আজ ও সোমবার থেমে থেমে চলতে পারে।   আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পাঁচ দিনের শেষের দিকে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে।   এদিকে রোববার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সংগৃহীত
১১৪ রানের হারে বাংলাদেশের সোনার স্বপ্ন শেষ

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত। ১৯৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৮১ রানে গুটিয়ে যায় নিগার সুলতানার দল। ম্যাচ হারে ১১৪ রানের ব্যবধানে।   টসে জিতে আগে ব্যাটিং করে ভারত। শেফালি ভার্মার সেঞ্চুরিতে চার উইকেট হারিয়ে তোলে ১৯৫ রান। ৪৯ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ইনিংসের শুরুতেই মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেন স্মৃতি মান্ধানা। ৮ রান করেই নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে পেছনে ফেলেন তিনি।   জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। এরপর একে একে বিদায় নেন সোবহানা মোস্তারি, নিগার সুলতানা এবং স্বর্ণা। মাত্র আট ওভারে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ।   দলীয় ৪৯ রানে বিদায় নেন দিলারা আক্তার। তিনিই করেন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রান। এরপর টানা দুই বলে নাহিদা এবং রাবেয়াকে ফেরান পেসার নন্দিনী শর্মা। হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি হয়েছিল তার। তবে শেষ মুহূর্তে তা আটকে দেন সুলতানা।   শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ভারতের নন্দিনী শর্মা এবং দিপ্তি শর্মা তিনটি করে উইকেট নেন।   এই জয়ে ফাইনালে উঠে গেল ভারত। সোনার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি না রাখলে হরমুজ খুলবে না : গালিবাফ
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান ফের স্পষ্ট করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।   রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা জানান।   গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তিটি বর্তমানে অকার্যকর। তবে ওই চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষের কাছে নিজেদের বার্তা ও শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।   ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, প্রবঞ্চনা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ যে বন্ধ হয়ে গেছে, তা শত্রুপক্ষ ভালো করেই জানে।   গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ না হলে এবং দেশটির জনগণের ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলারও কোনো সুযোগ নেই। সূত্র: আল-জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে গত প্রায় দুই সপ্তাহে তার একের পর এক মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।   ভোটারদের জন্য ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টার সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।   গত ১০ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। তবে কীভাবে এই অর্থ দেওয়া হবে বা এর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৬ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে হলে মোট ব্যয় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।   এর আগে ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে ২ হাজার ডলারের ‘টারিফ ডিভিডেন্ড’ এবং ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডজ) থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থের একটি অংশ নাগরিকদের দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অর্থায়ন ও আইনগত প্রশ্ন উঠেছে।    দুর্যোগ সহায়তা নিয়েও বিতর্ক নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির পক্ষে প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেন, রাজ্যটি যদি ওই প্রার্থীকে নির্বাচিত না করে, তাহলে বকেয়া দুর্যোগ সহায়তার অর্থ দেওয়া হবে না।   পরে তিনি বলেন, মন্তব্যটি তিনি রসিকতা করে করেছিলেন। তবে এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টের সরকারি সহায়তাকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রশ্ন উঠেছে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে নিজেকে কার্যত ব্যালটে থাকা প্রার্থীর মতো বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরে ভোটারদের উচিত তার সমর্থিত কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটরদের নির্বাচিত করা।   ৯/১১ ও হত্যাচেষ্টা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকায় নিজের উপস্থিতি ও সে সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গল্প বলেন। কিন্তু তার বর্ণনার বিভিন্ন অংশের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   একই সময়ে ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাকে হত্যার চেষ্টাকে ‘ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি। এ ঘটনায় হামলাকারী থমাস ক্রুকসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলও পরে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ক্রুকস অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছিল—এমন কোনও প্রমাণ নেই।   বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার না কমালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গে বড় অংশের বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।   উত্তর ক্যারোলাইনায় তিনি বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি ও বাণিজ্য বন্ধের মাধ্যমে এ ধরনের আয় করার যুক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে।   সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত এরপর হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এর পরদিন সিএনএনের এক প্রতিবেদককে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তার প্রেস পাস নিয়ে নেওয়া হয়। পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।   আরও কিছু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য ট্রাম্প সম্প্রতি তার মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নাকি তার সাক্ষাৎকারের সময়কার ব্যক্তিদের মতো আর নেই।    দীর্ঘদিনের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথাও বলেছেন তিনি।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকেও ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। অথচ একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু গবেষক ও প্রতিষ্ঠান এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে।   এছাড়া কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে আদালত অনুমোদন না দিলে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আগ্রহ হারাতে পারেন।   নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তার আচরণ, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন—সবকিছু একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।   সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। সিএনএন ও ফক্স নিউজের জরিপে সাতজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ও নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১০ জন বলেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই—যদিও এ ধরনের জরিপ নির্দিষ্ট সময়ের জনমতকে প্রতিফলিত করে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।   ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তার রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও বেশি আলোচনায় আসছে। তার সমর্থকেরা এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর সমালোচকেরা এগুলোর আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সূত্র: সিএনএন

ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে হুতি হামলার পর মক্কা চুক্তি কার্যকরের ইঙ্গিত তুরস্কের
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে তুরস্ক।   দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে এবং ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক সেসব প্রয়োজন কীভাবে পূরণ করা যায়, তা বিবেচনা করবে।   শুক্রবার তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশ একে অপরের পাশে থাকার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   তিনি বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদও এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। যুদ্ধ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।   লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের অগ্রগতি এদিকে ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়িয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের সীমান্ত, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।    সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে হুতিরা। ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়ানবু, তাইফ, বায়শ ও ফারাসানেও হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ।   হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশটি বিভিন্ন মিত্র ও অংশীদারের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চাচ্ছে বলে জানা গেছে।   পাকিস্তানেরও প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি সৌদির পাশে থাকার একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তানও। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আরব নিউজকে বলেছেন, সৌদি আরবকে ‘যেকোনও মাত্রায়’, এমনকি সরাসরি সামরিকভাবেও রক্ষা করবে ইসলামাবাদ। তবে সৌদি আরব অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর অবশ্য জানিয়েছে, বর্তমানে এই চুক্তির আওতায় কোনও সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। প্রয়োজন দেখা দিলে চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।   কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি? সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয় গত ৭ আগস্ট মক্কায়। এতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।   পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর জোটটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয় ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। একই বৈঠকে সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য একজন পাকিস্তানি মহাসচিব এই সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবেন।   চুক্তিতে সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্য দেশকেও এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।   ন্যাটোর সঙ্গে পার্থক্য তবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটকে এখনই ন্যাটোর সমতুল্য সামরিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কমান্ড কাঠামো ও স্থায়ী যৌথ বাহিনী এই জোটে এখনও নেই। এমনকি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এবং কী প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, সেটিও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।   ইস্তাম্বুলের বৈঠকে অবশ্য তিন দেশ যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   ফলে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর বাস্তব সক্ষমতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নিজেদের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে ক্রমেই বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮, ধ্বংস একাধিক জাহাজ
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে অন্তত ৮ জন নিহত ও বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপজুড়ে ১৭৪টি ড্রোন এবং রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে দুটি জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার।   টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বিমানবাহিনী আরও জানিয়েছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪১টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস বা জ্যাম করেছে। ১৫টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং নয়টি অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শত্রুর জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।’   এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানতে গেরান-৪ সিকার ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজ দুটির একটি ওডেসাগামী ইউক্রেনীয় বাল্ক ক্যারিয়ার এবং অন্যটি ওডেসা বন্দরে নোঙর করা একটি ট্যাংকার। উভয় জাহাজেই সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে রাশিয়া।   খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিহুভভ নিশ্চিত করেছেন, ১৪টি লোকালয়ে রাশিয়ার হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। এতে বালাকলিয়া ও লিপকুভাতিভকার মতো শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।   খারসন অঞ্চলের গভর্নর ওলেকসান্দর প্রকুদিনের মতে, ২৫টি এলাকা লক্ষ্য করে চালানো গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, এই হামলায় বহুতল আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি, একটি মোবাইল টাওয়ার এবং একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   দনেপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেকসান্দর গানজা জানান, ড্রোন, আর্টিলারি এবং এরিয়াল বোমা ব্যবহার করে ১০টিরও বেশি স্থানে ভারী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।’

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব