বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎস করের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে এই প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের ব্যয় কমানোর স্বার্থে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎস করের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। বাজেটে শিল্প খাতে আরও কিছু সুবিধা প্রস্তাব করেছেনব অর্থমন্ত্রী। যার মধ্যে রয়েছে- উৎস করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসাবে বিবেচনা করা। দেশীয় ভোজ্য তেল উৎপাদন ব্যবসার করহার প্রথম ৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ অব্যাহতি এবং পরবর্তী ৩ বছর ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২ বছর ২৫ শতাংশ অব্যাহতি দিয়ে ১০ বছরের জন্য সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব। পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহ প্রদানের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ কর হার প্রস্তাব।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, জনমুখী এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বাজেটটি সার্বিকভাবে জনমুখী এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাস্তবায়ন। ঘোষিত কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ না পেলে মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। আহমেদ আরো বলেন, এটি একটি বড় ও উচ্চাভিলাষী বাজেট। নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিফলন এতে রয়েছে। বাজেটে বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক উদ্যোগ। সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা বাসসকে জানান, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সম্পদ সংগ্রহ, সঠিক বরাদ্দ, কার্যকর তদারকি এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন। সরকারের উচিত অগ্রাধিকারভিত্তিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শুরু করা। তার ভাষায়, আমাদের দেশে প্রায়ই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব দেখা যায়। অনেক উদ্যোগ সময়মতো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তাই দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাজেটের আকার প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বড় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এর সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা এবং প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি আরো বলেন, প্রশ্ন হলো এত বড় উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়ন কোন উৎস থেকে আসবে এবং প্রকল্পগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে। শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, প্রকল্পগুলোতে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব কারণে সময়মতো ও গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কোয়ালিটি, সময়ানুবর্তিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করে বাস্তবায়নের ওপর। এটাই আগামী অর্থবছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতে ইরানের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ সামরিক হামলা চালাবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা এবং তাদের অধিকাংশ আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের হামলা চালাবে। একই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেবে। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর “পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠা করা হবে। খার্গ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, দেশটির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের টার্মিনালের মাধ্যমে রপ্তানি করা হয়। ট্রাম্প এই মন্তব্য এমন সময় করলেন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। দেশটি এ হামলাকে এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির অবনতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে যে বিপজ্জনক পরিণতি সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার মার্কিন সরকারকেই বহন করতে হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান প্রস্তুত ও পরিচালনার জন্য আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কার্যত আগ্রাসনকারীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
৪০ বছরের অপেক্ষা, অবশেষে মিরপুরে হলো তার অবসান। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারাল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিরাজের দল। বোলারদের দৃঢ়তা আর ব্যাটারদের ধৈর্য পরীক্ষায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জন। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টি নামার আগে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান তুলে সফরকারীরা। এরপর ওভার কমে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। তবে ব্যাটারদের দলগত পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্য টপকে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। এদিকে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে কোনো রান না করেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১০২৪ ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির গড়ে জশ ইংলিসের দল। ইনিংসের শুরুতে চাপ তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ। টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে ম্যাট রেনশও আউট হন। পরে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেই অবস্থায় সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সামলান জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। তবে ৪১তম ওভারে আবারও ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন, তানভীর ইসলাম নেন দুই উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। তবে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য। ৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান শান্ত। ৯৮ রানের মাথায় ৪২ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন তিনি, যা বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম। মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ভালো নয়। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও হলো একই দশা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন আটকে গেলেন মিরপুরের ধাঁধায়। ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা হয়। তাতে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার। ছয়ে নামা মোসাদ্দেকের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকেই এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন এই ব্যাটার, হাঁকিয়েছেন তিন বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই উচ্চবিলাসী শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, জনমুখী এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বাজেটটি সার্বিকভাবে জনমুখী এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাস্তবায়ন। ঘোষিত কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ না পেলে মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। আহমেদ আরো বলেন, এটি একটি বড় ও উচ্চাভিলাষী বাজেট। নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিফলন এতে রয়েছে। বাজেটে বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক উদ্যোগ। সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা বাসসকে জানান, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সম্পদ সংগ্রহ, সঠিক বরাদ্দ, কার্যকর তদারকি এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন। সরকারের উচিত অগ্রাধিকারভিত্তিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শুরু করা। তার ভাষায়, আমাদের দেশে প্রায়ই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব দেখা যায়। অনেক উদ্যোগ সময়মতো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তাই দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাজেটের আকার প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বড় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এর সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা এবং প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি আরো বলেন, প্রশ্ন হলো এত বড় উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়ন কোন উৎস থেকে আসবে এবং প্রকল্পগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে। শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, প্রকল্পগুলোতে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব কারণে সময়মতো ও গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কোয়ালিটি, সময়ানুবর্তিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করে বাস্তবায়নের ওপর। এটাই আগামী অর্থবছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত অর্থবিলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য করহার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে কোম্পানিকে আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার জনসাধারণের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মতো ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর দিতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি তাদের সব আয় ও লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে, তাদের করহার আরও কমে ২০ শতাংশে নেমে আসবে। অন্যদিকে ১০ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের শর্ত পূরণ না করা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করলে করহার হবে ২৫ শতাংশ। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক করহার বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ৪৫ শতাংশ করহার বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট শর্তে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরদের করহার ৪০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। কর প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্ত ও গোয়েন্দা ইউনিটের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কর ফাঁকি অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, তল্লাশি, জব্দ এবং প্রয়োজন হলে মামলা দায়েরের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রথমবারের মতো “ফ্রিল্যান্সিং” ও “কনটেন্ট ক্রিয়েশন”-এর আইনি সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ খাতের জন্যও নতুন কিছু সংজ্ঞা ও বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। করদাতাদের সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কর রেয়াত পাওয়া যাবে, আর বিলম্বে জমা দিলে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া নতুন অর্থবিলে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে সম্পূরক শুল্ক, বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও বিলাসপণ্যের শুল্ক পুনর্বিন্যাস, বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য শুল্ক সুবিধা এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল) গঠনের নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই অর্থবিলের মূল লক্ষ্য হলো করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা, বিনিয়োগ ও রপ্তানি উৎসাহিত করা এবং কর প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে মধ্য-বামপন্থী ও কল্যাণমুখী বাজেট হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা, ভর্তুকি, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, ভর্তুকি ও প্রণোদনায় ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো নতুন কর্মসূচিও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হবে অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন। কারণ সরকার আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও অতীতের কোনো অর্থবছরেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ফলে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি ঋণের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম বিনিয়োগ, রপ্তানি আয় হ্রাস, শিল্প উৎপাদনে ধীরগতি এবং কর্মসংস্থান সংকটের মতো নানা চাপে রয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, অন্যদিকে সরকারি ঋণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সামাজিক কল্যাণমূলক ব্যয় বাড়ানো জনগণের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের সম্প্রসারণমূলক বাজেট দীর্ঘমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা সুদ ব্যয় বাড়াবে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। কর ফাঁকি কমানো, শিল্পায়ন, কৃষি সংস্কার ও উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সার্বিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজেটের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার যথাযথ হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে রাজস্ব সংগ্রহ, সুশাসন, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। তাই এই বাজেট অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করতে পারে, তবে তা কতটা সফল হবে, সেটি বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে।
রাশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। মস্কোয় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এজন্য দুই দেশ শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবে। বৈঠকে শুধু শ্রমবাজার নয়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধ রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে রাশিয়া একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে পাঠাতে সম্মত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে বাংলাদেশ–রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
দীর্ঘ ৫৮ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ মধ্যরাতে। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নতুন উদ্যমে সাগরে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন ভোলার হাজারো জেলে ও ফিশিং বোটের মালিকরা। সাগরে মাছ ধরার অনুমতি পুনরায় কার্যকর হওয়ার খবরে জেলার বিভিন্ন মাছঘাট ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। জেলেরা প্রয়োজনীয় জাল, জ্বালানি, বরফ, খাবার ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে গভীর সমুদ্রে যাত্রার শেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ জলসীমায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে। ভোলা জেলায় প্রায় ৬৪ হাজার নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন। তাদের জীবিকা সরাসরি সাগরে মাছ আহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এছাড়া মাছ ধরা, পরিবহন, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত আরও বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকাও এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। জেলার বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও বোটে খাদ্যসামগ্রী ও জ্বালানি তোলা হচ্ছে, কোথাও চলছে জাল ও ট্রলারের শেষ মুহূর্তের মেরামত কাজ। অনেক জেলে আগেভাগেই সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছেন, যাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাছ ধরার কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। জেলেদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন সাগরে যেতে না পারায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় ঈদুল আজহাও কেটেছে সীমিত সামর্থ্যে। এখন তাদের আশা, সমুদ্রে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া গেলে আগের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। একাধিক জেলে জানান, প্রতিটি বোটে কয়েক লাখ টাকার জ্বালানি, বরফ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করা হয়েছে। তারা কয়েকদিনের অভিযানে সাগরে থাকবেন এবং ভালো মাছের প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা করবেন। ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে এবার সমুদ্রে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেরা কাঙ্ক্ষিত আহরণ করতে সক্ষম হবেন। মধ্যরাত পেরোলেই আবারও বঙ্গোপসাগরে শুরু হবে মাছ ধরার ব্যস্ততা, আর সেই সঙ্গে নতুন আশার আলো দেখছেন উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমাগত বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে এক অভূতপূর্ব ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি রাতে ইরান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে নিয়ে আসছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমরা (ইরান থেকে) লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে নিয়ে আসছি—সত্যিই লাখ লাখ ব্যারেল। প্রতি রাতে আমরা এই তেল সরিয়েছি। তার এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বর্তমানে নাগালের মধ্যে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনা হয়েছে বলেই আজ প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২৫০ ডলারে না ঠেকে ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর পুরো কৃতিত্ব নিজের প্রশাসনের এই কথিত গোপন বা বিশেষ অভিযানের ওপর দিতে চাচ্ছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, যার ফলে তীব্র রাজনৈতিক কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে নিজের অবস্থান সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েই ট্রাম্প তেলের বাজারের এই ভেতরের খবর প্রকাশ করলেন। একই সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হওয়া মাত্রই জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। তবে ইরান থেকে কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই তেল সরানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। সূত্র: আল-জাজিরা।
সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—মমতা বন্দোপাধ্যায় কি কংগ্রেসে ফিরছেন? ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) গঠন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দূরতম কল্পনাতেও ছিল না, আজ তা নয়াদিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এক তীব্র জল্পনায় রূপ নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত এই সম্ভাবনার গায়ে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে দেওয়াই শ্রেয়—মমতা বন্দোপাধ্যায় কি সত্যিই তার তৃণমূল কংগ্রেসকে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করতে যাচ্ছেন? রাজনীতিতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। এক নজিরবিহীন ঘটনাক্রম নয়াদিল্লির গণমাধ্যমে এই আলোচনার হাওয়া আরও গরম করে তুলেছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নিজের বিধায়কদের কাছ থেকে এক পূর্ণাঙ্গ বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন মমতা। মার খাচ্ছেন তার দলের কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতারা। অথচ রাজ্যের এই চরম সংকটের সময়েও মমতা অবস্থান করছেন দিল্লিতে। কিন্তু কেন? মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং তার ভাইপো তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। অথচ অতীতে মমতা খুব কম সময়ই এই জোটের বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত থেকেছেন; বেশিরভাগ সময় তিনি অভিষেক বা ডেরেক ওব্রায়েনকে পাঠাতেন। ২৯টি লোকসভা এবং ১২টি রাজ্যসভা আসন নিয়ে সংসদের তৃতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল এতদিন কেন্দ্রে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে নিজস্ব কৌশল বজায় রেখে আসছিল। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে মমতার সমীকরণ বরাবরই ছিল অম্লমধুর। তাহলে হুট করে এই অভূতপূর্ব সৌহার্দ্যের কারণ কী? মঙ্গলবার (৯ জুন) সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার একান্ত বৈঠক হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম। জানা গেছে, তাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং জোটের রাজনীতি’। এরপর বুধবার (১০ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। বুধবার রাতেই মমতার আবারও সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এই পর পর রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলো আসলে কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে? পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার হাতবদল ও দলের ভেতরে বিদ্রোহ টানা ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মমতা। এই দীর্ঘ সময়ে রাজ্যে তৃণমূলের শাসন ছিল প্রশ্নাতীত ও নিশ্ছিদ্র। কিন্তু গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সবকিছু এক ঝটকায় বদলে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে এবার আছড়ে পড়েছে প্রবল ‘বিজেপি ঝড়’। এক দশক ধরে চলা তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে এটি ছিল জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ফলে ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই বিপর্যয় সামনে আসতেই দলের নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেকের বিরুদ্ধে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ শুরু হয়। শতাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক মমতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হয়েছেন। অন্যদিকে কাকলী ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন যে, তৃণমূলের ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি তাদের শিবিরে রয়েছেন এবং তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনী ফলাফলের মাত্র এক মাসের মধ্যে দলটির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াই শুরু করলেও শিবসেনা এবং এনসিপি ভাঙনের সাম্প্রতিক নজিরগুলো থেকে তিনি ভালো করেই জানেন যে, আইনি পথে দল বাঁচানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ বিদ্রোহী বিধায়ক ও সংসদ সদস্যদের সংখ্যা দলত্যাগ বিরোধী আইনকে অনায়াসেই অকার্যকর করে দিতে পারে। এদিকে তৃণমূলের এই কংগ্রেস-সংযুক্তির জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের ৬৪ জন বিধায়ক এবং ২০ জন সংসদ সদস্য কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এই পদক্ষেপকে কোনোভাবেই সমর্থন করবেন না। ঋতব্রত বলেন, ‘আমাদের বিধায়করা কংগ্রেসে যোগ দেবেন না। ২০ জন সংসদ সদস্যও এর বাইরে। তাহলে দলটা একীভূত করছে কারা? কংগ্রেসের সঙ্গে এই ধরনের কোনো সংযুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।’ এই পরিস্থিতিতে মমতার প্রাপ্তি কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের তৈরি তিন দশকের পুরনো দলটিকে বিদ্রোহীদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মমতার সামনে এখন সেরা বিকল্প হলো কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়া। এতে করে একদিকে যেমন তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা ধরে রাখতে পারবেন, অন্যদিকে দলছুট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন তার রাজনৈতিক উত্তরসূরি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। নয়াদিল্লির প্রবীণ সাংবাদিকদের সূত্র অনুযায়ী, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোনিয়া গান্ধী মমতাকে দুটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। একটি হলো মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হবে। অপরটি হলো অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে দেওয়া হবে কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক-এর পদ। এর বিপরীতে অভিষেকের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো মমতাকে রাজ্যসভায় পাঠানো এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিবর্তে তাকে উচ্চকক্ষের বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা। সঞ্জয় রাউত বা রাজদীপ সরদেশাইয়ের মতো প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা মনে করছেন, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা আঞ্চলিক দলগুলোর (যেমন তৃণমূল বা এনসিপি) এখন আবার মূল দল বা ‘মাদারশিপ’-এ ফিরে আসাই বিজেপির আধিপত্য ঠেকানোর একমাত্র উপায়। তবে আজীবন লড়াকু বা ‘স্ট্রিটফাইটার’ হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পক্ষে নিজের দলটির স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া মোটেও সহজ নয়। তিনি এখন এক চরম শাঁখের করাতের মুখোমুখি। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে শেষ পর্যন্ত তিনি এই চুক্তিতে সই করবেন কিনা—তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করার পাশাপাশি তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান বড্ড বেশি সময় নষ্ট করে ফেলেছে এবং এর জন্য এখন দেশটিকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে এই কড়া বার্তা দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের সামরিক বাহিনীকে একটি ‘সম্পূর্ণ এবং চরম বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পূর্ববর্তী দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনীর মতো তাদের পুরো সামরিক শক্তির এখন আর কোনো অস্তিত্বই নেই। ইরানকে পুরোপুরি পরাস্ত করা হয়েছে দাবি করে তিনি লেখেন, ‘ইরান কেবল মুখের কথায় পটু, কাজের কাজ কিছুই করতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যের সেই মাস্তান এখন মৃত!!! যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সুবিধাজনক চুক্তিতে আসার জন্য ইরান অনেক দীর্ঘ সময় পার করে দিয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, তারা এমন একটি চুক্তির জন্য আলোচনা করতে বড্ড বেশি সময় নিয়ে নিয়েছে যা তাদের নিজেদের জন্যই দারুণ হতে পারত। কিন্তু এখন তাদের এর খেসারত দিতে হবে!!! তবে চড়া মূল্য বলতে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের পদক্ষেপের কথা বোঝাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। সূত্র: আল-জাজিরা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগনে এখন চরম আস্থাহীনতা আর সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁর চারপাশের সামরিক–বেসামরিক কর্মকর্তাদের আনুগত্য নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন। এ পরিস্থিতির সর্বশেষ শিকার মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ, যাঁকে আকস্মিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পেন্টাগনের বর্তমান ও সাবেক ১৫ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, হেগসেথ পেন্টাগনের সব তথ্য তাঁর দপ্তরের মধ্যে কঠোরভাবে গোপন রাখছেন। তাঁর প্রচণ্ড অবিশ্বাসের কারণে সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানতে কিছু সেনাকে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তিতে (এনডিএ) স্বাক্ষর করতে হচ্ছে এবং পেন্টাগনে ‘পলিগ্রাফ টেস্ট’ বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এমনকি সেনাপ্রধানের কর্মজীবনেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করছিলেন হেগসেথ; সম্প্রতি তিনি নিজে চারজন কর্নেলের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের পদোন্নতি আটকে দেন। এই টানাপোড়েন কমাতে গত ১ এপ্রিল সেনাপ্রধান জেনারেল জর্জ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন; কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি। পরদিনই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের খবরটি এতটাই সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ছিল যে কোনো ব্যাখ্যা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। জেনারেল জর্জের এই বিদায় পেন্টাগনে আস্থাহীনতার জন্ম দিয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের হিসাব কষে কাজ করতে হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বসের চাকরি থাকবে তো, নাকি তিনি বরখাস্ত হবেন? এমন পরিস্থিতি সত্যিই নজিরবিহীন।’ তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের ভেতরে এখন পদে টিকে থাকার একমাত্র উপায়—যথাসম্ভব চুপচাপ থাকা এবং হেগসেথের নজর এড়িয়ে চলা। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও বিশ্বাসের অভাবে এখন পেন্টাগনে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হেগসেথ এই সংঘাতকে বিশাল সাফল্য হিসেবে চিত্রিত করতে ব্যস্ত এবং সংবাদমাধ্যমের সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইরানের পদক্ষেপের ফলে উদ্ভূত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ায় হেগসেথ আবারও তথ্য ফাঁসের তদন্তে মেতে উঠেছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখন সেনাদের তথ্য ফাঁসের বিষয়ে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এক সেনা কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে, যেন আমরাই শত্রু।’ হেগসেথের এই দ্বন্দ্ব কেবল সেনাবাহিনীর সঙ্গেই নয়, অন্যান্য বিভাগের প্রধানদের সঙ্গেও চলছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে সেনাবাহিনীরসচিব ড্যান ড্রিসকলকে শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন হেগসেথ। এ ছাড়া জেনারেল জর্জকে সরানোর কয়েক মাস আগেই তিনি সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল জেমস মিঙ্গুসকে সরিয়ে নিজের সামরিক সহকারী জেনারেল ক্রিস লানেভকে সেই পদে বসান, যিনি এখন ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান। জেনারেল জর্জের বিদায়ের কয়েক সপ্তাহ পর নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকেও আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। জাহাজ নির্মাণে ধীরগতি এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ফেলানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে হেগসেথের সন্দেহের কারণেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে। পেন্টাগনের ভেতরে এত নাটকীয়তা ও অসন্তোষ চললেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো হেগসেথের পাশেই রয়েছেন। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক শুনানিতে নিজের পাশে বসা হেগসেথকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ একদম উপযুক্ত চরিত্র। ও যুদ্ধ ভালোবাসে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।