সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ফুটবলে রোনালদোর ৯ অনন্য কীর্তি, ভাঙা কঠিন হবে যেসব রেকর্ড

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে দেখা যাবে না এই মহাতারকাকে। পর্তুগালের জার্সিতে অসংখ্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। এর মধ্যে এমন নয়টি রেকর্ড রয়েছে, যেগুলো অদূর ভবিষ্যতে ভাঙা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের মালিক রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে তার গোলসংখ্যা ১৪৬। তালিকায় তার পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি, যিনি ২০ গোল পিছিয়ে। আর সাবেক ইরানি ফুটবলার আলী দাইয়ি রয়েছেন রোনালদোর চেয়ে ৩৮ গোল পেছনে। বর্তমানে সক্রিয় ফুটবলারদের মধ্যে রোনালদোর সবচেয়ে কাছাকাছি বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। তার গোল ৯৪টি। ৩৩ বছর বয়সে এসে রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডোভস্কির গোলসংখ্যা ৯২। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনকেও রোনালদোকে ছাড়িয়ে যেতে আরও ৫০টির বেশি গোল করতে হবে।   আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর দখলে। ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে পর্তুগালের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসি খেলেছেন ২০৮ ম্যাচ। রোনালদোর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ লুকা মদরিচও তার চেয়ে ২৮ ম্যাচ পিছিয়ে। সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে কাতারের হাসান আল হায়দোস ১৯৩ ম্যাচ নিয়ে রোনালদোর কাছাকাছি রয়েছেন। তবে শীর্ষস্থান পেতে তাকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।   ৩০ বছর বয়সের পর সর্বোচ্চ গোল বয়স বাড়ার সঙ্গে রোনালদোর গোল করার ধার কমেনি, বরং ক্যারিয়ারের পরের অংশে আরও বেশি গোল করেছেন তিনি। ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর পর্তুগালের হয়ে তার গোলসংখ্যা ৯৪। অথচ এর আগে করেছিলেন ৫২ গোল। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেসি ৩০ বছর বয়সের পর করেছেন ৬৮ গোল। ফলে রোনালদোর এই কীর্তি অতিক্রম করা সহজ হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরো ক্যারিয়ার মিলিয়েও মাত্র চারজন ফুটবলার ৯৪ বা তার বেশি গোল করেছেন।   যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেই ম্যাচের সংখ্যায় শীর্ষে পর্তুগালের হয়ে ৯৬টি ভিন্ন ম্যাচে গোল করেছেন রোনালদো। দীর্ঘ সময় ধরে গোল করার ধারাবাহিকতারই প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে রোনালদো ছাড়াও লিওনেল মেসি ও আলী দাইয়ি এই কীর্তি গড়েছেন।   সর্বাধিক ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল পর্তুগালের হয়ে ৪৯টি ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করেছেন রোনালদো। এ ক্ষেত্রে মেসির চেয়ে তিনটি বেশি দলের বিপক্ষে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও রোনালদোর এই রেকর্ডে ভাগ বসানো সহজ হবে না।   টানা বিভিন্ন বছরে গোল করার কীর্তি রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হলো, ২৩ বছরের প্রতিটি বছরেই তিনি গোল করেছেন। অর্থাৎ দুই দশকের বেশি সময় ধরে গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন পর্তুগিজ তারকা। এই রেকর্ড ভাঙতে হলে কোনো ফুটবলারকে খুব অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে শুরু করতে হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যেতে হবে। মাঝখানে কোনো বছর গোলশূন্য থাকা চলবে না।   ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। ইউরোর বিভিন্ন আসরে তার গোলসংখ্যা ১৪। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি করেছেন ৯ গোল। স্পেনের আলভারো মোরাতা ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন সাতটি করে গোল নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন। রোনালদোর রেকর্ড ছাড়াতে তাদের আরও আটটি গোল করতে হবে।   ইউরোতে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর। এই প্রতিযোগিতায় তিনি মোট ৩০টি ম্যাচ খেলেছেন। একটি আসরে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালে কোনো দল সর্বোচ্চ সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ফলে রোনালদোর রেকর্ড ভাঙতে হলে কোনো খেলোয়াড়কে একাধিক আসরে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে দলকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এ কারণে রেকর্ডটি অতিক্রম করা বেশ কঠিন।   বিশ্বকাপের ছয় আসরেই গোল বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়ার কীর্তি রয়েছে রোনালদো ও মেসির। তবে প্রতিটি আসরেই গোল করার দিক থেকে রোনালদো এগিয়ে। এই রেকর্ড ছুঁতে হলে একজন ফুটবলারকে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে হবে। পাশাপাশি তার দলকে ছয়টি বিশ্বকাপেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং প্রতিটি আসরেই তাকে গোল করতে হবে। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রতিটিতে গোল করার কীর্তি গড়া যে আরও কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

২৯ মিনিট আগে
আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা

আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।   রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি স্থানে এবং বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।   সোমবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।   মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   অন্যদিকে, বুধবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায়ও বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

৩১ মিনিট আগে
সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় চা-দোকানি নিহত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তার সামান্য জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. নাঈম খান (৬০) নামে এক চা-দোকানি নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে শিমলাই উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   ৭ নভেম্বর দুপুর সোয়া ১টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। লাঠিসোঁটার আঘাতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।   নিহত নাঈম খান শিমলাই উত্তরপাড়া এলাকার মৃত মঈন খানের ছেলে। তিনি পেশায় চা-দোকানি ছিলেন।   নিহতের মেয়ের জামাতা ইমরান জানান, প্রতিবেশী হোসেন, ইকবাল ও মায়াসহ ৩ থেকে ৪ জন নাঈম খানের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।   ইমরান আরও জানান, রাস্তার জায়গা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ। সামান্য জায়গা নিয়ে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।   ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে নাঈম খানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

৩২ মিনিট আগে
সমালোচনার মুখে জার্মানিতে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ করলেন রেজা পাহলভি

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ করেছেন ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর ছেলে রেজা পাহলভি। তবে তার এই পুরস্কার গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ইরানের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার বৈধতা নেই তার।   শনিবার (৭ নভেম্বর) ফ্রাঙ্কফুর্টের ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। জার্মানির উদারপন্থী দল এফডিপি-ঘনিষ্ঠ ফ্রেডরিখ নউমান ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।   জার্মান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ হাজার সমর্থক পুরোনো ইরানি পতাকা হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে রেজা পাহলভিকে স্বাগত জানান।   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাহলভি বলেন, ইরান এমন কোনো দেশ নয়, যাকে নতুন করে গণতন্ত্রের শিক্ষা দিতে হবে। বরং দেশটির জনগণকে জোরপূর্বক গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন দিতে প্রস্তুত, তারা সেই অধিকার প্রয়োগ করতেও সক্ষম বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ইরানে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে নিহতদের কয়েকজন স্বজনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাহলভি।   তবে অনুষ্ঠানে ব্যাপক সমর্থন পেলেও তার পুরস্কার গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। রেজা পাহলভির বাবা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের শেষ শাহ। ১৯৭৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। তার শাসনামলের কর্তৃত্ববাদী ভূমিকার কারণে এখনো সমালোচনার মুখে পড়েন রাজপরিবারের উত্তরসূরি রেজা পাহলভি।   এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।   হেস অঙ্গরাজ্যের সোসাইটি ফর জার্মান-ইরানিয়ান্সের মুখপাত্র সাহার সানাই জানান, ইরানের কারাগারে থাকা প্রায় ২০০ বন্দি পাহলভির পুরস্কার গ্রহণের প্রতিবাদে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মতে, তিনি অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের প্রতীক।   জার্মানির মধ্য-বামপন্থী দল এসপিডি ও গ্রিনস পার্টির ফ্রাঙ্কফুর্ট শাখা অনুষ্ঠানটি বয়কট করে। দল দুটির বক্তব্য, রেজা পাহলভিকে ইরানি জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।   অন্যদিকে, উগ্র বামপন্থী দল ডি লিঙ্কের ফ্রাঙ্কফুর্ট শাখা ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, শহরের নিয়ম অনুযায়ী এই উপাসনালয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করা উচিত নয়।   পুরস্কার গ্রহণের পর পাহলভি বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সম্মান গ্রহণ করছেন না; বরং ইরানে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে এটি নিজের কাছে রাখবেন।   তিনি আরও বলেন, একদিন পুরস্কারটি কোনো বিদেশি ভূমিতে নয়, বরং ইরানের রাজধানী তেহরানে এর প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিতে চান।   সূত্র: এএফপি।

৩৪ মিনিট আগে
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্র ও সমাজে সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে: প্রধানমন্ত্রী
অর্থনীতি
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্র ও সমাজে সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজেও চূড়ান্ত সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে হীনস্বার্থ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে দেশের দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মূল্যবোধ নষ্ট করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে পরিবারে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।   শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   তারেক রহমান বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করলেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে।   তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজে এসব মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক অপরাধের মাত্রা অনেক কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে তাদের প্রতিটি কার্যক্রম আইনসম্মত, মানবিক, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব হতে হবে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ইউনিয়ন বা গ্রাম গড়ে তুলতে কার্যকর স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ এবং সচেতন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, গ্রাম ও ইউনিয়নগুলো তত বেশি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে।   প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, গ্রাম পুলিশের বিচক্ষণ ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   গ্রাম পুলিশের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে কর্মরত ৪০ হাজারের বেশি গ্রাম পুলিশ সদস্যের পরিবার ও জীবিকার স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি জানান, গ্রাম পুলিশের পদবি পরিবর্তনের পাশাপাশি বেতন-ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন গ্রাম পুলিশের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর গ্রাম পুলিশ প্রধানের বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাম পুলিশের আনুতোষিক ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।   এ ছাড়া তথ্য আদান-প্রদানের কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহারের খরচ হিসেবে প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মাসে ২০০ টাকা দেওয়া হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে থানায় যাতায়াতের জন্য সাধারণ গ্রাম পুলিশের সাপ্তাহিক ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।   নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতির জন্য নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি।   তিনি জানান, সরকার সারাদেশে ১ লাখ হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারী নিয়োগ দেওয়া হবে।   এ ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে আরও দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দেন তিনি। নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিও দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।   গ্রাম পুলিশের কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়কের নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ রাখার ঘোষণা দেন তারেক রহমান।   তিনি বলেন, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় এসব সড়কে গাছ লাগানো হবে। গাছ বড় হওয়ার পর বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এভাবে গ্রাম পুলিশদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৭, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
সমালোচনার মুখে জার্মানিতে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ করলেন রেজা পাহলভি

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ করেছেন ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর ছেলে রেজা পাহলভি। তবে তার এই পুরস্কার গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ইরানের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার বৈধতা নেই তার।   শনিবার (৭ নভেম্বর) ফ্রাঙ্কফুর্টের ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। জার্মানির উদারপন্থী দল এফডিপি-ঘনিষ্ঠ ফ্রেডরিখ নউমান ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।   জার্মান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ হাজার সমর্থক পুরোনো ইরানি পতাকা হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে রেজা পাহলভিকে স্বাগত জানান।   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাহলভি বলেন, ইরান এমন কোনো দেশ নয়, যাকে নতুন করে গণতন্ত্রের শিক্ষা দিতে হবে। বরং দেশটির জনগণকে জোরপূর্বক গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন দিতে প্রস্তুত, তারা সেই অধিকার প্রয়োগ করতেও সক্ষম বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ইরানে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে নিহতদের কয়েকজন স্বজনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাহলভি।   তবে অনুষ্ঠানে ব্যাপক সমর্থন পেলেও তার পুরস্কার গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। রেজা পাহলভির বাবা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের শেষ শাহ। ১৯৭৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। তার শাসনামলের কর্তৃত্ববাদী ভূমিকার কারণে এখনো সমালোচনার মুখে পড়েন রাজপরিবারের উত্তরসূরি রেজা পাহলভি।   এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।   হেস অঙ্গরাজ্যের সোসাইটি ফর জার্মান-ইরানিয়ান্সের মুখপাত্র সাহার সানাই জানান, ইরানের কারাগারে থাকা প্রায় ২০০ বন্দি পাহলভির পুরস্কার গ্রহণের প্রতিবাদে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মতে, তিনি অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের প্রতীক।   জার্মানির মধ্য-বামপন্থী দল এসপিডি ও গ্রিনস পার্টির ফ্রাঙ্কফুর্ট শাখা অনুষ্ঠানটি বয়কট করে। দল দুটির বক্তব্য, রেজা পাহলভিকে ইরানি জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।   অন্যদিকে, উগ্র বামপন্থী দল ডি লিঙ্কের ফ্রাঙ্কফুর্ট শাখা ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, শহরের নিয়ম অনুযায়ী এই উপাসনালয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করা উচিত নয়।   পুরস্কার গ্রহণের পর পাহলভি বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সম্মান গ্রহণ করছেন না; বরং ইরানে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে এটি নিজের কাছে রাখবেন।   তিনি আরও বলেন, একদিন পুরস্কারটি কোনো বিদেশি ভূমিতে নয়, বরং ইরানের রাজধানী তেহরানে এর প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিতে চান।   সূত্র: এএফপি।

ছবি: সংগৃহীত
৭ নভেম্বরের চেতনা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা: পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনাকে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রেরণা ও পথনির্দেশক হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।   শনিবার (৭ নভেম্বর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণের প্রচেষ্টা প্রতিহত হয়েছিল।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় ইতিহাসের সংকটময় সময়ে ভূমিকা রাখার জন্য দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।   সংগঠনটি জানায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তার নেতৃত্ব, সাহস ও দেশপ্রেম জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালনের চেতনাই সংগঠনটির প্রেরণার উৎস।   এ ছাড়া বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্য এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটি উল্লেখ করে, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।   শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   ধর্মমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি ও মুক্তিকামী জনতা এক রক্তপাতহীন বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছিল।   তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন।   মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তার স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও চেতনা ধরে রাখতে দিবসটির সরকারি মর্যাদা ও ছুটি বহাল রেখেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।   ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান থাকবে না। প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতা। পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বনির্ভরতা এবং সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ধর্মমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে সহায়তার অভিযোগ, কানাডার ৮ প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ওপর জারি করা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে সহায়তা এবং অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগে কানাডাভিত্তিক আটটি অর্থ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। এই পদক্ষেপের ফলে সংস্থাগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি যেকোনো মার্কিন নাগরিক বা সংস্থার সঙ্গে তাদের সব ধরনের লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, কানাডার ওন্টারিও ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় অবস্থিত এই আটটি প্রতিষ্ঠান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের বিভিন্ন সংস্থাকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে আসছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মিলিয়ন এক্সচেঞ্জ (ডাইভার্স ট্রেড ইনক), ১৩৮০০৭৯ বিসি লিমিটেড, টপ পিসি টেকনিশিয়ান ইনক, এনআইএ নেশনস কারেন্সি লিমিটেড, ফারাহ এক্সচেঞ্জ (২৩৯৭৬৩৯ ওন্টারিও লিমিটেড), সিসিসি ইনক, বি গ্যালাক্সি ইনক এবং দরবেশ এক্সচেঞ্জ।   নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানি শাসন ব্যবস্থা বা তাদের সহযোগীদের অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কানাডাকে কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ইরানের এসব অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তা খুঁজে বের করে ধ্বংস করবে।   এর পাশাপাশি ক্রিপ্টো লেনদেনের ওপরও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ফাইনান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) ভার্চুয়াল মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম ‘এমইএক্সসি গ্লোবাল’ -কে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। সেশেলসে নিবন্ধিত এই প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশের হয়ে অন্তত ১,৬০০ কোটি (১৬ বিলিয়ন) ডলারের অনৈতিক ক্রিপ্টো লেনদেনে সহায়তা করেছে। ফিনসেনের এই আদেশের ফলে মার্কিন কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমইএক্সসি গ্লোবালের কোনো লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে পারবে না।   সূত্র: রয়টার্স

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সমালোচনার মুখে জার্মানিতে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ করলেন রেজা পাহলভি
আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৭, ২০২৬

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ করেছেন ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর ছেলে রেজা পাহলভি। তবে তার এই পুরস্কার গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ইরানের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার বৈধতা নেই তার।   শনিবার (৭ নভেম্বর) ফ্রাঙ্কফুর্টের ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। জার্মানির উদারপন্থী দল এফডিপি-ঘনিষ্ঠ ফ্রেডরিখ নউমান ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।   জার্মান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ হাজার সমর্থক পুরোনো ইরানি পতাকা হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে রেজা পাহলভিকে স্বাগত জানান।   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাহলভি বলেন, ইরান এমন কোনো দেশ নয়, যাকে নতুন করে গণতন্ত্রের শিক্ষা দিতে হবে। বরং দেশটির জনগণকে জোরপূর্বক গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন দিতে প্রস্তুত, তারা সেই অধিকার প্রয়োগ করতেও সক্ষম বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ইরানে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে নিহতদের কয়েকজন স্বজনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাহলভি।   তবে অনুষ্ঠানে ব্যাপক সমর্থন পেলেও তার পুরস্কার গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। রেজা পাহলভির বাবা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের শেষ শাহ। ১৯৭৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। তার শাসনামলের কর্তৃত্ববাদী ভূমিকার কারণে এখনো সমালোচনার মুখে পড়েন রাজপরিবারের উত্তরসূরি রেজা পাহলভি।   এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।   হেস অঙ্গরাজ্যের সোসাইটি ফর জার্মান-ইরানিয়ান্সের মুখপাত্র সাহার সানাই জানান, ইরানের কারাগারে থাকা প্রায় ২০০ বন্দি পাহলভির পুরস্কার গ্রহণের প্রতিবাদে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মতে, তিনি অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের প্রতীক।   জার্মানির মধ্য-বামপন্থী দল এসপিডি ও গ্রিনস পার্টির ফ্রাঙ্কফুর্ট শাখা অনুষ্ঠানটি বয়কট করে। দল দুটির বক্তব্য, রেজা পাহলভিকে ইরানি জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।   অন্যদিকে, উগ্র বামপন্থী দল ডি লিঙ্কের ফ্রাঙ্কফুর্ট শাখা ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, শহরের নিয়ম অনুযায়ী এই উপাসনালয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করা উচিত নয়।   পুরস্কার গ্রহণের পর পাহলভি বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সম্মান গ্রহণ করছেন না; বরং ইরানে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে এটি নিজের কাছে রাখবেন।   তিনি আরও বলেন, একদিন পুরস্কারটি কোনো বিদেশি ভূমিতে নয়, বরং ইরানের রাজধানী তেহরানে এর প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিতে চান।   সূত্র: এএফপি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
বাংলাদেশ-পাকিস্তান থেকে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব নিয়ে শুভেন্দুর বড় ঘোষণা
মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সময়সীমা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র আওতায় সমস্ত যোগ্য আবেদন নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বর্তমানে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নদিয়ার আরংঘাটায় একটি কালীপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধন করতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। কোনও যোগ্য আবেদনকারী যাতে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুভেন্দুর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বহু আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি যাচাই ও শুনানির প্রক্রিয়া শেষ করে নাগরিকত্ব প্রদানের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মহকুমাশাসকদের তত্ত্বাবধানে আবেদনকারীদের নথি যাচাই এবং শুনানি হবে। প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগে ১ নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনেও একই সময়সীমার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তার দাবি ছিল, রাজ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মতুয়া-সহ বিভিন্ন উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বিশেষত নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ইস্যুর সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট। ফলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তির ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।তবে আবেদন জমা পড়লেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত নয়। সিএএ-র নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং নথি যাচাইয়ের পরেই যোগ্য আবেদনকারীরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এপি
আমি না থাকলে ইসরায়েল বলে কিছু থাকত না: ট্রাম্প
মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬

ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজের ভূমিকার কথা আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত না রাখলে আজ ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব থাকত না। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে না পারলে আজ ইসরায়েল ও ‘পুরো মধ্যপ্রাচ্য’ বলে কিছু থাকত না। তিনি আরও লেখেন, ‘কেউ এ কথা বলতে চায় না, কিন্তু সবাই জানে এটাই সত্য!’ এর কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চলতি বছরই বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক হামলা চালাবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানাননি তিনি। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজের ভূমিকার কথা এবারই প্রথম বললেন না ট্রাম্প। এর আগে ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট না থাকলে ‘আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না’। গত জুনে ওভাল অফিসেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের কোনও অস্তিত্ব থাকত না।  সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করে। ছবি: এক্স
সবচেয়ে উঁচুতে বিমান অবতরণ করিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের দাবি ভারতের
মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬

পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ)। বাহিনীর দাবি, বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ বিমানের এটিই সর্বোচ্চ উচ্চতার অবতরণ। এ অর্জন দুর্গম উচ্চ উচ্চতায় ভারী পরিবহন বিমান পরিচালনার সক্ষমতা তুলে ধরেছে এবং অঞ্চলটিতে ভারতের কৌশলগত আকাশপথে পরিবহনক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে আইএএফ লেখে, ১৩,৬২৯ ফুট। বিমান চলাচলের ইতিহাসে নতুন উচ্চতা। পোস্টে আরও বলা হয়, ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি আইএল-৭৬এমডি ন্যোমায় সফল অবতরণের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ বিমানের সর্বোচ্চ উচ্চতার অবতরণ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) কাছে অবস্থিত ন্যোমা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী বিমানঘাঁটিগুলোর একটি। অগ্রবর্তী এলাকায় সেনা, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দিয়ে এটি সামরিক অভিযানে সহায়তা করে। এত উচ্চতায় ভারী বিমান নামানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। উঁচু এলাকায় পাতলা বাতাস ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা, ওঠার শক্তি (লিফট) ও অবতরণের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। এ জন্য সতর্ক পরিকল্পনা ও অসাধারণ উড়ান-দক্ষতা প্রয়োজন। বাহিনী জানায়, বিমানটির স্থায়ী সক্ষমতার এক অসাধারণ প্রদর্শন, যার পেছনে রয়েছে ক্রুদের অসামান্য দক্ষতা, নিখুঁত নির্ভুলতা ও পেশাদারি মনোভাব। আইএএফ জানায়, এ সফল অভিযান ক্রুদের নির্ভুলতা ও পেশাদারির পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিমান চলাচল পরিবেশে কাজ করার আইএল-৭৬এমডির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। রুশ বংশোদ্ভূত আইএল-৭৬এমডি চার ইঞ্জিনের একটি ভারী পরিবহন বিমান, যা কয়েক দশক ধরে আইএএফের আকাশপথে পরিবহন বহরে সেবা দিয়ে আসছে। এটি সামরিক কর্মী, ভারী সরঞ্জাম, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় রসদ দীর্ঘ দূরত্বে বহন করতে পারে। এ সফল অবতরণ দুর্গম ভূখণ্ডে সামরিক অভিযানে সহায়তায় বিমানটির ভূমিকা এবং উচ্চ উচ্চতার এলাকায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ভারতীয় সক্ষমতা তুলে ধরেছে। আইএএফ বলেছে, এক মাইলফলক, যা ভারতের কৌশলগত আকাশপথে পরিবহন সক্ষমতাকে আরও জোরদার করেছে। সীমা ঠেলে এগোনো। সীমারেখা নতুন করে টানা। ইতিহাস গড়া। সূত্র: উইয়ন নিউজ

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ

রাজনীতি
চাকরি
ব্যাবসা-বাণিজ্য
বিনোদন