জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয় শিশুরা, অথচ এর সবচেয়ে কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে তাদেরই। তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে বিপর্যস্ত হচ্ছে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা। গত দুই বছরে বাংলাদেশের ৩৮ জেলার ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি দুর্যোগের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। দুর্যোগ বা তাপপ্রবাহের পর অসুস্থ হয়েছে ৮০ শতাংশ শিশু। আবহাওয়াজনিত কারণে গত এক বছরে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৪৯ শতাংশ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল। শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের এমন উদ্বেগজনক প্রভাব উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের এক জরিপে। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (কপ৩১)। এ সম্মেলন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের তথ্য তুলে ধরে সেভ দ্য চিলড্রেন। একই সঙ্গে জলবায়ু আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাদের কাছে পৌঁছায় এমন অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জরিপটি পরিচালিত হয় গত ৯ থেকে ১৭ অক্টোবর। এতে ৩৮টি জেলার জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৩৭৫ শিশুর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। জরিপ পরিচালনায় অংশ নেয় ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) ১৭২ জন শিশু গবেষক। জরিপের আওতায় ছিল উপকূলীয় গ্রাম, নদীবেষ্টিত চর, হাওর, পার্বত্য অঞ্চল, চা-বাগান ও শহরের বস্তি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে অংশগ্রহণকারী ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি শিশুর অভিজ্ঞতায় এসেছে তীব্র তাপপ্রবাহ, যার হার ৫৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে বন্যা, ৪২ শতাংশ। জলবায়ু দুর্যোগের প্রভাব পড়ছে শিশুদের শিক্ষাজীবনেও। গত এক বছরে দুর্যোগ বা আবহাওয়াজনিত কারণে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৪৯ শতাংশ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল। অনুপস্থিতির হিসাব দেওয়া ৬১৭ শিশু মোট ৭ হাজার ৫৬৭ শিক্ষাদিবস হারিয়েছে। অর্থাৎ দুর্যোগের কারণে শুধু বিদ্যালয় বন্ধ থাকছে না, দীর্ঘ হচ্ছে শিশুদের শিক্ষার ক্ষতিও। অথচ মাত্র ৩৫ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, তাদের বিদ্যালয়ে দুর্যোগের সময় কী করণীয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা শিক্ষা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগ বা তাপপ্রবাহের পর তারা অসুস্থ হয়েছে। এ ছাড়া ৫৩ শতাংশ শিশু নিরাপদ পানীয় জল পেতে সমস্যার মুখে পড়েছে। অর্থাৎ দুর্যোগের অভিঘাত কাটার পরও বিশুদ্ধ পানির অভাব ও অসুস্থতা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সতর্কবার্তা পৌঁছায় না শিশুদের কাছে দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অধিকাংশ শিশুর কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না। জরিপে দেখা গেছে, সর্বশেষ দুর্যোগের আগে মাত্র ২৫ শতাংশ শিশু আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছে এবং তা বুঝতে পেরেছে। বিপরীতে ৪৮ শতাংশ শিশু কোনো সতর্কবার্তাই পায়নি। ফলে দুর্যোগের আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু। দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগের পর তাদের এলাকায় বাল্যবিবাহ বেড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় এ হার ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করা ৫৬১ শিশুর মধ্যে ৬৩ শতাংশ জানিয়েছে, সেখানে মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচাগার বা নিরাপদ স্থান ছিল না। জলবায়ু পরিবর্তনের মানসিক প্রভাবও উঠে এসেছে জরিপে। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা ভাবলে তারা ভয় পায়। বিপরীতে মাত্র ৪ শতাংশ শিশু আশাবাদী বোধ করে। অথচ বিদ্যালয় বা স্থানীয় সরকার কখনো দুর্যোগ পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত জানতে চায়নি, এমন শিশুর হার ৮১ শতাংশ। একই সঙ্গে ৮১ শতাংশ শিশু জলবায়ু কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজেদের কাছে অর্থায়ন পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে। ঝুঁকিতে পিছিয়ে থাকা শিশুরা জরিপে দেখা গেছে, জলবায়ু সংকটের প্রভাব সব শিশুর ওপর সমানভাবে পড়ছে না। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় ৮৩ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগের পর তাদের পরিবারের আয় কমে গেছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাজীবন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও অন্য শিশুদের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। জরিপে প্রতিবন্ধী শিশুদের ৫৪ শতাংশের শিক্ষা বন্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সব শিশুর ক্ষেত্রে এ হার ২৫ শতাংশ। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, শিশুরা জলবায়ু সংকট তৈরি করেনি, কিন্তু এর প্রভাব মোকাবেলার জন্য তাদেরই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। নিরাপদ বিদ্যালয়, বিশুদ্ধ পানি, শিশুদের বোধগম্য আগাম সতর্কবার্তা, অসুস্থ হলে চিকিৎসা এবং নিজেদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার সুযোগ তাদের প্রধান চাহিদা। কপ৩১-এ পাঁচ দফা দাবি আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ৩১ সম্মেলনে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ফলাফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ুবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশুদের অধিকার, চাহিদা ও মতামত অন্তর্ভুক্ত করে স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ; স্বাস্থ্য, পানি, পুষ্টি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় শিশু-কেন্দ্রিক অভিযোজন কার্যক্রম; জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা; দুর্যোগে শিশুদের শিক্ষাজীবন, বাস্তুচ্যুতি, বাল্যবিবাহ ও মানসিক ক্ষতিকে লস অ্যান্ড ড্যামেজের আওতায় স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিশুদের কাছে পৌঁছানো জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানো। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রধান বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিলগুলোর মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থায়ন শিশু-সংবেদনশীল উদ্যোগে সহায়তা করেছে। এ অর্থায়ন অন্তত দ্বিগুণ করা এবং শিশু ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের জন্য বিশেষ অর্থায়নের সুযোগ তৈরির আহ্বানও জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ৫ প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দাবির পাশাপাশি দেশের ভেতরেও পাঁচটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এগুলো হলো তীব্র তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু-সহনশীল বিদ্যালয় গড়ে তোলা, দুর্যোগের পর শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দুর্যোগের আগে ও পরে শিশুদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং জলবায়ুবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশুদের অংশগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের সতর্কতা ও বিদ্যালয়ের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি শিশুদের বোধগম্য ভাষায় আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে হবে। দুর্যোগে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিক্ষার ক্ষতি পূরণে অর্থায়ন করতে হবে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগার ও নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আগাম সতর্কবার্তার সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম যুক্ত করে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুসন্তান রয়েছে এমন পরিবারকে সাত দিনের মধ্যে নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের শিশুরা এই সংকট সৃষ্টির জন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়, অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি ভুগছে। জরিপে তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো উঠে এসেছে; এসব চাহিদা ও সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।’ তিনি বলেন, গত দুই বছরে ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি দুর্যোগের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। শুধু এই পরিসংখ্যানই পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরি আহ্বান জানায়। কপ৩১ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে জাতীয় প্রেক্ষাপটগুলো বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো কীভাবে বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হতে পারে, তা দেখতে হবে। যাতে জলবায়ু ও অর্থায়নবিষয়ক সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে শিশুদের কাছে পৌঁছায়। সুমন সেনগুপ্ত আরো বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি দায়িত্ব।
পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) থেকে এসএসপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ৬৭ জন কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে সই করেছেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদান করবেন এবং অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার দিকে নিক্ষেপ করা ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছে জোটটি। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সৌদি জোটের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্য ছিল মদিনা অঞ্চল। ইয়ানবু এলাকায় সতর্কতা জারি এর আগে সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এলাকায় সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। সতর্কতাটি অল্প সময়ের জন্য কার্যকর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এটি প্রতিহত করতে কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আরব নিউজ ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
এক দিন বড় দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৯৫ ডলার ৪০ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৮৮ ডলার ২৩ সেন্টে পৌঁছায়। নির্বাচনের ফলাফলে বাজারে অস্থিরতা এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পররাষ্ট্রনীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে হিসাবনিকাশ শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ কী হবে, তা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের বিস্তার, জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে তেলের বাজারে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা থাকতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার দিকে নিক্ষেপ করা ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছে জোটটি। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সৌদি জোটের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্য ছিল মদিনা অঞ্চল। ইয়ানবু এলাকায় সতর্কতা জারি এর আগে সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এলাকায় সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। সতর্কতাটি অল্প সময়ের জন্য কার্যকর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এটি প্রতিহত করতে কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আরব নিউজ ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। নবনির্বাচিত নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে দুই দিনব্যাপী পরামর্শের অংশ হিসেবে বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বৈঠক করেন হারজগ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা অব্যাহত থাকে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন সংসদ সদস্যকে প্রথমে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ও ওতজমা ইয়েহুদিত তাকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে ইয়াশার, দ্য ডেমোক্র্যাটস, বি’ইয়াচাদ ও রা’আম দল গিদেওন সা’আরের পরিবর্তে গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কোনো প্রার্থীর নাম সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টও এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসন ৫৩টি। অন্যদিকে আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানানো বিরোধী দলগুলোর আসন ৪৮টি। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের মোট আসন ১৯টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ আসনের সমর্থন। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম বিরোধী জোটের সঙ্গে যুক্ত হলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আসনের সমর্থন তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নির্বাচিত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করার সময় পৃথক দুটি ঘটনায় এসব জাহাজে আগুন লাগে। আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, একটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি নৌপথ দিয়ে অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অন্যদিকে, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে নির্ধারিত নৌপথ দিয়ে বের হওয়ার সময় আরেকটি সুপারট্যাংকারে আগুন লাগে। পরবর্তী সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে একটি টাগবোট ওই জাহাজের কাছে গেলে সেটিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, জাহাজগুলোর নাম ও জাতীয়তা কী এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি আইআরজিসি। ইরানের দেওয়া এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ড্রোন অক্ষত অবস্থায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে। দেশটির দাবি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট ড্রোন দুটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেগুলো নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা কিংবা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সূত্র: রয়টার্স
উচ্চগতির রেল যোগাযোগের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ভারত। দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেনের নির্মাণকাজ চলছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেডে (বিইএমএল)। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরে চলাচলের জন্য তৈরি হচ্ছে ট্রেনটি। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনটির নকশা করা হয়েছে। এতে দেশীয় প্রকৌশল প্রযুক্তির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আটটি কোচের ট্রেনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০২ মিটার। পরীক্ষামূলকভাবে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের সময় এর গতি থাকবে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার। ট্রেনটিতে একসঙ্গে ৫৫৭ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের জন্য দুটি নির্ধারিত জায়গা থাকবে। ট্রেনটির আটটি কোচের মধ্যে চারটি মোটরচালিত এবং চারটি ট্রেলার কোচ। সাতটি কোচে থাকবে সাধারণ শ্রেণির আসন, যেখানে ৩×২ বিন্যাসে যাত্রীরা বসতে পারবেন। অন্য একটি কোচে থাকবে নির্বাহী শ্রেণির আসন, যার বিন্যাস হবে ২×২। ট্রেনের দুই প্রান্তে চালকের কেবিন থাকবে। সেখানে থাকবে বুদ্ধিমান অনবোর্ড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। এর মাধ্যমে চালক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজনে দুটি আট কোচের ট্রেন জুড়ে ১৬ কোচের ট্রেন হিসেবেও চালানো যাবে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে আসনগুলো। ভারতীয়দের শারীরিক গড়ন বিবেচনায় নিয়ে আসনগুলোর নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া থাকবে এলইডি বাতি, মাথার ওপর মালপত্র রাখার তাক, অতিরিক্ত লাগেজ রাখার জায়গা এবং ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুতের সংযোগ। ট্রেনটির বড় জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি কোচগুলোর মধ্যে সংযোগপথ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারেন। এতে থাকবে বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট, ওয়াই-ফাইভিত্তিক বিনোদনব্যবস্থা এবং এলসিডি পর্দায় যাত্রীদের জন্য তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা। ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় এসব তথ্য পাওয়া যাবে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা। জরুরি প্রয়োজনে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ টক-ব্যাক ইউনিট। প্রতিবন্ধী ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে ট্রেনটির নকশায়। প্ল্যাটফর্মের উচ্চতার সঙ্গে কোচের মেঝের উচ্চতা সমন্বয় করে সহজে ওঠানামার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে থাকবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে এমন সিঁড়ি। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের উপযোগী দরজা, নির্ধারিত আসন ও টয়লেটের পাশাপাশি ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশনাও থাকবে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাত্রীরাও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বুঝতে পারবেন। প্রতিটি কোচে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি করে হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) ইউনিট থাকবে। শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা, শব্দ কমানোর বিশেষ আবরণ, বগির কাভার ও অ্যারোডাইনামিক নকশা ট্রেনের শব্দ ও কম্পন কমাতে সহায়তা করবে। ট্রেনটিতে ব্যবহার করা হবে ২৫ কিলোভোল্ট, ৫০ হার্টজের একক-ফেজ এসি বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থা। এর পুনরুৎপাদনমূলক ব্রেকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরুদ্ধার করে আবার বিদ্যুৎব্যবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার আরও সাশ্রয়ী হবে। ট্রেনটির গতিবেগ ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ জন্য কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডাইনামিকস (সিএফডি) সিমুলেশনের মাধ্যমে ট্রেনের সামনের অংশ ও মূল কাঠামোর নকশা উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে বাতাসের বাধা ও ঘূর্ণি কমবে। পাশাপাশি টানেলের ভেতরে বায়ুচাপের আকস্মিক পরিবর্তন এবং শব্দের বিস্ফোরণধর্মী প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে। বিশেষভাবে তৈরি ছাদের প্যানেল, বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রাংশ এবং বাইরের কাঠামোর নকশা বাতাসের প্রবাহ আরও উন্নত করবে। এতে উচ্চগতিতে এবং টানেলের ভেতর চলাচলের সময়ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকবে। প্রকল্পটি উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: গালফ নিউজ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিক্ষোভে সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের আশঙ্কা করছে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরই মধ্যে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোট প্যারিসের বাইরে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ এবং রাজধানীতে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার বিক্ষোভকারীর সমাগমের পূর্বাভাস দিয়েছে। বিক্ষোভে শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সদস্যদের পাশাপাশি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারেন। বেতন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই তাদের প্রধান দাবি। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির সূচনা হয়। বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফরাসি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভের আদলে এবারও নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হচ্ছে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন। পাশাপাশি বিশেষ পুলিশ ইউনিট বিআরআই, রেইড ও জিআইএনজিওকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের প্রস্তাবিত মিছিলের রুট পরিবর্তন করে প্লাস দে লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দে লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসনিক আদালত। বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে দেশটির পরিবহন ব্যবস্থায়ও। রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে মাঝারি থেকে গুরুতর বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেলপথেও চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়লেও প্রতি ১০টি দ্রুতগতির টিজিভি ট্রেনের একটি বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার দিকে নিক্ষেপ করা ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছে জোটটি। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সৌদি জোটের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্য ছিল মদিনা অঞ্চল। ইয়ানবু এলাকায় সতর্কতা জারি এর আগে সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এলাকায় সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। সতর্কতাটি অল্প সময়ের জন্য কার্যকর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এটি প্রতিহত করতে কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আরব নিউজ ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। নবনির্বাচিত নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে দুই দিনব্যাপী পরামর্শের অংশ হিসেবে বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বৈঠক করেন হারজগ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা অব্যাহত থাকে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন সংসদ সদস্যকে প্রথমে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ও ওতজমা ইয়েহুদিত তাকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে ইয়াশার, দ্য ডেমোক্র্যাটস, বি’ইয়াচাদ ও রা’আম দল গিদেওন সা’আরের পরিবর্তে গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কোনো প্রার্থীর নাম সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টও এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসন ৫৩টি। অন্যদিকে আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানানো বিরোধী দলগুলোর আসন ৪৮টি। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের মোট আসন ১৯টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ আসনের সমর্থন। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম বিরোধী জোটের সঙ্গে যুক্ত হলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আসনের সমর্থন তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নির্বাচিত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করার সময় পৃথক দুটি ঘটনায় এসব জাহাজে আগুন লাগে। আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, একটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি নৌপথ দিয়ে অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অন্যদিকে, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে নির্ধারিত নৌপথ দিয়ে বের হওয়ার সময় আরেকটি সুপারট্যাংকারে আগুন লাগে। পরবর্তী সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে একটি টাগবোট ওই জাহাজের কাছে গেলে সেটিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, জাহাজগুলোর নাম ও জাতীয়তা কী এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি আইআরজিসি। ইরানের দেওয়া এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ড্রোন অক্ষত অবস্থায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে। দেশটির দাবি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট ড্রোন দুটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেগুলো নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা কিংবা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সূত্র: রয়টার্স
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের জেরে তাকে কটাক্ষ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কথা স্বীকার করে ভ্যান্সের দেওয়া এক বক্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ মন্তব্য করেন তিনি। গালিবাফ ভ্যান্সকে এমন এক জুয়াড়ির সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি হেরে যাওয়ার পরও জুয়ার টেবিল ছাড়তে পারেন না। এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘হেরে যাওয়া জুয়াড়ির মানসিকতা... বস যখন যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন আমেরিকা ইসরায়েল-প্রথম নীতির খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।’ ভ্যান্সের দীর্ঘ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও লেখেন, ‘এত দীর্ঘ বক্তৃতা বাদ দিন। কথাগুলো আপনার বসকে গিয়ে বলছেন না কেন?’ এর আগে ভ্যান্স তার এক দীর্ঘ পোস্টে স্বীকার করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।