সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।   এর আগে গত ২১ অক্টোবর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।   মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব ওয়ালীউল দামান। এর ফলে ৭ নভেম্বর দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সাধারণ ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিবসটি প্রতিবছর সরকারি ছুটির আওতায় পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

২ মিনিট আগে
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য প্রশ্নে এনসিপিতে অস্থিরতা, দল ছাড়লেন ৩ নেত্রী

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনি ঐক্য নিয়ে শুরু থেকেই দলটির ভেতরে মতবিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে একে একে দল ছেড়েছেন এনসিপির বহু কেন্দ্রীয় নেতা। এই তালিকায় আছেন দলটির ৩ জনপ্রিয় নেত্রী—ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন ও সামান্তা শারমিন। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন, দলের আদর্শিক অবস্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে পদত্যাগ করেন তারা।   এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দল থেকে পদত্যাগ করেন। সেদিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। ঢাকা-৯ আসনে খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’   স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, ‘একটা দলের প্রার্থী হলে সেই দলের স্থানীয় অফিস থাকে, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী থাকে। সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে আপত্তি ও শঙ্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে আমি যেহেতু কোনো দলের সঙ্গে থাকছি না, তাই আমার সে সব কিছুই থাকবে না।’   জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে এনসিপির আলোচনা শুরুর পর দলের ভেতরে ভিন্নমত তৈরি হয়। তাসনিম জারার পদত্যাগের দিনই জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনে আপত্তি জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন এনসিপির ৩০ নেতা।   চিঠিতে তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে সামনে আসা আলোচনা দলের ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   নেতাদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার চেষ্টা, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানো এবং দলটির নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ও সে সময় সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে দলটির অবস্থান এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।   চিঠিতে আরও বলা হয়, জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নতুন, নীতিনিষ্ঠ ও ভবিষ্যতমুখী রাজনীতির প্রত্যাশায় যারা দলটির পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি হবে। নেতারা নাহিদ ইসলামকে জামায়াতের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানান।   তবে এসব আপত্তির পরও এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করে।   তাজনূভা জাবীনের পদত্যাগ তাসনিম জারার পদত্যাগের একদিন পর, ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন তাজনূভা জাবীন। ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান।   তাজনূভা লেখেন, ‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সঙ্গে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হল যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনি জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।’   দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থী মনোনয়ন ও আসন সমঝোতার মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে পদত্যাগ করলেও তখনই স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানান।   তাজনূভা বলেন, এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য—গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক, মধ্যপন্থা, নারী ও বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতি—ধারণ করা নেতাদের মধ্যে তিনি একজন। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েও পদত্যাগ ছাড়া সামনে আর কোনো ‘সম্মানজনক অপশন’ ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।   জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে তাজনূভা বলেন, এনসিপি নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়ালে পাঁচ বছর পর যেকোনো দলের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যেতে সমস্যা ছিল না। কিন্তু প্রথম নির্বাচনেই কেন জোট করতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্য বিকল্পগুলো ধীরে ধীরে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়া আর কোনো পথ না থাকে।   তিনি আরও বলেন, ‘আমার পদত্যাগের কারণ যতটা না জোট, তারচেয়ে বেশি যে প্রক্রিয়ায় জোট হয়েছে। অবিশ্বাস, অনাস্থা মূল কারণ।’   এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সমালোচনা করে তাজনূভা বলেন, তারা নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে এতটাই ব্যস্ত যে দেশের জন্য নতুন মধ্যপন্থি বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি গড়ে তুলতে পারবেন না।   সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ সবশেষ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এনসিপির প্রথম সারির নেত্রী সামান্তা শারমিন দল থেকে পদত্যাগ করেন। নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্রায় এক বছর ধরে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের প্রশ্নে দলের ভেতরে নিজের ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন।   সামান্তা লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’   নিজের পোস্টে ‘সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কিনা’ শিরোনামে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন সামান্তা। তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল সংস্কার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পথে বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামো যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সাংবিধানিক সংস্কার, আইনের সংস্কার এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার প্রয়োজন ছিল।   সামান্তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী এই তিনটির কোনোটিকেই নিজেদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রপ্রকল্পের অংশ মনে করে না। তার মতে, জামায়াত প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না; সংগঠনটির দার্শনিক ভিত্তি ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রপ্রকল্প গণতান্ত্রিক নয়।   তিনি আরও লেখেন, গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূল ভিত্তি উদার গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ। অন্যদিকে জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সংগঠনটির রাজনৈতিক অভিপ্রায় বলে মনে করেন তিনি।   সামান্তার ভাষ্য, জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু মনে করার কারণে বাংলাদেশের উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ এনসিপির সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি জামায়াতের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের পক্ষে প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে।   তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া দল হিসেবে এনসিপিকে এসব সমস্যা সম্পর্কে বারবার সতর্ক করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।   জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে মতবিরোধ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে এনসিপির নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে দলের অনেক নেতা দলটির সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করেন।   তবে শেষ পর্যন্ত নাহিদ-আখতার-হাসনাতরা জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে দলটি ছয়টি আসনে জয়ী হয়।   পদত্যাগী নেত্রীদের বক্তব্য ও অভিযোগের মূল বিষয় ছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করে সেখান থেকে সরে গেছে। তাদের আশঙ্কা, এ ঐক্যের ফলে এনসিপি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় হারিয়ে জামায়াতের রাজনীতির দিকে ঝুঁকতে পারে এবং ভবিষ্যতে জামায়াতের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   এনসিপিতে ফিরে আসবেন কিনা—এমন প্রশ্নে তাজনূভা জাবীন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি তো একটা প্লাটফর্মে আছিই। অলটারনেটিভস। শিগগিরই বড় আকারে আমরা সাংগঠনিক শক্তি প্রকাশ করবো। অলটারনেটিভকে আমরা নিজ পায়ে দাঁড় করাতে চাই। এনসিপিতে ফিরে আসতে চাই না।’

৪ মিনিট আগে
ট্রাম্পের দলেই বিভক্তি, বিকল্প জোটের ভাবনায় ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ার চেষ্টা করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।    স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) ফক্স নিউজ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নেন ভ্যান্স। এ সময় পররাষ্ট্রনীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন তিনি।   নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রশাসনের সবাইকে একই ধরনের বার্তা দেওয়ার বিষয়ে সমন্বয় করাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে আরেকটি সূত্র বৈঠকটিকে নিয়মিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সভা বলে বর্ণনা করেছে।   বুধবার নিজের এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।’   তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন, এই যুদ্ধের বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো সার্থক ছিল, তাহলে তিনি সেই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন। বলুন, এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। একমত হোন বা দ্বিমত পোষণ করুন, অন্তত সেটি হবে সৎ আলোচনা।’   ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা সবাই জানেন। এখন সামনে কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে সেখান থেকেই।’   পোস্টে ভ্যান্স জানান, তার পরিচিত একজন রাজনৈতিক জরিপকারী এবং রাজনীতির সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের একজন রিপাবলিকানদের ভোটারদের কাছে ফিরিয়ে আনতে চারটি করণীয় তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।   ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, এই চারটি বিষয়ই ভ্যান্সের ‘নিউ রাইট’ বা নতুন ডানপন্থি জোটের মূল বার্তা। এই জোট বলতে এমন একদল রিপাবলিকানকে বোঝানো হচ্ছে, যারা ট্রাম্পের মূল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের নীতির সঙ্গে একমত। তাদের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়, দেশটিকে আমেরিকান পরিবারগুলোর বসবাস ও সন্তান লালন-পালনের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে এবং সীমান্ত বন্ধ করতে হবে।   ওই কর্মকর্তার মতে, এই ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প ইসরাইলের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছেন।   মার্কিন ডানপন্থিদের একটি অংশের কাছে ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।   তবে প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ভ্যান্সের এই বার্তার অর্থ ট্রাম্পের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার পর ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়ে তার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। ভ্যান্সের অবস্থান তেমন নয়। বরং ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, কিন্তু তার পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে একমত নন কিংবা নিজেদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে করেন, এমন রিপাবলিকানদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চান তিনি।   ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ভ্যান্সের বার্তা হলো, ‘ভ্যান্সই আমাদের নেতা।’   বৈঠক কিংবা নির্বাচন-পরবর্তী ভ্যান্সের বক্তব্য সম্পর্কে ফক্স নিউজ ডিজিটালের মন্তব্য চাওয়ার পরও হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি।   গত দুই বছর ধরে ভ্যান্স ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের পছন্দের বক্তব্য থেকে খুব বেশি সরে যাননি। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা প্রশাসনের অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে তিনি অন্যতম। যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ইরান সংঘাত নিয়ে ভ্যান্সের নিজের বক্তব্য ও অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে।   চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পও স্বীকার করেছিলেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে শুরু থেকেই ভ্যান্স হয়তো খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না।   ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ভ্যান্সকে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও আলোচনায় রয়েছে।

৭ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাশুল, সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হলো যুক্তরাজ্য

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় সুদের হার বাড়িয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)।   বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম সুদের হার বাড়াল ব্যাংকটি।   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে।    এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটল যুক্তরাজ্যও।   ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর সূচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান না হলে ভবিষ্যতে আরও এক দফা সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।    তাদের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে উভয় বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ।   সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংকটির পূর্বাভাস, আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।   এদিকে ২০২৭ সালের শুরু থেকে দেশটির লাখো মানুষের জ্বালানি বিল আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: ডন নিউজ

১০ মিনিট আগে
সংগৃহীত ছবি
জাতীয়
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেবে না সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।   বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।   এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না। তিনি তো শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট দিয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ সময় চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।   তিনি বলেন, এই আঞ্চলিক করিডোরে যুক্ত হতে ঢাকার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে এর আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে।   চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী লিউ হাইশিং তিন দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়েন।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬

সামান্তা শারমিন। ছবি: সংগৃহীত
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান তিনি। ফেসবুক স্ট্যাটাসে সামান্তা বলেন, কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। আপনারা জানেন আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত- কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১১ মাস যাবত আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক-বিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি। যেহেতু সংগঠনে নানান চড়াই উৎরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায় সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা আমার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল। সেই কর্তব্য পালন করতে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দলের গৃহীত নীতিসমূহকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ব্যতীত দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ভিন্ন কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না। সামান্তা বলেন, পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনো একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো। কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনো কখনো নানা ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতেই পারে (এমনকি জামায়াতের সাথে জোট ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত) কিন্তু তবুও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, পুরনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনোই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ১৯টি বিমানে বোমা হামলার হুমকি, ভুয়া বলছে যুক্তরাজ্য

ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন বিমান সংস্থার ১৯টি উড়োজাহাজ বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত দুটি বিমান বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলার হুমকি ভুয়া ছিল।   একযোগে একাধিক বিমানে হামলার হুমকি আসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুমকি পাওয়া ১৯টি বিমানের মধ্যে দুটি বিমানকে বিকল্প গন্তব্যে অবতরণ করানো হয়। অন্য বিমানগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়।   এ ছাড়া হুমকির কারণে অন্তত দুটি বিমান উড্ডয়ন করেনি। পরে সেগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত হুমকি পাওয়া কোনো বিমানে বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইদি আলেক্সান্ডার জানিয়েছেন, ইউরোপের বিভিন্ন বিমানে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ইউরোপের অল্পসংখ্যক বিমান এসব হুমকির কারণে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুয়া হুমকি মোকাবিলায় প্রচলিত নিরাপত্তা নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।   বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের হুমকির কারণে ইউরোপের বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।   এদিকে বিমান সংস্থাগুলো যেকোনো ধরনের বোমা হামলার হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   সূত্র: বিবিসি

বদলি হিসেবে নামা ইব্রাহিমই হলেন ম্যাচের নায়ক। সংগৃহীত ছবি
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানকে হারিয়ে জয়ের ধারায় বাংলাদেশ!

ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বিশ্বনাথের কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং ভুটানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি দল।   শুরুর দিকে দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি এবং দূরপাল্লার শটেও গোলের চেষ্টা করতে দেখা যায় স্বাগতিকদের।   প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা, যেখানে ভুটানের দখলে ছিল ৩৬ শতাংশ। এই সময়ে বাংলাদেশের নেওয়া ১২টি শটের বিপরীতে ভুটান শট নেয় ৪টি। তবে লক্ষ্যে শটের সংখ্যা দুই দলেরই ছিল সমান—দুটি করে।   বিরতির পরও আক্রমণের গতি ধরে রাখে বাংলাদেশ। অবশেষে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ইব্রাহিমের গোলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় দল।   গোলের শুরুটা হয় বক্সে করা একটি ক্রস থেকে। সেই বলে হেড নেন শমিত সোম। তাঁর হেডে বল ওপরের দিকে উঠে গেলে গোলমুখের সামনে সুযোগ পেয়ে যান ইব্রাহিম। দারুণভাবে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন এই বদলি ফরোয়ার্ড।

সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের দলেই বিভক্তি, বিকল্প জোটের ভাবনায় ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ার চেষ্টা করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।    স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) ফক্স নিউজ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নেন ভ্যান্স। এ সময় পররাষ্ট্রনীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন তিনি।   নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রশাসনের সবাইকে একই ধরনের বার্তা দেওয়ার বিষয়ে সমন্বয় করাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে আরেকটি সূত্র বৈঠকটিকে নিয়মিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সভা বলে বর্ণনা করেছে।   বুধবার নিজের এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।’   তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন, এই যুদ্ধের বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো সার্থক ছিল, তাহলে তিনি সেই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন। বলুন, এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। একমত হোন বা দ্বিমত পোষণ করুন, অন্তত সেটি হবে সৎ আলোচনা।’   ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা সবাই জানেন। এখন সামনে কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে সেখান থেকেই।’   পোস্টে ভ্যান্স জানান, তার পরিচিত একজন রাজনৈতিক জরিপকারী এবং রাজনীতির সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের একজন রিপাবলিকানদের ভোটারদের কাছে ফিরিয়ে আনতে চারটি করণীয় তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।   ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, এই চারটি বিষয়ই ভ্যান্সের ‘নিউ রাইট’ বা নতুন ডানপন্থি জোটের মূল বার্তা। এই জোট বলতে এমন একদল রিপাবলিকানকে বোঝানো হচ্ছে, যারা ট্রাম্পের মূল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের নীতির সঙ্গে একমত। তাদের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়, দেশটিকে আমেরিকান পরিবারগুলোর বসবাস ও সন্তান লালন-পালনের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে এবং সীমান্ত বন্ধ করতে হবে।   ওই কর্মকর্তার মতে, এই ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প ইসরাইলের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছেন।   মার্কিন ডানপন্থিদের একটি অংশের কাছে ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।   তবে প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ভ্যান্সের এই বার্তার অর্থ ট্রাম্পের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার পর ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়ে তার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। ভ্যান্সের অবস্থান তেমন নয়। বরং ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, কিন্তু তার পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে একমত নন কিংবা নিজেদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে করেন, এমন রিপাবলিকানদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চান তিনি।   ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ভ্যান্সের বার্তা হলো, ‘ভ্যান্সই আমাদের নেতা।’   বৈঠক কিংবা নির্বাচন-পরবর্তী ভ্যান্সের বক্তব্য সম্পর্কে ফক্স নিউজ ডিজিটালের মন্তব্য চাওয়ার পরও হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি।   গত দুই বছর ধরে ভ্যান্স ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের পছন্দের বক্তব্য থেকে খুব বেশি সরে যাননি। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা প্রশাসনের অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে তিনি অন্যতম। যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ইরান সংঘাত নিয়ে ভ্যান্সের নিজের বক্তব্য ও অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে।   চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পও স্বীকার করেছিলেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে শুরু থেকেই ভ্যান্স হয়তো খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না।   ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ভ্যান্সকে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও আলোচনায় রয়েছে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের দলেই বিভক্তি, বিকল্প জোটের ভাবনায় ভ্যান্স
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ার চেষ্টা করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।    স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) ফক্স নিউজ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নেন ভ্যান্স। এ সময় পররাষ্ট্রনীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন তিনি।   নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রশাসনের সবাইকে একই ধরনের বার্তা দেওয়ার বিষয়ে সমন্বয় করাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে আরেকটি সূত্র বৈঠকটিকে নিয়মিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সভা বলে বর্ণনা করেছে।   বুধবার নিজের এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।’   তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন, এই যুদ্ধের বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো সার্থক ছিল, তাহলে তিনি সেই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন। বলুন, এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। একমত হোন বা দ্বিমত পোষণ করুন, অন্তত সেটি হবে সৎ আলোচনা।’   ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা সবাই জানেন। এখন সামনে কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে সেখান থেকেই।’   পোস্টে ভ্যান্স জানান, তার পরিচিত একজন রাজনৈতিক জরিপকারী এবং রাজনীতির সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের একজন রিপাবলিকানদের ভোটারদের কাছে ফিরিয়ে আনতে চারটি করণীয় তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।   ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, এই চারটি বিষয়ই ভ্যান্সের ‘নিউ রাইট’ বা নতুন ডানপন্থি জোটের মূল বার্তা। এই জোট বলতে এমন একদল রিপাবলিকানকে বোঝানো হচ্ছে, যারা ট্রাম্পের মূল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের নীতির সঙ্গে একমত। তাদের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়, দেশটিকে আমেরিকান পরিবারগুলোর বসবাস ও সন্তান লালন-পালনের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে এবং সীমান্ত বন্ধ করতে হবে।   ওই কর্মকর্তার মতে, এই ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প ইসরাইলের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছেন।   মার্কিন ডানপন্থিদের একটি অংশের কাছে ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।   তবে প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ভ্যান্সের এই বার্তার অর্থ ট্রাম্পের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার পর ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়ে তার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। ভ্যান্সের অবস্থান তেমন নয়। বরং ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, কিন্তু তার পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে একমত নন কিংবা নিজেদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে করেন, এমন রিপাবলিকানদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চান তিনি।   ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ভ্যান্সের বার্তা হলো, ‘ভ্যান্সই আমাদের নেতা।’   বৈঠক কিংবা নির্বাচন-পরবর্তী ভ্যান্সের বক্তব্য সম্পর্কে ফক্স নিউজ ডিজিটালের মন্তব্য চাওয়ার পরও হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি।   গত দুই বছর ধরে ভ্যান্স ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের পছন্দের বক্তব্য থেকে খুব বেশি সরে যাননি। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা প্রশাসনের অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে তিনি অন্যতম। যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ইরান সংঘাত নিয়ে ভ্যান্সের নিজের বক্তব্য ও অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে।   চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পও স্বীকার করেছিলেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে শুরু থেকেই ভ্যান্স হয়তো খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না।   ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ভ্যান্সকে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও আলোচনায় রয়েছে।

এআই নির্মিত প্রতীকী ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাশুল, সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হলো যুক্তরাজ্য
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় সুদের হার বাড়িয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)।   বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম সুদের হার বাড়াল ব্যাংকটি।   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে।    এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটল যুক্তরাজ্যও।   ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর সূচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান না হলে ভবিষ্যতে আরও এক দফা সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।    তাদের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে উভয় বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ।   সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংকটির পূর্বাভাস, আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।   এদিকে ২০২৭ সালের শুরু থেকে দেশটির লাখো মানুষের জ্বালানি বিল আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: ডন নিউজ

সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব হারানোর শঙ্কা ইউরোপের: মেলোনি
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় ইউরোপের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি   তার মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং পৃথক পৃথক আলোচনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে একজন একক প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ওই প্রতিনিধির হাতে আলোচনার জন্য সুস্পষ্ট ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।   বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা বলেন মেলোনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   চিঠিতে মেলোনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও পক্ষের উদ্যোগে একাধিক আলোচনার কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এতে ইউরোপের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে এবং মনে হচ্ছে, কোনো সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপ কার্যত গুরুত্ব হারাতে পারে।   তিনি বলেন, আলোচনার ধরন বা কাঠামোর চেয়ে চূড়ান্ত ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ফলাফলে কার্যকর প্রভাব রাখতে হলে ইউরোপকে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে। এ জন্য কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তাঁর আলোচনার ক্ষমতা কতটুকু হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   মেলোনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি নিজে কিংবা ইতালির জন্য আলোচনার টেবিলে কোনো বিশেষ আসন চাইছেন না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়া কোনো প্রতিনিধি সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা করলে তা মেনে নেবে না রোম।   ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। কোথাও কয়েকটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করছেন, কোথাও ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। আবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর মধ্যে পৃথক আলোচনা চলছে। মেলোনির মতে, এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় ইউরোপের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠছে।   তিনি বলেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এমন পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে, যারা যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চায়। মানুষের জীবন এবং ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত থাকায় এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তিন দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।   এর আগে বুধবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রাসেলসে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও ন্যাটোর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পৃথক আলোচনা হয়েছে।   মেলোনি চান, আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় কাউন্সিলের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসুক। এরপর যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ডিসেম্বরের সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।   ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় আর্থিক ও সামরিক সহায়তাকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় জোটটির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইউরোপের অবস্থান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মেলোনির সাম্প্রতিক চিঠি সেই উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

সংগৃহীত ছবি
ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প, হরমুজ প্রণালিতে জ্বলছে ৫ ট্যাংকার
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন বা পানিতে পেতে রাখা বোমার আঘাতে আরও দুটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরেছে বলে জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। এর মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় ওই পানিপথে অন্তত ৫টি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেল। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, সামুদ্রিক সতর্কতা উপেক্ষা করে এবং সমন্বয় ছাড়াই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করার কারণেই এই দুই তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন পথ ব্যবহার করে পার হওয়ার চেষ্টা করায় মোট পাঁচটি ট্যাংকারে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে নৌবাহিনী।   এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই তথ্য জানান। এর আগে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আঘাত হানার আগে ধ্বংস করার দাবি করেছিল জোট, যদিও হুতিরা এ দাবি অস্বীকার করেছে।   অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এবং ডজনের বেশি জাহাজে প্রস্তুত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই তারা ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে। গত মাসেও পত্রিকাটি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই হামলা হবে সংক্ষিপ্ত তবে তীব্র। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ

রাজনীতি
চাকরি
ব্যাবসা-বাণিজ্য
বিনোদন