সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর কানাডার শুল্ক কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।   মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হয়। পণ্যের ধরন অনুযায়ী শুল্কের হার ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ। যন্ত্রপাতি, বস্ত্র ও ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।   নতুন পাল্টা শুল্কের আওতায় রয়েছে ইস্পাত, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ ৭০০টির বেশি পণ্য।   আগস্টের শেষ দিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, কানাডা ওয়াশিংটনের নতুন শুল্কের সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে। কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতেই ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   এর আগে জুলাইয়ে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের সঙ্গে কানাডার ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।   এরপর আগস্টে দুই দেশ বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা শুরু করে। তবে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে।   কানাডা সরকার জানিয়েছে, নতুন পাল্টা শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও মাঝারি ব্যবসা এবং শ্রমিকদের জন্য ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ দেওয়া হবে।   কানাডার শুল্ক কার্যকরের আগের দিন ট্রাম্প কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ার বিমান যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিমান উৎপাদন শুরু না করলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।   দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ এখন শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এরই মধ্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারের জন্য অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশও দিয়েছেন।   কানাডার পাল্টা শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতাদের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির সবচেয়ে বড় ক্রেতা।   এদিকে কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে দেশটির ৫৫০ ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির এক প্রতিবেদনের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, শুল্কের মোট আর্থিক বোঝার প্রায় ৯৬ শতাংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক ও ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

৪১ মিনিট আগে
রাশিয়ার ককেশাসে তুষারধসে নিহত ১১, নিখোঁজ ৬

রাশিয়ার ককেশাস পর্বতমালায় ভয়াবহ তুষারধসে অন্তত ১১ জন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   সোমবার কাবারদিনো-বালকারিয়া অঞ্চলের বেজেঙ্গি গিরিখাতে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে। ওই সময় এলাকাটিতে ৩৩ জন পর্বতারোহী ছিলেন।   তুষারধসের ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পরিষ্কার আকাশের নিচে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বিপুল পরিমাণ তুষার ও বরফ দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসছে।   ঘটনার পর নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।   তুষারধসের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, পাহাড়ের ওপর ঝুলে থাকা একটি হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে এই তুষারধসের সূত্রপাত হতে পারে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ছয়জনের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: ওয়াইনেট

৪৬ মিনিট আগে
৭৫০ মিলিয়ন ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স কিনছে সুইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হিমার্স রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থা কিনছে সুইডেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাবারুদসহ এই চুক্তির মূল্য ৭০০ কোটি সুইডিশ ক্রোনার, যা প্রায় ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার।   সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে প্রস্তুতির পর সরকার এই ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে। চুক্তির আওতায় ১০টির বেশি হিমার্স লঞ্চার এবং জিএমএলআরএস গোলাবারুদ কিনবে সুইডেন। আগামী বছর প্রথম ইউনিটগুলো দেশটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাল ইয়োনসন বলেন, এর মাধ্যমে সুইডিশ সেনাবাহিনী এমন একটি সক্ষমতা অর্জন করবে, যা বর্তমানে তাদের নেই। এর ফলে আগের তুলনায় অনেক বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব হবে।   হিমার্স কেনার পাশাপাশি সুইডিশ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সাব এবং মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা লকহিড মার্টিন সুইডেনে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল বা পিএসআরএম গোলাবারুদ উৎপাদনের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে হিমার্সের গোলাবারুদের ঘাটতির মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এসভিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।   এদিকে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড হিমার্স ব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ফিনল্যান্ডে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে।   ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্ত্তি হাক্কানেন বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

৪৯ মিনিট আগে
সুগন্ধি চাল রফতানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমালো সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রফতানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রফতানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।   সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রফতানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রফতানি করতে পারবেন না।   রফতানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত   কোটা কমানোর পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।   শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— রফতানি নীতি ২০২৪–২৭ এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে; অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং প্রতিটি চালান রফতানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।   এছাড়া প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে; ভবিষ্যতে নতুন রফতানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রফতানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে; কোনও অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রফতানি করা যাবে না; আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন এফওবি রফতানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রফতানি করা যাবে না; জনস্বার্থে সরকার যেকোনও সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে এবং রফতানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানি করতে সক্ষম হয়।   সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রফতানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।   নতুন ব্যবস্থায় রফতানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রফতানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রফতানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রফতানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রফতানি পরিচালনা করা।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
সৌদি আরবে গাড়ি দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চালকসহ চার বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন।   স্থানীয় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নিহত প্রবাসীরা জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।   স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন-করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। তবে নিহত অন্য দুজনের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের নিজ এলাকায়ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।   নিহত অন্য দুজনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে বারবার চক্রান্ত হয়েছে: রিজভী

নানা ধরনের অপশক্তি ও চক্রান্তকারীরা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বারবার নষ্ট করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।   তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অটুট বন্ধন যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে, আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণ করি।’   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখার জন্য এসব ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সকলের স্থান নিশ্চিত করেছে এবং তা প্রতিষ্ঠিত করেছে জিয়াউর রহমান।

ভলকার তুর্ক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ভলকার তুর্ক

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।   সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এ আহ্বান জানান তিনি।   ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ওপর নজরদারি করতে পারে—এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ।   বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এসব বাহিনীর কর্মকাণ্ডের স্বাধীন নজরদারির জন্য আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ৪৪টি সুপারিশ করা হয়।   সুপারিশগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক নজরদারি এবং জবাবদিহির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।   জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার চুক্তি বাস্তবায়ন তদারককারী বিশেষজ্ঞদের নিয়েও ওই প্রতিবেদনে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের থাকা প্রয়োজন।   এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করা এবং প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া চালুর কথাও বলা হয়।   সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রণীত গুমবিরোধী আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন ও আইনবিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব আইনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, তদন্তের ক্ষমতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে এখনো কিছু ঘাটতি রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
২৩ বছর পর পাকিস্তানে ফিরছে সাফ গেমস, অংশ নেবে ভারত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে ফিরতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় আঞ্চলিক ক্রীড়া আসর সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন (এসএএফ) গেমস। আসন্ন ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে ভারত। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   দক্ষিণ এশীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আগামী বছরের ৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের সাফ গেমস। পাকিস্তানের তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবারের প্রতিযোগিতা। এতে মোট ২৮টি ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (পিওএ) সাধারণ সম্পাদক খালিদ মেহমুদ জানিয়েছেন, ভারত নীতিগতভাবে সাফ গেমসে অংশ নেওয়ার সম্মতি দিয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ভারত তাদের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তালিকা আয়োজকদের কাছে জমা দেবে।   এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে ইসলামাবাদে নবম সাফ গেমসের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। এরপর দীর্ঘ সময় দেশটিতে আর এই আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি।   এবারের আসর সফল ও নিরাপদভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।   ভারতের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানে আয়োজিত সাফ গেমসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতাটিতে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করবে।

ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং কিছু সেবার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।    মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড দেশটির ইসরায়েল নীতিতে একটি ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের কথা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন আরও সক্রিয়ভাবে তুলে ধরার কথা রয়েছে।   গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আগের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তুলনায় কঠোর ভাষায় কথা বলতে পারেন মিলিব্যান্ড। তার ঘোষিত পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর সব দাবি পূরণ না করলেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির সম্প্রসারণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ব্রিটিশ সরকার পশ্চিম তীরের ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা সব ইসরায়েলি বেসামরিক বসতিকেই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে।   নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নয়, অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপনের মতো কিছু সেবাও আসতে পারে। এর ফলে এসব বসতিতে বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বেআইনি হয়ে যাবে।   মিলিব্যান্ডের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবেও তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বে সহায়তা না করার বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে নতুন নীতির সামঞ্জস্য রয়েছে বলে ব্রিটিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে।   এর আগে যুক্তরাজ্য বলেছিল, ইসরায়েল থেকে আসা পণ্য ও অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা কঠিন। তবে এবার বসতি-উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ২০০৫ সাল থেকেই ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে অবস্থিত বসতিতে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায় না। নতুন পদক্ষেপের ফলে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হবে।   ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। নিষেধাজ্ঞার ফলে বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করবে।   গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে; মিলিব্যান্ড তার এ অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। ইসরায়েল অবশ্য এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।   তবে গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগে তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সেখানে সংঘটিত ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করার পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাজ্য যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি।   পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্য এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই১ নামে পরিচিত বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলি বসতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। কিছু অবৈধভাবে নির্মিত বসতি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে সেগুলো ভেঙে ফেলার কথাও বলেছেন নেতানিয়াহু।   তবে যুক্তরাজ্যের নতুন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। ইসরায়েল এর আগে মিলিব্যান্ডের গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভেতরেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে, যেখানে মাত্র ১৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছে।   সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং কিছু সেবার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।    মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড দেশটির ইসরায়েল নীতিতে একটি ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের কথা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন আরও সক্রিয়ভাবে তুলে ধরার কথা রয়েছে।   গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আগের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তুলনায় কঠোর ভাষায় কথা বলতে পারেন মিলিব্যান্ড। তার ঘোষিত পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর সব দাবি পূরণ না করলেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির সম্প্রসারণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ব্রিটিশ সরকার পশ্চিম তীরের ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা সব ইসরায়েলি বেসামরিক বসতিকেই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে।   নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নয়, অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপনের মতো কিছু সেবাও আসতে পারে। এর ফলে এসব বসতিতে বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বেআইনি হয়ে যাবে।   মিলিব্যান্ডের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবেও তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বে সহায়তা না করার বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে নতুন নীতির সামঞ্জস্য রয়েছে বলে ব্রিটিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে।   এর আগে যুক্তরাজ্য বলেছিল, ইসরায়েল থেকে আসা পণ্য ও অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা কঠিন। তবে এবার বসতি-উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ২০০৫ সাল থেকেই ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে অবস্থিত বসতিতে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায় না। নতুন পদক্ষেপের ফলে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হবে।   ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। নিষেধাজ্ঞার ফলে বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করবে।   গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে; মিলিব্যান্ড তার এ অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। ইসরায়েল অবশ্য এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।   তবে গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগে তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সেখানে সংঘটিত ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করার পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাজ্য যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি।   পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্য এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই১ নামে পরিচিত বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলি বসতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। কিছু অবৈধভাবে নির্মিত বসতি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে সেগুলো ভেঙে ফেলার কথাও বলেছেন নেতানিয়াহু।   তবে যুক্তরাজ্যের নতুন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। ইসরায়েল এর আগে মিলিব্যান্ডের গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভেতরেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে, যেখানে মাত্র ১৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছে।   সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে জাহাজ চলাচলে বড় ধস, এক সপ্তাহে কমেছে ২৮%
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে গত এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করেছে মাত্র ৭৭টি জাহাজ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সর্বশেষ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে ৩৩টিতে নেমে এসেছে।   কেপলার আরও জানিয়েছে, গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা মোট ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টিই ইরানের নির্ধারণ করে দেওয়া পথ (রুট) ধরে চলাচল করেছে। এসব জাহাজ হরমুজের প্রচলিত নৌপথ এড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) হরমুজ পাড়ি দেওয়া আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটিই ইরানের নির্ধারিত পথ ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে কেপলার।   প্রতিষ্ঠানটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং হরমুজ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর ইরানের ঠিক করে দেওয়া নৌপথ ব্যবহারের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে কেপলার বলছে, এখন দেখার বিষয় হলো—হরমুজ প্রণালি ঘিরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দেখা দেওয়া এ প্রবণতা স্থায়ী হয় কিনা।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। এটার প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বেড়ে গেছে দাম।   সূত্র: আলজাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না : কাতার
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভর করতে পারে না। তাদেরকে আরও স্বনির্ভর হতে হবে।   কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সোমবার আবুধাবিতে একথা বলেছেন।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরামে তিনি বলেন, “আমাদের বোঝা দরকার যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।”   তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়াই সামনে এগুনোর একমাত্র পথ। হ্যাঁ, আমাদের অংশীদারদের প্রয়োজন, মিত্রদেরও প্রয়োজন। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য আমরা কেবল তাদের ওপর নির্ভর করতে পারি না।”   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের চেষ্টায় কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ। একইসঙ্গে দেশটি বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের ব্যাপক হামলার শিকার হয়েছে।   পশ্চিম এশিয়ায় কাতারেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরান পুরো যুদ্ধের সময়টি জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।   ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ জোরদার করছে।   গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টার অংশ হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি তেহরান সফর করেন।   এর আগে ইরান ও ওমান জানিয়েছিল, তারা হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করছে।

ছবি: সংগৃহীত
৩৬ হাজার ফুট ওপরে বিপদ, ইঞ্জিন বন্ধ করে যেভাবে নামল বিমান
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

৩৬ হাজার ফুট ওপরে উড়ছিল বিমান। গন্তব্য আবুধাবি। হঠাৎ পাইলট দেখতে পান বিমানের এক নম্বর ইঞ্জিনে দ্রুত কমছে তেলের পরিমাণ। একপর্যায়ে তেলের চাপ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছালে ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেন পাইলট। এরপর গন্তব্যে না গিয়ে বিমান ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানে। ভারতের কোচিন থেকে আবুধাবির উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রায় ৫০ মিনিট পর বিপত্তি দেখা দেয়। তখন বিমানটি ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল।   পাইলট ও সহকারী পাইলট লক্ষ্য করেন, এক নম্বর ইঞ্জিনের তেলের মাত্রা দ্রুত কমছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ঝুঁকি এড়াতে ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বিমানটির গন্তব্য পরিবর্তন করে কোচিনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে নিরাপদেই কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি। ঘটনার সময় বিমানে কতজন যাত্রী ছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   এদিকে কয়েকদিন আগেই এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের আরেকটি বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। দাম্মাম থেকে নয়াদিল্লিগামী একটি বিমানের শৌচাগারে কেবিনকর্মী একটি টিস্যু কাগজে বোম লেখা দেখতে পান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পাইলটকে জানানো হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে আমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। বিমান অবতরণের পর নিরাপত্তাকর্মীরা সেটিকে মূল টার্মিনাল থেকে দূরে নিয়ে যান। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলসহ নিরাপত্তাকর্মীরা বিমানে তল্লাশি চালান। ৩২ যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে টার্মিনাল দুইয়ে নেওয়া হয়।   বিমানের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়েও কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। পরে বিমানটিকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরপর দুটি ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি