সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
মাদুরো অভিযানের তথ্য ফাঁস করে বাজি, ৪ লাখ ডলার জেতার পর মার্কিন সেনা গ্রেফতার

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ব্যবহৃত গোপন তথ্য কাজে লাগিয়ে প্রেডিকশন মার্কেটে বাজি ধরে প্রায় ৪ লাখ ডলার লাভের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। খবর সিএনএন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মাস্টার সার্জেন্ট গ্যানন কেন ভ্যান ডাইক ডিসেম্বরের শেষদিকে প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে প্রায় ৩২ হাজার ডলার বাজি ধরেন। তার বাজি ছিল—জানুয়ারির মধ্যে মাদুরো ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন। সে সময় এই বাজি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছিল। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, ভ্যান ডাইক ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের গোপন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বাজি ধরার আগেই তার কাছে অভিযানের গোপন তথ্য ছিল, যা ব্যবহার করেই তিনি লাভবান হন বলে অভিযোগ। ফোর্ট ব্র্যাগে কর্মরত এই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য চুরি ও অপব্যবহার, প্রতারণা এবং চুরিসহ মোট পাঁচটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নর্থ ক্যারোলিনায় আদালতে হাজিরা দেবেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারির মধ্যে তিনি ১৩টি বাজি ধরেন। সর্বশেষ বাজিটি করেন অভিযানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। পরে অর্জিত ৪ লাখ ডলারের বেশি অর্থ প্রথমে বিদেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ভল্টে সরিয়ে নিয়ে পরে একটি অনলাইন ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্টে জমা করেন, যা অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন প্রসিকিউটররা। মার্কিন নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি জে ক্লেটন বলেন, ‘যাদের ওপর দেশের গোপন তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব, তারা যদি তা ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানের পর ভ্যান ডাইককে একটি ছবিতে সমুদ্রে থাকা একটি জাহাজের ডেকে সামরিক পোশাক ও অস্ত্রসহ অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার ট্রেডিং কমিশনও তার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। সেখানে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ফেরত, ক্ষতিপূরণ এবং আর্থিক জরিমানার দাবি জানানো হয়েছে। এর আগে সিএনএন জানায়, ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই বাজির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলেন এবং ম্যানহাটনের অ্যাটর্নি অফিসের কর্মকর্তারা পলিমার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকও করেন। অভিযানের পর মার্কিন সেনাবাহিনী কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে রাতের আঁধারে মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে। সেখানে তিনি মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার মোকাবিলা করছেন। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পলিমার্কেট জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেনের বিষয়টি শনাক্ত করার পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে অবহিত করে এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছে। তাদের ভাষায়, ‘ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের কোনো স্থান পলিমার্কেটে নেই।’ এদিকে প্রেডিকশন মার্কেটকে ঘিরে বিতর্ক বাড়ছে। গত এক বছরে এসব প্ল্যাটফর্মে লেনদেন ব্যাপক হারে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইতোমধ্যে একাধিক বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যাতে এই খাতকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভূরাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজি ধরা উদ্বেগজনক প্রবণতা। তিনি এ ঘটনাকে বেসবল তারকা পেট রোজের নিজের দলের ওপর বাজি ধরার সঙ্গে তুলনা করেন। ‘এটা ঠিক পিট রোজ নিজের দলের ওপর বাজি ধরার মতো,’ বলেন ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বাজির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্বই যেন এক ধরনের ক্যাসিনো হয়ে গেছে... সর্বত্র এই ধরনের বাজি চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এতে সন্তুষ্ট নই।’ গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন পলিমার্কেটকে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দিলেও এর মার্কিন সংস্করণ এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। মাদুরো-সম্পর্কিত বাজিগুলো করা হয়েছিল প্ল্যাটফর্মটির আন্তর্জাতিক সংস্করণে, যা মার্কিন আইনের বাইরে পরিচালিত হয় এবং যেখানে যুদ্ধসংক্রান্ত বাজি ধরার সুযোগ রয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিপিএন ব্যবহার করে সহজেই মার্কিন নাগরিকরা এই অফশোর সাইটে প্রবেশ করতে পারেন। প্রেডিকশন মার্কেটে ইনসাইডারদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই প্ল্যাটফর্মগুলো গোপন তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি মাধ্যম হতে পারে। তবে মার্চ মাসে পলিমার্কেট নতুন নীতিমালা চালু করে, যেখানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেন, এমন তথ্য ফাঁসকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার এবং কোনো ঘটনার ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে—এমন অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু আজ

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, মজুদ ও হ্রদের ভারসাম্য রক্ষায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর তিন মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি অঞ্চলের সূত্রে জানা যায়, কাপ্তাই হ্রদে কার্প প্রজাতির মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য ডিম ছাড়ার মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা প্রয়োজন। কাপ্তাই হ্রদ দেশের কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের একটি অন্যতম স্থান। এসময় মাছ শিকার বন্ধে কাপ্তাই হ্রদে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় বরফকলগুলোও এসময় বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি অঞ্চলের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর সহায়তায় মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসূচির আওতায় মোট ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে দুই মাসের জন্য ৪০ কেজি করে মোট ১ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২ মে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। একই দিন হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনাও ছাড়া হবে। কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক নিশ্চিতকরণে মধ্যরাত থেকে আগামী তিন মাস কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন হ্রদে অবৈধ মাছ শিকার রোধে নৌ-পুলিশ ও বিএফডিসির সমন্বয়ে নিয়মিত টহল দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হবে অস্থায়ী চেকপোস্ট। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২ ঘন্টা আগে
মার্কিন জব্দ চেষ্টা ব্যর্থ, নিরাপদে বন্দরে ইরানি জাহাজ

যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করার চেষ্টা ব্যর্থ করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-ইউনিটের পাহারায় বন্দরে পৌঁছেছে দেশটির একটি চালবাহী জাহাজ। ওমান সাগর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজটি নিরাপদে বন্দরে পৌঁছায়।  ইরানের দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা যায়। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, চালবাহী জাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-ইউনিট। মূলত মার্কিন বাহিনীর কব্জা থেকে জাহাজটিকে রক্ষা করতেই এই বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

২ ঘন্টা আগে
কুমিল্লা-ঢাকা রুটে বাস ভাড়া বেড়েছে: আজ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হবে যাত্রীদের

কুমিল্লা-ঢাকা রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাগামী বাসগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬০ টাকা এবং জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।  শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি এক জরুরি সভায় নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।  এর আগে এই রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাত্রীদের এখন থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা বেশি ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মালিক সমিতি জানায়, তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ টাকা করে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।  কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনার বাইরে এক টাকাও বেশি নেব না। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারি যে নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লা থেকে ঢাকা সড়কে আমরা প্রতি যাত্রী থেকে দশ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছি। 

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
শাহবাগ থানার ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রাজধানীর শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তের জন্য ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   এ ঘটনায় পৃথকভাবে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া, ড. মো. মোসাদ্দেক খান, ড. রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম সোহাগ ও আমজাদ হোসেন।   এর আগে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই পোস্ট ঘিরে শাহবাগ থানায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।   এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির জরুরি সভায় ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0

ছবি: সংগৃহীত
শাহবাগ থানার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করলেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থী ও ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন।   বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে শাহবাগ এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।   রাকিব বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য তিনি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।   তিনি আরও বলেন, কিছু পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। তবে সবাইকে একসঙ্গে সমন্বিতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা উচিত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় যোগাযোগের সুযোগ থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। তিনি দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও শান্তভাবে সমাধান করা যেত।   তিনি আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কিছু পোস্ট ও ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়িয়েছে।   রাকিবুল ইসলাম রাকিব সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রসমাজকে উত্তেজিত না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে প্রায় দুই মাস পর আকাশসীমা খুললো কুয়েত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল কুয়েত। প্রায় দু’মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার আকাশীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উপাসাগরীয় অঞ্চলের এই তেলসমৃদ্ধ দেশটি।   কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা কুনা’র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সরকারি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সংস্থার মহাপরিচালক হামৌদ মুবারক দেশের আকাশসীমা খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, “আঞ্চলিক পরিস্থিতিগত কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমরা কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিলাম। আজ তা আবার খুলে দেওয়া হলো। শিগগিরই বিমানবন্দর তার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরে যাবে। আমাদের আজকের এই পদক্ষেপটি হলো সেই পর্যায়ে যাওয়ার সুচিন্তিত এবং প্রথম পদক্ষেপ।”   ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।   তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।   যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।   সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান।   গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রর ও ইরানের মধ্যে। তার আগ পর্যন্ত কুয়েতের বিমানবন্দরে কয়েক বার ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এসেছে।   কুনা নিউজ এজেন্সিকে মুবারক জানান, ইরানের হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দরের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সেসব লোকসান যাচাই এবং নথিবদ্ধ করার কাজ সম্পূর্ণ করেছে।   বিমানবন্দর বন্ধ থাকার সময় কুয়েতের বিমানগুলো নিজেদের বিমানবন্দরে রাখার অনুমতি দিয়েছিল সৌদি। এজন্য রিয়াদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হামৌদ মুবারক।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে ইরানের স্বাস্থ্যখাত চাপে, জরুরি ওষুধে ঘাটতি বাড়ছে

হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ, আকাশপথে স্থবিরতা ইরানে স্বাস্থ্যখাতে চাপ বাড়িয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ থেকে শুরু করে ব্যথানাশক, জরুরি ওষুধ সরবরাহে দেখা দিয়েছে ঘাটতি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।   হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ইরানের আমদানি ব্যবস্থাকে কার্যত ধাক্কা দিয়েছে। আকাশপথে কার্গো ফ্লাইট বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   এতে, রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালে জরুরি ওষুধের প্রবাহ কমে এসেছে।   ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কেমোথেরাপি ড্রাগ, ব্যথানাশক ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের ঘাটতি চোখে পড়ছে। পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে বিঘ্ন এবং আমদানি জটিলতা এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।      অনেকে বলছেন, যুদ্ধ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ওষুধের ঘাটতি হওয়া স্বাভাবিক। কিছু কেমোথেরাপির ওষুধের ঘাটতিও এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে। এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্যালাইন ও ওষুধের প্যাকেজিং সামগ্রীতেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।   যদিও এখন পর্যন্ত ইরান সরকার বড় ধরনের ওষুধ সংকট ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে, তবে চিকিৎসকদের মতে পরিস্থিতি নাজুক। দেশের মজুদ আর কতদিন চাহিদা মেটাতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও, তা আনুষ্ঠানিক সমঝোতার অংশ কি না স্পষ্ট নয়। ইরানের প্রস্তাব নিয়ে শান্তি আলোচনার কথা বলা হলেও, উত্তেজনা এখনো কাটেনি। এতে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।  

ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ চলবে না : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হতে পারবে না।   তিনি আরও বলেন, প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরান চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত এটি এভাবেই থাকবে।   একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের ভেতরে ‘অভ্যন্তরীণ বিভাজন’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।   অন্য এক পোস্টে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে কেউ মাইন পাতার চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে ইরানের স্বাস্থ্যখাত চাপে, জরুরি ওষুধে ঘাটতি বাড়ছে
আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ, আকাশপথে স্থবিরতা ইরানে স্বাস্থ্যখাতে চাপ বাড়িয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ থেকে শুরু করে ব্যথানাশক, জরুরি ওষুধ সরবরাহে দেখা দিয়েছে ঘাটতি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।   হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ইরানের আমদানি ব্যবস্থাকে কার্যত ধাক্কা দিয়েছে। আকাশপথে কার্গো ফ্লাইট বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   এতে, রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালে জরুরি ওষুধের প্রবাহ কমে এসেছে।   ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কেমোথেরাপি ড্রাগ, ব্যথানাশক ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের ঘাটতি চোখে পড়ছে। পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে বিঘ্ন এবং আমদানি জটিলতা এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।      অনেকে বলছেন, যুদ্ধ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ওষুধের ঘাটতি হওয়া স্বাভাবিক। কিছু কেমোথেরাপির ওষুধের ঘাটতিও এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে। এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্যালাইন ও ওষুধের প্যাকেজিং সামগ্রীতেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।   যদিও এখন পর্যন্ত ইরান সরকার বড় ধরনের ওষুধ সংকট ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে, তবে চিকিৎসকদের মতে পরিস্থিতি নাজুক। দেশের মজুদ আর কতদিন চাহিদা মেটাতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও, তা আনুষ্ঠানিক সমঝোতার অংশ কি না স্পষ্ট নয়। ইরানের প্রস্তাব নিয়ে শান্তি আলোচনার কথা বলা হলেও, উত্তেজনা এখনো কাটেনি। এতে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।  

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে প্রায় দুই মাস পর আকাশসীমা খুললো কুয়েত
Akteruzzaman এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল কুয়েত। প্রায় দু’মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার আকাশীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উপাসাগরীয় অঞ্চলের এই তেলসমৃদ্ধ দেশটি।   কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা কুনা’র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সরকারি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সংস্থার মহাপরিচালক হামৌদ মুবারক দেশের আকাশসীমা খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, “আঞ্চলিক পরিস্থিতিগত কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমরা কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিলাম। আজ তা আবার খুলে দেওয়া হলো। শিগগিরই বিমানবন্দর তার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরে যাবে। আমাদের আজকের এই পদক্ষেপটি হলো সেই পর্যায়ে যাওয়ার সুচিন্তিত এবং প্রথম পদক্ষেপ।”   ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।   তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।   যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।   সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান।   গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রর ও ইরানের মধ্যে। তার আগ পর্যন্ত কুয়েতের বিমানবন্দরে কয়েক বার ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এসেছে।   কুনা নিউজ এজেন্সিকে মুবারক জানান, ইরানের হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দরের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সেসব লোকসান যাচাই এবং নথিবদ্ধ করার কাজ সম্পূর্ণ করেছে।   বিমানবন্দর বন্ধ থাকার সময় কুয়েতের বিমানগুলো নিজেদের বিমানবন্দরে রাখার অনুমতি দিয়েছিল সৌদি। এজন্য রিয়াদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হামৌদ মুবারক।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
হামলা হলে ‘কঠোর জবাব’ দেবে ইরান, প্রস্তুত ইসরায়েল
মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যেকোনো হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।   ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, দেশটি ঐক্যবদ্ধ এবং কোনো আগ্রাসনের জবাব শক্তভাবে দেওয়া হবে। তিনি অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কথা নাকচ করে বলেন, আমরা সবাই বিপ্লবী।   তিনি আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে এবং যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। তবে এতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ইরান সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।   অন্যদিকে ইসরায়েল আবারও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষায় আছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের নেতৃত্ব ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন বাহিনীও অঞ্চলে উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি যুদ্ধজাহাজ, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী আছে।

ছবি: সংগৃহীত
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে তেহরান
মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0

ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানে কোনো হামলা চালায়নি। দেশটির সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম দুপক্ষই নিশ্চিত করেছে যে এ ঘটনায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা নেই।   এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষায় আছে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আবারও বাড়িয়েছেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   তবে ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নেয়নি। তাদের অভিযোগ, আলোচনায় অগ্রগতি নেই, নৌ-অবরোধ চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি