উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম) প্রতিরোধে সার্বজনীন অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। সোমবার (৯ মার্চ) কমিশনের অডিটোরিয়ামে খসড়া অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালার ওপর অংশীজনদের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (এসপিকিউএ) বিভাগের পরিচালক ড. দুর্গা রানী সরকার। অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা তৈরি করেছে এবং সেগুলো বিছিন্নভাবে বাস্তবায়ন করছে। ইউজিসির উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা তৈরি করা হলে তা সবার জন্য অভিন্ন নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এ নীতিমালা বিশেষ করে নবীন গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে সাইটেশন, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের নিয়মসহ গবেষণার নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে গবেষকরা পরিষ্কার ধারণা পাবেন। এটি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াবে বলে তিনি মনে করেন। ইউজিসির এ সদস্য আরও বলেন, দেরিতে হলেও ইউজিসি অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। অংশীজনদের মতামত নীতিমালাটিকে সার্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের নীতি-নৈতিকতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়ালে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি হবে না বলে তিনি মনে করেন। ড. দুর্গা রানী সরকার বলেন, উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। এসপিকিউএ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ-এর সঞ্চালনায় কর্মশালায় ২১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি’র পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকসহ ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে একটি নৌ-যানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এই অভিযানে সন্দেহভাজন ৬ মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। মার্কিন সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার (৮ মার্চ) পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে একটি কথিত মাদক চোরাচালানকারী জাহাজে হামলায় তারা ছয়জনকে হত্যা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট নৌকাকে জলে ভাসমান অবস্থায় বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে নিহতরা কোন দেশের নাগরিক তা জানায়নি সংস্থাটি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মাদক-বিরোধী অভিযানে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ে ১৫৭ জন নিহত হলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক-চক্রের বিরুদ্ধে তার প্রশাসন বর্তমানে সংঘাত-পরিস্থিতিতে রয়েছে। তবে একের পর এক হামলা চালালেও, সংশ্লিষ্ট নৌ-যানগুলোতে মাদক পাচারই হচ্ছিল, এমন প্রমাণ খুব কম ক্ষেত্রেই দিতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর শহরের আবাসিক এলাকায় এ ধরনের দাহ্য অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সোমবার (৯ মার্চ) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির গবেষকরা অন্তত সাতটি ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছেন, যেখানে দেখা গেছে ইয়োহমোরের আকাশ থেকে সাদা ফসফরাস যুদ্ধাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে আবাসিক এলাকার ওপর ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে ইয়োহমোর শহরের অন্তত দুটি বাড়ি ও একটি গাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও নিশ্চিত করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গ্রামটি খালি করার নির্দেশ দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। তবে সেই মুহূর্তে কোনো বেসামরিক লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননভিত্তিক গবেষক রামজি কাইস এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে বলেন, আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাসের প্রয়োগ বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। এই রাসায়নিক পদার্থ মানুষের শরীরকে হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলতে পারে ও এর ফলে অঙ্গহানি, শ্বাসকষ্ট এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা প্রায়ই আজীবন কষ্টদায়ক ক্ষত এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের মতো দাহ্য অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ। কারণ এটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। অতীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, তারা কেবল ধোঁয়ার আড়াল তৈরির জন্য এই পদার্থ ব্যবহার করে, কোনো মানুষকে লক্ষ্য করে নয়। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আগেও একাধিকবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই বিতর্কিত অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলকে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করার ও সহযোগী দেশগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের দিকে নজর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তা জ্যারড এজেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিশাল তেলসম্পদ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বের করে আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভবিষ্যতে আর উদ্বেগ থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ দেশটির সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানি কেন্দ্র। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি হয়। তাই এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সীমিত সংখ্যক সেনা পাঠানোর বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন। বড় ধরনের হামলার বদলে কৌশলগত অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে ইরান সরকারের প্রধান আয়ের উৎসে বড় চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। তাই খার্গ দ্বীপকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও জ্বালানি তেল নিয়ে ক্রেতাদের শঙ্কা কাটছে না। গতকাল রোববার রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পেই তেলের জন্য ছিল দীর্ঘ সারি। তেল না থাকায় অনেক পাম্প ছিল বন্ধ। তেল পাম্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, গত শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় তেলের সরবরাহ ছিল না। এ কারণে অনেক পাম্পে তেল নেই। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ কম তেল বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ২৫ শতাংশ তেলই রেশনিং করা হচ্ছে। জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি টহলের অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে তেল-গ্যাসের ১০টি জাহাজ ভিড়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য রেশনিং করে চলতে হবে। সব একেবারে না খেয়ে চলার মতো ব্যবস্থা করে যদি একবার চলি, তাহলে আমরা দীর্ঘদিন চলতে পারব। এ সময় তিনি আপাতত বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর কথাও জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা ভঙ্গুর এবং ঋণে জর্জরিত একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা এমন এক সময়ে এসে সরকার গঠন করেছি, তার কয়েকদিন পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। জ্বালানির উৎপত্তিস্থল হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। আমি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, এখন প্রতিদিন আমাকে জবাবদিহি করতে হয়। তিনি আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পের পাশে বিশাল লাইন দেখা যায়। আমরা বলেছি, যেহেতু যুদ্ধ লেগেছে এবং যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যে বসবাস করছি, যেখান থেকে পেট্রোলিয়াম আসে, সেখানে যুদ্ধ লেগেছে। এই যুদ্ধ কতদিন চলবে জানি না। তবে আমার কাছে যে মজুত আছে, সেটা সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করার জন্য জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছি। আমরা রেশনিং শুরু করেছি। এদিকে দেশে জ্বালানি তেল বিপণন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি। শনিবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রচারের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে ফিলিং স্টেশন ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন—এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ সীমিত করার বিষয়ে বিপিসি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিপিসি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল ক্রয়কে কেন্দ্র করে ক্রেতা ও স্টেশনকর্মীদের মধ্যে অনভিপ্রেত ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিলিং স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে পুলিশি টহল জোরদার করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে: জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে এখন থেকে মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের বাজারে সংকট তৈরির লক্ষ্যে অবৈধ মজুত করছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংকট নিরসনকল্পে এরই মধ্যে সরকার যানবাহনভিত্তিক তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। ফলে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয়, অধিক মুনাফার লোভে অতিরিক্ত মজুত, খোলা বাজারে বিক্রি, পাচারের প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে তেল-গ্যাসের ১০ জাহাজ: প্রায় পৌনে ৪ লাখ টন জ্বালানি পণ্য দিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১০টি জাহাজ। এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে। এ ছাড়া ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য নিয়ে পৌঁছেছে আরও চারটি জাহাজ। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আজ সোমবার ‘লুসাইল এবং বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা। সব মিলিয়ে এই চার জাহাজে এলএনজি রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এই জাহাজগুলো এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগেই ওমান উপসাগর থেকে ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি, যা ওমানের সোহার বন্দর থেকে এসেছে। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামে আরেকটি এলপিজিবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। ওই জাহাজে ছিল ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি। সব মিলিয়ে দুটি জাহাজে এলপিজি রয়েছে ৪১ হাজার ৪৮৮ টন। দুটি জাহাজে প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি রয়েছে মেঘনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির। বাকি এলপিজি এনেছে জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস লিমিটেড। এ ছাড়া ডিজেল নিয়ে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের ৩১ হাজার টনের একটি জাহাজ বন্দরের পথে রয়েছে। আগামী ১২ মার্চ জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ১৪ হাজার টন গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট নিয়ে পৌঁছেছে হুয়া সুন নামের একটি জাহাজ। কনডেনসেট থেকে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও এলপিজি উৎপাদন করা হয়। এর বাইরে সিঙ্গাপুর থেকে ৪০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে পৌঁছেছে দুটি জাহাজ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর ৪ মার্চ এলপিজি ও ডিজেলের দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজ দুটি তেল-গ্যাস খালাস করে শুক্রবার বন্দর ছেড়েছে। এই দুটি জাহাজ হলো ওরিয়েন্টাল গ্রিনস্টোন ও পল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের দিকে নজর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তা জ্যারড এজেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিশাল তেলসম্পদ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বের করে আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভবিষ্যতে আর উদ্বেগ থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ দেশটির সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানি কেন্দ্র। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি হয়। তাই এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সীমিত সংখ্যক সেনা পাঠানোর বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন। বড় ধরনের হামলার বদলে কৌশলগত অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে ইরান সরকারের প্রধান আয়ের উৎসে বড় চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। তাই খার্গ দ্বীপকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। নিহতদের একজন বাংলাদেশি অন্যজন ভারতীয়। রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি কমপাউন্ডের ওই ভবনে হামলা চালানো হয়। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স—এ এক পোস্টেও এ তথ্য জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, তারা সৌদি আরবের আল খার্জসহ বিভিন্ন স্থানের রাডার ব্যবস্থা নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। সেই আল–খার্জে দুইজন নিহত হওয়ার কথা জানা গেল।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম) প্রতিরোধে সার্বজনীন অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। সোমবার (৯ মার্চ) কমিশনের অডিটোরিয়ামে খসড়া অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালার ওপর অংশীজনদের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (এসপিকিউএ) বিভাগের পরিচালক ড. দুর্গা রানী সরকার। অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা তৈরি করেছে এবং সেগুলো বিছিন্নভাবে বাস্তবায়ন করছে। ইউজিসির উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা তৈরি করা হলে তা সবার জন্য অভিন্ন নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এ নীতিমালা বিশেষ করে নবীন গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে সাইটেশন, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের নিয়মসহ গবেষণার নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে গবেষকরা পরিষ্কার ধারণা পাবেন। এটি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াবে বলে তিনি মনে করেন। ইউজিসির এ সদস্য আরও বলেন, দেরিতে হলেও ইউজিসি অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। অংশীজনদের মতামত নীতিমালাটিকে সার্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের নীতি-নৈতিকতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়ালে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি হবে না বলে তিনি মনে করেন। ড. দুর্গা রানী সরকার বলেন, উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। এসপিকিউএ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ-এর সঞ্চালনায় কর্মশালায় ২১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি’র পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকসহ ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে একটি নৌ-যানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এই অভিযানে সন্দেহভাজন ৬ মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। মার্কিন সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার (৮ মার্চ) পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে একটি কথিত মাদক চোরাচালানকারী জাহাজে হামলায় তারা ছয়জনকে হত্যা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট নৌকাকে জলে ভাসমান অবস্থায় বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে নিহতরা কোন দেশের নাগরিক তা জানায়নি সংস্থাটি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মাদক-বিরোধী অভিযানে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ে ১৫৭ জন নিহত হলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক-চক্রের বিরুদ্ধে তার প্রশাসন বর্তমানে সংঘাত-পরিস্থিতিতে রয়েছে। তবে একের পর এক হামলা চালালেও, সংশ্লিষ্ট নৌ-যানগুলোতে মাদক পাচারই হচ্ছিল, এমন প্রমাণ খুব কম ক্ষেত্রেই দিতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে Saudi Arabia। দেশটি বলেছে, হামলা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত Iran নিজেই সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। এর আগে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khalid bin Salman Al Saud ইরানকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ না নেওয়ার আহ্বান জানান। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব হামলা শুধু সৌদি আরবের ওপরই নয়; বরং উপসাগরীয়, আরব ও ইসলামি অন্যান্য দেশগুলোর বিরুদ্ধেও পরিচালিত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক স্থাপনা—যেমন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা—প্রমাণ করে যে এসব আক্রমণের উদ্দেশ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলা। এটি আন্তর্জাতিক সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়। এদিকে হামলা নিয়ে ইরানের দেওয়া যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। তেহরান দাবি করেছিল, সৌদি আরব তাদের ভূখণ্ড থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, বিমানগুলো মূলত সৌদি আরব ও Gulf Cooperation Council–এর আকাশসীমাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষার জন্য টহল দিচ্ছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, “আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, আমাদের দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের বর্তমান পদক্ষেপগুলো বিচক্ষণতার পরিচয় দেয় না এবং উত্তেজনার এই চক্র থামানোর কোনো লক্ষণও এতে দেখা যাচ্ছে না। এই উত্তেজনা বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে ইরানই।” এর আগে গত শনিবার (৭ মার্চ) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা একটি বিমানঘাঁটির দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন। একই সঙ্গে একটি বড় তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টাও নস্যাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের রাস তানুরা তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান Asim Munir–এর সঙ্গে বৈঠকের পর খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তারা কোনো যুদ্ধবিরতি চাইছেন না। ইরানের ওপর আগ্রাসন ও হামলাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে কালিবাফ বলেছেন, “নিশ্চিতভাবেই আমাদের দেশ ও জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না। তারা লড়বে, সংগ্রাম করবে এবং আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি সতর্ক করেছেন, যদি কোনো উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয় ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য, তবে ইরান সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া, তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্রের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন, যিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন, যদি অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকে, আমরা দ্বিধা ছাড়া প্রতিক্রিয়া জানাব। সূত্র: আল-জাজিরা
যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতোবা হোসেইনি খামেনিকেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতোবা খামেনিকে রোববার যুদ্ধের পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশটির ধর্মীয় নেতারা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছেন। আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতোবাকে দীর্ঘদিন থেকেই তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হচ্ছিল; যাকে মোটেই পছন্দ নয় ডনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স, আল জাজিরা ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচন করল সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’। নতুন নেতা মোজতোবাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্যে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাবার ছায়ায় থাকা মোজতোবাকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরবর্তী নেতা ধরে নিয়েছিলেন। তাকে সেভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে বলে ভাষ্য খামেনি অনুসারীদের। তার পেছনে সমর্থন রয়েছে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীরও (আইআরজিসি)। ইরানে খুবই প্রভাবশালী এ বাহিনীতে মোজতোবার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে তার বিষয়ে সমালোচকরা বলছেন, বড় মাপের আলেম না হয়েও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে মোজতোবার আরোহনের পেছনে ভূমিকা রয়েছে আইআরজিসির। মোজতোবা বেশির ভাগ সময় লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকেছেন, সরকারি কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না; তার বক্তৃতার সংখ্যাও বিরল, গণমাধ্যমে তাকে দেখা গেছে হাতেগোনা কয়েকবার। কিন্তু ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোতে তার প্রভাব ব্যাপক ও বিস্তৃত।
মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইরানের ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ মোজতবাকে এই পদে নির্বাচিত করেছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, এই পরিষদই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত। ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার নতুন কোনো নেতা নির্বাচন করল এই পরিষদ। এর আগে তিন দশকেরও বেশি সময় আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনিকে দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচিত করা হয়েছিল। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি প্রয়াত আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ ছিল না, তবুও পর্দার আড়ালে তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ-এর সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য, মোজতবা কোনো উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতা নন। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তৎকালীন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ মোজতবার বিরুদ্ধে তার বাবার আঞ্চলিক লক্ষ্য পূরণ এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নে আইআরজিসি-কুদস ফোর্স ও বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিযোগ এনেছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।