সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা এক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে অচিরেই ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা একসঙ্গে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।      একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য বড় পরীক্ষা উল্লেখ করে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে বলেছেন তিনি। তার নির্দেশনা, স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে হবে।       রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।     সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে সভা শুরু হয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় চলে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সভা শেষ হয়। এতে বিএনপির ১৯৪ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অন্তত ২৫ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন।     ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতির তাগিদ সভাপতির বক্তব্যে তারেক রহমান গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রেখে ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিএনপি হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী দলকে ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি করে যেতে হবে।     আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সরকারকে অনেক বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা বলেন তিনি। দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধেও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।     স্থানীয় সরকার নির্বাচন বড় পরীক্ষা স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। তাই এখন থেকেই নিজ নিজ এলাকায় কাজ শুরু করতে হবে। এই নির্বাচন সরকারের জন্যও বিশেষ পরীক্ষা। স্থানীয় পর্যায়ে যেখানে যিনি জনপ্রিয়, তাকে প্রার্থী করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে তাদের পাশে রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংগঠনকে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না।     স্থানীয় বাস্তবতায় কর্মসূচি প্রণয়নের নির্দেশ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়নের তাগিদ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের রাজনীতি এক রকম, বগুড়ার রাজনীতি আরেক রকম। তাই এলাকার চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি নিতে হবে। আগামী ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পালনের পরামর্শ দেন তিনি।     সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভামঞ্চে সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের এক পাশে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম এবং অন্য পাশে আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বসেন।

১ ঘন্টা আগে
হোটেল রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজে তাজমীন হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীন (১৫) হত্যায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসছে। এ ঘটনার আগে কক্সবাজার গিয়েছিল সে।     ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিত কুটুমবাড়ি রোডের শেষ মাথায় মেঘলা রিসোর্টে উঠেছিলেন। হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল ১৮ বছর।        গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে সে। পরদিন ৭ অক্টোবর হোটেল ছেড়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওয়ানা হয় তাজমীন। তবে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়ার হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। তাজমীনের শেষ যাত্রাপথ ঘিরে অনুসন্ধানে সামনে এসেছে একের পর এক নতুন তথ্য।       অনুসন্ধান ও পরিবহণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন রাজু। ফেসবুকে পরিচয়ের আগে ইনস্টাগ্রামেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে। নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদানের পাশাপাশি তারা পরস্পরকে রিলসও পাঠাতেন।        তাজমীনের কক্সবাজার যাওয়া, সেখানে অবস্থান এবং বাড়ি ফেরার বাসের টিকিট কাটার বিষয়ে একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। তবে রাজুর সঙ্গে তাজমীনের পরিচয় ও কক্সবাজার যাত্রার বিষয়টি একদিকে, আর হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা অন্যদিকে।      পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।       তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাজমীন ও রাজু কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে যাওয়ার পর রিয়াজ তাজমীনকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেন বলে জানা গেছে।      কক্সবাজারে তাজমীনের অবস্থানের বিষয়টি হোটেলের রেজিস্টার খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।       গত ৭ অক্টোবর বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার হাতে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাজমীন। পরদিন সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমীনের আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।     কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা আবাসিক হোটেলটির রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে স্ত্রী পরিচয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেয় তাজমীন। রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। সেখানে রিয়াজের পরিচয় দেওয়া হয়েছে বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।     হোটেলটির এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত থাকার পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। হোটেলের রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মোবাইল নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।     নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজুর এক সহকর্মী জানান, তিনি ও রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু সহকর্মী। তাজমীন হত্যাকাণ্ডের পর রিয়াজ তার কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং তাকে বাঁচানোর জন্য আকুতি-মিনতি করেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন রিয়াজ।     ওই সহকর্মী বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাজমীনের সঙ্গে রিয়াজের প্রথম পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এরপর তাজমীন সেখানে এসে ঘোরাফেরা করে আবার চলে যান। এ ঘটনার আগে রিয়াজ ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট কেটে তাজমীনকে বাসে তুলে দেন।      রিয়াজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাজমীনের বাসের টিকিটের দাম ছিল ৯০০ টাকা। এসব ঘটনার পর রিয়াজ আপাতত হোটেল ছেড়ে ছুটিতে আছেন বলে জানান ওই সহকর্মী।     অন্যদিকে, রিয়াজের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাজমীনের সঙ্গে রিয়াজের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।       কক্সবাজারের কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমীন ও রাজু তাদের কাউন্টারে গিয়ে বাসের টিকিট কাটেন। পরদিন বুধবারের জন্য আইকনিক এক্সপ্রেসের একটি টিকিট বুক করেন রাজু। রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমীনকে বাসে তুলে দেন তিনি। বাসটি দুপুরের দিকে কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছেড়ে যায়।     সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক এক্সপ্রেসের বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামে তাজমীন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। কিন্তু সেই যাত্রা আর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায়নি।     পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন তাজমীনকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমীনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।     পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাজমীন মাকে জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে। তবে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলে তাজমীন কিছু জানায়নি। এর আগে সে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরে কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।       তাজমীনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। তখন তাজমীন জানিয়েছিলেন, তিনি এক বান্ধবীর সঙ্গে আছেন। মেয়েকে বান্ধবীর বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মেয়ে কার সঙ্গে আছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি।        গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমীনের ঝগড়া হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়। সেখান থেকে মোবাইলে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন রিয়াজ তাকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান।     এদিকে, রিয়াজের সহকর্মীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও রিয়াজের সঙ্গে তাজমীনের মোবাইলে কথা হচ্ছিল।     অটোরিকশাচালকের বিস্তারিত তথ্যও তাজমীন রিয়াজকে জানিয়েছিল। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমীনের মোবাইলের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাজমীনের ধর্ষণ ও হত্যার খবর দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন রিয়াজ।     ওই সহকর্মী আরও জানান, রিয়াজ গত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত আছেন। ঘটনার পর থেকে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।     লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মোবাইলের কললিস্টসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে বাকি সবকিছু জানা যাবে।       তাজমীনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, মেয়েটি খুব চঞ্চল স্বভাবের ছিল। মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত সে। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাতে ফিরতেন। তবে মেয়েকে বাবা খুব আদর করতেন। রাগ হলে তাজমীন কখনো কখনো হুটহাট বাসা থেকে বের হয়ে যেত বলেও জানান তিনি।

২ ঘন্টা আগে
যেভাবে উদ্ধার হলো জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া সেই ল্যাপটপ

জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে নাটোর থানা পুলিশ। শহরের কাপুড়িয়া পট্টি নূর ক্লথ স্টোরের পাশ থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। তবে ল্যাপটপটি উদ্ধারের পেছনে রয়েছে অন্য ঘটনা।      ট্রেনের সিটের নিচে ব্যাগটি পেয়ে নওগাঁ নিয়ে গিয়েছিলেন নাটোর শহরের কাপুড়িয়া পট্টির বাসিন্দা অমল কুমার সাহা। পরে সংবাদমাধ্যমে পর্যটকের ল্যাপটপ হারানোর খবর দেখে বিষয়টি ছেলেকে জানান তিনি। ছেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে পুলিশ।     রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে সদর থানায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।       পুলিশ সুপার জানান, ল্যাপটপ হারানোর পরের দিন ৮ তারিখ সকালে অমল কুমার সাহা তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সান্তাহার হয়ে নওগাঁ যাওয়ার সময় সিটের নিচে একটি ব্যাগ পান। ব্যাগটি নিয়ে তিনি নওগাঁ চলে যান। পরে ব্যাগ খুলে ল্যাপটপ দেখে তিনি তার ছেলে অন্তরের সঙ্গে কথা বলেন। সংবাদমাধ্যমে জার্মান তরুণ পর্যটকের ল্যাপটপ হারানোর ঘটনা জেনে বাবা অমল সাহা ছেলেকে বিষয়টি জানান। পরে অন্তর রোববার রাতে পুলিশকে জানালে পুলিশ কাপুড়িয়া পট্টির নূর ক্লথ স্টোরের পাশ থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।       ল্যাপটপটি উদ্ধারের ঘটনা ক্রিল ল্যান্ডার কিরিলকে জানানো হয়েছে। এতে তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানান পুলিশ সুপার। তবে দেশজুড়ে এত আলোচিত একটি বিষয় হওয়ার পরও ল্যাপটপটি পাওয়ার চার দিন পর কেন অমল সাহা পুলিশকে ফেরত দিলেন, তার কোনো সদুত্তর তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।     প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করতে এসে জার্মান তরুণ ক্রিল ল্যান্ডার কিরিল বগুড়া থেকে একটি লোকাল ট্রেনে করে সান্তাহার স্টেশনে আসেন। পরে সান্তাহার থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে তিনি নাটোর রেলস্টেশনে এসে ভুল করে নেমে পড়েন। নাটোর থেকে তিনি অন্য একটি ট্রেনে করে বাংলাদেশের দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য তিনি নাটোর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন।     সেখানে হলুদ ভেস্ট পরা এক যুবক নিজেকে রেলকর্মী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। পরে ক্রিল ল্যান্ডার ওই যুবকের কাছে নিজের ব্যাগ রেখে টিকিট কাটতে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন, ব্যাগসহ ওই যুবক উধাও হয়ে গেছেন।     এ বিষয়ে তিনি রাতেই নাটোর থানায় অভিযোগ করেন। এ সময় পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা তার প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শন করায় তিনি খুশি হন। পরে তার অবস্থানের সুবিধার জন্য প্রথমে রাজশাহী ও পরে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।     এদিকে, ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগ নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যাওয়া যুবককে ধরিয়ে দিতে সহায়তাকারী ও তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৫)।     এসআরবি-৫ সিপিসি-২ সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্তের চেহারা শনাক্ত হওয়ার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে নাটোর ও আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় ওই যুবকের ছবি সংবলিত পুরস্কার ঘোষণার পোস্টার লাগিয়েছে এসআরবি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
ইন্দোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত

২৫০ রান তাড়া করে আগের ম্যাচে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ২২৪ রানের লক্ষ্যও প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ক্যারিবীয়রা।   তবে শেষ পর্যন্ত ১৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ভারত। ইন্দোরে এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষানের ১০৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দুর্দান্ত সূচনা পায় ভারত। মাত্র ১৮ বলে ফিফটি ছোঁয়া অভিষেক শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৯ রান করেন।     ঈশান ৩৭, তিলক বর্মা ২৮ ও নিতীশ কুমার রেড্ডি ২১ রান যোগ করেন। শেষদিকে অক্ষর প্যাটেলের ২০ ও প্রিন্স যাদবের অপরাজিত ১৩ রানে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে ২২৩ রানে অলআউট হয় ভারত।     জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই হারায় আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অধিনায়ক শাই হোপকে (৫)। তবে কামিল পুরানের ৪২ ও শিমরন হেটমায়ারের ৪৩ রানের ইনিংস লড়াইয়ে থাকে দলটি।     শেষদিকে শেরফান রাদারফোর্ড ২০ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আশা জাগিয়েছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাদারফোর্ডকে বোল্ড করে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন অর্শদীপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ওভারটা শুরু করে ৩৭ রানের প্রয়োজন নিয়ে। অক্ষরের করা ওভারটায় ২২ রান তুলে ব্যবধান কমান শামার স্প্রিঙ্গার।       আগামী বুধবার হায়দরাবাদে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
জনগণের প্রতিটি পয়সা দেশের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেশের ও মানুষের স্বার্থে সঠিকভাবে ব্যয়ের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।   রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।   সভায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, অনেকগুলো টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই টার্গেটগুলো অর্জনের জন্য অবশ্যই সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।’   প্রধানমন্ত্রী সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন।’   ‘যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন সেই কাজটি আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।   তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না। তাই যে যখন যে দায়িত্বে রয়েছেন, তাকে সেই সুযোগ দেশের ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।   সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।’   উপ-প্রেস সচিব জানান, সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।   বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।   ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।   পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন।   সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬

ফাইল ছবি।
মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ জনের বিচার শুরু, অভিযোগ গঠন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।   আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমান চার্জ) গঠনের মধ্যে দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কাজ শুরু হলো ট্রাইব্যুনালে।   নির্ধারিত দিন রোববার (১১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন ঠিক করে আদেশ দেন।   জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন পিছিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।   গত ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে অভিযোগ গঠনের আদেশ না দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন। কিন্তু সেদিন আরও এক দফা পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নতুন দিন দেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।   গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।   ওইদিন আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম লিটন আহমেদ। আর স্টেট ডিফেন্স ছিলেন আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম। তারা পলাতক আসামির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অন্য স্টেট ডিফেন্স শহিদুল ইসলামসহ অন্য আসামির আইনজীবীরাও শুনানি করেন।   এ মামলায় পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ মোট ২৬জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৮ জন পলাতক।   গ্রেফতার আট আসামি হলেন—ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী ইরফানুল হক গাজী।   পলাতক ১৮ আসামির মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল আবু ছায়েম, সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার ও সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান।   পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম শামীম, সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল ও তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু।   মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বিইউপির শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ছাত্র-জনতার কয়েকজন তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় মুগ্ধসহ ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।   প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।   একই দিন উত্তরায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ওইদিন উত্তরায় একটি এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।   দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর সড়কে বাসের শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে মালিক-শ্রমিকরা, ২০ পয়েন্টে তৎপরতা

রাজধানীর সড়কে যানজট কমানো এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল রোধ এবং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করতে ঢাকার প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।   রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, ইসিবি চত্বর, পল্টন, মতিঝিল, গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সমিতির প্রতিনিধিদের তৎপরতা দেখা যায়।   শাহবাগ মোড়ে কমলা রঙের ভেস্ট পরিহিত কয়েকজন বাস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিকে চালকদের নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে। তাঁদের ভেস্টে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পরিচয় লেখা ছিল।   সেখানে দায়িত্ব পালনকারী এক বাস মালিক জানান, বারবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও অনেক চালক নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন। এ ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতেই মালিকরা নিজেরা রাস্তায় নেমেছেন।   সমিতি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গঠিত দলগুলো বাসের অনিয়মিত থামা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। সংগঠনের নেতারাও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে কার্যক্রম তদারকি করছেন।   এদিন সকালে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নির্দেশনায় গুলিস্তান এলাকায় ফিটনেসবিহীন, ভাঙা কাচযুক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসের বিরুদ্ধে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেন সমিতির সহসভাপতি ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর শিকদার এবং সদস্যসচিব আলমগীর কবির।   অন্যদিকে যানজট কমানো ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কালশী মোড় পরিদর্শন করেন মিরপুর আঞ্চলিক মালিক সমিতির আহ্বায়ক এস এম সোহরাব হোসেন।   কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনায় গুরুত্ব এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাস রুট রেশনালাইজেশন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাস মালিক সমিতিকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাস কোম্পানির মালিক ও পরিবহন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা এবং ফিটনেস ও আইন মেনে চলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।   পরিবহন মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীতে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আইন অমান্যকারী বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। এ ছাড়া বাস কাউন্টারে অতিরিক্ত বুকিং, ট্রিপভিত্তিক চাঁদা ও অনৈতিক অর্থ আদায় বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবার মান ও চালকদের আচরণে উন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির রুট পারমিট বাতিল করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে রাজধানীতে চলাচলকারী বাসগুলোর প্রয়োজনীয় মেরামত, ডেন্টিং ও পেইন্টিং শেষ করতে হবে। যেসব বাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে না, সেগুলোর চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাভিত্তিক দল গঠন, অনুমোদনহীন ও জরাজীর্ণ বাসের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত কাউন্টার ও স্টপেজ থেকে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার বিষয়ে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আলোচনা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।   শৃঙ্খলা না ফেরা পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এ এস এম আহাম্মেদ খোকন জানান, গণপরিবহনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে মালিকরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, চালকদের বারবার নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া বাস না থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও নির্দিষ্ট স্টপেজ ব্যবহার করতে সচেতন করা হচ্ছে।   আহাম্মেদ খোকন আরও জানান, ঢাকার প্রায় ২০টি স্থানে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে না আসা পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তিনি নিজেও সকাল ৮টা থেকে শাহবাগ এলাকায় কার্যক্রম তদারকি করছেন বলে জানান। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, উদ্যোগটি নিয়মিত তদারকি ও যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যানজটের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে রাজধানীতে এক দিনে ২ হাজার ৪৪৬ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৪৬টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ । রবিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।   ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে তিনটি বাস, দুটি ট্রাক, তিনটি কাভার্ডভ্যান, ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ২৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৭৪টি মামলা হয়েছে।    ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১২টি বাস, একটি ট্রাক, দুটি কাভার্ডভ্যান, ১১টি অটোরিকশা ও ৯২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৮টি মামলা হয়েছে।   ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২৩টি বাস, একটি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৬৭টি অটোরিকশা ও ১৮৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৬১টি মামলা হয়েছে।   ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২০টি বাস, ২১টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ডভ্যান, ৭৭টি অটোরিকশা ও ১৭০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪২২টি মামলা হয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে সাতটি বাস, একটি ট্রাক, ছয়টি কাভার্ডভ্যান, ১২টি অটোরিকশা ও ৪২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১১২টি মামলা হয়েছে।   ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে নয়টি বাস, সাতটি ট্রাক, ১৮টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৪টি অটোরিকশা ও ৮৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২০৪টি মামলা হয়েছে।   ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ১৯টি বাস, ১১টি ট্রাক, ১২টি কাভার্ডভ্যান, ৪৬টি অটোরিকশা ও ১০৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩১০টি মামলা হয়েছে।   ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ১১০ টি বাস, আটটি ট্রাক, ৩৫টি কাভার্ডভ্যান, ১০৫টি অটোরিকশা ও ২৭৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৮০৫টি মামলা হয়েছে। এছাড়াও অভিযানকালে ৬০৬টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৩৪৭টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।   শনিবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফাইল ছবি।
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৭৩ জন।    রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন, চট্টগ্রামে একজন, সিলেটে তিনজন, খুলনায় একজন ও রংপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪২১ জনে।   গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ, চেন্নাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনে মোদি
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই তামিলনাড়ুর চেন্নাই সফর করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার (১১ অক্টোবর) চেন্নাইয়ে পৌঁছে ১৩ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকালে চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। পরে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে সংক্ষিপ্ত রোড শোতে অংশ নেন মোদি।   এ সময় রাস্তার দুই পাশে ব্যারিকেডের পেছনে অবস্থান নেওয়া ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। সমর্থকেরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   রোড শো শেষে চেন্নাই মেট্রোর একটি নতুন অংশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন মোদি। সেখানে মেট্রোর দ্বিতীয় পর্যায়ের চতুর্থ করিডরের পুনামাল্লি থেকে ভাদাপালানি পর্যন্ত অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন মেট্রোপথে ১১টি উড়াল স্টেশন রয়েছে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একই ট্রেনে ভ্রমণ করেন। নতুন এই যোগাযোগব্যবস্থা চালু হওয়ায় নগরীর যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   দিল্লিতে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা জোরদার এদিকে মোদির চেন্নাই সফরের সময় রাজধানী নয়াদিল্লিতে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাজনীতিবিদ, অভিনয়শিল্পীসহ তিন হাজারের বেশি ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। পরে গভীর রাতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।   দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বড় ধরনের জমায়েত ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করে। পুলিশের বাধায় বিক্ষোভকারীরা এক জায়গায় সমবেত হতে না পারলেও বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যান। একদিকে রাজধানীতে রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ, অন্যদিকে চেন্নাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন—এমন পরিস্থিতিতে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে নতুন আতঙ্ক, রাস্তা থেকে তরুণদের ধরে নিয়ে সেনাবাহিনীতে বিক্রির অভিযোগ
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬

নিয়োগের কোটা পূরণে অপহরণ, জোরপূর্বক নিয়োগ ও অর্থের বিনিময়ে তরুণদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে। সামরিক বাহিনীতে লোকবলসংকটের সুযোগে গড়ে উঠেছে নিয়োগের অবৈধ বাণিজ্য। সবচেয়ে বেশি বিপাকে দরিদ্র পরিবারের তরুণেরা। মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারেন রাজ্যের রাজধানী হপা-আনে সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হতে ভয় পান তরুণেরা। বিশেষ করে যাদের বয়স কম এবং শারীরিকভাবে সক্ষম, তাদের জন্য রাতের বেলা বাইরে থাকা এখন প্রায় নিষিদ্ধের মতো। গত কয়েক মাসে শহরটিতে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।   কিন্তু ২৬ বছর বয়সী টুকটুকচালক জাও মিনের (নিরাপত্তার কারণে ছদ্মনাম) ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। জীবিকার তাগিদে তাকে প্রতিদিন রাস্তায় নামতে হয়। আর প্রতিবার বের হওয়ার সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে সতর্ক করে দেন- যাত্রী নিয়ে বেশি দূরে যাওয়া যাবে না, কাকে গাড়িতে তোলা হচ্ছে, সে বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে।   জাও মিন বলেন, “আমি চরম উদ্বিগ্ন থাকি, কিন্তু কাজের জন্য আমাকে বের হতেই হয়। পরিবারের লোকজন বারবার ফোন করে সতর্ক করেন। সব সময় সতর্ক থাকতে হয়।”   তার ভাষায়, “মানুষ আতঙ্কিত ও ভীত। আমার পরিচিত কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সাদাপোশাকধারী সদস্য ও সমর্থকেরা হপা-আনের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা নির্বিচারে কিশোর, বিশের কোঠার তরুণ এবং ত্রিশের কাছাকাছি বয়সী পুরুষদের আটক করে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করছেন।   বিবিসি বার্মিজের দেখা ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকায় সেনাবাহিনীর নিয়োগের নির্ধারিত কোটা কঠোরভাবে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, গণতন্ত্রপন্থী সংগঠন ও বেসামরিক প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জান্তা যখন ক্রমাগত চাপের মুখে, তখন সেনাসদস্যের সংখ্যা বাড়াতেই এ উদ্যোগ।   নিয়োগের ভয়ে ঘরছাড়া তরুণেরা জাও মিনের ভাইবোনদের মধ্যে তিনিই কেবল বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বয়সসীমায় পড়েছেন। তার ভাষ্য, তার বয়সী অনেক তরুণই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। কেউ গেছেন প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে, কেউ আবার দূরের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। যারা এখনও এলাকায় রয়েছেন, তাদের অনেকের জন্য পরিবারের নির্দেশ- সন্ধ্যা নামার আগেই বাড়ি ফিরতে হবে।   ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটিতে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে।   অভ্যুত্থানের তিন বছর পর, যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক পরাজয়, সেনাসদস্যদের মনোবল কমে যাওয়া এবং পলায়নের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ২০২৪ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন কার্যকর করে জান্তা সরকার। এ আইনে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সব পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী নারীদের অন্তত দুই বছর সামরিক বাহিনীর অধীনে কাজ করার বিধান রাখা হয়। নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।   মিয়ানমার ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের (এমডিএসআই) সামরিকবিষয়ক কর্মকর্তা এবং জান্তা ছেড়ে আসা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নাউং ইয়ে বলেন, বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন কার্যকর করা সামরিক অভ্যুত্থানের পর বেসামরিক জনগণের ওপর নেওয়া সবচেয়ে কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলোর একটি।   গত আড়াই বছরে এ ব্যবস্থায় আনুমানিক এক লাখ তরুণকে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের অনেককেই জোরজবরদস্তি, চাঁদাবাজি কিংবা অপহরণের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হপা-আন এখন সেই অভিযানের নতুন লক্ষ্যবস্তু।   নাউং ইয়ের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী তরুণদের চলাফেরা নজরদারিতে রাখছে, আইন অনুযায়ী নিয়োগযোগ্য হওয়ার অজুহাতে তাদের আটক করছে এবং আটকের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে। বাড়ির বাসিন্দাদের তালিকা যাচাইয়ের মতো প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময়ও তরুণদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।   বিবিসি এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত জোরপূর্বক নিয়োগ ও সাম্প্রতিক অপহরণের অভিযোগ সম্পর্কে মিয়ানমার সরকারের সামরিক নিয়োগবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে জানতে চেয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।   স্বামীকে সেনাবাহিনীতে ‘বিক্রি’, অভিযোগ স্ত্রীর বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইনকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারে গড়ে উঠেছে তরুণদের সেনাবাহিনীতে সরবরাহের একটি চক্র। নির্ধারিত কোটা পূরণে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগকে ঘিরে অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।   এর শিকার হয়েছেন ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দা মা মোয়ে সান পান। ২০২৫ সালের ৮ মে সকালে তিনি তার ৩৩ বছর বয়সী স্বামী ফিও ওয়াইকে শেষবারের মতো দেখেছিলেন।   সেদিন স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। মন খারাপ হওয়ায় বিষয়টি তিনি তার এক আত্মীয়কে জানান। ওই আত্মীয় স্থানীয় ওয়ার্ড প্রশাসন কার্যালয়ে কাজ করতেন। স্ত্রী তাকে স্বামীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেন।   এর দুই দিন পর ফিও ওয়াই ফোন করে জানান, তিনি শহরের অন্য প্রান্তে একটি সামরিক নিয়োগকেন্দ্রে রয়েছেন।   মা মোয়ে সান পানের অভিযোগ, তার আত্মীয় প্রথমে ফিও ওয়াইকে ওয়ার্ড প্রশাসন কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে ওই কার্যালয় থেকে তাকে অন্য একটি ওয়ার্ডের কাছে ৪০ লাখ কিয়াটের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়, যাতে ওই ওয়ার্ড সামরিক নিয়োগের নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে পারে। সে সময় ৪০ লাখ কিয়াটের মূল্য ছিল প্রায় ৯০০ মার্কিন ডলার।   বিবিসি ওই মা মোয়ে সান পানের ওই আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।   স্বামীকে ফিরিয়ে আনার মরিয়া চেষ্টায় মা মোয়ে সান পান আরও প্রতারণার শিকার হন। কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীকে মুক্ত করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে সাড়ে ৪৫ লাখ কিয়াট হাতিয়ে নেন।   যে ওয়ার্ডে ফিও ওয়াইকে পাঠানো হয়েছিল, সেই ওয়ার্ডের প্রশাসক উ মাউং মাউং লুইন পরে বিবিসির কাছে স্বীকার করেন, ফিও ওয়াইকে সামরিক নিয়োগ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা ছিল।   নিজ এলাকার বাইরে থেকে লোক এনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনও ওয়ার্ড নিজেদের নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে না পারলে অন্য এলাকা থেকে লোক নেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এ ধরনের হস্তান্তরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। ফিও ওয়াইকে জোর করে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেন হয়নি বলে দাবি করেন।   মা মোয়ে সান পান বলেন, “আমার স্বামী আমাকে জানিয়েছিলেন, তাকে সাহায্য করার কথা বলে কিছু কাগজে সই করানো হয়েছিল।”   তিনি আরও বলেন, “স্বামীকে যদি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় সামরিক নিয়োগের জন্য বাছাই করা হতো, তাহলে হয়তো আমি তা মেনে নিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের নিজেদের ওয়ার্ড প্রশাসন কার্যালয় তাকে অন্য একটি ওয়ার্ডের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে- এটা আমি মেনে নিতে পারি না। আত্মীয়ের ওপর বিশ্বাস করেছিলাম, সেটাও এখন আমার অনুশোচনার কারণ।”   স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে মা মোয়ে সান পান দুটি বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন- স্বামীকে সামরিক বাহিনীতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ এবং মুক্ত করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে সাড়ে ৪৫ লাখ কিয়াট হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা।   তার দাবি, পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করলেও মানব পাচারের অভিযোগ যুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশের যুক্তি ছিল, কাউকে বিদেশে বিক্রি করা হলেই কেবল মানব পাচারের মামলা করা যায়।   স্বামী এখন কোথায় আছেন, তা জানেন না মা মোয়ে সান পান।   কোটা পূরণে অপহরণ ও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ ফিও ওয়াইয়ের ঘটনা জান্তা সরকারের বাধ্যতামূলক নিয়োগব্যবস্থার একটি উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরেছে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নিয়োগের চাপ বাড়তে থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নির্ধারিত কোটা পূরণের জন্য অনিয়মের প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।   নিয়োগযোগ্য তরুণের চাহিদা বাড়লেও তাদের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় অবৈধ বাজার গড়ে উঠেছে। নাউং ইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কের তল্লাশিচৌকিতে তরুণদের আটক করা, কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে ধরে ফেলা, ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলা এবং জোর করে বাড়িতে ঢুকে লোক ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।   তিনি বলেন, “বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইনের আড়ালে এসব জবরদস্তিমূলক আটক ও নিয়োগ অভিযান কার্যত আধুনিক দাসত্ব এবং মানব পাচারের একটি ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।”   গত আগস্টের শেষ দিকে ইয়াঙ্গুনে চার তরুণকে অপহরণ করে সামরিক নিয়োগের জন্য বিক্রি করার চেষ্টার অভিযোগে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের এক সদস্য এবং তার জামাতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অগ্নিনির্বাপণ বিভাগটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন।   অভিযোগ অনুযায়ী, রিজার্ভ ফায়ার ব্রিগেডের ওই ইউনিট কমান্ডার চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথা বলে চার তরুণকে প্রলুব্ধ করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষভাবে তৈরি কয়েকটি আটককক্ষে তাদের আটকে রাখা হয়। ২৫ আগস্ট পুলিশ বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।   কাউকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ বা তুলে নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ অপরাধে তার সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তাকে যেখানে আটক রাখা হয়েছে, সেই থানার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেও সফল হয়নি বিবিসি বার্মিজ।   নাউং ইয়ে বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তা, সামরিক সদস্য এবং অপরাধী চক্র নানা কৌশলে তরুণদের ধরে সেনাবাহিনীতে পাঠাচ্ছে। জনবলের ঘাটতিতে থাকা সামরিক ইউনিট ও আঞ্চলিক কমান্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হচ্ছে। আবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা নিজেরা নিয়োগ এড়াতে অর্থ দিলে তাদের পরিবর্তে দরিদ্র পরিবারের লোকজনকে নিয়োগের জন্য পাঠানো হচ্ছে।   দরিদ্রদের ওপরই সবচেয়ে বেশি চাপ আইন অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাম, ওয়ার্ড বা শহরকে জনসংখ্যার অনুপাতে নির্দিষ্টসংখ্যক নিয়োগপ্রার্থী সরবরাহ করতে হয়। কাগজে-কলমে এই নিয়ম সবার জন্য সমান হলেও বাস্তবে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এড়ানোর সুযোগ থাকায় বৈষম্য বাড়ছে বলে অভিযোগ।   সচ্ছল ব্যক্তিরা অর্থ দিয়ে নিজেদের বদলে অন্য কাউকে সামরিক বাহিনীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারছেন। অন্যদিকে দরিদ্র পরিবারের তরুণদের সেই সুযোগ নেই। ফলে তাদেরই বেশি ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।   নাউং ইয়ের মতে, প্রতি মাসে নিয়োগের কোটা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের নিয়োগের জন্য হাতবদল করে অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বাড়ছে।   অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ফোর্টিফাই রাইটসের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষকে অপহরণ করে জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের অভিযোগ তুলেছে।   গত জুলাইয়ে উন্মুক্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকারী সংস্থা মিয়ানমার উইটনেস জানায়, তারা ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফেসবুকে প্রকাশিত নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চেয়ে দেওয়া শত শত বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করেছে। তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল চারটি; ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮২টিতে।   গবেষকদের উপসংহারে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের বড় একটি অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে ডেকে পাঠানোর পরিবর্তে আটক, জবরদস্তি ও নিখোঁজ করে দেওয়ার মাধ্যমে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যদের কিছু জানানো হচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে পুরুষ ও কিশোরদের সংখ্যাই বেশি।   জনবলসংকটে জান্তার মরিয়া চেষ্টা সামরিক নিয়োগের ভয়ে তরুণদের পালিয়ে যাওয়া শুধু পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে না, দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারেও প্রভাব ফেলছে। কেউ সশস্ত্র প্রতিরোধে যোগ দিতে বাড়ি ছাড়ছেন, আবার কেউ নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এড়াতে পালিয়ে যাচ্ছেন।   বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যে তরুণদের অপহরণ ও জোরপূর্বক নিয়োগের আশঙ্কা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকসংকটে বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেকে নিরাপত্তার খোঁজে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন।   সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সামরিক অধ্যয়নবিষয়ক শিক্ষক ও গবেষক সানদীপ সিংয়ের মতে, অনিচ্ছুক তরুণদের যুদ্ধে নামানোর জন্য জান্তার এটি আরেকটি পদক্ষেপ। তার ভাষায়, এই উদ্যোগ দেশটির গৃহযুদ্ধে জান্তার নাজুক অবস্থারই প্রতিফলন।   তিনি বলেন, নিয়মিত অপহরণের আশঙ্কা মিয়ানমারের তরুণদের ওপর নতুন করে দুর্ভোগ চাপিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধেই তারা আগে থেকে বিপর্যস্ত; এখন তাদের পরিবারগুলোকেও প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।   মিয়ানমারের ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট জুনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, সামরিক আইন ব্যবহার করে নাগরিকদের একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামানোর সুযোগ নিয়ে জেনারেলরা লাভবান হচ্ছেন।   নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চালানোর পর জান্তা সরকার এখন বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইনকে দমন-পীড়নের আরেকটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তরুণদের ধরে নিয়ে সেনাবাহিনীতে পাঠানোর অভিযোগ সেই সংকটকেই সামনে আনছে- যে বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে জনবল খুঁজছে, আর সেই জনবল জোগাড়ের চাপে সাধারণ মানুষই হয়ে উঠছেন সবচেয়ে অসহায়। সূত্র: বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন চান ট্রাম্প, জেলেনস্কিকে সরানোর আহ্বান
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।   এর এক দিন আগে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত মস্কোকে আরও সাহসী করে তুলেছে।   হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে নিজের অন্যতম কঠোর বক্তব্যে জেলেনস্কি রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টিকে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে রুশ হামলার সঙ্গে যুক্ত করেন। ওই হামলায় তিন শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ফেব্রুয়ারিতে ইরানকেন্দ্রিক সংঘাত শুরুর পর বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম ব্যাপক বেড়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির উচ্চমূল্য ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।   হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইউক্রেনের এখন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়া প্রয়োজন।’ রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালিয়ে জেলেনস্কি বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি ডিজেল জ্বালানি নিয়ে আমাদের কৃষক ও খামারিদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে চাইছেন। কারণ, বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে রাশিয়া থেকে।   এর আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেলসংক্রান্ত যে চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছেন, তা মস্কোকে আরও সাহসী করে তুলেছে। এর পরিবর্তে কিয়েভ ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে, যাতে সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে অর্থবহ আলোচনা শুরু হয়।   শনিবার রুশ সরকার জানিয়েছে, ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আজ রাশিয়া জাপোরিঝিয়ার আবাসিক ভবনগুলোর ওপর পাঁচটি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করার মাধ্যমে ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য যেন ধন্যবাদ জানাল।’   তিনি আরও বলেন, ‘গত রাতের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, চাপের কোনো শিথিলতাকেই রাশিয়া এমন একটি সংকেত হিসেবে দেখে যে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে এবং শহরগুলোর ওপর বোমা বর্ষণ অব্যাহত রাখতে পারে। এখন ভিন্ন ধরনের সংকেত প্রয়োজন।’   ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়া নিয়মিত রুশ বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। গত কয়েক মাসে সেখানে হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। শনিবারের হামলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের একাংশ ধ্বংস হয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী এক শিশুও ছিল। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটির মরদেহ বের করে একটি সাদা ব্যাগে রাখেন। এ সময় শিশুটির দাদা আনাতোলি চুমনি সেখানে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই মাসের শেষেই তার জন্মদিন ছিল।’   চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনে এটি ছিল তৃতীয় বড় প্রাণঘাতী হামলা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় প্রায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় শহর ক্রামাতোরস্কে বোমা হামলায় অন্তত ৩০ জন এবং কিয়েভ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পূর্বে প্রিলুকি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও ২২ জন প্রাণ হারান।   ডিজেলসংক্রান্ত চুক্তিটি মার্কিন আইনপ্রণেতাদেরও সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্য ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডন বেকন। তিনি বলেন, কংগ্রেস সম্প্রতি যেসব নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে, তা শিথিল করার পরিবর্তে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এখনই উপযুক্ত সময়।   বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তির ফলে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানির দাম কম থাকার সম্ভাবনা কম। কারণ, রাশিয়ার শোধনাগারগুলো হামলার শিকার না হলে দেশটি সাধারণত যে পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করে, চুক্তির আওতায় সরবরাহ করা জ্বালানির পরিমাণ তার তুলনায় অনেক কম।   এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শনিবার জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী দিনগুলোতে দুই নেতা সশরীরে বৈঠক করবেন বলেও জানান ওই মুখপাত্র। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মায়ামিতে ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন আলোচকদের বৈঠকের পরই সর্বশেষ হামলার ঘটনাগুলো ঘটে। যুদ্ধ অবসানে একটি যৌথ প্রস্তাব তৈরি করাই ছিল ওই বৈঠকের লক্ষ্য। আলোচনা চলাকালেই ট্রাম্প ডিজেলসংক্রান্ত চুক্তির ঘোষণা দেন, যা কিয়েভকে বিস্মিত করেছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।   ইন্টারফ্যাক্স ইউক্রেনের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের সহযোগী দিমিত্রো লিটভিন।   শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর পুতিন জানান, শান্তি আলোচনা অবিলম্বে পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর কারণ হিসেবে তিনি মস্কোর ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেন। এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস শনিবার একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মস্কো সফর করতে পারেন।   হোয়াইট হাউসে বক্তব্যের সময় শান্তি চুক্তি না হওয়ার জন্যও জেলেনস্কিকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি যা খুশি করো। কিন্তু তেল শোধনাগারে আঘাত করো না। আক্রমণের জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু আছে। শোধনাগারে আঘাত করো না। অথচ সে গিয়ে ঠিকই আঘাত করল।’   ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তার এটা এখনই বন্ধ করা উচিত।’ আমার পরামর্শ হলো, তাদের এমন একজন নতুন নেতা খুঁজে নেওয়া উচিত, যিনি চুক্তি করতে সক্ষম। কারণ, তিনি চাইলে অনেক চুক্তিই করতে পারতেন, কিন্তু কোনো এক কারণে তিনি তা কখনোই করেন না।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
‘মোদি ভারতের জন্য লজ্জার’, মুক্তির পরই মুখ খুললেন অভিজিৎ
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬

আটক থেকে মুক্তি পেয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য ‘লজ্জার’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।   রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য লজ্জার। এই দেশ এর আগে এত বড় কাপুরুষ ও দাঙ্গাবাজ দেখেনি।’   দিল্লিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।   শনিবার দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। এর প্রতিবাদে রোববারও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। এদিকে, আজ দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে সিজেপির।   রোববার দিল্লির এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অভিজিৎ দীপকে, সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে মুক্তি দেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের হাতে আটকের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মুক্তি পান তারা।   তবে মুক্তির ক্ষেত্রে একটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী এক বছর তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না, যাতে শান্তিভঙ্গ হয়।   উড়োজাহাজ থেকে আটক তিন নেতা শনিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কয়েক মিনিট পর উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই তিন নেতাকে আটক করা হয়।   হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৪২৮ ফ্লাইটটি সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরের এয়ারসাইড অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টারের নির্দেশে উড়োজাহাজটিকে দূরবর্তী পার্কিং বে আর১২-তে নেওয়া হয়।   এরপর উড়োজাহাজের ভেতর থেকে সিজেপির তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ। তাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।   তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব