২০১৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিল জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল। ৭-১ গোলে সেই হারের পর জার্মানিকে আর একবারই পেয়েছিল সেলেসাওরা। বার্লিনে প্রীতি ম্যাচটি গ্যাব্রিয়েল জেসুসের একমাত্র গোলে জিতেছিল। ওইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জার্মানি পরের দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ায় ব্রাজিলের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগটুকুও আসেনি। তবে এবারের বিশ্বকাপে সেই সম্ভাবনা আছে। এমনকি শেষ ৩২-এ দেখা হয়ে যেতে পারে দুই দলের। এই টুর্নামেন্টে জার্মানি রয়েছে গ্রুপ ই-তে এবং ব্রাজিল রয়েছে গ্রুপ সি-তে। নকআউট পর্বের সূচি অনুযায়ী এই দুই পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে। সবচেয়ে সহজ সমীকরণ, নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে মানে শেষ ৩২-এ জার্মানি বনাম ব্রাজিল ম্যাচটি হতে পারে, যদি জার্মানি তাদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ব্রাজিল তাদের গ্রুপে ৩য় স্থান অর্জন করে নকআউটে ওঠে। কারণ, রাউন্ড অব ৩২-এর নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ ই-এর চ্যাম্পিয়ন দল মুখোমুখি হবে গ্রুপ এ/বি/সি/ডি/এফ-এর অন্যতম সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের। শেষ ষোলোতেও তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি দুটি দলই যার যার গ্রুপ থেকে সরাসরি প্রথম বা দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে কোয়ালিফাই করে, তবে ব্র্যাকেটের পজিশন অনুযায়ী তাদের দেখা হতে পারে। ব্রাজিল যদি গ্রুপ সি-এর রানার্স-আপ হয়, তবে তারা রাউন্ড অব ৩২-এ খেলবে গ্রুপ এফ-এর চ্যাম্পিয়নের সাথে। অন্যদিকে জার্মানি গ্রুপ ই-এর রানার্স-আপ হলে খেলবে গ্রুপ আই-এর রানার্স-আপের সাথে। এই দুই পথের বিজয়ী দলগুলো কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে মুখোমুখি হতে পারে। ব্রাজিল ও জার্মানি নিজ নিজ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যার যার ম্যাচ জিততে থাকলে টুর্নামেন্টের একদম শেষদিকের ধাপে যেমন সেমিফাইনাল বা ফাইনাল গিয়ে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সবচেয়ে দ্রুত জার্মানি-ব্রাজিল মহারণ দেখার সুযোগ রয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এই, যার জন্য জার্মানিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং ব্রাজিলকে সেরা চারটির একটি হয়ে ৩য় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করতে হবে।
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সমালোচকদের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদের কোনোকিছু অবশিষ্ট নেই। শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে তিনি কথা বলেন। পোস্টে চুক্তির পক্ষে শুক্রবার ট্রাম্প পুনরায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এর মাত্র একদিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত একটি আলোচনা সফর বাতিল করেছেন। এ সফরে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিন পরই এই ভ্যান্সের সফর বিলম্বের কারণে এটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরমধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এই কূটনৈতিক সাফল্যকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। শুক্রবার ট্রুথ স্যোশালে পোস্টে ট্রাম্প এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের হাত শক্তিশালী করার দাবি করেছেন। ডেমোক্র্যাট এবং হাতেগোনা কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক কেবল যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান করছে এমন দাবি সঠিক নয়। ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধ ইরানকে সংকুচিত করে ফেলেছে! তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ডেমোক্রেটরা বলছে ইরান নাকি চার মাস আগের চেয়ে এখন ভালো অবস্থানে আছে। তাদের এমন অবস্থা কল্পনা করা যায়! মানুষ কতটা বোকা হতে পারে? আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং ইরান আলোচনায় বসতে মরিয়ে হয়ে উঠেছিল। তারা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ওরা (ইরান) শেষ! আমরা তাদের সঙ্গে এই ৬০ দিন ধরে খেলব। তারা কোনো টাকাই পাবে না, এমনকি দশ পয়সাও না। সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের আলোচনা মেয়াদের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা এই ৬০ দিন দেখব। চুক্তিতে এই সময়ের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরান পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এসব বিষয় আলোচনার মধ্যে দিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে আসবে উভয় পক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা
রাজনৈতিক পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম সদস্য সচিব সাদিয়া আফরিন। শুক্রবার (১৯ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ওই তরুণী নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নারীশক্তির কমিটি নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনার কথা বলে এনসিপির মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিন তাকে গত ১৪ জুন নগরীর পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বৈঠকের স্থান হিসেবে নির্ধারিত জায়গাটি হোটেলের রুফটপ বার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন। ওই পরিবেশে তাকে ধূমপান ও পানীয় গ্রহণে উৎসাহিত করা হয় এবং কাছাকাছি বসার কথা বলা হয়। পরবর্তীতে তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ওই তরুণীর ভাষ্য, তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করলে সাদিয়া আফরিন তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে সাদিয়া স্থান ত্যাগ করলে সুজা উদ্দিন তার প্রতি আপত্তিকর আচরণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। সেখানে রাজনৈতিক পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে ওই তরুণী সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি তাকে বলেন, রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে হলে প্রভাবশালী নেতাদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয়। এ ঘটনায় গত বুধবার চকবাজার থানায় আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। এদিকে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর। শুক্রবার রাতে কমিটির দপ্তর সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রিদুয়ান হৃদয় স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি এনসিপির নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করছেন হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ নামে এক ব্যক্তি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবশেষে বদলে যাচ্ছে বগুড়ার মোকামতলায় নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এবং বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোনে আমাকে দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় সম্প্রতি ‘মীরবাড়ী’ ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের গণশুনানি টিম গঠন করেন। টিমের প্রধান সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তিনি সঠিকভাবে গণশুনানি করেছেন। কিন্তু এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সঠিকভাবে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে খুশি করতে তার পৈতৃক বাড়ির নামে ‘মীরবাড়ী’, দুই ছেলের নামে ‘সীমান্ত’ ও দিগন্ত এবং লন্ডন প্রবাসী ভাতিজির নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নামকরণের প্রস্তাব করেন। এদিকে প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে নবগঠিত ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে খোদ সংসদ থেকে শুরু করে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। রীতিমতো সরগরম টিভি টকশো থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ। প্রশ্ন উঠেছে-স্বজনপ্রীতি আর নীতি-নৈতিকতার। সব মিলিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। তবে এসবে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছেন না প্রভাবশালী এই প্রতিমন্ত্রী। বরং তাকে ঘিরে সংবাদ প্রকাশের জেরে গণমাধ্যমের ওপর বেজায় নাখোশ তার কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি ইতোমধ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন স্থানীয়রাও। অবশ্য নামকরণের বিষয়টিকে ‘কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার দাবি, এভাবে নিজের ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিমন্ত্রী। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ নবগঠিত ইউনিয়নের এমন নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা প্রশাসন গণশুনানির মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তি দেখান, সৈয়দপুর ইউনিয়ন গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। সে কারণে এটার নাম ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ করা হয়েছে। আরেকটি গাইবান্ধার কাছে। অনেক দূরে হওয়ায় এটার নাম ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব নামকরণ ‘মিরাকলি’ হয়েছে। গণশুনানি নিয়ে ধোঁয়াশা : নবগঠিত চারটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির কথা বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে তেমন কোনো গণশুনানি হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গণশুনানি থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়। সম্প্রতি স্থানীয় মোকামতলা উপজেলার ভরিয়া গ্রামে গিয়ে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’-এর নামকরণ নিয়ে গণশুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামবাসীদের কয়েকজন জানান, এমন কিছু তারা শোনেননি। ভরিয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম, শিক্ষক মিজানুর রহমান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন বলেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে এলাকায় গণশুনানি হয়েছে এমন কিছু তাদের জানা নেই। তবে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, গণশুনানির নামে মূলত কতিপয় দলীয় নেতাকর্মীরাই এমন নামের প্রস্তাবক ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীকে খুশি করতে তার দুই ছেলে, লন্ডন প্রবাসী ভাতিজি এবং পৈতৃক বাড়ির নামে ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন তা সুপারিশ আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ৩ জুন এক সভায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব আলম মানিক ও দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনিয়নগুলোর নামকরণের প্রস্তাব দিলে সভায় তা গৃহীত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহবুব আলম মানিক জানান, সভায় তিনি স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিলেন। অন্যরা সীমান্ত, দিগন্ত ও মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করে। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ১১ ও ১৪ জুন যথাক্রমে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম নামে চারটি ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ইউনিয়ন নয়, এর আগে একইভাবে খোদ প্রতিমন্ত্রীর নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় একটি কলেজ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে খোদ মীর শাহে আলম ও তার পিতা-মাতার নামে। ফলে ছেলেদের নামে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে আগে থেকে তিনি কিছুই জানতেন না, বিষয়টি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়। মুখ খুলতে রাজি নন কেউ : বগুড়ায় মীর শাহে আলম খুবই প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই তাকে সমীহ করে চলেন। প্রতিমন্ত্রী নাখোশ হতে পারেন-এমন কোনো মন্তব্য করতে স্থানীয়দের কেউ রাজি নন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণে তেমন ক্ষতির কিছু দেখছেন না অনেকে। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কয়েকজন বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরে শাহে আলম বহাল তবিয়তে ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এ কারণে জেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে থাকলেও কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তাকে তেমন বেগ পেতে হয়নি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত অপতথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে কোনো ব্যক্তি যেন নিজ উদ্যোগে মামলা, বিবৃতি কিংবা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, সে বিষয়ে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমানের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদন বা নির্দেশনার সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে সম্প্রতি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের চারজনকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। এতে প্রতিমন্ত্রী ঘটনাটির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবে এবং গ্রেপ্তার করা সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী তার সম্পর্কে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।
এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে এখানেই তুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের কাপ। আর এ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে ম্যুরাল এঁকেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ শিল্পী জিহান ওয়াজেদ। লাউঞ্জটির সৌন্দর্য বাড়াতে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের চিত্রকর্মটিতে নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো। সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে অনন্য সাজে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়ামটি। বুধবার এ স্টেডিয়ামে নিজেদের গ্রুপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। আগামী ১৯ জুলাই এখানেই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ। জিহান ওয়াজেদের জন্ম লিবিয়ার বেনগাজিতে। তার পিতা ওয়াজেদ এ খান নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’-এর সম্পাদক। নিউ ইয়র্কেই শিক্ষাজীবন শুরু জিহানের। পড়াশোনা করেছেন স্টাইভ্যাসেন্ট হাইস্কুলে এবং ম্যাকাউলে অনার্স প্রোগ্রামের অধীনে বারুখ কলেজ থেকে পারসেপচুয়াল সাইকোলজিতে। ম্যানহাটনের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্টুডিও রয়েছে জিহান ওয়াজেদের। শুধু স্টেডিয়াম নয়, শিল্পী জিহানের আঁকা দেয়ালচিত্র সৌন্দর্য বাড়িয়েছে নিউ ইয়র্ক মহানগরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের। তার অন্যতম শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-ফোর, নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার, কুইন্স হাসপাতালে সাড়ে বারোশ বর্গফুটের ম্যুরাল, এস্টোরিয়ায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ অগমেন্টেড রিয়ালিটি ম্যুরাল, এবং এস্টোরিয়ায় ১৭৭ ফুট দীর্ঘ ‘ওয়েলকাম এস্টোরিয়া’ ম্যুরাল। বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলিও স্থান পাচ্ছে তার আঁকা ম্যুরালে। চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি এবং সৃজনশীল নানা মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত জিহান ওয়াজেদ। জিহান জানান, তার শুরুটা ছিল গ্রাফিতি দিয়ে। সেখান থেকেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ম্যুরালের নিজস্ব নতুন ধারা। তার এই শৈলী পছন্দ করছেন নিউ ইয়র্কের শিল্পসমালোচকরা। চিত্রকর্মের ওপর তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক। গত বছর অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর আগে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয় বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন দামে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ২০৮ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সোনার ওপর ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। আগে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার জন্য নির্দিষ্ট ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে। বাজুসের মতে, নতুন ভ্যাট কাঠামোর ফলে সোনার বাজারে মূল্য সমন্বয় সহজ হবে এবং ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়েই কিছুটা সুবিধা পাবেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামাও স্থানীয় বাজারে সোনার মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবশেষে বদলে যাচ্ছে বগুড়ার মোকামতলায় নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এবং বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোনে আমাকে দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় সম্প্রতি ‘মীরবাড়ী’ ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের গণশুনানি টিম গঠন করেন। টিমের প্রধান সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তিনি সঠিকভাবে গণশুনানি করেছেন। কিন্তু এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সঠিকভাবে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে খুশি করতে তার পৈতৃক বাড়ির নামে ‘মীরবাড়ী’, দুই ছেলের নামে ‘সীমান্ত’ ও দিগন্ত এবং লন্ডন প্রবাসী ভাতিজির নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নামকরণের প্রস্তাব করেন। এদিকে প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে নবগঠিত ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে খোদ সংসদ থেকে শুরু করে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। রীতিমতো সরগরম টিভি টকশো থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ। প্রশ্ন উঠেছে-স্বজনপ্রীতি আর নীতি-নৈতিকতার। সব মিলিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। তবে এসবে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছেন না প্রভাবশালী এই প্রতিমন্ত্রী। বরং তাকে ঘিরে সংবাদ প্রকাশের জেরে গণমাধ্যমের ওপর বেজায় নাখোশ তার কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি ইতোমধ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন স্থানীয়রাও। অবশ্য নামকরণের বিষয়টিকে ‘কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার দাবি, এভাবে নিজের ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিমন্ত্রী। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ নবগঠিত ইউনিয়নের এমন নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা প্রশাসন গণশুনানির মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তি দেখান, সৈয়দপুর ইউনিয়ন গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। সে কারণে এটার নাম ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ করা হয়েছে। আরেকটি গাইবান্ধার কাছে। অনেক দূরে হওয়ায় এটার নাম ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব নামকরণ ‘মিরাকলি’ হয়েছে। গণশুনানি নিয়ে ধোঁয়াশা : নবগঠিত চারটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির কথা বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে তেমন কোনো গণশুনানি হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গণশুনানি থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়। সম্প্রতি স্থানীয় মোকামতলা উপজেলার ভরিয়া গ্রামে গিয়ে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’-এর নামকরণ নিয়ে গণশুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামবাসীদের কয়েকজন জানান, এমন কিছু তারা শোনেননি। ভরিয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম, শিক্ষক মিজানুর রহমান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন বলেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে এলাকায় গণশুনানি হয়েছে এমন কিছু তাদের জানা নেই। তবে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, গণশুনানির নামে মূলত কতিপয় দলীয় নেতাকর্মীরাই এমন নামের প্রস্তাবক ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীকে খুশি করতে তার দুই ছেলে, লন্ডন প্রবাসী ভাতিজি এবং পৈতৃক বাড়ির নামে ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন তা সুপারিশ আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ৩ জুন এক সভায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব আলম মানিক ও দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনিয়নগুলোর নামকরণের প্রস্তাব দিলে সভায় তা গৃহীত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহবুব আলম মানিক জানান, সভায় তিনি স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিলেন। অন্যরা সীমান্ত, দিগন্ত ও মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করে। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ১১ ও ১৪ জুন যথাক্রমে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম নামে চারটি ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ইউনিয়ন নয়, এর আগে একইভাবে খোদ প্রতিমন্ত্রীর নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় একটি কলেজ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে খোদ মীর শাহে আলম ও তার পিতা-মাতার নামে। ফলে ছেলেদের নামে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে আগে থেকে তিনি কিছুই জানতেন না, বিষয়টি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়। মুখ খুলতে রাজি নন কেউ : বগুড়ায় মীর শাহে আলম খুবই প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই তাকে সমীহ করে চলেন। প্রতিমন্ত্রী নাখোশ হতে পারেন-এমন কোনো মন্তব্য করতে স্থানীয়দের কেউ রাজি নন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণে তেমন ক্ষতির কিছু দেখছেন না অনেকে। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কয়েকজন বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরে শাহে আলম বহাল তবিয়তে ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এ কারণে জেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে থাকলেও কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তাকে তেমন বেগ পেতে হয়নি।
রাজনৈতিক পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম সদস্য সচিব সাদিয়া আফরিন। শুক্রবার (১৯ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ওই তরুণী নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নারীশক্তির কমিটি নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনার কথা বলে এনসিপির মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিন তাকে গত ১৪ জুন নগরীর পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বৈঠকের স্থান হিসেবে নির্ধারিত জায়গাটি হোটেলের রুফটপ বার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন। ওই পরিবেশে তাকে ধূমপান ও পানীয় গ্রহণে উৎসাহিত করা হয় এবং কাছাকাছি বসার কথা বলা হয়। পরবর্তীতে তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ওই তরুণীর ভাষ্য, তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করলে সাদিয়া আফরিন তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে সাদিয়া স্থান ত্যাগ করলে সুজা উদ্দিন তার প্রতি আপত্তিকর আচরণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। সেখানে রাজনৈতিক পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে ওই তরুণী সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি তাকে বলেন, রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে হলে প্রভাবশালী নেতাদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয়। এ ঘটনায় গত বুধবার চকবাজার থানায় আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। এদিকে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর। শুক্রবার রাতে কমিটির দপ্তর সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রিদুয়ান হৃদয় স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি এনসিপির নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করছেন হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ নামে এক ব্যক্তি।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সমালোচকদের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদের কোনোকিছু অবশিষ্ট নেই। শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে তিনি কথা বলেন। পোস্টে চুক্তির পক্ষে শুক্রবার ট্রাম্প পুনরায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এর মাত্র একদিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত একটি আলোচনা সফর বাতিল করেছেন। এ সফরে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিন পরই এই ভ্যান্সের সফর বিলম্বের কারণে এটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরমধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এই কূটনৈতিক সাফল্যকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। শুক্রবার ট্রুথ স্যোশালে পোস্টে ট্রাম্প এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের হাত শক্তিশালী করার দাবি করেছেন। ডেমোক্র্যাট এবং হাতেগোনা কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক কেবল যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান করছে এমন দাবি সঠিক নয়। ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধ ইরানকে সংকুচিত করে ফেলেছে! তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ডেমোক্রেটরা বলছে ইরান নাকি চার মাস আগের চেয়ে এখন ভালো অবস্থানে আছে। তাদের এমন অবস্থা কল্পনা করা যায়! মানুষ কতটা বোকা হতে পারে? আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং ইরান আলোচনায় বসতে মরিয়ে হয়ে উঠেছিল। তারা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ওরা (ইরান) শেষ! আমরা তাদের সঙ্গে এই ৬০ দিন ধরে খেলব। তারা কোনো টাকাই পাবে না, এমনকি দশ পয়সাও না। সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের আলোচনা মেয়াদের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা এই ৬০ দিন দেখব। চুক্তিতে এই সময়ের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরান পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এসব বিষয় আলোচনার মধ্যে দিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে আসবে উভয় পক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা
প্রতিবেশী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ‘শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের’ আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে চালানো এই আকস্মিক হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং সীমান্ত জুড়ে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই বিমান হামলা চালানো হয়। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকাগুলোতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএসআইএল-খোরসান (আইএসআইএস-কে) এর ঘাঁটি ছিল। আফগানদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় এই ঘাঁটিগুলো থেকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, হামলায় আইএসআইএস-কে-এর শীর্ষ নেতাদের একটি আস্তানাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে একে ‘মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, দায়েশ (আইএসআইএল) সহ প্রায় দুই ডজনেরও বেশি সন্ত্রাসী সংগঠন আসলে আফগান তালেবান সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানের মাটিতেই অবস্থান করছে এবং সেখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আফগানিস্তান ঠিক কী ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে, তা কাবুল স্পষ্ট করেনি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের কাছে বড় কোনো যুদ্ধবিমান না থাকলেও অন্তত ছয়টি হালকা বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং বেশ কিছু সামরিক ড্রোন রয়েছে, যা এর আগেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে কাবুল তাদের দেশের ভেতরে হামলা চালানো নিষিদ্ধ টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। গত মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে তা কার্যত ভেস্তে যায়। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। মাত্র গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় ১১টি শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছিল, যার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তারা আর কোনো হুমকি বরদাশত করবে না এবং যেকোনো হুমকির উৎস নির্মূল করতে সম্ভাব্য সব পথ অবলম্বন করবে। সূত্র: আল-জাজিরা।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ইরানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন। আজ দিনের শুরুতে গোলাগুলির ঘটনার পর আমরা যতটুকু জানি, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এখন যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতির খবর সামনে এল। গত কয়েক মাসের দফায় দফায় আলোচনার মধ্যে দিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটন যে ১৪ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে লুসার্ন শহরে তাদের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। চুক্তি সইয়ের পর একই দিন দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরুর কথা ছিল। এজন্য লুসার্নে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের। কিন্তু আগের দিন রাতে সেই আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার তথ্য দেয় হোয়াইট হাউজ। একই রাতে ইরানের পক্ষ থেকে যেসব বার্তা আসে, তাতেও আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণ কোনো পক্ষের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে অনেকের ধারণা, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা শান্তি আলোচনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে থাকতে পারে। কারণ তেহরান-ওয়াশিংটনের সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলতে ‘অনুনয়’ করেছিলেন বলে যে দাবি উঠেছে, তা সরাসরি নাকচ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তিনি বা ইতালি কারো কাছে হাত পাতেন না বা ভিক্ষা করেন না। ছবি তোলার ‘অনুনয়’ বিষয়ক ট্রাম্পের দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি। শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় উল্টো ট্রাম্পের নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। ছবি তোলা বিষয়ক ট্রাম্পের মন্তব্যে ‘হতবাক’ মেলোনি বলেন, “আমি জানি না মার্কিন প্রেসিডেন্ট বন্ধুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন। শুধু এটাই বলতে পারি, অত্যন্ত দুঃখজনক যে তিনি পশ্চিমা দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোরতা দেখান না। ওসব দেশগুলোর নেতাদের প্রতি বরং তিনি অনেক বেশি নমনীয় বা আপসকামী।” চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করতে দেখা যায়। পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই। এর পরেই ট্রাম্প ফোনে ইতালির একটি টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, সম্মেলন চলাকালে মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘আক্ষরিক অর্থেই’ মিনতি করেছিলেন। মেলোনির জন্য সে সময় তার ‘মায়া’ লাগছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ইতালিজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের মন্তব্যে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে এই বাদানুবাদ প্রমাণ করে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর থেকে গত কয়েক মাসে ইতালি ও মেলোনির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পর্কে বড় ধরনের ‘ফাটল’ ধরেছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বও শুরু হয়েছে। মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্রে তার পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। বিবিসি লিখেছে, সার্বিক বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তারা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। মেলোনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। এর জেরে গত এপ্রিলে ইতালির একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সে সাহসী। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম।” ট্রাম্প যখন পরে পোপ চতুর্দশ লিওকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন, তখন মেলোনি সেই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। এদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা। দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সেনেটর ফিলিপ্পো সেনসিও বলেছেন, “ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন অহংকারী সুরে কথা বলার অধিকার কারও নেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।