সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাসী আয়ে বাড়ছে রিজার্ভ, স্বস্তিতে অর্থনীতি

ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ মেটাতে বেশি করে টাকা পাঠানোর ফলে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এ রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে, অর্থাৎ গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। তবে মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। যদিও এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ হিসাবে বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত একটি দেশের জন্য অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা নিরাপদ ধরা হয়। অতীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। এর ফলে চাপের মুখে থাকা রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। তবে আগের দায় পরিশোধের চাপ থাকায় বর্তমানে রিজার্ভ ৩৩ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। রিজার্ভ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভালো অবস্থানে আছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একসময় ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন তা ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম, অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ তৈরি হয় এবং তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়, ডলারের দাম বেড়ে ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩৬ টাকা বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমদানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও ধাপে ধাপে শিথিল করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তুলনামূলক উদার নীতি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। গত কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং তার আগের মাস ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার। প্রবাসী আয় বাড়ায় বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এতদিন বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ না থাকায় আমদানির চাপ তুলনামূলক কম ছিল, যা রিজার্ভ বাড়তে সহায়তা করেছে। তবে সামনে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে, ফলে ডলারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবং নতুন বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি আয় বাড়লে ভবিষ্যতে ডলার সংকট বড় আকার ধারণ করবে না।

২ ঘন্টা আগে
সংকট পেরিয়ে ইরান থেকে ফিরলেন ২৮২ বাংলাদেশি

ইরানে থাকা ২৮২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত ৭টা ২৫ মিনিটে তাদের বহনকারী চার্টার্ড ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।   বাহরাইন থেকে দাম্মাম হয়ে দেশে ফিরেছেন তারা। এদিকে, রাত ১টা ২৭ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৩০২ ফ্লাইটে আজারবাইজানের বাকু থেকে ফিরবেন আরও ২৮০ বাংলাদেশি। এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের বিমানটি বাকু হায়দার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের আজারবাইজানের রাজধানী বাকু নেওয়া হয়। গত বছর জুন মাসে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সেদেশে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাকিস্তান হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

২ ঘন্টা আগে
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় হামলা

মধ্য ইউরোপের চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস–সম্পৃক্ত একটি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে একটি চেক কোম্পানি ও এলবিট সিস্টেমসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ওই স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। এতে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘দ্য আর্থকোয়েক ফ্যাশন’ নামে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা টেলিগ্রামে দাবি করেছে, ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের কারণে এই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। চেক পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এলবিট সিস্টেমস ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর জন্য স্থল ও আকাশপথে ব্যবহৃত অস্ত্রের একটি বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। সূত্র: আল-জাজিরা

৩ ঘন্টা আগে
ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম কারাগারে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় মাহফুজুল হক নামে এক ব্যাক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুই তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার এসআই ইয়ামিন সরকার। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) অভিযান চালিয়ে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ । মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় আদাবর থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিল চলছিল। তখন মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতারা গুলি করেন। এসময় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে মাহফুজুল হক (২৮) আহত হন। এ ঘটনায় মাফুজুল হক বাদি হয়ে আদাবর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

৩ ঘন্টা আগে
ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী
সংকট পেরিয়ে ইরান থেকে ফিরলেন ২৮২ বাংলাদেশি

ইরানে থাকা ২৮২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত ৭টা ২৫ মিনিটে তাদের বহনকারী চার্টার্ড ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।   বাহরাইন থেকে দাম্মাম হয়ে দেশে ফিরেছেন তারা। এদিকে, রাত ১টা ২৭ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৩০২ ফ্লাইটে আজারবাইজানের বাকু থেকে ফিরবেন আরও ২৮০ বাংলাদেশি। এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের বিমানটি বাকু হায়দার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের আজারবাইজানের রাজধানী বাকু নেওয়া হয়। গত বছর জুন মাসে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সেদেশে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাকিস্তান হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0

ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী আয়ে বাড়ছে রিজার্ভ, স্বস্তিতে অর্থনীতি

ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ মেটাতে বেশি করে টাকা পাঠানোর ফলে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এ রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে, অর্থাৎ গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। তবে মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। যদিও এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ হিসাবে বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত একটি দেশের জন্য অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা নিরাপদ ধরা হয়। অতীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। এর ফলে চাপের মুখে থাকা রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। তবে আগের দায় পরিশোধের চাপ থাকায় বর্তমানে রিজার্ভ ৩৩ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। রিজার্ভ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভালো অবস্থানে আছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একসময় ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন তা ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম, অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ তৈরি হয় এবং তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়, ডলারের দাম বেড়ে ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩৬ টাকা বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমদানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও ধাপে ধাপে শিথিল করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তুলনামূলক উদার নীতি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। গত কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং তার আগের মাস ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার। প্রবাসী আয় বাড়ায় বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এতদিন বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ না থাকায় আমদানির চাপ তুলনামূলক কম ছিল, যা রিজার্ভ বাড়তে সহায়তা করেছে। তবে সামনে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে, ফলে ডলারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবং নতুন বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি আয় বাড়লে ভবিষ্যতে ডলার সংকট বড় আকার ধারণ করবে না।

ইরান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করল সুইজারল্যান্ড

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন স্থগিত করেছে সুইজারল্যান্ড। শুক্রবার সুইজারল্যান্ড সরকারের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবৃতিতে দেশটির সরকার বলেছে, 'ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত দেশগুলোতে যুদ্ধের সরঞ্জাম রপ্তানি এই সংঘাত চলাকালীন অনুমোদিত হবে না।' ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।' তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানায়নি সুইজারল্যান্ড সরকার।   এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ সরাতে সাহায্য করার দিকে বেশি ঝুঁকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, এর অর্থ এই নয় যে, জাহাজগুলো এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির অভিমুখে যাত্রা করবে। তবে যুক্তরাজ্য, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশ বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালির অবরোধ সরাতে সহায়তার জন্য এক ধরনের মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই মিশনটি ঠিক কবে নাগাদ শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সেখানে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি অথবা অন্তত সাময়িকভাবে সংঘাত নিরসন করতে হবে।

খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প: প্রতিবেদন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে দেশটির খারগ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়োস। চারজন অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর প্রকাশ করা হয়। এক সূত্র অ্যাক্সিয়োসকে বলেন, 'ইরানিদের আরও হামলা দিয়ে দুর্বল করতে, দ্বীপটি দখল করতে এবং তাদের শক্তিশালী অবস্থানে আনতে আমাদের প্রায় এক মাস সময় লাগবে, তারপর এটি আলোচনার জন্য ব্যবহার করা যাবে।' ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এই দ্বীপে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেছিল; তবে একটি স্থল আক্রমণ মার্কিন সেনাদের ইরানি আঘাতের নাগালে নিয়ে আসবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যে ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একজন সিনিয়র ট্রাম্প প্রশাসন কর্মকর্তা অ্যাক্সিয়োসকে হরমুজ প্রণালি খোলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, 'যদি [ট্রাম্প] উপকূলীয় আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন, তা হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।'

ছবি : সংগৃহীত
ঈদের দিন কারাবন্দিদের জন্য খাবারের বিশেষ আয়োজন

দেশের ৭৩টি কারাগারে এবার ঈদ উদযাপন করবেন প্রায় ৭৫ হাজার বন্দি। ঈদ আনন্দের দিনটিতে প্রিয়জনকে ছেড়ে ভিন্ন পরিবেশেই কাটাতে হবে তাদের। তবে তাদের জন্য ঈদ ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।   কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের তিন বেলা পরিবেশন করা হবে উন্নত মানের খাবার, চাইলে স্বজনের দেওয়া খাবারও খেতে পারবেন তারা। এ ছাড়া স্বজনের সঙ্গে দেখা করা বা ফোনে কথা বলার সুযোগও পাবেন তারা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলার আয়োজন।   কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত–উল ফরহাদ সাংবাদিককে বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রতিবারই বন্দিদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। এবার ঈদে কারাগারে থাকা ভিআইপি বন্দিসহ সবার জন্য দুপুরে পোলাও, গরু বা খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ, মিষ্টি ও পান–সুপারির ব্যবস্থা থাকবে। আর সকালে পায়েস বা সেমাই ও মুড়ি এবং রাতে ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা দেওয়া হবে।   কারাসূত্র জানা যায়, কারাগারে এখন ১৭৯ জন ডিভিশন বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ভিআইপি বন্দি আছেন। তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ৩৪ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী, ৪২ জন সংসদ সদস্য, ৯৮ জন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া ডিভিশন না পাওয়া ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী, ২৮ জন সংসদ সদস্য, দুজন সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য ১১ জন। তারা সবাই ঈদে এই বিশেষ খাবার পাবেন। এ ছাড়া অন্যান্য সময় সাধারণ বন্দিদের সকালে রুটি, হালুয়া ও ডিম; দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি এবং রাতে ভাত, ডাল, মাছ বা মাংস দেওয়া হয়। অবশ্য ডিভিশন পাওয়া বন্দিরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার পান।   কারা কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ১৫ দিন পরপর বন্দির স্বজন দেখা করতে পারেন। তবে সেই হিসাবের বাইরে ঈদের তিন দিনে (২১ থেকে ২৩ মার্চ) একবার করে দেখা করতে পারবেন স্বজন। এই সময়ের মধ্যে একবার বাড়ির খাবার দেওয়া যাবে। সেগুলো নিয়মমাফিক পরীক্ষা করে বন্দিদের কাছে পৌঁছে দেবে কারা কর্তৃপক্ষ। আর একজন বন্দি ফোনে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।   এদিকে বন্দিদের জন্য ঈদের জামাত কারাগারগুলোর ভেতরেই অনুষ্ঠিত হবে। আর বিকেল–সন্ধ্যায় কিছু কারাগারে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলার ব্যবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কারাগারগুলোর তত্বাবধায়কদের এই আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে কারা অধিদফতর।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ইরান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করল সুইজারল্যান্ড
আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২০, ২০২৬ 0

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন স্থগিত করেছে সুইজারল্যান্ড। শুক্রবার সুইজারল্যান্ড সরকারের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবৃতিতে দেশটির সরকার বলেছে, 'ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত দেশগুলোতে যুদ্ধের সরঞ্জাম রপ্তানি এই সংঘাত চলাকালীন অনুমোদিত হবে না।' ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।' তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানায়নি সুইজারল্যান্ড সরকার।   এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ সরাতে সাহায্য করার দিকে বেশি ঝুঁকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, এর অর্থ এই নয় যে, জাহাজগুলো এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির অভিমুখে যাত্রা করবে। তবে যুক্তরাজ্য, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশ বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালির অবরোধ সরাতে সহায়তার জন্য এক ধরনের মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই মিশনটি ঠিক কবে নাগাদ শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সেখানে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি অথবা অন্তত সাময়িকভাবে সংঘাত নিরসন করতে হবে।

ইরান যুদ্ধ: ইসরাইলের সঙ্গে কি যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব তৈরি হয়েছে?
আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২০, ২০২৬ 0

ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের স্বভাবসুলভ কঠোর ভাষায় একটি বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ইরানের সাউথ পার্সে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। প্রতিশোধ হিসেবে কাতারের একটি জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা করে তেহরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যে। একই সঙ্গে এই ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভও তীব্র করেছে। জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার এই ঘটনা নিয়ে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আবারও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ইসরাইল যে এই হামলার পরিকল্পনা করছিল, এ সম্পর্কেও কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের পোস্টে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই যুদ্ধ নিয়ে কতটা একমত ও একই অবস্থানে রয়েছে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে। এছাড়া ট্রাম্পের এই পোস্ট যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং এর কৌশল ও লক্ষ্য নিয়ে কী বার্তা দিচ্ছে—তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র 'এই হামলার বিষয়ে কিছুই জানত না'। যদিও তার এই বক্তব্যটি হামলার পর ইসরাইলের একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীত।   ডানপন্থি পত্রিকা ইসরাইল হায়োম দাবি করেছে, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহের শেষে পারস্য উপসাগরীয় তিনটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আসালুয়েহতে আসন্ন ইসরাইলি হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।' প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যান্য অনেক দাবির মতো এখানেও বক্তব্যের সত্যতা আসলে কতটা, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ইসরাইলি হামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শব্দগুলো বেছে নিয়েছেন, তাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, 'ক্রোধের বশবর্তী হয়ে' গ্যাসক্ষেত্রের ওপর 'হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইসরাইল।' এই ধরনের ভাষা সাধারণত ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার বর্ণনা দিতেই ব্যবহার করেন তিনি—যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘনিষ্ঠ মিত্রের সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে নয়। তাহলে কি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে ইসরাইল অবিবেচকের মতো কাজ করেছে?   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে যেসব পোস্ট দেন, সেখানে মাঝেমধ্যেই ক্যাপিটাল লেটার বা ইংরেজি বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করেন। কিন্তু ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের হামলার পর যে দীর্ঘ পোস্টটি তিনি দিয়েছেন, সেখানে মাত্র একবারই সবকটি বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান সাউথ পার্স ক্ষেত্রের ওপর ইসরাইল আর কোনো হামলা করবে না, যদি না ইরান বোকামি করে অত্যন্ত নিরপরাধ একটি দেশ—কাতার—এর ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।' সবসময় পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাওয়া প্রেসিডেন্টের জন্য, এটি কি আগে থেকেই দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, নাকি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি এটি একটি সতর্কবার্তা?   বিভিন্ন সময় সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দেওয়া অনেকটা অগোছালো পোস্টগুলোর মতো এক্ষেত্রেও মূল বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বোঝা কঠিন। তবে এর মাধ্যমে আগের সেই সব প্রতিবেদনগুলো আবারও সামনে আসছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, যুদ্ধ শুরুর দিকে ইরানের তেলের ডিপোগুলোতে ইসরাইলি হামলার কারণে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। গভীর রাতে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি পোস্ট থেকে খুব বেশি কিছু ধারণা করা হয়তো ভুল হবে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, দুই দেশ একই পথে চলছে। যদিও মাঝেমধ্যেই অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও তাদের মধ্যে দূরত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।   এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। যেখানে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেছেন, গ্যাসক্ষেত্রে হামলায় ইসরাইল 'একাই কাজ করেছে'। আর ইসরাইলি বাহিনীকে ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা থেকে 'বিরত থাকতে' অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহু নিজেকে এবং ট্রাম্পকে ইরানের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন—যেখানে ট্রাম্পই প্রধান। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, 'কেউ কি সত্যিই মনে করে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কেউ বলে দিতে পারে কী করতে হবে?'   ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে তেল ও গ্যাসের দাম আবারও বাড়ছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করার চেষ্টায়ও কোনো অগ্রগতি না থাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ধৈর্য হারাচ্ছেন বলেই মনে হচ্ছে। এই যুদ্ধ তাকে এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে ফেলছে, যা তার প্রশাসন সম্ভবত আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি। ইসরাইলে এই যুদ্ধের সমর্থন এখনও আকাশচুম্বী থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রে তা বর্তমানে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই সংঘাত নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরও একটি মেয়াদে টিকে থাকতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ইরান যুদ্ধে আরও ৪ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২০, ২০২৬ 0

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ২১তম দিনে নতুন করে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের কঠোর জবাবের মুখে ওয়াশিংটন কিছুটা নমনীয় হলেও যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ না নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সমরাস্ত্র মোতায়েন করছে যুদ্ধবাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজমেক্স চারজন অজ্ঞাত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী 'ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত তাদের সৈন্যদের শক্তিশালী করতে' আরও ৪ হাজার মেরিন ও নৌসেনাসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।   নিউজমেক্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে মোতায়েন করা এই 'বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ'-এর সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও উভচর যান রয়েছে, যা স্থলভাগে আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সৈন্য এবং উভচর যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' পাঠানোর পর এই নতুন প্রতিবেদনটি সামনে এল।

প্রতীকী ছবি
ইসরাইলের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করল জার্মানি
মারিয়া রহমান মার্চ ২০, ২০২৬ 0

দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যার মামলায় জার্মানি আর ইসরাইলকে সমর্থন বা সহায়তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জিউইশ নিউজ সার্ভিস (জেএনএস) এমন তথ্য জানিয়েছে।  এর আগে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে গণহত্যার অভিযোগের বিপরীতে বার্লিন ইসরাইলের পক্ষে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করলেও, বর্তমানে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে দেশটি। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র জোসেফ হিন্টারসেহার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের পক্ষে জার্মানির আর কোনো হস্তক্ষেপ বা মধ্যস্থতা থাকবে না।  বার্লিনের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল যখন জার্মানি নিজেই আইসিজে-তে নিকারাগুয়ার দায়ের করা একটি পৃথক মামলার মোকাবিলা করছে। নিকারাগুয়ার পক্ষ থেকে জার্মানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে দেশটি ইসরাইলকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে গণহত্যার কাজে সমর্থন জুগিয়েছে। হিন্টারসেহার এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় বলেন, জার্মানি এখন নিকারাগুয়া কর্তৃক শুরু হওয়া আইসিজে-র আইনি প্রক্রিয়ার একটি অংশে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশটি বর্তমানে ইসরাইলের মামলায় মনোযোগ না দিয়ে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সেই আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  উল্লেখ্য, এর আগে গাজা ইস্যুতে ইসরাইলের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিল জার্মানি, তবে সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি