ওমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করলে কঠোর আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার ছবি, মন্তব্য বা ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি প্রকাশিত তথ্য সত্য হলেও অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা দণ্ডনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওমানের দণ্ডবিধির ৩৩০ নম্বর ধারার অধীনে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। জনসচেতনতা বাড়াতে ‘মিসিং লিংক’ নামের একটি বিশেষ প্রচারণার অংশ হিসেবে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অনেক প্রবাসী না জেনে বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে অন্যের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেন, যা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশাসন অনলাইনে তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যের সম্মান, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত জীবনে আঘাত করতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটির নেতারাও প্রবাসীদের অনলাইনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতা এড়ানো যায়।
উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক। অভিযোগ উঠেছে, একটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালাল চক্র জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে, যেখানে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তিনজন যুবকও রয়েছেন। তাদের পরিবারগুলো বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার “জাবালে নুর” নামের একটি এজেন্সি এবং স্থানীয় দালাল রেজা ও মিজান তাদের বিদেশে ভালো চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠায়। চুক্তি অনুযায়ী জনপ্রতি প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং এক বছরের জন্য যুদ্ধ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাদের ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় রেখে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী রনি ফকিরের স্ত্রী জানান, তার স্বামীকে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি ফোনে জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং প্রশিক্ষণ চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অন্যদিকে সৌরভ মোল্লার বোন অভিযোগ করেন, তাদের ভাইকে একই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠায় এবং পরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানান তিনি। পলাশ শেখের পরিবারও একই ধরনের তথ্য জানিয়ে বলেন, শুরুতে নিরাপদে পৌঁছানোর খবর পেলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, তাদেরও জোর করে সেনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। একই সাথে দেশটি বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি উচ্চমানের ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলীর সাথে মালেতে অবস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী জানান, তার দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্তমানে থেরাপিস্টসহ বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ জন থেরাপিস্ট প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট নিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।’ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দাপ্তরিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই একদল দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী মালদ্বীপে যোগ দেবেন। সাক্ষাৎকালে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) ভিত্তিতে সরাসরি মানসম্মত ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের আন্তর্জাতিক মান ও উৎপাদন সক্ষমতা সরেজমিনে যাচাই করতে মালদ্বীপের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে বলেও মন্ত্রী বৈঠকে জানান। সাক্ষাৎ পরবর্তী আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন ও আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান। এই দিকে লক্ষ্য রেখে, হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম অবহিত করেন যেÑবাংলাদেশ সরকার বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কোটার অধীনে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭টি পূর্ণ অর্থায়িত শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। তিনি মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সাশ্রয়ী ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের আর্থ-সামাজিক অবদানের প্রশংসা করেন। একই সাথে অবৈধ বা কাগজপত্রহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইসিইউ (আইসিইউ) সেবাসহ অন্যান্য ব্যয়বহুল জরুরি মানবিক চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে কৌশলগত স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ওষুধ আমদানির বিষয়টি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ কথা জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ কথা জানিয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আজ থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিক্রি করা হবে আগামী ৩১ মে’র ট্রেনযাত্রার টিকিট। রেলওয়ে জানিয়েছে, শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট মিলবে দুপুর ২টা থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ মে’র ফিরতি যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে ২১ মে, ১ জুনের টিকিট ২২ মে, ২ জুনের টিকিট ২৩ মে, ৩ জুনের টিকিট ২৪ মে এবং ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট ২৫ মে বিক্রি করা হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে কেনা অগ্রিম টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না। একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। তবে একাধিক যাত্রীর জন্য টিকিট কাটতে হলে সহযাত্রীদের নাম টিকিট কেনার সময় উল্লেখ করতে হবে। এর আগে গত ১৩ মে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন ২৩ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ২৪ মে, ২৫ মে, ২৬ মে ও ২৭ মে’র যাত্রার টিকিট বিক্রি বিক্রি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের এক বৈঠকে ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক। অভিযোগ উঠেছে, একটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালাল চক্র জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে, যেখানে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তিনজন যুবকও রয়েছেন। তাদের পরিবারগুলো বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার “জাবালে নুর” নামের একটি এজেন্সি এবং স্থানীয় দালাল রেজা ও মিজান তাদের বিদেশে ভালো চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠায়। চুক্তি অনুযায়ী জনপ্রতি প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং এক বছরের জন্য যুদ্ধ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাদের ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় রেখে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী রনি ফকিরের স্ত্রী জানান, তার স্বামীকে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি ফোনে জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং প্রশিক্ষণ চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অন্যদিকে সৌরভ মোল্লার বোন অভিযোগ করেন, তাদের ভাইকে একই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠায় এবং পরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানান তিনি। পলাশ শেখের পরিবারও একই ধরনের তথ্য জানিয়ে বলেন, শুরুতে নিরাপদে পৌঁছানোর খবর পেলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, তাদেরও জোর করে সেনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ওমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করলে কঠোর আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার ছবি, মন্তব্য বা ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি প্রকাশিত তথ্য সত্য হলেও অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা দণ্ডনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওমানের দণ্ডবিধির ৩৩০ নম্বর ধারার অধীনে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। জনসচেতনতা বাড়াতে ‘মিসিং লিংক’ নামের একটি বিশেষ প্রচারণার অংশ হিসেবে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অনেক প্রবাসী না জেনে বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে অন্যের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেন, যা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশাসন অনলাইনে তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যের সম্মান, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত জীবনে আঘাত করতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটির নেতারাও প্রবাসীদের অনলাইনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতা এড়ানো যায়।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যম জানিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, নিহতদের মধ্যে ১২ জন একটি মাত্র হামলায় মারা যান।মঙ্গলবারের ওই হামলায় দেইর কানুন আল-নাহর শহরের একটি বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও তিন নারী ছিলেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা আগে বলেছিল যে তারা ইরান-সমর্থিত শিয়া ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হেজবুল্লাহ হামলা চালালে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন এক সপ্তাহেরও কম আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল যে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে এবং আগামী মাসে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দোসরা মার্চ ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধে লেবানন জড়িয়ে পড়ে, যখন হেজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। তারা দাবি করে, এটি ছিল ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার প্রতিশোধ। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পরও ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহ উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিন-রাত ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মধ্যপ্রাচ্যের পর এবার ক্যারিবিয়ান সাগরে নিজেদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রণতরীটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস নিমিৎজের সঙ্গে রয়েছে ক্যারিয়ার এয়ার উইং-১৭, যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গ্রিডলি এবং সরবরাহ জাহাজ ইউএসএনএস প্যাটাক্সেন্ট। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, কৌশলগত সক্ষমতা ও সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাইওয়ান প্রণালি থেকে আরব উপসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইউএসএস নিমিৎজ। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার সঙ্গে গত শতকের ষাটের দশক থেকেই বিরোধ চলে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের। বিভিন্ন সময়ে কিউবার সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালালেও তা সফল হয়নি। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। দুই মাস আগে দেশটির ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে কিউবায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিউবা রাশিয়া ও ইরান থেকে ৩০০ সামরিক ড্রোন কিনছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ড্রোন গুয়ান্তানামো উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটি এবং ফ্লোরিডা উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রতিবেদনের পর কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা জি-২ এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কিউবার কয়েকজন মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা এবং কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতার নাম রয়েছে। এছাড়া কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি দেশটির বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে আলোচনা করতে বেইজিং সফর করেছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টেও চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সে সময় তিনি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে অংশ নেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে চীন ও রাশিয়া। বুধবার বেইজিংয়ে ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের যৌথ শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি ও মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ওয়াশিংটন নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যদিও মস্কো চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে একমত হলেও রাশিয়া ও চীন প্রত্যাশিত বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আইন মানতে ব্যর্থ হওয়ায় ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সকে জরিমানা করেছে দেশটির আদালত। অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিরাপত্তা সংস্থা ই-সেফটি ২০২৩ সালে টুইটারের কাছে জানতে চেয়েছিল, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে তারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরে টুইটার এক্সে রূপান্তরিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় তথ্য পুরোপুরি দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালত সেই জরিমানা বহাল রেখে এক্সকে ৬ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়। আদালত বলেছে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতেই এই জরিমানা দেওয়া হয়েছে। ই-সেফটির প্রধান জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে কী করছে, তা জনগণের জানার অধিকার আছে।
পশ্চিমবঙ্গের সব স্বীকৃত মাদ্রাসায় সকালের অ্যাসেম্বলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। এর আগে রাজ্যের সব স্কুলেও একই নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাদ্রাসা অধিদপ্তরের জারি করা এক আদেশে বলা হয়, এখন থেকে রাজ্যের সব মাদ্রাসায় ক্লাস শুরুর আগে সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ও সহায়তাবিহীন—উভয় ধরনের স্বীকৃত মাদ্রাসার ক্ষেত্রেই এ নির্দেশ কার্যকর হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের অধীন সব প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম মানতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার পশ্চিমবঙ্গের সব স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়, ক্লাস শুরুর আগে স্কুল অ্যাসেম্বলিতে ভারতের এই ‘জাতীয় গান’ পরিবেশন করতে হবে। এক অনলাইন পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছিলেন, “আগের সব নির্দেশনা বাতিল করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্কুল শিক্ষা বিভাগের অধীন সব স্কুলে সকালের প্রার্থনা বা অ্যাসেম্বলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।” বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গানটি ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’-কে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গানটির ছয় স্তবক গাওয়ার নির্দেশনা দেয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।