লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেনের (৪৫) মরদেহ দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৬৮/৩-এস নম্বর মেইন পিলার এলাকা দিয়ে মরদেহটি হস্তান্তর করে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৪/৫-এস নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে ৭-৮ জনের একটি দল সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে। এ সময় বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতগ্রাম ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে দলটি ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করলে বিএসএফ পুনরায় গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং বিএসএফ সদস্যরা তার মরদেহ নিয়ে যায়। নিহত আলী হোসেন ওই সীমান্ত এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালে বিএসএফ সাড়া দেয়। বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিএসএফ গুলির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য বিজিবির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন তিস্তা ব্যাটালিয়ন-৬১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম। বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী সৌরভ। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে শ্রীমুখ কোম্পানি কমান্ডার রাজেশ কুমার ইয়াদব ও ভারতীয় পুলিশ বিজিবির উপস্থিতিতে মরদেহটি পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেয়। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিএসএফের থেকে মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর রাতেই নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে ছয় যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্তরা একটি হাইস মাইক্রোবাসে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে ডিবি পরিচয় দিয়ে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের লক্ষীয়ারা এলাকায় যায়। তারা কৌশলে ওই তরুণীকে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং তার বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের ভয়ভীতি দেখায়। তাদের চলাফেরা ও আচরণে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বিট পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পলাশ হোসেন প্রকাশ ইউনুছ মিয়া (১৯), মো. শাওন (১৯), পলাশ আহম্মদ (২২), ইমরান হোসেন রিহান (১৯), মিনহাজুল আলম তামিম (১৮) ও আব্দুল আহাদ মেজবাহ (১৯) পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ফেনী সদর এলাকার এবং বাকি পাঁচজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। ফেনী মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অনুপ কুমার বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত স্টিকার লাগানো একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, মূলত প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি অপহরণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) সাজেদ কামাল এশিয়া পোস্টকে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে এখনই জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি দৃঢ় আহ্বান জানিয়েছেন সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৮ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে ড. ইউনূস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনই জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি বিশ্বনেতাদের প্রতি দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি। ইতোমধ্যেই যুদ্ধের ক্ষতে জর্জরিত বিশ্বকে এই চলমান সংঘাত আরও গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা আজ মানবতার এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি, যেখানে বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুরা, প্রাণ হারাচ্ছে; বাড়িঘর, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হচ্ছে এবং মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে।’ দরিদ্র দেশগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো আঞ্চলিক সংকট নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য এক গভীর নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে দরিদ্র দেশগুলো। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন আরও বিপন্ন হয়ে উঠছে।’ ড. ইউনূস বলেন, ‘সাহস, সহমর্মিতা ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বৈশ্বিক ঐক্য গড়ে তোলা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিশ্বনেতাদের এই পৃথিবীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।’ সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি কেবল ভূরাজনীতি বা ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানব সভ্যতার ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমাদের যুদ্ধ নয়, শান্তিকে বেছে নিতে হবে। হামলা নয়, সংলাপকে বেছে নিতে হবে। বিভাজন নয়, ঐক্যকে বেছে নিতে হবে।’ এদিকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে আপাতত বিরতি নিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানও ১০টি শর্ত দিয়ে এ প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীকে গুলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ফিলিং স্টেশনে বোতলে অকটেন সরবরাহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাবের উপস্থিতিতেই তেল সরবরাহ কার্যক্রম চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিং স্টেশনটিতে একদিকে মোটরসাইকেলের জন্য এবং অপরদিকে বোতলে অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছিল এবং অনেকেই সময়মতো তেল নিতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একপর্যায়ে বোতলে অকটেন সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রেখে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা বোতল সরিয়ে রাখলে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এক ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলা চালান। পরে ঘটনাটি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং একাধিক ব্যক্তি এতে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, ফলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকায় অবস্থানরত ১৩টি দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশন ভিসা, পারমিট এবং অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহীদের জন্য যৌথ সতর্কতা জারি করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা আবেদনকারীদের প্রতারণা ও দালালচক্র থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ভিসা বা পারমিটের জন্য আবেদন করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। জাল কাগজপত্র ব্যবহার, অবিশ্বস্ত বা লাইসেন্সবিহীন এজেন্টের সহায়তা নেওয়া এবং অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই যৌথ বিবৃতিতে অংশ নেওয়া দেশগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। দূতাবাসগুলো আরও জানায়, প্রতারণার আশ্রয় নিলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং গন্তব্য দেশের সীমান্তে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি আবেদনকারীরা গুরুতর আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারেন। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দূতাবাস বা মিশনগুলো কোনো এজেন্টের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই দ্রুত ভিসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা বিশেষ সুবিধার আশ্বাস দিয়ে যারা প্রভাব খাটানোর দাবি করে, তাদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য ভিসা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমেই সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ৪০ দিনের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ইরান ও লেবাননে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৬ জন পর্যন্ত পৌঁছেছে, যদিও আন্তর্জাতিক রেডক্রসের হিসাব অনুযায়ী তা প্রায় ১ হাজার ৯০০। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলে। ইরাকে ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, পাশাপাশি ১১ জন সেনাও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ১৩ জন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ জন, কাতার ও কুয়েতে ৭ জন করে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিরিয়া ও পশ্চিম তীরে চারজন করে; বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবে দুজন করে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত হয়েছেন। এদিকে গত ৩ এপ্রিলের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এই সংঘাতে বিভিন্ন দেশে থাকা অন্তত ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ ৪০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার পুনরায় চালু করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। শ্রমবাজার কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় আবার চালু হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তারা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে থাকবে। এর আগে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগের জারি করা সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানান, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। এসব আলোচনায় শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা—বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়টি—অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জন্য মানবিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। এই স্থবিরতার পেছনে সিন্ডিকেট-সংক্রান্ত অভিযোগসহ নানা কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে দাতো আমিন নুরের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠে, যারা অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় আদায় করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়া ১৪টি সোর্স দেশ থেকে সরাসরি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে দেশটি বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ সম্পন্ন করেছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে পুরোনো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে নতুন এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তারা মনে করেন। তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক নজরদারি না থাকলে বিদেশগামী কর্মীদের ব্যয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা একজন শ্রমিকের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ কথা বলেন লাপিদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় এর আগে ঘটেনি। জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরায়রেল আলোচনার টেবিলেই ছিলনা। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত সব দায়িত্বই পালন করেছে। দেশটির জনগনও অনেক ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো ঠিক করেছিলেন, তার একটিও অর্জন করতে পারেননি। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর অহংকার, অবহেলা ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েল। যা কাটিয়ে উঠতে বহু বছর সময় লাগবে দেশটির। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দেশ দুটি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাতে দুই দেশ ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানান, এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তবে জাহাজগুলোকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমোদন নিতে হবে। এই ঘোষণার পরপরই বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে আসে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমে আসার ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বাজারে এই পতন ঘটেছে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি ইতিবাচক হলেও এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্বাভাবিক রাখতে আরও কূটনৈতিক অগ্রগতি প্রয়োজন হবে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
লেবাননে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর নতুন দফার হামলায় কয়েক শ মানুষ হতাহত হয়েছেন। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে অনেক হামলা এমন সব এলাকায় চালানো হয়েছে, যেসব এলাকাকে প্রথাগতভাবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা হয় না। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আলজাজিরাকে বলেন, বৈরুত ও অন্যান্য এলাকায় (ইসরাইলি) বিমান হামলার ফলে হাসপাতালগুলোতে শহীদ ও আহতদের ভিড়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ লেবানন রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে হামলার শিকার এলাকাগুলো থেকে আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। ইসরাইলি হামলায় কয়েক শ মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি বলেছেন, এই হামলা ‘সব ধরনের মানবিক মূল্যবোধ’ অবজ্ঞার ক্ষেত্রে ইসরাইলের ‘কালিমালিপ্ত রেকর্ডে’ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এক বিবৃতিতে আউন বলেন, এই বর্বর আগ্রাসন কোনো অধিকার মানে না এবং কোনো চুক্তি বা অঙ্গীকারের তোয়াক্কা করে না। দেশটি (ইসরাইল) বারবার প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির প্রতি তাদের চরম অবজ্ঞা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আবারও আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরাক। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বন্ধ রাখা আকাশসীমা বুধবার থেকে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার প্রেক্ষাপটে আজ থেকেই বিমান চলাচলের জন্য ইরাকের আকাশসীমা উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দেশটির আকাশপথ বন্ধ রাখা হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির ফলে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে অঞ্চলটি। তথ্যসূত্র : ইরাকি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ৪০ দিনের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ইরান ও লেবাননে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৬ জন পর্যন্ত পৌঁছেছে, যদিও আন্তর্জাতিক রেডক্রসের হিসাব অনুযায়ী তা প্রায় ১ হাজার ৯০০। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলে। ইরাকে ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, পাশাপাশি ১১ জন সেনাও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ১৩ জন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ জন, কাতার ও কুয়েতে ৭ জন করে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিরিয়া ও পশ্চিম তীরে চারজন করে; বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবে দুজন করে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত হয়েছেন। এদিকে গত ৩ এপ্রিলের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এই সংঘাতে বিভিন্ন দেশে থাকা অন্তত ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ ৪০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ কথা বলেন লাপিদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় এর আগে ঘটেনি। জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরায়রেল আলোচনার টেবিলেই ছিলনা। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত সব দায়িত্বই পালন করেছে। দেশটির জনগনও অনেক ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো ঠিক করেছিলেন, তার একটিও অর্জন করতে পারেননি। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর অহংকার, অবহেলা ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েল। যা কাটিয়ে উঠতে বহু বছর সময় লাগবে দেশটির। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দেশ দুটি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।