সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়

যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাতের বেলায় মেট্রোরেলের চলাচল আরও ২০ মিনিট বাড়ানো হচ্ছে। আগামী ৭ জুন থেকে নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার (৩ জুন) মেট্রোরেলের দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরা উত্তর ও মতিঝিল—উভয় প্রান্ত থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ার সময় ২০ মিনিট বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। বর্তমানে সপ্তাহের সাত দিন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিটে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে উত্তরা অভিমুখী শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। তবে সময়সীমা বাড়ানো হলেও নতুন কোনো ট্রেন সংযোজন করা হচ্ছে না। বিদ্যমান সময়সূচির ধারাবাহিকতায় ২০ মিনিট হেডওয়ে বজায় রেখেই অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, সময় বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। এ বিষয়ে শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে একটি অতিরিক্ত ট্রিপ যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে কর্মজীবী মানুষসহ রাতের যাত্রীদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ হবে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। শুরুতে এমআরটি লাইন-৬-এর উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশে সীমিত পরিসরে চলাচল শুরু হলেও পরে ধাপে ধাপে সব স্টেশন চালু করা হয়। সবশেষে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হয়। বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় গণপরিবহন হিসেবে মেট্রোরেল প্রতিদিন লাখো যাত্রীর যাতায়াতের ভরসা হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে কমলাপুর স্টেশন চালু হলে এমআরটি লাইন-৬-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শেষ হবে।

১১ মিনিট আগে
বিশ্বকাপে ‘আজব সিদ্ধান্ত’—সঙ্গে যাচ্ছে ৩০০ কেজি কাঁচা মাছ!

সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে খেলেছিল নরওয়ে। এরপর কেটে গেছে ২৮ বছর। মাঝের ছয়টি বিশ্বকাপের একটাতেও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তারা। সেই খরা কাটিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছে হালান্ডের দল। ইতোমধ্যেই আমেরিকায় পৌঁছে গেছে নরওয়ে ফুটবল দল। কিন্তু মাঠে নামার আগেই আলোচনার তুঙ্গে এসেছে নরওয়ে ফুটবল টিম। বিশ্বকাপ খেলার জন্য সঙ্গে করে ৩০০ কেজি মাছ নিয়ে গেছে হালান্ডরা। যেখানে রয়েছে ১১৬ কেজি ব্রাউন চিজও। কেন এই আজব পথে হাঁটল নরওয়ে? বিশ্বকাপে যাতে ফুটবলাররা নিজেদের সেরা পারফর্ম্যান্স মেলে ধরতে পারেন তার জন্য খাবারকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে নরওয়ে শিবির। তাই দলের সঙ্গে গেছেন দুই খ্যাতনামা শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। ২০২০ সালে অলিম্পিকে সফল নরওয়ে দলের সঙ্গেও গিয়েছিলেন অ্যারন। দীর্ঘদিনের টিম শেফের সঙ্গে মিলে তারা হালান্ড-ওডেগার্ডদের জন্য বিশেষ খাদ্যতালিকা তৈরি করবেন। কেন ৩০০ কেজি মাছ নিয়ে গেছেন হালান্ডরা? তাদের বিশ্বাস, সেরা খাবারের জন্য প্রয়োজন সেরা নরউইজিয়ান উপকরণ। তাই আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে নরওয়ের নিজস্ব মাছ ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। তাই অন্তত ৩০০ কেজি লাল মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু মাছই নয়, ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরউইজিয়ান ব্রাউন চিজও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন অ্যারন এসপেল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় দাঁড়িয়ে যদি বলতে পারা যায় ব্যবহৃত টম্যাটোটা কে চাষ করেছেন বা এই হ্যালিবাট মাছ কে ধরেছেন, সেটা দারুণ ব্যাপার। আমরা সব সময় সেরা নরউইজিয়ান উপকরণই ব্যবহার করতে চাই। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেই খাবার পরিবেশন করতে পারাটা আমাদের কাছে গর্বের।’ তিনি আরও জানান, নরওয়ে থেকে আমেরিকায় আধা টন মাছ পাঠানো মোটেই সহজ নয়। তাই একেবারে এই ব্যবস্থা করেছেন তারা। বিশ্বকাপে নরওয়ের সূচি ১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে। তার আগে ৭ জুন মরক্কোর বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। I গ্রুপে ইরাক ছাড়াও নরওয়ের সঙ্গে আছে ফ্রান্স ও সেনেগাল।

১ ঘন্টা আগে
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জামায়াতে ইসলামীর সব মহানগরী শাখা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিকাল ৫টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ হবে। বুধবার (৩ জুন) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চরম ও নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তার ওপর আবার বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেবে। তিনি বলেন, বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী পাইকারিতে গড় দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে। জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, মূলত বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হতো না। আমরা সরকারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশের বিদ্যুৎ খাতের সব দুর্নীতি, অপচয় ও লুটপাট বন্ধ করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে দেশের আপামর জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

১ ঘন্টা আগে
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত অর্ধশতাধিক

হবিগঞ্জে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে ফুটবল খেলা ও হার-জিতকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে সদর উপজেলার লোকড়া ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে কাশীপুর গ্রামে স্থানীয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলায় আর্জেন্টিনা দল ২-০ গোলে ব্রাজিল দলকে হারিয়ে দেয়। খেলা শেষে হার-জিত ও ট্রল করা নিয়ে মাঠেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সে সময় স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করে দিলে সবাই বাড়ি ফিরে যান। তবে সেই বিরোধের জেরে বুধবার সকালে দুই পক্ষ আবারও নতুন করে তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এলাকা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী
দিল্লির রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ আগুন, আহত ৫ বাংলাদেশি

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগরের একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন। তবে আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনের ভেরিফায়েড অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, আহতদের মাঝে তিন জন সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ও বাকি দুইজন সফদারজাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে হাইকমিশন আরও জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) সকালে দিল্লির মালভিয়া নগরের লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ আগুন লাগে। এ ঘটনায় ২১ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসন চারজনের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায় বলেছেন, নিহতের সংখ্যা ২১ জন এবং আহত ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৩, ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ দখল নিতে চাওয়া খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলা

ভারতের বিহার রাজ্যের জনপ্রিয় শিক্ষক ও ইউটিউবার ফয়সাল খান। তিনি খান স্যার নামে পরিচিত। তার পাটনার কোচিং সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পাটনার কদমকুয়ান এলাকায় অবস্থিত ‘খান গ্লোবাল কোচিং ইনস্টিটিউটে’ একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। হামলায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক নিরাপত্তারক্ষী আহত হন।   পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হামলায় ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তাদের সঙ্গে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।   ঘটনার পর খান স্যার অভিযোগ করেন, কম খরচে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যক্তি তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছে এবং গুলিও ছুড়েছে।   এদিকে হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছে খান স্যারের একটি পুরোনো ভিডিও। ওই ভিডিওতে তিনি বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।   ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম নিয়ে খান স্যারকে বলতে শোনা যায়, আমরা যদি বাংলাদেশের রংপুর নামের জেলাটির দিকে তাকাই—যদি এই রংপুর দখল করে নেওয়া হয়, তবে পুরো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যদি আমরা এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করি, তবে পথটি চওড়া এবং সমান হয়ে যাবে। আমাদের যাতায়াতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না; আমাদের যে সরু ঘাড় (চিকেনস নেক) ছিল, তা চওড়া হয়ে যাবে।   চট্টগ্রাম নিয়ে একই ভিডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, আমাদের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পরেই সমুদ্র শুরু হয়ে যায়। আমরা যদি এই সামান্য অংশটুকু দখল করে নিচে নেমে যাই, তবে ত্রিপুরা সরাসরি সমুদ্র পেয়ে যাবে। তাহলে আমরা কেন মেঘালয়কে গ্রেটার মেঘালয় এবং ত্রিপুরাকে ‘গ্রেটার ত্রিপুরা’ বানিয়ে দিচ্ছি না? খেলা খতম। ইন্ডিয়ান আর্মির এই ভূখণ্ডের কোথায় কী আছে সে বিষয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং ধারণা রয়েছে। তারা সহজেই এলাকাটি ঘিরে ফেলতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বিভাগ যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তখন এই এলাকায় বাংলাদেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও খতম হয়ে যাবে।

ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জামায়াতে ইসলামীর সব মহানগরী শাখা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিকাল ৫টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ হবে। বুধবার (৩ জুন) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চরম ও নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তার ওপর আবার বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেবে। তিনি বলেন, বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী পাইকারিতে গড় দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে। জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, মূলত বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হতো না। আমরা সরকারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশের বিদ্যুৎ খাতের সব দুর্নীতি, অপচয় ও লুটপাট বন্ধ করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে দেশের আপামর জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদপুরে দুই নারীর কাছ থেকে ছিনতাই: গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার পিকআপ ও অস্ত্র

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে দুই নারীর কাছ থেকে ব্যাগ ও মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করলেও রাজধানীতে এসে নিয়মিত ছিনতাই করত।   বুধবার (৩ জুন) মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম।   পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে ভোরে ঈদের ছুটি শেষে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে বাসার সামনে নামার পর একটি পিকআপে আসা কয়েকজন ব্যক্তি চাপাতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি ট্রলি ব্যাগ, একটি হ্যান্ডব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়।   ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়।   পরে একই ঘটনায় জড়িত আনোয়ার নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে মাদক, ডাকাতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপের চালক ও মালিককেও শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আরও একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   পুলিশের তথ্যমতে, ছিনতাই হওয়া মালামালের কিছু অংশ উদ্ধার করা গেলেও একটি ট্রলি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   এডিসি ফজলুল করিম জানান, মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ভোরে যাত্রী নামার স্থান ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, নূরজাহান রোডের ঘটনার পরদিন তাজমহল রোডেও একই চক্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতার মধ্যে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান ও সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সংকট এবং বিধায়কদের বিদ্রোহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানানো হয়, গভীর পর্যালোচনার পর পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন অবিলম্বে বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সাংগঠনিক পদাধিকারী থাকছে না। কার্যত মাঠপর্যায়ে দলটির আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে যাচ্ছে? ৩১ মে কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ১৭ জন উপস্থিত হন। উপস্থিতির অভাবে শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি কার্যত ভেস্তে যায়। এরপর ১ জুন তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চল, ব্লক ও ওয়ার্ডে মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও মাঠে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ২ জুন কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন মমতা। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন মাত্র আটজন বিধায়ক ও ছয়জন সাংসদ। তবে তারাও পুরো সময় সেখানে অবস্থান করেননি। সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বুধবার বিধানসভায়। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা করার দাবিতে বিধানসভায় হাজির হন ৫৮ জন বিধায়ক। তারা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে চিঠি জমা দেন। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই তাদের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে তারাই আসল তৃণমূল। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন, কানাইয়ালাল আগরওয়াল, রথীন ঘোষ, শিউলি সাহা, আখরুজ্জামানসহ আরও অনেকে। পরে তারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বর্তমান নেতৃত্বের নানা সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত নন এবং প্রকাশ্যেই তার সমালোচনা করেন। বুধবারই ৫৮ জন বিধায়ক নিজেদের নতুন তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে বিধানসভায় তারাই বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস নয়। নতুন এই অংশের বিধায়কদের পছন্দের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সামনে এসেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। একসময় সিপিআই(এম)-এর রাজনীতি করা ঋতব্রত পরে তৃণমূলে যোগ দেন এবং সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন। তবে নাটকীয় বিষয় হলো, স্পিকারের কাছে দেওয়া চিঠিতে নতুন তৃণমূলও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছে বলে জানা গেছে। ফলে বাস্তবে ৫৮ জন বিধায়ক এই নতুন শিবিরে রয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনও মন্তব্য করেননি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। নতুন তৃণমূলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, কিংবা দিলে কোন বিধায়ককে কোন শিবিরের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে; এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য স্পিকার সময় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নতুন শিবির ইতোমধ্যে চারজনকে বিরোধীদলীয় নেতার উপনেতা হিসেবে মনোনয়নের প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে বিধানসভা সেই প্রস্তাব অনুমোদন করবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এক বৈঠকে অংশ নিতে তার দপ্তরে গেছেন। এই বৈঠককেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র : টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত বহু যাত্রী ও কর্মী
আক্তারুজ্জামান জুন ০৩, ২০২৬

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার সকালে বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ভবনে একাধিক ড্রোন আঘাত হানে।   কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৌদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এলাকায় বিস্ফোরকবাহী কয়েকটি ড্রোন আঘাত করে। এতে স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।   তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার পর বিমানবন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।   এদিকে হামলার জন্য ইরানি ড্রোনকে দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।   উল্লেখ্য, একই দিনে ভোরের দিকে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেই হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।   সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৩, ২০২৬

পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের এ প্রস্তাব দেয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) প্রস্তাবটি প্রকাশ করে। সংস্থাটি বলেছে, তদন্তে তারা দেখতে পেয়েছে যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করছে। ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে আরোপ করা শুল্কগুলো পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের আরোপিত জরুরি শুল্ক বাতিল করে দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত সেকশন ৩০১-এর তদন্ত-সংক্রান্ত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত এটি।   ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত তদন্তের ভিত্তিতে কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এ ছাড়া তদন্তে অন্তর্ভুক্ত বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়।   ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, তারা একটি নতুন টেক্সটাইল ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য কম শুল্ক হারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে শুল্কের হার বা পণ্যের পরিমাণ কত হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।   উল্লেখ্য, আগামী ২৪ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করার দিনই ওই অস্থায়ী শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল।

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা ইরানের
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬

কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরান নতুন করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কুয়েতে থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। কিন্তু মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে সেগুলো ধ্বংস করেছে।’ সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো মার্কিন সদস্য বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি। এর আগে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছিল, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, রাতভর কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বুধবার ভোরে সেন্টকম জানায়, তারা কেশম দ্বীপে একটি ইরানি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ওপর হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সূত্র: আল-জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা ইরানের
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান জিলহজ মাসের শেষভাগ ও মহররমের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিকবিষয়ক উপপ্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এ হিসাবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের মেট্রোপলিটনগুলোর ৫২তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তাভাকোলিজাদেহ। তিনি জানান, দাফনসংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ‘পিপলস প্যারেড’ বা শোক মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদায় অনুষ্ঠান শেষে জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যা তেহরানে অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে। তাভাকোলিজাদেহ বলেন, রাজধানী তেহরানে দেড় থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তেহরানের পাশাপাশি কোম ও মাশহাদ শহরেও জানাজার আয়োজন নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও একই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য অনুরোধ এসেছে। পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ অনুযায়ী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে বলে জানান তেহরানের এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, কাশ্মীরসহ পূর্বাঞ্চলীয় ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও শোকাহত মানুষ মাশহাদে উপস্থিত হতে পারেন।   উল্লেখ্য, ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শুরুর দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ কার্যালয়ে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। তাদের স্মরণে গত সপ্তাহে তেহরানে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, খামেনির জানাজা এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজন হবে, যা ইরান ও সমগ্র ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ও প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছর ছয় মাস এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি