প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (১৫ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে উদ্ধৃত করে ‘প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচ্য অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মূলত বলেছিলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ তাদের এলাকায় হাইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ নিয়ে আসেন। কিন্তু, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশ করেন না।’ মন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’ এ ধরনের অসত্য সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে সরকার ‘বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন- ২০১৭’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল বা কাগজের জন্মসনদ গ্রহণ করা হবে না। সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিসেফ এবং ইউএনএফপিএ-এর কারিগরি সহায়তায় বর্তমানে এই নতুন আইনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এ সংশোধনীর মাধ্যমে আইনের বিশেষ সুযোগ নিয়ে ফাঁকফোকর দিয়ে বাল্যবিবাহ দেয়ার নিয়মগুলো বন্ধ করা জন্য এই আইনি প্রণয়ন করা হবে। এ সংশোধনীর মূল বৈশিষ্ট্য হবে, বিয়ের নিবন্ধনের জন্য সনাতন পদ্ধতির কাগজের সনদের বদলে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার করা। মূলত জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মসনদ তৈরি করে অপ্রাপ্তবয়স্ক বরকনের আসল বয়স লুকানোর প্রবণতা বন্ধ করতে সরকারের এ পদক্ষেপ। প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় আবুল হাসনাত জানান, ইউনিসেফের গ্লোবাল চাইল্ড ম্যারেজ ইনডেক্স ২০২৬ এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহেরর হার অনেক বেশি। আইনি ফাঁকফোকর এবং জন্মনিবন্ধন রেকর্ডের জালিয়াতির সুযোগ নিয়ে দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে এর সঠিক নজরদারি ছাড়া, ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়া অনেক বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় আইন প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাল্যবিবাহের পুরোপুরি নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। সোমবার (১৫ জুন) টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দেশের টেলিভিশনশিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ। বৈঠকে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরকারের সহযোগিতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ জানান, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে টেলিভিশনশিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প খাত হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। সোমবার (১৫ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী দিনে দুই দেশের এই সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকও দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণে যুক্তরাজ্যের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে আগামীতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। সোমবার (১৫ জুন) টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দেশের টেলিভিশনশিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ। বৈঠকে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরকারের সহযোগিতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ জানান, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে টেলিভিশনশিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প খাত হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ধুঁকতে থাকা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে একটি যুগান্তকারী চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বলিষ্ঠ মধ্যস্থতা সোমবার বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্বনেতারা এ ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি করেছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলের এ তিন মাসব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত শান্তি চুক্তির বিষয়টি সোমবার প্রথম প্রহরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের সমস্ত জাহাজ, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেল সচল হতে দাও!’ মধ্যপ্রাচ্যের এ চরম সংঘাতের সময় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বারবার প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধরত দুই দেশকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নেতৃত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বিশ্বনেতারাও। জাতিসংঘ, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের এ কূটনৈতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, এ চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ সুগম করবে। জাতিসংঘ মহাসচিব জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওয়াশিংটন ও তেহরানকে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ চুক্তি অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করবে’। বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলা এ সংঘাত নিরসনে সালিশকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ প্রধান। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস মন্তব্য করেন, ‘এটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। সৌদি আরব সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামরিক অভিযান বন্ধ এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতাকে রিয়াদ স্বাগত জানায়’। বিবৃতিতে শান্তির পথ সচল রাখতে অন্যান্য প্রধান দেশের পাশাপাশি পাকিস্তানের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। কাতার কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থনের পাশাপাশি এ প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করার ক্ষেত্রে ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তানের গঠনমূলক প্রচেষ্টার আমরা উচ্চ প্রশংসা করি’। উপসাগরীয় এ দেশটি আশা প্রকাশ করে যে, এ শান্তি চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ত্বরান্বিত করবে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে একটি ‘গঠনমূলক আলোচন’ এগিয়ে নেবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপর এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে ‘ইউএস-ইরান সমঝোতা স্মারক’ তৈরিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। তুরস্ক তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ চুক্তিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি ও প্রশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক ফলাফল আনার পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য আমি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাই’। একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে এমন যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য ও নাশকতা সম্পর্কে সতর্ক করেন তিনি। যুক্তরাজ্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তান, কাতার ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতাকারীদের অভিনন্দন জানাই- যারা এ যুগান্তকারী সাফল্যে অবদান রেখেছেন’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ পদক্ষেপকে যুদ্ধ অবসান ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘একটি বিশাল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এ পর্যন্ত নেওয়া প্রচেষ্টার আমরা প্রশংসা করি’। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশাপাশি লেবাননেও উত্তেজনা হ্রাস ও সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ফ্রান্স ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা স্বীকার করে বলেন, এ চুক্তিটি একটি সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল, যেখানে বেশ কয়েকটি অংশীদার অবদান রেখেছে। তিনি যুদ্ধরত সব পক্ষকে এটি দ্রুত এবং সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। জাপান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘পরিস্থিতি সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে আমরা এ সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানাই। এটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কূটনৈতিক সমাধান এবং অবিরাম আলোচনার ফল’।তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হবে। জার্মানি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প এবং ইরান পক্ষকে এ কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পথ প্রশস্ত করতে পারে’। নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ চুক্তিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এখন এটি খুলে দেওয়ার ফলে প্রধান সরবরাহ চেইনগুলোতে আস্থা ফিরে আসবে। সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুদ্ধরত দেশ দুটির মধ্যে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলেও পাকিস্তান সরকারের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হয়েছিল।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আংগারগাড়া বাজারসংলগ্ন ‘বিল্লাল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রবিবার (১৪ জুন) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গোডাউনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকের দাবি, এতে তাঁর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে গোডাউনের পেছনের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে গোডাউনের ভেতরে থাকা তুলাসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী লিলি আক্তার বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে বাইরে বের হয়ে দেখি আগুন লেগেছে। গোডাউনের পেছনের দিক থেকে আগুন দেখা যাচ্ছিল। পরে আশপাশের লোকজন এসে দেখে পেছনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং আগুনে পুড়ে তুলার গোডাউন ছাই হয়ে গেছে।’ আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘পেছনের দিক থেকে পরিকল্পিতভাবে কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আগুন লাগার সময় আমরা সবাই দোকানের সামনে খেলা দেখছিলাম। পরে একজন খবর দিলে এসে দেখি পেছনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।’ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. বিল্লাহ হোসেনও পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ গোডাউনের পেছনের দিক থেকে আগুন দিয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার এই গোডাউনে কোনো বিদ্যুৎ–সংযোগ নেই। এখানে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।’ তাঁর ভাষ্য, এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ জানা যায়নি। আমাদের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) এক নির্দেশনায় আইভ্যাক জানায়, পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পূর্ববর্তী কার্যদিবসে প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাইন-আপ এবং ওয়েবফাইল আপলোড করা যাবে। যেসব আবেদনকারী সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, তাদের জন্য বিকাল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং শুরু হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। কোনো পরিবর্তিত, সম্পাদিত বা বিকৃত ফাইল গ্রহণযোগ্য হবে না। মেডিকেল ভিসা সংক্রান্ত নির্দেশনায় আইভ্যাক জানায়, মেডিকেল ভিসা আবেদনকারীদের অবশ্যই সেই নির্ধারিত হাসপাতালে যেতে হবে, যার জন্য ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) অনুমতি নিতে হবে। এফআরআরও-এর অনুমোদন ছাড়া হাসপাতাল পরিবর্তন ভিসা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং ভবিষ্যতে ভারতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। তবে এই দুই দলের ইতিহাসে মুখোমুখি লড়াইয়ের গল্প মাত্র একটি ম্যাচের, আর সেই ম্যাচেই ফুটবলপ্রেমীরা দেখেছিল তরুণ লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স। ২০০৭ সালের ৫ জুন, স্পেনের ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। তখন আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন রবার্তো আয়ালা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, কার্লোস তেভেজদের মতো তারকারা। তাদের মাঝেই ছিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ লিওনেল মেসি। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তেভেজ। তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় আলজেরিয়া। প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়েও যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। মেসির নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা ফিরে আসে ম্যাচে। প্রথমে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান তিনি, এরপর আক্রমণাত্মক খেলায় দলকে এগিয়ে নেন। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন মেসি। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের পর আর কখনো মুখোমুখি হয়নি দুই দল। এবার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে আবার দেখা হচ্ছে তাদের। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ধুঁকতে থাকা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে একটি যুগান্তকারী চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বলিষ্ঠ মধ্যস্থতা সোমবার বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্বনেতারা এ ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি করেছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলের এ তিন মাসব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত শান্তি চুক্তির বিষয়টি সোমবার প্রথম প্রহরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের সমস্ত জাহাজ, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেল সচল হতে দাও!’ মধ্যপ্রাচ্যের এ চরম সংঘাতের সময় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বারবার প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধরত দুই দেশকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নেতৃত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বিশ্বনেতারাও। জাতিসংঘ, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের এ কূটনৈতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, এ চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ সুগম করবে। জাতিসংঘ মহাসচিব জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওয়াশিংটন ও তেহরানকে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ চুক্তি অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করবে’। বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলা এ সংঘাত নিরসনে সালিশকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ প্রধান। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস মন্তব্য করেন, ‘এটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। সৌদি আরব সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামরিক অভিযান বন্ধ এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতাকে রিয়াদ স্বাগত জানায়’। বিবৃতিতে শান্তির পথ সচল রাখতে অন্যান্য প্রধান দেশের পাশাপাশি পাকিস্তানের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। কাতার কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থনের পাশাপাশি এ প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করার ক্ষেত্রে ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তানের গঠনমূলক প্রচেষ্টার আমরা উচ্চ প্রশংসা করি’। উপসাগরীয় এ দেশটি আশা প্রকাশ করে যে, এ শান্তি চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ত্বরান্বিত করবে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে একটি ‘গঠনমূলক আলোচন’ এগিয়ে নেবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপর এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে ‘ইউএস-ইরান সমঝোতা স্মারক’ তৈরিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। তুরস্ক তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ চুক্তিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি ও প্রশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক ফলাফল আনার পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য আমি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাই’। একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে এমন যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য ও নাশকতা সম্পর্কে সতর্ক করেন তিনি। যুক্তরাজ্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তান, কাতার ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতাকারীদের অভিনন্দন জানাই- যারা এ যুগান্তকারী সাফল্যে অবদান রেখেছেন’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ পদক্ষেপকে যুদ্ধ অবসান ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘একটি বিশাল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এ পর্যন্ত নেওয়া প্রচেষ্টার আমরা প্রশংসা করি’। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশাপাশি লেবাননেও উত্তেজনা হ্রাস ও সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ফ্রান্স ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা স্বীকার করে বলেন, এ চুক্তিটি একটি সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল, যেখানে বেশ কয়েকটি অংশীদার অবদান রেখেছে। তিনি যুদ্ধরত সব পক্ষকে এটি দ্রুত এবং সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। জাপান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘পরিস্থিতি সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে আমরা এ সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানাই। এটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কূটনৈতিক সমাধান এবং অবিরাম আলোচনার ফল’।তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হবে। জার্মানি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প এবং ইরান পক্ষকে এ কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পথ প্রশস্ত করতে পারে’। নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ চুক্তিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এখন এটি খুলে দেওয়ার ফলে প্রধান সরবরাহ চেইনগুলোতে আস্থা ফিরে আসবে। সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুদ্ধরত দেশ দুটির মধ্যে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলেও পাকিস্তান সরকারের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাঈল বাঘাই বলেন, “হরমুজ প্রণালী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।” তিনি বলেন, “এই জলপথে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন হবে।” হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, “ফি নেওয়া হবে।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এটি শুধু কোনও ধরনের চার্জ নয়; বরং জাহাজ চলাচলের জন্য বিভিন্ন ধরনের পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার অংশ হিসেবে এই অর্থ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হবে। ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকে আরও অনেক ধরনের সেবা দেওয়া হবে, আর এসব সেবার জন্য অর্থ ব্যয় হবে। সেই অনুযায়ী ফি থাকবে এবং বিষয়টি পরিষ্কার।” বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ইরান ও ওমানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক তেল বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে আজ রাত থেকেই সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে বলে জানিয়েছে ইরান। খবর টাইমস অব ইসরায়েল। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান সংঘাতেরও অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার প্রক্রিয়াও আজ রাত থেকেই শুরু হবে। ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘারিবাবাদির বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। ঘারিবাবাদি আরও জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোনো পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও জানান। তবে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থানের মধ্যে এখন কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষিত চুক্তি কার্যকর হলে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমিত হতে পারে। এমনকি দেশটি লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার বা হামলা স্থগিত করতেও বাধ্য হতে পারে। এ পরিস্থিতি ইসরায়েলের কট্টরপন্থিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের দাবি, চুক্তিটি ইরানের জন্য রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে। আর তেহরানের এমন সাফল্য ইসরায়েলের জন্য একটি ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখা হতে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ইসরায়েলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশ উঁচু ছিল। তবে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির উদ্যোগের পর দেশটির ডানপন্থি মহলের একটি অংশ এখন ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।