ভাদ্রের বিদায়লগ্নেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও দেশে সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ৫ দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে এদিন সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক আরও জানিয়েছেন, আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। আর এই সময়ে সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এদিনও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। অন্যদিকে আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে এদিন সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এদিনও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় দেশের সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি এই সময়ে যশোরে ৫ মিলিমিটার ছাড়াও বগুড়ায় ৪, নারায়ণগঞ্জে ৩, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও চাঁদপুরে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বর্ধিত ৫ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় খালাসের আদেশপ্রাপ্ত ১০ আসামি তিনটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম সাড়ে সাত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনী জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। মাকসুদ আলম সোনাগাজী উপজেলার চর গণেশ এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আহসান উল্যাহর ছেলে। সোনাগাজী কামিল মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন গাজীপুর কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সোমবার বিকালে মুক্তি পেয়েছেন। মহিলা বন্দি কামরুন্নাহার মণি গাজীপুর কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের সবাইকে তাদের স্বজনরা ফুল দিয়ে বরণ করেন। ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহত নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনী জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদের আদালত ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে গত ২৪ আগস্ট অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড ও চারজন আসামি নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপির যাবজ্জীবন এবং ১০ জন আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়। ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মাকসুদ আলমের খালাসের আদেশের কপি বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফেনী কর্তৃক প্রেরিত রোববার রাত ৮টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। সেই আদেশের আলোকে ১৪ সেপ্টেম্বর মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ আলী কাউন্সিলরকে কারাগার থেকে মুক্তি প্রদান করা হয়।
আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকে প্রথম শ্রেণি ছাড়া দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের পর যে কোনো দিন এ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, আগামী নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য আসনের তথ্য নেওয়া হবে। এরপর শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে মাউশি এরই মধ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী- প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে সময় থাকবে এক ঘণ্টা। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এক্ষেত্রে সময় থাকবে দুই ঘণ্টা। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে তা প্রস্তাব আকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তাদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলো- ১৭ ডিসেম্বরের পর থেকে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, মাউশি থেকে একটি প্রস্তাবনা শিগগির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিলে ভর্তি নীতিমালা জারি করা হবে।
ইয়েমেন সংঘাত তীব্র আকার ধারণ ও হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে হরমুজ নিয়ে ইরানের সাথে উপসাগরীয় দেশের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের অনুরোধে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার ওমানে হরমুজ প্রণালি বিষয়ক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। খবর দ্য গার্ডিয়ান ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, সবার মধ্যে ঐকমত্য ও সমঝোতা তৈরির স্বার্থেই বৈঠকটি আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বৈঠকটি পেছানোর সুনির্দিষ্ট কারণ বা বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি। এই বৈঠকটি সফল হলেও হরমুজ প্রণালি সঙ্গে সঙ্গে উন্মুক্ত হতো না। কারণ ইরান আগে থেকেই বেশ কিছু কঠিন শর্ত দিয়ে রেখেছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—ইরানের তেল বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, তাদের আটকে থাকা সব সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। তবে বৈঠকটি স্থগিত হওয়া বড় একটি ধাক্কা, কারণ দীর্ঘ দুই বছর পর ইরান ও জিসিসিভুক্ত (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) মূল দেশগুলোর মধ্যে এটিই হতো প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা। এই বৈঠকে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী রুট নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল, যা কার্যকর হলে নৌ-রুটটি পুরোপুরি ইরানের জলসীমায় পড়ত এবং প্রণালিটির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ আরো পাকাপোক্ত হতো। ইরানের কর্মকর্তারা জানান, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকটিতে তাঁরা অংশ নেবেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কিভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে ওমানের সঙ্গে করা একটি চুক্তি তুলে ধরার কথা ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ইরানের ফারস নিউজকে বলেন, এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে নিয়েছে। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈঠকের নতুন তারিখ ঠিক করা হবে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পরপর ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশীদের বৈঠক স্থগিতের খবর পাওয়া গেল। আপাতত বন্ধ থাকা এ পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ কাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’ ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে। সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিদ্যুৎখাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো কিছু পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানাতে চাই যে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক। ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ। এ ছাড়াও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে এ আগুন লাগে। ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া জমে যায়। এ সময় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তবে অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের লিফটের মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন শেষ হয়েছে। এতে ভর্তি হতে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভর্তি আবেদনের টেকনিক্যাল দিকগুলো বুয়েট দেখছে। আমরা তাদের কাছ থেকে একদম সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটা জানতে পারিনি। আমাদের সিস্টেম অ্যানালিস্টরাও তথ্যটা হাতে পাননি। মৌখিকভাবে জেনেছি, প্রায় ১০ লাখের মতো শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তির আবেদন করেছে। আমরা শিগগির কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে মনোনয়ন পেল, সেই তালিকা প্রকাশ করবো। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২-১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন নেওয়া হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। অনলাইন আবেদন, ফল প্রকাশ, শিক্ষার্থী নির্বাচন ও নিশ্চায়ন প্রক্রিয়ার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামী ২০-২২ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। তবে একই দিন ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি পড়লে পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতে পারে।
এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে, এখনো গেজেটের কোনো খবর নেই। এ কারণেই সবার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে— আবার কোথায় আটকে গেল!’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা। তিনি আরও বললেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করার কথা থাকলেও গত ১০ বছরে তা হয়নি। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ৩১ অগাস্ট নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে বাংলাদেশের সরকার। মন্ত্রসভায় অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি জানানোও হয়। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হতে পারে বলে তখন ইঙ্গিত দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানাচ্ছেন সাবেক আমলারা। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পর গেজেট প্রকাশের জন্য যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেখানে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি অনেক সময় মাসও লেগে যেতে পারে। কিন্তু এবার বিষয়টি ঘিরে হতাশা দেখা যাচ্ছে, যেহেতু অনেকদিন পর পে-স্কেলের ঘোষণাটা এসেছে। এদিকে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর খসড়াটি অর্থমন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খসড়াটি এখনও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে যায়নি, বরং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই আটকে আছে। কেন গত দুই সপ্তাহ ধরে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে? যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে কতদিন সময় লাগতে পারে? অতীতে কেমন সময় লেগেছে? চলতি বছরের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের সাতই সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এরপর একই বছরের ১৫ই ডিসেম্বর, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন মাস পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এত সময় লাগার কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রশাসনিক ও আইনগত বেশকিছু প্রস্তুতি এবং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপটিই হচ্ছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া প্রস্তুত করা। সেই কাজ করে থাকে অর্থ মন্ত্রণালয়। সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, নতুন পে-স্কেলের অনুমোদন চেয়ে যে খসড়াটা মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়, সেখানে মূলত মোটাদাগে কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়ানো হবে, সেটার একটা প্রস্তাবনা থাকে। কিন্তু অনুমোদন পাওয়ার পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাদের ক্ষেত্রে কীভাবে সেটি বাস্তবায়িত হবে, সেটার হিসাবটা কী হবে- এসব বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা ও নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়। এক্ষেত্রে জনপ্রশাসনের বাইরে সেনা-নৌ ও বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হবে, খসড়ায় সেটারও বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে অনেক সময় এসব কাজ করতেই বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়। বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেটি পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় সংবিধান বা চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের ব্যত্যয় বা বিরোধ আছে কি-না, সেটি খতিয়ে দেখা হয়। সেইসঙ্গে, প্রজ্ঞাপনের খসড়ায় ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ, বাক্য এবং আইনি পরিভাষায় কোনো অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থবোধকতা আছে কি-না, সেটাও খতিয়ে দেখা হয়। এটি করা হয়, যাতে পরবর্তীতে কোনো আইনি জটিলতা বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ না থাকে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য যেসব বিধিমালা বা সংবিধিবদ্ধ আদেশ জারি করার প্রয়োজন হয়, সেগুলোর খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়। তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া শেষ করে প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো। প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া হাতে পাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মুদ্রণের জন্য সেটি পাঠান সরকারি মুদ্রণালয়, তথা বিজি প্রেসে। মুদ্রণের পর সেটি সংগ্রহ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। খসড়া পায়নি আইন মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। রোববার বিকালে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহ আমরা শুনেছিলাম যে, দুই-এক দিনের মধ্যেই অনুমোদিত পে-স্কেলের ড্রাফটটা ভেটিংয়ের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটা আমাদের হাতে আসেনি। খসড়াটি এখন রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার দুই সপ্তাহ পরও সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে কেন? অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এটা আসলে আটকে রাখার বিষয় না। গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন, সেগুলো মেনে কাজ করতে একটু সময় লাগছে। মূলত এখন সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলে জানা যাচ্ছে। ‘দ্রুতই ভেটিংয়ের জন্য এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, তারপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে,’ বলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআরের প্রধান কার্যালয় রাজস্ব ভবনে বহিরাগতদের প্রবেশ ‘অনেক বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা’ দেখা দিয়েছে দাবি করে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে কর আদায়ের এ সংস্থাটি। সোমবার এক নোটিসে এনবিআর বলেছে, রাজস্ব ভবনে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এনবিআর ও ভবনের অন্যান্য দপ্তরে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) হতে দাপ্তরিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রাজস্ব ভবনে প্রবেশের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের দপ্তর রয়েছে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল-সিআইসি, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের বৃহৎ করদাতা ইউনিট এবং আপিল বিভাগ অন্যতম। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রায় দুই দশক পর বিএনপির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের অদলবদলের মধ্যে এনবিআরের চেয়ারম্যানের পদে পরিবর্তন আসে। কর ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে এনবিআর সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এনবিআর ভবনে আসতে শুরু করেন। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিতে ভিড় করলে তিনি সেসব ফিরিয়ে দেন। ওইসময়ে আহসান হাবিবকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন ব্যাচভিত্তিক এনবিআর কর্মকর্তারা একযোগে আসা শুরু করলে সেটিও বন্ধ করা হয়। অফিসের সময়ে বিনা অনুমতিতে কারও কর্মস্থল ত্যাগ না করার নোটিস দেয় এনবিআর। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ে আসা লোকদের কমানো যাচ্ছিল না; এমনকি পোশাক দেখে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও তাদের আলাদা করতে পারছিলেন না। এর প্রেক্ষিতে এনবিআর ও এই ভবনে থাকা দপ্তরগুলোর কর্মীদের আলাদা করার জন্য তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহারে সোমবার এ নোটিস দেওয়া হল।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর স্থগিত থাকার মতো কিছু জটিলতা সত্ত্বেও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী ভারত। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে পাশ কাটিয়ে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। তারেক রহমান ভারতে তার পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত রাখলেও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তা স্থগিত রাখেন। তবে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, রাজনীতি নিজ গতিতে চললেও দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি হাইকমিশনার ঢাকায় উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বর্তমান বাংলাদেশ প্রশাসনও ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। এদিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আগামী ডিসেম্বরেই ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে এই চুক্তি নবায়ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হবে।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ দাবি করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। এক বিবৃতিতে সারি বলেন, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিমানঘাঁটির উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদামসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলায় ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন হুতিদের এই মুখপাত্র। তবে এসব দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। গত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদির এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ৩০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এদিকে খামিস মুশাইত গভর্নরেটে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছিল। পরে তারা জানায়, বিপদ কেটে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলা এবং ঘটনাস্থলে ভিড় করে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে হুতিরা। ভবিষ্যতে হামলা হলে তা আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এই হামলার দাবি করা হলো। সৌদি আরব ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা জোরদার করেছে। এর জবাবে হুতিরা সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান লক্ষ্য করে হুতিদের হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এসব হামলায় সৌদির কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগা ও সাময়িকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুতিরা। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সংঘাত চলছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ঝুঁকি সম্পর্কে ব্রিকস নেতাদের সতর্ক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, এ ধরনের প্রবণতা বিশ্বে এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারে। রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কোনো দেশই এড়িয়ে যেতে পারছে না। কোনো সংকটই এখন আর নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মোদি বলেন, মহামারি, জলবায়ু দুর্যোগ ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখিয়েছে যে পরস্পরনির্ভর এই বিশ্বে একটি অঞ্চলের সংকটও দ্রুত অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, সেগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকা এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ব্রিকস দেশগুলো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলেও জানান মোদি। তিনি বলেন, আগাম সতর্কতার জন্য তথ্য একীভূত করার ব্যবস্থার নির্দেশিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে মোদির বক্তব্যের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মোদি বলেন, ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের কার্যক্রমে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন এ চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অংশীদার দেশগুলোর সহযোগিতায় এই অভিন্ন লক্ষ্যকে পারস্পরিকভাবে লাভজনক উদ্যোগে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস নেতারা যৌথ ছবি তোলেন। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, মিসর, বুরুন্ডি, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদির। সম্মেলনের আগের দিন প্রকাশিত নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে; এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ব্রিকসের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের আইনগত দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়। ঘোষণায় একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষাবাদী নীতির বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বিচারে শুল্ক বাড়ানো ও পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যের নামে নতুন বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার কিছুক্ষণ আগেই একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের শীর্ষ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় চালানো হামলায় ট্রেনটির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বরিস জনসন এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কিয়েভে একটি সম্মেলন শেষে একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে ফিরছিলেন। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনের ‘রেল অবকাঠামোতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি উক্রজালিজনিতসিয়া বলেছে, হামলার লক্ষ্য সম্ভবত কূটনৈতিক ট্রেনও হতে পারে। হামলার সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা আরেকটি ট্রেনের যাত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রিয়াস ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, এটি এমন এক নেতার কাজ, যিনি ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছেন। ইউক্রেনের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ হামলার আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনটি স্টেশন ছেড়েছিল। হামলার মাত্র ১৫ মিনিট আগে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইউক্রেন ও পোল্যান্ড—দুই দেশের কর্তৃপক্ষই জানিয়েছে, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে। সম্মেলন শেষে একই পথে ফিরছিলেন সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্টও। তিনি জানান, তার ট্রেন থামার পর যাত্রীদের সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানানো হলে ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে এবং নিরাপদে পোল্যান্ডের দোরোহুস্ক সীমান্ত স্টেশনে পৌঁছায়। বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি স্থির ইউক্রেনীয় ট্রেনে হামলা চালানোর পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কী যুক্তি ছিল, তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি এটিকে প্রতিদিনের ‘এলোমেলো ও অর্থহীন হামলার’ আরেকটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। জনসন ইউক্রেনের মিত্রদের দ্রুত দেশটিকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানান। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, ইয়াহোদিনে হামলা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দরজায় রুশ ‘সন্ত্রাসের কড়া নাড়ার’ মতো। তিনি মস্কোর ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। এদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ড ক্রমেই বাড়ছে এবং তা পোল্যান্ডের সীমান্তের আরও কাছে চলে আসছে। বরিস জনসন ও ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কিয়েভে অনুষ্ঠিত ইয়াল্টা ইউরোপিয়ান স্ট্র্যাটেজি (ওয়াইইএস) সম্মেলন শেষে ফিরছিলেন। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে রাজনীতি, ব্যবসা, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।