পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এসব রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকেই মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় উদযাপন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছাড়াও যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদ ঘিরে জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিতের পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঈদের আগে ৭ দিন ও পরবর্তী ৩ দিন বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা ছাড়াও মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তারা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রকে সাধারণত স্থায়ী বলে মনে করা হলেও ইতিহাস বলছে—রাষ্ট্র, সীমানা ও সার্বভৌমত্ব সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। রোমান সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়ার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রও একসময় বিলুপ্ত বা বিভক্ত হয়েছে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত বিভাজনের কারণে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের কিছু দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ: মালদ্বীপ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুবই নিচু অবস্থানে থাকায় মালদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে দেশের বড় অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিরিবাতি: কিরিবাতির বহু দ্বীপ ইতোমধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকার নাগরিকদের পুনর্বাসনের জন্য বিদেশে জমি কেনার উদ্যোগও নিয়েছে। তুভালু: নিয়মিত জোয়ার ও লবণাক্ত পানির কারণে তুভালুতে কৃষি ও সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারে। রাজনৈতিক ও জাতিগত বিভাজনের চাপ: বেলজিয়াম: ফ্ল্যান্ডার্স ও ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের ভাষাগত ও রাজনৈতিক বিভাজন বেলজিয়ামকে কার্যত দুই ভিন্ন সমাজে পরিণত করেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: জটিল শাসনব্যবস্থা ও জাতিগত বিভাজন দেশটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে। ইরাক: কুর্দি অঞ্চলসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেশটির জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে তুলছে। যুদ্ধ ও শাসন সংকটে ভঙ্গুর রাষ্ট্র: ইয়েমেন: দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে দেশটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে গেছে। লিবিয়া: ২০১১ সালের পর থেকে একাধিক সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত দেশ। হাইতি: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্যাং সহিংসতায় দেশের বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সোমালিয়া: দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বিভক্ত রাষ্ট্র কাঠামো; কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। বিচ্ছিন্নতাবাদ ও অভ্যন্তরীণ সংকট: যুক্তরাজ্য: স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবি এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী অনিশ্চয়তা দেশের ঐক্যকে চাপে ফেলেছে। স্পেন: কাতালোনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন স্পেনের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। মলদোভা: ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলসহ ভূরাজনৈতিক বিভাজন দেশটিকে দুর্বল অবস্থায় রেখেছে। সাইপ্রাস: উত্তর ও দক্ষিণ সাইপ্রাসের দীর্ঘ বিভাজন এখনো সমাধান হয়নি। উত্তর কোরিয়ার অনিশ্চয়তা: উত্তর কোরিয়া: খাদ্য সংকট, কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশটির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশ একদিনে হারিয়ে যাবে না। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতিগত বিভাজন ধীরে ধীরে রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল করে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিশ্ব মানচিত্র পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। সূত্র: ট্রাভেল পাগ, নিউজব্রেক, ইউরোনিউজ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্যদের (ভিসি) পদত্যাগের যে ঢল নেমেছিল, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির নতুন পটপরিবর্তনের পর আবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্যরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ভিসিরাও এখন একে একে পদত্যাগ করছেন এবং অনেককে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। পদত্যাগ ও অব্যাহতি পাওয়া এই ভিসিরা অনেকেই আবার তাদের পূর্বের নিজ নিজ কর্মস্থলে ও মূল পদে ফিরে গেছেন। অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান নিয়োগ পেয়েছেন ড. ইউনূসের বেসরকারি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পটভূমি: ২০২৪-এর আগস্টের পর গণপদত্যাগ ও নতুন নিয়োগ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তৎকালীন সময়ে মবের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রাবিপ্রবি) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সরকার পতনের পরপরই অন্তত ১৩ জন ভিসি পদত্যাগ করেছিলেন, যার মধ্যে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সরকার ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব শূন্য পদে নিয়োগ দেয়। নির্বাচিত সরকার গঠন ও ঢাবি ভিসির পদত্যাগ: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ মার্চ বিএনপি সরকার গঠন করলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ পদে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। নির্বাচিত সরকার গঠনের ১২ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর তাকে ড. ইউনূসের বেসরকারি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একযোগে ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অব্যাহতি ও মূল পদে যোগদান : মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১১টি পাবলিক ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই দিন ওই ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। অব্যাহতি পাওয়া ভিসিদের নিজ নিজ মূল পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামানকে অব্যাহতি দিয়ে তার আগের পদ পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট): উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক পদে যোগদান করতে বলা হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি): ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি): ভিসি অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি): ভিসি ড. মো. আতিয়ার রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি): ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জামালপুর): ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: ভিসি অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি): অপরদিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল গত ১৬ মার্চ পদত্যাগ করেন। তিনি অবশ্য মূল পদে না ফিরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) হিসেবে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন।
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনার ন্যায়বিচার ও দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলের খবরও পাওয়া গেছে। শোবিজ অঙ্গনের একাধিক তারকা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রকাশ্যে কার্যকর করার দাবি জানান। অভিনেত্রী বলেন, অন্তত একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইন প্রয়োগের কঠোর বার্তা সমাজে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ঢালিউড অভিনেতা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সমাজে ভয় ও সচেতনতা তৈরি হয়। নির্মাতা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। উপস্থাপক-ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া নির্মাতা,, অভিনেত্রী, এলিনা শাম্মীসহ আরও অনেকে ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংগীতশিল্পী সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এদিকে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে শিশু ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু রামিসার বাসায় গিয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় রামিসার বড় বোনের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের বাসায় পৌঁছান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ আরও অনেকে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। দ্রুত বিচারের আশ্বাসও দেন তিনি। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। একইসঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের ভেতরে নতুন করে ‘এস আলম’ ও ‘সালমান এফ রহমান’ হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে অতীতের লুটপাট ও রাজনৈতিক প্রভাবের সংস্কৃতি এখনো বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় “বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট : কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি সংস্কারমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানভিত্তিক বাজেট প্রত্যাশা করে। তবে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নাহিদের ভাষ্য, গত ১৬ বছরে ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকারের সময় এই সংস্কৃতির অবসান হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, নতুন করে কে এস আলম হবে, কে সালমান এফ রহমান হবে—সেই প্রতিযোগিতাই শুরু হয়েছে।” দেশীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, শুধুমাত্র উপদেষ্টা কমিটিতে ব্যবসায়ীদের রাখলেই আস্থা তৈরি হয় না; বরং সৎ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলো সহজেই ঋণ পেলেও ক্ষুদ্র কৃষক বা সাধারণ ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের ক্ষেত্রেও কঠোর চাপের মুখে পড়েন। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কোনো একক সরকারের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়; এজন্য সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ও সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ বিষয়ক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে স্বাক্ষরের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাপানের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, সাতটি বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির সুরক্ষায় গঠিত বৈশ্বিক জোট ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৩ সালের এপ্রিলে গঠিত এই জোটে বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতাবাঘ, পুমা, জাগুয়ার ও চিতা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে জাতিসংঘের ২৪টি সদস্য রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এতে যুক্ত রয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের সুন্দরবন-এর অন্যতম প্রধান আবাসস্থল হওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এই জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী বাণিজ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য বৈশ্বিক চুক্তি’ বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের খসড়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এই বৈশ্বিক চুক্তিতে বাংলাদেশসহ ১৬৪টি দেশ যুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে এ চুক্তির ‘চ্যাম্পিয়ন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বৈঠকে আরও জানানো হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাতটি মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জেলায় বাড়তে শুরু করেছে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার পাহাড়ি ও দুর্গম উপজেলা-কে এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ১৭ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ জন শনাক্ত হয়েছেন দীঘিনালায়। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজন, মাটিরাঙ্গায় তিনজন, রামগড়ে দুজন, মহালছড়িতে একজন এবং লক্ষ্মীছড়িতে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত জেলায় মোট ৪২ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু দীঘিনালাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন, যা মোট রোগীর অর্ধেকের বেশি। এ কারণে উপজেলাটিকে ম্যালেরিয়ার ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে জেলায় ৭৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৯। এছাড়া ২০২৩, ২০২২, ২০২১ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৩৩, ৯, ৫ ও ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি, বনাঞ্চলঘেরা পরিবেশ এবং জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার দ্রুত হওয়ায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সচেতনতার অভাব ও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। , জেলা সার্ভেইলেন্স মেডিকেল অফিসার, বলেন—ম্যালেরিয়ার কিছু ধরন অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই জ্বর হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মশার কামড় এড়াতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। তিনি পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরারও পরামর্শ দেন। খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তার মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রকে সাধারণত স্থায়ী বলে মনে করা হলেও ইতিহাস বলছে—রাষ্ট্র, সীমানা ও সার্বভৌমত্ব সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। রোমান সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়ার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রও একসময় বিলুপ্ত বা বিভক্ত হয়েছে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত বিভাজনের কারণে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের কিছু দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ: মালদ্বীপ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুবই নিচু অবস্থানে থাকায় মালদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে দেশের বড় অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিরিবাতি: কিরিবাতির বহু দ্বীপ ইতোমধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকার নাগরিকদের পুনর্বাসনের জন্য বিদেশে জমি কেনার উদ্যোগও নিয়েছে। তুভালু: নিয়মিত জোয়ার ও লবণাক্ত পানির কারণে তুভালুতে কৃষি ও সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারে। রাজনৈতিক ও জাতিগত বিভাজনের চাপ: বেলজিয়াম: ফ্ল্যান্ডার্স ও ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের ভাষাগত ও রাজনৈতিক বিভাজন বেলজিয়ামকে কার্যত দুই ভিন্ন সমাজে পরিণত করেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: জটিল শাসনব্যবস্থা ও জাতিগত বিভাজন দেশটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে। ইরাক: কুর্দি অঞ্চলসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেশটির জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে তুলছে। যুদ্ধ ও শাসন সংকটে ভঙ্গুর রাষ্ট্র: ইয়েমেন: দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে দেশটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে গেছে। লিবিয়া: ২০১১ সালের পর থেকে একাধিক সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত দেশ। হাইতি: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্যাং সহিংসতায় দেশের বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সোমালিয়া: দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বিভক্ত রাষ্ট্র কাঠামো; কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। বিচ্ছিন্নতাবাদ ও অভ্যন্তরীণ সংকট: যুক্তরাজ্য: স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবি এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী অনিশ্চয়তা দেশের ঐক্যকে চাপে ফেলেছে। স্পেন: কাতালোনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন স্পেনের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। মলদোভা: ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলসহ ভূরাজনৈতিক বিভাজন দেশটিকে দুর্বল অবস্থায় রেখেছে। সাইপ্রাস: উত্তর ও দক্ষিণ সাইপ্রাসের দীর্ঘ বিভাজন এখনো সমাধান হয়নি। উত্তর কোরিয়ার অনিশ্চয়তা: উত্তর কোরিয়া: খাদ্য সংকট, কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশটির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশ একদিনে হারিয়ে যাবে না। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতিগত বিভাজন ধীরে ধীরে রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল করে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিশ্ব মানচিত্র পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। সূত্র: ট্রাভেল পাগ, নিউজব্রেক, ইউরোনিউজ
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রকে সাধারণত স্থায়ী বলে মনে করা হলেও ইতিহাস বলছে—রাষ্ট্র, সীমানা ও সার্বভৌমত্ব সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। রোমান সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়ার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রও একসময় বিলুপ্ত বা বিভক্ত হয়েছে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত বিভাজনের কারণে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের কিছু দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ: মালদ্বীপ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুবই নিচু অবস্থানে থাকায় মালদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে দেশের বড় অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিরিবাতি: কিরিবাতির বহু দ্বীপ ইতোমধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকার নাগরিকদের পুনর্বাসনের জন্য বিদেশে জমি কেনার উদ্যোগও নিয়েছে। তুভালু: নিয়মিত জোয়ার ও লবণাক্ত পানির কারণে তুভালুতে কৃষি ও সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারে। রাজনৈতিক ও জাতিগত বিভাজনের চাপ: বেলজিয়াম: ফ্ল্যান্ডার্স ও ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের ভাষাগত ও রাজনৈতিক বিভাজন বেলজিয়ামকে কার্যত দুই ভিন্ন সমাজে পরিণত করেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: জটিল শাসনব্যবস্থা ও জাতিগত বিভাজন দেশটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে। ইরাক: কুর্দি অঞ্চলসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেশটির জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে তুলছে। যুদ্ধ ও শাসন সংকটে ভঙ্গুর রাষ্ট্র: ইয়েমেন: দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে দেশটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে গেছে। লিবিয়া: ২০১১ সালের পর থেকে একাধিক সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত দেশ। হাইতি: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্যাং সহিংসতায় দেশের বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সোমালিয়া: দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বিভক্ত রাষ্ট্র কাঠামো; কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। বিচ্ছিন্নতাবাদ ও অভ্যন্তরীণ সংকট: যুক্তরাজ্য: স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবি এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী অনিশ্চয়তা দেশের ঐক্যকে চাপে ফেলেছে। স্পেন: কাতালোনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন স্পেনের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। মলদোভা: ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলসহ ভূরাজনৈতিক বিভাজন দেশটিকে দুর্বল অবস্থায় রেখেছে। সাইপ্রাস: উত্তর ও দক্ষিণ সাইপ্রাসের দীর্ঘ বিভাজন এখনো সমাধান হয়নি। উত্তর কোরিয়ার অনিশ্চয়তা: উত্তর কোরিয়া: খাদ্য সংকট, কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশটির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশ একদিনে হারিয়ে যাবে না। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতিগত বিভাজন ধীরে ধীরে রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল করে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিশ্ব মানচিত্র পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। সূত্র: ট্রাভেল পাগ, নিউজব্রেক, ইউরোনিউজ
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আমরা রয়েছি। আমাদের নৌ-অবরোধ শতভাগ কার্যকর। কেউ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। এটি অনেকটা লোহার দেয়ালের মতো।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা হরমুজকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। এখানে কোনো টোল গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ।” এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের পর এবার ক্যারিবিয়ান সাগরে নিজেদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রণতরীটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস নিমিৎজের সঙ্গে রয়েছে ক্যারিয়ার এয়ার উইং-১৭, যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গ্রিডলি এবং সরবরাহ জাহাজ ইউএসএনএস প্যাটাক্সেন্ট। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, কৌশলগত সক্ষমতা ও সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাইওয়ান প্রণালি থেকে আরব উপসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইউএসএস নিমিৎজ। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার সঙ্গে গত শতকের ষাটের দশক থেকেই বিরোধ চলে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের। বিভিন্ন সময়ে কিউবার সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালালেও তা সফল হয়নি। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। দুই মাস আগে দেশটির ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে কিউবায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিউবা রাশিয়া ও ইরান থেকে ৩০০ সামরিক ড্রোন কিনছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ড্রোন গুয়ান্তানামো উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটি এবং ফ্লোরিডা উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রতিবেদনের পর কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা জি-২ এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কিউবার কয়েকজন মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা এবং কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতার নাম রয়েছে। এছাড়া কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি দেশটির বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে আলোচনা করতে বেইজিং সফর করেছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টেও চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সে সময় তিনি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে অংশ নেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে চীন ও রাশিয়া। বুধবার বেইজিংয়ে ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের যৌথ শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি ও মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ওয়াশিংটন নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যদিও মস্কো চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে একমত হলেও রাশিয়া ও চীন প্রত্যাশিত বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।