সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
এলপিএলে ওপেনিংয়ে নেমেও ব্যর্থ মিরাজ

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি হলেও ভাগ্য বদলাল না মেহেদী হাসান মিরাজের। এবার ওপেনিংয়ে নামার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।   শনিবার ডাম্বুলায় ক্যান্ডি রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে গল গ্যালান্টসের হয়ে ইনিংস শুরু করেন মিরাজ। তবে মাত্র ৫ বলে ৫ রান করেই ফিরে যান তিনি।   ইনিংসের শুরুতে ভিজয় শঙ্কাকে লেগ সাইড দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এক বাউন্ডারি হাঁকান মিরাজ। কিন্তু পরের ওভারেই নুয়ান থিসারার নিখুঁত ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।   শুধু ব্যাট হাতেই নয়, এ ম্যাচে বল করার সুযোগও পাননি বাংলাদেশের এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। চলতি আসরে চার ম্যাচ খেললেও এখন পর্যন্ত উইকেটশূন্য রয়েছেন তিনি।   এলপিএলে মিরাজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও আশানুরূপ নয়। জাফনা কিংসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে করেন ১০ রান। এরপর কলম্বো ক্যাপসের বিপক্ষে ১৩ এবং ডাম্বুলা সিক্সার্সের বিপক্ষে ১৬ রান করেছিলেন। ওপেনিংয়ে নেমেও এবার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি তিনি।   ক্যান্ডি রয়্যালসের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মিরাজের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গল গ্যালান্টস।

৪৮ মিনিট আগে
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।   শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৯টা ২০ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার সংবাদ আসে রাত ৯টা ২০ মিনিটে। পরে ঘটনাস্থলে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুনের কোনো অস্তিত্ব পায়নি। তবে কার্গো ভিলেজের পাশে একটি ময়লার স্তুপে ধোঁয়া দেখা যায়। সেখানে দুটি ইউনিট কাজ করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

৫১ মিনিট আগে
অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ছিটকে গেলেন নাহিদ

সাইড স্ট্রেইনের চোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন নাহিদ রানা। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তার মাঠে ফিরতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগবে।   শনিবার এক বিবৃতিতে তার ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি।   সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে, গত ১৭ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিংয়ের সময় এই চোটে পড়েন নাহিদ। পরে ওই ম্যাচে তাকে আর বোলিং করানো হয়নি। খেলতে পারেননি ওই সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও।   গত বুধবার দেশে ফেরার পর এই পেসারের স্ক্যান করানো হয়। সেখানে সাইড স্ট্রেইনের গ্রেড টু চোট ধরা পড়ে।   ফলে, তাকে আপাতত চার সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে।   বিশ্রাম শেষে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করে মাঠে ফিরতে আরও অন্তত দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগবে নাহিদের। সব মিলিয়ে তাকে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।   দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগামী ১ ও ৩ অগাস্ট দুই ভাগে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে উড়াল দেবে বাংলাদেশ দল। আগামী ১৩ অগাস্ট ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। পরের টেস্ট ২২ অগাস্ট থেকে।

৫৪ মিনিট আগে
অস্ট্রেলিয়া টেস্টে বড় ধাক্কা: প্রথম ম্যাচে নেই লিটন, অনিশ্চিত শরিফুল

চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন লিটন কুমার দাস। এই ম্যাচে শরিফুল ইসলামের খেলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। ফিটনেস পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টে খেলবেন তারা দুজন।   শনিবার এক বিবৃতিতে তাদের চোটের বিষয়ে বিস্তারিত জানায় বিসিবি। হ্যামস্ট্রিংয়ের গ্রেড-১ এর চোটে সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরের মাঝপথেই দেশে ফেরেন শরিফুল। এক সপ্তাহ বিশ্রামের পর গত মঙ্গলবার থেকে শুরু করেন পুনবার্সন প্রক্রিয়া। পুনর্বাসন চালিয়ে যাওয়া এই বাঁহাতি পেসার বুধবার থেকে বোলিং শুরু করবেন।   ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আগামী ১২ অগাস্টের আশেপাশে সময়ে দেবেন ফিটনেস পরীক্ষা। বোলিং ওয়ার্কলোড ঠিকঠাক থাকার পাশাপাশি ফিটনেস পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টে তাকে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে।   অন্যদিকে, ঘরের মাঠে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে পায়ের মাংসপেশির চোটে পড়েন লিটন। ৮-১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠার কথা থাকলেও এখনও চোটের সঙ্গে লড়ছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।   গত শুক্রবার সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ শেষে একটি থেরাপি দেওয়া হয়েছে তাকে। আগামী মঙ্গলবার থেকে ফের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবেন তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৩ অগাস্টের আশেপাশে সময়ে তিনি ফিটনেস পরীক্ষা দেবেন।   সেখানে সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টে তাকে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে।   ডারউইনে আগামী ১৩ অগাস্ট থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। আর দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২২ অগাস্ট থেকে, ম্যাকাইয়ে।   চোটে থাকা আরেক বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান আগামী ১৮ অগাস্টের পর থেকে ম্যাচ খেলার অনুমতি পাবেন। এর আগে চলতি মাসেই তার একটি ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ম মেনে তাকে দেওয়া হবে খেলার অনুমতি।

৫৬ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি
এলএনজি টার্মিনাল সচল হতে লাগবে আরও চার–পাঁচ দিন

মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চার দিনের ব্যবধানে দেশের ছয় বিতরণ কোম্পানির দৈনিক গ্যাস বিতরণ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট কমেছে।   এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) মেরামত করে আবার চালু করতে আরও চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। এতে করে রাজধানীসহ দেশজুড়ে গ্যাসের সংকটের ভোগান্তি আরও কয়েকদিন চলবে।   যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে স্থানীয় কারিগরি দল গত ২১ জুলাই বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই টার্মিনাল মেরামতে কাজ করছে।   রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের স্থাপনাপ্রধান ও উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিদেশি বিশেষজ্ঞরা টার্মিনালটি পরীক্ষা করে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। প্রাথমিক হিসাবে কাজ শেষ করতে চার থেকে পাঁচ দিন লাগতে পারে।   তবে টার্মিনালের কোন অংশে কী সমস্যা হয়েছে, কী কী যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি এই কর্মকর্তা।   এদিন তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণকারী সংস্থা বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   চলমান মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করলেও টার্মিনালটি থেকে কবে নাগাদ জাতীয় গ্রিডে আবার গ্যাস সরবরাহ করা শুরু করা যাবে সে বিষয়ে কিছু বলেনি সংস্থাটি।   সমুদ্রপথে আনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেটি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়। মহেশখালীতে এলএনজি গ্রহণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে।   স্বাভাবিক সময়ে টার্মিনাল দুটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়। এর একটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমেছে।   দেশে এলএনজি গ্রহণের বিকল্প অবকাঠামো না থাকায় দুটি এফএসআরইউর একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই পুরো গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছিল।   চার দিনে সরবরাহ কমেছে ৪৫ কোটি ঘনফুট পেট্রোবাংলার দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার আগে ১৮ থেকে ২০ জুলাই দেশের ছয় বিতরণ কোম্পানির দৈনিক গ্যাস বিতরণ ছিল মোট ২ হাজার ৫৮৭ থেকে ২ হাজার ৬০৪ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন (২৬০ কোটি ৪৯ লাখ) ঘনফুটের মধ্যে। ২০ জুলাই বিতরণ হয়েছিল ২ হাজার ৫৮৭ মিলিয়ন (২৫৮ কোটি ৭০ লাখ) ঘনফুট। পরদিন তা নেমে আসে ২ হাজার ৪২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। পরের দুদিন তা আরও কমে ২৪ জুলাই নেমে আসে ২ হাজার ১৩৫ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ঘনফুটে।   এ হিসাবে ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে দৈনিক গ্যাস বিতরণ কমেছে ৪৫১ দশমিক ৮২ মিলিয়ন বা প্রায় ৪৫ কোটি ১৮ লাখ ঘনফুট। চার দিনের ব্যবধানে বিতরণ কমেছে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ। এই সময়ে দেশি গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মোট উৎপাদনে বড় পরিবর্তন হয়নি। সাত দিনের প্রতিবেদনে এসব ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ থেকে ১ হাজার ৬৫৩ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে ছিল।   ফলে মহেশখালীর টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা গেছে।   কারিগরি ত্রুটিতে ২১ জুলাই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধের পর সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার তথ্য দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগও।   ‘রান্নার চুলাও জ্বলছে না’ তিতাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাসাবাড়ির রান্নাঘরেও। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। গভীর রাতে কিছুটা গ্যাস এলেও তা রান্নার জন্য পর্যাপ্ত নয়।   গ্রিন রোডের পেছনে নর্থ রোড এলাকার বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার বলেন, তাদের বাসায় দুই দিন ধরে দিনের বেলায় গ্যাস প্রায় ছিলই না। রাত ১১টা বা ১২টার পর কিছুটা গ্যাস এলেও চাপ এত কম ছিল যে রান্না করা যায়নি।   তিনি বলেন, ইন্ডাকশন চুলায় কোনোভাবে খাবার রান্নার ব্যবস্থা করলেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপ তৈরি হচ্ছে। কিছুক্ষণ ইন্ডাকশন চালালে বাসার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সকালের নাস্তার জন্য আগের রাতে খাবার তৈরি করে রাখতে হচ্ছে। সকালে ওভেনে গরম করে সন্তানদের খাওয়াচ্ছেন।   সোনিয়া বলেন, বাচ্চাদের জন্য স্কুলের টিফিন তৈরি করে দেওয়া যাচ্ছে না। বাইরের খাবার প্রতিদিন দিয়েতো গ্যাস হয়ে যাচ্ছে বাচ্চাদের। শনিবার কিছু গ্যাস এলেও চাপ কেবল খাবার গরম করার মত ছিল; রান্নার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।   মিরপুরের সেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা লিপি আক্তার বলেন, চার-পাঁচ দিন ধরে তাদের বাসাসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস নেই। পিয়ারিমুন এলাকার সব বাসাবাড়িতেও একই সমস্যা চলছে।   মিরপুর ১২ নম্বরের বাসিন্দা শরিফা বেগম গ্যাসের চাপ না থাকায় চুলা ব্যবহার বন্ধ রেখেছেন। কখন গ্যাস আসে আর কখন চলে যায়, তার ঠিক না থাকায় তিন বেলার রান্নার জন্য তাকে ইন্ডাকশন চুলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।   ইন্ডাকশন চুলায় রান্না চালানো গেলেও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কত আসবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।   গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও শিল্পকারখানাতেও।   চাপ কম থাকায় অনেক সিএনজি স্টেশন চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস নিতে পারছে না। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।   তিতাসে কমেছে ২৭ কোটি ঘনফুট টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির আওতাধীন ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে।   পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা গেছে, ২০ জুলাই তিতাসের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৪৮১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিতরণ হয়েছিল। ২৪ জুলাই তা নেমে আসে ১ হাজার ২১০ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুটে।   চার দিনের ব্যবধানে তিতাসের দৈনিক বিতরণ কমেছে ২৭১ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন বা প্রায় ২৭ কোটি ১৫ লাখ ঘনফুট।   এ সময়ে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস বিতরণ ৯৩৪ দশমিক ২১ মিলিয়ন থেকে নেমে এসেছে ৭০৬ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ এ খাতে দৈনিক প্রায় ২২ কোটি ৭৪ লাখ ঘনফুট কম গ্যাস গেছে।   পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে আবাসিক, বাণিজ্যিক, সিএনজি, চা-বাগান, শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ‘নন-বাল্ক’ গ্রাহক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ শ্রেণিতে বিতরণ ১ হাজার ৫০৬ দশমিক ৮২ মিলিয়ন থেকে কমে ১ হাজার ৩০৯ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। অর্থাৎ নন-বাল্ক গ্রাহকরা দৈনিক প্রায় ১৯ কোটি ৭৬ লাখ ঘনফুট কম গ্যাস পেয়েছেন।   গ্যাসের ঘাটতি ছিল আগে থেকেই বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি হলেও তিতাসের আওতাধীন এলাকায় এর আগেই দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি ছিল।   কোম্পানিটির পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান গত রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, তাদের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে তখনই সরবরাহ ১৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছিল।   পেট্রোবাংলার হিসাবেও ২০ জুলাই তিতাসের মোট বিতরণ ছিল প্রায় ১৪৮ কোটি ১৯ লাখ ঘনফুট। টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর তা আরও প্রায় ২৭ কোটি ঘনফুট কমে যায়।   সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় ঢাকার অবস্থান শেষের দিকে হওয়ায় রাজধানীতে সংকট তুলনামূলক বেশি বলে তিতাস কর্মকর্তাদের ভাষ্য। এর সঙ্গে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে কিছু এলাকায় গ্যাস চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে।   তিতাসের কর্মকর্তারা বলছেন, লাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেলে পাইপের বাইরের পানি ছিদ্র দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দৃশ্যমান ছিদ্রগুলো শনাক্ত করে মেরামত করা গেলেও মাটির নিচে থাকা ছিদ্র খুঁজে বের করতে সময় লাগে। সংশ্লি0ষ্ লাইন থেকে পানি বের না করা পর্যন্ত ওই এলাকার সরবরাহ স্বাভাবিক হয় না।   ঢাকার পুরোনো নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ বদলে নতুন লাইন বসানো, জিআইএস ম্যাপিং এবং স্বয়ংক্রিয় তদারকির ব্যবস্থা চালুর একটি প্রকল্প নিয়েছিল তিতাস।   তবে ব্যয়, অর্থায়ন ও আর্থিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিকল্পনা কমিশন প্রস্তাবটি সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। ছবি : সংগৃহীত
গোপনে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন তৌহিদ আফ্রিদি

জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক ৩ মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গেই কারামুক্ত হয়েছেন তিনি। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আরও পাঁচটি মামলার এজাহারে নাম থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।   এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার হন আফ্রিদি। এরপর থেকে বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত প্রায় ১১ মাস ছিলেন কারাগারে।   বিষয়টি পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বললেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদি পরিচিত ব্যক্তি, তার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে পুলিশের জানার কথা। কিন্তু কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে কেন গ্রেপ্তার দেখানো হলো না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।   জানা যায়, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৮টি মামলা হয়। এর মধ্যে ওয়ারি থানার একটি ছাড়া অন্য ৭টি মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি। এসব মামলার মধ্যে তাকে ওয়ারি থানার প্রতারণা, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা থানার হত্যাচেষ্টার পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে এ তিন মামলার বাইরে তার নামে রামপুরা থানার একটি হত্যা এবং বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও বনানী থানার পৃথক চারটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এসব মামলার এজাহারে তার নাম থাকলেও গ্রেপ্তার দেখানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তথ্য পাওয়া যায়।   এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাধারণত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো মামলায় আসামির জামিন হলে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগকে জানানো হয়। তখন ওই আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা আছে কি না, তার খোঁজ নেওয়া হয়। মামলা থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।   সেই আবেদন অনুযায়ী আসামির উপস্থিতিতে শুনানি হয়। এজাহারে নাম থাকলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু মামলা থাকা সত্ত্বেও তৌহিদ আফ্রিদির ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করার হয়নি।   আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলায় তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ৩০ আগস্ট তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। পরে বাড্ডা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে দেখানো হয় গ্রেপ্তার। এ মামলার তদন্ত শেষে তার অব্যাহতি চেয়ে সুপারিশ করা হয়। এরপর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওয়ারি থানার এক মামলায় ১৫ জুন আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। পরে গত ৪ মে আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই ওয়ারী থানার প্রতারণার মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ১ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ওইদিন তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ জানিয়েছেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তৌহিদ আফ্রিদির কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।   আফ্রিদি কারামুক্তি বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের মিডিয়া উইং জানায়, কারাগারে জামিননামা যাচাই-বাছাই করেই বৃহস্পতিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   এদিকে, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আসামি গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি সম্পূর্ণ পুলিশের ওপর নির্ভর করে। তবে আসামি কারামুক্ত হলেও তদন্তে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।   শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৯টা ২০ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার সংবাদ আসে রাত ৯টা ২০ মিনিটে। পরে ঘটনাস্থলে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুনের কোনো অস্তিত্ব পায়নি। তবে কার্গো ভিলেজের পাশে একটি ময়লার স্তুপে ধোঁয়া দেখা যায়। সেখানে দুটি ইউনিট কাজ করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী, অ্যাক্টিভিজম থেকে দূরে থাকার আহ্বান

সাংবাদিকদের তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকতার চর্চার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, বরং সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে।   শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স’-এর একটি প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।   তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো বিষয়কে সংবাদ বলা যায় না; তা কেবল মতামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব।   প্যানেল আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা পালন করতে হবে।   অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদা-এর সম্পাদক শফিকুল আলম, হিমাল সাউথ এশিয়ান-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মনি দীক্ষিত, দ্য হিন্দু-এর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারসহ দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।   আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংবাদমাধ্যমের চ্যালেঞ্জের ধরন ভিন্ন হলেও স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সব দেশের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।   এদিকে, পরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী।   সেখানে তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার রাষ্ট্রীয় সেবা, শিল্প ও উৎপাদন খাতের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   তিনি আরও বলেন, এআই এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।   সম্মেলনে প্রযুক্তিবিদ, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য সংকটে দেড় কোটির বেশি মানুষ

বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার (আইপিসি ফেজ ৩ বা তার ওপরে) মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার লাখ ৮৩ হাজার মানুষ অতিসংকটজনক বা জরুরি অবস্থার (আইপিসি ফেজ ৪) মধ্যে জীবন যাপন করছে।   চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বিদ্যমান। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে, যেখানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ৮১ লাখে দাঁড়াতে পারে, যার মধ্যে সাত লাখ ৮৭ হাজার মানুষ চরম জরুরি অবস্থায় পড়বে।   দেশের ১০ কোটি ২০ লাখ মানুষের ওপর চালানো জাতিসংঘের এক যৌথ সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের কর্মশালায় জাতিসংঘের ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি)-এর সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।   জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গেইনের মতো যৌথ সহযোগী সংস্থাগুলো এতে অংশগ্রহণ করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, কিছু উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে প্রকট। প্রতিকূল আবহাওয়া, বারবার বন্যা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।   খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানান, তথ্যভিত্তিক এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।   খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেন। এফএও প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি জলবায়ু সহনশীল ও স্মার্ট কৃষিতে বিনিয়োগের আহবান জানান।    অন্যদিকে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি কোকো উশিয়ামা উল্লেখ করেন, বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে ডব্লিউএফপি এরই মধ্যে পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।   সংকট কাটাতে বিশেষজ্ঞ ও সরকারি প্রতিনিধিরা জরুরি ভিত্তিতে জীবন রক্ষাকারী খাদ্যসহায়তা প্রদান, জলবায়ু সহনশীল কৃষি খাত পুনর্গঠন, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত দুর্যোগ সতর্কবার্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬

আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান সরে দাঁড়ানোর পর ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী।   মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।   প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রহ্লাদ যোশী বলেন, “আমি বিনয়ের সঙ্গে এ দায়িত্ব গ্রহণ করছি।”   নতুন দায়িত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদও জানান তিনি।   প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শুরু হওয়া আন্দোলনের মুখে এদিন পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাকে সরিয়ে দেওয়ার পর আন্দোলনের ইতি টানে ককরোচ পার্টি।   প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে সরে দাঁড়ানো ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবশ্য প্রশংসা করেছেন প্রহ্লাদ যোশী।   তার ভাষায়, “গত চার থেকে পাঁচ বছরে ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করেছেন এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে।”   প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া আন্দোলনের ৩৬তম দিনে সরে দাঁড়ান ৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান।   পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন কাজে লাগাতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ককরোচ পার্টির নেতারা কি মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দেবেন?
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের ফলে বিজেপি সরকার তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে বিশ্বাস তাদের। শিক্ষার্থী ও যুবকদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মনে করছে সিজেপি।   এই সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি নেতারা রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এ নিয়ে সব স্তরে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার সাক্ষাৎকার নিয়েছে।   পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, “ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলবেন না।”   তবে সিজেপি এখনই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুব নেতৃত্বাধীন তৃণমূল আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই তাদের অগ্রাধিকার।   রানকা এনডিটিভিকে বলেছেন, “আমার মনে একমাত্র যে বিষয়টি কাজ করছে তা হল, বাড়িতে ফেরা ও ঘুমানো, বিশ্রাম নেবো আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবো। গত কয়েক মাস ধরে আমি বাড়ি থেকে দূরে আছি আর আমি সত্যিই আরাম করতে চাই। গত দুই মাসে যা যা ঘটেছে তা আমাদের সবাইকেই কাবু করে ফেলেছে বলে আমার ধারণা।   “এটা গর্বের মুহূর্ত। এটা সত্যি খুশি হওয়ার, স্বস্তি পাওয়ার মুহূর্ত। এরপর কী হয় দেখবো আমরা।”   তিনি রাজনৈতিক জীবনের কথা নাকচ করে দিচ্ছে কি না, সরাসরি এমন প্রশ্নে তিন বলেন, “আমি যা অনুভব করি ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলতে নেই।”   সৌরভ দাস জোর দিয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতি তাদের দলের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য নয়।   তিনি বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট। এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, কারণ ইতোমধ্যে (দেশে) ৭৫০ থেকে ৮০০ মতো রাজনৈতিক দল আছে। এগুলোর কোনোটিই তরুণদের ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতে সক্ষম না।   “আর আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই যেন ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা তরুণদের জন্য কাজ করতে সমর্থ হয় আর তাদের দাবি পূরণ করে। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের কর্মসূচী।”   ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, আন্দোলনের পথ থেকে এখনই সরছেন না তারা। লিখিতভাবে সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা না জানালে অবস্থান মঞ্চ ছাড়বেন না তারা।

ছবি: সংগৃহীত
আন্দোলনকারীরা সরে যেতেই ভাঙা হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভস্থলের মঞ্চ
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৫, ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করায়, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন তাদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলন শেষ করেছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি। গত ৩৬দিন ধরে তারা দিল্লির যন্তর মন্তরে মঞ্চ বানিয়ে সেখানে আন্দোলন করছিলেন।   আজ আন্দোলন শেষ হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা নিজ বাড়িতে ফিরে যান। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লির সেই মঞ্চ এখন ভেঙে ফেলা হচ্ছে।   এছাড়া যেসব মেট্রোস্টেশন বন্ধ করা হয়েছিল সেগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র এ আন্দোলনের কারণে যন্তর মন্তরের আশপাশের মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। আর জনাসমাগম আটকাতে সেখানকার ১৬-১৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
সৌদির তেল স্থাপনায় হুতি হামলার দাবি, জিজানে ধোঁয়ার কুণ্ডলির ছবি প্রকাশ
আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৫, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সংঘটিত এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিজানে একটি তেল স্থাপনা থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার ছবি ছড়িয়ে পড়ে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে আরামকোর একটি স্থাপনা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়। এএফপি ছবিটির সত্যতা যাচাই করেছে।   তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   এর আগে সৌদি সরকার জিজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।   সম্প্রতি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।   এর পর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। শনিবারও ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। এর কিছু সময় পরই আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি জানায় হুতি বিদ্রোহীরা।   ঘটনার বিষয়ে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি