নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদও। বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। এ তালিকায় ছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও। তিনি তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো চিঠি তুলে দিয়েছেন সে ওম বিরলা। চিঠিতে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা আজ বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে সন্ধ্যায় তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি এক্সে প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চিঠি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার তথ্য জানান তিনি। ওম বিরলা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গঠনমূলক বৈঠক এইমাত্র শেষ করেছি। আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে থেকে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত চিঠি তার কাছে হস্তান্তর করেছি। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’ সাক্ষাৎ নিয়ে ভারতের লোকসভার স্পিকার আরও লিখেছেন, ‘ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে আমি আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’ এদিকে নতুন সরকার গঠনের পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক এবং সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন তিনি। এ ছাড়া বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তিনি অফিস করবেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভা শেষে সচিবালয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে বিকাল ৩টায় মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠক করবেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াচ্ছে চীন। ফলে দেশটি এখন বিশ্বে গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে চীনের এ অবস্থান বড় প্রভাব ফেলবে। বিশ্বে মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশই চীনের। দেশটির বার্ষিক নিঃসরণ প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন টন। মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণও বিশ্ব গড়ের চেয়ে বেশি। তবুও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের গতি অত্যন্ত দ্রুত। গত বছর চীনে নির্মাণাধীন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিমাণ ছিল বিশ্বের বাকি সব দেশের সম্মিলিত প্রকল্পের দ্বিগুণ। দেশটি ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ সক্ষমতা সরকারের নির্ধারিত সময়সূচির প্রায় ছয় বছর আগেই অর্জন হয়েছে। চীনের কারখানায় তৈরি সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন ও বৈদ্যুতিক গাড়ি এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের শীর্ষ চারটি উইন্ড টারবাইন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই চীনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনেও চীন এগিয়ে, যেখানে চীনা কোম্পানি বিওয়াইডি এরইমধ্যে বিদেশে কারখানা স্থাপন শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে যে দেশ জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রণ করেছে, সেই দেশই অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু দেশ জলবায়ু নীতি ও বিনিয়োগে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ নবায়নযোগ্য প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে জলবায়ু গবেষণা কমানো এবং তেল-গ্যাস ও কয়লায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে জলবায়ু নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যাই হোক, চীন জলবায়ু কার্যক্রম কমাবে না এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, চীন এখনও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে বড় বিনিয়োগ করছে। বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এরপরও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত প্রসার এবং সবুজ প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে আগামী দশকে চীন কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের জলবায়ু রাজনীতি ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তথ্যসূত্র : গার্ডিয়ান
মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরও প্রায় ১০০ সদস্য নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছেন। তারা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেবে, তবে সরাসরি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নেবে না। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবেন। সম্প্রতি মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে বেশ কয়েকটি বিমান নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর নাইজেরিয়াকে অভিযোগ করেছিলেন, দেশটি উত্তরপূর্বাঞ্চলের খ্রীস্টান অধিবাসীদের ইসলামপন্থি জঙ্গিদের থেকে সুরক্ষা দিতে পারছে না। তবে নাইজেরিয়া জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী মুসলিম ও খ্রীস্টান উভয়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ডিসেম্বরে, নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর ছোট একটি মার্কিন দল নাইজেরিয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। চলতি মাসে আরও ২০০ জন মার্কিন সেনা আসার কথা রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নাইজেরিয়ার যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন। নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি, যার অর্ধেক খ্রিস্টান ও অর্ধেক মুসলিম। দক্ষিণাঞ্চল প্রধানত খ্রিস্টান, উত্তরাঞ্চল মুসলিম প্রধান।
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও হুইপ হিসেবে কারা দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন জামায়াত জোট। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে সচিবালয়ের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র এ তথ্য জানায়। তথ্যমতে, সংসদে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করবেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এছাড়া সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এরআগে, দুপুর ১২টার কিছু পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জামায়াত ও জোটের এমপিরা। যদিও জামায়াতের সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে শপথ গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানিয়েছিলেন, বিএনপি সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে জামায়াতের কেউ এমপি হিসেবে শপথ নেবে না। পরে জোটের নবনির্বাচিত সদস্যরা সংসদ ভবনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন তারা।
নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি। দলটির এই বিজয়ের কান্ডারী তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অগ্রসেনানী হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান গত প্রায় দুই দশক ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে থেকেও অত্যন্ত দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং তা সুচারুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর যে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে, তা এখন আরও স্পষ্ট। বিশেষ করে বৃহত্তর জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের গণতন্ত্রের গতিপথ সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে তাঁর জোরালো ও গতিশীল তৎপরতা সেই সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তিনি নিজেকে দেশের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করেছেন। তিনি বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতের নির্বাচনী মিত্র ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ২০০৮ সাল থেকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও নিজের প্রজ্ঞাসম্পন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে তারেক রহমান কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে নিয়ে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে তাঁকে এক বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মাত্র কয়েক দিন পর ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মা, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘদিনের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রয়াণের পর দলটির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ওপর চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়। আর গত বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে এক ঐতিহাসিক বিজয় এনে দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তারেক রহমান। স্বল্পভাষী অথচ দৃঢ়প্রত্যয়ী এই নেতা দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে তিনি জাতীয় ঐক্য এবং সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের এক থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর বিভাজনই আমাদের দুর্বলতা।’ তারেক রহমানের শৈশব ও কৈশোর- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। দেশের গণতন্ত্র আর স্বাধীনতার লড়াইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ঢাকায় তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। এ দেশের রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী তারেক রহমান। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও মা ও প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তিনি ছিলেন অন্যতম কনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্দি। তাঁর পিতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন শীর্ষ সামরিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। শিক্ষা জীবন- তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন; প্রথমে আইন বিভাগ এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা জন্মগত। তিনি দেখেছেন সত্তরের দশকের শেষের দিকে কীভাবে তাঁর বাবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন এবং বিএনপি গঠন করেছেন। তখন থেকেই রাজনীতির খুব কাছ থেকে বেড়ে উঠেছেন তিনি। একইভাবে আশির দশকের পুরোটা সময়জুড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর মায়ের আপসহীন নেতৃত্ব এবং সেই উত্তাল সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয় তারেক রহমান খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই বিজয়ের মধ্য দিয়েই বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তারেক রহমান সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। তখন থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে তিনি রাজনীতির হাতেখড়ি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষা জীবনে তিনি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার এবং কার্ল মার্কসের মতো বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক দার্শনিকদের কাজের সঙ্গে পরিচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে নিজ জেলা বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি শুরু করেন। আলোচনায় আসা ও সাংগঠনিক দক্ষতা- ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মায়ের সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান দেশবাসীর নজরে আসেন। পরবর্তীতে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তিনি এক অভিনব ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জেলা পর্যায়ে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন, যা ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও গণতান্ত্রিক। ২০০১ সালে তিনি রাজধানীতে একটি কার্যালয় গড়ে তোলেন, সেখান থেকে বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুশাসন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর গবেষণা চালানো হতো। তাঁর এই সুচিন্তিত পরিকল্পনা ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। দলের চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমান কোনো ক্ষমতার মোহে পড়েননি। তিনি সরকারি কোনো পদ বা সংসদ সদস্য হওয়ার চেয়ে সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে বিএনপি তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়। এই পদে থেকে তিনি সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন আয়োজন করেন, যা তাঁকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেশার সুযোগ করে দেয়। দলীয় সূত্র ও তাঁর সহকারীদের মতে, ওই সময় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আসা ১৮ হাজারেরও বেশি চিঠির উত্তর দেন তিনি। জনগণের সঙ্গে এই নিবিড় যোগাযোগের সময় তিনি কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগের প্রচার চালান। এ ছাড়া সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবন- ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৪ সালে তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. জুবাইদা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান জাইমা রহমান বর্তমানে একজন ব্যারিস্টার এবং পেশাদার আইনজীবী। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের অভাব, তারেক রহমানকে আরও বেশি মানবিক ও সংবেদনশীল নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম- ২০০৭ সালের ৭ মার্চ কোনো পূর্ব নোটিশ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেক রহমানকে আটক করে। টানা ১৮ মাস তিনি বন্দি জীবন কাটান। ওই সময় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর চালানো হয় অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতন। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান। এর এক সপ্তাহ পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান। কারাগারের সেই তিক্ত ও দুঃসহ অভিজ্ঞতা তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি; বরং তা দেশ ও দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার আর নৈতিক সাহসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তারেক রহমানের দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তা এখন কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত। তিনি ইতোমধ্যেই দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি প্রতিহিংসা আর সংঘাতের পথ পরিহার করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে তিনি দেশের ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। পাশাপাশি ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে নিজের ও দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এই কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করেন। তারেক রহমান দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, রাষ্ট্র সংস্কার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য লড়াই করেন। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরই দিকনির্দেশনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি বড় আন্দোলনে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ছাত্র-জনতার সেই অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের পিতা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। ঐতিহ্য ও রূপকল্প- তারেক রহমানের মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়েই ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। বাবার আদর্শ আর মায়ের দেখানো পথ অনুসরণ করে তারেক রহমান সবসময়ই দলের মূল গণতান্ত্রিক নীতিতে অবিচল থেকেছেন। জনগণের মৌলিক অধিকার- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ শাসনকাঠামো নিয়ে বিএনপির ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেন, যা মূলত বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই রূপরেখায় রয়েছে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদসীমা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বেকার ভাতা প্রদান, পরিবারবান্ধব নীতি এবং ব্রিটিশ মডেলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মতো আধুনিক ও জনবান্ধব সব পরিকল্পনা এতে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে এই ‘৩১ দফা’ কর্মসূচিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপির প্রধান নির্দেশিকা বা গাইডলাইন হিসেবে কাজ করছে। সাহস ও প্রেরণার প্রতীক- তারেক রহমানের জীবন ধৈর্য, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং নীতিবান রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর মানবিক নেতৃত্ব আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। ১৯৮৮ থেকে ২০২৫- এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু ধৈর্য, সহনশীলতা আর কৌশলগত সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নৈতিকতা, সহানুভূতি এবং আধুনিক ভিশনের এক বিরল সমন্বয়ই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁর সুশৃঙ্খল জীবন এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আদর্শিক নেতৃত্ব ও জনসেবার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। দৃঢ় সংকল্প আর একাগ্রতা কীভাবে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারে, তাঁর জীবনই তার প্রমাণ। বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আজ এক অনিবার্য ও অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের স্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও হুইপ হিসেবে কারা দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন জামায়াত জোট। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে সচিবালয়ের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র এ তথ্য জানায়। তথ্যমতে, সংসদে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করবেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এছাড়া সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এরআগে, দুপুর ১২টার কিছু পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জামায়াত ও জোটের এমপিরা। যদিও জামায়াতের সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে শপথ গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানিয়েছিলেন, বিএনপি সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে জামায়াতের কেউ এমপি হিসেবে শপথ নেবে না। পরে জোটের নবনির্বাচিত সদস্যরা সংসদ ভবনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন তারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিনের মাথায় সরকার গঠন করছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বিএনপি ও সচিবালয়ের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র এ তথ্য জানায়। মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন যারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আবু জাফর জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ, আফরোজা রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কায়সার সাখাওয়াত হোসেন, জাকির আলম, শেখ রবিউল আলম। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন যারা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। উল্লেখ্য, এহসানুল হক মিলন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এহসানুল হক মিলন ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ কর্মজীবনে ওষুধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেছেন এহসানুল হক মিলন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণাপত্রের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। প্রথমে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ১১ দলীয় জোট, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। তাদের সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে শপথ নেন জামায়াতের নেতারা। তবে, দ্বিতীয় শপথের আগে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা ও বিএনপির ইশরাক হোসেনকে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এদিকে, বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এ কারণে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শপথ নিয়েও অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার কারণ হিসেবে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। জাতীয় সংসদে বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।’
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদও। বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। এ তালিকায় ছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও। তিনি তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো চিঠি তুলে দিয়েছেন সে ওম বিরলা। চিঠিতে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা আজ বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে সন্ধ্যায় তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি এক্সে প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চিঠি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার তথ্য জানান তিনি। ওম বিরলা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গঠনমূলক বৈঠক এইমাত্র শেষ করেছি। আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে থেকে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত চিঠি তার কাছে হস্তান্তর করেছি। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’ সাক্ষাৎ নিয়ে ভারতের লোকসভার স্পিকার আরও লিখেছেন, ‘ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে আমি আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’ এদিকে নতুন সরকার গঠনের পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক এবং সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন তিনি। এ ছাড়া বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তিনি অফিস করবেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভা শেষে সচিবালয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে বিকাল ৩টায় মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠক করবেন।
চলতি বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। মহাজাগতিক এই বিরল দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববাসী। এবারের গ্রহণটি হবে বলয়াকার সূর্যগ্রহণ, যা আকাশপ্রেমীদের কাছে রিং অব ফায়ার বা আগুনের বলয় নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী এটি সকাল ৭টা ১ মিনিটে হবে এবং এর সর্বোচ্চ স্থায়িত্বকাল হতে পারে ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সূর্যগ্রহণটি মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শুরু হবে এবং রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। তবে, আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে এই সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে। এতে আরও বলা হয়, অ্যান্টার্কটিকার চিলির অ্যান্টার্কটিক গবেষণার ইয়েলচো ঘাঁটি থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ মহাসাগরে স্থানীয় সময় (এলএমটি) মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ৪টা ৩৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে গ্রহণ শুরু হবে এবং মরিশাসের ভিংট-সিনক দ্বীপ থেকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগরে ৬টা ২৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে গ্রহণ শেষ হবে।
পাথুম নিশাঙ্কার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সুপার এইট’ নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের এই দাপুটে জয়ে আসর থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। সেমিফাইনালের পথে টিকে থাকতে অজিদের এখন শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে নেট রানরেটের সমীকরণের দিকে। শ্রীলঙ্কার এই জয়ের পর গ্রুপ পর্বের সমীকরণ বেশ জমে উঠেছে। ৩ ম্যাচে টানা ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে লঙ্কানরা। ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জিম্বাবুয়ে। ৩ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়ার জন্য পরবর্তী রাউন্ডের পথ এখন বেশ কঠিন। ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই কুশল পেরেরার (১) উইকেট হারিয়ে হোঁচট খেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে কুশল মেন্ডিস ও পাথুম নিশাঙ্কা ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে লঙ্কানদের ম্যাচে ফেরান। মেন্ডিস ৩৮ বলে ৫১ রান করে বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে অজি বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান নিশাঙ্কা। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৫২ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন নিশাঙ্কা। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায়। শেষদিকে ১৫ বলে ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন পাভান রত্নায়েক। এর আগে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠান লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। দুই অজি ওপেনার ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ পাওয়ার প্লেতেই ৭০ রান তুলে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৪ রান। ২৭ বলে ৫৬ রান করে ট্রাভিস হেড বিদায় নেওয়ার পরই পথ হারায় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ ৫৪ রান করলেও মিডল অর্ডারে ক্যামেরন গ্রিন (৫), টিম ডেভিড (৬) ও মার্কাস স্টয়নিসরা (৪) ব্যর্থতার পরিচয় দেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ১৫ বলে ২২ এবং জশ ইংলিশের ২৭ রানে ভর করে ১৮১ পর্যন্ত পৌঁছায় অজিদের ইনিংস। শ্রীলঙ্কার পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন দুশান হেমন্ত। ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এছাড়া অভিজ্ঞ দুশমন্থ চামিরা ২টি এবং বাকি বোলাররা ১টি করে উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান।
ভ্যালেন্টাইনস ডের দিনই ইতালির বিখ্যাত প্রাকৃতিক শিলাস্তম্ভ ‘লাভার্স আর্চ’ বা প্রেমের সেতুটি ধসে পড়েছে সাগরে। কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে, আড্রিয়াটিক উপকূলবর্তী মেলেন্দুনিও শহরের সান্ত’আন্দ্রেয়া এলাকায় অবস্থিত প্রাকৃতিক পাথরের অর্ধবৃত্তাকার ওই স্থাপত্য কাঠামোটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে, প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। এটি দক্ষিণ ইতালির উপকূলীয় অঞ্চলের একটি পরিচিত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। মেলেন্দুনিওর মেয়র মাউরিজিও সিস্টার্নিনো স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্যালেন্টাইনস উপহার।’ তিনি একে নিজ অঞ্চল ও পর্যটন খাতের জন্য ‘খুবই বড় আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘প্রকৃতি যেমন এই খিলানটি তৈরি করেছিল, তেমনি আবার তা ফিরিয়েও নিল।’ রোববার সকালে পথচারীরাই প্রথম লক্ষ্য করেন, প্রাকৃতিক এই নিদর্শনটি আর নেই। কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক ঝড় ‘ওরিয়ানা’ দক্ষিণ ইতালিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়া শিলাস্তম্ভটির ক্ষয় ত্বরান্বিত করে এবং এর ফলে এটি ধসে পড়ে। পুগলিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিয় ডেকারো সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের অঞ্চলের একটি পরিচায়ক বৈশিষ্ট্য, একটি প্রতীকী সম্পদ হারিয়েছি। ডেকারো মনে করেন, উপকূলীয় ক্ষয় রোধ এবং সমুদ্রতীর সংরক্ষণে এখন আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়ার ঘটনা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উপকূল ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। যে অঞ্চলটিতে এই শিলা স্থাপনাটি ছিল, সেটি ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বচ্ছ সমুদ্রের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চল প্রতিবছর হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করে। ‘লাভার্স আর্চ’-এর পতন তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক কাঠামোর বিলুপ্তিই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের আবেগ ও পর্যটন অর্থনীতির জন্যও এক বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির প্রেক্ষাপটে আরব সাগরে বড় ধরনের এক অভিযানে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন থেকে ‘স্টেলার রুবি’, ‘অ্যাসফল্ট স্টার’ এবং ‘আল জাফজিয়া’ নামের এই তিনটি জাহাজ আটক করা হয়। ভারতীয় কোস্টগার্ড বাহিনীর প্রায় ৫৫টি জাহাজ এবং ১০-১২টি বিমান বর্তমানে সাগরে এই ধরনের অবৈধ লেনদেন রোধে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই জাহাজগুলো বারবার নিজেদের পরিচয় ও নাম পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই ট্যাংকারগুলো মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) মাধ্যমে তেলের উৎস গোপন করে আসছিল। জব্দকৃত জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ এবং ‘আল জাফজিয়া’ ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং ‘অ্যাসফল্ট স্টার’ মূলত চীনের পথে চলাচল করছিল বলে জানা গেছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এই জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এই অভিযানের নেপথ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উষ্ণ হতে থাকা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বড় ভূমিকা রয়েছে। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে তারা ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসবে। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক ছাড় এবং বাণিজ্য চুক্তির পর ভারতও তাদের জলসীমায় অবৈধ ইরানি তেল পাচার রোধে কড়াকড়ি বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে জব্দকৃত ৩টি ট্যাংকারকে আরও গভীর তদন্তের জন্য মুম্বাই বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চাবাহার বন্দরে বাজেট বরাদ্দ বন্ধ করা এবং এই ধরনের জাহাজ জব্দ করার ঘটনাগুলো স্পষ্ট করছে যে ভারত বর্তমানে মার্কিন নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাইছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল চোরাচালান রোধে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি।
ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরান, রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতরা তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আরও এক দফা ত্রিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন। রাশিয়ান প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিভিন্ন ইস্যুতে তিন দেশ নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও এই তিন দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ ও নানাবিধ অভিযোগের মুখে থাকা ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের এই পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির পর ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরানও ধাপে ধাপে তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে শুরু করে। ২০২১ সালে এই চুক্তি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালানো হলেও পশ্চিমাদের অতিরিক্ত দাবি ও গড়িমসির কারণে তা সফল হয়নি।
সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম তার সাবেক অধিনায়ক ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি জানা গেছে, ইমরান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন এবং তার ডান চোখের দৃষ্টি প্রায় ৮৫% হারিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আকরাম সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আকরাম লিখেছেন, আমাদের অধিনায়ক স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন শুনে মন ভেঙে গেছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং তার জন্য সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। আইনজীবী সালমান সফদারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরানের ডান চোখে মাত্র ১৫% দৃষ্টি অবশিষ্ট আছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে তিনি ঝাপসা দেখার সমস্যায় ভুগছিলেন, কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। পরে জানা গেছে, তার চোখের রেটিনায় রক্ত জমাট বাঁধায় স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে। ইমরানকে ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার পূর্ণ চক্ষু পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। আকরাম ছাড়াও ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার, শাহীদ আফ্রিদি, রমিজ রাজা ও মোহাম্মদ হাফিজ প্রমুখ সাবেক ক্রিকেটাররা ইমরানের জন্য মানবিক আচরণের দাবি জানিয়েছেন। ওয়াকার ইউনুস বলেছেন, রাজনীতিকে একপাশে রেখে আমাদের জাতীয় বীরকে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ইমরান শওকত খানম ক্যানসার হাসপাতালে তার মায়ের স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন। শোয়েব আখতার জানিয়েছেন, তার চোখের দৃষ্টি হারানো খবর শুনে তিনি মর্মাহত এবং আশা করছেন ইমরান সুচিকিৎসা পাবেন। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান অজয় জাদেজাও পাকিস্তান ক্রিকেটারদের ইমরানের প্রতি সমর্থন জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।