তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয় কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান প্রয়োজন হলেও বারবার মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের কারণে সেই জ্ঞান গড়ে ওঠে না। আজ একটি মন্ত্রণালয়, কাল আরেকটি মন্ত্রণালয়-এভাবে দায়িত্ব বদল হওয়ায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘কিছু মন্ত্রণালয়ে জনসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অপরিহার্য, যা আলাদাভাবে অর্জন করতে হয় এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চর্চা করা দরকার। কিন্তু বাস্তবে এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে নেওয়া হয় না, ফলে নানা ধরনের ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।’ রবিবার (১৫ মার্চ) ডিআরইউ শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে’ প্রধান অতিথির বক্ত্যবে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়কে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী মানুষের অবাধ তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান যুগে শুধু অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা নয়, তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধাও মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেও যদি মানুষ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে নতুন প্রজন্ম তা মেনে নেবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের মধ্যে ঘুণে ধরা রোগ আমরা বুঝতে চাচ্ছি। তথ্য মন্ত্রণালয়কে প্রতিনিয়ত সেবা দিতে হলে সরকারের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবেলা করে নিরাপদভাবে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে হবে।’ এ জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে এবং বড় সংখ্যক প্রযুক্তিবিদকে জনবল কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তিনি শুনছেন এবং সেগুলো লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। শিগগিরই সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ বিশেষ করে ওয়েজ বোর্ড নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি জটিলতার মুখে পড়েছেন। এটি তথ্য মন্ত্রণালয় নাকি শ্রম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার-তা স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি এলোমেলো হয়ে আছে।সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়কে যুগোপযোগীভাবে সংস্কার করতে হবে। সংস্কার ছাড়া সাংবাদিকদের কল্যাণে কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। ক্রাইম বিটের সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো তালিকাবদ্ধ করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ডিআরইউয়ের সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন সোহেল, ভারতীয় হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক ও তথ্য) পূজা কুমারী ঝাঁ, সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (ভিসা ও কনস্যুলার) হিউ কং সিয়াং, ক্রাবের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনায় আসামি ধরতে গিয়ে মবের স্বীকার হয়ে ফিরে এসেছেন থানা পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে রেখে একদল নারী ও পুরুষ আইনের কাজে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টির করছেন- এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার (১৫ মার্চ) উপজেলার গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায়।মবের বিষয়টি উলিপুর থানার ওসি স্বীকার করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমি-জমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এদিকে ১০ মার্চ বিকালে মাহাবুবার রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় আসামিরা বাড়িতে থাকা মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম ও কন্যা আফ্রিদা আজিজ সাথিকে মারধর করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং বসত ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভেঙে টাকা চুরি করে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। এরপর থানা পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার (১৫ মার্চ) মামলা গ্রহণ করেন। মামলার বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, মাহাবুবার রহমান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাহিরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকেন না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। হামলার ঘটনায় মাহাবুবার রহমানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে। এ বিষয়ে মাহাবুবার রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারো বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুইবার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যের ব্যাপারে থানায় ডাকেন। পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছেন। উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ আসামি ধরতে গেলে আসামিরা নারী এবং ভাড়াটিয়া লোকদের দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে। ফলে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক আর প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের মুহূর্ত। কিন্তু অনেক শিশুর জন্য এই আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কিছু অজানা উদ্বেগও। কুড়িগ্রাম বিশেষ বিদ্যালয়ের ১২ বছর বয়সী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী কেয়াও তেমনই এক ছাত্রী। তার বাবা একজন ভ্যানচালক। সংসারের সীমিত সামর্থ্যের কথা ভেবেই কেয়া জানত, ঈদে তার পছন্দমতো পোশাকটি হয়ত কেনা সম্ভব হবে না। তবে এই ঈদটি হবে ব্যতিক্রম। প্রধান শিক্ষিকার মাধ্যমে সাইন ল্যাংগুয়েজে কেয়া বলে, নিজের পছন্দমতো পোশাক বেছে নিতে পেরে সে ভীষণ আনন্দিত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, মাঝেমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদের পোশাক অনুদান হিসেবেেআসে। কিন্তু এবার অভিজ্ঞতাটা একেবারেই ভিন্ন ছিল। এবছর শিশুরা নিজেরাই তাদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যা তাদের জন্য তৈরি করেছে এক অন্যরকম আনন্দের মুহূর্ত। ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে কেয়ার মতো এক হাজারেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য আয়োজন করা হয় ‘গার্ডিয়ান ঈদ মার্কেট’। বাংলাদেশ ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (BYO) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সৌজন্যে এই ঈদ মার্কেট আয়োজিত হয়। দেশের ১৩টি জেলা, কুড়িগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ভোলা, বগুড়া, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, ঢাকা, রংপুর, গাইবান্ধা, বরিশাল ও টাঙ্গাইল—জুড়ে গার্ডিয়ান ঈদ মার্কেটের আয়োজন করা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য তৈরি করা হয় এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা, যেখানে তারা নিজেরাই বিভিন্ন পোশাক দেখে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ঈদের পোশাক বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, দিতিপ্রিয়া রায় চৌধুরী বলেন, ‘যখন একটি শিশু নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিছু বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়, তখন তা শুধু আনন্দই দেয় না, তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তোলে’। এমন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত। অনুষ্ঠানের আয়োজক বিওয়াইও ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জিহাদ আকন্দ বলেন, বিওয়াইও-এর উদ্যোগে এবং গার্ডিয়ান লাইফের সহযোগিতায় এক হাজার শিশু তাদের পছন্দমতো রং ও ডিজাইনের ঈদের পোশাক পেয়েছে। আমরা দেশের ১৩টি জেলার বিভিন্ন যায়গায় এই কর্মসূচি পরিচালনা করে যাচ্ছি। ঈদ এলেই যেখানে সমাজের উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের কেনাকাটার ব্যস্ততায় জমে ওঠে শপিংমল ও বাজার, সেখানে অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে নতুন পোশাকের আনন্দ অধরাই থেকে যায়। গার্ডিয়ান লাইফের এই মানবিক উদ্যোগ সেই বাস্তবতায় এনে দিয়েছে ভিন্ন এক অনুভূতি। ঈদের আগেই নতুন পোশাক পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল উচ্ছ্বাস, যা উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। তাদের উচ্ছ্বসিত হাসিই যেন এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আয়োজকদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝেও প্রশংসা ও ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে, যা সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
রংপুরে দেড় বছর বয়সী ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা।শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, সূচনা ঘোষ (৪০) ও তার ছেলে জয়দেব ঘোষ (১৬ মাস)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ মাস আগে ছেলে সন্তানের জন্মের পর থেকেই সূচনা ঘোষ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যেতেন। এ ছাড়া প্রায়ই শিশু সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করার কথা বলতেন। নিহতের শাশুড়ি গীতা রাণী ঘোষ জানান, ছেলের বউ সূচনা ঘোষের মানসিক সমস্যার থাকায় তিনি নাতি জয়দেবকে চোখে চোখে রাখতেন। শনিবার দুপুরে তার কোল থেকে নাতিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য নিয়ে যান ছেলের বউ। বাচ্চাকে তার কাছে দিয়ে তিনি সংসারের কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আধঘণ্টা পর তার বড় নাতনী এসে তার মাকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু সাড়াশব্দ না পেয়ে আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে। পরে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেখা যায়, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের উপর দিয়ে প্রবেশ করেন। তখন বিছানায় শিশুর লাশ আর ছেলের বউ সূচনা ঘোষের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। নিহত সূচনা ঘোষের ননদ সোমা ঘোষ বলেন, ভাবী সূচনা ও তার মেয়ে পূজা একইসাথে গর্ভবতী হন। মেয়ে এবং মা ১৫ দিন আগে ও পরে বাচ্চা প্রসব করেন। এ বিষয়টি সূচনা ঘোষ মানসিকভাবে মেনে নিতে পারতেন না। প্রায়ই তিনি বলতেন, ‘কেন বাচ্চা নিলাম, কেন এমন ভুল করলাম?’ এসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে করতেই তিনি ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। তিনি বলেন, তাকে ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ওষুধ খেতেন না। নিয়মমতো ঘুমাতেন না, ঠিকমতো খাবার খেতেন না এবং গোসলও করতেন না। এ নিয়ে পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন। প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগম বলেন, সূচনা ঘোষ খুব ভালো ছিল। কিন্ত বাচ্চা হওয়ার পর থেকে মাথায় সমস্যা হয়ে যায়। খালি বাচ্চাটাকে মেরে নিজে মরতে চাইতো। রোববার দুপুরে সাজাপুর এলাকায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকার্ত পরিবেশ। লাশ সৎকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। সেখানে তার বাবা নিখিল ঘোষের সঙ্গে কথা হয়।তিনি বলেন, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাদেরকে ফোন দিয়ে জানানো হয় তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তারা মেয়ের বাড়িতে চলে আসেন। নিখিল বলেন, 'মেয়েটার মাথায় সমস্যা ছিল। ও এর আগেও কয়েকদিন বলছে যে আমি বাচ্চাকে মারবো, নিজেও মরবো।' রংপুর মহানগর তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, মা ছেলের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও লাশের ময়না তদন্ত করে পরিবারের সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাজহাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সাধারণত জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সরকার। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে। প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা: পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ.কে.এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে মো. এরশাদ আলী, নাটোরে মো. রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুরে মো. জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়ায় সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহে মো. আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরায় আলী আহমেদ, বাগেরহাটে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। খুলনায় এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালীতে স্নেহাংশু সরকার, ভোলায় গোলাম নবী আলমগীর, বরিশালে আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠিতে মো. শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলে এস এম ওবায়দুল হক, শেরপুরে এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ, ময়মনসিংহে সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনায় মো. নূরুজ্জামান (অ্যাড.), কিশোরগঞ্জে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জে এ. কে. এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জে মো. মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ীতে আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জে শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুরে খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুরে সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটে আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজারে মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লায় মো. মোশতাক মিয়া, নোয়াখালীতে মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তেল ইসরায়েলের তেল আবিবসহ অন্তত ৩টি শহর কেঁপে উঠেছে। সংঘাতের ১৬তম দিন রোববার (১৫ মার্চ) ইহুদিবাদী ভূখণ্ডটি লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলার দাবি করেছে ইরান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। এই হামলায় মধ্য ইসরায়েলে ২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দখল করা পশ্চিম তীরে আরও তিন ইসরায়েলি আহত হয়েছেন। আহতের মাত্রা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে মাগেন ডেভিড অ্যাডম উদ্ধারকারী সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়, ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫০ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি ক্লাস্টার বোমা বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র থেকে দেশটির দক্ষিণতম শহর ইলাত এবং মধ্যাঞ্চলজুড়ে উপ-বোমা বা সাবমিউনিশন ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ইলাতের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ক্লাস্টার বোমাযুক্ত একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের সময় যাদের আত্মীয়-স্বজন নেই এবং বাসায় মূল্যবান জিনিস রেখে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা চাইলে থানায় স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিরাপদে রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির (ভারপ্রাপ্ত) কমিশনার মো. সরওয়ার। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে অপরাধীরা যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেজন্য টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে। আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। মো. সরওয়ার বলেন, যাদের আত্মীয়-স্বজন নেই তারা প্রয়োজনে তাদের স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র থানায় নিরাপদে রাখতে পারবেন। প্রয়োজন হলে পুলিশের সহায়তা নিতে কোনো দ্বিধা করার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, ঈদে বাড়ি ছাড়ার আগে বাসাবাড়ির দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ করা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা এবং আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে। ডিএমপির এই ভারপ্রাপ্ত কমিশনার নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিজ হেফাজতে রাখার জন্য যাত্রীদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পারে। এ সময় তিনি বলেন, ঈদের আগে ও পরে তিনদিন বিশেষ পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সংসদ ভবনের গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের অনুরোধ অনুযায়ী তারা নিয়ম মেনে নোটিশ দেবেন এবং সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান চান। তবে সংসদে সমাধান না হলে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং স্পিকার নোটিশ দিতে বলেছেন, তাই সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি এগিয়ে নেওয়া উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন— এ প্রসঙ্গে তিনি ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, এটি কার্যউপদেষ্টা কমিটির বিষয় নয়; বরং সংসদেই এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিধান নেই— এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, সংবিধানে ২০২৬ সালে কোনো ভোটের উল্লেখ না থাকলেও রাষ্ট্রপতির আদেশে তা বাস্তবায়ন হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতির আদেশের একাংশ মানা আর অন্য অংশ না মানা যৌক্তিক নয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ সংবিধান। গণভোটে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়েই সম্মত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত গণভোটে সংস্কারের পক্ষের প্রস্তাবই জয়ী হয়েছে। তাই এখন পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।
সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে এক ফিলিপিনো গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী এই মর্মান্তিক ঘটনার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই নারী গৃহকর্মী ঘরের ভেতর ধারালো ছুরি ব্যবহার করে শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া নিহত শিশুটির বয়স ও পরিচয় সম্পর্কেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সৌদি প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের পাবলিক সিকিউরিটি অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সন্দেহভাজন ওই গৃহকর্মীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে আটক রেখে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সৌদি আরবের কঠোর আইনি বিধান অনুযায়ী, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য মামলাটি ইতোমধ্যে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত শুক্রবারের একটি ভিডিও দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও এআই দিয়ে সম্পাদনা করা কিনা। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবহারকারীরা তার শুক্রবারের (১৩ মার্চ) সর্বশেষ ভিডিওতে একটি বিশেষ অসংগতি লক্ষ করেন। ভিডিওতে তার এক হাতে ছয়টি আঙুল আছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করার সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শুক্রবার নেতানিয়াহু ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, যা বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শনিবার যুদ্ধের ১৫তম দিন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে আগ্রাসনের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ব্যবহারকারীরা দাবি করেন, নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওতে তার ডান হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে। ‘ক্ল্যাসিক এআই ফিঙ্গার গ্লিচ’ লিখে পোস্ট করা এই ভিডিওগুলো লাখ লাখ মানুষ দেখছেন। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করছেন, তিনি আসলে মারা গেছেন। তবে এক্সের এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ ফ্যাক্ট চেক করে এসব মন্তব্যকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেছে। হিব্রু ভাষায় এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘হে বিবি, আপনি কি এতই বিশেষ যে আপনার ছয়টি আঙুল? নাকি আপনি অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন?’ এই উদ্বেগের তালিকায় যোগ দিয়েছেন মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডাস ওয়েনস। তিনি তার ডাক নাম ধরে প্রশ্ন করেছেন, ‘বিবি কোথায়?’ একটি পোস্টে ওয়েনস লিখেছেন, ‘কেন তার অফিস থেকে ভুয়া এআই ভিডিও প্রকাশ করে আবার ডিলিট করা হচ্ছে এবং হোয়াইট হাউসে কেন এত আতঙ্ক?’ এক্সের এআই চ্যাটবট গ্রোক ছয় আঙুলের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, ‘না, অন্য সবার মতো নেতানিয়াহুরও প্রতি হাতে পাঁচটি করে আঙুল আছে। ভিডিওতে তিনি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে আঙুল দিয়ে ইশারা করছিলেন। লাল বৃত্ত ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণে একটি অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়েছে, যা দেখতে অস্বাভাবিক লাগছে। ছবিটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও থেকে নেওয়া।’ অন্য একটি পোস্টের জবাবে গ্রোক লিখেছে, ‘নেতানিয়াহু জীবিত আছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা স্নোপস, টাইমস অব ইসরাইল এবং অন্যরা ভিত্তিহীন তথ্য বলে দাবি করেছে। কেবল ভেরিফায়েড সূত্রের ওপর ভরসা রাখুন।’ ‘ক্রেমলিন’ নামের একটি পেজ (যার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে হঠাৎ চলে যাওয়া এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসার ঘটনাটি উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের দিকেও সবার নজর পড়েছে। সচরাচর এক্সে বেশ সক্রিয় থাকলেও ইয়ার নেতানিয়াহু গত ৯ মার্চের পর আর কোনো পোস্ট শেয়ার করেননি। সূত্র: এনডিটিভি
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এক বিবৃতিতে ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হামাসের এই অবস্থানকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামাস তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনে সম্ভাব্য সকল উপায়ে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে এই পাল্টা জবাব যেন কোনোভাবেই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছে তারা। বিবৃতিতে হামাস ইরানের নেতৃত্বকে 'ভাই' সম্বোধন করে বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করে বরং এই অঞ্চলের সকল দেশের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে আগ্রাসন মোকাবিলা করা। তারা এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং অভিন্ন শত্রু মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সংঘাত যেন ছড়িয়ে না পড়ে, হামাসের পক্ষ থেকে সেই কূটনৈতিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মূলত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার ফলে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় হামাস চাইছে ইরান যেন তাদের সামরিক শক্তিকে শুধুমাত্র সরাসরি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে এবং এতে যেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে কোনো ফাটল না ধরে। আঞ্চলিক শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব রক্ষার এই আহ্বানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাত এড়ানোর একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা সবসময় জোর দিয়ে বলেন যে, দেশটি দীর্ঘমেয়াদি মুখোমুখি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং এই বার্তা দিয়েই তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য ধৈর্য ও প্রস্তুতির একটি চিত্র তুলে ধরতে চান। গত দোসরা মার্চ, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি ঘোষণা করেন যে, ইরান একটি দীর্ঘ সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। "ইরান, আমেরিকার মতো নয়, দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে," আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন তিনি। দেশটির কর্মকর্তারা আরও বলেছেন যে, "আগ্রাসনের" বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমায় সীমাবদ্ধ নয়, যা ইঙ্গিত করে যে সংঘাত কয়েক মাস বা তার চেয়েও দীর্ঘকাল চলতে পারে। সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ গত ৮ই মার্চ বলেন, "আমরা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চাইছি না। আমাদের আক্রমণকারীকে শাস্তি দিতেই হবে"। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে একটি অস্তিত্বগত যুদ্ধে লিপ্ত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়েনিকও বলেছেন, ইরান "আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা" শত্রুর প্রত্যাশার চেয়ে বহু গুণ বেশি সময় ধরে বজায় রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে তার অস্ত্র ব্যবহারের ধাপগুলো ভাগ করে চালাচ্ছে—অর্থাৎ সব সক্ষমতা একসঙ্গে নয়, বরং আরও উন্নত সক্ষমতার কিছু অংশ পরবর্তী পর্যায়ের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ইরানের কৌশল কী? কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ইরান এমন একটি কৌশলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে ইরানি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে বা ধাপে ধাপে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্বার্থের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে। এ ধরনের হামলার কয়েকটি লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, এগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বাধ্য করে আগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয় হতে। প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো এসব ব্যবস্থা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হলেও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সীমিত সংখ্যক, এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিরোধই ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের তুলনায় বেশি ব্যয়সাপেক্ষ। দ্বিতীয়ত, ধারাবাহিক হামলা দেশগুলোর প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ও সামরিক প্রস্তুতিকে চাপে ফেলতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্ট–এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী লড়াইয়ের প্রথম সপ্তাহেই দ্রুতগতিতে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। অন্যান্য বিশ্লেষকরা বলেন, অতিরিক্ত অস্ত্র ব্যবহারের এই মাত্রা "সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা" উন্মোচিত করছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের অস্ত্র সরবরাহ অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং সশস্ত্র বাহিনী "বর্তমান গতিতে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে"। কয়েকজন কমান্ডার আরও বলেছেন, ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে দেশীয়ভাবে হয় এবং একাধিক উৎপাদন কেন্দ্র ও বড় মজুত থাকার কারণে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে সক্ষম। ইরান মনে হচ্ছে সময় ধরে হামলাগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষকে হঠাৎ, সিদ্ধান্তমূলক কোনো বৃহৎ আক্রমণের মুখে পড়ার বদলে একটানা প্রতিরক্ষা বজায় রাখতে হয়। এই কৌশলটি একটি বৃহত্তর সামরিক মতবাদের প্রতিফলন, যা ইরান কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তর শক্তিধর দেশগুলোর সামরিক সুবিধা মোকাবিলায় গড়ে তুলেছে। ১৯৮০–এর দশকের ইরান–ইরাক যুদ্ধের পর ইরান অসম যুদ্ধ কৌশলে ব্যাপক বিনিয়োগ করে। এই পদ্ধতি এমন সরঞ্জাম ও কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেয়, যা প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের ওপর নির্ভর না করেই শক্তিশালী বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম। লক্ষ্য সবসময় শক্তিশালী শত্রুকে সরাসরি পরাজিত করা নয়, বরং যেকোনো সামরিক সংঘাতকে ব্যয়বহুল, দীর্ঘস্থায়ী ও অনিশ্চিত করে তোলা। অর্থনৈতিক পরিণতি কী? দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইরানের অভ্যন্তরে এবং বৈশ্বিকভাবে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। এ অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি ভোক্তা পর্যায়ে এবং ব্যবসার জন্যও বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, তবে যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর সরু এই জলপথে চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে গেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আকাশসীমা বন্ধ থাকায় অঞ্চলের বাণিজ্য রুটগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের ভেতরের অর্থনীতিও চাপের মুখে। বহু বছরের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনীতি এখন সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রার অস্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধের কারণে বাণিজ্য ও সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আরও চাপের সম্মুখীন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা গুরুতর অর্থনৈতিক সংকোচন এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা দেশের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। যুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষা ও সমাবেশে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছে, একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ সমর্থন বজায় রাখার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক ঝুঁকি কী? সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও তত বাড়বে। ওই অঞ্চলের দেশগুলো, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো, বৃহত্তর যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কিছু দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরান বলছে তারা এসব দেশে "আগ্রাসী সম্পদ ও ঘাঁটিকে" লক্ষ্যবস্তু করছে। একইসঙ্গে, চলমান সংঘাত আঞ্চলিক জোটের বিন্যাস বদলে দিতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের প্রতিপক্ষে ঠেলে দিতে পারে। ইরানের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া মানে সামরিক কৌশল, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চ্যালেঞ্জ হতে পারে ক্ষয়ক্ষতির এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া। একদিকে সামরিক অভিযান বজায় রাখা; অন্যদিকে বৈশ্বিক আর্থিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা করা। সূত্র: বিবিসি
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে মার্কিন-ইসরায়েলি নেতৃত্বাধীন ইরান যুদ্ধ। যুদ্ধের সরাসরি ফলাফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তবে কিছু দেশ লাভবানও হতে পারে। রাশিয়া: ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রাশিয়া কিছু কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার মিসাইল সরবরাহ সীমিত হওয়ায়, তাতে রাশিয়ার লাভ। হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার আর্থিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। রাশিয়া চীন ও ভারতের মতো বড় বাজারে তেল রফতানি বাড়াতে পারছে। চীন: যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব সীমিত, তবে রফতানি নির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দীর্ঘ সময় ধরে তেল মজুত থাকায় কিছুটা প্রস্তুত, তবে জাহাজ চলাচলে বাধা পড়ায় খরচ বাড়ছে। যুদ্ধের সুযোগে কূটনৈতিকভাবে কিছু সুযোগ গড়ে তুলতে পারে। বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্য-নির্ভর দেশ: তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল দেশগুলোতে তেল ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, দিনে ১০ লিটার গাড়ির জন্য এবং ২ লিটার মোটরসাইকেলের জন্য সীমা। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব, ইউরিয়ার সরবরাহে বিঘ্ন। অন্যান্য দেশ যেমন ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, পাকিস্তানও জ্বালানি ও কর্মঘণ্টা সীমিত করতে বাধ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের প্রভাব অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদে প্রতিফলিত হবে, যা কয়েক মাস থেকে ছয়-নয় মাস পরে দৃশ্যমান হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।