শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, কুরবানির মৌসুমে চামড়ার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। চামড়া শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঢাকার আমিন বাজারের চামড়া বিক্রয় কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শন শেষে তিনি এই আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, যাতে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট বা চামড়ার অপচয় না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে এ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কাঁচা চামড়ার ক্রেতা ও বিক্রেতা, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং বাজার পরিস্থিতি, মূল্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মেহেদী হাসান (২১) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কান্দাকুল গ্রামের নিজ বাসস্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মেহেদী হাসান ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের পুত্র। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান বেশিরভাগ সময় মামার বাসস্থানে অবস্থান করতেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দুই দিন পূর্বে তিনি নিজ বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় শেষে বাড়িতে ফেরেন। পরে পরিবারের সদস্যরা কোরবানির কাজে ব্যস্ত থাকায় বাসস্থানের বাইরে ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন মেহেদী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরল কুমার বিশ্বাস পুলিশ ফোর্সসহ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। ময়না ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, পিতা-মাতার সঙ্গে বিবাদ করে সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। জানতে চাইলে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের থিমে তৈরি পাঞ্জাবি পরে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটিতে এই নামাজের পর স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তিনি যেসব ছবি প্রকাশ করেন, তা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক সিটির অধীনস্থ পাঁচটি বোরো বা পৌরসভার মধ্যে ব্রঙ্কসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসীরা বসবাস করেন। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। মামদানি নামাজ পড়েন ব্রঙ্কসের একটি ঈদগাহে। নামাজ শেষে সেখানকার মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মামদানি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের এমপি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্টেজ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। নিজের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঈদের জামাত এবং পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি প্রকাশ করে মামদানি বলেন, “আজ, আমরা যারা নবী (হযরত) ইব্রাহিম (আ.)-কে শ্রদ্ধা জানাই, ঈদুল আজহা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে কোরবানি কোনো বোঝা নয়। এটি আমাদের অনেক বড় কিছুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। যাদের সাহায্য দরকার, তাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেয়।” “নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করি এবং আমি সবসময় সবার সঙ্গে সংহতির ভিত্তিতে নিউইয়র্ক সিটিকে নেতৃত্ব দিতে চাই। নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বাসস্থান, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে আমরা সবাই কাজ করছি।”
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ক্রয়ডন কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সিভিক মেয়র হয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও কাউন্সিলর মুহাম্মদ ইসলাম। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে এক আনন্দময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আগামী এক বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সদ্য বিদায়ী সিভিক মেয়র রিচার্ড চ্যাটার্জী নবনিযুক্ত মেয়র মুহাম্মদ ইসলামের কাছে এই দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। লন্ডনের ক্রয়ডন সিটির সিভিক মেয়র মুহাম্মদ ইসলামকে বরণ করে নিতে বুধবার বিকেলে ক্রয়ডনের টাউন হলে যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের ঈদের দিনে সরাসরি এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই নতুন মেয়রের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। প্রথা অনুযায়ী নতুন মেয়রের গলায় গোল্ড মেডেল-চেইন পরিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত মেয়রের স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের পাশাপাশি কাউন্সিলের নির্বাচিত কাউন্সিলররা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সিভিক মেয়র মুহাম্মদ ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, 'আমাদের এই ক্রয়ডন সিটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যবাহী একটি বরো। এই বারার প্রতিটি মানুষের জন্য জনসেবামূলক দায়িত্ব পালন করা আমার কর্তব্য। তা ছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে– সিভিক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।' কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসলাম সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার এক কৃতী সন্তান। তিনি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং লেবার অ্যান্ড কো-অপারেটিভ পার্টির নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে ক্রয়ডন কাউন্সিলে সেলহার্স্ট ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি মূলত ইপসউইচ শহরের বাসিন্দা হলেও ১৯৮০ সাল থেকে ক্রয়ডনকে নিজের বাসস্থান হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ক্রয়ডনের সেলহার্স্ট এলাকায় বসবাস করছেন। তার পরিবারে স্ত্রী ফারহানা ইসলাম এবং চার সন্তান রয়েছে। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি পেশায় একজন অনুমোদিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ক্রয়ডনে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২৭ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বার্ষিক কাউন্সিল সভায় আনুষ্ঠানিক মেয়র-বরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ক্রয়ডনের সিভিক মেয়র নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি একই কাউন্সিলে (২০২৫-২৬) ডেপুটি সিভিক মেয়র হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি 'ব্রিটিশ বাংলাদেশি সোসাইটি অব ক্রয়ডন'-এর একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এই সংস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমূলক কাজে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।
সকলের সহযোগিতা পেলে সরকার ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সৈনিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ দেশকে যেভাবে কল্পনা করে, সরকার চেষ্টা করছে পর্যায়ক্রমে দেশটাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে। আমি বহু বছর দেশে থাকতে পারিনি। কেন পারিনি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। কারণ সেসময় দেশে ভালো-মন্দ কী হয়েছে, তা নিয়ে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু এখন আমরা দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। ’ দেশ গঠনে সবার দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবারই নির্দিষ্ট কর্তব্য আছে। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে সেগুলো পালন করি, তবে অবশ্যই আমাদের কাঙ্খিত দেশটি গড়ে তুলতে সক্ষম হব।' আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার ও সৈনিকদের এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান বলেন, ‘আজ ঈদের দিনে আসুন, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এবং তাঁর রহমত কামনা করি। তিনি যাতে আমাদের সকলকে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তৌফিক দান করেন।' তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে আমরা যাতে সারাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে পারি এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি-আল্লাহর কাছে এটাই চাওয়া।' ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই প্রীতিভোজের আয়োজন করে। এতে অফিসার ও সৈনিকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক এবং তাদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর শৈশবকালের স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন আসছিলাম, সেসময় হঠাৎ মনে হল আমি প্রায় ৪৫/৪৬ বছর পেছনে চলে গেছি। আমার সঙ্গে যারা গাড়িতে ছিলেন, তাদেরকেও এই গল্পটা বলছি। ১৯৭৫/৭৬ বা ৭৭ সালের কথা হবে। সিএমএইচের গেটটা তখন এত বড় ছিল না। গাড়িতে সঙ্গে থাকা এডিসিকে জিজ্ঞেস করলাম, সিএমএইচে ঢোকার পরে ছোট একটা প্যাথোলজি ছিল; ওটার সামনে বাগানের মত একটা জায়গা ছিল; সেখানে দু’তিনটা সিমেন্টের বেঞ্চ ছিল; সেগুলো এখনও আছে? তারপর আবার বললাম, একদম সোজা গেলে হাতের বাঁ দিকে ছিল ফ্যামিলি ওয়ার্ড আর ডানদিকে তখন স্টাফ সার্জন বসতেন। আর টিনের ঘরে স্টাফ সার্জন বসতেন। আমার জ্বর হলে একা একাই চলে যেতাম। এখনও মনে আছে, ওই সময়ে স্টাফ সার্জন ছিলেন মেজর আনোয়ার।' প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারণে আরও উঠে আসে প্রতিদিন বিকেলে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে সাইকেল চালিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা। তারেক রহমান বলেন, ‘ওই সময়ে প্রায় প্রতিদিন বিকেল বেলা বন্ধুদের সঙ্গে বের হতাম ৭/৮ টা সাইকেল নিয়ে। সাইকেল চালাতে চালাতে সিগনালের কাছে মসজিদটার ওখানে যেতাম। সেই মসজিদটা এখন আরও অনেক সুন্দর! তখন পুরোপুরি সাদা চুনের পেইন্ট করা ছিল।' তিনি আরও বলেন, ‘মূল বিষয়টা হচ্ছে যে এই এলাকাটা বহু পুরানো। আমরা যেখানে বসে আছি, একসময় এখানে জঙ্গলের মত ছিল। আপনারা এখন অনেক সুন্দর একটা জায়গা দেখছেন কিন্তু তখন রাস্তাটা সরু ছিল। আমি আজ এমন একটা স্থানে এসেছি, যেখানে আমার জীবনের বিরাট একটা বড় অংশ জড়িয়ে আছে। আমার ভালো-মন্দ, কষ্ট-ব্যথা, সুখ-দুঃখের বিশাল স্মৃতি এই পুরো এলকিায় মিশে একাকার আছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ঈদ, আনন্দের দিন। আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম কারণ এই জায়গাটায় এলে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে। কারণ ছোটবেলা থেকে এখানে বড় হয়েছি। সৈনিকদের ব্যারাকের ভেতরে ঘুরে বেড়াতাম, তাদের সঙ্গে কথা বলতাম।' অফিসার ও সৈনিকদের দেশমাতৃকার প্রতি দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেশের প্রয়োজনে অনেকেই হয়ত আজ ছুটিতে যেতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবে ঈদের সময় মানুষ পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চায়। আপনাদের স্যাক্রিফাইসের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ এবং জাতি আপনাদের এই আত্মত্যাগকে অবশ্যই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।' সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব পালন ও কল্যাণের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে সরকার অবগত রয়েছে। সাম্প্রতিক একটা ভিডিওকে আপনাদের সাফল্যের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাস আগে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছিল; দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন ধরানো হয়েছিল। আপনারা সেখান থেকে প্রায় ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করেছিলেন। এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।’ তিনি বলেন, দেশের এবং দেশের মানুষের প্রয়োজনে সৈনিকরা জীবন দেয়। আর আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, সেই জীবন এবং সেই আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করা। আর সেটির প্রথম শর্ত হচ্ছে নিজের দেশ সম্পর্কে সবার আগে চিন্তা করা। কারণ আমরা সবাই এই দেশটাকে ভালো অবস্থানে দেখতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের সকল স্তরের মানুষ চায়, তাদের সন্তানেরা যেনো সুন্দরভাবে লেখাপড়া করার সুযোগ পায় এবং পরিবারের সদস্যরা যাতে সুচিকিৎসার সুযোগ পায়। সাধারণত মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং নামাজ শেষে কোরবানির কার্যক্রম শুরু করেন মুসল্লিরা। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আরিফ চৌধুরী। এছাড়া সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে আরেকটি জামাতে ইমামতি করেন পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। একইভাবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে মোট অন্তত ৩০টি স্থানে জামাতের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপনের প্রথা চালু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তার অনুসারীরা প্রতিবছরের মতো এবারও আগাম ঈদ উদযাপন করেছেন। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, তারা চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। ঈদের নামাজ শেষে বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাইও শুরু হয়েছে। সুদীপ্ত রায় জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। মার্কিন সেনাদের দক্ষিণ ইরানে নতুন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি–এর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানায়, সমন্বয় ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে সতর্ক করে ইরানি বাহিনী। পরে নির্দেশ অমান্য করায় সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয় বলে দাবি করা হয়। স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানানো হলেও জাহাজগুলোর বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আইআরআইবি আরও জানায়, গুলির পর জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। এদিকে একই সময়ে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে ওই ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আইআরজিসি জানিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা হলে প্রতিক্রিয়া আরও শক্ত হবে। অন্যদিকে কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে “শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন” মোকাবিলা করছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌচলাচল ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করছিল। একই সময় ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথ ঘিরে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের থিমে তৈরি পাঞ্জাবি পরে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটিতে এই নামাজের পর স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তিনি যেসব ছবি প্রকাশ করেন, তা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক সিটির অধীনস্থ পাঁচটি বোরো বা পৌরসভার মধ্যে ব্রঙ্কসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসীরা বসবাস করেন। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। মামদানি নামাজ পড়েন ব্রঙ্কসের একটি ঈদগাহে। নামাজ শেষে সেখানকার মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মামদানি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের এমপি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্টেজ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। নিজের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঈদের জামাত এবং পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি প্রকাশ করে মামদানি বলেন, “আজ, আমরা যারা নবী (হযরত) ইব্রাহিম (আ.)-কে শ্রদ্ধা জানাই, ঈদুল আজহা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে কোরবানি কোনো বোঝা নয়। এটি আমাদের অনেক বড় কিছুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। যাদের সাহায্য দরকার, তাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেয়।” “নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করি এবং আমি সবসময় সবার সঙ্গে সংহতির ভিত্তিতে নিউইয়র্ক সিটিকে নেতৃত্ব দিতে চাই। নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বাসস্থান, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে আমরা সবাই কাজ করছি।”
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মেহেদী হাসান (২১) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কান্দাকুল গ্রামের নিজ বাসস্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মেহেদী হাসান ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের পুত্র। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান বেশিরভাগ সময় মামার বাসস্থানে অবস্থান করতেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দুই দিন পূর্বে তিনি নিজ বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় শেষে বাড়িতে ফেরেন। পরে পরিবারের সদস্যরা কোরবানির কাজে ব্যস্ত থাকায় বাসস্থানের বাইরে ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন মেহেদী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরল কুমার বিশ্বাস পুলিশ ফোর্সসহ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। ময়না ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, পিতা-মাতার সঙ্গে বিবাদ করে সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। জানতে চাইলে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মুসলিম জাতির অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা এবার ইরানের সাধারণ জনগণের জন্য এক অসহনীয় সময়ে এসেছে। ইরানে কুরবানির পশুর গোশত খাওয়ার রীতি থাকলেও, দেশটির বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে গোটা দেশে গোশতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছে। পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর মতো ঈদুল আজহা ইরানে ততটা বিস্তারিতভাবে উদযাপিত না হলেও, মসজিদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত পশু বিক্রয় ও জবাই কেন্দ্রের মাধ্যমে কুরবানির রীতিনীতি পালন করে থাকে। এই কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ইসলামি শরিয়ত মেনে পশু কুরবানি করা হয়। তবে এই ব্যবস্থার আরেকটি প্রধান লক্ষ্য হলো, বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে গোশত সরবরাহ করে নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা। তেহরান সিটি কর্পোরেশনের একটি সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট দোকানগুলোতে কুরবানির গোশত প্রতি কেজি ৭৪ লাখ রিয়াল (৪.৩০ ডলার) মূল্যে বিক্রি করা হবে। অথচ সাধারণ বাজারে মান এবং এলাকার ওপর নির্ভর করে এই একই পরিমাণ গোশতের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি হতে পারে। উল্লেখ্য, ইরানে বর্তমানে একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি প্রতি মাসে ১০০ ডলারেরও কম। তেহরানের একজন মধ্যবয়সী নারী বাসিন্দা আল-জাজিরাকে বলেন, তিনি সাধারণত প্রতি তিন সপ্তাহে একবার তরকারি বা অন্য পদের জন্য গোশত কেনেন। তাঁদের মহল্লার কিছু পরিবারের কাছে এটি এখন এক ধরনের বিলাসিতার পণ্যে পরিণত হয়েছে। তিনি জানান, গোশতের বিকল্প হিসেবে এখন মানুষ মুরগি, ডিম এবং ডাল জাতীয় খাবার গ্রহণ করছে, তবু এসব নিত্যপণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে। গোশত প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রতিনিধি মাসুদ রাসুলি চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’-কে জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় গোশতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি জানান, মার্কিন অবরোধের প্রভাব সামাল দিতে কিছু গোশত আমদানি করা হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে চাহিদা এতটা কম যে, বাজারের সব প্রয়োজন পূরণের জন্য দেশীয় পশুই যথেষ্ট। ইরানের শ্রমজীবী সংক্রান্ত সংবাদ সংস্থা ‘ইলনা’-র চলতি সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, ঈদে সরকার ঘোষিত গোশতের সর্বনিম্ন কেজি প্রতি মূল্য ১০ বছর আগের একটি ৫০ কেজি ওজনের জীবিত ভেড়ার দামের সমান। দক্ষিণ-পশ্চিম তেহরানের একটি কসাইখানার একজন যুবক কর্মী জানান, সরবরাহকারীরা দাম বাড়ানোর পর গত কয়েক মাসে তাঁদেরও বেশ কয়েকবার গোশতের দাম বাড়াতে হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। মার্কিন সেনাদের দক্ষিণ ইরানে নতুন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি–এর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানায়, সমন্বয় ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে সতর্ক করে ইরানি বাহিনী। পরে নির্দেশ অমান্য করায় সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয় বলে দাবি করা হয়। স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানানো হলেও জাহাজগুলোর বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আইআরআইবি আরও জানায়, গুলির পর জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। এদিকে একই সময়ে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে ওই ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আইআরজিসি জানিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা হলে প্রতিক্রিয়া আরও শক্ত হবে। অন্যদিকে কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে “শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন” মোকাবিলা করছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌচলাচল ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করছিল। একই সময় ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথ ঘিরে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন তৎপরতার জেরে দেশটির বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বুধবার রাতে ইরানের চারটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন পরিচালনার জন্য ওই এলাকায় একটি বিশেষ গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করেছিল। হামলার সময় সেখানে আরও একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন পদক্ষেপ ছিল “নিয়ন্ত্রিত ও আত্মরক্ষামূলক”, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বজায় রাখা। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তাদের দাবি, জাহাজটিকে পিছু হটাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাসনিম আরও জানিয়েছে, ওই মার্কিন জাহাজের আগে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা আরও চারটি জাহাজকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হিসেবে পরিচিত ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর বিদেশি জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে আইআরজিসি। পরবর্তীতে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। এদিকে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায়ের আইন পাস করে ইরানের পার্লামেন্ট, যার তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইনস বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট স্থগিত বা কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী অনেক ফ্লাইট এখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই, বাগদাদ, এরবিল, তেল আবিব, বৈরুত, দোহা, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। গ্রিসের এজিয়ান এয়ারলাইনস আগস্টের শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ের ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে ইরাকের বাগদাদ ও এরবিল রুটেও জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। তুরস্কের পেগাসাস এয়ারলাইনস ইরাক, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। জার্মানির লুফথানসা গ্রুপও বাগদাদ, তেহরান, বৈরুত, দুবাই ও রিয়াদসহ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধের সময়সীমা বাড়িয়েছে। এছাড়া এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, জাপান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এয়ার কানাডাও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল বা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।