চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. আজাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার ও চুরির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। মানিক নামে এক যুবক ফেসবুকে ভিডিওটি প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন জাহিদ। পরে স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানের সামনে মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দেন তিনি। পুলিশ জানায়, ওই বিরোধের জেরে গত ৩০ আগস্ট রাতে নতুন হাট এলাকায় জাহিদকে ঘিরে ধরে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জাহিদ তার সঙ্গী মো. ওয়াহিদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পুরানগড় ইউনিয়নের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় তাদের পথ আটকে দেয় একটি দল। পুলিশের দাবি, এ সময় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে সড়ক বন্ধ করে দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহিদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। তার সঙ্গে থাকা ওয়াহিদও আহত হন। ঘটনার পর নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে জেলা ডিবির একাধিক দল গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে পাহাড়তলী এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার মূল আসামিসহ আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মো. আজাদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও গণমাধ্যম) মো. রাসেল, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্স (ইউএফএস) ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড অবসায়নের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ট্রাস্টির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট বিএসইসির পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটি অবসায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিজিআইসি জানিয়েছে, ট্রাস্টি হিসেবে তারা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণ করে ইতোমধ্যে অবসায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে। ফান্ডের সম্পদ নগদায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা যথাসময়ে জানানো হবে। ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ডটি একটি বেমেয়াদি বা ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড। এর স্পন্সর ছিল প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ফান্ডটিতে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৯৮ লাখ টাকা। আর ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্স লিমিটেড। ইউএফএসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক তদন্ত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে নতুন করে ফান্ডটি অবসায়নের সিদ্ধান্ত এসেছে। ২০২২ সালে বিএসইসি ইউএফএসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তথ্য শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এরপর একাধিক ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ১৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে ইউএফএসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর মধ্যে ইউএফএস-বাংলাদেশ এশিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ইউনিট ফান্ড এবং ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ডের নাম রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় ইউএফএসের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা, ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কর্মকর্তাসহ স্বাধীন নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের ৩১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ অভিযুক্তরা জালিয়াতির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন অননুমোদিত ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, তদন্তে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার অননুমোদিত বিনিয়োগ, ১৪৮ কোটি টাকার ভুয়া ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ (এফডিআর) এবং শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফান্ডে জমা না দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠে আসে। এছাড়া ব্যবস্থাপনা ও ট্রাস্টি ফি বাবদ আদায় করা অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এসব আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় বিএসইসি। অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
পর্তুগিজ ফুটবলার দিয়োগো জোটার মৃত্যু নিয়ে স্টেডিয়ামে আপত্তিকর স্লোগানের ঘটনায় সৌদি আরবের ক্লাব আল-তাউনকে শাস্তি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ক্লাবটিকে এক লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার পাশাপাশি পরবর্তী দুটি ঘরের ম্যাচ দর্শক ছাড়া আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল-হিলালের বিপক্ষে ম্যাচে গ্যালারি থেকে জোটাকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। ম্যাচটিতে আল-তাউন ৬-০ গোলে পরাজিত হয়। ওই সময় আল-হিলালের পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ও জোটার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রুবেন নেভেসকে লক্ষ্য করেই আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সৌদি আরবের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ফুটবলার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আল-নাসরের পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও এমন আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, লিগ কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যারা সীমা অতিক্রম করে তাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। জোটার শেষকৃত্যে কফিন বহনকারীদের মধ্যে ছিলেন রুবেন নেভেস। ম্যাচ শেষে গ্যালারির ওই আচরণ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এমন কটূক্তি করেছে, তারা যেন পরে গিয়ে প্রার্থনা করে—এমনটাই তিনি আশা করেন। এদিকে মাঠের পারফরম্যান্সও আল-তাউনের জন্য ভালো যাচ্ছে না। আল-হিলালের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর চলতি লিগে প্রথম সাত ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে দলটি। পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান ১৭তম। এই হতাশাজনক ফলের পর কোচ জারকো লাজেতিচকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে ক্লাবটি। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দলের সাবেক খেলোয়াড় জিহাদ আল-হুসাইন।
ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নের পথ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। চুক্তি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় একটি বিল নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস হয় বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পার্লামেন্টে উত্থাপনের পর বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৯৩ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৯টি। বিরোধী দল লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাও বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে রপ্তানি করা নিউজিল্যান্ডের পণ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্য শতভাগ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এছাড়া চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। গত ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে কার্যকর করার লক্ষ্যেই নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। বিলটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর এখন তা নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেলের কাছে পাঠানো হবে। গভর্নর জেনারেলের স্বাক্ষরের পর বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে। নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে বলেন, আইনটি কার্যকর হলে রপ্তানিকারকেরা দ্রুত এর সুবিধা পেতে শুরু করবেন। চলতি বছরের মধ্যেই ভারত-নিউজিল্যান্ডের এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবাবাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। সূত্র: এএফপি
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের প্রথম ধাপের ফল আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার পর প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল দেখতে পারবেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার রাত ৮টার পর একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। ভর্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এ বছর একাদশে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। অনলাইন আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা। ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। আবেদনকারীদের গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নীতিমালা অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং তার আগের দুই বছরের পরীক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণের পর আবেদনের সুযোগ থাকবে। এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগেই আবেদন করতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন। ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য। সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানের নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপর ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনায় নেওয়া হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমতা থাকলে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর দেখা হবে। স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির যোগ্যতা পূরণ করলে নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন। এদিকে ভর্তি ফি ও সেশন চার্জের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা, অন্যান্য মহানগরে ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে বাংলা মাধ্যমে ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার, জেলা সদরে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চায়নের সময় শিক্ষার্থীকে বোর্ডের বিভিন্ন ফি বাবদ মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু বা ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি কিংবা এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্স (ইউএফএস) ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড অবসায়নের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ট্রাস্টির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট বিএসইসির পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটি অবসায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিজিআইসি জানিয়েছে, ট্রাস্টি হিসেবে তারা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণ করে ইতোমধ্যে অবসায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে। ফান্ডের সম্পদ নগদায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা যথাসময়ে জানানো হবে। ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ডটি একটি বেমেয়াদি বা ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড। এর স্পন্সর ছিল প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ফান্ডটিতে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৯৮ লাখ টাকা। আর ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্স লিমিটেড। ইউএফএসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক তদন্ত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে নতুন করে ফান্ডটি অবসায়নের সিদ্ধান্ত এসেছে। ২০২২ সালে বিএসইসি ইউএফএসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তথ্য শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এরপর একাধিক ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ১৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে ইউএফএসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর মধ্যে ইউএফএস-বাংলাদেশ এশিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ইউনিট ফান্ড এবং ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ডের নাম রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় ইউএফএসের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা, ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কর্মকর্তাসহ স্বাধীন নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের ৩১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ অভিযুক্তরা জালিয়াতির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন অননুমোদিত ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, তদন্তে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার অননুমোদিত বিনিয়োগ, ১৪৮ কোটি টাকার ভুয়া ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ (এফডিআর) এবং শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফান্ডে জমা না দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠে আসে। এছাড়া ব্যবস্থাপনা ও ট্রাস্টি ফি বাবদ আদায় করা অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এসব আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় বিএসইসি। অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নের পথ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। চুক্তি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় একটি বিল নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস হয় বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পার্লামেন্টে উত্থাপনের পর বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৯৩ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৯টি। বিরোধী দল লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাও বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে রপ্তানি করা নিউজিল্যান্ডের পণ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্য শতভাগ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এছাড়া চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। গত ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে কার্যকর করার লক্ষ্যেই নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। বিলটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর এখন তা নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেলের কাছে পাঠানো হবে। গভর্নর জেনারেলের স্বাক্ষরের পর বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে। নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে বলেন, আইনটি কার্যকর হলে রপ্তানিকারকেরা দ্রুত এর সুবিধা পেতে শুরু করবেন। চলতি বছরের মধ্যেই ভারত-নিউজিল্যান্ডের এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবাবাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। সূত্র: এএফপি
ইরান-সমর্থিত হুতিদের টানা এক সপ্তাহের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও। মঙ্গলবার মক্কা ও জেদ্দাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। ইতিহাসে এই প্রথম যুদ্ধের কারণে পবিত্র মক্কা শহরে এমন সতর্কতা জারি করা হলো। তবে সেখানে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে দ্রুতই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা হুতিদের কর্মকাণ্ডকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুতিরা একটি গতিশীল অভিযানের মাধ্যমে নতুন কিছু এলাকা ও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব-আল-মানদেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করছিল। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরাকভিত্তিক একটি ইরানপন্থী গোষ্ঠীর হামলার পর পাইপলাইনটি অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই পাইপলাইনে আবার অপরিশোধিত তেল সরবরাহ শুরু হতে পারে। এদিকে ইয়েমেনে চালানো বিমান হামলার জবাবে সৌদি আরবের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালির পর বাব-আল-মানদেবও অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড গড়ে গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে। লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তাও চেয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও দ্বিধায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও আরও সংকটপূর্ণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাত মাসের যুদ্ধের মধ্যে ওই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় সীমিত হয়ে এসেছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপরও পড়ছে। সংঘাতের কারণে গত সপ্তাহ থেকেই তেলের দাম বাড়ছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ডিজেলের গড় খুচরা মূল্যও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন সংকট ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধবিরতির কারণে সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে চলতি মাসে আবার লড়াই শুরু হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের সমর্থক বাহিনীগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে থাকে হুতিরা। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে। গত বছর দুই মাস ধরে হুতিদের ওপর বিমান হামলা চালানো দেশটির সামনে এখন দুটি বড় ঝুঁকি—বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নতুন হুমকি তৈরি হলেও সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা না করা, অথবা রিয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে আরেকটি ব্যয়বহুল যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়া। এদিকে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার সংঘাতের জেরে দেশটির জন্য ভ্রমণ সতর্কতা বা ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণে পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়ে লেভেল-৩ এ রাখা হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক মাধ্যমের কার্যক্রম সংক্রান্ত স্থানীয় আইনগুলোর বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের তিন শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সৌদি জোটের জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড জানায়, খামিস মুসাইত, আবহা ও তায়েফে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘর ও যানবাহন। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, সৌদির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব হামলার ‘যোগ্য ও দায়িত্বশীল জবাব’ দেওয়া হবে। এর পরের ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের লাহজ, তাইজ, আল-জাউফ, মারিব ও হাজ্জাহ প্রদেশের অন্তত ৫৪টি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, খামিস মুসাইত ও তায়েফের সৌদি বিমানঘাঁটি থেকে এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান এসব হামলা চালায়। এতে তাইজের একটি সরকারি ভবনসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। হুতিরা জানিয়েছে, খামিস মুসাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটির রাডার, রানওয়ে ও অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনে আগের পাঁচ দিনে সৌদি যুদ্ধবিমানের ৩০০ হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয় বলে দাবি তাদের। এদিকে হামলার আশঙ্কায় জেদ্দা, মক্কা ও তায়েফে ‘জরুরি বিপদ সতর্কতা’ জারি করেছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাতার সতর্ক করে বলেছে, হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নের পথ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। চুক্তি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় একটি বিল নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস হয় বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পার্লামেন্টে উত্থাপনের পর বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৯৩ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৯টি। বিরোধী দল লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাও বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে রপ্তানি করা নিউজিল্যান্ডের পণ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্য শতভাগ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এছাড়া চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। গত ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে কার্যকর করার লক্ষ্যেই নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। বিলটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর এখন তা নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেলের কাছে পাঠানো হবে। গভর্নর জেনারেলের স্বাক্ষরের পর বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে। নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে বলেন, আইনটি কার্যকর হলে রপ্তানিকারকেরা দ্রুত এর সুবিধা পেতে শুরু করবেন। চলতি বছরের মধ্যেই ভারত-নিউজিল্যান্ডের এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবাবাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। সূত্র: এএফপি
ভিডিওতে সালাম দেওয়া, ইনশাআল্লাহ ও জাযাকাল্লাহ বলায় ভারতের অতিরিক্ত এসপি মর্যাদার এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা আইপিএস পরীক্ষায় পাস করে পুলিশে যোগ দেওয়া এ নারীর নাম বুশরা বানু। তিনি পশ্চিমবঙ্গের খগড়পুরে এসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর একটি ভিডিওতে আইপিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলেন বুশরা। আর ওই ভিডিওতে তিনি আসসালামু আলাইকুম বলে সালাম দেন এবং কথার মাঝে ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার করেন। এবং শেষে যাজাকাল্লাহ বলেন। আর এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন। এরপর তাকে অতিরিক্ত এসপির পদ থেকে আর্মড পুলিশের ডেপুটি কমানড্যান্ট হিসেবে বদলি করে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ তার সমালোচনা করে। তিনি তার বক্তব্যে কেন ‘জয় হিন্দ’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ শব্দ ব্যবহার করেননি সেটি নিয়ে কথা তোলে তারা। উগ্র সংগঠনটি এ নিয়ে বলেছে, এই নারী পুলিশ কর্মকর্তার ভিডিও নিয়ে তারা পশ্চিমবঙ্গের হোম সেক্রেটারিকে অবহিত করেছে। তারা অভিযোগে বলেছে, “তিনি তার বক্তব্য শুরু করেছেন আসসালামু আলাইকুম বলে। ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার এবং শেষে জাযাকাল্লাহ বলেছেন। কিন্তু বক্তব্যে বন্দে মাতরম বা জয় হিন্দ ব্যবহার করেননি। ভারতের একজন কর্মরত অফিসার হিসেবে নিরপেক্ষ থাকা উচিত এবং যখন জনগণের সঙ্গে কথা বলবেন তখন জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতে হবে। আমরা তার বক্তব্য ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে বলেছি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ইরান-সমর্থিত হুতিদের টানা এক সপ্তাহের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও। মঙ্গলবার মক্কা ও জেদ্দাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। ইতিহাসে এই প্রথম যুদ্ধের কারণে পবিত্র মক্কা শহরে এমন সতর্কতা জারি করা হলো। তবে সেখানে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে দ্রুতই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা হুতিদের কর্মকাণ্ডকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুতিরা একটি গতিশীল অভিযানের মাধ্যমে নতুন কিছু এলাকা ও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব-আল-মানদেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করছিল। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরাকভিত্তিক একটি ইরানপন্থী গোষ্ঠীর হামলার পর পাইপলাইনটি অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই পাইপলাইনে আবার অপরিশোধিত তেল সরবরাহ শুরু হতে পারে। এদিকে ইয়েমেনে চালানো বিমান হামলার জবাবে সৌদি আরবের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালির পর বাব-আল-মানদেবও অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড গড়ে গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে। লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তাও চেয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও দ্বিধায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও আরও সংকটপূর্ণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাত মাসের যুদ্ধের মধ্যে ওই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় সীমিত হয়ে এসেছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপরও পড়ছে। সংঘাতের কারণে গত সপ্তাহ থেকেই তেলের দাম বাড়ছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ডিজেলের গড় খুচরা মূল্যও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন সংকট ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধবিরতির কারণে সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে চলতি মাসে আবার লড়াই শুরু হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের সমর্থক বাহিনীগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে থাকে হুতিরা। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে। গত বছর দুই মাস ধরে হুতিদের ওপর বিমান হামলা চালানো দেশটির সামনে এখন দুটি বড় ঝুঁকি—বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নতুন হুমকি তৈরি হলেও সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা না করা, অথবা রিয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে আরেকটি ব্যয়বহুল যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়া। এদিকে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার সংঘাতের জেরে দেশটির জন্য ভ্রমণ সতর্কতা বা ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণে পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়ে লেভেল-৩ এ রাখা হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক মাধ্যমের কার্যক্রম সংক্রান্ত স্থানীয় আইনগুলোর বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা
ওমানের উপকূলে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এলগাইয়ায় হামলা হয়েছে। এতে দুই নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। হামলার পর জাহাজটিকে ওমানের একটি বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, মুসান্দাম প্রদেশের উত্তর-পূর্বে প্রায় ১ দশমিক ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটিতে হামলা হয়। হামলার পর ওমানের রয়্যাল নেভির একটি জাহাজ ২৩ জন নাবিককে উদ্ধার করে। নিখোঁজ দুই নাবিকের সন্ধানে অভিযান চলছে। এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা আঘাত হানে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি। ইউকেএমটিও আঘাত পাওয়া জাহাজটির নাম জানায়নি। ফলে এটি এলগাইয়া নাকি অন্য কোনো জাহাজ, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: শাফাক নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।