সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ইরান সীমান্তের কাছে পৌঁছে ফিরে গেল ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান

সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। গত সোমবারের এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার একাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমানগুলো ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ার পর সেগুলো ফিরে যায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সামরিক তৎপরতার বিষয়ে ইসরায়েল আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিল। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানগুলো ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। একই সঙ্গে এ অভিযানকে সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়।   তবে এ ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ধারণা, ইসরায়েল আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে। এরপর সেই ঘটনাকে পাল্টা হামলার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারত। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান কোনো গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি।   ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের অনীহা এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের এ তৎপরতা এবং নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

৯ মিনিট আগে
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছি না আগামী ১০ বছরেও: স্পিকার

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ১০ বছরের মধ্যেও দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁর আস্থা রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সুষ্ঠু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় নিজ সংসদীয় আসনে বুধবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন’ বলে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন স্পিকার। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সমাজের ভালো ও যোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সমাজে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।   ভোলার গ্যাস নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি জানান, জেলাটিতে বিপুল গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে বিদেশি পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভোলার গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১১ মিনিট আগে
মিরপুরে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবলয় ভেঙে কাছে যাওয়ার চেষ্টা, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করে তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ। তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তানভীরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   ঘটনার প্রায় ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তানভীরকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপর হয়। পরে মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।   ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় তানভীর পুলিশ সদস্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করছেন। একপর্যায়ে তিনি অন্যদের পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছে যান।   মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে ফুটপাত পরিদর্শনে গেলে ওই ছাত্রলীগ নেতা তাঁকে অনুসরণ করেন। ঘটনার ভিডিও যাচাই-বাছাই করে তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

১৪ মিনিট আগে
সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপ উপজেলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে।   সেখান থেকে নলিয়ান লঞ্চঘাট হয়ে নৌপথে বাগেরহাটের মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মোংলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা মোংলা’র জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।   কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নবিরতি শেষে বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেবেন তিনি।   এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টার থেকে হিরণ পয়েন্টসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন।   প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বেলা সোয়া ৩টার দিকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে বেলা সাড়ে ৩টায় পরিদর্শন কর্মসূচি রয়েছে।   সফর শেষে বিকেলেই প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

১৭ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপ উপজেলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে।   সেখান থেকে নলিয়ান লঞ্চঘাট হয়ে নৌপথে বাগেরহাটের মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মোংলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা মোংলা’র জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।   কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নবিরতি শেষে বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেবেন তিনি।   এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টার থেকে হিরণ পয়েন্টসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন।   প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বেলা সোয়া ৩টার দিকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে বেলা সাড়ে ৩টায় পরিদর্শন কর্মসূচি রয়েছে।   সফর শেষে বিকেলেই প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২২, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছি না আগামী ১০ বছরেও: স্পিকার

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ১০ বছরের মধ্যেও দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁর আস্থা রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সুষ্ঠু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় নিজ সংসদীয় আসনে বুধবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন’ বলে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন স্পিকার। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সমাজের ভালো ও যোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সমাজে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।   ভোলার গ্যাস নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি জানান, জেলাটিতে বিপুল গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে বিদেশি পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভোলার গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান সীমান্তের কাছে পৌঁছে ফিরে গেল ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান

সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। গত সোমবারের এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার একাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমানগুলো ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ার পর সেগুলো ফিরে যায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সামরিক তৎপরতার বিষয়ে ইসরায়েল আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিল। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানগুলো ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। একই সঙ্গে এ অভিযানকে সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়।   তবে এ ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ধারণা, ইসরায়েল আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে। এরপর সেই ঘটনাকে পাল্টা হামলার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারত। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান কোনো গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি।   ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের অনীহা এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের এ তৎপরতা এবং নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।   পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি, যিনি কথিত ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে পরিচালিত চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে ১৩টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি এলাকার প্রেমবাজারে মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের হার্ডওয়্যারের দোকানে অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী হাসান। এ সময় কালো পোশাক, এসআরবি লেখা জ্যাকেট, ক্যাপ ও মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করেন। নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা ব্যবসায়ীর পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং তার দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যান।   পরে বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে তাকে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপকের কাছে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে ফোন আসে। এ সময় অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর ভাই মো. হোছাইমের করা মামলার পর তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বাঁশখালী থানা-পুলিশ।   যেভাবে উদ্ধার হলেন ব্যবসায়ী পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সূত্র বিশ্লেষণ করে অভিযান শুরু করে। কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ অক্টোবর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযানে অপহরণে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, এসআরবি লেখা পাঁচটি কালো জ্যাকেট, দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে।   চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, সুমন মুন্সি আগে উখিয়া এলাকায় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন এবং কারাভোগ করেন। এরপর তিনি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে একটি চক্র তৈরি করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রের কয়েকজন সদস্য সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সরবরাহ করতেন। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ করা হতো। অপহৃত ব্যক্তিদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনাও ছিল চক্রটির।   গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মিজানুর রহমান, উখিয়ার জয়নাল উদ্দিন, বাঁশখালীর মো. আব্বাস উদ্দিন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা ছলিম ওরফে সেলিম এবং কক্সবাজার সদরের দেলোয়ার হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগের মামলাও রয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
নিরাপদ সড়ক দিবসে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিআরটিএর সচেতনতামূলক রোড শো

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাস টার্মিনালগুলোতে সচেতনতামূলক ‘রোড শো’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের সচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিবসটি পালন করা হয়।   কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ২, ৩ ও ৪-এর উদ্যোগে গাবতলী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর এলাকার প্রধান সড়ক এবং কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।   এ সময় সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন বার্তা প্রচার করা হয়।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. মাসুদ আলমসহ ঢাকা মেট্রোর বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।   এ ছাড়া কর্মসূচিতে মোটরযান মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি, রোভার স্কাউট, ড্রাইভারস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, নিরাপদ সড়ক চাই এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।   জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সড়ক ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করা এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সম্মিলিত সচেতনতা গড়ে তোলা।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরান সীমান্তের কাছে পৌঁছে ফিরে গেল ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২২, ২০২৬

সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। গত সোমবারের এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার একাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমানগুলো ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ার পর সেগুলো ফিরে যায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সামরিক তৎপরতার বিষয়ে ইসরায়েল আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিল। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানগুলো ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। একই সঙ্গে এ অভিযানকে সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়।   তবে এ ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ধারণা, ইসরায়েল আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে। এরপর সেই ঘটনাকে পাল্টা হামলার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারত। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান কোনো গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি।   ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের অনীহা এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের এ তৎপরতা এবং নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের আন্দোলনে ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান, যেভাবে হলো এর উৎপত্তি
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ । এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।   আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে শুরু’। আর ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে।   তবে গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষা সরঞ্জামের অভাবে তরুণদের প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর থেকে এই স্লোগান একটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ওই বিক্ষোভ পরে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল।   কোথা থেকে স্লোগানটির উৎপত্তি ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এমন এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান। বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’, যা ফ্রান্সের তরুণদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্র কথ্যরীতির অনুকরণ বলে মনে হয়। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’   লেখক মামাদৌ ও আবদুল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে কয়েকবার বার্তাটি পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অন্যান্য স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারী এই বাক্যকে হাস্যকর মনে করে বার্তার স্ক্রিনশট নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। নিউইয়র্ক টাইমস বার্তাগুলোর মূল উৎস যাচাই করতে পারেনি।   এরপর কী ঘটল অনেক তরুণের সন্দেহ, বার্তাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসেছে। তাঁরা আনাড়িভাবে শিক্ষার্থী প্রতিবাদ আন্দোলনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ বাক্যটিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। তাদের আন্দোলনকে দমন করতে কর্তৃপক্ষ যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তাকে উপহাস করা–ই ছিল এই স্লোগানের উদ্দেশ্য।   এই স্লোগানকে এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার একটি রূপক হিসেবে অভিব্যক্তি দেখা হচ্ছে। ফরাসি উপনিবেশগুলোর সাবেক বাসিন্দাদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ এবং আরব ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। বার্তাগুলোর মাধ্যমে তাদের ভুলভাবে তুলে ধরার পুলিশের চেষ্টা হিসেবে অভিযোগ করে আসছেন তারা।   জানতে চাইলে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এজেন্টরা এ ধরনের বাক্যটি ব্যবহার করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা স্বীকার করেছে, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে অনলাইনে ছদ্মবেশ ধারণ করেন, যাতে বিক্ষোভে বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের ওপর নজরদারি রাখা যায়।   মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রেক্ষাপটে, তদন্তকারী এজেন্টের একটি ছদ্মনাম তৈরি করার সুবিধা রয়েছে, যাতে ‘অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের যোগাযোগ বের করে সংরক্ষণ করা যায় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় এসব কিছু প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।’   কেন স্লোগানটি এতটা সাড়া ফেলল শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের কাছে এই অদ্ভুত বাক্যটি তাদের আন্দোলন এবং সরকারের মধ্যকার প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। সরকার তাদের দাবি মানতে অনেকটা অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। ফ্রান্সের প্রভাবশালী শিক্ষার্থী ইউনিয়নের মুখপাত্র সাবরিন খারবাচ বলেন, কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না। তরুণেরা এই বাক্যটিকে তাদের নিজস্ব করে নিয়েছে এটা বোঝাতে, তাদের আন্দোলনে নজরদারি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চোখ এড়িয়ে যায় না। তারা সেগুলোর তোয়াক্কা না করেই নিজেদের গুছিয়ে নিতে সক্ষম।   বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদানি সাবাদি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্ন্যাপচ্যাট বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের একধরনের ‘পূর্বসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস’–কে তুলে ধরেছে। কারা ব্যারিকেড তৈরি করছে বা ‘সবকিছু ভেঙে ফেলার’ চেষ্টা করছে, সেটা যেন তারা অনুমান করে ফেলেছে।   প্যারিসের উচ্চবিদ্যালয়ের ফেদ্রে কেমেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ জাতীয় কৌতুকে পরিণত হয়েছে। কারণ, ‘এটি একজন তরুণের অত্যন্ত বাজে এক নকল রূপ’। ফেদ্রে আরও যোগ করেন, বাক্যটি বর্ণবাদের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই বাক্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, যারা সম্পত্তি ভাঙচুর করতে যাচ্ছে, তারা সবাই আরব।   ফ্রান্সের বাইরে এই স্লোগান কীভাবে ছড়াল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগানটি বেলজিয়াম ও জার্মানির অনুরূপ বিক্ষোভেও ব্যবহার করা হয়েছে।   সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ শিক্ষার্থী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওতে এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছেন। ভিডিওতে থুনবার্গ ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণদের অন্যান্য অঙ্গভঙ্গিও দেখান। এর মধ্যে ‘সিক্স-সেভেন’ সম্পর্কিত একটি অঙ্গভঙ্গিও ছিল, যা মিম হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।   নতুন এই স্লোগানের ব্যবহার ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর হাস্যরসের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে এক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণ ও বেকার ভারতীয়দের ‘পরজীবী’ এবং ‘রুই-কাতলা/কাকরোচ’ (তেলাপোকা) বলে ব্যঙ্গ করার পর প্রতিবাদকারীরা তাদের আন্দোলনের নামকরণ করেছিলেন সেই ব্যঙ্গাত্মক শব্দের নামে।

ছবি: সংগৃহীত
সামরিক সম্পর্ক জোরদারে অঙ্গীকার পাকিস্তান-মালদ্বীপের
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন।   এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। ১১ বছরের মধ্যে মালদ্বীপের কোনো প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম পাকিস্তান সফর। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রেক্ষাপটেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির বৈঠকে মালদ্বীপের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে এবং অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে দেশটির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশটির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।   এর আগে মালদ্বীপের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় দুই দেশের মধ্যে ২০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই দুই দেশ ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।   দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ মালদ্বীপের জনগণের প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন ও আন্তরিক ভালোবাসা জানান। তিনি মালদ্বীপকে ‘দ্বীপের দেশ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই জাতির চেতনা ঠিক তাদের চারপাশ ঘিরে থাকা মহাসাগরের মতোই বিশাল।   সূত্র: ডন,রেডিও পাকিস্তান।

ছবি: সংগৃহীত
সৌদির তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা, নিহত ২
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরামকো পরিচালিত একটি তেলক্ষেত্রে আঘাত হানার সময় একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এ ঘটনায় দুই জন নিহত ও দু জন আহত হয়েছেন।   সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন ফিলিপাইন ও ও একজন নেপালি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।   গত মাসে, হুতিদের একটি ড্রোন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৌদি আরবে বসবাসরত এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনায় সেখানে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।   হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। ইয়েমেনে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসে হুতিদের একাধিক হামলার পর  ১০ অক্টোবর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।   ফ্লাইটঅ্যাওয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সসহ বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের পরিষেবা বাতিল করেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

শিক্ষা
স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ