সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় কমল তেলের দাম

এক সপ্তাহের টানা ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এবং হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তেলের বাজারে এই প্রভাব পড়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১২টা ৩২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৪ সেন্ট বা দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৫ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮১ সেন্ট বা দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়। ওই দিন দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। দিনের শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে যায়। ব্রেন্টের দাম ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে লেনদেন শেষ করে। অন্যদিকে, আগের ছয় কার্যদিবসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৩ শতাংশ কমেছিল। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে একই সময়ে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ।

৫৭ মিনিট আগে
দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

দুপুরের মধ্যে দেশের ৮ জেলার পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে ভোর ৫টায় দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও এসময় দেশের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
সমৃদ্ধ-স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ।  বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া তার প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দলমত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য।   তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে জোর প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছায়। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী।তাই নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের পরিকল্পনার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।   অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক। বিভিন্ন খাতের এসব কার্ডকে সমন্বিত করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে ‘স্পোর্টস’কে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত জুনে সারাদেশে আয়োজিত মাসব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার শহর ও গ্রামের উন্নয়ন বৈষম্য কমানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচির সঙ্গে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’ নীতির ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশের পরোক্ষ মিল রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রযুক্তির বৈষম্য দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে। কিন্তু প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।’   উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী  প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের সুফল ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। এ উত্তরণকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো দেশ একা এগিয়ে যেতে পারে না। কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা থেকেও পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও নির্ভরতার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। শান্তি ও মানবিক বিশ্বের পক্ষে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। তিনি বলেন, বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। জাতিসংঘকে এমন একটি সমঝোতামূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত’ উল্লেখ করে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াকে সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থন কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। জলবায়ু ন্যায়বিচারে জোর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কপ-৩১-এ জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আরো জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ক্লিন ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা ও খরা মোকাবেলায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ এবং আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। নিরাপদ অভিবাসন ও শান্তিরক্ষা নিয়মিত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণ ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য- ‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: অ্যা ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বহুপক্ষীয়তার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণরা যেন নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়- এমন একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ কাজ করছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’- এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

১ ঘন্টা আগে
দেশ মেরামতে ‘থ্রি-আর কৌশল’ অনুসরণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে মেরামতে সরকার রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।’ তিনি জানান, ‘দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।’

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।   জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
লঞ্চের ভাড়া বাড়ল ৮ শতাংশ, প্রজ্ঞাপন জারি

বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চ ভাড়াও। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চ ভাড়া বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।   নতুন ভাড়া বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একজন যাত্রীর লঞ্চ ভাড়া কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা ও বেশি দূরত্বে ১৯ পয়সা বেড়েছে। যার অর্থ আগের তুলনায় কম দূরত্বের লঞ্চের ভাড়া ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়ল।   লঞ্চ ভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ২২ পয়সা বেড়ে ৩ টাকা ১৭ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ভাড়া ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।   জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে।   এ ভাড়ার হার সকল নদী বন্দরের টার্মিনাল এবং নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯’ এর বিধি ২৭ অনুযায়ী সরকার নৌযানে যাত্রী পরিবহনের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় স্ত্রী মৃত্যুর মামলা: গাজী নজরুলের আরও ৪ দিনের রিমান্ড

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।   মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম খাতুনের পারিবারিক জীবন ও মৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো আরও যাচাই করতে গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।   যেভাবে মামলার সূত্রপাত গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।   মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।   এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলকে চার দিনের এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমানকেও পরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে।

ছবি: সংগৃহীত
অগ্নিসংযোগ-বোমা হামলা নিয়ে রিজভীর ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার ঘটনাগুলো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।   তিনি বলেন, যারা আগুন দিচ্ছে ও বোমা ছুড়ছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। রাজপথ কারো ইজারা নেওয়া নয়।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতাকালে রিজভী এ মন্তব্য করেন।   পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদলের সমাবেশে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন।   ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত অপরাধীরা স্বীকার করেছে যে, তারা প্রতিবেশি দেশ থেকে ফোনকলের মাধ্যমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো, সেসব ঘটনার ছবি তোলা এবং প্রমাণের জন্য তা ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা ও অর্থ পেয়েছিল।   রিজভী বলেন, এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদ প্রতিবেশি দেশের একটি ফোন নম্বর থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের গভীরতা উন্মোচন করে।   তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বদা জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।   সমাবেশে বক্তৃতাকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, গত ১৭ বছরে জনগণ ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসন প্রত্যক্ষ করেছে।   তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একদিকে যেমন দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে, তেমনি রাজপথে ষড়যন্ত্রকারীদেরও সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করছে।   বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার যখন অর্থনীতি পুনর্গঠন ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, তখন ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি স্বার্থান্বেষী মহল অগ্নিসংযোগ ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।    ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ছাত্র সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মী অংশ নেন।

ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করবে ফ্রান্স

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুকে সুরক্ষার সহায়তা দিতে সৌদি আরবে সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ঘোষণা দিয়েছেন।   ম্যাক্রোঁ বলেন, ডিজেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উভয়ের জন্যই ‘বিপর্যয়কর’ হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন।   জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ম্যাক্রোঁ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে ফ্রান্সের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্যারিস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ ইয়ানবু বন্দর। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টিভি চ্যানেলকে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা এই স্থানটি সুরক্ষার জন্য সামরিক সম্পদ অর্থাৎ সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছি; কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থানটিকে রক্ষা করার জন্যই তা করা হচ্ছে।   ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার হুমকি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইউরোপীয় সরকারগুলোকে সতর্ক করেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-র এমন একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।   তবে ​​ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ক্রমাগত বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে চলেছে এবং লিপজিগে ব্যর্থ হামলার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছিল, আগস্ট মাসে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হয়েছিল।   রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে অবহিত করতে গত সপ্তাহে এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ডেকেছিলেন ম্যাক্রোঁ। পরবর্তীতে তিনি জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ তিনি সরকারকে দিয়েছেন।   ম্যাক্রোঁ বলেন, মস্কো ইউরোপকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই মহাদেশের দৃঢ় সংকল্প ভেঙে দিতে চাইছে। রাশিয়া দাবি করেছে, হাইব্রিড হামলার বিষয়ে ইউরোপের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তা রাশিয়া-বিরোধী উন্মাদনার ফল। তবে এ সপ্তাহে রাশিয়ার বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে; কারণ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশার উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি অন্য সদস্য দেশগুলোকে চমকে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের জেরে আজারবাইজান গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাবন্দী এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা প্রদর্শন করে। সূত্র: রয়টার্স।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ করল আমিরাত-ওমান
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তেহরানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের এটিই প্রথম বড় প্রভাব।   উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম ভ্রমণ কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নতুন নীতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করছে।   ইরানের আধা সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ওমান, জর্জিয়া, আজারবাইজান এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, কর্তৃপক্ষ ইরাকের আরেকটি বিমানবন্দর নাজাফ এর দিকে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরের যেসব বৈশ্বিক কোম্পানি ইরানি এয়ারলাইন্সের সাথে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।   বৃহস্পতিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, ইরাক, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে নির্ধারিত ফ্লাইট ওঠানামার তালিকা দেখা গেছে। কিন্তু নিকটবর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর যাদের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের সাথে কোনো ফ্লাইটের তালিকা দেখা যায়নি।   ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিত আকাশপথের অবরোধ কার্যকর করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। বুধবার দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা কোনো আঞ্চলিক দেশের বিমানবন্দরগুলোকে ‘ব্যবহারের অযোগ্য’ করে দেওয়া হবে।   গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের বিমান চলাচল খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসগুলো অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটিকে সহায়তা করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।   অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপগুলোকে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।   সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট, গাল্ফ নিউজ।

ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করবে ফ্রান্স
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুকে সুরক্ষার সহায়তা দিতে সৌদি আরবে সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ঘোষণা দিয়েছেন।   ম্যাক্রোঁ বলেন, ডিজেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উভয়ের জন্যই ‘বিপর্যয়কর’ হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন।   জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ম্যাক্রোঁ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে ফ্রান্সের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্যারিস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ ইয়ানবু বন্দর। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টিভি চ্যানেলকে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা এই স্থানটি সুরক্ষার জন্য সামরিক সম্পদ অর্থাৎ সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছি; কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থানটিকে রক্ষা করার জন্যই তা করা হচ্ছে।   ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার হুমকি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইউরোপীয় সরকারগুলোকে সতর্ক করেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-র এমন একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।   তবে ​​ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ক্রমাগত বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে চলেছে এবং লিপজিগে ব্যর্থ হামলার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছিল, আগস্ট মাসে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হয়েছিল।   রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে অবহিত করতে গত সপ্তাহে এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ডেকেছিলেন ম্যাক্রোঁ। পরবর্তীতে তিনি জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ তিনি সরকারকে দিয়েছেন।   ম্যাক্রোঁ বলেন, মস্কো ইউরোপকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই মহাদেশের দৃঢ় সংকল্প ভেঙে দিতে চাইছে। রাশিয়া দাবি করেছে, হাইব্রিড হামলার বিষয়ে ইউরোপের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তা রাশিয়া-বিরোধী উন্মাদনার ফল। তবে এ সপ্তাহে রাশিয়ার বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে; কারণ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশার উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি অন্য সদস্য দেশগুলোকে চমকে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের জেরে আজারবাইজান গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাবন্দী এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা প্রদর্শন করে। সূত্র: রয়টার্স।

সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক জরুরি সতর্কতা জারি
আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

পবিত্র মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। সাধারণত সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়ে থাকে।   সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মক্কা নগরীর বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। একই সময়ে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু, তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এসব সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কথা জানানো হয়।   সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই নতুন এই সতর্কতা জারি হলো। গত সপ্তাহে সৌদি আরব দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো মক্কার দিকে একটি ড্রোন পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করার কথা জানালেও হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   এর আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদকেও লক্ষ্য করে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষ একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এসব ঘটনার ফলে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও স্থাপনায় নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।   ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব নৌপথ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সূত্র: এএফপি, রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
ইরান সংকট সমাধানে যে পথের কথা বললেন ট্রাম্প
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা নিরসনে নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলে (জিসিসি) অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি 'ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর' বা 'আইএমইইসি' প্রকল্পের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জবাবে এই সংযোগ করিডোরই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমাধান।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং সামুদ্রিক পথে তাদের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কিংবা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে নিরাপদ উপায়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য বহনের জন্য আইএমইইসি করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাইপলাইন বা বিকল্প যে কোনো মাধ্যমের সাহায্যে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পের প্রশাসন এই বৃহৎ বহুমাত্রিক উদ্যোগে পূর্ণ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।   ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার যৌথ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের গোড়াপত্তন ঘটে। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটিকে দুটি প্রধান রুটে ভাগ করা হয়েছে; পূর্ব রুটটি ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাথে যুক্ত করবে এবং উত্তর রুটটি উপসাগরকে সংযুক্ত করবে ইউরোপের সাথে। এই করিডোরে থাকবে সমন্বিত রেললাইন, নতুন শিপিং নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্যাবল লাইন এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন পরিবহনের পাইপলাইন। এর ফলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যবর্তী বাণিজ্য সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে এবং চীন ঘোষিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই)-এর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে উঠবে।   বক্তব্যের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দেন। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে এক সময় অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি জাতি হিসেবে তাদের টিকে থাকার কোনো সুযোগই থাকবে না। একই সাথে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।    সূত্র: এনডিটিভি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব