নারীদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ত্রিদেশীয় সিরিজের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। জবাবে ৮ উইকেটের বড় জয় পায় লঙ্কান মেয়েরা। ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে ব্যাট হাতে একদমই সুবিধা করতে পারেননি টাইগ্রেসরা। ওপেনার মাইমুনা নাহার ২৬ বলে ২৩ রান করেন। বাকিরা ক্রিজে এসেই বিদায় নিয়েছেন। পুরো ইনিংসে মাইমুনা বাদে আর কেউ ২০ রান করতে পারেননি। দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন শুধু সাদিয়া আক্তার। ২৬ বলে ১৭ রান করেছেন তিনি। ১৭.৩ ওভারের খেলা শেষে ৫৮ রান তুলে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন লিমানসা। জবাব দিতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার উমায়াঙ্গানা পেইরিসের উইকেট হারিয়েছে তারা। দারুণ এক ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করেন ফারজানা ইয়াসমিম মেধা। আরেক ওপেনার বিমোক্ষা ১৮ বলে ২২ রানের ক্যামিও খেলেছেন। শেষ দিকে নেথমি এবং লিমানসা মিলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। ৫৬ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের হয়ে ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন ফারজানা ইয়াসমিম মেধা এবং তিথি দাস অপর্ণা। এই ম্যাচে হারলেও ফাইনালে আগেই চলে গেছে বাংলাদেশ। আগামী ১৬ অক্টোবর একই ভেন্যুতে ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ।
রাশিয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা বাড়ছে। তাই ল্যান্ডফোনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ল্যান্ডফোন কিনতে অনেক বেশি অর্থ খরচ করেছে। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এই খরচ তিন গুণের বেশি। রুশ সংবাদমাধ্যম ভেদোমস্তি এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ল্যান্ডফোন কেনায় খরচ হয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখ রুবল। এটি প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ইউরোর সমান। এই সময়ে ল্যান্ডফোন কেনার দরপত্রও বেড়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে রাশিয়ায় নিয়মিত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঠেকাতে এই বিধিনিষেধ দরকার। তবে বিশেষজ্ঞদের মত ভিন্ন। তাঁরা বলছেন, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও ড্রোন আগে থেকে ঠিক করা পথে উড়তে পারে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ট্যাক্সি ও খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবাও ঠিকমতো চলছে না। পথ খুঁজে পেতেও সমস্যা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রোস্তেলেকমের প্রধান মিখাইল ওসেয়েভস্কি একটি পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মতো প্রতিটি বাড়িতে একটি ল্যান্ডফোন থাকা উচিত। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যোগাযোগের জন্য ল্যান্ডফোন ব্যবহার হয়। রাশিয়ায় এখন প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১২ দশমিক ২টি ল্যান্ডফোন আছে। তবে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অন্যরকম। তাদের মতে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা কমে ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৫-এ নামতে পারে।
এল ক্লাসিকোয় খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে শনিবার রাতে লাল কার্ড দেখার পর তাকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত। সালিবার চুল টেনে ধরা এবং এরপর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার কারণে এই শাস্তি। শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, ঘটনার সময় বলের দখল নিয়ে কোনো লড়াই ছিল না। তাই চুল টেনে ধরার জন্য এক ম্যাচ নয়, দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হয়েছে। লাল কার্ড দেখার পর ভিনিসিয়ুসের আচরণকে কমিটি ‘আক্রমণাত্মক মনোভাব’ বলেছে। এর জন্য আরও দুই ম্যাচ যোগ হয়েছে। ফলে তিনি চার ম্যাচ খেলতে পারবেন না। ম্যাচগুলো হলো সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তানদের ও ভ্যালেন্সিয়া। আন্তর্জাতিক বিরতির পর লা লিগায় ১৩তম রাউন্ডে সেল্তার বিপক্ষে খেলতে নামবেন ভিনিসিয়ুস। সেই ম্যাচ ২০ থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে হওয়ার কথা। তাই এক মাসের বেশি সময় তিনি লিগের মাঠের বাইরে থাকবেন। এখন তার মনোযোগ চ্যাম্পিয়নস লিগে। বড় ম্যাচটি, অর্থাৎ বার্সেলোনার বিপক্ষে লড়াই, তিনি হাতছাড়া করলেন। রিয়াল মাদ্রিদ মনে করছে, এই শাস্তি অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি। ক্লাবের মতে, রেফারিং থেকে শুরু করে শৃঙ্খলা কমিটি পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থার অবস্থাই এতে ফুটে উঠেছে। তবে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনার জন্য ক্লাব কয়েক দিন ধরেই প্রস্তুত ছিল। রিয়ালের আশা ছিল, শাস্তি তিন ম্যাচের কম হবে। দুই ম্যাচ হলেই তারা খুশি থাকত। চার ম্যাচ তো তারা ভাবেওনি। প্রতিবাদের জন্য তারা বিশেষভাবে নমনীয়তার আশা করেছিল। কিন্তু রেফারির প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ দেখার পর ঘটনাটি নিয়ে তর্কের সুযোগ খুব কম ছিল। ৭০তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস নাথানিয়েল সালিবার চুল টেনে ধরেন। ঘটনাটি ঘটে এমন এক পাল্টা আক্রমণের শুরুতে, যা শেষ হয় গোলে। প্রথমে ঘটনাটি কারও নজরে আসেনি। কিন্তু ভিএআর হস্তক্ষেপ করে সব বদলে দেয়। রেফারি দিয়াজ দে মেরা এসকুদেরোস কয়েকবার রিপ্লে দেখেই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর রেফারির প্রতিবেদনই হয়ে ওঠে প্রধান প্রমাণ। এর ভাষা ভিনিসিয়ুসের জন্য ক্ষতিকর ছিল। প্রথমত, প্রতিবেদনে স্পষ্ট লেখা ছিল, চুল টানার সময় ‘বল বিতর্কিত ছিল না’। ফুটবলে বল নিয়ে লড়াইয়ের সময় ও বলের বাইরের ঘটনার মধ্যে শাস্তির বড় পার্থক্য হয়। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন নিষেধাজ্ঞা বেড়ে দুই ম্যাচ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে ভিনিসিয়ুসের প্রতিবাদকে ‘আক্রমণাত্মক মনোভাব, যাকে সতীর্থদের আটকাতে হয়েছে’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এর জন্যই বাড়তি দুই ম্যাচ। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভিনিসিয়ুস লা লিগার ম্যাচ ডিরেক্টরকে ধাক্কাও দেন। তিনি তাকে ‘নোংরা লিগ’ বলেও গালি দেন। তখন তিনি মাথা পুরোপুরি ঠান্ডা রাখতে পারেননি। রিয়াল জানত, আপিলে সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা কার্যত অলীক আশাই করছিল। ভরসা ছিল, রেফারি প্রতিবেদনে কোনো গালিগালাজ বা এ ধরনের ভাষার কথা লেখেননি, এটা শৃঙ্খলা কমিটি বিবেচনা করবে। রেফারি ভিনিসিয়ুসের আচরণ বর্ণনা করেছেন এমন ভাষায়, যাতে ব্যাখ্যার সুযোগ ছিল। শেষ পর্যন্ত কোনো ছাড় মেলেনি। ভিনিসিয়ুস আজ রাতে রোমে খেলবেন। কিন্তু এরপর আন্তর্জাতিক বিরতির আগে তার একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক খেলা হবে চ্যাম্পিয়নস লিগে। সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তানদের ও ভ্যালেন্সিয়া, চারটি ম্যাচই তার হাতছাড়া। লা লিগায় তার ফেরার কথা ১৩তম রাউন্ডে, সেল্তার বিপক্ষে। রিয়ালের জন্য এটি বড় ধাক্কা। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনি এল ক্লাসিকোতেও থাকছেন না।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন হাসান মাহমুদ। সে ফর্মটা তিনি টেনে এনেছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টেও। তারই সুফল এবার পেলেন তিনি। আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়েছে তার। চলে এসেছেন ক্যারিয়ার-সেরা অবস্থানে। তিনি ছাড়াও উন্নতি হয়েছে ইবাদত হোসেন আর মেহেদী হাসান মিরাজের অবস্থানেও। এদিকে ব্যাটারদের উন্নতি হয়েছে লিটন দাস ও তানজিদ হাসানদেরও। বুধবার হালনাগাদ র্যাংকিং প্রকাশ হয়েছে। বোলারদের তালিকায় হাসান এখন ৩৮ নম্বরে। তিনি সাত ধাপ এগিয়েছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে হাসান হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নেন। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে তিনি হ্যাটট্রিক করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি একটি উইকেট পান। এই পারফরম্যান্স র্যাংকিংয়ে তার অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ইবাদত হোসেন দুই ইনিংসে মোট সাত উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে তার শিকার ছিল চারটি। দ্বিতীয় ইনিংসে পান তিনটি। এতে তিনি ১১ ধাপ এগিয়ে ৬৭তম স্থানে উঠেছেন। ম্যাচে চার উইকেট পাওয়া মিরাজ এক ধাপ এগিয়ে ২২ নম্বরে আছেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তার ওপরে আছেন শুধু তাইজুল ইসলাম। তাইজুল তিন ধাপ পিছিয়ে এখন ১৮তম। ব্যাটারদের র্যাংকিংয়েও সুখবর পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। লিটন প্রথম ইনিংসে ৫৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রান করেন। তিনি তিন ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২৯তম স্থানে উঠেছেন। প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা তানজিদ হাসান ১০ ধাপ এগিয়ে ৯২তম স্থানে জায়গা পেয়েছেন। অন্যদিকে মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত এক ধাপ করে পিছিয়েছেন। মুশফিক ১৮তম স্থানে নেমে গেছেন। তবু বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে তিনিই শীর্ষে। অধিনায়ক শান্তর অবস্থান ২১তম। টেস্ট অলরাউন্ডারদের তালিকায় মিরাজ আছেন তৃতীয় স্থানে। তার ওপরে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেন ও ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক সিএনজিচালক আহত হয়েছেন। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান যুগান্তরকে বলেন, দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছিল। তার মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়। ককটেলটি সিএনজির উপর পড়েছিল, এতে চালক আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ডিসি। রাত পৌনে ১১টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় এক সিএনজিচালক আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তবে কে বা কারা এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যারা ঘটাচ্ছেন, তারা মূলত জাদুঘরের কার্যক্রমকে ভয় পাচ্ছেন। এভাবে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জাদুঘরের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ সহজেই বুঝতে পারছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে কোনো গোষ্ঠী নাশকতা চালাতে পারে বা হামলা করতে পারে। গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আরও ঘৃণিত হবে। তবে এটাও আমরা বলতে চাই যে, জাদুঘরের বাইরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।’
পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক তৎপরতা ও চাপ মোকাবিলায় শুধু ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ফিলিপাইনকে। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন, ফিলিপাইনের নৌযানের চলাচলে বাধা এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে ফিলিপাইন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও সক্রিয় হয়েছে। তবে শুধু এসব ঘটনা প্রকাশ করে চীনের আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও তথ্যগত কৌশলও শক্তিশালী করতে হবে। বিতর্কিত এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন ফিলিপাইনের পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পালাওয়ান প্রদেশের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের কাছে চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ৯৬২২ নম্বর জাহাজটি ২২টি ছোট নৌযান নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওই এলাকায় ফিরে আসে। টাস্কফোর্সের অভিযোগ, এসব নৌযান সেখানে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা এবং সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এর আগে ৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন শোল এলাকায় ফিলিপাইনের একটি চিকিৎসা ও উদ্ধার মিশনে জলকামান ব্যবহার করে চীনা কোস্টগার্ড। মিশনটির উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপাইনের সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হয়ে থাকা বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজ থেকে একজন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া। স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের বিতর্কিত মিসচিফ রিফ এলাকায় চীনের সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে ফিলিপাইন ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজটি আয়ুঙ্গিন শোলে স্থাপন করে। এরপর থেকে জাহাজটি ওই এলাকায় ফিলিপাইনের উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সমঝোতার পরও কমেনি উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়। তবে ফিলিপাইনের অভিযোগ, সমঝোতার পরও বিতর্কিত এলাকায় তাদের সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজে সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে চীনের কোস্টগার্ড এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বাধা দেয় বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন। এর কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপিনো জেলেদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফিলিপাইনের মাছ ধরার সহায়ক নৌযান বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত। এদিকে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের সামরিক ও কোস্টগার্ড জাহাজের উপস্থিতিও বেড়েছে। ফিলিপাইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পাক-আসা দ্বীপ, আয়ুঙ্গিন শোল, এসকোদা শোল ও স্কারবরো শোলের আশপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ১০১টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৫৬। চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল সামুদ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি তথ্য প্রচারের মাধ্যমেও চীন ফিলিপাইনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যা, ফিলিপাইনের স্বাধীনতার গুরুত্ব খাটো করে দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার মতো বিষয় রয়েছে। এ ধরনের প্রচার ফিলিপাইনের প্রভাবশালী মহলে চীনের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারি বিবৃতি বা সামুদ্রিক ঘটনার ছবি প্রকাশ নয়, বরং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও জরুরি। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ফোর্বস গ্লোবাল সিইও সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বাস্তবতা তার দেশ উপলব্ধি করে। তবে এটিকে চীনের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ফিলিপাইন এখন নীরব কূটনীতির পরিবর্তে সামুদ্রিক এলাকায় চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর লক্ষ্য জনসচেতনতা বাড়ানো, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিশি রায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা। তবে এসব উদ্যোগ চীনের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশের কৌশলের পাশাপাশি চীনের আগ্রাসী তৎপরতার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র সরকারের ‘কমপ্রিহেনসিভ আর্কিপেলাজিক ডিফেন্স কনসেপ্ট’ বা সমন্বিত দ্বীপপুঞ্জ প্রতিরক্ষা ধারণায় সামরিক ঘাঁটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রবেশ-প্রতিরোধ ও নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি সামরিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ নির্ধারণ এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথায় ও কীভাবে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ফিলিপাইনের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংবাদ ও তথ্যের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানো ঠেকানো এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রসমর্থিত বা রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আসিয়ানের নেতৃত্ব কাজে লাগানোর সুযোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতেও ফিলিপাইনের সামনে সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে দেশটি। মিয়ানমার সংকট, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা মোকাবিলায় আসিয়ান কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ১৯৬৭ সালে আসিয়ান প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক নীতিমালা হালনাগাদ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণেও নেতৃত্ব দিতে পারে ফিলিপাইন। সব মিলিয়ে, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে তা যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং আসিয়ানভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর করার সমন্বিত পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে ফিলিপাইনের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির প্রত্যাশা, এসব ইস্যুর সমাধান বাংলাদেশ নিজেই করবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই বিবৃতিতে দুর্গাপূজা উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে গত তিন মাসে হত্যা ১৪১টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে বলে সংগঠনটির অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন ওই সাংবাদিক। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এসব বিষয় সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।’ উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ অক্টোবর) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কড়া পাহারায় সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের ঘটনাকে ‘দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের ঘৃণ্য তৎপরতা ততই বাড়ছে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এই তিন মাসের আংশিক চালচিত্র থেকে দেখা যায়, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি; ধর্ষণ/শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৪টি; মন্দিরে হামলা ও লুটপাট, জায়গা দখল ও বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি। এছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে ঐক্য পরিষদ বিবৃতিতে বলেছে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সাতটি। বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১১টি। হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। জমি/সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ৩টি। চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে ৪টি ও অন্যান্য ঘটনা ১৪টি। এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিবের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এক সাংবাদিক বলেন, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লিতে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিব অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে যথাযথ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব না করার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার বলেও মন্তব্য করেন ওই সাংবাদিক। এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপটি ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে বিমসটেকের সব সদস্য দেশ অংশ নিয়েছে। বৈঠক শেষে দিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, মাদক এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিমসটেকের সব সদস্যদেশের অঙ্গীকার করেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্বোধনী সংলাপের মধ্য দিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশসহ বিমসটেকের অন্য সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন।’
ভারত সফরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে আরও একটি বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছেন দুই স্বদেশি তারকা ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেন হোপ। চারটি চার ও নয়টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৪। ইনিংসের শেষ দুই বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। গেইল-লুইসকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি হোপের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এই সংস্করণে সর্বাধিক শতকের মালিক হয়েছেন তিনি। এর আগে ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসের দুটি করে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ছিল। এবার তাঁদের পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। চলমান ভারত সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এটি হোপের চতুর্থ শতক। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেছিলেন তিনি। এর আগে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দুই হাজার রানের মাইলফলক রেকর্ড গড়া ইনিংসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন হোপ। ৭৪ ম্যাচের ৭২ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ২ হাজার ৪ রান। ব্যাটিং গড় ৩৩ দশমিক ৪০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪১ দশমিক ৮২। এই সংস্করণে তিনটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তাঁর রয়েছে ১৩টি অর্ধশতক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে দুই হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন রোভম্যান পাওয়েল (২,৪০০), নিকোলাস পুরান (২,২৭৫) ও ব্র্যান্ডন কিং (২,০২৮)। এক সিরিজে একাধিক কীর্তি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি করা পঞ্চম ব্যাটার হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন হোপ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ফিল সল্ট, সাঞ্জু স্যামসন, তিলক ভার্মা ও মোহাম্মদ ইহসান। এ ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দুটি দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার কীর্তিতেও নাম লিখিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। এই তালিকায় আগে থেকেই রয়েছেন বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব ও সাহিবজাদা ফারহান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বাধিক ১৬টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার রেকর্ডেও ক্রিস গেইলের পাশে বসেছেন ৩২ বছর বয়সী হোপ। হোপের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের পাহাড় অধিনায়কের দুর্দান্ত শতকে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংসে কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাশাপাশি যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। ভারত সফরে একের পর এক সেঞ্চুরি ও রেকর্ড গড়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন শাই হোপ।
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মঙ্গলবার রাতে ব্যাপক হামলা চালায় সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। অপরদিকে সৌদির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি আরামকোর দাহরান কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। এ পরিস্থিতির মধ্যে বুধবারও সৌদির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঠেকিয়েছে। এ সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক আরব নাগরিক আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি। বুধবার সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়। এতে বলা হয়, রিয়াদে হামলার আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিল হুথিরা। মঙ্গলবারের এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথির হামলায় আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির একটি অফিস টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে অবস্থিত আরামকোর থেকে দেশটির বিস্তৃত তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনালের কার্যক্রম তদারকি করা হয়। এর আগে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদির তেল স্থাপনার আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় জ্বালানি ডিপো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। জোটের এই নির্দেশের জবাবে ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সানায় হামলা চালানো হলে সৌদির রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। হামলার আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বালানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ইয়েমেনের তেল কোম্পানি জানায়, তাদের মজুতকেন্দ্রগুলো খালি ছিল। ফলে সৌদি হামলায় তেলের মজুত বা বাসিন্দাদের সরবরাহে প্রভাব পড়বে না। ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় হামলা চালালে যেসব স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোয় আঘাত হানবে হুথি। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি বাড়ি। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, এক পুরুষ ও এক শিশু রয়েছে। সৌদি আরবের বিশেষ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক সপ্তাহ ধরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুথি। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। এর জেরেই হুথি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০০ জনের বেশি। এক দশকে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। হামলার পর দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। রোববারের হামলায় আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। এ ছাড়া সরকারপন্থি ইয়েমেনি বাহিনী মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অবস্থান ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। তাইজ প্রদেশে ৯টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ধুবাব জেলায় এবং চারটি আল-মাসরাখ জেলায়। ইয়েমেনের সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে, তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-শাকাব এলাকায় সরকারপন্থি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে। এদিকে ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম মঙ্গলবার জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজে হুথিদের হামলায় অন্তত ৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সি এক মেয়েশিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। সংগঠনটির অভিযোগ, হুথিরা আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। এতে অন্তত সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজজুড়ে ১৮০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
রাশিয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা বাড়ছে। তাই ল্যান্ডফোনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ল্যান্ডফোন কিনতে অনেক বেশি অর্থ খরচ করেছে। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এই খরচ তিন গুণের বেশি। রুশ সংবাদমাধ্যম ভেদোমস্তি এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ল্যান্ডফোন কেনায় খরচ হয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখ রুবল। এটি প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ইউরোর সমান। এই সময়ে ল্যান্ডফোন কেনার দরপত্রও বেড়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে রাশিয়ায় নিয়মিত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঠেকাতে এই বিধিনিষেধ দরকার। তবে বিশেষজ্ঞদের মত ভিন্ন। তাঁরা বলছেন, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও ড্রোন আগে থেকে ঠিক করা পথে উড়তে পারে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ট্যাক্সি ও খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবাও ঠিকমতো চলছে না। পথ খুঁজে পেতেও সমস্যা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রোস্তেলেকমের প্রধান মিখাইল ওসেয়েভস্কি একটি পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মতো প্রতিটি বাড়িতে একটি ল্যান্ডফোন থাকা উচিত। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যোগাযোগের জন্য ল্যান্ডফোন ব্যবহার হয়। রাশিয়ায় এখন প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১২ দশমিক ২টি ল্যান্ডফোন আছে। তবে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অন্যরকম। তাদের মতে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা কমে ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৫-এ নামতে পারে।
পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক তৎপরতা ও চাপ মোকাবিলায় শুধু ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ফিলিপাইনকে। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন, ফিলিপাইনের নৌযানের চলাচলে বাধা এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে ফিলিপাইন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও সক্রিয় হয়েছে। তবে শুধু এসব ঘটনা প্রকাশ করে চীনের আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও তথ্যগত কৌশলও শক্তিশালী করতে হবে। বিতর্কিত এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন ফিলিপাইনের পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পালাওয়ান প্রদেশের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের কাছে চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ৯৬২২ নম্বর জাহাজটি ২২টি ছোট নৌযান নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওই এলাকায় ফিরে আসে। টাস্কফোর্সের অভিযোগ, এসব নৌযান সেখানে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা এবং সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এর আগে ৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন শোল এলাকায় ফিলিপাইনের একটি চিকিৎসা ও উদ্ধার মিশনে জলকামান ব্যবহার করে চীনা কোস্টগার্ড। মিশনটির উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপাইনের সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হয়ে থাকা বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজ থেকে একজন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া। স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের বিতর্কিত মিসচিফ রিফ এলাকায় চীনের সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে ফিলিপাইন ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজটি আয়ুঙ্গিন শোলে স্থাপন করে। এরপর থেকে জাহাজটি ওই এলাকায় ফিলিপাইনের উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সমঝোতার পরও কমেনি উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়। তবে ফিলিপাইনের অভিযোগ, সমঝোতার পরও বিতর্কিত এলাকায় তাদের সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজে সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে চীনের কোস্টগার্ড এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বাধা দেয় বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন। এর কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপিনো জেলেদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফিলিপাইনের মাছ ধরার সহায়ক নৌযান বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত। এদিকে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের সামরিক ও কোস্টগার্ড জাহাজের উপস্থিতিও বেড়েছে। ফিলিপাইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পাক-আসা দ্বীপ, আয়ুঙ্গিন শোল, এসকোদা শোল ও স্কারবরো শোলের আশপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ১০১টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৫৬। চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল সামুদ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি তথ্য প্রচারের মাধ্যমেও চীন ফিলিপাইনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যা, ফিলিপাইনের স্বাধীনতার গুরুত্ব খাটো করে দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার মতো বিষয় রয়েছে। এ ধরনের প্রচার ফিলিপাইনের প্রভাবশালী মহলে চীনের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারি বিবৃতি বা সামুদ্রিক ঘটনার ছবি প্রকাশ নয়, বরং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও জরুরি। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ফোর্বস গ্লোবাল সিইও সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বাস্তবতা তার দেশ উপলব্ধি করে। তবে এটিকে চীনের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ফিলিপাইন এখন নীরব কূটনীতির পরিবর্তে সামুদ্রিক এলাকায় চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর লক্ষ্য জনসচেতনতা বাড়ানো, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিশি রায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা। তবে এসব উদ্যোগ চীনের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশের কৌশলের পাশাপাশি চীনের আগ্রাসী তৎপরতার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র সরকারের ‘কমপ্রিহেনসিভ আর্কিপেলাজিক ডিফেন্স কনসেপ্ট’ বা সমন্বিত দ্বীপপুঞ্জ প্রতিরক্ষা ধারণায় সামরিক ঘাঁটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রবেশ-প্রতিরোধ ও নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি সামরিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ নির্ধারণ এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথায় ও কীভাবে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ফিলিপাইনের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংবাদ ও তথ্যের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানো ঠেকানো এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রসমর্থিত বা রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আসিয়ানের নেতৃত্ব কাজে লাগানোর সুযোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতেও ফিলিপাইনের সামনে সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে দেশটি। মিয়ানমার সংকট, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা মোকাবিলায় আসিয়ান কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ১৯৬৭ সালে আসিয়ান প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক নীতিমালা হালনাগাদ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণেও নেতৃত্ব দিতে পারে ফিলিপাইন। সব মিলিয়ে, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে তা যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং আসিয়ানভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর করার সমন্বিত পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে ফিলিপাইনের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে নৌরদ বোমার (নেভাল মাইন) সঙ্গে ধাক্কা লেগে ও অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে ২ হাজার ৫০০-র বেশি কনটেইনারসহ একটি বিশাল পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এই খবরটি নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। আইআরজিসি নৌবাহিনীর জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, জাহাজটি হরমুজ প্রণালির একটি অননুমোদিত ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল। পথিমধ্যে এটি একটি নৌরদ বোমার ওপর উঠে পড়লে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুততম সময়ে জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। একপর্যায়ে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় জাহাজটি সাগরে তলিয়ে যায়। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর ওই জলসীমায় বেশ কিছু কনটেইনার ভেসে রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় অন্যান্য নৌযান ও জেলেদের সতর্কতার সাথে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী, যাতে পানিতে ভাসমান কনটেইনারগুলোর সাথে ধাক্কা লেগে নতুন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। সূত্র: মেহের নিউজ
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মঙ্গলবার রাতে ব্যাপক হামলা চালায় সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। অপরদিকে সৌদির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি আরামকোর দাহরান কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। এ পরিস্থিতির মধ্যে বুধবারও সৌদির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঠেকিয়েছে। এ সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক আরব নাগরিক আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি। বুধবার সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়। এতে বলা হয়, রিয়াদে হামলার আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিল হুথিরা। মঙ্গলবারের এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথির হামলায় আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির একটি অফিস টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে অবস্থিত আরামকোর থেকে দেশটির বিস্তৃত তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনালের কার্যক্রম তদারকি করা হয়। এর আগে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদির তেল স্থাপনার আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় জ্বালানি ডিপো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। জোটের এই নির্দেশের জবাবে ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সানায় হামলা চালানো হলে সৌদির রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। হামলার আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বালানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ইয়েমেনের তেল কোম্পানি জানায়, তাদের মজুতকেন্দ্রগুলো খালি ছিল। ফলে সৌদি হামলায় তেলের মজুত বা বাসিন্দাদের সরবরাহে প্রভাব পড়বে না। ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় হামলা চালালে যেসব স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোয় আঘাত হানবে হুথি। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি বাড়ি। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, এক পুরুষ ও এক শিশু রয়েছে। সৌদি আরবের বিশেষ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক সপ্তাহ ধরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুথি। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। এর জেরেই হুথি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০০ জনের বেশি। এক দশকে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। হামলার পর দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। রোববারের হামলায় আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। এ ছাড়া সরকারপন্থি ইয়েমেনি বাহিনী মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অবস্থান ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। তাইজ প্রদেশে ৯টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ধুবাব জেলায় এবং চারটি আল-মাসরাখ জেলায়। ইয়েমেনের সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে, তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-শাকাব এলাকায় সরকারপন্থি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে। এদিকে ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম মঙ্গলবার জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজে হুথিদের হামলায় অন্তত ৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সি এক মেয়েশিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। সংগঠনটির অভিযোগ, হুথিরা আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। এতে অন্তত সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজজুড়ে ১৮০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।