রাজধানীর পল্লবী থানা প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) এক সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফ্লাইওভারের ওপর থেকে থানার ভেতরে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যান। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার একটি ভিডিও সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি পল্লবী থানার পাশের ফ্লাইওভারে অবস্থান নিয়ে থানার প্রাঙ্গণ লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করেন। বিস্ফোরণের পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা থানায় ককটেল নিক্ষেপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম চলছে।
বরিশালের বাবুগঞ্জে সড়ক নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক ঠিকাদারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের ওই নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে রোববার (৮ নভেম্বর) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঠিকাদার মো. রুস্তম হাওলাদার (৪৮)। অভিযোগে বলা হয়েছে, শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন মো. মাহবুব মোল্লা (৪৫), মো. সাকিব হাওলাদার (৩৫), মো. সজিব হাওলাদার (২৫) ও মো. মুবিন মোল্লা (২২)। তাদের সবার বাড়ি মাধবপাশা ইউনিয়নে। অভিযুক্ত মাহবুব মোল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ঠিকাদারের অভিযোগ অনুযায়ী, মাধবপাশা ইউনিয়নের বাইপাস-হাদিবাসকাঠী সড়কের ২ হাজার ৬০০ মিটার পিচঢালাই নির্মাণকাজে সাবঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শনিবার রাতে বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠের দিকে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তার কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় কাজ চালিয়ে যেতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। রুস্তম হাওলাদার অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার ছেলেসহ সঙ্গে থাকা অন্যদেরও মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তার ব্যবহৃত প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল নিয়ে যান অভিযুক্তরা। ভুক্তভোগী ঠিকাদার বলেন, বিএনপি নেতা মাহবুব মোল্লা তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। টাকা দিতে না চাওয়ায় লোকজন দিয়ে তাকে মারধর করিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাহবুব মোল্লা। তার দাবি, রুস্তম হাওলাদারের কাছে তিনি টাকা পান এবং সংশ্লিষ্ট সড়কের নির্মাণকাজে অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। পাওনা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মোটরসাইকেলটি নিজের কাছে রেখেছেন বলে জানান তিনি। পাওনা টাকা আদায়ে এভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাহবুব মোল্লা বলেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন। এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্ত নদী ইছামতিতে ঘুরে এসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন, “বাইনুকালারে দেখলাম বাংলাদেশিরা ওঁৎ পেতে আছে। ফাঁকা পেলেই ভারতে হু-হু করে ঢুকে পড়বে।’’ আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, দীপাবলিতে রোববার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী রাজ্যটির হিঙ্গলগঞ্জের ইছামতিতে নদীতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের স্পিডবোটে চেপে বেশ খানিকটা ঘুরে বেড়ান শুভেন্দু অধিকারী। পরে ৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে সময় কাটানোর সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএসএফের স্পিডবোটে চাপার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে এ বিজেপি নেতা বলেন, “স্পিডবোটে উঠেছিলাম। সেখান থেকে বাইনোকুলার দিয়ে দেখেছি, বাংলাদেশে সবাই ওঁৎ পেতে বসে আছে। ফাঁকা পেলেই হু হু করে আমাদের ভারতে চলে আসবে। একটা অনুপ্রবেশকারীও রাখব না আমাদের রাজ্যে। সবকটাকে ধরে ওই দেশে পাঠিয়ে দেব। খুঁজে খুঁজে বের করব সব অনুপ্রবেশকারীকে। ১৫ কিলোমিটার ধরে তল্লাশি চলছে। খবরে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দেখানো পথে’ দীপাবলি উৎসবের দিনটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কাটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী বছর থেকে শুরু হবে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান। এরপর শুভেন্দু হিঙ্গলগঞ্জ থানার কালীপূজারও উদ্বোধন করেন। থানার পূজা উদ্বোধনের পর স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শুভেন্দু দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আলাদা। ডিজিপির নেতৃত্বে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। ইছামতির তীরে বেড়া দেওয়া নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার হ্যারি কেইন। তবে ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ জিনেদিন জিদানের মতে, এবারের পুরস্কারটি কিলিয়ান এমবাপেরই পাওয়া উচিত ছিল। ভোটাভুটিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ফরাসি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টেলিফুট’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন জিদান। একই সঙ্গে ব্যালন ডি’অরের ফলাফলকে সম্মান জানানোর কথাও বলেন তিনি। জিদানের ভাষায়, ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামত থাকে। এমবাপে দ্বিতীয় হয়েছেন, তাই ফলাফল মেনে নিতে হবে। তবে তার বিশ্বাস, এই পুরস্কার জয়ের মতো যথেষ্ট যোগ্যতা এমবাপের ছিল। দ্বিতীয় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছেন ফরাসি এই তারকা। জাতীয় দলের জার্সিতে এমবাপেকে আবার নিয়মিত দেখতে চান জিদান। ফ্রান্সের হয়ে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে গোল করলেও চোটের কারণে পরবর্তী সময়ে দল থেকে ছিটকে যান এমবাপে। এ প্রসঙ্গে জিদান বলেন, এমবাপে আবার ফ্রান্সের জার্সি গায়ে জড়াতে পেরে আনন্দিত হবেন বলে তিনি নিশ্চিত। প্রথম ম্যাচে গোল করার পরও চোটের কারণে তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল। দলের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমবাপের খেলার ওপর তিনি নিয়মিত নজর রাখেন এবং তাকে নিয়ে বিশেষভাবে মনোযোগী থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। এদিকে ফ্রান্সের উদীয়মান ফুটবলার দেজিরে দুয়ের প্রতিও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন জিদান। তরুণ এই খেলোয়াড়ের সাহসী ও স্বতঃস্ফূর্ত খেলার ধরন তার ভালো লাগে বলে জানান তিনি। জিদানের মতে, দুয়ে মাঠে এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেন, যেন নিজের পরিচিত পাড়ার মাঠে খেলছেন। খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন সাহসী ও নির্ভার মানসিকতাই থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন ফ্রান্সের এই কিংবদন্তি।
২০২৫ সাল শেষে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি (১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ানোর হিসাব দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা) অনুযায়ী, টাকার অঙ্কে এ ঋণের পরিমাণ ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। সে হিসাবে দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ এখন ৬৪৬ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ হাজার ৩৩০ টাকা। বিশ্ব ব্যাংকের ২০২৬ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্টে’ এ চিত্র উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালের ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট ঋণের মধ্যে রয়েছে ৮৯ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ। ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি অ-গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ এবং ১৪ দশমিক শূন্য ছয় বিলিয়ন ডলার স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে। সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণই মোট দায়ের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক বা এডিবির মতো বহুপক্ষীয় পাওনাদারদের ঋণের পরিমাণ ৫১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় (বিভিন্ন দেশ থেকে নেওয়া) ঋণ আছে ৩২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের। বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। এর পর রয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি); ১৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া অন্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থার ঋণ ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের মধ্যে জাপানের ঋণ সবচেয়ে বেশি; ১২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছে রাশিয়া; তাদের কাছে ঋণ ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। অন্য দেশগুলোর কাছে দায় আছে ১০ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১২ অক্টোবর বিদেশি ঋণের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি ৩০ লাখ (১১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলার। তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তিন মাস আগে মার্চ শেষে এই অঙ্ক ছিল ১১ হাজার ৯৩ কোটি (১১০.৯৩ বিলিয়ন) ডলার। ছয় মাস আগে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। আর এক বছর আগে জুন শেষে ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ছয় মাসে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর এক বছরে বেড়েছে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আগামীকাল সোমবার (৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য মজুরি বোর্ডের সভায় প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে শ্রমিকপক্ষ। তবে এখনো নিজেদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেনি মালিকপক্ষ, এ বিষয়ে তারা কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ সভায় উভয় পক্ষকে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল মজুরি বোর্ড। ওই সভায় শ্রমিক ও মালিক— উভয় পক্ষই পরবর্তী সভায় নিজ নিজ প্রস্তাব উপস্থাপনে সম্মত হয়। সেই অনুযায়ী, সোমবারের সভায় শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব তুলে ধরবে। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সভায় তাদের অবস্থান কী হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ন্যূনতম মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, আগামীকালের সভায় উপস্থাপনের জন্য আমরা এখনো ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছি। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করে মজুরি বোর্ডে উপস্থাপন করবো। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা, যা শ্রমিকদের বর্তমান দাবি; অথবা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সুপারিশ এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পোশাকশিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে মজুরির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন বলেন, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে রোববার ৪০টি কারখানা বন্ধ থাকায় চলমান অস্থিরতা নিয়ে আমরা এখনো উদ্বিগ্ন। তবে আমরা সভায় রয়েছি এবং মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আলোচনার পর আমাদের প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। সেটি সোমবার জমা দেওয়া হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে। পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ৪ নভেম্বর। ওই সভায় উভয় পক্ষকে মজুরি প্রস্তাব তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার এর আগে শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত মজুরি প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান। বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঘোষিত সর্বশেষ মজুরি কাঠামোয় এ মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শ্রমিকপক্ষের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইদ আজাদ সুবহানি। বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ সদস্যও রয়েছেন। এর আগে নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কথা জানা যায়। সে অনুযায়ী, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে জানুয়ারি মাসে শ্রমিকেরা নতুন হারে বেতন পাবেন।
সীমান্ত নদী ইছামতিতে ঘুরে এসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন, “বাইনুকালারে দেখলাম বাংলাদেশিরা ওঁৎ পেতে আছে। ফাঁকা পেলেই ভারতে হু-হু করে ঢুকে পড়বে।’’ আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, দীপাবলিতে রোববার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী রাজ্যটির হিঙ্গলগঞ্জের ইছামতিতে নদীতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের স্পিডবোটে চেপে বেশ খানিকটা ঘুরে বেড়ান শুভেন্দু অধিকারী। পরে ৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে সময় কাটানোর সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএসএফের স্পিডবোটে চাপার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে এ বিজেপি নেতা বলেন, “স্পিডবোটে উঠেছিলাম। সেখান থেকে বাইনোকুলার দিয়ে দেখেছি, বাংলাদেশে সবাই ওঁৎ পেতে বসে আছে। ফাঁকা পেলেই হু হু করে আমাদের ভারতে চলে আসবে। একটা অনুপ্রবেশকারীও রাখব না আমাদের রাজ্যে। সবকটাকে ধরে ওই দেশে পাঠিয়ে দেব। খুঁজে খুঁজে বের করব সব অনুপ্রবেশকারীকে। ১৫ কিলোমিটার ধরে তল্লাশি চলছে। খবরে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দেখানো পথে’ দীপাবলি উৎসবের দিনটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কাটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী বছর থেকে শুরু হবে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান। এরপর শুভেন্দু হিঙ্গলগঞ্জ থানার কালীপূজারও উদ্বোধন করেন। থানার পূজা উদ্বোধনের পর স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শুভেন্দু দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আলাদা। ডিজিপির নেতৃত্বে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। ইছামতির তীরে বেড়া দেওয়া নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর।
মালয়েশিয়ার কোম্পানি ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন মালয়েশিয়া এসডিএন.বিএইচডিতে কর্মী নিয়োগের জন্য লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১১২ জনকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ভবনের প্রবাসী মিলনায়তনে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিক প্রার্থী নির্বাচন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ থেকে ৮ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে মোট ৪ হাজার ২৯ জন আবেদন করেন। তাদের মধ্য থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে লটারি করে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জনকে বাছাই করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে অপারেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ২০০ জন এবং টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার্স পদে ১০০ জন রয়েছেন। তাদের তালিকা শিগগিরই বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করা হবে। এই ৩০০ জনের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল সাপ্লাই চেইনের প্রতিনিধিরা। পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ১১২ জনকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক অনুষ্ঠানে বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার হিসেবে আগামী ৫ বছরে ১ কোটি জনশক্তি প্রেরণের যে লক্ষ্য রয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগ তা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। “পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর ঘোষিত 'জিরো কস্টে' কর্মী প্রেরণের প্রতিশ্রুতিও বাস্তব রূপ পাচ্ছে।” বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, “সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে এই প্রথমবারের মত লটারির মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ কর্মী বাছাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা দেশবাসীকে বার্তা দিতে চাই যে, বোয়েসেল সর্বদা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করে।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নির্বাচিত কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য ফ্লাইট শুরু হবে। এ ছাড়া বোয়েসেল পর্যটন, উৎপাদন ও পরিচর্যা খাতে আরও ৫৫৮ জন কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র পেয়েছে বলে জানান তিনি। এসব কর্মীর চিকিৎসা পরীক্ষা, বিমানভাড়াসহ সব খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন। ফলে তারাও কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নূরুন নাহার লটারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিআইডি কার্যালয়ে একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম আরিফ। পল্টন থানার ওসি বলেন, মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেলটি নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। সেটি সিআইডি কার্যালয়ের ভেতরে এসবির একটি গাড়ির ওপর পড়ে বিস্ফোরিত হয়। তবে কেউ আহত হয়নি।
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
সীমান্ত নদী ইছামতিতে ঘুরে এসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন, “বাইনুকালারে দেখলাম বাংলাদেশিরা ওঁৎ পেতে আছে। ফাঁকা পেলেই ভারতে হু-হু করে ঢুকে পড়বে।’’ আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, দীপাবলিতে রোববার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী রাজ্যটির হিঙ্গলগঞ্জের ইছামতিতে নদীতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের স্পিডবোটে চেপে বেশ খানিকটা ঘুরে বেড়ান শুভেন্দু অধিকারী। পরে ৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে সময় কাটানোর সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএসএফের স্পিডবোটে চাপার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে এ বিজেপি নেতা বলেন, “স্পিডবোটে উঠেছিলাম। সেখান থেকে বাইনোকুলার দিয়ে দেখেছি, বাংলাদেশে সবাই ওঁৎ পেতে বসে আছে। ফাঁকা পেলেই হু হু করে আমাদের ভারতে চলে আসবে। একটা অনুপ্রবেশকারীও রাখব না আমাদের রাজ্যে। সবকটাকে ধরে ওই দেশে পাঠিয়ে দেব। খুঁজে খুঁজে বের করব সব অনুপ্রবেশকারীকে। ১৫ কিলোমিটার ধরে তল্লাশি চলছে। খবরে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দেখানো পথে’ দীপাবলি উৎসবের দিনটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কাটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী বছর থেকে শুরু হবে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান। এরপর শুভেন্দু হিঙ্গলগঞ্জ থানার কালীপূজারও উদ্বোধন করেন। থানার পূজা উদ্বোধনের পর স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শুভেন্দু দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আলাদা। ডিজিপির নেতৃত্বে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। ইছামতির তীরে বেড়া দেওয়া নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর।
ভারতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন হবে বলে দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একই সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার কেরালার কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন দীপকে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এ খবর জানিয়েছে। দীপকে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন সম্ভব। তাই দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করতে হবে। তার দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদ ছাড়লে নরেন্দ্র মোদিকেও ক্ষমতা ছাড়তে হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে সরকার কার্যত দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রবেশের অভিযোগে নিজের ও দলের দুই নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরেন দীপকে। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন এবং বারবার পতাকা উত্তোলন করবেন। মোদি সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের তুলনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, মানুষের খাদ্যাভ্যাস, বিয়ে ও ভালোবাসার স্বাধীনতা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন দীপকে। সূত্র: পিটিআই, ইন্ডিয়া টুডে
ভারতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন হবে বলে দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একই সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার কেরালার কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন দীপকে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এ খবর জানিয়েছে। দীপকে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন সম্ভব। তাই দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করতে হবে। তার দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদ ছাড়লে নরেন্দ্র মোদিকেও ক্ষমতা ছাড়তে হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে সরকার কার্যত দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রবেশের অভিযোগে নিজের ও দলের দুই নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরেন দীপকে। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন এবং বারবার পতাকা উত্তোলন করবেন। মোদি সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের তুলনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, মানুষের খাদ্যাভ্যাস, বিয়ে ও ভালোবাসার স্বাধীনতা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন দীপকে। সূত্র: পিটিআই, ইন্ডিয়া টুডে
ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় গাজা উপত্যকাজুড়ে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির আশ্রয়কেন্দ্র ও তাবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) উত্তর গাজার গাজা শহর থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, অনেক ফিলিস্তিনি অস্থায়ী তাবুগুলোতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, সেগুলো প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। আল-খালিলি বলেন, সর্বশেষ ঝড়টি প্রমাণ করে দিয়েছে, তাদের সুরক্ষাব্যবস্থা কতটা নাজুক। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসে সেই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তছনছ হয়ে গেছে, যা মজবুত করার জন্য পরিবারগুলো দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করেছিল। তিনি জানান, সেখানে বিছানা, বালিশ ও কাপড়চোপড় সব ভিজে গেছে। প্রায় ৪ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, যা আরও বন্যার ঝুঁকির দিক থেকে অত্যন্ত অরক্ষিত। সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার শেষ রাত থেকে গাজায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস আঘাত হেনেছে। এতে ৭০ হাজার তাবু প্লাবিত হয়েছে এবং বহু দেয়াল ধসে পড়েছে। গাজায় যখন চরম মানবিক সংকট চলছে, ঠিক তখনই এই বন্যার ঘটনা ঘটল। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে ইসরায়েল ত্রাণ সরবরাহের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আলজাজিরার আশরাফ আবু আমরা জানান, যেসব বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয়কেন্দ্র বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, তারা শনিবার সকাল থেকে কোনো খাদ্য সহায়তা পায়নি। ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি জোনাথন ভিচ জানিয়েছেন, অধিকাংশ মানুষ অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আরও তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঝড়ে প্রায় ৩০ লাখ ডলার মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অথচ ত্রাণ সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ধরে সেখানে সহায়তা পৌঁছানোর জন্য হিমশিম খাচ্ছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা অন্তত ১,৫০০টি জরুরি কল পেয়েছে। সংস্থাটির মতে, ২ হাজারেরও বেশি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া দুর্যোগের কবলে পড়া বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য অন্তত ৩ লাখ তাবুর প্রয়োজন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি ত্রাণ, আশ্রয়সামগ্রী ও পুনর্নির্মাণের উপকরণের ওপর অব্যাহত বিধিনিষেধ ত্রাণ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া গণহত্যামূলক যুদ্ধের পর থেকে ৭৪,৬৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ১,৬১০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। সূত্র: আলজাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।