সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
তারাগঞ্জে স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকাসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

"মেধা, বিজ্ঞান—উদ্ভাবনের দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা-এ স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।   শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহিনুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মোনাব্বর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), তারাগঞ্জ।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি; মো. এস এম আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির, মো. মেহেদী হাসান শিপু; বিএনপির উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক; মো. আমিনুল ইসলাম, জাতীয় সংসদ সদস্য রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের এমপি'র প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. কাজী শামছুল হুদা, শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিত্ব আব্দুল হাকিম সরকার, দেবাশীষ সরকার-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাববর হোসেন বলেন, "বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণামনস্কতা এবং সৃজনশীল দক্ষতা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।   তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে বিকশিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।"তিনি আরও বলেন, "স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীরা যেন নতুন নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।   অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা। বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, তারাগঞ্জ।   অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বরাতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং প্রথম পুরস্কার লাভ করে।     পুরো আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

৪১ মিনিট আগে
ব্যাংক হিসাব খোলাসহ ৭ সেবায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনাসহ সাত ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণে ব্যবসায় সনাক্তকরণ সংখ্যা (বিন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ সংশোধনের মাধ্যমে এ বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব কিংবা স্বল্পমেয়াদি আমানত (এসটিডি) হিসাব খুলতে ও পরিচালনা করতে চাইলে বিন নম্বর থাকতে হবে।   এ ছাড়া আরও ছয় ধরনের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিন বা ভ্যাট নিবন্ধনের প্রমাণপত্র উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে: ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ গ্রহণ বিআরটিএ থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহনের নিবন্ধন গ্রহণ   জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভ্যাট ব্যবস্থার আওতা আরও সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিধান কার্যকর হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক হবে। পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের জন্য ব্যবসায়িক তথ্য পর্যবেক্ষণ ও কর ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

৪৭ মিনিট আগে
নতুন বাজেটে বাড়ছে সিগারেটের দাম, কোন ব্র্যান্ডে কত বৃদ্ধি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নিম্নস্তর থেকে অতি উচ্চস্তর—সব ধরনের সিগারেটের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি পাবে।   বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তামাকজাত পণ্যের ওপর নতুন মূল্য কাঠামোর প্রস্তাব দেন। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব আহরণের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরে ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা, উচ্চস্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চস্তরে ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   স্তরভেদে নতুন মূল্য:   নিম্নস্তর: বর্তমান মূল্য: ৬০ টাকা (১০ শলাকা) প্রস্তাবিত মূল্য: ৬২ টাকা জনপ্রিয় ব্র্যান্ড: নেভি, রয়েল, ডার্বি প্রতি শলাকার সম্ভাব্য মূল্য: প্রায় ৭ টাকা মধ্যম স্তর: বর্তমান মূল্য: ৮০ টাকা প্রস্তাবিত মূল্য: ৯২ টাকা জনপ্রিয় ব্র্যান্ড: জন প্লেয়ার, গোল্ড লিফ (মধ্যম স্তরের প্যাকেজ) প্রতি শলাকার সম্ভাব্য মূল্য: প্রায় ১০ টাকা   উচ্চস্তর: বর্তমান মূল্য: ১৪০ টাকা প্রস্তাবিত মূল্য: ১৬০ টাকা প্রতি শলাকার মূল্য: ১৬ টাকা অতি উচ্চস্তর: বর্তমান মূল্য: ১৮৫ টাকা প্রস্তাবিত মূল্য: ২১০ টাকা জনপ্রিয় ব্র্যান্ড: বেনসন অ্যান্ড হেজেস প্রতি শলাকার মূল্য: ২১ টাকা য দিও কাগজে-কলমে কিছু ক্ষেত্রে প্রতি শলাকার দাম ২০ পয়সা থেকে আড়াই টাকা পর্যন্ত বাড়ছে, তবে দেশে খুচরা পয়সার ব্যবহার না থাকায় বাস্তবে এক থেকে তিন টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।   সরকারের আশা, এই মূল্যবৃদ্ধি তামাকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

৪৯ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতার আভাস, নিজেদের বিজয়ী দাবি তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা স্বাক্ষরিত হতে পারে।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সম্ভাব্য সমঝোতার কিছু বিষয় এখনও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, চলমান সংঘাতের পর ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরানই বিজয়ী হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় থাকা খসড়া সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনায় নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে।   মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথ তৈরি করেছে এবং আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেলেও পরে আলোচনার অগ্রগতি দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও অন্যদিকে সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।   বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের আগে এখনও কিছু রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক জটিলতা রয়ে গেছে।   সম্ভাব্য সমঝোতায় ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।   এদিকে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির কিছু কর্মকর্তা ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পর উভয় পক্ষের জন্যই একটি সমঝোতা রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতা বিবেচনায় এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৫২ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।   শুক্রবার রাত পৌনে ৮টায় উপজেলার শরীফপুর সীমান্তের দত্তগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান।   নিহত মো. মুজিব আলী (২০) দত্তগ্রাম এলাকার মো. অজিব আলীর ছেলে।   বিজিবি জানায়, বাংলাদেশি ছয়-সাতজনের একটি চোরাকারবারি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস হতে আনুমানিক ৫০০ গজ ভিতরে ভারতের লখাইরচরে প্রবেশ করে।   তখন ১৯৯ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ লাঠিয়াপুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চোরাকারবারিদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়।   বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে চোরাকারবারিদের উপর দু-তিনটি গুলি করে। এতে মুজিব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যরা পালিয়ে এসে আত্মগোপন করে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বলছে, নিহত ব্যক্তি এর আগে চোরাচালানের মালামাল পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।   শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। তবে তাদের নাম জানতে পারেননি।   কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।   ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সন্ধ্যার পর বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় তাদের টহলদলের সদস্যরা কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার কথা জানায়। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
নতুন বাজেটে বাড়ছে সিগারেটের দাম, কোন ব্র্যান্ডে কত বৃদ্ধি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নিম্নস্তর থেকে অতি উচ্চস্তর—সব ধরনের সিগারেটের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি পাবে।   বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তামাকজাত পণ্যের ওপর নতুন মূল্য কাঠামোর প্রস্তাব দেন। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব আহরণের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরে ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা, উচ্চস্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চস্তরে ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   স্তরভেদে নতুন মূল্য:   নিম্নস্তর: বর্তমান মূল্য: ৬০ টাকা (১০ শলাকা) প্রস্তাবিত মূল্য: ৬২ টাকা জনপ্রিয় ব্র্যান্ড: নেভি, রয়েল, ডার্বি প্রতি শলাকার সম্ভাব্য মূল্য: প্রায় ৭ টাকা মধ্যম স্তর: বর্তমান মূল্য: ৮০ টাকা প্রস্তাবিত মূল্য: ৯২ টাকা জনপ্রিয় ব্র্যান্ড: জন প্লেয়ার, গোল্ড লিফ (মধ্যম স্তরের প্যাকেজ) প্রতি শলাকার সম্ভাব্য মূল্য: প্রায় ১০ টাকা   উচ্চস্তর: বর্তমান মূল্য: ১৪০ টাকা প্রস্তাবিত মূল্য: ১৬০ টাকা প্রতি শলাকার মূল্য: ১৬ টাকা অতি উচ্চস্তর: বর্তমান মূল্য: ১৮৫ টাকা প্রস্তাবিত মূল্য: ২১০ টাকা জনপ্রিয় ব্র্যান্ড: বেনসন অ্যান্ড হেজেস প্রতি শলাকার মূল্য: ২১ টাকা য দিও কাগজে-কলমে কিছু ক্ষেত্রে প্রতি শলাকার দাম ২০ পয়সা থেকে আড়াই টাকা পর্যন্ত বাড়ছে, তবে দেশে খুচরা পয়সার ব্যবহার না থাকায় বাস্তবে এক থেকে তিন টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।   সরকারের আশা, এই মূল্যবৃদ্ধি তামাকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিশ্বকাপ ক্যাম্পের কাছে গাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার

মেক্সিকোতে ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল দলের অনুশীলন ভেন্যুর কাছ থেকে একটি গাড়ির ট্রাঙ্কে পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির সীমান্ত শহর তিহুয়ানার কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে একটি সুপারমার্কেটের গাড়ির ভেতর থেকে এ লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।   ঘটনাস্থলে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। এএফপির বরাতে ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়, কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামের (যেখানে ইরানের জাতীয় দল অনুশীলন করছে) ঠিক উল্টো দিকে একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লটে ক্যালিফোর্নিয়ার নম্বরপ্লেট–সংবলিত একটি ধূসর রঙের টয়োটা এসইউভি গাড়ি রাখা ছিল।   পুলিশ গিয়ে সেটির পেছনের ডালা (ট্রাংক) খুললে লাশটি বেরিয়ে আসে। সাদা সুরক্ষামূলক পোশাক পরা অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞরা লাশটি সরিয়ে নেওয়ার আগে গাড়িটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তিহুয়ানার প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, একটি টহল ইউনিট গাড়িটির ভেতরে মরদেহটি খুঁজে পায়।   প্রসিকিউটর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘গাড়িটি তল্লাশি করে ট্রাঙ্কের ভেতরে কালো ব্যাগে মোড়ানো এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহে সহিংসতার চিহ্ন ছিল।’ তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি বুধবার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিহুয়ানায় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোদ ছিল।   মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী মাদক চক্রের সহিংসতায় ভুগছে এবং দেশটিতে হত্যার হার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ। যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর সেখানে ১ হাজার ২০০টির বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে দলটির অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় করার পরিকল্পনা ছিল। তবে চলমান বৈরিতার কারণে সেটি পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করা হয়।   মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পর থেকেই ইরান দলকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে। সশস্ত্র সেনাদের পাহারায় দলটিকে হোটেল ও স্টেডিয়ামের মধ্যে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট পরই ইরান দল স্টেডিয়াম ত্যাগ করে।

ছবি: সংগৃহীত
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে: শিশির মনির

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের পরিবর্তে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করেছে।   শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বর এইচএসএম-৪৩১০০৫৮ বহাল রয়েছে, তবে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স নম্বর এইচএসএম-৪৩১০০৫৯ বাতিল করা হয়েছে।   শিশির মনির বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য পৃথক লাইসেন্স এবং প্যাথলজি সেন্টার পরিচালনার জন্য পৃথক লাইসেন্স রয়েছে। হাসপাতালের লাইসেন্সে ‘হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপন ও পরিচালনা’ এবং প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্সে ‘প্যাথলজি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা’ উল্লেখ রয়েছে।   তিনি আরও দাবি করেন, গত ৪ জুন জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। পরে অতিরিক্ত সময় চেয়ে জবাব দাখিল করা হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স ও প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার অবহেলার ফল নাকি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে—তা সংশ্লিষ্টদের বিবেচনার বিষয়।   তিনি বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রচারের আহ্বানও জানান তিনি।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনার পর লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতার আভাস, নিজেদের বিজয়ী দাবি তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা স্বাক্ষরিত হতে পারে।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সম্ভাব্য সমঝোতার কিছু বিষয় এখনও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, চলমান সংঘাতের পর ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরানই বিজয়ী হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় থাকা খসড়া সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনায় নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে।   মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথ তৈরি করেছে এবং আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেলেও পরে আলোচনার অগ্রগতি দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও অন্যদিকে সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।   বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের আগে এখনও কিছু রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক জটিলতা রয়ে গেছে।   সম্ভাব্য সমঝোতায় ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।   এদিকে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির কিছু কর্মকর্তা ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পর উভয় পক্ষের জন্যই একটি সমঝোতা রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতা বিবেচনায় এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতার আভাস, নিজেদের বিজয়ী দাবি তেহরানের
আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা স্বাক্ষরিত হতে পারে।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সম্ভাব্য সমঝোতার কিছু বিষয় এখনও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, চলমান সংঘাতের পর ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরানই বিজয়ী হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় থাকা খসড়া সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনায় নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে।   মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথ তৈরি করেছে এবং আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেলেও পরে আলোচনার অগ্রগতি দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও অন্যদিকে সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।   বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের আগে এখনও কিছু রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক জটিলতা রয়ে গেছে।   সম্ভাব্য সমঝোতায় ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।   এদিকে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির কিছু কর্মকর্তা ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পর উভয় পক্ষের জন্যই একটি সমঝোতা রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতা বিবেচনায় এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
ডেলিভারি অ্যাপে ‘মুসলিম ডেলিভারি বয় নয়’ বার্তা, পরে ক্ষমা চাইলেন গ্রাহক
আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬

ভারতে এক ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমে এটি ধর্মীয় বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখা হলেও, শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি মানবিক ও ইতিবাচক পরিণতি পেয়েছে।   আফতাব নামে এক ডেলিভারি কর্মী অর্ডার ডেলিভারির সময় অ্যাপে একটি নির্দেশনা দেখতে পান। সেখানে লেখা ছিল, “কোনো মুসলিম ডেলিভারি বয় দিয়ে পার্সেল পাঠাবেন না।” বার্তাটি দেখে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পান এবং বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   আফতাব জানান, এমন মন্তব্য দেখে তার খারাপ লেগেছিল এবং তিনি ভাবতে শুরু করেন সমাজ কোন দিকে এগোচ্ছে। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন।   পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার পর গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, বার্তাটি অনেক আগে রাগের মাথায় লেখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটি পরিবর্তন বা মুছে ফেলার বিষয়টি গ্রাহকের মনে ছিল না। গ্রাহক এ জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আফতাবের কাছে ক্ষমা চান।   পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আফতাবও হাস্যরসের আশ্রয় নেন। তিনি মজা করে বলেন, লিফটবিহীন তিনতলা বাসায় এমন বার্তা থাকলে ভবিষ্যতে কেউ হয়তো ডেলিভারি দিতেই চাইবে না।   পরে আফতাব নিজেই গ্রাহককে সহায়তা করে অ্যাপের ডেলিভারি নির্দেশনা থেকে বিতর্কিত বার্তাটি মুছে দেন।   ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও, ভুল স্বীকার, ক্ষমা প্রার্থনা এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে এর ইতিবাচক সমাপ্তি ঘটেছে। অনেকেই এটিকে সহনশীলতা ও মানবিকতার একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি বসতি এলাকার জমি বিক্রির অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি ১০০ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতার
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত দখলদার ইসরাইল বসতিগুলোর জমি বিক্রির প্রচারণা চালানো হতে পারে—এমন অভিযোগ তুলে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য একটি রিয়েল এস্টেট প্রদর্শনী বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের শতাধিক আইনপ্রণেতা।   ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১০০ জনের বেশি সদস্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্রেট ইসরাইলি রিয়েল এস্টেট ইভেন্ট’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।   পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ইভেট কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লেবার পার্টির ৬৫ জন এমপি, বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতা এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্যরা সতর্ক করে বলেন,প্রদর্শনীতে এমন সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে,যেগুলো ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পর নির্মাণ করা হয়েছে।এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সম্পত্তিও রয়েছে।   চিঠিতে আইনপ্রণেতারা দাবি করেন, এ ধরনের সম্পত্তি বিক্রির আয়োজন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এবং তা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করবে।   চিঠির উদ্যোক্তা লেবার পার্টির এমপি অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের এবং ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ এখন ব্রিটিশ সরকারের সামনে রয়েছে।   তিনি বলেন, পশ্চিম তীর ও গাজাজুড়ে সংঘটিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং গণহত্যার মতো অভিযোগের বিষয়গুলোও এ উদ্যোগের আওতায় বিবেচনায় নেওয়া উচিত।   বিতর্কিত এই প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনগুলোও অনুষ্ঠানটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
খার্ক দ্বীপ দখল মার্কিন সেনাদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি ইরানের প্রধান তেল অবকাঠামো কেন্দ্র 'খার্ক দ্বীপ' দখল করতে চান।   তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী দ্রুত দ্বীপটি দখল করে নিতে পারে। কিন্তু এমন পদক্ষেপ মার্কিন সেনাদের মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার বদলে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।   খার্ক দ্বীপ কোথায় এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইরানের উপকূল থেকে ১৬ মাইল (২৬ কিমি) দূরে পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তে খার্ক দ্বীপের অবস্থান, যা হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।   এই দ্বীপের চারপাশের পানি যথেষ্ট গভীর হওয়ায় এখানে এমন বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার নোঙর করতে পারে, যা ইরানের অগভীর উপকূলীয় এলাকায় ভিড়তে পারে না।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হত। এটি যুক্তরাষ্ট্র দখল করলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং তেহরানের অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে।   উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’-এর মধ্যে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ।   বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের অবস্থান গত মার্চ ও এপ্রিলে মার্কিন বাহিনী খার্ক দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, সেখানকার সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করা হয়েছে। সে সময় রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।   এরপর দ্বীপে নতুন কোনো হামলা না হলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখতে এই দ্বীপের কাছাকাছি থাকা তেল ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যুক্তরাষ্ট্র।   বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "আমার পছন্দ সবসময়ই ছিল খার্ক দ্বীপ দখল করা, আমার পছন্দ সেটাই। তবে আমেরিকার সেই মানসিক প্রস্তুতি বা সাহস আছে কি না আমি জানি না।"   বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের তেল রপ্তানি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এখন খার্ক দ্বীপ দখল করলেই যে দেশটির অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় কোনও ধস নামবে, তা নয়।   ড্রোন হামলা ও মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন বাহিনী হয়ত অপেক্ষাকৃত দ্রুত খার্ক দ্বীপ দখল করতে পারবে, কিন্তু তা যুদ্ধের দ্রুত কিংবা চূড়ান্ত সমাপ্তি ডেকে আনবে না।   ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস'-এর গবেষক রায়ান ব্রোবস্ট এবং ক্যামেরন ম্যাকমিলান বলেন, খার্ক দ্বীপ দখল ও নিয়ন্ত্রণে নিলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দ্বীপ দখলের পদক্ষেপ কোনও চূড়ান্ত বিজয় এনে দেবে- তেমন সম্ভাবনা কম।   তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, সেখানে মার্কিন সেনারা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ক্যামেরা যুক্ত 'ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি)' ড্রোন হামলার শিকার হতে পারে তারা।   তাছাড়া, ইরান যদি কোনও হামলা চালিয়ে সফল হয়, তাহলে তেহরান সরকার মার্কিন সেনাদের ওপর সেই হামলার ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করতে পারে এবং সেনাদের গ্রাফিক মৃত্যুর ছবি প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারে।   রসদ ও বাড়তি সেনার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক কমান্ডার জোসেফ ভোটেল গত মার্চ মাসে বলেছিলেন, খার্ক দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাত্র ৮০০ থেকে ১,০০০ সেনার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তাদের জন্য বিশাল লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর এই ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখাটাও আরেক বড় চ্যালেঞ্জ।   ভোটেল মনে করেন, খার্কে মার্কিন সেনারা অত্যন্ত অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে এবং এই দ্বীপ দখল করে কোনও বিশেষ কৌশলগত সুবিধাও পাওয়া যাবে না। তার মতে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে 'অদ্ভুত' একটি বিষয়, যদিও প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তা করার ক্ষমতা রাখে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি