সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।   সোমবার (২৪ আগস্ট) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ইরানের আর্থিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। তিনি বলেন, তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার সব ধরনের পথ বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।   নতুন পদক্ষেপের আওতায় ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাত—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন—বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বেসেন্ট বলেন, কোনো দেশই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়। ইরানের তেল পাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক, মধ্যস্থতাকারী ও আর্থিক চ্যানেলগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনও নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশেষ নজরে রয়েছে। তবে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা দেয়নি ওয়াশিংটন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ কোনও আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান করে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বেইজিং।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে আগেই ‘ব্যর্থ’ হবে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন চাপের জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পক্ষ থেকে এর আগে নতুন মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।   নতুন মার্কিন পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌপথে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার আগে তেলের দাম কিছুটা কমলেও এর আগে টানা দুই সপ্তাহ দাম বেড়েছিল।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নৌপথে চাপ বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

১ মিনিট আগে
৫ কেজি কুশসহ শাহজালালে দুই ভারতীয় গ্রেফতার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ, ৩ লিটার বিদেশি মদ ও ২৪টি ভারতীয় শাড়িসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।   গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সানোয়ার আলী (৩৬) ও ইমতিয়াজ আহমেদ (৩৬)। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় পাসপোর্টও উদ্ধার করা হয়েছে।   সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দরের নিচতলায় আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেল থেকে তাদের আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ডিএনসি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়।   এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আসা দুই ভারতীয় নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষী ও বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে তাদের ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়।   তল্লাশিতে কাপড়ের নিচে লুকানো ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ, ৩ লিটার বিদেশি মদ ও ২৪টি ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়।   এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।   ডিএনসি জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

২ ঘন্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল: খন্দকার মোশাররফ

  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অনেকে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে শুধু কয়েকজন ব্যক্তির নামে চালাতে চান। তবে দেশের মানুষ মনে করে ২০২৪ সালে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র-গণআন্দোলন সফল হয়েছে এবং শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছেন।    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।     ড. মোশাররফ বলেন, “বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আরও অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আন্দোলন করেছে। এ সময় বহু নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় আসামি হয়ে শাস্তি ভোগ করেছেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সাজাপ্রাপ্ত হয়ে লন্ডন থেকে দেশে ফিরতে পারেননি।”      ড. মোশাররফ বিএনপির প্রয়াত সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকার স্মৃতিচারণ করেন।    তিনি বলেন, “এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে সালাম তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।” আন্দোলনের সমন্বয়ের জন্য গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়কও ছিলেন তিনি।     নিজের সঙ্গে সালাম তালুকদারের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় জামালপুরে একটি জনসভায় যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। এর আগের দিন এরশাদ একটি নির্বাচনের ঘোষণা দেন এবং ওই নির্বাচনের বিষয়ে বক্তব্য দিলে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হয়। তখন অনেক নেতা মনে করেছিলেন, জামালপুরের ওই জনসভায় গেলে তাদের গ্রেফতার হতে হবে। ওই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া টেলিফোনে সালাম তালুকদারের সঙ্গে কথা বলেন। তখন সালাম তালুকদার জানিয়েছিলেন, তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হতে প্রস্তুত। কিন্তু জনসভায় না গেলে তাদের ইজ্জত থাকবে না। শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নেতারা জামালপুরের জনসভায় যোগ দেন।”     তিনি বলেন, “জনসভা শেষে ঢাকায় ফেরার সময় তাদের গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবু খালেদা জিয়া ও সালাম তালুকদার সিদ্ধান্ত নেন, তারা কোথাও আত্মগোপন করবেন না; বরং যার যার বাসায় ফিরে যাবেন। ঢাকায় ফেরার পথে টঙ্গীর কাছে সালাম তালুকদার, ব্যারিস্টার টি এইচ খান, তিনি নিজেসহ অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।”     খন্দকার মোশাররফ বলেন, “ওই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ও ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের গণতন্ত্র ও রাজনীতির প্রতি দৃঢ়তার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।”     তিনি বলেন, “এরশাদের পতনের পর দেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি দেয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। আন্দোলন সফল করা এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপিকে ক্ষমতায় নেওয়ার সময় দলের মহাসচিব ছিলেন ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার।”    অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “বর্তমানে যারা মন্ত্রী হয়েছেন বা প্রধানমন্ত্রী যাদের নিয়ে কাজ করছেন, তারা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু রাগ, গোসা বা অভিমান থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে এবং দল তা মোকাবিলায় সজাগ না থাকলে পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় না থাকলে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদেরও ঝুঁকিতে পড়তে হবে।”

২ ঘন্টা আগে
ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল: নেতানিয়াহুর দাবি

 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তার দুই ছেলের মধ্যে একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সরকার সমর্থক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।   সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে কীভাবে, কখন বা কোন ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য বা প্রমাণ তিনি প্রকাশ করেননি।   ছেলের নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন করেন, সুতরাং, তারা যে নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছে তা কোনও বিলাসিতা নয়।   আগামী নির্বাচনে হেরে গেলেও তার স্ত্রী সারা এবং দুই ছেলেকে অন্তত পাঁচ বছর ধরে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার একটি চুক্তির সপক্ষে এই মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।   নেতানিয়াহুর কোন ছেলেকে নিশানা করা হয়েছিল ইয়ার নাকি আবনের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার ছোট ছেলে আবনের ইসরায়েলেই থাকেন। অন্যদিকে বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থি মন্তব্যের জন্য পরিচিত। তিনি গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বসবাস করছেন।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।   সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।   হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশেরও এতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে।   তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্ব নেতাদের আমন্ত্রণ রয়েছে। একই সঙ্গে মক্কার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মক্কা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। মধ্যপ্রাচ্য বা ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা জোট গঠিত হলে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অস্বাভাবিক হবে না।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে স্বাক্ষর করে। চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
প্রতারণার শিকার সেই ৮ শিক্ষার্থী অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় বসলেন

নাটোরের লালপুরে প্রতারণার শিকার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের সেই ৮ শিক্ষার্থী অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তারা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেন।   বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।   তিনি জানান, গত বুধবার শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতারণার শিকার এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশনা কলেজে পৌঁছায়। পরবর্তীতে দ্রুত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হয় এবং বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্র হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তার কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে নিজ জেলার বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ করায় শিক্ষার্থীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।   রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন জেলার মোট ৪৬ শিক্ষার্থী বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বাংলা, পদার্থ বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নিকটবর্তী কেন্দ্রে এ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   জানা যায়, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এসব শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফি-সহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেন।   কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, তাদের ফরম পূরণই করা হয়নি। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশিত হলে তা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। তার নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয় এবং তারা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।   তবে প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আজ তারা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হন।   এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ছবি: সংগৃহীত
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনে ইডিসিএলকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি

দেশের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহের দায়িত্ব সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডিসিএল) দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি)। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করে বেসরকারি কোম্পানির জন্য বাজারে টিকে থাকা কঠিন। তাই এসব ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহে ইডিসিএলকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।   সভায় বাপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসাইন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এমন ওষুধ, যা সার্বক্ষণিকভাবে বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।   তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা ওষুধের বড় একটি অংশ ইডিসিএল থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা ও সরকারি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের দায়িত্ব তাদের দেওয়া যেতে পারে।   জাকির হোসাইন জানান, ইডিসিএলের সারাদেশে পাঁচটি উৎপাদন কারখানা রয়েছে। ফলে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সক্ষমতা রয়েছে। সরকারের প্রতি এ ধরনের ওষুধ উৎপাদনে ইডিসিএলকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   বাপির সাধারণ সম্পাদক ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব ওষুধের মান নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।   তিনি বলেন, অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকা কঠিন। ১৯৯৪ সালে করা ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকার অনেক ওষুধ বর্তমানে খুব কম পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে।   তার মতে, যেসব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন বেসরকারি খাতের জন্য অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়, সেগুলো ইডিসিএলের মাধ্যমে উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সরকার এসব ওষুধ সুলভ মূল্যে, এমনকি বিনামূল্যেও জনগণের কাছে সরবরাহ করতে পারে।   সভায় বাপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ইউনিমেড ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. মোসাদ্দেক হোসেন দেশের ওষুধশিল্প সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।   তিনি বলেন, বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশ ওষুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও ওষুধ রপ্তানি করছে এবং ভারতের মতো বড় বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।   দেশীয় ওষুধশিল্প দুর্বল হয়ে পড়লে বিদেশি কোম্পানিগুলো বাজার দখলের সুযোগ পেতে পারে উল্লেখ করে তিনি এমন কোনো নীতি গ্রহণ না করার আহ্বান জানান, যাতে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প ক্ষতির মুখে পড়ে।   মতবিনিময় সভায় বাপির নেতারা বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশীয় ওষুধশিল্পের বিকাশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রয়োজন।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক ডলারের বেশি কমল

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। সোমবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক ডলারের বেশি কমে যায়। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে শাফাক নিউজ এজেন্সি।   সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২৩ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ১ দশমিক ৩৬ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ, প্রতি ব্যারেল ৮৫ দশমিক ৭০ ডলারে।   এর আগে গত সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দামই টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বেড়েছিল। পাঁচ শতাংশের বেশি দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কমে যাওয়া। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো।   সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের ঘোষণা দিতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি আরও কমে গেলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের জবাবে ইরান যদি সামরিক উত্তেজনা বাড়ায়, তাহলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   ইরান নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার নিন্দা করেছে। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর পক্ষের শক্তি ও কঠোর অবস্থানের পক্ষের শক্তির মধ্যে কোন পক্ষ প্রভাবশালী হয়ে উঠবে, তা চলতি সপ্তাহে স্পষ্ট হতে পারে।   এদিকে মার্কিন অবরোধের কারণে চীনা ক্রেতাদের কাছে ইরানি অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বাগদাদের অনুরোধের পর ইরাকের কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান।   বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

দুর্বল মার্কিন ডলারের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে শাফাক নিউজ এজেন্সি।   সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে দাম ১৫ মে-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর আগে গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বাজারে মার্কিন ডলারের দর কয়েক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। সাধারণত ডলারের দাম কমলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচক এবং ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি কমেছে।   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৮ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ৩৫০ ডলারে স্থির ছিল।   সূত্র: শাফাক নিউজ

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬

দুর্বল মার্কিন ডলারের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে শাফাক নিউজ এজেন্সি।   সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে দাম ১৫ মে-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর আগে গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বাজারে মার্কিন ডলারের দর কয়েক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। সাধারণত ডলারের দাম কমলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচক এবং ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি কমেছে।   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৮ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ৩৫০ ডলারে স্থির ছিল।   সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক ডলারের বেশি কমল
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। সোমবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক ডলারের বেশি কমে যায়। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে শাফাক নিউজ এজেন্সি।   সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২৩ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ১ দশমিক ৩৬ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ, প্রতি ব্যারেল ৮৫ দশমিক ৭০ ডলারে।   এর আগে গত সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দামই টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বেড়েছিল। পাঁচ শতাংশের বেশি দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কমে যাওয়া। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো।   সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের ঘোষণা দিতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি আরও কমে গেলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের জবাবে ইরান যদি সামরিক উত্তেজনা বাড়ায়, তাহলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   ইরান নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার নিন্দা করেছে। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর পক্ষের শক্তি ও কঠোর অবস্থানের পক্ষের শক্তির মধ্যে কোন পক্ষ প্রভাবশালী হয়ে উঠবে, তা চলতি সপ্তাহে স্পষ্ট হতে পারে।   এদিকে মার্কিন অবরোধের কারণে চীনা ক্রেতাদের কাছে ইরানি অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বাগদাদের অনুরোধের পর ইরাকের কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান।   বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে জাহাজ চলাচলে বড় ধস, কমেছে ৯০ শতাংশ
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন ও বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।   শিপিং গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১৩টি জাহাজ পার হয়েছে। রোববার এই সংখ্যা আরও কমে দাঁড়ায় চারটিতে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।   যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য বলছে, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৮৯টি জাহাজ বের হয়েছে এবং ১০৩টি জাহাজ প্রবেশ করেছে।   এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ইরাক। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসরা বন্দর থেকে তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জুলাইয়ে ইরাকের তেল রপ্তানি দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেলে উঠলেও, যুদ্ধের আগে বাসরা থেকে দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি হতো।   হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প রপ্তানি পথ খুঁজছে বাগদাদ। তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডানের মাধ্যমে তেল রপ্তানির পরিকল্পনা করছে ইরাক। সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এটি নির্মাণে প্রায় চার বছর সময় এবং অন্তত ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের শুল্কনীতি, কুইবেক কি কানাডা থেকে আলাদা হচ্ছে?
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার হুমকির প্রভাব পড়েছে কুইবেকের স্বাধীনতার দাবিতেও। কানাডার ফরাসিভাষী এই প্রদেশে এখন আগের তুলনায় স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন কমেছে। সাম্প্রতিক জরিপে স্বাধীন কুইবেকের পক্ষে সমর্থন নেমে এসেছে প্রায় ৩০ শতাংশে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।   কুইবেক দীর্ঘদিন ধরে কানাডা থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এর আগে ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালে এ নিয়ে গণভোটও হয়েছে। ১৯৯৫ সালের গণভোটে খুব অল্প ব্যবধানে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট পড়ে।   কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ কুইবেকের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। কানাডার ইস্পাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর কুইবেকের একটি কারখানা মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্ডার হারায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগ বন্ধ করে, একটি কারখানা বন্ধ করে দেয় এবং কয়েক ডজন কর্মীকে ছাঁটাই করে।   শুধু ওই প্রতিষ্ঠান নয়, ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির প্রভাব কুইবেকের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন শিল্পে পড়েছে। ফলে অনেকের কাছে এখন কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার চেয়ে পুরো দেশের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।   ট্রাম্পের কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার হুমকিও কুইবেকে জাতীয়তাবোধ বাড়িয়েছে। এমনকি যারা কুইবেকের স্বতন্ত্র ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার পক্ষে, তাদের অনেকে মনে করছেন, অন্তত এখন কানাডার সঙ্গেই থাকা নিরাপদ।   কুইবেকের স্বাধীনতাপন্থী দল পার্তি কেবেকোয়া প্রদেশের নির্বাচনে এগিয়ে আছে। দলটি ক্ষমতায় ফিরলে স্বাধীনতার প্রশ্নে তৃতীয়বারের মতো গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দলের নেতা পল সেন্ট-পিয়ের প্লামন্ডন জানিয়েছেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকা অবস্থায় এমন কোনো গণভোট হবে না।   তার এই অবস্থানকে কুইবেকের স্বাধীনতার প্রতি মানুষের কমে যাওয়া আগ্রহের স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, ট্রাম্পের নীতি ও হুমকির কারণে তৈরি অনিশ্চয়তার মধ্যে কুইবেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।   জরিপ অনুযায়ী, কুইবেকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও খুব কম। আগস্টের এক জরিপে মাত্র ১০ শতাংশ কুইবেকবাসী ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তার শুল্কনীতি ও কট্টর রক্ষণশীল অবস্থান এই প্রদেশের  ফরাসিভাষীরা ব্যাপকভাবে অপছন্দ করছে।   তবে স্বাধীনতার দাবি পুরোপুরি থেমে যায়নি। স্বাধীনতাপন্থীদের কেউ কেউ এখনও মনে করেন, কুইবেকের স্বার্থ রক্ষার জন্য আলাদা রাষ্ট্র হওয়াই সবচেয়ে ভালো পথ। অন্যদিকে অনেক বাসিন্দার মতে, ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ যখন পুরো কানাডাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তখন কুইবেকের একা হয়ে যাওয়ার চেয়ে কানাডার সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই বেশি বাস্তবসম্মত।   অর্থাৎ, যে অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক হুমকি কুইবেককে কানাডা থেকে আরও দূরে ঠেলে দিতে পারত, ট্রাম্পের নীতিই এখন উল্টো প্রদেশটির অনেক মানুষকে কানাডার সঙ্গে থাকার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি