ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ইসরায়েলপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। পাসপোর্ট সমর্পণের আদালতের নির্দেশ অমান্য করার পরপরই তার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার ব্রাজিলের সুপ্রিম ফেডারেল কোর্ট অর্থপাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা করেননি। এরপর মঙ্গলবার ফেডারেল পুলিশ তার সব ব্রাজিলীয় পাসপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে। একাধিক কূটনৈতিক ও পরিবারসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ফ্লাভিও বলসোনারো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন এবং সেখানে তার ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তিনি কীভাবে এবং কোন পথে ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত দিয়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রবেশের কোনো রেকর্ড নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরে যান ফ্লাভিও বলসোনারো। লুলা ৫১.৭৯% ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বলসোনারো পান ৪৮.২১% ভোট। পরাজয়ের পর থেকেই তিনি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার দাবি জানান এবং ভোটগ্রহণের সময় বৃদ্ধি করাকে ‘চক্রান্ত’ বলে অভিযোগ তোলেন। ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে। আজ বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানী বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।’ বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তাঁর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ওই নৌযানে মাদক বহন করা হচ্ছিল, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা। এ হামলার মধ্য দিয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৪০ জনে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ ধরনের অভিযান শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এ পর্যন্ত ৭০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, পরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচলকারী সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। তাদের ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্যে নৌযানটির মাদক পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছিল। সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পানিতে চলাচলরত ছোট একটি নৌযানকে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সশস্ত্র সংঘাত’ চলছে। দেশটিতে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করা এবং প্রাণঘাতী অতিমাত্রার মাদক গ্রহণে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজন বলে যুক্তি দেখিয়েছে তার প্রশাসন। তবে যাদের ‘মাদক সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তাদের হত্যার দাবির পক্ষে প্রশাসন খুব সামান্যই প্রমাণ হাজির করেছে। এসব হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তাদের মতে, প্রাণঘাতী অতিমাত্রার মাদক গ্রহণের বহু ঘটনার জন্য দায়ী ফেন্টানিল সাধারণত মেক্সিকো থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়। মেক্সিকোতে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা রাসায়নিক ব্যবহার করে এ মাদক তৈরি করা হয়। হামলাগুলো নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে পেন্টাগনের পরিদর্শক সংস্থা জানায়, প্রাণঘাতী এসব অভিযানে সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাঠামো অনুসরণ করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমান্ডারের নির্দেশনা, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া। তবে হামলাগুলোর বৈধতা এ পর্যালোচনার আওতায় থাকবে না। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ধরনের হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের হামলাটি এ ধরনের কয়েকটি অভিযানের একটি। গত মাসে পেরুতে রুবিওর বক্তব্যে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবেও অভিযান চালানোর সক্ষমতা রাখে, তবে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তবে রুবিও একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনী নৌযানে হামলা চালাবে। তার ভাষায়, প্রতিটি হামলা বা অভিযান আলাদাভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। সূত্র: এপি
ইসরাইলের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবরি) দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৮ লাখ ভোট গণনা করা হয়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ৫৬ শতাংশ। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি। আর নাফতালি বেনেটের ‘টুগেদার’ জোট ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আংশিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি এবং বিরোধী জোট ৪৯টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৬টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে। সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে। আজ বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানী বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।’ বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তাঁর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসরাইলের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবরি) দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৮ লাখ ভোট গণনা করা হয়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ৫৬ শতাংশ। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি। আর নাফতালি বেনেটের ‘টুগেদার’ জোট ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আংশিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি এবং বিরোধী জোট ৪৯টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৬টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে। সূত্র: আল জাজিরা
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আইজিপির বক্তব্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত আইজিপির বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের অবস্থানের কোনো মিল নেই বলে স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার সমর্থন করে না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আইজিপি অসতর্কতাবশত এমন মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সহ্য করবে না সরকার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে আইনের শাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরায় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১১৫ ডলার ৩৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ ডলার ২২ সেন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ১২ সেন্ট হয়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে। দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতাসম্পন্ন স্থাপনাটিতে হামলার বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। এদিকে, ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার আশায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমলে তেলের দাম প্রায় ২ ডলার কমেছিল। তবে নতুন হামলার খবর বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ১৫ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পর রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলো ডিজেল উৎপাদন বাড়ালে আগামী মাসে দেশটির বাল্টিক ও কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমতে পারে। সূত্র : রয়টার্স
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নাগরিকদের ভোট ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দলগুলোর অবস্থান, শর্ত এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য জোট গঠনের আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনের আংশিক হিসাব ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফল নয়। আরব দলগুলোর মধ্যে মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম সরকারে অংশ নেওয়ার পক্ষে। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোটকে সমর্থন দিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল দলটি। এবারও একই ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে আব্বাসের মতে, আগে নিশ্চিত হতে হবে সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, এরপর আলোচনা হতে পারে শর্ত নিয়ে। অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার পরিবর্তে নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। দলটির নেতা ইউসেফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়নসহ কার্যকর ও তদারকিযোগ্য পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধনীতি, বসতি সম্প্রসারণ ও জাতীয় ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে ইসরায়েলের ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট রা’আমকে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে কিছু শর্ত দিয়েছেন। এসব মতপার্থক্য সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও ভিন্নমত রয়েছে। একদিকে, আরব নাগরিকেরা ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে প্রতিনিধি নির্বাচিত করছেন এবং সরকার গঠনের আলোচনায় ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ভেতরে বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয়কে আলাদা প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা জরুরি। আরব দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলেও পার্থক্য রয়েছে। কেউ সরাসরি সরকারে অংশ নিয়ে নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখতে চায়, আবার কেউ সরকারের বাইরে থেকে নির্দিষ্ট শর্তে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে। ফলে কেবল আসনসংখ্যা নয়, অপরাধ দমন, জনসেবা, নিরাপত্তা ও জাতীয় নীতির মতো বিষয়েও সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত যে সরকারই গঠন করুক, আরব দলগুলোর অবস্থান ইসরায়েলের জোট রাজনীতি ও নাগরিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। তবে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল, সম্ভাব্য জোটের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ইসরায়েলপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। পাসপোর্ট সমর্পণের আদালতের নির্দেশ অমান্য করার পরপরই তার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার ব্রাজিলের সুপ্রিম ফেডারেল কোর্ট অর্থপাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা করেননি। এরপর মঙ্গলবার ফেডারেল পুলিশ তার সব ব্রাজিলীয় পাসপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে। একাধিক কূটনৈতিক ও পরিবারসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ফ্লাভিও বলসোনারো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন এবং সেখানে তার ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তিনি কীভাবে এবং কোন পথে ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত দিয়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রবেশের কোনো রেকর্ড নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরে যান ফ্লাভিও বলসোনারো। লুলা ৫১.৭৯% ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বলসোনারো পান ৪৮.২১% ভোট। পরাজয়ের পর থেকেই তিনি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার দাবি জানান এবং ভোটগ্রহণের সময় বৃদ্ধি করাকে ‘চক্রান্ত’ বলে অভিযোগ তোলেন। ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সূত্র: বিবিসি
লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ওই নৌযানে মাদক বহন করা হচ্ছিল, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা। এ হামলার মধ্য দিয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৪০ জনে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ ধরনের অভিযান শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এ পর্যন্ত ৭০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, পরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচলকারী সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। তাদের ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্যে নৌযানটির মাদক পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছিল। সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পানিতে চলাচলরত ছোট একটি নৌযানকে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সশস্ত্র সংঘাত’ চলছে। দেশটিতে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করা এবং প্রাণঘাতী অতিমাত্রার মাদক গ্রহণে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজন বলে যুক্তি দেখিয়েছে তার প্রশাসন। তবে যাদের ‘মাদক সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তাদের হত্যার দাবির পক্ষে প্রশাসন খুব সামান্যই প্রমাণ হাজির করেছে। এসব হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তাদের মতে, প্রাণঘাতী অতিমাত্রার মাদক গ্রহণের বহু ঘটনার জন্য দায়ী ফেন্টানিল সাধারণত মেক্সিকো থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়। মেক্সিকোতে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা রাসায়নিক ব্যবহার করে এ মাদক তৈরি করা হয়। হামলাগুলো নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে পেন্টাগনের পরিদর্শক সংস্থা জানায়, প্রাণঘাতী এসব অভিযানে সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাঠামো অনুসরণ করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমান্ডারের নির্দেশনা, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া। তবে হামলাগুলোর বৈধতা এ পর্যালোচনার আওতায় থাকবে না। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ধরনের হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের হামলাটি এ ধরনের কয়েকটি অভিযানের একটি। গত মাসে পেরুতে রুবিওর বক্তব্যে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবেও অভিযান চালানোর সক্ষমতা রাখে, তবে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তবে রুবিও একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনী নৌযানে হামলা চালাবে। তার ভাষায়, প্রতিটি হামলা বা অভিযান আলাদাভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। সূত্র: এপি
ইসরাইলের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবরি) দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৮ লাখ ভোট গণনা করা হয়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ৫৬ শতাংশ। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি। আর নাফতালি বেনেটের ‘টুগেদার’ জোট ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আংশিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি এবং বিরোধী জোট ৪৯টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৬টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পেন্টাগনের একটি সর্বশেষ হিসাবের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় যুদ্ধের ব্যয় ২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের এই হিসাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিলেন। অস্ত্রের মজুত পূরণেই প্রয়োজন ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান ও ড্রোন প্রতিস্থাপনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের কাছে আরও ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ চাওয়া হতে পারে। তবে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতের বিপুল খরচ পেন্টাগনের হিসাবের মধ্যে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুদ্ধের কৌশল বদল, বাড়ছে চাপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতে তিনি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু সংঘাতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। তবে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ভূগর্ভস্থ অস্ত্রের মজুত ও সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় বন্ধ করার লক্ষ্যে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দেশ দেওয়া হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ব্যবধান খুব বেশি নয়। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং সংঘাত নিয়ে জনঅসন্তোষ রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফলে যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় শুধু সামরিক পরিকল্পনার বিষয় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন, সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি মেরামতের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে মার্কিন বাজেটের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।