বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। সারাহ কুক জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে। গত নয় বছরে রোহিঙ্গাদের জন্য দেশটি ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া জরুরি। সেই পরিবেশ তৈরি হলে তাঁরা যেন নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রেখে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে মির্জাপুরের কুমুদিনীতে দুর্গাপূজার আয়োজনের প্রশংসা করে সারাহ কুক বলেন, এ উৎসবে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। এটি তাঁর তৃতীয়বারের মতো কুমুদিনীর পূজার আয়োজনে অংশগ্রহণ। তিনি জানান, প্রতিবারই পূজার বর্ণাঢ্য আয়োজন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ তাঁকে মুগ্ধ করে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে অনন্য করে তুলেছে। এর আগে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ ফুল দিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে স্বাগত জানায়। পরে তিনি কুমুদিনী লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে নৌকাযোগে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে যান সারাহ কুক। সেখানে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ফখরুল আলম রতন (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে নিজ বাড়ির কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফখরুল আলম রতন ওই গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নয়নের বড় ভাই এবং নিজেও দলটির কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল চন্দ্র মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রতন আগে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) চাকরি করতেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি নিজ এলাকায় জমিজমা দেখাশোনা করছিলেন। সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুকালে রতন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে জমিজমা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রতনের বিরোধ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব বিরোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল চন্দ্র মণ্ডল জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা চলছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খোলাবাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচিতে চাল ও আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা এবং ভর্তুকি বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক -খানি উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে। গণমাধ্যমে প্নকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে চলতি অর্থবছরে ওএমএসে চাল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪০ হাজার টন এবং আটা ৩ লাখ ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ৪ হাজার টন চাল ও ৪ লাখ ৪৯ হাজার টন আটা। অর্থাৎ চাল প্রায় ২১ শতাংশ এবং আটা প্রায় ২২ শতাংশ কমছে, সম্মিলিতভাবে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টন। ওএমএসের ভর্তুকি বরাদ্দ ৪ হাজার ৯৬ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৪১১ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে, যা প্রায় ১৭ শতাংশ কম। .২০২৬-২৭ অর্থবছরে খাদ্য খাতে মোট ভর্তুকি ৭ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা করা হয়েছে যা এর আগের বছর ছিলো ৮ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। ওএমএস মূলত শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত, এবং শহরের দরিদ্রদের জন্য প্রাপ্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সংখ্যা সীমিত। সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০২২ ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুযায়ী, নগরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২০১০ সালের ৭৪ লাখ থেকে ২০২২ সালে ৭৯ লাখে এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৫৩ লাখে দাঁড়িয়েছে। দেশের অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পায় না; শহরে এই হার প্রায় ৬৪ শতাংশ। গতকাল ১৭ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দারিদ্রতার চিত্র উঠে এসেছে। বিবিএসের লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫ অনুযায়ী, গত এক বছরে মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে শহরাঞ্চলের ৪০.১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২.১১ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩,৫১৩ টাকা, যেখানে গড় ব্যয় ৩৫,৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় গড় মাসিক ব্যয় সর্বোচ্চ, ৪৬,৭৭৮ টাকা। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ; আবাসন ও ইউটিলিটিতে ৯.৮১ শতাংশ এবং পরিবহনে ৯.৪৬ শতাংশ। ওএমএসে চালের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা, যেখানে বাজারে মোটা চাল ৫০–৫৫ টাকা এবং মাঝারি চাল ৫৬–৬৫ টাকা। ওএমএসের সুবিধা না পেলে একটি পরিবারকে কেজিপ্রতি অন্তত ২০–২৫ টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে। কমানো ৬৪ হাজার টন চালের হিসাবে উপকারভোগী পরিবারগুলোর সম্মিলিত বাড়তি ব্যয় আনুমানিক ১২৮–১৬০ কোটি টাকা; আটা বিবেচনায় নিলে তা আরও বেশি। এর ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্যের পরিমাণ বা পুষ্টিমান কমাতে হতে পারে, যা শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে। খাদ্যে বাড়তি ব্যয় মেটাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো বা ঋণনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ ছাড়া ওএমএস বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে মোটা ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বেড়েছে; এ সময়ে সরকারি সরবরাহ কমলে বাজারে মূল্যচাপ বাড়তে পারে। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওএমএস বরাদ্দের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত নয় এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত বরাদ্দের তহবিল রয়েছে। খানি এই অবস্থানকে স্বাগত জানায় এবং মনে করে, বর্তমান মূল্য পরিস্থিতিতে সেই প্রয়োজন ইতোমধ্যে বিদ্যমান। খানির সুপারিশ ১. ওএমএসে চাল ও আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ও ভর্তুকি বরাদ্দ অন্তত গত অর্থবছরের পর্যায়ে বহাল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় তা সমন্বয় করা। ২. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও শিল্পাঞ্চলে, বিশেষত বস্তি ও শ্রমিক-অধ্যুষিত এলাকায়, ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো। ৩. ডিলার পর্যায়ে স্বচ্ছতা, ডিজিটাল তদারকি ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা জোরদার করা। ৪. শহরের দরিদ্র, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট নগর সামাজিক সুরক্ষা কৌশল প্রণয়ন এবং একটি সমন্বিত, অধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া। খানি বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। অর্থনৈতিক ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তাই খাদ্য সুরক্ষা কর্মসূচি কমানো নয়, বরং আরও শক্তিশালী করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। খানি বাংলাদেশ সরকার ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ব্যারিস্টার নুসরাত খান। পোস্টে তিনি মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ‘ক্ষমতা’ সম্পর্কিত একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরেছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উক্তিটি প্রকাশ করেন নুসরাত খান। একই পোস্টে তিনি স্বামী ইশরাক হোসেনের একটি ছবিও সংযুক্ত করেন। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘Power properly understood is nothing but the ability to achieve purpose. It is the strength required to bring about social, political and economic change.’ উক্তিটির বাংলা অর্থ—‘ক্ষমতার প্রকৃত অর্থ হলো লক্ষ্য অর্জনের সামর্থ্য। এটি এমন এক শক্তি, যা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর জন্য প্রয়োজন।’ ১৯৬৭ সালের ১৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় সাউদার্ন ক্রিশ্চিয়ান লিডারশিপ কনফারেন্সে দেওয়া ‘হোয়ার ডু উই গো ফ্রম হিয়ার?’ শীর্ষক ভাষণে ক্ষমতা সম্পর্কে এ বক্তব্য দিয়েছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। তবে নুসরাত খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে উক্তিটির মাধ্যমে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সরাসরি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ নেই। এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যেন অন্য কোনো বিতর্কের আড়ালে চলে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান ইশরাক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। সারাহ কুক জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে। গত নয় বছরে রোহিঙ্গাদের জন্য দেশটি ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া জরুরি। সেই পরিবেশ তৈরি হলে তাঁরা যেন নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রেখে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে মির্জাপুরের কুমুদিনীতে দুর্গাপূজার আয়োজনের প্রশংসা করে সারাহ কুক বলেন, এ উৎসবে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। এটি তাঁর তৃতীয়বারের মতো কুমুদিনীর পূজার আয়োজনে অংশগ্রহণ। তিনি জানান, প্রতিবারই পূজার বর্ণাঢ্য আয়োজন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ তাঁকে মুগ্ধ করে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে অনন্য করে তুলেছে। এর আগে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ ফুল দিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে স্বাগত জানায়। পরে তিনি কুমুদিনী লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে নৌকাযোগে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে যান সারাহ কুক। সেখানে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-রাষ্ট্রদূত জন এফ ড্যানিলোভিচ। সরকারের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে ড্যানিলোভিচ বলেন, ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ডের পর তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, এ পদক্ষেপ সরকারের সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার বার্তা বহন করে। বাংলাদেশকে অতীতের ধারা থেকে বের করে একটি ভিন্ন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক। জন এফ ড্যানিলোভিচ ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত একই দূতাবাসে ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) বা উপ-রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র তাঁর পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ বিষয়ে শিগগিরই সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলেও সূত্রটি জানায়।
তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি সিলেট সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেও একটি করে খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ে সিলেট বিভাগের বিজয়ী প্রতিযোগীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে মাঠ ও প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ভলিবল, হকি ও টেনিসসহ বিভিন্ন খেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়রা দেশের গর্ব। তাঁদের অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে কাবাডি ও ফুটবলে সিলেটের বিজয়ী প্রতিযোগীদের অভিনন্দন জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তাঁদের সাফল্য সিলেটবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। সিলেটে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও খেলার মাঠের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কাবাডি খেলোয়াড়দের অনুশীলনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। ক্রীড়া সংগঠকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী ও এম এ মালিক, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেনসহ অন্যরা।
বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা? আগাম ভিসা সংগ্রহের ঝামেলা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকদের। তবে এসব গন্তব্যে প্রবেশের নিয়ম এক নয়। কোথাও সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা রয়েছে, আবার কোথাও পৌঁছানোর পর ভিসা নিতে হয় কিংবা ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক অনুমোদন সংগ্রহ করতে হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী পাসপোর্ট সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই কতটি গন্তব্যে যেতে পারেন, তার ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করা হয়। যেসব গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশ, অন-অ্যারাইভাল ভিসা অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদনের সুবিধা থাকা ৩৫টি গন্তব্য হলো— ১. ভুটান ২. ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ৩. বুরুন্ডি ৪. কম্বোডিয়া ৫. কোমোরোস ৬. কুক আইল্যান্ডস ৭. জিবুতি ৮. ডোমিনিকা ৯. ফিজি ১০. গ্রেনাডা ১১. গিনি-বিসাউ ১২. হাইতি ১৩. জামাইকা ১৪. কেনিয়া ১৫. কিরিবাতি ১৬. মাদাগাস্কার ১৭. মালদ্বীপ ১৮. মাইক্রোনেশিয়া ১৯. মন্টসেরাট ২০. নেপাল ২১. নিউয়ে ২২. বারবাডোস ২৩. রুয়ান্ডা ২৪. সামোয়া ২৫. সেশেলস ২৬. সিয়েরা লিওন ২৭. শ্রীলঙ্কা ২৮. সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ২৯. সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিন্স ৩০. বাহামাস ৩১. গাম্বিয়া ৩২. তিমুর-লেস্তে ৩৩. ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ৩৪. টুভালু ৩৫. ভানুয়াতু পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৫ সালে দেশটির অবস্থান ছিল ১০০তম। এর আগে ২০২৪ সালে ৯৭তম, ২০২৩ সালে ১০১তম, ২০২২ সালে ১০৩তম এবং ২০২১ সালে ১০৮তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে অবস্থান ছিল ৯৮তম। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী সূচকে সিঙ্গাপুর শীর্ষস্থান দখল করেছে। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের সর্বাধিকসংখ্যক গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পান। ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ থাকলেও সব দেশে প্রবেশের শর্ত একই নয়। কোনো কোনো গন্তব্যে পৌঁছে ভিসা নিতে হয়, আবার কোথাও অনলাইনে নিবন্ধন বা ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তাই বিদেশযাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি পাসপোর্টের পর্যাপ্ত মেয়াদ, ফিরতি টিকিট, আবাসনের তথ্য, ভ্রমণ ব্যয়ের সামর্থ্যের প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, আগাম ভিসা না লাগা মানেই শর্তহীন প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। ভ্রমণের তারিখ ও গন্তব্য অনুযায়ী প্রবেশের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ব্যারিস্টার নুসরাত খান। পোস্টে তিনি মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ‘ক্ষমতা’ সম্পর্কিত একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরেছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উক্তিটি প্রকাশ করেন নুসরাত খান। একই পোস্টে তিনি স্বামী ইশরাক হোসেনের একটি ছবিও সংযুক্ত করেন। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘Power properly understood is nothing but the ability to achieve purpose. It is the strength required to bring about social, political and economic change.’ উক্তিটির বাংলা অর্থ—‘ক্ষমতার প্রকৃত অর্থ হলো লক্ষ্য অর্জনের সামর্থ্য। এটি এমন এক শক্তি, যা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর জন্য প্রয়োজন।’ ১৯৬৭ সালের ১৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় সাউদার্ন ক্রিশ্চিয়ান লিডারশিপ কনফারেন্সে দেওয়া ‘হোয়ার ডু উই গো ফ্রম হিয়ার?’ শীর্ষক ভাষণে ক্ষমতা সম্পর্কে এ বক্তব্য দিয়েছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। তবে নুসরাত খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে উক্তিটির মাধ্যমে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সরাসরি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ নেই। এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যেন অন্য কোনো বিতর্কের আড়ালে চলে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান ইশরাক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের জামিন শুনানি ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে আসার পর শুনানি স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। সিজেপির অভিযোগ, হুমকির বিষয়টিকে সামনে এনে দুই নেতার জামিন প্রক্রিয়া অযথা বিলম্বিত করা হচ্ছে। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি নন-কগনিজেবল রিপোর্ট (এনসিআর) নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে লোহার ফটক অতিক্রম করে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে পাঠানো হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) তাঁদের জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে শুনানি শুরু না হওয়ায় আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ম্যাজিস্ট্রেটের হুমকি পাওয়ার দাবি সিজেপির লিগ্যাল সেলের প্রধান রত্না সিংয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় শুনানির সময় নির্ধারিত থাকলেও বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কৌঁসুলি বিকেল পাঁচটার দিকে এজলাসে উপস্থিত হন। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট জানান, গ্রেপ্তার দুই নেতাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজের নিরাপত্তা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি সেদিনের শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। ফলে জামিন আবেদনের শুনানি সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। এই মামলায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে রয়েছেন দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। জামিন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অভিযোগ সিজেপির রত্না সিং দাবি করেন, ম্যাজিস্ট্রেট হুমকি পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু সেই অভিযোগের কারণে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামিন আবেদনের শুনানি বন্ধ রাখা যুক্তিসংগত নয়। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা বহন করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অথচ প্রক্রিয়াগত নানা জটিলতার কারণে দুই নেতার কারাবাস দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টেও তিনি শুনানিতে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। রত্না জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিকেল ৪টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হননি বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া চারজন জামিনদারের দাখিল করা নথি প্রত্যাখ্যানের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রত্না। তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকের সিলযুক্ত ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্টও যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়া গ্রহণ করা হয়নি। উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি এদিকে পৃথক ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। সিজেপির তথ্য অনুযায়ী, নিজ বাড়ি থেকে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। জামিন পাওয়ার পর আশুতোষ ও সৌরভের আটকাদেশ এবং শুনানিতে বিলম্বের সমালোচনা করেন অভিজিৎ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, দুই নেতার মুক্তি ঠেকাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। তাঁদের আটকে রাখার আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জামিন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব অব্যাহত থাকলে উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ লক্ষ্যে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। হুমকির ঘটনায় পুলিশের প্রতিবেদন রোববার রাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই দিল্লি পুলিশের বরাতে জানায়, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি নন-কগনিজেবল রিপোর্ট দায়ের করা হয়েছে। তবে দুই সিজেপি নেতার জামিন শুনানি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে দলটির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং জামিন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ছোটবেলা থেকেই ছোট-বড় যন্ত্রপাতি নিয়ে নাড়াচাড়া করার নেশা। ভাঙা যন্ত্র খুলে দেখা, নতুন কিছু তৈরির চেষ্টা আর প্রযুক্তির প্রতি অদম্য কৌতূহল- এসবই যেন ধীরে ধীরে গড়ে দিয়েছে এক উদ্ভাবকের ভিত। সেই কৌতূহলকে শক্তিতে পরিণত করে এবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন মানিকগঞ্জের তরুণ উদ্ভাবক হাসিবুর রহমান খান। কৃষকদের সহায়তায় তৈরি করেছেন বিশেষ ধরনের একটি কৃষি রোবট। আর সেই উদ্ভাবন নিয়েই মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে অর্জন করেছেন একাধিক পুরস্কার। তিনি খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের রৌহাদহ গ্রামের সন্তান হাসিবুরের এই সাফল্যে গর্বিত তার পরিবার, স্বজন ও গ্রামবাসী। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কার জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না তিনি। তার স্বপ্ন, নিজের উদ্ভাবিত রোবট দেশের কৃষকের কাজে লাগবে। জমির মাটির অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় সার ও পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেবে, ফসলের রোগ ও ক্ষতিকর আগাছা শনাক্ত করবে এবং কৃষিকাজে সময় ও খরচ কমাতে সহায়তা করবে। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবার সরকারের সহযোগিতা ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই তরুণ উদ্ভাবক। মাটির প্রকৃত অবস্থা না জেনে সার প্রয়োগ, সেচের পানির অপচয়, ফসলের রোগ শনাক্তে দেরি এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ব্যয়—এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় আমাদের দেশের কৃষকদের। এসব সমস্যা সমাধানের চিন্তা থেকেই হাসিবুর তৈরি করেছেন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি রোবট। হাসিবুরের উদ্ভাবিত রোবটটি জমিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করে মাটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও আর্দ্রতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটিতে কোনো উপাদানের ঘাটতি রয়েছে, সে সম্পর্কে কৃষককে ধারণা দেয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সার ব্যবহারের পরামর্শ ও সেই সার জমিতে প্রয়োগও করতে পারে এই রোবট। রোবটটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার। এতে যুক্ত ক্যামেরা ফসলের পাতা ও উদ্ভিদের ছবি বিশ্লেষণ করে রোগাক্রান্ত অংশ এবং ক্ষতিকর আগাছা শনাক্ত করতে পারে। কৃষিবিদদের মতে, ফসলের রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একইভাবে ক্ষতিকর আগাছা শনাক্ত করতে পারলে আগাছা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। এতে ফসলের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় শ্রম ও ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা যায়, রোবটটি মুঠোফোনের সঙ্গে ওয়াই-ফাই কিংবা ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযুক্ত করা যায়। ফলে কৃষক মুঠোফোনে রোবটের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং এর চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যের পর হাসিবুরের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ উদ্ভাবনটিকে বাস্তব কৃষিক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো। শুধু পুরস্কার অর্জন নয়, তার তৈরি প্রযুক্তি যেন দেশের সাধারণ কৃষকের উপকারে আসে, সেটিই এখন তার মূল লক্ষ্য। নিজের উদ্ভাবন দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন হাসিবুর রহমান খান বলেন, ১ মাস সময় ব্যয় করে এই রোবট তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি সেই রোবট নিয়ে মালয়েশিয়ার সাইবারজায়ায় মাল্টিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট গোলস ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। আমি সেখানে ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হই এবং অর্জন করি প্লাটিনাম উইনার বা চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়া সব বিভাগ মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সম্মাননা ও স্বর্ণপদকও দেওয়া হয় আমাকে। হাসিবুরের বাবা আব্দুল ওয়াহাব খান বলেন, `মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ছেলে প্রথম স্থান অধিকার করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সরকার যেন পাশে থাকে আমার ছেলের। সরকারের সহযোগিতা পেলে কৃষি রোবটটির আরও উন্নয়ন, পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবং পরবর্তী সময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।’ মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘হাসিবুরের এই উদ্ভাবন দেশের কৃষকদের জন্য উপযোগী করে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে খুব ভালো হবে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। মাটির গুণাগুণ নির্ণয়, ফসলের রোগ শনাক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও পানি ব্যবহারে এ ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং কৃষকদের ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক রাখতে পারে।’
সামনে যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসতে পারেন যিনি ইসরাইলের ওপর চটে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাই আগেভাগেই ভারত এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মতো নতুন মিত্র তৈরি করে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের নিরাপত্তা নীতি ঘোষণা করার সময় তিনি এসব কথা বলেন। নেতানিয়াহু বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এমন একজন প্রেসিডেন্ট চলে আসতে পারেন যিনি ইসরাইলের জন্য মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ হবেন না। সে রকম কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে যতটা সম্ভব সুবিধা আদায় করে নেওয়ার পাশাপাশি ভারত ও অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করার কথা জানান তিনি। বিশ্বের কাছে ইসরাইল যে একা নয়, তা বোঝাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্বের কথা আবারও তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তবে নেতানিয়াহুর এমন নিরাপত্তা নীতিকে পাত্তা না দিয়ে তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তার প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। তিনি একে কেবলই রাজনৈতিক চমক হিসেবে অভিহিত করেছেন। আইজেনকোটের মতে, যুদ্ধের মধ্যে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং নির্বাচনে সুবিধা পেতেই জনগণের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। সূত্র: সিয়াসাত ডেইলি
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ থেকে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবারের আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে। ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভে শনিবার প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও আন্দোলনকারীদের একটি ছোট অংশ বিভিন্ন ভবনে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ জন পুলিশ সদস্য। এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সংকট। সরকারি সেবার মান কমে যাওয়া, পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে, এমন আশাও হারাচ্ছেন অনেকে। স্কুল অবরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কীভাবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জন্য এর অর্থ কী, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে আলজাজিরা। যেভাবে ছড়িয়ে পড়ল বিক্ষোভ গত মাসে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের বসবাস করা শহরতলির বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। শিক্ষকসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুরবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে স্কুল অবরোধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি বোর্দো, রেন, নান্ত, লিওঁ, লিল ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকরাও অংশ নেন। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক ইতিহাসের অধ্যাপক এমিল শাবাল আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক বিক্ষোভের যৌক্তিক পরিণতি হলো বর্তমান পরিস্থিতি।’ তার মতে, আর্থিক চাপ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ থেকেই ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল। এই ব্যবস্থায় প্রায়ই ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মতো মধ্যপন্থি প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। শনিবারের বিক্ষোভে দীর্ঘ দিনের এসব ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ। ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনেও উন্নত সরকারি সেবার দাবি জানানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বৃহত্তর সামাজিক দাবিগুলো এক হয়ে যাওয়াকে ফরাসি সরকারের জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেন শাবাল। শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়ন। দেশটির এসব বিদ্যালয়ে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিকর ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগের সঙ্গে তরুণদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ দিতে রাষ্ট্র কতটা সক্ষম, সেই প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের কর্মচারীসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের কাছে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেতন বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি। সরকারের বাজেট পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সরকারি খাতের ধর্মঘটের সঙ্গে একই সময়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। ফলে শিক্ষা, শ্রমিক অধিকার ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ একসঙ্গে প্রকাশের সুযোগ পায়। ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫৪ বিলিয়ন ইউরোর ব্যয় সংকোচন ও করসংক্রান্ত পদক্ষেপের পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি করছে সরকার। প্রস্তাবের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন নির্ধারণে ব্যবহৃত বেতন কাঠামো স্থগিত রাখার বিষয়টিও রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, এটি কার্যকর হলে টানা চতুর্থ বছরের মতো তাদের বেতন কাঠামোতে স্থবিরতা তৈরি হবে। সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডোনাতেলা দেলা পোর্তা বলেন, শিক্ষার্থীরা বৈষম্য, সরকারি বিনিয়োগ কমানো এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছেন। তাদের দাবি, সামরিকীকরণের পরিবর্তে সামাজিক কল্যাণ খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘তারা যুদ্ধ করতে চায় না; তারা ভিন্ন একটি ভবিষ্যৎ চায়।’ গাজা ইস্যুতে তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গেও বর্তমান বিক্ষোভের যোগসূত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের প্রতিক্রিয়া কী বিক্ষোভ মোকাবিলায় ফরাসি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যের সময়ই লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক নগর ভবনের বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় সরকারি ভবন ও দোকানপাটেও হামলার ঘটনা ঘটে। তবে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিরা বৃহত্তর আন্দোলনকারীদের তুলনায় সংখ্যালঘু। বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, সরকার পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতপূর্ণ হতে দিয়েছে। সরকার বিক্ষোভকে মূলত আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখছে, নাকি আন্দোলনের পেছনে থাকা মানুষের ক্ষোভ নিরসনে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা নিয়ে ফ্রান্সে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির সংকট কেবল বাজেটের নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর অসন্তোষ। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমিল শাবাল বলেন, ২০২৪ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ওই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তার মতে, এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনই মানুষের সামাজিক অসন্তোষকে কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। রাজনৈতিক বিভক্তির কারণে সরকারি ব্যয়, করনীতি ও জনসেবা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে নীতিগত কোনো অর্থবহ পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়েও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। শাবালের মতে, এই বিক্ষোভ ম্যাক্রোঁর জন্যও বড় ধাক্কা। তরুণ নেতৃত্ব, সংস্কার ও গতিশীল ফ্রান্স গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট করতে না পারা এবং মানুষের প্রতি তার সহানুভূতির অভাবের কারণে সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সের বিক্ষোভে প্রায়ই দেখা যায়, এমন কিছু গোষ্ঠী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, যারা ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের মতো সরাসরি পদক্ষেপের কৌশল অনুসরণ করে। এবার দোকানপাটের পাশাপাশি সরকারি ভবনও হামলার লক্ষ্য হয়েছে। লিমোজের নগর ভবন ধ্বংসের ঘটনাকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। কারণ, ফ্রান্সের নাগরিক ইতিহাসে ভবনটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকজন গবেষক বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। লিসবনের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সামাজিক আন্দোলনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গুইয়া আক্কোরনেরো বলেন, অতীতের সংঘর্ষ বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি করেছে। বর্তমান বিক্ষোভে পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাছ থেকে নিক্ষেপ করা কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টারের আঘাতে ১৪ বছর বয়সি আরেক কিশোরের চোয়াল ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, বিক্ষোভের বেশির ভাগই শান্তিপূর্ণ ছিল। আক্কোরনেরো বলেন, ‘তরুণরা শান্তিপূর্ণ ও কম বিঘ্ন সৃষ্টিকারী পদ্ধতিতে আন্দোলন করলেও তাদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।’ রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে কারা? এই বিক্ষোভে শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক পক্ষ লাভবান হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে স্পষ্ট ঐকমত্য নেই। তবে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসি ইতিহাস ও রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক পল স্মিথ মনে করেন, কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মারিন লো পেন সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমি কেবল একজনকেই লাভবান হতে দেখছি, আর তিনি হলেন লো পেন।’ তার ধারণা, এই অস্থিরতা মেলঁশোঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে কট্টর ডানপন্থিরা নিশ্চিতভাবেই লাভবান হবে, এমন ধারণা থেকে সতর্ক করেছেন শাবাল। তার মতে, ফ্রান্সের ইতিহাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার ভয় প্রায়ই রক্ষণশীল ও মধ্যপন্থি দলগুলোর জন্য সুবিধা তৈরি করেছে। ১৯৬৮ সালের বিক্ষোভের পরও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। লো পেন অবশ্য বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেননি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি আন্দোলনকারীদের দাবিকে ‘বৈধ সামাজিক দাবি’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তার অভিযোগ, কট্টর বামপন্থিরা এই আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনঅসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে কট্টর ডানপন্থিরা। তবে তারা বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক কাঠামো, পুঁজিবাদ ও নব্য উদারনীতির সমালোচনার পরিবর্তে অভিবাসন ইস্যুতে মানুষের ক্ষোভকে পরিচালিত করতে পারে। অন্যদিকে, মেলঁশোঁ বিক্ষোভকারীদের দুর্দশার জন্য এসব অর্থনৈতিক কাঠামোকেই দায়ী করছেন। ২০২৭ সালের এপ্রিলে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে প্রার্থীদের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে তাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সক্ষমতা দেখাতে হবে, অন্যদিকে আন্দোলনের পেছনে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে। শাবালের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনা, যেখানে কোনো দল বা আন্দোলনই মানুষের সামাজিক অসন্তোষকে কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।