সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
হোপের সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাপুটে জয়

জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ১০ রান। সেঞ্চুরি থেকে শাই হোপও ছিলেন ১০ রান দূরে। অক্ষর প্যাটেলের ওভারে পরপর দুই ছক্কায় দুই লক্ষ্যই পূরণ করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে দলকে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় এনে দিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়।   আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানের সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে রেকর্ড গড়তে দেখে ক্যারিবীয়রা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে জিতে গিয়েছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা।   আজ রান তাড়ার শুরুতে মনে হয়নি এমন কিছুর সাক্ষী হবেন রাঁচির দর্শক।   ভারতের ফাস্ট বোলার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরটাকে ৫/২ বানিয়ে দেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৫৩ রান যোগ করেন হোপ। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পর শেরফান রাদারফোর্ডকে নিয়ে ৯ ওভারে ১২০ রানের জুটি হোপের। ৩৭ বলে ৭ ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন ফেরেন ৩৫ বলে ৭২ রান দরকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের।   সে সময়ে ৬৩ রানে ব্যাট করা হোপ ৯ বল হাতে রেখেই জয় এনে দিলেন রোমারিও শেফার্ডকে নিয়ে।   দুজনের জুটিতে ৭৪ রান এসেছে মাত্র ২৬ বলেই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাওয়া হোপের ৪৫ বলের ইনিংসে চার ৬টি, ছক্কা ৯টি।    আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হোপের আগের সেঞ্চুরিটিও ছিল ১০২ রানের। গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। এদিন জয়ের পথে তাঁর সঙ্গে ঝোড়ো ব্যাটিং করেছেন রোমারিও শেফার্ড। মাত্র ১৩ বলে ৩৪ রান করেন তিনি।   এর আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসটি সাজাতে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন।   সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে রবিবার, ইন্দোরে।

৩ ঘন্টা আগে
আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আশুলিয়ার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

সাভারের আশুলিয়ায় ফায়ার সার্ভিসের আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় জুট ও তুলার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে, আগুন ছড়িয়ে পড়ায় গোডাউনের পাশে থাকা কয়েকটি বাড়ির কক্ষ আগুনে পুড়ে গেছে।    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১২টা ২০ মিনিটে দিকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।    তবে, অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার রাতে জামগড়া এলাকার ওই তুলার গোডাউনে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গোডাউনে থাকা তুলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এরপর ওই গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের জুটের গোডাউন ও বাসাবাড়িতে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।   এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, অগ্নিকাণ্ডে দশটি গোডাউন আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে গোডাউনের পাশের বাসাবাড়িতে আগুন লাগে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা। 

৩ ঘন্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে ২,৪৫৪ ধর্ষণের ঘটনা, দাবি তৃণমূলের

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের পাঁচ মাসের শাসনে ২,৪৫৪টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে বলে দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস।   এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবিও জোরালো হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, পাঁচ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬টি করে ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।   বুধবার বিধানসভার বাইরে সংবাদ সম্মেলন করে এই পরিসংখ্যান সামনে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং তার আইনজীবী অর্ক নাগ।   তথ্য জানার অধিকার আইনে উঠে আসা 'স্টেট ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো'র (এসসিআরবি) পরিসংখ্যান সামনে রেখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তারা ৷   তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস সময়ে রাজ্যে ২,৪৫৪টি ধর্ষণ মামলা, ৬০০টি খুন, ১৩,১১৪টি খুনের চেষ্টা এবং ৩২,৩৪১টি গুরুতর আঘাতের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।   দলের দাবি, এই পরিসংখ্যান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। সে কারণেই বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।   সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক মাধ্যমে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।   তার দাবি, হিসাব করলে দেখা যায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬টি ধর্ষণ, চারটি খুন, ৮৭টি খুনের চেষ্টা এবং ২১৬টি গুরুতর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিষেক এই পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি’র বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।   একই পরিসংখ্যান সামনে রেখে রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তোপ দাগেন কুণাল ঘোষও। তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বাংলায় এখন স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নেই।   পুলিশ রাজ, গুন্ডা রাজ এবং জঙ্গলের রাজত্ব চলছে বলেও তীব্র আক্রমণ করেন কুণাল। তার প্রশ্ন, এতগুলো গুরুতর অপরাধের পরও রাজ্যপাল কী করছেন, কেন্দ্রের নজর কোথায় এবং এই পরিসংখ্যান কি তাদের কাছে পৌঁছেছে?   পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক চাপ এবং থানায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে সমস্যার অভিযোগও করেন তিনি।   ওদিকে, কেবল সরকারি পরিসংখ্যান নয়, অভিযোগ নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের হয়ে একাধিক মামলা লড়া আইনজীবী আরাক নাগ ৷   তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চায় না ৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগও রয়েছে ৷ তার মতে, সব অভিযোগ যদি যথাযথভাবে নথিভুক্ত হলে সরকারি পরিসংখ্যান আরও বাড়তে পারত।   এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আর এন রবির কাছেও প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। দলের দাবি, রাজ্যে অপরাধের পরিসংখ্যান বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে সরকারের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।   তবে তৃণমূলের অভিযোগ খারিজ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের বঙ্গের মুখ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, এই পরিসংখ্যান মূলত বিজেপি সরকারের আমলে অভিযোগ গ্রহণ এবং নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতার ফল।   তার কথায়, আগের সরকারের সময়ে যে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত হত না, বর্তমান সরকার সেগুলো গ্রহণ করে রেকর্ডে রাখছে এবং সে কারণেই সংখ্যাগুলো সামনে আসছে। তার দাবি, অভিযোগ নথিভুক্ত করে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই সুশাসনের অংশ।

৩ ঘন্টা আগে
নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ পদক্ষেপ নেয়। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্সের।   যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান। তিনি বলেছেন, এ পদক্ষেপ আদালতের কার্যক্রম থামাতে পারবে না।   ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে থাকে। আদালতটির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। এর আগে আদালতটির কয়েকজন কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এবার আদালতটিকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।’   তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। আমরা এই নিয়ন্ত্রণহীন আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করব, তাদের সম্পদের প্রবাহ বন্ধ করব এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেব।’   রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি খান বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাতেই হবে।’   তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দুর্বল করাই এসব নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য। তবে আমাদের সব পরিস্থিতি, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কাজ অব্যাহত থাকবে।’   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় আইসিসির সমালোচনা করে আসছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতটির একটি তদন্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই তদন্ত অবশ্য পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।   আইসিসির সদস্যরাষ্ট্র ১২৫টি। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর সব সদস্য রয়েছে। আদালতটির প্রতি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও জোরালো সমর্থন রয়েছে। নেদারল্যান্ডসে আদালতটির সদর দপ্তর অবস্থিত।   শুক্রবার শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগের বিচারক ছিলেন। পুরস্কার ঘোষণার বিবৃতিতে নোবেল কমিটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে তারা।   কমিটি বলেছে, ‘এমন একটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা, যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পান, শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য তা অপরিহার্য।’   রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে আইসিসি ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সুযোগ দেওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপে দেরি করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তাদের হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে বন্ধ করে দেব। আমরা আশা করি, আমাদের মিত্ররা; যাদের অনেকেই আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের ওপর নির্ভরশীল; আদালতটিকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগের সমাধানে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রচেষ্টা সফল না হলে আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’   তবে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ অনুমতিপত্র জারি করে। এর মাধ্যমে আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতটির হেফাজতে থাকা বন্দিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেন চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র : রয়টার্স

৪ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
মানবপাচারের উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোতে পাড়ি ৪১ হাজার বাংলাদেশির

বাংলাদেশ সরকার মানবপাচার দূরীকরণের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি, তবে তা অর্জনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসন্স (টিআইপি) রিপোর্ট’- এ তথ্য উঠে এসেছে।   রিপোর্টে বলা হয়, মানবপাচার দূরীকরণ নিয়ে বিগত মূল্যায়নের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সরকার সার্বিকভাবে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। তারপরও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকার ‘টিয়ার ২’ বা দ্বিতীয় স্তরেই রয়ে গেছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মানবপাচারের সর্বোচ্চ ঝুঁকি থাকা ‘টিয়ার ৩’ বা তৃতীয় ধাপে অবস্থান করা ১০ দেশে গত ২১ মাসে ৪১ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ‘টিয়ার ৩’ ভুক্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ওই দশ দেশ হল- কম্বোডিয়া, রাশিয়া, লাওস, কঙ্গো, বেলারুশ, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, লিবিয়া ও ইয়েমেন।   জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দশ দেশে মোট ৪১ হাজার ২৩১ জন বাংলাদেশি কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন।   আন্তর্জাতিকভাবে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অগ্রগতি মূল্যায়নে টিআইপি রিপোর্টকে অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মূল্যায়নে ‘টিয়ার ৩’ ক্যাটাগরি বলতে বোঝায়- সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার মানবপাচার নির্মূলে ন্যূনতম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করছে না এবং সে বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপও নিচ্ছে না।   এমন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমবাজারে এত বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানোর খবরে তাদের নিরাপত্তা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সরকারের ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।   তালিকার শীর্ষে কম্বোডিয়া ও রাশিয়া   বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, গত ২১ মাসে বাংলাদেশ থেকে টিআইপি রিপোর্ট অনুযায়ী ‘টিয়ার ৩’ এ থাকা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছে কম্বোডিয়ায় ১৫ হাজার ৯৬৩ জন। এছাড়া রাশিয়ায় ৭ হাজার ৭৫২ জন এবং লাওসে ৭ হাজার ৫৩২ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।   অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কঙ্গোয় ৫ হাজার ৪৩৮ জন, বেলারুশে ৩ হাজার ৪৮৪ জন, সুদানে ৪২১ জন, সোমালিয়ায় ৩৪৩ জন, লিবিয়ায় ১৭২ জন, দক্ষিণ সুদানে ৬৯ জন এবং ইয়েমেনে ৫৭ জন বাংলাদেশি গেছেন।   কী আছে প্রতিবেদনে   টিআইপি প্রতিবেদন অনুযায়ী ‘টিয়ার-২’-তে থাকা বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, মানবপাচার দূরীকরণ নিয়ে বিগত মূল্যায়নের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সরকার সার্বিকভাবে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। গৃহীত এসব প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে মানবপাচার রোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি করা, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বাড়ানো, মানবপাচার অপরাধ ও ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ নির্দেশিকা হালনাগাদ করা এবং সুরক্ষা সেবাগুলোতে স্থানান্তরের সমন্বয় ও গতি আনতে ডিজিটাল এনআরএম পাইলটিং করা।   এছাড়া সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের পাচারের ঝুঁকি কমাতে তাদের সুরক্ষাও জোরদার করেছে। তবে বেশ কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে সরকার ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার আগের তুলনায় কম সংখ্যক পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং অভ্যন্তরীণ পাচার অপরাধ দমনে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি, যা ব্যাপক আকারেই রয়ে গেছে।   আবার সরকার পাচারের শিকার কম সংখ্যক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করতে পেরেছে। অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন প্রচেষ্টাও; বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া সরকার শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়ার অনুমতি বজায় রেখেছে, যা অনেক অভিবাসী শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত করে পাচারের চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।   প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গন্তব্য দেশগুলোতে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং দূতাবাসের কূটনৈতিক সুরক্ষার পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।   পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাব চিহ্নিত করা হয়েছে।   সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকে অবৈধ নিয়োগ ফি বাতিল করা, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর তদারকি চালানো, ভুক্তভোগীদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করে পর্যাপ্ত আইনি ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া এবং মানবপাচার ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন   সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলোতে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আটকে রেখে সাইবার অপরাধে বাধ্য করা, নির্যাতন ও মানবপাচারের একাধিক ঘটনা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   অন্যদিকে রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কর্মী নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মত ঘটনাও ঘটেছে।   এর পরও কেন আন্তর্জাতিক সতর্কতা উপেক্ষা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই এসব দেশে কর্মী পাঠানো অব্যাহত রাখা হল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যক্তিপর্যায়ে শিক্ষার্থী বা পর্যটক ভিসায় গমনে সরকারের সরাসরি নজরদারি কঠিন হলেও, বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দায় পুরোপুরি সরকারের। গুণগত সুরক্ষার চেয়ে কেবল সংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতার কারণেই এমন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।   “কম্বোডিয়া বা রাশিয়ার মত দেশে ভুক্তভোগী কর্মীরা প্রতারিত হলে বা অঙ্গহানির মত ঘটনার শিকার হলেও কর্তৃপক্ষ দায় রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ বিতর্কিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া ও তাদের কার্যক্রম নজরদারির মূল দায়িত্ব বিএমইটির।”   তথ্য যাচাইয়ে গাফেলতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, “যেসব দেশে বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাস নেই, সেসব দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি অনলাইন বা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাধ্যমে যাচাই না করে ঢালাওভাবে কর্মী ছাড়পত্র দেওয়া স্পষ্টত সরকারি গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়।”   এ বিষয়ে জানতে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও বিএমইটি মহাপরিচালক জামিল আহমেদকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।   ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্রেফ কর্মী পাঠানোর পরিসংখ্যান বৃদ্ধিই রাষ্ট্রের সাফল্য হতে পারে না। একই সঙ্গে তাদের কর্ম পরিবেশ, চুক্তি অনুযায়ী বেতন নিশ্চিত হওয়া এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার হিসাব রাখাও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব।”   ঝুঁকিপূর্ণ এসব দেশে কর্মী পাঠানোর পর তাদের বর্তমান অবস্থা তদারকি করতে রাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে মূলত ৫টি প্রধান বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন তিনি। এগুলো হল-   পূর্ববর্তী ঝুঁকি মূল্যায়ন: এসব দেশে কর্মী পাঠানোর আগে মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দেশভিত্তিক সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না?   নিয়োগকর্তার সত্যতা: ভুয়া চাকরির প্রস্তাব ও প্রতারণা বন্ধে গন্তব্য দেশগুলোর নিয়োগকর্তা ও কর্মপরিবেশ যাচাইয়ের কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?   কর্মীদের হালনাগাদ তথ্য: পাঠানো ৪১ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে কতজন চুক্তিমত কাজ পাচ্ছেন, কতজন শোষণ বা পাচারের শিকার হয়েছেন এবং কতজনের সঠিক তথ্য বর্তমানে সরকারের কাছে আছে?   জরুরি সুরক্ষা ও উদ্ধার: বিপদে পড়া কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কী ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে?   নীতিগত পরিবর্তন: কম্বোডিয়া ও রাশিয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহি এবং তদারকি ব্যবস্থায় কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না?

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৯, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে বাকি আরও পরীক্ষা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিললেও উৎপাদনে যাওয়ার আগে আরও কয়েকটি পরীক্ষা সারতে হবে।   এসব পরীক্ষায় সফল হলে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে চুল্লির শক্তি। এরপর পর্যাপ্ত বাষ্প তৈরি করে টারবাইন চালানোর মাধ্যমে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন।   বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে তিন শতাধিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি ভরার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছে।   বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটকে বি-১ থেকে বি-২ পর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এ অনুমোদনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পরবর্তী প্রস্তুতি নিতে পারবে।   তবে অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এখনই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া নয়।   এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রথমে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করতে হবে। এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হবে।   পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর আরও কয়েকটি পরীক্ষা করতে হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ পর্যায়ে যাবে। এ পর্যায়ে চুল্লির শক্তি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।   জাহেদুল হাছান বলেন, “আমরা পাওয়ার রেজ করব স্টেপ বাই স্টেপ। পাওয়ার রেজ করতে করতে যখন আমরা ৩৭ শতাংশ পাওয়ারে যাব, তখন আমরা স্টিম যেটা তৈরি করতে পারব, সেই স্টিম দিয়ে আমরা টারবাইন ঘোরাতে পারব। আর টারবাইন ঘোরাতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।   তবে চুল্লির শক্তি বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করলেও তা সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে না। এজন্য গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগ স্থাপন করতে হবে।   ‘আট সপ্তাহের কাজ দশ সপ্তাহেও গড়াতে পারে’   জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ কবে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাতে চাননি এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।   তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিরাপত্তার কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয় বলে কোনো পরীক্ষা শেষ করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।   কোনো পরীক্ষা দুই দিনে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও আড়াই থেকে তিন দিন লাগতে পারে। আবার দশ দিনের কাজ আট দিনেও শেষ হতে পারে।   এভাবে বিভিন্ন পরীক্ষায় বাড়তি সময় লাগলে পুরো প্রক্রিয়া ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।   জাহেদুল হাছান বলেন, “বিষয় হলো এরকম যে আপনি দিতেছেন ৮ সপ্তাহের কাজ, ১০ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, দুই সপ্তাহ বেশি লাগতে পারে।”   বিশ্বের অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও চালুর অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে রূপপুরের বিলম্বকে যৌক্তিক মনে করছেন তিনি।   তবে এই বিলম্বের অর্থ দুই মাসের কাজ শেষ করতে দুই বছর লেগে যাওয়া নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   জাহেদুল হাছান বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনে যাব।”   গ্রিড সিনক্রোনাইজেশন হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া।   তার মতে, পারমাণবিক চুল্লিতে প্রথম নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু হওয়া থেকে গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে রূপপুরের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করবে এই সময়।   ত্রুটি ধরা পড়ায় ‘স্বস্তি’ বায়রার   বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেছেন, প্রথম ইউনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগের সময়সূচি রক্ষা করা যায়নি।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, প্রথম ইউনিট এতদিন বি-১ পর্যায়ে ছিল। ওই পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের ভেতরে থাকা কয়েকটি ভালভ ঠিকমতো কাজ করছিল না।   সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা আসেন। তাদের কাজের পর বুধবার বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।   এরপর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আবেদন করে।   মাহমুদুল হাসান জানান, দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাদের প্রতিবেদন এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষের জমা দেওয়া পরীক্ষার ফল যাচাই করে বি-২ পর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   বায়রা চেয়ারম্যান বলেন, “বি-১-এ ছিল, বি-২-তে যাবে। এই পারমিশনটা দেওয়া হয়েছে।”   তিনি জানান, বি-২ পর্যায়েও পরীক্ষা চলবে। এরপর ‘সি’ ও ‘ডি’ পর্যায়ে যেতে আলাদা অনুমোদন নিতে হবে।   আগের সময়সূচি রক্ষা করতে না পারার বিষয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন, “তারিখ তো নির্ধারণ করেছিলাম এবং আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ও বলেছিলেন।”   এরপর যন্ত্রের ত্রুটির কারণে সেই সময়সূচি রক্ষা করা যায়নি বলে জানান তিনি।   নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ভালভের ত্রুটি ধরা পড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে বায়রা চেয়ারম্যান বলেন, “ভালভটার যে ইস্যু ধরা পড়ছে, এটা তো আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া যে ধরা পড়ে গেছে এবং সেটা ওভারকাম করা হয়েছে। আল্লাহর কাছে হাজার হাজার কোটি কোটি শুকরিয়া।”   পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মাণ করা হয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

ছবি: সংগৃহীত
তিন বস্তায় ৪ কোটি টাকা, গুলি করে দুই বস্তা লুট

নরসিংদী থেকে প্রাইভেটকারে টাকা নিয়ে আসার পথে গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশ কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দুই বস্তা টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গুলিতে বিকাশের এক ক্যাশ ম্যানেজার গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া গাড়িতে থাকা আরও দুই কর্মকর্তা ও চালককে বেধড়ক মারধর করেছে ছিনতাইকারীরা।   তবে বিপুল পরিমাণ টাকা বহনের সময় পুলিশকে জানানো হয়নি বা কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।   গুলিবিদ্ধ ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলকে (৩৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর বনবেষ্টিত এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।   গুলিবিদ্ধ হিমেলের বাড়ি শ্রীপুর পৌর এলাকার বেরাইদেরচালা গ্রামে। তিনি মাওনা অঞ্চলের বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।   ঘটনায় আহত অন্যরা হলেন—ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম মো. ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।   হামলার শিকার বিকাশকর্মীরা জানান, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে দিনভর প্রায় চার কোটি টাকা সংগ্রহ করেন তারা। এরপর তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ওই টাকা ভরে একটি প্রাইভেটকারে তিন কর্মকর্তা নরসিংদী থেকে মাওনার উদ্দেশে রওনা হন। গাড়িটি শ্রীপুর-গোসিংগা সড়কের কর্ণপুর এলাকার নির্জন ও বনঘেরা সড়কে পৌঁছলে ১২ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।   মুহূর্তের মধ্যে দুর্বৃত্তরা গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নামিয়ে অপর দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককে রড ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা গাড়ির পেছনের ডালা খুলে টাকাভর্তি তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি বস্তা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ছিনিয়ে নেওয়া দুই বস্তায় টাকার পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি হতে পারে।   পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত চারজনকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হিমেলের অবস্থার অবনতি হলে জরুরিভিত্তিতে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।   শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিক সরকার জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় চারজন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির গভীর ক্ষত রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   এদিকে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ পরিবহণের সময় তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা পুলিশি নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না বলে জানা গেছে।   এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, প্রায় চার কোটি টাকার মতো বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে বিকাশের পক্ষ থেকে পুলিশের কোনো সহায়তা চাওয়া হয়নি। নরসিংদী, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর এলাকার ওপর দিয়ে টাকাগুলো নিয়ে আসা হলেও এই তিন থানার কোনোটিকেই বিষয়টি জানানো হয়নি, এমনকি ৯৯৯ নম্বরেও ফোন দেওয়া হয়নি।   তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার শিকার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, গাড়িতে থাকা তিন বস্তা টাকার মধ্যে দুর্বৃত্তরা দুটি বস্তা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, যাতে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও টাকা উদ্ধারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে ২৪ ঘণ্টা বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ ও কর্তব্য পথ এলাকার চার কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত দশটা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা চলবে শনিবার রাত দশটা পর্যন্ত।   পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। এর ফলে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান ও খান মার্কেটের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এর আগে জুলাই মাসেও একটি আন্দোলনের সময় একইভাবে ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল।   তবে জনজীবন এভাবে স্তব্ধ করে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ মন্তব্য করেছে যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়ম করা বা নিয়ন্ত্রণ করা ঠিক আছে, কিন্তু তাই বলে সবকিছু পুরোপুরি বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা যায় না। তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক সবারই চলাফেরা ও মৌলিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই আপত্তির পর সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।   উল্লেখ্য, এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লির প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে রাজধানীতে আসা ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল।   সূত্র: এনডিটিভি।

ছবি: সংগৃহীত
আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আশুলিয়ার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

সাভারের আশুলিয়ায় ফায়ার সার্ভিসের আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় জুট ও তুলার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে, আগুন ছড়িয়ে পড়ায় গোডাউনের পাশে থাকা কয়েকটি বাড়ির কক্ষ আগুনে পুড়ে গেছে।    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১২টা ২০ মিনিটে দিকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।    তবে, অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার রাতে জামগড়া এলাকার ওই তুলার গোডাউনে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গোডাউনে থাকা তুলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এরপর ওই গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের জুটের গোডাউন ও বাসাবাড়িতে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।   এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, অগ্নিকাণ্ডে দশটি গোডাউন আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে গোডাউনের পাশের বাসাবাড়িতে আগুন লাগে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা। 

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে ২,৪৫৪ ধর্ষণের ঘটনা, দাবি তৃণমূলের
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১০, ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের পাঁচ মাসের শাসনে ২,৪৫৪টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে বলে দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস।   এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবিও জোরালো হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, পাঁচ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬টি করে ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।   বুধবার বিধানসভার বাইরে সংবাদ সম্মেলন করে এই পরিসংখ্যান সামনে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং তার আইনজীবী অর্ক নাগ।   তথ্য জানার অধিকার আইনে উঠে আসা 'স্টেট ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো'র (এসসিআরবি) পরিসংখ্যান সামনে রেখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তারা ৷   তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস সময়ে রাজ্যে ২,৪৫৪টি ধর্ষণ মামলা, ৬০০টি খুন, ১৩,১১৪টি খুনের চেষ্টা এবং ৩২,৩৪১টি গুরুতর আঘাতের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।   দলের দাবি, এই পরিসংখ্যান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। সে কারণেই বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।   সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক মাধ্যমে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।   তার দাবি, হিসাব করলে দেখা যায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬টি ধর্ষণ, চারটি খুন, ৮৭টি খুনের চেষ্টা এবং ২১৬টি গুরুতর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিষেক এই পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি’র বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।   একই পরিসংখ্যান সামনে রেখে রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তোপ দাগেন কুণাল ঘোষও। তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বাংলায় এখন স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নেই।   পুলিশ রাজ, গুন্ডা রাজ এবং জঙ্গলের রাজত্ব চলছে বলেও তীব্র আক্রমণ করেন কুণাল। তার প্রশ্ন, এতগুলো গুরুতর অপরাধের পরও রাজ্যপাল কী করছেন, কেন্দ্রের নজর কোথায় এবং এই পরিসংখ্যান কি তাদের কাছে পৌঁছেছে?   পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক চাপ এবং থানায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে সমস্যার অভিযোগও করেন তিনি।   ওদিকে, কেবল সরকারি পরিসংখ্যান নয়, অভিযোগ নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের হয়ে একাধিক মামলা লড়া আইনজীবী আরাক নাগ ৷   তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চায় না ৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগও রয়েছে ৷ তার মতে, সব অভিযোগ যদি যথাযথভাবে নথিভুক্ত হলে সরকারি পরিসংখ্যান আরও বাড়তে পারত।   এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আর এন রবির কাছেও প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। দলের দাবি, রাজ্যে অপরাধের পরিসংখ্যান বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে সরকারের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।   তবে তৃণমূলের অভিযোগ খারিজ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের বঙ্গের মুখ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, এই পরিসংখ্যান মূলত বিজেপি সরকারের আমলে অভিযোগ গ্রহণ এবং নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতার ফল।   তার কথায়, আগের সরকারের সময়ে যে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত হত না, বর্তমান সরকার সেগুলো গ্রহণ করে রেকর্ডে রাখছে এবং সে কারণেই সংখ্যাগুলো সামনে আসছে। তার দাবি, অভিযোগ নথিভুক্ত করে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই সুশাসনের অংশ।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বাইরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১০, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ পদক্ষেপ নেয়। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্সের।   যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান। তিনি বলেছেন, এ পদক্ষেপ আদালতের কার্যক্রম থামাতে পারবে না।   ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে থাকে। আদালতটির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। এর আগে আদালতটির কয়েকজন কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এবার আদালতটিকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।’   তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। আমরা এই নিয়ন্ত্রণহীন আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করব, তাদের সম্পদের প্রবাহ বন্ধ করব এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেব।’   রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি খান বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাতেই হবে।’   তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দুর্বল করাই এসব নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য। তবে আমাদের সব পরিস্থিতি, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কাজ অব্যাহত থাকবে।’   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় আইসিসির সমালোচনা করে আসছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতটির একটি তদন্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই তদন্ত অবশ্য পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।   আইসিসির সদস্যরাষ্ট্র ১২৫টি। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর সব সদস্য রয়েছে। আদালতটির প্রতি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও জোরালো সমর্থন রয়েছে। নেদারল্যান্ডসে আদালতটির সদর দপ্তর অবস্থিত।   শুক্রবার শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগের বিচারক ছিলেন। পুরস্কার ঘোষণার বিবৃতিতে নোবেল কমিটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে তারা।   কমিটি বলেছে, ‘এমন একটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা, যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পান, শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য তা অপরিহার্য।’   রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে আইসিসি ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সুযোগ দেওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপে দেরি করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তাদের হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে বন্ধ করে দেব। আমরা আশা করি, আমাদের মিত্ররা; যাদের অনেকেই আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের ওপর নির্ভরশীল; আদালতটিকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগের সমাধানে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রচেষ্টা সফল না হলে আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’   তবে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ অনুমতিপত্র জারি করে। এর মাধ্যমে আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতটির হেফাজতে থাকা বন্দিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেন চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র : রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
ডিজেলের দাম কমানো নিয়ে বড় ঘোষণার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৯, ২০২৬

ডিজেলের চড়া দাম নিয়ে খুব দ্রুতই একটি বড় ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমানে প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে থাকা ডিজেলের দাম খুব শিগগিরই হুড়মুড় করে অনেক কমে যাবে।   তিনি আরও জানান, ইরান যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তার ব্যবস্থা তারা করেছেন। খুব দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে এবং এর ফলে জ্বালানির দামও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।    উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।   সূত্র: আল-জাজিরা।

ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোর কারাগারে সংঘর্ষ, নিহত ১০ ও আহত ১৬
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৯, ২০২৬

মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনালোয়া রাজ্যের মাজাতলান শহরের একটি কারাগারে সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) রাজ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।    সিনালোয়া রাজ্যের জননিরাপত্তা সচিবালয় জানায়, এল কাস্তিয়ো পেনিটেনশিয়ারি সেন্টারে সংঘর্ষে নয়জন বন্দি ও পরিবারের এক সদস্য নিহত হয়েছেন।   রাজ্যের জননিরাপত্তা সচিব সিনুহে তেলেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানান, নিহত ওই দর্শনার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। আহত ১৬ বন্দিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সচিবালয়।   কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল কারাগারে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে কারাগারটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।   তেলেস জানান, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মীরা। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কারাগারে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কারাগারের অন্য বন্দিরা নিরাপদে রয়েছেন।   সিনালোয়া রাজ্যটি মেক্সিকোর শক্তিশালী মাদকচক্র সিনালোয়া কার্টেলের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মেক্সিকোর যে ছয়টি রাজ্যে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, সিনালোয়া তার একটি।   তবে কারাগারের এই সংঘর্ষের সঙ্গে মাদকচক্রগুলোর চলমান বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা কিছু জানাননি।   সূত্র : আল জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব