সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ছক্কার ঝড়ে পাকিস্তানকে বাঁচালেন রাজাউল্লাহ, ম্যাচ গড়াল চতুর্থ দিনে

পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট পড়ল যখন, তারা ইনিংস হার এড়াতে পারবে কি না বা ইংল্যান্ড কত দ্রুত জিতে যাবে, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ তখন বেশি। তিন দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার মঞ্চ তখনও প্রস্তুত। কিন্তু পাল্টে গেল সবার ধারণা। অভিষেকে পাল্টা আক্রমণে ছক্কার ঝড়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখালেন রাজাউল্লাহ। ইনিংস হারের শঙ্কা এড়িয়ে ম্যাচ চতুর্থ দিনে টেনে নিল পাকিস্তান।   সিরিজের শুরু থেকে ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান এজবাস্টন টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে উপহার দিল দারুণ ব্যাটিং। সিরিজে আগের পাঁচ ইনিংসেই দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়া দল এবার করল ৪৪৯ রান।   আজান আওয়াইসের ৫৯, শান মাসুদের ৯৫ ও বাবর আজমের ৭৬ রানের পরও একটা সময় পাকিস্তানের সাড়ে তিনশ হওয়া নিয়েই ছিল প্রবল শঙ্কা। রাজাউল্লাহ ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন যখন, দলের রান তখন ৭ উইকেটে ৩১২, ইনিংস হার এড়াতে তখনও প্রয়োজন ৮ রান, অষ্টম উইকেট পতনের সময় যা দাঁড়ায় ২ রানে।   সেখান থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চমকপ্রদ প্রদর্শনীতে নবম উইকেটে মোহাম্মাদ আব্বাসের সঙ্গে ১২৩ বলে ১২১ রানের জুটি গড়েন রাজাউল্লাহ। যেখানে তার একার অবদানই ৭০।   পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৬৭ বলে টেস্ট ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন আব্বাস।   ৬৩ বলে ৮১ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন ২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহ। চারটি চারের সঙ্গে তিনি ছক্কা মারেন ৯টি, টেস্ট অভিষেকে কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড এটি।   ২০০৮ সালে অভিষেকে ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন ইংল্যান্ডের বর্তমান পেস বোলিং পরামর্শক ও নিউ জিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদি। তার পাশে বসলেন রাজাউল্লাহ।   প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হারের পর সাত ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে পাকিস্তান যে সাত জনকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যায়, তাদের একজন রাজাউল্লাহ।   তার বীরত্বেই ইংল্যান্ডকে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে চতুর্থ দিন রান তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নামবে জো রুটের দল।   উইকেটে পেসারদের জন্য কিছুটা মুভমেন্ট থাকলেও, ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ। দ্বিতীয় দিন শূন্য রানে ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ৫২ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন আজান ও মাসুদ। তৃতীয় দিন প্রথম ঘন্টায়ও ভাঙা যায়নি তাদের জুটি। সুযোগ যদিও এসেছিল, কিন্তু জশ টাংয়ের বলে মাসুদের ক্যাচ ছাড়েন বদলি ফিল্ডার থিও ওয়াইলি।   ৪০ রানে জীবন পেয়ে ৮১ বলে ফিফটি করেন মাসুদ। পানি পানের বিরতির পর আজান ফিফটি করেন ৭৮ বলে।   জমে যাওয়া জুটি ভাঙতে পার্ট-টাইম স্পিনার ড্যান লরেন্সকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক রুট। কাজে লাগে তার কৌশল। অফ স্পিনারের দ্বিতীয় বলেই লেগ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার আজান। যদিও ইংল্যান্ড উইকেটটি পায় রিভিউ নিয়ে।   ১২৫ রানে থামে জুটি। ১০ চারে ৮৪ বলে ৫৯ রান করেন আজান।   সিরিজে নিজের আগের তিন ইনিংসে দুই অঙ্কে যেতে ব্যর্থ বাবর এবার ইতিবাচক শুরু করেন। লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। ৮৩ রান নিয়ে বিরতিতে যান মাসুদ।   বিরতি থেকে ফিরে সেঞ্চুরির পথেই ছুটছিলেন তিনি। কিন্তু গাস অ্যাটকিনসনের বলে গালিতে লরেন্সের এক হাতে নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরতে হয় তাকে মাইলফলক থেকে ৫ রান দূরে থাকতে। ১২ চারে গড়া তার ১৪৮ বলের ইনিংসটি।   বাবর ও মাসুদের জুটিতে আসে ৮৯ রান। বাবর এরপর আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়েন সাউদ শাকিলকে নিয়ে। ৭৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। দেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে দুই হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।   দীর্ঘ সেঞ্চুরি খরা কাটানোর সম্ভাবনা জাগিয়ে বাজে শটে আউট হন বাবর। টাংয়ের লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট ডেলিভারিতে শেষ মুহূর্তে ব্যাট চালান তিনি। ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নেন কিপার জর্ডান কক্স।   টেস্ট ক্রিকেটে বাবরের সেঞ্চুরি খরা পৌঁছে গেল টানা ৪০ ইনিংসে। সবশেষ তিন অঙ্কের দেখা পান তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে, করাচিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।   জফ্রা আর্চারের শর্ট ডেলিভারিতে শাকিল বিদায় নেন ২৯ রান করে। নিজের পরপর দুই ওভারে গাজি ঘরি ও মোহাম্মাদ ইমরানকে কিপারের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন অ্যাটকিনসন।   তখন ৩১৮ রানে ৮ উইকেট হারানো পাকিস্তান সাড়ে তিনশর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। কিন্তু এরপরই শুরু হয় রাজাউল্লাহ ‘শো।’   পরের ওভারে টাংকে ছক্কা মেরে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামা নিশ্চিত রাজাউল্লাহ। দুই ওভার পর অ্যাটকিনসের চার বলের মধ্যে আরও তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি।   পরে অলি রবিনসনকে ছক্কায় ওড়ান আব্বাস। আর্চারকে পরপর দুটি ছক্কার পথে রাজাউল্লাহ ফিফটি করেন ৪৩ বলে। চলতেই থাকে তার সেই ঝড়।   কিছুতেই জুটি ভাঙতে পারছিল না ইংল্যান্ড। অবশেষ মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন টাং, পয়েন্টে ধরা পড়েন আব্বাস।   পরের ওভারে লরেন্সের বলে নবম ছক্কা মেরে রেকর্ড স্পর্শ করেন রাজাউল্লাহ। এক বল পর এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে তাকে আউট দেন আম্পায়ার। এ যাত্রায় রিভিউ নিয়ে বাঁচলেও, পরের বলেই বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পড হয়ে ফেরেন তিনি। দিনের খেলাও শেষ সেখানেই।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৩৩ ইংল‍্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৫৩ পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৯৬.৪ ওভারে ৪৪৯ (আগের দিন ৫২/২) (আজান ৫৯, মাসুদ ৯৫, বাবর ৭৬, শাকিল ২৯, ঘরি ১৬, ইমরান ৪, রাজাউল্লাহ ৮১, আব্বাস ৪২, আলি ৪*; রবিনসন ২৩-৮-৫৪-২, আর্চার ২২-১-১২০-১, অ্যাটকিনসন ২৪-৩-১০৯-৩, টাং ২২-১-১০৬-২, লরেন্স ৪.৪-০-১৭-২, ব্রুক ১-০-৪-০)

৩ ঘন্টা আগে
বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারই এখন এলএনজি কিনতে মরিয়া

ইরান যুদ্ধে নিজেদের গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে কাতার। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানিকারক দেশ এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনার আলোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন– উভয় প্রকল্প থেকে এলএনজি কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন আলোচনা ও দরকষাকষি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেল, কাতার পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত নিজেদের পোর্টফোলিও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে করা অঙ্গীকার রক্ষায় এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করত কাতার। তবে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।  যুদ্ধ শুরুর আগে কাতারের পরিকল্পনা ছিল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করা। ২০৩০ সালের মধ্যে রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার একটি মেগা প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছিল দোহা। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলার জন্য সেই সময় ইরানকে দায়ী করা হয়েছিল। কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে সরবরাহ নিশ্চিতের কৌশল  যেহেতু চলমান যুদ্ধ শিগগিরই বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশলে হাঁটছে কাতার। দোহা এখন তাদের এলএনজি বাণিজ্য শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গোল্ডেন পাস এলএনজি টার্মিনালের মালিকানায় কাতারের অংশীদারিত্ব রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মার্কিন গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ তাদের হাতে ছিল। গত এপ্রিলে টেক্সাসের এই টার্মিনালটি থেকে বাণিজ্যিক রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি কাতারএনার্জির বাণিজ্যিক শাখা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এলএনজি বাজারজাত ও পরিবহনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এতদিন স্বল্পমেয়াদি স্পট মার্কেটের চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত গ্যাস সংগ্রহ করত কাতার। তবে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে গ্রাহক ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তির দিকেই এগোচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ।

৫ ঘন্টা আগে
ডলার ইস্যুতে ব্রিকসের প্রস্তাবে কি সায় দেবে ভারত?

ভারতের আয়োজনে ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে একটি স্পষ্ট বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে স্বাগতিক নয়াদিল্লি। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার বর্জনের যে কোনও বড় উদ্যোগে সায় দিচ্ছে না ভারত। চীন ও রাশিয়া যখন কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে ডলারের ব্যবহার বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা বিষয়টিকে নিজস্ব লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছেন, তখন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত বিষয়টিকে শুরুতেই না করে দিচ্ছে।   তবে ডলারকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে নতুন কোনও মুদ্রা চালু না করলেও ভারত এক নতুন কারিগরি উদ্যোগের প্রস্তাব রাখছে। ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) নিজেদের মধ্যে যুক্ত করার মাধ্যমে বাণিজ্য ও পর্যটন সংক্রান্ত লেনদেন সহজ করার কথা ভাবছে তারা। এটি কোনও মুদ্রার বৈপ্লবিক পরিবর্তন নয়, বরং পেমেন্ট ব্যবস্থার একটি আধুনিকায়ন।   সম্প্রতি ওয়াশিংটনে কার্নেগি এনডাওমেন্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ডলারকে লক্ষ্যবস্তু বানানো আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা কৌশলগত নীতির অংশ নয়। তিনি জানান, ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে ভারতের কিছু উদ্বেগ থাকলেও এটিকে প্রতিস্থাপনের কোনও প্রচারণা ভারত চালাচ্ছে না। ২০২৪ সাল থেকে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও আমিরাত জোটে যোগ দিলেও ভারত তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।   গ্রান্ট থর্নটন ভারতের পার্টনার এবং ইকোনমিক অ্যাডভাইজরি লিড ঋষি শাহ বলেন, ঐতিহ্যগত অর্থে রাজনৈতিক ও আর্থিক অভিন্নতা ছাড়া কোনও একক মুদ্রা ব্যবস্থা ব্রিকসের মতো বৈচিত্র্যময় একটি জোটের জন্য অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনও দিক দিয়েই যুক্তিযুক্ত নয়।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডায় সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) সংযোগের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব রাখার সুপারিশ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে এবং ব্রিকস ও কোয়াড-এর সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে ভারত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সিবিডিসি প্রস্তাবটিকে কেবল লেনদেনের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।   গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টিভ অ্যাডভাইজরি এলএলপির প্রতিষ্ঠাতা সোহম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চলতি ব্রিকস পেমেন্ট সংহতকরণের আলোচনাকে প্রায়ই খুব সংকীর্ণভাবে ডি-ডলারাইজেশনের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হয়। প্রকৃত সুযোগটি রয়েছে লেনদেন খরচ, নিষ্পত্তির বিলম্ব এবং সীমিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট চ্যানেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর মধ্যে।   তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ব্রিকসের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত জোটের দেশগুলো থেকে যতটুকু বিক্রি করে তারচেয়ে অনেক বেশি কেনে। তাই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি থাকা অবস্থায় ডলারের পরিবর্তে রুপি বা ইউয়ানের ব্যবহারে সমস্যা মেটে না, বরং বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা একই থেকে যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মূলত এক বহুমুখী পদক্ষেপ বজায় রাখছে যেখানে দক্ষতার সুযোগ রয়েছে সেখানে ডলার ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া, বাণিজ্যপ্রবাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে স্থানীয় মুদ্রায় নিষ্পত্তি বাড়ানো এবং পাইলটভিত্তিতে সিবিডিসি সংযোগ পরীক্ষা করা। এর মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে বিশ্ববাজারে ডলারকে রাতারাতি সরিয়ে নতুন কোনও ‘ব্রিকস কারেন্সি’ চালু করার ইচ্ছা ভারতের নেই।   সূত্র: এনডিটিভি

৫ ঘন্টা আগে
বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হুথিদের হাতে

ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আজ শুক্রবার লোহিত সাগরের দ্বীপ ময়উন ওরফে পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্যে দিয়ে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি গোষ্ঠী।   পেরিম বা ময়উন দ্বীপটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বীপটির ভৌগলিক অবস্থান বাব এল-মান্দেব প্রণালির একদম মাঝখানে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী বেশ কয়েকটি নৌযান সেই দ্বীপে পৌঁছে দ্বীপটি দখল করে।   একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মানদেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।   ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচলও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।   জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এই প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিবহন করা হয়।   ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা গত সপ্তাহে বাব আল-মানদেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো পরিবার।   ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল–মানদেব প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।   সূত্র : এএফপি

৫ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি
ময়দা-চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে রুটির দাম, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

রিকশা ও রিকশাভ্যান চালক, দিনমজুরদের সকাল, দুপুর কিংবা বিকালের ক্ষুধা মেটাতে চায়ের সঙ্গে বনরুটি বা স্লাইস কেকের মতো বেকারি পণ্যই ভরসা, যার দাম বাড়ার ঘোষণা আসছে এবার।   মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদের পূর্ব পাশের কোণায় ফুটপাতের চা দোকানের মালিক ষাটোর্ধ্ব রহমতউল্লাহ বলেন, চা দিয়া একটা রুটি চুবাইয়া খায় মানুষজন। সেটাও দাম বাড়বো। সাপ্লাইয়ার বলে গেল শনিবার থেকে বাড়তি দেওয়া লাগবো।   তিনি বলেন, “প্রতিটা মিনিমাম পাঁচ টাকার নিচে বাড়াইবো না। বাড়লে ঝামেলা দেখা দিবে। খাওয়ার পর বেশি দাম শুনে কথা কাটাকাটি হইবো। আমাদের কাস্টমার কমে যাইবো।”   চকবাজার এলাকা থেকে বেকারি পণ্য কিনে রায়েরবাজারের পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন রিপন শেখ। বেকারি পণ্যের দাম বাড়বে শুনে তিনিও চিন্তিত।   রায়েরবাজারের বিপরীত পাশে বাগানবাড়ি গলিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কথা হয় তার সঙ্গে।   রিপন বলেন, “আমাদের সীমিত লাভ। দোকানের চাইতে আমরা একটু কম দামে বিক্রি করি। এখন যে দামে বিক্রি করি, মোটামুটি কিছু থাকে।   “বেকারিতে দাম বাড়ালে আমাদেরও দামটা বাড়াতে হবে। তখন জনগণ আমাদের কাছ থেকে খাইতে চাইবে না। যার কারণে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব।”   ভ্রাম্যমাণ এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ২০০ টাকা কেজি বা তার কাছাকাছি দরে ড্রাই কেক, বিস্কুটসহ অন্য বেকারি পণ্য বিক্রি করেন তিনি।   “কেজিতে ২০ টাকাও যদি বাড়ায়, কমসে কম আড়াইশ’ টাকা কেজি বিক্রি করতে হবে আমাদের। আমাদের তো ২০/৩০ টাকা লাভ রাখতে হবে। এটাও যদি না থাকে, সারাদিন ঘাম ঝরাইয়া, এই গাড়ি (ভ্যান) নিয়া হাইটা আমাদের কিছুই থাকবে না।”   বেকারি পণ্য তৈরির কাঁচামালের দাম যেন নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, সরকারের প্রতি সেই আহ্বান রেখে রিপন বলেন, “এই যে আটা, চিনি-এগুলোর দাম বাড়ায়, বেকারির তো কোনো দোষ নাই। সরকার যদি না চাইতো এগুলোর দাম বাড়তো না।”   বান, পাউরুটি, বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের প্রধান কাঁচামালের মধ্যে রয়েছে ময়দা, ভোজ্যতেল, ডালডা ও চিনি। এসব কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের কথা বলছেন এ খাতের ছোট ব্যবসায়ীরা।   রাজধানীর বছিলা এলাকার একটি বেকারির স্বত্বাধিকারী মনির খান বলেন, “খরচ অনেক বাড়ছে। সবকিছু আগের চেয়ে ডবল হয়ে গেছে। ময়দার বস্তা কিনতে হয় ৩২০০ টাকা দরে। দুই মাস আগে কিনেছি ২৪০০ টাকায়।”   দাম বাড়ার পাশাপাশি বিক্রি কমার কথা বলেছেন তিনি। “মানুষ কি করবে। সব কিছুর দাম বাড়ার কারণে বেকারি পণ্যের বেচাকেনাও কমে গেছে। ভাত খাওয়ার পরেই মানুষ অন্য কিছু খাওয়ার চিন্তা করে।”   মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ টাকায়। যা এক বছর আগে ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা।   এক বছরের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।   বাজারে প্রতি ১৮৫ কেজির সয়াবিন তেলের ড্রামের দাম এক বছরের ব্যবধানে ৫ হাজার টাকা বেড়ে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।   ১৬ কেজির এক কার্টন ডালডার দাম ৮০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা।   এছাড়া ইস্টসহ বেকারি পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত অন্য উপকরণের দামও বেড়েছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট। একদিকে কাঁচামালের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানিরও সংকট তৈরি হয়েছে।   পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেক বেকারিকে। তাতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।   এ পরিস্থিতিতে পণ্যের দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে বেকারি পণ্যের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।   শনিবার থেকে নতুন দামে বনরুটি ও বিস্কুট বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।   তবে সব পণ্যে একইভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে না। কম দামের কিছু পণ্যের ওজন কমানো হবে, আর তুলনামূলক বেশি দামের পণ্যের দাম বাড়ানো হবে।   ২০২২ সালের জুনে রুটি, বিস্কুট, কেকসহ নিত্যদিনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। সেটিকে বেকারি পণ্যের দামের ‘ইতিহাসে সর্বোচ্চ’ বৃদ্ধি বলা হয়েছিল।   এবার কত শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হচ্ছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, বড় কোনো মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   তিনি বলেন, “আমরা কোথাও বলিনি ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবো। ব্যবসায়িক বাস্তবতায় সব মালিকরা একত্রিত হয়ে একটু সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”   রাজধানী ঢাকার নারিন্দা এলাকায় কয়েক পুরুষ ধরে বেকারি পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত জালাল ‍উদ্দিনের পরিবার।   তিনি বলেন, ৪০ বা ৫০ টাকা দামের পণ্যের দাম বাড়বে। এগুলোতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। ১২ টাকার কেক হবে ১৫ টাকা।   “আমরা শুধু একটা আইটেমে (বনরুটি) ওজন কমাচ্ছি। এগুলো খেটে খাওয়া মানুষ খায়—তাই দাম ১০ টাকাই রাখছি।   “দাম ঠিক থাকলেও আগে যেখানে ৪০০ গ্রাম ওজনের যে পাউরুটি মিলত, তা কমে ৩২০ থেকে ৩৫০ গ্রামে নেমে আসবে।”   কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে দাম সমন্বয় না করে উপায় নেই দাবি করে জালাল উদ্দিন বলেন, “গত ছয় মাসের ভেতরে ময়দা ২৫শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা হয়ে গেছে। আজকেও তিনশ’ টাকা বস্তায় বেড়েছে। চিনির দাম বেড়েছে। তেলের দাম সরকার ঘোষণা দিয়েই বাড়িয়েছে।”   সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে সাত শতাধিক। এসব বেকারির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়িত বলে দাবি সংগঠনটির।   সংগঠনের দীর্ঘদিনের এই সভাপতি বলেন, কাঁচামালের দাম আরেক দফা বাড়লে আর পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হবে না।   বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। “পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ঠিকমতো উৎপাদন করা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের বসে থাকতে হচ্ছে। ফলে খরচও বাড়ছে।”   বেকারি মালিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বেকারি ভেদে ১০ টাকা দামের গোল বনরুটির ওজন এখন ৪০ গ্রাম, ৫ গ্রাম কমানো হবে। এখন ৪০০ গ্রামের ওজনের পাউরুটির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। দাম ঠিক থাকলে ৪০০ গ্রাম ওজন কমে ৩২০ থেকে ৩৫০ গ্রামে নেমে আসবে। যদি দাম বাড়ানো হয় তাহলে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়বে।   শিয়া মসজিদ এলাকার চা দোকানের রহমতউল্লাহর সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, সেখানে ছিলেন রিকশাচালক আমিন।   তিনি বলছিলেন, কয়েক ট্রিপ রিকশা চালানোর পর কিছু খেতে হয়। চায়ের সঙ্গে বনরুটি বা দুই/এক পিস কেক খেয়ে থাকেন।   একবার খেতে যে খরচ হয়, তা তুলে ধরে আমিন বলেন, “এখনই আসে একবারে ৩০/৪০ টাকা। দাম বাড়ালেই সেটা পড়বে ৫০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়াইলে আমরা যামু কৈ? প্যাডে কিছু না দিলে রিকশাই বা চালামু কেমনে?”   মহাখালী এলাকার একটি চায়ের দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. মানিক বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।   বনরুটি ও কেক তৈরির জন্য দরকারি উপকরণের দামের হিসাব দিয়ে তিনি দাবি করেন, ১০ টাকার একটি গোল বনরুটির ওজন ৫০ গ্রাম। বানাতে খরচ পড়ছে আড়াই টাকা, বেকারি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৫ টাকা। তাদের ৫০ শতাংশ লাভ থাকছে।   মানিক বলেন, “তাহলে দাম বাড়াতে হবে কেন?” তবে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোকে পুরোপুরি অস্বাভাবিক মনে করছেন না কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। এতে যে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে সে কথাও বলেছেন তিনি।   জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক এই মহাপরিচালকের ভাষ্য, বেকারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে ব্যবসা চালিয়ে রাখতে হলে হয় দাম বাড়াতে হবে, নয়তো উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।   “এখন দেখার বিষয় তারা অযৌক্তিকভাবে বাড়াচ্ছে কিনা।”   সফিকুজ্জামানের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। দাম নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে যে যার মতো দাম বাড়াবে, আর তাতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।   দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে তা কমে হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।   তবে বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের মিল নেই বলে মনে করেন সাবেক এই আমলা।   তিনি বলেন, “পণ্যের দাম বাড়ার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। চুরি বন্ধ না করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সবার ওপরে বিলের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।   কিন্তু বিবিএস তথ্য দিয়েছে মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই।”   সাবেক সচিব সফিকুজ্জামান বলেন, “আমি যখন সরকারে ছিলাম, আমি নিজেও বিবিএসের ডেটায় আস্থা রাখতাম না।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান, মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫০০ কর্মী

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে বিশেষ অভিযান শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে ২৪টি দলে ভাগ হয়ে ডিএনসিসির ১ হাজার ৫০০ কর্মী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, উৎসস্থল নির্মূল এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসি জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান শুরু হবে।   ডিএনসিসি জানায়, দিবসটি উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও করণীয় সম্পর্কিত নানা উপকরণ প্রদর্শন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫, বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে বিশেষ সোর্স রিডাকশন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভা নিধন কার্যক্রম চালানো হবে।   কার্যক্রম সফল করতে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়, অঞ্চল-২, ৩ ও ৪ থেকে নির্ধারিত সংখ্যক সুপারভাইজার ও মশক কর্মী সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও অঞ্চল-৫-এর আশপাশের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন।   তিন অঞ্চলের অবশিষ্ট কর্মী এবং অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ৯-সহ অন্যান্য সব অঞ্চলের কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাবেন। এতে চিহ্নিত হটস্পট ও এডিসের প্রজননস্থলগুলোকে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে জনবল মোতায়েন ও অগ্রগতি সরাসরি তদারকি (মনিটর) করবেন।   ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামীকাল শুধু মশক নিধনই নয়-উৎস ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ ও যথাযথ লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে ‘সোর্স রিডাকশন’ কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ছবি: সংগৃহীত
শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

সিলেটের ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজের কারণে নগর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।   একই দিনে গাজীপুরের বেশ কিছু এলাকায় টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কাশিমপুর জোনাল অফিস।    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকসেবার মান বাড়াতে ১১ কেভি ফিডারগুলো ছোট করা এবং লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইন আপগ্রেডেশনের কাজ করা হবে। এ কারণে ওই সময়ে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।   সিলেটের ক্ষেত্রে বিউবো জানিয়েছে, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এলাকাতেও ওই সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।   বিউবো জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হতে পারে। সাময়িক এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ছবি: সংগৃহীত
ডলার ইস্যুতে ব্রিকসের প্রস্তাবে কি সায় দেবে ভারত?

ভারতের আয়োজনে ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে একটি স্পষ্ট বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে স্বাগতিক নয়াদিল্লি। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার বর্জনের যে কোনও বড় উদ্যোগে সায় দিচ্ছে না ভারত। চীন ও রাশিয়া যখন কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে ডলারের ব্যবহার বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা বিষয়টিকে নিজস্ব লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছেন, তখন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত বিষয়টিকে শুরুতেই না করে দিচ্ছে।   তবে ডলারকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে নতুন কোনও মুদ্রা চালু না করলেও ভারত এক নতুন কারিগরি উদ্যোগের প্রস্তাব রাখছে। ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) নিজেদের মধ্যে যুক্ত করার মাধ্যমে বাণিজ্য ও পর্যটন সংক্রান্ত লেনদেন সহজ করার কথা ভাবছে তারা। এটি কোনও মুদ্রার বৈপ্লবিক পরিবর্তন নয়, বরং পেমেন্ট ব্যবস্থার একটি আধুনিকায়ন।   সম্প্রতি ওয়াশিংটনে কার্নেগি এনডাওমেন্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ডলারকে লক্ষ্যবস্তু বানানো আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা কৌশলগত নীতির অংশ নয়। তিনি জানান, ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে ভারতের কিছু উদ্বেগ থাকলেও এটিকে প্রতিস্থাপনের কোনও প্রচারণা ভারত চালাচ্ছে না। ২০২৪ সাল থেকে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও আমিরাত জোটে যোগ দিলেও ভারত তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।   গ্রান্ট থর্নটন ভারতের পার্টনার এবং ইকোনমিক অ্যাডভাইজরি লিড ঋষি শাহ বলেন, ঐতিহ্যগত অর্থে রাজনৈতিক ও আর্থিক অভিন্নতা ছাড়া কোনও একক মুদ্রা ব্যবস্থা ব্রিকসের মতো বৈচিত্র্যময় একটি জোটের জন্য অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনও দিক দিয়েই যুক্তিযুক্ত নয়।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডায় সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) সংযোগের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব রাখার সুপারিশ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে এবং ব্রিকস ও কোয়াড-এর সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে ভারত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সিবিডিসি প্রস্তাবটিকে কেবল লেনদেনের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।   গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টিভ অ্যাডভাইজরি এলএলপির প্রতিষ্ঠাতা সোহম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চলতি ব্রিকস পেমেন্ট সংহতকরণের আলোচনাকে প্রায়ই খুব সংকীর্ণভাবে ডি-ডলারাইজেশনের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হয়। প্রকৃত সুযোগটি রয়েছে লেনদেন খরচ, নিষ্পত্তির বিলম্ব এবং সীমিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট চ্যানেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর মধ্যে।   তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ব্রিকসের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত জোটের দেশগুলো থেকে যতটুকু বিক্রি করে তারচেয়ে অনেক বেশি কেনে। তাই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি থাকা অবস্থায় ডলারের পরিবর্তে রুপি বা ইউয়ানের ব্যবহারে সমস্যা মেটে না, বরং বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা একই থেকে যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মূলত এক বহুমুখী পদক্ষেপ বজায় রাখছে যেখানে দক্ষতার সুযোগ রয়েছে সেখানে ডলার ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া, বাণিজ্যপ্রবাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে স্থানীয় মুদ্রায় নিষ্পত্তি বাড়ানো এবং পাইলটভিত্তিতে সিবিডিসি সংযোগ পরীক্ষা করা। এর মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে বিশ্ববাজারে ডলারকে রাতারাতি সরিয়ে নতুন কোনও ‘ব্রিকস কারেন্সি’ চালু করার ইচ্ছা ভারতের নেই।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারই এখন এলএনজি কিনতে মরিয়া

ইরান যুদ্ধে নিজেদের গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে কাতার। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানিকারক দেশ এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনার আলোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন– উভয় প্রকল্প থেকে এলএনজি কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন আলোচনা ও দরকষাকষি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেল, কাতার পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত নিজেদের পোর্টফোলিও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে করা অঙ্গীকার রক্ষায় এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করত কাতার। তবে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।  যুদ্ধ শুরুর আগে কাতারের পরিকল্পনা ছিল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করা। ২০৩০ সালের মধ্যে রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার একটি মেগা প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছিল দোহা। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলার জন্য সেই সময় ইরানকে দায়ী করা হয়েছিল। কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে সরবরাহ নিশ্চিতের কৌশল  যেহেতু চলমান যুদ্ধ শিগগিরই বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশলে হাঁটছে কাতার। দোহা এখন তাদের এলএনজি বাণিজ্য শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গোল্ডেন পাস এলএনজি টার্মিনালের মালিকানায় কাতারের অংশীদারিত্ব রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মার্কিন গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ তাদের হাতে ছিল। গত এপ্রিলে টেক্সাসের এই টার্মিনালটি থেকে বাণিজ্যিক রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি কাতারএনার্জির বাণিজ্যিক শাখা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এলএনজি বাজারজাত ও পরিবহনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এতদিন স্বল্পমেয়াদি স্পট মার্কেটের চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত গ্যাস সংগ্রহ করত কাতার। তবে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে গ্রাহক ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তির দিকেই এগোচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারই এখন এলএনজি কিনতে মরিয়া
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

ইরান যুদ্ধে নিজেদের গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে কাতার। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানিকারক দেশ এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনার আলোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন– উভয় প্রকল্প থেকে এলএনজি কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন আলোচনা ও দরকষাকষি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেল, কাতার পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত নিজেদের পোর্টফোলিও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে করা অঙ্গীকার রক্ষায় এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করত কাতার। তবে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।  যুদ্ধ শুরুর আগে কাতারের পরিকল্পনা ছিল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করা। ২০৩০ সালের মধ্যে রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার একটি মেগা প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছিল দোহা। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলার জন্য সেই সময় ইরানকে দায়ী করা হয়েছিল। কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে সরবরাহ নিশ্চিতের কৌশল  যেহেতু চলমান যুদ্ধ শিগগিরই বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশলে হাঁটছে কাতার। দোহা এখন তাদের এলএনজি বাণিজ্য শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গোল্ডেন পাস এলএনজি টার্মিনালের মালিকানায় কাতারের অংশীদারিত্ব রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মার্কিন গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ তাদের হাতে ছিল। গত এপ্রিলে টেক্সাসের এই টার্মিনালটি থেকে বাণিজ্যিক রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি কাতারএনার্জির বাণিজ্যিক শাখা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এলএনজি বাজারজাত ও পরিবহনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এতদিন স্বল্পমেয়াদি স্পট মার্কেটের চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত গ্যাস সংগ্রহ করত কাতার। তবে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে গ্রাহক ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তির দিকেই এগোচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ।

ছবি: সংগৃহীত
ডলার ইস্যুতে ব্রিকসের প্রস্তাবে কি সায় দেবে ভারত?
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

ভারতের আয়োজনে ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে একটি স্পষ্ট বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে স্বাগতিক নয়াদিল্লি। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার বর্জনের যে কোনও বড় উদ্যোগে সায় দিচ্ছে না ভারত। চীন ও রাশিয়া যখন কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে ডলারের ব্যবহার বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা বিষয়টিকে নিজস্ব লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছেন, তখন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত বিষয়টিকে শুরুতেই না করে দিচ্ছে।   তবে ডলারকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে নতুন কোনও মুদ্রা চালু না করলেও ভারত এক নতুন কারিগরি উদ্যোগের প্রস্তাব রাখছে। ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) নিজেদের মধ্যে যুক্ত করার মাধ্যমে বাণিজ্য ও পর্যটন সংক্রান্ত লেনদেন সহজ করার কথা ভাবছে তারা। এটি কোনও মুদ্রার বৈপ্লবিক পরিবর্তন নয়, বরং পেমেন্ট ব্যবস্থার একটি আধুনিকায়ন।   সম্প্রতি ওয়াশিংটনে কার্নেগি এনডাওমেন্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ডলারকে লক্ষ্যবস্তু বানানো আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা কৌশলগত নীতির অংশ নয়। তিনি জানান, ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে ভারতের কিছু উদ্বেগ থাকলেও এটিকে প্রতিস্থাপনের কোনও প্রচারণা ভারত চালাচ্ছে না। ২০২৪ সাল থেকে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও আমিরাত জোটে যোগ দিলেও ভারত তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।   গ্রান্ট থর্নটন ভারতের পার্টনার এবং ইকোনমিক অ্যাডভাইজরি লিড ঋষি শাহ বলেন, ঐতিহ্যগত অর্থে রাজনৈতিক ও আর্থিক অভিন্নতা ছাড়া কোনও একক মুদ্রা ব্যবস্থা ব্রিকসের মতো বৈচিত্র্যময় একটি জোটের জন্য অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনও দিক দিয়েই যুক্তিযুক্ত নয়।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডায় সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) সংযোগের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব রাখার সুপারিশ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে এবং ব্রিকস ও কোয়াড-এর সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে ভারত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সিবিডিসি প্রস্তাবটিকে কেবল লেনদেনের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।   গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টিভ অ্যাডভাইজরি এলএলপির প্রতিষ্ঠাতা সোহম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চলতি ব্রিকস পেমেন্ট সংহতকরণের আলোচনাকে প্রায়ই খুব সংকীর্ণভাবে ডি-ডলারাইজেশনের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হয়। প্রকৃত সুযোগটি রয়েছে লেনদেন খরচ, নিষ্পত্তির বিলম্ব এবং সীমিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট চ্যানেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর মধ্যে।   তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ব্রিকসের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত জোটের দেশগুলো থেকে যতটুকু বিক্রি করে তারচেয়ে অনেক বেশি কেনে। তাই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি থাকা অবস্থায় ডলারের পরিবর্তে রুপি বা ইউয়ানের ব্যবহারে সমস্যা মেটে না, বরং বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা একই থেকে যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মূলত এক বহুমুখী পদক্ষেপ বজায় রাখছে যেখানে দক্ষতার সুযোগ রয়েছে সেখানে ডলার ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া, বাণিজ্যপ্রবাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে স্থানীয় মুদ্রায় নিষ্পত্তি বাড়ানো এবং পাইলটভিত্তিতে সিবিডিসি সংযোগ পরীক্ষা করা। এর মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে বিশ্ববাজারে ডলারকে রাতারাতি সরিয়ে নতুন কোনও ‘ব্রিকস কারেন্সি’ চালু করার ইচ্ছা ভারতের নেই।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হুথিদের হাতে
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আজ শুক্রবার লোহিত সাগরের দ্বীপ ময়উন ওরফে পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্যে দিয়ে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি গোষ্ঠী।   পেরিম বা ময়উন দ্বীপটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বীপটির ভৌগলিক অবস্থান বাব এল-মান্দেব প্রণালির একদম মাঝখানে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী বেশ কয়েকটি নৌযান সেই দ্বীপে পৌঁছে দ্বীপটি দখল করে।   একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মানদেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।   ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচলও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।   জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এই প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিবহন করা হয়।   ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা গত সপ্তাহে বাব আল-মানদেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো পরিবার।   ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল–মানদেব প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।   সূত্র : এএফপি

ছবি: সংগৃহীত
একাধিক হামলার পর সৌদির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন একাধিক হামলার পর এগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শুক্রবার পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের হামলার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনটিতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করে জরুরি ও বিশেষায়িত কারিগরি দল। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।   হরমুজ প্রণালির বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ রুট ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান বিকল্প রুটে পরিণত হয়েছে এই পাইপলাইন।   পাইপলাইনটির মাধ্যমে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি লোহিত সাগরের রপ্তানি টার্মিনালে পৌঁছানো হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছে সৌদি আরব।   বৈশ্বিক তেল সরবরাহে উদ্বেগ বাড়ছে  হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই পথের ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর পাইপলাইনটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সৌদি আরবের তেল পরিবহন ও রপ্তানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এখন পাইপলাইনটির নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা যাচাই করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত পাইপলাইনটি পুনরায় চালু করা হবে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।   সূত্র : সৌদি গ্যাজেট

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি