সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে সংসদীয় কমিটির শোক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করছে। কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী বুধবার এক শোক বার্তায় জানান, এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংহতি ও সহমর্মিতার বিবৃতিকে কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে বাংলাদেশ গভীরভাবে অবগত একটি দেশ। তাই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও দেশের জনগণ নেপালের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার জন্য কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ​​​​​

১১ ঘন্টা আগে
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন ডিন এলগার

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ডিন এলগার চলতি বছরের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুম শেষে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।  ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার প্রোটিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের শীর্ষে থেকে ১২ বছর কাটিয়েছেন। ৮৬টি টেস্টে ৩৭.৯২ গড়ে তিনি ৫,৩৪৭ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ১৯৯ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ার-সেরা। এলগার ১৮টি ম্যাচে প্রোটিয়াদের নেতৃত্বও দিয়েছেন। এর মধ্যে ছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কেপ টাউনে ভারতের বিপক্ষে তার শেষ টেস্টটি, যেখানে চোট পাওয়া টেম্বা বাভুমার পরিবর্তে তিনি আবারও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট খেলার সুযোগ ক্রমশ কমে আসায় তিনি এসেক্সের হয়ে খেলার চুক্তি করেন। সেখানে গত তিন মৌসুমে তার দৃঢ়চেতা বাঁ-হাতি ব্যাটিং এবং টেস্ট ক্রিকেটে প্রমাণিত দক্ষতা তাকে অ্যালাস্টেয়ার কুকের আদর্শ উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উল্লেখ্য, কুক ২০২৩ সালের শেষে অবসর নিয়েছিলেন। অবসরের বিষয়ে এলগার বলেন, আমার মনে হয় এটাই এখন সঠিক সময়। বয়স তো আর কমছে না, ৩৯ বছর হয়ে গেছে। দেশে আমার পরিবার, সন্তানরা রয়েছে।   তাদের নিয়ে কিছু সামলানোর বিষয় রয়েছে। এখন আমার জন্য সঠিক সময় হলো বাড়িতে থাকা এবং আমার সঙ্গী ও সন্তানদের পাশে থাকা। এখন পর্যন্ত যাত্রাটা দারুণ ছিল। যদিও এটি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, তবে মৌসুম শেষে আমি অবসর নেব। ২১ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে এলগার ৫০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন; এর মধ্যে সারে ও সমারসেটের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।   ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর ফ্রি স্টেট ও নাইটস দলের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান। এলগার বলেন, আমি ভাগ্যবান যে বারো বছর ধরে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি এবং এরপর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছি। এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি সেই যাত্রার দিকে তাকালে মনে হয় না খুব বেশি মানুষ আমার এমন ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী ছিল; আর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা তো ভাবাই যায় না।   নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এলগার ২০২২ সালে লর্ডসে বেন স্টোকসের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস ব্যবধানে জয়কে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমার সময়ে অনেক গর্বের মুহূর্ত এসেছে। তবে অধিনায়ক হিসেবে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারানো নিঃসন্দেহে তার মধ্যে অন্যতম। এটি আমার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।   এসেক্সের ক্রিকেট পরিচালক ক্রিস সিলভারউড বলেন, এলগারের ক্যারিয়ার দীর্ঘস্থায়িত্ব, মানসিক দৃঢ়তা এবং ক্রিকেটের প্রতি গভীর নিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ক্যারিয়ারে একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে তার খ্যাতি এসেক্সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। বিশেষ করে ক্লাবের তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি এলগারের অবসর পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

১১ ঘন্টা আগে
দুদিন পর বিরল আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চলে

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আকাশপ্রেমীরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এ সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ ঢেকে ফেলবে। গ্রহণের কারণে চাঁদের বড় একটি অংশ লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করতে পারে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময়ের পার্থক্যের কারণে চন্দ্রগ্রহণটি ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে দেখা যাবে। ২৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক সময় প্রায় ৪টা ১২ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে পুরো গ্রহণটি দেখা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে চাঁদ ওঠা বা অস্ত যাওয়ার সময় গ্রহণের একটি অংশ দেখা যাবে। এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ নয়। কারণ চাঁদের সামান্য একটি অংশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন ছায়ার বাইরে থাকবে। গ্রহণের সময় চাঁদের যে অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে যাবে, সেটি লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করতে পারে। সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ছড়িয়ে পড়ে ও প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়। এর ফলে চাঁদের গ্রহণগ্রস্ত অংশে লালচে আভা তৈরি হয়, যাকে অনেক সময় ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়। চন্দ্রগ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে। তবে গভীর আংশিক গ্রহণের সময়কাল হবে এর তুলনায় অনেক কম। সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ পৃথিবীর আমব্রার মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে নাসা ও বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সূত্র। এর মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে, ১২ আগস্ট একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেটি দেখা গিয়েছিল। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের নির্দিষ্ট সরলরৈখিক বিন্যাসের কারণে সাধারণত সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কাছাকাছি সময়ে জোড়ায় ঘটে। সূর্যগ্রহণ দেখার মতো চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো চোখের সুরক্ষা প্রয়োজন হয় না। দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের গ্রহণ আরও কাছ থেকে দেখা যাবে। আকাশ পরিষ্কার থাকা এবং দিগন্তে কোনো বাধা না থাকলে গ্রহণ দেখার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে ভালো হবে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

১১ ঘন্টা আগে
নেপাল থেকে অপু বিশ্বাসের বার্তা, ‘ভালো আছি, চিন্তা করবেন না’

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে শত শত মানুষ। বুধবারের (২৬ আগস্ট) আকস্মিক এই বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নেপালে এখন অবস্থান করছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। তবে তিনি নিরাপদে আছেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অপু নিজের জন্য চিন্তা না করে দোয়া চেয়েছেন।    বুধবার সন্ধ্যায় অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পোখারাতে আছি। যেখানে আছি নিরাপদে আছি। তবে পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার হাইওয়ে রাস্তায় ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জানতে পেরেছি, এই রাস্তা ঠিক হতে মাসখানেক সময় লাগবে। আমাদের গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। আগামীকাল কাঠমান্ডু যাব। ফ্লাইটে অনেক চাপ চলছে। কাঠমান্ডু থেকে পরশুদিনের (শুক্রবার) ফ্লাইটে ঢাকা ফিরব।’    নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার জন্য চিন্তা না করবেন না। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন নিরাপদে দেশে আমার সন্তানের কাছে ফিরতে পারি।’   চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপাল গিয়েছেন অপু বিশ্বাস। সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন মুর্তজা পলাশ। এতে আরো অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ।

১১ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নেপালের আকস্মিক বন্যায় ভূমিধসে আটকে থাকা নারীকে উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
নেপালের বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহায়তার আশ্বাস

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ মর্মাহত ও শোকাহত। পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশ গভীরভাবে নজর রাখছে। এতে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।   বিবৃতিতে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।   এতে আরও বলা হয়, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।   নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভয়াবহ এই বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।   নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে দেশটিতে ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয়, মার্কিন, ব্রিটিশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
নেপালে বন্যায় নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল পুলিশ নিখোঁজদের সংখ্যা আপডেট করেছে। তারা বলেছে, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকরা ২৮টি দেশের নাগরিক। এছাড়া ১১৩ জন নিখোঁজ পর্যটক নেপালের নাগরিক।   নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের নিখোঁজ নাগরিকের সংখ্যা ৩৩ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ব্যাপক উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ও সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে গেলেও দুর্যোগের ব্যাপকতা ‘কল্পনারও বাইরে’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয় এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনারও বাইরে’। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় নিখোঁজদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। সূত্র: বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে সংসদীয় কমিটির শোক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করছে। কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী বুধবার এক শোক বার্তায় জানান, এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংহতি ও সহমর্মিতার বিবৃতিকে কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে বাংলাদেশ গভীরভাবে অবগত একটি দেশ। তাই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও দেশের জনগণ নেপালের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার জন্য কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ​​​​​

ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালে সমুদ্রে নামছে তুরস্কের প্রথম ড্রোনবাহী রণতরি

নৌ সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পথে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তুরস্ক। দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ ড্রোনবাহী রণতরি ‘মুগেম’ আগামী বছর সমুদ্রে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। তুর্কি নৌবাহিনী জানিয়েছে, ২০২৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রণতরিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সাগরে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   রোববার (২৩ আগস্ট) কোকায়েলি প্রদেশের গলচুক নৌঘাঁটিতে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে তুরস্কের নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল এরজুমেন্ট তাতলিওগ্লু রণতরিটির বিভিন্ন সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।   তিনি জানান, মুগেম শুধু প্রচলিত যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হবে না। এতে একই সঙ্গে মানববিহীন আকাশযান, স্বয়ংক্রিয় ও আক্রমণাত্মক নৌযান এবং ড্রোন সাবমেরিন পরিচালনার সক্ষমতা থাকবে। ফলে আকাশ ও সমুদ্রে মানববাহী এবং মানববিহীন প্ল্যাটফর্মকে একই যুদ্ধব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   তুর্কি নৌবাহিনীর দাবি, এমন সমন্বিত সক্ষমতাসম্পন্ন রণতরি তুরস্ককে ড্রোননির্ভর সামুদ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতায় নতুন অবস্থানে নিয়ে যাবে।   একসঙ্গে ৫২টি ড্রোন:   প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মুগেমে তুরস্কের তৈরি প্রায় ৫২টি ‘কিজিলেলমা’ মানববিহীন যুদ্ধবিমান বহনের সক্ষমতা থাকতে পারে। পাশাপাশি রণতরি থেকে ‘হুরজেট’-এর নৌ সংস্করণ, ‘আনকা-৩’ এবং ‘টিবি-৩’ ড্রোন পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।   ড্রোন ও বিমান ওঠানামার সুবিধার জন্য রণতরিটির সামনের অংশে ১২ ডিগ্রি কোণে বিশেষ ‘স্কি-জাম্প’ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের রানওয়ে ব্যবহার করেও আকাশযান উড্ডয়নের সুযোগ তৈরি হবে।   তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাচিরের মতে, মুগেম দেশটির নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা রক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।   ৬০ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ:   প্রায় ৬০ হাজার টন ওজনের মুগেমের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮৫ মিটার। এতে একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেনার অবস্থান ও চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গেছে।   রণতরিটির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় ২৬ নট। জ্বালানি ও অন্যান্য সক্ষমতা বিবেচনায় একবারে প্রায় ১০ হাজার নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতাও থাকার কথা বলা হয়েছে।   বিশ্বের বড় বিমানবাহী রণতরিগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ শ্রেণি এবং যুক্তরাজ্যের ‘কুইন এলিজাবেথ’ শ্রেণির জাহাজগুলো দীর্ঘদিন ধরে সামরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে মুগেমের নকশায় প্রচলিত যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় নৌযানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   সামরিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মুগেম তুরস্কের নৌবাহিনীর জন্য শুধু একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ নয়; বরং ড্রোনকেন্দ্রিক সমুদ্রযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। রণতরিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমুদ্রে নামার পর এর প্রকৃত সক্ষমতা ও কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট হবে।

ছবি: সংগৃহীত
দুদিন পর বিরল আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চলে

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আকাশপ্রেমীরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এ সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ ঢেকে ফেলবে। গ্রহণের কারণে চাঁদের বড় একটি অংশ লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করতে পারে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময়ের পার্থক্যের কারণে চন্দ্রগ্রহণটি ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে দেখা যাবে। ২৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক সময় প্রায় ৪টা ১২ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে পুরো গ্রহণটি দেখা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে চাঁদ ওঠা বা অস্ত যাওয়ার সময় গ্রহণের একটি অংশ দেখা যাবে। এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ নয়। কারণ চাঁদের সামান্য একটি অংশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন ছায়ার বাইরে থাকবে। গ্রহণের সময় চাঁদের যে অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে যাবে, সেটি লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করতে পারে। সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ছড়িয়ে পড়ে ও প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়। এর ফলে চাঁদের গ্রহণগ্রস্ত অংশে লালচে আভা তৈরি হয়, যাকে অনেক সময় ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়। চন্দ্রগ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে। তবে গভীর আংশিক গ্রহণের সময়কাল হবে এর তুলনায় অনেক কম। সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ পৃথিবীর আমব্রার মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে নাসা ও বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সূত্র। এর মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে, ১২ আগস্ট একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেটি দেখা গিয়েছিল। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের নির্দিষ্ট সরলরৈখিক বিন্যাসের কারণে সাধারণত সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কাছাকাছি সময়ে জোড়ায় ঘটে। সূর্যগ্রহণ দেখার মতো চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো চোখের সুরক্ষা প্রয়োজন হয় না। দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের গ্রহণ আরও কাছ থেকে দেখা যাবে। আকাশ পরিষ্কার থাকা এবং দিগন্তে কোনো বাধা না থাকলে গ্রহণ দেখার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে ভালো হবে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নিহত বেড়ে ৯৫
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬

নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত থেকে ভোতেকুশ নদীপথে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই পানি ও কাদায় তলিয়ে যায় ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি এলাকা।   বার্তাসংস্থা এপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, আকস্মিক এই বন্যায় রাসুয়া জেলার পাশাপাশি সায়াফুরবেশি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ও যানবাহন ভেসে গেছে। অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাশ-মানস সরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১৪০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। দুর্গত এলাকায় ১৪টি হেলিকপ্টার এবং কয়েকশ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে আকাশপথে অভিযান চালানো হচ্ছে।   বরফ ধসে নদীর প্রবাহ বন্ধ, ভূমিকম্পের পর নেমে আসে বিপুল পানি: প্রাথমিক অনুসন্ধানে আকস্মিক বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বরফ ধসের বিষয়টি সামনে এসেছে। নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, লেন্দে নদীতে বরফ ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে সেখানে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়।   গবেষকের ধারণা, বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর ওই বরফের স্তর নড়ে যায়। এতে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি হঠাৎ করে নেমে ভোতেকুশ নদীতে প্রবেশ করে এবং ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।   কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে রিজান ভক্ত বলেন, চীনা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লেন্দে নদীতে বরফ ধসের ঘটনা ঘটেছিল। একই সময়ে তিব্বতে ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।   তবে বন্যার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   সূত্র: এপি, পিটিআই, এএফপি, কাঠমান্ডু পোস্ট

ছবি: সংগৃহীত
নেপালে আকস্মিক বন্যায় বিপর্যয়, ভূমিকম্পের পর নেমে আসে জমে থাকা পানি
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬

নেপালের সীমান্তবর্তী রসুয়া অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ভোতেকোশি নদীতে সৃষ্ট এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ। এলাকাটি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের কাছাকাছি।   প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, নদীর উজানে বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপুল পরিমাণ পানি জমে ছিল। পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর জমে থাকা পানি হঠাৎ নেমে এসে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।   নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে লেন্দে নদীতে বরফধসের বিষয়টি সামনে এসেছে। বরফধসের কারণে নদীর পানি নিচের দিকে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পেরে আটকে যায়।   তিনি জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে নেপালে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে আসার সময় তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের কম্পনে আটকে থাকা বরফ ও পানি সরে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে ভোতেকোশি নদী দিয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়।   কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক রিজান ভক্ত বলেন, লেন্দে নদী আটকে যাওয়ার বিষয়ে চীনের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় বরফধসের ঘটনা ঘটেছিল এবং একই সময়ে তিব্বতে ভূমিকম্পও হয়েছে।   তবে বন্যার পেছনে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ বা গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।   অধ্যাপক রিজান ভক্ত বলেন, অতীতেও লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, তবে তখন এ ধরনের আকস্মিক বন্যা হয়নি।   তার মতে, এবারের বন্যাটি সাধারণ বৃষ্টিপাতের কারণে হয়নি। বন্যার পানির আকস্মিক ও ব্যাপক প্রবাহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, উজানে জমে থাকা পানি হঠাৎ নেমে আসার ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাবে এবার মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার মূল্যের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।   মঙ্গলবার কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন শুল্কের আওতায় থাকবে ইস্পাত, আসবাবপত্র, পোশাক, তাজা টুনা মাছসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্য। যুক্তরাষ্ট্র যেসব কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা শুল্কের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।   দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে শুল্কযুদ্ধের উত্তেজনা তৈরি হলো। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আলোচনার শেষ পর্যায়ে অযৌক্তিক অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তোলে।   ‘সমানুপাতিক’ পদক্ষেপ বলছে কানাডা: কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের জবাবেই নতুন পাল্টা শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব কানাডার শ্রমিক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর পড়বে। তাই সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে তিনি ‘সমানুপাতিক’ ও ‘কৌশলগত’ বলে উল্লেখ করেন।   মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের সহায়তায় অতিরিক্ত ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি। কর্মী ছাঁটাই কমানো এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করাই এই অর্থের মূল উদ্দেশ্য।   প্রায় ৯০০ মার্কিন পণ্যে শুল্ক: কানাডা মঙ্গলবার প্রায় ৯০০টি মার্কিন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত কিছু পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক; মধু, আসবাবপত্র, পোশাক, প্রসাধনী ও সুগন্ধিজাত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক; গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যসহ কিছু পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক; ফর্কলিফট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক। কানাডীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এমন পণ্যই তালিকায় রাখা হয়েছে যেগুলোর বিকল্প সরবরাহকারী অন্য দেশ থেকে পাওয়া সম্ভব। এর ফলে কানাডার ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ তুলনামূলকভাবে কম পড়বে বলে আশা করছে সরকার।   পাল্টা আক্রমণ ট্রাম্পের: কানাডার সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি কানাডার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্য করার অভিযোগ তোলেন।   ট্রাম্প বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নয়। একই সঙ্গে কানাডীয় গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরও বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।   এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্পের নীতির লক্ষ্য কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।   আবারও আলোচনার সম্ভাবনা: দুই দেশের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা বাড়লেও মঙ্গলবার কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড বলেছেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও তিনি এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি চান, যা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।   বাণিজ্য বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো ইউএসএমসিএর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।   এদিকে কানাডার সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মেক্সিকোও পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম আলোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্দকে ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন।   বিশ্বের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার এই নতুন শুল্ক বিরোধ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার দীর্ঘদিনের সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সতর্কবার্তা, ‘নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করবে বেইজিং’
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬

ইরান ও দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চীনের বৈধ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বেইজিং। চীনের সঙ্গে ইরানের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের আওতাভুক্ত এবং তাতে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মনে করে দেশটি।   ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। বিশেষ করে দেশটির তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ চীনে যায়। ফলে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হলে চীনা ব্যবসা ও জ্বালানি আমদানির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।   মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় চীন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।   এ পরিস্থিতিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়; বরং এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি