বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এ মুহূর্তে ছোট-বড়পর্দায় কিংবা ওটিটি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে সব মাধ্যমেই চিত্রনাট্য নির্বাচনে ভীষণ খুঁতখুঁতে অভিনেত্রী । সংখ্যাতত্ত্বের দৌড়ে না হেঁটে তিনি এখন হাঁটছেন গুণগত মান নিয়ে। সম্প্রতি গুণী নির্মাতা শিহাব শাহীনের নতুন একটি প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী। আর এ কাজটিকে তিনি দেখছেন জীবনে একবারই আসার মতো সুযোগ হিসেবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই জানান অভিনেত্রী। নিজের কাজ কমিয়ে দেওয়া এবং নতুন কাজে যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে মেহজাবীন বলেন, আমি যেভাবে আসলে কাজ কমিয়ে ফেলেছি, নতুন কোনো চমক আসলে স্ক্রিপ্টে না থাকলে আমি সেখানে কোনোভাবেই অন-বোর্ড হই না। তো ডেফিনেটলি শিহাব ভাইয়ার রাইটিংয়ে ওরকম একটা চমক খুঁজে পাওয়া গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমার এ রকম একটা ক্যারেক্টার হাতছাড়া করা উচিত হবে না বলে জানান অভিনেত্রী। নিজের চরিত্র নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ মেহজাবীন বলেন, ওয়ান্স ইন আ লাইফটাইম— এ ধরনের ক্যারেক্টার আসলে পাওয়া যায়। সো, আই অ্যাম ভেরি এক্সাইটেড! এখন কতটুকু পুল অফ করতে পারব, কতটুকু আমি আসলে সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে পারব, আমি কতটুকু এফোর্ট দিতে পারব, ডেফিনেটলি আই উইল ট্রাই মাই লেভেল বেস্ট। বাট বাকি সবকিছু আসলে ফিউচার এবং সময় বলে দেবে। তিনি বলেন, আমি একটা জায়গায় খুব ভালো ফিল করছি এখন পর্যন্ত, আমি শিহাব শাহীনের একজন ফ্যান অফ হিজ ওয়ার্ক। তো সেই জায়গা থেকে উনার আন্ডারে কাজ করছি এবং উনি যেভাবে আসলে আর্টিস্টদের ডিরেক্ট করেন, আই অ্যাবসোলিউটলি এনজয় দ্যাট। তো এই কাজ আমি এনজয়ও করব অ্যাজ ওয়েল অ্যাজ কাজটাও হবে।
জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে হওয়া ট্রল, সিনিয়র শিল্পীদের সম্মান এবং শো-রুম ওপেনিংয়ের মতো বিষয় সহ নানা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই তারকা সেখানে শাকিব খানের প্রসঙ্গেও কথা বলেন। সামাজিক মাধ্যমে শোবিজ তারকাদের নিয়ে ট্রল করা নতুন কিছু নয়। অপু বিশ্বাসকেও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রলের শিকার হতে হয়। এ সম্পর্কে অভিনেত্রীর মতামত, ‘যারা অনেক বড় মাপের মানুষ, তাদেরকে নিয়ে ট্রল হয়। আমাদের দেশের রাষ্ট্রনায়ক অনেকে আছেন, তাদেরকে নিয়ে অনেক ট্রল হয়। তাদের ড্রেস বিকৃত করে, চেহারা বিকৃত করে বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দেয়। যাদের ফেস বেশি পরিচিত, তাদেরকে নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করলে ভাইরাল হয় বা মানুষের কাছে পৌঁছায় তার জন্য আমাকে করে।’ নানা সময়েই বিভিন্ন শোরুম উদ্বোধনে অংশ নিতে দেখা যায় এ চিত্রনায়িকাকে। তা নিয়ে অনেকের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। এসবের জবাবে অপুর ভাষ্য, ‘কোনো কাজই ছোট নয়। আর আমরা যেহেতু শিল্পী, সেই শিল্পীর মধ্যেই তো সত্তা যে আমরা ওপেনিং করব এবং আমাদের যারা ফ্যান ফলোয়ার থাকবে, তারা কিন্তু আসলে এনগেজ করে। একটা ওপেনিংয়ের মাধ্যমে একটা বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে যায়।’ কথা বলার এক পর্যায়ে সাবেক স্বামী শাকিব খানকে নিয়ে অপু বলেন, ‘তিনি আমাদের অনেক বড়মাপের একজন অভিনেতা। তাকে সম্মান এবং তার অবস্থানটা অনেক উর্ধ্বে। আমি বলব চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে, এটা একটা ভালো দিক।’
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনি ও অভিনেতা শরীফুল রাজের বিচ্ছেদের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে আলোচনা থামেনি। দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনের মধ্যে এবার তৃতীয় পক্ষের প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পরীমনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ, সংসার ভাঙন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সেখানে পরীমনি জানান, তাদের বিচ্ছেদের পেছনে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নেই। পরীমনির ভাষ্য, তৃতীয় পক্ষের কোনো বিষয় নয়। কেবল বোঝাপড়ার পার্থক্যের কারণেই বিচ্ছেদ হয়েছে। সংসার টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা যে করতে হয়, এটা তো সে জানেই না। কিংবা কারও চেষ্টাকে সমর্থন জানাতে হয়, সেটাও জানে না। বিনোদন অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচলিত ধারণাকেও ভুল বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটা কথা ছড়িয়েছে—আমার জন্য সে নাকি বাচ্চার খোঁজ নিতে পারছে না। এটা খুবই ভুল কথা। রাজের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি চান রাজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সন্তানের বিষয়ে সচেতন হোক। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে পরীমনির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ করেন শরীফুল রাজ। একই সঙ্গে তাদের বিয়ের বিষয়টিও সামনে আসে। পরে দুজনই বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাদের তথ্যমতে, ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে হয়। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট জন্ম নেয় তাদের ছেলে শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য। সন্তান জন্মের পরও দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলতে থাকে। বিভিন্ন সময় মান-অভিমান ও মনোমালিন্যের পর একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও তা স্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে রাজের ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকজন চিত্রনায়িকার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশের ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই সম্পর্কে নতুন করে অশান্তি দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। বিচ্ছেদের পর দুজনই অভিনয়ে ব্যস্ত। পরীমনিকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ফেলুবক্সী’ সিনেমায়। তিনি সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘শাস্তি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, যেখানে তার সহশিল্পী চঞ্চল চৌধুরী। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত ‘ডোডোর গল্প’। নিরবের সঙ্গে ‘গোলাপ’ সিনেমার কাজ শুরুর কথাও রয়েছে। অন্যদিকে শরীফুল রাজকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘ইনসাফ’ সিনেমায়। সামনে তার অভিনীত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘জীবন অপেরা’ এবং নাম নির্ধারিত হয়নি—এমন আরও একটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব ছবিতে তার সহশিল্পী হিসেবে থাকছেন তমা মির্জা, সাবিলা নূর ও বিদ্যা সিনহা মিম।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার আইসিসি অফিস উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং ভারতকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিতর্কের সূত্রপাত এক পাকিস্তানি ইউটিউবার ও অভিনেতা আরসালান নাসিরের প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে। তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ওই ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটির বিষয়বস্তু ছিল— ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের নির্ধারিত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত। সেই প্রসঙ্গেই হুমকির মতো মন্তব্য উঠে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিডিওতে তিনি ভারত, আইসিসি ও বিসিসিআইকে নিয়ে অশালীন ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। এমন কী ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে ব্যক্তিগত ও অসম্মানজনক মন্তব্য করেন। ভিডিওতে ওই ইউটিউবার প্রকাশ্যে আইসিসি অফিসে হামলার হুমকি দেন। তিনি বলেন, আইসিসির সদর দপ্তর দুবাইয়ে থাকায় জয় শাহ ও কর্মকর্তারা নিরাপদ। যদি অফিস ভারতে থাকত, পাকিস্তানি জনগণ তা উড়িয়ে দিত। তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান সরকারই নাকি আইসিসি ও ভারতের ‘বাপ’। এই মন্তব্য আসে পাকিস্তান সরকারের ম্যাচ বয়কট ঘোষণার পর আইসিসির বিবৃতি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচিত হয়েছে। অনেকেই মন্তব্যগুলোকে বিপজ্জনক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দাও জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তদুপরি, জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে উল্লেখ করেছে, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মানুষ অনেক কষ্টে আছে। প্রয়োজনের সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না, ওষুধ পায় না, সেজন্য আমরা হাসপাতালগুলো মেরামত করব, ডাক্তারের ব্যবস্থা করব। এজন্য আমরা হেলথ কেয়ার নিযুক্ত করতে চাই, যেই হেলথ কেয়ারের কাজ হবে গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে গিয়ে নারী এবং শিশুদের চিকিৎসা সুবিধা দেবে। বুধবার ( ৪ জানুয়ারি) ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বিএনপির বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তারেক রহমান বরিশালে নির্বাচনী জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুর আসেন। তারেক রহমান বলেন, যেসব চিকিৎস্যা সুবিধা ঘরে বসে দেওয়া যায়, ছোটখাটো অসুখ, যাতে করে মা-বোনদের কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে না হয়। ঘরে বসেই তারা ওষুধ পাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে। ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষককার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক পাবে। নারী ও শিশুদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, এই জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেবে। বাংলাদেশের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এক গুপ্ত দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। ইতিহাস সাক্ষী ১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐকবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে দিতে পারি তাহলে ১৩ তারিখ থেকেই বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। জনসভায় ফরিদপুরের ৫টি জেলার ১৫ জন ধানের শীষের প্রার্থীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারম্যানকে এক নজর দেখতে ও তার বক্তব্য শুনতে দুপুর ১২টা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড়ে কলেজের মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। একপর্যায়ে আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয়। উল্লেখ্য, এই প্রথমবার তারেক রহমান ফরিদপুরে জনসভা করতে এলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নেতার আগে জনতা। করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর হাতিরঝিলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভেদাভেদের আগে সমতা এবং সবার জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির লক্ষ্য উল্লেখ করে নগরবাসী ও ভোটারদের উদ্দেশে ডা. জুবাইদা বলেন, আপনাদের সমস্যা অনেক, আমাদের সবারই সমস্যা আছে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি হলো সুষ্ঠু পরিকল্পনার রাজনীতি। এখন আমাদের গৌরবের নতুন সূর্যোদয়ের সময়। আমরা বিশ্বাস করি আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ; ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, আমরা দিতে চাই শ্রমের মর্যাদা, মেধার মূল্যায়ন, মেধাভিত্তিক চাকরি এবং ন্যায়ভিত্তিক অধিকার। শোষণের আগে অধিকার—এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, আজ প্রমাণ করেছেন আপনারা সবাই একসঙ্গে আছেন। আপনাদের মূল্যবান সময় নিয়ে এখানে এসেছেন, আমাদের কথা শুনছেন এবং আপনাদের সমস্যাগুলো আমাদের জানিয়েছেন। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলো আরও শুনবো, আরও জানবো। তারেক রহমানের স্ত্রী বলেন, জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে কীভাবে সমস্যাগুলো সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে একটি সুন্দর, সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র উপহার দেওয়া যায় সে উদ্দ্যেশেই বিএনপি কাজ করছে। সভায় ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রমুখ।
সিলেটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিন গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর তেমুখি পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশসহ প্রায় ১৫ জন আহত হন। জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পথসভায় চেয়ারে বসা নিয়ে সাহেবেরগাঁও, কুমারগাঁও ও চারুগাঁও এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। বর্তমানে তেমুখি পয়েন্টে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ওসি শামসুল হাবীব বলেন, গভীর রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিন গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শহরগুলোকে নিরাপদ রাখতে কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা। এই পদ্ধতিতে শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যাতে বৃষ্টির পানি স্পঞ্জের মতো শুষে নিয়ে ধীরে ধীরে নদী, খাল ও জলাধারে ছেড়ে দেওয়া যায়। এতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়। কী এই স্পঞ্জ সিটি ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণার প্রবর্তক চীনের ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি কংজিয়ান ইউ। গ্রামীণ চীনে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, প্রাকৃতিক জলধারা ও গাছপালা কীভাবে বৃষ্টির পানি নিয়ন্ত্রণ করে। শহরে অতিরিক্ত কংক্রিট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রকৃতির সেই স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এর বিকল্প হিসেবেই তিনি স্পঞ্জ সিটির ধারণা দেন। এটি ২০১৪ সালে চীনের নগর উন্নয়ন নীতির অংশ হয়। স্পঞ্জ সিটি কীভাবে কাজ করে স্পঞ্জ সিটিতে শুধু পাইপ আর ড্রেনের ওপর নির্ভর করা হয় না। বরং পার্ক, খোলা মাঠ ও জলাশয় বাড়ানো হয়। পানি বের হতে পারে এমন রাস্তা ও চত্বর তৈরি করা হয়। ছাদবাগান, রেইন গার্ডেন ও জলধারণকারী পার্ক গড়ে তোলা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ টানেল ও জলাধার নির্মাণ করা হয়। এর ফলে অতিবৃষ্টির সময় পানি জমে না থেকে ধীরে ধীরে মাটিতে শোষিত হয়। কোন শহর এগিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরাপের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সবচেয়ে ‘স্পঞ্জি’ শহর হলো নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড। শহরের বড় অংশজুড়ে সবুজ এলাকা ও জলাশয় থাকায় বৃষ্টির পানি সহজেই শোষিত হয়। অন্যদিকে, ডেনমার্কের কোপেনহেগেনকে ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার পর পরিকল্পিতভাবে স্পঞ্জ সিটিতে রূপান্তর করা হয়েছে। পার্কে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা, পানি বের হতে পারে এমন চত্বর এবং বড় ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণ করে শহরটি এখন বন্যা ঝুঁকিতে তুলনামূলক নিরাপদ। কেন এটি জরুরি জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা-সংক্রান্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছ, ঘাস ও জলাশয়ভিত্তিক সমাধান কংক্রিটভিত্তিক অবকাঠামোর তুলনায় খরচ কম, কার্যকারিতাও বেশি। ভবিষ্যতের শহর কেমন হবে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪৪০ কোটি মানুষ শহরে বসবাস করছে। তাই ভবিষ্যতের শহর পরিকল্পনায় পানি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। চীনের সাংহাই থেকে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহর ইতিমধ্যে স্পঞ্জ সিটির ধারণা অনুযায়ী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে এবং শহরকে বাসযোগ্য করতে স্পঞ্জ সিটির বিকল্প নেই। স্পঞ্জ সিটির আদলে যাচ্ছে দুবাই এদিকে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা নিয়ে এগোচ্ছে দুবাই। এ লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিট ২০২৬-এর ফাঁকে চীনের শেনঝেন শহরের আরবান প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি। চুক্তি অনুযায়ী, দুপক্ষই স্মার্ট সিটি, স্বল্প-কার্বন নগর উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটাভিত্তিক নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি পরিবহন-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, কম্প্যাক্ট নগর নকশা ও স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি জানায়, স্পঞ্জ সিটি মডেলে সবুজ ছাদ, পানি পার হতে পারে এমন রাস্তা, ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। শেনঝেন এই মডেলের সফল উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। শেনঝেন আরবান প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইউ লু বলেন, শেনঝেন ও দুবাই দুটোই দ্রুত উন্নয়নশীল ও উদ্ভাবনমুখী শহর। এই সহযোগিতা দুই শহরের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে। তথ্যসূত্র : ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, গালফ নিউজ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি (সাবেক টুইটার) হ্যাকডের ঘটনায় যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল আইডি হ্যাকডের বিষয়ে গ্রেপ্তার ছরওয়ারে আলমের সম্পৃক্ততার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ডিএমপি। তার ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপসহ আরও কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অনুমতি নিয়েই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা সরঞ্জামগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের মোবাইল ডিভাইসও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এদিকে জামায়াত আমিরের এক্স আইডি হ্যাক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-২০২৬ এর সদস্য ও ক্যাম্পেইন ডিভিশনের সমন্বয়ক মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
রেসিডেন্সি ও শ্রম আইন না মানার কারণে গত মাসে প্রায় ৩,৫০০ প্রবাসীকে বহিষ্কার করেছে কুয়েত। তবে কর্তৃপক্ষ কোন দেশের নাগরিক তা নিশ্চিতভাবে জানাননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে দেশে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এসব বহিষ্কার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। প্রবাসীদের লক্ষ্য করে রেসিডেন্সি ও শ্রম আইন কার্যকর করতে নিরাপত্তা অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে অবৈধভাবে কর্মরত শ্রমিক, পলাতক এবং অন্যান্য আইন লঙ্ঘনকারীরা রয়েছেন। যারা ইমিগ্রেশন বিধিমালা ভঙ্গ করেছিলেন। এই পরিসংখ্যান এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিককে কুয়েত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অভিযান আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। কুয়েত বলেছে, এসব ব্যবস্থা দেশের বৃহত্তর কৌশলের অংশ—যার লক্ষ্য শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইমিগ্রেশন আইন মেনে চলা নিশ্চিত করা। আগের বছরগুলোতেও একই ধরনের বড় আকারের অভিযানে কয়েক দশ হাজার প্রবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
জাপানে অস্বাভাবিক ভারী তুষারপাতে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাও রয়েছেন, যার মরদেহ নিজ বাড়ির সামনে তিন মিটার উঁচু তুষারের স্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল আওমোরিতে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো প্রায় ৪.৫ মিটার (প্রায় ১৫ ফুট) পর্যন্ত তুষার জমে আছে। মঙ্গলবার সকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে তুষারপাতজনিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানায়, ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই তুষারপাতে মঙ্গলবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। মূলত জাপান সাগর উপকূলজুড়ে শক্তিশালী শীতল বায়ুপ্রবাহের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ তুষার জমেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আওমোরির আজিগাসাওয়া এলাকায় ৯১ বছর বয়সি বৃদ্ধা মরদেহটি তুষারের নিচে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির ছাদ থেকে তুষার ধসে পড়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া উষ্ণ হলে জমে থাকা তুষার গলে পড়ে। তুষারের পরিমাণ ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে ছাদের নিচে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সোমবার আওমোরির গভর্নর সোইচিরো মিয়াশিতা জানিয়েছেন, তুষার সরাতে এবং একা বসবাসকারী বয়স্কদের সহায়তার জন্য তিনি সামরিক বাহিনীর সাহায্য চেয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছেই। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এবং তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ঢাকা চীনের দিকে ঝুঁকায় ভারত নতুন মাত্রার উদ্বেগে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের কৌশলগত অঞ্চল ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা দিয়েছেন, এই সংবেদনশীল এলাকায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র যোগাযোগ পথ হলো শিলিগুড়ি করিডোর। এই করিডোরের প্রশস্ততা কিছু জায়গায় মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হলে উত্তর-পূর্ব ভারত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। চারপাশে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান, আর কয়েকশ কিলোমিটার দূরে চীনের সীমান্ত। রেলমন্ত্রী বৈষ্ণব বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সাথে যুক্ত করার জন্য ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত করিডোরে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ভূগর্ভস্থ রেললাইন স্থাপন এবং বর্তমান লাইনগুলোকে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ অংশটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট ও রাঙাপানি স্টেশনের মধ্যে বিস্তৃত হবে এবং নিরাপত্তার দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশের একটি লাইন বাগডোগরার দিকে যাবে, যা ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেললাইনগুলো সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২০-২৪ মিটার গভীরে স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান দুই লেনের রেললাইনকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। সব মিলিয়ে এই কৌশলগত করিডোরে মোট ছয়টি রেললাইন থাকবে—চারটি মাটির উপরে, দুটি মাটির নিচে। ভারতের জন্য এই করিডোর দীর্ঘকাল ধরে দুর্বল জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কোনো বিঘ্ন ঘটলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, যা জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সেনা চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।
আরব সাগরে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দিকে ‘আগ্রাসীভাবে ধেয়ে আসা’ ইরানের একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টম হকিনস- এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটর জেট ড্রোনটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিবেদনে বিবিসি আরও জানায়, ড্রোনটি যখন এর দিকে অজানা উদ্দেশ্য নিয়ে উড়ে আসছিল তখন মার্কিন রণতরীটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে অবস্থান করছিল বলে জনান ক্যাপ্টেন হকিনস। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এমন সময় মার্কিন রণতরীর আশপাশে ইরানের ড্রোনের আনাগোনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইরান যদি এর চলমান পারমাণবিক প্রকল্প সীমিত করতে চুক্তিতে রাজি না হয় তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সাইফ আল-ইসলাম গত এক দশক ধরে জিনতানেই অবস্থান করছিলেন। তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কিভাবে তিনি নিহত হয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার রাজনীতিতে কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না। তবে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি কার্যত তার বাবার ‘নম্বর টু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালে লিবিয়ার বিরোধী বাহিনীর হাতে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার কয়েক দশকের শাসনের অবসান ঘটে। ২০১১ সালে রাজধানী ত্রিপোলি পতনের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে জিনতান থেকে তাকে আটক করা হয় এবং কারাবন্দি রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও সাবলীল বক্তা হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম তার বাবার কঠোর শাসনের বিপরীতে তুলনামূলক ‘সংস্কারমুখী’ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আরব বসন্তের পর লিবিয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লেও সাইফ আল-ইসলাম রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশজুড়ে রক্তের নদী বইবে এবং সরকার শেষ নারী-পুরুষ ও শেষ গুলি পর্যন্ত লড়াই করবে। পুরো লিবিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশ চালানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ৪০ বছর লাগবে। সাইফ আল-ইসলামের বিরুদ্ধে তার বাবার শাসনামলে বিরোধীদের ওপর নির্যাতন ও চরম সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালে তাকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হয় এবং তার বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। একই বছরের সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর লিবীয় কর্তৃপক্ষ তাকে নিজ দেশে বিচারের উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত অনুপস্থিত অবস্থায় তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। ২০১৭ সালে মুক্তির পর সম্ভাব্য হত্যার আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘ সময় জিনতানে আত্মগোপনে ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।