সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
মুন্সিগঞ্জে কাজি অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সিগঞ্জে বাসা থেকে এক কাজিকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি চাঁদাবাজির দুই লাখ টাকাও জব্দ করেছে।   ভুক্তভোগী কাজির নাম মো. হাবিবুর রহমান (৫২)। তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন। গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে যুবদল নেতা রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে কাটাখালী এলাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন।   এ ঘটনায় রাজিব হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভুক্তভোগী কাজি বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। চাঁদার দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রাজিবসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।   মামলার অভিযোগে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, সোমবার বেলা দুইটার দিকে তিনি কাটাখালী এলাকার বাসায় ছিলেন। তখন রাজিব হোসেন, তাঁর বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাঁর বাসায় আসেন। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাঁকে প্রথমে কাটাখালীতে তাঁর কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে শহরের অদূরে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজির লাইসেন্স বাতিল ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি টাকা দিতে রাজি হন। এরপর তাঁকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখায় নিয়ে তাঁর হিসাব নম্বর থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে আসামিদের টাকা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, ভয়ে তাঁর বাবা প্রথমে তাঁকেও বিষয়টি জানাতে চাননি। রাত ১০টার দিকে তিনি ঘটনা জানার পর মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানান। সংসদ সদস্যের পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। কিছুক্ষণ পর রাজিব হোসেন থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ওসির সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার হয়।   টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ হাসান। মামলা করলে পরিবার বিপদে পড়তে পারে—এমন ভয়ও দেখানো হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক পরিবার হওয়ার পরও যেসব ঘটনা ঘটল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ঘটে, সেটা অনুমান করা যায়। আমরা ভুক্তভোগী হয়েছি, আর কেউ না হোক। রাজিবসহ যারা ঘটনায় জড়িত এবং যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’   এ ঘটনার পর রাজিব হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
৭০ বছর পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে বাংলাদেশে এলো আসামের মিথানল

সাত দশক পর আবারও ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযাত্রা শুরু হলো। আসামের ডিব্রুগড় থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের পানগাঁও বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে একটি পণ্যবাহী বার্জ। ভারতের স্বাধীনতার পর আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক নৌযাত্রার এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।   সোমবার বগিবিল টার্মিনাল থেকে ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের বার্জটি যাত্রা শুরু করে। ‘কুশল কোঁওর’ নামের একটি টাগবোটের সহায়তায় বার্জটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাচ্ছে।   যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়ক এবং ভারত ও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, বহু দশক পর ডিব্রুগড়ে আবার স্টিমারের সিটি শোনা যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ডিব্রুগড়সহ উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক জলপথ বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলো।   আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ঘটনাটিকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, আসামের শিল্পে উৎপাদিত পণ্য এখন নদীপথ ব্যবহার করে দেশের বাইরে বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।   ১,৩০০ কিলোমিটারের নৌযাত্রা এই চালানের মিথানল উৎপাদন করেছে আসামের নামরূপের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (এপিএল)। বগিবিল থেকে বাংলাদেশের পানগাঁও পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের অংশে বার্জটি ব্রহ্মপুত্রের জাতীয় জলপথ-২ (এনডব্লিউ-২) দিয়ে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ প্রটোকল (আইবিপিআর) রুট ব্যবহার করে পানগাঁও বন্দরে যাবে।   ডিব্রুগড় থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্রহ্মপুত্রের ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। একসময় এই নদীপথে ডিব্রুগড় থেকে চা পরিবহন করা হতো। পরে রেলপথের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নদীপথে পণ্য পরিবহন কমে যায়। ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের ঐতিহাসিক ঘাটটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।   সম্প্রতি বগিবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বগিবিলে যাত্রী ও পণ্য টার্মিনাল চালু হয়। এসব অবকাঠামো আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।   এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে ভারতের হলদিয়া থেকে গুয়াহাটির পান্ডুতে টাটা স্টিলের পণ্য পরিবহন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী জাহাজ ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ও এই পথ অতিক্রম করে। তবে আসাম থেকে সরাসরি কোনো বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের ঘটনা এবারই প্রথম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে মিথানলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে আসাম থেকে সরাসরি নদীপথে মিথানল পরিবহনের এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীপথে পণ্য পরিবহন চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত বাণিজ্যিক নৌসেবা চালু রাখা, কাস্টমস ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া কতটা সহজ হয় এবং ফেরার পথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি করা যায় কিনা- এসব বিষয়ের ওপর।

৩ ঘন্টা আগে
কৃষকের বাড়িতে মিলল ৭৫ বস্তা সার, পাঁচবিবিতে চাঞ্চল্য

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে এক কৃষকের বাড়িতে ৭৫ বস্তা সার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল ৫৪ বস্তা সার। এ ঘটনায় ওই কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।   গতকাল‎ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের শিরতা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশপিয়া তাসরিন।   এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জহির রায়হানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   ওই কৃষকের দাবি, আলুর জমিতে ব্যবহারের জন্য সারের সংকটের আশঙ্কায় আগেভাগে এসব সার কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন তিনি।   ‎ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃষক রমজানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুতের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৭৫ বস্তা ভর্তি ও আরও একটি বস্তার অর্ধেক সার পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় রমজান ২১ বস্তা সারের বৈধ রসিদ দেখাতে পারেন। বাকি ৫৪ বস্তার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সেগুলো জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে টিএসপি ১২ বস্তা, এমওপি ২০ বস্তা, ডিএপি ১৯ বস্তা ও তিন বস্তা ইউরিয়া সার রয়েছে।   ‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ বলেন, রমজান ২১ বস্তা সারের মেমো দেখাতে পেরেছেন। বাকি ৫৪ বস্তার কোনো মেমো দেখাতে পারেননি। তাই বৈধ মেমো থাকা সার বাদ দিয়ে বাকি সার জব্দ করা হয়েছে।   ‎কৃষক রমজান বলেন, আলুর জমিতে ব্যবহারের জন্য তিনি সারগুলো কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন। সামনে সারের সংকট দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় আগেভাগে সার কিনে রেখেছেন। তাঁর আবাদি জমির প্রয়োজন মেটাতেই এসব সার মজুত করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।   ‎অভিযান শেষ হতে রাত হয়ে যাওয়ায় জব্দ করা সার বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। সারগুলো পাঁচবিবি থানার হেফাজতে রাখা হয় বলে জানান ‎পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম।   ‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, জব্দ করা সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

৩ ঘন্টা আগে
হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংরক্ষিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ভাস্কর্যের মাথার অংশে জুতার মালা ঝোলানো অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি অপসারণ করা হয়। তবে কে বা কারা এটি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা রং করা ভাস্কর্যের মাথার অংশে রশি দিয়ে জুতার মালা ঝোলানো হয়েছে। এতে ডান পাশে দুটি এবং বাম পাশে তিনটি জুতা বা স্যান্ডেল দেখা যায়।   জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাঁকে ফোন করে ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর বিষয়টি জানান। পরে ওই ব্যক্তি আবার ফোন করে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়।   কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা। কোনোভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’   ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, ভাস্কর্যস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভালো স্থপতির মাধ্যমে হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি সঠিক অবয়বে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান কামালুজ্জামান।   ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনেছি। এ ছাড়া বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে কোনো আপডেটও নেই।’   জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’   বাস টার্মিনাল এলাকার চা দোকানি জাবেদ মিয়া বলেন, সকালে দোকান খোলার সময় তিনি হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা দেখতে পান। পরে এক ব্যক্তি এসে সেটি সরিয়ে নেন।   বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি হয়তো ওখান থেকে মুছে ফেলার জন্য কেউ পরিকল্পনা নিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার সভাপতি শারমিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানার পর লোক পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছবি সংগ্রহের পর তিনি তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অবমাননার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’

৩ ঘন্টা আগে
সংগৃহীত ছবি
জাতীয়
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা তুলে দিতে ভবিষ্যতে গণভোটের প্রয়োজন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এমনভাবে পুনঃস্থাপন করা হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা সংসদ চাইলেই তা সহজে বাতিল করতে না পারে। ভবিষ্যতে এটি সরাতে হলে জনগণের মতামত নিতে ‘গণভোট’-এর প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এদিন বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি।   তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনীতে প্রতিফলিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাষ্ট্রপতি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারবেন না- সে বিষয়ে কমিটির সুস্পষ্ট মতামত রয়েছে। বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি এসেছে, তা বৈঠকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে থাকা অনেক বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোও স্বীকার করেছে। এসব বিষয় সংবিধানে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তফসিলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে জুলাইযোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।   জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার আন্তরিক। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সরকার অন্যান্য মামলার বিষয়গুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।   জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সনদ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে যাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে তা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবার মতামতই ধারণ করার চেষ্টা করবে বিশেষ কমিটি।   সংবিধান সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন পক্ষের লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, লংমার্চ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যে কেউ তা করতে পারেন। তবে লংমার্চ বা অন্য কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে তো আর সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। সংবিধান সংশোধন করতে হলে অবশ্যই সংসদীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৬, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি
৩০ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষ তলব

একসঙ্গে ৩০টির বেশি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও এনপিএসবি-সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা দ্রুত পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে ৩০টির বেশি ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হয়। এতে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, গ্রাহকদের স্বার্থ ও আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কিউ-ক্যাশ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতি দ্রুত সুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   তবে এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রোভাইডার এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত BACPS, BEFTN ও RTGS-সহ দেশের অন্যান্য পরিশোধ ব্যবস্থার কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিকল্প পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফাইল ছবি
বিশ্বের কোথায় মোতায়েন থাকে মার্কিন বোমারু বিমান?

যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে রবিবার ১২টি বি-১বি বোমারু বিমান উড্ডয়ন করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছে। এর মধ্য দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ঘাঁটির ভূমিকা আকস্মিকভাবে শেষ হলো।   লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ইউরোপে ভারী বোমারু বিমান পরিচালনার একমাত্র ঘাঁটি। একই সঙ্গে বিদেশে মোতায়েন করা বোমারু বিমানগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী ঘাঁটি।   সাম্প্রতিক সময়ে ঘাঁটিটিকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ‘সন্ত্রাসবাদের’ সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের সবাইকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় সর্বশেষ মঙ্গলবার আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনিও ব্রিটিশ নাগরিক।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানান, ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার পেছনে ‘কিছু হুমকি’ ছিল এবং তিনি মনে করেন, এসব হুমকির সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র থাকতে পারে। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সে কারণেই বিমানগুলোকে ‘কিছুটা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে খুব বেশি দূরে নয়’।   তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কথিত হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে বোমারু বিমান সরানোর সরাসরি যোগসূত্রকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, বোমারু বিমানের এক ঘাঁটি থেকে অন্য ঘাঁটিতে নিয়মিত রোটেশন বা স্থানবদল অস্বাভাবিক নয় এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি আস্থাশীল।   ফেয়ারফোর্ডে কী ঘটেছিল? ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ ফেয়ারফোর্ডের কাছে বিস্ফোরক স্থাপনের পরিকল্পনার সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। এক দিন পর তাদের জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।   তদন্তকারীরা তাদের ব্যবহৃত ভ্যানগুলোতে পেট্রল পেলেও কোনও বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি। তবে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলছে। এরপর বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রের সন্দেহ ছিল। তাকেও ৩ অক্টোবর জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।   সর্বশেষ মঙ্গলবার ২২ বছর বয়সী আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, কথিত এই ষড়যন্ত্রে ইরানের ‘ভূমিকা’ থাকতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।   ইরান অবশ্য এমন কোনও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গ্রেফতারের প্রতিবাদে তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকেও তলব করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।   যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কী ধরনের বোমারু বিমান আছে? বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনী তিন ধরনের কৌশলগত বোমারু বিমান পরিচালনা করছে। চতুর্থ একটি মডেল- বি-২১ রাইডার-এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বি-৫২ স্ট্রাটোফোরট্রেস মার্কিন বিমানবাহিনীর সবচেয়ে পুরোনো সক্রিয় বোমারু বিমান হলো বি-৫২ স্ট্রাটোফোরট্রেস। বর্তমানে ব্যবহৃত বি-৫২এইচ মডেলটি মূলত ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে নির্মিত।   বিমানটির ডানার বিস্তার প্রায় ৫৬ মিটার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বোমারু বিমান এবং প্রায় ৩১ টন অস্ত্র বহন করতে পারে। এর অস্ত্রভান্ডারে পারমাণবিক বোমার পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও থাকতে পারে।   বি-৫২-এর দীর্ঘ পাল্লা এবং বিপুল অস্ত্র বহনের সক্ষমতার কারণে কয়েক দশক ধরে এটি মার্কিন কৌশলগত বিমানশক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   বি-১বি ল্যান্সার ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি মার্কিন বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়া বি-১বি ল্যান্সার তিন ধরনের সক্রিয় বোমারু বিমানের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী। এটি শব্দের গতির ১ দশমিক ২ গুণ পর্যন্ত গতিতে উড়তে পারে। এর ডানা প্রয়োজন অনুযায়ী পেছনের দিকে ভাঁজ হয়ে যায়, যা উচ্চগতিতে উড্ডয়নে সহায়তা করে। বি-১বি প্রায় ৩৪ টন প্রচলিত অস্ত্র বহন করতে পারে- যা মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রচলিত অস্ত্র বহনক্ষমতা। তবে বর্তমানে এটি আর পারমাণবিক অস্ত্র বহন করে না। ফেয়ারফোর্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়া ১২টি বিমানই ছিল বি-১বি।   বি-২ স্পিরিট বি-২ স্পিরিট হলো স্টেলথ বা রাডারে শনাক্ত করা কঠিন এমন প্রযুক্তিতে তৈরি বোমারু বিমান। এর নকশা অনেকটা উড়ন্ত ডানার মতো, যা শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের মাত্র ২০টি বিমান নির্মিত হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে ১৯টি সক্রিয় রয়েছে।   বি-২ প্রচলিত ও পারমাণবিক- দুই ধরনের অস্ত্রই বহন করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি ওজনের বিশাল ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা, যা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলায় এই ধরনের বোমা ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল।   বি-২১ রাইডার মার্কিন বিমানবাহিনীর নতুন প্রজন্মের স্টেলথ বোমারু বিমান হলো বি-২১ রাইডার। এটি বি-২-এর তুলনায় ছোট এবং বর্তমানে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পর্যায়ে রয়েছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রথম বি-২১ দক্ষিণ ডাকোটার এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন হওয়ার কথা।   আগামী দেড় দশকে মার্কিন বিমানবাহিনী ধীরে ধীরে বি-১বি ও বি-২ বহর সরিয়ে বি-২১ এবং আধুনিকায়িত বি-৫২-এর ওপর নির্ভর করবে।   যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানগুলো কোথায় থাকে? মার্কিন সব বোমারু বিমানের স্থায়ী ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডেই। বর্তমানে পাঁচটি প্রধান ঘাঁটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। •    বি-৫২এইচ: বার্কসডেল বিমানঘাঁটি, লুইজিয়ানা; মিনট বিমানঘাঁটি, নর্থ ডাকোটা •    বি-১বি: ডাইস বিমানঘাঁটি, টেক্সাস; এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটি, সাউথ ডাকোটা •    বি-২: হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি, মিসৌরি •    বি-২১: ২০২৭ সালে এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা এসব ঘাঁটির রানওয়ে দীর্ঘ ও প্রশস্ত। সাধারণত এগুলোর দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ফুট বা প্রায় ৩ হাজার ৪৮ মিটারের বেশি। অর্থাৎ বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের মতোই দীর্ঘ এসব রানওয়ে।   তবে বোমারু বিমান কোথায় পরিচালনা করা যাবে, তা শুধু রানওয়ের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে না। নিরাপত্তা, অস্ত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং বিমান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিদেশে কোথায় মোতায়েন থাকে মার্কিন বোমারু বিমান? স্থায়ী ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রে হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী মার্কিন বিমানবাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন মিত্র দেশের ঘাঁটিতে সাময়িকভাবে বোমারু বিমান মোতায়েন করে। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের জন্য এসব বিমান সেখানে অবস্থান করে। এই কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বোম্বার টাস্ক ফোর্স’ মোতায়েন বলে।   বিদেশে বোমারু বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়ামের অ্যান্ডারসেন বিমানঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া।   সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের মোরন বিমানঘাঁটিতে বি-৫২, নরওয়ের অরল্যান্ড এবং জাপানের মিসাওয়া ঘাঁটিতে বি-১বি মোতায়েন করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে টিন্ডাল বিমানঘাঁটিতেও বি-৫২ মোতায়েন করা হয়েছে; সেগুলো সেপ্টেম্বরে সেখানে পৌঁছায়। এ ধরনের মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি থেকে দ্রুত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রাখা।   যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি হামলা চালানোও সম্ভব মার্কিন বোমারু বিমানকে বিদেশি ঘাঁটিতে স্থায়ীভাবে রাখতেই হবে- এমন নয়। আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেও দীর্ঘপথের অভিযান পরিচালনা করতে পারে এসব বিমান। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে এমন দীর্ঘপাল্লার অভিযানের নজির দেখা গেছে। এসব অভিযানে বোমারু বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় যেতে এবং আবার ফিরে আসতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।   একটি মিশনে তিনটি বোমারু বিমানের জন্য পথিমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করতে ছয় থেকে নয়টি ট্যাংকার বিমান প্রয়োজন হয়েছে।   ফলে মার্কিন বোমারু বিমানশক্তির মূল বৈশিষ্ট্য শুধু বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘাঁটি স্থাপন নয়; বরং দীর্ঘপাল্লার উড্ডয়ন, আকাশে জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতা এবং মিত্রদেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দূরের অঞ্চলেও দ্রুত সামরিক শক্তি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা।   ফেয়ারফোর্ড থেকে বি-১বি বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ভারী বোমারু বিমান পরিচালনার স্থায়ী ঘাঁটি না থাকলেও, প্রয়োজন হলে মিত্রদেশগুলোর বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই এসব বিমান অভিযান পরিচালনা করতে পারে। ফলে ফেয়ারফোর্ডের ভূমিকা শেষ হওয়া মানেই ওই অঞ্চলে মার্কিন দূরপাল্লার বোমারু সক্ষমতার সমাপ্তি নয়। সূত্র: আল-জাজিরা

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সে শিক্ষার্থী আন্দোলন ছড়াল দেশজুড়ে, গ্রেপ্তার ৬১০০

ফ্রান্সে স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্দোলনের সবচেয়ে বড় কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ সদস্য ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্সেই ও নঁতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও স্ট্রাসবুর্গ, লিয়ন ও রেন শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালান ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। পুলিশও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।   হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের সংগঠন জানিয়েছে, ফ্রান্সের অর্ধেকের বেশি স্কুল অবরুদ্ধ করা হয়েছে বা মঙ্গলবার বন্ধ ছিল। কোথাও কোথাও অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়।   আন্দোলনকারীদের দাবি, জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় আরও অর্থ বরাদ্দ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণ করতে হবে। স্কুলগুলোতে পানির লিকেজ থেকে শুরু করে ইঁদুরের উপদ্রবের মতো সমস্যাও রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।   সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দরিদ্র উপকণ্ঠে শুরু হওয়া আন্দোলনটি পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ সদস্য ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন।   সোমবার উত্তর ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় একটি গ্রেনেড হাতে তুলে নেওয়ার পর ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত ও বাহুর অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বাজেট ঘাটতি ও ঋণের চাপের মধ্যে শিক্ষাখাতে অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য

শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকের অপ্রতুলতা এবং শিক্ষাখাতে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। যা আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে তারা প্রায় দুই হাজার স্কুল ব্লকেড করেছে।   তবে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছেন। আর ব্যাপকহারে অভিবাসী আসার সুযোগ দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   আজ সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ নিয়ে বলেছেন, “ফ্রান্সে যা হচ্ছে তা ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের বাইরে ব্যাপক অভিবাসনের থেকে কম কিছু নয়। এটি কোনো স্কুলের বিষয় নয় (শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়), এটি ইসলামের বিষয়, যা এক সময়ের গ্রেট দেশ ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।”   এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর এটি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে ফরাসি সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে তার মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।   শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যেসব শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন তাদের বাদ দিতে হবে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘসময় ক্লাস চলার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে এবং দুপুরের খাবারের জন্য আরও বেশি সময় দিতে হবে।   এছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, পুরাতন স্কুলগুলোর পর্যবেক্ষণ করে এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   এছাড়া শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর জন্য পরিকল্পনা করছে সরকার, সেখান থেকে সরে আসাও তাদের অন্যতম বড় দাবি। সূত্র: রয়টার্স

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ইরানকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৬, ২০২৬

ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া। তেহরান ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও অর্থটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে অর্থ স্থানান্তর আটকে আছে।   ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে প্রথমবার এই ঋণের খবর প্রকাশিত হয়। এটি ইরানকে রাশিয়ার পরিকল্পিত ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে। অন্যদিকে তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থটি ব্যবহার করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বরাদ্দ দেওয়া হোক।   তবে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্যও রাশিয়াকে দেয়নি ইরান সরকার।   এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগসহ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া।   গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানায় ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ।   ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।   গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (ভিটিবি) ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানকে অর্থ স্থানান্তর ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সে শিক্ষার্থী আন্দোলন ছড়াল দেশজুড়ে, গ্রেপ্তার ৬১০০
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৭, ২০২৬

ফ্রান্সে স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্দোলনের সবচেয়ে বড় কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ সদস্য ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্সেই ও নঁতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও স্ট্রাসবুর্গ, লিয়ন ও রেন শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালান ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। পুলিশও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।   হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের সংগঠন জানিয়েছে, ফ্রান্সের অর্ধেকের বেশি স্কুল অবরুদ্ধ করা হয়েছে বা মঙ্গলবার বন্ধ ছিল। কোথাও কোথাও অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়।   আন্দোলনকারীদের দাবি, জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় আরও অর্থ বরাদ্দ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণ করতে হবে। স্কুলগুলোতে পানির লিকেজ থেকে শুরু করে ইঁদুরের উপদ্রবের মতো সমস্যাও রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।   সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দরিদ্র উপকণ্ঠে শুরু হওয়া আন্দোলনটি পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ সদস্য ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন।   সোমবার উত্তর ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় একটি গ্রেনেড হাতে তুলে নেওয়ার পর ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত ও বাহুর অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বাজেট ঘাটতি ও ঋণের চাপের মধ্যে শিক্ষাখাতে অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আরও সক্রিয় হতে চায় ভারত
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৬, ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সঙ্গে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং সংঘাত প্রশমনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।   সম্প্রতি এক সম্মেলনে জয়শঙ্কর বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারত এখন আর শুধু বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে। কৃষ্ণ সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ এবং সম্ভাব্য ‘আক্রমণ না করার’ বিষয়েও দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।   তার বক্তব্যে সংঘাত নিরসনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে মস্কোর সরাসরি সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছে নয়াদিল্লি। ইউক্রেন যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ভোটাভুটিতেও ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে।   গত আগস্টের শেষ দিকে কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকে তিনি সংঘাতের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান।   জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের অবসানে সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়েছে। জ্বালানি, মহাকাশ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।   গত সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক করেন মোদি। সেখানে দুই নেতা ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। এমন এক সময়ে এই বৈঠক হয়, যখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সীমিত করতে চাপ দিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে রুশ তেল কেনা বন্ধে নয়াদিল্লির ওপর চাপ প্রয়োগ করে ওয়াশিংটন।   মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে তা আবার বেড়ে যায়। ফলে জ্বালানি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।   প্রতিরক্ষা খাতেও রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বহরে রাশিয়ার তৈরি শত শত যুদ্ধবিমান এবং একাধিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের সময় এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কয়েকটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৬, ২০২৬

শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকের অপ্রতুলতা এবং শিক্ষাখাতে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। যা আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে তারা প্রায় দুই হাজার স্কুল ব্লকেড করেছে।   তবে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছেন। আর ব্যাপকহারে অভিবাসী আসার সুযোগ দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   আজ সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ নিয়ে বলেছেন, “ফ্রান্সে যা হচ্ছে তা ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের বাইরে ব্যাপক অভিবাসনের থেকে কম কিছু নয়। এটি কোনো স্কুলের বিষয় নয় (শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়), এটি ইসলামের বিষয়, যা এক সময়ের গ্রেট দেশ ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।”   এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর এটি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে ফরাসি সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে তার মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।   শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যেসব শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন তাদের বাদ দিতে হবে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘসময় ক্লাস চলার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে এবং দুপুরের খাবারের জন্য আরও বেশি সময় দিতে হবে।   এছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, পুরাতন স্কুলগুলোর পর্যবেক্ষণ করে এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   এছাড়া শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর জন্য পরিকল্পনা করছে সরকার, সেখান থেকে সরে আসাও তাদের অন্যতম বড় দাবি। সূত্র: রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব