সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরব–এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।   নিহতরা হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার নুরে আলম (৪২) এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ইদ্রিস মিয়া (৪৩)।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা জেদ্দা থেকে ব্যবসার মালামাল কিনে রিয়াদের উদ্দেশে ফিরছিলেন। পথে জেদ্দা–রিয়াদ মহাসড়কের আফিফ এলাকায় তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।   দুই প্রবাসী রিয়াদে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে। তাদের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তা কামনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবার থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পেলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হবে।

৫৮ মিনিট আগে
সৌদিতে বড় অভিযান: ৯ হাজারের বেশি প্রবাসী আটক

সৌদি আরব–এ এক সপ্তাহের অভিযানে ৯ হাজার ৫৭৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। একই সময়ে ১১ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   গত ৭ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিভিন্ন স্থানে এই গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে। অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও অংশ নেয়।   আটকদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘন, সীমান্ত আইন ভঙ্গ এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা এবং অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তার অভিযোগেও অনেকে আটক হয়েছেন।   বর্তমানে হাজার হাজার প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, অবৈধ অভিবাসনে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হবে।   কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট নম্বরে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশিদের বড় সুখবর দিল আরব আমিরাত

বাংলাদেশ থেকে আরও ৬ হাজার চালক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর দুবাইভিত্তিক একটি ট্যাক্সি কোম্পানি।   নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ–কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চালক বাছাইয়ের সাক্ষাৎকার শুরু হচ্ছে। বিষয়টি রোববার (১৭ মে) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে জানানো হয়।   কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি। বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে সন্তুষ্ট হয়ে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   প্রাথমিক ধাপে ১ হাজার ৫০০ চালক বাছাই করা হবে। চলতি বছরে মোট ৬ হাজার বাংলাদেশি চালক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বৃদ্ধি দেশের জন্য ইতিবাচক। তিনি প্রশিক্ষণকালেও কর্মীদের জন্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং অন্যান্য খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ করেন।   এই নিয়োগকে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

১ ঘন্টা আগে
হজ করতে গিয়ে সৌদি আরবে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব–এ ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী রয়েছেন।   বুলেটিনে বলা হয়, এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী বিভিন্ন ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। মোট ১৬১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা দেশটিতে যান। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদি এয়ারলাইনস এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ফ্লাইট রয়েছে।   সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজারের বেশি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।   হজ বুলেটিন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ১২ জন মক্কায় এবং ৫ জন মদিনায় মারা গেছেন।   চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮ এপ্রিল প্রথম হজ ফ্লাইট বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট ৩০ মে থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
হজ করতে গিয়ে সৌদি আরবে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব–এ ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী রয়েছেন।   বুলেটিনে বলা হয়, এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী বিভিন্ন ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। মোট ১৬১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা দেশটিতে যান। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদি এয়ারলাইনস এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ফ্লাইট রয়েছে।   সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজারের বেশি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।   হজ বুলেটিন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ১২ জন মক্কায় এবং ৫ জন মদিনায় মারা গেছেন।   চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮ এপ্রিল প্রথম হজ ফ্লাইট বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট ৩০ মে থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৮, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরব–এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।   নিহতরা হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার নুরে আলম (৪২) এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ইদ্রিস মিয়া (৪৩)।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা জেদ্দা থেকে ব্যবসার মালামাল কিনে রিয়াদের উদ্দেশে ফিরছিলেন। পথে জেদ্দা–রিয়াদ মহাসড়কের আফিফ এলাকায় তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।   দুই প্রবাসী রিয়াদে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে। তাদের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তা কামনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবার থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পেলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হবে।

ছবি: সংগৃহীত
পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে শেষ হলো অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড সিজন-৪

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনাল রাউন্ড ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড সিজন-৪’। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।   এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘ইউথ ইন অ্যাকশন, স্মার্টার ফার্মিং ইন মোশন’। ২০২০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজনটি করে আসছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড। এবারের আসরে পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল আই ফার্মার এশিয়া।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ফাইনাল রাউন্ডে ৯টি ক্যাটাগরিতে প্রায় ১৫০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে তিনজন করে বিজয়ী নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি সেরা সংগঠক ও সেরা ক্যাম্পাসকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।   এবারের অলিম্পিয়াডে ছিল অ্যাগ্রিকালচার, ফিশারিজ, লাইভস্টক প্রোডাকশন, অ্যাগ্রিবিজনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনোমিকস, ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স, অ্যাগ্রিকালচারাল ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি, ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং অ্যানিম্যাল হেলথ অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটি— এই ৯টি ক্যাটাগরি।   অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানা। এছাড়া জাতীয় স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ বিজয়ী কৃষিবিদ ড. এম এ রহিমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।   অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন আই ফার্মার, আপিজ ভেঞ্চার ও গেইনের প্রতিনিধিরা। সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. আতিকুর রহমান সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।   অলিম্পিয়াডে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হন। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আইইউবিএটি এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বেস্ট ক্যাম্পাস’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।   এবারের আয়োজনের সহযোগী হিসেবে ছিল প্রাণ, প্রিমিয়াম ফ্রুটস, স্পাইস এফএম ৯৬.৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, নাগরিক টেলিভিশন, ঢাকা পোস্ট, কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম।

ছবি: সংগৃহীত
কঙ্গোতে ইবোলায় ৮০ জনের মৃত্যু, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা ডব্লিউএইচও’র

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডা–তে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।   ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত এক মাসে কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ২৪৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।   ইবোলার বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ভাইরাসটির ছয়টি ধরন শনাক্ত হয়েছে— জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। বর্তমানে কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের জন্য বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ভাইরাসকে দায়ী করা হচ্ছে।   ইবোলা মূলত মানুষ ও প্রাইমেট জাতীয় প্রাণীর মধ্যে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র কিংবা শরীরের অন্যান্য তরলের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড় বা সুঁই থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলখেকো বাদুড় ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক। এছাড়া শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বনমানুষ ও কিছু বন্য প্রাণীর মাধ্যমেও ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।   ইবোলার সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ। রোগের শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে। এ কারণেই ইবোলাকে ‘হেমারেজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণজনিত জ্বর বলা হয়।   ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় গড়ে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।   বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ছয়জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।   বর্তমানে ইবোলার ‘জাইর’ প্রজাতির জন্য অনুমোদিত দুটি টিকা রয়েছে। এগুলো হলো— মার্ক অ্যান্ড কোং–এর ‘এরভেবো’ এবং জনসন অ্যান্ড জনসন–এর ‘সাবডেনো’। এছাড়া অন্যান্য প্রজাতির জন্যও নতুন টিকা ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।

ছবি : সংগৃহীত
বিমানের কাছে ১০ উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব এয়ারবাসের

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার বড় চুক্তির পরও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১০টি এয়ারক্রাফট বিক্রির নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ চুক্তির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা (১ ডলার = ১২২.৭৩ টাকা হিসেবে)।   এর আগে এয়ারবাসও বিমানের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তখন সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে বোয়িং থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ আবারও ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে এয়ারবাস।   নতুন প্রস্তাবে এয়ারবাস ছয়টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং চারটি এ৩২১-নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ সরবরাহের কথা জানিয়েছে। এ৩৫০-৯০০ মডেলে ২৮০টি আসন এবং এ৩২১-নিও মডেলে ২১৫টি আসন রয়েছে বলে জানা গেছে।   সম্প্রতি এয়ারবাসের একটি প্রতিনিধি দল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এবং বিমানের টেকনো-ফিন্যান্স কমিটিতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে মিক্সড ফ্লিট পরিচালনার সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়।   এর আগে ২০২৪ সালে এয়ারবাস ১৪টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল, যার মধ্যে ১০টি কেনার প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।   বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এয়ারবাসের প্রস্তাব বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক সুবিধা এবং পরিচালনাগত বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের উড়োজাহাজ থাকলে রুটভেদে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ফ্লিট ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়ানো সম্ভব।   বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩৪–৩৫ অর্থবছর নাগাদ বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিজয়ের সরকার ছয় মাসও টিকবে না : ডিএমকে নেতা
আক্তারুজ্জামান মে ১৮, ২০২৬

ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ও তার দল টিভিকে সরকারের মেয়াদ ছয় মাসের বেশি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমকের জ্যেষ্ঠ নেতা অনিথা রাধাকৃষ্ণন।   রোববার দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে এক দলীয় অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার আর মাত্র কয়েক মাস টিকবে এবং পরে আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন ডিএমকে নেতা এম. কে. স্টালিন।   অনুষ্ঠানে রাধাকৃষ্ণন বলেন, এই সরকার আর চার থেকে ছয় মাস টিকবে। এরপর আবার আমাদের নেতা স্টালিনই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।   তিনি টিভিকে নেতা আধব অর্জুনাকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, সাহস থাকলে এমএলএ পদ ছেড়ে তিরুচেন্দুর আসনে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে হবে। রাধাকৃষ্ণনের দাবি, তিরুচেন্দুর তাদের শক্ত ঘাঁটি এবং সেখানে যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানো সম্ভব।   তিরুচেন্দুর আসনটি গত প্রায় ২৫ বছর ধরে রাধাকৃষ্ণনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রথম ২০০১ সালে নির্বাচিত হন এবং পরে ডিএমকের হয়ে আসনটি ধরে রাখেন।   তিনি আরও বলেন, স্টালিন কোলাথুর এলাকাকে সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে স্টালিন নিজের শক্ত ঘাঁটি কোলাথুরে পরাজিত হন। সেখানে জয় পান টিভিকে-তে যোগ দেওয়া সাবেক ডিএমকে নেতা ভি. এস. বাবু।   এদিকে রাধাকৃষ্ণনের মন্তব্যের বিষয়ে এখনো টিভিকে বা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কার্যালয় থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   গত এপ্রিলে তামিলনাড়ুর নির্বাচনে টিভিকে বড় ধরনের চমক দেখিয়ে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পায়। পরে কংগ্রেস, বাম দল ও বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছির সমর্থনে সরকার গঠন করে দলটি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়।

ছবি: সংগৃহীত
ভারতে চালু হলো ক্যানসারের ইনজেকশন
আক্তারুজ্জামান মে ১৮, ২০২৬

ভারতে ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ধরনের ৭ মিনিটের ইনজেকশন চালু করেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া। ‘টিসেন্ট্রিক’ নামের এই ইনজেকশনটি বিশেষভাবে নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।   প্রচলিত ইমিউনোথেরাপিতে রোগীদের হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্যালাইনের মাধ্যমে ওষুধ নিতে হয়। তবে নতুন এই ইনজেকশন ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং হাসপাতালে চাপও কমবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী ও দূর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে।   এই চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের নাম অ্যাটেজোলিজুম্যাব। এটি পিডি-এল১ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে কাজ করে। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। প্রোটিনটি বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে।   চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর মাত্রা বেশি, তারা এই চিকিৎসা থেকে বেশি উপকার পেতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, নন-স্মল সেল লাং ক্যানসারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী এ চিকিৎসার উপযোগী হতে পারেন।   তবে নতুন এই চিকিৎসার বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর উচ্চ খরচ। প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ভারতীয় রুপি। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ছয়টি পর্যন্ত ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। ফলে পুরো চিকিৎসা ব্যয় কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। এছাড়া ওষুধটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প সিজিএইচএসের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে কিছু রোগী আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।   চিকিৎসকেরা বলছেন, ব্যয়বহুল হলেও দ্রুত চিকিৎসা, কম সময় হাসপাতালে থাকা এবং তুলনামূলক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
কঙ্গোতে ইবোলায় ৮০ জনের মৃত্যু, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা ডব্লিউএইচও’র
আক্তারুজ্জামান মে ১৮, ২০২৬

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডা–তে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।   ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত এক মাসে কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ২৪৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।   ইবোলার বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ভাইরাসটির ছয়টি ধরন শনাক্ত হয়েছে— জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। বর্তমানে কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের জন্য বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ভাইরাসকে দায়ী করা হচ্ছে।   ইবোলা মূলত মানুষ ও প্রাইমেট জাতীয় প্রাণীর মধ্যে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র কিংবা শরীরের অন্যান্য তরলের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড় বা সুঁই থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলখেকো বাদুড় ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক। এছাড়া শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বনমানুষ ও কিছু বন্য প্রাণীর মাধ্যমেও ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।   ইবোলার সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ। রোগের শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে। এ কারণেই ইবোলাকে ‘হেমারেজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণজনিত জ্বর বলা হয়।   ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় গড়ে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।   বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ছয়জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।   বর্তমানে ইবোলার ‘জাইর’ প্রজাতির জন্য অনুমোদিত দুটি টিকা রয়েছে। এগুলো হলো— মার্ক অ্যান্ড কোং–এর ‘এরভেবো’ এবং জনসন অ্যান্ড জনসন–এর ‘সাবডেনো’। এছাড়া অন্যান্য প্রজাতির জন্যও নতুন টিকা ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।

ছবি : সংগৃহীত
ইরাকের মরুভূমিতে গোপনে দুই ইসরায়েলি ঘাঁটি, আড়ালে ছিল মাসের পর মাস
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৮, ২০২৬

২০২৫ সালের ৩ মার্চ। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা। ইরাকের দুর্গম পশ্চিম মরুভূমিতে এক বেদুইন শিবিরের বাসিন্দারা একটি ট্রাক যেতে দেখেন। এটি ছিল স্থানীয় এক মেষপালকের গাড়ি। গাড়িটি কাছেই আল-নুখাইব শহরের দিকে যাচ্ছিল।   তবে কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাকটি ফিরে আসতে দেখেন তারা। তবে সেটি আর অক্ষত ছিল না। যেন অসংখ্য গুলিতে ট্রাকটি ঝাঁঝড়া হয়ে গেছে। ট্রাকটির কোনো অংশ আগুনও জ্বলছিল।    শিবিরের তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি হেলিকপ্টার ট্রাকটিকে ধাওয়া করছিল এবং সেখান থেকে অনবরত গুলি ছোড়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে ট্রাকটি মরুভূমিতে থেমে যায়।   ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন ২৯ বছর বয়সি আওয়াদ আল-শাম্মারি। তিনি বাজার করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পথে এ হামলার ঘটনা ‍ঘটে।  আওয়াদের চাচাতো ভাই আমির আল-শাম্মারি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, আওয়াদ ঘটনাবশত এমন এক গোপন ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, যা ইরাকের মরুভূমিতে গোপন অবস্থায় ছিল। তাদের ধারণা, এই ঘাঁটির সন্ধান পাওয়ার কারণেই হয়ত আওয়াদের প্রাণ গেছে।    আওয়াদের এই সন্ধানের মধ্যে দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, ইরাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপনে ইসরায়েলি দুটি ঘাঁটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে ইরাক।     আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আওয়াদ এক সময় ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু সৈন্য, হেলিকপ্টার এবং তাঁবু দেখতে পেয়েছেন। ইরাকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইসরায়েল সেখানে এই ঘাঁটি পরিচালনা করছিল।   ইরাকে ইসরায়েলি ঘাঁটির উপস্থিতির খবর এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করেছিল। তবে ইরাকের কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, পশ্চিম মরুভূমিতে আরও একটি দ্বিতীয় গোপন ঘাঁটি ছিল, যা আগে প্রকাশিত হয়নি।    আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, আওয়াদ যে ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগেই স্থাপন করা হয়েছিল এবং ২০২৫ সালের জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল।   একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যৎ সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ইসরায়েল ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই অস্থায়ী এই ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছিল এবং দূরবর্তী এলাকাগুলো চিহ্নিত করছিল।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে এসব ঘাঁটি ও আওয়াদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বারবার জানতে চাইলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।     আওয়াদের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি। একইভাবে, ইসরায়েলি ঘাঁটি নিয়ে কথা বলা অধিকাংশ কর্মকর্তাও পরিচয় গোপন রাখতে চান।   তাদের দেওয়া তথ্য থেকে বোঝা যায়, অন্তত একটি ঘাঁটির বিষয়ে, অর্থাৎ যেটি আওয়াদ আবিষ্কার করেছিলেন, সেটির বিষয়ে ওয়াশিংটন ২০২৫ সালের জুন বা তারও আগে থেকেই জানত। এর অর্থ হতে পারে, ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে এটা জানায়নি যে তাদের ভূখণ্ডে একটি শত্রু শক্তি (ইসরায়েলি বাহিনী) সক্রিয় রয়েছে।   ইরাকি আইনপ্রণেতা ওয়াদ আল-কাদু বলেন, 'এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং জনগণের মর্যাদার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।'   আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেন, ইরাকে গোপনে কার্যক্রম চালানো নিরাপদ হবে— এমন সিদ্ধান্ত নিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতাকেই বিবেচনায় নিয়েছিল।   দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত বছরের যুদ্ধ এবং বর্তমান সংঘাত উভয় সময়েই ওয়াশিংটন ইরাককে তাদের রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছিল, যাতে মার্কিন বিমান নিরাপদে চলাচল করতে পারে। এর ফলে শত্রু তৎপরতা শনাক্ত করতে বাগদাদকে আরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়।   এই ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ইরাকের জন্যও অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। যেমন— একজন মেষপালক বিষয়টি প্রকাশ না করা পর্যন্ত কি সত্যিই ইরাকি বাহিনী বিদেশি উপস্থিতি সম্পর্কে জানত না? নাকি তারা জানার পরেও চুপ ছিল?     যে সম্ভাবনাই সত্য হোক না কেন, এ থেকে স্পষ্ট হয় যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে আটকে থাকা ইরাক এখনো নিজের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।   ওয়াদ আল-কাদু বলেন, 'আমাদের নিরাপত্তা নেতাদের অবস্থান লজ্জাজনক।'   ইরাকি সামরিক বাহিনীর পশ্চিম ইউফ্রেটিস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের আবিষ্কারের এক মাস আগেই সেনাবাহিনী মরুভূমিতে ইসরায়েলি উপস্থিতির সন্দেহ করেছিল।   তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে।'   ইসরায়েলি ঘাঁটির বিষয়টি স্বীকার করা ইরাক সরকারের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ, ইরাকের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং দেশটির জনগণ ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবেই দেখে।    ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, 'ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে ইরাকের কাছে কোনো তথ্য নেই।'   দুই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আওয়াদ যে ঘাঁটিটি উন্মোচন করেছিলেন, সেটি ইসরায়েল বিমান সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং চিকিৎসা সেবার জন্য ব্যবহার করত।   ঘাঁটিটি স্থাপন করা হয়েছিল যাতে ইসরায়েলি বিমানকে ইরানে পৌঁছাতে কম দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এটি মূলত অস্থায়ী উপস্থিতি হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের মতো সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য। কর্মকর্তাদের মতে, সেই যুদ্ধে ঘাঁটিটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়।   গত বছরের যুদ্ধের পর দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সফল করা সম্ভব হয়েছে 'বিমান বাহিনী ও স্থল কমান্ডো বাহিনীর সমন্বয় এবং কৌশলগত বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতার' মাধ্যমে।   পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকে ইসরায়েলি কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জানতে চাইলেও এটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানায়।   তবে অঞ্চলটিতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন সামরিক কমান্ডার, পেন্টাগন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিবেচনায় পশ্চিম ইরাকে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড কিছুই জানত না — এমনটা কল্পনাও করা যায় না।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি