সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
৬ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে চায় ব্রাজিল

ভারতের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ম্যাচটি হবে কলকাতায়। ঠিক এর দুই দিন পর ঢাকায় অর্থাৎ ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও একটি ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।   রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ব্রাজিলের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল এসে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও রাতে কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হয়েছেন। রাতে বাফুফের সঙ্গে ডিনারে ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার প্রস্তাব রেখেছে।   কলকাতা থেকে ৪ অক্টোবর ঢাকায় এসে ম্যাচ খেলবে ভিনিসিয়ুসরা।   তবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফা আসিয়ান কাপের ম‍্যাচ থাকায় বাফুফে দোটানায়। কেননা এতো সংক্ষিপ্ত সময়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে এসে খেলা কঠিন। ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলে ফল কেমন হয় সেটাও রয়েছে চিন্তায়। তারপর এ ম্যাচ আয়োজন ব্যয়ও কম নয়। বড় রকমের আর্থিক বিষয় তো রয়েছেই।    ঢাকায় ২৩ সদস্যের খেলোয়াড় ছাড়াও ৯০ জনের বহর নিয়ে বাংলাদেশে আসতে চায় ব্রাজিল। তাদেরকে কলকাতা থেকে আনা ও ম্যাচ শেষে দুবাই পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব আছে।    এ ছাড়া অন্য বিষয় তো রয়েছেই। বাফুফে আপাতত ব্রাজিলের এমন প্রস্তাব নিয়ে ভাবছে। বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী বলে বাফুফে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

১৬ মিনিট আগে
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা

 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি।   রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।   ব্রিফিংয়ে নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে লংমার্চ সফল করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দেশবাসীও এতে অংশ নেবেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা পর্বে রাজধানীতে জনসমাবেশ হবে। পথে বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে সারাদেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।   নেতারা বলেন, ১১ দলের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।   সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে, কৃষক সার পাচ্ছেন না এবং জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।      তাদের অভিযোগ, বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। সরকার বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার না করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও দাবি করেন তারা।   পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ১১ দলের নেতারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান বলে জানান তারা।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।   নেতারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার কিংবা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যেন ‘এদিক-সেদিক উঁকিঝুঁকি’ না করে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে সরকার ধাবিত হলে এর পরিণতি ভালো হবে না—এটি তাদের স্পষ্ট বার্তা।   দেশবাসীকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এতে রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়া হবে।   বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   ব্রিফিংয়ে নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যার সমাধান করাই তাদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।

১৮ মিনিট আগে
ধর্ষণ মামলার রায় শুনে আদালতে জ্ঞান হারালেন আ.লীগ নেতা

মেহেরপুরে বন্ধুর প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় কলিম উদ্দিন ওরফে কালু নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই এজলাস থেকে নেমে আসামি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা।   রবিবার (২৩ আগস্ট) মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন ওরফে কালু মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা কলিম উদ্দিন তার এক বন্ধুকে চা খাওয়ানোর কথা বলে গ্রামের একটি দোকানে বসিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফিরে নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে দেখেন তিনি।   ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ২১ ডিসেম্বর ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ এই মামলায় তদন্ত করে ধর্ষণের সত্যতা পায়। এ ছাড়াও মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে আদালতে পুলিশ চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে। আদালতে ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কলিম উদ্দিন কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।   রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন। তিনি বলেন, এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।    রায়ের সময় আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহীম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

২ ঘন্টা আগে
যে ফার্স্টলেডির মরদেহ চুরির ১৬ বছর পর উদ্ধার হয়েছিল

আর্জেন্টিনার আইকনিক ফার্স্ট লেডি ইভা পেরন ১৯৫২ সালের জুলাইয়ে মারা যান। অনেকের কাছে তিনি ইভিটা নামেও পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর ৬০ বছর পর বিবিসি তার মরদেহের অদ্ভুত অন্তর্ধান এবং বিশ্বজুড়ে এর ১৬ বছরের দীর্ঘ যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এ প্রতিবেদন।   ১৯৫২ সালের ২৬ জুলাই ইভা পেরনের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর কাজে নেমে পড়েছিলেন ড. পেদ্রো আরা। প্রখ্যাত এই স্প্যানিশ অ্যানাটমিস্ট বা ব্যবচ্ছেদবিদকে আর্জেন্টিনার ফার্স্ট লেডির মরদেহ সেই একই উপায়ে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যেভাবে রুশরা তাদের নেতা লেনিন এবং স্ট্যালিনের দেহাবশেষ সংরক্ষণ করেছিল।   মৃত্যুর পর ইভিটার মরদেহ আর্জেন্টিনার শ্রম মন্ত্রণালয় ভবনে রাখা হয়েছিল। সেখানে শ্রমিকদের একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথা ছিল, যার ভিত্তিপ্রস্তরে থাকবে একটি কাচের কফিন, যেটিকে ইভিটার চূড়ান্ত বিশ্রামের স্থান হিসেবে ঠিক করা হয়েছিল।   কিন্তু তিন বছর পর ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার স্বামী প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং নির্বাসনে যান। নতুন সরকার এসে ইভা পেরনের মরদেহ শহরের কেন্দ্রে থাকা স্মৃতিস্তম্ভ থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।   সে কারণে তারা কাচের কফিনে রাখা মরদেহটি চুরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এর মাধ্যমেই শুরু হয় ১৬ বছরের এক করুণ সফর; নিজ ভূমিতে নিজের দেশে শেষ পর্যন্ত সমাধিস্ত হওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রা ইভিটার।   মরদেহ চুরির পর ফের বুয়েনস আইরেসে ফেরার এই ১৬ বছরের যাত্রায় ইভা পেরনের মরদেহ কখনো রাখা হয়েছিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স সেন্টারে, কখনো একটি ভ্যানে রেখে ঘোরানো হয়েছিল পুরো শহর। এর মধ্যে একবার ইতালির মিলানে কবর দেওয়া হয়েছিল।   সবশেষে বুয়েনস আইরেসে এনে একটি সুরক্ষিত ক্রিপ্ট বা সমাধিগৃহে রাখার আগে ইভিটার মরদেহ স্পেনের মাদ্রিদে তার নির্বাসিত স্বামীর কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।   • মৃত্যুর পরও মরেননি ইভিটা জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইভা পেরন ৩৩ বছর বয়সে মারা যান। তার মরদেহ সংরক্ষণের পেছনে তার স্বামীর রাজনৈতিক কারণ ছিল। দরিদ্র গ্রামীণ পটভূমিতে বেড়ে ওঠা এবং ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার জনকল্যাণমূলক কাজ ইভাকে শ্রমজীবী মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছিল। এমনকি তার জনপ্রিয়তা আর্জেন্টিনায় এক প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।   ‘‘তাই স্ত্রীর শরীরটা সংরক্ষণ করে তার স্বামী ওই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে বা সেটিকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন,’’ ২০১১ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন পেরনিজম বিষয়ক ইতিহাসবিদ ফ্লাভিয়া ফিওরুচ্চি।   পেরনিজম বলতে হুয়ান পেরন ও ইভা পেরনের আদর্শের ওপর গড়ে ওঠা আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক মতাদর্শকে বোঝায়, যার মূল ভিত্তি ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ এবং জনতুষ্টিবাদ।   ‘‘পেরন ও পেরনিজমের দিক থেকে বিভিন্ন প্রতীককে গুরুত্ব দেওয়ার যে বিষয়টি ছিল, এর সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল এটি। কারণ ইভিতাও তার দেশে এক প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।’’   এটি তার মৃত্যুর পরের সপ্তাহগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্প্যানিশ অ্যানাটমিস্ট ডক্টর আরা প্যারাফিন ও গ্লিসারিন ইনজেকশনের কৌশল ব্যবহার করে ইভিটার মৃত শরীরকে একদম তাজা আর স্বাভাবিক অবস্থায় সংরক্ষণ করতে সক্ষম হন।   ইভা পেরনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ কংগ্রেস ভবনে ১৪ দিন ধরে রাখা তার কফিন দেখতে এসেছিলেন। জীবিত অবস্থায় তিনি নিজের দেশের মানুষের কাছ থেকে যে অগাধ সমর্থন ও অন্ধভক্তি অর্জন করেছিলেন ইভিটা, মৃত্যুর পরও তা অব্যাহত ছিল।   আর ইভিটার মরদেহের এই প্রতীকী গুরুত্বই ছিল পরবর্তী ১৬ বছর ধরে তার দীর্ঘ যাত্রার মূল কারণ। ১৯৫৫ সালে যখন পেরন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন জেনারেল পেদ্রো আরামবুরুর নেতৃত্বে চলা একনায়কতন্ত্র পেরনিজম বা পেরনের আদর্শের সমস্ত দিক নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছিল এবং তারা ভয় পেয়েছিল যে ইভিটার মরদেহ প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।   বুয়েনস আইরেসের প্রাণকেন্দ্র থেকে ইভিটার মরদেহটিকে সরানোর পর সেটিকে এক জায়গায় রাখতেন না আর্জেন্টিনার সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল কার্লোস মুরি কেনিগ। বরং শহরের চারপাশে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় মরদেহটি সরিয়ে নিয়ে যেতেন।   কারণ তিনি আতঙ্কে ছিলেন, পেরনপন্থিরা এটি উদ্ধার করার চেষ্টা করতে পারে। বলা হয়ে থাকে, সেসময় ইভিটার মরদেহটি কখনো রাজধানীর রাস্তায় পার্ক করা একটি ভ্যানের ভেতরে, কখনো সিনেমা হলের স্ক্রিনের পেছনে এবং কখনো শহরের পানির সরবরাহের পাম্পের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।   তবে, যেখানেই কফিনটি নেওয়া হতো, সেখানেই ফুল ও মোমবাতি দেখা যেত। যদিও কারা সেটি রাখত তা জানা যায় না। লেফটেন্যান্ট কর্নেল কেনিগ এরপর মরদেহটি তার অফিসে নিয়ে যান, যেখানে তিনি কফিনটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখতেন এবং দর্শনার্থীদের দেখাতেন।   একটা সময় এমন হলো যে কেনিগ তার দায়িত্বে থাকা লাশটির প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে বলা হয়।   ‘‘আমি তাকে মিলিটারি স্কুল থেকে চিনতাম। সে একদম স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু (ইভিটার) মরদেহটি হাতে পাওয়ার পর সে পাগল হয়ে গিয়েছিল,’’ ১৯৯৭ সালে নির্মিত ডকুমেন্টারি ইভিটা, লা তুম্বা সিন পাজ, বাংলায় যার মানে ‘ইভিতা, শান্তিহীন কবরে’, বলেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল হেক্টর কাবানিয়াস।   আর্জেন্টাইন শিক্ষাবিদ সেসিলিয়া মাকন ২০১২ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, এ বিষয়ে আসল সত্যিটা ঠিক কী তা উদঘাটন করা কঠিন। কারণ ইভিটাকে ঘিরে থাকা গল্পগুলোতে মিথ এবং ইতিহাস ক্রমাগত মিশে গেছে।   এর মধ্যে একটি প্রচলিত গল্প হলো, কেনিগ ১৯৫৭ সালে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আগে তার দায়িত্বে থাকা ইভিটার লাশের প্রতি মোহাবিষ্ট হয়ে গিয়েছিলেন। কর্নেল কাবানিয়াসকে তখন ইভা পেরনের দেহটি অদৃশ্য করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ১৯৫৭ সালে এটি ইতালিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।   সে সময় ইভিটাকে ইতালির মিলানের এক কবরস্থানে মারিয়া মাজ্জি দে মাজিসত্রিস ছদ্ম নামে কবর দেওয়া হয়। এদিকে, দেশে তার সমর্থকরা ইভাকে ভুলে যাননি। প্রায়ই বুয়েনস আইরেসের দেয়ালে দেয়ালে লেখা দেখা যেত, ইভা পেরনের মরদেহ কোথায়?   লাশের প্রত্যাবর্তন সেসময় আর্জেন্টিনার পেরনপন্থিদের জন্য একটি বড় দাবি হয়ে ওঠে।   • লাশের প্রত্যাবর্তন ইতিহাসবিদ ফিওরুচ্চি বিশ্বাস করেন, সামরিক বাহিনী ইভিটার লাশ গায়েব করে দেওয়ার পর বিষয়টিকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলেছিল। ইভিটার মৃতদেহের ওপর যে আঘাত হানা হয়েছিল, তা দেশটির শ্রমজীবী শ্রেণীর মানুষের ওপর আঘাতেরই প্রতীক ছিল।   ১৯৭১ সালে আরেকটি নতুন সরকার আর্জেন্টিনায় গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছিল এবং পেরনপন্থিদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে হুয়ান পেরনের কাছে ইভিটার মরদেহ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়।   সেসময় সাবেক স্বৈরাচারী শাসক হুয়ান পেরন তার তৃতীয় স্ত্রী ইসাবেলকে নিয়ে মাদ্রিদের এক শহরতলির ভিলায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন, সেখানেই একদিন একটি রূপালী কফিনে করে ইভিটার দেহ পৌঁছে দেওয়া হয়।   হুয়ান পেরনের তৎকালীন ঘনিষ্ঠ সহযোগী কার্লোস স্পাদোনি ২০১২ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, তিনিই প্রথম মরদেহটি দেখেছিলেন। জেনারেল পেরন, মালী এবং আমি মিলে কফিন থেকে দেহটি বের করি, তিনি বলেছিলেন।   ‘‘আমরা এটিকে একটি মার্বেল পাথরের টেবিলের ওপর রাখি এবং আমাদের হাত মাটিতে নোংরা হয়ে যায়। তাই শরীরটা পরিষ্কার করতে হয়েছিল। ইসাবেল তুলা আর পানি দিয়ে খুব সাবধানে সেই যত্নটা নিয়েছিলেন... আর কিছুই না।’’   ইসাবেল তার (ইভার) সোনালী চুলগুলো আঁচড়ে দিয়েছিলেন। সেগুলো বেশ লম্বা ছিল এবং তিনি চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে চুলগুলো ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে দিয়েছিলেন।   এরপর কী ঘটেছিল তা নিয়ে ফের নানা গল্পগাঁথা ছড়িয়ে পড়ে, যা মূলত পেরন সরকারের সাবেক মন্ত্রী হোসে লোপেজ রেগার অলৌকিক বিশ্বাসের ওপর কেন্দ্র করেই ছড়িয়েছিল।   একটি গল্প এরকম; ইসাবেলকে ইভা পেরনের লাশের পাশে শুয়ে পড়তে বলেন রেগা যাতে ইভিটার রাজনৈতিক জাদু বা ক্যারিশমা তার ওপর প্রভাব ফেলে। এমন বিশ্বাস ইভিটার প্রতি তার অনুসারীদের যে প্রায় ধর্ম বিশ্বাসের মতো অগাধ শ্রদ্ধা ছিল সেই ব্যাপারটিকেই প্রতিফলিত করে।   এক সময়ের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ইভিটা, যিনি তার স্বামীর সাথে ক্ষমতায় এসেছিলেন, নিজের অনুসারীদের কাছে তিনি এক সময় যেন আধ্যাত্মিক নেতা হয়ে উঠেছিলেন। যে কারণে ইভা পেরনের মরদেহ তার অনুসারীদের কাছে পবিত্র হয়ে উঠেছিল, যদিও পেরন বিরোধীরা তাকে চরম ঘৃণা করত।   এরপর ১৯৭৩ সালে হুয়ান পেরন আর্জেন্টিনায় ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তখন ইসাবেল ছিলেন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট। এদিকে, ইভিটার দেহ স্পেনেই থেকে গিয়েছিল।   কিন্তু ১৯৭৪ সালে হুয়ান হঠাৎ মারা যাওয়ার পর ইভিটার মরদেহ বুয়েনস আইরেসে ফিরিয়ে আনা হয়। ইভিটার মরদেহের ক্ষতি মেরামত করার জন্য যখন প্রথম যোগাযোগ করা হয়, তখন দোমিঙ্গো তেইয়েচিয়া রাজধানীর একটি বারে বসে ছিলেন।   কালো পোশাক পরা দুই লোক ভেতরে ঢোকে, ২০১২ সালে তিনি বিবিসিকে বলেন।   ‘‘তারা দরজা খুলে আমাদের দিকে তাকায়। এটি বিপজ্জনক ছিল, কারণ সেই দিনগুলোতে মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো এবং গায়েব করে দেওয়া হতো, তাদের আর কখনো দেখা যেত না।’’   তেইয়েচিয়া ছিলেন শিল্পকর্ম, প্রত্নবস্তু এবং মানুষের দেহাবশেষের রেস্টোরার বা পুনরুদ্ধারকারী, যিনি ক্ষতি বা বিকৃতি সারিয়ে তাকে পূর্বাবস্থায় ফেরত আনেন। সরকারের ডেথ স্কোয়াডের ভয়ে আতঙ্কিত হলেও, যখন জানতে পারেন লোক দুটি কেবল ড্রাইভার, তখন স্বস্তি পান তেইয়েচিয়া।   তারা মরদেহকে ইভা পেরনের সাবেক ব্যক্তিগত চিকিৎসক অস্কার ইভানিসেভিচের কাছে নিয়ে যায়।   ‘‘তিনি আমাকে বললেন, আমাদের কাছে তোমার জন্য একটা কাজ আছে। তোমাকে ইভা পেরনের শরীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।’’   ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও তেইয়েচিয়া কাজটিতে রাজি হন।   ‘‘কাজটি করা মানে ছিল সেই সমস্ত লোকদের বিরুদ্ধে যাওয়া, যারা দেহটি গায়েব করে দিয়েছিল এবং অনেকেই সত্যি চেয়েছিল ইভিটা যেন আর কখনো ফিরে না আসেন। আমি জানতাম এটি আমার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে,’’ তিনি বলেছিলেন।   ‘‘হুমকি আসত, ফোনে হুমকি। একবার আমার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।’’   পরবর্তীতে আর্জেন্টিনায় একের পর এক সরকারের অধীনে রাষ্ট্রীয় বর্বরতা ও নির্যাতন নিয়মিত হয়ে উঠলে এই পুনরুদ্ধারকারীকে নির্বাসনে যেতে হয়। অবশেষে ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে যখন ইভিটাকে চূড়ান্ত বিশ্রামে রাখা হয়, তার দাফনের সাক্ষী ছিল খুব ছোট একটি দল।   তার দেহাবশেষ যেন আর কখনো চুরি বা এমন কোনো প্রতিকূলতার মধ্যে না পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য মরদেহ রাখা হয় অতি-সুরক্ষিত ক্রিপ্টে, মানে পাথরের ভল্টে। মার্বেল পাথরের সমাধির মেঝেতে একটি গোপন দরজা ছিল, যা নিচে একটি লুকানো ঘরের দিকে নিয়ে যেত।   আর সে ঘরে ছিল দ্বিতীয় আরেকটি গোপন দরজা, যা দিয়ে ইভিটার কফিনের মূল কক্ষে নিয়ে যেত। মৃত্যুর ২৪ বছর পরও, ইভিটার প্রতীকী শক্তির কারণে তার দেহ মাটির পাঁচ মিটার গভীরে সমাহিত করতে হয়েছিল। 

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনে যেগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   সব ঠিক থাকলে ২১ সেপ্টেম্বর তিনি নিউ ইয়র্কে যেতে পারেন। এরপর তার সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ারও কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর নয় দিনের এই সফরের প্রস্তুতি চলার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কাজ চলছে তার সফরসঙ্গীদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংগ্রহের।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পাঠানো একটি নোট ভার্বালে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।   কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারপ্রধান হিসাবে প্রথমবারের মত জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে বিভিন্ন আয়োজনেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে সরকারপ্রধানের।   সানফ্রান্সিসকোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভাতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।   এমন এক সময়ে জাতিসংঘে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী, যখন সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।   ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার কথা এর আগে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর ভারতে যাওয়ার আলোচনা চললেও বিষয়টি পরে আর এগোয়নি। তার প্রেস সচিব সালেহ শিবলী শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছিল ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল’: জামায়াত আমির

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সেটি ছিল ভবিষ্যতের ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল’। আজ রোববার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশে যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি। তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়। তাদের কসরত করতে হয়, রিহার্সাল দিতে হয়। এরা যেন চব্বিশকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল। শফিকুর রহমানের ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর তিনি মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ এবার পরিষ্কার হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, বরং আবর্জনার কলেবর আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যায় না। ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী। জামায়াত আমির আরও বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর যারা নির্যাতিত ছিলেন, তাদের কেউ এখন সরকারি দলে, আবার কেউ বিরোধীদলে রয়েছেন। তবে বিরোধীদলের দায়িত্ব সরকারকে অন্ধভাবে বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো করলে তাকে সহযোগিতা-সমর্থন করা আর সরকার যদি কোনো অন্যায় করে, জনগণের কোনো অধিকার হরণ করে অথবা খারাপ পথে হাঁটে, তাহলে সরকারকে বাধা দেওয়া, প্রতিবাদ করা—এটাই বিরোধীদলের দায়িত্ব। সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকার সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। ‘এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদের রাস্তা। এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা। এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। এই রাস্তা শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার রাস্তা’, বলেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাউকে এই পথে চলতে দেবে না। সুতরাং বিরত থাকুন। অনুষ্ঠানে দেশের ভাবমূর্তি ও নাগরিকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের কাছে একটি জাতির সম্মানের অন্যতম মানদণ্ড হচ্ছে তার ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর পেছনে দেশের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও দায়ী। তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে এবং ক্ষমতায় আসা কেউই এ অপকর্ম থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। শফিকুর রহমান বলেন, মানুষকে ধরে নিয়ে বছরের পর বছর গুম করে রাখা, তাদের স্বজনদের অন্ধকারে রাখা এবং নির্যাতন চালানোর মতো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে। তিনি সচেতন নাগরিকদের জুলাই জাদুঘর ও স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান। তবে ‘বিশেষ একটি দেশকে খুশি করার জন্য’ সেখানে অতীতের নির্যাতন ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির অনেক স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে যোগদানপত্র নিচ্ছেন জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রী পদ থেকে সরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন

সদ্য তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর আগে শনিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।   বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় প্রথম দফা রদবদল ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। এতদিন তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।   মন্ত্রীর পদ থেকে স্বপনের পদত্যাগ এবং তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার বিষয়টি শুক্রবারই জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এর পরদিন শনিবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   এদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। শুক্রবার তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।   জহির উদ্দিন স্বপন ছাড়াও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী।

ছবি: সংগৃহীত
নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় সোমবার

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হবে সোমবার (২৪ আগস্ট)। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে রায়ের এ দিন ধার্য করেন।   আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে আদেশ দেন।   আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। আসামি পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, মোহাম্মদ শিশির মনির ও অন্য আইনজীবীরা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট ওই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। গঠিত দ্বৈত বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বেঞ্চে চাঞ্চল্যকর ওই হত্যা মামলায় গত ২৮ জুলাই শুনানি শুরু হয়েছিল। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে তা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।   আলোচিত ওই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।   মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।   নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। এসবের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে সোমবার মামলাটি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর প্রথমবার নয়াপল্টনে রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।   রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের কার্যালয়ে এসে নিজের দাপ্তরিক কাজ করেন। এরপর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা এবং ১২ দলীয় জোটের নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কেউ কেউ ফুল দিয়েও শুভেচ্ছা জানান।   এর আগে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, তিনি সব সময়ই নয়াপল্টনের কার্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পরও এ কার্যালয়ে তার যাতায়াত কমেনি। এক বিন্দুও বাড়েনি দূরত্ব। এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ড. মাওলানা মুফতি মহীউদ্দিন ইকরাম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পারভেজ, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।   আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে ২০১৫ সাল থেকেই নিয়মিত নয়াপল্টন কার্যালয়ের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন রিজভী। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজনৈতিক কারণে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরপাকড় শুরু হলে তিনি নিরাপত্তাগত ও সাংগঠনিক কারণে নয়াপল্টন কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দপ্তরের একটি ছোট কক্ষে থাকা, খাওয়া ও ঘুমানো শুরু করেন। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার কারাগারে গেলে তিনি আর বাসায় ফেরেননি।   ওই সময় নয়াপল্টনের কার্যালয়কে কার্যত নিজের কর্মস্থলের মতোই ব্যবহার করেছেন বিএনপির এই নেতা। প্রায় ২৫ মাস জেল খাটার পর মুক্তি পাওয়ার পর তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেন। সেই সময়ে একটানা ৭৮৭ দিন (প্রায় দুই বছর দুই মাস) তিনি নয়াপল্টনে অবস্থান করেন।   সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পরও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সঙ্গে তার সেই সম্পর্ক অটুট রয়েছে। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর রোববার প্রথমবারের মতো তিনি সেখানে এসে দাপ্তরিক কাজ করেন।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক দলীয় কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকছেন রিজভী।   তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, ‘এ কার্যালয় তার (রিজভী) একটি ভালোবাসার ঠিকানা। তাই সুযোগ পেলেই তিনি সেখানে চলে আসেন।’

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে শত্রু ভাববে ইরান
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৩, ২০২৬

যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ ইরানের বিরুদ্ধে অংশ নেবে, তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই।   তিনি বলেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে ইরান হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বের হতে দেবে না।   ইরানের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি তার যুদ্ধকৌশল ও কূটনৈতিক আচরণে পরিবর্তন আনবে। তাঁর দাবি, সামরিক হামলায় ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   এর আগে ইরান ওই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা স্থগিত রয়েছে।    তবে শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, গত ছয় মাসের বিরোধের অবসানের সময় এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ‘আকাঙ্ক্ষা’ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মোহসেন রেজাই।   এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলার পরও যদি কোনো দেশ হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে না পারে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—‘আমরা কেন পারমাণবিক বোমা অর্জন করব না?’   রেজাইয়ের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে কিছু দেশ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করাই হয়তো আরও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার উপায়।   তিনি বলেন, ইরান যখন পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) বা নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটির সদস্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছিল, তখনই দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।   রেজাই দাবি করেন, এর ফলে এখন বিশ্বজুড়ে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এনপিটি বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সদস্যপদ—কোনোটিই কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে পারে না। এতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে গেছে।   সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি নিয়েও সতর্কবার্তা দেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ অর্থনৈতিক চাপ বা অবরোধে অংশ নিলে এর প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব: অমিত শাহ
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬

ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করা যোগ্য শরণার্থীদের আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে আয়োজিত সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। শাহ বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।   অমিত শাহ বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সব শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এর আগে বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গসহ আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা প্রশাসকদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় জমা থাকা আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষমতা দেয়।   এর আগে নাগরিকত্বের আবেদনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হতো। এসব কমিটিতে আদমশুমারি, গোয়েন্দা ব্যুরো ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তারাও থাকতেন।   নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন অমিত শাহ।   শাহ বলেন, আইনটি চালুর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতেন। তিনি বলতেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আইনটি বাস্তবায়ন করতে দেবে না।   শাহ বলেন, মমতা তখন আইনটি বাস্তবায়নে সম্মতি দেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সরকারই চলে গেছে এবং এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে রাজ্য থেকে বের করে দেবে।   সূত্র : এএনআই 

ছবি: সংগৃহীত
আইফোন কেনার জেদে মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্রে আইফোন কেনাকে কেন্দ্র করে এক তরুণ এবং তার বাবা ও মা পাহাড় থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন। বাবা ও ছেলে পাহাড় থেকে গড়িয়ে গিরিসঙ্কটে পড়ে যাওয়ার পর সেখানে থাকা মা তাদের অনুসরণ করে ঝাঁপিয়ে পড়েন।   ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাজ্যের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলায়। শনিবার ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, অনেকের মোবাইল ফোনের ক্যামেরা অন করা থাকায় পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড হয়ে গেছে।   এনডিটিভি জানিয়েছে, কুনাল (১৮) কিস্তিতে একটি আইফোন কেনেন, কিন্তু কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এ থেকেই ঘটনার উৎপত্তি। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।   তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কুনাল যে আইফোন কিনেছিলেন তার কিস্তি পরিশোধ করার জন্য পরিবারের কাছে টাকা চান। এই নিয়ে বাবার সঙ্গে তার জোর কথা কাটাকাটি হয়। উত্তেজিত কুনাল বাড়ি থেকে বের হয়ে যান আর সকাল ১০টার দিকে নিকটবর্তী তিসগাঁওয়ের একটি পাহাড় বেয়ে ওঠেন।   পেছনে পেছনে তার বাবা ও মা সেখানে এসে হাজির হন। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুনালকে বুঝিয়ে সুজিয়ে পাহাড় থেকে নামনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কুনাল পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিতেই থাকে।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “তোমার মা-র জন্য বেঁচে থাকো।” কিন্তু কুনাল উত্তর দেয়, “না, আমাকে মরতে হবে। এ ছাড়া আর পথ নেই।”   যারা কুনালকে বুঝিয়ে নামানোর চেষ্টা করছিলেন তাদের মধ্যে তিসগাঁওয়ের পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় যাদবও ছিলেন। তারা সবাই মিলে কুনালকে একটি আইফোন ১৫ প্রো কিনে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।   “আমরা অনেক অনুনয়-বিনয় করেছিলাম, যে তার উচিত তার মাকে দেখা। তার ঝাঁপ দেওয়া উচিত হবে না। সে শিক্ষিত আর তার একটি ভবিষ্যৎ আছে। যা যা বলে তাকে বোঝানো যায় আমরা সব বলার চেষ্টা করেছিলাম,” বলেন যাদব।   কিন্তু কুনাল কোনো কথাই শুনছিল না। সে বারবার কাঁধ ঝাকাচ্ছিল আর মৃত্যুই তার একমাত্র পথ বলে জেদ করছিল।   এভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পর দুপুর প্রায় ১টার দিকে কুনালের বাবা মুরালিধর চাঁদগুডে ছেলে পাহাড়ের যে কিনারে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে গিয়ে হাজির হন। তিনি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন আর এক পর্যায়ে তাকে পাহাড়ের কিনার থেকে টেনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।   কিন্তু একপর্যায়ে দুজনেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন আর গড়িয়ে পাহাড়ের পাশের গিরিসঙ্কটে পড়ে যান। অদূরে দাঁড়ানো কুনালের মা সঙ্গীতা স্বামী ও ছেলেকে পড়ে যেতে দেখে কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেও লাফ দেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।   কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ও ওই এলাকায় থাকা পর্যটকদের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। তাদের অনেকেই কুনালকে বুঝানোর চেষ্টায় যোগ দিয়েছিলেন। এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আর কিছু জানায়নি।

ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনকে মুছে দিচ্ছে ইসরাইল’
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬

একশরও বেশি সাবেক ফরাসি ও ব্রিটিশ কূটনীতিক বলেছেন, বিশ্বের চোখের সামনেই ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে ইসরাইলকে বাধ্য করার লক্ষ্যে বাণিজ্য ও অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞাসহ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   শনিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নজিরবিহীন যৌথ চিঠিতে প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা পরিহার করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযানের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সতর্ক করা হয়, বিশ্ব এখন আর ইসরাইলকে প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছে না।   আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য গঠনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কূটনীতিকরা বলেন, উভয় দেশই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের যুক্তি, মধ্যপ্রাচ্যের মৌলিক সংকট—অর্থাৎ ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের সমান অধিকারের প্রশ্নে একজোট হয়ে কাজ করা এখন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের দায়িত্ব।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কাছে পাঠানো এ চিঠিতে ৫২ জন সাবেক ফরাসি কূটনীতিক এবং ৫০ জন সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সই করেছেন। তাদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ—যেমন মিসর, ইরান, বাহরাইন, ইসরাইল, সিরিয়া, তুরস্ক, কুয়েত, সৌদি আরব ও কাতারে—উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   ব্রিটিশ কূটনীতিকদের তালিকায় আছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত দুই সাবেক দূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোন্স প্যারি এবং ফরেন অফিসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক এডওয়ার্ড চ্যাপলিন। ফরাসি স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক প্যাট্রিস পাওলি এবং জেরুজালেমে নিযুক্ত সাবেক কনসাল জেনারেল স্তানিসলাস দে লাবুলে।   ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান এবং ফ্রান্সের ল্য মঁদ পত্রিকায় হস্তান্তর করা চিঠিটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আরও নয়টি দেশের সঙ্গে মিলে ইসরাইলের ‘ই-১’ বসতি প্রকল্পের নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বানের নিন্দা জানিয়েছে।    তারা বলেছে, প্রস্তাবিত এ আবাসন প্রকল্প ‘ইসরাইলকে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে আরও দূরে সরিয়ে নেবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে’।   ওই যৌথ বিবৃতিতে কোনো কঠোর পরিণতির স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়নি। তবে নিজ নিজ দেশের ব্যবসায়ীদের দরপ্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, একটি অবৈধ বসতি নির্মাণে বিনিয়োগের ফলে আইনি জটিলতা ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।   যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরকে দ্বিখণ্ডিত করে ১ হাজার ২০০টি বাড়ি নির্মাণের জন্য আহ্বান করা দরপত্রকে ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কার্যকারিতার জন্য এক ধ্বংসাত্মক হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ইসরাইলের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড্যানিয়েলা গ্রুডস্কি একস্টিনকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।   কূটনীতিকদের আশা, তাদের এ চিঠি ম্যাক্রোঁ ও বার্নহ্যামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, যাতে ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ প্রক্রিয়াটি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।   গাজা থেকে ইসরাইলের সরে আসার শর্তাবলি নিয়ে কূটনৈতিক বিষয়টি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইসরাইলের মধ্যকার আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরাইল গাজাবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মুসলিম মিত্র আটটি মুসলিম দেশ এর সমালোচনা করেছে।    তারা বলেছে, ইসরাইলের এসব পদক্ষেপ একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে মৌলিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   সাবেক কূটনীতিকদের যুক্তি, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার যে পদক্ষেপটি অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল, তা এখন জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেওয়া প্রয়োজন।    কারণ, ইসরাইল সরকার আইন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অসংখ্য প্রস্তাবকে অবজ্ঞা করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের যেকোনো সম্ভাবনা ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।   কূটনীতিকরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, গাজা ও এর জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার ইসরাইলের সুপরিকল্পিত নীতিকে কোনোভাবেই যৌক্তিক বলা যায় না। ‘তলোয়ারের জোরে’ টিকে থাকতে হবে—নেতানিয়াহুর এ দাবি নৈতিকভাবে ভুল এবং তা হিতে বিপরীত ফল বয়ে এনেছে। এটি ইসরাইলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করেছে এবং আলোচনার কোনো সুযোগ রাখেনি।   তাদের মতে, বিশ্ব এখন আর ইসরাইলকে একটি প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে দেখে না। কারণ, অন্যদের অধিকার ও ভূমি থেকে বঞ্চিত করার মধ্যে গণতান্ত্রিক কিছু নেই।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গাজায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বিধ্বস্ত ভূখণ্ডের মাত্র ৩০ শতাংশ এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তারা ক্ষুধার্ত এবং তাদের ওষুধ ও বাসস্থানের অভাব রয়েছে। তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে ১ হাজার ২০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের অন্যান্য অংশে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের যোগসাজশে বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক সহিংসতা জাতিগত নির্মূল অভিযানের শামিল বলেও দাবি করেন কূটনীতিকরা।   তারা বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলা হচ্ছে।’ এটি মানবতার বিবেকে এক কলঙ্ক। এ পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি