সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নবীন চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. অদিতি সাহা অনন্যা। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার এমন করুণ মৃত্যু পরিবার, সহপাঠী ও চিকিৎসক সমাজকে শোকাহত করেছে।   অদিতির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায়। তিনি বাবুল সাহার একমাত্র কন্যা।   জানা গেছে, রাজধানীর জহিরুল হক শিকদার মেডিক্যাল কলেজের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন অদিতি। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে ইউনাইটেড স্টেটস মেডিক্যাল লাইসেন্সিং এক্সামিনেশন (USMLE) সম্পন্ন করে একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   এর আগে তিনি রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি এবং কেম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে চিকিৎসা পেশায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন তিনি।   চলতি বছরের জুলাই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি শুরু করেন অদিতি। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের পর চিকিৎসক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই পথচলা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই শিকাগোর সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিভে যায় তার সম্ভাবনাময় জীবন।   তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দেশে ও প্রবাসে সহপাঠী, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে একজন মেধাবী, মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

২ মিনিট আগে
ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার এএসআই সুজেল

দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নির্বাচিত হয়েছেন কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার এএসআই সুজেল। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় ঢাকা জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে সাফল্য এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এএসআই সুজেল এ সম্মাননা অর্জন করেন। এ সম্মাননা অর্জনে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার পুলিশ সদস্য, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি একই নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জনগণের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তারা এএসআই সুজেলে'র সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন।

২ ঘন্টা আগে
প্লাস্টিক বোতলের পানি কি ডেকে আনছে ক্যানসারের ঝুঁকি?

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিকের বোতল। অফিসে হোক বা ভ্রমণে, প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করা আমাদের নিয়মিত অভ্যাস। কিন্তু জনমনে দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন ও ভীতি রয়েছে, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান করলে কি ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিবিসি নিউজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষ প্লাস্টিকের বোতল বা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করাকে ক্যানসারের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ভুলভাবে বিশ্বাস করে বসে আছেন।   ভুল বিশ্বাসের গোলকধাঁধায় জনস্বাস্থ্য ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অফ লিডস-এর গবেষকরা ১৩৩০ জনের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেন, যার ফলাফল ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ক্যানসারে’ প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ৫ জনের মধ্যে অন্তত ১ জন (১৯ শতাংশ) বিশ্বাস করেন যে, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান করলে এবং মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করলে ক্যানসার হতে পারে। অথচ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন আশঙ্কার পেছনে শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।   বিভ্রান্তি যখন বড় বাধা   গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু প্লাস্টিকের বোতলই নয়, আরও অনেক অপ্রমাণিত বিষয়কে মানুষ ক্যানসারের কারণ হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করে। জরিপে অংশ নেওয়া অন্তত ৪০ ভাগ মানুষ মনে করেন মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ ক্যানসারের কারণ। এছাড়া প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সি এবং ৩৪ শতাংশ মানুষ জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) খাবারকে ক্যানসারের জন্য দায়ী মনে করেন।   গবেষক ড. স্যামুয়েল স্মিথ এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ইন্টারনেটে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের কারণে মানুষ এখন বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বিষয়গুলোকে অনেক বেশি বিশ্বাস করছে।   প্রকৃত ঝুঁকি ও প্রতিকার যুক্তরাজ্যের ক্যানসার রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রতি দশটি ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার মধ্যে অন্তত চারটি ঘটনাই সঠিক জীবন যাপন বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ক্যানসারের প্রকৃত এবং প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলো হলো: ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান: যা জরিপে যথাক্রমে ৮৮% ও ৮০% মানুষ সঠিকভাবে শনাক্ত করেছেন। স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের অন্যতম কারণ। সূর্যরশ্মি বা সানবার্ন: প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ রোদে পোড়াকে ক্যানসারের কারণ হিসেবে জানেন। খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ঝুঁকি কমায়।   বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ক্যানসার রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের ক্লেয়া হাইড জানিয়েছেন, ক্যানসারের বিরুদ্ধে গ্যারান্টি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবে প্রকৃত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানলে এবং সে অনুযায়ী জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ভুল তথ্যের পেছনে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কারণগুলোর দিকে (যেমন—ধূমপান বর্জন করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা) আমাদের নজর দেওয়া উচিত। তাই প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে অহেতুক ভীতি নয়, বরং প্রমাণিত ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে সচেতন জীবন যাপন করাই হবে ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। তথ্যসূত্র: বিবিসি

২ ঘন্টা আগে
শাকিবের সঙ্গে রোমান্সে স্বাচ্ছন্দ্যের কথা জানালেন সাবিলা নূর

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর বড়পর্দায় অভিষেকের পর অল্প সময়েই দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় প্রথমবার ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। সেই সিনেমার ‘লিচুর বাগানে’ গানটিতে তাদের রসায়ন দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ‘রকস্টার’ সিনেমায় দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বাঁধেন এই দুই তারকা।   সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং তাদের পর্দার রসায়নের রহস্য নিয়ে কথা বলেন সাবিলা নূর। তিনি বলেন, "এই কৃতিত্ব পুরোপুরি শাকিব খানের। উনি নিজেকে যেভাবে পরিবর্তন করেছেন, সেটা সত্যিই অসাধারণ। ‘প্রিন্স’-এর ট্রেইলার ও লুক দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম।"   মালয়েশিয়ায় ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের একটি স্মৃতিও ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, শুটিংয়ে যোগ দিতে এসে শাকিব খানকে দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। সাবিলা বলেন, 'মালয়েশিয়াতে শুটিংয়ের জন্য শাকিব ভাই যখন এলেন, কয়েক মুহূর্তের জন্য আমি চমকে গিয়েছিলাম। মাত্র সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে নিজেকে এমনভাবে বদলে ফেলেছিলেন যে, তাকে একেবারে তরুণ, টিনেজারদের মতো লাগছিল। এটার কৃতিত্ব পুরোপুরি তার এবং তার টিমের। আমাদের পুরো টিমই ছিল ভীষণ প্রাণবন্ত। সেই পরিবেশ থেকেই পর্দার রসায়নটা এত সুন্দর হয়েছে।'   সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে একাধিক রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করেছেন সাবিলা। এমন দৃশ্যে অভিনয়ের সময় কোনো অস্বস্তি হয়েছিল কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ক্যামেরা রোল হওয়ার পর উনি আর শাকিব খান থাকেন না, আমিও সাবিলা নূর থাকি না। তখন উনি ‘আগুন’ আর আমি ‘মীরা’। চরিত্রের সম্পর্কটাই তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই কোনো দ্বিধা বা অস্বস্তি কাজ করেনি। বরং উনি আমাকে এমন একটি কমফোর্ট জোন দিয়েছেন, যেখানে আমি খুব স্বস্তি নিয়ে রোমান্টিক দৃশ্যগুলো করতে পেরেছি।"   শাকিব খানের পেশাদারিত্বেরও প্রশংসা করেন সাবিলা। তিনি জানান, প্রতিটি দৃশ্যের শট দেওয়ার পর শাকিব তা মনোযোগ দিয়ে প্রিভিউ দেখেন এবং কোথায় কী উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন।   সাবিলা বলেন, 'উনার এই বিষয়টা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। প্রতিটি শটের পর উনি নিজের কাজ বিশ্লেষণ করেন, কোথায় পরিবর্তন দরকার তা খুঁজে বের করেন। এটা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। তাই উনার সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করাটা কখনোই বড় কোনো চ্যালেঞ্জ মনে হয়নি।'   উল্লেখ্য, ‘রকস্টার’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। এতে শাকিব খান ও সাবিলা নূরের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, তানজিয়া জামান মিথিলা, সুনিধি নায়েক, পান্থ কানাই এবং তারিক আনাম খান। সিনেমাটি গত ২৮ মে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

২ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (বামে) এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
জাতীয়
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস মালয়েশিয়ার

বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। এজন্য আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি করে জানাবেন বলে তারেক রহমানকে জানিয়েছেন।    মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব বলেন।    প্রতিমন্ত্রী জানান, আমরা আশা করছি দুই সপ্তাহ পর ত্রুটিপূণ ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) পুরোপুরি চালু করা যাবে। গ্যাস সংকটে সমস্যার গুরুত্ব অনুভব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৭ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেন। যা আজ আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হস্তান্তর করেছেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। দেশের চলমান এই গ্যাস সংকটে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীকে আস্বস্ত করেছেন তার এবং মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এই সংকট নিরসনে যা কিছু করার সুযোগ রয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার দল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করবেন।    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এ মুহূর্তে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞদের নিয়ে গ্যাস সংকটের সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই অঞ্চলে এক্সিলারেট এনার্জির যারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের নিয়ে আজ সকালে আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজ কাশিমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। তাদের কর্মপরিকল্পনা শোনার পাশাপাশি আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সঠিকপথে এই সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। এই আলোচনায় আমরা কিছুটা হলেও আস্বস্ত হয়েছি।    তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে যে গ্যাসের চাহিদা তা আমরা দুইভাবে পূরণ করে থাকি। একটি হচ্ছে আমাদের গ্যাস খনিগুলো থেকে উত্তোলনকৃত গ্যাস দিয়ে আর বাকি গ্যাস আমদানিকৃত এলএনজিকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের মাধ্যমে তা গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে থাকি। গত সপ্তাহ থেকে একটি এফএসআরইউতে ত্রুটি ধরার পড়ার পর বড় ধরনের দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমদানিকৃত গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করতে পারছি না। এজন্য গত কিছুদিন যাবৎ গ্যাস সরবরাহ কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে। এতে আবাসিক, শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎখাত ও যানবাহনের ক্ষেত্রে কষ্ট করতে হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল নিরবচ্ছিন্নভাবে এক্সিলারেট এনার্জির, যারা এফএসআরইউটি পরিচালনা করেন তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও এই ঘটনায় প্রতি মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৮, ২০২৬

বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. অদিতি সাহা অনন্যা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নবীন চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. অদিতি সাহা অনন্যা। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার এমন করুণ মৃত্যু পরিবার, সহপাঠী ও চিকিৎসক সমাজকে শোকাহত করেছে।   অদিতির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায়। তিনি বাবুল সাহার একমাত্র কন্যা।   জানা গেছে, রাজধানীর জহিরুল হক শিকদার মেডিক্যাল কলেজের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন অদিতি। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে ইউনাইটেড স্টেটস মেডিক্যাল লাইসেন্সিং এক্সামিনেশন (USMLE) সম্পন্ন করে একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   এর আগে তিনি রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি এবং কেম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে চিকিৎসা পেশায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন তিনি।   চলতি বছরের জুলাই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি শুরু করেন অদিতি। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের পর চিকিৎসক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই পথচলা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই শিকাগোর সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিভে যায় তার সম্ভাবনাময় জীবন।   তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দেশে ও প্রবাসে সহপাঠী, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে একজন মেধাবী, মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও গভীর করতে আগ্রহী চীন

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   বৈঠকের পর চীনা দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত সাংস্কৃতিক বিনিময়কে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।   ইয়াও ওয়েন বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে আরও গভীর করতে সাংস্কৃতিক বিনিময় এক অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে।   সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে একসাথে কাজ করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেছেন।   বৈঠকে বাংলাদেশি পক্ষ রাষ্ট্রদূতের এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ভালো ফলাফল বয়ে এনেছে। এই ক্ষেত্রে তারা সহযোগিতা আরও জোরদারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।   উভয়পক্ষ সংস্কৃতি ও শিল্পকলা এবং অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা করেন।   বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

ছবি: সংগৃহীত
ফের রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে আবারও ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ডাক দেয়ার হুমকি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কেন্দ্র সরকারকে এই কড়া হুঁশিয়ারি দিল দলটির নেতৃত্ব।    সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি পুলিশকে পূর্ববর্তী এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। প্রশাসন সেই সুযোগ নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নতুন করে হয়রানি চালাতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।   প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া বেশ কিছু আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, শান্তিকামী কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দেন, যেসব শিক্ষার্থীর কোনো পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তবে একই নির্দেশনায় আদালত এ-ও উল্লেখ করে যে, নিবন্ধিত এফআইআরগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে পুলিশ, যদিও কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।   আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, কেন্দ্র সরকারের এই অবস্থান শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বরখেলাপ। তিনি জানান, গত ২৫ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর তুলে নেওয়া হবে এবং কোনো আন্দোলনকারীকে নিশানা করা হবে না। সেই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেই সিজেপি তাদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেছিল।   সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, আদালতের শুনানির সময় সরকারি আইনজীবীরা এই চুক্তি বা আশ্বাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে যদি শিক্ষার্থীদের হয়রানি অব্যাহত রাখা হয়, তবে রাজপথকেই আবারও আন্দোলনের মূল হাতিয়ার করে নেওয়া হবে।  সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মথুরায় ৩ বছরের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ছৌলি গ্রামে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারীর নাম রুচি জিন্দাল (৩২)। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুন তিনি নিজের শিশুসন্তানকে হত্যা করেন।   পরিবারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর রুচি তার স্বামী কৃষ্ণ মুরারি গুপ্তকে ফোন করে জানান, শিশু দীর্ঘ সময় কান্নাকাটি করার পর হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   সন্তানের মৃত্যুর আগে তাকে পোলিও টিকা দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবার প্রথমে ধারণা করেছিল, হয়তো শারীরিক জটিলতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। সেই বিশ্বাসে শিশুটিকে দাফন করা হয়।   তবে কয়েক সপ্তাহ পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। স্বামী অভিযোগ করেন, তিনি তার স্ত্রীকে ফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে শুনেছেন, যেখানে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে সন্দেহজনক তথ্য উঠে আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখতে পান, রুচির সঙ্গে এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।   স্থানীয় বালদেব থানার কর্মকর্তা অজয় শর্মা জানিয়েছেন, ঘটনার পর রুচি জিন্দালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট সঞ্জিব কুমার রায় বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মথুরায় ৩ বছরের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা
আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৮, ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ছৌলি গ্রামে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারীর নাম রুচি জিন্দাল (৩২)। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুন তিনি নিজের শিশুসন্তানকে হত্যা করেন।   পরিবারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর রুচি তার স্বামী কৃষ্ণ মুরারি গুপ্তকে ফোন করে জানান, শিশু দীর্ঘ সময় কান্নাকাটি করার পর হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   সন্তানের মৃত্যুর আগে তাকে পোলিও টিকা দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবার প্রথমে ধারণা করেছিল, হয়তো শারীরিক জটিলতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। সেই বিশ্বাসে শিশুটিকে দাফন করা হয়।   তবে কয়েক সপ্তাহ পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। স্বামী অভিযোগ করেন, তিনি তার স্ত্রীকে ফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে শুনেছেন, যেখানে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে সন্দেহজনক তথ্য উঠে আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখতে পান, রুচির সঙ্গে এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।   স্থানীয় বালদেব থানার কর্মকর্তা অজয় শর্মা জানিয়েছেন, ঘটনার পর রুচি জিন্দালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট সঞ্জিব কুমার রায় বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প: শপিং মলের অংশ ধস, বহু মানুষ আটকা
আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৮, ২০২৬

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি বহুতল শপিং মলের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস। একই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা এর মাত্রা ৭.১ বলে জানিয়েছে, যদিও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) ৬.৮ মাত্রার তথ্য দিয়েছে।   সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রধান দ্বীপ কিউশুর কয়েকটি এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। কিছু সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে এবং বিভিন্ন সড়কে ফাটল দেখা গেছে। এছাড়া অন্তত ১২টি বাড়ি ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।   প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ভবনে ভূমিকম্পের পর আগুন লাগে। তিনি বলেন, সরকার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করছে।   সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে   ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সাময়িকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করে নেয় জাপানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।   শপিং মলে উদ্ধার অভিযান চলছে   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাশিমা শহরের ‘কাশিমা শপিং মল’-এর দ্বিতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।   এর আগে পুলিশ জানায়, কাশিমার একটি শপিং মল থেকে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে তখন কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।   ভূমিকম্পের কারণে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: সিবিএস, এনএইচকে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চিপ শিল্পে স্বনির্ভরতার পথে চীন
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৮, ২০২৬

উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইমার্শন ডিপ-আল্ট্রাভায়োলেট (ডিইউভি) লিথোগ্রাফি যন্ত্রের গণউৎপাদন শুরু করেছে চীন। মূলত এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উন্নতমানের এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি যন্ত্র কিনতে পারে না চীন। তাই এবার নিজেরাই সেই প্রযুক্তি উৎপাদন করতে যাচ্ছে দেশটি।   বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বেইজিংয়ের বড় অগ্রগতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।   সূত্রটির দাবি, সাংহাইভিত্তিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাংহাই আইশেংনা ইলেকট্রনিক টেকনোলজি গ্রুপ এই উৎপাদন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি লিথোগ্রাফি স্টার্টআপের বিশেষজ্ঞ দলকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রটি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেনি।   এই অগ্রগতি চীনের সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের জাতীয় কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ডাচ প্রতিষ্ঠান এএসএমএলের বাণিজ্যিক অবস্থানে তাৎক্ষণিক কোনো বড় প্রভাব পড়বে না।   ডিইউভি লিথোগ্রাফি প্রযুক্তির বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য ধরে রেখেছে এএসএমএল। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’ সোমবার প্রথম জানায়, সাংহাইয়ের একটি রাষ্ট্রীয় সমর্থিত প্রতিষ্ঠান এই যন্ত্রের উৎপাদন শুরু করেছে। চলতি বছরে প্রায় পাঁচটি এবং ২০২৭ সালে প্রায় ২০টি যন্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। রয়টার্স প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় প্রকাশ করেছে।   সূত্রটি জানায়, আইশেংনার তৈরি ডিইউভি যন্ত্র এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি এএসএমএলের সমমানের নয়। তবে ভবিষ্যতে পশ্চিমা দেশগুলো যদি লিথোগ্রাফি যন্ত্র বা রক্ষণাবেক্ষণ সেবার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে চীনের চিপ নির্মাতারা বিকল্প উৎস হিসেবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে।   ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরই চীনের শীর্ষ চিপ নির্মাতা সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন, হুয়া হং সেমিকন্ডাক্টর এবং মেমোরি চিপ নির্মাতা চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিসের কাছে এই যন্ত্র সরবরাহ করা হবে।   ইমার্শন ডিইউভি প্রযুক্তিতে প্রজেকশন লেন্স ও সিলিকন ওয়েফারের মাঝখানে পানির একটি স্তর ব্যবহার করা হয়, যা প্রচলিত শুষ্ক পদ্ধতির তুলনায় আরও ক্ষুদ্র সার্কিট নকশা তৈরি করতে সক্ষম।   এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। একই স্তরে বারবার আলোকপ্রক্ষেপণের মাধ্যমে আরও উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টরও তৈরি করা সম্ভব।   এএসএমএল, এসএমআইসি, হুয়া হং এবং চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।   ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার এএসএমএলের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশ কমে যায়। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৬ মিনিট পর্যন্ত শেয়ারটির দাম আরও ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে। যদিও একই সময়ে ইউরোপের অন্যান্য চিপ খাতের শেয়ারও নিম্নমুখী ছিল, তবু সামগ্রিক ইউরোপীয় শেয়ারবাজার সূচকের তুলনায় এএসএমএলের দরপতন বেশি ছিল।   ২০২৩ সালের আগস্টে প্রায় ৭০০ কোটি ইউয়ান নিবন্ধিত মূলধন নিয়ে আইশেংনা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পেছনে রয়েছে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগকারী সাংহাই ইলেকট্রিক হোল্ডিং এবং সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্টের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।   প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে জনসমক্ষে খুব কম তথ্য রয়েছে। তাদের কোনো ওয়েবসাইট নেই এবং কার্যক্রম সম্পর্কেও কিছু প্রকাশ করা হয়নি। সূত্রটি জানায়, ডিইউভি প্রযুক্তির একটি প্রোটোটাইপ নিয়ে গত বছর পরীক্ষা চালানো ইউলিয়াংশেং এবং সাংহাই মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স ইকুইপমেন্টের (এসএমইই) বিশেষজ্ঞদেরও আইশেংনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।   এসএমইই এবং ইউলিয়াংশেং দুই প্রতিষ্ঠানই চীনের সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্বনির্ভরতা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউলিয়াংশেং আবার হুয়াওয়ে-সমর্থিত যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিক্যারিয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।   প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, আইশেংনা ও ইউলিয়াংশেং একই ঠিকানা থেকে পরিচালিত হয়।   আইশেংনা, এর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, এসএমইই এবং ইউলিয়াংশেং কোনো পক্ষই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন এএসএমএলের সবচেয়ে উন্নত এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি যন্ত্র কিনতে পারে না। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ফলে উন্নতমানের কিছু ডিইউভি যন্ত্রের সরবরাহও সীমিত করা হয়েছে।   তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এএসএমএলের জন্য চীন একটি বড় বাজার। চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট বিক্রির প্রায় ১৬ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। উন্নত ইইউভি যন্ত্র না পেলেও চীনের চিপ নির্মাতারা এখনো তুলনামূলক কম উন্নত ডিইউভি যন্ত্র ব্যাপকভাবে কিনছে।   গত ডিসেম্বরে রয়টার্স জানিয়েছিল, চীন নিজস্ব ইইউভি লিথোগ্রাফি যন্ত্রের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে।   বিশ্লেষকদের মতে, আইশেংনার অগ্রগতি তাৎপর্যপূর্ণ হলেও স্বল্পমেয়াদে এএসএমএলের আয় বা বাজার অবস্থানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।   জেপি মরগান চেজের বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেন, কয়েকটি ইমার্শন ডিইউভি যন্ত্র তৈরি করা আর হাজার হাজার ওয়েফারে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ উৎপাদন সক্ষম, নির্ভুল, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যন্ত্র তৈরি করা এক বিষয় নয়।   সূত্র : রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
ভারত সীমান্তে চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়ন
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৮, ২০২৬

ভারত সীমান্তসংলগ্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে এনডিটিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   ভ্যান্টরের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে দুটি ঘাঁটিতে মোট ১১টি জে-২০ মোতায়েন ছিল। এর মধ্যে ৯ জুলাই শিনজিয়াংয়ের হোতান বিমানঘাঁটিতে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা যায়। এটি একটি বেসামরিক ও সামরিক উভয় ধরনের বিমানঘাঁটি। ঘাঁটিটি ভারতের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং উত্তর লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে।   এনডিটিভির দাবি, ভারতমুখী কোনো চীনা ঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বেশি জে-২০ মোতায়েনের ঘটনা এটিই প্রথম।   আরেকটি স্যাটেলাইট ছবিতে তিব্বতের লাসা অঞ্চলের দামশুং বিমানঘাঁটিতে চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। এই ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে।   ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর জোশি বলেন, হোতানে সাতটি এবং দামশুংয়ে চারটি জে-২০ মোতায়েন দেখাচ্ছে যে, ভারত সীমান্তে উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন চীনের নিয়মিত সামরিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এটি আর কেবল শক্তি প্রদর্শনের অংশ নয়।   তার মতে, ভারতের জন্য এখন উত্তর সীমান্তে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের হুমকি একটি স্থায়ী বাস্তবতা। তাই স্টেলথ শনাক্তকারী সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা দ্রুত শক্তিশালী করা জরুরি।   জে-২০ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্টেলথ প্রযুক্তি। অত্যন্ত কম রাডার সংকেতের কারণে এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। এ কারণে ভারতের বর্তমান যুদ্ধবিমান, এমনকি ফরাসি নির্মিত রাফালও জে-২০-এর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে, কারণ রাফাল স্টেলথ যুদ্ধবিমান নয়।   বর্তমানে ভারতের হাতে কোনো স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই। দেশটির নিজস্ব অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) প্রকল্পের প্রথম স্টেলথ যুদ্ধবিমান অন্তত আরও এক দশক পর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে যদি সব প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে চীনের জে-২০ বহর দ্রুত বেড়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে প্রায় ৫০টি জে-২০ ছিল, ২০২২ সালের শেষ দিকে তা বেড়ে প্রায় ২০০টিতে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বছরে প্রায় ১২০টি করে জে-২০ উৎপাদন শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের হাতে ৩০০ থেকে ৫০০টি জে-২০ রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের জে-২০ বহর এক হাজারে পৌঁছাতে পারে।   ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, বছরে ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা চীনের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প ও শক্তিশালী উৎপাদনব্যবস্থার প্রমাণ। তার মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবলের ফল।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ভারতের বিমানবাহিনীর হাতে মাত্র ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়া ২৬০টির বেশি সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আরও ২৬টি রাফাল কেনার চুক্তি হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে ভারতীয় বিমানবাহিনী এ বিষয়ে এনডিটিভির প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি