সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা: ফুলছড়িতে কেন্দ্র সচিবসহ ৯ জন অব্যাহতি

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে একটি কেন্দ্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) ও ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।    সোমবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান।    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)  উপজেলার ‘ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ’ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।    অব্যাহতি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) আসাদুল হক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ার হোসেন। তিনি ওই কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন। এ ছাড়া অন্যরা হলেন, কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য তিনজন (শিক্ষক) ও দুই কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষক।   ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য  ও দুই কক্ষে দায়িত্বরত চার শিক্ষকসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।   ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মনিরুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে সেদিন ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের অনিয়মিতদের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং পক্ষান্তরে ২০২৫ সালের অনিয়মিতদের প্রশ্নে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এটি অনেক বড় দায়িত্বহীনতা।   এ সময় তিনি বলেন, সেদিন এমন ঘটনার শুরুর দিকে আমাকে  মিস ইনফরমেশন (অসত্য তথ্য) দেওয়া হয়েছিল। আসলে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ৬১ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ৫০ জন এবং ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলো ১১ জন।   এর আগে গত বৃহস্পতিবার জেলার  ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাংলা ১ম পত্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দেয় ৫০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী এবং ২০২৬ সালের প্রশ্নে অনিয়মিত ১১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। পরে পরীক্ষা শেষে বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষার ফলাফল কি হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।   পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফলাফল শঙ্কার কথা জানিয়ে অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিবের কক্ষে কথা বলতে যান। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ফলাফলে কোনো সমেম্যা হবে না বলে জানান। এক পর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।    একইদিন দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি পত্রে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দিতে নির্দেশনা দিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি পত্র দেন। পরদিন ৩ জুলাই জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক পত্রে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ, প্রফেসর এস.এম আশাদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।    একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ওই কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।   এ ছাড়া ওই পত্রে ট্যাগ অফিসার ও পরিক্ষা কমিটির আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্ট কক্ষের সব কক্ষ প্রত্যাবেক্ষককে অব্যহতির কথা জানানো হয়।   প্রসঙ্গত, ২ জুলাই ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারা দেশে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলে ১টা পর্যন্ত। তবে, এসময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয় পৃথক প্রশ্নপত্রে।    প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি)-এর বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় গাইবান্ধায় জেনারেল, মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭১ জন। 

১৩ মিনিট আগে
রোনালদো ইতিহাসের অন্যতম সেরা, তাকে নিয়ে সাবধান স্পেন কোচ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-লামিন ইয়ামালরা। এ ম্যাচকে সামনে রেখে উভয় দলের কোচই সতর্ক।   উভয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের সমীহ করে দলের কৌশল সাজাচ্ছেন কোচরা। তাই বিশ্বকাপে তেমন জ্বলে না উঠলেও মুহূর্তেই ব‍্যবধান গড়ে দেওয়ার সামর্থ‍্য থাকায় পর্তুগিজ মহাতারকার ব‍্যাপারে দলকে সাবধান করে দিয়েছেন স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে।     ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। খবর ডিয়ারিও এএস   দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমি ক্রিশ্চিয়ানোর অনেক বড় ভক্ত। দৃঢ়সংকল্প, অক্লান্ত, অনুকরণীয় এক আদর্শ সে। ফুটবলার হিসেবে প্রতিটা পরিস্থিতিতেই তাকে নিয়ে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। সে মুহূর্তেই ব‍্যবধান গড়ে দিতে পারে। আমরা ম‍্যান টু ম‍্যান মার্কিং করব না। তবে কিছু জায়গায় সে থাকলে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’    এ স্প্যানিশ কোচ আরও বলেন, সে না খেললে আমার ভালো লাগত। তবে সে খেলবে। আমরা মাঠে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজনকে দেখব।    রোনালদোকে সামাল দেওয়ার দায়িত্ব পড়তে পারে স্পেনের তরুণ সেন্টার ব‍্যাক পাউ কুবার্সির কাঁধে।   বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিলেও রোনালদোর মতো একজনকে কী তিনি সত‍্যিই সামাল দিতে পারবেন? এমন প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। এতে স্পেন কোচের সাফ জবাব, এমেরিক লাপোর্তেকে নিয়ে ঠিকই পারবেন কুবার্সি।    ফুয়েন্তে আরও বলেন, ‘আপনি রোনালদোর বিপক্ষে কখনো অসাবধান হতে পারবেন না। যেমনটা লামিন (ইয়ামাল) কিংবা (মিকেল) ওয়াইরসাবালের ক্ষেত্রে। তবে নিজের খেলোয়াড়দের ওপর আমার আস্থা আছে। পাউ ও লাপোর্তে দুইজনই দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। ওরা ব‍্যতিক্রমী এবং যে কোনো প্রতিপক্ষকে সামাল দিতে পারে। আমি মনে করি, ওরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।’    শেষ ষোলোর ম‍্যাচে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় পর্তুগালের মুখোমুখি হবে স্পেন।

২৮ মিনিট আগে
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক যোগদান

সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। লন্ডনে অনুষ্ঠিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে যোগদানের মাধ্যমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) লন্ডনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কনভেনশনে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করেন। এর ফলে দেশের সামুদ্রিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কনভেনশনসমূহে যোগদান সম্পন্ন হয়েছে।   বাংলাদেশ অনুসমর্থনকৃত তিনটি কনভেনশনসমূহ হলো— আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক, ১৯৯২ প্রোটোকল, বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, ২০০১ এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন, ২০০৭।   প্রতিদিন শত শত জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে বা দেশের বন্দরসমূহে আগমন করে। এই নৌযান চলাচলের সঙ্গে তেল নিঃসরণ, বাঙ্কার জ্বালানি দূষণ এবং জাহাজডুবির মতো ঝুঁকিও যুক্ত থাকে, যা নৌচলাচল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।   এসব কনভেনশনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার দায়ভার নির্ধারণ এবং বাধ্যতামূলক বীমা নিশ্চিত করবে। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে একটি নিশ্চিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হবে।   এই অনুসমর্থন দেশের জন্য অর্থনৈতিক সফলতা বয়ে আনবে। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে আর বিদেশি নৌ প্রশাসনের কাছ থেকে কনভেনশন সনদ সংগ্রহ করতে হবে না। ফলে সময় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে এসব কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা আন্তর্জাতিক চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, বাণিজ্যিক বিলম্ব এবং বিদেশি বন্দরসমূহে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিদর্শন হ্রাস পাবে।   ইতোমধ্যে বিশ্বের শতাধিক দেশ এসব কনভেনশনের পক্ষভুক্ত। বাংলাদেশের অনুসমর্থনের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা অর্জন করল। ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম ও উপকূলীয় উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত একটি দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা আরো সুদৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

৪০ মিনিট আগে
মিরপুর ১৪ তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

মিরপুর-৬ এ সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট।   সোমবার (০৬ জুলাই) রাতে কোয়ার্টারের ১৪ তলা ভবনের বেজমেন্টে গাড়ির সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।   বিস্তারিত আসছে...

৫২ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ১৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা

টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে বন্যা ও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করে।   পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।   বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।   এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও জাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।   পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে পরবর্তী তিন দিন আবার বাড়তে পারে। তবে নদীটি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মার পানিও স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে সেখানেও আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।   রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, এরপর আবার পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে। এ ছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরায় ৭৭ মিলিমিটার, মাওসিনরামে ৬৯ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৫৭ মিলিমিটার এবং মাওফ্ল্যাংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।   সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো নদীই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল না বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে সংস্থাটি পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াল ৯.১৬ শতাংশ

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসায় জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।   সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবিএসের মাসিক মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।   জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মে মাসের ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে জুনে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে।   মাসওয়ারি হিসাবে জুনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।   খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও তা এখনও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা এক বছর আগে একই মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   গ্রামের তুলনায় শহরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম ছিল।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।   গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে।   তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।   এদিকে সর্বশেষ মজুরি হার সূচকেও (ওয়েজ রেট ইনডেক্স) মজুরি বৃদ্ধির গতি সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে এটি আগের বছরের জুন মাসের সমান রয়েছে।   দেশের ৬৪ জেলার তথ্যের ভিত্তিতে এ সূচক প্রস্তুত করা হয়েছে।   খাতভিত্তিক হিসাবে, কৃষি খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।   শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার মে মাসের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে জুনে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে এলেও, ২০২৫ সালের জুনের ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি রয়েছে।   সেবা খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান খাতেই মাসওয়ারি মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে মজুরি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে।   এদিকে, ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে সামগ্রিক মূল্যচাপ ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।   একই সময়ে গড় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। আর গড় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।   বিবিএস জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। দেশের ১৫৪টি বাজার থেকে ৩৮৩টি পণ্য ও সেবার মূল্য সংগ্রহ করে সিপিআই প্রণয়ন করা হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জুন মাসের মূল্য ২০২৫ সালের জুন মাসের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
গাজার শাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার পথ সুগম করতে নিজেদের শাসন সংস্থা বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বর্তমান গাজা সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের জরুরি কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে এবং কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল খালেক আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।    মূলত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)-এর কাছে গাজার বেসামরিক শাসনভার ও প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (৬ জুলাই) সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।   গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে গাজার পুরো সরকারি ব্যবস্থা নতুন প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী, গোত্র ও উপজাতিদের উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয় দলের কাছে এই প্রস্তুতির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের একজন পর্যবেক্ষকও উপস্থিত ছিলেন।    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন ও অবরোধের কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় লাঘব করা এবং কায়রোতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    প্রশাসনিক এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয় এবং জনসেবা ব্যাহত না হয়, সেজন্য কেবল কারিগরি ও পেশাদার বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন এবং তারা নতুন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অধীনে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।   এদিকে ক্ষমতার এই রদবদলকে ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর প্রতিবেদনে এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই পদত্যাগের কোনো বাস্তব গুরুত্ব নেই, কারণ বর্তমান প্রশাসনের সদস্যরা এখনও তাদের অবস্থানেই রয়ে গেছেন।    হামাস মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায় এড়াতে এবং সময় ক্ষেপণ করতেই এমন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত অরাজনৈতিক সংস্থা এনসিএজি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও সুযোগ নিশ্চিত হওয়ামাত্রই তারা গাজার অভ্যন্তরে প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত। মধ্য-জানুয়ারি থেকে কায়রোতে অবস্থান করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংস্থাটি এখনও গাজার ভেতরে সরাসরি কাজ শুরু করতে পারেনি।   গাজা সরকারের এই বড় ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন গাজায় নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানোর আলোচনা চলছে। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, যার অধীনে জিম্মি মুক্তি, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনের কথা বলা হয়।    এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হলেও হামাসের দাবি, তারা শর্ত পূরণ করলেও ইসরাইল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে দৈনিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ ইসরাইলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

ছবি: সংগৃহীত
‘সার্ক ও বিমসটেক পরস্পরের বিকল্প নয়, উভয় প্ল্যাটফর্মই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’ - পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ক ও বিমসটেক—দুটি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এ দুটি সংস্থাকে প্রতিযোগী নয়, পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।   সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়াকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। অন্যদিকে সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তৃত আঞ্চলিক পরিচয় বহন করে, যেখানে বিমসটেকের বাইরে থাকা দেশগুলোরও অংশগ্রহণ রয়েছে। তাই উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোকে সার্কের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।   তিনি বলেন, সার্ক বর্তমানে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, পারস্পরিক আস্থার সংকট এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপক্ষীয় বিরোধের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফলে সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে এবং প্রত্যাশিত মাত্রায় আঞ্চলিক একীকরণ সম্ভব হয়নি।   শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, সার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর সচিবালয়ের স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশেরও আত্মসমালোচনার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সার্কের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রদর্শনের আহ্বান জানান।   তার ভাষ্য, গত কয়েক দশকে যদি সদস্য দেশগুলো ধারাবাহিকভাবে সার্কের কার্যক্রমে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাত, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার সহযোগিতা ও উন্নয়ন আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত। সেই সুযোগগুলো এখন অনেকটাই হাতছাড়া হয়েছে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও সার্কের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো কার্যকর রয়েছে। সংস্থাটির সনদ, সচিবালয়, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং আইনি কাঠামো সদস্য দেশগুলোর জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিদ্যমান।   বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসম রিদওয়ানুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত তারিক এ. করিম। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব মো. শামসুল হক।

ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটো সম্মেলনের আগে কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ৮

ন্যাটো সম্মেলন শুরুর একদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন কিয়েভ শহরের এবং একজন বুচা জেলার বাসিন্দা।   কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, সোমবার ভোরে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে জরুরি সেবাকর্মীরা।   কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, শহরের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তিনি বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার আহ্বান জানান।   মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের আগে এ হামলাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ জানান, ইউক্রেনের হামলায় একটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।   অন্যদিকে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা কয়েকটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।   এদিকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ান্তিনিভকাকে ঘিরেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া শহরটি দখলের দাবি করলেও ইউক্রেন তা অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনো শহরটি রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গাজার শাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার পথ সুগম করতে নিজেদের শাসন সংস্থা বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বর্তমান গাজা সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের জরুরি কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে এবং কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল খালেক আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।    মূলত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)-এর কাছে গাজার বেসামরিক শাসনভার ও প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (৬ জুলাই) সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।   গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে গাজার পুরো সরকারি ব্যবস্থা নতুন প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী, গোত্র ও উপজাতিদের উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয় দলের কাছে এই প্রস্তুতির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের একজন পর্যবেক্ষকও উপস্থিত ছিলেন।    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন ও অবরোধের কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় লাঘব করা এবং কায়রোতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    প্রশাসনিক এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয় এবং জনসেবা ব্যাহত না হয়, সেজন্য কেবল কারিগরি ও পেশাদার বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন এবং তারা নতুন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অধীনে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।   এদিকে ক্ষমতার এই রদবদলকে ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর প্রতিবেদনে এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই পদত্যাগের কোনো বাস্তব গুরুত্ব নেই, কারণ বর্তমান প্রশাসনের সদস্যরা এখনও তাদের অবস্থানেই রয়ে গেছেন।    হামাস মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায় এড়াতে এবং সময় ক্ষেপণ করতেই এমন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত অরাজনৈতিক সংস্থা এনসিএজি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও সুযোগ নিশ্চিত হওয়ামাত্রই তারা গাজার অভ্যন্তরে প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত। মধ্য-জানুয়ারি থেকে কায়রোতে অবস্থান করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংস্থাটি এখনও গাজার ভেতরে সরাসরি কাজ শুরু করতে পারেনি।   গাজা সরকারের এই বড় ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন গাজায় নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানোর আলোচনা চলছে। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, যার অধীনে জিম্মি মুক্তি, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনের কথা বলা হয়।    এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হলেও হামাসের দাবি, তারা শর্ত পূরণ করলেও ইসরাইল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে দৈনিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ ইসরাইলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে গির্জায় হামলা চালিয়েও ‘খ্রিষ্টানদের রক্ষাকর্তা’ সাজার দাবি নেতানিয়াহুর
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বহু গির্জা ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় স্থান ধ্বংস হয়েছে। অথচ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, উলটো লেবাননের খ্রিষ্টানরাই তাদের গ্রামগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে ‘যুক্ত’ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।   রোববার (৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসরাইলপন্থি সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক জ্যাকি হেনরিখকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা... আমাদের বন্ধুদের যত্ন নিই, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিষ্টানদের।’   নেতানিয়াহু বলেন, ‘লেবাননের কয়েকটি খ্রিষ্টান অধ্যুষিত গ্রাম আসলে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। কারণ, আমরা তাদের হিজবুল্লাহর চরমপন্থিদের হাত থেকে রক্ষা করি, যারা তাদের হত্যা করতে চায়। আর মধ্যপ্রাচ্যের সব জায়গাতেই খ্রিষ্টানদের জন্য আমরা একই কাজ করে থাকি।’   তবে লেবাননে ইসরাইলের নিজেদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই দাবির বিন্দুমাত্র মিল নেই। সেখানে ইসরাইলি বাহিনী গির্জা গুঁড়িয়ে দিয়েছে, খ্রিষ্টানদের পবিত্র স্থানগুলোর ক্ষতি করেছে এবং ইসরাইলি সেনাদের খ্রিষ্টান ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননা করার ভিডিও সামনে এসেছে।   নেতানিয়াহু এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছিলেন, ‘পুরো লেবানন পুড়িয়ে দেওয়া উচিত।’ অধিকৃত দক্ষিণ লেবাননে চার ইসরাইলি সেনার মৃত্যুর পর তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।   গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ঘোরা নেতানিয়াহু তার দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। লেবাননের কোনো খ্রিষ্টান গ্রাম ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছে বা সুরক্ষা চেয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেননি। এমনকি হিজবুল্লাহ খ্রিষ্টান গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়েছে, এমন প্রমাণও তিনি দিতে পারেননি। উলটো লেবাননের রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর প্রধান খ্রিষ্টান মিত্র হলো ‘ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্ট’ (এফপিএম)।   ইসরাইলের ‘খ্রিষ্টান সমস্যা’ লেবাননের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ দেশটির ওপর হামলার কারণে ইসরাইল যখন ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই খ্রিষ্টানদের সুরক্ষা দেওয়ার এই দাবি করলেন নেতানিয়াহু।   গত মে মাসে ফরাসি সংগঠন ‘ল্যুবর দোরিঅঁ’ জানিয়েছিল, ইয়ারুন গ্রামে গ্রিক ক্যাথলিক ধর্মীয় সম্প্রদায় সালভাটোরিয়ান সিস্টারস-এর একটি মঠ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।   গত এপ্রিলে সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়—দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরাইলি সেনা ড্রিল মেশিন (জ্যাকহ্যামার) দিয়ে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর একটি মূর্তি ভাঙছেন। পরে ইসরাইলের প্রধান রাব্বিনেট (ইহুদি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ) ওই সেনার মূর্তি ভাঙার ঘটনার নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানায়।   পরে ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরাইলি সেনা ভার্জিন মেরির (কুমারী মেরি) মূর্তির অবমাননা করছেন।   গত বছর দক্ষিণ লেবাননের দেরদঘায়া গ্রামে মেলকাইট গ্রিক ক্যাথলিক সেন্ট জর্জ চার্চকে বোমা মেরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় ইসরাইল।   ইসরাইলের এসব হামলা কেবল লেবাননের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপরই সীমাবদ্ধ নেই। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক ও গির্জার ওপর সহিংসতাও বেড়েছে।   এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের অন্যতম প্রধান সমর্থক গোষ্ঠী ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের কাছে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।   সাক্ষাৎকারের শেষের দিকে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘শুধু লেবাননের খ্রিষ্টানরাই আমাদের কাছে সুরক্ষা চায় না। দ্রুজ সম্প্রদায়, সুন্নি মুসলিম এবং বেশ কিছু শিয়া মুসলিমও আমাদের কাছে সুরক্ষা চায়।’   তবে এই গোষ্ঠীগুলোর কেউ ইসরাইলের কাছে আদৌ সুরক্ষা চেয়েছে কিনা, তার কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।   লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরাইলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৩০৪ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২০৩ জন আহত হয়েছেন।   সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

ছবি: সংগৃহীত
প্রযুক্তি খাতে ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬

প্রযুক্তি খাতে ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।   দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছে, দেশের তুলনামূলকভাবে অনুন্নত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ উৎপাদনে ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ করা হবে।    সোমবার দেশটির সরকার ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।   দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জুং-কোয়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এই উদ্যোগ দেশের প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াবে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চিপ উৎপাদনে নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।   তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পে প্রায় ৮০০ ট্রিলিয়ন ওয়ন (প্রায় ৫১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করা হবে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগগুলোর একটি।   তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় চারটি চিপ উৎপাদন কারখানা ও অংশীদার কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্ক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট।

ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটো সম্মেলনের আগে কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ৮
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬

ন্যাটো সম্মেলন শুরুর একদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন কিয়েভ শহরের এবং একজন বুচা জেলার বাসিন্দা।   কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, সোমবার ভোরে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে জরুরি সেবাকর্মীরা।   কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, শহরের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তিনি বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার আহ্বান জানান।   মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের আগে এ হামলাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ জানান, ইউক্রেনের হামলায় একটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।   অন্যদিকে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা কয়েকটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।   এদিকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ান্তিনিভকাকে ঘিরেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া শহরটি দখলের দাবি করলেও ইউক্রেন তা অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনো শহরটি রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি