বিশ্ব মানচিত্রে মহাদেশগুলোর আয়তন তুলনামূলকভাবে আরও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে নতুন একটি মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আর ভোটদানে বিরত থাকে ছয়টি দেশ। নতুন মানচিত্রটি ‘ইকুয়েল আর্থ কার্টোগ্রাফি প্রজেকশন’ নামে পরিচিত। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রজেকশন বিশ্বের মহাদেশগুলোর মানচিত্রগত উপস্থাপনাকে আরও নির্ভুল করে তুলবে। এতে আফ্রিকা তুলনামূলকভাবে বড় এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ তুলনামূলকভাবে ছোট দেখাবে। প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত মার্কেটর প্রজেশকনের পরিবর্তে নতুন এই মানচিত্র ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর নৌযাত্রা ও সামুদ্রিক নেভিগেশনের সুবিধার জন্য মার্কেটর প্রজেকশন তৈরি করেছিলেন। মানচিত্র কখনও নিরপেক্ষ নয় নতুন মানচিত্র ব্যবহারের প্রস্তাবটি উত্থাপন করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসি বলেন, মানচিত্র শিক্ষা পরিচালনা করে, মানুষের কল্পনাশক্তিকে প্রভাবিত করে এবং পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের সম্মিলিত ধারণা গড়ে তোলে। তার ভাষায়, মানচিত্র কখনই পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। পৃথিবীর বিকৃত চিত্র প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভুল ধারণা ও অসম উপস্থাপনাকে টিকিয়ে রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তীব্র আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের তবে জাতিসংঘের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটের আগে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করাই জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর অন্যতম কারণ। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে মনোযোগ দেয়ার পরিবর্তে জাতিসংঘ ১৬ শতকের মানচিত্র, ক্ষতিপূরণ এবং কগনিটিভ জাস্টিসের সঙ্গে এসব মানচিত্রের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করছে। সূত্র : এনডিটিভি
সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারী, এক পুরুষ ও এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো থাকায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই কক্ষটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন তারা। কক্ষটির দরজা-জানালা প্রায় সবসময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার রাতে ওই ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। প্রতিবেশী এক বাসিন্দা বলেন, ‘ঘরটি সবসময় বন্ধ থাকত। বাইরে থেকে তেমন কোনো কিছু বোঝা যেত না। পরে ঘর থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হলে আমরা পুলিশকে খবর দিই।’ খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটি খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এ সময় ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুন ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চীন ও ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের মধ্যে বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কের একটি বিনিয়োগ ব্যাংক ও এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। মার্কিন ট্রেজারির অভিযোগ, তুরস্কের এই ব্যাংক ইরানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্ককে চীন থেকে তুরস্কে তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করেছে। পরে ওই অর্থ নগদ ও স্বর্ণে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা হতো বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সবশেষ নিষেধাজ্ঞা একটি ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী সপ্তাহে আরও একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বেসেন্ট। তবে মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তুর্কি ব্যাংকটি। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং বিধিবিধান মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো লেনদেন ছিল না বলেও দাবি করেছে ব্যাংকটি। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের একটি ব্যাংককে লক্ষ্য করে নেয়া এই পদক্ষেপ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ইরানবিরোধী ‘চাপ প্রয়োগ’ অভিযানে এবারই প্রথম কোনো ন্যাটো মিত্র দেশের একটি ব্যাংক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ল।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে চীনের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, সাধারণ নিরাপত্তার ওপর চীনের জোর দেয়ার অবস্থান ইরান বহু বছর ধরে যে নীতির কথা বলে আসছে, তারই প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে নেয়া উচিত এবং বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো প্রয়োজন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে একটি নতুন ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন করতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো বিবেচনার আহ্বানের পর গালিবাফ এই মন্তব্য করেন। ইরান এর আগেও যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এমন একটি আঞ্চলিক কাঠামোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। অন্যদিকে, চীনও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংলাপ ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের পক্ষে কাজ করে আসছে। গালিবাফের বক্তব্যে দুই দেশের আঞ্চলিক নীতির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয়ের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ শুরু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর লং মার্চের বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। পরে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। লং মার্চের নির্ধারিত পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজ সংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল এবং মীরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
পাবনার সুজানগরের মোবারকপুরে গ্যাসের সন্ধানে গভীর কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। ভূকম্পন জরিপের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে এলাকাটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাপেক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোবারকপুর ডিপ-১ কূপটি ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় খনন করা হবে। অনুসন্ধানে গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হলে এটিকে উত্তরবঙ্গের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে প্রকল্পের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য প্রায় ৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমি উন্নয়ন ও পাইলিংয়ের কাজ চলমান থাকলেও মূল ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, অনুসন্ধানে সফলতা এলে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০ বছর ধরে এই হারে গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে। এর আগে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাগলা গ্রামে গ্যাসের সন্ধানে কূপ খনন করা হয়েছিল। খনন শেষে কূপে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হলেও পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এবার মোবারকপুরে নতুন করে গভীর কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়ায় পাবনায় গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা আবারও আলোচনায় এসেছে। বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে পাগলা এলাকায় ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীর কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া ওই প্রকল্পে নির্ধারিত গভীরতায় যাওয়ার পর ভূগর্ভে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ দেখা দেয়। সে সময় ওই চাপ মোকাবিলা করে আরও গভীরে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় কাজ স্থগিত করা হয়। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের প্রকল্পে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপের কারণে নির্ধারিত গভীরতায় যাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকায় এবার আরও গভীরে অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে একনেক ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পের আওতায় শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১ কূপ খননের কথা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের ঋণ সহায়তা ৯০৯ কোটি টাকা এবং বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়ন ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম বলেন, এত গভীরে কূপ খননের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি প্রয়োজন। এ কারণে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সিসিডিসি কূপ খননের পাশাপাশি রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণের কাজ করবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লায় খননকাজে নিয়োজিত রয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় রিগ ও সরঞ্জাম মোবারকপুরে আনা হবে। প্রকল্প পরিচালক জানান, বর্তমানে জমি উন্নয়ন ও পাইলিংয়ের কাজ চলছে। সব প্রস্তুতি শেষ করে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি ড্রিলিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের শেষ দিকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। বাপেক্সের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জানান, প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইল নির্মাণের কাজ গত ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানান, চলতি বছরের মার্চে আহমেদপুর মৌজার ৬ একর জমি বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর এলাকার মানুষের মধ্যে স্থানীয়ভাবে গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। মোবারকপুরে নতুন এই অনুসন্ধান কূপ সেই প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে।
মালয়েশিয়ার ইপোহ এলাকায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৭৫ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকের সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ইপোহ ও আশপাশের এলাকায় কাঠ কারখানা, গ্লাভস কারখানা, ফুড কোর্টসহ বিদেশি শ্রমিকদের উপস্থিতি বেশি—এমন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় ইপোহের একটি দরজা তৈরির কারখানার কাছে পৌঁছালে কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে বা আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন আহত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে কেউ কাঠের তক্তার স্তূপের মধ্যে, কেউ শিল্পবর্জ্যের পাত্র ও আলমারিতে লুকানোর চেষ্টা করেন। এ ছাড়া কয়েকজন কারখানার সীমানাপ্রাচীর টপকে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে প্রাচীর উঁচু হওয়া এবং কাঁটাতার থাকায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পালানোর সময় কয়েকজনের পোশাকও ছিঁড়ে যায় বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। দেশটির ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে চেমোরের বারচাম ও কানথান এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। কাঠের কারখানা, গ্লাভস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও ফুড কোর্টকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। তিনি বলেন, অভিযানে মোট ৩০৫ জন শ্রমিককে যাচাই করা হয়। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে ১৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকও আটক হয়েছেন। জাকারিয়া শাবান বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা, বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়া অবস্থান ও কাজ করা। কারও কারও কাছে এমন কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র পাওয়া গেছে, যা তারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন সেটির জন্য প্রযোজ্য নয়। কয়েকটি ঘটনায় জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ব্যবহারেরও তথ্য পাওয়া গেছে।
ভোলার মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের সংযোগস্থল সাগর মোহনায় জেলেদের জালে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ‘রাজা ইলিশ’ ধরা পড়েছে। মাছটি আড়তে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ১২ হাজার ৯০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার (৪ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার ইলিশা তালতলি মাছঘাটে নাগর হাজারির আড়তে মাছটির নিলাম হয়। এসময় সর্বোচ্চ দামে মাছটি ক্রয় করেন মৎস্য ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন ব্যাপারী। আড়তদার ও স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বঙ্গোপসাগর মোহনায় স্থানীয় জেলে মিরাজ মাঝির জালে অন্যান্য মাছের সাথে রাজা ইলিশ মাছটিও ধরা পড়ে। পরে মাছ ধরা শেষে শুক্রবার তারা ভোলা সদর উপজেলা ফিরে আসেন এবং মাছটি আড়তে আনার পর পর বড় আকৃতির ইলিশটি দেখতে তালতলি ঘাটে ভিড় করে জেলে, মাছ ব্যবসায়ীসহ উৎসুক মানুষ। পরে উন্মুক্ত নিলামে ১২ হাজার ৯০০ টাকায় মৎস্য ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন ব্যাপারী সর্বোচ্চ দামে রাজা ইলিশটি কিনে নেন। আড়তদার নাগর হাজারি বলেন, আড়তে সাধারণত এত বড় ইলিশ সচরাচর দেখা যায় না। আমার মনে হচ্ছে আড়াই কেজি ওজনের ইলিশটি এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় ইলিশ। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘাটের সব আড়তদাররা মাছটি কেনার জন্য নিলামে অংশ নিয়েছিল। মাছটির ক্রেতা লোকমান হোসেন ব্যাপারী বলেন, রাজা ইলিশটি সর্বোচ্চ দামে কিনেও মনে হচ্ছে জিতেছি। অন্যান্য মাছের সাথে রাজা ইলিশটি ঢাকার মাওয়া ঘাটে বা অন্য কোনো বাজারে বিক্রির জন্য পাঠাবো। আশা করি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হুসাইন বলেন, এটি অন্যান্য জেলেদের জন্য আনন্দের খবর। মৌসুমের শেষ দিকে এসে নদীতে ও সাগরে বড় ইলিশ ধরা পড়া অবশ্যই ভালো। আড়াই কেজির রাজা ইলিশটির বয়স আনুমানিক দুই থেকে আড়াই বছর হতে পারে। সামনে যেহেতু ইলিশের ডিম দেওয়ার মৌসুম, তাই ধারণা করা যায় বড় ইলিশ নদীতে আসছে।
লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের টাইর ও নাবাতিয়েহ অঞ্চলের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের বেকা এলাকায় হামলা চালানো হয়। মোট পাঁচটি স্থানে এসব হামলা হয়েছে। হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে নিহত ও আহতদের পরিচয় এবং হামলায় ঠিক কী ধরনের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বেকা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এসব এলাকায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনা প্রায়ই উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। সর্বশেষ হামলার পর লেবাননে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই হামলার ফলে লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। সূত্র : আল-জাজিরা
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি উগ্রপন্থীদের হামলা ও ঘৃণাজনিত অপরাধ যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হাকাবি বলেন, ইসরায়েলের এখন যত বেশি সম্ভব বন্ধুর প্রয়োজন, নতুন করে শত্রু তৈরি করার কোনো প্রয়োজন নেই। পশ্চিম তীরে ইহুদি উগ্রপন্থীদের সহিংস কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা তিনি গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ইসরায়েলকে ঘিরে নেতিবাচক ধারণার প্রভাব গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ আমেরিকানরা ইসরায়েল সম্পর্কে কী শুনছে, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি অধিকৃত গাজার পশ্চিম তীরের বাজরিয়া গ্রামের একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর হাকাবিকে লক্ষ্য করে দেয়ালে আপত্তিকর গ্রাফিতি লেখা হয়। এর আগে গত মাসে পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালানো ইহুদি দাঙ্গাকারীদের ইসরায়েলি সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন হাকাবি। তার ওই মন্তব্যের পর বাজরিয়ার মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনায় হামলাকারীরা দেয়ালে লেখে— ‘হাকাবি, সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।’ হাকাবি জানান, ওই গ্রাফিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত করেনি। তবে এ ধরনের ঘটনার সামগ্রিক প্রবণতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার মতে, পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও ঘৃণাজনিত অপরাধের ঘটনা ক্রমেই ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সাক্ষাৎকারে ইরান প্রসঙ্গেও কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। হাকাবির দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। হাকাবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের হুমকি দীর্ঘদিনের এবং এটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি উগ্রপন্থীদের সহিংসতার বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের জন্যও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। হাকাবির সর্বশেষ মন্তব্যে সেই উদ্বেগই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এবং মাটির গভীরে তৈরি অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে খুব শিগগিরই হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা খুব শিগগিরই হতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট সময় বা এর ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের অবস্থান নাতাঞ্জের কাছে। নাতাঞ্জে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে এটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাহাড়টির গভীরে অত্যন্ত সুরক্ষিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। এসব স্থাপনা মাটির অনেক নিচে নির্মিত হওয়ায় এগুলোকে প্রচলিত বিমান হামলার জন্য কঠিন লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ওই স্থাপনার প্রকৃত ব্যবহার, সেখানে কী ধরনের অবকাঠামো রয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে এর সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক কতটা— এসব বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে নাতাঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি কোনো শক্তিশালী ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা হলে তা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত বিস্তারিত সামরিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং সেটি ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন নজরদারিতে রয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা
লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের টাইর ও নাবাতিয়েহ অঞ্চলের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের বেকা এলাকায় হামলা চালানো হয়। মোট পাঁচটি স্থানে এসব হামলা হয়েছে। হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে নিহত ও আহতদের পরিচয় এবং হামলায় ঠিক কী ধরনের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বেকা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এসব এলাকায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনা প্রায়ই উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। সর্বশেষ হামলার পর লেবাননে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই হামলার ফলে লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। সূত্র : আল-জাজিরা
সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া সাত বিদেশি নাগরিক মিয়ানমারে বেসামরিক বিমানে ড্রোন হামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা— এনআইএ। দিল্লির একটি আদালতে এনআইএয়ের তরফে এমন দাবি জানানো হয় বলে শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে। সাত বিদেশির মধ্যে ছয়জন ইউক্রেইনের নাগরিক; আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রের। তারা বর্তমানে তিহার কারাগারে আছেন। ওই সাতজনের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে সম্প্রতি আদালতে আবেদন করে এনআইএ। গত ৩১ অগাস্ট আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। এর আগে ১৯ অগাস্ট আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে এনআইএ বলেছে, “কিছু ইউক্রেইনীয় ও মার্কিন নাগরিক মিয়ানমারে একটি বেসামরিক বিমানে ড্রোন হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছে।” আবেদনে আরও বলা হয়, “এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের ১৪ নাগরিক বিভিন্ন সময়ে পর্যটন ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন। তারা বিমানে গুয়াহাটি যান এবং রেস্ট্রিকটেড এরিয়া পারমিট (আরএপি) বা প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিটের (পিএপি) মতো নথি ছাড়াই তারা মিজোরামে যান। এরপর তারা অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন।” তারা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে এনআইএর ভাষ্য। মিয়ানমারের জাতিগত লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহযুদ্ধের ফলে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একেক সশস্ত্র একেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। সংখ্যালঘুদের হয়ে কাজ করা গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক— বার্মা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দাবি করে, কাচিন রাজ্যের মিতকিনা বিমানবন্দরে ওই সময় মিয়ানমার ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের যাত্রীবাহী বিমানে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা হয়েছিল। বিমানটি মান্দালয়ের উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এনআইএর আবেদনে এই হামলার কথাই বলা হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে। এনআইএ তাদের আবেদনে বলেছে, “ওই সাত বিদেশি নাগরিক এর আগেও একইভাবে মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং সেখানে আরও দুই দফায় প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছিলেন। এ ছাড়া ইউরোপ থেকে ভারত হয়ে মিয়ানমারে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ অবৈধভাবে আমদানি করেছিলেন।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।