গাজা ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরে প্রভাব ফেলতে ইসরায়েল-অর্থায়িত একটি প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ প্রচারণার লক্ষ্য শুধু সাধারণ মানুষের মতামত প্রভাবিত করা নয়, বরং এআই যেসব অনলাইন উৎস থেকে তথ্য নেয়, সেসব উৎসের মধ্যেও নির্দিষ্ট বয়ান বা বক্তব্য ঢুকিয়ে দেওয়া। পলিটিকোর পর্যালোচনা করা নথির বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামে একটি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটিতে গাজা, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং ইহুদিবিদ্বেষের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে ‘ইসরায়েলি বাহিনী কি বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক সেনাবাহিনী?’ কিংবা ‘গাজায় ইসরায়েল কি ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে?’—এ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তথ্য সাজানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান হাভাস মিডিয়া তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাইরোর মাধ্যমে এই উদ্যোগে যুক্ত ছিল। মার্কিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া নথিতে দেখা গেছে, হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের এক ডজনের বেশি নিবন্ধ ১ লাখ ডলারের একটি প্রচারণার অংশ ছিল। নথিতে এই প্রচারণার উদ্দেশ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ইসরায়েল ও সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক ও সূত্রনির্ভর উপাদান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের ধরন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রচলিত মতামতধর্মী লেখা বা প্রচারণামূলক নিবন্ধের বদলে অনেক প্রতিবেদন এমন প্রশ্নের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে, যেভাবে মানুষ সরাসরি চ্যাটজিপিটি বা অন্য এআই চ্যাটবটকে প্রশ্ন করে। এখানেই বিষয়টির গুরুত্ব। চ্যাটজিপিটি, পারপ্লেক্সিটি ও অন্যান্য এআই সার্চ টুল এখন ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ ও সংক্ষেপ করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেয়। ফলে কোনো পক্ষ যদি নিজেদের বক্তব্য সমর্থন করে এমন তথ্যকে অনলাইনে বেশি পরিমাণে, নির্দিষ্ট কাঠামোয় এবং সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, এমনভাবে প্রকাশ করে, তাহলে এআইয়ের উত্তরে সেই বক্তব্য উঠে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। পলিটিকোর নিরপেক্ষভাবে করা কিছু পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ও পারপ্লেক্সিটি গাজা, ইহুদিবাদবিরোধিতা ও ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই প্রচারণা পদ্ধতিগতভাবে চ্যাটজিপিটি বা অন্য এআইয়ের ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তর বদলে দিয়েছে। একইভাবে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের প্রতিটি লেখা এআইকে প্রভাবিত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল, এমন প্রমাণও নেই। তবে ঘটনাটি একটি নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোনো সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি তথ্য এখন জনপ্রিয় এআই টুলগুলোর ব্যবহৃত অনলাইন উৎসের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। প্রচলিত বিজ্ঞাপনের সঙ্গে এর পার্থক্যও রয়েছে। বিজ্ঞাপন দেখলে ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন সেটি প্রচারণা। কিন্তু কোনো এআই যদি সেই তথ্য নিজের উত্তরের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা কঠিন হতে পারে যে তথ্যটির পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি প্রচারণা রয়েছে কি না। হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে অবশ্য একটি ঘোষণা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাদের তথ্য উপাত্ত পাইরো হাভাস মিডিয়া জার্মানির হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল সরকারের বিজ্ঞাপন সংস্থা লাপামের পক্ষে বিতরণ করছে। এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে এআইকে কেন্দ্র করে নতুন একটি কৌশলও সামনে এসেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ বা জিইও। আগে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটকে গুগলের সার্চ ফলাফলে ওপরে আনার চেষ্টা করা হতো। এখন একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য, প্রতিষ্ঠান বা তথ্যকে এআইয়ের খুঁজে পাওয়া ও উদ্ধৃত করার সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি শুধু ইসরায়েলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকার, রাজনৈতিক দল, কোম্পানি, লবিং প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করতে পারে। কারণ যুদ্ধ, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে তথ্য জানতে এখন অনেক মানুষ সরাসরি এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে এআইয়ের উত্তর তৈরির আগে ইন্টারনেটে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং কোন উৎসকে এআই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কোনো ব্যবহারকারী যদি এআইকে জিজ্ঞেস করেন, ‘গাজায় কি দুর্ভিক্ষ চলছে?’ কিংবা ‘গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে কি না?’—তখন তিনি ধরে নিতে পারেন যে এআই বিভিন্ন স্বাধীন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে উত্তর দিচ্ছে। কিন্তু সেই উৎসগুলোর কোনোটি যদি আগে থেকেই কোনো রাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার অংশ হয়, তাহলে তথ্য ও প্রচারণার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাইরো অবশ্য তাদের কাজকে প্রতারণামূলক প্রচারণা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল রোজেনবার্গ বলেছেন, ইসরায়েল তাদের নিয়োগ করেছিল এবং মার্কিন আইনে বিষয়টি প্রকাশও করা হয়েছে। তার দাবি, তারা ইসরায়েল সম্পর্কে সঠিক ও সূত্রনির্ভর তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে এবং ইসরায়েলবিরোধী ভুল তথ্য মোকাবিলা করতে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য কারণে। সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের পর রাজনৈতিক প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সেই প্রতিযোগিতা পৌঁছে যাচ্ছে এআইয়ের তথ্যভাণ্ডারেও। এআই শুধু তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় না; বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে সেটিকে বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত উত্তর তৈরি করে। ফলে রাজনৈতিক বয়ানের লড়াই এখন শুধু মানুষকে কী বলা হবে, তা নিয়ে নয়; এআই সেই উত্তর তৈরির সময় কোন তথ্য খুঁজে পাবে, সেটি নিয়েও। অর্থাৎ ভবিষ্যতের তথ্যযুদ্ধ হয়তো ব্যবহারকারী প্রশ্ন করার পর শুরু হবে না। বরং সে প্রশ্ন করার অনেক আগেই, ইন্টারনেটে কোন তথ্য থাকবে এবং এআই কোন তথ্য খুঁজে পাবে, সেই পর্যায় থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে। সূত্র: আরবনিউজ
ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন সংবিধান—দুই দিক থেকেই এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। শুক্রবার নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রণালিটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে তারা চাইলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে পারে। ইরান অবশ্য ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের। এটি কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী বা প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি অতীতেও ইরানের ছিল, এখনো ইরানের এবং ভবিষ্যতেও ইরানের থাকবে। তবে হরমুজ প্রণালির পুরোটা শুধু ইরানের ভূখণ্ড, এমন দাবিও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সহজ নয়। প্রণালিটি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলপথ। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জলসীমা সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার চওড়া। ফলে ইরান ও ওমানের জলসীমা সেখানে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে অন্য কোনো অঞ্চলকে নিজের দেশের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইনের মতে, নতুন কোনো ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে হলে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সিনেট অনুমোদিত চুক্তি বা কংগ্রেসের আইন প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের একক ঘোষণায় তা সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনের মতে, হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার দাবির কোনো বাস্তব আইনি ভিত্তি তৈরি হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত ইরান বা তার উপকূলীয় এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড বানানো সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও এখানে বড় বিষয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক বিষয় নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। এদিকে ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনাও করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, আলোচনায় শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। তবে হরমুজ পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর মতো কিছু শর্ত মানতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের একটি বড় অংশ তার নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা হতে পারে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেছেন, ট্রাম্প অনেক সময় বড় ধরনের বক্তব্য দেন। তাই তার কথাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হলেও সবসময় আক্ষরিক অর্থে নেওয়া উচিত নয়। তবে বক্তব্যটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। কারণ ইরান যুদ্ধের কয়েক মাস পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত তীব্র রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান সামরিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। ৬০ দিনের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে গালিবাফ এই মন্তব্য করেন। তার দাবি, যুদ্ধের ফল ইরানের জন্য সামরিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই সাফল্য বয়ে এনেছে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দায়ী করার মতো কাউকে খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক রবার্ট কেলি। আলজাজিরাকে কেলি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পরিকল্পিত সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে তার ব্যর্থতার সম্পর্ক রয়েছে। তার মতে, ট্রাম্প শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি তার প্রত্যাশার বিপরীতে দীর্ঘ ও জটিল হয়ে উঠেছে। কেলি বলেন, ট্রাম্প এমন একটি দ্রুত যুদ্ধের প্রত্যাশা করেছিলেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেটি ধীরে ধীরে পাল্টাপাল্টি হামলার দীর্ঘ সংঘাতে পরিণত হয়েছে। তার মতে, যুদ্ধটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ মতো হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প নিজেই আটকে পড়েছেন এবং এর জন্য কাউকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন। কেলির মতে, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ট্রাম্পের জন্য সুবিধাজনক লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। অতীতেও তিনি ন্যাটোর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সমালোচনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেলি। তার মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ইরান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং যুদ্ধের বিষয়ে তাদের সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শও করা হয়নি। কেলির ধারণা, ইরান যুদ্ধে তৈরি হওয়া সমস্যাকে আড়াল করতেই ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবেন, ট্রাম্প নিজেও সম্ভবত তা বুঝতে পারছেন না।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যৌথ এই হামলার জবাবে তেল আবিব উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে, বিশেষ করে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিভিন্ন এলাকায় পালটা আক্রমন চালায় তেহরান। ইরানের হামলায় দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে ইউএই, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে এক সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে আকাশসীমা খুলে দেওয়া হয়। তবে যুদ্ধের প্রভাব এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে রয়ে গেছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ কমেছে, ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ফ্লাইটও কমেছে। একই সঙ্গে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহণ খাতেও। বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জুনের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাগুলো ২০২৫ সালে ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করলেও ২০২৬ সালে তাদের ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার নিট লোকসান হতে পারে। এমিরেটস, ইতিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো বড় আঞ্চলিক বিমান সংস্থাগুলো বেশিরভাগ রুটে আবারও ফ্লাইট চালু করেছে। তবে এখনো পুরো সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। এমিরেটসের প্রধান নির্বাহী টিম ক্লার্ক জুনে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছিলেন, তাদের উড়োজাহাজগুলো প্রায় ৭৫ শতাংশ সক্ষমতায় চলাচল করছে। অন্যদিকে, ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক বিমান সংস্থা এখনো মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট পুরোপুরি চালু করেনি। এয়ার ফ্রান্স আগস্টের শেষ দিকে এবং লুফথানসা সেপ্টেম্বরে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স অক্টোবরের শেষ দিকে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য ঠিক করেছে। এয়ার কানাডা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝির আগে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে না। অনেক বিমান সংস্থা এখনো ফ্লাইট পুনরায় চালুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। আকাশসীমা খুললেও ঝুঁকি কাটেনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা খুলে দেওয়া হলেও এখনো মাঝে মাঝে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সির (ইইউএএসএ) সর্বশেষ সতর্কবার্তায় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ইউএই এবং ওমান উপসাগরের একটি অংশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের সুযোগও কমে গেছে। সেপ্টেম্বরে ইউএই থেকে লন্ডনে এক সপ্তাহের যাওয়া-আসার ভ্রমণে দুবাইগামী এমিরেটস, আবুধাবিগামী ইতিহাদ অথবা শারজাহগামী এয়ার অ্যারাবিয়াই মূল বিকল্প হিসেবে রয়েছে। একই সময়ে দোহা থেকে টোকিও যেতে কাতার এয়ারওয়েজই একমাত্র সরাসরি বিকল্প। হুমকিতে উপসাগরীয় বিমান সংস্থার ব্যবসায়িক মডেল উপসাগরীয় বিমান সংস্থাগুলো মূলত ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেলে ব্যবসা পরিচালনা করে। অর্থাৎ, দুবাই, দোহা বা আবুধাবির মতো একটি বড় বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। যাত্রীরা ওই কেন্দ্রীয় বিমানবন্দরে নেমে অন্য ফ্লাইটে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছান। ইউরোপ ও এশিয়ার মাঝামাঝি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসায়িক মডেল থেকে সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ সেই ব্যবস্থাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটির এভিয়েশন লেকচারার নাভিদ কাপাডিয়া বলেন, কাতার এয়ারওয়েজ ও এমিরেটসের মতো বিমান সংস্থার প্রতিযোগিতা অনেকটাই কমে যাওয়ায় তারা বাজারের বড় অংশ ধরে রাখতে এবং তুলনামূলক ভালো ভাড়া নিতে পারছে। তবে তাদের ব্যবসা মূলত দুবাই ও দোহা দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। আইএটিএর জুনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যাত্রী পরিবহণ চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল বেড়েছে ১১ শতাংশ। এতে উপসাগরীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেলের ওপর চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাড়ছে খরচ, কমছে ফ্লাইটের সক্ষমতা যুদ্ধের কারণে অনেক বিমানকে দীর্ঘ বা তুলনামূলক কম কার্যকর পথে চলতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ছে, পাইলট ও ক্রুদের দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে এবং উড়োজাহাজের ব্যবহারও কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য বিঘ্নের কথা মাথায় রেখে অনেক বিমান অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করছে। এতে যাত্রী ও পণ্য বহনের জন্য উড়োজাহাজে জায়গা কমে যাচ্ছে। ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ ব্যবস্থার আরেকটি বড় দুর্বলতাও এখন সামনে এসেছে। কোনো একটি রুটে সমস্যা হলে উড়োজাহাজ ও ক্রুরা দূরবর্তী কোনো বিমানবন্দরে আটকে যেতে পারে। এর ফলে পুরো নেটওয়ার্কে একের পর এক ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব কমে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহণ খাত এখনো বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি উপসাগরীয় বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক মডেল ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ—দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দমকা হাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (১৭ আগস্ট) আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়ার দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে। রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির খসরু বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় পার করেছেন। সে সময় কারাগারে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তেমন তথ্য পৌঁছাত না। তবে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত কারাগারে পৌঁছালে সেখানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেল সুপার তাকে বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’—এই দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণার মূল লক্ষ্য। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না; দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইন সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। শীতলপাটি ও মৃৎশিল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে পারলে মানুষের আয় ও জীবনমান বাড়বে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট ছিল। ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, বরং মাইনাস থেকে শুরু করেছি’—বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব হবে। আমির খসরু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে। অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানা গেছে। সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার প্রথম রমজান শুরু হতে পারে। আগামী ২৯ শাবান (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, এবার শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার শেষ হবে। ফলে এর পরদিন সোমবার থেকেই রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এবারের রমজান মাসটি ২৯ দিনে শেষ হতে পারে। সেই অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার রমজানের শেষ দিন হবে এবং পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৪৪৮ হিজরি সনের প্রথম দিন নির্ধারণ নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কিছু দেশে ১৬ জুন মঙ্গলবার নতুন বছর শুরু হলেও, অন্যান্য দেশে ১৭ জুন বুধবার থেকে হিজরি সন গণনা করা হয়। সূত্র: জর্ডান নিউজ।
গাজা ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরে প্রভাব ফেলতে ইসরায়েল-অর্থায়িত একটি প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ প্রচারণার লক্ষ্য শুধু সাধারণ মানুষের মতামত প্রভাবিত করা নয়, বরং এআই যেসব অনলাইন উৎস থেকে তথ্য নেয়, সেসব উৎসের মধ্যেও নির্দিষ্ট বয়ান বা বক্তব্য ঢুকিয়ে দেওয়া। পলিটিকোর পর্যালোচনা করা নথির বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামে একটি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটিতে গাজা, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং ইহুদিবিদ্বেষের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে ‘ইসরায়েলি বাহিনী কি বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক সেনাবাহিনী?’ কিংবা ‘গাজায় ইসরায়েল কি ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে?’—এ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তথ্য সাজানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান হাভাস মিডিয়া তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাইরোর মাধ্যমে এই উদ্যোগে যুক্ত ছিল। মার্কিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া নথিতে দেখা গেছে, হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের এক ডজনের বেশি নিবন্ধ ১ লাখ ডলারের একটি প্রচারণার অংশ ছিল। নথিতে এই প্রচারণার উদ্দেশ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ইসরায়েল ও সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক ও সূত্রনির্ভর উপাদান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের ধরন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রচলিত মতামতধর্মী লেখা বা প্রচারণামূলক নিবন্ধের বদলে অনেক প্রতিবেদন এমন প্রশ্নের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে, যেভাবে মানুষ সরাসরি চ্যাটজিপিটি বা অন্য এআই চ্যাটবটকে প্রশ্ন করে। এখানেই বিষয়টির গুরুত্ব। চ্যাটজিপিটি, পারপ্লেক্সিটি ও অন্যান্য এআই সার্চ টুল এখন ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ ও সংক্ষেপ করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেয়। ফলে কোনো পক্ষ যদি নিজেদের বক্তব্য সমর্থন করে এমন তথ্যকে অনলাইনে বেশি পরিমাণে, নির্দিষ্ট কাঠামোয় এবং সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, এমনভাবে প্রকাশ করে, তাহলে এআইয়ের উত্তরে সেই বক্তব্য উঠে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। পলিটিকোর নিরপেক্ষভাবে করা কিছু পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ও পারপ্লেক্সিটি গাজা, ইহুদিবাদবিরোধিতা ও ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই প্রচারণা পদ্ধতিগতভাবে চ্যাটজিপিটি বা অন্য এআইয়ের ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তর বদলে দিয়েছে। একইভাবে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের প্রতিটি লেখা এআইকে প্রভাবিত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল, এমন প্রমাণও নেই। তবে ঘটনাটি একটি নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোনো সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি তথ্য এখন জনপ্রিয় এআই টুলগুলোর ব্যবহৃত অনলাইন উৎসের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। প্রচলিত বিজ্ঞাপনের সঙ্গে এর পার্থক্যও রয়েছে। বিজ্ঞাপন দেখলে ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন সেটি প্রচারণা। কিন্তু কোনো এআই যদি সেই তথ্য নিজের উত্তরের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা কঠিন হতে পারে যে তথ্যটির পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি প্রচারণা রয়েছে কি না। হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে অবশ্য একটি ঘোষণা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাদের তথ্য উপাত্ত পাইরো হাভাস মিডিয়া জার্মানির হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল সরকারের বিজ্ঞাপন সংস্থা লাপামের পক্ষে বিতরণ করছে। এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে এআইকে কেন্দ্র করে নতুন একটি কৌশলও সামনে এসেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ বা জিইও। আগে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটকে গুগলের সার্চ ফলাফলে ওপরে আনার চেষ্টা করা হতো। এখন একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য, প্রতিষ্ঠান বা তথ্যকে এআইয়ের খুঁজে পাওয়া ও উদ্ধৃত করার সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি শুধু ইসরায়েলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকার, রাজনৈতিক দল, কোম্পানি, লবিং প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করতে পারে। কারণ যুদ্ধ, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে তথ্য জানতে এখন অনেক মানুষ সরাসরি এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে এআইয়ের উত্তর তৈরির আগে ইন্টারনেটে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং কোন উৎসকে এআই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কোনো ব্যবহারকারী যদি এআইকে জিজ্ঞেস করেন, ‘গাজায় কি দুর্ভিক্ষ চলছে?’ কিংবা ‘গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে কি না?’—তখন তিনি ধরে নিতে পারেন যে এআই বিভিন্ন স্বাধীন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে উত্তর দিচ্ছে। কিন্তু সেই উৎসগুলোর কোনোটি যদি আগে থেকেই কোনো রাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার অংশ হয়, তাহলে তথ্য ও প্রচারণার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাইরো অবশ্য তাদের কাজকে প্রতারণামূলক প্রচারণা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল রোজেনবার্গ বলেছেন, ইসরায়েল তাদের নিয়োগ করেছিল এবং মার্কিন আইনে বিষয়টি প্রকাশও করা হয়েছে। তার দাবি, তারা ইসরায়েল সম্পর্কে সঠিক ও সূত্রনির্ভর তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে এবং ইসরায়েলবিরোধী ভুল তথ্য মোকাবিলা করতে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য কারণে। সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের পর রাজনৈতিক প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সেই প্রতিযোগিতা পৌঁছে যাচ্ছে এআইয়ের তথ্যভাণ্ডারেও। এআই শুধু তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় না; বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে সেটিকে বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত উত্তর তৈরি করে। ফলে রাজনৈতিক বয়ানের লড়াই এখন শুধু মানুষকে কী বলা হবে, তা নিয়ে নয়; এআই সেই উত্তর তৈরির সময় কোন তথ্য খুঁজে পাবে, সেটি নিয়েও। অর্থাৎ ভবিষ্যতের তথ্যযুদ্ধ হয়তো ব্যবহারকারী প্রশ্ন করার পর শুরু হবে না। বরং সে প্রশ্ন করার অনেক আগেই, ইন্টারনেটে কোন তথ্য থাকবে এবং এআই কোন তথ্য খুঁজে পাবে, সেই পর্যায় থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে। সূত্র: আরবনিউজ
ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন সংবিধান—দুই দিক থেকেই এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। শুক্রবার নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রণালিটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে তারা চাইলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে পারে। ইরান অবশ্য ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের। এটি কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী বা প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি অতীতেও ইরানের ছিল, এখনো ইরানের এবং ভবিষ্যতেও ইরানের থাকবে। তবে হরমুজ প্রণালির পুরোটা শুধু ইরানের ভূখণ্ড, এমন দাবিও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সহজ নয়। প্রণালিটি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলপথ। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জলসীমা সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার চওড়া। ফলে ইরান ও ওমানের জলসীমা সেখানে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে অন্য কোনো অঞ্চলকে নিজের দেশের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইনের মতে, নতুন কোনো ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে হলে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সিনেট অনুমোদিত চুক্তি বা কংগ্রেসের আইন প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের একক ঘোষণায় তা সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনের মতে, হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার দাবির কোনো বাস্তব আইনি ভিত্তি তৈরি হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত ইরান বা তার উপকূলীয় এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড বানানো সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও এখানে বড় বিষয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক বিষয় নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। এদিকে ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনাও করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, আলোচনায় শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। তবে হরমুজ পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর মতো কিছু শর্ত মানতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের একটি বড় অংশ তার নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা হতে পারে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেছেন, ট্রাম্প অনেক সময় বড় ধরনের বক্তব্য দেন। তাই তার কথাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হলেও সবসময় আক্ষরিক অর্থে নেওয়া উচিত নয়। তবে বক্তব্যটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। কারণ ইরান যুদ্ধের কয়েক মাস পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত তীব্র রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
গাজা ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরে প্রভাব ফেলতে ইসরায়েল-অর্থায়িত একটি প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ প্রচারণার লক্ষ্য শুধু সাধারণ মানুষের মতামত প্রভাবিত করা নয়, বরং এআই যেসব অনলাইন উৎস থেকে তথ্য নেয়, সেসব উৎসের মধ্যেও নির্দিষ্ট বয়ান বা বক্তব্য ঢুকিয়ে দেওয়া। পলিটিকোর পর্যালোচনা করা নথির বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামে একটি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটিতে গাজা, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং ইহুদিবিদ্বেষের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে ‘ইসরায়েলি বাহিনী কি বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক সেনাবাহিনী?’ কিংবা ‘গাজায় ইসরায়েল কি ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে?’—এ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তথ্য সাজানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান হাভাস মিডিয়া তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাইরোর মাধ্যমে এই উদ্যোগে যুক্ত ছিল। মার্কিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া নথিতে দেখা গেছে, হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের এক ডজনের বেশি নিবন্ধ ১ লাখ ডলারের একটি প্রচারণার অংশ ছিল। নথিতে এই প্রচারণার উদ্দেশ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ইসরায়েল ও সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক ও সূত্রনির্ভর উপাদান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের ধরন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রচলিত মতামতধর্মী লেখা বা প্রচারণামূলক নিবন্ধের বদলে অনেক প্রতিবেদন এমন প্রশ্নের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে, যেভাবে মানুষ সরাসরি চ্যাটজিপিটি বা অন্য এআই চ্যাটবটকে প্রশ্ন করে। এখানেই বিষয়টির গুরুত্ব। চ্যাটজিপিটি, পারপ্লেক্সিটি ও অন্যান্য এআই সার্চ টুল এখন ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ ও সংক্ষেপ করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেয়। ফলে কোনো পক্ষ যদি নিজেদের বক্তব্য সমর্থন করে এমন তথ্যকে অনলাইনে বেশি পরিমাণে, নির্দিষ্ট কাঠামোয় এবং সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, এমনভাবে প্রকাশ করে, তাহলে এআইয়ের উত্তরে সেই বক্তব্য উঠে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। পলিটিকোর নিরপেক্ষভাবে করা কিছু পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ও পারপ্লেক্সিটি গাজা, ইহুদিবাদবিরোধিতা ও ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই প্রচারণা পদ্ধতিগতভাবে চ্যাটজিপিটি বা অন্য এআইয়ের ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তর বদলে দিয়েছে। একইভাবে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের প্রতিটি লেখা এআইকে প্রভাবিত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল, এমন প্রমাণও নেই। তবে ঘটনাটি একটি নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোনো সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি তথ্য এখন জনপ্রিয় এআই টুলগুলোর ব্যবহৃত অনলাইন উৎসের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। প্রচলিত বিজ্ঞাপনের সঙ্গে এর পার্থক্যও রয়েছে। বিজ্ঞাপন দেখলে ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন সেটি প্রচারণা। কিন্তু কোনো এআই যদি সেই তথ্য নিজের উত্তরের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা কঠিন হতে পারে যে তথ্যটির পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি প্রচারণা রয়েছে কি না। হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে অবশ্য একটি ঘোষণা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাদের তথ্য উপাত্ত পাইরো হাভাস মিডিয়া জার্মানির হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল সরকারের বিজ্ঞাপন সংস্থা লাপামের পক্ষে বিতরণ করছে। এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে এআইকে কেন্দ্র করে নতুন একটি কৌশলও সামনে এসেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ বা জিইও। আগে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটকে গুগলের সার্চ ফলাফলে ওপরে আনার চেষ্টা করা হতো। এখন একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য, প্রতিষ্ঠান বা তথ্যকে এআইয়ের খুঁজে পাওয়া ও উদ্ধৃত করার সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি শুধু ইসরায়েলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকার, রাজনৈতিক দল, কোম্পানি, লবিং প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করতে পারে। কারণ যুদ্ধ, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে তথ্য জানতে এখন অনেক মানুষ সরাসরি এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে এআইয়ের উত্তর তৈরির আগে ইন্টারনেটে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং কোন উৎসকে এআই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কোনো ব্যবহারকারী যদি এআইকে জিজ্ঞেস করেন, ‘গাজায় কি দুর্ভিক্ষ চলছে?’ কিংবা ‘গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে কি না?’—তখন তিনি ধরে নিতে পারেন যে এআই বিভিন্ন স্বাধীন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে উত্তর দিচ্ছে। কিন্তু সেই উৎসগুলোর কোনোটি যদি আগে থেকেই কোনো রাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার অংশ হয়, তাহলে তথ্য ও প্রচারণার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাইরো অবশ্য তাদের কাজকে প্রতারণামূলক প্রচারণা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল রোজেনবার্গ বলেছেন, ইসরায়েল তাদের নিয়োগ করেছিল এবং মার্কিন আইনে বিষয়টি প্রকাশও করা হয়েছে। তার দাবি, তারা ইসরায়েল সম্পর্কে সঠিক ও সূত্রনির্ভর তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে এবং ইসরায়েলবিরোধী ভুল তথ্য মোকাবিলা করতে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য কারণে। সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের পর রাজনৈতিক প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সেই প্রতিযোগিতা পৌঁছে যাচ্ছে এআইয়ের তথ্যভাণ্ডারেও। এআই শুধু তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় না; বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে সেটিকে বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত উত্তর তৈরি করে। ফলে রাজনৈতিক বয়ানের লড়াই এখন শুধু মানুষকে কী বলা হবে, তা নিয়ে নয়; এআই সেই উত্তর তৈরির সময় কোন তথ্য খুঁজে পাবে, সেটি নিয়েও। অর্থাৎ ভবিষ্যতের তথ্যযুদ্ধ হয়তো ব্যবহারকারী প্রশ্ন করার পর শুরু হবে না। বরং সে প্রশ্ন করার অনেক আগেই, ইন্টারনেটে কোন তথ্য থাকবে এবং এআই কোন তথ্য খুঁজে পাবে, সেই পর্যায় থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে। সূত্র: আরবনিউজ
ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন সংবিধান—দুই দিক থেকেই এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। শুক্রবার নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রণালিটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে তারা চাইলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে পারে। ইরান অবশ্য ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের। এটি কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী বা প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি অতীতেও ইরানের ছিল, এখনো ইরানের এবং ভবিষ্যতেও ইরানের থাকবে। তবে হরমুজ প্রণালির পুরোটা শুধু ইরানের ভূখণ্ড, এমন দাবিও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সহজ নয়। প্রণালিটি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলপথ। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জলসীমা সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার চওড়া। ফলে ইরান ও ওমানের জলসীমা সেখানে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে অন্য কোনো অঞ্চলকে নিজের দেশের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইনের মতে, নতুন কোনো ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে হলে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সিনেট অনুমোদিত চুক্তি বা কংগ্রেসের আইন প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের একক ঘোষণায় তা সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনের মতে, হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার দাবির কোনো বাস্তব আইনি ভিত্তি তৈরি হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত ইরান বা তার উপকূলীয় এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড বানানো সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও এখানে বড় বিষয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক বিষয় নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। এদিকে ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনাও করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, আলোচনায় শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। তবে হরমুজ পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর মতো কিছু শর্ত মানতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের একটি বড় অংশ তার নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা হতে পারে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেছেন, ট্রাম্প অনেক সময় বড় ধরনের বক্তব্য দেন। তাই তার কথাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হলেও সবসময় আক্ষরিক অর্থে নেওয়া উচিত নয়। তবে বক্তব্যটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। কারণ ইরান যুদ্ধের কয়েক মাস পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত তীব্র রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান সামরিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। ৬০ দিনের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে গালিবাফ এই মন্তব্য করেন। তার দাবি, যুদ্ধের ফল ইরানের জন্য সামরিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই সাফল্য বয়ে এনেছে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দায়ী করার মতো কাউকে খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক রবার্ট কেলি। আলজাজিরাকে কেলি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পরিকল্পিত সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে তার ব্যর্থতার সম্পর্ক রয়েছে। তার মতে, ট্রাম্প শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি তার প্রত্যাশার বিপরীতে দীর্ঘ ও জটিল হয়ে উঠেছে। কেলি বলেন, ট্রাম্প এমন একটি দ্রুত যুদ্ধের প্রত্যাশা করেছিলেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেটি ধীরে ধীরে পাল্টাপাল্টি হামলার দীর্ঘ সংঘাতে পরিণত হয়েছে। তার মতে, যুদ্ধটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ মতো হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প নিজেই আটকে পড়েছেন এবং এর জন্য কাউকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন। কেলির মতে, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ট্রাম্পের জন্য সুবিধাজনক লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। অতীতেও তিনি ন্যাটোর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সমালোচনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেলি। তার মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ইরান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং যুদ্ধের বিষয়ে তাদের সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শও করা হয়নি। কেলির ধারণা, ইরান যুদ্ধে তৈরি হওয়া সমস্যাকে আড়াল করতেই ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবেন, ট্রাম্প নিজেও সম্ভবত তা বুঝতে পারছেন না।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যৌথ এই হামলার জবাবে তেল আবিব উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে, বিশেষ করে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিভিন্ন এলাকায় পালটা আক্রমন চালায় তেহরান। ইরানের হামলায় দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে ইউএই, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে এক সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে আকাশসীমা খুলে দেওয়া হয়। তবে যুদ্ধের প্রভাব এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে রয়ে গেছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ কমেছে, ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ফ্লাইটও কমেছে। একই সঙ্গে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহণ খাতেও। বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জুনের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাগুলো ২০২৫ সালে ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করলেও ২০২৬ সালে তাদের ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার নিট লোকসান হতে পারে। এমিরেটস, ইতিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো বড় আঞ্চলিক বিমান সংস্থাগুলো বেশিরভাগ রুটে আবারও ফ্লাইট চালু করেছে। তবে এখনো পুরো সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। এমিরেটসের প্রধান নির্বাহী টিম ক্লার্ক জুনে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছিলেন, তাদের উড়োজাহাজগুলো প্রায় ৭৫ শতাংশ সক্ষমতায় চলাচল করছে। অন্যদিকে, ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক বিমান সংস্থা এখনো মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট পুরোপুরি চালু করেনি। এয়ার ফ্রান্স আগস্টের শেষ দিকে এবং লুফথানসা সেপ্টেম্বরে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স অক্টোবরের শেষ দিকে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য ঠিক করেছে। এয়ার কানাডা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝির আগে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে না। অনেক বিমান সংস্থা এখনো ফ্লাইট পুনরায় চালুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। আকাশসীমা খুললেও ঝুঁকি কাটেনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা খুলে দেওয়া হলেও এখনো মাঝে মাঝে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সির (ইইউএএসএ) সর্বশেষ সতর্কবার্তায় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ইউএই এবং ওমান উপসাগরের একটি অংশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের সুযোগও কমে গেছে। সেপ্টেম্বরে ইউএই থেকে লন্ডনে এক সপ্তাহের যাওয়া-আসার ভ্রমণে দুবাইগামী এমিরেটস, আবুধাবিগামী ইতিহাদ অথবা শারজাহগামী এয়ার অ্যারাবিয়াই মূল বিকল্প হিসেবে রয়েছে। একই সময়ে দোহা থেকে টোকিও যেতে কাতার এয়ারওয়েজই একমাত্র সরাসরি বিকল্প। হুমকিতে উপসাগরীয় বিমান সংস্থার ব্যবসায়িক মডেল উপসাগরীয় বিমান সংস্থাগুলো মূলত ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেলে ব্যবসা পরিচালনা করে। অর্থাৎ, দুবাই, দোহা বা আবুধাবির মতো একটি বড় বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। যাত্রীরা ওই কেন্দ্রীয় বিমানবন্দরে নেমে অন্য ফ্লাইটে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছান। ইউরোপ ও এশিয়ার মাঝামাঝি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসায়িক মডেল থেকে সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ সেই ব্যবস্থাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটির এভিয়েশন লেকচারার নাভিদ কাপাডিয়া বলেন, কাতার এয়ারওয়েজ ও এমিরেটসের মতো বিমান সংস্থার প্রতিযোগিতা অনেকটাই কমে যাওয়ায় তারা বাজারের বড় অংশ ধরে রাখতে এবং তুলনামূলক ভালো ভাড়া নিতে পারছে। তবে তাদের ব্যবসা মূলত দুবাই ও দোহা দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। আইএটিএর জুনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যাত্রী পরিবহণ চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল বেড়েছে ১১ শতাংশ। এতে উপসাগরীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেলের ওপর চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাড়ছে খরচ, কমছে ফ্লাইটের সক্ষমতা যুদ্ধের কারণে অনেক বিমানকে দীর্ঘ বা তুলনামূলক কম কার্যকর পথে চলতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ছে, পাইলট ও ক্রুদের দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে এবং উড়োজাহাজের ব্যবহারও কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য বিঘ্নের কথা মাথায় রেখে অনেক বিমান অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করছে। এতে যাত্রী ও পণ্য বহনের জন্য উড়োজাহাজে জায়গা কমে যাচ্ছে। ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ ব্যবস্থার আরেকটি বড় দুর্বলতাও এখন সামনে এসেছে। কোনো একটি রুটে সমস্যা হলে উড়োজাহাজ ও ক্রুরা দূরবর্তী কোনো বিমানবন্দরে আটকে যেতে পারে। এর ফলে পুরো নেটওয়ার্কে একের পর এক ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব কমে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহণ খাত এখনো বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি উপসাগরীয় বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক মডেল ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ—দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।