সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
২৫ বছর পূর্ণের আগে চাকরি ছাড়লে মিলবে না পেনশন, আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পেনশন সুবিধা পাবেন না বলে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ বলেছেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে চাকরি ছাড়লে পেনশনের অধিকার সৃষ্টি হয় না।   গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।   এর আগে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেন।   রায়ে বলা হয়েছে, আইনসভা যৌক্তিক ও নীতিগত বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২৫ বছরের চাকরির শর্ত নির্ধারণ করেছে। ফলে এই সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন বা সংশ্লিষ্ট অবসর-সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।   মামলার নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ পদে থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে আংশিক পেনশন ও আনুতোষিকের আবেদন করলে ২০১৫ সালে আইন মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী পদত্যাগের মাধ্যমে চাকরি শেষ হলে পূর্বের চাকরিকাল পেনশনের জন্য গণ্য হয় না এবং আবেদনকারীর ২৫ বছরের চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় তিনি পেনশনের যোগ্য নন।   পরে ওই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০২১ সালে হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দিয়ে পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন।   তবে রাষ্ট্রপক্ষ সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে। সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত স্পষ্ট করেন যে, সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা প্রাপ্য হবে না।

১ ঘন্টা আগে
দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত

যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুত সঙ্কট আরও তীব্র হবে।    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।   থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুত এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’   ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুত যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’   ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়নি।   সিএসআইএস’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; ততদিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড  সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে।   পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর।   সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি।   পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন।   মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেওয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।   যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে, তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

১ ঘন্টা আগে
চলতি বছরের মধ্যেই সব উপজেলা হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এই বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে সরকার ক্যাথ ল্যাব স্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।    রোববার (১২ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ভুল পরীক্ষার ফাঁদ বন্ধ করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষার ফাঁদে পড়ে যেন জনগণের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য ল্যাব পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানও প্রস্তুত করা হচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সুস্থ, দক্ষ এবং গুণগত মানসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা প্রবীণ হয়ে যাচ্ছি, তাই দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য একটি যোগ্য ও মানসম্মত তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সমাজ থেকে সব ধরনের অনিয়ম দূর করে একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।   তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন মেগা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছর থেকেই দেশের প্রতিটি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দেশের প্রতিটি ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্য সহকারী কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার (রিনোভেট) করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে উন্নত স্ক্রিনিং বক্সের ব্যবস্থা করা হবে।   প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী। তারা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবপরবর্তী কাউন্সেলিং করবেন। এর মূল উদ্দেশ্য প্রসূতি মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) উৎসাহিত করা, নবজাতকের মায়ের বুকের দুধ পানের হার বাড়ানো এবং শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা।   প্রতিটি জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গরিব মানুষকে যেন চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে দৌড়াতে না হয়, সেজন্য প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালেও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হচ্ছে।    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

১ ঘন্টা আগে
বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে সরকার।   গেল ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে জানায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আগের আর্থিক বছরের মতই রপ্তানিমুখী দেশি বস্ত্র ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।   দু্ই সপ্তাহের মাথায় সেই নির্দেশনা পরিবর্তন করে রোববার নতুন সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তাতে বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ‘ডিউটি ড্র-ব্যাকের’ পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হল।   এর মানে হচ্ছে—যেসব তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করবেন, তারাই বাড়তি এই নগদ সহায়তা পাবেন।   বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে নগদ সহায়তার হার বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।   নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই জারি করা সার্কুলারে রপ্তানিমুখী দেশি বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ‘ডিউটি ড্র-ব্যাক’ এর পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে এই খাতে বিদ্যমান নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হল।   এক্ষেত্রে রপ্তানিকারককে (বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ বা অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য) প্রণোদনা গ্রহণের পূর্বে দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল (সুতা/কাপড়) সংগ্রহের প্রমাণক দাখিল করতে হবে।”   বর্ধিত এই সুবিধা গত ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে সার্কুলারে তুলে ধরা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ ডিসেম্বরের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।   নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা নেওয়ার আগে দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। সুবিধাটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ ডিসেম্বরের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়।   বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমইএ এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সে দিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।   এ সময় তারা দেশি সুতা ব্যবহার উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ ছয় দফা দাবি জানান।   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই ব্যবসায়ে টিকে থাকতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধির দাবি করেছিলেন বস্ত্রকল মালিকেরা। আলাপ-আলোচনার পর নীতিগতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সেই সরকার। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের কাছে বিটিএমএ এর নেতারা দেনদরবার শুরু করেন।   সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবুজ সংকেত দেন। তারপরই মূলত বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়।   সেই নির্দেশনার পরিপেক্ষিতে রোববার নতুন সার্কুলার জারি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   আড়াই বছর আগে স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়।   ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
২৫ বছর পূর্ণের আগে চাকরি ছাড়লে মিলবে না পেনশন, আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পেনশন সুবিধা পাবেন না বলে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ বলেছেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে চাকরি ছাড়লে পেনশনের অধিকার সৃষ্টি হয় না।   গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।   এর আগে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেন।   রায়ে বলা হয়েছে, আইনসভা যৌক্তিক ও নীতিগত বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২৫ বছরের চাকরির শর্ত নির্ধারণ করেছে। ফলে এই সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন বা সংশ্লিষ্ট অবসর-সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।   মামলার নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ পদে থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে আংশিক পেনশন ও আনুতোষিকের আবেদন করলে ২০১৫ সালে আইন মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী পদত্যাগের মাধ্যমে চাকরি শেষ হলে পূর্বের চাকরিকাল পেনশনের জন্য গণ্য হয় না এবং আবেদনকারীর ২৫ বছরের চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় তিনি পেনশনের যোগ্য নন।   পরে ওই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০২১ সালে হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দিয়ে পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন।   তবে রাষ্ট্রপক্ষ সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে। সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত স্পষ্ট করেন যে, সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা প্রাপ্য হবে না।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১২, ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের মধ্যেই সব উপজেলা হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এই বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে সরকার ক্যাথ ল্যাব স্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।    রোববার (১২ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ভুল পরীক্ষার ফাঁদ বন্ধ করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষার ফাঁদে পড়ে যেন জনগণের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য ল্যাব পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানও প্রস্তুত করা হচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সুস্থ, দক্ষ এবং গুণগত মানসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা প্রবীণ হয়ে যাচ্ছি, তাই দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য একটি যোগ্য ও মানসম্মত তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সমাজ থেকে সব ধরনের অনিয়ম দূর করে একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।   তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন মেগা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছর থেকেই দেশের প্রতিটি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দেশের প্রতিটি ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্য সহকারী কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার (রিনোভেট) করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে উন্নত স্ক্রিনিং বক্সের ব্যবস্থা করা হবে।   প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী। তারা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবপরবর্তী কাউন্সেলিং করবেন। এর মূল উদ্দেশ্য প্রসূতি মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) উৎসাহিত করা, নবজাতকের মায়ের বুকের দুধ পানের হার বাড়ানো এবং শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা।   প্রতিটি জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গরিব মানুষকে যেন চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে দৌড়াতে না হয়, সেজন্য প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালেও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হচ্ছে।    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় মানব পাচারবিরোধী অভিযানে ১৮ বাংলাদেশিসহ আটক ১৯

মালয়েশিয়ায় মানব পাচারচক্রের একটি গোপন ট্রানজিট আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৮ বাংলাদেশিসহ মোট ১৯ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিকও রয়েছেন।   দেশটির সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের চেরাস এলাকায় একটি দোকানঘরের ওপরের তলায় গড়ে তোলা আস্তানায় গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।   মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, আটক ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে ১৫ জন এবং পাকিস্তানের ওই নাগরিক মানব পাচারের শিকার হয়ে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর তিন বাংলাদেশিকে মানব পাচারচক্রের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রানজিট হাউস পরিচালনা ও পাচার কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাঁদের একজন চক্রটির স্থানীয় সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করতেন।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক অভিবাসীরা ওই দিনই মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি অবৈধ সীমান্তপথ দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। পরে তাঁদের সড়কপথে ক্লাং ভ্যালি এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে সক্রিয় এই চক্রটি প্রথমে অভিবাসীদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যেত। এরপর দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করানো হতো।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত পাচারকারীরা। এভাবে চক্রটি প্রায় ৩২ লাখ রিঙ্গিতের অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অভিযানে পাচারচক্রের ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। ২০ থেকে ৫২ বছর বয়সী আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭-এর আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।   মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১ ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং, বিনিয়োগ প্রায় ১৪ হাজার কোটি

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে ২১টি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ এয়ারক্রাফট যুক্ত হচ্ছে এয়ারলাইন্সটিতে।    বিশ্বসেরা ৫টি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে এই এয়ারক্রাফটগুলো দিচ্ছে যার বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।   বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।   চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এই উড়োজাহাজগুলো বহরে হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।   আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর হোটেল শেরাটনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইউএস-বাংলা। অনুষ্ঠানে বোয়িং এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যৌথভাবে বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।   অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমান ও পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।   ইউএস-বাংলা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন শুধু একটি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়; বরং এটি দেশের এভিয়েশন খাতে একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ।   বিশিষ্ট এভিয়েশন ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি এয়ারলাইন্স এর আগে একসঙ্গে এত বড় পরিসরে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়নি। এটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বড় সফলতা। তারা নিশ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। আমার বিশ্বাস, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন শিল্প, রপ্তানি ও বিনিয়োগ আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনায় বিপুলসংখ্যক পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও সহায়ক জনবলের প্রয়োজন হবে, যা দেশে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।   বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের একটি বড় অংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।   খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি ক্যারিয়ারগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ২১টি উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী, ডিসপ্যাচার এবং অন্যান্য কারিগরি জনবল প্রয়োজন হবে। ফলে এভিয়েশন খাতে হাজারো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের জন্য পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।   এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, “ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এত বড় বিনিয়োগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তবে একসঙ্গে এতগুলো এয়ারক্রাফট পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে। বিশেষ করে কোন রুটে কী ধরনের চাহিদা রয়েছে এবং সেই চাহিদা অনুযায়ী কোন সাইজের এয়ারক্রাফট পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে যথাযথ বিশ্লেষণ জরুরি। সঠিক রুট পরিকল্পনা ও উপযুক্ত এয়ারক্রাফট নির্বাচন করা গেলে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে এবং দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।”   এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের কোনো একক এয়ারলাইন্সের একবছরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার ঘটনা মাত্র পাঁচটি। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে অনন্য নজির তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আইএটিএস সার্টিফাইড বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।   শুধু বহরের আকার নয়, যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে এয়ারলাইন্সটি। নতুন উড়োজাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন ইন্টেরিয়র এবং প্রিমিয়াম সিট সংযোজন করা হয়েছে।   এ ছাড়া প্রতিটি উড়োজাহাজে থাকবে আধুনিক ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে কোনো তার ছাড়াই দেশি-বিদেশি সিনেমা, নাটক, টিভি অনুষ্ঠান, সংগীতসহ হলিউড-বলিউডের বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন।   নতুন বহরের প্রতিটি উড়োজাহাজে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধাও থাকবে। ফলে যাত্রীরা আকাশে ভ্রমণের সময়ও ইন্টারনেট ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান এবং ফোন কলে কথা বলতে পারবেন। এ ধরনের সুবিধা বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে থাকলেও বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি এয়ারলাইন্সের জন্য এটি হবে অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি।   মেঘনা এভিয়েশন লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. আনোয়ারুল হক সরদার বলেন, “ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার খবর অত্যন্ত আনন্দের। এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য ইউএস-বাংলা পরিবারের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে ইউএস-বাংলার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। আশা করি, ভবিষ্যতে ইউএস-বাংলা ট্রান্স-আটলান্টিক রুটেও ডানা মেলবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি, নিরাপদ আকাশযাত্রা এবং সামনে আরও অনেক সাফল্য কামনা করছি।

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত

যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুত সঙ্কট আরও তীব্র হবে।    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।   থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুত এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’   ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুত যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’   ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়নি।   সিএসআইএস’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; ততদিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড  সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে।   পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর।   সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি।   পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন।   মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেওয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।   যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে, তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুত সঙ্কট আরও তীব্র হবে।    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।   থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুত এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’   ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুত যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’   ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়নি।   সিএসআইএস’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; ততদিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড  সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে।   পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর।   সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি।   পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন।   মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেওয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।   যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে, তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুদ্ধজাহাজের রেপ্লিকা বানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালাল চীন
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬

বিশ্বের দুই চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক প্রতিযোগিতা কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যার ইঙ্গিত মিলেছে চীনের জিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত মরুভূমির রুওকিয়াং পরীক্ষা কেন্দ্রে মার্কিন ‘আর্লেই বার্ক’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারের একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিকল রেপ্লিকা তৈরিতে। নতুন উপগ্রহ চিত্রে এই দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপগ্রহ চিত্রে ৬ মিটার চওড়া একটি রেল ট্রাক দেখা গেছে; যার ওপর একটি যুদ্ধজাহাজের আকারের লক্ষ্যবস্তু স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা নির্ভুল করতে একটি চলন্ত সামুদ্রিক জাহাজের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এটি।   যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ইনস্টিটিউট বলছে, এই জটিল পরীক্ষা কেন্দ্রটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করে আসছে বেইজিং। সামরিক খাতের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান আলসোর্স অ্যানালাইসিস বলছে, কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সম্ভাব্য এই রেপ্লিকা এবং রেললাইনের ওপর বসানো চলন্ত অন্যান্য কাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও তা অর্জনের সক্ষমতা পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।   প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সব যুদ্ধজাহাজের ওপর ও চারপাশে একাধিক সেন্সর বসানোসহ রেপ্লিকাগুলোর অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বিবরণ দেখে ওই অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ধরে বহুমুখী উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুলিপিটি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা অনুশীলন এবং সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য কোনও সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা জোরদার করার যে ব্যাপক প্রচেষ্টা বেইজিং চালাচ্ছে, এটি তারই অংশ।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক বলছে, আর্লেই বার্ক-শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি বিমানবাহী রণতরীগুলোর নিরাপত্তায় এসকর্ট, বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার এবং দূরপাল্লার হামলা পরিচালনা করে থাকে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়ও এসব রণতরীর এই ধরনের ব্যবহার দেখা গেছে।   জাপানে নিয়োজিত মার্কিন সপ্তম নৌবহরের অধীনে থাকা ‘ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন ১৫’র বহরে এ ধরনের ১০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে; যা এই শ্রেণির বৃহত্তম ইউনিট। এই স্কোয়াড্রনের সব জাহাজ প্রশান্ত মহাসাগরে অভিযান পরিচালনার সময় নিয়মিতই চীনা নৌবাহিনীর মুখোমুখি হয়।   মরুভূমিতে এই রেপ্লিকা তৈরির ঘটনাটিকে বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, বেইজিং অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কাকে বেশ জোরালোভাবে বিবেচনা করছে।   চীন যদি এই ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মোতায়েন করা সামরিক বাহিনীতে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সফলভাবে যুক্ত করতে পারে, তাহলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬

ইরানবিরোধী ক্রমবর্ধমান বক্তব্য এবং ইরানে হামলার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি কি কেবল ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে একটি কূটনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ? ট্রাম্পের এই উপস্থিতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে একটি নতুন সমন্বয় বা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করে।   এই পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তি হলো এমন ধারণা যে প্রত্যক্ষ সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দিলেও দেশটির আচরণ, ক্ষমতার কাঠামো বা কৌশলগত অভিমুখে পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন ধীরে ধীরে সরাসরি চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরে এসে একটি ‘হাইব্রিড’ ও বহুস্তরবিশিষ্ট কৌশল গ্রহণ করছে।   এই কৌশলে অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি, ইরানের চারপাশের ভূরাজনৈতিক পরিবেশকে পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সীমানার বাইরের জোট গঠন এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুকে পুনর্বিন্যাস—সবকিছুকে একটি সমন্বিত কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এই কৌশলগত পরিবর্তনের মূল যুক্তি হলো, ইরানকে একটি বড় ও চূড়ান্ত আঘাতের মাধ্যমে নয়; বরং একাধিক স্তরে একই সঙ্গে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু চাপ সৃষ্টি করে দুর্বল করতে হবে। লক্ষ্য শুধু ইরানের ওপর বাহ্যিক ব্যয় বাড়ানো নয়; বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই সময়ে অভ্যন্তরীণ, সীমান্তবর্তী ও আঞ্চলিক নানা ধরনের চাপ মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতার বড় অংশ ব্যয় করতে হয়। অন্যভাবে বললে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল হলো—ইরানের ভেতরে, তার ভূরাজনৈতিক প্রান্তসীমায় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্কজুড়ে একই সময়ে চাপ সৃষ্টি করা।   দেশীয় পর্যায়ে এই কৌশল হলো সামাজিক চাপ বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে জনগণের সহনশীলতা ক্ষয় করার ওপর নির্ভরশীল। এর উদ্দেশ্য শুধু সময়–সময় জন–অসন্তোষ বা তীব্র সংকট সৃষ্টি করা নয়; বরং জ্বালানি, পানি, পরিবহন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে শাসন পরিচালনার ব্যয় বাড়িয়ে তোলা। নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে এই চাপ যুক্ত হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি অংশ বৃহত্তর কৌশলগত অগ্রাধিকার থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দিতেই ব্যয় হবে।   তবে এই কৌশলের অংশটি ইরানের চারপাশের পরিবেশে পরিবর্তন না আনলে পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমনভাবে আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে পুনর্বিন্যাস করতে চায়, যাতে তেহরানকে একই সঙ্গে একাধিক প্রান্তিক ফ্রন্টে ব্যস্ত থাকতে হয়।   এই পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের গুরুত্ব একটি সাধারণ বৈঠকের চেয়ে অনেক দূর ছাড়িয়ে যায়। এটি শুধু ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার মঞ্চ নয়; বরং ইরান ইস্যুকে পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্ল্যাটফর্ম। যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সংক্রান্ত বিষয়টিকে একটি দ্বিপক্ষীয় বিরোধের সীমা ছাড়িয়ে সমগ্র পশ্চিমা জোটের যৌথ উদ্বেগে পরিণত করতে চায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যাটো শুধু একটি সামরিক জোট নয়; বরং ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও বয়ানের সমন্বয় সাধনের একটি মাধ্যম।   এই শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের উপস্থিতিকে চারটি পরস্পর-সম্পর্কিত উদ্দেশ্যের আলোকে বোঝা যায়। প্রথম উদ্দেশ্য হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে জোটকে আরও সুসংহত করা। ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথের স্থিতিশীলতার মতো ইস্যুগুলোকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে ইরান প্রশ্নে আরও ঘনিষ্ঠ অবস্থানে আনতে চায়।   হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীলতার ফলে ইউরোপের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব—এই বিষয়গুলো সামনে এনে ওয়াশিংটন ইউরোপের উদ্বেগকে নিজের ইরানবিরোধী অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতের পদক্ষেপকে বৈধতা প্রদান করা।   তৃতীয় উদ্দেশ্য হলো তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং দেশটির পারিপার্শ্বিক সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। আঙ্কারাকে দেওয়া যেকোনো ছাড়কে যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রচেষ্টার কাঠামোর মধ্যে বুঝতে হবে, যার লক্ষ্য তুরস্ককে তার আঞ্চলিক পরিকল্পনার আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। বিশেষ করে ইরানের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে ঘিরে থাকা সীমান্ত, জাতিগত ও নিরাপত্তাগত গতিশীলতা এ ধরনের কৌশলে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।   এই দৃষ্টিকোণ থেকে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না; বরং এটি ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চাপ সৃষ্টির উৎসগুলোকে সক্রিয় করার একটি প্রচেষ্টার অংশ।   চতুর্থ উদ্দেশ্য হলো সিরিয়ার সক্ষমতাকে ব্যবহার করে লেবাননের ওপর প্রভাব বিস্তার করা এবং হিজবুল্লাহর ওপর চাপ আরও বাড়ানো। যদি ধরে নেওয়া হয় যে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া, লেবানন ও তুরস্ক-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করছে, তাহলে এই চার উদ্দেশ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। এগুলো একই শৃঙ্খলের অংশ, যার উদ্দেশ্য ইরান এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ ওপর রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও মাঠপর্যায়ের চাপ আরও বাড়িয়ে তোলা।   সবকিছু একত্রে বিবেচনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র একটিমাত্র উপায়ের ওপর নির্ভর না করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে পরস্পর সংযুক্ত নানা ধরনের চাপের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করছে। অভ্যন্তরীণ চাপ, ইরানের সীমান্তজুড়ে চাপ, আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মাধ্যমে সৃষ্ট চাপ—সবই এই অভিন্ন কৌশলের অংশ।   এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো পশ্চিম এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের অনুকূলে পুনর্নির্ধারণ করা এবং ইরানকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া, যাতে দেশটি একযোগে একাধিক ফ্রন্টের সংকট মোকাবিলাতেই তার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে বাধ্য হয়।   তবে এই কৌশল নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হতে বাধ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলো দেখিয়েছে, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, রাজনৈতিক সমর্থন এবং জটিল নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের বহু পরিকল্পনা বাস্তব পরিস্থিতি, স্থানীয় বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিরোধ শক্তিগুলোর গভীরভাবে প্রোথিত দৃঢ়তার মুখে ক্ষয়, বিঘ্ন ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।   তদুপরি, শীর্ষ নেতার জানাজায় ইরান ও ইরাকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ আবারও দেখিয়েছে যে পশ্চিম এশিয়ায় একটি প্রকৃত ও টেকসই ব্যবস্থা মার্কিন পরিকল্পনা মাধ্যমে গড়ে ওঠে না; বরং তা গড়ে ওঠে জনগণের সামাজিক ইচ্ছাশক্তি, প্রতিরোধের ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া বন্ধনের ভিত্তিতে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের নিশানায় ১৩ বিশ্বনেতা, প্রকাশ করল সংবাদমাধ্যম
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬

সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের পর তার ছেলে ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি প্রতিশোধের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা খামেনি ও যুদ্ধে অন্যান্য ইরানিদের হত্যায় জড়িত তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এমনকি যদি তিনি নাও থাকেন তাও শিগগিরই এ প্রতিশোধ নেওয়া হবে।   তার এমন বক্তব্যের পর ইরানি সংবাদমাধ্যম হামশাহরি ১৩ জন নেতার একটি হিট লিস্ট প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, প্রতিশোধ হিসেবে এসব নেতার ওপর হামলা চালানো হবে।   এই তালিকায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেদিখ মার্জ।   এতে আরও আছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াহির জামির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।   সংবাদমাধ্যমটির অনলাইন ভার্সনে এই হিট লিস্ট প্রকাশ করা হলেও আজকে তাদের যে ছাপা পত্রিকা বেরিয়েছে সেখানে এটি নেই বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। ইরান সবকিছু লঙ্ঘন করেছে, কড়া বার্তা সৌদির যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় টার্গেট করা হয়েছে মার্কিনিদের সামরিক অবকাঠামো।   রোববার রাতের এ হামলা ও পাল্টা হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে কড়া বিবৃতি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন থেকে শুরু করে ইসলামিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সনদসহ সবকিছু লঙ্ঘন করেছে ইরান। যা মোটেও কাম্য নয়।   এ ব্যাপারে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, ইসলামিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সনদ এবং সুপ্রতিবেশীর নীতি নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছে। তাদের এসব হামলার কারণে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল হুমকিতে পড়েছে।   সর্বশেষ হামলায় সৌদি আরবকে টার্গেট করা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের হামলায় সৌদির একটি তেলের ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়।   সূত্র: এএফপি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি