সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের নেতৃত্ব দেওয়া তিন নারী কূটনীতিককে পদোন্নতি

সচিব হিসেবে একযোগে পদোন্নতি পেয়েছেন বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে নেতৃত্ব দিয়ে আসা তিন নারী হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত।     সোমবার (১২ অক্টোবর) তাদেরকে সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।     পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন- ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নওরীন আহসান, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সামিনা নাজ এবং গ্রিসে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।     তাদের মধ্যে সামিনা ও নওরীন বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচ এবং সুমনা ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।     নিউ জিল্যান্ডের ওয়েলিংটন মিশনে দায়িত্বের আগে সামিনা ভিয়েতনাম এবং মিশরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। ওয়েলিংটনে তিনি প্রথম বাংলাদেশি আবাসিক হাই কমিশনার।     ভারতের মুম্বাইতে ২০১৩ সালে প্রথম ডেপুটি হাই কমিশনার হওয়ার সময় কোনো নারী কূটনীতিকের নেতৃত্বে প্রথমবারের মত একটি বাংলাদেশ মিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। হেগ, দিল্লি ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে বিভিন্ন দায়িত্বেও ছিলেন সামিনা।      অন্যদিকে গ্রিসের এথেন্সের যাওয়ার আগে চার বছর ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশ হাই কমিশনারের দায়িত্ব সামলেছেন সুমনা। কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে ব্রাসিলিয়া, অটোয়া, কলকাতা ও ক্যানবেরার বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তিনি।       ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া নওরীন কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রিটোরিয়া, হেগ ও অটোয়া মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব সামলেছেন।     প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পদোন্নতির অব্যবহিত পূর্বে দায়িত্ব পালন করা নিজ নিজ কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করবেন।     জনস্বার্থে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। 

১ ঘন্টা আগে
চকবাজারের মনজুর খান প্লাজায় লাগা আগুন ৮ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজার সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় লাগা আগুন আট ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া, সরু গলি, পানির স্বল্পতা ও গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার ফাইটারদের। আগুন পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।     সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ১০টি ইউনিট কাজ করছে।       সর্বশেষ রাত ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. শাহজাহার যুগান্তরকে বলেন, সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিভিন্ন পণ্যের গুদামে আগুন লেগেছে। গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে হচ্ছে। এ কারণে সময় লাগছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১০টি ইউনিট কাজ করছে।       ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় তারা। পরে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে ইউনিটগুলো। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে পর্যায়ক্রমে সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।       আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভবন থেকে ধোঁয়া বের করতে রাত সোয়া ১১টার দিকে ধোঁয়া বের করার বিশেষ যন্ত্র স্মোক ইজেক্টর নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল। ভবনের ভেতরে প্রচুর মালামাল থাকায় ঘন ধোঁয়া তৈরি হয়েছে। এতে আগুনের উৎস শনাক্ত ও নির্বাপণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন ফায়ার ফাইটার অসুস্থ হয়ে পড়েন।      ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পুরান ঢাকার সরু গলির কারণে বড় গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারছে না। তীব্র যানজট ও উৎসুক মানুষের ভিড়ও উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি করছে। আগুন নেভানোর সময় পানির সংকটেও পড়তে হয়েছে কর্মীদের।       ভবনটিতে কসমেটিকস, ছাতা, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যের গুদাম রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এসব গুদামে কোটি কোটি টাকার মালামাল মজুত ছিল। আগুন লাগার পর ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তার কারণে এবং ধোঁয়ার ঘনত্ব বেশি থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।     এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগুনের প্রকৃত সূত্রপাত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। সেখানে ব্যাগের কারখানা বা গুদাম এবং আশপাশে কাপড়ের গুদাম ছিল। ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

১ ঘন্টা আগে
এইচআরএসএসের রিপোর্ট: তিন মাসে মব সহিংসতায় নিহত ৫৪ জন

দেশে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এ তিন মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ১৩৭টি ঘটনায় ৫৪ জন নিহত এবং ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৮৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ১ হাজার ২২৭ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, শ্রমিকের মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে। দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগৃহীত তথ্য ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।      সোমবার এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।        ইজাজুল ইসলাম জানান, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক ও মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।        রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৭ : এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে ১৮৩টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ৯, জামায়াতের ২, আওয়ামী লীগের ৩ এবং অন্যান্য দলের ৩ জন রয়েছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ৬৯টি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত ও ৫৪০ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩১টি ঘটনায় একজন নিহত ও ৩৩৮ জন আহত হন। এ সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১২৬টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২ হাজার ৫৪১ জনের নাম উলে­খ করে এবং প্রায় ৭ হাজার ৯১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ২ হাজার ৫৭৭ জন।       নির্যাতনের শিকার ১৩৫ সাংবাদিক : প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির ৮৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৩৫ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ৬৩ জন আহত, ২৭ জন লাঞ্ছিত এবং ১৮ জন হুমকির শিকার হন। এছাড়া ৯ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়। সাইবার সুরক্ষা আইনের চারটি মামলায় ১৮ সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।      নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র উদ্বেগজনক : এ সময়ে ৭৮৩ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫৪ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ধর্ষণের পর ১২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৭৩৩টি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ১৩৭ জন নারী নিহত হয়েছেন।      শ্রমিকের মৃত্যু ৭১, কারাগারে ৩৭ : এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিন মাসে ২৫১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৭১ জন নিহত ও ২৬০ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ১৬৪ শ্রমিক মারা গেছেন। এ সময়ে কারাগারে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে পাঁচজন এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে একজন মারা গেছেন।

২ ঘন্টা আগে
সোনালী ব্যাংকের ঋণে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক এ অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে, আর ঋণের গ্যারান্টি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক ধাপে এ অর্থ ছাড় করা হবে। এর বড় অংশ দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।ৎ     সোমবার (১২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।       একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি অর্থ না দিয়ে ঋণের জামিনদার হিসেবে থাকবে।     সূত্রগুলোর ভাষ্য, অতীতের অনিয়ম ও আর্থিক দুরবস্থায় সংকটে পড়া ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।     এদিকে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের প্রস্তুতি শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। গত রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে, যা চলবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।     ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম চালু করা হবে। সব শাখায় আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন না করলেও সব গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন বলে জানান তিনি।       মেলিতা মেহজাবীন আরও বলেন, অনেক আমানতকারী আপাতত টাকা তুলতে চাইছেন না। ফলে উত্তোলনের আবেদনও তুলনামূলক কম এসেছে। ব্যাংকটি স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।     তিনি জানান, নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। আবেদন অনুযায়ী নগদ অর্থের ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২ ঘন্টা আগে
দেশে তিন মাসে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ
অর্থনীতি
দেশে তিন মাসে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বাংলাদেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৭৮ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে এফডিআই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৬.৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান উৎস ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়।   সোমবার ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫.০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের মতে, এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত যে, বাংলাদেশে ব্যবসা করা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুনাফা করছেন এবং সেই মুনাফা আবার এ দেশেই বিনিয়োগ করছেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত প্রান্তিকে নিট ইকুইটি মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭৭.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৭৭ শতাংশ কম। এর কারণ হিসেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ বলেছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।   অন্যদিকে নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫.১৭ শতাংশ কমে ৮.৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে মোট ৩৩৩.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণপ্রবাহ এলেও বিদ্যমান ঋণের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিশোধ হওয়ায় নিট ঋণপ্রবাহ কমেছে।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে সারা দেশে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন। এপ্রিল-জুন ২০২৬ প্রান্তিকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৩৩ শতাংশ কম। তবে আগের প্রান্তিকের ০.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে, এটা অবশ্যই ইতিবাচক। বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব রক্ষণশীল থাকায় নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং। তবে বাংলাদেশে যারা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এর ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, আমরা বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছি, যাতে বাংলাদেশে আরও বেশি ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আসে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি আমাদের ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।   অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রস্তুত করা সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে রচি আরও বলেন, ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পটি এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। এখন এর উন্নয়নকাজ এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে এবং এই অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে। আমাদের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে কী কী কাজ হয়েছে, আর কোথায় আরও কাজ করা প্রয়োজন, তা আমরা জানিয়েছি। সামনে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও নিয়মিত জানাব। আমরা চাই, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা ও কর্মসংস্থানে রূপ নিক।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
হুতিদের হামলায় ঝুঁকিতে সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিরা

সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তারা হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি ও বগুড়ার শাজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ। এদের একজন ছিলেন ওমরাহ যাত্রী। অন্যজন চাকরি করতেন রিয়াদে। হামলায় আহত হয়েছেন ২৫ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চার বাংলাদেশি। হুতিদের হামলার ঘটনায় সৌদিআরবে বাংলাদেশিরা পড়েছেন ঝুঁকিতে। সংকট তৈরি হয়েছে ঢাকায়ও। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। এতে ৩ হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন দেশে। ঢাকায় এসে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। আটকাপড়াদের অনেকেরই সৌদি আরবে প্রবেশের সময়সীমা শেষের দিকে থাকায় তৈরি হয়েছে তাদের কাজের অনিশ্চয়তা। সৌদির বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বাতিল হওয়া আটটি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে-বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি, ইউএস-বাংলার একটি, সৌদিয়ার তিনটি, রিয়াদ এয়ারের দুটি। এসব ফ্লাইটের প্রায় ৩ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ দুপুর ১২টায় পরবর্তী ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করবে।   শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এতে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম। বাতিল করা হয় তিন শতাধিক ফ্লাইট। এ ছাড়াও হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।   গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা সৌদির কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   তিনি আরও বলেন, আহতদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস। আর যারা নিহত হয়েছেন তাদের লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ হামলায় বাংলাদেশি কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও জানান শামা ওবায়েদ।   আহত বাংলাদেশিরা   রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক কর্মী ও বাকি অর্ধেক ওমরা করতে গিয়েছিলেন। আহতদের মধ্যে কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে হাফিজ হাসান (পাসপোর্ট নম্বর : এ২২৭৮২৭৬৪), হাজী নুরুল্লাহ (পাসপোর্ট নম্বর : এ২২৭৫৮১৮৭), ওমর ফারুক (ইকামা নম্বর: ২৫৬৫০৭৫৮৩১), রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে সারফাত রহমান (পাসপোর্ট নম্বর: এ২০৮৯৭০০৬), দাউদুল ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর: এ২২৭৫৮১৮৬); রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে সাইদুল ইসলাম সৌরভ (পাসপোর্ট নম্বর: এ১২৭৭৮৭৯৩), আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন (পাসপোর্ট নম্বর: এ০৭৯৬১৮৫৩), প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আব্দুল্লাহ (পাসপোর্ট নম্বর: এ১১৩৮৬৯৮৪), সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালে আরমান হোসেন (পাসপোর্ট নম্বর: এ২২৭৫৮১৮৩), মোহাম্মদ (ইকামা নম্বর: ২২২৮৮৪০১১৬), ফয়সাল আহমদ আবদুল হক (ইকামা নম্বর: ২৪৫০২৫৮৪২৭), কিংডম হাসপাতালে মো. রফিক মিয়া (ইকামা নম্বর: ২৫২৯৮৮৪৯৮৯), কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতালে ইসমাইল হোসাইন (পাসপোর্ট নম্বর: এ০৯৪৮৬৪৭৩), মিসবাহ উদ্দীন হীরক (পাসপোর্ট নম্বর: এ০৬৫১১১৯৫), রায়হানুল ইসলাম (ইকামা নম্বর: ২৬২৫১১২৯১৩), প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে সালমা আক্তার (ইকামা নম্বর: ২৩৯৫৭৮২২২৪), শাহাদাত হোসেন (ইকামা নম্বর: ২৬০০৭৭৯৮১৯), মোশাহিদ আহমদ সৈকত (ইকামা নম্বর: ২৬২৪৩১১১৬৯), জাহিদ আহমেদ (ইকামা নম্বর: ২৪৪৪০৫১২৬৮), সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার (ইকামা নম্বর: ২৪৭০৯৭১৭৬৯), এস্টার সনদ হাসপাতালে আসাদুল ইসলাম (ইকামা নম্বর: ২৫৪৪২৪৪৮৬২), মো. জামাল (পাসপোর্ট নম্বর: এ১২৬৩৭৩৩১), সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার (পাসপোর্ট নম্বর: এ০৯৭৭৬৮৪৮), সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আল সাহাফা শাখায় উমায়ের (পাসপোর্ট নম্বর: এ২২৭৫৬৭৯০) ও আব্দুল্লাহ কামিল (নথিতে উল্লিখিত নম্বর: ১০৮৫৯৭৩৭৭২)।   ফ্লাইট শিডিউল লন্ডভন্ড, অনিশ্চয়তায় ৩ হাজার বাংলাদেশি   রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথের যোগাযোগ। লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে ফ্লাইট শিডিউল। গত শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত রিয়াদগামী ৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। কারও গন্তব্য কর্মস্থল, কারও ফেরার কথা পরিবারের কাছে। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবার যাত্রাই আটকে গেছে অনিশ্চয়তায়। গতকাল দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দেখা যায়, রিয়াদগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। কেউ টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে এয়ারলাইনসের কাউন্টারে খোঁজ নিচ্ছেন, কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরবর্তী করণীয় জানার চেষ্টা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব প্রবাসীর অনেকেই জানেন না, কবে আবার সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, কিংবা টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করতে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফ্লাইট বাতিলের পর বিকল্প যাত্রার নিশ্চয়তা না পেয়ে তাদের চোখেমুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। বিদেশে কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে না পারার আশঙ্কার সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচের চাপ। বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে রিয়াদ প্রবাসী শাহ আলম বলেন, রিয়াদে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট কেটে আগস্টে দেশে এসেছিলাম। রবিবার দুপুরে আমার ফ্লাইট ছিল। এখন হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। দেশের বাড়ি কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর থেকে ঢাকায় এসে ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখন কবে যেতে পারব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সৌদি আরবে আমার কাজ আছে, সময়মতো ফিরতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। ফ্লাইটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হলে আমাদের ভোগান্তি কিছুটা কমত। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ম্যানেজার (ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব বলেন, বাতিল হওয়া ৮টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রীর রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।   ফ্লাইটের সময়সূচি আজ দুপুরে জানাবে বিমান   সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পুনর্র্নির্ধারণের সময়সূচি জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা ১১ অক্টোবর ইউটিসি ২১টা পর্যন্ত, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকা রিয়াদ ও রিয়াদ ঢাকা রুটের নির্ধারিত ইএ৩৩৯ ও ইএ৩৪০ ফ্লাইট দুটি স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট এবং সময়সূচি সম্পর্কে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় সবাইকে অবহিত করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।   বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের বিস্তারিত তথ্য পেতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ ঘটনায় সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি জানানোর পাশাপাশি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সমাধান বের করার আহ্বান আবারও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।

ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের ভোট পাঁচ ধাপে করবে নির্বাচন কমিশন।  প্রথম ধাপে ভোট হবে ২১ জানুয়ারি।   সোমবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ইসি কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়।   বৈঠক শেষেসাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।   তিনি জানান, সাড়ে চার হাজার ইউপির মধ্যে পাঁচ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি,  ৩য় ধাপ ২৯ এপ্রিল,  ৪র্থ ধাপ ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপ ২৭ মে।   প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের ভোট দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে।

ছবি: সংগৃহীত
সাভারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইট উৎপাদন, ৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ইট উৎপাদন নিষিদ্ধ থাকার পরও সাভারে চারটি ইটভাটায় কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে তিন ব্যক্তি ও চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব ইটভাটায় উৎপাদিত ইটের প্রাথমিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোমবার (১২ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।   সিআইডি জানায়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) অনুযায়ী সাভার থানায় মামলাগুলো করা হয়েছে। পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।   মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মেসার্স এ বি এন অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. জাকির হোসেন, মেসার্স এমএইচএস স্টার ও মেসার্স এমএইচবি স্টার কোংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আবু বকর এবং মেসার্স এ আই এম ব্রিকস কোংয়ের স্বত্বাধিকারী কাওছার আহমেদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে।   সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে সাভারের বায়ুদূষণের মাত্রা নির্ধারিত বার্ষিক মানের প্রায় তিন গুণ পাওয়া গেছে। এ দূষণ স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুষ্ক মৌসুমে সাভার থেকে ছড়িয়ে পড়া দূষিত বায়ু ঢাকায় প্রবেশ করে রাজধানীর বায়ুদূষণ আরও বাড়িয়ে দেয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।   সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ বা বায়ুদূষণপ্রবণ অবক্ষয়িত বায়ু অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলাটিতে সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট ভাটাগুলোতে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।   প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব ইটভাটায় উৎপাদিত ইটের বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে এই অর্থ অর্জিত হয়ে থাকতে পারে।   সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। পরিবেশদূষণ-সংশ্লিষ্ট অর্থের লেনদেন ও প্রবাহ শনাক্ত করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অন্য কোনো ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবে সন্তুষ্ট নয় ইরান

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাবের জবাবকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। রোববার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এ কথা জানান।   আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, কাতার, পাকিস্তান ও ইরাকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের জবাবের পর যুক্তরাষ্ট্রকে আর পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নেই তেহরান।   সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান সাত দিনের এই প্রস্তাব দেয়। এতে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে, ইরানের তেল বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করতে এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করতে হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।   রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে। তবে যেসব বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিয়ে ওয়াশিংটনকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এ বিষয়ে রেজায়ির বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস।   ইরানের এ প্রস্তাবের ভিত্তি হলো গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। তেহরান এখন ওই সমঝোতার আওতায় আরও বিস্তৃত চুক্তি করতে চাইছে।   তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আগের আলোচনায় ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ইরান এখনো নিজেদের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা কিংবা মজুত করা উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের নির্দেশনায় এয়ার ফ্রান্সের সিদ্ধান্ত, বাদ পড়ছেন বাংলাদেশিসহ ৩১ দেশের ক্রুরা
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১২, ২০২৬

ইসরায়েলের নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনার পর দেশটিতে যাতায়াতকারী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিক ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব দেওয়া বন্ধ করেছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।   এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই শনিবার (১০ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।   মিডিয়াপার্টের হাতে আসা এয়ার ফ্রান্সের একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা থেকে জানা গেছে, ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে—দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশকারী কোনো ফ্লাইটের ক্রুর এমন দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা যাবে না, যে দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।   ফলে কোনো কর্মীর ফরাসি নাগরিকত্ব থাকলেও তিনি এ নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাচ্ছেন না, যদি তার দ্বিতীয় নাগরিকত্ব নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কোনো দেশের হয়।   বাংলাদেশের পাশাপাশি আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান ও পাকিস্তানসহ মোট ৩১টি দেশের নাগরিক এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছেন।   নির্দেশনায় কোনো ধর্মকে সরাসরি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়নি। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারাচ্ছেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফরাসি নাগরিকত্ব থাকলেও অন্য দেশের নাগরিকত্বের কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।   মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব কর্মীর দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, তাদের দ্রুত বিষয়টি এয়ার ফ্রান্সকে জানাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে ফরাসি বিমান সংস্থাটি আইনি জটিলতায় পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এয়ার ফ্রান্স এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২ জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করে।   ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এর পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখানো হয়েছে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ওমানি সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সেটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টার্মিনালে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়।   এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, দেশটির অন্তত একটি বিমান সংস্থা প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।   বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারের যুক্তিতে নেওয়া এ পদক্ষেপ ইতোমধ্যে জাতীয়তার ভিত্তিতে কর্মীদের আলাদা করার বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে ফরাসি নাগরিকত্ব থাকা কর্মীরাও কেবল তাদের অন্য নাগরিকত্বের কারণে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারাচ্ছেন—এ বিষয়টি বৈষম্যের প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে।   তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

ছবি: সংগৃহীত
রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১২, ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের চালানো বলে দাবি করা রোববারের (১১ অক্টোবর) হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সৌদি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর যাত্রী টার্মিনালের একটি অংশে আগুন ধরে যায়। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে একজন পাকিস্তানি বাসিন্দার মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে।   এর আগের দিন শনিবারও একই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি, চার সৌদি নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, মিসর ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন বলে জানানো হয়।   এদিকে, হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দুই দিনের হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর ও আকাশসীমায় আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।   হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব অভিযান পরিচালনা করছে। দাম্মাম বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনাতেও হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।   অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে এসব হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।   সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে তেহরান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের চালকদের জন্য চালু হচ্ছে গোলাপি ই-অটো
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১২, ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াতে ১ হাজার ৩০০টি গোলাপি রঙের ইলেকট্রিক অটোরিকশা (ই-অটো) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও সহজ করাও এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বিশেষ করে ভোরে বা রাতে মেট্রো স্টেশন থেকে বাড়ি কিংবা কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এসব অটোরিকশা কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।   দিল্লি সরকার রোববার জানিয়েছে, ‘দুর্গা ই-অটো’ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা অটোরিকশাগুলোকে বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক যাতায়াত সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে রাইড-হেইলিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের চালকদের নিবন্ধন বা সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফের অনুরোধ জানানো হবে। কোম্পানিগুলো রাজি হলে যাত্রীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসব অটোরিকশা ভাড়া করতে পারবেন।   গত ২৩ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের নেতৃত্বে দিল্লির মন্ত্রিসভা প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।   প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ করা ১ হাজার ৩০০টি অটোরিকশার মধ্যে ১ হাজার ১৭০টি নারীদের জন্য এবং ১৩০টি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। তারা এসব অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন এবং নিজেই চালিয়ে আয় করতে পারবেন।   দিল্লির ১৩টি রাজস্ব জেলায় অটোরিকশাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ ৯০টি অটোরিকশা নারীদের এবং ১০টি তৃতীয় লিঙ্গের আবেদনকারীদের জন্য রাখা হবে।   দিল্লির পরিবহনমন্ত্রী পঙ্কজ কুমার সিং বলেন, নারীদের ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং পরিবহন খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।   আবেদন ও অটোরিকশা বরাদ্দ   জাতীয় তথ্যবিজ্ঞান কেন্দ্রের (এনআইসি) তৈরি একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আবেদন যাচাই করবে। এ জন্য প্রতি সপ্তাহে যাচাই কার্যক্রম চালানো হবে।   কোনো জেলায় যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা বরাদ্দ করা অটোরিকশার চেয়ে বেশি হলে অনলাইন লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিদের দেওয়া হবে আগ্রহপত্র। নিবন্ধিত মালিকদের পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ‘দুর্গা’ লেখা জ্যাকেট ও টুপিও দেওয়া হবে।   দিল্লির ২০২৬ সালের বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি অনুযায়ী, প্রথম বছরে নিবন্ধিত যোগ্য বৈদ্যুতিক অটোরিকশা কেনার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক চালককে অটোরিকশা কিনতে শেষ পর্যন্ত কত টাকা ব্যয় করতে হবে, তা সরকার এখনো জানায়নি।   এর আগে ২০২২ সালে দিল্লিতে নারীদের জন্য ১ হাজার ৪০৬টি বৈদ্যুতিক অটোরিকশার অনুমতি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে প্রথম দফায় আবেদন করেছিলেন মাত্র ৭৪৩ জন। ফলে পরে আবার আবেদন নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হয়।   নতুন প্রকল্পটি চালুর পর উপকারভোগীদের আয় ও জীবিকার ওপর এর প্রভাব যাচাই করতে দুই ধাপে গবেষণার পরিকল্পনাও করেছে দিল্লি সরকার।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবে সন্তুষ্ট নয় ইরান
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১২, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাবের জবাবকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। রোববার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এ কথা জানান।   আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, কাতার, পাকিস্তান ও ইরাকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের জবাবের পর যুক্তরাষ্ট্রকে আর পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নেই তেহরান।   সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান সাত দিনের এই প্রস্তাব দেয়। এতে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে, ইরানের তেল বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করতে এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করতে হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।   রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে। তবে যেসব বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিয়ে ওয়াশিংটনকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এ বিষয়ে রেজায়ির বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস।   ইরানের এ প্রস্তাবের ভিত্তি হলো গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। তেহরান এখন ওই সমঝোতার আওতায় আরও বিস্তৃত চুক্তি করতে চাইছে।   তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আগের আলোচনায় ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ইরান এখনো নিজেদের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা কিংবা মজুত করা উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব