সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
জাপানের বিশ্বকাপ দলে ২ বছর বাইরে থাকা তোমিইয়াসু

গুরুতর চোটের জন‍্য গত প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলতে না পারা ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিইয়াসু জায়গা পেয়েছেন জাপানের বিশ্বকাপ দলে।   জাপান কোচ হাজিমে মোরিইয়াসু টোকিতে শুক্রবার ২৬ সদস‍্যের দল ঘোষণা করেন। এতে জায়গা পেয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ইয়ুতো নাগাতোমো। ২০২৪ সালের ১১ জুন সবশেষ তেশের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খেলেন তোমিইয়াসু। পারস্পারিক সম্মতিতে আর্সেনালের সঙ্গে গত বছর চুক্তি বাতিলের পর এখন তিনি খেলছেন আয়াক্সে। গত মার্চের দুটি ম‍্যাচের জন‍্য জাপান দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি, পরে অবশ‍্য তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে চোট বারবার বাগড়া দিলেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন লিভারপুল মিডফিল্ডার ওয়াতারু এন্দো। চলতি মাসে উলভারহ‍্যাম্পট ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে খেলার সময় হ‍্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া ব্রাইটন অ‍্যান্ড হোভ অ‍্যালবিয়ন মিডফিল্ডার কাউরু মিতোমার জায়গা হয়নি দলে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে এ নিয়ে অষ্টমবার খেলবে জাপান। এশিয়ার দেশটির অভিযান শুরু হবে ১৪ জুন, নেদারল‍্যান্ডসের বিপক্ষে ম‍্যাচ দিয়ে। ‘এফ’ গ্রুপে তাদের অন‍্য দুই প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া ও সুইডেন। সবশেষ দুই আসরে শেষ ষোলোয় খেলেছে জাপান। ২০১৮ আসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় তারা। চার বছর পর টাইব্রেকারে হারে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। কোচ হিসেবে এটি হবে মোরিইয়াসুর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।

১৮ মিনিট আগে
আমেরিকার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আরাগচির

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ চলমান আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।   শুক্রবার (১৫ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বক্তব্যে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট বিঘ্নের জন্য ইরান দায়ী নয়। তিনি দাবি করেন, তেহরান যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং তারা কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর’ জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সেগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। এই পথ কেবল ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ রয়েছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু রহস্যময় বার্তা পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি একটি প্রাচীন আরবি প্রবাদ উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘যে গোপনে বিশ্বাসঘাতকতা করে, সে প্রকাশ্যেই উন্মোচিত হবে।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এক কঠোর মন্তব্যের পর তার এমন বার্তা এসেছে। তবে বার্তায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি গোপন সফর করেছিলেন। এরপরই আরাগচি বলেন, ইরানের মহান জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করা এক ধরনের বোকামি। আর এ কাজে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশ ক্ষমার অযোগ্য। যারা বিভেদ তৈরিতে ইসরায়েলের সহযোগী হবে, তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

২১ মিনিট আগে
নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল প্ল্যাটফর্ম জয়িতা

গত এক দশকে বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই অগ্রগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সরকারি উদ্যোগ ‘জয়িতা’। আক্ষরিক অর্থে ‘জয়িতা’ মানে সফল নারী বা বিজয়ী নারী। আর বাস্তবেও এটি হয়ে উঠেছে দেশের নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্যের প্রতীক। প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ‘জয়িতা’ মূলত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির একটি অংশ। শুরুতে এটি সীমিত পরিসরে চালু হলেও বর্তমানে তা বিস্তৃত হয়ে একটি শক্তিশালী বিপণন ও ব্র্যান্ড প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় প্রতিষ্ঠিত জয়িতা বিপণন কেন্দ্র দেশের নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে পরিচিত। জয়িতার মূল শক্তি বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের হাজার হাজার নারী ছোট আকারে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ ছিল না। মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা, বিপণন জ্ঞানের অভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা তাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করত। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ‘জয়িতা’ আত্মপ্রকাশ করে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ১৬ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত মহিলা সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকেই উঠে এসেছে অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা। ‘জয়িতা’ তাদের জন্য একটি সরাসরি বিপণন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে তারা নিজেদের পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে লাভের পূর্ণ অংশ নিজেরাই ভোগ করতে পারেন। ধানমন্ডির জয়িতা বিপণন কেন্দ্রটি আধুনিক অবকাঠামোর একটি চমৎকার উদাহরণ। এখানে প্রায় ১৩৯টি স্টল রয়েছে, যা বিভিন্ন নারী সমিতির মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্টলগুলোতে হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য এবং দেশীয় খাবারের সমাহার দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে নকশি কাঁথা, জামদানি, গহনা, মাটির তৈরি পণ্য, মধু, আচারসহ নানা ঐতিহ্যবাহী পণ্য। ভবনটির পঞ্চম তলায় রয়েছে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়। এছাড়া শিশুদের জন্য একটি চিলড্রেন কর্ণার, উদ্যোক্তাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অফিসও রয়েছে। এসব সুবিধা জয়িতাকে শুধু একটি বাজার নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। জয়িতা পরিচালিত হয় একটি সাধারণ পর্ষদ এবং পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। নিবন্ধিত মহিলা সমিতিগুলোর সদস্যরা সাধারণ পর্ষদের অংশ হয়ে নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ করেন। পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচিত সদস্যদের পাশাপাশি সরকারিভাবে মনোনীত প্রতিনিধিরাও থাকেন, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এছাড়া একটি নির্বাহী পর্ষদ রয়েছে, যারা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো- জয়িতার ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক লাভ বৃদ্ধি করা। আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতি অনুসরণ করে পণ্যের মান, গ্রাহকসেবা এবং মূল্য নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে ‘জয়িতা’ শুধু একটি বিপণন কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি এবং প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে দেশের বাইরে থেকেও ক্রেতারা সহজে পণ্য কিনতে পারছেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় ‘জয়িতা কর্ণার’ স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনের সুযোগ বাড়িয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে আরও জেলা ও উপজেলায় এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জয়িতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মেলায় অংশ নিয়েছিলেন যশোরের নারী উদ্যোক্তা মরিয়ম নার্গিস। তিনি তার ‘টুইঙ্কেল ক্রাফটসে’র মাধ্যমে তুলে ধরেন যশোর অঞ্চলের প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ রিসাইকেল নকশি কাঁথা। এ বিষয়ে মরিয়ম নার্গিস জানান, আবহমান বাংলার আমাদের পূর্বসূরী নারীদের ব্যবহৃত পুরোনো শাড়ির কাপড় পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে রিসাইকেল করে আমরা এসব নকশি কাঁথা তৈরি করেছি। দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য এসব কাঁথা যেমন ঐতিহ্যের ধারক, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষার বার্তাও বহন করে। আর এসব পণ্যের প্রসারে জয়িতার মেলা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে। ডিজাইন, প্যাকেজিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর এসব প্রশিক্ষণ তাদের ব্যবসাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে। অর্থায়ন ও সহযোগিতা নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জয়িতার সংযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছে। এতে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছেন। ‘জয়িতা’ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, সামাজিক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন, পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ছে এবং সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ নারীরা এখন আর শুধু গৃহিণী হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; তারা উদ্যোক্তা, উপার্জনকারী এবং সমাজের সক্রিয় অংশীদার। এই পরিবর্তন নারী-পুরুষ বৈষম্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী কারার ক্ষেত্রে যদিও জয়িতা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যেমন-পণ্যের মানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং আরও বেশি উদ্যোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিগত সহায়তা থাকলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে জয়িতাকে একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ‘জয়িতা’ বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি আশার আলো। এটি প্রমাণ করেছে যে, সঠিক সুযোগ ও সহায়তা পেলে নারীরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে জয়িতা ইতোমধ্যেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাহিদ মঞ্জুরা আফরোজ বলেন,নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা বিকাশে জয়িতা ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। নারীরা উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে এলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। জয়িতা বিজয় মেলা নারীদের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এজন্য নারীদের প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সবশেষে বলা যায়, ‘জয়িতা’ শুধু একটি বিপণন কেন্দ্র নয়- এটি একটি আন্দোলন, যা নারীর আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা এবং সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

২১ মিনিট আগে
মেসিদের লিগে ইতিহাস গড়লেন কাভান সুলিভান

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মিডফিল্ডার কাভান সুলিভান। অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তাকে এমএলএস টিম অব দ্য ম্যাচডেতে রাখা হয়েছে।   ওই ম্যাচে এমএলএস ক্যারিয়ারে প্রথম গোলটি করেন ১৬ বছর বয়সি এই তরুণ। ১৬ বছর ৭ মাস ১৫ দিন বয়সে গোল করে তিনি লিগের ইতিহাসে অষ্টম কনিষ্ঠ গোলদাতা বনে গেছেন। পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। এতে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করা দ্বিতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন। এ মৌসুমে সুলিভান ১১টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। চারটি ম্যাচে প্রথম একাদশেই জায়গা করে নেন তিনি। এবার গোল-অ্যাসিস্টে আলো কেড়ে নিলেন। লিওনেল মেসিদের লিগে দুর্দান্ত খেলে ইতোমধ্যেই দ্যূতি ছড়িয়েছেন কাভান সুলিভান। এই তরুণ প্রতিভাবান তারকার ওপর বাড়তি নজর রাখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তার ভাই রোনান সুলিভান ইতোমধ্যে অ-২০ ফুটবলে বাংলাদেশের হয়ে বাজিমাত করেছেন। সবশেষ সাফে তিনি ও তার আরেক ভাই ডেকলান বাংলাদেশ দলের হয়ে অভিষিক্ত হয়েছেন। সুযোগ পেলে তাই কাভানকেও অদূর ভবিষ্যতে দলে ভেড়াতে চাইতে পারে বাফুফে।

২২ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
তিনদিনের চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন ট্রাম্প

তিনদিনের সরকারি সফর শেষে চীন ত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরের পর বেইজিং থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।   চীনের রাজধানী বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে বিদায় জানাতে আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন।   দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, ইরান ইস্যু এবং তাইওয়ান পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক অবস্থান ও সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতায় চীনের সহযোগিতা চেয়েছে। অন্যদিকে তাইওয়ান প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং। চীন জানিয়েছে, তাইওয়ানকে একীভূত করার বিষয়ে তারা অনড়।   সফরের অন্যতম আলোচিত দিক ছিল বাণিজ্যিক সমঝোতা। জানা গেছে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের -এর কাছ থেকে ২০০টি বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   সরকারি বৈঠকের পাশাপাশি সফরকালে ট্রাম্প চীনের কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থানও পরিদর্শন করেন।   সূত্র: সিএনএন

আক্তারুজ্জামান মে ১৫, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
খসড়া করপোরেট গভর্নেন্স রুলস নিয়ে মতামত আহ্বান বিএসইসির

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার করতে প্রণীত খসড়া করপোরেট গভর্নেন্স রুলসের ওপর সংশ্লিষ্টদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।   বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা অনুযায়ী কমিশন এ খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। খসড়াটির ওপর মতামত প্রকাশের তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ৩১ মে’র মধ্যে নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠাতে হবে।   বিএসইসি আরও জানায়, খসড়া বিধিমালা কমিশনের ওয়েবসাইটের নির্ধারিত লিংক বা কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে।   নতুন করপোরেট গভর্নেন্স রুলস কার্যকর হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কমিশন।

কোচিং সেন্টারে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
কোচিং সেন্টার কবে বন্ধ হবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

কোচিং সেন্টার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃত বা অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান নয় উল্লেখ করে সেগুলো সরাসরি বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যকর ও মানসম্মত হলে একসময় কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা নিজ থেকেই কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোচিং সেন্টার কি রেজিস্টার্ড? আমি কি এগুলো বন্ধ করার অথরিটি? আমি তো কোচিং সেন্টার রিকগনাইজ করি না। তবে কোচিং সেন্টার তখনই বন্ধ হবে যখন আর এগুলোর প্রয়োজন থাকবে না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মূলত শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত পাঠদান না পাওয়ার কারণেই কোচিংনির্ভর হয়ে পড়ছে। ক্লাসরুমভিত্তিক শিক্ষা উন্নত করা গেলে এবং পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রমের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি কমানো গেলে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যতে ‘ইন-হাউজ কোচিং’ বা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমে অতিরিক্ত পাঠদানের পুরোনো পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিতে চায়। এতে শিক্ষার্থীদের বাইরের কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমি তো এত স্মার্ট না, বুঝি নাই যে কোচিং সেন্টার প্রশ্ন ফাঁস করে।”

ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে শিশুকে ভুল টিকা প্রয়োগ: হাইকোর্টের তীব্র উদ্বেগ, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুকে ভুল করে হামের টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পাশাপাশি শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।   আদালত ভুক্তভোগী পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন।   ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৩ মে) দুপুরে। রিট আবেদনে বলা হয়, ৩৪ মাস বয়সি এক শিশুকে হামের টিকার বদলে ভুলক্রমে দুই ডোজ র্যাবিক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।   শিশুটির পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, টিকা প্রদান করেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম। তবে দায়িত্বে থাকা আরেক স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরু বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানা যায়।   এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের নির্দেশে পিআরএলে থাকা এক কর্মীকে ডেকে এনে টিকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।   ভুল টিকা প্রয়োগের ঘটনায় প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের কিছু কর্মীর অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে হাসপাতালে উপস্থিত অন্যান্য অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়।   রিটকারীর আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, আদালত শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত রুল জারি করেছেন।   স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে নজরদারি চলছে।

ছবি: সংগৃহীত
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরান ইস্যু, বাণিজ্য সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই নেতা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করেছি, যেগুলো অন্য কেউ হয়তো সমাধান করতে পারত না।”   তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি ‘দারুণ বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক এখন ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।   চীন সফরকালে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হয়। বৈঠকে তাইওয়ান, ইরান এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হলেও উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দেয় বলে জানা গেছে।   সফরের শেষ পর্যায়ে দুই নেতা বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ঝংনানহাই কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে চীন ত্যাগ করেন।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আরাগচির
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ চলমান আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।   শুক্রবার (১৫ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বক্তব্যে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট বিঘ্নের জন্য ইরান দায়ী নয়। তিনি দাবি করেন, তেহরান যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং তারা কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর’ জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সেগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। এই পথ কেবল ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ রয়েছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু রহস্যময় বার্তা পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি একটি প্রাচীন আরবি প্রবাদ উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘যে গোপনে বিশ্বাসঘাতকতা করে, সে প্রকাশ্যেই উন্মোচিত হবে।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এক কঠোর মন্তব্যের পর তার এমন বার্তা এসেছে। তবে বার্তায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি গোপন সফর করেছিলেন। এরপরই আরাগচি বলেন, ইরানের মহান জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করা এক ধরনের বোকামি। আর এ কাজে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশ ক্ষমার অযোগ্য। যারা বিভেদ তৈরিতে ইসরায়েলের সহযোগী হবে, তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে আমিরাত। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণে আমিরাত
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তেল রপ্তানির সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   শুক্রবার (১৫ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ এক বৈঠকে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানিকে (এডনক) ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে পাইপলাইনটির নির্মাণকাজ চলছে এবং এটি ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে আমিরাতে বিদ্যমান আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (এডিসিওপি) প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। ওমান উপসাগরীয় উপকূল দিয়ে সরাসরি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত দুটি দেশেরই হরমুজ প্রণালির বাইরে পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সুযোগ আছে। উল্লেখ্য, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন ব্যাহত হয়। কুয়েত, ইরাক, কাতার ও বাহরাইন প্রায় পুরোপুরি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশ জ্বালানি মজুত শুরু করেছে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত
চীন সফরে ট্রাম্পের অর্জন কী
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬

চীনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প কী নিয়ে ফিরলেন সেটিই বোঝার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।   শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন। গত রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার। চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে। যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা। ট্রাম্পকে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানো ছিল চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের সরকারি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিস্তারিত খুব কমই জানানো হয়েছে। অবশ্য এটিই চীনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধরন। শি জিনপিং সাধারণত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেন না। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প মনে করছেন তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন। তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুইশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে। এছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্জন ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে, চীনে প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার সফরকে সফল বলেই মনে করছেন ট্রাম্প। তবে এটিই দুই নেতার শেষ বৈঠক নয়। চলতি বছরে আরও অন্তত তিনটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে, আর সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফর।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। ছবি: এআই জেনারেটেড
বারমুডার ‘রহস্য’ উন্মোচন, গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য তথ্য
মারিয়া রহমান মে ১৫, ২০২৬

দশকের পর দশক ধরে ভূতত্ত্ববিদদের ভাবিয়ে তুলেছে আটলান্টিক মহাসাগরের এক রহস্যময় ধাঁধা। আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় বারমুডা দ্বীপ এত উঁচুতে অবস্থান করছে কেন, যদিও এর আগ্নেয়গিরিগুলো ৩ কোটিরও বেশি বছর ধরে নিস্তব্ধ? অবশেষে, এই রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন বলে মনে করছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। আর সেই উত্তর লুকিয়ে আছে দ্বীপটির গভীর ভূগর্ভে। গবেষণায় জানা গেছে, বারমুডা এমন এক ধরনের ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়নি। কার্নেগি সায়েন্সের ভূকম্পবিদ উইলিয়াম ফ্রেজার এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেফ্রি পার্কের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। হাওয়াইয়ের মতো বেশিরভাগ আগ্নেয় দ্বীপমালা বিজ্ঞানীদের ভাষায় ‘ম্যান্টল প্লুম’-এর ওপর গঠিত হয়। এটি হলো পৃথিবীর গভীর ম্যান্টল স্তর থেকে উঠে আসা উত্তপ্ত ও হালকা শিলার এক বিশাল স্তম্ভ। এই গরম পদার্থ ওপরের দিকে ধাক্কা দিতে থাকলে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয় এবং সমুদ্রতলও ফুলে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেকটোনিক প্লেটগুলো যখন ওই প্লুম থেকে সরে যায় এবং আগ্নেয় কার্যকলাপ ধীরে ধীরে কমে আসে, তখন সাধারণত এই স্ফীত সমুদ্রতল আবার নিচে নেমে যায়। কিন্তু বারমুডার ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। কার্নেগি সায়েন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বারমুডা এখনও একটি বিস্তৃত স্ফীত অঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে, যা আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচু। এই রহস্য অনুসন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বড় ভূমিকম্প থেকে উৎপন্ন ভূকম্পীয় তরঙ্গ ব্যবহার করেন ফ্রেজার ও পার্ক। এই তরঙ্গ পৃথিবীর ভেতর দিয়ে চলার সময় যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে যায়, সেগুলোর ঘনত্ব ও গঠনের ওপর নির্ভর করে কখনও দ্রুত, কখনও ধীরগতিতে অগ্রসর হয়। বারমুডার একটি ভূকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দ্বীপটির নিচে প্রায় ২০ মাইল গভীর পর্যন্ত পৃথিবীর অভ্যন্তরের একটি চিত্র তৈরি করতে সক্ষম হন। তারা সমুদ্রীয় ভূত্বকের ঠিক নিচে ১২ মাইলেরও বেশি পুরু একটি শিলাস্তর খুঁজে পান। এই শিলার ঘনত্ব আশপাশের ম্যান্টলের তুলনায় কম, ফলে এটি অস্বাভাবিকভাবে ভাসমান। নিচ থেকে কোনো প্লুম ওপরে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে, এই হালকা শিলাস্তর অনেকটা ভেলার মতো কাজ করছে, যা সমুদ্রতল ও বারমুডাকে ভাসিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। গবেষকদের ধারণা, ‘আন্ডারপ্লেটিং’ নামে পরিচিত এই স্তরটি বারমুডার কয়েক কোটি বছর আগের আগ্নেয় অতীতের সময় গঠিত হয়েছিল। তখন কার্বনসমৃদ্ধ গলিত ম্যান্টল শিলা ভূত্বকের নিচের অংশে প্রবেশ করে সেখানেই ঠান্ডা হয়ে জমাট বেঁধে যায়। এই পদার্থের উৎস সম্ভবত পৃথিবীর গভীরে কয়েকশ কোটি বছর আগের, যখন সুপারমহাদেশ প্যাঞ্জিয়া গঠিত হচ্ছিল। আবিষ্কারের গুরুত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফ্রেজার বলেন, ‘বারমুডা গবেষণার জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি স্থান। কারণ এর বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ম্যান্টল প্লুম মডেলের সঙ্গে মেলে না, যা সাধারণত গভীরের পদার্থকে ভূপৃষ্ঠে নিয়ে আসার প্রচলিত ব্যাখ্যা।’ ‘আমরা এখানে ঘন আন্ডারপ্লেটিং দেখতে পেয়েছি, যা অধিকাংশ ম্যান্টল প্লুম অঞ্চলে দেখা যায় না। সাম্প্রতিক ভূ-রাসায়নিক পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে এটি ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবীর ম্যান্টলের ভেতরে আরও কিছু প্রবাহগত প্রক্রিয়া রয়েছে, যেগুলো এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি।’ প্রসঙ্গত, ফ্লোরিডা, বারমুডা এবং পুয়ের্তো রিকোর মধ্যবর্তী অঞ্চলে জাহাজ ও উড়োজাহাজের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর কারণে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। আর এই রহস্যকে আরও উসকে দিয়েছে এসব ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর সংবাদ এবং বিভিন্ন লোককথা। যদিও বিভিন্ন মিথ বা প্রচলিত ধারণা এসবের পেছনে অলৌকিক শক্তির ইঙ্গিত দেয়, তবে বিজ্ঞানীদের মতে এই ঘটনাগুলোর মূল কারণ হলো ওই অঞ্চলের অত্যধিক যানচলাচল, গালফ স্ট্রিমের মতো চরম প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মানুষের ভুল। সূত্র: এনডিটিভি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি