সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
‘জামায়াত যে জান্নাতের পথ দেখায়, তা দাজ্জালের জান্নাত’ : রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামী মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখানোর কথা বললেও দলটির সেই ‘জান্নাতের পথ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।   বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন মন্তব্য করেন।   রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াত মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান! হাদিসে আছে, কিয়ামতের আগে দাজ্জালও মানুষকে জান্নাত দেখিয়ে তাকে অনুসরণ করতে বলবে।’   তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি জানি না, জামায়াত মানুষকে কোন জান্নাতের পথ দেখাতে চায়?’   এরপর জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘এই পথ কি ভোটের আগে বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক করে বলার পথ যে, আমরা কোথায় বলেছি ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কায়েম করবো? না কি এই পথ গাজী নজরুল ইসলামের পথ? না কি শহীদ আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হওয়ার পথ কিংবা রোজা ও পূজাকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলে ধর্ম অবমাননার পথ?’     তিনি আরও লেখেন, ‘না কি আগে ছিল হিন্দু মানে নৌকা, এবার হবে হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা বলার পথ? না কি একদিকে কৃষ্ণ নন্দীকে নমিনেশন দেওয়া, অন্যদিকে জান্নাতের টিকিট বিতরণ করার পথ?’   জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়েও জামায়াতের সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘না কি গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় আওয়ামী লীগের বিচার না চেয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করার পথ?’   স্ট্যাটাসের শেষাংশে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘মিথ্যা ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে জামায়াত মানুষকে যে জান্নাতের পথ দেখাতে চায়, সেটা তো দাজ্জালের জান্নাত!’

২ ঘন্টা আগে
দল নির্বাচনে আবেগ ও স্বজনপ্রীতি, অভিযোগ ইমরুলের

ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক বছরের মতো বাকি। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে চলছে সেই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি। ইনজুরিতে পড়া লিটন দাসকে হারিয়ে তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে খেলছে বাংলাদেশ। কিন্তু জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মতো সমমানের দলের সঙ্গে লড়াইয়ে কোনো ধার দেখা যাচ্ছে না। আফগানদের বিপক্ষে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমে ২৮ রানেই নেই চার উইকেট।   এদিন একাদশে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমন। অভিষেক হয়েছে স্পিনার আলিস আল ইসলামের। তাদের জায়গা দিতে গিয়ে বাদ পড়েছেন রিশাদ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নুরুল হাসান সোহান। আফগানদের বিপক্ষে যখন বাংলাদেশের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা, তখন ইমরুল কায়েস দল নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।    ইমরুল সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে তার মত জানান। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকা অনুচিত বললেন তিনি। ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই বাংলাদেশি ব্যাটার বলেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণভাবে মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সাথে সেরা সম্ভাব্য একাদশ নির্বাচন করা।’   তিনি লিখেছেন, ‘ক্রিকেট একটি পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।’   শেষ অংশে ক্ষোভ ঝরল তার লেখায়, ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর না। এবার সময় এসেছে মেধা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দেশের স্বার্থকে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার।’

২ ঘন্টা আগে
আবারও চালু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি, আবেদন করবেন যেভাবে

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে। এর আগে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে। খবর ফোর্বসের   নির্ধারিত সময়ে ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরু না হওয়ার কারণে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ নির্দেশ দেন। মামলাটিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিবাদী করা হয়।    আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি লটারির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত পোর্টাল চালু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বরের ১ তারিখ। নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু থাকবে। এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।    আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতা ডিভি লটারি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার একটি কর্মসূচি। এতে নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে লটারিতে নাম উঠলেই ভিসা বা গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।   সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর অন্তত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন পেশায় নির্দিষ্ট সময়ের কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এ কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব সাধারণত প্রয়োজন হয় না।   বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন? ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন চালুর সময়সীমা নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশের যোগ্যতার বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।    আবেদনকারীদের মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। লটারিতে নির্বাচিত করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে দপ্তরটির তরফ থেকে। আবেদন শুরুর তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনাই অনুসরণ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে সেখানে।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা জোরদার করার জন্য বৈশ্বিকভাবে ডিভি লটারি (Green Card Lottery) কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।  

২ ঘন্টা আগে
চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রী, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’

রংপুর ও রাজশাহী সফরের পর চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন সম্পন্ন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।   প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রধানেরা।   বিমান থেকে নামার পর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সময় নজর কাড়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতি। একপর্যায়ে শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে করমর্দন করার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগত’।   পরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে যান প্রধানমন্ত্রী।

২ ঘন্টা আগে
ফাইল ছবি
সারাদেশ
সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

রাঙামাটির অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা  প্রশাসন। একই সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫টার মধ্যে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের সাজেক ত্যাগে নির্দেশনা দেওয়া হয়।    বুধবার (২১ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা জারি থাকবে।    জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনিবার্য কারণবশত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।   গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যেতে হবে।    উল্লেখ্য, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে ১১ অক্টোবর থেকে দুই দফায় সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। দুর্গাপূজার জন্য পাঁচ দিনের জন্য অবরোধ স্থগিত করে। তাদের তিন দফা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ফের অবরোধের ডাক দেয় সংগঠন দুটি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২১, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব ট্রাম্পের পরিবারেও, বাবাকে সতর্ক করেছিলেন ছেলে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া নিয়ে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। এ যুদ্ধের বিষয়ে বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় একাধিকবার নিজের উদ্বেগ ও বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ট্রাম্প জুনিয়র চাইতেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তার অবস্থান ছিল, দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে বিদেশের সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরে থাকা উচিত।   ২০২৪ সালে ইরান যখন ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছিল, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্প জুনিয়র লিখেছিলেন, ‘মনে আছে, তারা বলেছিল ট্রাম্প আমাদের ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবেন? এমন সময় আমাদের উপলব্ধি করা উচিত, ট্রাম্প, তার শক্তি ও দৃঢ় নেতৃত্বকে পেয়ে আমরা কতটা সৌভাগ্যবান।’   তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান তৈরি হয়েছে। প্রায় আড়াই বছর পর ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।   প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলোর দাবি, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে ট্রাম্প জুনিয়র ব্যক্তিগতভাবে বাবার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি বরাবরই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়াত রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কার্কও ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন।   দ্য আটলান্টিক-কে এক সূত্র বলেন, ‘ডন এ বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্তিগত পর্যায়ে রেখেছেন। এমন কোনো বিষয়ে তিনি কখনো প্রকাশ্যে বাবার সঙ্গে মতবিরোধে যাবেন না। তবে তাকে যারা চেনেন, তাঁদের কেউই এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত অবস্থান জেনে অবাক হবেন বলে আমার মনে হয় না।’   ‘মাগা’ শিবিরেও বাড়ছে বিভক্তি ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) সমর্থকগোষ্ঠীর ভেতরেও বিভক্তি বাড়ছে। এই শিবিরের একাংশ মনে করে, বিদেশে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।   প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক সূত্র ট্রাম্প জুনিয়রকে ‘সবচেয়ে বেশি মাগাপন্থী’ বলে উল্লেখ করেছেন।   শুধু ট্রাম্প পরিবারের মধ্যেই নয়, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়েও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করা উচিত কিনা, তা নিয়ে আলোচনার সময় ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   এ ছাড়া সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানে সরকার পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন।   ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান সংঘাত পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ্ট। বিপরীতে, ৩৩ শতাংশ তার পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।   ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত ওই জরিপে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত নিয়ে মার্কিন জনগণের উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।   জরিপ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের সমর্থনও কমেছে। মার্চে যেখানে ৬৯ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, সেখানে তা কমে ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   এদিকে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরান সংঘাত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। অথচ শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এ সংঘাতের মেয়াদ চার থেকে ছয় সপ্তাহ হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল।   সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী ও প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য বাড়ছে। একই সঙ্গে জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে নতুন হামলার ছক, গোপন বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইসরাইলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেশটিতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।   চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে আলোচনার মধ্যেই হেগসেথের এ সফরের খবর সামনে এলো।   মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সফরে তিনি মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। তবে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করবেন না বলে জানান তিনি।   সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, ‘আমি সেখানে আমাদের সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ হয়েছে। আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে ভালো অংশীদার হিসেবে আমি তাদের প্রশংসা করি।’   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার অঘোষিত সফরে ইসরাইলে যান হেগসেথ। এ সময় দখলদ্বার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। সফরের বিষয়ে আগে থেকে কোনো ঘোষণা দেয়নি পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় ভ্রমণের কথা আগে স্বীকার করলেও ইসরাইল সফরের বিষয়টি স্পষ্ট করেননি হেগসেথ।   সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, সফরটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না।   আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত উভদা বিমানঘাঁটিতে হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু।   স্পিলম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদ্বার ইসরাইলের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেন তারা।   ইসরাইলে হাজার হাজার মার্কিন সেনাসদস্যকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হেগসেথ। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক ও তার প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে জানান স্পিলম্যান।   তিনি বলেন, ‘এখানে গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, যা এই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল।’   ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার আশঙ্কা ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আলোচনার মধ্যেই হেগসেথের এ সফর অনুষ্ঠিত হলো। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের বিস্তার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।   গত সপ্তাহে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এসব পরিকল্পনায় জিবিইউ-৪৩/বি নামের শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের বিষয়টিও থাকতে পারে।   বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত।   প্রতিবেদনটি ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এর অর্থ এই নয় যে অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সূত্র: সামা টিভি

ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হবে না, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠতে হলে ৪১ রানে জয়ের ব্যবধান রাখতে হবে বাংলাদেশকে। এমন সমীকরণের ম্যাচটি সাত উইকেটে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়রা।   বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শারজায় ম্যাচটি শুরু হয়।   বাংলাদেশের দেয়া ১৬১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৩৫.৩ বলে মাত্র তিন উইকেে হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানরা। ১১৯ রানে আফগানদের অলআউট করতে না পারলে টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বিদায়। এত কম রানে আফগানদের আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং ৩ উইকেট হারিয়েই ১১৯ রান পার করে ফেলে তারা। ফলে খেলা চলা অবস্থায়ই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। অর্থাৎ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে খেলবে আফগানিস্তান আর জিম্বাবুয়ে।   শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৪১.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৬০ রান তোলে। ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। দলীয় ৬ রানেই মাত্র এক রান করে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। পরের বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন সৌম্য সরকার।   এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ বলে ১৫ রান করে আউট হন। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও দুই বল খেলে কোনো রান না করেই ফেরেন। মাত্র ২৮ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।   সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরার আশা দেখায়। ৮২ বলে ৪১ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হন সাইফ।   সাইফের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। মাত্র ২ রান করে বিলাল সামির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপরও এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইমন। তার ব্যাটে আসে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ একটি ফিফটি।   তবে ইমনের লড়াইও শেষ পর্যন্ত দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি। ৭০ রানে অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। এরপর আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান কোনো রান না করেই বিদায় নিলে ১৬০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। তাসকিন আহমেদ ২ রানে অপরাজিত থাকেন।

ছবি: সংগৃহীত
েকর্ড গড়ে সাকিব-আফ্রিদির পাশে মিনহাস

সাকিব আল হাসান, শহীদ আফ্রিদির মতো তারকা ক্রিকেটারের রেকর্ড ছুঁলেন আরাফাত মিনহাস। মাত্র ২১ বছর বয়সে ৫টি ওয়ানডে খেলেই আলোচনায় পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার।    মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ফিফটির পর ঘূর্ণি জাদুতে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন আরাফাত মিনহাস। একই ওয়ানডেতে ফিফটি ও ৫ বা বেশি উইকেটের নজির আছে ২৫বার।   বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস, ভারতের যুবরাজ সিংদের মত তারকারা করেছেন এই কীর্তি।    পাকিস্তানিদের মধ্যে আরাফাত মিনহাসের আগে একই ওয়ানডেতে ফিফটি ও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি (৩বার) ও আব্দুল রাজ্জাক। তাদের পাশে বসলেন মিনহাস।   ত্রিদেশীয় সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে ৯ উইকেটে ৩০২ করেছিল পাকিস্তান। সাত নম্বরে নেমে মিনহাস ৫৮ বলে করেছিলেন ৫৯। এরপর বল হাতে ৪০ রানে নেন ৬ উইকেট। ২১৫-তে গুটিয়ে ৮৭ রানে হারে ইংল্যান্ড।   ২০২৩ সালে চীনের হাংজুতে এশিয়ান গেমসে হংকংয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক মিনহাসের। ৭ টি-টোয়ন্টিতে তার রান ৯৪ ও উইকেট ৯টি। ১৭ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১ সেঞ্চুরিসহ করেছেন ৯৪১ রান, উইকেট ২২টি।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আবারও চালু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি, আবেদন করবেন যেভাবে
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে। এর আগে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে। খবর ফোর্বসের   নির্ধারিত সময়ে ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরু না হওয়ার কারণে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ নির্দেশ দেন। মামলাটিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিবাদী করা হয়।    আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি লটারির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত পোর্টাল চালু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বরের ১ তারিখ। নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু থাকবে। এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।    আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতা ডিভি লটারি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার একটি কর্মসূচি। এতে নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে লটারিতে নাম উঠলেই ভিসা বা গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।   সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর অন্তত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন পেশায় নির্দিষ্ট সময়ের কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এ কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব সাধারণত প্রয়োজন হয় না।   বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন? ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন চালুর সময়সীমা নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশের যোগ্যতার বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।    আবেদনকারীদের মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। লটারিতে নির্বাচিত করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে দপ্তরটির তরফ থেকে। আবেদন শুরুর তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনাই অনুসরণ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে সেখানে।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা জোরদার করার জন্য বৈশ্বিকভাবে ডিভি লটারি (Green Card Lottery) কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।  

ছবি: সংগৃহীত
ক্যানসারের ১৩৭ ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ ভারতের
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২১, ২০২৬

ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যয় কমাতে ১৩৭টি ওষুধের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব ওষুধের দাম সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।   গত শনিবার ভারতের রাসায়নিক ও সার মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    নতুন নিয়মে ওষুধ ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) ওপর ৩০ শতাংশের বেশি মুনাফা রাখতে পারবেন না। এতে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমবে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   দাম কমানোর তালিকায় রয়েছে ২০টির বেশি ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপির ওষুধ। এ ছাড়া স্তন, প্রোস্টেট, কোলন, ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   এর আগে ২০১৯ সালে ৪২টি ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে এনেছিল ভারত সরকার। ওই উদ্যোগে ওষুধগুলোর দাম সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। এবার আরও বেশি ওষুধকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হচ্ছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যয় কমানো এবং রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ আরও সহজলভ্য করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব ট্রাম্পের পরিবারেও, বাবাকে সতর্ক করেছিলেন ছেলে
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২১, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া নিয়ে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। এ যুদ্ধের বিষয়ে বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় একাধিকবার নিজের উদ্বেগ ও বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ট্রাম্প জুনিয়র চাইতেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তার অবস্থান ছিল, দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে বিদেশের সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরে থাকা উচিত।   ২০২৪ সালে ইরান যখন ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছিল, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্প জুনিয়র লিখেছিলেন, ‘মনে আছে, তারা বলেছিল ট্রাম্প আমাদের ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবেন? এমন সময় আমাদের উপলব্ধি করা উচিত, ট্রাম্প, তার শক্তি ও দৃঢ় নেতৃত্বকে পেয়ে আমরা কতটা সৌভাগ্যবান।’   তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান তৈরি হয়েছে। প্রায় আড়াই বছর পর ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।   প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলোর দাবি, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে ট্রাম্প জুনিয়র ব্যক্তিগতভাবে বাবার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি বরাবরই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়াত রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কার্কও ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন।   দ্য আটলান্টিক-কে এক সূত্র বলেন, ‘ডন এ বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্তিগত পর্যায়ে রেখেছেন। এমন কোনো বিষয়ে তিনি কখনো প্রকাশ্যে বাবার সঙ্গে মতবিরোধে যাবেন না। তবে তাকে যারা চেনেন, তাঁদের কেউই এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত অবস্থান জেনে অবাক হবেন বলে আমার মনে হয় না।’   ‘মাগা’ শিবিরেও বাড়ছে বিভক্তি ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) সমর্থকগোষ্ঠীর ভেতরেও বিভক্তি বাড়ছে। এই শিবিরের একাংশ মনে করে, বিদেশে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।   প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক সূত্র ট্রাম্প জুনিয়রকে ‘সবচেয়ে বেশি মাগাপন্থী’ বলে উল্লেখ করেছেন।   শুধু ট্রাম্প পরিবারের মধ্যেই নয়, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়েও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করা উচিত কিনা, তা নিয়ে আলোচনার সময় ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   এ ছাড়া সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানে সরকার পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন।   ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান সংঘাত পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ্ট। বিপরীতে, ৩৩ শতাংশ তার পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।   ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত ওই জরিপে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত নিয়ে মার্কিন জনগণের উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।   জরিপ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের সমর্থনও কমেছে। মার্চে যেখানে ৬৯ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, সেখানে তা কমে ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   এদিকে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরান সংঘাত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। অথচ শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এ সংঘাতের মেয়াদ চার থেকে ছয় সপ্তাহ হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল।   সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী ও প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য বাড়ছে। একই সঙ্গে জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে নতুন হামলার ছক, গোপন বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২১, ২০২৬

ইসরাইলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেশটিতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।   চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে আলোচনার মধ্যেই হেগসেথের এ সফরের খবর সামনে এলো।   মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সফরে তিনি মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। তবে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করবেন না বলে জানান তিনি।   সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, ‘আমি সেখানে আমাদের সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ হয়েছে। আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে ভালো অংশীদার হিসেবে আমি তাদের প্রশংসা করি।’   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার অঘোষিত সফরে ইসরাইলে যান হেগসেথ। এ সময় দখলদ্বার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। সফরের বিষয়ে আগে থেকে কোনো ঘোষণা দেয়নি পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় ভ্রমণের কথা আগে স্বীকার করলেও ইসরাইল সফরের বিষয়টি স্পষ্ট করেননি হেগসেথ।   সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, সফরটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না।   আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত উভদা বিমানঘাঁটিতে হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু।   স্পিলম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদ্বার ইসরাইলের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেন তারা।   ইসরাইলে হাজার হাজার মার্কিন সেনাসদস্যকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হেগসেথ। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক ও তার প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে জানান স্পিলম্যান।   তিনি বলেন, ‘এখানে গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, যা এই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল।’   ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার আশঙ্কা ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আলোচনার মধ্যেই হেগসেথের এ সফর অনুষ্ঠিত হলো। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের বিস্তার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।   গত সপ্তাহে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এসব পরিকল্পনায় জিবিইউ-৪৩/বি নামের শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের বিষয়টিও থাকতে পারে।   বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত।   প্রতিবেদনটি ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এর অর্থ এই নয় যে অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সূত্র: সামা টিভি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

শিক্ষা
স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ