নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল স্রোতে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার সকালে নেপালের রাসুওয়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিকভাবে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। প্রবল পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে জনপদ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর আছড়ে পড়ে। পরে এই পানির স্রোত ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে এবং ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বন্যার কারণে বেশ কিছু জনপদ ও পর্যটন এলাকায় যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক সড়ক ও সেতু পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং ভাটির বিভিন্ন জনপদে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। নিখোঁজ প্রায় ১,৫০০ পর্যটক-ভ্রমণকারী ভয়াবহ এই বন্যায় পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশও নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক। রাসুওয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বুধবার সকালে অবস্থানকারী ও ওইসব এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী পর্যটক-ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে নেপালের পর্যটন বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, পর্যটন পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৩১ বিদেশি নাগরিককে দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া আরও ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজে বড় বাধা যোগাযোগব্যবস্থা বন্যার প্রবল স্রোতে রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সন্ধানে ভ্রমণ সংস্থা, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া নিহত ও নিখোঁজের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। তথ্য হালনাগাদ ও নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট ও আল জাজিরা
একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। ভয়াবহ হিমবাহধস ও আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে সেখানে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মধ্যরাতে উত্তর তিব্বতে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যার উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। জিএফজেডের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল ও চীনের অঞ্চলগুলোর কয়েক শত মাইল উত্তরে অবস্থিত। এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ভূমিকম্পের পাশাপাশি তিব্বতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক রয়েছে চীন। একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা প্রাকৃতিকভাবে পানি আটকে সৃষ্ট হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় দেশটি বন্যা মোকাবিলায় চতুর্থ স্তরের ‘ফ্লাড রেসপন্স’ ব্যবস্থা চালু করেছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্রদটির পানির উচ্চতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষজ্ঞ দলও পাঠানো হয়েছে গিরং কাউন্টিতে। ফলে ভূমিকম্পের পাশাপাশি সম্ভাব্য হ্রদের বাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কাও তিব্বতের পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এর আগে বুধবার তিব্বতের নাগকু এলাকায় ৪ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের কথা জানিয়েছিল চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়াও এ তথ্য নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশে এই প্রথম মাতৃগর্ভে থাকা যমজ শিশুর ত্রুটিপূর্ণ রক্তসঞ্চালন বন্ধ করার জটিল ও সংবেধনশীল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পদ্ধতির নাম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (আরএফএ)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) অবস এন্ড গাইনি বিভাগের ফিটোমেটারনাল মেডিসিন ইউনিটে সফল ওই অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন চীন থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফিটোমেটারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজমিরা সুলতানা ও সহকারী অধ্যাপক মাসউদা সুলতানা। এসময় ইউনিট প্রধান অধ্যাপক তাবাসসুম গণিসহ ফ্যাকাল্টি মেম্বার ডা. ফেরদৌস আরা, ডা. আরিফা শারমিন, ডা. হাফিজা ফারজানা, ডা. ফারহানা ইসলাম, ডা. দিনা লায়লা, ডা. রুবাইয়াত সানিয়া, ডা. মিম শাহরিন ও ফেলো স্টুডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন। সহযোগী অধ্যাপক তাজমিরা সুলতানা বলেন, পরীক্ষায় দেখা যায় পেটে থাকা যমজ সন্তানের একটি সুস্থ থাকলেও অপরটির হার্ট তৈরি হয়নি। সুস্থ বাচ্চার হার্ট দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ বাচ্চার রক্ত সঞ্চালন হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে সাধারণত টিআরপি (টুইন রিভার্স আরটিরিয়াল পারফিউশন) সিকুয়েন্স বা একার্ডিয়াক টুইন জটিলতা বলা হয়। এতে যমজ বাচ্চার একটির হার্ট তৈরি না হওয়ায় সুস্থ বাচ্চার হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে সুস্থ বাচ্চাটির মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই অপারেশনের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ শিশুর রক্তসঞ্চালন বন্ধ করে সুস্থ শিশুটিকে নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখার পথ সুগম করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরণের আধুনিক ও জটিল চিকিৎসা সেবা এটাই প্রথম। উল্লেখ্য, ঢামেকের ২১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফিটোমেটারনাল মেডিসিন ইউনিটে রেগুলার বেসিস-এ বিভিন্ন প্রসিডিউর হয়ে থাকে। যেমন গর্ভথলি থেকে পানি, গর্ভফুল থেকে টিস্যু নিয়ে জেনেটিক পরীক্ষা দেয়া। এসব প্রসিডিউর এর এডভ্যান্স পদ্ধতি হলো আরএফএ। সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জটিল রোগের ক্ষেত্রে সাধারণ রোগীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত ৩১টি অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ জানায়, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগ তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে। পরে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিএফআইইউ জানায়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। সংস্থাটি আরও বলেছে, এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমের আড়ালে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও অর্থপাচারের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকাসহ কোনও সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রক্রিয়াকরণ ফি দাবি করা হলেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএফআইইউ। বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপ হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও। এ ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারণার শিকার হলে কিংবা কোনো অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএফআইইউ বলেছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই অননুমোদিত ডিজিটাল ঋণ কার্যক্রম থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।
‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাব।’ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনের দরবার হলে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কারো প্রতি তাঁর কোনো রাগ-অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য রাখতে হবে।’ এসময় তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, বঙ্গভবন হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সকল বিষয় অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়। এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল এবং অপচয় রোধের আহবান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসাথে তিনি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও কৃতিত্ব শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সকল রাষ্ট্রপতির কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটা পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। আমরা যখন সুযোগ পাবো, সেই সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।’ তিনি ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আশা প্রকাশ করেন।
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল পুলিশ নিখোঁজদের সংখ্যা আপডেট করেছে। তারা বলেছে, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকরা ২৮টি দেশের নাগরিক। এছাড়া ১১৩ জন নিখোঁজ পর্যটক নেপালের নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের নিখোঁজ নাগরিকের সংখ্যা ৩৩ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ব্যাপক উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ও সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে গেলেও দুর্যোগের ব্যাপকতা ‘কল্পনারও বাইরে’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয় এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনারও বাইরে’। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় নিখোঁজদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। সূত্র: বিবিসি
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করছে। কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী বুধবার এক শোক বার্তায় জানান, এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংহতি ও সহমর্মিতার বিবৃতিকে কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে বাংলাদেশ গভীরভাবে অবগত একটি দেশ। তাই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও দেশের জনগণ নেপালের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার জন্য কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে সেবা দিতে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমি সচিব। তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ে জনবল নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে তরুণদের দেশসেবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই স্বচ্ছতা ধরে রাখতে কর্মকর্তাদের কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতা তুলে ধরে এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, ভূমি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়। সময়ের সঙ্গে ভূমি-সংক্রান্ত আইন ও মালিকানার কাঠামোতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে। এসব জটিলতা কমিয়ে নাগরিকদের সহজে সেবা দিতে ভূমি সেবাকে ধীরে ধীরে ডিজিটাল করা হচ্ছে। সচিব বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে নাগরিকদের ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়ার জন্য বারবার সরকারি দপ্তরে যেতে হবে না। ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। তিনি জানান, ভূমি সেবা বিষয়ে নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কলসেন্টার চালু রয়েছে। দেশের অভ্যন্তর থেকে ১৬১২২ এবং প্রবাসীদের জন্য +৮৮০৯৬১২৩১৬১২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে ‘ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র’ (এলএসএফসি) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলা কার্যালয়ে ভূমি সেবা কেন্দ্র স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান ভূমি সচিব। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় সেবা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু করা গেলে ভূমি সেবায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও নাগরিক হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গোয়াইনঘাট স্পোর্টস ক্লাব ইউকের দ্বিতীয় টি-১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গোয়াইনঘাট অলস্টার ক্রিকেট দল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) লন্ডনের ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত গোয়াইনঘাট উপজেলার ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত তিনটি দল অংশ নেয়। টুর্নামেন্ট শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি গোলাম জিলানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সালেহ আহমদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গোয়াইনঘাট স্পোর্টস ক্লাবের সদস্য ইকবাল আহমদ। প্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন কিবরিয়া ওয়াহিদ। সেরা বোলারের পুরস্কার পেয়েছেন ফয়েজ আহমদ, সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন জিল্লুর রহমান এবং উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন রাহাত। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন টুর্নামেন্টের স্পন্সর অ্যাডভোকেট হোসাইন আহমদ, গোয়াইনঘাট অলস্টার দলের অধিনায়ক ফয়েজ আহমদ, গোয়াইনঘাট ইয়ংস্টার দলের অধিনায়ক মারুফ আহমদ এবং গোয়াইনঘাট সুপারস্টার দলের সহ-অধিনায়ক জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রবাসে গোয়াইনঘাটের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা। আয়োজকেরা জানান, প্রবাসী গোয়াইনঘাটের ক্রিকেটারদের একত্রিত করা, নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি এবং যুক্তরাজ্যে গোয়াইনঘাটের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল স্রোতে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার সকালে নেপালের রাসুওয়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিকভাবে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। প্রবল পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে জনপদ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর আছড়ে পড়ে। পরে এই পানির স্রোত ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে এবং ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বন্যার কারণে বেশ কিছু জনপদ ও পর্যটন এলাকায় যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক সড়ক ও সেতু পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং ভাটির বিভিন্ন জনপদে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। নিখোঁজ প্রায় ১,৫০০ পর্যটক-ভ্রমণকারী ভয়াবহ এই বন্যায় পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশও নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক। রাসুওয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বুধবার সকালে অবস্থানকারী ও ওইসব এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী পর্যটক-ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে নেপালের পর্যটন বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, পর্যটন পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৩১ বিদেশি নাগরিককে দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া আরও ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজে বড় বাধা যোগাযোগব্যবস্থা বন্যার প্রবল স্রোতে রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সন্ধানে ভ্রমণ সংস্থা, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া নিহত ও নিখোঁজের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। তথ্য হালনাগাদ ও নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট ও আল জাজিরা
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দেশটির আটটি জেলা থেকে ৩৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বিষয়টি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মৃতের সংখ্যা আরও ৪৩ জন বেড়েছে। বুধবার সকালে উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা প্রবল ঢলে রাসুয়া এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। ত্রিশূলি ও নারায়ণী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ভোটেকোশি নদীতেও পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতে নদীর আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকেও মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে। নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতও এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তৎপর রয়েছে। দুর্গম অঞ্চল ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত থেকে ভোতেকুশ নদীপথে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই পানি ও কাদায় তলিয়ে যায় ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি এলাকা। বার্তাসংস্থা এপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, আকস্মিক এই বন্যায় রাসুয়া জেলার পাশাপাশি সায়াফুরবেশি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ও যানবাহন ভেসে গেছে। অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাশ-মানস সরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১৪০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। দুর্গত এলাকায় ১৪টি হেলিকপ্টার এবং কয়েকশ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে আকাশপথে অভিযান চালানো হচ্ছে। বরফ ধসে নদীর প্রবাহ বন্ধ, ভূমিকম্পের পর নেমে আসে বিপুল পানি: প্রাথমিক অনুসন্ধানে আকস্মিক বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বরফ ধসের বিষয়টি সামনে এসেছে। নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, লেন্দে নদীতে বরফ ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে সেখানে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়। গবেষকের ধারণা, বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর ওই বরফের স্তর নড়ে যায়। এতে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি হঠাৎ করে নেমে ভোতেকুশ নদীতে প্রবেশ করে এবং ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে রিজান ভক্ত বলেন, চীনা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লেন্দে নদীতে বরফ ধসের ঘটনা ঘটেছিল। একই সময়ে তিব্বতে ভূমিকম্পও অনুভূত হয়। তবে বন্যার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সূত্র: এপি, পিটিআই, এএফপি, কাঠমান্ডু পোস্ট
নেপালের সীমান্তবর্তী রসুয়া অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ভোতেকোশি নদীতে সৃষ্ট এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ। এলাকাটি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের কাছাকাছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, নদীর উজানে বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপুল পরিমাণ পানি জমে ছিল। পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর জমে থাকা পানি হঠাৎ নেমে এসে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে লেন্দে নদীতে বরফধসের বিষয়টি সামনে এসেছে। বরফধসের কারণে নদীর পানি নিচের দিকে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পেরে আটকে যায়। তিনি জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে নেপালে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে আসার সময় তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের কম্পনে আটকে থাকা বরফ ও পানি সরে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে ভোতেকোশি নদী দিয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক রিজান ভক্ত বলেন, লেন্দে নদী আটকে যাওয়ার বিষয়ে চীনের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় বরফধসের ঘটনা ঘটেছিল এবং একই সময়ে তিব্বতে ভূমিকম্পও হয়েছে। তবে বন্যার পেছনে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ বা গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অধ্যাপক রিজান ভক্ত বলেন, অতীতেও লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, তবে তখন এ ধরনের আকস্মিক বন্যা হয়নি। তার মতে, এবারের বন্যাটি সাধারণ বৃষ্টিপাতের কারণে হয়নি। বন্যার পানির আকস্মিক ও ব্যাপক প্রবাহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, উজানে জমে থাকা পানি হঠাৎ নেমে আসার ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।