বিমান টিকিটের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। বুহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের (সুনামগঞ্জ-১) টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, টিকিট বিক্রিতে সিন্ডিকেট ও প্রতারণা রোধে টিকিটে ভাড়া, ট্রাভেল এজেন্সির নাম এবং লাইসেন্স নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা সিন্ডিকেট কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আফরোজা খানম বলেন, যাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখতে মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে আলোচনা করছে। দেশীয় রুটে বিমান ভাড়ার ওঠানামার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ‘রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করে। এ ব্যবস্থায় যাত্রী চাহিদা, টিকিট বুকিংয়ের সময় এবং অন্যান্য পরিচালনাগত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভাড়া পরিবর্তিত হয়। তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য পরিবহন সংস্থা জ্বালানির মূল্য, পরিচালন ব্যয়, উড়োজাহাজের ধরন, ভ্রমণের তারিখ ও সময়, পিক ও অফ-পিক মৌসুম, যাত্রী চাহিদা, আসনের প্রাপ্যতা, অগ্রিম বুকিং এবং সেবার মান বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করে। মন্ত্রী বলেন, চাহিদা বেশি থাকলে সাধারণত ভাড়া বৃদ্ধি পায় এবং চাহিদা কম থাকলে ভাড়া হ্রাস পায়। তিনি উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট বা স্থির ভাড়া নির্ধারণ মুক্তবাজার অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া সহনীয় ও প্রতিযোগিতামূলক রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সীমান্তে পুশ-ইনের কারণে শূন্যরেখায় অবস্থানরত মানুষের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা অপরিহার্য বলে মনে করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিবের পক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আলোচনার আহ্বান জানান। এদিন সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত নারী ও শিশুরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের অবস্থান কী? জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, সীমান্তে অবস্থানরত মানুষের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ‘পুশইন’ ইস্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পরিচয় যাচাই ছাড়াই কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে, যাদের অনেকেই সীমান্ত এলাকায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের নাগরিকদের জন্য কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট প্রদান অব্যাহত রেখেছে ইউরোপের দেশ রোমানিয়া। ২০২৫ সালের জন্য বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মোট ৮২ হাজার ১৮০ জন নাগরিককে কাজের ভিসা দিয়েছে দেশটির সরকার। এই তালিকায় ৮ হাজার ৩১৯টি পারমিট পেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। রোমানিয়া সরকারের জেনারেল ইন্সপেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (আইজিআই) প্রবাসী অধিকারবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টসকে ই-মেইলের মাধ্যমে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কাজের ভিসার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে নেপাল। দেশটির ৪৫ হাজার ৪৯৬ জন নাগরিক এই অনুমোদন পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার ১৩ হাজার ৬৯৩ জন নাগরিককে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (৮ হাজার ৮২) এবং পাকিস্তান (৬ হাজার ৫৯০)। আইজিআই জানিয়েছে, এই হিসাবের মধ্যে এমন অনেক কর্মীও রয়েছেন যারা গত বছর আবেদন করে চলতি বছর কাজের অনুমতি পেয়েছেন। ওয়ার্ক পারমিটের পাশাপাশি বর্তমানে রোমানিয়ায় নিয়মিতভাবে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের একটি পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে আইজিআই। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্যে দেখা যায়, দেশটিতে বৈধ রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে অবস্থান করছেন ৮ হাজার ৬৩৫ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে বিশাল একটি অংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৮৯৫ জনই দেশটিতে গেছেন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। এছাড়া ৫০০ জন স্টুডেন্ট ভিসায়, পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসায় ১৬৫ জন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি নিয়ে ৬০ জন সেখানে অবস্থান করছেন। এর বাইরে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় শরণার্থী হিসেবেও সামান্যসংখ্যক বাংলাদেশি দেশটিতে রয়েছেন। নিয়মিত বসবাসের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপালিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ৫৭ হাজার ৩৩০ জন নেপালি নাগরিক রোমানিয়ায় অবস্থান করছেন। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে শ্রীলঙ্কা (২৭ হাজার ৩৮০), ভারত (১৪ হাজার ৬১০) এবং পাকিস্তান (৫ হাজার ২৬৫)। পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, এই অঞ্চলের নাগরিকদের রোমানিয়া যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো কর্মসংস্থান। উচ্চশিক্ষা, পারিবারিক পুনর্মিলন বা স্থায়ী আবাসন ভিসা নিয়ে দেশটিতে বসবাসের হার তুলনামূলক অনেক কম। উল্লেখ্য, রোমানিয়ার অভিবাসন, বিদেশি নাগরিকদের একীভূতকরণ ও আশ্রয়-সংক্রান্ত যাবতীয় নীতি বাস্তবায়নের কাজ করে থাকে আইজিআই। তবে দেশটির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের আইনি এখতিয়ার তাদের হাতে নেই, এই দায়িত্ব পালন করে থাকে রোমানিয়ান বর্ডার পুলিশ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমের সব ধারার অংশীজনকে এক মঞ্চে সমবেত করেছে সরকার। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দেশে একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল একজন ‘সহায়ক’ ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভা প্রধানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমের মূল ধারার সকল অংশীজনকে আমরা একই মঞ্চে জড়ো করতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন মূলত একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের পথ চলার মূল বিন্দুটি খুঁজে বের করতে পারি, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মহান ও স্বাধীন উদ্দেশ্যকে সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকার কেবল একজন ‘সহায়ক’ এবং ‘সমন্বয়কারী’র দায়িত্ব পালন করবে।’ বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনে যাওয়ার আগেই দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার। এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত যেসব জায়গায় মেরামত বা সংস্কার করা দরকার, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেসব জায়গায় সরকার মেরামত করবে।’ তিনি বলেন, ‘সংস্কারের এইতালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬ -২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য শূন্যপদের ভুল তথ্য জমা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৩৭টি শূন্যপদের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাউশির তদন্তে যেসব অনিয়ম উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে—প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে নিয়োগ চাহিদা পাঠানো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও পদ দেখানো, ভুল তথ্য প্রদান, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ই-রিকুইজিশন জমা দেওয়া, শিক্ষক প্রয়োজন না থাকলেও পদ খালি দেখানো এবং সময়মতো তথ্য সরবরাহ না করা। নোটিশে সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কেন এমপিও সুবিধা স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ ছাড়া গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামতও চাওয়া হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, প্রাপ্ত জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা স্থগিত বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবরোধ আরোপ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক শেষে ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরার। পিট হেগসেথ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে চলমান আলোচনার সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনে আবারও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান চুক্তি মেনে না চললে আমরা পুনরায় কঠোর ও কার্যকর অবরোধ আরোপ করার ক্ষমতা রাখি।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিবিড় নজরদারি চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সতর্কবার্তা ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে নিয়ে আওয়ামী লীগ আমলের একটি ঘটনা জাতীয় সংসদে আলোচনায় এনেছিলেন ঢাকা-১ আসনের এমপি খোন্দকার আবু আশফাক। সরকারি ও বিরোধী দলের অনুরোধে বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করে দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার বলেছেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এখনো কিন্তু তিনি (মামুনুল হক) তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক চাই না। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় বিএনপির এমপি খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কি ছিল?’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির নেতা জিসান.. এই ইতিহাসও আপনারা।’ এসময় প্রধানমন্ত্রীকে কিছু একটা বলতে দেখা যায়। তখন বক্তব্যের ইস্যু পরিবর্তন করেন খোন্দকার আবু আশফাক। আবু আশফাক বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক মানে একটা দেশ না, ইসলামী ব্যাংক একটি ব্যাংক। সেটার জন্য (সংসদে আলোচনা) একঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিগারেট-মদের জন্য ওই পাশ (বিরোধী দল) থেকে বলা হয়েছে, এগুলো ট্রেজারি বেঞ্চ খায় বলে এগুলো রাখা হয়েছে। আমি জানি না, আল্লাহ জানেন কার কী অভ্যাস আছে!’ এসময় তিনি মুতা বিয়ের বিষয়ে স্পিকারের কাছে জানতে চান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। একজন রাজনৈতিক নেতার ‘‘পরকীয়া সম্পর্কে’’ আপনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণত যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সংসদে সমীচীন নয়।’ ‘মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন’—এমন প্রশ্ন তুলে স্পিকার বলেন, ‘আমাকে এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? মুতা বিয়ে হলো সম্ভবত কেউ বিদেশে গেলে, আগের কালে নিয়ম ছিল সাময়িক এক মাসের জন্য একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে পারতেন। এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না করা ভালো।’ পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘মুতা বিয়ের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞ না, তবে কনসেপ্টের বিষয়ে আমি জানি। মামুনুল হক সাহেবের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, এটা একেবারেই ভুল তথ্য। উনি মুতা বিয়ে করেন নাই। গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা স্টাবলিশ। বিয়ে করা জায়েজ। বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করেন তিনি। সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয় তা কার্যবিবরণী হতে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।’ তখন স্পিকার বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এখনো কিন্তু তিনি (মামুনুল হক) তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক চায় না।’ উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টের কক্ষে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ এলাকাবাসী। সেখানে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন খবর পেয়ে হেফাজতের কর্মী-সমর্থক ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতের মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি এ প্রসঙ্গটাকে থামানোর জন্য ইশারায় মাননীয় সংসদ সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। এটা এখন হারাম হয়ে গেছে, নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। এখন করা যাবে না।’
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে আবারও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বুধবার (১৭ জুন) ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে পর্তুগাল ১-১ গোলে ড্র করার পর থেকেই মূলত এই সমালোচনার শুরু। ৪১ বছর বয়সে এসেও রোনালদোকে পর্তুগালের আক্রমণভাগ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটিতে ১৪৩টি আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ডধারী এই তারকাকে নিজের ছায়া হয়ে থাকতেই দেখা গেছে। এই একটি ম্যাচই পণ্ডিত এবং সমর্থকদের জন্য দলে তার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। তবে রোনালদো যখন তীব্র সমালোচনায় কোণঠাসা, ঠিক তখনই আজ থেকে তিন বছর আগে বিরাট কোহলির দেওয়া একটি সতর্কবার্তা বিশ্ববাসীর মনে করা প্রয়োজন। কারণ কোহলিকেও তার ক্যারিয়ারের শেষ কয়েক বছরে রোনালদোর মতোই প্রায় একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিন বছর আগের সেই সতর্কবার্তা সে সময় আল হিলাল এবং আল নাসরের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত ‘রিয়াদ অল-স্টার্স’-এর হয়ে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের পিএসজির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন রোনালদো। ম্যাচটিতে রোনালদোর দল ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হয় এবং পর্তুগাল তারকা একাই দুটি গোল করেন। ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল পণ্ডিতদের ধুয়ে দিয়েছিলেন কোহলি। রোনালদোর প্রতি সবসময়ই নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করা কোহলি লিখেছিলেন, ‘৩৮ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা যারা প্রতি সপ্তাহে স্রেফ প্রচার পাওয়ার জন্য তার সমালোচনা করেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্সের পর তারা আজ সুবিধাজনকভাবে চুপ হয়ে গেছেন। অথচ বলা হচ্ছিল তিনি নাকি ফুরিয়ে গেছেন!’ ফর্ম নাকি বোঝাপড়ার অভাব? এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে রোনালদো এখন আর আগের সেই খেলোয়াড়টি নন—যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা জুভেন্টাসের হয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখতেন। কিন্তু অনেকেই এই সত্যটি এড়িয়ে যাচ্ছেন যে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমেও তিনি আল নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৮টি গোল করেছেন। বর্তমান পর্তুগাল দলে তার যা অভাব, তা আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নয়, বরং সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ার; কারণ তার সতীর্থরা রোনালদোর চেয়ে অনেক দ্রুতগতির এবং চ্যালেন্জিং লিগে খেলে থাকেন। প্রশ্ন তোলা বা সমালোচনা করা যেতেই পারে, তবে রোনালদোর মতো একজন কিংবদন্তি—যিনি ফুটবল ইতিহাসের বহু সোনালী মুহূর্তের কারিগর, তাকে এভাবে উপহাস করার একটা সীমা থাকা উচিত। ২০২২ বিশ্বকাপ এবং কোহলির শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে যখন পর্তুগাল বিদায় নেয়, তখনও রোনালদোর প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছিলেন কোহলি। তার সেই আবেগঘন বার্তা আজও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দেয়, ‘কোনো ট্রফি বা খেতাবই এই খেলাধুলার প্রতি এবং বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে আপনার অবদানকে কেড়ে নিতে পারবে না। আপনি মানুষের মনে যে প্রভাব ফেলেছেন, তা কোনো খেতাব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। প্রতিবার মাঠে নেমে আপনি যেভাবে উজাড় করে খেলেন, তা কঠোর পরিশ্রম এবং উৎসর্গের এক অনন্য প্রতীক এবং যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্য এক সত্যিকারের অনুপ্রেরণা। আমার কাছে আপনিই সর্বকালের সেরা।’ রোনালদোর সামনে এখন কীসের অপেক্ষা? বিশ্বকাপের পর রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় পর্তুগাল জার্সিতে তার ভবিষ্যৎ কী, তা লুকিয়ে আছে ২০১৯ সালে কোহলির দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে। দীর্ঘ সাত বছর পরেও রোনালদোর কাজের প্রতি নিষ্ঠা বিন্দুমাত্র কমেনি। কোহলি ফিফা ডট কম-কে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে ক্রিশ্চিয়ানো সবার উপরে। তার প্রতিশ্রুতি এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা অতুলনীয়। প্রতি ম্যাচেই জেতার জন্য তার সেই তীব্র ক্ষুধা দেখা যায়। তিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করেন।’ ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাক্কাই রোনালদোকে আরও শক্তিশালী করে, নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরতে এবং সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে বাধ্য করে। পর্তুগাল যখন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায়, তখন রোনালদোর কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্সের চেয়ে কম কিছু আশা করা ভুল হবে। মাঠে রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি হতে পারেন, তবে মাঠের বাইরে অন্য একটি খেলায় বিরাট কোহলির আচরণ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার জেদ পুরোপুরি রোনালদোর সঙ্গে মিলে যায়। ভারতীয় ওয়ানডে দলের ৩ নম্বর পজিশনে যেভাবে কোহলি সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন, ঠিক একইভাবে আগামী ম্যাচগুলোতে রোনালদোও বিশ্বকে চমকে দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তার ভক্তদের। সূত্র: এনডিটিভি
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবরোধ আরোপ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক শেষে ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরার। পিট হেগসেথ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে চলমান আলোচনার সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনে আবারও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান চুক্তি মেনে না চললে আমরা পুনরায় কঠোর ও কার্যকর অবরোধ আরোপ করার ক্ষমতা রাখি।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিবিড় নজরদারি চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সতর্কবার্তা ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশনও (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন তিনি। সেখানে শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে। “পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকস্তিানের নৌবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে। ”, দ্য মর্নিংকে বলেছেন কমোডর ফারুক। ১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। তবে সেই যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর বঙ্গপোসাগর ছেড়ে চলে যায় পাকিস্তান। এতদিন মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে এমন একটি এলাকা যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক এবং কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বঙ্গোপসাগর ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিস্তৃত জলরাশি, যার উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তিগুলোর উত্থানের মধ্যেও এই দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। গত ৭ জুন এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে দ্য মর্নিং। উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর কোনো একটি দেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের উপকূলরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার উপর সার্বভৌমত্ব এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে। এই সীমার বাইরে রয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে এমনকি বিদেশি সামরিক জাহাজগুলোও মূলত অবাধে চলাচল করতে পারে। সূত্র : বার্ড মেরিটাইম, রেড্ডিট, ইন্ডিয়া টুডে এসএমডব্লিউ
জি৭ সম্মেলনে আবারও আলোচনায় এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার ‘মেলোডি’ ট্রেন্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জর্জিয়া মেলোনি নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আবার আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” পরে তিনি হাস্যরসের সুরে বলেন, “আমরা তো এখন ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।” এই মন্তব্যে দুই নেতার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও হালকা মেজাজের মুহূর্ত আবারও নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দেয়। ‘মেলোডি’ শব্দটি মূলত মোদি ও মেলোনির নাম মিলিয়ে তৈরি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ট্রেন্ড, যা গত কয়েক বছরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর আগে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে মেলোনি মোদির সঙ্গে একটি সেলফি শেয়ার করে ‘মেলোডি’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার পর থেকেই এই ট্রেন্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে তাদের সাক্ষাৎ, সেলফি এবং ভিডিও ঘিরে অসংখ্য মিম ও রসাত্মক কনটেন্ট তৈরি হয়। সম্প্রতি রোম সফরের সময় মোদি মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এতে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেল বিক্রির পাশাপাশি ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমা খাতেও কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে, যাতে জ্বালানি বাণিজ্য সহজ হয়। তবে তিনি জানান, এই সুবিধাগুলো শর্তসাপেক্ষ। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করার মতো শর্ত মানতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ইরানের জন্য এটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ছাড় ভবিষ্যতে আবার ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের তেল মজুতের বড় অংশ ট্যাংকারে জমা রয়েছে, যার একটি অংশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বাইরে থেকে সহজেই বিক্রি করা সম্ভব। এদিকে আরও একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানে বড় আকারের বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি বহুজাতিক বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।