সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৮ কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার আট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।     সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়।   এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ১৮ আগস্ট তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হবে।     বদলির আদেশ অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিমকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।      গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানকে নরসিংদী জেলায় এবং সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রবিউল ইসলামকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়েছে।     এ ছাড়া র‌্যাবের এএসপি স্বপ্না বেগমকে ঢাকা মহানগর পুলিশে, মাদারীপুরের এএসপি বিমল চন্দ্র বর্মনকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সার্কেলে এবং ফরিদপুরের মধুখালী সার্কেলের এএসপি মো. আজম খানকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।     অন্যদিকে, সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরীকে কক্সবাজারের মহেশখালী সার্কেলে এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশের এএসপি এস এম মাসুদুজ্জামানকে ফরিদপুরের মধুখালী সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।

৫১ মিনিট আগে
প্রতি চারজনে এক শিশু খর্বকায়, অপুষ্টিতে জাতীয় অর্থনীতির বড় ক্ষতি

বাংলাদেশে অপুষ্টি এখন আর কেবল খাদ্যঘাটতির তালিকায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে। বর্তমানে দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি চারটি শিশুর একটি খর্বকায় (বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম)।     পাশাপাশি ১৩ শতাংশ শিশু কৃশকায় এবং ৫৩ শতাংশ গর্ভবতী নারী রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। অন্যদিকে, প্রজননক্ষম বয়সী ৫৬ শতাংশ নারী অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত।     বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টির এই ‘ত্রিমুখী সংকট’-এর কারণে দেশে প্রতিবছর জাতীয় অর্থনীতির (জিডিপি) ৮ শতাংশের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু খাদ্য নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; মাতৃপুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।     তা না হলে খর্বতা ও অপুষ্টির এই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।     সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীতে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পুষ্টি কার্যক্রম সংযুক্তিকরণ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য ও মতামত তুলে ধরা হয়। যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।     অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের প্রধান সায়কা সিরাজ বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের খাদ্য এখনো শর্করা বা চালনির্ভর।       বিশেষ করে চর, হাওর, বস্তিসহ প্রান্তিক এলাকায় পুষ্টিসেবা এখনো দুর্বল। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, পোশাকশ্রমিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রবীণদের পুষ্টির বিষয়টি পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না।’       আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘শিশুর খর্বতা শুধু খাদ্যের অভাবের ফল নয়। গর্ভকালীন অপুষ্টি, বিশুদ্ধ পানির অভাব, দুর্বল স্যানিটেশন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের এতে বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খর্বতার সূচনা হয় শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই।       তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় চার লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যাদের অধিকাংশকেই কমিউনিটিভিত্তিক সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৩ থেকে ৫ শতাংশ বিনিয়োগ করা সম্ভব হলে খর্বতার হার ২৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।’       স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ এখনো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করে। অপুষ্টির কারণে দেশে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও কিডনি রোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মোট রোগব্যাধির প্রায় ৭০ শতাংশই অসংক্রামক।’         অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের ওয়ার্ডে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আওতায় মাঠপর্যায়ে বর্তমানে কর্মরত ৪৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর পাশাপাশি আরও এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।’ এ ছাড়া প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

৫৫ মিনিট আগে
হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটার ব্যবহারে বিআরটিএর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

অ্যাম্বুল্যান্স, অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার কিংবা অন্যান্য অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ২১ জুলাইয়ের একটি বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) এক জরুরি বার্তায় এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি। বিআরটিএর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২–এর ৮১ নম্বর বিধি অনুযায়ী জরুরি সেবায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট যানবাহন বাদে অন্য কোনো গাড়িতে বিভিন্ন সুরের বহুমুখী হর্ন কিংবা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট ও ভীতিকর শব্দ উৎপাদনকারী হর্ন বা যন্ত্র স্থাপন, পুনঃস্থাপন এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।     বিআরটিএর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অননুমোদিত হর্নগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব হর্ন জনস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া এ ধরনের তীব্র শব্দ চালকদের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করে, যা সড়কে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।     বর্তমানে বিভিন্ন গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটারের যত্রতত্র ব্যবহার জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি রোধে জরুরি সেবার নির্ধারিত যানবাহন ব্যতিরেকে অন্য সব মোটরযানে এ ধরনের বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ।

১ ঘন্টা আগে
ক্রিকেটের বোলিং ছাড়ার সাত বছরেই জ্যাভলিনে ঐতিহাসিক স্বর্ণ জয়

হতে পারতেন মালিঙ্গা-পাথিরানাদের মতো ক্রিকেটের সফল পেসার। খেলেওছিলেন শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের বিভিন্ন দলে। ঘণ্টায় ১৩৪ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সেই ষোলো বছর বয়সেই। কিন্তু তাঁর কোচ টনি প্রসন্ন ছাত্রের মধ্যে অন্য কিছু খুঁজে পান। তাঁর বল থ্রোর ধরন, গতি, ক্ষিপ্রতা– সব মিলিয়ে কোচ প্রসন্ন তাঁকে পরামর্শ দেন অ্যাথলেটিকসের বর্শা নিক্ষেপ ডিসিপ্লিনে মনোযোগ দেওয়ার। কোচের কথা শুনেই এরপর ক্রিকেটের বল ছেড়ে হাতে তুলে নেন জ্যাভলিন থ্রোর বর্শা। আর মাত্র সাত বছরের মধ্যেই সাফল্যের সব মুকুট ধরা দিতে থাকে রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগের মাথায়।     শুক্রবার গ্লাসগোর স্কটস্টন স্টেডিয়ামে কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের চমকে দিয়ে শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম জ্যাভলিন স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেন পাথিরাগে। ভারতের অলিম্পিকজয়ী নীরজ চোপড়া ও পাকিস্তানের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আরশাদ নাদিমের পর শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগের এই সাফল্য এ অঞ্চলে জ্যাভলিনের জয়জয়কার আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ক্রিকেটই দক্ষিণ এশিয়ায় ‘বর্শা বিপ্লব’ এনে দিয়েছে।     ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপিয়ানদের দখলে থাকা জ্যাভলিন থ্রোতে দক্ষিণ এশিয়ার এই ত্রিমুখী আধিপত্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির কারণে এ অঞ্চলের তরুণদের কাঁধ, কোমর ও কবজির শক্তি প্রাকৃতিকভাবেই শক্তিশালী থাকে, যা জ্যাভলিনে বাড়তি সুবিধা দেয়। রুমেশ নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্রিকেটের বোলিং অ্যাকশন ও জ্যাভলিনের রিলিজ কৌশলের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও বল করার সময় তৈরি হওয়া শারীরিক গতি ও জোর তাঁকে বর্শা নিক্ষেপে দারুণ সহায়তা করেছে।       ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডিল সুমারিভিলা মনে করেন, জ্যাভলিন থ্রোতে দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনা দিন দিন আরও বাড়বে। ‘কয়েক দশক ধরে জ্যাভলিন থ্রো মূলত ইউরোপীয় অ্যাথলেটদের দখলেই ছিল। আজ দক্ষিণ এশিয়ার অ্যাথলেটরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন, বিশ্বসেরাদের কাতারে তাঁদেরও স্থান রয়েছে। পাকিস্তান আরশাদ নাদিমের মতো একজন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন তৈরি করেছে, ভারতের রয়েছে নীরজ চোপড়া এবং এখন শ্রীলঙ্কারও এমন একজন অ্যাথলেট আছে, যিনি ৯২ মিটার অতিক্রম করতে সক্ষম। এটি পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় বিজয়।’ জুনে রোমে ডায়মন্ড লিগে প্রথম হওয়ার পর পাথিরাগেকে নিয়ে এমনটাই উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিলেন সুমারিভিলা। গতকাল শনিবার কুমার সাঙ্গাকারার মতো লঙ্কার সাবেক ক্রিকেটারও পাথিরাগের এই স্বর্ণজয়কে লঙ্কার ‘গর্বের দিন’ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।       পাথিরাগের মতো ভারতের নীরজ চোপড়াও একসময় পেস বোলার ছিলেন। পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমও ক্রিকেট খেলতেন। সুমারিভিলার মতে, ক্রিকেটই হয়তো জ্যাভলিন থ্রোর শুরুটা করে দিতে পারে। ‘গতিময় বোলিং হয়তো জ্যাভলিনের শারীরিক সক্ষমতা জোগাতে পারে, কিন্তু জ্যাভলিন থ্রো মূলত কৌশলগত একটি ইভেন্ট। ৯০ মিটারের বেশি দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করতে বছরের পর বছর বিশেষায়িত কোচিং ও কৌশলগত সূক্ষ্মতা, শারীরিক শক্তির বিকাশ এবং প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।’ পাথিরাগে সেটাই করেছিলেন গত সাত বছরে। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের তীব্র বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ৮৯.৭৫ মিটার দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন। এটি গত ২০ বছরের মধ্যে কমনওয়েলথ গেমসে শ্রীলঙ্কার প্রথম স্বর্ণপদক। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ভারতের নীরজ চোপড়া ৮৫.৮৩ মিটার থ্রো করে রৌপ্য পদক পান। ভারতেরই যশ বীর সিং ৮৫.৪১ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ নিজের নামে করেন। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম ৭৭.৪১ মিটার থ্রো করে নবম স্থানে থেকেই প্রতিযোগিতা শেষ করেন।     রুমেশ জানান, তাঁর এই সাফল্যের পর শ্রীলঙ্কার তরুণ প্রজন্ম এখন শুধু ক্রিকেট নয়, হাত বাড়াচ্ছে জ্যাভলিনসহ অন্যান্য খেলায়।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে দিল্লির প্রতি ঢাকার অনুরোধ

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে যাতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিদেবী উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পলাতক শেখ হাসিনা ৫ অগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাই কমিশনারকে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

জামালপুরে চলন্ত কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে আব্দুল হাই (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার নরুন্দি-মির্জাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   নিহত আব্দুল হাই সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেনটি নরুন্দি স্টেশন অতিক্রম করার পর মির্জাপুর এলাকায় পৌঁছালে ছাদে অবস্থানরত আব্দুল হাই অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।   ওসি রবিউল ইসলাম জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের যুব সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ প্রতিনিধি শেখ তামরিন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার উই ওয়ান্ট মডেল ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স’-এ অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ প্রতিনিধি শেখ সিদরাতুল মুনতাহা সিদ্দিকী তামরিন।   সম্মেলন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তার ডেলিগেট নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।   সম্মেলন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন তরুণ অংশ নিলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী প্রতিনিধি হিসেবে তামরিন অংশগ্রহণ করছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।   চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি, কূটনীতি, তরুণ নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।   চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা শেখ তামরিন সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী সাংবাদিক শেখ ফয়সল সিদ্দিকী ববি’র জ্যেষ্ঠ কন্যা। প্রবাসে বেড়ে উঠলেও বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।   তার পিতা শেখ ফয়সল সিদ্দিকী ববি বলেন, “এটি একজন বাংলাদেশি ও প্রবাসী বাবা হিসেবে আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমি দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করছি।”   আন্তর্জাতিক এ মঞ্চে বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস স্থাপনে আলোচনা শুরু

বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা বিদেশে না গিয়েও তুলনামূলক কম খরচে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন।   সোমবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউজিসির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার ফর সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড মাল্টিকালচারাল অ্যাফেয়ার্স জুলিয়ান হিলের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।   বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণা, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বাংলাদেশকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় শিক্ষা গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।   অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দল জানায়, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার ব্যয় অনেকটাই কমে আসতে পারে।   প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্পখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। এই মডেল বাংলাদেশে চালু হলে কর্মসংস্থান সক্ষমতা বাড়তে পারে বলে তারা মত দেন।   ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মবাজার উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা ইউজিসির অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার বা অন্যান্য অ্যাকাডেমিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে ইউজিসি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ক্যাম্পাসের সমমানের পাঠ্যক্রম, শিক্ষা, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক মান নিশ্চিত করতে হবে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক মূল ক্যাম্পাস থেকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।   অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দল আশ্বস্ত করেছে যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল ক্যাম্পাসের সমমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।   বৈঠকে দুই পক্ষ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, অ্যাকাডেমিক বিনিময় ও সক্ষমতা উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনের ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে ছাই ৬০০ স্থাপনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেইন এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৬০০টি স্থাপনা ধ্বংস এবং ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।    অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরে দাবানলে ৮.২ বর্গমাইল এলাকা পুড়লেও ওয়াশিংটন জুড়েই প্রায় ৩৯০ বর্গমাইল এলাকা পুড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ও ফেডারেল সংস্থাগুলো। দাবানলের তীব্রতা এতটাই বেশি যে একটি ভেটেরানস হাসপাতালের রোগীদেরও সরিয়ে নিতে হয়েছে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং তীব্র বাতাসের কারণে আগামী দিনগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে সতর্ক করেছেন সেনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং স্পোকেইনের কনভেনশন সেন্টারে একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।  ওল্ড ট্রেইলস, ফেয়ারভিউ ও মিডউভিউসহ কয়েকটি সক্রিয় দাবানলের কারণে বিদ্যুৎহীন রয়েছে হাজার হাজার মানুষ এবং ইউটিলিটি লাইন মেরামতের কাজ চলছে। এদিকে স্পোকেইন ছাড়াও পশ্চিম আইডাহো ও পূর্ব ওরেগনে বজ্রপাতে সৃষ্ট আরেকটি বিশাল দাবানল গত ১০ দিন ধরে ৫২৫ বর্গমাইল তৃণভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে, যা শত শত বাড়ি ও গবাদি পশুর খামারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ওই অঞ্চলের আবহাওয়া শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হতে পারে।  পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস একাধিক রাজ্যে বায়ুমানের অবনতি, চরম তাপপ্রবাহ এবং রেড ফ্ল্যাগ ফায়ার সতর্কতা জারি করেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সংঘাতের ব্যয় বাড়িয়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে ইরান: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য পথ, নৌপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে ইরান—এমন মন্তব্য করেছেন উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক বিজয়ের চেয়ে সংঘাতের ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়ানোর কৌশলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভবিষ্যৎ যে কোনো আলোচনা বা দর-কষাকষিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।   ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইকেল নাইটস রয়টার্সকে বলেন, ইরান সংঘাতের মাত্রা এমনভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করছে যাতে প্রতিপক্ষকে নতুন নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।   তিনি বলেন, “তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে আঘাত করার সক্ষমতা নয়; বরং আঞ্চলিক দেশগুলো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার ক্ষমতা।”   প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ সুরক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান এয়ার মনে করেন, ইরানের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ কমাতে বাধ্য করা এবং সংঘাতের গতিপথ পুরোপুরি ওয়াশিংটনের হাতে চলে যেতে না দেওয়া।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি ইরানের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে সমুদ্রপথ ও বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এই পরিবর্তনকে তেহরান তাদের কৌশলের আংশিক সাফল্য হিসেবে দেখতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।   তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, উভয় পক্ষ যদি পাল্টাপাল্টি চাপ বাড়াতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠবে।   সূত্র: রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনের ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে ছাই ৬০০ স্থাপনা
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেইন এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৬০০টি স্থাপনা ধ্বংস এবং ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।    অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরে দাবানলে ৮.২ বর্গমাইল এলাকা পুড়লেও ওয়াশিংটন জুড়েই প্রায় ৩৯০ বর্গমাইল এলাকা পুড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ও ফেডারেল সংস্থাগুলো। দাবানলের তীব্রতা এতটাই বেশি যে একটি ভেটেরানস হাসপাতালের রোগীদেরও সরিয়ে নিতে হয়েছে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং তীব্র বাতাসের কারণে আগামী দিনগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে সতর্ক করেছেন সেনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং স্পোকেইনের কনভেনশন সেন্টারে একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।  ওল্ড ট্রেইলস, ফেয়ারভিউ ও মিডউভিউসহ কয়েকটি সক্রিয় দাবানলের কারণে বিদ্যুৎহীন রয়েছে হাজার হাজার মানুষ এবং ইউটিলিটি লাইন মেরামতের কাজ চলছে। এদিকে স্পোকেইন ছাড়াও পশ্চিম আইডাহো ও পূর্ব ওরেগনে বজ্রপাতে সৃষ্ট আরেকটি বিশাল দাবানল গত ১০ দিন ধরে ৫২৫ বর্গমাইল তৃণভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে, যা শত শত বাড়ি ও গবাদি পশুর খামারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ওই অঞ্চলের আবহাওয়া শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হতে পারে।  পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস একাধিক রাজ্যে বায়ুমানের অবনতি, চরম তাপপ্রবাহ এবং রেড ফ্ল্যাগ ফায়ার সতর্কতা জারি করেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

স্পেনের যে গ্রামে একসঙ্গে উপভোগ করা যায় দুই সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬

স্পেনের উত্তরাঞ্চলের বুর্গোস প্রদেশের ছোট্ট গ্রাম আভেলানোসা দে মুনিও। স্থায়ী বাসিন্দা হাতে গোনা, নেই কোনো রেস্তোরাঁ, দোকানপাটও প্রায় নেই বললেই চলে। সপ্তাহে মাত্র একদিন একটি বেকারির ভ্যান এসে কয়েকজন বাসিন্দার জন্য রুটি পৌঁছে দেয়। বছরের অধিকাংশ সময় প্রায় জনশূন্য এই গ্রামটিই আগামী ১২ আগস্ট বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।    প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম ইউরোপে এমন বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটবে। আর স্পেনে ১৯১২ সালের পর এটিই হবে প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। সেই গ্রহণের পূর্ণতা দেখা যাবে যে সংকীর্ণ পথজুড়ে, আভেলানোসা দে মুনিও ঠিক সেই পথেই অবস্থিত। মাদ্রিদের পদার্থবিদ ড. মারিয়া তেরেসা লোপেজ সানচেজ বলেন, গ্রহণটি ঘটবে সূর্যাস্তের ঠিক আগে। ফলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে মানুষ যেন দুটি সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা পাবে। তিনি বলেন, এটা হবে কয়েক মিনিটের মধ্যে দুবার সন্ধ্যা নেমে আসার মতো অভিজ্ঞতা।   এতেই শেষ নয়। ওই রাতেই আকাশে দেখা যাবে বিখ্যাত পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি। ফলে একই দিনে দুটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ মিলবে। গ্রামটির অবস্থানও সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য আদর্শ। চারদিকে সোনালি গমক্ষেত, নিচু পাহাড় আর পশ্চিম দিগন্তে কোনো বড় বাধা নেই। আলোকদূষণও প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটিকে স্পেনের অন্যতম সেরা পর্যবেক্ষণস্থল হিসেবে বিবেচনা করছেন। গ্রামের ৮৯ বছর বয়সী বাসিন্দা সারা আলভারেজ রদ্রিগেজ, যিনি জন্ম থেকেই এখানেই আছেন। তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণ দেখতে হলে গ্রামের ওপরে থাকা গুহার কাছে যেতে হবে। ওখান থেকে সবকিছু সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।   আলভারেজ জানান, ১৯৫০-এর দশকে গ্রামটিতে প্রায় ২০০ মানুষের বসবাস ছিল। ছিল একাধিক দোকান, মাছ বিক্রেতা, ডাকঘর সবই। কৃষি ও পশুপালন ছিল জীবিকার প্রধান উৎস। পরে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ শুরু হলে কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষ একে একে মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, বিলবাওসহ বিভিন্ন শহরে চলে যায়।   এখন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মাত্র ১০ জনের মতো। মানুষের চেয়ে আশপাশে ছাগলের সংখ্যাই বেশি।   তবে সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে অনেকেই আবার ফিরে আসছেন নিজেদের শেকড়ে। গ্রামের সন্তান রাউল গ্রান্দে রেভিলা, যিনি ছোটবেলায় মাদ্রিদে চলে গিয়েছিলেন, এবার পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও বন্ধুদের নিয়ে গ্রামে ফিরবেন। তার সঙ্গে আসবেন প্রায় ২০ জন, যা এক রাতের জন্য গ্রামের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করে দেবে।   শুধু গ্রামের পুরোনো বাসিন্দারাই নন, স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ভেনেজুয়েলা থেকেও অনেকে আসার পরিকল্পনা করেছেন।   সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. লুক্রেজিয়া লোপেজ বলেন, এ ধরনের বিরল ঘটনা মানুষকে নিজেদের পুরোনো শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।   গ্রামের কাছের ঐতিহাসিক প্যারাডর দে লেরমা হোটেলটি ২০২২ সালেই ওই দিনের জন্য পুরোপুরি বুকিং হয়ে গেছে। কাস্তিয়া ই লেওনের পর্যটন বোর্ডও জানিয়েছে, অঞ্চলের বেশির ভাগ আবাসনই আগেভাগেই পূর্ণ হয়ে গেছে।   গ্রান্দে জানান, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে একটি পরিবার শুধু সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য স্পেনে আসছে। তিনি নিজেই গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন, কেউ তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে পারবেন কি না।   তিনি বলেন, ভাবতেই অবাক লাগে মাত্র ১০ জন মানুষের একটি গ্রাম হঠাৎ করে পুরো বিশ্বের নজরে চলে এসেছে।   গ্রামের ওপরে থাকা গুহাগুলো বহু বছর ধরেই স্থানীয়দের প্রিয় মিলনস্থল। এখান থেকেই তারা সূর্যাস্ত উপভোগ করেন। এমনকি গ্রামের এক বাসিন্দার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার অস্থিও সেখানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।   সূর্যগ্রহণের দিন তাই বহুদিন পর আবার প্রাণ ফিরে পাবে আভেলানোসা দে মুনিও। আত্মীয়-স্বজনের কোলাহল, শিশুদের হাসি, বারবিকিউর ধোঁয়ায় মুখর হবে নিস্তব্ধ গ্রামটি। তারপর কয়েক মিনিটের জন্য নেমে আসবে অন্ধকার। তাও একবার নয়, যেন দুবার। আর ভূগোলের এক অদ্ভুত কাকতালীয় কারণে স্পেনের প্রায় বিস্মৃত এই ছোট্ট গ্রামটি সেদিন অল্প সময়ের জন্য হয়ে উঠবে বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু।   সূত্র : বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কেশম দ্বীপে ৯০০ কেজির বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় একটি বেসামরিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণেও হামলায় প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে চালানো ওই হামলায় কেশম দ্বীপের একটি পারিবারিক বড়ি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছে। তবে পরিবারের আরও দুই সন্তান জীবিত রয়েছে।   ভিডিও ফুটেজ ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হামলায় সম্ভবত ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০০ কেজি) ওজনের মার্ক-৮৪ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বোমাগুলোর একটি। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা হামলার স্থানে সৃষ্ট গর্তের আকার এবং উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এই ধারণা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার সময় ও স্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তৎকালীন অভিযান পরিচালনার তথ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। এদিকে, জেরুজালেম পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিসর আগের রাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এই হামলাগুলো ছিল বিস্তৃত, ব্যাপক এবং কার্যকর।   নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, যে বাড়িটিতে হামলা হয়েছে তার আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। হামলার পর ইরানি কর্তৃপক্ষও সেখানে কোনো সামরিক হতাহতের তথ্য দেয়নি।   ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার কারণে আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ গর্তের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০০ ফুট দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তারা খতিয়ে দেখছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বা বেসামরিকদের সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এসব বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।   সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, আমরা এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করছি। মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।   নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ স্যাটেলাইট চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে হামলার স্থান ও বিস্ফোরণের মাত্রা যাচাই করা হয়েছে।   সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি