সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত সবাইকে দিতে হবে : গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার ফল শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই ক্ষতিকর হবে।   এক অডিও বার্তায় গালিবাফ বলেন, ‘শত্রুপক্ষ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগে খুবই আশাবাদী। তারা আবারও ভুল তথ্য পেয়েছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত সবাইকে দিতে হবে।’   এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের অর্থনীতি প্রায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে রুটি, শস্য, তেল ও চর্বিজাতীয় পণ্যের মূল্য।   যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতির কারণে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবরোধ আরোপের পর ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালি ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়ে। এতে তেল রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে।   গালিবাফ দাবি করেন, এটি সরাসরি সামরিক যুদ্ধ নয়; বরং ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পিত কৌশল। তিনি জনগণকে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভেদ সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড শত্রুর লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।   তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার স্বার্থে ইরানের জনগণ সব ধরনের চাপ মোকাবিলা করবে।’ সূত্র : শাফাক নিউজ

৩ মিনিট আগে
ইরানি তেলবাহী জাহাজ অচল করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এম/টি হাসনা’ নামের জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। মার্কিন বাহিনীর দাবি, জাহাজটিকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তা অবরোধ নির্দেশনা অমান্য করে এগিয়ে যেতে থাকে।   এরপর মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান জাহাজটির রাডার লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটি আর এগোতে পারেনি।   মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর অবরোধ এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে ‘অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, কৌশলগত এই জলপথে মার্কিন বাহিনী ‘ইস্পাতের দেয়াল’ তৈরি করেছে।   গত ৩ মে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নৌ অভিযান ঘোষণা করেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করা। তবে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর দুই দিনের মধ্যেই অভিযানটি স্থগিত করা হয়।   পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা দাবি করে, ‘আগ্রাসী শক্তির হুমকি’ সরে যাওয়ার পরই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল সম্ভব হয়েছে।

৫ মিনিট আগে
চীন সফরের আগেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত চীন সফরের আগেই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।   বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, পরবর্তী দফার আলোচনায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নাও নিতে পারেন।   এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আবার শুরু হতে পারে। যদিও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা ও পরিদর্শন ব্যবস্থাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয়পক্ষের খসড়া প্রস্তাব পর্যালোচনার কাজ এখনো চলছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক জবাব এখনো পাঠানো হয়নি।   এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সম্ভাব্য ওই চুক্তির আওতায় যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অবরোধ শিথিল এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ৩০ দিনের একটি কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।   সূত্রগুলোর দাবি, চলমান সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম দুই দেশ চুক্তির এত কাছাকাছি পৌঁছেছে।  সূত্র : শাফাক নিউজ

৭ মিনিট আগে
ইরান রাজি হলে হরমুজ অবরোধ তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে দেশটির ওপর আরও বড় ও তীব্র হামলা চালানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় সম্মত হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে।   বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনার শর্ত মেনে নিলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘সব দেশের জন্য, এমনকি ইরানের জন্যও’ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ও শেষ হবে।   গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাবে তেহরান এই পদক্ষেপ নেয়। এর পাল্টা হিসেবে ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দর থেকে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।   পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ট্রাম্প গত ৩ মে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নৌ অভিযান ঘোষণা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করা। তবে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কারণে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সেই অভিযান স্থগিত করা হয়।   পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা দাবি করে, ‘আগ্রাসী শক্তির হুমকি’ দূর হওয়ার পরই প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল সম্ভব হয়েছে।   এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সম্ভাব্য ওই চুক্তির আওতায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ অর্থ ছাড় ও হরমুজ প্রণালিতে উভয়পক্ষের আরোপিত নৌ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো তেহরানের বিবেচনায় রয়েছে। পর্যালোচনা শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে।

৯ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
কুয়ালালামপুরে পাঁচ নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন এমআরটি ও এলআরটি স্টেশনে একাধিক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।   বুধবার (৬ মে) কুয়ালালামপুর পুলিশের প্রধান ফাদিল মারসুস এক বিবৃতিতে জানান, ৪১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গত ২৭ এপ্রিল দুপুরের দিকে মালুরি এমআরটি স্টেশন এলাকা থেকে আটক করা হয়।   পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি চান সো লিন এলআরটি স্টেশন, মালুরি চেরাস এবং তামান মিদাহ এমআরটি স্টেশন এলাকায় ২১ থেকে ২৮ বছর বয়সী অন্তত পাঁচজন নারীর সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িত ছিলেন।   দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পুলিশ সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে এবং মঙ্গলবার (৫ মে) তাকে কুয়ালালামপুর আদালতে হাজির করা হয়।   আদালতে তার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় শ্লীলতাহানির পাঁচটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, বেত্রাঘাত অথবা এসবের সমন্বিত শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।   এ বিষয়ে বুধবার পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

আক্তারুজ্জামান মে ০৬, ২০২৬ 0

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের ভেতরে আবার হামলা করতে চায় ইসরায়েল

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে আগ্রহী ইসরায়েল। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (আইপিবিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বা সম্ভাব্য সমঝোতা কেবল সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছু নয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের ভেতরে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হামলার জন্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও প্রস্তুত করেছেন বলে জানা গেছে। তালিকায় ইরানের অপরিশোধিত তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আইপিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক বার্তায় ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে, তারা যেকোনো উপায়ে ইরানের ওপর আবারও আক্রমণ শুরু করার সুযোগ খুঁজছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আমিরাতের উপকূল নিয়ে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দাবি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল এক অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে বর্ধিত সমুদ্রসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   এতে বলা হয়েছে, নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্রের আওতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ইরান। মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে চিহ্নিত এই নতুন এলাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের দীর্ঘ অংশজুড়ে বিস্তৃত।   ইরানের দাবি করা ওই বর্ধিত অঞ্চলের মধ্যে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা ও খোরফাক্কান বন্দরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ওই দুটি বন্দর বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই আমিরাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই বন্দর দুটি ব্যবহার করে আসছে দেশটি।   বিশেষ করে ফুজাইরা বন্দর আমিরাতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির এই বন্দর আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খনি থেকে সরাসরি বন্দরে অপরিশোধিত তেল আনা হয়। এর ফলে যুদ্ধের সময়ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল আমিরাত।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই দুটি বন্দরে প্রবেশের পথ সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তা কার্যত এই আরব দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধের শামিল হবে।   সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।   সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই পারাপার ঠিক কখন হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি।   অন্যদিকে, ইরান কোনও জাহাজ পারাপারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান মায়েরস্ক বলেছে, সোমবার মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পাহারায় পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে।   সূত্র: রয়টার্স।

ছবি : সংগৃহীত
চুক্তি হলে যুদ্ধ ও অবরোধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি হলে ইরানে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের অবসান হতে পারে।   তবে তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে এও বলেছেন যে, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে বোমা হামলা আরও তীব্র হবে। বুধবার ট্রাম্প তার নিজ সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একথা বলেন।   তিনি বলেন, যা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, ইরান তা দিলে অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়ে যাবে।   ট্রাম্প আরও বলেন, শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে যে মার্কিন অবরোধ চলছে, সেটি তখন তুলে নেওয়া হবে এবং ইরানসহ সবার জন্যই হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে।   তবে পরক্ষণেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও বোমা হামলা শুরু হবে এবং ‘দুঃখজনকভাবে সেটি আরও বেশি মাত্রার হবে এবং তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য

অবৈধভাবে মানবপাচারের দায়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড’ এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এই প্রথম যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে কোনো বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। যুক্তরাজ্যের ‘বৈশ্বিক অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার নিষেধাজ্ঞা বিধিমালা ২০২৫’ এর অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দিয়ে তাদের ভয়াবহ শোষণের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস’ রাশিয়ার সেবা খাতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিতেন। কিন্তু সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকেরা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর চিত্র বদলে যায়। তাদের জোরপূর্বক ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসী যুদ্ধের সম্মুখ সমরে লড়াই করতে বাধ্য করা হতো। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা যাবতীয় সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের মাধ্যমে যারা মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে অভিবাসীদের যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহারের যে অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠছিল, এই নিষেধাজ্ঞা সেই সত্যতাকেই আরও জোরালো করলো।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৭, ২০২৬ 0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।   হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কীভাবে এই ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হবে—এ বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। শুধু দুইবার জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এটি পাবই।”   এর আগে ওভাল অফিসে ট্রাম্প জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান-এর সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি বা বড় ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।   ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এখন চুক্তিতে না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা বাধ্য হয়েই রাজি হবে। তার ভাষায়, “এটাই বাস্তবতা।”   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং তাদের মজুদকৃত পারমাণবিক জ্বালানি সরিয়ে নেওয়া। বিষয়টি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ছবি : সংগৃহীত
সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার আর নেই
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৬, ২০২৬ 0

সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা ‘মার্কিন মিডিয়া মুঘল’ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টেড টার্নার মারা গেছেন।   তার প্রতিষ্ঠিত টার্নার এন্টারপ্রাইজেসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার পরিবারের সান্নিধ্যে ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ ৮৭ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন।   সিএনএন চ্যানেল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনিই প্রথম আধুনিক ২৪ ঘণ্টার সংবাদ পরিবেশন সংস্কৃতির পথ দেখান।   যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জন্ম নেওয়া টেড টার্নার ‘দ্য মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। গণমাধ্যম ব্যবসায়ী টার্নার এমন এক গণমাধ্যম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিশ্বের প্রথম ক্যাবল প্রথম সুপারস্টেশন, চলচ্চিত্র ও কার্টুনের জনপ্রিয় চ্যানেল এবং ‘আটলান্টা ব্রেভসের’ মত পেশাদার ক্রীড়া দল।   তার মৃত্যুতে সিএনএনের সিইও ও চেয়ারম্যান মার্ক থম্পসন এক বিবৃতিতে বলেন, “টেড টার্নার ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতা। তিনি ছিলেন নির্ভীক, অকুতোভয় এবং সবসময় নিজের অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভরসা রেখে ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকতেন।   তিনি ছিলেন সিএনএনের প্রাণপুরুষ এবং সবসময় তাই থাকবেন। তিনি সেই মহান ব্যক্তিত্ব যার কাঁধে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আজ সবাই তার জীবন এবং এই বিশ্ব ও আমাদের জীবনে তার প্রভাবকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।   বিবিসি লিখেছে, প্রতিষ্ঠার শুরুতে সিএনএন বেশ লড়াই করলেও ১৯৮১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানকে হত্যার চেষ্টা এবং ১৯৮৬ সালে চ্যালেঞ্জার স্পেস শাটল বিপর্যয়ের মত ঘটনাগুলো টেড টার্নারের নেতৃত্বে দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি নিজেদের প্রমাণ করে।   ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় বিরতিহীন খবরের মাধ্যমে সিএনএন প্রকৃত অর্থে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।   টার্নারের ব্যবসায়িক জগৎ কেবল সিএনএন এ সীমাবদ্ধ ছিল না। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ২৪ বছর বয়সে পারিবারিক ‘বিলবোর্ড’ কোম্পানির দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর তিনি জর্জিয়ার আটলান্টায় একটি রেডিও স্টেশন কেনেন।   এক দশকের মধ্যে সেই রেডিও স্টেশনটিই ‘টার্নার ব্রডকাস্টিং সিস্টেম-টিবিএস’ এর ভিত্তি হয়ে ওঠে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মিডিয়া মুঘলে পরিণত হন।   ১৯৯১ সালে তিনি টাইম ম্যাগাজিনের ‘বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব’ নির্বাচিত হন।

ছবি : সংগৃহীত
চুক্তি হলে যুদ্ধ ও অবরোধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৬, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি হলে ইরানে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের অবসান হতে পারে।   তবে তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে এও বলেছেন যে, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে বোমা হামলা আরও তীব্র হবে। বুধবার ট্রাম্প তার নিজ সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একথা বলেন।   তিনি বলেন, যা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, ইরান তা দিলে অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়ে যাবে।   ট্রাম্প আরও বলেন, শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে যে মার্কিন অবরোধ চলছে, সেটি তখন তুলে নেওয়া হবে এবং ইরানসহ সবার জন্যই হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে।   তবে পরক্ষণেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও বোমা হামলা শুরু হবে এবং ‘দুঃখজনকভাবে সেটি আরও বেশি মাত্রার হবে এবং তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ জয়ে বিজেপিকে বিএনপির অভিনন্দন
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৬, ২০২৬ 0

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।   ভারতের সংবাদ সংস্থা— এএনআইয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিনন্দন জানান বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।   সাক্ষাৎকারে তিনি বিজেপি সরকারকে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছেন।   বিএনপি নেতা হেলাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গে জয় পাওয়া সুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে আমি অভিনন্দন জানাই।   আমি মনে করি, এই বিজয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আগের মতো সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করবে।   ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানি সম্পদমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়েছিল।   মনমোহন সিংয়ের সফরেই বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আটকে যায়।   নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনা গেলেও মমতার মত বদলায়নি।   এখন মমতার বিদায়ে চুক্তিটি আলোর মুখ দেখবে কিনা, সেই জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।   অনেকের মতো আজিজুর বারী হেলালও মনে করেন, মমতা ব্যানার্জি তিস্তা চুক্তির ‘বাধা’ ছিলেন।   তিনি বলেন, আগে আমরা দেখেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা ব্যারাজ বাস্তবায়নে বাধা ছিলেন। আমার ধারণা, এখন বাংলাদেশ সরকার ও মোদি সরকার, যেটা তারা দীর্ঘদিন ধরে করতে চাইছিল, সেই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে বিজেপি সহায়তা করবে।   তৃণমূল কংগ্রেসের জায়গায় বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এখন তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে আমি মনে করি।   বাংলাদেশের লাগোয়া রাজ্যটিতে টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে ধসিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৬টি আসন জিতে নিয়ে প্রথমবারের মত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি; আর মাত্র ৮১টি আসনে জিতে ভরাডুবির মুখে পড়তে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সংগ্রেসকে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি