বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে আর মাস তিনেকের একটু বেশি সময় বাকি। এমন সময় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে শঙ্কা দানা বাঁধতে শুরু করেছে, ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন তো পর্তুগিজ তারকা? এই শঙ্কার মূল কারণ তার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। মার্চের প্রথম দিনে সৌদি প্রো লিগে আল ফাইহার বিপক্ষে চোট পান রোনালদো। পরে তার ক্লাব আল নাস্র পরীক্ষায় রোনালদোর চোট ধরা পড়ার কথা জানায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং প্রতিদিন তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কিন্তু তার চোট কতটা গুরুতর কিংবা মাঠে ফিরতে কতদিন লাগতে পারে, এসব কিছুই জানানো হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। তাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে আল নাস্র কোচ জোর্জে জেসুসের মন্তব্যে। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার পর দেখা গেছে পর্তুগিজ তারকার চোট ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর। চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত থেরাপিস্টের সঙ্গে সে স্পেনে যাবে, যেমনটা অনেক খেলোয়াড়ই করে থাকে। আমরা আশা করি, সে শিগগিরই মাঠে ফিরবে এবং দলকে সাহায্য করতে পারবে। আগামী ১১ জুন শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ, ৪২ বছর বয়সী রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এটাই তার শেষ লক্ষ্য হতে পারে। কিন্তু এই চোট থেকে সুস্থ হওয়ার পর, ফিটনেস ফিরে পেতে কতটা সময় লাগতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কতটা সময় লাগতে পারে, এটা আসলে নির্ভর করে চোটের ধরনের ওপর। গ্রেড-ওয়ানের হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে উঠতে একজন খেলোয়াড়ের লাগে তিন সপ্তাহের মতো। আবার গ্রেড-টু হলে সেরে উঠতে সময় লাগে এক থেকে দুই মাসের মতো। তবে সবচেয়ে খারাপ হতে পারে চোট যদি গ্রেড-থ্রি হয়, এক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের সেরে উঠতে সময় লাগে ছয় মাসের মতো। রোনালদোকে ঘিরে এই শঙ্কা তার ক্লাবের জন্যও বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সাত মৌসুমের মধ্যে প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের আশায় আছে তারা। ২৪ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে দলটি এবং তাদের এই যাত্রায় দলের সর্বোচ্চ ২১ গোল করেছেন রোনালদো। তাই পেশাদার ক্যারিয়ারে রেকর্ড ৯৬৫ গোলের মালিককে খুব শিগগির ফিরে পাওয়াটা খুব দরকার আল নাস্রের জন্য।
লা লিগায় টানা দুই হারের হতাশা পেছনে ফেলার লক্ষ্যে নেমে শুরুতে এগিয়ে গেল রেয়াল মাদ্রিদ। সেল্তা ভিগো জবাব দিতে বেশি সময় নিল না। বিবর্ণ ফুটবলে পয়েন্ট হারানোর দুয়ারে যখন আলভারো আরবেলোয়ার দল, তখনই নাটকীয়তা। শেষ মুহূর্তে ভাগ্যের ছোঁয়ায় গোল পেল মাদ্রিদের দলটি। প্রতিপক্ষের মাঠে শুক্রবার রাতের লিগ ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ। অহেলিয়া চুয়ামেনি রেয়ালকে এগিয়ে নেওয়ার পর, প্রথমার্ধেই সমতা টানেন বোর্হা ইগলেসিয়াস। ৯০ মিনিট পেরিয়ে পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফেদে ভালভের্দের গোল গড়ে দেয় ব্যবধান। তার শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। গোটা ম্যাচে গোল দুটি ছাড়া রেয়াল লক্ষ্যে শট রাখতে পারে আর কেবল একটি, যেটি গোলরক্ষককে ভাবাতেই পারেনি। তুলনামূলক ভালো খেলে মূল্যবান একটি পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগিয়েও, হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সেল্তা ভিগোকে। এই জয়ের পর ২৭ ম্যাচে ২০ জয় ও তিন ড্রয়ে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে রেয়াল। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। চোটের কারণে রেয়ালের একগাদা ফুটবলার মাঠের বাইরে। গত রাউন্ডে গেতাফের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারা ম্যাচ থেকে তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ আরবেলোয়া। ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি পায় সেল্তা। তাদের ফরোয়ার্ড ইগলেসিয়াসের নিচু শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। দশম মিনিটে গোল পেতে পারতেন ভিনিসিউস জুনিয়র। দুই পাশে সঙ্গে লেগে থাকা প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে ছিটকে ফেলে বক্সে ঢুকে শট নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, কিন্তু বল লাগে পোস্টে। গোলের জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি রেয়ালকে। একাদশ মিনিটে ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের ছোট করে নেওয়া কর্নারে বল পেয়ে আর্দা গিলের পাস দেন বক্সে, প্রথম স্পর্শে জোরাল শটে দলকে এগিয়ে নেন চুয়ামেনি। তাদের সেই স্বস্তি উবে যায় ২৫তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধ থেকে সতীর্থের উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডকে কাটিয়ে পাস দেন উইলিয়ট সুইডবার্গ, ছুটে গিয়ে বাঁ পায়ের শটে সমতা টানেন অরক্ষিত ইগলেসিয়াস। প্রথমার্ধে লক্ষ্যে শুধু একটি শটই রাখতে পারে রেয়াল। ৪৫তম মিনিটে আরেকটি গোল খেতে বসেছিল তারা। ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে সুইডবার্গের জোরাল শট ফিরিয়ে দলকে বাঁচান কোর্তোয়া। দ্বিতীয়ার্ধেও সুবিধা করতে পারছিল না রেয়াল। লক্ষ্যে দ্বিতীয় শট রাখতে পারে তারা ৬৭তম মিনিটে। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিউসের সেই প্রচেষ্টা গোলরক্ষককে একটুও পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। ৭০তম মিনিটে রেয়ালের কর্নারে বল বক্সে সেল্তার ফরোয়ার্ড ফেররানের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে রেয়াল। মনিটরে দেখে উল্টো সেল্তাকে ফ্রি-কিক দেন রেফারি। কারণ, আগ মুহূর্তে সেল্তার এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিলেন চুয়ামেনি। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে বেঁচে যায় রেয়াল। মিনিট চারেক আগে বদলি নামা ইয়াগো আসপাসের কাছ থেকে নেওয়া শট পোস্টে লাগে। ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে, তখনই বক্সের বাইরে থেকে ভালভের্দের শটে বল প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে অনেকটা দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের। ২৭ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে সেল্তা ভিগো।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেখানকার আকাশপথে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। এর আগে, ৩-৫ মার্চ পর্যন্ত রুটগুলোতে ফ্লাইট বন্ধ ছিল। ৮ মার্চ পর্যন্ত তা বর্ধিত করা হয়েছে। বাতিল হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েত। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যাত্রীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী শিডিউল বা সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচি তছনছ হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের হামলার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও ১৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১১টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা দুটি আগমনী (অ্যারাইভাল) ও একটি বহির্গামী (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া এয়ার আরাবিয়ার তিনটি আগমনী ও তিনটি বহির্গামী ফ্লাইট এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের তিনটি আগমনী ও দুটি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তবে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মাসকাট থেকে সালামএয়ারের অভি-৪০১ ও অভি-৪০৩ ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে। একই উড়োজাহাজ অভি-৪০২ ও অভি-৪০৪ ফ্লাইট হিসেবে যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে মাসকাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৩৬ ফ্লাইট জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামে এসেছে এবং বিজি-১৩৫ ফ্লাইট চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-৩২২ ফ্লাইট মাসকাট থেকে চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে এবং বিএস-৩২১ ফ্লাইট মাসকাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ পর্যন্ত ৬৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের অনেক যাত্রী যথাসময়ে প্রবাসে যেতে পারছেন না। একইভাবে আতঙ্কে থাকা অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেখানকার আকাশপথে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। এর আগে, ৩-৫ মার্চ পর্যন্ত রুটগুলোতে ফ্লাইট বন্ধ ছিল। ৮ মার্চ পর্যন্ত তা বর্ধিত করা হয়েছে। বাতিল হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েত। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যাত্রীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী শিডিউল বা সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচি তছনছ হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজের জন্য একটি র্যাঙ্কিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব বলেন। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজের জন্য একটি র্যাঙ্কিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, পরিচালনা ব্যবস্থা, শিক্ষার পরিবেশ এবং ফলাফলের ভিত্তিতে সূচক নির্ধারণ করা হবে। এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ভিত্তি রচিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের জন্য ৫০ শতাংশ বেতন চালু করেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অডিট ব্যবস্থার সূচনা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার একটি শক্ত ভিত তৈরি হয়। তারই সুযোগ্য সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের শিক্ষাখাত বাস্তবমুখীভাবে আরও সামনে এগিয়ে যাবে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং নানা ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি দপ্তরসমূহকে মিতব্যয়ী ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে হবে। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অফিসিয়াল কার্যক্রমে গাড়ি শেয়ারিং, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম এবং এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারিত মাত্রায় রাখার মতো নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে এই অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্বগুলোর একটি হলো তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তিনি কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। সভায় তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। অতীতে তারা কি কাজ করেছেন, বর্তমানে কি করছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তাদের মতামত লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়। সভা শেষে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে অধিদপ্তর পরিদর্শন করবেন বলেও জানান। সভায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলে বড় ধরনের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ট্রাক পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহনকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি তেল দেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে সরকার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব পেট্রোল পাম্পকে গত বছরের (২০২৫) তেল বিক্রির হিসাব থেকে ২০ শতাংশ কম তেল দেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি। তবে সরকার আপাতত তেলের দাম বাড়াবে না বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেল একদিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার অকটেন বা পেট্রোল, কার ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, এসইউভি, জিপ মাইক্রোবাস প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, পিকআপ ও লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কনটেইনার লরি ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। তেলের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় সব পাম্পে গাড়ির দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। তবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন করে ভোক্তাদের অভয় দিয়েছেন এবং বলেছেন, সবাই অল্প অল্প করে তেল নিন। সবাই গাড়ির ট্যাঙ্কি ভর্তি করে তেল নিলে তেলের সমস্যা হতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আগের মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ভিড়ের কারণে অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে তেলের জন্য গাড়ির লাইন দেখা গেছে। চাহিদামতো তেল কিনতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা। গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে বাংলাদেশে তেল নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। ২ থেকে ৪ মার্চ পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল বিতরণে সরকারি কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপোগুলো থেকে দ্বিগুণের বেশি তেল ক্রয় করেছে। একপর্যায়ে ডিজেলের মজুত ৯ দিনের নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে দেশে ডিজেল আছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৪০ টনের মতো। এ অবস্থায় শুক্র ও শনিবার ডিপোগুলো থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্রয় রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। ডিলাররা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিক্রি করবে। প্রতিটি ডিলার বা পাম্পের ২০২৫ সালের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের তেল বিক্রির গড় হিসাব থেকে ২০ শতাংশ কম তেল দেওয়া হবে। বিপিসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে সরবরাহ করা হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেল আমদানি মাঝেমধ্যে বিলম্বিত হচ্ছে। তেলের চাহিদার অতিরিক্ত হওয়ার কারণে কিছু পাম্পে অননুমোদিতভাবে মজুত করার অভিযোগ এসেছে। সরকার তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পার্সেল নিয়মিতভাবে আনা হচ্ছে। সকাল থেকে সব পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক এলাকায় বাগবিতণ্ডা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করেছে। রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাম্পে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। চালকরা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন এবং সবাইকে অল্প অল্প করে তেল নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, দ্বিতীয় রিফাইনারি দ্রুত চালু করা হলে তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে। ডিজেলের মজুত কম। আগামী ৯ মার্চ পরিশোধিত ডিজেলের দুটি পার্সেল দেশে আসবে। ১১ মার্চ আরও দুটি আসতে পারে। তবে কোনো পার্সেল বাতিল হয়নি।
ইরানের হামলার পর এবার নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা জানাল সৌদি আরব। সৌদি আরবের মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পরও দেশের আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে এবং তাদের একাধিক রপ্তানি পথ রয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগর অন্যতম। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে সাম্প্রতিক উন্নয়ন উল্লেখ করলেও সরাসরি সংঘাতের কথা বলেননি। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবজুড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। আমরা অর্থনৈতিক ও আর্থিক সূচকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করছে যে, আমাদের আর্থিক অবস্থান ও মধ্যমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের আর্থিক অবস্থান দৃঢ়। তেল দামের ক্ষেত্রে, গত শুক্রবারের পর থেকে দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোকার্বন রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে কমে গেছে এবং উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। সূত্র : আল জাজিরা
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি সুখোই–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। এতে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। নিহত দুই কর্মকর্তা হলেন— স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকর। দেশটির বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি একটি প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল। আসামের জোরহাট বিমানবাহিনী স্টেশন থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই এটি নিখোঁজ হয়ে যায়। কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরে উড্ডয়নস্থল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে রাজ্যের কারবি আংলং জেলায় বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যুকে ‘মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া বার্তায় তিনি বলেন, ‘তাদের সাহস এবং দেশের প্রতি সেবা জাতি সবসময় গর্ব ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। এই শোকের মুহূর্তে পুরো জাতি নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে।' এর আগে, ২০২৪ সালের জুন মাসে মহারাষ্ট্রের নাসিকে একটি সুখোই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। তার আগের বছরের জানুয়ারিতে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর একটি সুখোই-৩০ জেট বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, সুখোই-৩০ এমকেআই মূলত রাশিয়ার নকশা করা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দুই আসনের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) লাইসেন্সের অধীনে এই বিমান তৈরি করছে। বর্তমানে দেশটির বিমানবাহিনীতে ২৬০টিরও বেশি এ ধরনের যুদ্ধবিমান রয়েছে।
ইরানের হামলার পর এবার নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা জানাল সৌদি আরব। সৌদি আরবের মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পরও দেশের আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে এবং তাদের একাধিক রপ্তানি পথ রয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগর অন্যতম। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে সাম্প্রতিক উন্নয়ন উল্লেখ করলেও সরাসরি সংঘাতের কথা বলেননি। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবজুড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। আমরা অর্থনৈতিক ও আর্থিক সূচকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করছে যে, আমাদের আর্থিক অবস্থান ও মধ্যমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের আর্থিক অবস্থান দৃঢ়। তেল দামের ক্ষেত্রে, গত শুক্রবারের পর থেকে দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোকার্বন রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে কমে গেছে এবং উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। সূত্র : আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর নতুন সম্ভাব্য ইরানি নেতাদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠনে সাহায্য করবে। এদিকে, লেবানন সীমান্তে সামরিক কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে ইসরায়েলের কয়েকজন সেনা আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ইসরায়েলের বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজলাল স্মর্টিচের ছেলেও আছেন। ইরানের রাজধানী তেহরান ও অন্যতম শহর ইসফাহানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এছাড়াও ইরানের পাশাপাশি স্থল অভিযানও শুরু করেছে ইসরায়েল। যুদ্ধের সপ্তম দিনে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র 'বি-২' বিমান থেকে বোমা হামলা করার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, শুক্রবার (৬ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের 'বি-২ স্টেলথ' বোমারু বিমানগুলো ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোর ওপর ডজনখানেক ২ হাজার পাউন্ডের পেনিট্রেটর বোমা নিক্ষেপ করেছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার দাঁত ভাঙা জবাব দিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে হামলা চালানোর পর ইরান জানিয়েছে, নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত, এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানে হামলায় মোট নিহত হয়েছেন ১৩শ' ২০ জন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রেডক্রিসেন্ট। এছাড়াও ২ হাজারের বেশি আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের ৬২৫ এর বেশি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ১১টি হাসপাতাল, ৮টি জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ১২টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: বিবিসি নিউজ, সিএনএন নিউজ, ইরান ইন্টারন্যাশনাল, আল জাজিরা।
ইরানে সামরিক অভিযানের মেয়াদ নিয়ে শুরুর দিকে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা থেকে সরে এসেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যত সময় লাগুগ— ইরানে তিনি তার লক্ষ্য পূরণ করতে চান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। তার পরের দিন ১ মার্চ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে ইরানে সামরিক অভিযান শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি এই বক্তব্য দেওয়ার পরের দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ বলেন, যুদ্ধ ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম-কে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার কোনো নির্ধারিত সময়সীমা নেই। ইরানে আমি শুধু আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে চাই। আমাদের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় লক্ষ্য হলো— ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। চতুর্থ লক্ষ্য হলো— তাদের কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও থাকতে পারবে না।” ইরানে সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে কোনো হামলা হতে পারে কি-না এবং এ ব্যাপারে সাধারণ মার্কিনীদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় (উদ্বিগ্ন হওয়া) উচিত। তবে আমি এও মনে করি যে মার্কিনিরা সবসময়েই এই উদ্বেগের মধ্যে থাকে।” এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “এটা খুবই দুঃখজনক; কিন্তু যুদ্ধে কিছু মানুষ নিহত হবে। আপনি যখন যুদ্ধে যাবেন, কিছু মানুষ নিহত হবেই।” সূত্র : সিএনএন
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিপদে পড়েছে ইরান। একাই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়ছে তারা। আর এই যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যায়। যুদ্ধের খবর শুনে তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় চুপ করে ছিল। তবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে তারা নতুন প্রতিক্রিয়া দেখাল। ইরানিয়ান নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা সোমবার ৩-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় চুপ ছিল। এর ব্যাখ্যা তারা দেয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, এটি ছিল প্রতিরোধের পদক্ষেপ কিংবা শোক প্রদর্শন। দুই দিন পর ভিন্ন রূপ দেখালেন নারী ফুটবলাররা। তারা জাতীয় সংগীত গাইলেন সমস্বরে এবং ‘মিলিটারি স্যালুট’ দিলেন। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচের আগে সংগীত পরিবেশনের সময় দর্শকদের অংশ থেকে দুয়ো আসতে থাকে। কেউ কেউ আবার ১৯৭৯ সালের আগের পতাকা নিয়ে বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতিবাদ জানান। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে স্লোগান দিয়ে ব্যানার ধরে ছিলেন। দুই ম্যাচের মধ্যে নিজেদের অবস্থান বদলানোর কারণ পরিষ্কার নয়। তবে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে ইরান স্ট্রাইকার সারা দিদার সংবাদ সম্মেলনে দেশে থাকা পরিবার ও বন্ধুদের জীবনের ঝুঁকির কথা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে খেলোয়াড় ও স্টাফরা দেশের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তবে ইরানিয়ান অস্ট্রেলিয়ানদের সমর্থনে আবেগে আপ্লুত কোচ মারজিয়া জাফারি। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াকে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব খুশি যে এখানে ইরানিয়ান অস্ট্রেলিয়ানরা আমাদের সমর্থন দিয়েছে। অবশ্যই আমরা আমাদের পরিবার ও ভালোবাসার মানুষদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। এখানে আমরা এসেছি পেশাদারভাবে ফুটবল খেলতে। সামনের ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ দুই ম্যাচই হেরে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ইরান। রোববার ফিলিপাইনসের বিপক্ষে বড় জয়েই পারে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে। ইতোমধ্যে এই গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া শেষ আটে উঠেছে। গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দলের সঙ্গে সেরা দুটি তৃতীয় দল যাবে পরের ধাপে। আর এশিয়ান কাপ থেকেই ব্রাজিলে পরবর্তী বিশ্বকাপের জায়গা মিলবে, সেদিকেই মনোযোগ জাফারির দলের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।