দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার লেবাননের চিকিৎসা ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। টাইর জেলার দেইর কানুন আল-নাহর শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও হতাহতদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র। এছাড়া কফারসির শহরের আল-মাহফারা এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হন। হামলায় ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। নাবাতিয়েহ জেলার হারুফ শহরে পৌর ভবনের কাছে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে বিনত জবেইল জেলার ফ্রুন শহরে মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এদিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কফাররিমান, কাফরা, কফারদৌনিন, আল-শাহাবিয়া, আল-রাইহান, জাওতার আল-শারকিয়া, আল-কুসাইবা, দেইব্বিন, মারাকা, আল-বাজুরিয়া, আল-মাজাদেল, আল-হাউশ-টাইর এলাকা, দেইর কানুন আল-নাহর এবং নাবাতিয়েহ শহরেও হামলা চালায়। অন্যদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ধারাবাহিক হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা দোভিভ বসতিতে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের ওপর আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া মিসগাভ আম এলাকায় একটি সামরিক যানও ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মিসগাভ আমের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, তারা তাইবেহ শহরের একটি ইসরায়েলি সামরিক যোগাযোগযান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং রেশাফ এলাকায় সেনা ও সামরিক যানবাহিনীর সমাবেশে রকেট নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনটি উত্তর ইসরায়েলের আরব আল-আরামশে গ্রামের পশ্চিমে এবং রাস আল-নাকৌরা নৌঘাঁটিতেও আত্মঘাতী ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে হামলার কথা জানিয়েছে। এছাড়া জাল আল-আলাম এলাকায় একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম ধ্বংসেরও দাবি করেছে তারা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪২ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৯ হাজার ৩০১ জন। অন্যদিকে ইসরায়েলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ পুনরায় শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৪৩ জন ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১২২ জন মাঝারি ধরনের আহত। সূত্র : শাফাক নিউজ
সাংবাদিকতার আড়ালে সামরিক ও স্পর্শকাতর স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করে ‘শত্রুপক্ষের’ কাছে সরবরাহের অভিযোগে রাজধানী তেহরান থেকে দুজনকে আটক করেছে ইরানের পুলিশ। খবর শাফাক নিউজের। মঙ্গলবার তেহরান গ্রেটার পুলিশ ইনফরমেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে শহরের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মিডিয়া কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা সম্পর্কিত গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিদেশভিত্তিক নেটওয়ার্কে পাঠাতেন। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইরানের ভেতর ও বাইরে পরিচালিত একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে তাদের পরিচয়, সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থা বা কোন গণমাধ্যমের আড়ালে তারা কাজ করছিলেন, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেশের বাইরে পরিচালিত একটি অপারেশন রুমের সঙ্গে এনক্রিপটেড যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। অভিযানের সময় একটি স্টারলিংক রিসিভারও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ১৪ মার্চ ইরানজুড়ে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২৭ জনকে আটক করা হয়। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, আটক ১৩ জনের কাছ থেকে তিনটি স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধার করা হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুয়েত। দেশটির মন্ত্রিসভা এ ঘটনাকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। খবর শাফাক নিউজের। মঙ্গলবার কুয়েত সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যেগুলো বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। আবুধাবির দাবি, ১৭ মে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোর তদন্তে দেখা গেছে, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া হয়েছিল। তবে ইরাক সরকার এ হামলার নিন্দা জানিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরাকভিত্তিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির ভেতর ও বাইরে বিভিন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, আবার যুদ্ধ শুরু হলে সেখানে অনেক চমক অপেক্ষা করছে। বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিলিয়ন ডলার মূল্যের বহু যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে। আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীই প্রথমবারের মতো বহুল আলোচিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, যুদ্ধ থেকে আমরা যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করেছি, তাতে ভবিষ্যতে যুদ্ধ ফিরে এলে আরও অনেক বিস্ময় দেখা যাবে। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্র : শাফাক নিউজ
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত ৪ হাজার ৭৮৫টি অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ১৬ হাজার ৬৮১ জন অভিবাসীকে আটক করেছে। ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এ সময়ে জেআইএম আরও কঠোর ও আগ্রাসীভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে মোট ৬৯ হাজার ৪০৬ জনকে তল্লাশি ও যাচাই করা হয়। তিনি বলেন, এই তথ্য প্রমাণ করে যে, নিয়ম লঙ্ঘন, অপব্যবহার কিংবা ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের বিষয়ে জেআইএম কোনো ধরনের আপস করে না। মঙ্গলবার (১৯ মে) পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত জেআইএমের ২০২৫ সালের অ্যানুগেরাহ পারখিদমাতান চেমারলাং (এপিসি) পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, বর্তমানে ২০ হাজার ৫৭৫ জন আটক ব্যক্তি স্থায়ী ইমিগ্রেশন ডিপোতে এবং আরও ১ হাজার ৪৭০ জন অস্থায়ী ডিপোতে রাখা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র যাচাই ও আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ১৪ মে পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৭০০ জন বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেরত পাঠানো হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ৭ হাজার ৯৩৬ জন নাগরিককে। এরপর রয়েছে মিয়ানমারের ৪ হাজার ৫ জন, বাংলাদেশের ২ হাজার ৪৫৩ জন, ফিলিপাইনের ১ হাজার ৮২৫ জন এবং থাইল্যান্ডের ১ হাজার ৮ জন নাগরিক। প্রবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি ‘প্রোগ্রাম রিপাট্রিয়াসি মাইগ্রান ২.০ (পিআরএম ২.০)’ প্রসঙ্গে জাকারিয়া বলেন, কর্মসূচিটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এতে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী নিবন্ধন করেছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেছে এবং সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জরিমানাও আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে চলতি বছরের ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ১১২টি দেশের মোট ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪৩ জন অবৈধ অভিবাসী নিবন্ধন করেছেন। এ থেকে সরকার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৪০ রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করেছে। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন ইন্দোনেশিয়ার ১ লাখ ১১ হাজার ৬৬০ জন নাগরিক। এরপর রয়েছে বাংলাদেশের ৪৯ হাজার ৪৮১ জন এবং মিয়ানমারের ৩৩ হাজার ৮৫৮ জন নাগরিক। এদিকে, জেআইএমের ২০২৫ সালের এপিসি পুরস্কারের জন্য সারাদেশ থেকে ১ হাজার ২১২ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচিত করা হয়েছে। গত বছরে দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। জাকারিয়া বলেন, যেসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে উৎকর্ষ দেখিয়েছেন, তাদের উৎসাহিত করতেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, এটি তাদের আরও উন্নত ও বিশ্বমানের সেবা দিতে অনুপ্রাণিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনা সেখানকার কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তারা বলছেন, সান ডিয়েগোর বাসিন্দারা এর আগে কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েনি। সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলা হয়। এতে এক নিরাপত্তা রক্ষীসহ নিহত হন তিনজন। পরে লাশ পাওয়া যায় সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর। তারা দুজনই কিশোর। পুলিশের ধারণা, নিজেদের গুলিতেই ওই দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সান ডিয়েগোতে কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। তবে হতাহতের তালিকায় কোনো বাংলাদেশি থাকার খবর পাওয়া যায়নি। মসজিদের পাশের এলাকায় থাকেন বাংলাদেশি লেখক মোহাম্মদ আলম পান্না। তিনি টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়োন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিনিধিকে বলেন, “ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কারণ, হামলার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত আল রশিদ স্কুলে পাঠদান চলছিল। ইংরেজি ও আরবি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরাও ছিল। তবে হতাহতের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই। পান্না বলেন, সান ডিয়েগোর এই মসজিদ ঘিরে আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমান পেশাজীবী রয়েছেন। কারণ এই মসজিদে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি আরবি শেখানোর অনুমতিও মিলেছে স্থানীয় শিক্ষা দপ্তর থেকে। তবে এমন দুঃখজনক ঘটনার অবতারণা কখনো হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় পুলিশ বলেছে, দুই সন্দেহভাজনের মধ্যে একজনের মা ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক আগে পুলিশকে ফোন করেছিলেন। ওই মা জানিয়েছিলেন, তার ছেলে বাড়ি থেকে তিনটি বন্দুক নিয়ে দৌঁড়ে বের হওয়ার পর গাড়ি নিয়ে চলে গেছে। তার ছেলেটি আত্মহত্যাপ্রবণ বলে উল্লেখ করেছিলেন ওই মা। সান ডিয়াগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ওই মা জানিয়েছিলেন, তার ছেলের সঙ্গে একজন সঙ্গী আছে এবং তারা উভয়েই ছদ্মবেশী পোশাক পরে ছিল। এসব খবর পেয়ে পুলিশ এই কিশোরদের খুঁজতে শুরু করে আর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে ও ওই ছেলেদের হাইস্কুলে টহল দল পাঠায়। এর পরই মসজিদ থেকে গুলির খবর আসে। সেখানে গিয়ে পুলিশ তিনটি মৃতদেহ খুঁজে পায়। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহত নিরাপত্তারক্ষী সম্ভবত আরও রক্তপাত থামাতে ভূমিকা রেখেছেন। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ দুই কিশোরের মৃতদেহ খুঁজে পায়। তাদের একজনের বয়স ১৭ ও অপরজনের ১৮। এক রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা গাড়িতে তাদের মৃতদেহগুলো ছিল। নিজেদের গুলিতে জখম হওয়ার পর তারা মারা গেছেন বলে ধারণা পুলিশের। বাড়ি থেকে অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর ওই ছেলেটির মা একটি লেখা খুঁজে পেয়েছিলেন, ওয়াল এমনটি জানালেও ওই নোটে কী লেখা ছিল তা প্রকাশ করতে রাজি হননি। ঈদুল-আযহার কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই হামলার ঘটনাটি ঘটল। ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ও ইমাম তাহা হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, এর আগে এ ধরনের শোচনীয় ঘটনার কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের হয়নি। একটি প্রার্থনার স্থানকে লক্ষ্যস্থল করা অত্যন্ত ভয়ানক কাজ।
সাংবাদিকতার আড়ালে সামরিক ও স্পর্শকাতর স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করে ‘শত্রুপক্ষের’ কাছে সরবরাহের অভিযোগে রাজধানী তেহরান থেকে দুজনকে আটক করেছে ইরানের পুলিশ। খবর শাফাক নিউজের। মঙ্গলবার তেহরান গ্রেটার পুলিশ ইনফরমেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে শহরের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মিডিয়া কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা সম্পর্কিত গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিদেশভিত্তিক নেটওয়ার্কে পাঠাতেন। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইরানের ভেতর ও বাইরে পরিচালিত একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে তাদের পরিচয়, সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থা বা কোন গণমাধ্যমের আড়ালে তারা কাজ করছিলেন, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেশের বাইরে পরিচালিত একটি অপারেশন রুমের সঙ্গে এনক্রিপটেড যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। অভিযানের সময় একটি স্টারলিংক রিসিভারও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ১৪ মার্চ ইরানজুড়ে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২৭ জনকে আটক করা হয়। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, আটক ১৩ জনের কাছ থেকে তিনটি স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধার করা হয়েছিল।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার লেবাননের চিকিৎসা ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। টাইর জেলার দেইর কানুন আল-নাহর শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও হতাহতদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র। এছাড়া কফারসির শহরের আল-মাহফারা এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হন। হামলায় ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। নাবাতিয়েহ জেলার হারুফ শহরে পৌর ভবনের কাছে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে বিনত জবেইল জেলার ফ্রুন শহরে মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এদিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কফাররিমান, কাফরা, কফারদৌনিন, আল-শাহাবিয়া, আল-রাইহান, জাওতার আল-শারকিয়া, আল-কুসাইবা, দেইব্বিন, মারাকা, আল-বাজুরিয়া, আল-মাজাদেল, আল-হাউশ-টাইর এলাকা, দেইর কানুন আল-নাহর এবং নাবাতিয়েহ শহরেও হামলা চালায়। অন্যদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ধারাবাহিক হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা দোভিভ বসতিতে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের ওপর আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া মিসগাভ আম এলাকায় একটি সামরিক যানও ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মিসগাভ আমের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, তারা তাইবেহ শহরের একটি ইসরায়েলি সামরিক যোগাযোগযান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং রেশাফ এলাকায় সেনা ও সামরিক যানবাহিনীর সমাবেশে রকেট নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনটি উত্তর ইসরায়েলের আরব আল-আরামশে গ্রামের পশ্চিমে এবং রাস আল-নাকৌরা নৌঘাঁটিতেও আত্মঘাতী ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে হামলার কথা জানিয়েছে। এছাড়া জাল আল-আলাম এলাকায় একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম ধ্বংসেরও দাবি করেছে তারা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪২ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৯ হাজার ৩০১ জন। অন্যদিকে ইসরায়েলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ পুনরায় শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৪৩ জন ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১২২ জন মাঝারি ধরনের আহত। সূত্র : শাফাক নিউজ
ইরান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে যুক্ত ১২ ব্যক্তি, ২৯টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৯টি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নেটওয়ার্ক ইরানকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করছিল। নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য ইরানের মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান আমিন এক্সচেঞ্জ, যা ইব্রাহিমি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পার্টনারশিপ কোম্পানি নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে ভুয়া কোম্পানির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ইরানি ব্যাংকের হয়ে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, ইরানের এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলো প্রতিবছর বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করে থাকে, যার মাধ্যমে তেহরান নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায়। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অবৈধ অর্থ স্থানান্তরে ভূমিকা রাখছে। তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এছাড়া ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে কয়েকটি জাহাজকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোজের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাংকার গ্রেট সেইল, পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ওশান ওয়েভ এবং পানামার পতাকাবাহী কেমিক্যাল ও অয়েল ট্যাংকার সুইফট ফ্যালকন। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে স্কট বেসেন্ট জানান, জি-৭ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে আর্থিক চাপ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সংকট ও ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র : শাফাক নিউজ
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার লেবাননের চিকিৎসা ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। টাইর জেলার দেইর কানুন আল-নাহর শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও হতাহতদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র। এছাড়া কফারসির শহরের আল-মাহফারা এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হন। হামলায় ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। নাবাতিয়েহ জেলার হারুফ শহরে পৌর ভবনের কাছে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে বিনত জবেইল জেলার ফ্রুন শহরে মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এদিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কফাররিমান, কাফরা, কফারদৌনিন, আল-শাহাবিয়া, আল-রাইহান, জাওতার আল-শারকিয়া, আল-কুসাইবা, দেইব্বিন, মারাকা, আল-বাজুরিয়া, আল-মাজাদেল, আল-হাউশ-টাইর এলাকা, দেইর কানুন আল-নাহর এবং নাবাতিয়েহ শহরেও হামলা চালায়। অন্যদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ধারাবাহিক হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা দোভিভ বসতিতে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের ওপর আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া মিসগাভ আম এলাকায় একটি সামরিক যানও ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মিসগাভ আমের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, তারা তাইবেহ শহরের একটি ইসরায়েলি সামরিক যোগাযোগযান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং রেশাফ এলাকায় সেনা ও সামরিক যানবাহিনীর সমাবেশে রকেট নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনটি উত্তর ইসরায়েলের আরব আল-আরামশে গ্রামের পশ্চিমে এবং রাস আল-নাকৌরা নৌঘাঁটিতেও আত্মঘাতী ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে হামলার কথা জানিয়েছে। এছাড়া জাল আল-আলাম এলাকায় একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম ধ্বংসেরও দাবি করেছে তারা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪২ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৯ হাজার ৩০১ জন। অন্যদিকে ইসরায়েলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ পুনরায় শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৪৩ জন ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১২২ জন মাঝারি ধরনের আহত। সূত্র : শাফাক নিউজ
সাংবাদিকতার আড়ালে সামরিক ও স্পর্শকাতর স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করে ‘শত্রুপক্ষের’ কাছে সরবরাহের অভিযোগে রাজধানী তেহরান থেকে দুজনকে আটক করেছে ইরানের পুলিশ। খবর শাফাক নিউজের। মঙ্গলবার তেহরান গ্রেটার পুলিশ ইনফরমেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে শহরের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মিডিয়া কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা সম্পর্কিত গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিদেশভিত্তিক নেটওয়ার্কে পাঠাতেন। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইরানের ভেতর ও বাইরে পরিচালিত একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে তাদের পরিচয়, সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থা বা কোন গণমাধ্যমের আড়ালে তারা কাজ করছিলেন, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেশের বাইরে পরিচালিত একটি অপারেশন রুমের সঙ্গে এনক্রিপটেড যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। অভিযানের সময় একটি স্টারলিংক রিসিভারও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ১৪ মার্চ ইরানজুড়ে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২৭ জনকে আটক করা হয়। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, আটক ১৩ জনের কাছ থেকে তিনটি স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধার করা হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুয়েত। দেশটির মন্ত্রিসভা এ ঘটনাকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। খবর শাফাক নিউজের। মঙ্গলবার কুয়েত সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যেগুলো বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। আবুধাবির দাবি, ১৭ মে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোর তদন্তে দেখা গেছে, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া হয়েছিল। তবে ইরাক সরকার এ হামলার নিন্দা জানিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরাকভিত্তিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির ভেতর ও বাইরে বিভিন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, আবার যুদ্ধ শুরু হলে সেখানে অনেক চমক অপেক্ষা করছে। বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিলিয়ন ডলার মূল্যের বহু যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে। আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীই প্রথমবারের মতো বহুল আলোচিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, যুদ্ধ থেকে আমরা যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করেছি, তাতে ভবিষ্যতে যুদ্ধ ফিরে এলে আরও অনেক বিস্ময় দেখা যাবে। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্র : শাফাক নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।