দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা চলেছে ভোটগ্রহণ। এখন চলছে ভোট গণনা পর্ব। এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোট গণনা শেষে আসতে শুরু করেছে ফল। বেসরকারিভাবে বেশ কিছু আসনের ফলাফলও ঘোষণা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পাওয়া গেছে পঞ্চগড়-১ আসনে আসনের ফল। আসনটিতে এনসিপির নেতা সারজিস আলমকে হারিয়ে দিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। ১৫৫ কেন্দ্রের প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ জমির পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯টি ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠন সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ১৮৯টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ১৫১টি আসনে জয় পেয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৩৫টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৫টি আসনে জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে আসনগুলোর বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এরপর থেকে কেন্দ্রগুলোয় ভোটগণনা চলছে। এদিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ভোটাররা নিজেদের মতামত দিয়েছেন। এখন অপেক্ষা ফল প্রকাশের। ২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। এছাড়া নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। আর সবমিলিয়ে এবার ১১৯টি নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা। এবারের নির্বাচনে আলোচিত আসনগুলোর মধ্যে একটি রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। বেসরকারি তথ্যমতে, ঢাকা-৮ আসনে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯২ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলো ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এরমধ্যে, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন আর হিজরা ১ জন। ফল ঘোষণার পর সমর্থকদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণের সমর্থনে এই জয় এসেছে। যেহেতু সরকারি ঘোষণা এখনো আসেনি তাই সবাই সংযত থাকবেন। আগামীকাল সরকারিভাবে ঘোষণা হলে আমরা সবাই বিজয়োল্লাস করব ইনশাআল্লাহ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। ইতোমধ্যে কয়েকটি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিনজন শীর্ষ নেতা পরাজিত হয়েছেন। পরাজিতদের মধ্যে দুজন উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে হেরেছেন, যদিও তাদের বিজয় নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ ছিল। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুযারি) রাতে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আলোচিত পরাজিত প্রার্থীরা হলেন—জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও আইনজীবী শিশির মনির। বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরেছেন প্রায় তিন হাজার ভোটে। হামিদুর রহমান আযাদ পরাজিত হয়েছেন ২৮ হাজার ভোটে এবং শিশির মনিরের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ভোটে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকালে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ভোটাররা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ১৮৯টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ১৫১টি আসনে জয় পেয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৩৫টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৫টি আসনে জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে আসনগুলোর বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এরপর থেকে কেন্দ্রগুলোয় ভোটগণনা চলছে। এদিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ভোটাররা নিজেদের মতামত দিয়েছেন। এখন অপেক্ষা ফল প্রকাশের। ২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। এছাড়া নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। আর সবমিলিয়ে এবার ১১৯টি নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা। এবারের নির্বাচনে আলোচিত আসনগুলোর মধ্যে একটি রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। বেসরকারি তথ্যমতে, ঢাকা-৮ আসনে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯২ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলো ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এরমধ্যে, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন আর হিজরা ১ জন। ফল ঘোষণার পর সমর্থকদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণের সমর্থনে এই জয় এসেছে। যেহেতু সরকারি ঘোষণা এখনো আসেনি তাই সবাই সংযত থাকবেন। আগামীকাল সরকারিভাবে ঘোষণা হলে আমরা সবাই বিজয়োল্লাস করব ইনশাআল্লাহ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তার এই বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে। সংসদীয় আসনের নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ভোলা -১ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালে তিনি এ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সহকারী রিটানিং অফিসারের দপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গরুরগাড়ি প্রতীকে আন্দালিভ রহমান পার্থ পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবায়দুর রহমান পেয়েছেন ১৫ হাজার ৯১ ভোট। সহকারী রিটানিং অফিসারের দফতর ঘোষিত তথ্য থেকে এই ফলাফল পাওয়া যায়। প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই এ আসনের নির্বাচন নিয়ে টান টান উত্তেজনা ছিল। প্রথমবারের মতো নিজেদের বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছিল জামায়াতে ইসলামী। ভোটের মাঠে উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি জামায়াত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। ইতোমধ্যে কয়েকটি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিনজন শীর্ষ নেতা পরাজিত হয়েছেন। পরাজিতদের মধ্যে দুজন উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে হেরেছেন, যদিও তাদের বিজয় নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ ছিল। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুযারি) রাতে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আলোচিত পরাজিত প্রার্থীরা হলেন—জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও আইনজীবী শিশির মনির। বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরেছেন প্রায় তিন হাজার ভোটে। হামিদুর রহমান আযাদ পরাজিত হয়েছেন ২৮ হাজার ভোটে এবং শিশির মনিরের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ভোটে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকালে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ভোটাররা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৭৭ হাজার ৭০৪ ভোটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেসরকারিভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০৩ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৯৯ ভোট। বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ফজলুর রহমান ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই বিজয় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মো. আসাদুজ্জামান তার নিজ ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ-১- শৈলকুপার সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফল শেষে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন মোট ১৭১৫৯৮ ভোট। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মতিউর রহমান পেয়েছেন মোট ৫৫৫৭৭ ভোট। এই ফলাফলে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মোট ১১৬০২১ (এক লাখ ১৬ হাজার ২১) ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-নেপালে অনুষ্ঠিত ও আসন্ন নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বুধবার দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে মার্কিন কংগ্রেসের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা ওই মন্তব্য করেছেন। শুনানিতে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ আজ প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে নেপালে স্বৈরাচারী সরকার উৎখাত হয় এবং দেশটি আগামী মাসে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্য হুইজেঙ্গা বলেন, ‘‘ওই দুটি ঘটনাই দক্ষিণ এশিয়ায় সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে এবং এসব দেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে।’’ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াকে গতিশীল অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এখানকার ক্রমবর্ধমান তরুণ জনগোষ্ঠী চীনের ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ বিকল্পের তুলনায় পশ্চিমা সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। হুইজেঙ্গা বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের বসবাস, গতিশীল অর্থনীতি এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রয়েছে; যা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফলভাবে এমন কিছু চুক্তি করেছেন; যা বাজার উন্মুক্ত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নিয়েছে। ‘‘বর্তমানে আমরা এসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বাড়াবো এবং সেই সংশ্লিষ্টতার ধরন আগামী কয়েক দশক ধরে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণ করবে।’’ চীনের বিষয়ে হুইজেঙ্গা বলেন, বেইজিং নিজের নিরাপত্তা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘‘শোষণমূলক ঋণ’’ দেয় এবং ছোট দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে পড়তে বাধ্য করে। তিনি বলেন, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সীমান্ত জোরদার করেছে চীন। আমাদের উপকূল থেকে অনেক দূরে হলেও, একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত মহাসাগর বজায় রাখা আমাদের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক করিডর, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানির জীবনরেখা প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি। অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে নৌ সহযোগিতা জোরদার করে এসব সমুদ্রপথ সুরক্ষিত করা হলে তা চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং এই অঞ্চলে তাদের ‘‘ক্ষতিকর আচরণ’’ সীমিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হুইজেঙ্গা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো তিনিও ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার গুরুত্ব দেখেন। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখলে ‘‘চীনা চাপ প্রয়োগ’’ প্রতিহত, জলদস্যুতা রোধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হবে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর একটি ভারত। দিয়েগো গার্সিয়ার ঠিক উত্তরে ভারতের অবস্থান। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রিপাবলিকান দলীয় এই কংগ্রেস সদস্য বলেন, মাত্র গত সপ্তাহেই ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যা দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গেও একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হুইজেঙ্গা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের শুল্কহার ১৮ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত এই শুল্কহার ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এ ছাড়া দিল্লি আরও বেশি করে মার্কিন জ্বালানি কেনার বিষয়ে রাজি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি অংশীদারত্বের মাধ্যমে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা যৌথ স্বার্থকে এগিয়ে নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে বিভিন্ন সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বিস্তৃত উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং চীনের সঙ্গে কিছু সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকি বাংলাদেশের সরকারের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চায়। বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিতে পারে, যা চীনা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ভারতপন্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দিল্লিতে চলে যান। এরপর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয় এবং এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে চীন, যা পশ্চিমা কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রকল্প জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন ও বাংলাদেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করে আসছে এবং এই সহযোগিতা পারস্পরিকভাবে লাভজনক। তারা বলেছে, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। হাসিনার দেশত্যাগের পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব ভিসা সেবা ও ক্রীড়া বিনিময়েও পড়েছে। বাণিজ্যিক বিষয়ে তিনি জানান, অনেক মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে তারা চায় নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি ব্যবসাবান্ধব। বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। বর্তমানে জ্বালানি কোম্পানি শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালালেও অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি সীমিত। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বিনিয়োগে বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের কোনো শাখা নেই। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বড় অবদান রেখে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে শক্তিশালী কর্মসূচি চালু রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোতে স্বাক্ষর হয়েছে, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মানবিক সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াবে। তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা একা যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না।
ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে আকাশে ঘটতে যাচ্ছে একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা—বলয়াকার সূর্যগ্রহণ, যা অনেকেই ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের বলয় বলে ডাকে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী ভারত থেকেও দেখা যাবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে তখন, যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে, কিন্তু চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকায় পুরো সূর্য ঢেকে দিতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল একটি বলয় দেখা যায়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণটি আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ১ মিনিটে (ইউটিসি) শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি দুপুর ১টা ১ মিনিটে শুরু হবে। বলয়াকার অংশটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে, তবে পৃথিবীর খুব সীমিত কিছু এলাকায় এই দৃশ্য দেখা যাবে। মূলত অ্যান্টার্কটিকার কিছু দুর্গম এলাকা, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে আংশিকভাবে গ্রহণ দেখা যেতে পারে। ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই গ্রহণের বাইরে থাকবে। তাই এ অঞ্চলের মানুষ সরাসরি এটি উপভোগ করতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সূর্যগ্রহণ দেখার সময় চোখের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা গ্রহণ দেখতে পাবেন, তাদের অবশ্যই অনুমোদিত (আইএসও ১২৩১২-২ মানসম্পন্ন) সূর্যগ্রহণ চশমা ব্যবহার করতে হবে। খালি চোখে বা সাধারণ চশমা পরে সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় হামলাকারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, স্কুলের ভেতরেই সন্দেহভাজন হামলাকারীর লাশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা যান। এছাড়া কমিউনিটির একটি আবাসিক ভবন থেকে আরও দুজনের লাশ পাওয়া গেছে। হামলার পরপরই টাম্বলার রিজ পুলিশ সতর্কতা জারি করে। বর্তমানে দ্বিতীয় কোনো সন্দেহভাজন জড়িত ছিলেন কিনা এবং প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কত তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার ছোট এই শহরের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা মোতায়েন করা হয়েছে। পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, ঘটনার পর টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল এবং টাম্বলার রিজ এলিমেন্টারি স্কুলে ‘লকডাউন’ ও ‘সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ জারি করা হয়। পিস রিভার সাউথের আইনপ্রণেতা ল্যারি নিউফেল্ড বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তবে চলমান অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রাদেশিক সরকারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা ও হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।