সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
১৬১ দেশ পেরিয়ে পিরামিডের দেশে কাজী আসমা

বুকে লাল-সবুজের পতাকা আর হাতে একটি সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বজুড়ে ডানা মেলে উড়ে চলেছেন বাংলাদেশের সুপরিচিত ভ্রমণকন্যা কাজী আসমা আজমেরী।   এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৬১টি দেশের সীমানা পেরিয়ে, নানা সংস্কৃতি ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি সম্প্রতি পা রেখেছিলেন ইতিহাস আর প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরে। কিন্তু নীল নদ আর পিরামিডের দেশে প্রবেশের এই গল্পটি অন্যসব দেশের মতো সহজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল দীর্ঘ অপেক্ষা, গভীর জিজ্ঞাসা আর তীব্র অনিশ্চয়তায় ভরা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।   ভ্রমণের ধারাবাহিকতায় আসমা আজমেরী আলজেরিয়া থেকে বিমানে পৌঁছান কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরে নেমেই নিয়মানুযায়ী ব্যাংক বুথ থেকে অন-অ্যারাইভাল স্টিকার ভিসাও সংগ্রহ করেন। কিন্তু মূল জটিলতা তৈরি হয় ইমিগ্রেশন ডেস্কে। কর্তব্যরত কর্মকর্তার হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্টটি যাওয়া মাত্রই তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে অতিরিক্ত সতর্কতার ছাপ। পাসপোর্টটি জমা রেখে আসমাকে অপেক্ষা করতে বলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় উচ্চপর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য।   শুরু হয় এক অন্তহীন প্রতীক্ষা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, কিন্তু ইমিগ্রেশনের সেই রুদ্ধদ্বার কক্ষ থেকে কোনো বার্তা আসে না। একজন প্রকৃত পর্যটকের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি কতটা মানসিক চাপের, তা কেবল একজন ট্রাভেলারই বোঝেন।   পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না দেখে আসমা আজমেরী নিজেই উদ্যোগী হন। তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভ্রমণের আসল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, কোনো অবৈধ কাজের জন্য নয়, বরং কেবলই একজন প্রকৃত পর্যটক এবং বিশ্বভ্রমণকারী হিসেবে তিনি মিশরের ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখতে এসেছেন।   আসমা আজমেরী বলেন, আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেও আমার কাছে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের অত্যন্ত শক্তিশালী ও বৈধ ভিসা। তারপরও শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্টের কারণে আমাকে সেখানে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।   নিজের সততা ও পর্যটক পরিচয় প্রমাণ করতে তিনি একে একে তার পূর্ববর্তী ১৬০টি দেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ব্যাংকের স্টেটমেন্ট এবং আকর্ষণীয় সব নথিপত্র প্রদর্শন করেন। তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানান, অন্তত দুই দিনের জন্য হলেও যেন তাকে কায়রো শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।   দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর অবশেষে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ তার নথিপত্রের সত্যতা স্বীকার করে এবং তাকে নীল নদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়।   মিশরের মাটিতে পা রাখতে পারলেও আসমা আজমেরীর এই অভিজ্ঞতা এক বড় প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কায়রো বিমানবন্দরে এটি এখন আর কোনো একক ঘটনা নয়; বৈধ ভিসা ও বিদেশি রেসিডেন্স কার্ড থাকার পরও অসংখ্য বাংলাদেশি প্রতিদিন সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছেন। ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী থেকে শুরু করে পরিবারসহ ঘুরতে যাওয়া মানুষও এই অতিরিক্ত কড়াকড়ির শিকার হচ্ছেন।   জানা যায়, কিছু অসাধু চক্রের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে আজ বাংলাদেশের এই সবুজ পাসপোর্টের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্কলারশিপ লেটার তৈরি, অবৈধ ডলার লেনদেন এবং মিশরকে ট্রানজিট বানিয়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের খেসারত দিতে হচ্ছে আসমা আজমেরীর মতো প্রকৃত দেশপ্রেমিক ভ্রমণকারীদের।  

৫১ সেকেন্ড আগে
রামিসা হত্যা মামলায় আজ চার্জশিট দাখিল

রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রোববার (২৪ মে) চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং রোববার চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে।   তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনি চার্জশিট প্রস্তুত করছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিএনএসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন পরীক্ষা করছেন।   গতকাল শনিবার রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পান তদন্তকারী কর্মকর্তা।   সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে সব ফরেনসিক রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।   ২১ মে রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসা থেকে বের হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আগামী রোববারের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।    শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে এক কর্মশালায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের আগে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হলে, ঈদের পরপরই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।   রামিসার পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ষণ মামলাগুলোও সরকার পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।   গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।    মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে ২০ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

৪ মিনিট আগে
শুরু হলো ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা

উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক আয়োজন ‘৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬’ শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে এই আন্তর্জাতিক আয়োজন চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।   স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা ৬টায় মেলার উদ্বোধন করা হয়। প্রবাসী বাঙালির আবেগ, ভাষা ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাকে ধারণ করে ১৯৯২ সালে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল এই বইমেলা। তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে আজ এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষাভাষীদের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।   মেলায় অংশ নিতে বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে লেখক, কবি, গবেষক, শিল্পী ও প্রকাশকরা নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন। বইমেলা ঘিরে জ্যামাইকা এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্টল নির্মাণ, বই সাজানো, মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা, স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, ডিজিটাল ডিসপ্লে ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।   আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সিইও বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বপরিসরে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই এবারের আয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা বই ও সাহিত্যকে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

৬ মিনিট আগে
বাহরাইনে ঈদের আমেজ, পশুর হাটে প্রবাসীদের ভিড়

ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে বাহরাইনের পশুর হাটগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। মরুর তপ্ত আবহাওয়ার মাঝেও ব্যস্ত নগরজীবনের সব ক্লান্তি ভুলে ঈদের আমেজ এখন তুঙ্গে।   বিশেষ করে হামেলা, জিদাফস ও মানামাসহ বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর বাজারগুলোতে দেখা যাচ্ছে প্রবাসীদের সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশিদের ভিড়ে এ হাটগুলো যেন ক্ষণিকের জন্য বিদেশের মাটি নয়, বরং দেশের কোনো চিরচেনা হাটের রূপ পাচ্ছে।   সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি হাটেই এখন সাজ সাজ রব। পশু পছন্দ করা, দামাদামি আর শেষমেশ দর মিললে কিনে ঘরে ফেরার এক ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্থানীয় বাহরাইনিদের পাশাপাশি এ বাজারগুলোর সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন বাংলাদেশি প্রবাসীরাই।   কেউ হয়তো দেশে থাকা পরিবার-পরিজনের জন্য রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, আবার কেউ পরবাসের এই মাটিতেই বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে কোরবানির আয়োজন করছেন।   বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার বাহরাইনের স্থানীয় খামারে পালিত পশুর চেয়েও সৌদি আরব, ওমান ও সোমালিয়া থেকে আমদানি করা গরু, দুম্বা ও ছাগলের কদর অনেক বেশি। বিশেষ করে সোমালিয়ান ছাগল আর নধরকান্তি আরবি দুম্বা কিনতে ক্রেতাদের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।   তবে বাজারে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অতিরিক্ত দাম। ব্যবসায়ীরা সাফ জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা আর পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশুর দামে। গত বছরের তুলনায় এবারের দাম বেশ চড়া।   বাহরাইনের ব্যবসায়ী প্রবাসী আল আমীন এ দামের পার্থক্যটা বুঝিয়ে বললেন বেশ পরিষ্কারভাবেই। তিনি জানান, গত বছর যে মাঝারি মানের গরু ৪৫০ দিনারে কেনা সম্ভব হতো, এবার সেই গরু কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৬৫০ দিনার। সোমালিয়ান ছাগলের ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই। গত বছর যেগুলো ৬০ থেকে ৭০ দিনারে বিক্রি হয়েছে, এবার সেগুলোর দাম হাঁকানো হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ দিনার বা তারও বেশি।   দামের এই ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে আল আমীন বলেন, দাম বাড়লে কী হবে, কোরবানি তো আর থেমে নেই। কারণ এটা তো শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে আমাদের ধর্মীয় আবেগ আর ত্যাগের মহিমা।   হামেলা হাটে এসেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী এলাকার মো. হেলাল, পেশায় তিনি বাহরাইন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য। তিনি বললেন তার অনুভূতির কথা, একসময় দেশে থাকতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাটে যেতাম, সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। প্রবাসে সেই অভাবটা তো আর পূরণ হওয়ার নয়। তবুও আলহামদুলিল্লাহ, প্রবাসীদের সঙ্গে মিলে এখানে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করি।   একই হাটে দেখা মিলল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জিকুর সঙ্গে। তিনি রাজধানী মোরগান সাপ্লাই কোম্পানিতে কর্মরত। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে হাটে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তার ইচ্ছে একটা ভালো দেখে দুম্বা কেনা। দরদামে মিলে গেলে আজই কিনে ফিরবেন।   চট্টগ্রামের আনোয়ারার আরেক বাসিন্দা জালাল উদ্দিন, কাজ করেন আরাদ এলাকার হামিদ আব্বাস টায়ার শপে। তিনি এসেছেন পুরো দোকানের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে। জালালের ভাষায়, “আমরা সবাই মিলে গরু, ভেড়া বা দুম্বা- যেটা ভালো লাগবে সেটাই নেব। প্রবাসের মাটিতে এত বড় হাট দেখে দেশের কথা খুব মনে পড়ে যাচ্ছে।   নবাবগঞ্জ-দোহারের ফয়সাল খান, যিনি এলএমআর ফ্লেক্সি ভিসায় স্প্রে পেইন্টার হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেন, তিনি জানালেন তার প্রস্তুতির কথা। চারজন বন্ধু মিলে একটি খাসি নেওয়ার জন্য হাটে এসেছেন তারা। প্রবাসের ব্যস্ততার মাঝেও এমন হাটে ঘুরতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত।   আবার কুমিল্লার শরিফুল ইসলামের কাছে এই হাট যেন একাকীত্ব দূর করার দাওয়াই। তিনি বলেন, “ঈদের সময় পরিবার ছাড়া থাকাটা খুব কষ্টের। কিন্তু যখন বন্ধুদের নিয়ে হাটে আসি, তখন মনে হয় দেশের কোনো গ্রামবাংলার হাটেই আছি। সবাই একসঙ্গে হলে প্রবাস জীবনের কষ্টটা অনেকটাই ভুলে থাকা যায়।   ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক প্রবাসীই এবার একা কোরবানি না দিয়ে কয়েকজনে মিলে ‘ভাগে’ কোরবানি দিচ্ছেন। এতে যেমন খরচের চাপ কমছে, তেমনি নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতাও বাড়ছে। কেবল কেনাবেচাই নয়, পশু কেনার ফাঁকে ফাঁকে চলছে ঈদের দিনের রান্নাবান্না, নামাজের সময়সূচি আর বন্ধুদের আড্ডার পরিকল্পনা। ফলে এই পশুর হাটগুলো এখন আর শুধু ব্যবসার কেন্দ্র নেই, তা হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের এক মিলনমেলা।   কঠোর পরিশ্রম আর যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও ঈদুল আজহা যেন প্রবাসীদের মনে বইয়ে দিচ্ছে প্রশান্তির হাওয়া। বাহরাইনের পশুর হাটে বাংলাদেশিদের এ উপচে পড়া ভিড় যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, দূরত্ব যতই হোক না কেন, বাঙালির শেকড়ের টান আর উৎসবের আনন্দ কোনো সীমানাই মানে না।   বাস্তবতার রুক্ষতা আর বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তা ছাপিয়ে প্রবাসীরা ঠিকই খুঁজে নিচ্ছেন ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত আনন্দের উপলক্ষ্য।

১১ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
বাহরাইনে ঈদের আমেজ, পশুর হাটে প্রবাসীদের ভিড়

ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে বাহরাইনের পশুর হাটগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। মরুর তপ্ত আবহাওয়ার মাঝেও ব্যস্ত নগরজীবনের সব ক্লান্তি ভুলে ঈদের আমেজ এখন তুঙ্গে।   বিশেষ করে হামেলা, জিদাফস ও মানামাসহ বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর বাজারগুলোতে দেখা যাচ্ছে প্রবাসীদের সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশিদের ভিড়ে এ হাটগুলো যেন ক্ষণিকের জন্য বিদেশের মাটি নয়, বরং দেশের কোনো চিরচেনা হাটের রূপ পাচ্ছে।   সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি হাটেই এখন সাজ সাজ রব। পশু পছন্দ করা, দামাদামি আর শেষমেশ দর মিললে কিনে ঘরে ফেরার এক ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্থানীয় বাহরাইনিদের পাশাপাশি এ বাজারগুলোর সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন বাংলাদেশি প্রবাসীরাই।   কেউ হয়তো দেশে থাকা পরিবার-পরিজনের জন্য রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, আবার কেউ পরবাসের এই মাটিতেই বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে কোরবানির আয়োজন করছেন।   বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার বাহরাইনের স্থানীয় খামারে পালিত পশুর চেয়েও সৌদি আরব, ওমান ও সোমালিয়া থেকে আমদানি করা গরু, দুম্বা ও ছাগলের কদর অনেক বেশি। বিশেষ করে সোমালিয়ান ছাগল আর নধরকান্তি আরবি দুম্বা কিনতে ক্রেতাদের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।   তবে বাজারে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অতিরিক্ত দাম। ব্যবসায়ীরা সাফ জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা আর পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশুর দামে। গত বছরের তুলনায় এবারের দাম বেশ চড়া।   বাহরাইনের ব্যবসায়ী প্রবাসী আল আমীন এ দামের পার্থক্যটা বুঝিয়ে বললেন বেশ পরিষ্কারভাবেই। তিনি জানান, গত বছর যে মাঝারি মানের গরু ৪৫০ দিনারে কেনা সম্ভব হতো, এবার সেই গরু কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৬৫০ দিনার। সোমালিয়ান ছাগলের ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই। গত বছর যেগুলো ৬০ থেকে ৭০ দিনারে বিক্রি হয়েছে, এবার সেগুলোর দাম হাঁকানো হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ দিনার বা তারও বেশি।   দামের এই ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে আল আমীন বলেন, দাম বাড়লে কী হবে, কোরবানি তো আর থেমে নেই। কারণ এটা তো শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে আমাদের ধর্মীয় আবেগ আর ত্যাগের মহিমা।   হামেলা হাটে এসেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী এলাকার মো. হেলাল, পেশায় তিনি বাহরাইন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য। তিনি বললেন তার অনুভূতির কথা, একসময় দেশে থাকতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাটে যেতাম, সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। প্রবাসে সেই অভাবটা তো আর পূরণ হওয়ার নয়। তবুও আলহামদুলিল্লাহ, প্রবাসীদের সঙ্গে মিলে এখানে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করি।   একই হাটে দেখা মিলল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জিকুর সঙ্গে। তিনি রাজধানী মোরগান সাপ্লাই কোম্পানিতে কর্মরত। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে হাটে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তার ইচ্ছে একটা ভালো দেখে দুম্বা কেনা। দরদামে মিলে গেলে আজই কিনে ফিরবেন।   চট্টগ্রামের আনোয়ারার আরেক বাসিন্দা জালাল উদ্দিন, কাজ করেন আরাদ এলাকার হামিদ আব্বাস টায়ার শপে। তিনি এসেছেন পুরো দোকানের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে। জালালের ভাষায়, “আমরা সবাই মিলে গরু, ভেড়া বা দুম্বা- যেটা ভালো লাগবে সেটাই নেব। প্রবাসের মাটিতে এত বড় হাট দেখে দেশের কথা খুব মনে পড়ে যাচ্ছে।   নবাবগঞ্জ-দোহারের ফয়সাল খান, যিনি এলএমআর ফ্লেক্সি ভিসায় স্প্রে পেইন্টার হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেন, তিনি জানালেন তার প্রস্তুতির কথা। চারজন বন্ধু মিলে একটি খাসি নেওয়ার জন্য হাটে এসেছেন তারা। প্রবাসের ব্যস্ততার মাঝেও এমন হাটে ঘুরতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত।   আবার কুমিল্লার শরিফুল ইসলামের কাছে এই হাট যেন একাকীত্ব দূর করার দাওয়াই। তিনি বলেন, “ঈদের সময় পরিবার ছাড়া থাকাটা খুব কষ্টের। কিন্তু যখন বন্ধুদের নিয়ে হাটে আসি, তখন মনে হয় দেশের কোনো গ্রামবাংলার হাটেই আছি। সবাই একসঙ্গে হলে প্রবাস জীবনের কষ্টটা অনেকটাই ভুলে থাকা যায়।   ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক প্রবাসীই এবার একা কোরবানি না দিয়ে কয়েকজনে মিলে ‘ভাগে’ কোরবানি দিচ্ছেন। এতে যেমন খরচের চাপ কমছে, তেমনি নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতাও বাড়ছে। কেবল কেনাবেচাই নয়, পশু কেনার ফাঁকে ফাঁকে চলছে ঈদের দিনের রান্নাবান্না, নামাজের সময়সূচি আর বন্ধুদের আড্ডার পরিকল্পনা। ফলে এই পশুর হাটগুলো এখন আর শুধু ব্যবসার কেন্দ্র নেই, তা হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের এক মিলনমেলা।   কঠোর পরিশ্রম আর যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও ঈদুল আজহা যেন প্রবাসীদের মনে বইয়ে দিচ্ছে প্রশান্তির হাওয়া। বাহরাইনের পশুর হাটে বাংলাদেশিদের এ উপচে পড়া ভিড় যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, দূরত্ব যতই হোক না কেন, বাঙালির শেকড়ের টান আর উৎসবের আনন্দ কোনো সীমানাই মানে না।   বাস্তবতার রুক্ষতা আর বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তা ছাপিয়ে প্রবাসীরা ঠিকই খুঁজে নিচ্ছেন ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত আনন্দের উপলক্ষ্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
নামাজ শেষে আর ঘরে ফেরা হলো না প্রবাসী ইব্রাহীমের

বাহরাইনে ফজরের নামাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় একজন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।   ইব্রাহীম আহমেদ (৫৭) নামে এ বাংলাদেশির বাড়ি সিলেটের কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার রায়ের গ্রামে। তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাহরাইনে বসবাস করছিলেন।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির বুদাইয়া এলাকার আল সত্তার মার্কেটের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মো. মাহফুজ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   নিহতের ভাতিজা, আরেক প্রবাসী মো. রনি জানান, প্রতিদিনের মতো ওইদিন ভোরে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন ইব্রাহীম। এসময় একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।   নিহত ইব্রাহীম দেশটির লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটির (এলএমআরএ) অধীনে ফ্লেক্সি ভিসায় কর্মরত ছিলেন। বাহরাইনে ‘ফ্লেক্সি ভিসা’ হলো একটি বিশেষায়িত কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট, এর মাধ্যমে একজন প্রবাসী কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা (কফিল) বা কোম্পানির অধীনে না থেকে নিজেই নিজের স্পন্সর হয়ে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পান।   শ্রম কাউন্সেলর মো. মাহফুজ রহমান জানান, নিহতের লাশ বর্তমানে সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্সের মর্গে রাখা হয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয়ান বাংলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ইউরোপীয়ান বাংলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ তাদের নতুন কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন করেছে।   স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সভায় আগামী ২ বছরের জন্য ২৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে তারা।   নতুন পর্ষদে অস্ট্রিয়া প্রবাসী মাহবুবুর রহমানকে সভাপতি এবং গ্রিস প্রবাসী জহিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।   নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় গত দুই বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। তারপর নতুন কমিটি ঘোষণা করেন নেতারা।   সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের সদস্য সচিব এসকে এমডি জাকির হোসেন সুমন এবং সদস্য কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ডালিম।   নবগঠিত কমিটির অন্যান্য পদাধিকারীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি এনায়েত হোসেন সোহেল (ফ্রান্স), সহ-সভাপতি এসকে এমডি জাকির হোসেন সুমন (ইতালি), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান খান সোহেল (ইতালি) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ডালিম (গ্রিস)।   অন্যান্য সম্পাদকীয় পদে রয়েছেন- অর্থ সম্পাদক কবির আহমেদ (অস্ট্রিয়া), সহ-অর্থ সম্পাদক তাহির হোসেন (পর্তুগাল), সাংগঠনিক সম্পাদক রহমান মাহবুবুর (সুইজারল্যান্ড), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইমরুল হাসান (গ্রিস), দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ সোহেল (ভেনিস), আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহ সোহেল আহমেদ (ফ্রান্স), প্রচার সম্পাদক কাজী মাহফুজ রানা (আয়ারল্যান্ড), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক খন্দকার মেবিজ পরমা (গ্রিস), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন আক্তার (ইতালি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন স্বপন (ইতালি), ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত খোকন (ফ্রান্স), অভিবাসন বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিপ্লব (জার্মানি) এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টগর (ইতালি)।

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়াতে সমঝোতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

পশ্চিম এশিয়ার যে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারকে জোর ধাক্কা দিয়েছে তা আরও ৬০ দিন স্থগিত রাখতে রাজি হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।   মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।   ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, ৮ এপ্রিল এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তা থামে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটন মতবিরোধ কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।   ট্রাম্প গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার ইরানে পরিকল্পিত হামলার পথ থেকে সরে এসেছেন।   এরপর শনিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানাল।   মধ্যস্থতাকারীরা এখন অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে, বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।   অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সংলাপ।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি শনিবার বলেছেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানার প্রথম ধাপ হিসেবে তেহরান একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ চূড়ান্ত করছে, যা পরের ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।   তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ট্রাম্প চাইছেন, ইরান তার উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিক এবং নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে তা ভেঙে ফেলুক।   অন্যদিকে ইরানের নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে।   দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা আলোচনায়ও আন্তরিক নয়। এরপরও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।   মধ্যস্থতাকারীদের আশা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হলে তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে বিস্তৃত পর্যায়ে ‍কূটনীতির সুযোগ করে দেবে।   আলোচনা সম্বন্ধে অবগত এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, চুক্তি ঠিকঠাক দিকেই এগুচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান তাদের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আরও ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে তারা তা করবে না। চুক্তি ওই দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে।   পাকিস্তান আর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর থমকে থাকা আলোচনা গতি পায়। আলোচনায় ‘উৎসাহব্যাঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে পরে জানায় ইসলামাবাদ।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো ওয়াশিংটন-তেহরান দূরত্ব কমাতে তৎপর হয়ে ওঠে।   আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করতে পারে, যার পাল্টায় তেহরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ অনেকদিন অব্যাহত থাকতে পারে—এসব আশঙ্কাই তাদের তৎপর করেছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।   ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়েই তাদের মতবিরোধ এখনও প্রকট।   ওয়াশিংটনের দিক থেকে ‘পরস্পরবিরোধী বিবৃতি’ আসছে জানালেও বাঘেয়ি বলেছেন, পরস্পরের জন্য সন্তোষজনক একটি সমাধানের পথে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ‘কাছাকাছি আসছে’।

ছবি: সংগৃহীত
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ টানতে আগ্রহীদের পরামর্শে নতুন পিএসসি

সাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।   আগের দরপত্রে বাইরের কোম্পানিগুলোর সাড়া না মেলায় এবার আগ্রহীদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে এগোনোর কথা বলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। পেট্রোবাংলা বলেছে, এর অংশ হিসেবে তারা নতুন ‘মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট’ (এমপিএসসি) প্রস্তুত করেছে। রোববার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬, বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের দরপত্রে যারা ডকুমেন্ট কিনেছিল, কিন্তু বিড জমা দেয়নি, তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। “তাদের কাছে আমরা কারণ জানতে চেয়েছিলাম। মূলত তাদের পরামর্শ এবং আমাদের কনসালট্যান্টদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই মডেল পিএসসি ২০২৬ প্রস্তুত করা হয়েছে।”   নতুন মডেল পিএসসিতে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। শোয়েব বলেন, “তাদের কিছু বিষয় এখানে এসেছে। আমরা দেখেছি, আন্তর্জাতিকভাবে এসব বিষয় থাকে। এজন্য মনে করছি, এবার ভালো সাড়া পাব।” পেট্রোবাংলার দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমুদ্রের ১১টি অগভীর ব্লক এবং ১৫টি গভীর ব্লক তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। অগভীর ব্লকগুলো হলো ‘এসএস ০১’ থেকে ‘এসএস ১১’ পর্যন্ত। গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলো হলো ‘ডিএস ০৮’ থেকে ‘ডিএস ২২’। কোম্পানিগুলো এককভাবে অথবা যৌথভাবে এক বা একাধিক ব্লকের জন্য দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। একটি টেন্ডার শিডিউল কিনেই একাধিক ব্লকে অংশ নেওয়া যাবে। তবে প্রতিটি অগভীর ও গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য আলাদা আবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি থাকা দুটি গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য একটি চুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।   কী বদলাল নতুন পিএসসিতে পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব বলেছেন, ‘সিগনেচার বোনাস’ না থাকা, রয়্যালটি না থাকা, শতভাগ কস্ট রিকভারি এবং করপোরেট আয়কর পেট্রোবাংলার বহনের মতো সুবিধা আগের পিএসসিতে ছিল। তিনি বলেন, “এগুলো আগেও ছিল। আমরা মূলত এবার পাইপলাইন ট্যারিফটা যোগ করেছি। আর আগে দশ বছর পর ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দেওয়ার বিষয় ছিল, সেটা এখন ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তার মানে ৮০ শতাংশ এলাকায় তারা আরও সিসমিক বা এক্সপ্লোরেশনের জন্য সময় পাবে।” নতুন মডেল পিএসসিতে ঠিকাদার কোম্পানিগুলো অর্জিত মুনাফা পুরোপুরি নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবে। কোনো সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটি দিতে হবে না। অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উৎপাদন পর্যায়ে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিতে শুল্ক অব্যাহতির সুবিধা রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের করপোরেট আয়করও পেট্রোবাংলা বহন করবে। অগভীর ও গভীর সমুদ্র— উভয় ক্ষেত্রেই শতভাগ কস্ট রিকভারি বা ব্যয় পুনরুদ্ধারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বছরে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় তুলে নেওয়া যাবে। গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক ব্রেন্ট ক্রুডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গড় ব্রেন্ট মূল্যের ভিত্তিতে ফ্লোর ও সিলিং নির্ধারণ করা হবে। পাইপলাইন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আলাদা পাইপলাইন ট্যারিফের বিধান রাখা হয়েছে, যা ক্রেতা পরিশোধ করবে। পেট্রোলিয়াম মুনাফা ভাগাভাগি হবে ‘আর-ফ্যাক্টর’ ভিত্তিতে। দরদাতারা নিজেদের প্রস্তাবে এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা তুলে ধরতে পারবে। তেলের দাম নির্ধারণ হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজারের প্রচলিত ন্যায্য মূল্যের ভিত্তিতে।   বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত বড় আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরও বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আমরা এই জায়গাটায় এখনও একেবারেই ব্লাইন্ড, বিশেষ করে ডিপ সিতে। অগভীর অংশে একসময় কাজ ছিল, কিন্তু এখন সেখানেও আমাদের কোনো কাজ নেই।” জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে অনুসন্ধান ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে টানতে আর্থিক শর্তে ছাড় দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস মিললে তা আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। দরপত্রে অংশ নিতে হলে কোম্পানিকে অন্তত একটি অফশোর ব্লকের অপারেটর হতে হবে। অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দৈনিক অন্তত ৫ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ৭৫ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দৈনিক অন্তত ১০ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নিজ দেশের বাইরে অন্তত একটি দেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও বাধ্যতামূলক। অপারেটরশিপ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অথবা সরকারি সংস্থার সনদ বা প্রমাণপত্র দিতে হবে। বাধ্যতামূলক কাজের অংশ সীমিত রাখা হয়েছে ‘টু-ডি সিসমিক জরিপে। তবে দরদাতাদের বাধ্যতামূলক কাজের বাইরে অতিরিক্ত কাজের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। কোনো কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিদ্যমান ‘টু-ডি মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক ডেটা কিনলে বাধ্যতামূলক কাজের পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমানো যাবে। প্রথম অনুসন্ধান কূপ শুকিয়ে গেলে অথবা বাণিজ্যিকভাবে অকার্যকর হলে দ্বিতীয় বা পরবর্তী কূপের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের মুনাফার ভাগ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পেট্রোবাংলা গ্যাস কিনতে না পারলে ঠিকাদার কোম্পানি দেশের ভেতরে তৃতীয় পক্ষের কাছে নিজেদের অংশের গ্যাস বিক্রি করতে পারবে। তবে পেট্রোবাংলার অধিকার থাকবে সবার আগে। একই শর্তে ঠিকাদার অংশের গ্যাস রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়েছে। অগভীর সমুদ্র ব্লকে বাপেক্সের জন্য ১০ শতাংশ ক্যারিড ইন্টারেস্ট রাখা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের পর ন্যূনতম অনুসন্ধান কর্মসূচি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে নির্ধারিত ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। তবে সরকার কোনো সফল দরদাতার হাতে ব্লকের সংখ্যা সীমিত রাখার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। নতুন দরপত্র ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি যোগাযোগ করেছে কি না জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব বলেন, “এখনও সময় হয়নি। তবে গতবার যে কোম্পানিগুলো দরপত্র কিনেছিল, তারা আমাদের ডেটাগুলো নিয়েছে। তারা হয়ত অপেক্ষা করছে। আগের দরপত্রে সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব জমা পড়েনি বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।   দরপত্র জমা নভেম্বর পর্যন্ত পেট্রোবাংলা বলেছে, ১ জুন থেকে ‘বেসিক ইনফরমেশন’ প্যাকেজ পাওয়া যাবে। এর মূল্য ১০০ ডলার অথবা সমপরিমাণ টাকা। বিডিং ডকুমেন্টসহ প্রমোশনাল প্যাকেজের দাম ৭ হাজার ডলার অথবা সমপরিমাণ টাকা। এই প্যাকেজ কেনা দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক। আরও বিস্তারিত সিসমিক, গ্র্যাভিটি, ম্যাগনেটিক ও ভূতাত্ত্বিক তথ্যের জন্য আলাদা প্যাকেজ থাকবে। দরপত্র জমার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর দুপুর ১টা। একই দিন দুপুর ২টায় পেট্রোবাংলা কার্যালয়ে দরপত্র খোলা হবে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সমুদ্রে বড় আকারে বাণিজ্যিক তেল গ্যাস আবিষ্কার হয়নি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের বড় সুযোগ তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে নতুন পিএসসি করা হলেও সে সময় দরপত্র ডাকা হয়নি। পরে পিএসসি ২০২৩ এর আলোকে ২০২৪ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই সময় টিজিএস ও শ্ল্যামবার্জারের বঙ্গোপসাগরে টু ডি জরিপের তথ্যও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। তবু শেষ পর্যন্ত কোনো কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়নি। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলে আসছেন, গ্যাসের দাম, পাইপলাইন ব্যয়, কস্ট রিকভারি, লাভ ভাগাভাগি ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা বিদেশি কোম্পানির অনীহার বড় কারণ ছিল। এর আগে গভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে কাজ শুরু করেছিল কনোকোফিলিপস। দ্বিমাত্রিক জরিপের পর গ্যাসের দাম নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তারা কাজ ছেড়ে যায়। স্যান্টোস ও পস্কো দাইয়ুও চুক্তির পর শেষ পর্যন্ত কাজ এগিয়ে নেয়নি। অগভীর সমুদ্রের এসএস ০৪ ও এসএস ০৯ ব্লকে ভারতের ওএনজিসি অনুসন্ধান চালালেও পরে তারা ছেড়ে দেয়।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়াতে সমঝোতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার যে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারকে জোর ধাক্কা দিয়েছে তা আরও ৬০ দিন স্থগিত রাখতে রাজি হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।   মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।   ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, ৮ এপ্রিল এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তা থামে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটন মতবিরোধ কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।   ট্রাম্প গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার ইরানে পরিকল্পিত হামলার পথ থেকে সরে এসেছেন।   এরপর শনিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানাল।   মধ্যস্থতাকারীরা এখন অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে, বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।   অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সংলাপ।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি শনিবার বলেছেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানার প্রথম ধাপ হিসেবে তেহরান একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ চূড়ান্ত করছে, যা পরের ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।   তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ট্রাম্প চাইছেন, ইরান তার উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিক এবং নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে তা ভেঙে ফেলুক।   অন্যদিকে ইরানের নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে।   দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা আলোচনায়ও আন্তরিক নয়। এরপরও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।   মধ্যস্থতাকারীদের আশা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হলে তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে বিস্তৃত পর্যায়ে ‍কূটনীতির সুযোগ করে দেবে।   আলোচনা সম্বন্ধে অবগত এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, চুক্তি ঠিকঠাক দিকেই এগুচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান তাদের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আরও ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে তারা তা করবে না। চুক্তি ওই দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে।   পাকিস্তান আর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর থমকে থাকা আলোচনা গতি পায়। আলোচনায় ‘উৎসাহব্যাঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে পরে জানায় ইসলামাবাদ।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো ওয়াশিংটন-তেহরান দূরত্ব কমাতে তৎপর হয়ে ওঠে।   আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করতে পারে, যার পাল্টায় তেহরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ অনেকদিন অব্যাহত থাকতে পারে—এসব আশঙ্কাই তাদের তৎপর করেছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।   ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়েই তাদের মতবিরোধ এখনও প্রকট।   ওয়াশিংটনের দিক থেকে ‘পরস্পরবিরোধী বিবৃতি’ আসছে জানালেও বাঘেয়ি বলেছেন, পরস্পরের জন্য সন্তোষজনক একটি সমাধানের পথে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ‘কাছাকাছি আসছে’।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত আসতে পারে দ্রুত
আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ অবসান এবং পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।   শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং তাদের মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়ে নিয়ন্ত্রণে আনা।   ট্রাম্প বলেন, “আমি শুধুমাত্র এমন একটি চুক্তিতেই সম্মত হব, যেখানে আমাদের সব শর্ত পূরণ হবে।”   এর আগে একই দিনে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।   অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তি নিয়ে তিনি তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রোববারের মধ্যেই যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।   এসময় কড়া হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “হয় আমরা একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল-গ্যাস সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। এরপর থেকেই কূটনৈতিক সমাধান ও সামরিক চাপ—দুই কৌশলই একসঙ্গে অনুসরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।   সূত্র: রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিখাতে ছাঁটাইয়ের ধাক্কা, বিপাকে হাজারো ভারতীয় কর্মী
আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান গণছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে হাজার হাজার ভারতীয় কর্মীর ওপর। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীরা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।   প্রতিবেদনে বলা হয়, খরচ কমানো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর কার্যক্রম বাড়ানোর অংশ হিসেবে একের পর এক কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। সম্প্রতি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করেছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারীরা চাকরি হারালে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হয়। অন্যথায় তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। কারণ এই ভিসা সাধারণত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপের মাধ্যমে কার্যকর থাকে।   তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন চাকরি পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। প্রযুক্তি খাতে নিয়োগ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু প্রবাসী ভারতীয় পরিবার।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু মেটাই প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। একইসঙ্গে অ্যামাজন ও লিঙ্কডইনসহ আরও কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে।   অনেক ভারতীয় কর্মী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেখানে পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন এবং বাড়িঘর কিনেছেন। কিন্তু চাকরি হারানোর পর এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
বন্ধ করে দেওয়া হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২৩, ২০২৬

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে ওয়েবসাইটটি ধীরগতিতে চলছিল এবং পরে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হয়ে যায়। ব্যবহারকারীরা সাইটে প্রবেশ করতে গেলে “সার্ভার নট ফাউন্ড” বা “এই পেজটি পাওয়া যাচ্ছে না” ধরনের বার্তা দেখতে পান। এতে দলটির অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   দলটির একাধিক স্থানীয় সমর্থক সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলো ও দলীয় তথ্য এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই প্রচার করা হতো। হঠাৎ করে সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন।   অন্যদিকে, কিছু অনলাইন পর্যবেক্ষক মনে করছেন এটি হয়তো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ডোমেইন নবায়ন না করা, কিংবা হোস্টিং সমস্যার কারণে ঘটতে পারে। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক টানাপোড়েনের সঙ্গেও যুক্ত করে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হতে পারে।   ঘটনার পর অনলাইনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে “সাময়িক কারিগরি সমস্যা” হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে দলের ডিজিটাল উপস্থিতির দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করছেন।   বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য শুধু মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নয়, বরং শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা দলটির যোগাযোগ ও প্রচারণায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।   সব মিলিয়ে, ওয়েবসাইট বন্ধের কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি