অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য যাওয়া বিদেশী শিক্ষার্থীরা এখন থেকে সাধারণভাবে তাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ব্যাকপ্যাকারদের ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার নিয়মও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উচ্চ অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এসব পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেশির ভাগ স্টুডেন্ট ভিসায় শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সেকেন্ডারি আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের কিছু দেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নেয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন। তবে তারা কত ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন, তা শিক্ষার্থীর পড়াশোনার কোর্সের ওপর নির্ভর করে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের পরিবারকে সঙ্গে নেয়ার এই সুবিধা হারাবেন। ব্যাকপ্যাকারদের ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে। ভিসার মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহীদের জন্য লটারিভিত্তিক ব্যালট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। একই সঙ্গে সব ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করা হবে। এর ফলে ভিজিটর ভিসায় থাকা কেউ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে পার্টনার ভিসার মতো অন্য কোনো ভিসার জন্য আবেদন করে থাকার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রেও নিয়ম কঠোর করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা নবায়ন করতে হলে শিক্ষার্থীদের আগের যোগ্যতার চেয়ে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষায় অগ্রসর হতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানিয়েছে। এ জন্য আরও ১০০ জন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি মেলবোর্নে মহামারির সময় ব্যবহৃত একটি কোয়ারেন্টাইন স্থাপনা অভিবাসন আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সাময়িকভাবে আসতে চাইলে সাময়িক ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। আর স্থায়ীভাবে থাকতে চাইলে স্থায়ী ভিসার আবেদন করতে হবে। বৈধ ভিসা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হবে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় বার্ষিক নিট অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। করোনা মহামারির আগের সময়ের কাছাকাছি অভিবাসন নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিবাসন সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে দেশটির কট্টর ডানপন্থি ওয়ান নেশন পার্টি আগামী তিন বছরে সাময়িক অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর দাবি জানিয়েছে। দলটির ভাষ্য, এতে অস্ট্রেলীয়রা কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পাবেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ক বলেছেন, ওয়ান নেশন পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তার দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কাজ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে শুরু হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত থেকে দেশটির আয় হয়েছে ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার। এটি অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি খাত। তবে অভিবাসন কমানোর সরকারি উদ্যোগে বিদেশী শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। গত চার বছরে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা ও গ্র্যাজুয়েট ভিসার আবেদনকারীদের ন্যূনতম সঞ্চয়ের শর্তও কঠোর করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী লুক শিহি বলেছেন, প্রস্তাবিত নীতির কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, এই খাত অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দুই বছর পর সীমান্ত খুলে দেয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন দ্রুত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও সাময়িক কর্মীদের বড় অংশগ্রহণের কারণে এই বৃদ্ধি ঘটে। তবে গত দুই বছরে সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে নিট বিদেশি অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছেছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। এতে দেশ উপকৃত হবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে। মেধাবীদের উৎসাহিত করা ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো যা কিছু অর্জন করবে, সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’ সৌদি আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’ হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’ সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পুরষ্কার বিজয়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাঁদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।’ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সামনে হয়তো এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সকলে মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।’ সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে তিনি হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।
বয়স ৩০ থেকেই কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বয়স ৭০-এ এসেও সুস্থ ও সক্রিয় থাকা সম্ভব। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিমিত খাবার এবং অ্যালকোহল কমানোর মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের পেশি, হাড়, বিপাকক্রিয়া ও মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন আসে। তবে গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন পুরোপুরি অনিবার্য নয়। জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে অনেক মানুষ ৯০ বা ৯৫ বছর বয়স পর্যন্তও ভালো স্বাস্থ্যে থাকতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এজিংয়ের প্রধান নির্বাহী এরিক ভারদিন বলেন, বয়স যেকোনো পর্যায়েই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস শুরু করা যায়। তবে যত আগে শুরু করা যায়, তত ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গবেষকদের মতে, বয়স ৩০ শরীরের সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় পেশির শক্তি, হাড়ের ঘনত্ব ও বিপাকক্রিয়ায় বয়সজনিত সূক্ষ্ম পরিবর্তন শুরু হতে পারে। তাই এই সময় থেকেই শরীরকে শক্তিশালী রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পুষ্টি ও বিপাকক্রিয়া বিভাগের শিক্ষক পল মরগান বলেন, বয়স ৩০-এ শরীরের সক্ষমতা যতটা সম্ভব বাড়ানো উচিত। বিশেষ করে শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা, নমনীয়তা এবং পেশির শক্তির দিকে নজর দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, পায়ের পেশি শক্তিশালী রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ৭০ বছর বয়সের পর পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পায়ের পেশি শক্তিশালী থাকলে চলাফেরা ও নিজের কাজ নিজে করার ক্ষমতা দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব। টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিং ও নিয়মিত হাঁটা এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, র্যাকেট খেলা ও নিয়মিত সাইক্লিং দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। সপ্তাহে ৭৫ মিনিটের বেশি দৌড়ানোও বয়সজনিত কিছু পরিবর্তন ধীর করতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম বা শরীরকে চরম পর্যায়ে ঠেলে দেওয়া সবসময় উপকারী নয়। পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আদিতি গুরকার বলেন, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট মাঝারি থেকে কঠিন ধরনের শরীরচর্চাও মস্তিষ্কের বয়স বাড়ার গতি ধীর করতে পারে। খাবারের পর ১৫ মিনিট দ্রুত হাঁটাও উপকারী। শুধু শরীর নয়, বয়স ৩০ থেকেই মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়াও জরুরি। নিয়মিত দাঁতের পরীক্ষা, ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করা, ধূমপান না করা এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কম খেলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় মাড়ির রোগের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। মাড়ির রোগ শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করতে পারে। এই প্রদাহ মস্তিষ্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়। বয়স ৩০ থেকেই অ্যালকোহল পান কমানো উচিত। অ্যালকোহল শরীরের কোষে বয়সজনিত পরিবর্তন বাড়াতে পারে। এটি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও নষ্ট করে। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের কোষ মেরামতে সাহায্য করে। ঘুম কম হলে বিপাকক্রিয়া বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধরে রাখার আগ্রহ ও শক্তিও কমে যায়। পুষ্টির দিকেও বয়স ৩০ থেকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকার অভ্যাস কিছু মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এর জন্য কঠোর নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই। ১২ ঘণ্টা খাবার গ্রহণ এবং ১২ ঘণ্টা না খাওয়ার অভ্যাসও অনেকের জন্য সহজ হতে পারে। খাবারে ফল ও সবজি বাড়ানো এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোও জরুরি। মিষ্টি আলু, গাজর, আম ও এপ্রিকটের মতো খাবারে থাকা ক্যারোটিনয়েড নামের উপাদান কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। এতে বয়স বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মায়ো ক্লিনিকের বয়সজনিত রোগবিষয়ক গবেষক জোয়াও পাসোস বলেন, বয়স ৩০-এ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে পরবর্তী জীবনে হৃদ্রোগ, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং শারীরিক দুর্বলতার ঝুঁকি কমতে পারে। তবে এসব অভ্যাস বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না। বরং এগুলো বয়সজনিত পরিবর্তনের গতি ধীর করতে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বনির্ভর থাকতে সাহায্য করতে পারে। সূত্র: বিবিসি
বই পড়া শুধু আনন্দের বিষয় নয়। নিয়মিত বই পড়লে আমাদের মস্তিষ্কও ভালো থাকে। মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে। মানসিক চাপও কমতে পারে। এমনকি বড় হয়ে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে বই পড়ার অভ্যাস। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বারবারা সাহাকিয়ান বলেন, বই পড়লে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একই সঙ্গে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে এবং মনও ভালো থাকে। তবে বই পড়া শুরু করার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। যে কোনো বয়সেই এই অভ্যাস শুরু করা যায়। শিশুদের জন্য বই পড়ার আরও অনেক উপকার রয়েছে। বই পড়লে নতুন নতুন শব্দ শেখা যায়। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানা যায়। কল্পনাশক্তিও বাড়ে। কোনো গল্প মন দিয়ে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতাও বাড়তে পারে। তবে অনেক শিশুর মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ কমছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিশু ও কিশোরদের বই পড়ার হার কমে গেছে। ২০২৫ সালের পিআইএসএ প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, অবসর সময়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া এবং ডিজিটাল ডিভাইসে বেশি সময় কাটানো এর অন্যতম কারণ। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল লিটারেসি ট্রাস্টের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির ৮ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের মাত্র ৩৬ শতাংশ অবসর সময়ে বই পড়তে পছন্দ করে। ২০১৬ সালে এই হার ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ। গবেষকেরা বলছেন, শিশুদের বই পড়তে বাধ্য না করে তাদের পছন্দের বই খুঁজে দিতে হবে। কেউ খেলাধুলা পছন্দ করলে খেলাধুলার গল্প পড়তে পারে। কেউ কার্টুন বা কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠান পছন্দ করলে সেই বিষয় নিয়ে লেখা বই দিয়ে পড়ার অভ্যাস শুরু করা যেতে পারে। কমিকস ও গ্রাফিক নভেলও শিশুদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে। কারণ অনেক শিশুর কাছে এগুলো বড় উপন্যাসের চেয়ে সহজ ও মজার মনে হতে পারে। বই পড়ার উপকার শুধু শিশুদের জন্য নয়। বড়দের জন্যও বই পড়া উপকারী। নিয়মিত বই পড়লে মানসিক চাপ কমতে পারে এবং মন শান্ত হতে পারে। বয়স্কদের জন্যও বই পড়া গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখে এমন কাজ স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার গতি ধীর করতে পারে। ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে বই পড়লেও বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। যেমন, কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি বই পড়া এবং পরে সেই বই নিয়ে আলোচনা করা। এতে একদিকে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ে, অন্যদিকে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগও ভালো হয়। গবেষকেরা মনে করেন, স্কুল, গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন পাঠচক্রের মাধ্যমে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। ছোটবেলায় তৈরি হওয়া এই অভ্যাস ভবিষ্যতেও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই বই পড়া শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নয়। মস্তিষ্ককে ভালো রাখা, নতুন কিছু শেখা এবং আনন্দের জন্যও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। সূত্র: ইউরোনিউজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। এতে দেশ উপকৃত হবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে। মেধাবীদের উৎসাহিত করা ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো যা কিছু অর্জন করবে, সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’ সৌদি আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’ হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’ সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পুরষ্কার বিজয়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাঁদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।’ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সামনে হয়তো এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সকলে মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।’ সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে তিনি হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ পেরিয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শীর্ষক প্রস্তাবিত বিলটির ওপর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রস্তাব ২১৪-২১১ ভোটে অনুমোদিত হয়। সিনেটে আগেই ৮৬-১১ ব্যবধানে পাস হওয়া আইনটি প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্বাক্ষর করে আইনি রূপ দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জমা দেওয়া এক সংশোধনীতে বলা হয়, রাশিয়ার তেল বা জ্বালানি পণ্য ক্রয় অব্যাহত রাখায় সম্ভাব্য এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ১০টি দেশ হলো—ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় সংকুচিত করে ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অর্থের যোগান পুরোপুরি বন্ধ করা। এই বিলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও তাদের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে তেল বহনে ব্যবহৃত গোপন ‘ছায়া বহর’ (শ্যাডো ফ্লিট)-এর ওপর কঠোর নজরদারি ও শাস্তির সিদ্ধান্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন নীতিপ্রণেতারা মনে করছেন, ভারতসহ এশিয়ার শীর্ষ ক্রেতারা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প উপায়ে তেল আমদানি চালু রাখায় এবার মিত্রদের ওপরও শুল্কের অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই শুল্ক বিলের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। তার দাবি, এই বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে শুল্ক চাপানোর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা দেবে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক জোট ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ধস নামাতে পারে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায় ডিএমপির মধ্যে টর্চার সেল গঠন করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন তৎকালীন এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ— এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন ওই আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের দায়ের করা অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করে নিজের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাকে রাজধানীর ভাষানটেক থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে প্রথমে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় এবং পরে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ তার ওপর নৃশংস নির্যাতন চালান। তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ভেতরে আমার হাত, চোখ ও মুখ গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়েছিল, যাতে কোনো আওয়াজ করতে না পারি। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে ১৫ দিনের রিমান্ডে রেখেও চরম অত্যাচার করা হয়েছে। এডিসি ইশতিয়াকের কার্যালয়কেই নির্যাতন কেন্দ্র বানানো হয়েছিল উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, শুধু আমি নই, যুবদল নেতাসহ অসংখ্য মানুষকে তার কার্যালয়ে সবার উপস্থিতিতে নির্যাতন করা হতো। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে এমন টর্চার সেল চালানো সম্ভব ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ড্রোন দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ধারণ করার পর হত্যার প্রমাণ নষ্ট করতে তা ডিলিট করে দেন। এছাড়া বিতর্কিত বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের পুত্র হিসেবে এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী মত ও আন্দোলনকারীদের দমন করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে যে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছিল, সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তিনি এই নির্যাতনের ন্যায়বিচার চান। ট্রাইব্যুনাল থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভিন্ন মত দমন ও আন্দোলনকারীদের ওপর একই কায়দায় চালানো এসব নির্যাতন ‘ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক’ অপরাধের অংশ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত। রাশেদ খানের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশে প্রায় ৪৭ লাখ লিটার (প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন) ডিজেল পাঠিয়েছে ভারত। পাইপলাইনের মাধ্যমে এসব ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। দিনাজপুর পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে জানান, পাইপলাইনের ৭২তম চালানের অংশ হিসেবে এই ডিজেল এসেছে। তিনি জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল স্থানান্তর শুরু হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর তা শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছরে বাংলাদেশকে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল বিক্রির কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে পাইপলাইনটি চালু হওয়ার পর থেকে এ পথে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) ২০১৫ সাল থেকে পাইপলাইনে বাংলাদেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করে আসছে। পাইপলাইনটি ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি পাইপলাইন এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি পাইপলাইন। এর মাধ্যমে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন উচ্চগতির ডিজেল (এইচএসডি) পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছিল। সে সময় পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়। এরপর জুলাইয়ে ভারত থেকে ৮ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে বাংলাদেশ। এর আগে এপ্রিলে ২৫ হাজার টন এবং মে মাসে আরও ৮ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছিল। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
সুদানের পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যে একটি স্বর্ণের খনি ধসে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আল-নুহুদ শহরের কাছে আল-জারা স্বর্ণের খনিতে পরপর কয়েকটি সংযুক্ত খনিশাফট ধসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে বহু ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। বুধবার কোরদোফান অবজারভেটরি নামের একটি পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজন শ্রমিক মাটির নিচে আটকা থাকতে পারেন। তবে ঘটনাস্থলে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা সাধারণ ও সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধসে পড়া বালুময় মাটি সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। রাতভর উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খনিশ্রমিক খাইর আল-সাইয়েদ জাবারা বুধবার এএফপিকে বলেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা রাতভর নিজেদের হাতে থাকা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া উদ্ধারকাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, আর কতজন এখনও খনির ভেতরে আটকা পড়ে আছেন, তা তারা জানেন না। আরেক শ্রমিক আমিন সুলেইমান জানান, খনির শাফটগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি ছিল। একটি শাফট ধসে পড়ার সময় পাশের শাফটগুলোও ধসে যায়। এতে একসঙ্গে বড় অংশের খনি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং বহু শ্রমিক আটকা পড়েন। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দুর্ঘটনার পর খনিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবই এত বেশি প্রাণহানির অন্যতম কারণ হতে পারে। খার্তুমভিত্তিক চিকিৎসা সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির অভিযোগ, খনিতে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে শ্রমিকদের জীবন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক আরও বলেছে, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় খনি দুর্ঘটনা পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরএসএফের ভয়াবহ সংঘাত চলছে। যুদ্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম কর্দোফানসহ বিভিন্ন এলাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ উত্তোলনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের দাবি, আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা মানদণ্ড, শ্রমিক সুরক্ষা এবং উদ্ধার সরঞ্জাম ছাড়া খনন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বেসামরিক মানুষের জীবন সরাসরি হুমকির মুখে পড়ছে। সংগঠনটি খনির ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যারা ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের অনিয়ন্ত্রিত ও নিরাপত্তাহীন খনন কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বর্ণের ওপর নির্ভরশীল সুদানের যুদ্ধ অর্থনীতি সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির স্বর্ণের বড় একটি অংশই আসে অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ খনি থেকে। অনেক ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত, অনিবন্ধিত কিংবা যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত স্থানে শ্রমিকরা স্বর্ণ উত্তোলন করেন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বর্ণ সুদানের অর্থনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ বা চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে স্বর্ণ উত্তোলনের প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এতে শ্রমিকদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি উদ্ধারকাজেও তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। আল-জারা খনিতে সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি সেই ঝুঁকিকেই আবার সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতির অনুপস্থিতিতে স্থানীয় মানুষই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরানের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই দ্রুত বাড়তে থাকা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হতে পারে। দেশটির ফেডারেল রিজার্ভ জানিয়েছে, তারা সুদের হার এক-চতুর্থাংশ শতাংশ পয়েন্ট (২৫ বেসিস পয়েন্ট) বাড়াবে।জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেড’ বুধবার ঘোষণা করেছে, তারা সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের সীমার মধ্যে নিয়ে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এক বিবৃতিতে ফেড জানিয়েছে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম জোরালো গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বা ভোগ বেশ স্থিতিশীল রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুদ্রাস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আজকের নীতিগত পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতিকে কমিটির নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। কমিটি মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। বুধবার হার বাড়ানোর পর ফেডের ত্রৈমাসিক পূর্বাভাস অনুযায়ী কর্মকর্তারা চলিতি বছর আরও একবার সুদের হার বাড়ানোর আশা করছেন। একই সঙ্গে আগামী বছরজুড়ে এই হার অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধারণা করছেন। মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সিএমই ফেডওয়াচ’ পূর্বাভাস দিয়েছিল, ফেডের সুদের হার বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করার সম্ভাবনা ৯২.৩ শতাংশ। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এক-চতুর্থাংশ শতাংশ হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার পূর্বাভাস ছিল ৪০ শতাংশ। অর্থনীতির ওপর চাপ ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে পাইকারি বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যার প্রভাবে জ্বালানির দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে অনেক পণ্য ও সেবার দামও বেড়ে গেছে। ওয়ার্শ বলেন, যদিও ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের দাম, যেমন তেলের দাম বা মুদি দোকানের খাদ্যপণ্যের দাম সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন পদক্ষেপ নিতে পারে যাতে মূল্যবৃদ্ধি পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি আরও বলেন, শ্রমবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ফেড মূল্য স্থিতিশীল রাখার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে। আর মুদ্রাস্ফীতি কমলে সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। আগস্ট মাসে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম শূন্য দশকি ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রসারে বিপুল বিনিয়োগও পণ্যের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বার্ষিক হিসেবে দাম তিন দশমিকক ৪ শতাংশ বেড়েছে—যা জুলাইয়ের বৃদ্ধির হারের সমান—এবং একই সময়ে শ্রমবাজারও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এরপর থেকে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্কের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। মঙ্গলবার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। দৈনিক পেট্রোলের দামের ওপর নজর রাখা সংস্থা ‘আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম এখন ৪ দশমিক ৩৬ (প্রতি লিটার ১.১৫ ডলার)। গত এক সপ্তাহে এর দাম ১৪ সেন্ট বেড়েছে এবং গত মাসে এই দাম ছিল ৪ দশমিক শুন্য ছয় ডলার (প্রতি লিটার ১.০৭ ডলার)। অন্যদিকে, ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ছয় দশমিক ৩১ ডিলার (প্রতি লিটার ১.৬৭ ডলার), যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ এবং এক বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ ফল-সবজি থেকে শুরু করে ইস্পাত ও সিমেন্ট সবকিছু পরিবহনেই ট্রাকের জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। একই সময়ে ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা আয়ের হার মঙ্গলবার মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম করে ৫ দশমিক শূন্য দুই শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গাড়ি ও বাড়ির ঋণের মতো বিভিন্ন ঋণের সুদের হারের ক্ষেত্রে এই ইল্ড একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে এবং এটি মুদ্রাস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুলের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিষয়ক অধ্যাপক এবং নিরপেক্ষ অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি বিষয়ক প্রকাশনা ‘ইকোনোফ্যাক্ট’-এর নির্বাহী সম্পাদক মাইকেল ক্লেইন বলেন, অর্থনীতি এখন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বেকারত্বের হার সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে, অন্যদিকে উচ্চমূল্য পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় মুদ্রাস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ক্লেইন আরও বলেন, মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি হওয়ায় সুদের হার বাড়ানোর জন্য চেয়ারম্যান ওয়ার্শের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্পের চাপ, কারণ প্রেসিডেন্ট ক্রমাগত সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। সুদের হার বৃদ্ধি সাধারণত অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়। তবে বাজার যদি আগে থেকেই সুদের হার বাড়ার বিষয়টি আঁচ করতে পারে, তবে সেই প্রত্যাশা আগেই মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে তখন আর এটি নতুন কোনো খবর হিসেবে গণ্য হয় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে বন্ডের ইল্ড বা আয়ের হার স্থিতিশীল থাকতে সহায়তা করবে। সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আল জাজিরার অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। সুদের হার বিষয়ক সিদ্ধান্তের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তার কম হওয়া উচিত, কারণ ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার বিচারে আমরাই বিশ্বের সেরা এবং তা-ও অনেক বড় ব্যবধানে। নতুন বিনিয়োগের ফলে আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন দারুণভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমানো হোক এবং তা দ্রুত করতে হবে। তবে তিনি সরাসরি ওয়ার্শের নাম উল্লেখ করেননি। সুদের হার না কমানোর কারণে ট্রাম্প এর আগে বারবার ওয়ার্শের পূর্বসূরি জেরোম পাওয়েলের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি সরকার পাওয়েলের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্তও শুরু করেছিল। ওই সময় পাওয়েল বলেছিলেন, ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই এসব ‘অজুহাত’ খাড়া করা হয়েছিল। সূত্র: আলজাজিরা, বিসিসি।
ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ পেরিয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শীর্ষক প্রস্তাবিত বিলটির ওপর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রস্তাব ২১৪-২১১ ভোটে অনুমোদিত হয়। সিনেটে আগেই ৮৬-১১ ব্যবধানে পাস হওয়া আইনটি প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্বাক্ষর করে আইনি রূপ দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জমা দেওয়া এক সংশোধনীতে বলা হয়, রাশিয়ার তেল বা জ্বালানি পণ্য ক্রয় অব্যাহত রাখায় সম্ভাব্য এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ১০টি দেশ হলো—ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় সংকুচিত করে ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অর্থের যোগান পুরোপুরি বন্ধ করা। এই বিলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও তাদের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে তেল বহনে ব্যবহৃত গোপন ‘ছায়া বহর’ (শ্যাডো ফ্লিট)-এর ওপর কঠোর নজরদারি ও শাস্তির সিদ্ধান্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন নীতিপ্রণেতারা মনে করছেন, ভারতসহ এশিয়ার শীর্ষ ক্রেতারা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প উপায়ে তেল আমদানি চালু রাখায় এবার মিত্রদের ওপরও শুল্কের অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই শুল্ক বিলের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। তার দাবি, এই বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে শুল্ক চাপানোর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা দেবে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক জোট ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ধস নামাতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক শিথিলতা বিশ্ব সহ্য করতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এআইয়ের বিকাশের ঝুঁকি মানুষের বোঝাপড়ার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন গুতেরেস। বিশ্বের বিভিন্ন হুমকির প্রসঙ্গ তুলে এআই নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কথাও জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। গুতেরেস বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে এআইয়ের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’ তবে ‘এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানই এখন সতর্কবার্তা দিচ্ছে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। মহাসচিব বলেন, ‘তাদের আশঙ্কা, এআইয়ের উন্নয়ন এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষের বোঝাপড়ার চেয়ে অনেক দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।’ গুতেরেস বলেন, এআইকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক বিভাজন এবং সেখান থেকে তৈরি হওয়া নানা প্রলোভন সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে এআই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্ব ‘নিচের দিকে দৌড়’ চালানোর সামর্থ্য রাখে না। তিনি আরও বলেন, ‘এআইয়ের ওপর আস্থা তৈরি করতে নিরাপত্তা কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে এআইকে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে এবং এর কেন্দ্রে মানবিক মর্যাদাকে রাখতে হবে।’ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সুদানের পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যে একটি স্বর্ণের খনি ধসে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আল-নুহুদ শহরের কাছে আল-জারা স্বর্ণের খনিতে পরপর কয়েকটি সংযুক্ত খনিশাফট ধসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে বহু ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। বুধবার কোরদোফান অবজারভেটরি নামের একটি পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজন শ্রমিক মাটির নিচে আটকা থাকতে পারেন। তবে ঘটনাস্থলে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা সাধারণ ও সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধসে পড়া বালুময় মাটি সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। রাতভর উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খনিশ্রমিক খাইর আল-সাইয়েদ জাবারা বুধবার এএফপিকে বলেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা রাতভর নিজেদের হাতে থাকা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া উদ্ধারকাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, আর কতজন এখনও খনির ভেতরে আটকা পড়ে আছেন, তা তারা জানেন না। আরেক শ্রমিক আমিন সুলেইমান জানান, খনির শাফটগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি ছিল। একটি শাফট ধসে পড়ার সময় পাশের শাফটগুলোও ধসে যায়। এতে একসঙ্গে বড় অংশের খনি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং বহু শ্রমিক আটকা পড়েন। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দুর্ঘটনার পর খনিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবই এত বেশি প্রাণহানির অন্যতম কারণ হতে পারে। খার্তুমভিত্তিক চিকিৎসা সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির অভিযোগ, খনিতে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে শ্রমিকদের জীবন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক আরও বলেছে, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় খনি দুর্ঘটনা পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরএসএফের ভয়াবহ সংঘাত চলছে। যুদ্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম কর্দোফানসহ বিভিন্ন এলাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ উত্তোলনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের দাবি, আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা মানদণ্ড, শ্রমিক সুরক্ষা এবং উদ্ধার সরঞ্জাম ছাড়া খনন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বেসামরিক মানুষের জীবন সরাসরি হুমকির মুখে পড়ছে। সংগঠনটি খনির ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যারা ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের অনিয়ন্ত্রিত ও নিরাপত্তাহীন খনন কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বর্ণের ওপর নির্ভরশীল সুদানের যুদ্ধ অর্থনীতি সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির স্বর্ণের বড় একটি অংশই আসে অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ খনি থেকে। অনেক ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত, অনিবন্ধিত কিংবা যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত স্থানে শ্রমিকরা স্বর্ণ উত্তোলন করেন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বর্ণ সুদানের অর্থনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ বা চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে স্বর্ণ উত্তোলনের প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এতে শ্রমিকদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি উদ্ধারকাজেও তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। আল-জারা খনিতে সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি সেই ঝুঁকিকেই আবার সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতির অনুপস্থিতিতে স্থানীয় মানুষই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।