পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজক রিমা খান ক্যারিয়ারের এক বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি জানান, ‘মিস ইস্তাম্বুল’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন তিনি একজন সহঅভিনেত্রীকে চড় মেরেছিলেন। বহু বছর পর সেই ঘটনার জন্য এখন গভীর অনুশোচনা বোধ করছেন এই তারকা। রিমা খান তার সমসাময়িক চলচ্চিত্র জগতে অন্যতম মার্জিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ‘বুলন্দি’ সিনেমার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে ‘নিকাহ’, ‘হাতি মেরে সাথী’ এবং ‘কোই তুঝ সা কাহান’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি তিনি উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসক স্বামী তারিক শাহাবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রিমা জানান, তখন তার বয়স ছিল ১৮ থেকে ২৫-এর মধ্যে। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত ঝগড়া বিবাদে জড়ানোর মতো মানুষ ছিলাম না, কিন্তু সেই বয়সে মানুষকে খুব সহজেই উসকে দেওয়া সম্ভব ছিল।’ ঘটনাটি ঘটেছিল ইসলামাবাদে শামীম আরা পরিচালিত ‘মিস ইস্তাম্বুল’ সিনেমার সেটে। রিমা জানান, জনৈক এক সহঅভিনেত্রী তার সঙ্গে দুইবার দুর্ব্যবহার এবং আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন। তার কথায়, ‘হঠাৎ আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি এবং সবার সামনে তাকে চড় মারি।’ সেই অভিনেত্রীর নাম প্রকাশ না করলেও রিমা জানিয়েছেন, তিনি এখনো ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয়। রিমার ভাষ্য, ‘আজও আমি সেই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল। আমি এখন তার জন্য দোয়া করি এবং ভাবি—যদি আমি বিষয়টি অন্যভাবে সামাল দিতাম! কখনো কখনো সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।’ যদিও রিমা সরাসরি কারো নাম নেননি, তবে পাকিস্তানি গণমাধ্যমের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ‘মিস ইস্তাম্বুল’ সিনেমায় রিমার সহশিল্পী ছিলেন অভিনেত্রী মীরা। নব্বইয়ের দশকে এই দুই তারকার পেশাদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রেষারেষি বিনোদন জগতে বহুল আলোচিত ছিল। তবে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে রিমা এই ধরণের ‘নম্বর ওয়ান বনাম নম্বর টু’ লড়াইকে মিডিয়ার সৃষ্টি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, শিল্পীদের মধ্যে ততটা রেষারেষি থাকে না যতটা সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়। সূত্র: সামা টিভি
যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দিয়েছিল ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মুখে আবারও সেটি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নেয়, তবে বন্ধই থাকবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি। রোববার (১৯ এপ্রিল) ওই দাবির পর ‘নিরাপদ করিডর ও ফি নিয়ে জাহাজ পারের’ পথও বন্ধ করে দিয়েছে আইআরজিসি। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের বন্দর এবং জাহাজগুলোর ওপর থেকে তাদের নৌ-অবরোধ তুলে না নেবে, ততক্ষণ এই নৌপথটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে ইরান তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এর আগে জানানো হয়েছিল, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। আইআরজিসির নৌবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি কোনো জাহাজ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচল করার চেষ্টা করে, তবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিতে পারবে না। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, প্রণালিটি তাদের নিয়ন্ত্রণে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে সেটি খোলা হবে না।
শেষ অনেক দিন ধরেই ব্রাজিল নিজেদের ছায়া হয়ে আছে ফুটবল জগতে। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ২০২৬ সালেও যে বিশ্বকাপ জিতবে, এমন আশাও ক্ষীণ। এমনটা ভাবছেন অধিকাংশ ব্রাজিলীয়ই। যার ফলে বিশ্বকাপ নিয়েও আগ্রহে ভাটা পড়েছে তাদের। সম্প্রতি এক জরিপে উঠে এসেছে এমন সব তথ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৪ শতাংশ ব্রাজিলীয়র বিশ্বকাপ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। মাত্র ১২ শতাংশ উত্তরদাতা ‘রোমাঞ্চিত’। আর ৬৮ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান মনে করেন, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এবারও বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হয়েছিল এ জরিপ। তার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। ব্রাজিল ফুটবল নিয়ে এমন চরম হতাশার চিত্র আর কখনো দেখা যায়নি। এটিই বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্রাজিলীয়দের মনোভাব জানার জন্য পরিচালিত জরিপের ইতিহাসে সবচেয়ে হতাশাজনক ফল। এমন হতাশার পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে ব্রাজিলের ফর্ম। সবশেষ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পঞ্চম হয়ে বিশ্বকাপে পা রেখেছে সেলেসাওরা। বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে ২ বার। এই বাছাই শেষেও দলটা হেরেছে জাপানের মতো দলের কাছে। সব মিলিয়ে ফর্মটা মোটেও পক্ষে নেই তাদের। তারই ছাপ পড়েছে ব্রাজিলিয়ানদের বিশ্বাসেও। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে হলুদ-সবুজ জার্সি গায়ে নেইমারকে দেখা যাবে কি না, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ধাঁধার উত্তর মিলবে ১৮ মে। ওইদিন বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সম্প্রতি প্রকাশিত সেই জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে, ব্রাজিলের শতকরা ৪৭ ভাগ মানুষ বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে চান না। আর দলে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিপক্ষে ৪৫ শতাংশ মানুষ। বাকি আট শতাংশ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছুই বলেননি।
প্রখর রোদ, ঘাম আর ধুলাবালির কারণে গরমকালে চুলের সমস্যা বেড়ে যায়। চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত চুল পড়া কিংবা খুশকির মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। তাই এই সময়ে একটু বাড়তি যত্ন নিলেই চুল থাকবে সুস্থ ও প্রাণবন্ত। নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখুন গরমে মাথার ত্বক বেশি ঘামে, ফলে ময়লা জমে যায়। তাই সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন। তবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভালো। তেল ব্যবহার করুন চুলের পুষ্টির জন্য সপ্তাহে ১-২ বার নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলকে নরম ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে। হিট স্টাইলিং কমান গরমে হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহার কমিয়ে দিন। অতিরিক্ত তাপ চুলকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে করে চুলের রুক্ষতা রোধ করা যাবে। হাইড্রেশন বজায় রাখুন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শুধু শরীরই নয়, চুলও ভালো থাকে। পানিশূন্যতা চুলকে শুষ্ক ও দুর্বল করে তোলে। প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক ব্যবহার ডিম, দই, অ্যালোভেরা বা মেথি দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে চুল পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। বাইরে গেলে চুল ঢেকে রাখুন রোদে বের হলে ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চুল সুরক্ষিত থাকবে। স্বাস্থ্যকর খাবার প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন-ডিম, মাছ, শাকসবজি ও ফলমূল চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এতে চুল থাকবে সুস্থ ও প্রাণবন্ত। সূত্র : এনডিটিভি
কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে একদিনে ৩২ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করে ৩০ জনের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক সূত্রে জানা যায়, একই দিনে পৃথক আরেকটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে আরও ২ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। এতে করে স্বজনদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছিল। পরবর্তীতে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে কুয়েতে আটকে থাকা ৩০ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ভিসানীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের সমর্থন করবে বা মার্কিন স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের জন্য ভিসা সীমিত বা বাতিল করা হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে (১৬ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব জোরদারে যে পরিকল্পনা নিয়েছেন—যা ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিত—এই পদক্ষেপ সেই কৌশলেরই অংশ। এই নীতির আওতায় তাদেরই টার্গেট করা হবে, যারা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুপক্ষকে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে— কৌশলগত সম্পদ বা প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনো দেশের স্থিতিশীলতা দুর্বল করতে প্রভাব বিস্তার যদিও বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব কমানো এবং মাদক পাচার দমনে চাপ বাড়াতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ইরান সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনপন্থী কিছু আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই ভিসানীতি কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর আগে ব্রাজিলের বিচারপতি আলেকসান্দ্রে দে মোরায়েস এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর নামও বিতর্কিত ভিসা তালিকায় উঠে এসেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র এখন ভিসানীতিকে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে তার পদ থেকে এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এছাড়া, পৃথক আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার তদন্তে কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ছাত্রাবাসে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে ঘিরে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে ধস্তাধস্তি ও মারধরে রূপ নেয়। পরবর্তীতে প্রতিশোধমূলক হামলায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী মীর হামিদুর ও মো. মুয়াজকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। উভয়ের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আগামী সাত দিনের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে, কলেজ প্রশাসন পৃথকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
আবাসন খাতের সংগঠন বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব)-এর দ্বিবার্ষিক (২০২৬–২০২৮) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে ২৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান ড. মো. আলী আফজাল। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ২১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোট গণনা শেষে রাত ১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি–১ পদে মোহাম্মদ আকতার বিশ্বাস, সহ-সভাপতি–২ আবু খালিদ মো. বরকতুল্লাহ এবং সহ-সভাপতি–৩ এ.এফ.এম. উবাইদুল্লাহ নির্বাচিত হন। অর্থ বিষয়ক সহ-সভাপতি পদে ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক পদে মো. লাবিব বিল্লাহ সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। আবাসন খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বাজার স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও গাজার আদলে ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, এই সীমারেখা অতিক্রম করলে সরাসরি হামলা চালানো হবে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই ‘ইয়েলো লাইন’-এর দক্ষিণ অংশ ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং উত্তর দিক থেকে আসা সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হবে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনারা কিছু ‘সন্ত্রাসীকে’ শনাক্ত করে, যারা তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল এবং তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর একই ধরনের ‘ইয়েলো লাইন’ চালু করা হয়, যা কার্যত অঞ্চলটিকে দুই সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকায় ভাগ করে দিয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। একই সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু কৌশলগত এলাকা দখলের অভিযোগও উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল-এর ওপর হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে লেবানন সরকার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাগের গালিবাফ ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তেহরানের সামরিক সক্ষমতারও জানান দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী ১৮০টি ড্রোন এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আঘাত করেছে। "এফ-৩৫ আঘাত করা একক ঘটনা নয়; এটি কারিগরি ও নকশা সক্ষমতার বিভিন্ন দিক জুড়ে একটি অভিযান," বিচার বিভাগের সরকারি সংবাদ মাধ্যম মিজান নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত গালিবাফের বক্তব্যে এ কথা বলা হয়েছে। "এফ-৩৫-এর কাছে যে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়েছিল, তা শত্রুকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে আমাদের কী সক্ষমতা রয়েছে এবং কোন দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।" গত মাসে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরানের ওপর যুদ্ধকালীন অভিযান চালানো একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান অঞ্চলটির একটি বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। সিএনএন, দুই অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন করেছে, ইরানি গোলার আঘাতে বিমানটি আক্রান্ত হওয়ায় জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও গাজার আদলে ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, এই সীমারেখা অতিক্রম করলে সরাসরি হামলা চালানো হবে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই ‘ইয়েলো লাইন’-এর দক্ষিণ অংশ ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং উত্তর দিক থেকে আসা সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হবে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনারা কিছু ‘সন্ত্রাসীকে’ শনাক্ত করে, যারা তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল এবং তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর একই ধরনের ‘ইয়েলো লাইন’ চালু করা হয়, যা কার্যত অঞ্চলটিকে দুই সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকায় ভাগ করে দিয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। একই সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু কৌশলগত এলাকা দখলের অভিযোগও উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল-এর ওপর হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে লেবানন সরকার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরদিন গতকাল শনিবার আবার তা বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ায় তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অবশ্য এর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন কিছু প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরান হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার কিছুক্ষণ পর গতকাল প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টাকালে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে ইরানের নৌবাহিনী। জাহাজ দুটি ভারতের পতাকাবাহী। আগের দিন হরমুজ খুলে দেওয়ার পর থেকে গতকাল গুলির ঘটনার আগে ৩টি জাহাজসহ ১২টির বেশি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে। গতকাল কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর কাছ থেকে একটি রেডিও বার্তা পেয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, নৌপথটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিজেদের সেনা দিবস উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী তাদের শত্রুদের ওপর নতুন তিক্ত পরাজয় চাপিয়ে দিতে প্রস্তুত। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত করা জরুরি উল্লেখ করে গতকাল ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা বৈঠকের সময় চূড়ান্ত করতে পারছি না।’ উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আমি এখন আলোচনার চেয়ে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কাই বেশি দেখছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘জলদস্যুতায়’ হরমুজ বন্ধ ঘোষণা ইরানের ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড খতম আল-আম্বিয়া গতকাল এক বিবৃতিতে মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, ‘এ কারণেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরমুখী এবং ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা না দেবে, ততক্ষণ এ কড়াকড়ি বজায় থাকবে। গতকাল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘোষিত ‘ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঢুকতে বা বের হতে যাওয়া জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ’ অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ক্যানবেরা এ অবরোধের অংশ হিসেবে আরব সাগরে টহল দিচ্ছে। এ অভিযান চলাকালে এখন পর্যন্ত ২৩টি জাহাজ মার্কিন নির্দেশ মেনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরান আমাদের জিম্মি করতে পারবে না ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করার পর গতকাল ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রণালির ভাগ্য নিয়ে লুকোচুরি খেলে তারা ওয়াশিংটনকে যেন জিম্মি করার চেষ্টা না করে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আপনারা জানেন, তারা আবারও প্রণালিটি বন্ধ করতে চেয়েছিল। এটা তারা বছরের পর বছর ধরে করে আসছে; কিন্তু তারা আমাদের জিম্মি করতে পারবে না।’ ট্রাম্প গতকাল বলেন, ‘দিনের শেষ দিকে ইরান সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা বেশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।’ সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে চায় ইরান গতকাল তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের এক ফাঁকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার কাঠামো চূড়ান্ত করার দিকে মনোনিবেশ করছি। আমরা এমন কোনো আলোচনা বা বৈঠকে বসতে চাই না, যা ব্যর্থ হতে বাধ্য এবং যা নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির অজুহাত হতে পারে।’ আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ইসলামাবাদের লজিস্টিকস বা প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় নিলে বলতে হয়, দু–এক দিনের মধ্যে এখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রায় ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ শেষে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা প্রায় ২১ ঘণ্টা সরাসরি বৈঠক করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। এরপর ইরানের নৌবন্দরে অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ১৩ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হয়। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সত্ত্বেও পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সরাসরি বৈঠকে ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তেহরানে তিন দিনের সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। আসিম মুনিরের তেহরান ত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তেহরানে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইরান বর্তমানে সেগুলো পর্যালোচনা করছে, কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত জবাব দেয়নি। তবে ইরান কোনো আপস করবে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। ...যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় এ নৌপথ শর্তসাপেক্ষ বা সীমিত আকারে খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। ...ভবিষ্যতে এই পথ খুলে দেওয়া হলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ট্রানজিট সার্টিফিকেট দেবে ইরান। পাশাপাশি ওই সব জাহাজকে নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার সেবা বাবদ নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। লেবাননে হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বাইত লিফ, কান্তারা ও তুলিন শহরে কামানের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বুলডোজার দিয়ে লেবাননের ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়ি ধ্বংস ও ভূমি সমান করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন ইসরায়েলের সেনারা। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী হামলার কথা নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যেসব এলাকায় এখনো ইসরায়েলের সেনারা অবস্থান করছেন, সেখানে লেবাননের যোদ্ধারা অগ্রসর হওয়ায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর এক হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হামলা জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন। ইরানপন্থী গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ফরাসি কন্টিনজেন্টের সদস্যদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘চালাকি’ ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর ওভাল অফিসে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়া জানান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান যেভাবে নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছে, এবারও তারা কিছুটা ‘চালাকি’ করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইরান আমেরিকাকে কোনোভাবেই ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। ট্রাম্প বলেন, তারা পুনরায় জলপথটি বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল, যা তারা বছরের পর বছর ধরে করে আসছে, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। তবে হুঁশিয়ারি দিলেও ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক সুর মিলিয়ে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং সবকিছু বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। দিন শেষে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।