মানুষ বাঁচাতে হলে ভালো ভালো ডাক্তার বানাতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিকতায় ভালো ডাক্তার হিসেবে তৈরি করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। মানুষ বাঁচাতে হলে ভালো ভালো ডাক্তার বানাতে হবে, এ ব্যাপারে মোটিভেশন চালাতে হবে বেসরকারি মেডিকেল খাতকে। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করতে হবে, যেন তারা চাপের মুখে হতাশায় না ভোগে।’ শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) বার্ষিক সম্মেলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসেব কথা বলেন। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে দেশের হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ এপ্রিল সারা দেশে টিকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যথেষ্ট ত্যাগ ও ধৈর্য নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালে তারা রোগীদের জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’ বিপিএমসিএর সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহম্মদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিপিএমসিএর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সহসভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, সহসভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর, ইউনিভার্সল মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী। বার্ষিক সম্মেলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে বিকেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার প্রথম দিনেই সুখবর পেল ইরান। ইরানের স্থগিত সম্পদ ছাড় দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর ইরান আলোচনায় অংশ নিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে সম্মত হয়েছে কিনা তা জানায়নি। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। যেটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নজরদারির সম্মুখীন হয়।’ এ তথ্য দ্রুত পাকিস্তানে থাকা ইরানি আলোচক দলকেও জানানো হয়। শনিবার (১১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। একই সময়ে অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যদিও ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনের এই তথ্যটি অস্বীকার করেছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা টানা ১৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ সময় চিকিৎসা না পেয়ে ৫ চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে শমশেরনগর চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হাসপাতাল বন্ধ থাকায় গত শুক্র ও শনিবার আলীনগর চা বাগানে দুই শ্রমিক মারা গেছেন। এছাড়া কানিহাটি চা বাগানে দুই এবং চাতলাপুর চা বাগানে এক শ্রমিক চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। সীতারাম বীন বলেন, ক্যামেলিয়া হাসপাতালে ১৬ দিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এতে শ্রমিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু করতে হবে এবং হাসপাতাল বন্ধের ঘটনায় তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। চা শ্রমিকদের জন্য ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি ছিল দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র। নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন এটি প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে বাগানের শ্রমিক, তাদের পরিবার ও কর্মকর্তারা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন। জরুরি প্রয়োজনে আশপাশের সাধারণ মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি রবিদাস (১৩) মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পরিবার রাজি না হওয়ায় পরদিন সকালে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। এরপর একদল লোক হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের হেনস্তা করে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শমশেরনগর চা বাগান সূত্র জানায়, ঘটনার পর ২৯ মার্চ একটি জরুরি বৈঠক হলেও হাসপাতাল পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইংল্যান্ডে অবস্থিত ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া কার্যক্রম চালু করা সম্ভব নয় বলে জানা গেছে। এদিকে, চা বাগানের একাধিক নারী শ্রমিক অভিযোগ করেন, হাসপাতাল বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সংকটে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই ফাউন্ডেশনের অধীন লংলার ক্যামেলিয়া স্কুলের কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে তারা জানান। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক উপদেষ্টা রামভজন কৈরী বলেন, কিশোরীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তবে হাসপাতাল বন্ধ না করে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা প্রয়োজন। শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি পৃথক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মালবাহী ট্রাক নদীতে পড়ে গেছে। এ সময় ট্রাকচাপায় এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার পাটুলী ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম আপন (৩৫)। তিনি শাহপুর গ্রামের ইস্রাফিল মিয়ার ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে একটি মালবাহী ট্রাক পাটুলী ঘাট থেকে ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুনে ওঠার মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে ট্রাকটি উল্টে নদীতে পড়ে যায়। এ সময় ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা আপন ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নদীতে পড়ে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধারের কাজ চলছে। এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শহিদুল্লা বলেন, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মালদ্বীপের রাজধানী মালে একটি ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে হানজালা নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেশটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মালের সবধেলি মাগু এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পাশের ভবনের টিনের চালে পড়ে গুরুতর আহত হন হানজালা। পরে তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান। নিহত হানজালা চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং আবদুল সামাদের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ৭ থেকে ৮ মাস আগে তিনি মালদ্বীপে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। স্বজনদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি ছাদে থাকা গাছগুলোর পরিচর্যা করছিলেন। একপর্যায়ে গাছের সুরক্ষায় দড়ি বাঁধার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে যান। বর্তমানে তার মরদেহ দেশে পাঠাতে সরকারি সহায়তা চেয়েছে পরিবারটি, কারণ তাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল।
দাম্মাম-এ কর্মস্থলে দেয়াল ধসে মোহাম্মদ ইউসুফ (২৪) নামের এক বাংলাদেশি তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ সেনবাগ উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত বেচু মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে মাত্র চার মাস আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইউসুফ একটি নবনির্মিত বাড়িতে ইলেকট্রিক্যাল কাজের জন্য দেয়াল ভাঙছিলেন। এ সময় হঠাৎ পুরো দেয়ালটি ধসে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, ইউসুফ শৈশবেই বাবা-মাকে হারিয়েছেন। তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও মাত্র এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবাসে গিয়ে এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে তার মরদেহ দাম্মামের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের এক অপারেটর জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ইউনিট পাঠানো হয়। বর্তমানে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয়দের ধারণা, ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি গুদামঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি ফায়ার সার্ভিস।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং সংসদে কথা বলার দক্ষতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে—এমন প্রার্থীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শুক্রবার প্রায় ৫০০টির বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে এবং শনিবার সকাল থেকে পুনরায় ফরম বিতরণ চলছে। তিনদিনব্যাপী এই কার্যক্রমের মধ্যে আবেদন গ্রহণ ও জমা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আবেদনকারীদের জমা দেওয়া ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে। সেখানেই চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রার্থী বাছাই করবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আগ্রহীরা নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিসহ জমা দেবেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে বিএনপি। এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে ঘিরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান তুলে ধরতে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এই সংলাপ ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ১. মধ্যস্থতায় পাকিস্তান: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানের সঙ্গে দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানকে ভালোভাবে বোঝেন। ২. যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের প্রস্তাব: ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৩. বিকল্প ১৫ দফা প্রস্তাব: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আরও একটি ১৫ দফা প্রস্তাবের কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ৪. এখনো প্রকাশ হয়নি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব: উভয় পক্ষের প্রস্তাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যদিও কিছু অংশ ফাঁস হওয়ার খবর রয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে। সূত্র : বিবিসি।
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরানের জব্দ করে রাখা সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং ইসলামাবাদে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরানের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, “রয়টার্সে প্রকাশিত এ তথ্য সঠিক নয়।” এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শর্ত দেন—লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ এবং জব্দ সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে না তেহরান। প্রথমদিকে ইরানের এই শর্ত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় পুরো সংলাপ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিপরীতমুখী অবস্থান দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে নির্ধারিত সংলাপে ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ঘাটতির কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন দলের নেতারা। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই সংলাপের ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ সদিচ্ছা রয়েছে, কিন্তু আস্থা খুব কম।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রতিটি সংলাপই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা ও চুক্তিভঙ্গের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এমনকি আলোচনার মাঝপথেও ইরানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘালিবাফ বলেন, “আমাদের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা অতীতে একাধিকবার আক্রমণ চালিয়েছে এবং বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে।” তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তরিকতা দেখায়, তাহলে ইরানও একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে চুক্তিতে আসতে এবং ইরানের জনগণের অধিকার স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে আমরাও চুক্তির জন্য প্রস্তুত।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংলাপকে যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, তাহলে ইরান কঠোর জবাব দিতে পিছপা হবে না। ঘালিবাফ বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সক্ষমতা দেখিয়েছি। যদি এটি একটি লোকদেখানো প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়, তাহলে আমরা আমাদের জনগণের শক্তির ওপর ভর করে নিজেদের অধিকার রক্ষা করব।” এদিকে, সংলাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলও ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে দলটি ওয়াশিংটন থেকে পাকিস্তানে এসেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এই সংলাপ ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ১. মধ্যস্থতায় পাকিস্তান: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানের সঙ্গে দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানকে ভালোভাবে বোঝেন। ২. যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের প্রস্তাব: ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৩. বিকল্প ১৫ দফা প্রস্তাব: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আরও একটি ১৫ দফা প্রস্তাবের কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ৪. এখনো প্রকাশ হয়নি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব: উভয় পক্ষের প্রস্তাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যদিও কিছু অংশ ফাঁস হওয়ার খবর রয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে। সূত্র : বিবিসি।
ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ শুরুর প্রাক্কালে ‘সতর্ক আশাবাদ’ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আলোচনার ফলাফল আগে থেকে নির্ধারিত নয়। তবে তিনি প্রতিনিধি দলের দক্ষতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক কী হয়। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ এবং জ্যারেড রয়েছে। আমাদের একটি শক্তিশালী দল আছে—তারা আগামীকাল বৈঠকে বসছে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনাটি কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যেমন হরমুজ প্রণালি, এই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে। আমরা যদি এটি ছেড়ে দিই, তাহলে এটি এমনিতেই খুলে যাবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল না হলেও অন্যান্য দেশ এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। আলোচনা ব্যর্থ হলে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের প্রয়োজন নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হবে না। অন্যদিকে, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে একই সঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা যেন কোনো ধরনের কৌশলী আচরণ বা ‘চতুরতা’ প্রদর্শনের চেষ্টা না করে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নিজেকে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং একটি সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দেশটি মূলত সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ জানান, এই পর্যায়ে পৌঁছাতে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি একটি যৌথ কূটনৈতিক সাফল্য, যেখানে তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরসহ একাধিক দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।” তিনি আরও জানান, প্রতিনিধি দলগুলো ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাগুলো মেনে চলাই হবে আলোচনার সফলতার প্রধান শর্ত। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই সংলাপে দুই পক্ষের গঠনমূলক মনোভাবই ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র : ডন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।