সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট হাইকোর্টে খারিজের পর এবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন আইনজীবী। বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনূছ আলী আকন্দ। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের পক্ষে শুনানি করেন তিনি নিজেই। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’ আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।
ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এসব সামগ্রীর চালানবাহী ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত কাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এনবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, “এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি ব্যাপার জানতে পেরেছি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।” ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে এ কোম্পানি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান। এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাদ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে। ইরানকে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তরা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
খুলনা নগরের রায়েরমহল এলাকায় ‘ছেলেধরা সন্দেহে’ এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারধরে জড়িত সন্দেহে দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে মারধরে আহত যুবক সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) হুমায়ুন কবির। নিহত ২৬ বছর বয়সি রাজু শিকদার বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। সহকারী পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজু নগরের আড়ংঘাটা থানা এলাকার রায়েরমহল বাজারের বড় মসজিদের পাশ থেকে একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন রাজুকে আটক করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের আরও লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাকে পিটুনি দেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজুর সঙ্গে থাকা শিশুটি তার পরিচিত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যেই মারধরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
চাকরি বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন অবনমনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এর আগে গত ২৩ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছিল। বিএসইসির একটি সূত্র কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম। এছাড়া উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান; সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ রয়েছেন এ তালিকায়। অন্যদিকে বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম ও মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বিএসইসির পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। বিএসইসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে দুই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনায় সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে চেয়ারম্যান-কমিশনারদের মধ্যে অবরুদ্ধ হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। এবার চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চাকরি বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন অবনমনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এর আগে গত ২৩ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছিল। বিএসইসির একটি সূত্র কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম। এছাড়া উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান; সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ রয়েছেন এ তালিকায়। অন্যদিকে বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম ও মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বিএসইসির পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। বিএসইসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে দুই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনায় সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে চেয়ারম্যান-কমিশনারদের মধ্যে অবরুদ্ধ হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। এবার চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট হাইকোর্টে খারিজের পর এবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন আইনজীবী। বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনূছ আলী আকন্দ। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের পক্ষে শুনানি করেন তিনি নিজেই। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’ আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।
খুলনা নগরের রায়েরমহল এলাকায় ‘ছেলেধরা সন্দেহে’ এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারধরে জড়িত সন্দেহে দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে মারধরে আহত যুবক সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) হুমায়ুন কবির। নিহত ২৬ বছর বয়সি রাজু শিকদার বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। সহকারী পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজু নগরের আড়ংঘাটা থানা এলাকার রায়েরমহল বাজারের বড় মসজিদের পাশ থেকে একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন রাজুকে আটক করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের আরও লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাকে পিটুনি দেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজুর সঙ্গে থাকা শিশুটি তার পরিচিত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যেই মারধরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এসব সামগ্রীর চালানবাহী ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত কাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এনবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, “এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি ব্যাপার জানতে পেরেছি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।” ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে এ কোম্পানি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান। এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাদ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে। ইরানকে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তরা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। পরে বুধবার (১৯ আগস্ট) এ বরাতে খবর প্রকাশ করে আলজাজিরা। আরাঘচি বলেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ নীতির অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উত্তেজনা দূর করতে হবে। পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে ‘প্রাদেশিক কূটনীতি’ বা প্রতিবেশীভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতারও প্রশংসা করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, কিছু দেশ ইরানে পণ্য ও ওষুধ সরবরাহ করেছে, বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ইরানিদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে এবং ইরানি বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তার ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না; আমরা যুদ্ধের অবসান চাই।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি ইরান চায় না যেখানে একটি সংঘাত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থেমে গিয়ে কয়েক মাস পর আবার শুরু হয় এবং সেটিই ভবিষ্যতে একটি নিয়মিত ধরনে পরিণত হয়। সূত্র: আলজাজিরা
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এসব সামগ্রীর চালানবাহী ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত কাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এনবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, “এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি ব্যাপার জানতে পেরেছি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।” ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে এ কোম্পানি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান। এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাদ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে। ইরানকে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তরা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) শীর্ষ দুই কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তরা হলেন, বৈশ্বিক এই আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের আইসিসিকে ‘ভেঙে দেওয়ার’ প্রচেষ্টার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার থাকা আদালটির সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১২০টির বেশি। রুবিও অভিযোগ করেন, আকানে ও সেয়ে এমন কর্মকর্তাদের বিচারের আইসিসির প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন, যাদের সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে বিচারিক এখতিয়ার দেওয়া হয়নি। তিনি আইসিসিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও মারাত্মকভাবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ একটি আন্তর্জাতিক আদালত হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আদালতের ‘হস্তক্ষেপ’ মেনে নেবে না। তবে আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানিয়েছে, তারা আদালতের কর্মীদের পাশে রয়েছে। আদালতের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসনকে দুর্বল করে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও আইসিসির অন্তত ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন বিচারক এবং প্রধান কৌঁসুলিও রয়েছেন। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত এবং গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জেরেই আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো দেওয়া হয়েছিল। নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আইসিসিকে ইহুদিবিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত বলে অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। তবে ফিলিস্তিন ২০১৫ সালে আইসিসিতে যোগ দেওয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত কথিত অপরাধ নিয়ে তদন্তের পথ আদালটির জন্য উন্মুক্ত হয়। আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদেও তিনি আদালতটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আইসিসির ‘কোনো এখতিয়ার, বৈধতা বা কর্তৃত্ব’ নেই। সূত্র: বিবিসি
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৩০ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন খনির ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দারা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নান-মামবেরে আব্বা অঞ্চলে একটি খনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক খনি শ্রমিক ফ্লোরিয়ান গাগুয়েন্দে জানান, ধসের পর উদ্ধারকারীরা আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে কাজ করছেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে। স্থানীয় উপ-প্রশাসনিক এলাকার ডেপুটি মেয়র সুলেইমান বি জানান, উদ্ধারকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ধসে পড়া খনি থেকে ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। যারা এখনো খনির গর্তে আটকে আছেন এবং নিজেদের বের করে আনতে পারছেন না, তাদের উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থা ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহায়তা প্রয়োজন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে বিশৃঙ্খল উদ্ধার তৎপরতার চিত্র দেখা গেছে। কাদায় মাখামাখি তরুণ শ্রমিকদের মরদেহ উদ্ধারে কাজ করতে দেখা যায়। খনির বিস্তৃত এলাকায় আরও বহু শ্রমিক ও কর্মী ছড়িয়ে ছিলেন এবং কেউ কেউ সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সরকারি মুখপাত্র এভারিস্তে নগামানা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এ ধরনের স্বল্প প্রযুক্তিনির্ভর খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। পরে বুধবার (১৯ আগস্ট) এ বরাতে খবর প্রকাশ করে আলজাজিরা। আরাঘচি বলেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ নীতির অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উত্তেজনা দূর করতে হবে। পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে ‘প্রাদেশিক কূটনীতি’ বা প্রতিবেশীভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতারও প্রশংসা করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, কিছু দেশ ইরানে পণ্য ও ওষুধ সরবরাহ করেছে, বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ইরানিদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে এবং ইরানি বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তার ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না; আমরা যুদ্ধের অবসান চাই।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি ইরান চায় না যেখানে একটি সংঘাত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থেমে গিয়ে কয়েক মাস পর আবার শুরু হয় এবং সেটিই ভবিষ্যতে একটি নিয়মিত ধরনে পরিণত হয়। সূত্র: আলজাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।