গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্বামীকে অন্য রুমে আটকে রেখে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। পরে স্বামী ও স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে গেছেন। আত্মহত্যা করা ওই শিক্ষার্থীর নাম দীপা দাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জের ধরে দীপার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে দীপা তার স্বামীকে একটি রুমে আটকে রেখে পাশের রুমে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তার স্বামী বাড়ির দারোয়ান ও আশপাশের লোকজন ডেকে ঘরের দরজা ভেঙে পাশের রুমে স্ত্রীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা বলেন, দীপার আত্মহত্যার বিষয়টি আমরা গতকাল বিকেলে জানতে পারি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আমরা বাংলা বিভাগের শিক্ষকেরা সদর হাসপাতালে গিয়ে দিপার মরদেহ মর্গে পড়ে থাকতে দেখি। আজ বিকেলে আমরা গিয়েছিলাম। জানতে পেরেছি ময়নাতদন্ত শেষে পরিবার তার মরদেহ নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে গতকাল বিকেলে সে বাসার এক রুমে স্বামী ও তার সন্তানকে আটকে রেখে অন্যরুমে গিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। দীপার সহপাঠী রিফাত ইসলাম বলেন, ‘দীপা দাস ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। আমিও জানতে পেরেছি যে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদের কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমরা এবং বাংলা বিভাগ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি আত্মহত্যা করেছে।
ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির আলোচিত নায়িকা পরীমনি। ২০১৩ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে ঢালিউডের প্রধান নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে অভিনয়ের শুরু থেকেই আলোচনার পাশপাশি সমালোচনাও যেন তার নিত্যসঙ্গী। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবর থাকতে দেখা যায় তাকে। ফেসবুকে রহস্যময় এক বার্তা দিয়েছেন পরীমনি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়াবা আসক্ত এক নারীকে নিয়ে পোস্ট দেন পরীমনি। ওই নারীর পরিচয় উল্লেখ না করলেও তাকে ভালো হওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন এই নায়িকা। পোস্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘বাচ্চার বয়স তিন মাস। বাচ্চার মা ইয়াবা আসক্ত। বাচ্চার বাবা মানুষের টাকা লুট করার জন্য জেল খাটতেছে। বাচ্চার মাকে রিহাব করানো খুবই জরুরি। বাচ্চাটা কোনোভাবেই মায়ের কাছে নিরাপদ না এই মুহূর্তে। এরপরই পরীমণি সতর্ক করে বলেন, ‘আমি তাকে শেষ সুন্দর সুযোগটা দিতে এই স্ট্যাটাসটি দিচ্ছি। এরপর বাকি সব আমার সিদ্ধান্ত হবে।’ যাকে উদ্দেশ্য করে পোস্ট দিয়েছেন, তিনি এই পোস্টটি দেখবেন বলেও আশা করেছেন পরীমনি, ‘আমি আশা করছি তুমি আমাকে সমস্ত কন্টাক্ট ব্লক করলেও এটা তুমি দেখবে এবং তোমার এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাকে সহযোগিতা করবে। নিশ্চয়ই তুমি এতোটা নির্বোধ নও।’ পরীমনির এই পোস্টে প্রথম ১ ঘণ্টাতেই রিয়্যাক্ট পড়েছে সাড়ে ছয় হাজারের মতো, কমেন্ট চার শতাধিক। রাজু ওয়াসিফ জিতু নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বাচ্চাটিকে নিরাপদ করো আপু।’ পরীমনির জবাব, চেষ্টা করছি, দোয়া করবেন।’
বিনোদন জগতের ছোট-বড় দুই পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম এবার ঈদের নাটকে অভিনয় করেছেন ‘কিপ্টে কারে কয়’। এ নাটকের মাধ্যমে অভিনেতা বুঝিয়ে দিয়েছেন—কিপ্টেমি কত প্রকার ও কী কী। সেই সঙ্গে উদাহরণসহ বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ‘কিপ্টে কারে কয়’ শিরোনামের এ নাটকটি দর্শকদের দেখতে চোখ রাখতে হবে দীপ্ত টিভিতে। ‘কিপ্টে কারে কয়’ নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। তার সঙ্গে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁই, শামীম জামান ও তাবাসসুম মিথিলা প্রমুখ। এ নাটকটি নির্মাণ করেছেন শামীম জামান। নাটকে তাকে দেখা যাবে বাড়িওয়ালার ছেলের চরিত্রে। অন্যদিকে ভাড়াটিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। ‘কিপ্টে কারে কয়’ নাটকটি প্রসঙ্গে নির্মাতা শামীম জামান বলেছেন, আমি অভিনেতা হলেও নির্মাতা হিসাবেও আমাকে কিছু কিছু নাটক নির্মাণ করতে হয়। এবারের ঈদেও তাই করেছি। তিনি বলেন, এবার 'কিপ্টে কারে কয়' নাটকে মোশাররফ করিম ও জুঁইয়ের অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’ এদিকে শামীম জামান শিগগির নির্মাণ করতে যাচ্ছেন আহমেদ শাহাবুদ্দিনের রচনায় নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘এক পাতিলের সংসার’। এতে অভিনয় করবেন মোশাররফ করিম, শামীম জামান ও আ খ ম হাসান প্রমুখ।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তিনি অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে কম কটাক্ষ সইতে হয়নি। ১৫ মার্চ ছিল এই অভিনেত্রীর ৩৩তম জন্মদিন। ৩৩ বছর বয়সে এসে এই নায়িকার সম্পত্তির পরিমাণ আকাশছোঁয়া, যা অনেক সিনিয়র অভিনেত্রীকেও টেক্কা দিচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আলিয়া ভাটের বর্তমান মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫৫০ কোটি টাকারও বেশি। আয়ের দিক থেকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, কারিনা কাপুর ও জুহি চাওলার মতো প্রথম সারির তারকাদেরও। সফল এই অভিনেত্রী প্রতিটি সিনেমার জন্য বর্তমানে ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। পাশাপাশি ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য তার পারিশ্রমিক প্রায় ২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক একাধিক ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। মুম্বাইয়ের পালি হিলসে রণবীর কাপুরের সঙ্গে যৌথভাবে আলিয়ার রয়েছে ৩৫ কোটি টাকার বাড়ি 'বাস্তু'। এছাড়া পুণেতে ১৩ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও লন্ডনেও তার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। দম্পতির সংগ্রহে আছে ল্যান্ড রোভার, অডি আর৮ এবং মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো নামী ব্র্যান্ডের দামি সব গাড়ি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদুল ফিতরের নামাজ নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক বিরাজমান যুদ্ধাবস্থার কারণে কাতারের আওকাফ ও ইসলামিকবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বছরের ঈদুল ফিতরের নামাজ সবাইকে মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কাতার সরকারের এই সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতি বছরের মতো এবার বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ঈদের জামায়াত আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কাতারে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে কাতার সরকারের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া দেশে ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করবে সরকার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ক্যাবিনেট সুয়োমোটো (নিজে থেকে) একটি ডিসিশন নিয়েছে—দেশে এখন যেসব ধর্ষণ মামলা হচ্ছে বা আগে যেগুলো হয়েছে, সবগুলো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সব মন্ত্রণালয় মিলে একটি স্পেশাল ড্রাইভ (বিশেষ পদক্ষেপ) নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সমাজ থেকে ধর্ষণ প্রবণতা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এসব বিষয়ে খুব দ্রুত অ্যাকশন নিতে বলেছেন। এসব মামলার সঙ্গে রিলেটেড (সম্পৃক্ত) যারা আছেন, সবাই মিলে এবং যেখানে যতদূর যাওয়া দরকার, সে পর্যন্ত গিয়ে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।’ ধর্ষণ প্রতিরোধ ও দ্রুত বিচারে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পদক্ষেপের নির্দেশ আসার আগে দৈনিক কালবেলায় ‘বিধান থাকলেও ধর্ষণের বিচারে দীর্ঘ অপেক্ষা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। যাতে উল্লেখ করা হয়, আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং দ্রুত তদন্ত ও বিচারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও পাল্টায়নি বাস্তবতা। নির্যাতনের শিকার অসংখ্য নারী আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন বিচারের আশায়। যেখানে আইন অনুযায়ী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা, সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতেই লাগছে মাসের পর মাস, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছরও। আর অভিযোগ গঠনের পর চার থেকে ছয় মাস এমনকি আট মাস অন্তর শুনানির তারিখ পড়ছে। সব মিলিয়ে বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর। তদন্তে ধীরগতি, সাক্ষীর হাজির না হওয়া এবং শুনানির দীর্ঘ বিরতিতে ঝুলে আছে হাজারো মামলা। অপরাধ দমনে কঠোর আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ না থাকায় প্রায়ই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাস।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে সরাসরি পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন আইজিপি। তিনি জানান, ঈদের সময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং অযাচিত কারণে যানজট তৈরি ঠেকাতে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় পর্যায়েও যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে। এ সময় তিনি বলেন, এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার কারণেই যানজট বাড়ে। সবাই সচেতন হলে এবারের ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন আইজিপি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই আশ্বাস দিয়েছিলেন যা মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বাস্তবায়ন করা হয়। সম্প্রতি দেশে হঠাৎ করে হাম বা মিজলস রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এই হাসপাতালে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগী চলে আসায় অনেককে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থ এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) মধ্যরাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ইআরপিপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে স্থাপিত আইসিইউ ইউনিটটি বন্ধ ছিল। তিনি স্বীকার করেন, সুযোগ-সুবিধার কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও চিকিৎসা সেবায় কোনো অবহেলা নেই। এসময় দ্রুত জনবল পদায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এটি চালুর নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রীর এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিনজন চিকিৎসক, একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) এবং একজন অ্যানেস্থেটিস্টকে জরুরি ভিত্তিতে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বেড প্রস্তুত করে পাঁচ শয্যার এই আইসিইউ ইউনিটটি বর্তমানে রোগীদের জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। উল্লেখ্য, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি মাত্র ১০০ শয্যার এবং সেখানে হাম ছাড়াও জলাতঙ্ক, এইডস ও টিটেনাসের মতো সংবেদনশীল রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পাশের ডিএনসিসি হাসপাতালেও হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা একটি ইউনিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি এই তড়িৎ পদক্ষেপের ফলে সংকটাপন্ন রোগীরা এখন থেকে বিশেষায়িত আইসিইউ সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ইরানের হামলা করার সক্ষমতা কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন দেশ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সেজন্য কূটনীতিকদের বিদেশি সরকারগুলোকে চাপ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে হামলার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ কমাতে মার্কিন কূটনীতিকদের পাঠানো গোপন তারবার্তার এ তথ্য প্রকাশ করেছে এবিসি নিউজ। বার্তায় রুবিও অন্যদেশের সরকারগুলোকে ‘নিজ নিজ দেশ ও নাগরিকদের ওপর ইরান ও ইরান-ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার’ আহ্বান জানাতে বলেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই তারবার্তা সব কূটনৈতিক ও কনস্যুলারদের কাছে ‘অ্যাকশন রিকোয়েস্ট’ (অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ) হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এ তারবার্তার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘আইআরজিসি-র কার্যক্রম নিয়ে উচ্চতর উদ্বেগ’। এখানে আইআরজিসি বলতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরকে বোঝানো হয়েছে। নির্দেশনাটিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, এই বার্তাটি, যা সংবেদনশীল কিন্তু শ্রেণিবদ্ধ নয়—আগামী ২০ মার্চের মধ্যে ‘উপযুক্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছে দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার জন্য একটি জোট গঠনের বিষয়ে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, সহায়তায় রাজি হওয়া দেশগুলোর একটি তালিকা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। রুবিওর এই বার্তায় ইরান বা তার প্রক্সিদের পক্ষ থেকে হামলার উচ্চ ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, হুমকি মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপই সেরা কৌশল। তারবার্তায় বলা হয়েছে, ‘আমরা মূল্যায়ন করছি— ইরান সরকার একতরফা পদক্ষেপের চেয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। একতরফা পদক্ষেপের চেয়ে যৌথ চাপ তাদের আচরণ পরিবর্তনে বাধ্য করার সম্ভাবনা বেশি।’ এতে আরও বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশ্বজুড়ে ইরানের সন্ত্রাসী অভিযান বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ যখন এই মুহূর্তে নিবদ্ধ, তখন আমাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিকে হাতছাড়া হতে দেবেন না।’ এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করছেন। আইআরজিসি, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো সরকারকে অস্থিতিশীল করে এবং আঞ্চলিক শান্তিকে ক্ষুণ্ণ করে।’ তারবার্তায় কূটনীতিকদের আরও কিছু বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের সমর্থনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরে ইরান সরকারের দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেওয়া। সেই সঙ্গে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র লক্ষ্যগুলো তুলে ধরতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করা, ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ধ্বংস করা, তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন করা এবং তাদের নৌ সক্ষমতা কমিয়ে আনা। এতে আরও বলা হয়, কূটনৈতিক পোস্টের বিবেচনানুসারে, এই প্রচারণামূলক প্রচেষ্টাগুলো ইসরায়েলি কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত। তবে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনার মূল পয়েন্টগুলো যেন বাদ না পড়ে। এছাড়া, যেসব দেশ এখনও আইআরজিসি এবং হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেনি, সেসব দেশের কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সেই সরকারকে ‘দ্রুত’ তা করার জন্য উৎসাহিত করেন। তারবার্তায় বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘এমন ঘোষণা ইরান সরকারের ওপর চাপ তীব্র করবে এবং বিশ্বজুড়ে তাদের সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করবে, যা আপনাদের জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে বিপন্ন করে।’ এতে আরও যোগ করা হয়েছে, ‘আইআরজিসি সরাসরি বিদেশি মাটিতে সন্ত্রাসী ও হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র পরিচালনা করেছে এবং নিয়মিত গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রগুলো মূলত জনগণকে আতঙ্কিত করা এবং আপনাদের বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করার জন্য পরিকল্পিত।’
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সামরিক ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলের একটি সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং রাফায়েল নামের একটি অস্ত্র উৎপাদন কারখানাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উক্ত সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্রটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে গাইডেড অস্ত্র ব্যবস্থার সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সহায়তা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমেও বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে রাফায়েল অস্ত্র উৎপাদন প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’সহ বিভিন্ন উন্নত সামরিক প্রযুক্তি তৈরির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নেও প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রয়েছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করার ঘোষণা দেয় তেহরান।
আবুধাবিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানির মৃত্যু হয়েছে। আবুধাবির বানি ইয়াস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এবং স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, নিহত ব্যক্তি একজন পাকিস্তানি নাগরিক। মাঝআকাশে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার পর সেটির উত্তপ্ত ধাতব অংশগুলো জনবহুল এলাকায় আছড়ে পড়লে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা শুরু করে। এর জেরে দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এর জেরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় প্রায়ই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। আমিরাত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে একের পর এক ধেয়ে আসা হামলা প্রতিহত করছে, তবে ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। আজকের এই দুর্ঘটনার আগে গত কয়েক সপ্তাহে একই ধরনের ঘটনায় আরও কয়েকজন বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে আবুধাবি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় সৃষ্ট বিকট শব্দে আতঙ্কিত না হতে এবং কোনও অবস্থাতেই আকাশ থেকে পড়া অজানা ধ্বংসাবশেষের কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্য অনুসরণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ১০ জন বিদেশি গুপ্তচরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই দাবি করেছে। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি, ইরানের ইসনা নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজাভি খোরাসান প্রদেশে আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা এক বিবৃতিতে বলেছে, “১০ ভাড়াটে ও বিশ্বাসঘাতককে শনাক্তের পর গ্রেফতার করা হয়েছে।” তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আইআরজিসি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজন ইরানের সংবেদনশীল স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। বাকিরা একটি রাজতন্ত্রপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।
নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহকবলিত বর্নো রাজ্যে একাধিক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়েছে। সোমবার রাতে রাজ্যটির পুলিশ কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্নোর রাজধানী মাইদুগুরিতে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্নো গত ১৭ বছর ধরে নাইজেরিয়ার ইসলামপন্থি বিদ্রোহের কেন্দ্র হয়ে আছে আর তাতে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সোমবার দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও মাইদুগুরির তিন বাসিন্দা রয়টার্সকে জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে এক পোস্ট অফিসে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে, এর পরপরই নিকটবর্তী জনপ্রিয় সোমবারের বাজারে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর সন্ধ্যার আগে মাইদুগুরি টিচিং হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় আরেকটি এবং পূর্বাংশের কেলেরি এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিবৃতিতে রাজ্য পুলিশ বলেছে, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমারুরা ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। তবে এসব হামলার জন্য কারা দায়ী হতে পারে বিবৃতিতে সে বিষয়ে কোনো অনুমান প্রকাশ করা হয়নি। কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকারও করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে আর আরও আক্রমণ ঠেকাতে শহরজুড়ে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। হামলাগুলোর বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হামলাগুলোতে ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী বোকো হারামের আক্রমণের ছাপ রয়েছে। বোকো হারাম ও আরেক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স একসঙ্গে বর্নোতে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে তুলছে। মাইদুগুরি বর্নোর অন্যতম নিরাপদ শহর। কিন্তু গত বছর খ্রীস্টীয় বড়দিনের আগে এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমারু একটি মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অন্তত পাঁচজন মুসল্লিকে হত্যা ও আরও ৩৫ জনকে আহত করে। তারপর থেকে শহরটিতে সোমবারই প্রথম হামলার ঘটনা ঘটল। নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীরা এখন দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলেও নিজেদের বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে। ডিসেম্বরে এসব জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ওয়াশিংটন জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইরত নাইজেরীয় বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দেশটিতে অল্প কিছু সেনা মোতায়েন করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।