শিশুদের খাওয়ার প্রতি এমনিতেই অনীহা লক্ষ্য করা যায়। তার ওপর যদি হয় ফল তাহলে আর কোনো কথা নেই। তবে বাড়ন্ত শিশুদের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন ফল। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হয়। ফলমূল থেকে সে পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান। সাধারণত ছয় মাস বয়সের পর থেকেই অল্প পরিমাণে সম্পূরক খাবার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সব খাবার শিশুর জন্য সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সব ফল যে শিশুর জন্য নয় তা অনেকেই জানেন না। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল দেওয়ার আগে মানতে হবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা। চলুন কেন সতর্কতা প্রয়োজন জেনে নেওয়া যাক— ফলের বীজ ছোট হলেও ঝুঁকি বড় হতে পারে—বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে। বরই, লিচু বা জামের মতো বড় বীজযুক্ত ফল তো আছেই, আপেল, আঙুর, কমলা কিংবা ডালিমের মতো তুলনামূলক ছোট বীজযুক্ত ফল খাওয়ার সময়ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অসাবধানতায় বীজ শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে। এমনকি কিছু কলাতেও সূক্ষ্ম বীজ থাকে, যা শিশুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সতর্ক না থাকলে কী ঘটতে পারে— খাবার গিলতে মুখ ও গলার একাধিক পেশি সমন্বিতভাবে কাজ করে। তখনই আমরা বুঝে খেতে পারি— কোন অংশটি মুখে যাবে, আর কোনটি ফেলে দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের এই নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বিকশিত হয় না। ফলে শক্ত বা ছোট কোনো বস্তু তাদের গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে বীজের মতো শক্ত উপাদান শ্বাসনালিতে আটকে গেলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। ফল খাওয়ার সময় এমন দুর্ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। কারণ ফল সাধারণত পিচ্ছিল ধরনের। তাই অসাবধানতায় বীজ সহজেই গলার দিকে সরে যেতে পারে। এমনকি শক্ত ফলের ছোট টুকরোও শিশুর গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে বয়সে যেভাবে ফলমূল দেবেন শিশুকে ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। ছয় মাস বয়স পার হলে সম্পূরক খাবারের অংশ হিসেবে ফল দেওয়া শুরু করা যায়। তবে শুরুতে শুধু ফলের নরম অংশ দিতে হবে। বীজ ও খোসা সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে নরম অংশ ভালোভাবে কচলে বা মিহি করে খাওয়াতে হবে। আপেলের মতো শক্ত ফল আগে সেদ্ধ করে নরম করে নিয়ে তারপর মিহি করে দেওয়া উচিত। শিশু যখন ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে শিখবে, তখন নরম ফল ছোট ছোট টুকরো করে দেওয়া যেতে পারে। এ সময়ও বীজ ও খোসা এড়িয়ে চলতে হবে। দুই বছর বয়স পূর্ণ হলে টুকরো না করেও ফল হাতে দেওয়া যায়, তবে তখনও অবশ্যই সব ধরনের বীজ ফেলে দিতে হবে। সাধারণত পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হলে সুস্থ শিশুকে বীজসহ কিছু ফল খেতে দেওয়া যেতে পারে। তবু লিচু, জাম বা বরইয়ের মতো বড় বীজযুক্ত ফল পুরোটা একসঙ্গে মুখে দিতে না দেওয়াই ভালো। বরং বীজ বাইরে রেখে চারপাশের অংশ খাওয়ার অভ্যাস শেখানো নিরাপদ। এখন জেনে নেই জীবন বাঁচানোর কৌশল শিশু যখন খাবার খায়, তখন তার পাশে অন্তত একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি থাকা জরুরি। শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং সেই মুহূর্তে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়— এসব বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন। জীবনরক্ষাকারী সিপিআর প্রশিক্ষণ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সঠিক পদক্ষেপই একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে।
এক মুহূর্ত আগেও শিশুটি হাসছিল, খেলছিল। হঠাৎ খাওয়ার সময় মুখ লাল হয়ে গেল, শব্দ বন্ধ, মনে হচ্ছে গলায় কিছু আটকে গেছে! মুহূর্তেই ঘরের ভেতর শুরু হয় আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি অনেক পরিবারই হন। আর এই কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্ত কখনও কখনও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপদ এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ, এ সময় দাঁত পুরোপুরি ওঠে না, গিলতে শেখার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয় না। ভারতীয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠনগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, শক্ত, গোল কিংবা পিচ্ছিল খাবার (যেমন আঙুর, বাদাম, শক্ত বিস্কুট) এই বয়সে খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। কীভাবে বুঝবেন? প্রথমেই লক্ষ্য করুন, শিশু কাশতে পারছে কি না। যদি কাশে, কাঁদতে পারে বা শব্দ বের হয়; তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে শিশুর মুখে আঙুল ঢোকাবেন না। এতে খাবার আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। বরং তাকে কাশতে দিন। অনেক সময় কাশিই সমস্যার সমাধান করে দেয়। কিন্তু যদি শিশুর মুখ নীলচে হয়ে যায়, কোনো শব্দ না বের হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়; তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে শিশুকে উপুড় করে আপনার কাঁধ বা উরুর ওপর রাখুন, মাথা শরীরের চেয়ে একটু নিচের দিকে থাকবে। এরপর পিঠের মাঝামাঝি অংশে হাতের তালু দিয়ে পাঁচবার দৃঢ়ভাবে চাপড় দিন। কাজ না করলে শিশুকে চিত করে বুকে দুই আঙুল দিয়ে পাঁচবার চাপ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি শেখানো হয়। এক বছরের বেশি বয়স হলে এ ক্ষেত্রে ‘হাইমলিক পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এটি সঠিকভাবে না শিখে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ভুলভাবে করলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞই অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন। যেসব ভুল করবেন না সবচেয়ে বড় ভুল হলো, চোখে না দেখে আঙুল বা চামচ দিয়ে খাবার বের করতে চেষ্টা করা। এতে খাবার আরও ভেতরে সরে গিয়ে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে কখনও একা ছেড়ে দেবেন না। খাওয়ানোর সময় শিশুকে বসিয়ে রাখুন। দৌড়াতে দৌড়াতে বা খেলতে খেলতে খাবার দেবেন না। খাবার সব সময় ছোট ছোট টুকরো করে দিন, যাতে গিলতে সুবিধা হয়। শিশুর নিরাপত্তা সচেতনতার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই আতঙ্ক নয়, আগে জানুন তারপরই পদক্ষেপ নিন। সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই হতে পারে একটি প্রাণ বাঁচানোর চাবিকাঠি। সূত্র : টিভি নাইন বাংলা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং সেক্টরসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নিয়ে আসতে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব দেন। আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি সরকার। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে অনেকটাই সফল হন তিনি। ব্যাংকিং খাতে বেশকিছু সংস্কার সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আর্থিক খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপ নেন আহসান এইচ মনসুর। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বন্ধের উদ্যোগও নেন এ অর্থনীতিবিদ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন আহসান এইচ মনসুর। যা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ব্যাংকিং সেক্টরে সরকার দলীয় ব্যবসায়ীদের নগ্ন হস্তক্ষেপ মোটা দাগে বন্ধ করা সম্ভব হতো। এসব সংস্কারের কারণে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর লুটপাটের পথ কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ওপর তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দখল ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা শুরু করেন বিএনপি-আওয়ামী লিগপন্থি কর্মকর্তারা। ব্যাংকের বিধির তোয়াক্কা না করে হঠকারিতা শুরু করেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিএনপি-আওয়ামী লিগপন্থি কর্মকর্তাদের নির্লজ্জ মবের সাক্ষী হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নরের উপদেষ্টাকে রীতিমতো শারীরিক হেনস্তা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেতৃত্ব দেন নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বেশকয়েকজন কর্মকর্তা। এরা ব্যাংকের অভ্যন্তরে বর্তমানে নতুন করে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত। এদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ আওয়ামীপন্থি নীল দল থেকে নির্বাচন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে সরকার সফল গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তাকে না জানিয়েই নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনের ঘটনার সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সম্পৃক্ততাও স্পষ্ট হয়েছে। এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এখানেই শেষ নয়, সরকার নজিরবিহীনভাবে একজন বিতর্কিত দলীয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়। নতুন এ গভর্নর একজন (সাবেক) ঋণ খেলাপি। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ খেলাপি ছিল। গত বছরের জুনে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় ১০ বছরের জন্য তার ঋণ পুনঃ তপশিল করা হয়েছে। এ ধরনের একজন অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর হাতে দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিরাপদ থাকবে–তা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট, সরকার ব্যাংকিং সেক্টর ও আর্থিক খাতে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো নতুন করে লুটপাটের বন্দোবস্ত করতে ইচ্ছুক। সবশেষ এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আহসান এইচ মনসুরের মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে দেওয়া আমাদের হতবাক করেছে। তাকে সরিয়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর বিদেশে অর্থ পাচারের পথ আবারও সুগম করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমরা সরকারের এমন অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন। আমরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করতে সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ পদ নিয়ে মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, শেখ হাসিনা এবং তার ঋণখেলাপি কুশীলবরা এদেশের ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেখে গিয়েছিল। ঋণখেলাপিদের দুষ্টচক্রের জন্য বাংলাদেশকে আইএমএফসহ বিভিন্ন দেশের দ্বারে দ্বারে হাজির হতে হয়েছে আর্থিক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে। সেখান থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই খাতকে টেনে তুলেছে মাত্র দেড় বছরে। রিজার্ভ দ্বিগুণ করে রেখে যাওয়াসহ খাদের কিনারায় থাকা ব্যাংকগুলোকে পূনর্বাসন করা হয়েছে। তিনি আরও লেখেন, আর্থিক খাতে আরও জঘন্য ভাবে কাজ শুরু করলো বর্তমান সরকার। হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিদের এমপি, মন্ত্রী বানিয়ে প্রথমেই আর্থিক খাতকে হুমকির মুখে ফেলা হলো। সবশেষ আসিফ মাহমুদ লেখেন, আজ একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে আর্থিক খাতের অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই নিয়োগের মাধ্যমে ঋণখেলাপি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হলো বাংলাদেশের আর্থিক খাত। আবারো এর পরিণতি ভোগ করতে আমাদের, দেশের সাধারণ জনগণের। মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ হাসিনার শাসনামলের শেষ সময়ের মতো দুঃস্বপ্নের দিনগুলো আবারো ফিরতে যাচ্ছে সম্ভবত। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, Bangladesh Bank Order, 1972 (President's Order No. 127 of 1972)-এর ১০(৫) ধারা অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
দেশের কৃতী সন্তানদের হাতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট সুধীবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় যারা গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখেছেন, তাদের এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে। একুশে পদক প্রদানের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ওই দিন বিকেলেই যোগ দেবেন বছরের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ‘অমর একুশে বইমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। তিনি সশরীরে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের একটি গ্যাস পাম্পের গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১১টার সময়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দগ্ধদের প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ৮ জনকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। গ্যাস পাম্পটির আশপাশের এলাকায় রেড় অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুই-তিন আগে চালু হওয়া গ্যাস পাম্পটিতে আজ সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। পরে রাত ১০টার দিকে আগুন ধরে তা মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কলাতলী আদর্শগ্রাম এলাকায় প্রধান সড়ক লাগোয়া সদ্য নির্মিত একটি গ্যাস পাম্পে লিকেজ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে গ্যাস। এক পর্যায়ে আগুন লেগে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা ও গ্যাস পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো কলাতলীজুড়ে ভয়াবহ আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ওসি জানান, গ্যাস লিকেজে সৃষ্ট আগুন ছড়িয়ে পাশের অন্তত পাঁচটি বসতি পুড়ে গেছে। আগুনে দগ্ধ হয়েছে কয়েকজন।
দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ পদ নিয়ে মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, শেখ হাসিনা এবং তার ঋণখেলাপি কুশীলবরা এদেশের ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেখে গিয়েছিল। ঋণখেলাপিদের দুষ্টচক্রের জন্য বাংলাদেশকে আইএমএফসহ বিভিন্ন দেশের দ্বারে দ্বারে হাজির হতে হয়েছে আর্থিক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে। সেখান থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই খাতকে টেনে তুলেছে মাত্র দেড় বছরে। রিজার্ভ দ্বিগুণ করে রেখে যাওয়াসহ খাদের কিনারায় থাকা ব্যাংকগুলোকে পূনর্বাসন করা হয়েছে। তিনি আরও লেখেন, আর্থিক খাতে আরও জঘন্য ভাবে কাজ শুরু করলো বর্তমান সরকার। হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিদের এমপি, মন্ত্রী বানিয়ে প্রথমেই আর্থিক খাতকে হুমকির মুখে ফেলা হলো। সবশেষ আসিফ মাহমুদ লেখেন, আজ একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে আর্থিক খাতের অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই নিয়োগের মাধ্যমে ঋণখেলাপি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হলো বাংলাদেশের আর্থিক খাত। আবারো এর পরিণতি ভোগ করতে আমাদের, দেশের সাধারণ জনগণের। মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ হাসিনার শাসনামলের শেষ সময়ের মতো দুঃস্বপ্নের দিনগুলো আবারো ফিরতে যাচ্ছে সম্ভবত। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, Bangladesh Bank Order, 1972 (President's Order No. 127 of 1972)-এর ১০(৫) ধারা অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলের এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র বলছে, মিয়ানমারে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, রাত ১০টা ৫১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ঢাকা থেকে দূরত্ব ৪৬২ কিলোমিটার। ফারজানা সুলতানা বলেন, ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে কক্সবাজার এবং এর কাছাকাছি অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বলে জানান তিনি।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন ও ছুটি উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিশেষ ট্রেনগুলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচল করবে। সময়সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলবে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম থেকে ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ৮টা ২০ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছাবে। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২ চাঁদপুর থেকে ৪টায় ছেড়ে ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে তিস্তা স্পেশাল-৩ ও ৪ চলবে। তিস্তা স্পেশাল-৩ ঢাকা থেকে ৯টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ৩টা ৩০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে। তিস্তা স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ থেকে ৪টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ও ৬ চলবে। স্পেশাল-৫ ভৈরববাজার থেকে ৬টা ছেড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। স্পেশাল-৬ কিশোরগঞ্জ থেকে ১২টা ছেড়ে ২টায় ভৈরববাজার পৌঁছাবে। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ও ৮ চলবে। স্পেশাল-৭ ময়মনসিংহ থেকে ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে ৮টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। স্পেশাল-৮ কিশোরগঞ্জ থেকে ১২টায় ছেড়ে ৩টায় ময়মনসিংহ পৌঁছাবে। জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ও ১০ চলবে। স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে ৭টা ছেড়ে ২টা ৩০ মিনিটে পার্বতীপুর পৌঁছাবে। স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ২টা ২০ মিনিটে জয়দেবপুর পৌঁছাবে। ঈদের পর পার্বতীপুর স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ২টা ৫০ মিনিটে পার্বতীপুর পৌঁছাবে। আর স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়ে ৫টা ৪৫ মিনিটে জয়দেবপুর পৌঁছাবে। ঈদে বিশেষ এই ট্রেন পরিচালনার ফলে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং সেক্টরসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নিয়ে আসতে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব দেন। আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি সরকার। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে অনেকটাই সফল হন তিনি। ব্যাংকিং খাতে বেশকিছু সংস্কার সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আর্থিক খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপ নেন আহসান এইচ মনসুর। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বন্ধের উদ্যোগও নেন এ অর্থনীতিবিদ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন আহসান এইচ মনসুর। যা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ব্যাংকিং সেক্টরে সরকার দলীয় ব্যবসায়ীদের নগ্ন হস্তক্ষেপ মোটা দাগে বন্ধ করা সম্ভব হতো। এসব সংস্কারের কারণে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর লুটপাটের পথ কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ওপর তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দখল ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা শুরু করেন বিএনপি-আওয়ামী লিগপন্থি কর্মকর্তারা। ব্যাংকের বিধির তোয়াক্কা না করে হঠকারিতা শুরু করেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিএনপি-আওয়ামী লিগপন্থি কর্মকর্তাদের নির্লজ্জ মবের সাক্ষী হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নরের উপদেষ্টাকে রীতিমতো শারীরিক হেনস্তা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেতৃত্ব দেন নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বেশকয়েকজন কর্মকর্তা। এরা ব্যাংকের অভ্যন্তরে বর্তমানে নতুন করে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত। এদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ আওয়ামীপন্থি নীল দল থেকে নির্বাচন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে সরকার সফল গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তাকে না জানিয়েই নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনের ঘটনার সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সম্পৃক্ততাও স্পষ্ট হয়েছে। এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এখানেই শেষ নয়, সরকার নজিরবিহীনভাবে একজন বিতর্কিত দলীয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়। নতুন এ গভর্নর একজন (সাবেক) ঋণ খেলাপি। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ খেলাপি ছিল। গত বছরের জুনে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় ১০ বছরের জন্য তার ঋণ পুনঃ তপশিল করা হয়েছে। এ ধরনের একজন অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর হাতে দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিরাপদ থাকবে–তা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট, সরকার ব্যাংকিং সেক্টর ও আর্থিক খাতে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো নতুন করে লুটপাটের বন্দোবস্ত করতে ইচ্ছুক। সবশেষ এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আহসান এইচ মনসুরের মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে দেওয়া আমাদের হতবাক করেছে। তাকে সরিয়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর বিদেশে অর্থ পাচারের পথ আবারও সুগম করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমরা সরকারের এমন অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন। আমরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করতে সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সবার আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে বিদায় নিল শ্রীলঙ্কা। কলম্বোতে আজ নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল স্বাগতিকরা। অন্যদিকে, লঙ্কানদের হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার আশা আরও উজ্জ্বল করেছে নিউজিল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ইংল্যান্ড। ১ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান। আর দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরে তলানিতে অবস্থান স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার। ১৬৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটাই ভালো করতে দেননি কিউই পেসার ম্যাট হেনরি। পাওয়ার প্লেতে ফেরান দুই লঙ্কান ব্যাটারকে। প্রথম বলেই শূন্যরানে আউট হন পাথুম নিশাঙ্কা। তৃতীয় ওভারে চারিথ আসালাঙ্কাকে আউট করেন হেনরি। আউট হওয়ার আগে ৯ বল খেলে মাত্র ৫ রান করেন আসালাঙ্কা। এরপর নিজের স্পিন বিষে শ্রীলঙ্কাকে কোণঠাসা করে ফেলেন রাচিন রবীন্দ্র। চোখের পলকেই একে একে চার লঙ্কান ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান এই বাঁহাতি স্পিনার। তাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা। আউট হওয়ার আগে কুশল মেন্ডিস ১১, পাভান রত্নায়েক ১০, দলনেতা দাসুন শানাকা ৩ ও দুসান হেমন্ত ৩ রান করেন। এদিকে দুনিথ ভেল্লালাগেকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান কামিন্দু মেন্ডিস। কিন্তু সেই লড়াই জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২৩ বলে ৩১ রান করে আউট হন তিনিও। ভেল্লালাগে থামেন ২৯ রানে। আর ৭ রানে চামিরা ও ২ রানে থিকসানা অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন রাচিন রবীন্দ্র। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই তার সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া দুটি উইকেট পেয়েছেন ম্যাট হেনরি। এর আগে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ লঙ্কান দলনেতা দাসুন শানাকা। ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো সূচনার ইঙ্গিত দেন ওপেনার ফিল অ্যালেন। কিন্তু চতুর্থ ওভারে তাকে ফেরান থিকসানা। আউট হওয়ার আগে১৩ বলে ২৩ রান করেন অ্যালেন। আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট থামেন মাত্র ৮ রানে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইতিবাচক ব্যাট করতে থাকেন রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস। দুজন মিলে গড়েন ৪৩ রানের জুটি। কিন্তু এই দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর রানের গতি মন্থর হয়ে যায়। ১২তম থেকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত এই ৫ ওভারে রান আসে মাত্র ১৫ রান। রাচিন ৩২, ফিলিপস ১৮, মিচেল ৩ ও চ্যাপম্যান শূন্যরানে আউট হন। শেষ চার ওভারে চাপ সামলে ব্যাট হাতে ক্রিজে ঝড় তোলেন দলনেতা মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি। দুজন মিলে গড়েন ৮৪ রানের জুটি। মাত্র ২৬ বলে দুটি চার ও চারটি ছয়ে ৪৭ রান করেন স্যান্টনার। আর ২৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন ম্যাককঞ্চি। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা। একটি উইকেট পেয়েছেন দুনিথ ভেল্লালাগে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং এজন্য তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত। তবে যেসব ইস্যু থেকে এসব সংঘাতের জন্ম, তার অনেকগুলোই এখনো অমীমাংসিত; এমনকি কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তসহ কিছু অঞ্চলে আবারও সহিংসতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প যেসব আন্তর্জাতিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো- আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান গত বছরের ৮ আগস্ট ট্রাম্প আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতাদের একত্র করে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করান, যেখানে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়। ১৯৮০–এর দশকের শেষ দিক থেকে দুই দেশ বিরোধে জড়িয়ে আছে। ২০২৩ সালে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মার্চে খসড়া শান্তিচুক্তির পাঠে একমত হওয়ার পরও সেটি স্বাক্ষরিত হয়নি। হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় হওয়া ঘোষণাপত্রটি পূর্ণাঙ্গ, আইনগত বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন শান্তিচুক্তি নয়। আর্মেনিয়ার সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তাসহ কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত। দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তিও করে, যার মাধ্যমে দক্ষিণ আর্মেনিয়ার একটি কৌশলগত করিডোরে উন্নয়নাধিকার পায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়বে। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড দীর্ঘদিনের উত্তেজনা জুলাই মাসে পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। ট্রাম্প দুদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখেন। অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে পড়ে। পরে ২৭ ডিসেম্বর নতুন করে যুদ্ধবিরতি হয়। তবু উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ইসরাইল, ইরান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় সংঘাত থামাতে ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাস একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয়। তবুও উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে এবং সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ সম্প্রসারণের চেষ্টাও করছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চলছিল। ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে এবং ২২ জুন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলায় যোগ দেন। পরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা আবার বেড়েছে। রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী পূর্ব কঙ্গোতে বড় অংশ দখল করে। ট্রাম্পের চাপে ২৭ জুন রুয়ান্ডা ও কঙ্গো একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। কঙ্গো অভিযোগ করেছে, রুয়ান্ডা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরাও রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে এম২৩-কে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও রুয়ান্ডা তা অস্বীকার করে। সংঘাতের শিকড় ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। পাকিস্তান ও ভারত মে মাসে ভারত-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এক হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। চার দিনের সংঘাতের পর ১০ মে যুদ্ধবিরতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে তিনি চুক্তি নিশ্চিত করেছেন, যদিও ভারত এ দাবি অস্বীকার করেছে। মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। মিসর ও ইথিওপিয়া গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মিসর মনে করে এটি তাদের নীলনদের পানির নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন, তবে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি। সার্বিয়া ও কসোভো ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চুক্তি করান। তিনি দাবি করেছেন, তিনি যুদ্ধ ঠেকিয়েছেন। তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নেই। কসোভোর স্বাধীনতাকে সার্বিয়া স্বীকৃতি দেয়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেন নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এক দিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। তবে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে এখনো সমাধান আসেনি। তিনি রাশিয়ার বড় দুটি তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহ দেখিয়েছেন। প্রথম মেয়াদে তিনটি শীর্ষ বৈঠক হলেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে অগ্রগতি হয়নি। উত্তর কোরিয়া এ সময়ে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। তাই বলা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থায়ী ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক শান্তিচুক্তি এখনো হয়নি এবং অনেক অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে গেছে। সূত্র- জিও নিউজ
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রাচীন শহর লখনৌতে পারিবারিক বিরোধের এক মর্মান্তিক পরিণতি সামনে এসেছে। ২১ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসক হওয়ার চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে তিনি নিজের বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, যার একটি অংশ মিলেছে বাড়ির ভেতর ড্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী মানবেন্দ্র সিং, ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসায়ী, মদের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে একটি ড্রামের ভেতর মরদেহের অংশ উদ্ধার করে। এরপর ছেলে অক্ষত প্রতাপ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে ঘটনার বিস্তারিত সামনে আসে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অক্ষত হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, তার বাবা চাইতেন তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে চিকিৎসক হোন। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক হতো। একবার এই বিরোধের জেরে অক্ষত বাড়ি ছেড়েও চলে গিয়েছিল। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আবারও তাদের মধ্যে তর্ক হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন অক্ষত রাইফেল দিয়ে বাবাকে গুলি করে। এরপর তৃতীয় তলা থেকে মরদেহ নিচে নামিয়ে একটি খালি ঘরে টুকরো করে। এ সময় তার বোন ঘটনাটি দেখে ফেললেও তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়। পরে দেহের অংশ প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরা হয়। পুলিশ জানায়, কিছু অংশ সাদারুনা এলাকায় ফেলে দেওয়া হয় এবং ধড়সহ কয়েকটি অংশ বাড়ির ভেতরে একটি নীল ড্রামে রাখা হয়। অক্ষতের স্বীকারোক্তির পর ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। বাড়ি থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অক্ষতকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। লখনৌর আশিয়ানা এলাকার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বিক্রান্ত বীর বলেন, প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
বয়সের মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধ হাকিম বাবরের প্রেমে পড়েন ২২ বছরের তরুণী। এরপর ওই বৃদ্ধকে বিয়ে করেন তিনি। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির চাকলালার এ বিয়ে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অসম বয়সের এ বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের বাড়িতে ভিড় জমান। এরসঙ্গে তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ঝড়। অনেকে ওই বৃদ্ধের সমালোচনা করেছেন। তবে যারা তার সমালোচনা করেছেন তাদের বেশ কড়া উত্তর দিয়েছেন তিনি। হাকিম বাবর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বলেন, বয়স শুধুমাত্র একটি নম্বরই হওয়া উচিত। সবার মনের দিক দিয়ে তরুণ হওয়া উচিত। আমার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী একজন ডিভোর্সি ছিলেন। আর ডিভোর্সিকে বিয়ে করা আল্লাহর নির্দেশ ও নবীর সুন্নাহ। আমি সেই অনুযায়ী বিয়ে করেছি। তাহলে আমি ভুল কি করলাম? তিনি আরও বলেন, আমি অনৈতিক কিছু করিনি। তাহলে মানুষ কেন নেতিবাচক মন্তব্য করছে? এমনকি যারা আমাদের নিয়ে সমালোচনা করছে, তাদের মেয়ে বন্ধু অথবা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আছে। কিন্তু তাও তারা বিয়ে করে না। এর বদলে তারা মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের ভান ও প্রতারণা করে। তার স্ত্রীও একই সুরে বলেছেন, যখন কারও মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা হয়, তখন বয়স কোনো বিষয় হওয়া উচিত নয়। কারও মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পেলে বিয়েতে দেরি করা উচিত নয়। হাকিম বাবর জানিয়েছেন, আগামী ঈদুল ফিতরের পর তরুণী স্ত্রীকে নিয়ে তিনি প্রথমে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে যাবেন। এরপর নেদারল্যান্ডসে যাবেন ঘুরতে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করার পর, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা করা’ দেশগুলোর ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর ট্রাম্প আরোপিত বেশিরভাগ শুল্ক বাতিলের সিদ্ধান্ত আসার পর শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তিগুলোর কী হবে—বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তা মূল্যায়ন করছে; এর পরই এই সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করবে। আর চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে ভারত। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে, এই রায় ব্যবহার করে গত বছরের বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার বিষয়ে দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। ‘যে কোনো দেশ, যারা সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত সামনে এনে ‘খেলতে’ চায়, বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে এমনকি দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ছিঁড়ে খেয়েছে’, তাদের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে, যা সম্প্রতি রাজি হওয়া শুল্কের চেয়েও খারাপ। ক্রেতা সাবধান’, ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন তিনি। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ট্রাম্প ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে। তখন থেকেই এরকম বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। আদালত বলেন, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ শুল্ক মূলত আমদানি পণ্যের ওপর আরোপিত একটি কর, যা দেশে পণ্য আনা ব্যবসায়ীদের পরিশোধ করতে হয়। আদালতের এমন সিদ্ধান্তের পর, ভিন্ন একটি আইনের অধীনে বিশ্বব্যাপী নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করে প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। পরে তা দ্রুতই ১৫ শতাংশে উন্নীত করেন তিনি। এই ব্যবস্থা, আজ মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের প্রাথমিক শুল্ক আরোপের পর যেসব বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনেক দেশ এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। সে সময় অনেক দেশ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সহজ করাসহ অন্যান্য ছাড়ের বিনিময়ে তাদের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে চেয়েছিল। সোমবার যুক্তরাজ্য জানায়, তাদের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকবে কি না—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। আগের চুক্তিতে শুল্ক হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্কের চেয়ে কম। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আমি স্বীকার করি। তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাজ্য ‘সব ধরনের বিকল্প’ বিবেচনায় রাখছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্নড ল্যাঞ্জ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জুলাইয়ে অনুমোদিত চুক্তির বিষয়ে স্পষ্টতা না পাওয়া পর্যন্ত কমিটি তাদের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন আগের চেয়েও বেশি অনিশ্চিত। যদিও এই রায়ের ফলে বাণিজ্যের প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। জোর দিয়ে বলা হয়েছে, শুল্ক আরোপের জন্য এখন অন্যান্য আইনের দিকে ঝুঁকছে তারা। শুক্রবার ১২২ ধারা প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প, যা আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। এ আইনের আওতায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া তিনি ৩০১ ধারার আওতায় তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি পৃথক বাণিজ্য আইন, যার মাধ্যমে কোনো দেশের ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য চর্চার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারেন। ট্রাম্পের আরোপিত নতুন এই শুল্ক ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির মতো নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর, পূর্ব ঘোষিত শুল্কের পাশাপাশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যা আদালতের রায়ে প্রভাবিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার রোববার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমরা আমাদের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের নতুন উপায় খুঁজে পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের আইনি পদ্ধতি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। রোববার সিবিএস নিউজের সাথে একটি পৃথক সাক্ষাৎকারে গ্রিয়ার বলেন, হোয়াইট হাউস তাদের করা বাণিজ্য চুক্তিগুলো ‘বহাল’ রাখবে। ‘আমরা আশা করি আমাদের অংশীদাররাও পাশে থাকবে,’ বলেন তিনি। সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারের দাম প্রায় এক শতাংশ কমেছে, যা বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক ১৫০ দিন পরে শেষ হওয়ার কথা, যদি না কংগ্রেস তাদের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেয়। এদিকে, সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা শুল্ক বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টায় বাধা দেবে। এছাড়া ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক কিছু রিপাবলিকানের কাছেও অপ্রিয়। শুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞকে আরও এগিয়ে নিতে রাজি হবেন না। অন্যদিকে, সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কের জন্য তার কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।