দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। এরপরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় নান্দাইল উপজেলা পরিষদে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় ডিলারদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকেও সার আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তাই সারের সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যাতে নির্ধারিত নিয়মে এবং ন্যায্য দামে সার পান, তা নিশ্চিত করতে ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে। সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন হলে নতুন ডিলার নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আসন্ন আমন মৌসুমে মাঠপর্যায়ে সারের সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাঈমা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলার এবং স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
লর্ডস টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় বিপদে পড়েছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হওয়ায় ইংল্যান্ড পেয়েছে ১৮০ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে দিনশেষে ৩ উইকেটে ৮৩ রান সংগ্রহ করেছে ইংলিশরা। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ২৬১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। দলীয় ১৩ রানের মধ্যেই বেন ডাকেট ও জর্ডান কক্সকে সাজঘরে ফেরান পাকিস্তানের পেসার খুররম শেহজাদ। এরপর তৃতীয় উইকেটে জো রুট ও এমিলিও গে মিলে ৪৭ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ২৪ রান করে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক রুট। টেস্টে ইংলিশ অধিনায়কের সাম্প্রতিক এলবিডব্লিউ দুর্ভাগ্যও অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ১২ ইনিংসে এ নিয়ে নবমবার লেগ বিফোরের শিকার হলেন তিনি। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়। তখন এমিলিও গে ৩০ এবং হ্যারি ব্রুক ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শেহজাদ দুটি এবং মোহাম্মদ আলি একটি উইকেট নিয়েছেন। এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের বোলাররা দুর্দান্ত শুরু করেছিল। ২৪৮ রানের মধ্যেই ইংল্যান্ডের ৯ উইকেট তুলে নেয় তারা। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাংয়ের ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ইংল্যান্ডকে ২৯০ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। অ্যাটকিনসন ৪৫ রানে আউট হলেও টাং ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বল হাতে ভালো করার পর ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। আজান আওয়াইস সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন। এছাড়া সৌদ শাকিল ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ইংল্যান্ডের হয়ে ওলি রবিনসন চারটি, জোফরা আর্চার তিনটি এবং জশ টাং দুটি উইকেট নেন। তাদের বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। ফলে ম্যাচের তৃতীয় দিন শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তানের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। লর্ডসে ইংল্যান্ডের জয় এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালেও ক্রিকেটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কী হয়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর ব্যাপক সেনা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার রুশ সেনা বিভিন্ন ফ্রন্টে হতাহত হচ্ছে। বিপরীতে নতুন করে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা নিয়োগ দিতে পারছে মস্কো। ফলে প্রতি মাসেই প্রায় ৬ হাজার সেনার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া বক্তব্যে এক পশ্চিমা কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, রুশ বাহিনীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার নতুন সেনা যোগ দিচ্ছে। সে হিসাবে মাসে ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা নিয়োগ পাচ্ছে তারা। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে মাসিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার হওয়ায় নিয়োগ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়মিত সেনা ঘাটতির কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে রাশিয়ার হাতে নতুন সেনা সংগ্রহের বিকল্প ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোয় রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার পেছনে সেনা ঘাটতির বিষয়টিও ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়ে দেশটির মানুষের মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে মস্কো। তারা আরও মনে করেন, নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশ রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২০২২ সালের শরতে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় সেনা সমাবেশের পর প্রায় ১০ লাখ রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে দেশে ফিরলেও ফিরে আসার সংখ্যা দেশত্যাগীদের অর্ধেকেরও কম। এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি-সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য মিত্র দেশগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়ে আসছে কিয়েভ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে চলতি সপ্তাহে কিয়েভ যান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সফরে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের পক্ষে যুক্তরাজ্যের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে বার্নহ্যামের। অন্যদিকে রাশিয়া একাধিকবার প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকিও রয়েছে। তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, রাশিয়ার হুমকি বাস্তব হলেও প্রেসিডেন্ট পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চান না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে ইউক্রেনের আগ্রহ এবং দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ এখনও চলমান। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নির্মাতা মৃণাল সেনের জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘পদাতিক’-এ মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রায় দুই বছর পর এবার জায়গা করে নিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ‘জিফাইভ’-এ মুক্তি পেয়েছে ‘পদাতিক’। সিনেমাটির ওটিটি মুক্তির খবরের পাশাপাশি এর আন্তর্জাতিক অর্জনের তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। নির্মাতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক, ঢাকা, প্যারিস ও মালয়েশিয়ার চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সেরা সিনেমা, চিত্রনাট্য, প্রডাকশন ডিজাইন, কস্টিউম ও মেকআপসহ বিভিন্ন বিভাগে ছয়টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে ‘পদাতিক’। এ ছাড়া ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সম্পাদনা, চিত্রনাট্য, প্রডাকশন ডিজাইন, অভিনয় ও মেকআপ বিভাগে পাঁচটি পুরস্কার এবং ডব্লিউবিএফজেএ অ্যাওয়ার্ডে পাঁচটি পুরস্কার অর্জন করেছে সিনেমাটি। পাশাপাশি পরিচালনা ও অভিনয়ের জন্য দুটি আনন্দলোক পুরস্কারসহ সব মিলিয়ে ছবিটির ঝুলিতে রয়েছে ১৮টি পুরস্কার। পুরস্কারের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১২টি আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ‘পদাতিক’। এর মধ্যে রয়েছে গোয়া, কেরালা, মুম্বাই, টরন্টো, সিডনি, ঢাকা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, শিকাগো, মালয়েশিয়া, প্যারিস ও মেলবোর্নের চলচ্চিত্র উৎসব। সিনেমাটি ‘অল-ইন্ডিয়া ক্রিটিকস চয়েস’-এ দুটি বিভাগে মনোনয়নও পেয়েছিল। পাশাপাশি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিড-ডে’র ২০২৪ সালের সেরা ২০ ভারতীয় চলচ্চিত্রের তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করে ‘পদাতিক’। ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। একই সময়ে বাংলাদেশেও মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ‘পদাতিক’-এ মৃণাল সেনের জীবনের বিভিন্ন সময়ের ঘটনা, সংগ্রাম ও সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। তরুণ ও প্রবীণ—দুই বয়সের মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। সিনেমায় মৃণাল সেনের স্ত্রী গীতা সেনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ ও বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পাওয়ার পর এবার ওটিটি মুক্তির মাধ্যমে ‘পদাতিক’ আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর ব্যাপক সেনা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার রুশ সেনা বিভিন্ন ফ্রন্টে হতাহত হচ্ছে। বিপরীতে নতুন করে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা নিয়োগ দিতে পারছে মস্কো। ফলে প্রতি মাসেই প্রায় ৬ হাজার সেনার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া বক্তব্যে এক পশ্চিমা কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, রুশ বাহিনীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার নতুন সেনা যোগ দিচ্ছে। সে হিসাবে মাসে ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা নিয়োগ পাচ্ছে তারা। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে মাসিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার হওয়ায় নিয়োগ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়মিত সেনা ঘাটতির কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে রাশিয়ার হাতে নতুন সেনা সংগ্রহের বিকল্প ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোয় রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার পেছনে সেনা ঘাটতির বিষয়টিও ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়ে দেশটির মানুষের মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে মস্কো। তারা আরও মনে করেন, নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশ রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২০২২ সালের শরতে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় সেনা সমাবেশের পর প্রায় ১০ লাখ রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে দেশে ফিরলেও ফিরে আসার সংখ্যা দেশত্যাগীদের অর্ধেকেরও কম। এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি-সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য মিত্র দেশগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়ে আসছে কিয়েভ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে চলতি সপ্তাহে কিয়েভ যান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সফরে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের পক্ষে যুক্তরাজ্যের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে বার্নহ্যামের। অন্যদিকে রাশিয়া একাধিকবার প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকিও রয়েছে। তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, রাশিয়ার হুমকি বাস্তব হলেও প্রেসিডেন্ট পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চান না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে ইউক্রেনের আগ্রহ এবং দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ এখনও চলমান। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ‘৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬’-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির ‘ইউনিভার্সাল হিলটন কনভেনশন হলে’ তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার আয়োজনে সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা ও ব্যবসায়ী অংশ নেবেন। ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। উদ্বোধনী পর্বে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলসহ আয়োজক ও নির্বাহী কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়রের সঙ্গে একটি বিশেষ বিজনেস লাঞ্চে অংশ নেবেন মন্ত্রী। এ আয়োজনে ব্যবসায়ী নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মন্ত্রীসহ উত্তর আমেরিকা ও কানাডার ফোবানা নেতারা বক্তব্য দেবেন। সফরকালে আরিফুল হক চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের কার্যক্রম শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ১৫ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে ঘাটে আটকে থাকা পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে চিলমারী নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত চ্যানেল ড্রেজিং না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এ নৌপথে প্রায়ই ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। এতে পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে ঘাটে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় চালকদের। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। শুরুতে দুটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার করা হতো। একটি ফেরিতে ট্রিপপ্রতি ৮ থেকে ১৩টি পর্যন্ত পণ্যবাহী যান পারাপার করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে এ রুটে ‘কদম’ নামের একটি ফেরি থাকলেও নাব্যতা সংকটের কারণে সেটিও ১৪ আগস্ট থেকে চলাচল বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে ৫৪১ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ভোগান্তির বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা ট্রাকচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় প্রায় ১৫টি ট্রাক ফিরে গেছে। তিনি ঘাটে এসে ফেরি বন্ধ দেখে তাকেও ফিরে যেতে হচ্ছে। রংপুর থেকে আসা ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি সাত দিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছেন। ফেরি চালু হওয়ার কথা শুনলেও এখন পর্যন্ত তা চালু হয়নি। ফেরি না চললে ঢাকা যেতে তাকে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হবে, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আন্ধার মানিক’ নামের একটি শক্তিশালী ড্রেজিং মেশিন রয়েছে। সেটি দিয়ে নৌপথ খনন করা হলে দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট ও দুইশ বিঘা এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চললেও প্রয়োজনীয় আরও দুটি ড্রেজার পাঠানোর কথা থাকলেও তা এখনো পাঠানো হয়নি। কয়েক দিন আগে রৌমারী ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে তিনি ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ দেখতে পেয়েছেন বলেও জানান। অন্যদিকে ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর)-১০ চিলমারীর সমীর চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে ড্রেজিং বন্ধ রয়েছে। তবে দুইশ বিঘা এলাকায় খননকাজ চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আসাদুল ইসলাম, আনিছুর রহমান ও জাহিদসহ স্থানীয়দের দাবি, ড্রেজিংয়ের কাজে কেউ বাধা দেয়নি। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই খননকাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। তাদের ভাষ্য, এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধের পেছনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফেরি বন্ধ থাকলে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ঢাকার ধানমণ্ডিতে একটি মানববন্ধন থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, বক্তাদের একজন বক্তব্য শেষ করে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে সেখানে তিনজন এসে হট্টগোল করার চেষ্টা করে। বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশও আসে। মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ বলছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর তারা সেখানে গিয়ে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকার ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে মিনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’- এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়। সমাবেশের সংগঠকদের একজন ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট ও চারু শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী। মানববন্ধনে তিনি বলেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছবিতে দৃশ্যমান নিষ্পাপ মুখগুলো বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার হৃদয় ব্যথিত, আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না। আমরা কেমন সমাজে বাস করছি? এদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী শিখছি? আমরা কি একটি বর্বর জাতিতে পরিণত হচ্ছি?” তিনি বলেন, “ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের চোখের সামনে এই স্বাধীনতাকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। সে কারণেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবাদ সমাবেশ যেন করতে না পারি, সেজন্য আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে ফোনকল এসেছে।” কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তিনজন ব্যক্তি এসে ওই স্লোগানের প্রতিবাদ জানান। তাদের একজন নিজের পরিচয় না দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। আপনারা এটিকে একটি সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচি বলছেন, তাহলে আপনারা কেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন?” এ নিয়ে প্রতিবাদকারী ও আয়োজকদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, “পূর্ব নির্ধারিত একটা প্রোগ্রাম ছিল। শতাধিক লোকজন সেখানে সমবেত হয়। কামাল পাশাসহ দুই-তিনজন বক্তব্য রাখেন। সেখানে কামাল ভাই (কামাল পাশা) বক্তব্যের পর জয় বাংলা স্লোগান দেন। “এসময় সেখানে ২-৩টা ছেলে প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, ‘সামাজিক প্রোগ্রামে কেন জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ।’ এটা নিয়ে কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরিবেশটা একটু উত্তপ্ত হয়ে পড়ায় আগতরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।” মানববন্ধনের পরে ঘটনা নিয়ে কামাল পাশা চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রোগ্রাম শেষ করে দেওয়ার পর সবাই যখন আড্ডা দিচ্ছিল তখন কয়েকজন এসে চীৎকার করে। একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে সবাই। এরপরে আবার পুলিশ আসছে, প্রায় একঘণ্টা পর। সেখানে চেক-টেক করছে। তবে কাউকে আটক করছে বলে শুনি নাই।” তবে পুলিশ বলছে এ ঘটনায় মামলা হবে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম বলছেন, “ঘটনা হচ্ছে যে রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবি নিয়ে তারা সচেতন প্রকৌশল সমাজের ব্যানারে দাঁড়াইছিল। সেখানে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কথা বলতে বলতে পেছন থেকে ‘জয় বাংলা’ বলছে। “আমরা পাশেই ছিলাম। তখন আমরা গিয়ে ব্যানার ধরছি আর লোকগুলো পালিয়ে গেছে। আমরা সেখানে আগতদের শনাক্ত করেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।” ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এ জনগোষ্ঠীকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চীনের জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে' তিনি এ কথা বলেন। জিয়াংসি প্রাদেশিক সরকার ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ঝেং পেংউ এতে স্বাক্ষর করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অবশ্যই শিল্প খাত ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়, বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের সঙ্গে গভীরতর সহযোগিতা বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদষ্টো মাহদী আমিন বলেন, চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই সহযোগিতা শুধু আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কার্যকর করাই মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে সুযোগে পরিণত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় পক্ষ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষা-শিল্প সংযোগ, বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে গবেষণা, শিল্প প্রশিক্ষণ, চীন সফর এবং কারিগরি শিক্ষা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। যে তিনটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন হলো: সম্মেলনে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতার আওতায় তিনটি নতুন প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্যে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন ও জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক ফ্যান হংহুই। বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পেই হংওয়েই। বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+স্কিল ডেভেলপমেন্ট সহযোগিতা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ঝেং পেংউ। সম্মেলনে জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে বাংলাদেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল, জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর ব্যাপক সেনা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার রুশ সেনা বিভিন্ন ফ্রন্টে হতাহত হচ্ছে। বিপরীতে নতুন করে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা নিয়োগ দিতে পারছে মস্কো। ফলে প্রতি মাসেই প্রায় ৬ হাজার সেনার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া বক্তব্যে এক পশ্চিমা কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, রুশ বাহিনীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার নতুন সেনা যোগ দিচ্ছে। সে হিসাবে মাসে ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা নিয়োগ পাচ্ছে তারা। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে মাসিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার হওয়ায় নিয়োগ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়মিত সেনা ঘাটতির কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে রাশিয়ার হাতে নতুন সেনা সংগ্রহের বিকল্প ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোয় রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার পেছনে সেনা ঘাটতির বিষয়টিও ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়ে দেশটির মানুষের মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে মস্কো। তারা আরও মনে করেন, নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশ রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২০২২ সালের শরতে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় সেনা সমাবেশের পর প্রায় ১০ লাখ রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে দেশে ফিরলেও ফিরে আসার সংখ্যা দেশত্যাগীদের অর্ধেকেরও কম। এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি-সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য মিত্র দেশগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়ে আসছে কিয়েভ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে চলতি সপ্তাহে কিয়েভ যান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সফরে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের পক্ষে যুক্তরাজ্যের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে বার্নহ্যামের। অন্যদিকে রাশিয়া একাধিকবার প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকিও রয়েছে। তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, রাশিয়ার হুমকি বাস্তব হলেও প্রেসিডেন্ট পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চান না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে ইউক্রেনের আগ্রহ এবং দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ এখনও চলমান। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আলোচিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, তারা সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। তিনি বলেন, প্রথমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ওই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও ওই চুক্তিকে ইতিবাচক বর্ণনা করে বলেন, এ চুক্তি যদি বিস্তৃত হয়-এটা হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে কারও-অন্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই। মক্কা চুক্তি সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ প্যাক্টকে আমরা ইতিবাচক হিসাবে দেখছি। এতে যোগদান বা যোগদান না করার বিষয়টি এখনো আসেনি। কারণ, এটি নির্ভর করছে প্যাক্টের সদস্যদের অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি বাংলাদেশকে এ প্যাক্টে নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করে, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই এটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। মক্কা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের বিষয়ে ভারতের ভাবনা জানতে চান ওই সাংবাদিক। জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা সব ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় হয়। নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। সম্প্রতি দুটি পরিবার আক্রান্ত হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বা নিয়েছে কি না, উল্লেখ করে ওই সাংবাদিক জানতে চান, এটা ভারতের কাছে উদ্বেজনক কি না। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু বলেন, আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির মোকাবিলা করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তাদের পালন করা উচিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যখন ইরানের ওপর হামলা শুরু করলেন, তখন তিনি একে একটি ‘এক্সকার্শন’ বা ছোটোখাটো ‘সামরিক ভ্রমণ’ হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন, যার মেয়াদ হবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু ছয় মাস পর, সেই সামরিক অভিযান কেবল পশ্চিম এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ইরানের জনগণের জন্য, পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের জন্য এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তি খরচের চাপে থাকা ভোক্তাদের জন্য একটি বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এ যুদ্ধ। তবু ট্রাম্পের লক্ষ্যগুলো অপূর্ণই রয়ে গেছে, যদিও সেই লক্ষ্য বারবার বদলে যেতে দেখা গেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন, তার ছেলে গুরুতর আহত হন। সেই চরম আঘাতের পরও ইরানের সরকার এখন পর্যন্ত টিকে আছে এবং তারা বিশ্বাস করে, সময় তাদের পক্ষেই কাজ করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইরানে নিজেদের তৈরি করা এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় নিজেদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুদ্ধের তীব্রতা কমেছে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা এখন একটি বিষয়ে মোটামুটি একমত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানের ফলে তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটবে না, কিংবা ওয়াশিংটন কোনো চূড়ান্ত ও সুস্পষ্ট বিজয়ও পাবে না। বরং এই যুদ্ধ এখন একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এবং একে অপরকে দুর্বল করার এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক এইচ এ হেলিয়ার আল জাজিরাকে বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে তেহরান সরকারের পতনের কোনো সম্ভাবনাই নেই। যদি অর্থনৈতিক চাপ এভাবেই চলতে থাকে, তবে কয়েক বছর পর হয়ত রাষ্ট্রে একটি বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে নয়।" যুদ্ধের লক্ষ্য বদলে গেল যেভাবে ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কীভাবে সময়ে সময়ে বদলে গেছে, তা এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে সিএনএন। শুরুতে ইরানকে সম্পূর্ণ পরাভূত করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা, সেখানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো এবং তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চিরতরে মুছে ফেলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। সেসব লক্ষ্য এখন শুধু হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরার দাবিতে নেমে এসেছে। এই পরিবর্তন যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বড় সুবিধা থাকলেও সেই শক্তিকে রাজনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এখন সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরানের তেল বিক্রি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা আর্থিক পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নৌ অবরোধ তেহরানের তেল রপ্তানি ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করেছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ইরানের জন্য নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। কয়েক দশক ধরে তেহরান নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। ফলে নতুন চাপ যতই বাড়ুক, তা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দ্রুত নতি স্বীকারে বাধ্য করতে পারবে কি না, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। অবরোধের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে হরমুজ ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে হরমুজ প্রণালি, যার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কার্যত ইরানের হাতে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং ইরানি বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে হরমুজে বাণিজ্যিক চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় একেবারেই কমে গেছে। এর সরাসরি চাপ পড়েছে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে তেল ও গ্যাসের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তারা একই সঙ্গে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার এবং নিজেদের দেশকে বিনিয়োগের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছিল। যুদ্ধ সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। অস্থির তেলের বাজার বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘ্ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। গালফ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান অর্থনীতিবিদ জন স্ফাকিয়ানাকিস প্রশ্ন তুলেছেন, এই পরিস্থিতি আরও ছয় মাস চলবে কি না, কিংবা আরও দীর্ঘ হবে কি না। সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোনো দেশ যদি ভবিষ্যতে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক নৌপথকে রাজনৈতিক বা সামরিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, হরমুজের ঘটনা তার জন্য একটি নজির হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্য ও সার পরিবহন—সবকিছুর ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যে দেখিয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব কত দ্রুত বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন হিসাব যুদ্ধ শুধু অর্থনীতির হিসাব বদলায়নি, নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে উপসাগরীয় দেশগুলোকে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই দেশগুলো আগে থেকেই তাদের অর্থনীতি বহুমুখী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বাইরে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব বাড়ানোর কথা ভাবছিল। যুদ্ধ সেই প্রবণতাকে আরও দ্রুত করেছে। চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের ভাষায়, যুদ্ধ এমন কোনো প্রবণতা তৈরি করেনি যা আগে ছিল না; বরং বিদ্যমান প্রবণতাগুলোকে ত্বরান্বিত করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো যে আগে থেকেই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছিল, তার একটি দৃশ্যমান উদাহরণ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ ধরনের সামরিক অংশীদারত্ব এই অঞ্চলে আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের একটি দীর্ঘমেয়াদি ফল হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তন। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছিল এই কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। এখন আঞ্চলিক দেশগুলো সেই নির্ভরতার পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও বিকল্প অংশীদারত্ব বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। শত চাপেও টিকে আছে ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে গভীর চাপ পড়েছে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে দেশটির বামূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এক বছর আগের তুলনায় ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ। খাদ্যের দাম বেড়েছে ১২৮ শতাংশ। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের সমস্যা কয়েক গুণ বেড়েছে, একই সঙ্গে আয় কমেছে। অর্থনৈতিক সংকট অবশ্য ইরানে নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু শাসনক্ষমতায় পরিবর্তন ঘটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের একটি মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানের মানুষের অসন্তোষ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সেই অসন্তোষ যে সরকারের পতনে রূপ নেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। বরং ইরানকে অতীতেও নানামুখী চাপ সামলে টিকে থাকার উপায় বের করে নিতে দেখা গেছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে যুদ্ধের মেয়াদও দীর্ঘ করতে পারে। চীন ও ভারতের ভূমিকা ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা কৌশলের আরেকটি বড় প্রশ্ন হল—ইরানের অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দেশগুলো কতটা যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মেনে চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু তেহরান মনে করছে, তাদের সঙ্গে চীন ও ভারতের মত দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি বন্ধ করা ওয়াশিংটনের জন্য সহজ হবে না। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, চীনের মত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করবে না বলেই তাদের বিশ্বাস। এই বাস্তবতা যুদ্ধকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বা ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভারসাম্যের খেলা কঠিন হয়ে উঠেছে। একদিকে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে সেই চাপ এমন পর্যায়ে নেওয়া যাবে না, যাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দাম আরও বাড়ে এবং মিত্র দেশগুলোর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইউক্রেইনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব পশ্চিম এশিয়ার বাইরে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ইউক্রেইন যুদ্ধে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর ফলে ইউক্রেইনের জন্য নির্ধারিত কিছু গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পশ্চিম এশিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সিএনএনকে বলেছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে প্রয়োজনের মাত্র এক-দশমাংশ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তার দেশের হাতে ছিল। সিএনএন লিখেছে, এর ফল হয়েছে মারাত্মক। ২০২২ সালের মে মাসের পর চলতি গ্রীষ্মে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময় পার করেছে ইউক্রেইনের বেসামরিক মানুষ। অন্যদিকে হরমুজ সংকট রাশিয়ার জন্য কিছু অপ্রত্যাশিত সুবিধা তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় মস্কোর জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে ইউক্রেইন যুদ্ধ চালাতে বাড়তি অর্থের যোগানা পাচ্ছে রাশিয়া। অর্থাৎ, ইরানকে চাপে ফেলতে গিয়ে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের একটি অংশ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সামনে কী? ছয় মাসের হিসাব বলছে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল—কোনো পক্ষই এখনো এমন ফল অর্জন করতে পারেনি, যা দিয়ে সংঘাতের একটি পরিষ্কার সমাপ্তি টানা যায়। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান হরমুজ প্রণালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করুক এবং পারমাণবিক কর্মসূচি আর কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে না পারুক। ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার হোক, কিন্তু এমনভাবে নয়, যাতে সেটিকে তেহরানের আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখা যায়। উপসাগরীয় দেশগুলো চায় যুদ্ধ থামুক, কিন্তু একই সঙ্গে এমন কোনো ফলও চায় না যাতে ইরান নিজেকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করতে পারে এবং হরমুজে চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা ধরে রাখে। এই তিনটি অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার জায়গা খুবই সংকীর্ণ। রয়টার্স লিখেছে, এটি একটি ‘বিপজ্জনক অচলাবস্থা’। কারণ সামরিক সংঘাতের তীব্রতা কমলেও রাজনৈতিক সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের জন্য কৌশলটি তুলনামূলকভাবে সরল—টিকে থাকা। দেশটির নেতৃত্ব বিশ্বাস করে, সময় যত গড়াবে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্যও বাড়বে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সামনে প্রশ্ন হল, ঠিক কোন ফলকে ‘যথেষ্ট’ বলে মেনে নিয়ে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। যদি লক্ষ্য হয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা, তাহলে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ চালিয়ে যেতে হবে। আর যদি লক্ষ্য হয় পারমাণবিক কর্মসূচিকে এমন পর্যায়ে দুর্বল করা, যাতে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা না যায়, তাহলে তুলনামূলকভাবে সীমিত সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই পথও সহজ নয়। কারণ যুদ্ধের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় নিরাপত্তা, বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন। জয়-পরাজয়ের বাইরে যুদ্ধের এই ছয় মাসে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, আর তা হল আধুনিক যুদ্ধে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব আর রাজনৈতিক বিজয় এক জিনিস নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা ইরানের সক্ষমতার ওপর বড় আঘাত করেছে—এমন দাবি ওয়াশিংটন করছে। কিন্তু একই সময়ে ইরানের সরকার টিকে আছে এবং যুদ্ধের খরচ বাড়িয়ে দেওয়ার মতো পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও ধরে রেখেছে। ইরানের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যের দাম বেড়েছে, জনগণের ওপর চাপ বাড়ছে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট এখনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটায়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের মধ্যে পড়ে নিজেদের নিরাপত্তা কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে। চীন ও ভারতের মত শক্তির সঙ্গে সম্পর্কও এই নতুন সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি এমন একটি সংঘাতে পরিণত হয়েছে, যার প্রতিটি অতিরিক্ত দিন শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নয়, পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরের দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও নতুন খরচ চাপাচ্ছে। তাই ‘কে জিতছে’ তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হল, কে কত দিন এই অচলাবস্থার খরচ বহন করতে পারবে, এবং শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ আগে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, যাকে নিজের পরাজয় বলে মনে হবে না।
নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন অন্তত ১৯২৪ জন। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস (আইএফআরসি) জানিয়েছে, হিমালয়ের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যা দেখা দেয়। পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীর তীরবর্তী জনপদ তছনছ করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। পরে সেই পানির স্রোত ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে। বন্যার প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। নদীর স্রোতে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ মূল বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বহু দূরে ভাটির বিভিন্ন জেলায় পৌঁছায়। এখন রাসুয়া ছাড়াও নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান ও নাওয়ালপরাসিতে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ২২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। যাদের জীবিত উদ্ধার করা গেছে, তাদের মধ্যে ৭৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন; তাদের মধ্যে রাসুয়ায় ৪৩, নুয়াকোটে ২৭ এবং ধাদিংয়ে তিনজন। নিরাপত্তা ও সরকারি দায়িত্বে থাকা ১০৫ জনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫, পুলিশের ২৮, কাস্টমস কার্যালয়ের ১৫, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ এবং অভিবাসন কার্যালয়ের চারজন রয়েছেন। তবে নিখোঁজের তালিকা এখনো চূড়ান্ত নয়। তালিকায় থাকা কেউ নিরাপদে অন্য কোথাও পৌঁছেছেন কি না, তা যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ। নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। মোট ১৪ হাজার ৮২৯ জন নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬ হাজার ৬৯৮, পুলিশের ৪ হাজার ৪৭৩ এবং সশস্ত্র পুলিশের ৩ হাজার ৬৫৮ জন। হেলিকপ্টারে করে ৩ হাজার ৭৪২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; এ কাজে সেনাবাহিনী ও বেসরকারি অপারেটররা মিলে ৭৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। তবে উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি এখন বড় সংকট হয়ে উঠেছে উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্ত করা। চিতওয়ানে দুই শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হলেও জেলার হাসপাতালগুলোর মর্গে একসঙ্গে রাখা সম্ভব ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ। এ কারণে ভারতপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের একটি অব্যবহৃত ভবনকে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখা সম্ভব হবে। নবলপরাসী পূর্ব জেলাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জায়গা না থাকায় সেখান থেকে মরদেহ পোখারা, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া ও পালপায় পাঠানো হয়েছে। কাওয়াসোটির একটি কমিউনিটি ফরেস্ট হলও অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পোখারায় তানাহুন, গোরখা, নাওয়ালপরাসি ইস্ট ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে। কাসকি জেলার হাসপাতালগুলোর সম্মিলিত মর্গের ধারণক্ষমতা ৮৮টি হওয়ায় সেখানেও ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। মরদেহ শনাক্ত করতে পুলিশ ছবি তুলছে, আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করছে, ময়নাতদন্ত করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএনএ নমুনা নিচ্ছে। ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য কাঠমান্ডুর নেপাল একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় ফরেনসিক বিজ্ঞান গবেষণাগারে পাঠানো হচ্ছে। যেসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হবে না, সেগুলোর জন্যও কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি মরদেহকে একটি নম্বর দেওয়া হবে এবং দাফনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরে ডিএনএ বা অন্য কোনো প্রমাণের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহের অবস্থান শনাক্ত করা যায়। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ভাটির এলাকাগুলোতে, বিশেষ করে চিতওয়ানে ছুটে যাচ্ছেন। কেউ কেউ নিখোঁজ স্বজনের ছবি হাতে নিয়ে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রের কাছে অপেক্ষা করছেন। এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ভূমিধসে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে চীনের তিব্বত অংশে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি বড় হ্রদ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সেই বাঁধ উপচে পড়ার খবরে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সরকার রাসুয়া ও নুয়াকোটকে তাৎক্ষণিক ১ কোটি নেপালি রুপি করে এবং ধাদিংকে ৫০ লাখ রুপি নগদ সহায়তা দিয়েছে। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ৩০টি ট্রাক ও চারটি বিমান কার্গো চালানও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী ও সব মন্ত্রীর এক মাসের বেতন ও পারিশ্রমিক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্যাকেজ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারত অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে। তৃতীয় সামরিক উড়োজাহাজে আরও ১২ টন ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে; এর আগে দুটি চালানে ৪৭ টনের বেশি ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় একজন পরামর্শক পাঠানোর কথা জানিয়েছে। তবে বন্যা শুরুর দুই দিন পরও পুরো পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট হয়নি। একদিকে জীবিতদের সন্ধান ও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে, অন্যদিকে ক্রমশ বাড়তে থাকা মরদেহের ব্যবস্থাপনা, শনাক্তকরণ এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় নতুন করে পানির প্রবাহ বাড়ে কি না, সেটিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।