দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুত করতে চীন নির্মাণ করছে শতকের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প 'পিংলু খাল' (Pinglu Canal)। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত এই জলপথটি নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭ হাজার ২৭০ কোটি ইউয়ান) ব্যয়ে নির্মিত ১৩৪ কিলোমিটার (৮৩ মাইল) দীর্ঘ এই খালের নির্মাণকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এর প্রথম শিপিং রুটে পরীক্ষামূলকভাবে নৌযান চলাচল শুরু হবে, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগে। প্রথম রুটটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নাননিং-এর সঙ্গে হাইনান দ্বীপের মুক্ত বাণিজ্য বন্দরকে সরাসরি যুক্ত করবে। বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত ও সময়-খরচ সাশ্রয় পিংলু খালটি চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথকে সরাসরি 'গলফ অব টনকিন' বা বেইবু উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলো থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট 'আসিয়ান' (ASEAN)-এ পণ্য পৌঁছানোর দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার (৩৪৬ মাইল) কমে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথটি চালু হলে চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ প্রায় ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, যা বছরে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লজিস্টিক খরচ বাঁচাবে। এতদিন এই অঞ্চলের পণ্যগুলোকে ঘুরতি পথে গুয়াংডং প্রদেশের বন্দর হয়ে সমুদ্রে যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। গত বছর যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমেছে, সেখানে আসিয়ান দেশগুলোতে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৪ শতাংশ। এই বিশাল খালের মাধ্যমে চীন তার অন্যতম বড় এই রপ্তানি বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করতে চাইছে। ১০ হাজার টনের বিশাল মালবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত এই খালটিকে চীনের গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় 'নদী থেকে সমুদ্র' সংযোগকারী খাল প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নাননিং-এ অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম 'চীন-আসিয়ান এক্সপো' (China-ASEAN Expo) চলাকালেই এই খালের উদ্বোধন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'সেরা চলচ্চিত্রের' পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের সিনেমা 'মানুষের বাগান'। উৎসবের সমাপনী দিন এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সিনেমার পরিচালক ও পুরো টিমের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতে বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার প্রীতি রহমান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পক্ষে প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর এই আন্তর্জাতিক অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সিনেমার পরিচালক নুরুল আলম আতিক বলেন, যে কোনো স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে আনন্দের। বেশ আগে কাজটি করা। সবাই তাঁকে দারুণ সহায়তা করেছিলেন। সিনেমাটি শিগগিরই দেশের দর্শকরা দেখতে পারবেন। একগুচ্ছ অভিনয়শিল্পী নিয়ে আতিক সিনেমাটি নির্মাণ ও সম্পাদনা শেষ করেন ২০১৯ সালের শেষের দিকে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, মাহমুদ আলম, প্রসূন আজাদ, দিপান্বিতা মার্টিন, ইকবাল আহমেদ, জয়রাজসহ অনেকে। 'মানুষের বাগান' সিনেমায় মানুষের সম্পর্কের গভীরতা এবং জীবনের জটিলতার দিক তুলে ধরেছেন নির্মাতা। চিত্রনাট্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাঁচটি গল্প নিজস্ব দর্শনে তৈরি করেছেন তিনি। সিনেমায় 'মানুষের বাগান' শিরোনামের একটি গান রয়েছে, যা করেছে চিরকুট ব্যান্ড। গানটির গীতিকার নাহিদুর রহমান আনন্দ, যিনি চিরকুটের 'যাদুর শহর' গানটির কথাও লিখেছিলেন। দুই বছর আগে আতিকের 'পেয়ারার সুবাস' সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল, সেটিও নির্মাণের আট বছর পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেন তিনি। এর আগে আতিক নির্মাণ করেছেন 'লাল মোরগের জুটি', 'ডুব সাঁতার', 'কিত্তনখোলা' সহ বেশ কিছু সিনেমা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় কালশির মুখ সীমান্ত এলাকার 'নো ম্যানস ল্যান্ড'-এ বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমা চেয়ে খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে বলে শুক্রবার বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। স্থানীয় বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিয়ুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিএসএফ প্রায়শই নিষিদ্ধ সীমান্ত বিন্দুতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু বিজিবি টহল দলের দ্রুত ও কঠোর প্রতিবাদের মুখে প্রতিবারই খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের পক্ষে একতরফাভাবে সীমান্ত এলাকার 'জিরো লাইন' বা 'নো ম্যানস ল্যান্ড' স্পর্শ করে বা অতিক্রম করে খুঁটি, বেড়া বা স্তম্ভ স্থাপন করা অবৈধ। এ ধরনের কাঠামো নির্মাণের আগে সীমান্ত ভাগাভাগি করা সব দেশের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা করতে হয়। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিএসএফের একটি দল নিয়ম লঙ্ঘন করে কালশির মুখ সীমান্ত এলাকায় খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ও বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়ন এই লঙ্ঘন লক্ষ্য করে, যার ফলে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেন। বিজিবি সদস্যরা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবিলম্বে খুঁটি সরিয়ে নিতে বিএসএফের সহকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত খুঁটি সরিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যাহার হয়। ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিয়ুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে।
উগান্ডার কৃষক মুসা হাসাহিয়া কাসেরা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত 'বিশ্বের সবচেয়ে ফারটাইল পুরুষ' হিসেবে। দাবি করা হচ্ছে, তাঁর ১২ জন স্ত্রী, ১০২ সন্তান এবং ৫৭৮-র বেশি নাতি-নাতনি রয়েছে। যেন তাঁর পরিবারের সদস্য দিয়েই গড়ে উঠেছে এক গ্রাম। বিশাল এই পরিবার নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক দম্পতির কাছেই সন্তান নেওয়া সহজ বিষয় নয়। কর্মব্যস্ততা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, মানসিক চাপ কিংবা বন্ধ্যাত্ব বিভিন্ন কারণে পরিবার পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। ঠিক এমন এক সময়ে আফ্রিকার একটি গ্রামের সাধারণ কৃষককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কারণ তাঁর পরিবারের আকার যেন ছোটখাটো একটি গ্রামের সমান। মুসা হাসাহিয়ার বয়স প্রায় ৬৮ বছর। তিনি পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার একজন কৃষক। সাধারণ জীবনযাপন করলেও তাঁর পরিবার এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের ভাষায়, তাঁর বাড়িতে সবসময়ই উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা এত বেশি যে প্রতিদিন রান্না, খাবার পরিবেশন ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে খেতে পারে না। মুসা জানিয়েছেন, প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম তাঁর মনে থাকলেও মাঝের অনেক সন্তানের নাম তিনি ভুলে যান। তাই তিনি একটি পুরোনো নোটবুকে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নাম লিখে রাখেন। কীভাবে এত বড় হলো পরিবার? মুসার দাবি, তিনি বহু বছর ধরে পরিবার বড় করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রীদের অনেককেই অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। আফ্রিকার অনেক গ্রামীণ সমাজে আগে বড় পরিবারকে শক্তি ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। কৃষিকাজে বেশি মানুষের অংশগ্রহণও বড় পরিবারের অন্যতম কারণ ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দশক আগে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বহু সন্তান নেওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা। তবে বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় সেই প্রবণতা অনেক কমেছে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উগান্ডাসহ সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু দেশে এখনো জন্মহার তুলনামূলক বেশি। তবে ১০২ সন্তানের মতো ঘটনা এখন অত্যন্ত বিরল। পরিবার পরিচালনার হিমশিম এত বড় পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন মুসা। তিনি জানিয়েছেন, কৃষিকাজ করেই পুরো পরিবার চলে। পরিবারের সদস্যরাও মাঠে কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত মানুষের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি এখন আর সন্তান চান না বলেও জানিয়েছেন। এমনকি স্ত্রীদের পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন। কারণ, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। মুসার মতে, আগে বিষয়টা সহজ মনে হলেও এখন পরিবার অনেক বড় হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া মুসার গল্প ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করছেন, কেউ আবার রসিকতা করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এই মানুষ একাই একটা গ্রাম গড়ে ফেলতে পারেন! আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এখন একটা সন্তান বড় করতেই মানুষ হিমশিম খায়, আর উনি ১০২ সন্তান বড় করেছেন! অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিবারে প্রতিটি সন্তানের যথাযথ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব কি না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুসার স্ত্রী সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও বলা হয়েছে তাঁর ১২ জন স্ত্রী রয়েছে, আবার অনেক ভাইরাল ভিডিও ও সাক্ষাৎকারে আটজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ সাম্প্রতিক আলোচনায় ১২ স্ত্রী ও ১০২ সন্তানের তথ্যই বেশি প্রচারিত হচ্ছে। জনসংখ্যাবিদদের মতে, আধুনিক সময়ে বড় পরিবার শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ, একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বড় ব্যায়ের প্রয়োজন হয়। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে এখনো পরিবারকে শ্রমশক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর সমাজে বেশি সন্তান মানে বেশি কর্মক্ষম মানুষ। মুসা হাসাহিয়া কাসেরার গল্প নিঃসন্দেহে অবাক করার মতো। তবে এটি শুধু বড় পরিবারের গল্প নয়, বরং আফ্রিকার গ্রামীণ সমাজ, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য ও সামাজিক বাস্তবতারও একটি প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব যখন ছোট পরিবার ও পরিকল্পিত জীবনের দিকে এগোচ্ছে, তখন উগান্ডার এই কৃষকের পরিবার যেন অন্য এক বাস্তবতার গল্প শোনাচ্ছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় কালশির মুখ সীমান্ত এলাকার 'নো ম্যানস ল্যান্ড'-এ বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমা চেয়ে খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে বলে শুক্রবার বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। স্থানীয় বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিয়ুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিএসএফ প্রায়শই নিষিদ্ধ সীমান্ত বিন্দুতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু বিজিবি টহল দলের দ্রুত ও কঠোর প্রতিবাদের মুখে প্রতিবারই খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের পক্ষে একতরফাভাবে সীমান্ত এলাকার 'জিরো লাইন' বা 'নো ম্যানস ল্যান্ড' স্পর্শ করে বা অতিক্রম করে খুঁটি, বেড়া বা স্তম্ভ স্থাপন করা অবৈধ। এ ধরনের কাঠামো নির্মাণের আগে সীমান্ত ভাগাভাগি করা সব দেশের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা করতে হয়। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিএসএফের একটি দল নিয়ম লঙ্ঘন করে কালশির মুখ সীমান্ত এলাকায় খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ও বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়ন এই লঙ্ঘন লক্ষ্য করে, যার ফলে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেন। বিজিবি সদস্যরা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবিলম্বে খুঁটি সরিয়ে নিতে বিএসএফের সহকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত খুঁটি সরিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যাহার হয়। ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিয়ুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুত করতে চীন নির্মাণ করছে শতকের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প 'পিংলু খাল' (Pinglu Canal)। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত এই জলপথটি নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭ হাজার ২৭০ কোটি ইউয়ান) ব্যয়ে নির্মিত ১৩৪ কিলোমিটার (৮৩ মাইল) দীর্ঘ এই খালের নির্মাণকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এর প্রথম শিপিং রুটে পরীক্ষামূলকভাবে নৌযান চলাচল শুরু হবে, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগে। প্রথম রুটটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নাননিং-এর সঙ্গে হাইনান দ্বীপের মুক্ত বাণিজ্য বন্দরকে সরাসরি যুক্ত করবে। বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত ও সময়-খরচ সাশ্রয় পিংলু খালটি চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথকে সরাসরি 'গলফ অব টনকিন' বা বেইবু উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলো থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট 'আসিয়ান' (ASEAN)-এ পণ্য পৌঁছানোর দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার (৩৪৬ মাইল) কমে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথটি চালু হলে চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ প্রায় ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, যা বছরে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লজিস্টিক খরচ বাঁচাবে। এতদিন এই অঞ্চলের পণ্যগুলোকে ঘুরতি পথে গুয়াংডং প্রদেশের বন্দর হয়ে সমুদ্রে যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। গত বছর যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমেছে, সেখানে আসিয়ান দেশগুলোতে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৪ শতাংশ। এই বিশাল খালের মাধ্যমে চীন তার অন্যতম বড় এই রপ্তানি বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করতে চাইছে। ১০ হাজার টনের বিশাল মালবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত এই খালটিকে চীনের গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় 'নদী থেকে সমুদ্র' সংযোগকারী খাল প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নাননিং-এ অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম 'চীন-আসিয়ান এক্সপো' (China-ASEAN Expo) চলাকালেই এই খালের উদ্বোধন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ইস্যুতে আলোচনা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক চা-বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। তবে আলোচনায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গত ২০ মে দুই দিনের সরকারি সফরে চীন সফরে যান পুতিন। সফরের অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তিনি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা বর্তমানে ৬০ শতাংশ। এটি আরও বৃদ্ধি পেলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। ইরানের এই ইউরেনিয়াম মজুতকে কেন্দ্র করে গত বছর দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইউরেনিয়াম ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির এক সপ্তাহ পর ইরানকে ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ইরান এতে সম্মতি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। সূত্র: এএফপি
উগান্ডার কৃষক মুসা হাসাহিয়া কাসেরা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত 'বিশ্বের সবচেয়ে ফারটাইল পুরুষ' হিসেবে। দাবি করা হচ্ছে, তাঁর ১২ জন স্ত্রী, ১০২ সন্তান এবং ৫৭৮-র বেশি নাতি-নাতনি রয়েছে। যেন তাঁর পরিবারের সদস্য দিয়েই গড়ে উঠেছে এক গ্রাম। বিশাল এই পরিবার নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক দম্পতির কাছেই সন্তান নেওয়া সহজ বিষয় নয়। কর্মব্যস্ততা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, মানসিক চাপ কিংবা বন্ধ্যাত্ব বিভিন্ন কারণে পরিবার পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। ঠিক এমন এক সময়ে আফ্রিকার একটি গ্রামের সাধারণ কৃষককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কারণ তাঁর পরিবারের আকার যেন ছোটখাটো একটি গ্রামের সমান। মুসা হাসাহিয়ার বয়স প্রায় ৬৮ বছর। তিনি পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার একজন কৃষক। সাধারণ জীবনযাপন করলেও তাঁর পরিবার এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের ভাষায়, তাঁর বাড়িতে সবসময়ই উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা এত বেশি যে প্রতিদিন রান্না, খাবার পরিবেশন ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে খেতে পারে না। মুসা জানিয়েছেন, প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম তাঁর মনে থাকলেও মাঝের অনেক সন্তানের নাম তিনি ভুলে যান। তাই তিনি একটি পুরোনো নোটবুকে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নাম লিখে রাখেন। কীভাবে এত বড় হলো পরিবার? মুসার দাবি, তিনি বহু বছর ধরে পরিবার বড় করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রীদের অনেককেই অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। আফ্রিকার অনেক গ্রামীণ সমাজে আগে বড় পরিবারকে শক্তি ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। কৃষিকাজে বেশি মানুষের অংশগ্রহণও বড় পরিবারের অন্যতম কারণ ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দশক আগে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বহু সন্তান নেওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা। তবে বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় সেই প্রবণতা অনেক কমেছে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উগান্ডাসহ সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু দেশে এখনো জন্মহার তুলনামূলক বেশি। তবে ১০২ সন্তানের মতো ঘটনা এখন অত্যন্ত বিরল। পরিবার পরিচালনার হিমশিম এত বড় পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন মুসা। তিনি জানিয়েছেন, কৃষিকাজ করেই পুরো পরিবার চলে। পরিবারের সদস্যরাও মাঠে কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত মানুষের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি এখন আর সন্তান চান না বলেও জানিয়েছেন। এমনকি স্ত্রীদের পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন। কারণ, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। মুসার মতে, আগে বিষয়টা সহজ মনে হলেও এখন পরিবার অনেক বড় হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া মুসার গল্প ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করছেন, কেউ আবার রসিকতা করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এই মানুষ একাই একটা গ্রাম গড়ে ফেলতে পারেন! আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এখন একটা সন্তান বড় করতেই মানুষ হিমশিম খায়, আর উনি ১০২ সন্তান বড় করেছেন! অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিবারে প্রতিটি সন্তানের যথাযথ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব কি না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুসার স্ত্রী সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও বলা হয়েছে তাঁর ১২ জন স্ত্রী রয়েছে, আবার অনেক ভাইরাল ভিডিও ও সাক্ষাৎকারে আটজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ সাম্প্রতিক আলোচনায় ১২ স্ত্রী ও ১০২ সন্তানের তথ্যই বেশি প্রচারিত হচ্ছে। জনসংখ্যাবিদদের মতে, আধুনিক সময়ে বড় পরিবার শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ, একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বড় ব্যায়ের প্রয়োজন হয়। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে এখনো পরিবারকে শ্রমশক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর সমাজে বেশি সন্তান মানে বেশি কর্মক্ষম মানুষ। মুসা হাসাহিয়া কাসেরার গল্প নিঃসন্দেহে অবাক করার মতো। তবে এটি শুধু বড় পরিবারের গল্প নয়, বরং আফ্রিকার গ্রামীণ সমাজ, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য ও সামাজিক বাস্তবতারও একটি প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব যখন ছোট পরিবার ও পরিকল্পিত জীবনের দিকে এগোচ্ছে, তখন উগান্ডার এই কৃষকের পরিবার যেন অন্য এক বাস্তবতার গল্প শোনাচ্ছে।
দুই পা হারানোর পরও অদম্য সাহস আর দৃঢ় মনোবল দিয়ে ইতিহাস গড়লেন রুস্তাম নাবিয়েভ নামের এক রুশ পর্বতারোহী। কৃত্রিম পা ব্যবহার ছাড়াই কেবল দুই হাতের সাহায্যে তিনি মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন। এর মাধ্যমে পা-বিহীন ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বের প্রথম এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। শুক্রবার (২২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে দুই পা হারানো সাবেক রুশ প্যারাট্রুপার নাবিয়েভ নেপালে চলমান বসন্তকালীন অভিযানের সময় বুধবার (২০ মে) বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছান। ঐতিহাসিক এই অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, যারা ভেবেছিল পতনের পর জীবন শেষ, এটি তাদের জন্য। রুস্তাম নাবিয়েভ, এভারেস্ট ২০২৬। নাবিয়েভ জানান, বুধবার সকালে তিনি শৃঙ্গে পৌঁছেছেন। তার এ অর্জনকে তিনি সারা বিশ্বের অনুসারী ও সমর্থকদের উৎসর্গ করেছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ২০ মে নেপালের সময় সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে, পর্বতারোহণের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমি, রুস্তাম নাবিয়েভ, শুধু আমার দুই হাতের সাহায্যে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছি। আমি এই আরোহণ উৎসর্গ করছি তাদের সবাইকে, যারা আমাকে দেখছে। যতক্ষণ আপনার মধ্যে জীবন আছে, লড়াই চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত লড়ুন। কারণ এর মূল্য আছে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের মাঠ সমন্বয়কারী খিম লাল গৌতম আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে নাবিয়েভের এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নাবিয়েভ সফলভাবে এভারেস্টে উঠেছেন। এখন তিনি বেস ক্যাম্পে ফিরে আসছেন। ২০১৫ সালে একটি সামরিক ব্যারাক ভবন ধসে নাবিয়েভ তার দুই পা হারান। তবে সেই দুর্ঘটনায় ভেঙে না পড়ে তিনি নিজের পুনরুদ্ধারের যাত্রাকে পর্বতারোহণ ও বহিরাঙ্গণ অভিযানের অনুপ্রেরণায় পরিণত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নাবিয়েভের অসাধারণ সাহস, ধৈর্য ও অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। একজন লিখেছেন, অভিনন্দন! এক মুহূর্তের জন্যও সন্দেহ করিনি।” আরেকজন বলেন, “আমি এখানে বসে কাঁদছি। পুরো মাসজুড়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। আপনি সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ। এখন নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসুন। আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আপনি পেরেছেন জেনে আমরা খুবই আনন্দিত! এই অসাধারণ জয়ের পর সুস্থভাবে ফিরে আসুন। আপনার এই সাফল্য আমাদের সবার মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। অসম্ভব বলে কিছু নেই। মানুষের ভেতরের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুত করতে চীন নির্মাণ করছে শতকের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প 'পিংলু খাল' (Pinglu Canal)। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত এই জলপথটি নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭ হাজার ২৭০ কোটি ইউয়ান) ব্যয়ে নির্মিত ১৩৪ কিলোমিটার (৮৩ মাইল) দীর্ঘ এই খালের নির্মাণকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এর প্রথম শিপিং রুটে পরীক্ষামূলকভাবে নৌযান চলাচল শুরু হবে, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগে। প্রথম রুটটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নাননিং-এর সঙ্গে হাইনান দ্বীপের মুক্ত বাণিজ্য বন্দরকে সরাসরি যুক্ত করবে। বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত ও সময়-খরচ সাশ্রয় পিংলু খালটি চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথকে সরাসরি 'গলফ অব টনকিন' বা বেইবু উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলো থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট 'আসিয়ান' (ASEAN)-এ পণ্য পৌঁছানোর দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার (৩৪৬ মাইল) কমে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথটি চালু হলে চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ প্রায় ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, যা বছরে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লজিস্টিক খরচ বাঁচাবে। এতদিন এই অঞ্চলের পণ্যগুলোকে ঘুরতি পথে গুয়াংডং প্রদেশের বন্দর হয়ে সমুদ্রে যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। গত বছর যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমেছে, সেখানে আসিয়ান দেশগুলোতে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৪ শতাংশ। এই বিশাল খালের মাধ্যমে চীন তার অন্যতম বড় এই রপ্তানি বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করতে চাইছে। ১০ হাজার টনের বিশাল মালবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত এই খালটিকে চীনের গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় 'নদী থেকে সমুদ্র' সংযোগকারী খাল প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নাননিং-এ অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম 'চীন-আসিয়ান এক্সপো' (China-ASEAN Expo) চলাকালেই এই খালের উদ্বোধন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ইস্যুতে আলোচনা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক চা-বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। তবে আলোচনায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গত ২০ মে দুই দিনের সরকারি সফরে চীন সফরে যান পুতিন। সফরের অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তিনি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা বর্তমানে ৬০ শতাংশ। এটি আরও বৃদ্ধি পেলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। ইরানের এই ইউরেনিয়াম মজুতকে কেন্দ্র করে গত বছর দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইউরেনিয়াম ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির এক সপ্তাহ পর ইরানকে ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ইরান এতে সম্মতি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। সূত্র: এএফপি
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর স্থায়ী টোল ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা করছে ইরান ও ওমান। এর মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এই নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। ফ্রান্সে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আমিন-নেজাদ বুধবার (২০ মে) প্যারিসে ব্লু মবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নৌ চলাচল সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ইরান ও ওমানকে সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে খরচ হবে, তাই যারা এই পথ ব্যবহার করে সুবিধা নিতে চায়, তাদেরও এর অংশ বহন করতে হবে।’ এ ছাড়াও পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হবে বলেও জানান তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই পথ খোলা ও মুক্ত থাকুক, আমরা কোনো টোল চাই না।‘ অন্যদিকে, এ বিষয়ে ওমান সরকার তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেয়। এর জেরে জ্বালানিসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর এলাকায় নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যও এই রুটে পরিবাহিত হয়। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর সুস্পষ্ট আইনি দায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া মতামতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ বিষয়ে আনা একটি প্রস্তাব ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়েছে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব। যদিও এটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও আদালতের এই পরামর্শমূলক মতামত ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জলবায়ু মামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে ও বিচারকেরা তাদের রায়েও এটি উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বেলেমে অনুষ্ঠিত গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় এটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। এমনকি চূড়ান্ত নথিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করাকে ‘লাল রেখা’ বলে উল্লেখ করেছিল সৌদি আরব। স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। আর কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী দেশ কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আইসিজের পরামর্শমূলক মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছে। একইসঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে। তিনি বলেন, উত্থাপিত আইনি বিষয়গুলো নিয়ে মহাসচিবকে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো ভিত্তি ওয়াশিংটন দেখছে না। ফেব্রুয়ারিতে এপি জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি পাস না হওয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অন্যান্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল। ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, এটি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের একে অপরের সঙ্গে সৎ থাকা উচিত। কারণ ক্ষতি বাস্তব এবং এটি ইতোমধ্যে আমাদের দ্বীপ ও উপকূলজুড়ে পৌঁছে গেছে—যেখানে খরা ও ফসলহানির মুখে পড়ছে বহু সম্প্রদায়। তিনি আরও বলেন, যেসব রাষ্ট্র ও জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করছে, তারা খুবই কম ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী। ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনের শাসনের প্রতি টেকসই প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এর ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের মাতৃভূমি ধীরে ধীরে বিলীন হতে দেখছে। তুভালুর স্থলভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে মাত্র ২ মিটার উঁচু। ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির বেশিরভাগ অংশই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে ও ভবিষ্যতে পুরো জনসংখ্যাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার খরচ জোগাতে নাউরু সরকার এক অভিনব উপায় বেছে নিয়েছে। তারা ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের দেশের পাসপোর্ট বিক্রি করছে। নাউরুর পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। এই সুযোগটি ব্যবহার করেই ধনী বিদেশিরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নাউরুর নাগরিকত্ব কিনছে, আর সেই টাকা জমা হচ্ছে নাউরুর ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিলে। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। ‘ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ টু স্টে অ্যালাইভ’ বা ‘বেঁচে থাকতে হলে ১.৫’ স্লোগানটি সেখান থেকেই এসেছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই নিরাপদ সীমা পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।