বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিয়েছে ফিনল্যান্ড। ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা ও তহবিল সংকটের মধ্যে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ ঢাকায় এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ অর্থায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তহবিল ঘাটতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচিও পরিচালিত হবে। নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার এক দশক পর, বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে বসবাস করছে। জীবিকার সুযোগ সীমিত থাকায়, তাদের অধিকাংশ পরিবারই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার কাজের বিনিময়ে অর্থ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করতে পেরেছে। আর ৪২ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার অস্থায়ী ও অনিশ্চিত আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করেছে এবং ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো আয়ই ছিল না। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তহবিল কমে যাওয়ায় জনগোষ্ঠীটির নারী ও কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে আসা প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে অর্থায়ন কমে যাওয়া, শিবিরের পরিস্থিতির অবনতি ও সুরক্ষা ঝুঁকি বাড়ার এই সময়ে ফিনল্যান্ডের বাড়তি সহায়তা উদারতার পরিচয় বহন করে।’ তিনি আরও বলেন, এই সহায়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন। মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য সুরক্ষা ও সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৌলিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের সহায়তায় বিনিয়োগ করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ সংকটের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। গত ২০ মে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ সালের হালনাগাদ যৌথ সাড়া পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান-জেআরপি) প্রকাশের পর জাতিসংঘ ও এর মানবিক অংশীদার সংস্থাগুলো নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানান। এরই প্রেক্ষাপটে ফিনল্যান্ড থেকে এই অর্থ সহায়তা পাঠানো হলো। সংশোধিত এ পরিকল্পনায়, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীসহ সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সহায়তা দিতে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের পরিকল্পনার তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ ২৬ শতাংশ কম। এটি কেবল জীবনরক্ষাকারী জরুরি সহায়তা কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থের ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা ও বহুপক্ষীয় উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে ফিনল্যান্ড। রোহিঙ্গা সংকটে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ সালে ইউএনএইচসিআরকে আরও ৭০ লাখ ইউরো দিচ্ছে ফিনল্যান্ড। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান মানবিক সংকটে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ইউএনএইচসিআর বলেছে, বাংলাদেশের মানবিক সাড়া কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে ও রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও অর্থায়ন অপরিহার্য।
ফুটবল শুধু গোল, ট্রফি কিংবা জয়ের গল্প নয়। কখনও কখনও এটি মানুষকে হার না মানার শক্তি দেয়, ভেঙে পড়া জীবনকে আবার দাঁড় করিয়ে দেয় নতুন উচ্চতায়। পিএসজির প্রধান কোচ লুইস এনরিকের সাম্প্রতিক সাফল্য যেন সেই অনুপ্রেরণারই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচটি অন্যরকমও হতে পারত। কয়েকটি মুহূর্তে ভাগ্য পিএসজির বিপক্ষে গেলেই হয়তো গল্পের পরিণতি বদলে যেত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে জয়ের হাসি ছিল প্যারিসের ক্লাবটির মুখে, আর সেই হাসির কেন্দ্রে ছিলেন লুইস এনরিকে। এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন স্প্যানিশ এই কোচ। বার্সেলোনাকে ২০১৫ সালে ইউরোপসেরা করার পর গত মৌসুমে পিএসজিকে প্রথমবারের মতো শিরোপা এনে দিয়েছিলেন তিনি। এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাবটিকে মহাদেশ সেরা করে নিজেকে নিয়ে গেলেন কিংবদন্তিদের কাতারে। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় তিন বা তার বেশি শিরোপা জেতা কোচের সংখ্যা হাতে গোনা। সেই বিশেষ তালিকায় এখন জায়গা করে নিয়েছেন এনরিকে। পাশাপাশি টানা দুটি শিরোপা জয়ের বিরল কীর্তিতেও নাম লিখিয়েছেন তিনি। তবে এনরিকের সাফল্যের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে মাঠের বাইরের সংগ্রামে। কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় তার নয় বছর বয়সী কন্যা জানা। সেই শোক একজন বাবার জীবনকে যেভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে, এনরিকেও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। অথচ ব্যক্তিগত জীবনের সেই গভীর বেদনা তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি। ২০১৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে শিরোপা জয়ের পর মেয়েকে নিয়ে মাঠে উদযাপনের যে স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে আছে, সেটিই আজ নতুন অর্থে ফিরে এসেছে। কারণ, সেই স্মৃতির ভার বুকে নিয়েই এনরিকে আবারও পৌঁছেছেন সাফল্যের চূড়ায়। অনেকের ধারণা ছিল, মহাতারকাবিহীন পিএসজি ইউরোপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে না। একসময় লিওনেল মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের নিয়েও যে ক্লাব কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি, সেই দলকেই নতুন পরিচয় দিয়েছেন এনরিকে। তিনি দেখিয়েছেন, শুধু তারকার সমাহার নয়; সুসংগঠিত দল, স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী দর্শনই বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে। ফাইনাল শেষে এনরিকে বলেন, আর্সেনালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এই শিরোপা জয়ের অনুভূতি আরও বিশেষ। তাঁর মতে, এটি শুধু দলের নয়, পুরো শহরের জন্যই অসাধারণ এক অর্জন। আসলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়। এটি একজন বাবার, একজন লড়াকু মানুষের এবং একজন দূরদর্শী কোচের গল্প। যে মানুষটি শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে প্রমাণ করেছেন- জীবন যত কঠিনই হোক, স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া কখনও থেমে থাকে না।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার আগে তিন পৃষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং সেটি তিনি তার ভ্যানিটি ব্যাগে করে সাথে নিয়ে গেছেন বলে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। রোববার (৩১ মে) দুপুরে ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দি পোস্ট’-এ দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ভেতরের খবরটি প্রকাশ করেন। মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনা সাংবিধানিক নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেই দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই পদত্যাগপত্রটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সশরীরে জমা দিয়ে যেতে পারেননি; বরং তড়িঘড়ি করে বের হওয়ার সময় সেটি নিজের সঙ্গেই নিয়ে যান। পদত্যাগপত্রের ভেতরের বিষয়বস্তু ও নাটকীয়তা নিয়ে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন অবদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলনের মুখে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে ৩ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন স্টাফের সেটি অফিশিয়ালি টাইপ করার কথা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে তখন পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাচ্ছিল যে, সেই চিঠিটি চূড়ান্তভাবে টাইপ করার মতো পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ আর পাওয়া যায়নি। ফলে হস্তলিখিত বা খসড়া সেই ঐতিহাসিক কাগজটিই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগে থেকে যায়। মতিউর রহমান চৌধুরী সাক্ষাৎকারে শেষ মুহূর্তের সেই টানটান উত্তেজনার বিবরণ দিয়ে জানান, ৪ আগস্ট রাতের পর ৫ আগস্ট দুপুরে চারদিক থেকে লাখ লাখ মানুষ যখন গণভবনের একদম কাছাকাছি চলে আসে, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ওয়াকিটকি থেকে বারবার বার্তা আসছিল। দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘আপনার হাতে আর এক মুহূর্তও সময় নেই, এখনই গণভবন ছাড়তে হবে।’ এমন চরম তাড়াহুড়োর মধ্যে শেখ হাসিনা তাঁর অতি প্রয়োজনীয় ভ্যানিটি ব্যাগটি ভেতরের একটি চেয়ারের ওপরই ফেলে রেখে বাইরে চলে আসেন। পরবর্তীতে একদম শেষ মুহূর্তে যখন তিনি গাড়িতে উঠবেন, তখন পাশে থাকা সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার ব্যাগটা ভেতরে রয়ে গেছে, ওটা একটু নিয়ে আসো।’ এরপর সেই সেনা কর্মকর্তা ব্যাগটি এনে দিলে তিনি গাড়িতে ওঠেন এবং সেই ব্যাগের ভেতরেই ছিল বহুল আলোচিত সেই ৩ পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত যে জোটের আলোচনা চলছে, ভবিষ্যতে তাতে এক শর্তে যোগ দিতে পারে ইসরাইলও। শর্তটি হলো- ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি। সম্প্রতি জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশগুলোর জন্য প্রকৃত সহযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি ‘সোনালি সুযোগ’। তিনি বলেছেন, অঞ্চলের দেশগুলোকে একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। প্রস্তাবিত এই কাঠামোয় পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে ইরানকেও এই প্ল্যাটফর্মের অংশ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফিদান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যতে ইসরাইলও এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি এই সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে আঞ্চলিক দেশগুলোও ইসরাইলের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’ এদিকে আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সম্মেলন। ফিদান জানান, সব সদস্য দেশের সম্মতি থাকলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ন্যাটোর ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদার দেশগুলোর নেতা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাগত জানাতে চায় তুরস্ক। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তুর্কি সরকার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে কাজ করছে এবং অতিথিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এসব দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ন্যাটো নিয়ে সমালোচনামুখর অবস্থানের জন্য পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনে অংশ নেবেন কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফিদান। তিনি জানান, গত এক মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কোনো আলোচনাতেই ট্রাম্প সম্মেলনে না আসার ইঙ্গিত দেননি। ফিদান বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের সব প্রস্তুতিই এমনভাবে নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো যায়।’
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কোনো এলাকাকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে সব ধরনের সন্ত্রাসী আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করা হবে। রোববার (৩১ মে) জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পার্বত্য বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী ফকির হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাসীরা যেখানেই অবস্থান করুক কিংবা যেই তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর, সলিমপুর ও আলীনগরের কোনো সাধারণ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হবে না। যাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমি চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়েও অগ্রগতির কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, লিংক রোড সংলগ্ন প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জায়গাটি বুঝে নেওয়ার পর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে প্রায় চার হাজার সদস্যের যৌথবাহিনী সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার সহায়তাও ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালী এলাকাতেও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সন্ত্রাস দমনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
বিশ্বব্যাপী তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ায় প্রথাগত সিগারেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমছে। ২০০০ সালে বিশ্বে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২০ বিলিয়নে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো এখন আর প্রথাগত সিগেরেট নিয়ে বসে নাই। তারাদের টার্গেট শিশু-কিশোর, নতুন প্রজন্ম। ‘কম ক্ষতিকর’, ‘স্মোক-ফ্রি’ বা ‘ধূমপান ছাড়ার সহায়ক’ এমন মিথ্যা তথ্যের নতুন নতুন ফাঁদে আটকাচ্ছে নতুন প্রজন্মকে। নতুন নতুন কৌশলে বাজারজাত করছে ই-সিগারেট, ভেপিং, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন প্রজন্মের নিকোটিন পণ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে ১৬ হাজারের বেশি সুগন্ধিযুক্ত তামাক ও নিকোটিন পণ্য রয়েছে। বাবলগাম, চকলেট, চেরি, মিন্ট এমন নানা ফ্লেভারে তৈরি পণ্য শিশু-কিশোরদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। অনেক ই-সিগারেট ইউএসবি ড্রাইভ, কলম বা খেলনার আদলে ডিজাইন করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে অন্তত দেড় কোটি কিশোর-কিশোরী নিয়মিত ই-সিগারেট ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা, রঙিন ডিজাইন, সুগন্ধি ও সেলিব্রেটি মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে তামাক কোম্পানিগুলো। গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট ব্যবহারকারী শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরবর্তীতে প্রথাগত সিগারেট ব্যবহারের ঝুঁকি প্রায় তিনগুণ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ই-সিগারেটের প্রধান ভোক্তা ১৩-১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা, যাদের বড় অংশ আগে কখনো ধূমপায়ী ছিল না। টিকটক, ইউটিউব, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে এগুলোর প্রচারণা চলছে ব্যাপকভাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ এমন দেশগুলোতেও তরুণদের বড় অংশ নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ই-সিগারেটের প্রচারণা দেখে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় ইউসুফ মিয়া (৩৭) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহত ইউসুফ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কাইমপুর ইউনিয়নের মন্দভাগ গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রয়াত তিতন মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান ইউসুফ। রিয়াদে কর্মরত অবস্থায় শনিবার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইউসুফের বাবা আগেই মারা গেছেন। পরিবারে রয়েছেন তার বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী হাজেরা খাতুন। তাদের কোনো সন্তান নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। বর্তমানে ইউসুফ মিয়ার মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন বলেন, “দীর্ঘদিন প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন আমার স্বামী। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় আমরা সবকিছু হারিয়েছি। সরকারের কাছে অনুরোধ, যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।” পরিবার ও স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে দ্রুত মরদেহ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা যায়।
লেবানন থেকে উওর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা অঞ্চলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এতে ওই এলাকার ক্ষয়ক্ষতি ও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (৩০ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ভিডিওসহ হামলার ফলে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, লেবানন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তা প্রতিহত করা হয়। এছাড়া আরেকটি সন্দেহভাজন আকাশযান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে অন্তত ১০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এ সময় পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কসংকেত সক্রিয় করা হয়। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা পূর্ব লেবাননের জৌতার শহরের উপকণ্ঠে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর একটি মারকাভা ট্যাংক লক্ষ্য করে নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির আরও দাবি, দক্ষিণ লেবাননের দাবেইন শহরের উপকণ্ঠে অগ্রসরমান ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা। এদিকে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়াহর উপকণ্ঠে বর্তমানে অবস্থান করছে ইসরায়েলি বাহিনী। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে শহরটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-লেবানন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইং। শনিবার (৩০ মে) তিনি বিহারের বুদ্ধগয়ায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সভ্যতাগত ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রণধীর জয়সওয়াল বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বুদ্ধগয়ায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আগমনের কথা উল্লেখ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন। এক্সের ওই পোস্টে বলা হয়, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইংকে বুদ্ধগয়ায় উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে মাননীয় রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সফর আমাদের দুটি দেশের মধ্যকার দৃঢ় আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক এবং চলমান সহযোগিতার গভীরতাকে প্রতিফলিত করে। ভারতে পৌঁছানোর পরপরই প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বৌদ্ধদের পবিত্র তীর্থস্থান এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ‘মহাবোধি মন্দির’ পরিদর্শন করেন। ৩০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই সফরটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভারত সফর। এই সফরে তার সঙ্গে ক্যাবিনেট মন্ত্রী, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সেখানে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি তিনি একটি বিশেষ বিজনেস ফোরামে অংশ নেবেন। আগামী ২ জুন ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ভারী শিল্প সংক্রান্ত আলোচনা, ব্যবসায়িক বৈঠক এবং বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি শেষ হবে। সূত্র: উইয়ন নিউজ
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
নেপালের এখনকার প্রধানমন্ত্রী একজন র্যাপার, এটা বাংলাদেশীদের জানা। তাঁর সবচেয়ে হিট গান ‘ম নেপালও হাসেকো হের্ন চাহাচ্ছু’। বাংলায়, ‘আমি দেখতে চাই নেপাল হেসে উঠুক’। মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ এ গানের, যা একসময় কাঠমান্ডুতে মেয়র হওয়ার দৌড়ে বালেনকে বেশ সাহায্য করে। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী। নেপালে জেন-জিরা গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাঁকে সামনে রেখে নির্বাচনে জিতে সরকার গড়েছে। সেই সরকার দুই মাস পার করল। কিন্তু নেপালে র্যাপার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সর্বমহলে প্রত্যাশায় টান পড়েছে। চায়ের আড্ডায় কটু কথার বাইরেও পত্র-পত্রিকাগুলো তাঁকে সমালোচনা করে সম্পাদকীয় লিখতে শুরু করেছে। তাঁর সরকারের ডিক্রিগুলো বিধিবিধান সম্মত নয় বলে উচ্চ আদালত একের পর স্থগিত করে দিচ্ছেন। খোদ দলের মধ্যেও বালেন শাহর আচার-আচরণ ও নানা পদক্ষেপে বাড়ছে অস্বস্তি। অসন্তোষের বিষয়গুলোও বিচিত্র। পার্লামেন্টে আগ্রহ কম প্রধানমন্ত্রীর নেপালের গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রায় এক বছর পর হলেও উভয় দেশে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা কাছাকাছি সময়ে। কোনো নতুন প্রধানমন্ত্রীকে মূল্যায়নের জন্য এত অল্প সময় যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের মিডিয়ায় চিত্রটা তাই ‘হানিমুন পিরিয়ড’–এর মতো। কিন্তু নেপালের প্রধান প্রধান প্রচারমাধ্যমে বালেন শাহ ৫০-৬০ দিনের মধ্যেই জবাবদিহির মুখে পড়েছেন। দেশের প্রধান দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট–এ গত সাত-আট সপ্তাহে তাঁকে নিয়ে বেশ কড়া ভাষায় অন্তত পাঁচটি সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় বের হলো এবং সেসব অকারণে নয়। শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে, ৩৬ বছর বয়সী র্যাপার প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে আসেন কম, কথা বলেন আরও কম। অথচ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও পার্লামেন্ট পাশাপাশি। নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম এ রকম ঘটল, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয়-সাত সপ্তাহেও প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে কোনো বক্তব্য দেননি। দেশের নির্বাহী প্রধানের এই চুপচাপ থাকা নিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট–এর ১৪ মে সম্পাদকীয়তে লেখে, ‘বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনার অধিকার রয়েছে জনগণের’। আগের দিন একই কাগজে প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের প্রথা এবং জবাবদিহির সঙ্গে মানানসই নয়’। পার্লামেন্টে উপস্থিত হলেও নানা কাণ্ড ঘটান বালেন। ২ এপ্রিল দেশটির পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্রের ভাষণের সময় মাঝপথে প্রধানমন্ত্রী উঠে চলে যান, যা জাতীয়ভাবে বিস্ময় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কোনো বক্তৃতা দেননি। প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নিতে রাজি নন। তাঁর কাছে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরের ভার দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। জেন-জি সরকার দেশকে অনেকটা রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে ঠেলে দিচ্ছে। গত প্রায় দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বিতর্ক হয়েছে। এর মধ্যে নিজের কর্তৃত্ব বাড়াতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বদলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সংযুক্ত করেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন করেছিল কিছুদিন আগে। এ মুহূর্তে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে কাঠমান্ডুসহ প্রধান শহরগুলোতে ভাসমান মানুষদের বস্তিসদৃশ আবাসগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে। চরম বৈষম্যে ভরা সামাজিক বাস্তবতায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বেশ অমানবিক বলা হচ্ছে। এই বছরই এক গবেষণা শেষে অক্সফাম নামের সংস্থা জানিয়েছিল, নেপালের ওপর দিকের ১ শতাংশ মানুষের হাতে যেখানে জাতীয় সম্পদের প্রায় ২৫ শতাংশ রয়েছে, সেখানে নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে জাতীয় সম্পদের ৫ শতাংশের কম। সরকারের পদক্ষেপে নিচুতলার ভূমিহীনরা এখন বসতিহীনও হচ্ছে। উচ্ছেদের মুখে দরিদ্রদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো শহরে শহরে বিক্ষোভ করছে প্রতিদিন। সরকার বলছে, তারা এ রকম শহুরেদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেবে। তবে পুনর্বাসনের আগেই উচ্ছেদ স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে রাগিয়েছে। উচ্চ আদালতের সঙ্গে ঠোকাঠুকি নেপালের জেন-জি সরকার এখন সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে আছে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে। জ্যেষ্ঠ তিনজনকে ডিঙিয়ে বালেন শাহ প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন মনোজ কুমার শর্মাকে। এতে ঐতিহ্যের লঙ্ঘন ঘটেছে বলে বলা হচ্ছে। সরকার বলছে, সংবিধান পরিষদ এই নিয়োগের সুপারিশ করেছে এবং তাতে পার্লামেন্টের অনুমোদন আছে। তবে সংবিধান পরিষদের প্রধান খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং পার্লামেন্টে রয়েছে তাঁর সরকারের প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ। ইতিমধ্যে এই নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। আবার মনোজ কুমার শর্মা দায়িত্ব নিয়েও ফেলেছেন। তবে বিতর্ক থেমে নেই তাতে। বিচার বিভাগের স্বাভাবিক কাজকর্মেও বিতর্কের ছাপ পড়ছে। আইনজীবীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন প্রধান বিচারপতির নিয়োগ উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের মধ্যেও নীতিগত বিভেদরেখা তৈরি করেছে। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে, নেপালের উচ্চ আদালতে এখন প্রধান বিচারপতির চেয়েও সিনিয়র তিনজন বিচারপতি রয়েছেন। সিনিয়র এই তিন বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলে এ বিষয়ে চলমান বিতর্ক উত্তেজক রূপ নিতে পারে। প্রধান বিচারপতি, প্রধান সেনাপতি ইত্যাদি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক সরকারের বিবেচনার মধ্যে কোনটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত, এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বহুকাল যে বিতর্ক চলছে, তাতে নেপালের ঘটনা সর্বশেষ সংযোজন। এর মধ্যেই অফিস-আদালতে কর্মচারীদের ইউনিয়ন গঠন এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকার বন্ধ করে বালেনের সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেসব উচ্চ আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল বালেন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন। বাংলাদেশেও এই ঘোষণা ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। বিচারবিভাগীয় বেঞ্চ জানিয়েছে, কর্মচারীদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকার দেশটির ১৯৯২ সালের সিভিল সার্ভিস অ্যাক্টের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা আইএলওর সনদের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। শ্রমিক অধিকার নিয়ে সক্রিয় অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও বালেন সরকারের ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। সরকার বলছে, দলীয় পরিচয়ের সংগঠন বিদ্যাপীঠ এবং সরকারি দপ্তরে দক্ষতার ক্ষতি করছে। এসব বিষয়ে বিতর্ক চলার মধ্যেই নতুন প্রসঙ্গ আসে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। সীমান্তপথে আসা নিত্যদিনের কোনো সামগ্রীর দাম ১০০ রুপির বেশি হলে তাতে ৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার, সেটাও আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। সরকারের নতুন সীমান্তনীতি মধেস এলাকায় জীবনযাত্রায় বেশ ছন্দপতন ঘটিয়েছিল। ভারত-নেপাল সীমান্তের ঐতিহাসিক যে ধরন, তাতে উভয় দিকে মানুষ ও সাধারণ জিনিসপত্রের চলাচল অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা। নেপালের বহু মানুষ নিত্যদিনের কেনাকাটা করতে পাশের ভারতীয় বাজার–হাটে যান। হলুদ-মরিচ থেকে চা-বিস্কুট, ওষুধ-পথ্যসহ অনেক সামগ্রী কেনাকাটা, আনা-নেওয়া হয় এভাবে। দীর্ঘ সীমান্তের উভয় দিকে মানুষের জীবনধারা এভাবেই চলছে বহুকাল। শাসক দলের এই অঞ্চলের নেতা-কর্মীরাও মনে করছেন, বালেন সরকারের সিদ্ধান্ত সীমান্তবর্তী মানুষকে ক্ষুব্ধ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের দূরত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ধাঁচের শাসনপদ্ধতি এবং চালচলন নিয়ে তাঁর দলেও গুঞ্জন চলছে। ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সাত দফা চুক্তির ভিত্তিতে তাঁকে দলভুক্ত করে ৫ মার্চের নির্বাচনের কিছুদিন আগে। গণ–অভ্যুত্থানকারী জেন-জি সংগঠনগুলো একসঙ্গে বসে তাঁকে আরএসপিতে আনে। এটা খুব বেশি আগের দল নয়। ২০২২ সালে বিভিন্ন পেশাজীবী তরুণ-তরুণীরাই গড়ে তোলেন। এবারের ভোটে তাদের জয় মূলত জেন-জি অভ্যুত্থানের জোয়ারে এবং বালেন শাহর জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ওপর সমাজের বিরক্তিতে দলটিতে উদ্বেগ আছে। যেহেতু জোয়ারধর্মী ভোটে নির্বাচনী বিজয়, এ কারণে ভাটার লক্ষণে আরএসপির অনেকে শঙ্কা বোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আরএসপির কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। পার্টির বৈঠকেও সচরাচর আসেন না তিনি। দলের খুব কম নেতাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। অস্বস্তিতে দুই প্রতিবেশী-শক্তিও নির্বাচনের আগে বালেনের দল চীন-ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, তারা আর ‘বাফার রাষ্ট্র’ হয়ে থাকতে চায় না, ‘সংযোগকারী রাষ্ট্র’ হতে আগ্রহী। নেপালকে এই তিন দেশের সম্পর্কের ভরকেন্দ্র বানাতে চায় আরএসপি। তবে গত ২৭ মার্চ সরকার গঠন থেকে চীন-ভারত নয়, গুরুত্ব যতটুকু পেয়েছে—সেটা যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকা থেকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেপালও ঘুরে গেছেন। কৌতূহল উদ্দীপক বিষয় দেখা গেল, নেপালে ওয়াশিংটনের এখনকার আগ্রহ তিব্বতি শরণার্থীদের নিয়ে। বোধগম্য কারণেই চীন এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। নেপালে তিব্বতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা পাক, সেটা চীন দেখতে চায় না। জেন-জি আন্দোলনকালে অনেক বিক্ষোভকারীকে ‘টিওবি’ লেখা টি-শার্ট পরে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। টিওবি বলতে তারা বোঝাচ্ছে ‘দ্য অরজিন্যাল ব্লাড’। এই গোষ্ঠী তিব্বত মুক্ত করতে সক্রিয় ভিক্ষুদের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। বেইজিং মনে করছে, বর্তমান সরকারে এমন একটা উপদল আছে, যারা নেপালে চীনবিরোধী জনমত উসকে দিতে তৎপর। চীনের মতো ভারতও নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে গভীর নজরদারিতে রেখেছে। এর মধ্যেই সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির কাঠমান্ডু সফর বাতিল হলো। মিডিয়াগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ এখনই এ রকম বৈঠকে আগ্রহী নন বলেই এই সফর হলো না। এমনও খবর ছড়িয়েছে, বালেন ঠিক করেছেন, পদমর্যাদায় তাঁর চেয়ে নিচের কোনো বিদেশির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন না! বিক্রম মিশ্রির সফর বাতিলের ঘটনা নয়া দিল্লিকে বিব্রত করেছে। একই সঙ্গে এটা নেপালের নাগরিক সমাজেও বিস্ময় বাড়িয়েছে। স্থলবেষ্টিত নেপালের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীকেই নানা প্রয়োজনে দরকার। উভয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই দেশটির স্বার্থের জন্য অনুকূল। আধুনিক নেপালের প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বী নারায়ণ শাহ বলতেন, নেপালের অবস্থা হলো দুই বিশাল পাথরখণ্ডের মাঝখানে একটা আলুর মতো। ফলে চীন-ভারতের নানা স্তরে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ থাকাটা জরুরি। এটা সত্য যে চীন-ভারত উভয়ের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বালেন শাহ ও তাঁর অনুসারী সমাজে কঠোর জাতীয়তাবাদী মনোভাব আছে। লিপুলেখ নামের যে এলাকা নিয়ে চীন-ভারতের সঙ্গে নেপালের বিরোধ চলছে, সেই পথে শেষোক্ত দুই দেশই ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে চাইছে এই জুন থেকে—যা কাঠমান্ডুর মধ্যে উপেক্ষার একটা বোধ তৈরি করেছে। তিন দেশের সীমান্ত-সংযোগের এই জায়গা নিয়ে নেপালের দাবি, নয়া দিল্লি-বেইজিং উভয়ে একজোট হয়ে অবজ্ঞা করছে। এ রকম অবস্থায় উভয় প্রতিবেশীকে দূরে রেখে বালেন শাহ কতটা সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, বাস্তববাদী কূটনীতিবিদেরা তাতে সন্দিহান। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বালেন শাহ প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে যাবেন এবং তখন সীমানা নিয়ে একটা সুরাহা হবে। বালেনের শাসননীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের আভাস দেশীয় ও আন্তদেশীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি বালেন শাহ বিতর্কে আছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পোশাক-আশাকের ধরন নিয়েও। প্রথাগত নেপালি পোশাকের বদলে তাঁর জমকালো ড্রেস, স্পোর্টস শু পরে পার্লামেন্টে হাজির হওয়া ছবি নিয়মিতই ভাইরাল হচ্ছে। কালো জামা-কাপড় ও কালো সানগ্লাসের প্রতি বালেনের আসক্তি আগেও ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেসব কতটা মানানসই, এই বিতর্কের মধ্যে ১৬ মে তিনি সাদা পোশাক পরে ফেসবুকে ছবি ছাড়ার পর সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁর এই রং–বদলের কারণ খুঁজে গবেষকভক্তরা বলছেন, বালেন প্রাথমিক কঠোরতার পর নমনীয় শাসননীতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন! মুখ বন্ধ রেখে ড্রেস পাল্টে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এই ব্যাখ্যা সত্য হলে এ–ও মানতে হবে, এ রকম স্টাইল দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক-সংস্কৃতির একটা মোড়বদলের ইঙ্গিত। বালেন শাহ কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রজন্মের প্রতিনিধি। যে প্রজন্মের ‘নেতা’রা এভাবেই নতুন নাগরিক সমাজকে মাতিয়ে রাখতে চাইছেন এবং এ রকম কৌশলের বিশ্বাসযোগ্য সফলতাও অস্বীকার করা যায় না। দেশ চালাতে ‘রাজনীতিবিদ’ হওয়া হয়তো জরুরি নয় আর, ‘জনপ্রিয়’ হলেই চলছে। নেপালের অভিজ্ঞতা আপাতত এটাই বলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তির কাঠামো মূলত আগের মতোই থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মার্কো ভিনচেনজিনো। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের আলোচনায় এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, যাচাই পদ্ধতি ও সময়সীমার মতো পুরোনো ইস্যুগুলোই কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে রয়েছে। তার মতে, কোনো সমঝোতা হলেও তাতে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকা অবশ্যম্ভাবী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাতে হবে যে তিনি ইরানকে ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির চেয়ে কঠোর শর্তে রাজি করিয়েছেন। বিপরীতে, ইরানও দাবি করবে যে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেনি। তিনি বলেন, কার্যত এমন একটি অবস্থাই তৈরি হবে যেখানে উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিল থেকে ‘বিজয়’ দাবি করে সরে যেতে পারবে—এটাই চুক্তি হওয়ার প্রধান শর্ত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানি–সংশ্লিষ্ট ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারকে গড়ে অতিরিক্ত ৪৪৭.১৯ ডলার খরচ করতে হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও বিমান ভাড়া বাড়ার ফলে গত তিন মাসে মার্কিন ভোক্তাদের মোট অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। মুডিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে ভোক্তারা ব্যয় কমাতে বাধ্য হবেন, যা দুর্বল অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান জ্বালানি মূল্য বজায় থাকলে যুদ্ধের এক বছরের মধ্যে পরিবারপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ২ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই দাবি করে। আইআরজিসির দাবি, ভূপাতিত ড্রোনটি ছিল একটি এমকিউ-১ মডেলের মানববিহীন আকাশযান। ড্রোনটি ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করে একটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনটি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেটিকে শনাক্ত করা হয় এবং আইআরজিসির আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভূপাতিত করা হয়। আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, “ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে দেওয়া হবে।” তবে ড্রোনটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে, ঘটনাটি কখন ঘটেছে কিংবা এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে কি না- এসব বিষয়ে আইআরজিসির বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালীর আশপাশে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আকাশ ও সমুদ্রপথে নজরদারি কার্যক্রমও বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান একাধিকবার বিদেশি ড্রোন নিজেদের আকাশসীমা বা জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তেহরান বরাবরই বলে আসছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ বরদাশত করবে না। সূত্র: আল-জাজিরা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারত সফর শেষে মন্তব্য করেছিলেন, ‘নয়াদিল্লি আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষির ওপর জোর দিয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলার’ মূল্যের আমেরিকান পণ্য কিনতে ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে। রুবিওর এই মন্তব্য কেবল নয়াদিল্লির রাজনৈতিক মহলেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, ভারত কেন এমন একটি একতরফা চুক্তিতে রাজি হলো এবং এর বিনিময়ে ভারতের আসলে কতটা লাভ হবে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে ভারত কেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি দেবে, তা বেশ রহস্যজনক।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যখন এই চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তার পর থেকে পরিস্থিতির মূল ভিত্তিগুলো অনেকটাই বদলে গেছে। এমন একটি চুক্তিতে সই করা ভারতের জন্য ‘বোকামি’ হবে, যা দেওয়ার চেয়ে কেড়ে নেয় অনেক বেশি। কী পরিবর্তন এসেছে এই ৫০ হাজার কোটি ডলারের অঙ্কটি প্রথম সামনে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি ঘোষণা করেছিল। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেন, যা ভারতে বেশ স্বস্তি এনে দিয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস সে সময় জানিয়েছিল, শুল্ক কমানোর বিনিময়ে নয়াদিল্লি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, কয়লা এবং অন্যান্য পণ্যের বার্ষিক আমদানি দ্বিগুণের বেশি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের চুক্তির বিজ্ঞপ্তিতে এই পয়েন্টকে শেষের আগের পয়েন্ট হিসেবে প্রায় লুকিয়ে রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্র কেনার তালিকায় উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ যুক্ত করেছিল। যখন এই ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, তখন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন, ভারতীয় অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করলে এই সংখ্যা খুবই সাধারণ বা রক্ষণশীল। গোয়েল বলেন, আগামী পাঁচ বছরে কেবল বিমান খাতের চাহিদাই ১০ কোটি হাজার ডলারের বাণিজ্যের কারণ হবে। এর থেকে বোঝা যায়, কম শুল্কের বিনিময়ে এটি যৌক্তিক এক চুক্তি ছিল। তবে সেই মাসের শেষের দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ট্রাম্পের ঢালাও পারস্পরিক এবং ফেন্টানিল-সম্পর্কিত শুল্ক আরোপ অবৈধ। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা ব্যবহার করে তাদের সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ঢালাওভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এটি বেশ অদ্ভুত, ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের আমেরিকান পণ্য কেনার পরিকল্পনা কেবল চালিয়েই যাচ্ছে না, বরং রুবিওর এই দাবিকে চ্যালেঞ্জও করছে না। তাদের চুপ থাকার ফলে এটি এখন একটি ‘প্রতিশ্রুতিতে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে পীযূষ গোয়েলের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলা হয়, ভারতীয় অর্থনীতি উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের মতো বড় বড় জিনিস কেনার ক্ষমতা রাখুক বা না রাখুক, কেন দেশটি সেরা চুক্তি পেতে অন্যান্য সরবরাহকারীর পথ খোলা রাখবে না? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং ভারতীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ফলে ভারত তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এসব উদ্বেগ আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোম্পানিগুলোকে মার্কিন সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতি ছাড়া বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা আদৌ সম্ভব কি না। এমকে গ্লোবালের অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই হিসাব মিলছে না।’ তিনি এই লক্ষ্যমাত্রাকে ‘বাস্তবধর্মী হওয়ার চেয়ে অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র হলো ভারতের শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নয়াদিল্লির মোট রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সে দেশে পাঠানো হয়েছিল। রপ্তানি শুল্ক আরোপের আগের স্তরের কাছাকাছি থাকলে এবং আমদানি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (লাভ) রয়েছে, তা কমে যেতে পারে। এতে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৮ হাজার ৩০৫ কোটি ডলার। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ ধর এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি ডলার আমদানি করতে হলে এটি ভারতের বাণিজ্যের ভারসাম্যকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান শর্তগুলো মূলত ভারতের প্রধান বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখছে মাত্র, রপ্তানি বৃদ্ধিতে কোনো সাহায্য করছে না। ভারতের এই পদক্ষেপের পেছনে কারণ কী ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল এক সময়ে রুবিওর এই ভারত সফর হলো। এখন অনেক ভারতীয় চীন ও পাকিস্তানের প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো নিয়ে চিন্তিত। তা ছাড়া ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে ভারত বেশ রক্ষণশীল অবস্থানে রয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, নয়াদিল্লিই প্রথম এই সুবিধা পাবে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের পণ্যের ওপরই সবচেয়ে বেশি শুল্ক চাপানো হয়। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদও রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং গত বছর ভারত-পাকিস্তান শান্তিচুক্তিতে নিজের কৃতিত্ব দাবির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই ট্রাম্প ভারতের ওপর এই শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেন। তবে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের গতি একটুও কমেনি... এই সম্পর্ক আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে। ভারতের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও ভারতকে এটি ব্যক্তিগতভাবে না নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের এক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে এবং এর সমাধান করা দরকার। এটি ভারতকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।’ রুবিওর পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (তৎকালীন দায়িত্ব অনুযায়ী) বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আমেরিকা প্রথম) হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্টভাষী। জয়শঙ্কর আরও যোগ করেন, ‘আমাদেরও একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে, আর তা হলো “ইন্ডিয়া ফার্স্ট” (আগে ভারত)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।