ফ্লাইট আর ড্রিফটের সঙ্গে তীক্ষ্ন টার্ন। ডিন ফক্সক্রফটের ডেলিভারিটির কোনো জবাব পাননি লিটন কুমার দাস। বোল্ড হয়ে বেশ কিছুক্ষণ ক্রিজে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। হয়তো বিস্ময়ে, হয়তো হতাশায়। তবে যেটিই হোক, লিটনের ওই প্রতিক্রিয়াই যেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একটি প্রতীকি দৃশ্য। একটি জায়গায় আছেন লিটন, আফিফ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্তরা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত লিটনের ব্যাটিং ছিল মন্দের ভালো। ৪৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। যদিও ফিফটি করা সাইফ আউট হওয়ার পর লিটনের দায়িত্ব ছিল ইনিংস আরও টেনে নেওয়া। তিনি সেটি তিনি পারেননি। তবে কিছু রান তো অন্তত করেছেন। সমস্যা হলো, ৪৬ রানের এই ইনিংসটি ১৮ ইনিংসের মধ্যে তার সর্বোচ্চ স্কোর! সেই ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পুনেতে ৬৬ রানের ইনিংসের পর এই সংস্করণে আর পঞ্চাশের দেখা পাননি তিনি। মাঝে টানা ৯ ইনিংস তো দু অঙ্কই ছুঁতে পারেননি। ফিফটি খরার এই ১৮ ইনিংসে মোট ২৯৫ রান করেছেন স্রেফ ১৮.৪৩ গড়ে। স্ট্রাইক রেট ৭১.৪২। দলে জায়গাও হারিয়েছিলেন এই পরিক্রমায়। বাইরে থাকার সময় তেমন কিছু না করলেও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে আবার তাকে ফেরানো হয়। এবার নতুন ভূমিকায়। এখন আর তিনি টপ অর্ডার নন, ৪ নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যান। মিডল অর্ডারে নেমে অবশ্য রানে ফিরতে পেরেছেন তিনি। কিউইদের বিপক্ষে এই ৪৬ রানের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডেতে ৪১ রানের দুটি ইনিংস খেলেছিলেন। টানা ৩ ইনিংসে ৪০ ছোঁয়া ইনিংসে তার ফর্মে ফেরার আশা জেগে উঠেছে আবার। কিন্তু ফিফটির পর্যন্ত তো যেতেই পারছেন না! এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান লিটন। দেশের চতুর্দশ ক্রিকেটার হিসেবে ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি হবে পরের ম্যাচেই। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের বয়স ১১ বছর হতে চলেছে। অথচ ব্যাটিং গড় মোটে ৩০.৩৩। এত বছর পরও দলে জায়গা নড়বড়ে। এত অভিজ্ঞ হয়েও টানা ১৮ ইনিংসে ফিফটি নেই। তবু তার ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে নির্বাচকদের ও টিম ম্যানেজমেন্টকে। দেশের ক্রিকেট বাস্তবতার টুকরো ছবি যেন। মিরপুরে শুক্রবার লিটন আউট হওয়ার পর ক্রিজে যান আফিফ হোসেন। বাংলাদেশের ইনিংসও যেন থমকে যায়! তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে আফিফের জুটির সময় টানা ১১ ওভারের বেশি সময় কোনো বাউন্ডারিই হয়নি। নাগালে থাকা ম্যাচটি তখনই কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশ। সেখানে বড় দায় আফিফের। প্রায় এক ঘণ্টা ক্রিজে কাটিয়ে ৪৯ বল খেলেও কোনো বাউন্ডারি আদায় করতে পারেননি তিনি। এর চেয়েও দৃষ্টিকটূ ব্যাপার ছিল, কিছু করার চেষ্টা করেছেন বলেও মনে হয়নি। উইকেট যদিও মন্থর ছিল, বল থমকে এসেছে কিছুটা। বাউন্স ছিল একটু অসম। কিন্তু আফিফের ব্যাটিংয়ে কোনো তাড়নাই দেখা যায়নি। কিউই বোলাররা তাকে ড্রাইভ করার বল দেননি খুব একটা, লাইন-লেংথ রেখেছেন আঁটসাঁট। তিনিও উইকেটে স্রেফ পড়ে থেকেছেন, বাড়তি কিছু করার ইচ্ছে তার ব্যাটিংয়ে দেখা যায়নি। অথচ দ্রুত রান তোলার চাপ এ দিন ছিল না, প্রতিপক্ষের বোলিং ছিল না খুব ক্ষুরধার। তবু সময়ের দাবি তিনি মেটাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ২৯ রানে। এই চিত্রও নতুন নয়। ওয়ানডেতে এই নিয়ে টানা ১৭ ইনিংস পঞ্চাশের দেখা পেলেন না আফিফ। সবশেষ ২০২২ সালের অগাস্টে জিম্বাবুয়ে সফরে ৮১ বলে ৮৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ছয়ে নেমে। পরের ১৭ ইনিংস এমনকি ৪০ ছুঁতেও পারেননি তিনি। এই সময়ে তার ব্যাটিং গড় ১৫.৪৬, স্ট্রাইক রেট ৭৬.৩১। আগের দুই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় ম্যাচেই তাকে টানা খেলানো হয়েছে। এই সিরিজের শুরুতেও সুযোগ পেলেন। প্রতিদান দিতে পারছেন সামান্যই। লিটন-আফিফদের আগে এই ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তও। বাজে শট খেলে বোল্ড হয়েছেন তিনি প্রথম বলেই। অনেক সময় প্রথম বলে আউট হয়ে গেলে আসলে বলার মতা কিছু থাকে না। তবে এই ম্যাচই তো শুধু নয়, ব্যর্থতা এই সংস্করণে এখন তার নিয়মিত সঙ্গী। তার সবশেষ ফিফটি ছিল গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। ৭৭ রানের সেই ইনিংসর পর টানা ১৩ ইনিংস আর ফিফটির ছোঁয়া পাননি তিনি। এর মধ্যে দুটি ইনিংস তিনি ব্যাট করেছেন চার নম্বরে, বাকিগুলোয় তিনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে ব্যাট করে এই সময়ে তার ব্যাটিং গড় ১৪.৯২, স্ট্রাইক রেট ৬৭.৫৯। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম ৬ জনের ৩ জনেরই যদি থাকে এমন চিত্র, সেই দলের তো ম্যাচ জেতাই কঠিন। নজর দেওয়া যেতে পারে অন্যদের ওপরও। সাম্প্রতি সময়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক বলা যায় তাওহিদ হৃদয়কে। সবশেষ ১১ ইনিংস ৫টি ফিফটি করেছেন তিনি, আরেকটিতে অপরাজিত ছিলেন ৪৮ রানে। বাংলাদেশ দলের বাস্তবতায়, এমন একজনের দিকে আঙুল তোলার উপায় নেই। সমস্যা হলো, এই ৫ ফিফটির কোনোটিতেই ৬০ পর্যন্ত যেতে পারেননি তিনি। ৩ বার ফিরেছেন ৫১ রানে, এছাড়া আর ৫৫ ও ৫৬। কে না জানে, যে কোনো সংস্করণেই থিতু হওয়া ব্যাটসম্যানের কাছেই বড় ইনিংসের দাবি থাকে। হৃদয় তা পারছেন না। তার ফর্ম আছে, কিন্তু বড় ইনিংস নেই। তানজিদ হাসান গত সিরিজের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন অপরাজিত ৬৭, শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১০৭। এবারের সিরিজ শুরু করলেন বাজে শটে ২ রান করে। ৩২ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ১টি সেঞ্চুরি ও ৫টি ফিফটি করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট বাংলাদেশের বাস্তবতায় দারুণ (১০১.৫১)। কিন্তু টানা দুই ম্যাচে ফিফটি ছুঁতে পারেননি একবারও। সাইফ হাসান মোটে ১০টি ওয়ানডে খেললেন। এখনও কোনো নির্দিষ্ট ধারায় তাকে ফেলা কঠিন।। তার টেকনিক ও ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে যদিও প্রশ্ন ও সংশয় আছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮০ রানের ইনিংসের পর এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করেছেন। ইনিংসটি আরও বড় হওয়া উচিত ছিল ম্যাচের বাস্তবতায়। তবু আপাতত তাকে আলাদাই রাখা যায়। বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান না হলেও মেহেদী হাসান মিরাজের কাছেও রানের চাওয়া থাকে দলের। সবশেষ ১২ ইনিংসে বাংলাদেশ অধিনায়কের ফিফটি ১টি। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর লোয়ার-মিডল অর্ডারে নেমে এসেছেন তিনি। ওপরের দিকে ব্যাটসম্যানদের বেশ কজন ভালো ফর্মে নেই বলে মিরাজের দায়িত্বটা বেশি ও ভূমিকা ভিন্ন। কিন্তু তিনি পারছেন কম সময়েই। সব মিলিয়েই ব্যাটিংয়ের চিত্র নাজুক। সবশেষ দুটি সিরিজ বাংলাদশ জিতেছে। কিউইদের বিপক্ষে এই সিরিজ জয়ের সুযোগও এখনও আছে। তবে তাতে আড়াল হচ্ছে না ব্যাটিংয়ের বাস্তবতা। ওয়ানডে ক্রিকেট যেভাবে বদলে যাচ্ছে, বিশ্ব ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই ব্যাটিং দিয়ে খুব একটা তাল মেলাতে পারার কথা নয় বাংলাদেশের। স্কোয়াডে বিকল্প আছেন সৌম্য সরকার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। নিজের সবশেষ সিরিজে দলের সর্বোচ্চ রান করার পরও সুযোগের অপেক্ষায় হাপিত্যেশ করছেন সৌম্য। অঙ্কন এখনও মাঠে নামারই সুযোগ পাননি একবারও। সিরিজ চলার সময় এসব নিয়ে গভীর আলোচনায় যেতে চাইলেন না নতুন নির্বাচক কমিটির প্রধান হাবিবুল বাশার। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি শুধু শোনালেন তাদের দল নির্বাচনী নীতির কথা। সিরিজের মাঝপথে এসব নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে একটা ব্যাপার বলতে পারি, দল ঘোষণার সময় যেমন বলেছিলাম, আমরা ধৈর্য রাখতে চাই, আপাতত অতীতে তাকাচ্ছি না। যাদের ওপর আস্থা রেখেছি, তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে চাই।
সবসময়ই বার্সেলোনা দলে থাকেন সময়ের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। এখন আছেন রবের্ত লেভানদোভস্কি, তবে নিজের সেরা সময় পেছনে ফেলে এসেছেন তিনি। বার্সেলোনায় তার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের জন্য একজন নিখাদ স্ট্রাইকার প্রয়োজন হবে। সের্হিও আগুয়েরো মনে করছেন, গোলের জন্য বার্সেলোনার সমাধান হতে পারেন হুলিয়ান আলভারেস। আর্জেন্টিনার সাবেক স্ট্রাইকার আগুয়েরো তার ক্যারিয়ার শেষ করেন বার্সেলোনার হয়ে। স্পেনের ক্লাবটির হয়ে অবশ্য বেশিদিন খেলতে পারেননি তিনি। হার্টের সমস্যায় আগেভাগেই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে বাধ্য হন এই তারকা ফুটবলার। তার স্বদেশীয় স্ট্রাইকার আলভারেস এখন খেলছেন আতলেতিকো মাদ্রিদে। তার সম্পর্কে বার্সেলোনার আগ্রহের কথা অনেকবারই এসেছে স্প্যানিশ গণমাধ্যমে। বার্সেলোনা ক্লাবের পক্ষে থেকে অবশ্য কখনও তেমন কোনো আভাস দেওয়া হয়নি। তবে বাজিকর প্রতিষ্ঠান স্ট্যাকের সঙ্গে আলাপচারিতায় আগুয়েরো বলেন, একজন স্ট্রাইকারের সন্ধানে থাকলে বার্সেলোনার জন্য সেরা সমাধান হতে পারেন আলভারেস। হুলিয়ান এখন যে কোনো দলের জন্য ভালো চুক্তি হবে। অবশ্যই দেখতে হবে, খেলোয়াড় নিজে বার্সেলোনায় স্বচ্ছন্দ কি না। একটা দিক খেলোয়াড়ের, অন্যটা ক্লাবের। যদি সব ভালোভাবে যায়, একদিন সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন হবে। বার্সেলোনায় যে অনেক চাপ ও চাহিদা থাকে ভালো, করেই জানেন আগুয়েরো। তবে তিনি নিশ্চিত, খেলার প্রতি নিবেদনের জন্য সেখানে আলভারেসের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। খেলোয়াড়দের জন্য সেখানে কাজটা খুব কঠিন, খুবই জটিল। যদি বার্সা তার সন্ধানে থাকে এবং সে ভালো করে, তাহলে সেখানে সে নিখুঁতভাবে মানিয়ে যাবে। সে ফুটবলকে ভালোবাসে এবং তার এমন একটা ব্যাপার আছে যা বেশিরভাগ স্ট্রাইকারের নেই, সেটা হলো রক্ষণের প্রতি তার নিবেদন। হুলিয়ান খুবই পরিপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।
ভারত ও রাশিয়া একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের পথে আরেক ধাপ এগোল। এজন্য একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে যেটির অধীনে সর্বোচ্চ তিন হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করতে পারবে বন্ধুপ্রতীম দেশ দুটি। একে অপরের দেশে সেনা পাঠানোর পাশাপাশি এ চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ ও যুদ্ধবিমানও একে অপরের ভূখণ্ডে মোতায়েন করা যাবে বলে রাশিয়া টুডের বরাতে খবর দিয়েছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকা। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং গভীর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটাতে দেশ দুটি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তার আইনি কাঠামো ‘পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা বিনিময় চুক্তি’ (আরইএলওএস) এর আওতায় যৌথ সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ ও মানবিক মিশন পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে। স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত ডিসেম্বরে ভারত সফরের সময় মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি আন্তঃসরকারি চুক্তি অনুমোদন করে একটি আইনে সই করেন, যেটির লক্ষ্য ছিল সামরিক বাহিনী মোতায়েন, বন্দরগুলোতে যুদ্ধজাহাজের নোঙর করা এবং দুই দেশের সামরিক বিমানের জন্য আকাশসীমা ও বিমানঘাঁটির অবকাঠামো ব্যবহারের একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। এ আইনি কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক সম্মত যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ত্রাণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের সময় সামরিক বাহিনীর জন্য লজিস্টিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত করে। রাশিয়ার আইন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সরকারি নথি অনুযায়ী, এ চুক্তি দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে অপারেশনাল সহযোগিতার বিষয়কে আরও সহজ করবে।
শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবার গড়ল আইপিএলের নতুন ইতিহাস। টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে নিজেদের ঘরের মাঠে ১০০তম ম্যাচ খেলেছে বিরাট কোহলিদের দল। শনিবার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে মাঠে নামে আরসিবি। এই ম্যাচটিই ছিল তাদের ঘরের মাঠে শততম উপস্থিতি। আইপিএলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত আর কোনো দল নিজেদের নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ১০০ ম্যাচ খেলতে পারেনি। বিশেষ এই অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আইপিএলের শুরুর ইতিহাসও। ২০০৮ সালের ঠিক এই দিনেই শুরু হয়েছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের মাঠে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েছিল বেঙ্গালুরু। ১৮ বছর পর একই দিনে নতুন রেকর্ড গড়ে তারা। এক মাঠে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইডেন গার্ডেন্সে এখন পর্যন্ত ৯৮টি ম্যাচ খেলেছে তারা। এরপর রয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, তারা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেলেছে ৯৫টি ম্যাচ। এ ছাড়া দিল্লি ক্যাপিটালস অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে খেলেছে ৮৯টি ম্যাচ, আর চেন্নাই সুপার কিংস এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে খেলেছে ৮০টি ম্যাচ। এক মাঠে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এখনো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দখলে। ওয়াংখেড়েতে ৯৫ ম্যাচে ৫৭ জয় পেয়েছে তারা। ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতার জয় ৫৪টি এবং চেন্নাই নিজেদের মাঠে জিতেছে ৫৩টি ম্যাচ। সব মিলিয়ে আইপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও মুম্বাইয়ের। এখন পর্যন্ত ২৮২ ম্যাচ খেলেছে তারা। ২৭৭ ম্যাচ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বেঙ্গালুরু। কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি ক্যাপিটালস খেলেছে ২৭১টি করে ম্যাচ।
কুয়েত, মালয়েশিয়া এবং লিবিয়ায় মারা যাওয়া ৩৪ প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) আলাদা ফ্লাইটে মরদেহগুলো দেশে আনা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সবার মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত থেকে ৩০ জন, মালয়েশিয়া থেকে ২ জন এবং লিবিয়া থেকে ২ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফন ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মৃত প্রবাসীদের পরিবার যদি কোনো আর্থিক সুবিধা বা বীমার পাওনার যোগ্য হয়, তা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি ‘খুবই দুঃখজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমে আসছে, তখন বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনজীবনে এমনিতেই মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে হাঁসফাঁস করছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এটি হবে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।’ এর আগে শনিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।
ভারত ও রাশিয়া একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের পথে আরেক ধাপ এগোল। এজন্য একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে যেটির অধীনে সর্বোচ্চ তিন হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করতে পারবে বন্ধুপ্রতীম দেশ দুটি। একে অপরের দেশে সেনা পাঠানোর পাশাপাশি এ চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ ও যুদ্ধবিমানও একে অপরের ভূখণ্ডে মোতায়েন করা যাবে বলে রাশিয়া টুডের বরাতে খবর দিয়েছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকা। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং গভীর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটাতে দেশ দুটি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তার আইনি কাঠামো ‘পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা বিনিময় চুক্তি’ (আরইএলওএস) এর আওতায় যৌথ সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ ও মানবিক মিশন পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে। স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত ডিসেম্বরে ভারত সফরের সময় মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি আন্তঃসরকারি চুক্তি অনুমোদন করে একটি আইনে সই করেন, যেটির লক্ষ্য ছিল সামরিক বাহিনী মোতায়েন, বন্দরগুলোতে যুদ্ধজাহাজের নোঙর করা এবং দুই দেশের সামরিক বিমানের জন্য আকাশসীমা ও বিমানঘাঁটির অবকাঠামো ব্যবহারের একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। এ আইনি কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক সম্মত যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ত্রাণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের সময় সামরিক বাহিনীর জন্য লজিস্টিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত করে। রাশিয়ার আইন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সরকারি নথি অনুযায়ী, এ চুক্তি দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে অপারেশনাল সহযোগিতার বিষয়কে আরও সহজ করবে।
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করায় সরকারকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের মজুত প্রবণতা কমবে এবং বিক্রিতে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে সংগঠনটি মনে করে। এর আগে শনিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।
লিবিয়ার পশ্চিম উপকূলে বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৭ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের সবাই অভিবাসনপ্রত্যাশী বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার ত্রিপোলিভিত্তিক চিকিৎসকদের একটি দল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে জুওয়ারা উপকূল থেকে গত কয়েক দিনে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার হওয়া ১৭ মরদেহের মধ্যে ১৪ জনকে যথাযথ নিয়মে দাফন করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ ত্রিপোলিতে অবস্থানরত তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুই মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। সেন্টারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা মরদেহগুলো সাদা প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহে তৎকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে লিবিয়া হয়ে বিপজ্জনক মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। সূত্র: রয়টার্স
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘চালাকি’ ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর ওভাল অফিসে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়া জানান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান যেভাবে নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছে, এবারও তারা কিছুটা ‘চালাকি’ করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইরান আমেরিকাকে কোনোভাবেই ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। ট্রাম্প বলেন, তারা পুনরায় জলপথটি বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল, যা তারা বছরের পর বছর ধরে করে আসছে, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। তবে হুঁশিয়ারি দিলেও ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক সুর মিলিয়ে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং সবকিছু বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। দিন শেষে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে তল্লাশি চালানো এবং সেগুলো জব্দ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান এই প্রণালিটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করলেও, নিজেদের বন্দরে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকায় আবার তা বন্ধ করে দেয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরান-সম্পর্কিত জাহাজে তল্লাশি ও জব্দের প্রস্তুতির খবর সামনে আসে। এর আগে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর গত সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। সূত্র: আল–জাজিরা
লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, বিন্ত জবেইল জেলার ঘানদুরিয়েহ এলাকায় ইউনিফিল বাহিনীর ওপর হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেছে, ঘটনাটি নিয়ে লেবানন সেনাবাহিনীর তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। এর আগে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানায়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, এ হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো ইরান থেকে কেনা জ্বালানি তেলের মূল্য চীনের মুদ্রা ইউয়ান দিয়ে পরিশোধ করছে। ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে এসব লেনদেন করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন চারটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান ও রাশিয়ার জ্বালানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধের জেরে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই গত মাসে এ ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এ পরিস্থিতিতে চীনা মুদ্রা দিয়ে ইরান থেকে ভারতের তেল কেনার খবর এল। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মাসের শুরুতে ভারতের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন’ প্রায় ৯ বছর পর প্রথম ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। এই চালানের তেলের মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার। এ ছাড়া আরেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেল বহনকারী চারটি জাহাজ সম্প্রতি ভিড়তে দিয়েছে ভারত। এসব জাহাজের মধ্যে ‘এমটি ফেলিসিটি’ নামের একটি জাহাজ ইতিমধ্যে তেল খালাসও করেছে। সূত্র জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও রিলায়েন্স—দুই প্রতিষ্ঠানই আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউয়ানে ইরানের তেলের মূল্য পরিশোধ করে। ব্যাংকটি তাদের সাংহাই শাখার মাধ্যমে তেলের দাম পাঠাচ্ছে বিক্রেতাদের কাছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে আইসিআইসিআই ব্যাংক, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি রয়টার্স। তেহরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ধরনের তেলের মূল্য পরিশোধে জটিলতা থাকায় অনেক ক্রেতা আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধের জেরে তেলের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ইরানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ ইরানের তেল কেনায় এই ছাড় আজ রোববার শেষ হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।