ইউরোপের পোশাক বাজারে বাংলাদেশকে টেক্কা দিতে চাইছে যে দেশটি, সেই তুরস্কের বাজারেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রপ্তানির হিসাব বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে তুরস্কে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। শুধু পোশাক নয়, তুরস্কে বাংলাদেশের সব ধরনের পণ্য রপ্তানিও এই সময়ে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে মোট রপ্তানি হয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ। তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার এ হার জাতীয় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। ইপিবির হিসাবে, এই সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার ছিল। রপ্তানিকারকদের মতে, তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। তাদের প্রত্যাশা, চলতি অর্থবছরেই তুরস্কে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানিও বাড়াতে হবে। শুল্কের ধাক্কায় হারানো বাজার ফিরে পাওয়ার সুযোগ তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বাজার নয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ। একসময় শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে তুরস্ক বাংলাদেশের পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ছিল। তবে শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের পর সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বড় ধাক্কা খায়। ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তুরস্কে পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ৮৬ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকে এসেছিল ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার। পণ্য ও পোশাক–দুই ক্ষেত্রেই সেটি ছিল তুরস্কে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়। এর পরের কয়েক বছরে রপ্তানি কমতে থাকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি নেমে আসে ৬৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারে। তৈরি পোশাক থেকে আয় কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪৬ কোটি ডলারে। পরের বছরগুলোতে রপ্তানি আয়ে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও আগের সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যানেও সেই চিত্র দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুরস্কে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম। ওই অর্থবছরে তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছিল ৪০ কোটি ১৭ লাখ ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে এসেছিল ১৬ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৬৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। সে বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। সেবার তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলার এবং পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ১৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এ পরিসংখ্যান বলছে, তুরস্কে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বাংলাদেশের জন্য। ফলে সাম্প্রতিক উল্লম্ফনকে টেকসই রপ্তানি বৃদ্ধিতে রূপ দেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উৎপাদনে ঘাটতি, বিদেশি পোশাকে সুযোগ তুরস্কে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা কীভবে তৈরি হল, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে সরে আসছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনে এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সেই ঘাটতি পূরণে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য তুরস্ক এখন সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে সামনে এসেছে। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়মত সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এ বাজারে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।” তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে শুধু প্রচলিত পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না বলে মনে করেন ফজলে শামীম। তার মতে, উচ্চমূল্যের পোশাক, কৃত্রিম তন্তু ও কারিগরি বস্ত্রের মত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য এবং মূল্য সংযোজনেও গুরুত্ব দিতে হবে। ফজলে শামীম বলেন, “পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।” বাজার সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরদার করা সম্ভব। ফজলে শামীম বলেন, “নতুন করে যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, সেটা কাজে লাগাতে পারলে চলতি অর্থবছরেই তুরস্কে আমাদের মোট রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এজন্য সরকার ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করতে হবে।” গত অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি যেখানে ছিল ৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, সেখানে চলতি অর্থবছরে ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। প্রথম তিন মাসের প্রবৃদ্ধি সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও বাকি সময়ের রপ্তানি পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ বিনিয়োগের উদ্যোগ তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান বিএনপি সরকার। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে কৃত্রিম তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে টার্কিশ এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির সুযোগও তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পাট ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের জন্য তুরস্কের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের বাণিজ্য ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা আলোচনা হয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও অনুকূল কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয় সে সময়। পোশাকের পাশাপাশি পাটেও নজর তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পাটকল উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের পাট ও পাটজাত পণ্যেরও বড় বাজার কিন্তু তুরস্ক। এ বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু আরএমজি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না।” তার মতে, তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটসহ অন্য পণ্যকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাপস প্রামাণিক বলেন, “সত্যিকার অর্থেই যদি আমরা তুরস্কের বাজার নতুন করে ধরতে চাই, তাহলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটসহ অন্য পণ্যের দিকে সমান নজর দিতে হবে।” পাট খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বছরের পর পর পাট নিয়ে আমরা আশাবাদের কথা শুনছি। কিন্তু কিছুই তো হচ্ছে না। স্বাধীনতার পর মোট রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি বিদেশি মুদ্রা আসত যে খাত থেকে; সেই খাত পথ হারিয়ে ফেলল। আমরা সবাই চেয়ে চেয়ে দেখলাম; পরে রইলাম সবাই তৈরি পোশাক নিয়ে।” তাপস প্রামাণিকের মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। সেজন্য তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে। ১০০ কোটি ডলারের লক্ষ্য পূরণে যা গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও এ লক্ষ্য অর্জনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রথমত, তৈরি পোশাকের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দাম ও মান বজায় রাখার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চমূল্যের পোশাক ও কারিগরি বস্ত্রের মত পণ্যে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফও তুরস্কে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা আমাদের জন্য খুবই খুশির খবর যে, তুরস্কে আমাদের রপ্তানিতে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।” প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অপটিক্যালস, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের মত সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে দেশে আটকা পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী। গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ ছাড়া আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবগামী সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় বেসরকারি বিমান পরিচালনা সংস্থা ইন্ডিগো। বেবিচক জানায়, বাতিল হওয়া ১০৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী। বাতিল সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। এ ছাড়াও ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিগো জানিয়েছে, সৌদি আরবের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা থেকে যাওয়া-আসার ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে সৌদিগামী যাত্রীদের বহনকারী ইন্ডিগোর ২২টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মীদের বিকল্প পথে সৌদি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান রাষ্ট্রসংস্কারের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে তা জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এর ক্ষমতাসীন জোটের ‘একচ্ছত্র ইচ্ছা-অনিচ্ছা’ এবং বিরোধী জোটের ‘দলীয় ফায়দার’ রাজনীতিতে ব্যস্ত হওয়াকে দায়ী করে সংস্থাটি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রসংস্কার ক্ষমতাসীন জোটের একচ্ছত্র ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে বিরোধী জোট জনস্বার্থে রাষ্ট্রসংস্কারে সহায়ক ভূমিকার পথ ছেড়ে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দার রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ও আমলাতন্ত্র শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় এমনটা ঘটেছে। তিনি বলেন, রক্তস্নাত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা তথা রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছিলো, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৩১-দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্রসংস্কার এজেন্ডা ও জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যগণ গণভোটের পক্ষের শক্তি হওয়া স্বত্ত্বেও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করার মতো অশুভ অবস্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন এবং একইভাবে আইন প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রসংস্কার বাস্তবে ক্ষমতাসীন জোটের একচ্ছত্র ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার একটি বড় সংখ্যক আইনে পরিণত করেছে। এক্ষেত্রে যে-সব অধ্যাদেশ সরকারের তথা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে অধিকতর জবাবদিহিহীন ভাবে শক্তিশালী করেছে, সেগুলো পাস করা হয়েছে। অন্যদিকে যে-সকল অধ্যাদেশ জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ছিলো, তা রহিত বা স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক শক্তির যোগসাজশে জুলাই আন্দোলনের মূল অভীষ্ট, একটি জবাবদিহি ও দায়বদ্ধ সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ হচ্ছে। অন্যদিকে কর্তৃত্ববাদ পতনের বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রধান রাজনৈতিক দলের দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণে ‘এবার আমাদের পালা’র লাগামহীন হাতবদল রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কার্যত অসম্ভব করে তুলেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রসংস্কারের বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছে। সকল রাজনৈতিক দল একমত হওয়া সত্ত্বেও ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশ’ এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে বিল পাশ না করে পূর্বের (২০০৪ সাল) আইনে ফিরে যাওয়ায় দুদক জন্মলগ্ন থেকে যে আস্থাহীনতার সংকটে ভুগছে, তা থেকে উত্তরণের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ রহিত করে এ সংক্রান্ত যে আইনটি সম্প্রতি পাশ করা হয়েছে, তা একটি প্রকৃত স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘকাল লালিত জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অধিকন্তু, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সংস্থাসমূহকে সুরক্ষা দিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। র্যাবের বিলুপ্তির নামে নতুন নামে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সিংহভাগের জন্য দায়ী হিসেবে পরিচিত এ সংস্থাকে অধিকতর ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যদিকে স্বাধীন ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনে সকলে একমত হলেও কোনো উদ্যোগ নেই। দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ এবং তা নিয়মিত হালনাগাদের বিধান বিষয়ে মতৈক্য হলেও বর্তমান সংসদ সদস্যগণ শপথ নেওয়ার পর এ ধরনের নির্দেশনা বা চর্চার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সার্বিকভাবে জুলাই আন্দোলনের পেছনে যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিলো সরকার তার বিপরীতমুখী ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধহীন ক্ষমতাকাঠামো প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ ক্ষমতাকাঠামোকে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধ রাখার সকল সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ফলে যে পরিণাম, তার ভুক্তভোগী হওয়া স্বত্ত্বেও, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে সরকারসহ রাজনৈতিক দলগুলো তা বিস্মৃত হলো কীভাবে? প্রশ্ন রাখেন ড ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, জুলাই সনদ মূলত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলসহ বিগত সময়ের অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখেই প্রণীত হয়েছে এবং সরকারি দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য স্বত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে তখন ঐকমত্যে পৌঁছেছিলো। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতান্ত্রিক একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চার মোহে সরকারি দল যেমন অভিজ্ঞতার বিপরীতমুখী পথ ধরেছে তেমনই বিরোধী জোটও মূলত দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা অর্জনের তৎতপরতায় লিপ্ত রয়েছে। বিবৃতিতে গণতন্ত্র, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কতৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে বাংলাদেশের বিভাজিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক মতৈক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিলো, রাষ্ট্রসংস্কারের অভিষ্ট অর্জনেও সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরূপ সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে আজারবাইজানেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন ও জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী। আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া সিআইসিএ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির।
ইউরোপের পোশাক বাজারে বাংলাদেশকে টেক্কা দিতে চাইছে যে দেশটি, সেই তুরস্কের বাজারেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রপ্তানির হিসাব বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে তুরস্কে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। শুধু পোশাক নয়, তুরস্কে বাংলাদেশের সব ধরনের পণ্য রপ্তানিও এই সময়ে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে মোট রপ্তানি হয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ। তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার এ হার জাতীয় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। ইপিবির হিসাবে, এই সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার ছিল। রপ্তানিকারকদের মতে, তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। তাদের প্রত্যাশা, চলতি অর্থবছরেই তুরস্কে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানিও বাড়াতে হবে। শুল্কের ধাক্কায় হারানো বাজার ফিরে পাওয়ার সুযোগ তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বাজার নয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ। একসময় শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে তুরস্ক বাংলাদেশের পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ছিল। তবে শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের পর সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বড় ধাক্কা খায়। ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তুরস্কে পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ৮৬ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকে এসেছিল ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার। পণ্য ও পোশাক–দুই ক্ষেত্রেই সেটি ছিল তুরস্কে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়। এর পরের কয়েক বছরে রপ্তানি কমতে থাকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি নেমে আসে ৬৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারে। তৈরি পোশাক থেকে আয় কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪৬ কোটি ডলারে। পরের বছরগুলোতে রপ্তানি আয়ে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও আগের সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যানেও সেই চিত্র দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুরস্কে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম। ওই অর্থবছরে তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছিল ৪০ কোটি ১৭ লাখ ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে এসেছিল ১৬ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৬৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। সে বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। সেবার তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলার এবং পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ১৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এ পরিসংখ্যান বলছে, তুরস্কে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বাংলাদেশের জন্য। ফলে সাম্প্রতিক উল্লম্ফনকে টেকসই রপ্তানি বৃদ্ধিতে রূপ দেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উৎপাদনে ঘাটতি, বিদেশি পোশাকে সুযোগ তুরস্কে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা কীভবে তৈরি হল, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে সরে আসছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনে এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সেই ঘাটতি পূরণে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য তুরস্ক এখন সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে সামনে এসেছে। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়মত সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এ বাজারে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।” তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে শুধু প্রচলিত পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না বলে মনে করেন ফজলে শামীম। তার মতে, উচ্চমূল্যের পোশাক, কৃত্রিম তন্তু ও কারিগরি বস্ত্রের মত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য এবং মূল্য সংযোজনেও গুরুত্ব দিতে হবে। ফজলে শামীম বলেন, “পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।” বাজার সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরদার করা সম্ভব। ফজলে শামীম বলেন, “নতুন করে যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, সেটা কাজে লাগাতে পারলে চলতি অর্থবছরেই তুরস্কে আমাদের মোট রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এজন্য সরকার ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করতে হবে।” গত অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি যেখানে ছিল ৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, সেখানে চলতি অর্থবছরে ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। প্রথম তিন মাসের প্রবৃদ্ধি সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও বাকি সময়ের রপ্তানি পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ বিনিয়োগের উদ্যোগ তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান বিএনপি সরকার। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে কৃত্রিম তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে টার্কিশ এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির সুযোগও তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পাট ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের জন্য তুরস্কের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের বাণিজ্য ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা আলোচনা হয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও অনুকূল কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয় সে সময়। পোশাকের পাশাপাশি পাটেও নজর তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পাটকল উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের পাট ও পাটজাত পণ্যেরও বড় বাজার কিন্তু তুরস্ক। এ বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু আরএমজি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না।” তার মতে, তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটসহ অন্য পণ্যকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাপস প্রামাণিক বলেন, “সত্যিকার অর্থেই যদি আমরা তুরস্কের বাজার নতুন করে ধরতে চাই, তাহলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটসহ অন্য পণ্যের দিকে সমান নজর দিতে হবে।” পাট খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বছরের পর পর পাট নিয়ে আমরা আশাবাদের কথা শুনছি। কিন্তু কিছুই তো হচ্ছে না। স্বাধীনতার পর মোট রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি বিদেশি মুদ্রা আসত যে খাত থেকে; সেই খাত পথ হারিয়ে ফেলল। আমরা সবাই চেয়ে চেয়ে দেখলাম; পরে রইলাম সবাই তৈরি পোশাক নিয়ে।” তাপস প্রামাণিকের মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। সেজন্য তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে। ১০০ কোটি ডলারের লক্ষ্য পূরণে যা গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও এ লক্ষ্য অর্জনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রথমত, তৈরি পোশাকের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দাম ও মান বজায় রাখার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চমূল্যের পোশাক ও কারিগরি বস্ত্রের মত পণ্যে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফও তুরস্কে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা আমাদের জন্য খুবই খুশির খবর যে, তুরস্কে আমাদের রপ্তানিতে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।” প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অপটিক্যালস, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের মত সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখতে হবে, এমন আলোচনা উঠে—এটি জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক। সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য। অতীতে অনেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সবাই সমান অধিকারের অধিকারী। সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, আচার-অনুষ্ঠান পালন ও উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার অধিকার দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। তারপরও কেন পূজার সময় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে কথা বলতে হয়, তা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক।’ তিনি জানান, পৃথিবীর সব দেশেই কোনো না কোনো ধর্মের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে সব দেশেই কমবেশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার স্বীকৃত। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেও প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অতীতে আপনাদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা অনেকেই লুটেছেন। আমরা সেই প্রসঙ্গে যাব না। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন, কোন সময়ে আপনাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই।’ তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। এগুলো মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতেও দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব মানুষ স্বাধীনভাবে ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে। বনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান ও নকশায় মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন। ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপের দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: আইজিপি একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। আইজিপি বলেন, দায়িত্ব পালনের পরও একটি পক্ষ থেকে পূজার আয়োজন নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সুযোগ নিতে চায়, তারা এমন চেষ্টা করতেই পারে। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনের সিঁড়ির পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে মেয়েকে সামনের সুইমিংপুলে রেখে তিনি পাশের নির্মাণাধীন ভবনে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তার বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন করা হবে। এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছোট মেয়েকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবের সুইমিংপুলে যান মোশাররফ হোসেন। তার দৃষ্টিশক্তিতে কিছুটা সমস্যা ছিল। তিনি নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে যান। সেখানে তার মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ডিসি শেখ জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত করতে না চাওয়ায় মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, তাদের কোনো জায়গা নেই পাথরঘাটায়। বিএনপি আপনাদের ‘ফ’ উপহার দিয়েছে, আর আওয়ামী লীগও ‘ফ’ উপহার দিয়েছে। তার মানে—বিএনপির ‘ফ্ল্যাগ’, আর আওয়ামী লীগের ‘ফাঁসি’। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আপনারা ভালো কাজের ও সততার মূল্যায়ন দিতে জানেন না। আমি রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, বিএফডিসি, পৌরসভা, পল্লী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করেছি। তারপরও আমার দুঃখ তো থাকতেই পারে। এরপরও আমি এলাকায় আসছি, আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। তিনি বলেন, আপনারা বলুন তো, আমার নির্বাচনী এলাকায় এমন কোনো উন্নয়ন খাত আছে, যেখানে আমার ছোঁয়া নেই? সব ক্ষেত্রেই আমি উন্নয়ন করেছি। আমি কোনো অসৎ কাজ করেছি বলে আমার মনে হয় না। আমি সৎ জীবন যাপন করেছি। কারও কোনো ক্ষতি করেছি কিনা... আমার মনে পরে না। তারপরও আপনারা আমার সততার মূল্যায়ন দিতে পারেননি। এলাকার সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আমার এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাং থাকবে না। উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং দমন করতে না পারলে তারা এ এলাকায় থাকতে পারবেন না।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে পাঁচ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন ও রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জাকারিয়াকে পদে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জাকারিয়াকে তিনি বলেছেন, “সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি নিয়ে আবার ভাবতাম।” ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে জাকারিয়ার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন এবং সিদ্ধান্ত তার ওপর ছেড়ে দেবেন। তবে এই দায়িত্বের জন্য জাকারিয়ার আদৌ উপযুক্ত কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন। “আমি তাকে বলেছি, ‘কেটি, আপনার কি এই দায়িত্বের প্রয়োজন আছে? আমার মনে হয় না আপনার এটা প্রয়োজন’। এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, জাকারিয়া প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। পরে রয়টার্সকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজও জানিয়েছিল, তিনি পদটি ছেড়ে দিচ্ছেন। গত সোমবার দায়িত্ব শুরু করেন জাকারিয়া। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। কিন্তু ওই সংবাদ সম্মেলনের পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পর থেকেই তার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। জাকারিয়া এর আগে রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে টেলিভিশনে কাজ করেছেন। পাশাপাশি যোগাযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গত ৯ অক্টোবর তাকে প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। ট্রাম্প সে সময় জাকারিয়াকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তার আইনজীবী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ক্যালিফোর্নিয়ার পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া জাকারিয়া আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণী বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া স্বীকার করেন, ওই পরীক্ষায় তিনি পাস করেননি। মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়াকে বেশ স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়। তিনি মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বললে তা নিয়ে সমালোচনা হয়। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম সংবাদ সম্মেলনের পর ট্রাম্প নিজে জাকারিয়ার পারফরম্যান্সকে তার কয়েকজন উপদেষ্টার মত অতটা খারাপ মনে করেননি। তবে পরের সাক্ষাৎকারগুলো, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে শন হ্যানিটির সঙ্গে ফক্স নিউজে তার কথোপকথন, এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা দেখে ট্রাম্পের মন বদলে দেয়। ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, চলতি সপ্তাহে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাকারিয়া হয়ত বড় পরিসরে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তবে প্রেসিডেন্ট জাকারিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন বজায় রেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে ‘অন্যায়’ আচরণ করেছে। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্টের হয়ে কথা বলার দায়িত্বের জন্য হয়ত জাকারিয়া উপযুক্ত নয়। রয়টার্স লিখেছে,জাকারিয়ার পাঁচ দিনের দায়িত্বকাল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক অ্যান্টনি স্কারামুচির মেয়াদকালের চেয়েও সংক্ষিপ্ত। ২০১৭ সালে স্কারামুচি ওই পদে ১০ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
তুরস্কের অন্যতম বড় শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুর্যোগকে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া বন্যায় চারজনের প্রাণহানির তথ্যও দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে গত ৪৮ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু। অতিবৃষ্টির পরই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ এই দুর্যোগের। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা সিফসি বন্যা নিয়ে বলেছেন, আমরা জনগণকে সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে একইসঙ্গে আমরা ১৯৪২ সালের পর সবচেয়ে বড় বন্যার মোকাবিলা করছি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ইস্তাম্বুলের সারিয়ার জেলার একটি ব্রিজের নিচে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিসহ চারজনের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে একজ বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন। সারিয়াতে আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইস্তাম্বুল জনসংখ্যার দিক দিয়ে তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর, যেখানে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বসবাস করে। বন্যার পানিতে শহরটির আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে পাঁচ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন ও রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জাকারিয়াকে পদে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জাকারিয়াকে তিনি বলেছেন, “সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি নিয়ে আবার ভাবতাম।” ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে জাকারিয়ার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন এবং সিদ্ধান্ত তার ওপর ছেড়ে দেবেন। তবে এই দায়িত্বের জন্য জাকারিয়ার আদৌ উপযুক্ত কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন। “আমি তাকে বলেছি, ‘কেটি, আপনার কি এই দায়িত্বের প্রয়োজন আছে? আমার মনে হয় না আপনার এটা প্রয়োজন’। এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, জাকারিয়া প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। পরে রয়টার্সকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজও জানিয়েছিল, তিনি পদটি ছেড়ে দিচ্ছেন। গত সোমবার দায়িত্ব শুরু করেন জাকারিয়া। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। কিন্তু ওই সংবাদ সম্মেলনের পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পর থেকেই তার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। জাকারিয়া এর আগে রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে টেলিভিশনে কাজ করেছেন। পাশাপাশি যোগাযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গত ৯ অক্টোবর তাকে প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। ট্রাম্প সে সময় জাকারিয়াকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তার আইনজীবী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ক্যালিফোর্নিয়ার পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া জাকারিয়া আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণী বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া স্বীকার করেন, ওই পরীক্ষায় তিনি পাস করেননি। মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়াকে বেশ স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়। তিনি মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বললে তা নিয়ে সমালোচনা হয়। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম সংবাদ সম্মেলনের পর ট্রাম্প নিজে জাকারিয়ার পারফরম্যান্সকে তার কয়েকজন উপদেষ্টার মত অতটা খারাপ মনে করেননি। তবে পরের সাক্ষাৎকারগুলো, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে শন হ্যানিটির সঙ্গে ফক্স নিউজে তার কথোপকথন, এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা দেখে ট্রাম্পের মন বদলে দেয়। ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, চলতি সপ্তাহে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাকারিয়া হয়ত বড় পরিসরে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তবে প্রেসিডেন্ট জাকারিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন বজায় রেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে ‘অন্যায়’ আচরণ করেছে। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্টের হয়ে কথা বলার দায়িত্বের জন্য হয়ত জাকারিয়া উপযুক্ত নয়। রয়টার্স লিখেছে,জাকারিয়ার পাঁচ দিনের দায়িত্বকাল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক অ্যান্টনি স্কারামুচির মেয়াদকালের চেয়েও সংক্ষিপ্ত। ২০১৭ সালে স্কারামুচি ওই পদে ১০ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র জাতীয় পর্যায়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আয়োজিত বিরোধী জোটের কার্যক্রমে দলটির এই যুক্ত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি’ (ভিসিকে) নেতা থল থিরুমাভালাভান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে ইন্ডিয়া জোটের রাজ্য শাখায় যুক্ত হয়েছে টিভিকে। এরই ধারাবাহিকতায় চেন্নাইয়ে জোটের আয়োজিত বিক্ষোভেও অংশ নেয় দলটি। ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরের কর্মসূচিতেও তাদের দেখা যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিরোধীদের একাংশ। তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার কারণে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। সেই সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণও দাবি করেছে তারা। ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে টিভিকের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত ৩ অক্টোবর কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে এবং এমডিএমকের মতো দলগুলোর সাথে রাজ্য পর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেয় টিভিকে। সেখানে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি টিভিকে-কে জোটে স্বাগত জানানো হয়। এরপর চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, যা দুই দলের রাজনৈতিক সমঝোতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে অভিনেতা বিজয়ের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করা টিভিকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি শক্ত বিকল্প হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ইন্ডিয়া জোটের সাথে এই সম্পৃক্ততা দলটির রাজনৈতিক পরিধি আরও বাড়িয়ে দিলেও, জাতীয় রাজনীতিতে এই জোটের সাথে টিভিকের চূড়ান্ত ভূমিকা ঠিক কতদূর বিস্তৃত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তাতে হঠাৎ করেই ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। দিল্লিতে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন এবং এর ধরনকে ২০২৪ সালের অগাস্টে ঘটে যাওয়া ‘বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের’ পাঁয়তারা বলে আখ্যায়িত করছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। বুধবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভারতে চলমান আন্দোলনকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত বলে মন্তব্য করেন আইসা নেতা। মূলত এর পর থেকেই বিজেপি নেতারা দিল্লির আন্দোলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। ইতোমধ্যে বিজেপি নেতারা নেহার এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জ্ঞানেশবিরোধী বিক্ষোভকে বিরোধীদের নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা বলে বর্ণনা করেছেন। দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বিরোধী দল কংগ্রেস ও তাদের মিত্রদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। রাজনাথের দাবি, বিরোধীরা তরুণদের উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে ‘বাংলাদেশের আদলে’ নৈরাজ্য ও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “কেউ প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণের কথা বলছেন। কেউ সরকার বদলের চেষ্টার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা অরাজকতা তৈরি করে সরকার বদল করতে চায়। ঠিক যেমন বাংলাদেশে হয়েছে।” এর আগে বৃহস্পতিবার বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেন। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, “একটি সাক্ষাৎকারে নেহা বোরা বলেছেন যে তিনি বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত এবং বাংলাদেশে যা ঘটেছে ভারতেও তা হওয়া উচিত। এগুলো কেবল নেহা বোরার বক্তব্য নয়, এটি মূলত রাহুল গান্ধীর মনোভাবেরই প্রতিফলন। “তারা ভারতে বাংলাদেশের মতো জেন-জি আন্দোলন তৈরি করতে চায় এবং তাদের আসল উদ্দেশ্য সরকার পরিবর্তন করা। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ নয়; এটি একটি নৈরাজ্যবাদী পদযাত্রা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা।” ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ২ অক্টোবর থেকে দিল্লিতে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও তাদের জোট ‘ইনডিয়া’ এ আন্দোলনে তাদের সমর্থন দিয়েছে। এ আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতারা হঠাৎ কেন ঢালাওভাবে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, নেহা বোরার বক্তব্য ছাড়াও এর পেছনে আরও কারণ আছে কিনা তা নিয়ে শুক্রবার একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। সেখানে বলা হয়, এমন এক সময় ভারতের রাজনৈতিক আলোচনা ও বিশ্লেষণে ‘সরকার পরিবর্তন’ শব্দটি মূল প্রতিপাদ্য হয়ে উঠেছে, যখন ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে হাজার হাজার মানুষ দিল্লির রাজপথে নেমে আন্দোলন করছেন। সিজেপি ও বামপন্থি ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করছে; অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেস ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে নিজস্ব রাজনৈতিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কংগ্রেসের ওপর এক তুমুল রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করছে এবং ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অগণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। বিজেপি সতর্ক করে বলেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেভাবে শেখ হাসিনা সরকারকে ‘উৎখাত’ করা হয়েছিল, ভারতেও ঠিক একই মডেলের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, নেহা বোরার বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রশংসার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণের একটি মন্তব্যও বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ। বৃহস্পতিবার সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তনের দাবি জানানো কোনও অপরাধ নয়। ভারতে শাসন পরিবর্তন অবশ্যই হবে। আমরা সবাই শাসন পরিবর্তন চাই। এতে কি কোনো সমস্যা আছে?” ইন্ডিয়া টুডের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, প্রকাশ্যে ‘সরকার পরিবর্তনের’ যৌক্তিকতা সমর্থনের পরই মূলত বিজেপির প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির ভারতের সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি। বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র ও সংসদ সদস্য সম্বিত পাত্র বলেছেন, “তার (ধ্রুব রাঠি) চেয়ে বড় দেশবিরোধী আর কেউ হতে পারে না।” অন্যদিকে রাজনাথ সিংয়ের শুক্রবারের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ‘জজ্ঞু গোয়েন্দা’ ও ‘শার্লক হোমস’ হিসেবে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পর নির্বাচনে যেভাবে সরকার পরিবর্তন হয়েছিল, বিরোধী দলও তেমনি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।” পবন খেরা স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতে গণতন্ত্রে সরকার কীভাবে পরিবর্তিত হয়? অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমে। যখনই কোনো বিরোধী দল রাজপথে নামে, সেখানে একটি আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং সরকার পরিবর্তিত হয়। নির্বাচন ছাড়া বিরোধীদের আর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে?” ইন্ডিয়া টুডের মতে, দিল্লিতে প্রতিবাদকারীদের ওপর পুলিশি নিপীড়ন, এসআইআর বিতর্কের মধ্যে এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ চরম রূপ নিয়েছে। এমনকি বিজেপির জাতীয় শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এতে ‘বিদেশি শক্তির হাত’ থাকার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস ও সিজেপি ‘বিদেশি শক্তির’ নির্দেশে কাজ করছে। ঠিক কী বলেছিলেন প্রশান্ত ভূষণ দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়াতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আইসা সভাপতি নেহা বোরা, রাজ্যসভার সংসদ সদস্য কপিল সিব্বল, অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং অন্যান্য নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “এই সরকার বারবার বলে চলেছে, এটি নাকি বিরোধীদের পরিচালিত সরকার পরিবর্তনের নীল নকশা। আমরা তো কেবল এই দেশের নির্বাচনি গণতন্ত্রকে বাঁচানোর আবেদন জানাচ্ছি। কিন্তু এই ধরনের বর্বরতা যদি চলতেই থাকে, তবে নিশ্চিতভাবেই সরকার পরিবর্তন হবে। “আমরা সবাই তো শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনই চাই। এতে ভুল বা অন্যায়ের কী আছে? সরকার পরিবর্তন প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার, আর সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়।” তার এ বিস্ফোরক মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে গ্রহণ করে বিজেপি দাবি করেছে, সিইসির পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য কেবল নির্বাচনি সংস্কার নয়, বরং নরেন্দ্র মোদী সরকারকে উৎখাত করা। যেভাবে উঠে এল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যের আগেই ভারতে চলমান আন্দোলনকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছিল। ওই আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। বুধবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় আইসা সভাপতি নেহা বোরা ২০২৪ সালের বাংলাদেশে শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বলেন, “আজ আমরা ভারতে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা প্রথমে বাংলাদেশে হয়েছিল। আমাদের পথ দেখানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন। আমরা আপনাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাই। আপনাদের পরিচালিত লড়াই থেকে আমরা অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা গ্রহণ করছি।” ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত জুনে দিল্লিতে সিজেপির যে আন্দোলন হয়েছিল সেখানেও অংশ নিয়েছিলেন জেএনইউ শিক্ষার্থী নেহা। এছাড়া সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে পদযাত্রাও করেছে কংগ্রেস তথা ইনডিয়া জোট, সেখানেও তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে। ফলে নেহার এ বক্তব্য বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিজেপি। নেহার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে শেয়ার করেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। এই ছাত্রনেতাকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘পোস্টার গার্ল’ আখ্যা দিয়ে ভান্ডারি লেখেন, “নেহা বোরা বলছেন বাংলাদেশ নাকি আমাদের বিপ্লবের পথ দেখিয়েছে! এটা কি সরকার পরিবর্তনের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি নয়? রাহুল গান্ধী এবং তার সঙ্গীরা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি!” ইন্ডিয়া টুডে বলছে, নেহা বোরা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার রক্ষার অনুপ্রেরণা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু বিজেপি সেটিকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনাকে হঠানোর কৌশলকে সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো কিছু অভিযোগ, যেখানে দাবি করা হচ্ছে বিরোধীদের আন্দোলনের পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জড়িত রয়েছে। ‘বাংলাদেশি মডেলের’ চক্রান্ত দেখছে বিজেপি ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, বিজেপি মনে করছে প্রশান্ত ভূষণ ও নেহা বোরার বক্তব্যগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সিজেপির আন্দোলন, বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি এবং কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’ প্রচারণার একটি বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ। রাজপথে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মোদী সরকারকে অস্থিতিশীল করার এটি এক সুসংহত প্রচেষ্টা বলেও বিজেপি মনে করেছে। প্রদীপ ভান্ডারি বৃহস্পতিবার নেহার বক্তব্য নিয়ে রাহুল গান্ধীকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করেছেন, সেটিকে শুক্রবার নতুন মাত্রায় নিয়ে যান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি অভিযোগ করেন, “দেশের তরুণ সমাজকে অরাজকতার রাজনীতিতে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো রাজপথে সহিংসতা উসকে দিয়ে বাংলাদেশের মতো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে।” রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। সংঘাতের পথ ছেড়ে আমাদের সংলাপ ও রাষ্ট্রগঠনের পথ বেছে নিতে হবে।” পরবর্তীতে একে একে বিজেপির অন্য শীর্ষ নেতারাও এ নিয়ে মন্তব্য করেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এক্সে এক পোস্টে লেখেন, “শেষ পর্যন্ত দেখা গেল সবই ছিল সরকার পরিবর্তনের কৌশল। ছাত্র ও কৃষকদের উসকে দিয়ে, জাতিগত ও ভাষাগত বিভেদ ছড়িয়ে এবং দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে ক্ষমতা দখলই এদের প্রধান লক্ষ্য।” গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেন, “বিরোধীরা কি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন চায় নাকি সংবিধানবহির্ভূত আন্দোলনের মাধ্যমে? ভারতে জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত ও পরিবর্তিত হয়, বলপ্রয়োগ বা সংবিধান লঙ্ঘন করে নয়।” বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “প্রশান্ত ভূষণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের লড়াই সরকার পরিবর্তনের জন্য। এই দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের নয়। এটি ১৪০ কোটি মানুষের। তাদের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, সিইসি বা এসআইআর বিষয়গুলো কেবল বাহানা, আসল উদ্দেশ্য অরাজকতা তৈরি করা।” সিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা ইন্ডিয়া টুড লিখেছে, বিজেপির তীব্র আক্রমণের মুখে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরকার পতনের অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা কেবল নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা দাবি করছি। আমরা সরকার পরিবর্তনের কথা বলছি না। আমরা শুধু বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে এক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হোক। এটি কি কোনো অপরাধ?” দীপকে তাদের আন্দোলনকে কংগ্রেস এবং নেহা বোরার বাংলাদেশ কেন্দ্রিক বক্তব্য থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও, বিজেপি তাদের সবাইকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন একই সূত্রে গাঁথছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।