সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বঋণ ছাড়াল ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

বিশ্বের মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই বৈশ্বিক ঋণ বেড়েছে ১০ লাখ কোটি ডলার। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণ যুক্তরাষ্ট্রের, আর ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ।   আন্তর্জাতিক অর্থায়নবিষয়ক সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, সরকার, পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ মিলিয়ে বিশ্বে ঋণের পরিমাণ এখন ৩৬৫ লাখ কোটি ডলারের বেশি। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের হিসাবে এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার।   ঋণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র   সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ঋণ ৪১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১২৭ শতাংশ।   তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের ঋণ ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের ঋণ ৮ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার। তবে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণের অনুপাত সবচেয়ে বেশি, দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১৯৯ শতাংশ।   চতুর্থ অবস্থানে যুক্তরাজ্যের ঋণ ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১০২ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা ফ্রান্সের ঋণ ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ।   ষষ্ঠ অবস্থানে ইতালির ঋণ ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে সপ্তম অবস্থানে জার্মানির ঋণ ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ।   ঋণগ্রস্ত দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান ৮তম। ভারতের সরকারি ঋণ ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ৮৩ শতাংশ। নবম অবস্থানে কানাডার ঋণ ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার এবং দশতম অবস্থানে ব্রাজিলের ঋণ ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার।   ঋণের তালিকায় ৪৫তম বাংলাদেশ   বিশ্বের সরকারি ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ।   ঋণের পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো। তবে ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির তুলনায় ঋণের অনুপাতও গুরুত্বপূর্ণ।   সুদের পেছনে ব্যয় ৩৩ লাখ কোটি ডলারের বেশি   বিশ্বে ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো গত এক বছরে সরকারি ঋণের সুদ বাবদ ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।   এই ব্যয় বিশ্বের সামরিক খাতে মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি। সামরিক খাতে বিশ্বে ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যয় ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের বেশি অর্থ ব্যয় হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবসরকালীন ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যায়। সুদের অর্থ জোগাতে সরকারকে কর বাড়াতে কিংবা বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে হতে পারে।   ইউরোপে বাড়ছে ঋণের চাপ   ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনসংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থের ঘাটতি নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। কিছু জায়গায় সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।   ফ্রান্সে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত শনিবার দেশজুড়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে।   বিক্ষোভের মধ্যেই দেশটির সরকারি ঋণ ও সুদের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ১০ বছর মেয়াদি ঋণের বিপরীতে ফ্রান্সকে প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। জার্মানির ক্ষেত্রে এই হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। ঋণের সুদের এই ব্যবধান থেকে বোঝা যায়, ফ্রান্সকে ঋণ দিতে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি মুনাফা চাইছেন।   ইউরোপের ঋণসংকটের সময় ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো দেশকে ঋণের জন্য উচ্চ সুদ দিতে হয়েছিল। সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালকে আর্থিক সহায়তা নিতে হয়েছিল। বর্তমানে ফ্রান্সের ঋণের সুদের হার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরোপে শুধু যুক্তরাজ্যের ঋণের সুদের হার ফ্রান্সের চেয়ে বেশি।   ভবিষ্যতে ফ্রান্সের ঋণ আরও বাড়ার আশঙ্কা   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্রান্সের সরকারি ঋণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশটির সরকারি আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হতে পারে।   সরকার সাধারণত অর্থ সংগ্রহের জন্য ঋণপত্র বিক্রি করে। বিনিয়োগকারীরা এসব ঋণপত্র কিনে সরকারকে অর্থ দেন এবং বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে সুদ পান। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সরকার মূল অর্থ ফেরত দেয়।   ঋণপত্রের দাম কমলে সাধারণত এর বিপরীতে সুদের হার বেড়ে যায়। ফলে নতুন করে ঋণ নিতে সরকারকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে শিক্ষা, হাসপাতাল ও সড়কের মতো জরুরি খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি ঋণের সুদের হার বাড়লে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ ও ঋণপত্রভিত্তিক ব্যক্তিগত ধার নেওয়ার খরচও বাড়তে পারে।   বিশ্বজুড়ে ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সেবার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করা।   সূত্র: আল জাজিরা

৫২ মিনিট আগে
জাপানে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে জাতিসংঘ, আবেদন ১ নভেম্বর পর্যন্ত

জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের টোকিও কার্যালয়ে ছয় মাসের ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন এ কর্মসূচিতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা জাতিসংঘের কার্যক্রম, গবেষণা, নীতিনির্ধারণ, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১ নভেম্বর ২০২৬।   জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় পরিচালিত এ কর্মসূচির নাম ‘জুনিয়র ফেলো ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’। জাপানের টোকিওতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান কার্যালয়ে মূলত সরাসরি কাজ করতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দূর থেকে কাজ করার সুযোগও থাকবে। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন কর্মসূচিতে জাপানে এবং জাপানের বাইরে অবস্থানরত—উভয় ধরনের আবেদনকারীকেই বিবেচনা করা হবে।   ইন্টার্নশিপের মেয়াদ ও সুযোগ-সুবিধা   এ কর্মসূচির মেয়াদ প্রায় ছয় মাস বা ২৪ সপ্তাহ। ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এটি চলার কথা রয়েছে। নির্বাচিত ইন্টার্নরা প্রতি মাসে জীবনযাত্রার ব্যয়ের একটি অংশ মেটাতে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে সহায়তার নির্দিষ্ট পরিমাণ দায়িত্ব পালনের স্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।   ইন্টার্নরা সপ্তাহে পাঁচ দিন, সোমবার থেকে শুক্রবার, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কাজ করবেন। প্রতি মাসে দেড় দিন ছুটির সুযোগ থাকবে। সরাসরি কর্মস্থলে কাজ করলে প্রয়োজনীয় অফিসের জায়গা ও সুবিধা দেওয়া হবে। দূর থেকে কাজের ক্ষেত্রে নিজের কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।   এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও ব্যায়ামাগারের সুবিধা বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। বিভিন্ন সম্মেলন, বক্তৃতা, কর্মশালা ও শিক্ষাবিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজনেও অংশ নিতে পারবেন ইন্টার্নরা।   কী ধরনের কাজ করতে হবে   নির্বাচিত জুনিয়র ফেলোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে—   গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে সহায়তার জন্য প্রতিবেদন এবং তথ্যসংবলিত নথি তৈরি। প্রকল্প পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার কাজে সহায়তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ। সম্মেলন, বক্তৃতা, কর্মশালা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন। সভার কার্যবিবরণী তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়। প্রতিবেদন সম্পাদনা, প্রুফ দেখা ও লেখার মান উন্নত করা। সংবাদপত্রিকা, অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ ও অন্যান্য যোগাযোগসামগ্রী তৈরি। কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো তরুণ গবেষক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানো, জাতিসংঘের কাজ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন গড়তে আগ্রহীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা।   আবেদনের যোগ্যতা   আবেদনকারীকে স্নাতকোত্তর বা ডক্টরাল পর্যায়ে অধ্যয়নরত হতে হবে অথবা আবেদনের আগের দুই বছরের মধ্যে এ পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে পড়াশোনা করা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন।   এছাড়া আবেদনকারীর বয়স আবেদনের সময় ৩২ বছর বা তার কম হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা যাবে না।   প্রার্থীদের ইংরেজিতে লেখা ও কথা বলায় দক্ষতা, গবেষণা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ভালো লেখার দক্ষতা, কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শিতা এবং বিভিন্ন পটভূমির মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। জাতিসংঘ ও জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের প্রতি আগ্রহও থাকতে হবে। উন্নয়নশীল দেশের আবেদনকারী ও নারীদের আবেদন করতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।   যেসব কাগজপত্র লাগবে   আবেদনের সময় ইংরেজিতে হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, এক পৃষ্ঠার মধ্যে ইংরেজিতে আবেদনপত্র, নির্ধারিত আবেদন ফরম এবং অর্থায়নসংক্রান্ত ফরম জমা দিতে হবে। জীবনবৃত্তান্ত সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার হতে পারবে।   এছাড়া দুজন সুপারিশকারীর সুপারিশপত্র প্রয়োজন হবে। তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানা অধ্যাপক হতে হবে। সুপারিশপত্র আবেদনকারীর নিজের জমা দেওয়া যাবে না; সুপারিশকারীদের নিজ নিজ প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল ঠিকানা থেকে ro_internship@unu.edu ঠিকানায় পাঠাতে হবে।   যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় এবং যারা ইংরেজি মাধ্যমে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা করেননি বা ইংরেজি মাধ্যমে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত নন, তাদের বৈধ ইংরেজি দক্ষতার সনদ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোয়েফল বা টোয়েক পরীক্ষার ফল গ্রহণযোগ্য।   আবেদনের শেষ সময় ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া   আবেদনের শেষ সময় ১ নভেম্বর ২০২৬, জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন গ্রহণ করা হবে না।   নির্বাচনপ্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মূল্যায়ন করা হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে টেলিফোন বা ভিডিও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে। তৃতীয় ধাপে ইন্টার্নশিপের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সময়সীমাবদ্ধ লিখিত বা ব্যবহারিক কাজ দেওয়া হবে, যা শেষ করতে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা লাগতে পারে।   আগ্রহী প্রার্থীরা জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা ও আবেদন লিংক দেখে আবেদন করতে পারবেন। এ কর্মসূচির জন্য কোনো আবেদন বা নিয়োগ ফি নেওয়া হয় না।   আবেদন করতে ও বিস্তারির বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।   সূত্র: ইউএনইউ

৫৬ মিনিট আগে
পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যারা নিজেদের সব খাবার নিজেরাই উৎপাদন করে

গায়ানা! দক্ষিণ আমেরিকার ছোট্ট এই দেশটির নাম হয়তো অনেকেই শোনোনি। তবে জানলে অবাক হবে, পৃথিবীর বুকে এটিই একমাত্র দেশ, যারা নিজেদের প্রয়োজনীয় সব খাবার নিজেরাই উৎপাদন করে!   সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় ১৮৬টি দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়। সেই গবেষণার ফলাফলেই দেখা যায়, ৭টি প্রধান খাদ্যগোষ্ঠীর সব কটিতেই কেবল গায়ানা নিজস্ব উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।   এই সাতটি প্রধান খাদ্য হলো ফলমূল, শাকসবজি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, মাছ, মাংস, ডাল-বাদাম-বীজ এবং শর্করা বা শ্বেতসারজাতীয় প্রধান খাদ্য (যেমন: চাল, আলু ইত্যাদি)।   এখন মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কেন কেবল গায়ানাই নিজেদের সব খাবার নিজেরা উৎপাদন করতে পারে? এর পেছনে কয়েকটি দারুণ কারণ রয়েছে। গায়ানা নিরক্ষরেখার খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সেখানে সারা বছরই বেশ উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে। পাশাপাশি প্রচুর বৃষ্টিপাতও হয়। এখানকার মাটিও অত্যন্ত উর্বর। এমন চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে গায়ানায় খুব সহজেই নানা জাতের ফসল ফলানো যায়।   গায়ানার কৃষকেরা অনেক সময় একই জমিতে একসঙ্গে একাধিক ফসলের চাষ করেন। একে বলা হয় মিশ্র চাষ। যেমন নারকেলবাগানের ফাঁকে ফাঁকে হয়তো আনারস বা টমেটোর চাষ হচ্ছে। আবার ভুট্টার সঙ্গে একই জমিতে বোনা হচ্ছে সয়াবিন। এতে যেমন জমির উর্বরতা বাড়ে, তেমনি ফসলের উৎপাদনও বহুগুণ বেড়ে যায়।   দেশটি এমন এক বিশেষ কৃষিপদ্ধতি ব্যবহার করে, যেখানে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা বজায় থাকে। সেখানে পশুপালন ও ফসল চাষ একই সঙ্গে করা হয়, যার ফলে মাটি ক্ষয়ও কম হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই পদ্ধতিকে বলা হয় রিজেনারেটিভ অ্যাগ্রিকালচার বা পুনরুৎপাদনশীল কৃষি। বাংলাদেশও গায়ানার এই পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজেদের কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।   গায়ানার মোট জনসংখ্যা মাত্র ৮ লাখের কাছাকাছি! পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। ফলে দেশটির নিজেদের সীমিত খাদ্য উৎপাদন দিয়েই খুব সহজে পুরো জনসংখ্যার চাহিদা মিটিয়ে ফেলা যায়।   বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ কেন নিজেদের সব খাবার উৎপাদন করতে পারে না   পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশই নিজেদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের খাবার নিজেরা উৎপাদন করতে পারে না। এর পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।   প্রথমত, পৃথিবীর সব দেশের জলবায়ু বা মাটি এক রকম নয়। কিছু দেশে যেমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, কোথাও আবার প্রচণ্ড শুষ্ক বা রুক্ষ মরুভূমি। তাই চাইলেও সব দেশে সব ধরনের ফল, সবজি বা শস্যের উৎপাদন সম্ভব হয় না।   দ্বিতীয়ত, অনেক দেশেরই আয়তনের তুলনায় চাষযোগ্য কৃষিজমি অনেক কম। তার ওপর নতুন নতুন শহর, শিল্পকারখানা ও বড় বড় অবকাঠামো গড়ে ওঠার কারণে আবাদি জমি দিন দিন আরও কমে যাচ্ছে। ফলে একটি দেশের পক্ষে নিজেদের সব খাদ্য নিজ দেশে উৎপাদন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।   তৃতীয়ত, অনেক দেশের জনসংখ্যা এতই বেশি যে, তাদের মোট খাদ্য উৎপাদন দিয়ে সেই বিপুল জনগোষ্ঠীর পেট ভরে না। তখন দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়েই অন্য দেশ থেকে খাবার আমদানি করতে হয়। \ চতুর্থত, কিছু দেশ আবার বিশেষ কোনো ফসল উৎপাদনে বেশ দক্ষ হয়। তখন তারা সেই নির্দিষ্ট ফসলটি বেশি পরিমাণে উৎপাদন করে অন্য দেশে রপ্তানি করে এবং তার বদলে নিজেদের প্রয়োজনীয় অন্য খাবারগুলো বিদেশ থেকে কিনে আনে। কারণ, ওই খাবারগুলো নিজেদের দেশে উৎপাদন করতে যে পরিমাণ খরচ পড়বে, অন্য দেশ থেকে আমদানি করলে তার চেয়ে অনেক কম খরচে পাওয়া যায়। এটি মূলত আধুনিক বৈশ্বিক বাণিজ্যেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   সূত্র: সায়েন্স ফোকাস

১ ঘন্টা আগে
রাষ্ট্রপতির সামনেই পদক বিতরণে বিশৃঙ্খলা, সমালোচনার মুখে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও শৃঙ্খলা রাখতে পারলো না বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের পদক দিতে গিয়ে পদকমঞ্চের সামনে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় রাষ্ট্রপতিকে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। আয়োজকদের এমন অব্যবস্থাপনা ছিল দৃষ্টিকটু।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি। পরে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষ ও নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। এই দুই ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেন তিনি।   পুরুষদের ১০০ মিটারের পুরস্কার বিতরণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও নারীদের ইভেন্টে গিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। ১০০ মিটারে স্বর্ণজয়ী শিরিন আক্তার পদকমঞ্চে উঠে দাঁড়ালেও তখনো উপস্থিত হননি রৌপ্য ও ব্রোঞ্জজয়ী দুই অ্যাথলেট। মাইকে বারবার তাদের ডাকা হচ্ছিল। এদিকে, রাষ্ট্রপতি ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।   একপর্যায়ে দৌড়ে এসে পদকমঞ্চে ওঠেন রৌপ্যজয়ী শরীফা খাতুন। রাষ্ট্রপতির সামনে পুরস্কার নিতে তার এভাবে ছুটে আসার দৃশ্যটি ছিল বিব্রতকর। তবে ব্রোঞ্জজয়ী সুমাইয়া দেওয়ান শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হননি। দৌড় শেষ করার সময় তিনি ট্র্যাকে পড়ে গিয়েছিলেন। চোটের কারণে তার পক্ষে পুরস্কার বিতরণীতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।   রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ অতিথির উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফেডারেশনের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে। বিজয়ীদের সময়মতো পদকমঞ্চে উপস্থিত রাখা আয়োজকদের দায়িত্ব হলেও এক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাপনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপনকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মনজুর মোর্শেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি খুব খারাপ হয়েছে। আসলে তৃতীয় হওয়া সুমাইয়া ব্যথা পাওয়ায় আসতে পারেননি।’   তাহলে রৌপ্যজয়ী শরীফা খাতুন কেন সময়মতো পদকমঞ্চে উপস্থিত হতে পারেননি? এমন প্রশ্নের জবাবে মনজুর মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। ওই অ্যাথলেটের সংস্থার কাছে আমরা জানতে চাইবো, কেন এমন হলো।’   শুধু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠেনি। প্রতিযোগিতা কাভার করতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। দুই দিন আগে প্রেসকার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অনেককে কার্ড দিতে পারেনি ফেডারেশন। ফলে প্রতিযোগিতা কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
সংগৃহীত ছবি
জাতীয়
এনআইডি সংশোধনে বড় অগ্রগতি, নিষ্পত্তি ৬৪ লাখের বেশি আবেদন

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।   তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।   ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ-এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা।   ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০ হাজার আবেদন ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। এছাড়া ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ আবেদন রয়েছে ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি।   অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।   এছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।   এই পরিসংখ্যান বলছে, অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা, কমানো হয়েছে প্রশাসনিক ধাপ এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।   ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা। এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।   তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদনগুলো সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।   ইসি সচিবের ভাষ্য, সংশোধন আবেদনের মধ্যে এমন অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আর নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। এসব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।   জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নজরদারি এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।   সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।   গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।   অযোগ্য আবেদন বাতিল, বয়সের অসংগতিতে কঠোর যাচাই এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি।   সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে।   তিনি আরও জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।   জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান, আসছে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তভদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।   তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।   ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।   এদিকে, সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।   নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা-অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল বিস্তীর্ণ অঞ্চল

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রাথমিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ তথ্যে এ ঘটনা জানানো হয়। তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা কিংবা সুনামির আশঙ্কা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভানুয়াতুর সোলা শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।   অন্য একটি প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল পোর্ট-ওলরি শহর থেকে প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হিসাবেও ভূমিকম্পটির গভীরতা ১০ কিলোমিটার। দুটি হিসাবই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একই অঞ্চলে অগভীর ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এগুলো একই ভূমিকম্পের প্রাথমিক হিসাব, নাকি দুটি পৃথক ভূমিকম্পের ঘটনা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ভূমিকম্পের পর ভানুয়াতুতে কোনো প্রাণহানি হয়েছে কি না, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না কিংবা যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   একইভাবে, সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়।   উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের ভানুয়াতু কর্তৃপক্ষ এবং স্বীকৃত সুনামি সতর্কতা সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি
রাজধানীর যানজট কমাতে চার পদক্ষেপ সরকারের

রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে চারটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন।   সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাসমালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব উদ্যোগের বিষয়ে জানা গেছে।   সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। পুরোনো বাস অপসারণ, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ— সব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’   হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।’   সংশ্লিষ্টদের মতে, চারটি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। উদ্যোগগুলোর সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা, বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।   রাজধানীর যানজট নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে কাটাতে হয়। এতে উৎপাদনশীলতা কমে এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করে ঢাকার যানজটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠাও জরুরি।   রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনের কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে গণপরিবহনের মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ফলে গণপরিবহনের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। বিকল্প বাসের ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে। চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। নতুন বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলে সেগুলোর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশগত সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তজেলা বাসের প্রবেশ ও বহির্গমন নগর চলাচলে প্রভাব ফেলে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর বা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কে বাসের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   নতুন টার্মিনালের অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীদের যাতায়াতের সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলেও সেখান থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পর্যাপ্ত বাস, মেট্রোরেল বা অন্যান্য পরিবহনসংযোগ না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।   আন্তজেলা বাসের যাত্রা শুরু ও শেষের স্থান এবং মহানগরীর অভ্যন্তরীণ বাস চলাচলের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হওয়ার নির্দিষ্ট পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, বাসের অপেক্ষমাণ জায়গা এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা গেলে আশপাশের সড়কে চাপ কমানো সম্ভব।   রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের উদ্যোগও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সংস্কারের আওতায় কোন কোন রুট রয়েছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।   রুট সংস্কার শুধু সড়কের উপরিতল মেরামতের বিষয় নয়। বাস চলাচলের পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, স্টপেজের অবস্থান, সংযোগকারী সড়ক এবং যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   ঢাকার বিভিন্ন সড়কে একই পথে একাধিক বাস কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তোলার জন্য হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কিছু এলাকায় যাত্রীর তুলনায় বাসের সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রুট সংস্কারের পরিকল্পনায় এসব সমস্যা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।   যাত্রী চলাচলের তথ্য, কর্মব্যস্ত সময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অবস্থান এবং মেট্রোরেলসহ অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। বাসের সময়সূচি, যাত্রীর অপেক্ষার সময় এবং রুটভিত্তিক পরিবহন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।   রুট পরিবর্তনের ফলে কোনো এলাকার যাত্রী যেন সরাসরি পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প রুট ও সংযোগকারী বাস চালু করা গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।   রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচল, যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে।   নতুন নীতিমালায় যানবাহনের নিবন্ধন ও পরিচিতি, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত চলাচল এলাকা, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোন সড়কে কোন ধরনের যান চলাচল করবে, তা সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।   বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা, নির্ধারিত স্ট্যান্ড এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ছাড়া শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।   সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বাসসকে বলেন, ‘পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।’   মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহনমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোন সংস্থা কী কাজ করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।   পরিবহন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বাসের ফিটনেস পরীক্ষা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজ কার্যকর করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার, গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা এবং পরিবহনের নিয়মিত চলাচলকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরের সাবমেরিন ক্যাবলে আঘাত হানবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন এলে পারস্য উপসাগরের সমুদ্রগর্ভস্থ যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ক্যাবলে (সাবমেরিন ক্যাবল) বড় ধরনের হামলার ছক কষেছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কিংবা সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইরানের মূল নিশানায় পরিণত হবে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা খুব বেশি বিস্তারিত তথ্য দেননি এবং তেহরান কীভাবে বা ঠিক কোথায় এ ধরনের হামলা চালাবে তা বলেননি। তবে তাদের একজন জানান, হামলার পর মেরামত কাজ ব্যাহত করাই হবে ইরানের লক্ষ্য, যাতে ইন্টারনেট সংযোগসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করা যায়।   ওই কর্মকর্তাদের একজন বলেন, 'ইরানে হামলা চালানো হলে আর কোনো লাল রেখা (রেড লাইন) থাকবে না... সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবল থেকে শুরু করে গোপন ঘাঁটিসমেত সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত।'   ওয়াশিংটনকে 'আগুন নিয়ে খেলা' না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলগুলোতে ইরানের সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং তারা সহজেই এগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম।   ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি বুধবার জানান, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা সাতটি প্রধান ইন্টারনেট ক্যাবল লক্ষ্যবস্তু করতে পারে ইরান।   জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মতে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তবে টেলিযোগাযোগ গবেষণা সংস্থা টেলিজিওগ্রাফির গবেষণা পরিচালক অ্যালান মল্ডিন জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের মাত্র ১ শতাংশেরও কম চলাচল করায় ইরানের এমন হামলার বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।   হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানকে পৃথক করেছে এবং পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এই বক্তব্যের বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলে সম্ভাব্য হামলার এই পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায় যে, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এই বিশ্বাস কাজ করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযানের জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে দিতে হবে। শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই চলতি মাসে সতর্ক করে বলেছিলেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণাগারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল অবকাঠামোকে নিশানা করা হতে পারে। ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্ররা এ ধরনের অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে এবং তাদের 'সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলের যেকোনো ক্ষতির জন্য তেহরানকে নয়, ওয়াশিংটনকে দায়ী করা উচিত' বলে মন্তব্য করেন ইরানের দ্বিতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা বলেন, নতুন সংঘাত ঠেকানো এবং এই অঞ্চলে উপসাগরীয় সরকার ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ার ভীতি তৈরি করে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এসব হুমকির মূল উদ্দেশ্য। ভাতানকা বলেন, 'তেহরান চায় উপসাগরীয় দেশগুলো ও করপোরেট নির্বাহীরা যেন (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড) ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন, যাতে তাঁর নীতি তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় যে ঝুঁকি তৈরি করছে তা তুলে ধরা যায়।' বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক ক্যাবল কেটে দেওয়া হলে ইন্টারনেট সেবা ধীরগতির হতে পারে এবং আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং বিঘ্নিত হতে পারে। মল্ডিন জানান, এর প্রভাব নির্ভর করবে অপারেটররা কীভাবে ইন্টারনেট ট্রাফিক বিকল্প পথে ঘুরিয়ে নেয় এবং বিকল্প সংযোগে কতটা ধারণক্ষমতা রয়েছে তার ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে সংযোগ পুনরুদ্ধার করা কঠিন হতে পারে; এছাড়া বর্ধিত বীমা খরচ এবং জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি পেতে বিলম্ব মেরামত কাজকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হরমুজ প্রণালির তুলনায় লোহিত সাগর আরও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, বিশেষ করে যদি ইরানের সাথে ইয়েমেনের মিত্র হুথিদের সমর্থন থাকে। যদিও তেহরান সেখানে ক্যাবল লক্ষ্যবস্তু করার কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়নি। মল্ডিন জানান, ইউরোপ, পূর্ব আফ্রিকা এবং এশিয়ার মধ্যে ডেটা বহন করে লোহিত সাগর; যার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক চাহিদার প্রায় ৩ শতাংশ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী ট্রাফিকের প্রায় ১০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় সরকারগুলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক হাব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রযুক্তিতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে, যা মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করেছে। গত মার্চে ইরানের হামলায় সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছিল এবং বাহরাইনে এর একটি স্থাপনার সংলগ্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মার্চে যুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় আইআরজিসি মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল এবং এনভিডিয়াসহ মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছিল। স্থলভিত্তিক সংযোগগুলো ইন্টারনেট ট্রাফিকের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে; ফলে সক্ষমতা বাড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলো ও মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে। মাইক্রোসফটের পরিকল্পনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সমুদ্রগর্ভস্থ ও স্থলভিত্তিক সংযোগে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করার।

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অক্টোবরই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের ক্ষেত্রে চলতি অক্টোবর মাসটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ মাস হিসেবে গণ্য হয়েছে।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ‌‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি’-এর সংকলিত তথ্যে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য এই অক্টোবর ছিল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক মাস।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ২৮টি জাহাজে নিশ্চিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে মোট আক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩টি।   এই পরিসংখ্যানটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, সংঘাত শুরুর পর থেকে মোট ১২০টি আক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি।   তবে ‘যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩৫টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, অনেক আক্রমণের তথ্য প্রতিবেদনে প্রতিফলিত না-ও হতে পারে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   আইএমও’র তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের ৯০০টিরও বেশি সুপারট্যাঙ্কার বহরের প্রায় ৩.৫ শতাংশ জাহাজ এই আক্রমণের শিকার হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।   সূত্র: আর-জাজিরা।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অরুণাচল সীমান্তে এখনও মুখোমুখি ভারত-চীন, স্বীকার করল আইটিবিপি
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তজুড়ে চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ভারত। ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি)-এর মহাপরিচালক শত্রুজীত কাপুর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে একাধিক স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।   রাজস্থানের আলোয়ারে আইটিবিপির সেন্ট্রাল ট্রেনিং কলেজে আয়োজিত বার্ষিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ‘হিমবীর সম্মান সমারোহ’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় কাপুর জানান, আইটিবিপির কমান্ডোরা বর্তমানে এই সীমান্ত উত্তেজনার মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।   তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে অরুণাচলের বেশ কয়েকটি স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আমাদের সদ্য গঠিত ‘শৌর্য’ কমান্ডোরা এতে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করেছেন।   মহাপরিচালক কাপুর আরও জানান, আইটিবিপি মূলত পাহাড়ি গেরিলা বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছিল এবং ২০০৪ সালে এদের চীন সীমান্তে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাহিনীটি তাদের মূল ভূমিকা থেকে সরে আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বাইরে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য বিশেষায়িত একটি ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। শিগগিরই ‘শৌর্য’ কমান্ডোদের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় মোতায়েনই এই বাহিনীর শক্তি।   চীন সীমান্তে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে ভারত আইটিবিপি প্রধান জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তে যতগুলো উপরিভাগের বা ওভারগ্রাউন্ড অবকাঠামো রয়েছে, ঠিক ততসংখ্যক ভূগর্ভস্থ বা আন্ডারগ্রাউন্ড আশ্রয়কেন্দ্র বা শেল্টার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটির ওপরের যেকোনও স্থাপনাই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাই ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে প্রতিটি কোম্পানিতে পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো পর্যাপ্ত বাথরুম, বায়ু চলাচল ও ড্রেনেজ সুবিধাসহ সুবিধাজনক স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি করা। নকশা চূড়ান্ত হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি বর্ডার আউটপোস্টে সমসংখ্যক ভূগর্ভস্থ ও মাটির ওপরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।   তাকসিংয়ের কাছে চীনের তাঁবু? সরকারি সূত্রের বরাতে ভারতের বার্তা সংস্থা দ্য হিন্দু জানিয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের ‘মাজা কোম্পানি অপারেটিং বেস’-এর কাছে ‘আসাফিলা’ এলাকায় ভারত ও চীন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) নিয়ে ভারতের ধারণার ৬ থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে একটি উচ্চতায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাঁবু খাটিয়েছে বলে জানা গেছে।   প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই মাসে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় মাজার কাছে ভারত ও চীনের সেনারা মুখোমুখি হন। সংক্ষিপ্ত তর্কের পর উভয় পক্ষই পিছু হটলেও কয়েক দিন পর চীন বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়ে ফিরে আসে এবং তাঁবু স্থাপন করে। এর জবাবে ভারতও সেখানে তাদের সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি করেছে।   কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও এই সীমান্ত অচলাবস্থা বজায় রয়েছে। গত ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এছাড়া গত জুলাই থেকে দুই দেশের মধ্যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ আগস্ট ৩৬তম ডব্লিউএমসিসি বৈঠক, ২৬ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের উপস্থিতিতে ২৫তম বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠক এবং ৬ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের বাচা-দামাই পয়েন্টে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন সেক্টরের কর্পস কমান্ডার স্তরের বৈঠক। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে এ ধরনের বৈঠকগুলো প্রধানত পূর্ব লাদাখের চুসুল-মোলদো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিলো।    সূত্র: উইয়ন নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
৭৫ বছরে একবারও কর্মী ছাঁটাই করেনি যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের একটি প্রতিষ্ঠান ৭৫ বছর ধরে কোনো কর্মী ছাঁটাই না করার রেকর্ড গড়েছে। এ সাফল্যের পেছনে শুধু কর্মীবান্ধব সংস্কৃতি নয়, রয়েছে ব্যয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনাও।   ১৯৫১ সালে একজন মিষ্টি বিক্রেতা এড গান্ড ‘দ্য গান্ড’ নামের প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে সেখানে কোনো কর্মী ছাঁটাই করা হয়নি। বর্তমানে কম্পোজিট উপকরণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন ১ হাজার ৩০০ কর্মী। বিক্রি প্রায় ৪০ কোটি ডলারের কাছাকাছি এবং গত এক দশকে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ১৮ শতাংশ।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে গান্ডকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা অন্য পারিবারিক ব্যবসার মালিকদের কাছে ব্যবস্থাপনার এক উন্মুক্ত পাঠ্যবই হয়ে উঠেছে।   দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্মী ১ হাজার ৩০০ জন, বিক্রি প্রায় ৪০ কোটি ডলার। গত এক দশকে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ১৮ শতাংশ। একই সময়ে মুনাফার হার দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টিভ গান্ড।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) ও রকওয়েল অটোমেশন প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বায়ুকল থেকে শুরু করে শহরতলির সড়কের পাশে থাকা সবুজ রঙের ট্রান্সফরমার বাক্স পর্যন্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গান্ডের তৈরি ইনসুলেশন ও কম্পোজিট যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়।   দ্য ওয়াল স্ট্রিট উল্লেখ করে, কারখানায় নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা গড়ে বছরে ৫৫ হাজার থেকে ৬৫ হাজার ডলার বেতন পান। এর সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক ও মুনাফার অংশ যুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পেশাগত ধাপের বেতনসীমা অভ্যন্তরীণভাবে প্রকাশ করা হয়।   প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মধ্যে বছরে ১০ শতাংশেরও কম চাকরি ছাড়েন। তাদের অধিকাংশই চাকরির প্রথম বছরে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ১২ ধাপের একটি পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনব্যবস্থা। তত্ত্বাবধায়কেরা কারখানার বিভিন্ন অংশে ঘুরে কর্মীদের কাছে জানতে চান, কোন কাজ ভালো হচ্ছে এবং কোথায় সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলো লাল কার্ডে তুলে ধরা হয়। সমাধানের কাজ শুরু হলে কার্ডের রং লাল থেকে হলুদ করা হয়।   ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে স্টিভ গান্ড ও তার ভাই রিচ পূর্ণকালীনভাবে পারিবারিক এই ব্যবসায় যুক্ত হন। তখন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ ডলার এবং কর্মী ছিলেন ২০ জন। তাদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ছিলেন ৯ জন। সে সময় কর্মীপ্রতি আয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।   কর্মী ছাঁটাই না করার নীতিটি তাদের বাবা পলের কাছ থেকে এসেছে। তাদের মতে, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে সেটি নেতৃত্বের ব্যর্থতা।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্য গান্ডের পরিকল্পনা হলো কর্মী ছাঁটাই না করার নীতি অক্ষুণ্ন রেখে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কারখানাগুলোতেও কর্মীদের মালিকানা নিশ্চিত করা।   তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম তীরের হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে ইসরায়েলি বাহিনী
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

দখলকৃত পশ্চিম তীরের একটি চেকপয়েন্টে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওই এলাকার একটি আবাসিক এলাকার ভবনগুলো ধ্বংস করা এবং বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল।    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এই প্রথম ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যিনি নিজেকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একজন কট্টরপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণের মাত্র চারদিন আগে এ হামলার ঘটনা ঘটলো।   হামলার পর ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস-আইডিএফ জানায় তারা হেবরন শহরটিকে ’সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ’ করছে এবং নেতানিয়াহু শুক্রবার থেকে পুরো পশ্চিম তীর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহু তাঁর এই সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসে জানান, তিনি হেবরন এবং হালহুল শহরের চারপাশে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির কথা বিবেচনা করছেন, যা প্রয়োজনে অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারিত হতে পারে। নেতানিয়াহু আরও বলেন, সামরিক বাহিনী হামলার এলাকা থেকে জোরপূর্বক বাসিন্দাদের সরিয়ে দেবে এবং এলাকাটিকে পুরোপুরি বদলে ফেলবে। ২০২৫ সালের শুরুতে জেনিন, তুলকার্ম, নুর শামস এবং আল-ফারআ শরণার্থী শিবিরে একই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল; যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত এবং পুরো একটি এলাকা খালি হয়ে গিয়েছিল।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং ইসরায়েলি সিকিউরিটি এজেন্সি-আইএসএ এক যৌথ ঘোষণায় জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হেবরন এলাকায় কয়েকদিন ব্যাপী একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ’সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও অস্ত্র খুঁজে বের করতে এবং তা ধ্বংস করতে বাহিনীগুলো পুরো এলাকা জুড়ে নিখুঁত, লক্ষ্যভিত্তিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো শুরু করেছে।’ বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, এই অভিযানটি শুধুমাত্র সেই এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যেখান থেকে বন্দুকধারীরা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।   আইডিএফ এবং আইএসএ জানিয়েছে যে, ওই এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দারা তিনটি নির্দিষ্ট এক্সিট পয়েন্ট দিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। যাঁদের আচরণ বা পরিচয় সন্দেহজনক মনে হবে, তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।   সামরিক বাহিনী এবং আইএসএ আরও যোগ করেছে যে, এই অভিযানটি সকাল থেকে শুরু হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপগুলোরই একটি ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে রয়েছে-সন্ত্রাসীদের বাসভবনগুলোর মানচিত্র তৈরি, হেবরন ও হালহুল এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী আরোপ, রোডব্লক স্থাপন এবং পুরো সেক্টরে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে ওই এলাকার এমন সব স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে।   ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা 'বি'তসেলেম' হেবরনের আবাসিক এলাকা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, ’ইসরায়েল তাদের পরবর্তী অপরাধের কথা আগেভাগেই ঘোষণা করছে। নেতানিয়াহু এবং কাটজ হেবরনের একটি ফিলিস্তিনি আবাসিক এলাকা খালি করার এবং পশ্চিম তীরের উত্তরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে যে গণ-বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, এখানেও তার পুনরাবৃত্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’   শুক্রবার বিকালের মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে। সিএনএন-এর প্রাপ্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ইসরায়েলি সেনা একটি আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের বলছেন, ’আপনাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট সময় আছে।’   নেতানিয়াহু বলেন, ’হেবরনের যে পাড়া থেকে সন্ত্রাসীরা এসেছিল, ঠিক এই কাজটিই আমরা সেখানে করব। আমরা বাসিন্দাদের সরিয়ে দেব, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করব, সেখানে পাওয়া সব অস্ত্র সরিয়ে নেব এবং সমস্ত সন্ত্রাসী অবকাঠামো চিহ্নিত করে ধ্বংস করব।’   এই হামলার সাথে জড়িত থাকতে পারে এমন অন্য কারও সন্ধানে বাহিনীটি পুরো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। আইডিএফ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালেই দুই বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।   ঘটনাস্থলের ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে বেশ কয়েক মিনিট ধরে তীব্র গোলাগুলি চলছে। রয়টার্সের একটি ভিডিওতে একজন ইসরায়েলি উদ্ধারকারীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে, গোলাগুলি অন্তত ২০ মিনিট ধরে চলছে এবং তারা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।   আইডিএফ জানিয়েছে, তারা হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে, যা প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদে ভর্তি ছিল। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেন, ’এটি একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ছিল। যোদ্ধাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’   তিনি জানান, গাড়িতে থাকা গোলাবারুদগুলো আরও বড় পরিসরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। জামির আরও বলেন, আইডিএফ সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান বাড়াবে এবং এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করবে। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ’আমরা হামাস সন্ত্রাসী এবং যারা তাদের পাঠিয়েছে, তাদের যেখানেই হোক এবং সব সময় তাড়া করব।’ তবে হামাস এই হামলার প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও এর দায় স্বীকার করেনি।   সূত্র: সিএনএন

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নিহত ১,৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক বছরেরও বেশি সময় আগে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ১৪০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।   শনিবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।    সংস্থাটি জানিয়েছে, ধারাবাহিক এই হামলার পাশাপাশি অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীরতর রূপ নিচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি জানায়, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। বর্তমানে অঞ্চলটির প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয়ের প্রয়োজন। গাজার কোনো হাসপাতালেই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু নেই এবং প্রায় ১৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের (সংকট-মাত্রার ক্ষুধা) চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন।   তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জোর দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, ‘ইসরায়েলি অপরাধের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যেতে দেওয়া যাবে না।’   অ্যামনেস্টি স্পষ্ট করে জানায়, গাজার ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার এবং ভুক্তভোগীদের মৌলিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করেই হতে হবে।   বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করে বলা হয়, বিশ্বনেতারা ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত ও আদেশ মেনে চলতে তারা দেশটির ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি।   মানবাধিকার সংস্থাটি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিশ্বের এই নিরবচ্ছিন্ন নীরবতা ও দায়হীনতার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ওপর আরও নৃশংসতা চালাতে ইন্ধন পাচ্ছে।   সূত্র: আল-জাজিরা।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

শিক্ষা
স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ