জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল ২০০ ডলার হওয়ার ‘সম্ভাবনা কম’ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। ইরানে হামলা বাড়তে থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানি এক কর্মকর্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বৃহস্পতিবার ক্রিস রাইট বলেন, ‘এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আমরা এখন সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং এই সমস্যার সমাধানের দিকেই বেশি মনোযোগী।’ গত বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেছিলেন, যুদ্ধ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বৃহস্পতিবার আরেক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ক্রিস রাইট। তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পারাপারে পাহারা (এসকর্ট) দিতে পারছে না। তবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ তেমনটি হওয়ার ‘বেশ সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা না থামালে জ্বালানি পরিবহনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতে করে বিশ্বে ইতিমধ্যে অস্থিতিশীল থাকা জ্বালানি তেলের বাজার ও শেয়ারবাজার আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেপালের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর মধ্যপন্থী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) পার্লামেন্টে মোট ১৮২টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। বালেন্দ্র শাহ চারবারের অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে তার নিজের আসনে পরাজিত করেছেন। ৭৪ বছর বয়সী অলির বিরুদ্ধে এই জয় এবং কাঠমান্ডুর মেয়রের পদ থেকে হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহর এই উত্থান নেপালের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে অন্যতম নাটকীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে গত ৫ মার্চের নির্বাচনে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভা বা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং ১১০টি আসনে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ভোট হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। সরাসরি নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং সমানুপাতিক ভোটে আরও ৫৭টি আসন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে তারা শক্তিশালী 'দুই-তৃতীয়াংশ' সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে মাত্র দুই আসন দূরে রয়েছে। অন্যদিকে, গত পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ৩৮টি আসন। পরাজিত কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন মার্ক্সবাদীরা ২৫টি আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং মাওবাদীরা পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন। কমিশনের মুখপাত্র ভট্টরাই বলেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য আজ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী প্রাণঘাতী যুব বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান ও উপনেতা হিসেবে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত ক্ষেত্রমত দল বা অধিসঙ্গের নেতা শফিকুর রহমানকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২(১)(ট) বিধি ও বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। অন্যদিকে একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১’ অনুযায়ী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাকে স্পিকারের স্বীকৃতি দিতে হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দল জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে উপনেতা নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু স্পিকার না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার নির্বাচন করা হয়। এরপরই তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। যার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) মোট ২৪ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি, ১১ মার্চ ২৭ টি, ১২ মার্চ ২৮ টি এবং ১৩ মার্চ (শুক্রবার) ২৪ ফ্লাইট বাতিল হয়। শুক্রবারের (১৩ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ২টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি, জাজিরা (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টিসহ মোট ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিলকৃত ফ্লাইট সংখ্যা ৪৪৭টি।
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে বাগেরহাটের মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রামপাল থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোংলা পৌরসভার বাসিন্ধা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক দিয়ে দ্রুতগামী নেীবাহিনীর স্টাফবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন মারা যায়। এদিকে নৌবাহিনীর স্টাফবাসের কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী আঞ্জুমান, ভাই সামিউল আলম, তিন ছেলে বর সাব্বির, ইমরান, আলামিন ও শ্যালিকার দুই মেয়ে পুতুল, ঐশী এবং কনে মার্জিয়া মিতু, (২৫) কনের ছোট বোন লামিয়া (১২) কনের নানী (৫৮)। এছাড়া মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখ (৩৬)। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহত দুই জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের লাশ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর তিনজন পুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তার চিকিৎসা চলছে। এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে তিনি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। মির্জা আব্বাসের মিডিয়া টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন, বুধবার ইফতারে পানি খাওয়ার সময়ই হঠাৎ করে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও দলের স্থায়ী কমিটির এ সদস্যের অসুস্থতার খবর জানানো হয়েছে। এদিকে মির্জা আব্বাসকে দেখতে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর কাছে তার শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মহান রবের নিকট মির্জা আব্বাসের আশু আরোগ্য কামনা করেন। জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানার সভাপতি ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। এছাড়া মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস তার স্বামীর (মির্জা আব্বাস) সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে ইরান চীনের স্যাটেলাইটভিত্তিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের সাবেক বৈদেশিক গোয়েন্দা পরিচালক আলাইন জুইলেট চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের স্বাধীন পডকাস্ট টোকসিনকে বলেন, ‘গেল বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা অনেক বেশি নির্ভুল হয়ে উঠেছে। সম্ভবত চীন ইরানকে ‘বেইডু’ স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার প্রবেশাধিকার দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের একটি হলো- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আট মাস আগের যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল। এতে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা ব্যবস্থাকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে।’ ২০০২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের বৈদেশিক নিরাপত্তা মহাপরিচালকের গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জুইলেট। সাবেক এ ফ্রান্সের বৈদেশিক নিরাপত্তা মহাপরিচালকের গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা বাড়ার পেছনে চীনের ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার ব্যবহার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের শীর্ষ নেতাদের নিহত হওয়ার পর ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো এসব ক্ষেপণাস্ত্রের অনেকগুলো প্রতিহত করতে পারলেও কিছু প্রতিরক্ষা ভেদ করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তাদের মালিকানাধীন গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএসের প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে পারে বা সংকেত বিঘ্নিত করতে পারে, যেটির ওপর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী নির্ভর করত। তবে যদি ইরান চীনের ‘বেইডু’ ব্যবহার করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেই সংকেত বাধাগ্রস্ত করা কঠিন। যদিও ইরান এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বেইডু ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট ব্যবস্থা কী চীন ২০২০ সালে তাদের সর্বশেষ স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা চালু করে, যা জিপিএসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়। একই বছরের জুলাই মাসে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এক অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন। ১৯৯৬ সালের তাইওয়ান সংকটের পর চীন নিজস্ব ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেয়। কারণ বেইজিং আশঙ্কা করেছিল, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন জিপিএস ব্যবহারের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে পারে। চীনের সরকারি বেইডু ওয়েবসাইটের ভাষায়, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো বিশ্বকে সেবা দেয়া এবং মানবজাতির উপকার করা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্যান্য ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার তুলনায় বেইডু অনেক বেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। আল জাজিরার তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস ব্যবস্থায় ২৪টি স্যাটেলাইট রয়েছে, আর চীনের ব্যবস্থায় রয়েছে ৪৫টি। বিশ্বের অন্য দুটি বড় ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা হলো রাশিয়ার গ্লোনাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যালিলিও, যেগুলোতেও ২৪টি করে স্যাটেলাইট রয়েছে। বেইডু ব্যবস্থায় তিনটি প্রধান অংশ রয়েছে- মহাকাশ অংশ, স্থল অংশ এবং ব্যবহারকারী অংশ। চীনের বেইডু ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, স্থল অংশে বিভিন্ন ধরনের গ্রাউন্ড স্টেশন রয়েছে, যেমন- প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সময় সমন্বয় ও আপলিংক স্টেশন, পর্যবেক্ষণ স্টেশন এবং আন্তঃস্যাটেলাইট সংযোগ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন অপারেশনাল সুবিধা। ব্যবহারকারী অংশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বেইডু পণ্য, সিস্টেম ও সেবা, যেমন- চিপ, মডিউল, অ্যান্টেনা, টার্মিনাল, অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম এবং অন্যান্য ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি। অন্যান্য স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার মতো বেইডুও স্যাটেলাইট থেকে সময় সংকেত পাঠায়, যা মাটিতে বা যানবাহনে থাকা রিসিভার গ্রহণ করে। একাধিক স্যাটেলাইট থেকে সংকেত পৌঁছাতে কত সময় লাগছে তা মেপে রিসিভার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ণয় করে। বেইডু ব্যবহার কীভাবে লক্ষ্যে নিঁখুত আঘাত করে বেইডু ব্যবস্থার সাহায্যে ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালনা করতে পারে। এতদিন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রধানত জড়গত ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করত। এই ব্যবস্থায় জাইরোস্কোপ ও অ্যাক্সেলরোমিটারের মতো সেন্সরের মাধ্যমে গতি ও ত্বরণ পরিমাপ করে অস্ত্রের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এতে বাইরের সংকেতের ওপর নির্ভরতা কম থাকে। তবে এই ব্যবস্থার একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে—ছোট ছোট পরিমাপগত ত্রুটি সময়ের সঙ্গে জমা হতে থাকে এবং দীর্ঘ দূরত্বে নির্ভুলতা কমে যায়। স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন সেই সমস্যার সমাধান করতে পারে। ব্রাসেলস-ভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, ‘সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র জড়গত ন্যাভিগেশন দিয়ে প্রধান পথ ধরে রাখে, আর স্যাটেলাইট সংকেত ব্যবহার করে পথ সংশোধন করে এবং লক্ষ্যভেদ আরও নির্ভুল করে। এতে নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। একাধিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা একসঙ্গে ব্যবহার করলে সংকেত বিঘ্ন বা জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে।’ তিনি আরও জানান, যদি একটি স্যাটেলাইট ব্যবস্থার সংকেত বন্ধ হয়ে যায়, অন্য ব্যবস্থা তখনও কাজ করতে পারে। তাছাড়া বেশি স্যাটেলাইট থেকে সংকেত পাওয়া গেলে অবস্থান নির্ণয়ের নির্ভুলতাও বাড়ে। বেইডু ব্যবস্থার ত্রুটির সীমা এক মিটারেরও কম হতে পারে। এটি লক্ষ্যবস্তু নড়াচড়া করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পথ সংশোধনও করতে পারে। নেনসিনি বলেন, এটি বেসামরিক জিপিএস সংকেতের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক এনক্রিপ্টেড সংকেত প্রতিপক্ষদের দেয় না। এছাড়া গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল যে পশ্চিমা জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল, বেইডু সেই বাধাও অনেকাংশে এড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালে জিপিএস সংকেত ব্যবহারকারী ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে ভুল স্থানাঙ্ক দেখিয়ে পথভ্রষ্ট করা হয়েছিল। সামরিক বিশ্লেষক প্যাট্রিসিয়া মারিন্স বলেন, ‘বেইডু–৩ ব্যবস্থার সামরিক সংকেত কার্যত জ্যাম করা যায় না। এতে জটিল ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন প্রযুক্তি এবং ন্যাভিগেশন বার্তা যাচাইকরণ ব্যবস্থার ব্যবহার রয়েছে, যা ভুয়া সংকেত বা প্রতারণামূলক স্থানাঙ্ক প্রতিরোধ করে।’ বেইডু ব্যবস্থায় একটি স্বল্প বার্তা যোগাযোগ সুবিধাও রয়েছে, যার মাধ্যমে ২ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যায়। এর ফলে প্রয়োজনে উৎক্ষেপণের পরও লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করা সম্ভব।ৎ ইরান কি সত্যিই বেইডু ব্যবহার করছে ইরান এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তাছাড়া গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর এত অল্প সময়ে সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে অন্য ন্যাভিগেশন ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা সম্ভব কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়। তবে ওই যুদ্ধের পর ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে দেশটি বিশ্বের সব বিদ্যমান সক্ষমতা ব্যবহার করে এবং কোনো একক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না। জুইলেট মনে করেন, চীনের বেইডু ব্যবস্থায় স্থানান্তরই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা বৃদ্ধির বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘জিপিএসের পরিবর্তে চীনা ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা শোনা যাচ্ছে, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা ব্যাখ্যা করে।’ তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, ইরান গত আট মাস নয়, বরং আরও অনেক আগে থেকেই চীনের ন্যাভিগেশন ব্যবস্থাকে সামরিক ব্যবস্থায় যুক্ত করার কাজ শুরু করেছিল। চীন–ইরান সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং চায়নামেড প্রকল্পের গবেষক থিও নেনসিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘২০১৫ সালে ইরান বেইডু–২ ব্যবস্থাকে তাদের সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল জিপিএসের বেসামরিক সংকেতের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল সংকেত ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা উন্নত করা ‘ বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল, কিন্তু ২০২১ সালের মার্চে চীন-ইরান সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটি দ্রুততর হয়। নেনসিনি বলেন, ‘ওই সময় চীন ইরানকে বেইডুর এনক্রিপ্টেড সামরিক সংকেত ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এরপর থেকে ইরানের সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নির্দেশনায় এবং কিছু নিরাপদ যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বেইডু ব্যবহার শুরু করে।’ কিছু বিশ্লেষক আগেই ধারণা দিয়েছিলেন যে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ইসরায়েলের ওপর ইরানের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেইডু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, কারণ সেই হামলার লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। ধারণা করা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান পুরোপুরি বেইডু ব্যবস্থায় রূপান্তর সম্পন্ন করে। সেই সময় জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, এমনকি বেসামরিক বিমান ও জাহাজ চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। নেনসিনি বলেন, ‘ইরানের বেইদৌ ব্যবস্থার দিকে ঝোঁক দীর্ঘদিনের উদ্বেগের প্রতিফলন, যা ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তাদের সচেতনতার প্রমাণ।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানে সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং সংকট সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি জানান, তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি পণ্য ও জ্বালানির সরবরাহ যাতে বাধাহীনভাবে চলতে পারে তা নিশ্চিত করা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। যার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) মোট ২৪ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি, ১১ মার্চ ২৭ টি, ১২ মার্চ ২৮ টি এবং ১৩ মার্চ (শুক্রবার) ২৪ ফ্লাইট বাতিল হয়। শুক্রবারের (১৩ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ২টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি, জাজিরা (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টিসহ মোট ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিলকৃত ফ্লাইট সংখ্যা ৪৪৭টি।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল ২০০ ডলার হওয়ার ‘সম্ভাবনা কম’ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। ইরানে হামলা বাড়তে থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানি এক কর্মকর্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বৃহস্পতিবার ক্রিস রাইট বলেন, ‘এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আমরা এখন সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং এই সমস্যার সমাধানের দিকেই বেশি মনোযোগী।’ গত বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেছিলেন, যুদ্ধ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বৃহস্পতিবার আরেক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ক্রিস রাইট। তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পারাপারে পাহারা (এসকর্ট) দিতে পারছে না। তবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ তেমনটি হওয়ার ‘বেশ সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা না থামালে জ্বালানি পরিবহনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতে করে বিশ্বে ইতিমধ্যে অস্থিতিশীল থাকা জ্বালানি তেলের বাজার ও শেয়ারবাজার আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেপালের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর মধ্যপন্থী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) পার্লামেন্টে মোট ১৮২টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। বালেন্দ্র শাহ চারবারের অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে তার নিজের আসনে পরাজিত করেছেন। ৭৪ বছর বয়সী অলির বিরুদ্ধে এই জয় এবং কাঠমান্ডুর মেয়রের পদ থেকে হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহর এই উত্থান নেপালের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে অন্যতম নাটকীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে গত ৫ মার্চের নির্বাচনে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভা বা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং ১১০টি আসনে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ভোট হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। সরাসরি নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং সমানুপাতিক ভোটে আরও ৫৭টি আসন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে তারা শক্তিশালী 'দুই-তৃতীয়াংশ' সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে মাত্র দুই আসন দূরে রয়েছে। অন্যদিকে, গত পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ৩৮টি আসন। পরাজিত কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন মার্ক্সবাদীরা ২৫টি আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং মাওবাদীরা পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন। কমিশনের মুখপাত্র ভট্টরাই বলেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য আজ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী প্রাণঘাতী যুব বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান “খুবই দৃঢ়” এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন গভীরভাবে নজর রাখছে। বুধবার (১১ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করছে এবং হরমুজ প্রণালীর দিকে বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা হরমুজ প্রণালীর দিকে খুব গভীরভাবে নজর রাখছি। বর্তমানে এটি ভালো অবস্থায় রয়েছে, তবে আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়েও ভাবছি।” মার্কিন-ইরান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান প্রায় পরাজয়ের মুখে রয়েছে। তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র এমন আঘাত হানতে পারে যা দেশটিকে কার্যত অকার্যকর করে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল থেকে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত স্পেন সরকারের সরকারি গেজেটে ইসরায়েলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপাতত তেলআবিবে স্পেনের দূতাবাস পরিচালনা করবেন একজন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে আসছিল স্পেন। এর ফলে মাদ্রিদ ও তেলআবিবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রদূতের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সূত্র: রয়টার্স।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।