সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
চট্টগ্রামে ভিড়ল জ্বালানিবাহী ৩ জাহাজ, পথে আরও ২টি

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে একদিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে তিনটি বড় জাহাজ। এর মধ্যে একটিতে ডিজেল এবং বাকি দুটিতে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানি করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী চার দিনের মধ্যে এলএনজিবাহী আরও দুটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়াত হামিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।   বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনটি জাহাজ বন্দরে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে পিভিটি সোলানা নামে একটি জাহাজ মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। গ্যাস চ্যালেঞ্জার নামে আরেকটি জাহাজ ভারতের ওড়িশা থেকে এলপিজি নিয়ে বেলা ১১টায় পৌঁছায়। মালদ্বীপের মালে বন্দর থেকে এলপিজি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বন্দরে ভিড়েছে পল। এ ছাড়া সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে সেনা ৯ নামে একটি জাহাজ ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে আসে।   বন্দর সচিব জানান, ডিজেলবাহী জাহাজটি বর্তমানে বন্দরের আলফা অ্যাংকরেজে এবং এলপিজি বহনকারী জাহাজগুলো প্যাসেজে অবস্থান করছে।   রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিয়ে আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। প্রাইমা ধর্ম ও চেলসিয়াস গ্যালাপাগোস নামে এলএনজিবাহী এই জাহাজ দুটি ২ ও ৪ এপ্রিল বন্দরে নোঙর করতে পারে।   ৩ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। আমদানি করা জ্বালানির মধ্যে রয়েছে ১১ জাহজ এলপিজি, ৮টি করে এলএনজি ও গ্যাস ডিজেল, হাই সালফার ফুয়েল ৫ জাহাজ, বেস অয়েল ২ জাহাজ, কনডেনসেট ও এমইজি ১ জাহাজ করে।

২ ঘন্টা আগে
নারায়ণগঞ্জে থানা থেকেই পালাল হত্যা মামলার আসামি!

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় করা হত্যা চেষ্টা মামলার এক আসামি থানা হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে এর আগের দিন সোমবার (৩০ মার্চ) আড়াইহাজার থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।   এর আগে, গত ২৩ ও ২৪ মার্চ উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের চরকমলাপুর এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেন।   মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুল্লাহ (৩৭), মাছুম (৩৫), ইয়াহিয়া (৫০), ইয়ানুছ (৪০), ইসমাঈল (৩০), জালাল (২৮), জাকারিয়া (৪৮), ইয়াছিন (২০), হাবিরুল্লাহ (৬০), মাহাবুল্লাহ (৫৫), রোমান (২৬), সবুজ (৩০), জুয়েলসহ (২২) অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ অভিযান চালিয়ে চরকমলাপুর এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে ইসমাঈলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে থানার একটি কক্ষে বসানো হলে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। থানার সিসিটিভি ফুটেজেও এ ঘটনার প্রমাণ রয়েছে বলে তারা জানান।   জানা গেছে, উপপরিদর্শক (এসআই) অজিত কুমার তাকে থানায় নিয়ে আসেন এবং পরে সেকেন্ড অফিসার এসআই জহিরুল ইসলামের কক্ষে বসানো হয়। সেখান থেকেই তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।   তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই অজিত কুমার বলেন, ইসমাঈলকে থানায় ডাকা হয়েছিল। কথা শেষে তিনি চলে যান। পরে থানায় গিয়ে তাকে আর পাওয়া যায়নি। হয়তো পুলিশ দেখে দৌড়ে পালিয়ে গেছে। আমরা অভিযান চালাচ্ছি, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।   অন্যদিকে সেকেন্ড অফিসার এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো আসামির বিষয়ে তিনি অবগত নন।   এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আল মেহেদী বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তবে এখনও স্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।   এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩ ঘন্টা আগে
জেলে থেকেও বন্ধ হয়নি বেতন—উঠছে মাসে মাসে ভাতা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট-বৈরচুনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক রবি রায়। জেলা প্রশাসনের (রাজস্ব) অধীনের এ কর্মচারী তিনটি পৃথক মামলায় দুই বছরের সাজা ভোগ করছেন। গত এক বছর ধরে কারাগারে থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত তুলছেন বেতন-ভাতা।   সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকলে তার চাকরি স্থগিত বা বরখাস্ত হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে তার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। কর্মস্থলে অনুপস্থিত আর সাজা পেয়েও বেতন তোলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   জানা গেছে, গত বছরের ২২ এপ্রিল যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত পৃথক মামলায় রবি রায়কে দুই বছরের সাজা দেন। এখনো কারাভোগ করছেন তিনি। কিন্তু বিস্ময়করভাবে তার বেতন-ভাতা বন্ধ হয়নি। প্রতি মাসেই নিয়মিতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে তার অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতার টাকা জমা হচ্ছে। তার স্ত্রী সেই অর্থ উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ।   জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. রেজু বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি হয়ে থাকে, তবে তা গুরুতর অনিয়ম। এর পেছনে প্রভাব ও দুর্নীতির বিষয় জড়িত।   জাবরহাট-বৈরচুনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা সোহরাওয়ার্দী বলেন, রবি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।   উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এনএম ইশফাকুল কবির বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতাদি ভোগ করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।   জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা বলেন, বিষয়টি জেনেছি। দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩ ঘন্টা আগে
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হার, স্বপ্ন ভাঙল বাংলাদেশের

এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল সিঙ্গাপুর। জয় দিয়ে মিশন শেষ করার স্বপ্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে সমিত-হামজারা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে।   ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এরপরও সিঙ্গাপুরের মাটিতে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। বল পজিশন ও আক্রমণে বাংলাদেশ ভালোই শুরু করেছিল। সিঙ্গাপুরের আক্রমণ ভালোই রুখছিল। তবে ৩১তম মিনিটে সিঙ্গাপুর দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক করে। নিজেদের অর্ধ থেকে বা প্রান্তে লম্বা পাস হয়। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন সিঙ্গাপুরের ফরোয়ার্ডকে আটকাতে পারেননি। তার নেয়া শট প্রথম প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক মিতুল মারমা সাময়িক প্রতিহত করেন। ফিরতি বলে বাংলাদেশের বক্সে কয়েক পাক বল ঘুরলেও ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে পারেননি। বাংলাদেশ গোল হজম করে খেলায় পিছিয়ে পড়ে। সাত মিনিট পরে বাংলাদেশের গোলের সুযোগ এসেছিল। বক্সের মধ্যে শেখ মোরসালিন অনেকটা ফাকা জায়গায় বল পান। তার নেয়া শট সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে গোল লাইনের দিকে যেতে থাকে। ফয়সাল আহমেদ ফাহিম দৌড়ে বলের লাগাল নিতে গেলে পড়ে গেলে পেনাল্টি আবেদন করলেও রেফারি দেননি। দ্বিতীয়ার্ধেও দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলাদেশ। ম্যাচে ফেরার জন্য সব ধরণের চেষ্টাই করে ক্যাবরেরার শিষ্যরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শুরুটা হয়েছিল বেশ প্রত্যাশা নিয়ে। গত বছরের মার্চে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় লড়াই। বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। ৬ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে একটিতেই। গত বছরের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে আসে সেই জয়। শেষটা সুন্দর করতে চেয়েও পারলেন না কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরার দল। ফলে ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ বাছাই।

৪ ঘন্টা আগে
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়
জ্বালানি সংকটে চরম দুর্ভোগ, রাত ৮টা থেকে থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধের প্রস্তাব

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের, তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি।   এমন পরিস্থিতিতে পাম্প মালিকরা প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, তারা রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ রাখতে চান।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।   সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিপো থেকে চাহিদামতো জ্বালানি তেল সরবরাহ না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলো চাপে রয়েছে। এ কারণে নির্দিষ্ট সময় পাম্প বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।   সভায় আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ট্যাংকার পূর্ণ না করে আংশিক লোড নিয়ে পাঠানো হয়, ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং পাম্প মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।   পাম্প মালিকরা ট্যাংকার সম্পূর্ণ ভরে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে পরিবহন ব্যয় কমে এবং সরবরাহ আরও কার্যকর হয়। পাশাপাশি একই জেলার একাধিক পাম্পে সমন্বিতভাবে তেল সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।   এ সময় কিছু ক্ষেত্রে অননুমোদিতভাবে তেল বিক্রি বা মজুতের অভিযোগ থাকলেও, এটি পুরো খাতের চিত্র নয় বলে দাবি করেন পাম্প মালিকরা।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে পড়াশোনার গতি সচল রাখতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন হবে অনলাইনে এবং বাকি তিন দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস হবে।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে হওয়া এক যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেন। যে কোনো সময় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট ছয় দিন ক্লাস হবে। এর মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি (অফলাইন) স্কুলে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করবে এবং বাকি তিন দিন ইন্টারনেটের মাধ্যমে (অনলাইন) পাঠদান চলবে। ক্লাসের দিন নির্ধারণে জোড়-বিজোড় তারিখ বা রোল নম্বর পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সেখান থেকেই পাঠদান পরিচালনা করতে হবে। বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো অবশ্যই অফলাইনে ল্যাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতেই সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত। তবে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হওয়ায় যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তিন দিন অনলাইন মাধ্যমকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আপাতত এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে। রমজান, ঈদ ও বিশেষ ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ ৪০ দিন পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও প্রথম দিনে উপস্থিতির হার ছিল আশঙ্কাজনকভাবে কম। বিশেষ করে ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকার স্কুলগুলোতে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করে, সেখানে উপস্থিতি ছিল বেশ হতাশাজনক। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা খাতুন জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটে গাড়ি বের করতে না পেরে অনেক অভিভাবক আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে ছুটির কথা জানিয়েছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে স্কুল খোলার পর পরিস্থিতি সামলাতে তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা রাখে সরকার। এক- সংকট তীব্র হলে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ক্লাস, দুই- সরাসরি ও অনলাইন—উভয় মাধ্যম খোলা রাখা (হাইব্রিড) এবং সমন্বিত রুটিনের মাধ্যমে সপ্তাহের দিনগুলো ভাগ করে ক্লাস নেওয়া। মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম হান্নান জানান, শিক্ষামন্ত্রী সভাপতিত্বে সভায় এখন থেকে হাইব্রিড পদ্ধতিতে শিক্ষাক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনও সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান যে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমকে সমন্বিত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় কোকোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে স্মারকলিপি, ৮ দফা দাবি

মালয়েশিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।   একইসঙ্গে দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।   সোমবার (৩০ মার্চ) কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন-এ দূতালয় প্রধানের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মালয়েশিয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।   স্মারকলিপি প্রদানকালে নেতারা বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু নিয়ে এখনো জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়ে গেছে। এ রহস্য উদঘাটনে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।   উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— কোকোর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা, হাইকমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসীদের সেবা ও নিরাপত্তা জোরদার করা।   এছাড়া, কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাদের প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেট ও দালালমুক্ত করা, দুর্নীতিগ্রস্ত রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নারী ও মানব পাচার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।   স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি প্রবাসীদের মানবিক বিবেচনায় দেশে ফেরত পাঠানো এবং অবৈধদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।   কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি : সংগৃহীত
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত, সংকট নেই: জ্বালানি বিভাগ

দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন পেট্রল, ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত আছে। এছাড়া ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। ডিজেল নিয়ে কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি এবং এপ্রিলেও কোনো সংকট হবে না। ডিজেল পাচার রোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি বিক্রির জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করছে সরকার, যা এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আজ সন্ধ্যার মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ডিপো থেকে পাম্পে তেল সরবরাহে কোনো সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন। গতকাল সোমবার সারা দেশে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল।

ছবি : সংগৃহীত
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হার, স্বপ্ন ভাঙল বাংলাদেশের

এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল সিঙ্গাপুর। জয় দিয়ে মিশন শেষ করার স্বপ্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে সমিত-হামজারা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে।   ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এরপরও সিঙ্গাপুরের মাটিতে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। বল পজিশন ও আক্রমণে বাংলাদেশ ভালোই শুরু করেছিল। সিঙ্গাপুরের আক্রমণ ভালোই রুখছিল। তবে ৩১তম মিনিটে সিঙ্গাপুর দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক করে। নিজেদের অর্ধ থেকে বা প্রান্তে লম্বা পাস হয়। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন সিঙ্গাপুরের ফরোয়ার্ডকে আটকাতে পারেননি। তার নেয়া শট প্রথম প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক মিতুল মারমা সাময়িক প্রতিহত করেন। ফিরতি বলে বাংলাদেশের বক্সে কয়েক পাক বল ঘুরলেও ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে পারেননি। বাংলাদেশ গোল হজম করে খেলায় পিছিয়ে পড়ে। সাত মিনিট পরে বাংলাদেশের গোলের সুযোগ এসেছিল। বক্সের মধ্যে শেখ মোরসালিন অনেকটা ফাকা জায়গায় বল পান। তার নেয়া শট সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে গোল লাইনের দিকে যেতে থাকে। ফয়সাল আহমেদ ফাহিম দৌড়ে বলের লাগাল নিতে গেলে পড়ে গেলে পেনাল্টি আবেদন করলেও রেফারি দেননি। দ্বিতীয়ার্ধেও দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলাদেশ। ম্যাচে ফেরার জন্য সব ধরণের চেষ্টাই করে ক্যাবরেরার শিষ্যরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শুরুটা হয়েছিল বেশ প্রত্যাশা নিয়ে। গত বছরের মার্চে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় লড়াই। বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। ৬ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে একটিতেই। গত বছরের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে আসে সেই জয়। শেষটা সুন্দর করতে চেয়েও পারলেন না কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরার দল। ফলে ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ বাছাই।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলের ৪ সেনা নিহত
আক্তারুজ্জামান মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলের চার সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সংঘটিত এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ক্যাপ্টেন নোআম মাদমোনি (২২), স্টাফ সার্জেন্ট বেন কোহেন (২১) এবং স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাকসিম এনটিস (২২)।   এছাড়া একই ঘটনায় আরও একজন সেনা নিহত হয়েছেন, তবে তার নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে আইডিএফ।   সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও দুইজন সেনা। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, অপরজন রিজার্ভ সদস্য এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ছবি: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা
মারিয়া রহমান মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এক ধারাবাহিক শক্তিশালী ও দ্রুতগতির হামলা চালিয়েছে।  সোমবার (৩০ মার্চ) পরিচালিত এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গোপন মার্কিন কমান্ড সেন্টার এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডারদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে।  ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৮৭তম ধাপের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে আইআরজিসি নৌবাহিনী মোট চারটি সফল ও দ্রুতগতির অপারেশন সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে তাদের গোয়েন্দা ও অপারেশনাল যোদ্ধারা একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটির বাইরে স্থাপিত মার্কিন সন্ত্রাসী কমান্ডারদের একটি গোপন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার নিখুঁতভাবে ধ্বংস করেছে। হামলার সময় ওই সেন্টারে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন কমান্ডার ও মধ্যম সারির কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন এবং হামলাটি পরিচালনার জন্য অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।  অন্য একটি সমন্বিত অভিযানে বাহরাইনের মূল ব্যারাকের বাইরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডারদের গোপন আস্তানা ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেখানে কমান্ডারদের একটি বৈঠক চলাকালীন এই হামলা চালানো হয় এবং পরবর্তীতে ওই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আন্দাজ করা গেছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। একই দিনে আইআরজিসি নৌবাহিনী একটি তৃতীয় দেশের পতাকাবাহী এবং ইসরায়েলের মালিকানাধীন ‘এক্সপ্রেস রুম’ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের দাহরান অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারও নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।  এই রাডারটি মূলত মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হতো। ইরানের দাবি অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই অপারেশনগুলো পরিচালনা করা হয়েছে যা ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোট ইরানের বিরুদ্ধে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করে।  গত এক মাস ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে চালানো প্রতিটি হামলার বদলা হিসেবে এই ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

বিশেষ এই বাহিনী দিয়ে স্থল অভিযান করতে পারেন ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে নামছে মার্কিন বিশেষ এয়ারবর্ন সেনা
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

মাস ছাড়িয়ে যাওয়া যুদ্ধে বড় এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধেই মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের এই সেনারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নামতে শুরু করেছে।   দুই মার্কিনি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এই বিশেষ সেনা ট্রাম্পের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণার পরই সেখানে যাচ্ছে। তবে একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা বিবেচনা করছেন।   গত ১৮ মার্চ রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের ভূখণ্ডের ভেতরে পর্যন্ত সেনা পাঠানোর বিকল্পও খোলা থাকবে।   নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্রাগ থেকে পরিচালিত এই প্যারাট্রুপাররা ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যে পাঠানো হাজার হাজার নৌসেনা, মেরিন এবং স্পেশাল অপারেশন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে। গত সপ্তাহান্তে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সদস্য মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় এই সেনাদের মোতায়েন করা হচ্ছে তা জানাননি। তবে এমন পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত সেনাদের মধ্যে রয়েছে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের কিছু অংশ, লজিস্টিকস ও অন্যান্য সহায়তা ইউনিট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম।   এখনও ইরানের ভেতরে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মোতায়েন করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানায়।   এই সেনারা ইরান যুদ্ধে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে এদের দিয়ে খার্গ আইল্যান্ড দখলের চেষ্টা করা হতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যাপারেও ট্রাম্প তাদের ব্যবহার করতে পারেন।   একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনের কাজ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতি কীভাবে এই ধাক্কা সামলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা জোরদারে মাইনহান্টার পাঠাতে আগ্রহী বেলজিয়াম
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে মাইনহান্টার মোতায়েনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেলজিয়াম। দেশটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তারা এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পারে।   বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়, বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানিয়েছেন, প্রণালিটি সুরক্ষিত রাখতে একটি বহুজাতিক জোটে অংশ নিতে আগ্রহী তাদের দেশ। তবে স্থিতিশীল পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত মাইনহান্টার মোতায়েন করা হবে না।   এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩২ দেশের একটি যৌথ জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।   তবে বেলজিয়াম স্পষ্ট করেছে, এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া মানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমর্থন নয়। তাদের মতে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে শুরু হয়েছে।   দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা তাদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে চলমান উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি