সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন স্থানে

দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাতে  রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪।    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ। ঢাকার আগারগাঁও থেকে এর দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার (পূর্বে)।   ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

১ ঘন্টা আগে
ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের একটি লাইসেন্স জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এতে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমতি পেল তেহরান।   সোমবার (২২জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক  রিসোর্টে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনা পর এই অনুমোদন দেওয়া হলো। নিষেধাজ্ঞা মওকুফের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘ভালো ভিত্তি’ তৈরি হয়েছে। গেল ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের হামলা শুরু করে। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে দীর্ঘ আলোচনার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আলোচনায় আরো গতি পাবে বলে জানান বিশ্লেষকরা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমোদন দেয়। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমিত হয়ে পড়া তেল রপ্তানির সুযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচকরা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকট কমানোর লক্ষ্যে ইরানকে রাজি করাতে এই ছাড়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে আগে থেকে কার্যকর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিষিদ্ধ লেনদেনগুলো সাময়িকভাবে অনুমোদিত থাকবে।  

১ ঘন্টা আগে
কলকাতার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জির নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।   রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও সমালোচকরা বলছেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নন, বরং তার চাচা, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসক হাসান সোহরাওয়ার্দীর নামে সড়কটির নাম রাখা হয়েছিল।    এদিকে রোববার (২১ জুন) এক্সে দেয়া পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবসে (২০ জুন) নেয়া এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি লেখেন, ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম এখন গোপাল মুখার্জি রোড করা হবে।   শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন এমন একজনের নামে ছিল, যিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং রাজনৈতিক স্বার্থে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতার সময় দায়িত্বে ছিলেন।   অনেকে তার এই মন্তব্যকে অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় মুখপাত্র সাকেত গোখলে এক্সে লেখেন, ‘এই সড়কের নাম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে রাখা হয়নি।’   শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গোপাল মুখার্জির নামে সড়কটির নামকরণ করলে একজন ‘প্রকৃত রক্ষক ও ত্রাণকর্তাকে’ সম্মান জানানো হবে এবং এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।   তিনি আরও লেখেন, ‘এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রকৃত বীরদের স্মরণ করবে, ভুল সংশোধন করবে এবং তাদের সম্মান জানাবে।’   সড়কটির নাম পরিবর্তনকে শুভেন্দু অধিকারী ঐতিহাসিক অন্যায় সংশোধন হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকরা ভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন। সড়কটির নাম আদৌ কি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে রাখা হয়েছিল কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।   সাকেত গোখলে প্রথমদিকেই উল্লেখ করেন, সড়কটির নাম অবিভক্ত বাংলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে নয়; বরং তার চাচা হাসান সোহরাওয়ার্দীর নামে রাখা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষও এক্সে লেখেন, ‘আমার মনে হয় কলকাতা পৌর করপোরেশন বড় ধরনের ভুল করেছে।   তিনি উল্লেখ করেন, দুই সোহরাওয়ার্দী ছিলেন চাচা-ভাতিজা। তার ভাষায়, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়টি যাচাই করা উচিত এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনকে নথিপত্র পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়া উচিত। যদি ভুলবশত ভাতিজার বদলে চাচাকে শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে তা দুর্ভাগ্যজনক হবে।’   হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য। তিনি ১৯৩০ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় মুসলিম ব্যক্তি হিসেবে ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসের ফেলো নির্বাচিত হন।   মৃত্যুর এক বছর আগে ১৯৪৫ সালে তাকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতির অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি তিনি সাইমন কমিশনের উপদেষ্টা এবং বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯২৩ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত তিনি কাউন্সিলের ডেপুটি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।   ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৯৩৩ সালে হাসান সোহরাওয়ার্দী জীবিত থাকতেই কলকাতা পৌর করপোরেশন পার্ক সার্কাস ও কসাইপাড়া লেন সংযোগকারী সড়কটির নাম তার নামে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তার বাসভবন ‘কাশানা’ ওই সড়কেই অবস্থিত ছিল। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে এটি ছিল ভারতের বহু শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার আড্ডাস্থল।   দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসেও এই সড়কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই সড়কের একটি ঔপনিবেশিক আমলের ভবনে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। এর আগে ভবনটি পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

১ ঘন্টা আগে
থ্রি ইডিয়টস’ এর সিক্যুয়েলে উঠে আসবে কঠিন বাস্তবতা

বলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিক্যুয়েলের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনপ্রিয় সিনেমার সিক্যুয়েলের কাজ শুরু হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত সিনেপ্রেমীরা। ২০০৯ সালে চেতন ভগতের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত রাজকুমার হিরানির সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।   সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাজকুমার হিরানি জানান, সিক্যুয়েলের গল্পে চরিত্রদের বয়স বাস্তব জীবনের মতোই এগিয়ে যাবে। কলেজজীবনের সেই তরুণ ছাত্ররা এখন আর তরুণ নেই, তারা জীবনের এক অন্য কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। পরিচালক বলেন, ‘আমরা “থ্রি ইডিয়টস”–এর সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছি। এবার গল্পে র‍্যাঞ্চো-ফারহান-রাজুকে এক চরম মাঝবয়সের সংকট বা “মিড-লাইফ ক্রাইসিস”–এর মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যাবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন, পরিবার ও ক্যারিয়ারের যে নতুন চাপ তৈরি হয়, সেটাই হবে এই গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু।’   বলিউডে আজকাল যেকোনো সফল ছবির সিক্যুয়েল বানিয়ে ব্যবসার ট্রেন্ড চললেও রাজকুমার হিরানি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি মানের সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। ছবির চিত্রনাট্য যতক্ষণ না প্রথম ভাগের মতোই নিখুঁত ও শক্তিশালী হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি শুটিং ফ্লোরে নামবেন না। হিরানির কথায়, ‘এ সিনেমা মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত। তাই কেবল ব্র্যান্ড ভ্যালুকে ব্যবহার করে সস্তা উপায়ে টাকা কামানোর জন্য দ্বিতীয় ভাগ আনতে চাই না। একটি যথাযথ ও অর্থপূর্ণ চিত্রনাট্য তৈরি হলেই আবার ক্যামেরা চালু করব।’   গত এপ্রিলে সিক্যুয়েলের সুখবরে সিলমোহর দিয়ে আমির খান জানান, প্রথম ভাগের গল্পের ঠিক ১০ বছর পর থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় ভাগ। অর্থাৎ কলেজজীবন পার করে চরিত্ররা যখন বাস্তব দুনিয়ায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, ঠিক সেই সময়কার প্রেক্ষাপটেই বোনা হয়েছে নতুন গল্প। আমির বলেন, ‘রাজু (রাজকুমার হিরানি) এই মুহূর্তে “থ্রি ইডিয়টস ২”–এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। আমি ইতিমধ্যে গল্পটা শুনেছি এবং এটা এককথায় অসাধারণ! ছবিটির গল্পে এর চরিত্রদেরই অনুসরণ করা হবে, তবে গল্পটা এগিয়ে যাবে ঠিক ১০ বছর পর থেকে।’

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন স্থানে

দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাতে  রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪।    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ। ঢাকার আগারগাঁও থেকে এর দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার (পূর্বে)।   ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত
২০২৮ সালের মধ্যে সব প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়,এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে শিশুকে। এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যাতে শেখা তাদের কাছে বোঝা না হয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে উঠে। আজ রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর মাল্টিপারপাস হলে আইইউবি এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক এর যৌথ  আয়োজনে  আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নীতিমালা  শীর্ষক জাতীয় সংলাপে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  প্রতিমন্ত্রী বলেন , আগামী এক বছরের মধ্যে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ সময় তিনি এনসিটিবিকে অযাচিত প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাগতভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন শিক্ষক যদি আর্থিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কখনোই অর্জন করা যাবে না।   সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ওয়ান-শিফটে রূপান্তরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই শিফটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ পাচ্ছে না। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ওয়ান-শিফট স্কুলে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।   শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ  বলেন, ২০২৮ সালের পর দেশের কোনো প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক পাঠদান করবেন না। সরকারি, বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংরেজি মাধ্যম সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই নীতি প্রযোজ্য হবে।   আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম.তামিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের একটি লাইসেন্স জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এতে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমতি পেল তেহরান।   সোমবার (২২জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক  রিসোর্টে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনা পর এই অনুমোদন দেওয়া হলো। নিষেধাজ্ঞা মওকুফের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘ভালো ভিত্তি’ তৈরি হয়েছে। গেল ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের হামলা শুরু করে। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে দীর্ঘ আলোচনার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আলোচনায় আরো গতি পাবে বলে জানান বিশ্লেষকরা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমোদন দেয়। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমিত হয়ে পড়া তেল রপ্তানির সুযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচকরা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকট কমানোর লক্ষ্যে ইরানকে রাজি করাতে এই ছাড়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে আগে থেকে কার্যকর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিষিদ্ধ লেনদেনগুলো সাময়িকভাবে অনুমোদিত থাকবে।  

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার মধ্যে এক সমঝোতা, দুই দলিল বিনিময়

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ও মালায়েশিয়া। এছাড়া, সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করেছে উভয় পক্ষ।   সোমবার (২২ জুন) পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ দেশের পক্ষে দলিল বিনিময় করেন।   ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে রোববার মালয়েশিয়া পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান সোমবার (২২ জুন) সকালে পরদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।   সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন দুই নেতা। পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

ছবি: সংগৃহীত
স্বর্ণ বেচাকেনায় ভ্যাট কমেছে, স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা

এবারের বাজেটে, স্বর্ণের গয়না কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানোর ঘোষণা আসায় অনেকটাই স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্বর্ণ ও গয়না কেনাবেচায় ৫ শতাংশ ভ্যাটের বদলে, ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা ভ্যাটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ক্রেতাদের খরচ কমবে। তবে ব্যক্তিগত স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে নতুন করের প্রস্তাব করা হয়েছে।    ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই দেশে স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। এরপর বৈশ্বিক নানা সংকটে এ ধাতুটির দাম প্রায়ই ওঠানামা করতে দেখা যায়। এ অনিশ্চয়তায় স্বর্ণ কেনায় দ্বিধায় পড়েন ক্রেতারা।     এমন বাস্তবতায় বাজেটে, স্বর্ণের কর ও ভ্যাটে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার সুবিধা পাবে সাধারণ ক্রেতারা। গয়না কেনায় তাদের খরচ অনেকটাই কমবে।   বাজেটে স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভরিতে খরচ কমবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর, উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।    বেশি আলোচনায় এসেছে, বাজেটে ব্যক্তিগত স্বর্ণ বিক্রির ওপর নতুন কর। প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত স্বর্ণ, মূল্যবান পাথরসহ বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে লাভ হলে সেই মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে।     বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুসের মুখপাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থা চালু হলে স্বর্ণালংকারের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, পাশাপাশি ক্রেতাদের ব্যয়ও কমবে।’   বাজেটে জুয়েলারি শিল্পের আধুনিকায়ন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি এবং অলঙ্কার রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বন্ডেড ওয়‍্যার হাউস পদ্ধতির আওতায় নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, সমুদ্রে রণতরীর সলিলসমাধি—সামরিক শক্তির ঝলক দেখাল ভারত
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬

লাগাতার সামরিক খাতে ব্যয়বরাদ্দ বাড়িয়ে চলেছে পাকিস্তান। অন্য দিকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি (লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) ও বঙ্গোপসাগরীয় এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চিন। এই পরিস্থিতিতে সবাইকে চমকে দিয়ে জোড়া শত্রুর মোকাবিলায় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী হাতিয়ারের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত। এই প্রযুক্তি বর্তমানে রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটা দেশের কাছে।   চলতি বছরের ১০ ও ১২ জুন তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় এ দেশের সামরিক গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন (ডিআরডিও)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তিনটি হাতিয়ারের ক্ষেত্রেই ১০০ শতাংশ সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। তবে সেগুলির সাঙ্কেতিক নাম প্রকাশ করা হয়নি। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) এবং রণতরী ধ্বংসের সক্ষমতা যে ভারতের বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।   দীর্ঘ দিন ধরেই একটি বহুস্তরীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছিল নয়াদিল্লি। ১০ ও ১২ জুনের পরীক্ষায় সেই লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করে ডিআরডিও। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নিখুঁত নিশানায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এগুলি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকেও আটকে দিতে পারবে। তবে ইন্টারসেপ্টরের পাল্লা প্রকাশ করা হয়নি।   এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা ইরান যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এই হাতিয়ার ব্যবহার করেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, বাহরিন, ইরাক ও সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে তেহরান। পাশাপাশি, ইজ়রায়েলের বন্দর শহর হাইফা বা বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে উড়িয়ে দিতেও এই ব্রহ্মাস্ত্রটি প্রয়োগ করতে দেখা গিয়েছে সাবেক পারস্যের শিয়া ফৌজকে।   তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইরানি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে মাঝ-আকাশে ধ্বংস করতে পারেনি কোনও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে যুদ্ধের গতি। তেহরানের প্রতি আক্রমণের ঝাঁজে ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য হয় আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। পশ্চিম এশিয়ার ওই লড়াইয়ের দিকে কড়া নজর ছিল ভারতের। ফলে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর ঢাল তৈরির গবেষণায় গতি বৃদ্ধি করে ডিআরডিও।   পাকিস্তানের হাতে না থাকলেও চিনা লালফৌজের কাছে রয়েছে বিপুল সংখ্যায় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আর তাই সাবেক সেনাকর্তাদের বড় অংশই মনে করেন, বেজিঙের পিপল্‌স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) রকেট ফোর্সের কথা মাথায় রেখে এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি তৈরি করেছে ডিআরডিও। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনায়াসেই কৌশলগত এলাকাগুলিকে রক্ষা করতে পারবে ফৌজ।   ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোটের উপর বেশ শক্তিশালী। গত বছরের (২০২৫) মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চলা চার দিনের যুদ্ধে জাত চিনিয়েছে তারা। গোড়া থেকেই একাধিক স্তরে এয়ার ডিফেন্স গড়ে তোলার উপর জোর দিয়ে এসেছে নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সেটা কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় দুনিয়া জুড়ে হইচই পড়ে যায়। এই ব্যবস্থায় দেশি-বিদেশি দু’ধরনের হাতিয়ারই রয়েছে।   গত বছর পাকিস্তানে চালানো সামরিক অভিযানের নাম ‘অপারেশন সিঁদুর’ রাখে ভারত। তাতে ইসলামাবাদ বিমানবাহিনীর ১১টি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় এ দেশের বিমানবাহিনী। ওই সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে খবরের শিরোনামে উঠে আসে নয়াদিল্লির রুশ এয়ার ডিফেন্স এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ। আদর করে এর নাম ‘সুদর্শন চক্র’ রেখেছে এ দেশের ফৌজ। আগামী দিনে ডিআরডিওর নতুন ইন্টারসেপ্টরগুলি এর সঙ্গেই কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে।   বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, সব ধরনের পরিবেশে কাজ করতে পারে মস্কোর এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ। অর্থাৎ মরুভূমির প্রবল গরম এবং হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সমান ভাবে কার্যকর এই হাতিয়ার। এস-৪০০র রেডারের পাল্লা ৬০০ কিলোমিটার। অন্য দিকে স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ক্রুজ় এবং ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে মাঝ-আকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ক্রেমলিনের এই ব্রহ্মাস্ত্রের।   এস-৪০০ নির্মাণকারী সংস্থা হল আলমাজ় সেন্ট্রাল ডিজ়াইন ব্যুরো। এটি একসঙ্গে চিহ্নিত করতে পারে ৩০০ লক্ষ্যবস্তু। রাশিয়া থেকে এই হাতিয়ারের পাঁচটি ইউনিট আমদানি করেছে নয়াদিল্লি। তার মধ্যে চারটি ইতিমধ্যেই সরবরাহ করেছে মস্কো। বাকি একটির কিছু দিনের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে শামিল হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাতিয়ারটিতে রয়েছে চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। ‘স্টেলথ’ শ্রেণির লড়াকু জেটকেও অনায়াসেই চিহ্নিত করতে পারে এ দেশের ‘সুদর্শন চক্র’।   ‘এস-৪০০’-এর চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির পাল্লা আলাদা। ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য রয়েছে ৪০এন৬ ক্ষেপণাস্ত্র। আবার ২৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুর জন্য ব্যবহার হবে ৪৮এন৬ ক্ষেপণাস্ত্র। দু’টি ছাড়া মাঝারি পাল্লার ৯এম৯৬ই২ এবং স্বল্পপাল্লার ৯এম৯৬ই নামের আরও দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ‘এস-৪০০’র লঞ্চারে। অত্যাধুনিক এই ‘সুদর্শন চক্র’ ব্যবহার করার পদ্ধতিটি বেশ জটিল।   এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি পরিচালনার জন্য চারটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। প্রথমে নজরদারি (সার্ভেল্যান্স) রেডার লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করে। দীর্ঘপাল্লার এই রেডার ব্যবস্থা বার্তা পাঠিয়ে সতর্ক করে কমান্ড ভেহিকলকে। এই কমান্ড ভেহিকল লক্ষ্যবস্তুকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিশানা করার জন্য বার্তা পাঠায় এনগেজমেন্ট রেডারকে। এনগেজমেন্ট রেডারের সেই বার্তা লঞ্চার ভেহিকলে যায়। নিশানা ঠিক করে দেয় এনগেজমেন্ট রেডার। তার পরই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে এস-৪০০।   ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন নয়াদিল্লিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় পাক ফৌজ। হরিয়ানার সিরসার আকাশে সেগুলিকে ধ্বংস করে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পাশাপাশি, এই লড়াইয়ে একগুচ্ছ অত্যাধুনিক লড়াকু জেটও হারায় ইসলামাবাদ। তাতে এস-৪০০-এর ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের হাতযশ ছিল বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।   ২০২৪ সালে ডিআরডিওর তৈরি আকাশতীর এবং আকাশ নামের দু’টি এয়ার ডিফেন্স হাতে পায় ভারতীয় সেনা। সিঁদুরকে কেন্দ্র করে চলা পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে এগুলির পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। প্রথমটির সাহায্যে ইসলামাবাদের প্রায় সমস্ত ড্রোনের ঝাঁককে আটকে দেয় নয়াদিল্লি। আর দ্বিতীয়টি দিয়ে রাওয়ালপিন্ডির সাড়ে চার প্রজন্মের চিনা লড়াকু জেট জেএফ-১৭কে মাঝ-আকাশে ধ্বংস করে এ দেশের বায়ুসেনা।   ফলে ডিআরডিও নির্মিত ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটির খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সেটিকে নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চড়ছে পারদ। কবে থেকে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হওয়ার জেরে খুব দ্রুত সেই পদক্ষেপ করতে পারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।   ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আকাশ প্রতিরক্ষা বাদ দিলে শত্রুর রণতরী ধ্বংসের মাঝারি পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ডিআরডিও। আয়তনের নিরিখে চিনা নৌবাহিনী বিশ্বের বৃহত্তম। ফলে সংঘাত পরিস্থিতিতে এই হাতিয়ার ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সাবেক সেনাকর্তারা।   সূত্রের খবর, অপারেশন সিঁদুরে পাক বিমানঘাঁটিগুলি ধ্বংস করতে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে গতিশীল) ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল ভারত। এ বার ওই অস্ত্রটিকেই হাইপারসনিক স্তরে উন্নীত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি ও মস্কো। সে ক্ষেত্রে শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তারও বেশি গতি পাবে ব্রহ্মস।   সম্প্রতি এই ইস্যুতে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। তিনি জানিয়েছেন, ব্রহ্মসের এই নতুন সংস্করণ আকারে কিছুটা ছোট এবং ওজনে হালকা হলেও মারণক্ষমতা কমবে না। পাশাপাশি হাইপারসনিক স্তরে উন্নীত হলে বাড়বে এর পাল্লাও।

ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবার ন্যাটোভুক্ত দেশে যুদ্ধজাহাজ রফতানি করলো তুরস্ক
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬

তুরস্কের ইতিহাসে এই প্রথম উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য এমন একটি দেশে যুদ্ধজাহাজ রফতানি করা হয়েছে। রোমানিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।   ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানটি মূলত রোমানিয়ান নৌবাহিনীর কাছে অফশোর পেট্রোল ভেসেল ক্যাম রোমান নামক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তর এবং একই সঙ্গে তুর্কি নৌবাহিনীর জন্য নতুন কিছু প্ল্যাটফর্মের কমিশনিং ও পতাকা উত্তোলন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে নৌ-প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, রোমানিয়ার সঙ্গে আমরা যে বিক্রয় চুক্তিটি সই করেছি, তার মাধ্যমে তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও ন্যাটো এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্রে যুদ্ধজাহাজ রফতানি করা হলো। এরদোয়ান জানান, তুরস্ক এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য ১৪০টিরও বেশি নৌ-প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। দেশের সামরিক জাহাজ নির্মাণ খাত বর্তমানে তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ১০৩ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে নিবিড় এবং উৎপাদনশীল দিন পার করছে বলেও বর্ণনা করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের যেসব দেশের একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করার সক্ষমতা রয়েছে, তুরস্ক তাদের অন্যতম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা ভাগ করে নেওয়াকে তুরস্ক নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তুরস্কের লক্ষ্য আমাদের অঞ্চলে কোনও ধরনের উত্তেজনা তৈরি করা নয়, বরং শান্তি, ন্যায়বিচার, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করা। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অশান্ত ও পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে এরদোয়ান সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, যেসব দেশের যুদ্ধক্ষেত্রে বা বাস্তবে নিজস্ব শক্তি নেই, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে তাদের বেশ বেগ পেতে হতে পারে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে কালোতালিকাভুক্তি নিয়ে জাতিসংঘে তুমুল বাক্‌যুদ্ধ
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬

জাতিসংঘে গতকাল শুক্রবার এক গণশুনানিতে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিবেশ বজায় থাকেনি। এদিন কূটনৈতিক সৌজন্য ভুলে গিয়ে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।   গতকাল ছিল ‘সংঘাতে যৌন সহিংসতা নির্মূলবিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস’। এ উপলক্ষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে এক গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গণশুনানির এক পর্যায়ে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমীলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন। প্যাটেন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সেখানে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়। ড্যাননের অভিযোগ, প্যাটেন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ব্যাপারে মহাসচিবের যে একধরনের ঝোঁক রয়েছে, আপনি (প্যাটেন) সেটার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’ জাতিসংঘের আরেক কর্মকর্তা ভ্যানেসা ফ্রেজার তখন পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে শুরু করেন। তিনিও জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক প্রতিনিধি এবং ইসরায়েলকে কালোতালিকাভুক্ত করা পৃথক একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ড্যানি ড্যাননকে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ফ্রেজার। তিনি বলেন, তাঁর কাছে ‘যাচাই করা তথ্য–প্রমাণ’ আছে। এর জবাবে ড্যানন বলেন, ফ্রেজারের চুপ থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সদস্যরাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের কর্মী। এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি চুপ থাকবেন... আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদনও।’ একসময় জাতিসংঘে মাল্টার দূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ফ্রেজার। তিনি সম্প্রতি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে সতর্ক করে বলা হয় যে শিশুদের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকে বৈশ্বিক কালোতালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। প্রতিবেদনটিতে গুতেরেস ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ‘উদ্বেগজনকভাবে’ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার অঙ্গীকার করেছে। ১০ বছর দায়িত্ব পালনের পর এ বছরের শেষ নাগাদ তিনি পদ ছাড়ছেন। দুটি প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের চিরশত্রু হিসেবে বিবেচিত সংগঠন হামাসকেও কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
আমার জীবনের দুই প্রিয়জন স্ত্রী ও আসিম মুনির’: ভ্যান্স
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজের জীবনের দুই ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘প্রিয়’ ভারতীয় ও পাকিস্তানি ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন। এ সময় তিনি ভারতীয় হিসেবে নিজের স্ত্রী উষা ভ্যান্সের নাম ও পাকিস্তানি হিসেবে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আসিম মুনিরের কূটনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন ও বলেন, গত তিন মাসে তিনি মুনিরের সঙ্গে অন্য যে কারও তুলনায় বেশি কথা বলেছেন।   সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে লেক লুসার্নের তীরবর্তী একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ভ্যান্স এসব মন্তব্য করেন। ওই সময় আলোচক দলের সদস্যদের সঙ্গে আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। মুনিরের প্রশংসা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তার রাষ্ট্রনায়কসুলভ আচরণ না থাকলে আমি আজ এখানে থাকতাম না। তিনি অবশ্যই একজন অসাধারণ সামরিক নেতা। আমি এও মনে করি তিনি নিজেকে একজন দক্ষ কূটনীতিক হিসেবেও প্রমাণ করেছেন। এছাড়া তিনি একজন অসাধারণ নেতা। ভ্যান্স বলেন, কয়েক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হওয়ায় ওয়াশিংটন কৃতজ্ঞ। তিনি এ সপ্তাহের শুরুতে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, এখন দেখার বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই পর্যায় থেকে কতটা এগোতে পারে এবং কতটা অর্জন করতে সক্ষম হয়। আলোচনা শুরুর সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, এখন আমাদের সামনে প্রশ্ন হলো আমরা একসঙ্গে আর কত কিছু অর্জন করতে পারি? আমরা কি নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারি? তিনি আরও বলেন, আমরা কি মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারি, নাকি আমরা আবার পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাবো? সেটি আমাদের পছন্দ নয়, কিন্তু এমনটা ঘটতে পারে। ভ্যান্স বলেন, আমরা কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে রূপান্তর করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে চাই। তিনি ইরানের সঙ্গে এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ বলেও অভিহিত করেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এর আগে কখনো এত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তার ভাষায়, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো ‘নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করা, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।’ এদিকে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে এবং ইরানের যুদ্ধ বন্ধে হওয়া নাজুক অন্তর্বর্তী চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জেডি ভ্যান্স ও জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।   আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে থাকা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচি ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।   সূত্র: এনডিটিভি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি