ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বিমানটি একটি মিশনে থাকার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে অবতরণ করানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, যুদ্ধবিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের আকাশসীমায় তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এ ছাড়া ইরাকে একটি রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু নিহত হন। সৌদি আরবেও কয়েকটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সাগরে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ খবর জানিয়েছেন। বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তাদের নিজস্ব তেলের মজুত থেকেও তেল বাজারে ছাড়তে পারে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি ছাড়তে শুরু করেছে। এটা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে। বেসেন্টের মন্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বোরহানুদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে (২৫) গুলি ও কুপিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন ওরফে সাগরকে চার দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. মিঠু সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর তার সহযোগী গোলাম রসুল শিহাব, রাফিন শেখ, শাহরিয়ার নাজিম জয় ও সাগর ফকিরসহ অন্যদের সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তবে হত্যার মূল কারণ এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে তথ্য প্রদানে সে বিরত থাকছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে পিস্তল ও গুলিসহ সালাউদ্দিন সাগরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুই আসামি শিহাব ও সাগর (ফকির) গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রাফিন ও জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গত রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম রাকিব মোটরসাইকেলে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহত রাকিবের বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ও নারীঘটিত আক্রোশ থেকে খুলনার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে এই ‘কিলিং মিশন’ পরিচালিত হয়েছিল।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি। তিনি বলেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এতে কাতারের গ্যাস রপ্তানিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হবে। এই পরিস্থিতিতে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের সঙ্গে করা গ্যাস সরবরাহ চুক্তি ঠিকমতো পালন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এজন্য কাতার ‘ফোর্স মাজুরি’ ঘোষণা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাতার বিশ্বের অন্যতম বড় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই ক্ষতির প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়বে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু কাতারের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ গিয়ে হাইফা শহরের ওই শোধনাগারে পড়ে ও এতে সেখানে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।শোধনাগার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই শোধনাগারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরারে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলসহ জেরুজালেম এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজার পরপরই এই হামলার খবর আসে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। অবশ্য এবারই প্রথম নয়, গত বছরও ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়েও হাইফার তেল শোধনাগারটি আক্রান্ত হয়েছিল। এর আগে কুয়েতের দ্বিতীয় একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারের একটি অপারেশনাল ইউনিটে ড্রোনটি আঘাত হানে। হামলার পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে কুয়েতের মিনা আল আহমাদি শোধনাগারেও একই ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার ভোরে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র। গ্যাসক্ষেত্রটির একটি অংশ কাতারের। সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ক্ষেত্রে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লাগে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাসের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কয়েকদিনের ব্যবধানে এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা ‘জ্বালানি যুদ্ধের’ শঙ্কা বাড়াচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মিনা আবদুল্লাহ ও মিনা আল-আহমাদি—উভয় শোধনাগারই কুয়েতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ২০২৬ সালে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। ভিসা-মুক্ত নীতির ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের কোনো ধরনের ভিসা ফি পরিশোধ করতে হয় না। এ ক্ষেত্রে শুধু পাসপোর্টই ভ্রমণের একমাত্র প্রয়োজনীয় নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিসা ছাড়াই বার্বাডোস, বাহামাস, ভুটান, মাইক্রোনেশিয়া, গ্রানাডা, গাম্বিয়া, হাইতি, জামাইকা, কুক আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, ফিজি, কিরিবাতি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, মাদাগাস্কার, মন্টসেরাট, নিয়ু, ভার্জিন আইল্যান্ডস, রুয়ান্ডা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস ও ভানুয়াতুতে যেতে পারবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা। পৌঁছানোর পর ভিসা পাওয়া যাবে যেসব দেশে এছাড়া কিছু দেশে পৌঁছানোর পরই ভিসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা। এ তালিকায় রয়েছে- বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, মালদ্বীপ, নেপাল, সিশেলস, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, তিমুর-লেসতে, টুভ্যালু ও সামোয়া। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) প্রয়োজন যেসব দেশে কিছু দেশে ভ্রমণের আগে অনলাইনে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ নিতে হয়। এ সুবিধা রয়েছে- কেনিয়া ও শ্রীলংকার ক্ষেত্রে।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বোরহানুদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে (২৫) গুলি ও কুপিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন ওরফে সাগরকে চার দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. মিঠু সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর তার সহযোগী গোলাম রসুল শিহাব, রাফিন শেখ, শাহরিয়ার নাজিম জয় ও সাগর ফকিরসহ অন্যদের সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তবে হত্যার মূল কারণ এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে তথ্য প্রদানে সে বিরত থাকছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে পিস্তল ও গুলিসহ সালাউদ্দিন সাগরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুই আসামি শিহাব ও সাগর (ফকির) গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রাফিন ও জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গত রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম রাকিব মোটরসাইকেলে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহত রাকিবের বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ও নারীঘটিত আক্রোশ থেকে খুলনার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে এই ‘কিলিং মিশন’ পরিচালিত হয়েছিল।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সাগরে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ খবর জানিয়েছেন। বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তাদের নিজস্ব তেলের মজুত থেকেও তেল বাজারে ছাড়তে পারে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি ছাড়তে শুরু করেছে। এটা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে। বেসেন্টের মন্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি। তিনি বলেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এতে কাতারের গ্যাস রপ্তানিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হবে। এই পরিস্থিতিতে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের সঙ্গে করা গ্যাস সরবরাহ চুক্তি ঠিকমতো পালন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এজন্য কাতার ‘ফোর্স মাজুরি’ ঘোষণা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাতার বিশ্বের অন্যতম বড় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই ক্ষতির প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়বে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু কাতারের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান যুদ্ধের কোনো "সময়সীমা" নেই এবং যুদ্ধের সমাপ্তির সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ সরাসরি অঙ্কটি নিশ্চিত না করলেও বলেন, এটি পরিবর্তন হতে পারে। তিনি বলেন, "২০০ বিলিয়ন ডলারের বিষয়ে, আমি মনে করি সেই সংখ্যাটি নড়তে পারে। স্পষ্টতই, খারাপ লোকদের হত্যা করতে অর্থ লাগে"। তিনি আরও জানান, "আমরা কংগ্রেস এবং সেখানকার লোকজনের কাছে ফিরে যাচ্ছি যাতে আমরা যা করেছি তার জন্য এবং ভবিষ্যতে যা করতে হতে পারে তার জন্য যথাযথভাবে অর্থায়িত হই"। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের বার্ষিক বাজেটের চেয়ে এই পরিমাণ বিপুল বৃদ্ধি নির্দেশ করে। চলতি অর্থবছরে কংগ্রেস প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য ৮০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুমোদন করেছে। এর ওপর গত বছর ট্রাম্পের কর কাটছাঁট বিলের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা বিভাগকে আরও প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল। হেগসেথ বলেন, "আমরা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চাই না"। তিনি যোগ করেন, "আমরা ঠিক ঠাক এগিয়ে যাচ্ছি" এবং ট্রাম্পই সিদ্ধান্ত নেবেন কখন থামতে হবে। "শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের পছন্দেই হবে যে আমরা কখন বলব, 'আমরা যা করতে চেয়েছিলাম তা অর্জন করেছি'"। তবে কংগ্রেস এ যুদ্ধের অনুমোদন দেয়নি এবং সামরিক অভিযানের পরিধি ও কৌশল নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের রিপাবলিকান দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, অনেক রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা অর্থনৈতিক কঠোরতাবাদী এবং সামরিক অভিযান বা অন্যান্য বিষয়ে বড় ব্যয়ের রাজনৈতিক আগ্রহ কম। বেশিরভাগ ডেমোক্র্যাট সম্ভবত এমন আবেদন প্রত্যাখ্যান করবেন এবং সামরিক কৌশল ও লক্ষ্যের বিস্তারিত পরিকল্পনা দাবি করবেন। হেগসেথের সঙ্গে কথা বলা শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন জানান, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে এ-১০ ওয়ারথগ বিমান "দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান শিকার ও ধ্বংস" করছে। তিনি আরও জানান, ইরাকে আইএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করছে এবং কিছু মার্কিত মিত্র তেহরানের বাহিনীর ছোড়া একমুখী ড্রোন প্রতিহত করতে আক্রমণ হেলিকপ্টার ব্যবহার শুরু করেছে।
লেবাননে রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরটির একটি টিভি ক্রু আহত হওয়ার ঘটনায় ইসরাইলি বিমান হামলাকে "দুর্ঘটনা" বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। আরটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভিডিও এজেন্সি রাপ্টলি প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, রিপোর্টার স্টিভ সুইনি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সময় তার কয়েক মিটার পিছনে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ধোয়ার কুণ্ডলী উড়তে থাকে। সুইনি "প্রেস" লেখা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত ছিলেন। রাপ্টলি টেলিগ্রামে জানায়, দক্ষিণ লেবাননে সংবাদ পরিবেশনের সময় সুইনি ও তার ক্যামেরাম্যান ইসরাইলি হামলায় আহত হন। উভয়েই "সচেতন অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন"। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রামে বলেন, "গাজায় ২০০ সাংবাদিক নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আজকের ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা যায় না"। তিনি ইসরাইলের নাম না করে যোগ করেন, "রকেটটি কোনো 'গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সামরিক স্থাপনায়' নয়, বরং সংবাদ প্রতিবেদনের স্থানে আঘাত হানে"। লেবাননে নিযুক্ত রুশ দূতাবাস বলেছে, "সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়" এবং ঘটনার "যথাযথ তদন্ত" দাবি করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে দাবি করে থাকে যে তারা "কখনোই সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না"।
ইসরাইলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এবং কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের পাল্টা আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ "জ্বালানি অবকাঠামো পর্যায়ে" প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের ভিজিটিং ফেলো হামিদরেজা আজিজি বলেন, ইসরাইলের হামলা "কেবল সামরিক সম্পদ নয়, দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করার দিকে এক ধরনের পরিবর্তন" নির্দেশ করে। তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা "জ্বালানি সংঘাতকে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এর প্রভাব বিশ্বায়িত করার একটি পরিকল্পিত কৌশল" নির্দেশ করে। আজিজি বলেন, "ইরানের বর্ধিত পাল্টা আক্রমণ তার কৌশলগত চিন্তার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে: সমানুপাতিক জবাবের পরিবর্তে তেহরান ক্রমশ শত্রুপক্ষ নির্ধারিত সীমানার ঊর্ধ্বে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি নতুন কৌশল অনুসরণ করছে বলে মনে হচ্ছে, যা অতীতের সংযমের কারণে সৃষ্ট ভুল ধারণা সংশোধনের লক্ষ্য রাখে।"
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহনকারী কৌশলগত পানিপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দেশটির একজন সংসদ সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর সম্প্রতি তেহরানের যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সেইসব জাহাজের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, যেগুলোকে তারা শত্রুপক্ষ বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির বরাতে ওই সংসদ সদস্য জানান, পার্লামেন্টে এমন একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, যার অধীনে শিপিং, জ্বালানি পরিবহন এবং খাদ্য সরবরাহের জন্য এই প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলোকে ইরানকে টোল ও ট্যাক্স দিতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটলে 'হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন নীতিমালা' চালু করা হবে। এর ফলে যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের ওপর তেহরান সামুদ্রিক বিধিনিষেধ প্রয়োগ করতে পারবে। মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, মোহাম্মদ মোখবার বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বলেন, 'হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে আমরা (পাশ্চাত্যের ওপর) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারি এবং এই পানিপথ দিয়ে তাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।