প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাসের বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতারণার মামলায় অ্যাডভোকেট শফিক নজরুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত মঙ্গলবার তার চার দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে। আদালতে শফিক নজরুলের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন। কয়েকজন আইনজীবী শফিক নজরুলকে নির্দোষ দাবি করে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে বিচারক চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, শফিক নজরুল ফেইসবুকে পেইজ খুলে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাসের বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন। খুরশীদ আলম নামে এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা দাবি করে পরে ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা নেন। পরে ১২ জুনের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সেই ব্যক্তি অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর শেরেবাংলা নগর থানায় খুরশীদ আলম মামলা করলে সোমবার শফিক নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে আসামি দীর্ঘদিন ধরে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ফেইসবুকে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেন। তাকে রিমান্ডে নিলে চক্রের অন্য সদস্য ও অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন সম্ভব হবে। কয়েকজন আইনজীবী শফিক নজরুলকে নির্দোষ দাবি করে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। এক আইনজীবী বলেন, “তিনি শুধু পরীক্ষার আগে সাজেশন দিয়েছেন। কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বা প্রতারণার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।” শুনানিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি শফিক নজরুল নিজেকে ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়’ বলে দাবি করেন। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, “কোথায় কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি প্রশ্ন বাবদ, এটা কোথাও প্রমাণ নেই। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। “আমি সাজেশন দিয়েছি পরীক্ষার আগে, ১০০টা প্রশ্নে ১০০টাই কমন পড়েছে। আমি একজন এক্সপার্ট। আমি কি সাজেশন দিতে পারব না? এটা মিথ্যে মামলা। আমাকে অর্থ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কাল (সোমবার)। তারপর বেঁধে রেখেছে। পুলিশের কি এই ক্ষমতা আছে?”
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে পৃথক পৃথক স্থানে প্রকাশ্যে এসব গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম নির্ধারণ করা হবে বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়নের গণশুনানি হয় বেতগাড়ী মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গণশুনানি হয় সৈয়দপুরের জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং দিগন্ত ইউনিয়নের গণশুনানি হয় ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামানুসারে নবগঠিত ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নামকরণ করায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ অবস্থায় নামগুলো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত শনিবার (২০ জুন) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি যায় জেলা প্রশাসকের কাছে। এর আগে শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে জেলা প্রশাসককে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দুটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গণশুনানির দিন নির্ধারণ করেন। নিদের্শনা মোতাবেক শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ইউনিয়নের প্রশাসককে গণশুনানি কমিটির আহ্বায়ক করেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনটি স্থানে একযোগে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। যেখানে স্থানীয় লোকজন নতুন নামের বিষয়ে মতামত দেন। সেগুলো থেকে নাম চূড়ান্ত হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভৌগোলিক পরিচিতি ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম নির্ধারণ করা হবে। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম চূড়ান্ত করা হবে।’ গত ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কথা জানানো হয়। এতে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ি’। অপরদিকে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় গঠন করা তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’। চারটি নতুন ইউনিয়নের মধ্যে মীরবাড়ি, সীমান্ত ও দিগন্ত—এই তিনটির নাম নিয়ে মূলত বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামে একটি ইউনিয়ন এবং তার দুই ছেলের নামে দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ি’। তার বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয় এবং নামকরণের প্রক্রিয়া ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপিত হয়। সংসদে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির মাধ্যমে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করেছেন। নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। নিজের দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়ন দুটির নাম মিলে যাওয়াকে মিরাকেলি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো, ‘বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’ এদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ১টার দিকে তিনি সিলেটের সরকারি বাসভবন ত্যাগ করে বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেন। পরে দুপুর ২টার দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, সোমবার (২২জুন) বিকেল ৫টার দিকে তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব ছাড়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিদায়ী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ জুন) সরকার মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে। আজই তার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গত ১৪ জুন একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যান। সেখানে ইমিগ্রেশনের বাধার মুখে তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয়। পরে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। ঘটনাটি নিয়ে নানা রকমের আলোচনা-সমালোচনা হয়। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে ভারত। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, জাহেদ উর রহমান তার ব্যক্তিগত বেসরকারি (প্রাইভেট) পাসপোর্ট নিয়ে দিল্লিতে এসেছিলেন। তার সার্ক ভিসা ছিল। ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় তিনি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন এবং তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও তিনি বৈঠকে যোগ না দিয়ে ঢাকা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, জাহেদ উর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয় উপদেষ্টা। তার পদমর্যাদা প্রতিমন্ত্রীর সমান। দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাকে বসে থাকতে হয়। যদিও বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ নানা পক্ষের তৎপরতায় তাকে শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে পর শেষ পর্যন্ত ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে ডেকে ঢাকার প্রতিবাদপত্র তার হাতে তুলে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনের তৈরি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চীনে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরেও বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় হতে পারে। তবে এ সফরে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই; বরং আলোচনা ও দর-কষাকষির অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত আলোচনা সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়গুলো অবশ্যই আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০টি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে বহরে থাকা পুরোনো যুদ্ধবিমানগুলোর পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমান যুক্ত করে আকাশসীমা সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এর মূল লক্ষ্য। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, দেশের বর্তমান যুদ্ধবিমানগুলোর অনেকগুলোই পুরোনো মডেলের। ফলে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। জে-১০ সিই হলো চীনের বহুল আলোচিত জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানিযোগ্য সংস্করণ। আধুনিক রাডার, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং বহুমুখী যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতার কারণে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের আলোচনা নতুন নয়। গত এক দশকে বিভিন্ন সময় ফ্রান্সের রাফাল, ইউরোপের ইউরোফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’কে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’র ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবার ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। চীনের ডালিয়ান শহরের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে অংশীদারি, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’কে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য করা এবং পাশাপাশি ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’কে কার্যকর করতে হবে। সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। উল্লেখ্য, চীনের ডালিয়ান শহরে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চলছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন দাভোস। ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প কাঠামোর পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, চীনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে— জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠ পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা। বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই কমিটি। ১৯ সদস্যের এই টাস্কফোর্সে স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রতিনিধি, দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রকল্পের প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। টাস্কফোর্সের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব। সভায় আশা প্রকাশ করা হয়, এই উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সারাদেশে মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকার কারণে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ৫ দিন পর বা সপ্তাহের শেষদিকে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়ার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ভারতে প্রায় হাজার বছরের পুরোনো মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তাঁর এ মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিদ্বেষপ্রসূত পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার ইসলামাবাদের নেই। ভারতের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে জারদারির এক্সে শেয়ার করা একটি পোস্টের পর। সেখানে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদা এবং ভারতের বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়, ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনার মধ্যে বারাণসীর হাজার বছরের পুরোনো মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদাও রয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভারতকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতকে বিচ্ছিন্নতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান। জারদারির এই মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্য ভিত্তিহীন এবং ভারত তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, যা হোক, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অবস্থান বা অধিকার তাঁর নেই। জয়সওয়াল আরও বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের নিজস্ব রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের মন্তব্য আরও বেশি অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘পাকিস্তানের নিজস্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ও নিপীড়নের যে ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে, তা সুপরিচিত।’ ভারতের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো দেশটিতে ধর্মভিত্তিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ভারত বলেছে, ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলা পাকিস্তানে এখনও অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকারি নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আইনও এ পরিস্থিতিকে উৎসাহিত করছে। রণধীর বলেন, জারদারির মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতানির্ভর রাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে কেবল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখা যায়, যা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও ঘৃণানির্ভর জাতীয় নীতির দ্বারা পরিচালিত।’ ভারতের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় এবং এ ধরনের বিষয়ে পাকিস্তানের মন্তব্য দেশটি আগেও একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ৪৬টি নির্ধারিত মার্কিন কোম্পানির তৈরি পণ্য কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো তালিকাভুক্ত মার্কিন কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত পণ্য কিনতে পারবে না। নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন এবং রেথিয়ন মিসাইল ও প্রতিরক্ষাসহ মোট ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠান। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার আওতায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। তবে চীনে পরিচালিত মার্কিন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আদেশটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। সূত্র: সিনহুয়া।
পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সম্মাননাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানোর পর জেলেনস্কি এই পদক্ষেপ নেন। ২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা ইউক্রেনীয় নেতা জেলেনস্কিকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত করেছিলেন। তবে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের বিতর্কিত ইউক্রেনীয় ইনসার্জেন্ট আর্মি (ইউপিএ)-এর নামে একটি সামরিক ইউনিটের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইউক্রেনের অনেকের কাছে ইউপিএ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও পোল্যান্ডের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভলহিনিয়া অঞ্চলে হাজারো জাতিগত পোলিশ নাগরিক হত্যার সঙ্গে গোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্টতা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে জেলেনস্কির রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি জানান, অতীতের সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক ইতিহাস নিয়ে বিরোধ এড়িয়ে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখতে ইউক্রেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি পোল্যান্ডের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কিয়েভ কৃতজ্ঞ। জেলেনস্কির প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউক্রেনের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পোল্যান্ডের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে, তবুও পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি স্পষ্ট করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রতি পোল্যান্ডের সামরিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শুরু থেকেই পোল্যান্ড ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। দেশটি লাখো ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কেন্দ্রীয় করিডর হিসেবেও কাজ করছে।
ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র দুই নম্বরের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও স্বপ্ন থেকে সরে যাননি ভারতের তরুণ সংকেত কুমার। অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি এখন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোতে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ভারতের মেরঠের দিওয়ান পাবলিক স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী সংকেত ২০২১ সালে জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় মাত্র দুই নম্বরের জন্য উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন। অনেকেই তাকে বিকল্প পথে এগোনোর পরামর্শ দিলেও তিনি নিজের লক্ষ্যে অটল ছিলেন। কোনো কোচিংয়ের সহায়তা ছাড়াই ইউটিউব লেকচার, পুরোনো প্রশ্নপত্র ও স্বশিক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুতি নিয়ে পরের বছর জেইই মেইন ও জেইই অ্যাডভান্সড—উভয় পরীক্ষায় সফল হন। পরে তিনি তিরুবনন্তপুরমের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইআইএসটি) অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। আইআইএসটিতে পড়াশোনার সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে প্রোপালশন বা অ্যারোডাইনামিক্স বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে সংকেত ‘ভাইব্রেশনস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস’ বিষয়ে বিশেষায়িত পড়াশোনা করেন। তার ব্যাচে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি এই বিষয়টি নির্বাচন করেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি জাপানের শিনরা ইনকর্পোরেশনের একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। তিন মাসের ওই অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করে। আইআইএসটি থেকে ৮.২ সিজিপিএ অর্জনের পর ইসরোর নিয়োগ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন সংকেত। সফলভাবে সব ধাপ অতিক্রম করে তিনি বিজ্ঞানী হিসেবে নির্বাচিত হন। তার প্রথম কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে মহেন্দ্রগিরির ইসরো প্রোপালশন কমপ্লেক্সে, যেখানে রকেট উৎক্ষেপণের আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালিত হয়। নিজের এই অর্জনের কৃতিত্ব পরিবারকে দিয়েছেন সংকেত। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে পরিবারের সমর্থনই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। বিশেষ করে তার ভাইয়ের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা তার যাত্রাপথকে সহজ করেছে। সংকেতের এই গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা—একটি ব্যর্থতা কখনোই জীবনের শেষ নয়; দৃঢ় সংকল্প ও পরিশ্রম থাকলে সাফল্যের দরজা একদিন খুলবেই।
ভারতে প্রায় হাজার বছরের পুরোনো মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তাঁর এ মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিদ্বেষপ্রসূত পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার ইসলামাবাদের নেই। ভারতের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে জারদারির এক্সে শেয়ার করা একটি পোস্টের পর। সেখানে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদা এবং ভারতের বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়, ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনার মধ্যে বারাণসীর হাজার বছরের পুরোনো মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদাও রয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভারতকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতকে বিচ্ছিন্নতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান। জারদারির এই মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্য ভিত্তিহীন এবং ভারত তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, যা হোক, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অবস্থান বা অধিকার তাঁর নেই। জয়সওয়াল আরও বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের নিজস্ব রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের মন্তব্য আরও বেশি অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘পাকিস্তানের নিজস্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ও নিপীড়নের যে ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে, তা সুপরিচিত।’ ভারতের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো দেশটিতে ধর্মভিত্তিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ভারত বলেছে, ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলা পাকিস্তানে এখনও অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকারি নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আইনও এ পরিস্থিতিকে উৎসাহিত করছে। রণধীর বলেন, জারদারির মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতানির্ভর রাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে কেবল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখা যায়, যা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও ঘৃণানির্ভর জাতীয় নীতির দ্বারা পরিচালিত।’ ভারতের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় এবং এ ধরনের বিষয়ে পাকিস্তানের মন্তব্য দেশটি আগেও একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।