এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ক্ষমতায় বসেই দেশের সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিধি বহির্ভূতভাবে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অভিযোগ করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সেখানে নির্দিষ্টভাবে কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। প্রজ্ঞাপনটি দেখে মনে হয়েছে যে, আমৃত্যু হয়তো তারা প্রশাসক হিসেবে থাকবেন। অথচ সরকারের যেকোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সময়সীমা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।’ তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার ভয়ের রাজনীতি কায়েম করতে চাইছে। নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির এমন কর্মকাণ্ড বিধি বহির্ভূত, যা নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণকে প্রত্যেক কাজে নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সেই বিবেচনায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করার প্রয়োজন এবং এই বিষয়ে সরকারে পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আমরা এখনো পাইনি। আমরা আশা করি যে, তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের টাইম লাইনটা দেশের জনগণকে দেবে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রাচীন শহর লখনৌতে পারিবারিক বিরোধের এক মর্মান্তিক পরিণতি সামনে এসেছে। ২১ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসক হওয়ার চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে তিনি নিজের বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, যার একটি অংশ মিলেছে বাড়ির ভেতর ড্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী মানবেন্দ্র সিং, ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসায়ী, মদের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে একটি ড্রামের ভেতর মরদেহের অংশ উদ্ধার করে। এরপর ছেলে অক্ষত প্রতাপ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে ঘটনার বিস্তারিত সামনে আসে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অক্ষত হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, তার বাবা চাইতেন তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে চিকিৎসক হোন। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক হতো। একবার এই বিরোধের জেরে অক্ষত বাড়ি ছেড়েও চলে গিয়েছিল। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আবারও তাদের মধ্যে তর্ক হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন অক্ষত রাইফেল দিয়ে বাবাকে গুলি করে। এরপর তৃতীয় তলা থেকে মরদেহ নিচে নামিয়ে একটি খালি ঘরে টুকরো করে। এ সময় তার বোন ঘটনাটি দেখে ফেললেও তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়। পরে দেহের অংশ প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরা হয়। পুলিশ জানায়, কিছু অংশ সাদারুনা এলাকায় ফেলে দেওয়া হয় এবং ধড়সহ কয়েকটি অংশ বাড়ির ভেতরে একটি নীল ড্রামে রাখা হয়। অক্ষতের স্বীকারোক্তির পর ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। বাড়ি থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অক্ষতকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। লখনৌর আশিয়ানা এলাকার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বিক্রান্ত বীর বলেন, প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
বেকারিতে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য রাখা হয়েছে ডালডা। সেই ডালডার ভিতরে মরে ভাসছিল ইঁদুর। এ ডালডা দিয়েই তৈরি হচ্ছিল নানান রকমের মুখরোচক খাবার। চুয়াডাঙ্গা শহরতলির বঙ্গজপাড়ায় ‘মৌসুমি ফুড’-এর কারখানায় অভিযান চালালে এ চিত্র দেখতে পায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শহরের রেলবাজার এলাকার ‘অনন্যা ফুড’-এ জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, যা বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভেজাল পণ্যে সয়লাব বাজার। ইফতারে বাহারি শরবত, রকমারি খাবারে ফুড গ্রেডের নামে ব্যবহার করা হচ্ছে কারখানায় ব্যবহৃত রং। দীর্ঘদিনের পোড়া তেলে ভাজা হচ্ছে বেগুনি, পিঁয়াজু, চাপ। এসব রাসায়নিক উপাদানে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কিডনি, লিভার, ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করে ক্ষতিকর রাসায়নিক শনাক্ত করি। সম্প্রতি কেওড়া জল, গোলাপজল পরীক্ষা করে অননুমোদিত রাসায়নিক পাওয়া গেছে। এসব ক্ষতিকর পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে ব্যবসায়ীদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক উপাদান, রঙে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের বেশ কিছু সংকট আছে। প্রতি জেলায় মাত্র একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ল্যাবরেটরি না থাকায় বাইরে থেকে নমুনা পরীক্ষা করাতে হয়। এসব ল্যাবরেটরির সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এর সমাধানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনায় ল্যাব স্থাপন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ ভেজাল ও দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয়। এর মধ্যে মারা যায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সে আক্রান্ত ৪৩ শতাংশ শিশুর মধ্যে মৃত্যুবরণ করে ১ লাখ ২৫ হাজার। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে প্রতি বছর দেশে ৩ লাখ লোক ক্যানসারে, ২ লাখ কিডনি রোগে, দেড় লাখ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া গর্ভবতী মা ১৫ লাখ বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেন। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে হেপাটাইটিস, কিডনি, লিভার ও ফুসফুস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও দিনদিন বেড়ে চলেছে। ২০১৫ সালে দিনাজপুরে কীটনাশক-মিশ্রিত লিচুর বিষক্রিয়ায় আট এবং ২০১২ সালে ১৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটে। সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের অধ্যাপক স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাইরে থেকে কেনা খাবারে বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদান মেশানো হয়। শরীরের জন্য ক্ষতিকর রং, প্রিজারভেটিভ, ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। মুখরোচক করার জন্য অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে। লিভারের সমস্যার পাশাপাশি কিডনির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এসব খাবার। অনেক উপাদান দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করে এবং দুরারোগ্য রোগ জন্ম দেয়। তাই এসব খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। বাড়িতে স্বাস্থ্যকর উপায়ে বানানো খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।’ ব্যবসায়ীদেরও খাবারে ভেজাল দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে খাদ্যে ভেজাল দেওয়া এবং ভেজাল খাদ্য বিক্রির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ১৪ বছরের কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে এ আইনে। জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ২০১৮ সালে সারা দেশে ৪৩টি ভোগ্যপণ্যের (খাদ্যদ্রব্য) ৫ হাজার ৩৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর এই ৪৩ পণ্যেই ভেজাল পাওয়া গেছে। বর্তমানে বাজারে খাদ্যসামগ্রীর মানের অবস্থা একই। এ ব্যাপারে শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ‘ভেজাল খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে বাসা বাঁধে রোগব্যাধি। ক্ষতিকর রং, বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান, পোড়া তেল খাওয়ার ফলে পেটে সমস্যা হয়। ধীরে ধীরে আলসার হয়, একটা সময় লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব খাবার খেলে হার্ট, কিডনি সমস্যা এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হয়। গর্ভবতী নারীর জন্য এসব ভেজাল খাবারের ক্ষতি কয়েক গুণ বেশি। গর্ভের শিশু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভেজাল খাবারে। এটা প্রাণিকুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেন, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহণ করেছেন। আমি তাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে তাদের সাম্প্রতিক নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানাই। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনেক বাংলাদেশি গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, মানবাধিকার এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশা নিয়ে নির্বাচনগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। গ্রেস মেং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য এবং আমার জেলার বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।
বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বিদ্রোহ ও পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআরের বিপথগামী সদস্যরা কতিপয় দাবিদাওয়ার নামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে পিলখানায় নারকীয় তাণ্ডব চালায়। ওই দুই দিনে তারা বাহিনীর তখনকার মহাপরিচালকসহ (ডিজি) ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও নারী ও শিশুসহ আরও ১৭ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর বাহিনীর নিজস্ব আইনে বিচার করে অনেককেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ছাড়াও আরও ৪২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাই কোর্টে আপিলের রায়ে ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। হাই কোর্টে আপিল চলার সময়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। খালাস পান ১২ জন আসামি। নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছিল, তাদের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাই কোর্ট। এ ছাড়া সাত বছর করে চারজনকে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়। এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে আরও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন জজ আদালত। তাদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, আটজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, চারজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ২৯ জনকে খালাস দেন হাই কোর্ট। বিভাগীয় মামলায় চাকরিচ্যুতসহ সাজা দেওয়া হয় আরও অনেককে। ২০০৯ সালের নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের পর পুরো বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে বাহিনীর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলঙ্কিত সেই ইতিহাস ও ক্ষত ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এখনো। বিদ্রোহীদের হাতে নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের পর বিডিআর বিদ্রোহের প্রায় দেড় দশক পর অন্তর্র্বর্তী সরকার ঘটনার পুনঃতদন্ত শুরু করে। গঠন করা হয় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন, যার লক্ষ্য পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করা। বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানায় সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা দাবি করেন, ইতিহাসের এই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে জাতির অনেক প্রশ্ন ছিল, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে। এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বহু বিষয় এসেছে। জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে এটি। কমিশনের প্রধান ফজলুর রহমান ওই হত্যাযজ্ঞের মূল কারণ সম্পর্কে বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড হওয়ার অনেক কারণ আছে। এক হলো- বিডিআরের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। যেমন ডাল-ভাত কর্মসূচি একটা, তারপর বিডিআর শপ তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে বিডিআর সদস্যদের ডিউটি অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। এটা বিডিআরের ক্লাসিক্যাল বিষয়ের সঙ্গে যায় না। কিছু বিডিআর সদস্য যেভাবেই প্রণোদিত হয়ে থাকুন, তারা সেনাবাহিনীর অফিসারদের এখানে চাচ্ছিলেন না। এটা একটা ছিল। আর বিডিআরের মধ্যে অনেক টানাপোড়েন ছিল, যেগুলো আমরা বের করতে সক্ষম হয়েছি। এ রকম অনেক কারণ ছিল এই হত্যাকাণ্ড সংঘটনে। এ ছাড়া ওই সময়ের সরকার তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে দুর্বল করতে চেয়েছিল। কী ঘটেছিল সেদিন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় পিলখানা সদর দপ্তরে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) দরবার হলে শুরু হয় বার্ষিক দরবার। বিডিআর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বক্তব্যের একপর্যায়ে বিডিআরের কিছু বিদ্রোহী সৈনিক অতর্কিত হামলা চালায় দরবার হলে। এরপর ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করেন। পুরো পিলখানায় এক বীভৎস ঘটনার সৃষ্টি হয়। নানা নাটকীয়তায় পিলখানার ভিতরের নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞ শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিদ্রোহের অবসান ঘটলে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ। ২৭ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ভিতরে সন্ধান মেলে একাধিক গণকবরের। সেখানে পাওয়া যায় তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, তাঁর স্ত্রীসহ সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিডিআরের সাবেক ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়। সর্বশেষ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ২৫০ জন বিডিআর জওয়ানকে জামিন দেন আদালত। ২৩ জানুয়ারি ১৭৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য। ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। আজকের কর্মসূচি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ ব্যক্তিদের স্মরণে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শাহাদাতবার্ষিকী পালন করবে বিজিবি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিকালে ক্যান্টনমেন্টে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভাষা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানানো হয়, চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এও চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহ পরিদর্শন করে কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবে। শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে। চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি প্রতিষ্ঠানে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের মাধ্যমে ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবে আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প চালু রয়েছে। চীনা পক্ষ জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশে তারা সফলভাবে চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ করেছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল নির্মাণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা চীনা পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীনে স্টাডি ট্যুরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তারা সরেজমিনে কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে সুপারিশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ক্ষমতায় বসেই দেশের সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিধি বহির্ভূতভাবে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অভিযোগ করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সেখানে নির্দিষ্টভাবে কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। প্রজ্ঞাপনটি দেখে মনে হয়েছে যে, আমৃত্যু হয়তো তারা প্রশাসক হিসেবে থাকবেন। অথচ সরকারের যেকোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সময়সীমা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।’ তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার ভয়ের রাজনীতি কায়েম করতে চাইছে। নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির এমন কর্মকাণ্ড বিধি বহির্ভূত, যা নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণকে প্রত্যেক কাজে নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সেই বিবেচনায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করার প্রয়োজন এবং এই বিষয়ে সরকারে পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আমরা এখনো পাইনি। আমরা আশা করি যে, তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের টাইম লাইনটা দেশের জনগণকে দেবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটিবিষয়ক অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিকল্প সভাপতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সহায়তাদানকারী কর্মকর্তারা হলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব। এ কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। কমিটির কার্যপরিধি : সব বিনিয়োগ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এবং টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিএপিপি) ও টেকনিক্যাল প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিপিপি) বিবেচনা ও অনুমোদন করা। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি খাতে ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে মোট বিনিয়োগ ব্যয় সংবলিত প্রকল্পসমূহে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সুপারিশ বিবেচনা ও অনুমোদন। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এই কমিটি। বেসরকারি উদ্যোগ, যৌথ উদ্যোগ অথবা অংশগ্রহণমূলক বিনিয়োগ কোম্পানিসমূহের প্রস্তাব বিবেচনা করবে কমিটি। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবীক্ষণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারণী বিষয়সমূহ পর্যালোচনা এবং বৈদেশিক সহায়তার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা ও অনুমোদন এবং উক্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে কমিটি। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কমিটির বৈঠক প্রয়োজনানুসারে অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট জারি করা আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল বলে গণ্য হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার পথে তিনি অসুস্থ হন। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত-এর নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা জানান, ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল এবং তিনি রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথে হঠাৎ বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি সবার কাছে জামায়াত আমিরের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন। একই সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা জামায়াত আমিরের জন্য দোয়া করি—আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থ করে দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলের সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য না করার আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-এর মাধ্যমে। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে ভুয়া নাম প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়রা মনোনয়ন পাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। জামায়াতে ইসলামী বলেছে, দল একটি ইসলামী, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নসহ দলের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেওয়া হয়। আত্মীয়তা বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। নারী সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া গঠনতান্ত্রিক ও মহিলা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হবে। সংগঠন দেশের মানুষকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
আইসিসি ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সবার ওপরে থেকে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এ নিয়ে টানা সপ্তমবার সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপে অংশ নেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথমবার স্বাগতিক হিসেবে অংশগ্রহণের পর পরের প্রতিবার বাছাই পেরিয়ে বাংলাদেশ মূল আসরে পৌঁছেছে। তবে মূল আসরে এখনও কোনোবারই গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি তারা। নেপালে বাছাই পর্বে দাপট দেখিয়ে সাত ম্যাচের সাতটিতেই জয় নিয়ে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করেছে। এখন সবাই অপেক্ষায় ছিল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সূচির। বর্তমানে চলছে ছেলেদের টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইটের লড়াই। এ সময়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নারী টি-২০ বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ করেছে। আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবে নারীদের ২০ ওভারের বিশ্বকাপের দশম আসর। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মোট ১২ দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলোকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, প্রতিটি গ্রুপে ছয়টি দল থাকবে। আইসিসির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে উপমহাদেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন রেকর্ড ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, সবশেষ দুই আসরের রানার্সআপ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডস। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড, প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ২০১৬ সালের শিরোপাজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সঙ্গে শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের পাঁচটি ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে পাঁচটি ভিন্ন ভেন্যুতে। জ্যোতির নেতৃত্বাধীন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা ১৪ জুন এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ শুরু করবে। এতে জয় দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার সুযোগ রয়েছে। ১৭ জুন লিডসে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগ্রেসদের প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। ২০ জুন হ্যাম্পশায়রে বাংলাদেশ-পাকিস্তান মুখোমুখি হবে। পাকিস্তান ও ভারত ম্যাচগুলো বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। ২৫ জুন ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৮ জুন লর্ডসে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। অধিনায়ক নিগার জ্যোতি বলেছেন, আমরা আগে কখনো ইংল্যান্ডে খেলিনি, তাই রোমাঞ্চিত। তবে জানি এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। বড় আসরের জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে আমরা সেরা ক্রিকেট খেলতে চাই এবং দেশের জন্য ম্যাচ জিততে চাই।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রাচীন শহর লখনৌতে পারিবারিক বিরোধের এক মর্মান্তিক পরিণতি সামনে এসেছে। ২১ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসক হওয়ার চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে তিনি নিজের বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, যার একটি অংশ মিলেছে বাড়ির ভেতর ড্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী মানবেন্দ্র সিং, ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসায়ী, মদের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে একটি ড্রামের ভেতর মরদেহের অংশ উদ্ধার করে। এরপর ছেলে অক্ষত প্রতাপ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে ঘটনার বিস্তারিত সামনে আসে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অক্ষত হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, তার বাবা চাইতেন তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে চিকিৎসক হোন। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক হতো। একবার এই বিরোধের জেরে অক্ষত বাড়ি ছেড়েও চলে গিয়েছিল। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আবারও তাদের মধ্যে তর্ক হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন অক্ষত রাইফেল দিয়ে বাবাকে গুলি করে। এরপর তৃতীয় তলা থেকে মরদেহ নিচে নামিয়ে একটি খালি ঘরে টুকরো করে। এ সময় তার বোন ঘটনাটি দেখে ফেললেও তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়। পরে দেহের অংশ প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরা হয়। পুলিশ জানায়, কিছু অংশ সাদারুনা এলাকায় ফেলে দেওয়া হয় এবং ধড়সহ কয়েকটি অংশ বাড়ির ভেতরে একটি নীল ড্রামে রাখা হয়। অক্ষতের স্বীকারোক্তির পর ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। বাড়ি থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অক্ষতকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। লখনৌর আশিয়ানা এলাকার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বিক্রান্ত বীর বলেন, প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
বয়সের মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধ হাকিম বাবরের প্রেমে পড়েন ২২ বছরের তরুণী। এরপর ওই বৃদ্ধকে বিয়ে করেন তিনি। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির চাকলালার এ বিয়ে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অসম বয়সের এ বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের বাড়িতে ভিড় জমান। এরসঙ্গে তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ঝড়। অনেকে ওই বৃদ্ধের সমালোচনা করেছেন। তবে যারা তার সমালোচনা করেছেন তাদের বেশ কড়া উত্তর দিয়েছেন তিনি। হাকিম বাবর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বলেন, বয়স শুধুমাত্র একটি নম্বরই হওয়া উচিত। সবার মনের দিক দিয়ে তরুণ হওয়া উচিত। আমার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী একজন ডিভোর্সি ছিলেন। আর ডিভোর্সিকে বিয়ে করা আল্লাহর নির্দেশ ও নবীর সুন্নাহ। আমি সেই অনুযায়ী বিয়ে করেছি। তাহলে আমি ভুল কি করলাম? তিনি আরও বলেন, আমি অনৈতিক কিছু করিনি। তাহলে মানুষ কেন নেতিবাচক মন্তব্য করছে? এমনকি যারা আমাদের নিয়ে সমালোচনা করছে, তাদের মেয়ে বন্ধু অথবা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আছে। কিন্তু তাও তারা বিয়ে করে না। এর বদলে তারা মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের ভান ও প্রতারণা করে। তার স্ত্রীও একই সুরে বলেছেন, যখন কারও মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা হয়, তখন বয়স কোনো বিষয় হওয়া উচিত নয়। কারও মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পেলে বিয়েতে দেরি করা উচিত নয়। হাকিম বাবর জানিয়েছেন, আগামী ঈদুল ফিতরের পর তরুণী স্ত্রীকে নিয়ে তিনি প্রথমে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে যাবেন। এরপর নেদারল্যান্ডসে যাবেন ঘুরতে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করার পর, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা করা’ দেশগুলোর ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর ট্রাম্প আরোপিত বেশিরভাগ শুল্ক বাতিলের সিদ্ধান্ত আসার পর শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তিগুলোর কী হবে—বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তা মূল্যায়ন করছে; এর পরই এই সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করবে। আর চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে ভারত। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে, এই রায় ব্যবহার করে গত বছরের বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার বিষয়ে দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। ‘যে কোনো দেশ, যারা সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত সামনে এনে ‘খেলতে’ চায়, বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে এমনকি দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ছিঁড়ে খেয়েছে’, তাদের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে, যা সম্প্রতি রাজি হওয়া শুল্কের চেয়েও খারাপ। ক্রেতা সাবধান’, ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন তিনি। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ট্রাম্প ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে। তখন থেকেই এরকম বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। আদালত বলেন, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ শুল্ক মূলত আমদানি পণ্যের ওপর আরোপিত একটি কর, যা দেশে পণ্য আনা ব্যবসায়ীদের পরিশোধ করতে হয়। আদালতের এমন সিদ্ধান্তের পর, ভিন্ন একটি আইনের অধীনে বিশ্বব্যাপী নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করে প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। পরে তা দ্রুতই ১৫ শতাংশে উন্নীত করেন তিনি। এই ব্যবস্থা, আজ মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের প্রাথমিক শুল্ক আরোপের পর যেসব বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনেক দেশ এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। সে সময় অনেক দেশ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সহজ করাসহ অন্যান্য ছাড়ের বিনিময়ে তাদের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে চেয়েছিল। সোমবার যুক্তরাজ্য জানায়, তাদের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকবে কি না—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। আগের চুক্তিতে শুল্ক হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্কের চেয়ে কম। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আমি স্বীকার করি। তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাজ্য ‘সব ধরনের বিকল্প’ বিবেচনায় রাখছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্নড ল্যাঞ্জ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জুলাইয়ে অনুমোদিত চুক্তির বিষয়ে স্পষ্টতা না পাওয়া পর্যন্ত কমিটি তাদের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন আগের চেয়েও বেশি অনিশ্চিত। যদিও এই রায়ের ফলে বাণিজ্যের প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। জোর দিয়ে বলা হয়েছে, শুল্ক আরোপের জন্য এখন অন্যান্য আইনের দিকে ঝুঁকছে তারা। শুক্রবার ১২২ ধারা প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প, যা আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। এ আইনের আওতায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া তিনি ৩০১ ধারার আওতায় তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি পৃথক বাণিজ্য আইন, যার মাধ্যমে কোনো দেশের ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য চর্চার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারেন। ট্রাম্পের আরোপিত নতুন এই শুল্ক ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির মতো নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর, পূর্ব ঘোষিত শুল্কের পাশাপাশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যা আদালতের রায়ে প্রভাবিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার রোববার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমরা আমাদের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের নতুন উপায় খুঁজে পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের আইনি পদ্ধতি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। রোববার সিবিএস নিউজের সাথে একটি পৃথক সাক্ষাৎকারে গ্রিয়ার বলেন, হোয়াইট হাউস তাদের করা বাণিজ্য চুক্তিগুলো ‘বহাল’ রাখবে। ‘আমরা আশা করি আমাদের অংশীদাররাও পাশে থাকবে,’ বলেন তিনি। সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারের দাম প্রায় এক শতাংশ কমেছে, যা বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক ১৫০ দিন পরে শেষ হওয়ার কথা, যদি না কংগ্রেস তাদের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেয়। এদিকে, সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা শুল্ক বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টায় বাধা দেবে। এছাড়া ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক কিছু রিপাবলিকানের কাছেও অপ্রিয়। শুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞকে আরও এগিয়ে নিতে রাজি হবেন না। অন্যদিকে, সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কের জন্য তার কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এ অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ বলে বিশ্লেষকদের মত। ভূমধ্যসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি আকাশ নজরদারির জন্য একাধিক ই-৩ সেন্ট্রি সতর্কীকরণ বিমান পাঠানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কি সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটছে, নাকি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০-২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাপে পড়বে। অন্যদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ১০-১৫ দিনের মধ্যে ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে। এমন বক্তব্য প্রশাসনকে এক ধরনের চাপের মধ্যেও ফেলেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও সংঘাত নিয়ে সতর্ক। দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার সমস্যায় দুর্বল। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি তীব্র হয়েছে। এমন অবস্থায় যুদ্ধ শুরু হলে তা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে। তবে ইরানের নেতৃত্ব প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। তারা বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, আলোচনায় ‘শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ বন্ধের কোনো শর্ত তোলা হয়নি। বরং আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখা। এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘সীমিত’ মাত্রায় প্রতীকী সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে, যদি তা থেকে বোমা তৈরির পথ বন্ধ থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সমঝোতা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পথ নিতে পারে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করা হবে। তবে এমন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে পরিস্থিতি দ্রুত বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ফলে দুপক্ষই এখন বড় ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। সে কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত হলেও একটি সমঝোতার সম্ভাবনাই তুলনামূলক বেশি। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।