সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
জাপানের জেরা’র কাছ থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তাব আলোচনা

জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেরা গ্লোবাল মার্কেটস প্রাইভেট লিমিটেডের (জেরাজিএম) কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব আলোচনা করেছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি|   তবে প্রস্তাবটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ কর্তৃক যাচাইয়ের পর পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে|   অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে শনিবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত চলতি বছরের ৩৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়|   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়|   প্রস্তাবে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯(২) বিধি অনুসরণ করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে জেরাজিএমের কাছ থেকে এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয়|   এ ছাড়া পেট্রোবাংলা ও জেরাজিএমের মধ্যে ¯^ল্পমেয়াদি এলএনজি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) ও টার্ম শিটের চূড়ান্ত করা নমুনায় স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদনও চাওয়া হয়|   আলোচনা শেষে কমিটি প্রস্তাবটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের যাচাই গ্রহণের পর পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়|

৪ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার নিজের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় আগাম ভোট দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়ছে তার দল রিপাবলিকান পার্টি।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ফ্লোরিডায় ভোট দেওয়ার পর জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে যান।   ভোট দেওয়ার পর ট্রাম্প জানান, তিনি শুধু নিজ দলের প্রার্থীদেরই ভোট দিয়েছেন।   ভোটারদের কাছে দুর্নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলা ও শহরগুলোতেই দুর্নীতি হচ্ছে।   তিনি বলেন, ‘প্রকৃত দুর্নীতির দিকে নজর দেওয়া উচিত— এটি ডেমোক্র্যাটদের দুর্নীতি।’   ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসা ট্রাম্প শনিবারও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তার এ অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।   ওয়েস্ট পাম বিচে পাম বিচ কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ২০১৬ সালে নির্বাচনে লড়েছি এবং জিতেছি।’   তিনি আরও বলেন, ‘২০২০ সালেও জিতেছিলাম, কিন্তু ফলাফল সেভাবে আসেনি। ওই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল, কিন্তু আমি লাখ লাখ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলাম।’   মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। সাধারণত হোয়াইট হাউসের বাইরে থাকা দলের পক্ষে ফল যাওয়ার প্রবণতা থাকায় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   বিভিন্ন জনমত জরিপে দলটির প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ও সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ দুই বছরে আইন প্রণয়ন ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বড় বাধার মুখে পড়তে পারেন।   এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক তদন্ত শুরু হতে পারে।

১৭ মিনিট আগে
ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে যান।   এ সময় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।   রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

২০ মিনিট আগে
হেবরনে ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদ করল ইসরাইলি বাহিনী

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে শনিবার অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে ইসরাইলি বাহিনী।   এর এক দিন আগে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীর গুলিতে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হয়। পরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ওই দুই হামলাকারীও নিহত হন। এ ঘটনার জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে মাইক দিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় সেনারা। এরপর তারা যতটা সম্ভব জিনিসপত্র গুছিয়ে এলাকা ছাড়েন।   ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, দুই হামলাকারীর বসবাসের এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হেবরনে হামাস-সংক্রান্ত সব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।   ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার পশ্চিম তীরের ৪০টি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ প্রায় ৪০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উসকানি, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনরাও রয়েছেন বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।   শুক্রবারের হামলার দায় স্বীকার না করলেও হামলাকারীদের প্রশংসা করেছে হামাস। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।   নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে দেখা যায়নি— এমন ব্যাপক পরিসরের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।   ইসরাইলের ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ জানিয়েছেন, শুক্রবারের হামলার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘অবৈধ স্থাপনার একটি সারি অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছেন। স্মোত্রিচ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পশ্চিম তীরের বেসামরিক বিষয়গুলো তদারকির দায়িত্বেও রয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘যারা আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করবে, তারা দ্রুত বুঝতে পারবে যে এর জন্য তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’   হেবরনের আইন দেইর বাহা এলাকায়, দুটি পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত পাড়াটির পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে ক্রস চিহ্ন দেওয়া দেখা গেছে। রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। সেখানে কেবল ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দুটি সামরিক যান দেখা যায়। পাহাড়ের ঢালে একটি বাড়িতে ইসরাইলি পতাকা টাঙানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেনারা বাড়িটি দখলে নিয়েছে।   এলাকার দোকানি ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ৭০ বছর বয়সী হিগাজি শাওয়ার আল-তামিমি জানান, রাত ১টার দিকে সেনা ও এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন।   তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কত দিন এই উচ্ছেদ চলবে। তারা বলেছিলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।’   তিনি জানান, জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়েছিল। অনেক বাসিন্দার জন্য এলাকা ছেড়ে বের হওয়াও ছিল কঠিন।   তামিমি বলেন, ‘যেমন, আমার স্ত্রীর ৯০ বছর বয়সী মা এই এলাকাতেই থাকেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাকে বহন করে বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছে।’   তামিমির অভিযোগ, নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের রক্তের বিনিময়ে নির্বাচনে জয়ী হতে চান বলেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।   তিনি বলেন, ‘আমি দখলদারত্বের সব পর্যায় দেখেছি। আমি এখানেই থাকব, এখানেই মারা যাব।’   তার ভাই ৬৮ বছর বয়সী খালেদ শাওয়ার আল-তামিমি উচ্ছেদের পর ছেলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।   তিনি বলেন, ‘সেনারা মাইকে ঘোষণা দিচ্ছিল, ‘এলাকা ছেড়ে চলে যান।’ তাই আমরা চলে এসেছি।’   শুক্রবারের হামলাকারীরা তাদের পাড়ার বাসিন্দা—এ কথা শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান। তার ভাষায়, এলাকাটি মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাসের জায়গা এবং সেখানকার বাসিন্দারা আইন মেনে চলেন।   ছেলের বসার ঘরে বসে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো গুলির শব্দ শুনিনি, এমনকি এমন কিছু ঘটতেও দেখিনি।’   তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমাকে কেন নিজের বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত হতে হবে? হামলাকারীরাই কাজটি করেছে। ইসরাইল সরকার যদি তাদের শাস্তি দিতে চায়, তাহলে তাদের শাস্তি দিক।’   হেবরনের গভর্নর খালেদ দুদিন এএফপিকে বলেন, সেনাবাহিনী প্রথমে হামলাকারীদের পাড়ায় অভিযান শুরু করেছে। তবে অভিযান আরও বিস্তৃত হবে না— এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।   তিনি এ পদক্ষেপকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।   গভর্নরের হিসাবে, এ ঘটনায় ১৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি ও স্থানীয় অধিকারকর্মী ঈসা আমরোর হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ২৫০।

২২ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   সফরকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।   প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন।   সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন।   সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।   সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন।   একই দিন জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   সন্ধ্যায় তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন।   সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।   শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   বিশেষ করে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়গুলো সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।   একই দিন প্রধানমন্ত্রী জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।   সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। পরে তিনি জাপানের তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।   একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও তাঁর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।   এ ছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। জাপানের আরও ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।   এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   বিকেলে টোকিওর জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।   একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।   সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন।   পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।   নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।   এরপর বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়।   পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে।   এসব খাতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে পৃথকভাবে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে।   পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।   গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।   স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটি ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।   স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন সময়ে উচ্চপর্যায়ের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেন। এসব সফরের ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।   এই সফরে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।   প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন।   বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত।   এতে পরিবহন ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।   এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৫, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ঝুঁকি না কাটলে চালু হচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট: মুখপাত্র

সাইবার হামলার ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট তিন দিন পরও খুলে দেওয়া হয়নি। ঝুঁকি না কাটা পর্যন্ত তা বন্ধ রাখার কথা বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   তবে ওয়েবসাইটটি রোববার সকালে খুলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখার তথ্য দিয়েছেন কর্মকর্তারা।   বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান শনিবার রাতে বলেন, ‘‘প্রস্তুতি আছে খুলে দেওয়ার, তবে ঝুঁকি এখনো (রাত সাড়ে ৮টা) আছে। বিশ্বব্যপী ঝুঁকি যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ চালু করা হবে না ওয়েবসাইট। আইটি টিম সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।   বৈশ্বিক সাইবার হামলার সম্ভ্যাব্য ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ওয়েবসাইটটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   টানা পাঁচ দিন ছুটির পর সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ব্যাংক খোলার সূচির সঙ্গে মিল রেখে ওয়েবসাইট চালুর করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর আক্রান্ত হতে পারে, এমন ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার তরফে।   দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট করতে না পারলে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। এমন ঘোষণার পরই বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতামূলক পদক্ষেপে পথে হাঁটে।   বৃহস্পতিবার মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, বৈশ্বিকভাবে সাইবার হামলার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা ইস্যুতে ওয়াইবসাইট ডাউন করে (বন্ধ) রাখা হয়েছে।   পিএইচপি ডেভেলপমেন্ট টিম গত বুধবার ত্রুটি দুটি সংশোধনে জরুরি নিরাপত্তা আপডেট বা প্যাচ প্রকাশের ঘোষণা দেয়।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন বলছে, এর আগে ত্রুটি দুটি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখলেও আর্থিক খাতের অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষ ওয়েবসাইট সচল রেখেছে।   সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্কতা সাধারণত জানিয়ে থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিজিডি ই-গভ সার্ট (সিআইআরটি)।   বৃহস্পতিবার সংস্থাটি বলেছিল, পিএইচপি সিস্টমে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, যাকে ‘পিএইচপি২শেল’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। দুর্বলতার সুযোগে অননুমোদিত ব্যক্তিরা পিএইচপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালানো ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে প্রবেশ করতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ ঠেকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের

কোনো পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি শনিবার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ স্বপ্ন নিয়েই কবরে যেতে হবে।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে হামলার হুমকি বাড়তে থাকার মধ্যে এ বক্তব্য এলো। এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সতর্ক করে বলেছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে-- এ সম্ভাবনা ‘একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না’।   তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আবদুল্লাহি বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই এবং কোনো সময়েই আমরা মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেব না।’   তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পারস্য উপসাগরে প্রবেশের দৃশ্য স্বপ্নেই দেখতে হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই তাকে কবরে যেতে হবে।’   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত করে রেখেছে। প্রণালিটি জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং পারস্য উপসাগরে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার।   এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।   তেহরান প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে অনুমতি নিতে বাধ্য করছে। একই সঙ্গে ওমানের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি, তেহরানের বিবেচনায় ‘অবৈধ’ পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা কয়েকটি ট্যাংকার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   শুক্রবার গার্ডস জানায়, কৌশলগত জলপথটিতে মাইনের আঘাতে ৪৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি সুপারট্যাংকার সাগরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।   গার্ডসের সেপাহ নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাহাজ দুটির ইঞ্জিনকক্ষ অচল হয়ে পড়েছে।’   শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

ছবি: সংগৃহীত
নাগরিকদের পানি ও খাবার মজুতের পরামর্শ যুক্তরাজ্য সরকারের

আবহাওয়া, সাইবার হামলা বা অন্য কোনও গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি থেকে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলো যেন টিকে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন নির্দেশনায় যুক্তরাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে নয় লিটার বোতলজাত পানি এবং তিন দিনের খাবার মজুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   জলবায়ু সংকট, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর হুমকির প্রভাব নিয়ে সরকারি উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মানুষকে অন্তত ৭২ ঘণ্টা চলার মতো জরুরি রসদ মজুত রাখতে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে শুরু করা হয়েছে এই ‘বি রেডি’ প্রচারাভিযান।   ব্রিটিশ নিরাপত্তা মন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেছেন, “যারা এই পরামর্শ মেনে চলতে সক্ষম, তাদের এটি মানা উচিত। জাতীয় সহনশীলতা গড়ে তোলার বৃহত্তর ও সম্প্রদায়ভিত্তিক চেষ্টার অংশ হিসেবে এটি মূলত দৈনন্দিন জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সাধারণ কিছু পদক্ষেপ।”   প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, মানুষের প্রতিদিনের কাজে লাগে এমন কিছু অবকাঠামো যেমন: বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি, ইন্টারনেট বা যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে রাশিয়া বা অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন শক্তির "রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাসবাদের" হুমকির বিরুদ্ধেও যুক্তরাজ্যের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।   তিনি বলেন, “হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার এবং গ্রে জোন থ্রেটস এর মতো পরিভাষা সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি সঠিক ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে না। আমি বরং একে 'রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে বর্ণনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।   “সুতরাং, এই বাস্তব হুমকির মুখে, যা কাল্পনিক নয় বরং একেবারে বাস্তব, এবং অন্য কোথাও নয় বরং দিন দিন আমাদের এখানেই বেড়ে চলেছে; আমাদেরকে সচেতন হতে হবে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি আমাদের জাতীয় প্রতিরোধ ক্ষমতাকে খবই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।   তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রশ্ন করা সত্যিই জরুরি যে, তারা প্রস্তুত কিনা, তারা তৈরি কিনা দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ কোনও সংকট উপস্থিত হলে তারা কীভাবে এর মুখোমুখি হবে, তা কি তাদের জানা আছে?”   ব্রিটিশ সরকারের নতুন নির্দেশনায় মানুষজনকে বাড়িতে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, ব্যাটারিসহ টর্চ এবং একটি হ্যান্ড-ক্র্যাংক বা উইন্ড-আপ এফএম রেডিওর পাশাপাশি কম্বল ও নগদ অর্থ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   তাছাড়া, পানীয় হিসেবে প্রতিজনের জন্য দৈনিক ৩ লিটার করে পানি মজুত রাখা এবংয় রান্না ও ধোয়ামোছার জন্য আরও পানির প্রয়োজন বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।   সরকার গত অগাস্টেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের টিনজাত খাবার মজুতের পরামর্শ দেওয়া হবে, তবে মন্ত্রিসভা কার্যালয়ের 'বি রেডি' (প্রস্তুত থাকুন) প্রচার আরও বেশি সুনির্দিষ্ট। এই প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বেতারে বিজ্ঞাপন প্রচার করা শুরু হবে।   যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের যে কোনও বড় ধরনের দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থার (যেমন: বিদ্যুৎ বিপর্যয়, তীব্র ঝড় বা সাপ্লাই চেইন বন্ধ হওয়া) জন্য অন্তত ৩ দিনের খাবার, পানি ও জরুরি ওষুধ ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়াটা বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর প্রস্তাব বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে।   ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস তাদের নাগরিকদের এ ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যও এখন সেই কাতারে চলে আসবে।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে একাধিক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের পর, আসন্ন শীতকালীন ঝড়-ঝঞ্ঝার মৌসুম শুরুর আগেই মন্ত্রীরা এই প্রচার শুরু করলেন। গত জানুয়ারিতে ঘন্টায় প্রায় ১০০ মাইল বেগে ধেয়ে যাওয়া 'ঝড় গুরেত্তি'-র আঘাতে মিডল্যান্ডস, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এবং ওয়েলসের হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।   তাছাড়া "সুপার এল-নিনিও" এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ফলে ২০২৭ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে এবং জলবায়ু নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি খাত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।   ওদিকে, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ধরা পড়ার পর, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ৩২টি সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে বলে খবর বেরোনোর মধ্যেই জনসাধারণের জন্য এই নতুন নির্দেশনা সামনে এল।   ইন্টারনেট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ওপর আধুনিক সমাজের ব্যাপক নির্ভরশীলতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫০ হাজার সতর্কতা বার্তা পাঠিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
আজই ইরানে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ‘কাজটি শেষ করতে হবে’ অথবা তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হতে পারে।   গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’   ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসার মাধ্যমে ইরান এখনো সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু মূল সমস্যা হলো তারা কি সেই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে?’   ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তার একমাত্র উদ্দেশ্য বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে। আর একমাত্র সে কারণেই আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’   এ সময় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ ও জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে।   পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে—সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে সামরিক অভিযান ও আলোচনা—উভয় পথই খোলা রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে হয়তো বিষয়টি শেষ করতে হবে, অথবা তারা হয়তো একটি চুক্তি করবে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত নই। যে পথেই যাক না কেন, জয় আমাদেরই হবে।’   এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। আমেরিকানদের ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা ‘সবকিছু এলেমেলো করে দিয়েছে’। তবে এর মধ্যেও তেহরানের উচিত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া—এমন মতই দিয়েছেন তিনি।   গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা হলেও সংকটের স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো তৈরি হয়নি।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতি, সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার অব্যাহত
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

বিক্ষোভে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ লিওঁ, লিল, তুলুজ, নঁত, মার্সেই ও বোর্দোয় লাখো মানুষ রাজপথে নামে। গতকাল কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। লিওঁ, লিল, তুলুজ ও নঁতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে প্যারিসের ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন, ল্যুভরসহ বড় জাদুঘর ও বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির প্রধান শহরগুলো অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে ফরাসি সরকার। চালানো হয়েছে নজিরবিহীন তল্লাশি ও ধরপাকড়।    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়ার পর এবার শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় ফরাসি সরকার। আগের সপ্তাহের তুলনায় গতকাল ১০ হাজার বেশি পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক কাঠামোর অধীন পুলিশ বাহিনীর সদস্য) মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিট, সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার, পুলিশ কুকুর ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্যারিসের শঁজেলিজেস এলাকায় সেনাসদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।   ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ গতকাল গণমাধ্যমকে জানান, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে তল্লাশিতে ধাতব বল, সিসার ছররা, আতশবাজি, গুলতি, ইম্প্রোভাইজড অস্ত্র, কাতানা, এয়ারসফট অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সহিংসতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না।’   রাজধানী প্যারিসের বড় একটি অংশ কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় দোকানপাটের কাচের সামনে কাঠের প্যানেল বসান ব্যবসায়ীরা। ল্যুভর, মিউজে দ’অরসে, প্যারিস অপেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ করা হয় ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে হাজার হাজার দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হওয়ায় এবার অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন।   প্যারিসে অনুমোদিত মূল মিছিলটি অবশ্য বড় ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ গন্তব্য পোর্ত দ্য ভিনসেনে পৌঁছায়। তবে বিক্ষোভের পথ নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার ও আয়োজকদের মধ্যে টানাপড়েন ছিল। পুলিশ বাস্তিল থেকে নাসিওঁ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত পথ বাতিল করে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত দিয়ে নতুন পথ নির্ধারণ করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের সপ্তাহে যেসব এলাকায় ব্যাপক লুটপাট হয়েছিল, সেসব বাণিজ্যিক এলাকা এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত। বামপন্থী নেতারা অবশ্য একে বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।   রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি ছিল বেশি উত্তপ্ত। লিওঁ, লিল, তুলুজ ও নঁতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে দাঙ্গা পুলিশ। নঁতে নিষিদ্ধ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। বোর্দোয় পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া এবং ব্যারিকেড তৈরির খবরও পাওয়া গেছে।   ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল দেশজুড়ে আনুমানিক ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। তবে বিক্ষোভের আয়োজক ট্রেড ইউনিয়নগুলোর অন্যতম সিজিটি দাবি করেছে, বিক্ষোভে মোট আট লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে, যা সরকারের হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।   আর প্যারিসে সিজিটি ইউনিয়নের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্যারিস পুলিশের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার।   চলমান আন্দোলনে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠন এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন। গতকাল দেশজুড়ে ৭০০টির বেশি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট, শিক্ষকস্বল্পতা ও সরকারি সেবার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু। ৩১ অক্টোবর আবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার দাবি না মানলে আগামী ৫ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘট হতে পারে। সূত্র: বিবিসি

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
আজই ইরানে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ‘কাজটি শেষ করতে হবে’ অথবা তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হতে পারে।   গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’   ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসার মাধ্যমে ইরান এখনো সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু মূল সমস্যা হলো তারা কি সেই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে?’   ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তার একমাত্র উদ্দেশ্য বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে। আর একমাত্র সে কারণেই আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’   এ সময় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ ও জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে।   পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে—সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে সামরিক অভিযান ও আলোচনা—উভয় পথই খোলা রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে হয়তো বিষয়টি শেষ করতে হবে, অথবা তারা হয়তো একটি চুক্তি করবে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত নই। যে পথেই যাক না কেন, জয় আমাদেরই হবে।’   এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। আমেরিকানদের ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা ‘সবকিছু এলেমেলো করে দিয়েছে’। তবে এর মধ্যেও তেহরানের উচিত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া—এমন মতই দিয়েছেন তিনি।   গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা হলেও সংকটের স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো তৈরি হয়নি।

ছবি: সংগৃহীত
পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ ঠেকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

কোনো পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি শনিবার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ স্বপ্ন নিয়েই কবরে যেতে হবে।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে হামলার হুমকি বাড়তে থাকার মধ্যে এ বক্তব্য এলো। এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সতর্ক করে বলেছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে-- এ সম্ভাবনা ‘একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না’।   তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আবদুল্লাহি বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই এবং কোনো সময়েই আমরা মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেব না।’   তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পারস্য উপসাগরে প্রবেশের দৃশ্য স্বপ্নেই দেখতে হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই তাকে কবরে যেতে হবে।’   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত করে রেখেছে। প্রণালিটি জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং পারস্য উপসাগরে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার।   এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।   তেহরান প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে অনুমতি নিতে বাধ্য করছে। একই সঙ্গে ওমানের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি, তেহরানের বিবেচনায় ‘অবৈধ’ পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা কয়েকটি ট্যাংকার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   শুক্রবার গার্ডস জানায়, কৌশলগত জলপথটিতে মাইনের আঘাতে ৪৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি সুপারট্যাংকার সাগরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।   গার্ডসের সেপাহ নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাহাজ দুটির ইঞ্জিনকক্ষ অচল হয়ে পড়েছে।’   শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের কৌশল, হামলা ও আলোচনার দুই পথই বিবেচনায়
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আগামীকালই হতে পারে। তবে তেহরানের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান কখন চালানো হতে পারে, তা তিনি প্রকাশ করবেন না। ইরানের সঙ্গে তিনি ভালোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন। তবে প্রয়োজনে তাঁকে ‘কাজ শেষ করতে’ হতে পারে, নতুবা ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।   ইরান চুক্তিতে রাজি হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান ট্রাম্প। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে বলে দাবি করেন তিনি।   এর আগে শুক্রবার এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘একটু এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

শিক্ষা
স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ