সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
রাজধানীতে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর শাহআলী থানার নবাবেরবাগ এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ।  দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই ব্যক্তি।    বুধবার সকালে নবাবেরবাগ পশ্চিমপাড়া মডেল স্কুলের সামনে বেড়িবাঁধ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।   ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত এবং ‍২ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হতাহত ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা জানা যায়নি। 

৪৮ মিনিট আগে
আজ পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা বসতে পারে

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত বোর্ডের সভা আয়োজন এবং মজুরি পুনর্নির্ধারণের একটি সময়সীমা ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।   মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত মজুরি বোর্ডের সভা হওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে আজ বুধবারই প্রথম সভা হতে পারে। সভা থেকে মজুরি পুনর্নির্ধারণের একটি সময়সীমা ঘোষণা করা হলে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে।   মাহমুদ হাসান খান জানান, গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পোশাকশিল্পে চলমান বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেছেন তিনি। এসময় কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা আরো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।   বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত বলে মনে করছেন না পোশাকশিল্পের মালিকরা। শ্রমিক ও মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এ সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।   তিনি আরো জানান, মজুরি বোর্ডের সভা দ্রুত আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।   মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সম্পাদক ও সাংবাদিকরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে মজুরিসহ শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি নিয়ে মালিকপক্ষকে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।   সভায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, রুবানা হক, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদের প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান ও রেজওয়ান সেলিমসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   উল্লেখ্য, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত সপ্তাহে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে এ আন্দোলন গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে গত রবিবার সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

২ ঘন্টা আগে
ইয়ামাল-রাফিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভিলাকে হারাল বার্সা

চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের ছন্দে ছুটছিল অ্যাস্টন ভিলা। কিন্তু স্পটিফাই ন্যু ক্যাম্পে এসে থামতে হলো তাদের।   ঘরের মাঠের দুর্দান্ত ফুটবলে ইংলিশ ক্লাবের জয়যাত্রায় লাগাম টেনেছে বার্সেলোনা।    লামিনে ইয়ামালের গোলে শুরু। এরপর রাফিনিয়ার জোড়া আঘাত। তাতে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।   শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বার্সেলোনা। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই তার ফলও পায়। নিজেদের বক্সের সামনে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন ভিলার ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জোয়াও গোমেস। এতে করে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইয়ামাল।   চলতি মৌসুমে ১৫ ম্যাচে এটি তার ১৩তম গোল।   পিছিয়ে পড়া ভিলা সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। তবে ইংলিশ ডিফেন্ডার ম্যাটি ক্যাশ ও দুই সুইডিশ ভিক্টর লিন্ডেলফ ও ইয়োহান মানজাম্বিরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। কখনো নিজেদের ভুলে, কখনো আবার তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান বার্সার স্প্যানিশ গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া।   বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেয় বার্সেলোনা।   ৫২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। বক্সের ভেতর থেকে তার নেওয়া নিচু শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ তোরেসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে। তাতে বিভ্রান্ত হন জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। বল জড়িয়ে যায় জালে।   এরপর ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। পর্তুগিজ ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলোর অসাধারণ পাস থেকে কাছাকাছি দূরত্বে বল পেয়ে জালে পাঠান ২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। তাতেই জয় নিশ্চিত হয় বার্সার।   শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল ভিলা। তবে জার্মান মিডফিল্ডার লিওন গোরেৎজকার হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে কোনো গোল হজম ছাড়াই ম্যাচ শেষ করে বার্সেলোনা।   এই জয়ে লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকায় অ্যাস্টন ভিলাকে টপকে দ্বিতীয় স্থানেও উঠে এসেছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম হারের স্বাদ পেল ইংলিশ ক্লাবটি। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর প্রথমবার ক্লিনশিটও পেল কাতালানরা।

২ ঘন্টা আগে
এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর আলোচনা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ‘সাপ্লিমেন্টারি’ পরীক্ষার সুযোগ দিতে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত’ এক আলোচনা সভায় বিষয়টি উঠে আসে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।   সভা সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে চান শিক্ষামন্ত্রী। এই পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য তিনি ভর্তি পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।   শুরুতে কয়েকজন উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই প্রস্তাবে কিছুটা আপত্তি জানালেও পরে শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কয়েকজন সম্মতি প্রকাশ করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ২৯ হাজার ১৩ জন কম।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
রাজধানীতে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর শাহআলী থানার নবাবেরবাগ এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ।  দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই ব্যক্তি।    বুধবার সকালে নবাবেরবাগ পশ্চিমপাড়া মডেল স্কুলের সামনে বেড়িবাঁধ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।   ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত এবং ‍২ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হতাহত ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা জানা যায়নি। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

পদ্মা সেতু হবে ওয়াই টাইপ (প্রতীকী ছবি)
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে ওয়াই-আকৃতিতে

পদ্মা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি হবে ওয়াই-টাইপের সেতু। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় সেতুর মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া যমুনা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।   মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার।   তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং ভৌত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির জন্য সভাটি হয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ব্যারাজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।   পদ্মা ব্যারাজ ও ওয়াই-টাইপ সেতুর মধ্যে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, কিংবা একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত হয়, পদ্মা ব্যারাজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলবে। একই সঙ্গে ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নির্মাণ করা হবে।   শেখ রবিউল আলম জানান, প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলমান রয়েছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল ডিজাইন) তৈরি এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে। এরপর শুরু হবে ভৌত কাজ।   পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনেক দূর এগিয়েছে এবং এরই মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। বিস্তারিত নকশা তৈরির পর্যায়ে কাছাকাছি এলাকায় পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণে প্রকল্প দুটির মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।   এর আগে ২০২২ সালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রথম পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এরপর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের সঙ্গে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের সংযোগ স্থাপনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আলোচনা সামনে আসে। এই সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব কমবে।   জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় ১৯৯৯ সালে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সেতুর প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়। ২০০৫ সালের মে মাসে এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে।   ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে অর্থ চাওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।   দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মঙ্গলবারের সভায় পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।   এদিকে যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করতে এই সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।   সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল, সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
আজ পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা বসতে পারে

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত বোর্ডের সভা আয়োজন এবং মজুরি পুনর্নির্ধারণের একটি সময়সীমা ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।   মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত মজুরি বোর্ডের সভা হওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে আজ বুধবারই প্রথম সভা হতে পারে। সভা থেকে মজুরি পুনর্নির্ধারণের একটি সময়সীমা ঘোষণা করা হলে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে।   মাহমুদ হাসান খান জানান, গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পোশাকশিল্পে চলমান বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেছেন তিনি। এসময় কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা আরো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।   বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত বলে মনে করছেন না পোশাকশিল্পের মালিকরা। শ্রমিক ও মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এ সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।   তিনি আরো জানান, মজুরি বোর্ডের সভা দ্রুত আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।   মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সম্পাদক ও সাংবাদিকরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে মজুরিসহ শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি নিয়ে মালিকপক্ষকে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।   সভায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, রুবানা হক, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদের প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান ও রেজওয়ান সেলিমসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   উল্লেখ্য, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত সপ্তাহে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে এ আন্দোলন গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে গত রবিবার সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর আলোচনা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ‘সাপ্লিমেন্টারি’ পরীক্ষার সুযোগ দিতে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত’ এক আলোচনা সভায় বিষয়টি উঠে আসে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।   সভা সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে চান শিক্ষামন্ত্রী। এই পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য তিনি ভর্তি পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।   শুরুতে কয়েকজন উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই প্রস্তাবে কিছুটা আপত্তি জানালেও পরে শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কয়েকজন সম্মতি প্রকাশ করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ২৯ হাজার ১৩ জন কম।

ছবি: সংগৃহীত
নজিরবিহীন ব্যয়ের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হতে চলেছে। এই নির্বাচনে সব মিলিয়ে নজিরবিহীন অর্থ খরচ হচ্ছে, যার একটি বড় অংশই আসছে শীর্ষ ধনকুবেরদের পকেট থেকে।   বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং ফার্ম 'অ্যাড ইমপ্যাক্ট' এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে কেবল রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনেই ব্যয় রেকর্ড ১১৬০ কোটি (১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ আমেরিকার পূর্ববর্তী যে কোনও নির্বাচনের চেয়ে বেশি।   তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন দেশটির শীর্ষ ৫০ জন মেগা-দাতা। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট তহবিলের বাইরে গিয়ে মাত্র ৫০ জন অতি-ধনী ব্যক্তি ও সংস্থা ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড ২৭৭ কোটি (২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার অনুদান দিয়েছেন। মাত্র ৫০ দাতার কাছ থেকে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ আগের কোনও নির্বাচনে আসেনি।   ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে সবচেয়ে বড় অনুদানগুলোর পেছনে থাকা ধনকুবের, অর্থদাতা এবং কোম্পানিগুলোকে চিহ্নিত করতে আল জাজিরা ছবি, গ্রাফ ও চার্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের ডেটা ব্যবহার করেছে।   ৫০ জন বৃহত্তম দাতার অনুদান ২৭৭ কোটি ডলার   ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ৫০ দাতা এবং সংস্থা এ পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে।   রিপাবলিকানপন্থি দাতারা দিয়েছেন ১৬৭ কোটি ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৬০ শতাংশ। এটি ডেমোক্র্যাটপন্থি দাতাদের দেওয়া ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের (৩০ শতাংশ) তুলনায় দ্বিগুণ।   অবশিষ্ট ২৬ কোটি ৪০ কোটি ডলার (প্রায় ১০ শতাংশ) এসেছে দ্বিপক্ষীয় বা বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাতা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ পক্ষগুলোর কাছ থেকে, যার মধ্যে স্পোর্টস বেটিং (খেলায় বাজি ধরা) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিকে সমর্থনকারী গ্রুপগুলোও রয়েছে।   ২০২৫-২৬ নির্বাচন চক্রে একজন মার্কিন নাগরিক ফেডারেল প্রার্থীর প্রচারের জন্য প্রতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩৫০০ ডলার পর্যন্ত দান করতে পারেন। তবুও এই তালিকার কিছু মানুষ এবার শত শত কোটি ডলার দান করেছেন।   এটি বৈধ, কারণ এই অর্থের সিংহভাগ সরাসরি প্রার্থীদের কাছে যায়নি, বরং গেছে 'সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি' বা 'সুপার প্যাক' গুলোর কাছে, যারা যেকোনো অংকের অনুদান গ্রহণ করতে পারে।   সুপার প্যাক কী?   সুপার প্যাক হলো এমন একটি গ্রুপ যা মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতা করার জন্য সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ এবং ব্যয় করতে পারে। এর প্রধান শর্ত হলো এটি প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে ব্যয়ের বিষয়ে কোনো সমন্বয় করতে পারবে না।   ২০১০ সালে আদালতের দুটি রায়ের পর প্রার্থীর বাইরে স্বাধীন গ্রুপগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনে সীমাহীন ব্যয়ের পথ সুগম হলে এই সুপার প্যাকগুলোর উত্থান ঘটে।   সুপার প্যাকগুলোকে তাদের দাতাদের তথ্য ফেডারেল ইলেকশন কমিশন এর কাছে রিপোর্ট করতে হয়, যা মার্কিন ফেডারেল নির্বাচন তদারকি সংস্থা। তবে কিছু বড় অনুদানকারী, যেমন—'ওয়ান নেশন' এবং 'মেজরিটি ফরোয়ার্ড' হলো অলাভজনক সংস্থা, যাদের নিজেদের দাতাদের নাম প্রকাশ করতে হয় না।   এটি রাজনৈতিক অর্থের মূল উৎসকে লুকিয়ে রাখতে পারে, যা ‘ডার্ক মানি’ বা ‘কালো টাকা’ হিসেবে পরিচিত।   তবে হার্ভার্ড ল স্কুলের আইন ও নেতৃত্ব বিষয়ক অধ্যাপক এবং নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কারের আইনজীবী লরেন্স লেসিগের মতে, এই অর্থ কেবল ভোটারদের কাছ থেকে লুকানো থাকে।   ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ব্র্যাডলি স্মিথের সঙ্গে মার্কিন নির্বাচনে অর্থায়ন সংক্রান্ত আল জাজিরার 'লেটস ফোকাস' অনুষ্ঠানে এক বিতর্কে তিনি জোশ রাশংকে বলেন, “রাজনীতিবিদদের কাছে এটি গোপন নয়। এটি আমাদের কাছে গোপন। রাজনীতিবিদদের পক্ষের কেউ এই অর্থ কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে বিভ্রান্ত নয় এবং তারা ভালো করেই জানে যে তাদের কী করতে হবে।”   সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দাতা কারা? ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের ডেটা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এবং টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়ে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের বৃহত্তম ব্যক্তিগত দাতা হয়েছেন।   তার পরেই রয়েছেন শিপিং সাপ্লাই কোম্পানি 'ইউলাইন' এর প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহেলিন এবং জেফ ও জেনিন ইয়াস। জেফ ইয়াস ট্রেডিং ফার্ম 'সাসকুয়েহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এই তিনজনই রিপাবলিকানপন্থি গ্রুপগুলোকে অনুদান দিয়েছেন।   রিপাবলিকানপন্থি শীর্ষ দাতা • ইলন মাস্ক: ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার • এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহেলিন: ১৫ কোটি ডলার • জেফ ও জেনিন ইয়াস: ১১ কোটি ডলার   ডেমোক্র্যাটপন্থি সবচেয়ে বড় দাতারা হলেন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী এবং ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ সোরোস, নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র এবং আর্থিক তথ্য কোম্পানি ব্লুমবার্গের প্রতিষ্ঠাতা মাইক ব্লুমবার্গ এবং লিংকডইন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ও তার স্ত্রী মিশেল য়ি। ডেমোক্র্যাটপন্থি শীর্ষ দাতা • জর্জ সোরোস: ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার • মাইক ব্লুমবার্গ: ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার • রিড হফম্যান এবং মিশেল য়ি: ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার     চারজন ব্যক্তিগত দাতা প্রত্যেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন। লেসিগের মতে, নির্বাচনের সামগ্রিক খরচ নয়, বরং দাতাদের এই কেন্দ্রীকরণই আসল উদ্বেগের বিষয়।    তিনি বলেন, “সমস্যা ব্যয় করার পরিমাণ নিয়ে নয়। সমস্যা হলো দাতাদের এই অতি-কেন্দ্রীকরণ। যদি আপনার কাছে টেবিলে রাখার মতো ১০ কোটি ডলার না থাকে, তবে একটি গণতন্ত্রে যেভাবে মানুষের গুরুত্ব থাকা উচিত, সেভাবে আপনার কোনো গুরুত্ব থাকবে না।”   কোন সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালছে? প্রাতিষ্ঠানিক র‌্যায়কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে রাজনৈতিক অলাভজনক সংস্থাগুলো, পাশাপাশি রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম এবং একটি শিল্প গ্রুপ।   রিপাবলিকান পক্ষে সবচেয়ে বড় দাতা ছিল 'ওয়ান নেশন' -সেনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত একটি অলাভজনক সংস্থা।   এরপরেই রয়েছে 'আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক', যা প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত। ডেমোক্র্যাট পক্ষে দলের সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত অলাভজনক সংস্থা 'মেজরিটি ফরোয়ার্ড' এবং 'হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড' নেতৃত্ব দিয়েছে।   রিপাবলিকানপন্থি সংস্থা • ওয়ান নেশন: ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার • আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক: ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার • আমেরিকান প্রসপারিটি অ্যালায়েন্স: ৫ কোটি ৭ লাখ ডলার   ডেমোক্র্যাটপন্থি সংস্থা • মেজরিটি ফরোয়ার্ড: ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার • হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড: ৯ কেটি ৩৭ লাখ ডলার • ইকোনমিক অপরচুনিটি ফান্ড: ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানিগুলোর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ 'কয়েনবেস' ৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, তারপরে রয়েছে ব্লকচেইন পেমেন্ট কোম্পানি 'রিপল' ৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার এবং ক্রিপ্টো ডটকম এর পেছনের কোম্পানি 'ফোরিস ড্যাক্স' দিয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।   শিল্প গ্রুপ 'কোক' দিয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার আর স্পোর্টস বেটিং কোম্পানি 'ড্রাফটকিংস' দিয়েছে ৪ কোটি ৪ লাখ ডলার।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে কারা এগিয়ে, এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে
মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ১৬টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে চারটি আসনে জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। অপরদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দল জয় পেয়েছে ১২টি আসনে।   প্রতিনিধি পরিষদে আসন আছে ৪৩৫টি। কোনো দলকে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে অন্তত ২১৮টি আসনে জয় পেতে হবে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি মাত্র পাঁচটি আসনের ব্যবধানে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। সাধারণত ব্যবধান এমন আসনেই হয়ে থাকে।   সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের সর্বশেষ আপডেটে এ তথ্য জানিয়েছে।   গতকাল মঙ্গলবার দেশটিতে সারাদিন ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরমধ্যে অন্তত ৯টি অঙ্গরাজ্যের ফলাফল আসা শুরু হয়েছে। কিছু অঙ্গরাজ্যে এখনো ভোটগ্রহণ চলছে। সেগুলোর ফল পেতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তথ্য অনুযায়ী রিপাবলিকান পার্টি আরও ৪০টি আসনে এগিয়ে আছে। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ৩৫টি আসনে।   সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা বাড়বে কমবে। অপরদিকে কংগ্রেসের উচ্চসভা সিনেটের ৩৫টি আসনে গতকাল ভোটগ্রহণ হয়। এতে পাঁচটি আসনে এগিয়ে আছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। আর দুটিতে এগিয়ে আছে রিপাবলিকানরা। সিনেটে এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি।   সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন তেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিলবোর্ড
মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করেছে ইরান। মঙ্গলবার রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত ইনকিলাব চত্বরে দেখা গেছে এই বিলবোর্ড। এতে ট্রাম্পকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখানোর পাশাপাশি বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’।   বিলবোর্ডটিতে ট্রাম্পকে মাথা নিচু করে কারাগারের গারদের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই দিন তেহরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি ব্যানার ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।   কাছাকাছি আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে দেখানো হয়েছে। জীর্ণ মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকার পটভূমিতে তাদের রক্তাক্ত মুখ ও ছেঁড়া পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়।   ইনকিলাব চত্বরে ডজনখানেক মানুষ লাল পতাকা হাতে জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘রক্তের বদলা নেওয়া হবে’। এ সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও জানান তারা। ওই হামলার মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।   তেহরানে এর আগেও ট্রাম্পকে উপহাস করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও বিজয়ের অঙ্গীকার জানিয়ে বিভিন্ন বিলবোর্ড ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে কখনো ট্রাম্পকে কফিনে, কখনো রক্তাক্ত অবস্থায়, আবার কখনো কারাগারে বন্দি হিসেবে দেখানো হয়েছে।   এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের বিস্তার ঠেকানো এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়া রোধ করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।   যুদ্ধের কারণে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।   উত্তর তেহরানের ব্যস্ত তাজরিশ স্কয়ারে খোলা আকাশের নিচে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি ছবি রাখা হয়েছে। একটি ছবিতে তার মুখমণ্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। একটি বুট জুতা তার মাথার ওপর চেপে রয়েছে। অন্য একটি ছবিতে বোমা দিয়ে তার মুখ ঢেকে রাখা হয়েছে।   প্রদর্শনীর কাছেই মানুষের সমান আকৃতির একটি কৃত্রিম কারাগারের কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের রূপ ধারণ করা একজন অভিনেতা সারাদিন সময় কাটাচ্ছেন। পাশের একটি পর্দায় ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল।   তেহরানের দাবি, যুদ্ধ চলাকালে স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন ট্রাম্প। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।   ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানের জনবহুল এলাকাগুলোতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিলবোর্ড ও দেওয়ালচিত্র নির্মাণ নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। মিত্রদের সম্মান জানানো, সামরিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করা এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দিতে এসব প্রদর্শনী ব্যবহার করা হয়। সূত্রঃ ফোর্বস 

ছবি: সংগৃহীত
আজই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, রাসায়নিক অস্ত্রের হুমকি নিয়ে ইসরায়েলের সতর্কবার্তা
মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউনিট সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবারই হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন এখনো মেলেনি। এর মধ্যেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র যুক্ত করার প্রযুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইসরায়েল। যদিও ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা।   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিনই ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, সেন্টকমের হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের ওপর সামরিক হামলার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের ধারণা, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা সম্ভব। তবে অন্য কর্মকর্তাদের যুক্তি, দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে সামরিক পদক্ষেপই কার্যকর হতে পারে।   এদিকে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, ইরান দ্রুত এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র যুক্ত করা সম্ভব হবে। এমনকি অন্য দেশে রাসায়নিক অস্ত্র পাচার করে হামলা চালানোর সক্ষমতাও অর্জনের চেষ্টা করছে তেহরান। গত দুই সপ্তাহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও রাসায়নিক অস্ত্রের হুমকিকে বেশি জরুরি হিসেবে তুলে ধরেছেন।   তবে এ তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিলেও অন্যরা ইসরায়েলি সরকারের এই সতর্কবার্তাকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে বড় ধরনের মতভেদ নেই। মূল বিতর্ক হলো, ইরানের নেতারা এসব অস্ত্র বাস্তবে ব্যবহার করবেন কি না, বিশেষ করে দেশটির ওপর নতুন করে হামলা না হলে।   ইসরায়েল উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কিছু গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করেছে। তবে কয়েকটি দেশ ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আরও তীব্র পর্যায়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে কিছু মূল্যায়ন জানিয়েছে, কিন্তু এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি। ফলে কয়েকটি উপসাগরীয় সরকার এসব দাবিকে গুরুত্বহীন বলে মনে করছে।   ইসরায়েলের সতর্কবার্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে ২০০২ সালে ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে দেওয়া ভুল গোয়েন্দা তথ্যের স্মৃতিও ফিরে এসেছে। সে সময় ইরাকের কাছে এ ধরনের অস্ত্র রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিল। পরে দেখা যায়, দেশটি তাদের পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচি অনেকটাই বন্ধ বা স্থগিত করেছিল।   ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র যুক্ত করা তুলনামূলক সহজ হলেও রাসায়নিক উপাদান কার্যকরভাবে ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সীমান্ত পেরিয়ে বোমা পাচার করাও সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে।   অন্যদিকে, ইসরায়েল রাসায়নিক হামলার আশঙ্কার কথা জানালেও দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ডের চলমান সামরিক মহড়ায় এ ধরনের হামলা মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা থেকে সুরক্ষার নির্দেশনা নিয়েও সেনা কর্মকর্তা বা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়নি। এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টাও চলছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধান এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনো বড় ধরনের হামলার অনুমোদন দেননি।   ইরান রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, এ ধরনের অভিযোগ ইসরায়েলের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। ২০০৩ সালে ইরান স্বীকার করেছিল, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তারা রাসায়নিক অস্ত্রের সক্ষমতা তৈরি করেছিল। তবে পরে তা ভেঙে ফেলার দাবি করে দেশটি।   ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি হুমকি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস নিউইয়র্ক টাইমসের প্রশ্নের জবাব না দিলেও একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রক্ষা করবেন ট্রাম্প।   সূত্রঃ জেরুজালেম পোস্ট ও টাইমস অফ ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
নজিরবিহীন ব্যয়ের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র
মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হতে চলেছে। এই নির্বাচনে সব মিলিয়ে নজিরবিহীন অর্থ খরচ হচ্ছে, যার একটি বড় অংশই আসছে শীর্ষ ধনকুবেরদের পকেট থেকে।   বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং ফার্ম 'অ্যাড ইমপ্যাক্ট' এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে কেবল রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনেই ব্যয় রেকর্ড ১১৬০ কোটি (১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ আমেরিকার পূর্ববর্তী যে কোনও নির্বাচনের চেয়ে বেশি।   তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন দেশটির শীর্ষ ৫০ জন মেগা-দাতা। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট তহবিলের বাইরে গিয়ে মাত্র ৫০ জন অতি-ধনী ব্যক্তি ও সংস্থা ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড ২৭৭ কোটি (২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার অনুদান দিয়েছেন। মাত্র ৫০ দাতার কাছ থেকে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ আগের কোনও নির্বাচনে আসেনি।   ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে সবচেয়ে বড় অনুদানগুলোর পেছনে থাকা ধনকুবের, অর্থদাতা এবং কোম্পানিগুলোকে চিহ্নিত করতে আল জাজিরা ছবি, গ্রাফ ও চার্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের ডেটা ব্যবহার করেছে।   ৫০ জন বৃহত্তম দাতার অনুদান ২৭৭ কোটি ডলার   ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ৫০ দাতা এবং সংস্থা এ পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে।   রিপাবলিকানপন্থি দাতারা দিয়েছেন ১৬৭ কোটি ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৬০ শতাংশ। এটি ডেমোক্র্যাটপন্থি দাতাদের দেওয়া ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের (৩০ শতাংশ) তুলনায় দ্বিগুণ।   অবশিষ্ট ২৬ কোটি ৪০ কোটি ডলার (প্রায় ১০ শতাংশ) এসেছে দ্বিপক্ষীয় বা বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাতা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ পক্ষগুলোর কাছ থেকে, যার মধ্যে স্পোর্টস বেটিং (খেলায় বাজি ধরা) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিকে সমর্থনকারী গ্রুপগুলোও রয়েছে।   ২০২৫-২৬ নির্বাচন চক্রে একজন মার্কিন নাগরিক ফেডারেল প্রার্থীর প্রচারের জন্য প্রতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩৫০০ ডলার পর্যন্ত দান করতে পারেন। তবুও এই তালিকার কিছু মানুষ এবার শত শত কোটি ডলার দান করেছেন।   এটি বৈধ, কারণ এই অর্থের সিংহভাগ সরাসরি প্রার্থীদের কাছে যায়নি, বরং গেছে 'সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি' বা 'সুপার প্যাক' গুলোর কাছে, যারা যেকোনো অংকের অনুদান গ্রহণ করতে পারে।   সুপার প্যাক কী?   সুপার প্যাক হলো এমন একটি গ্রুপ যা মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতা করার জন্য সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ এবং ব্যয় করতে পারে। এর প্রধান শর্ত হলো এটি প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে ব্যয়ের বিষয়ে কোনো সমন্বয় করতে পারবে না।   ২০১০ সালে আদালতের দুটি রায়ের পর প্রার্থীর বাইরে স্বাধীন গ্রুপগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনে সীমাহীন ব্যয়ের পথ সুগম হলে এই সুপার প্যাকগুলোর উত্থান ঘটে।   সুপার প্যাকগুলোকে তাদের দাতাদের তথ্য ফেডারেল ইলেকশন কমিশন এর কাছে রিপোর্ট করতে হয়, যা মার্কিন ফেডারেল নির্বাচন তদারকি সংস্থা। তবে কিছু বড় অনুদানকারী, যেমন—'ওয়ান নেশন' এবং 'মেজরিটি ফরোয়ার্ড' হলো অলাভজনক সংস্থা, যাদের নিজেদের দাতাদের নাম প্রকাশ করতে হয় না।   এটি রাজনৈতিক অর্থের মূল উৎসকে লুকিয়ে রাখতে পারে, যা ‘ডার্ক মানি’ বা ‘কালো টাকা’ হিসেবে পরিচিত।   তবে হার্ভার্ড ল স্কুলের আইন ও নেতৃত্ব বিষয়ক অধ্যাপক এবং নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কারের আইনজীবী লরেন্স লেসিগের মতে, এই অর্থ কেবল ভোটারদের কাছ থেকে লুকানো থাকে।   ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ব্র্যাডলি স্মিথের সঙ্গে মার্কিন নির্বাচনে অর্থায়ন সংক্রান্ত আল জাজিরার 'লেটস ফোকাস' অনুষ্ঠানে এক বিতর্কে তিনি জোশ রাশংকে বলেন, “রাজনীতিবিদদের কাছে এটি গোপন নয়। এটি আমাদের কাছে গোপন। রাজনীতিবিদদের পক্ষের কেউ এই অর্থ কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে বিভ্রান্ত নয় এবং তারা ভালো করেই জানে যে তাদের কী করতে হবে।”   সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দাতা কারা? ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের ডেটা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এবং টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়ে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের বৃহত্তম ব্যক্তিগত দাতা হয়েছেন।   তার পরেই রয়েছেন শিপিং সাপ্লাই কোম্পানি 'ইউলাইন' এর প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহেলিন এবং জেফ ও জেনিন ইয়াস। জেফ ইয়াস ট্রেডিং ফার্ম 'সাসকুয়েহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এই তিনজনই রিপাবলিকানপন্থি গ্রুপগুলোকে অনুদান দিয়েছেন।   রিপাবলিকানপন্থি শীর্ষ দাতা • ইলন মাস্ক: ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার • এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহেলিন: ১৫ কোটি ডলার • জেফ ও জেনিন ইয়াস: ১১ কোটি ডলার   ডেমোক্র্যাটপন্থি সবচেয়ে বড় দাতারা হলেন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী এবং ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ সোরোস, নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র এবং আর্থিক তথ্য কোম্পানি ব্লুমবার্গের প্রতিষ্ঠাতা মাইক ব্লুমবার্গ এবং লিংকডইন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ও তার স্ত্রী মিশেল য়ি। ডেমোক্র্যাটপন্থি শীর্ষ দাতা • জর্জ সোরোস: ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার • মাইক ব্লুমবার্গ: ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার • রিড হফম্যান এবং মিশেল য়ি: ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার     চারজন ব্যক্তিগত দাতা প্রত্যেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন। লেসিগের মতে, নির্বাচনের সামগ্রিক খরচ নয়, বরং দাতাদের এই কেন্দ্রীকরণই আসল উদ্বেগের বিষয়।    তিনি বলেন, “সমস্যা ব্যয় করার পরিমাণ নিয়ে নয়। সমস্যা হলো দাতাদের এই অতি-কেন্দ্রীকরণ। যদি আপনার কাছে টেবিলে রাখার মতো ১০ কোটি ডলার না থাকে, তবে একটি গণতন্ত্রে যেভাবে মানুষের গুরুত্ব থাকা উচিত, সেভাবে আপনার কোনো গুরুত্ব থাকবে না।”   কোন সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালছে? প্রাতিষ্ঠানিক র‌্যায়কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে রাজনৈতিক অলাভজনক সংস্থাগুলো, পাশাপাশি রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম এবং একটি শিল্প গ্রুপ।   রিপাবলিকান পক্ষে সবচেয়ে বড় দাতা ছিল 'ওয়ান নেশন' -সেনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত একটি অলাভজনক সংস্থা।   এরপরেই রয়েছে 'আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক', যা প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত। ডেমোক্র্যাট পক্ষে দলের সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত অলাভজনক সংস্থা 'মেজরিটি ফরোয়ার্ড' এবং 'হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড' নেতৃত্ব দিয়েছে।   রিপাবলিকানপন্থি সংস্থা • ওয়ান নেশন: ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার • আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক: ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার • আমেরিকান প্রসপারিটি অ্যালায়েন্স: ৫ কোটি ৭ লাখ ডলার   ডেমোক্র্যাটপন্থি সংস্থা • মেজরিটি ফরোয়ার্ড: ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার • হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড: ৯ কেটি ৩৭ লাখ ডলার • ইকোনমিক অপরচুনিটি ফান্ড: ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানিগুলোর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ 'কয়েনবেস' ৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, তারপরে রয়েছে ব্লকচেইন পেমেন্ট কোম্পানি 'রিপল' ৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার এবং ক্রিপ্টো ডটকম এর পেছনের কোম্পানি 'ফোরিস ড্যাক্স' দিয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।   শিল্প গ্রুপ 'কোক' দিয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার আর স্পোর্টস বেটিং কোম্পানি 'ড্রাফটকিংস' দিয়েছে ৪ কোটি ৪ লাখ ডলার।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ

রাজনীতি
চাকরি
ব্যাবসা-বাণিজ্য
বিনোদন