সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
মানবতার সেবায় পথশিশুদের পাঠদান থেকে বৈশ্বিক অঙ্গনে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণের টিউশনির সঞ্চিত সামান্য টাকায় ফুটপাতের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বর্ণমালা শেখানোর মধ্য দিয়ে ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল একটি নীরব মানবিক বিপ্লবের। ১৪ বছর পেরিয়ে তা আজ রূপান্তরিত হয়েছে এক সুবিশাল আশার বাতিঘরে। ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’ নামের সেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি আজ কেবল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিঃস্ব, আশ্রয়হীন ও প্রবীণদেরই ভরসাস্থল নয়; বরং সীমানা পেরিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা, নেপাল ও সুদানের যুদ্ধ ও দুর্যোগকবলিত বিপন্ন মানুষের কাছেও পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশের ভালোবাসা ও মানবিকতার স্পর্শ।   বাংলাদেশ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (যৌথ স্টক) নিবন্ধিত এই অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থাটি কেবল জরুরি ত্রাণ বিতরণের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাবলম্বিতা, স্বাস্থ্যসেবা ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার মাধ্যমে এক টেকসই সামাজিক রূপান্তর ঘটিয়ে চলেছে।   মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন দর্শন ও লক্ষ্য তুলে ধরে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি কাজের মূল উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা বিশ্বাস করি, একজন মানুষকে সাময়িকভাবে সাহায্য করার পাশাপাশি তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মানুষ যখন মানবিক সংকটে পড়ে, তখন সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’   তিনি জানান, মাস্তুল ফাউন্ডেশন তার অগ্রযাত্রার ১৫ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান, নিজস্ব সেবামূলক প্রকল্পসমূহ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।   সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা   দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক সংঘাত ও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ ও চরম অবরোধের প্রেক্ষাপটে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন রক্ষায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গাজায় জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানি, শুকনো ও রান্না করা পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানোর পাশাপাশি আহত শিশু ও রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।   একইভাবে নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণের পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনে নগদ অর্থ ও নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া সুদান সংকট ও গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট তীব্র দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত পরিবার ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা পার্সেল বিতরণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সংস্থাটি।   বৈশ্বিক অঙ্গনে এই মানবিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে কাজী রিয়াজ রহমান বাসস’কে বলেন, ‘যুদ্ধ ও সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা। গাজা থেকে শুরু করে সুদান কিংবা নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়া মানুষের করুণ চিত্র আমাদের ব্যথিত করে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাকে পাথেয় করে আমরা বিশ্বের যেখানেই বিপন্ন মানুষ পাই, সেখানেই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’   টেকসই স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি   জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি ও মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে সরকারের সহযোগী হিসেবে মাস্তুল ফাউন্ডেশন কার্যকর ভূমিকা রাখছে।   সংস্থাটি জানিয়েছে, জাকাত ও সাদকার শরিয়াহসম্মত ব্যবহারের মাধ্যমে দরিদ্র ও কর্মক্ষম মানুষকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাতে সেলাই মেশিন, উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, হাঁস-মুরগি, রিকশা-ভ্যান এবং বীজ ও সার তুলে দিয়ে উপার্জনের স্থায়ী পথ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে বেকার তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণ, মোটর ড্রাইভিং ও কারিগরি শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।   এ বিষয়ে মাস্তুল প্রধান বলেন, ‘মাস্তুলের লক্ষ্য হলো সহায়তা পাওয়া একজন মানুষ যেন ভবিষ্যতে নিজের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি আরও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্য হয়ে ওঠে। মানুষের দেওয়া জাকাত, সাদকা ও দানের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই— যা জীবন পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করে।’   ১৫ স্থানে ‘মেহমানখানা’ ও বিনামূল্যে খাবার   সংস্থাটি জানায়, দেশে একটি ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের নিয়মিত উদ্যোগ ‘মেহমানখানা’র মাধ্যমে রাজধানীর ১৫টি নির্ধারিত জনবহুল পয়েন্টে প্রতিদিন হাজারো অসহায়, পথচারী, দিনমজুর ও প্রবীণদের মাঝে বিনামূল্যে মানসম্মত রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো করুণা নয়, বরং গ্রহীতার আত্মমর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয় ফাউন্ডেশন।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ   মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংস্থাটি দেশব্যাপী ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক ও উপকূলীয় অঞ্চল, উত্তরবঙ্গের খরাপ্রবণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এতিমখানা এবং মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।   আশ্রয়হীনদের জন্য প্রবীণ নিবাস ও শেষ বিদায়ের মর্যাদা   সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানীর হাজারীবাগের বারইখালিতে নিজস্ব ভবনে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আবাসিক মাদ্রাসা, স্কুল ও এতিমখানা পরিচালনা করছে মাস্তুল।   এছাড়া নিঃসঙ্গ প্রবীণদের জন্য একটি ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ইসলামিক শেল্টারহোম কমপ্লেক্স’ নির্মাণাধীন রয়েছে—যেখানে আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্র ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে।   এর পাশাপাশি আর্সেনিকপ্রবণ ও সামুদ্রিক উপকূলীয় দুর্গম এলাকায় গভীর নলকূপ ও ওয়াটার ফিল্টারিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে সুপেয় পানির সংস্থান করা হয়েছে। একইসাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদনে বেওয়ারিশ ও পরিচয়হীন মরদেহের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গোসল, জানাজা ও দাফনকাজ পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি আধুনিক গোসলখানা স্থাপনের উদ্যোগও এতে রয়েছে।   স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা   জানা যায়, মাস্তুল ফাউন্ডেশন তাদের সেবা কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সরকারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাঠামোতে যুক্ত করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমানের নেতৃত্বে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সাবেক সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ, ডিরেক্টর হিসেবে মেজর জেনারেল (অব.) কাজী ইফতেখার-উল-আলম এবং চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার হিসেবে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মানের অডিট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা এবং শরিয়াহ বোর্ডের তদারকিতে জাকাত তহবিল পরিচালিত হয়।   কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, ‘একটি শিশুর নিরাপদ শৈশব ও শিক্ষার সুযোগ, একটি দরিদ্র পরিবারের স্থায়ী উপার্জন, একজন প্রবীণের নিরাপদ আশ্রয় কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি পরিবারের মুখে খাবার পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল অঙ্গীকার। নতুন এই অধ্যায়ে দেশের মানুষের সহযোগিতাকে শক্তি করে বাংলাদেশে মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বিপন্ন মানুষের পাশে আমরা থাকতে চাই।’

১১ মিনিট আগে
জীবিকার তাগিদে জরায়ু অপসারণের পথে ভারতের আখশ্রমিক নারীরা

জীবিকা নির্বাহ, ঋণের বোঝা আর কাজ হারানোর ভয়—এই তিন চাপের মধ্যে পড়ে ভারতের মহারাষ্ট্রের বহু নারী আখশ্রমিক নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। মাসিকের সময় ছুটি না পাওয়া, অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হওয়া এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে তাঁদের কেউ কেউ জরায়ু অপসারণের মতো বড় অস্ত্রোপচারের কথা ভাবছেন। এমনকি অস্ত্রোপচার করানোর পরও অনেক নারীকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও নানা জটিলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভারতের আখশ্রমিক নারীদের এই কঠিন বাস্তবতা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাঁদের অনেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে দৈনিক প্রায় ৪০০ রুপি মজুরি পান। কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিককে নিজ এলাকা ছেড়ে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। তাঁদের বড় একটি অংশ মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার বাসিন্দা।   মাসিকের সময়ও ছুটি নেই আখ কাটার মৌসুমি কাজে নিয়োজিত নারীদের জন্য মাসিকের সময় বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন। অস্থায়ী শ্রমিকশিবিরে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এক দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলেও মজুরি কমে যায় কিংবা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। ফলে অনেক নারী শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও কাজ চালিয়ে যান। মাসিকের তীব্র ব্যথা, গর্ভাবস্থায় কাজের চাপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাব তাঁদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য ব্যথা সহ্য করছেন তিনি। কাজ বন্ধ করার সুযোগ না থাকায় জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন। তাঁর আশঙ্কা, এই কাজ চালিয়ে গেলে শারীরিক কষ্ট আরও বাড়বে। কিন্তু জীবিকার বিকল্প না থাকায় কাজ ছেড়ে দেওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।   ঋণ ও মজুরির চাপে শ্রমিকেরা মহারাষ্ট্রের বিদ অঞ্চলে আখ কাটা একটি মৌসুমি পেশা। প্রতিবছর ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের চিনি কলের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কাজ শুরুর আগে অগ্রিম অর্থ দেন। স্থানীয়ভাবে এই অগ্রিম অর্থকে দাদন বলা হয়। দাদনের অর্থ পরিশোধ করতে শ্রমিকদের মৌসুমজুড়ে কাজ করতে হয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি দল হিসেবে কাজ করেন, যাঁদের স্থানীয়ভাবে ‘কয়তা’ বলা হয়। প্রতিটি দম্পতির কাছ থেকে প্রতিদিন কয়েক টন আখ কাটার প্রত্যাশা থাকে। কাজের পরিমাণের ওপর আয় নির্ভর করায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ শ্রমিকের কাজের ঘাটতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবিতা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। পেটে প্রচণ্ড ব্যথা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকে আখ তোলার জন্য মই বেয়ে উঠতে গিয়ে একাধিকবার পড়ে যান তিনি। কিন্তু কাজ বন্ধ করার সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্টের পর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করান।   অস্ত্রোপচারের পরও কমেনি যন্ত্রণা সবিতা জানান, অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পরও তাঁর রক্তপাত ও পেটব্যথা অব্যাহত ছিল। পরে পুনেতে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত করেন বলে তিনি দাবি করেন। অস্ত্রোপচারের আগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পেতেও সমস্যায় পড়েন বলে জানান তিনি। সবিতার অভিজ্ঞতা দেখায়, যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না হলে এমন সিদ্ধান্ত নারীদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। নারী অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না করে নারীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।   জরায়ু অপসারণের হার নিয়ে উদ্বেগ নারী অধিকারকর্মী সঙ্গীতা চৌহান ও রাজনীতিবিদ ড. নীলম গোরহে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার নারী আখশ্রমিকদের মধ্যে জরায়ু অপসারণের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জরিপ অনুযায়ী, বিদ জেলার ৮২ হাজার ৩০৯ জন নারী আখশ্রমিকের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৪৫ শতাংশের বেশি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক নিবন্ধন এবং কল্যাণমূলক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকায় নিয়োজিত স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্যকর্মী বা ‘আশা’ কর্মীদেরও নারীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা করার দায়িত্ব রয়েছে। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং যথাযথ তদারকির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।   সরকারি উদ্যোগেও পরিবর্তন সীমিত আখ কাটার শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, তাঁরা কাউকে জরায়ু অপসারণে বাধ্য করেন না। তবে শ্রমিকদের বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থতার মধ্যেও কাজ করার চাপ থেকে যায়। ঠিকাদার আশরুবা দত্ত জানান, তাঁদের আয় চিনি কলগুলোতে সরবরাহ করা আখের ওজনের ওপর নির্ভরশীল। শ্রমিক কম থাকলে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে তাঁদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি সহায়তা পাননি।   করপোরেট উদ্যোগ ও শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আখের অন্যতম বড় ক্রেতা কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাডের সঙ্গে কাজ করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শ্রমিকদের সুপেয় পানি, শৌচাগার, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, উন্নত সরঞ্জাম এবং নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ উদ্যোগে ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও পেপসিকো কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এদিকে পূর্ণিমার শারীরিক কষ্ট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটেনি। ব্যথার চিকিৎসায় এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করাতে হলেও তাঁকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে। পূর্ণিমার মতো বহু নারী শ্রমিকের সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু অস্ত্রোপচার করানো বা না করানোর নয়; বরং স্বাস্থ্য, জীবিকা ও পরিবারের ভরণপোষণের মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেই কঠিন সিদ্ধান্তের। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অসুস্থতাজনিত ছুটি, সহজলভ্য সরকারি চিকিৎসা, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া অস্ত্রোপচার প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের ঋণনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ জরুরি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

১১ মিনিট আগে
ইতালি-গ্রিস-সাইপ্রাস থেকে দেশে ফেরত এলেন ৩৫ বাংলাদেশি

ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে মোট ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) একটি বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।   ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।   ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।   দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের (Frontex) তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়।   এই ফ্লাইটের মাধ্যমে ইউরোপের তিনটি দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   তবে কী কারণে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে দূতাবাসের বার্তায় বিস্তারিত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

১২ মিনিট আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ জরুরি: জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রম নয়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।    জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।   বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্রদল, যুবদলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন, বিডি ক্লিন, স্কাউটস সম্মিলিতভাবে কালাই পৌর এলাকাকে পরিচ্ছন্ন করতে এ অভিযান চালাচ্ছে।   জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্দেশনায় ‘নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ এই প্রতিপাদ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের লক্ষ্যে জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।   ফেসবুক পেইজে বলা হয়েছে, কালাই পৌরসভার টিএন্ডটি এলাকায় গতকাল এ কার্যক্রমে বিডি ক্লিন ও স্কাউটস এর ৪০ জন সেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে পৌরসভার নয়টি জায়গায় পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার এবং নাগরিকদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।   কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, কালাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম ও রফিকুল ইসলাম টুকু, কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীমসহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া বিডি ক্লিন, স্কাউটস ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।

১৪ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
ইতালি-গ্রিস-সাইপ্রাস থেকে দেশে ফেরত এলেন ৩৫ বাংলাদেশি

ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে মোট ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) একটি বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।   ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।   ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।   দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের (Frontex) তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়।   এই ফ্লাইটের মাধ্যমে ইউরোপের তিনটি দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   তবে কী কারণে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে দূতাবাসের বার্তায় বিস্তারিত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি
রিয়াদে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জরুরি নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ দূতাবাস

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি এয়ারলাইনসের যেসব যাত্রী এখনো তাঁদের লাগেজ ফেরত পাননি, তাঁদের অনলাইনে হারানো লাগেজের অভিযোগ জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এ অনুরোধ জানায়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবরের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি এয়ারলাইনসের যেসব যাত্রী এখনো তাঁদের লাগেজ ফিরে পাননি, তাঁরা এয়ারলাইনসটির নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে ‘লস্ট ব্যাগেজ ক্লেম’ বা হারানো লাগেজের অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।   এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এয়ারলাইনসের যাত্রীদের লাগেজসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাসময়ে জানানো হবে।

ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের মধ্যে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক বিদেশি

দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরনগরী ডারবানে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে জনতার পিটুনিতে এক বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জনের একটি দল ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ডারবানের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। এ সময় প্রায় ৫০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা প্রকাশ করেনি পুলিশ। তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছে। দেশটির ডারবান শহর এসব বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুই সপ্তাহ আগে সেখানে অভিবাসীবিরোধী মিছিলের পর লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।   গত জুন থেকে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা আফ্রিকান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এসব কর্মসূচির কিছু সহিংসতায় রূপ নেয়।   নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, মালাউইসহ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের নাগরিকদের কেউ কেউ বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে কয়েকটি দাবির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।   সহিংসতা এড়াতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় অনেক বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।   আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ পাড়ি জমান। তবে দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।   দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনথিভুক্ত অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারছেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।

ছবি: সংগৃহীত
জীবিকার তাগিদে জরায়ু অপসারণের পথে ভারতের আখশ্রমিক নারীরা

জীবিকা নির্বাহ, ঋণের বোঝা আর কাজ হারানোর ভয়—এই তিন চাপের মধ্যে পড়ে ভারতের মহারাষ্ট্রের বহু নারী আখশ্রমিক নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। মাসিকের সময় ছুটি না পাওয়া, অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হওয়া এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে তাঁদের কেউ কেউ জরায়ু অপসারণের মতো বড় অস্ত্রোপচারের কথা ভাবছেন। এমনকি অস্ত্রোপচার করানোর পরও অনেক নারীকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও নানা জটিলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভারতের আখশ্রমিক নারীদের এই কঠিন বাস্তবতা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাঁদের অনেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে দৈনিক প্রায় ৪০০ রুপি মজুরি পান। কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিককে নিজ এলাকা ছেড়ে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। তাঁদের বড় একটি অংশ মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার বাসিন্দা।   মাসিকের সময়ও ছুটি নেই আখ কাটার মৌসুমি কাজে নিয়োজিত নারীদের জন্য মাসিকের সময় বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন। অস্থায়ী শ্রমিকশিবিরে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এক দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলেও মজুরি কমে যায় কিংবা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। ফলে অনেক নারী শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও কাজ চালিয়ে যান। মাসিকের তীব্র ব্যথা, গর্ভাবস্থায় কাজের চাপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাব তাঁদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য ব্যথা সহ্য করছেন তিনি। কাজ বন্ধ করার সুযোগ না থাকায় জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন। তাঁর আশঙ্কা, এই কাজ চালিয়ে গেলে শারীরিক কষ্ট আরও বাড়বে। কিন্তু জীবিকার বিকল্প না থাকায় কাজ ছেড়ে দেওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।   ঋণ ও মজুরির চাপে শ্রমিকেরা মহারাষ্ট্রের বিদ অঞ্চলে আখ কাটা একটি মৌসুমি পেশা। প্রতিবছর ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের চিনি কলের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কাজ শুরুর আগে অগ্রিম অর্থ দেন। স্থানীয়ভাবে এই অগ্রিম অর্থকে দাদন বলা হয়। দাদনের অর্থ পরিশোধ করতে শ্রমিকদের মৌসুমজুড়ে কাজ করতে হয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি দল হিসেবে কাজ করেন, যাঁদের স্থানীয়ভাবে ‘কয়তা’ বলা হয়। প্রতিটি দম্পতির কাছ থেকে প্রতিদিন কয়েক টন আখ কাটার প্রত্যাশা থাকে। কাজের পরিমাণের ওপর আয় নির্ভর করায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ শ্রমিকের কাজের ঘাটতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবিতা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। পেটে প্রচণ্ড ব্যথা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকে আখ তোলার জন্য মই বেয়ে উঠতে গিয়ে একাধিকবার পড়ে যান তিনি। কিন্তু কাজ বন্ধ করার সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্টের পর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করান।   অস্ত্রোপচারের পরও কমেনি যন্ত্রণা সবিতা জানান, অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পরও তাঁর রক্তপাত ও পেটব্যথা অব্যাহত ছিল। পরে পুনেতে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত করেন বলে তিনি দাবি করেন। অস্ত্রোপচারের আগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পেতেও সমস্যায় পড়েন বলে জানান তিনি। সবিতার অভিজ্ঞতা দেখায়, যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না হলে এমন সিদ্ধান্ত নারীদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। নারী অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না করে নারীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।   জরায়ু অপসারণের হার নিয়ে উদ্বেগ নারী অধিকারকর্মী সঙ্গীতা চৌহান ও রাজনীতিবিদ ড. নীলম গোরহে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার নারী আখশ্রমিকদের মধ্যে জরায়ু অপসারণের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জরিপ অনুযায়ী, বিদ জেলার ৮২ হাজার ৩০৯ জন নারী আখশ্রমিকের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৪৫ শতাংশের বেশি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক নিবন্ধন এবং কল্যাণমূলক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকায় নিয়োজিত স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্যকর্মী বা ‘আশা’ কর্মীদেরও নারীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা করার দায়িত্ব রয়েছে। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং যথাযথ তদারকির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।   সরকারি উদ্যোগেও পরিবর্তন সীমিত আখ কাটার শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, তাঁরা কাউকে জরায়ু অপসারণে বাধ্য করেন না। তবে শ্রমিকদের বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থতার মধ্যেও কাজ করার চাপ থেকে যায়। ঠিকাদার আশরুবা দত্ত জানান, তাঁদের আয় চিনি কলগুলোতে সরবরাহ করা আখের ওজনের ওপর নির্ভরশীল। শ্রমিক কম থাকলে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে তাঁদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি সহায়তা পাননি।   করপোরেট উদ্যোগ ও শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আখের অন্যতম বড় ক্রেতা কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাডের সঙ্গে কাজ করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শ্রমিকদের সুপেয় পানি, শৌচাগার, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, উন্নত সরঞ্জাম এবং নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ উদ্যোগে ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও পেপসিকো কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এদিকে পূর্ণিমার শারীরিক কষ্ট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটেনি। ব্যথার চিকিৎসায় এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করাতে হলেও তাঁকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে। পূর্ণিমার মতো বহু নারী শ্রমিকের সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু অস্ত্রোপচার করানো বা না করানোর নয়; বরং স্বাস্থ্য, জীবিকা ও পরিবারের ভরণপোষণের মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেই কঠিন সিদ্ধান্তের। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অসুস্থতাজনিত ছুটি, সহজলভ্য সরকারি চিকিৎসা, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া অস্ত্রোপচার প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের ঋণনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ জরুরি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন রাষ্ট্রপতি।   রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   হাসপাতাল পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি আব্দুল মঈন খানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং চলমান চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেন।   তবে মন্ত্রীর অসুস্থতার কারণ কিংবা চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জীবিকার তাগিদে জরায়ু অপসারণের পথে ভারতের আখশ্রমিক নারীরা
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬

জীবিকা নির্বাহ, ঋণের বোঝা আর কাজ হারানোর ভয়—এই তিন চাপের মধ্যে পড়ে ভারতের মহারাষ্ট্রের বহু নারী আখশ্রমিক নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। মাসিকের সময় ছুটি না পাওয়া, অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হওয়া এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে তাঁদের কেউ কেউ জরায়ু অপসারণের মতো বড় অস্ত্রোপচারের কথা ভাবছেন। এমনকি অস্ত্রোপচার করানোর পরও অনেক নারীকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও নানা জটিলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভারতের আখশ্রমিক নারীদের এই কঠিন বাস্তবতা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাঁদের অনেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে দৈনিক প্রায় ৪০০ রুপি মজুরি পান। কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিককে নিজ এলাকা ছেড়ে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। তাঁদের বড় একটি অংশ মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার বাসিন্দা।   মাসিকের সময়ও ছুটি নেই আখ কাটার মৌসুমি কাজে নিয়োজিত নারীদের জন্য মাসিকের সময় বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন। অস্থায়ী শ্রমিকশিবিরে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এক দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলেও মজুরি কমে যায় কিংবা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। ফলে অনেক নারী শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও কাজ চালিয়ে যান। মাসিকের তীব্র ব্যথা, গর্ভাবস্থায় কাজের চাপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাব তাঁদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য ব্যথা সহ্য করছেন তিনি। কাজ বন্ধ করার সুযোগ না থাকায় জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন। তাঁর আশঙ্কা, এই কাজ চালিয়ে গেলে শারীরিক কষ্ট আরও বাড়বে। কিন্তু জীবিকার বিকল্প না থাকায় কাজ ছেড়ে দেওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।   ঋণ ও মজুরির চাপে শ্রমিকেরা মহারাষ্ট্রের বিদ অঞ্চলে আখ কাটা একটি মৌসুমি পেশা। প্রতিবছর ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের চিনি কলের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কাজ শুরুর আগে অগ্রিম অর্থ দেন। স্থানীয়ভাবে এই অগ্রিম অর্থকে দাদন বলা হয়। দাদনের অর্থ পরিশোধ করতে শ্রমিকদের মৌসুমজুড়ে কাজ করতে হয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি দল হিসেবে কাজ করেন, যাঁদের স্থানীয়ভাবে ‘কয়তা’ বলা হয়। প্রতিটি দম্পতির কাছ থেকে প্রতিদিন কয়েক টন আখ কাটার প্রত্যাশা থাকে। কাজের পরিমাণের ওপর আয় নির্ভর করায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ শ্রমিকের কাজের ঘাটতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবিতা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। পেটে প্রচণ্ড ব্যথা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকে আখ তোলার জন্য মই বেয়ে উঠতে গিয়ে একাধিকবার পড়ে যান তিনি। কিন্তু কাজ বন্ধ করার সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্টের পর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করান।   অস্ত্রোপচারের পরও কমেনি যন্ত্রণা সবিতা জানান, অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পরও তাঁর রক্তপাত ও পেটব্যথা অব্যাহত ছিল। পরে পুনেতে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত করেন বলে তিনি দাবি করেন। অস্ত্রোপচারের আগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পেতেও সমস্যায় পড়েন বলে জানান তিনি। সবিতার অভিজ্ঞতা দেখায়, যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না হলে এমন সিদ্ধান্ত নারীদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। নারী অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না করে নারীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।   জরায়ু অপসারণের হার নিয়ে উদ্বেগ নারী অধিকারকর্মী সঙ্গীতা চৌহান ও রাজনীতিবিদ ড. নীলম গোরহে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার নারী আখশ্রমিকদের মধ্যে জরায়ু অপসারণের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জরিপ অনুযায়ী, বিদ জেলার ৮২ হাজার ৩০৯ জন নারী আখশ্রমিকের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৪৫ শতাংশের বেশি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক নিবন্ধন এবং কল্যাণমূলক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকায় নিয়োজিত স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্যকর্মী বা ‘আশা’ কর্মীদেরও নারীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা করার দায়িত্ব রয়েছে। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং যথাযথ তদারকির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।   সরকারি উদ্যোগেও পরিবর্তন সীমিত আখ কাটার শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, তাঁরা কাউকে জরায়ু অপসারণে বাধ্য করেন না। তবে শ্রমিকদের বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থতার মধ্যেও কাজ করার চাপ থেকে যায়। ঠিকাদার আশরুবা দত্ত জানান, তাঁদের আয় চিনি কলগুলোতে সরবরাহ করা আখের ওজনের ওপর নির্ভরশীল। শ্রমিক কম থাকলে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে তাঁদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি সহায়তা পাননি।   করপোরেট উদ্যোগ ও শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আখের অন্যতম বড় ক্রেতা কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাডের সঙ্গে কাজ করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শ্রমিকদের সুপেয় পানি, শৌচাগার, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, উন্নত সরঞ্জাম এবং নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ উদ্যোগে ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও পেপসিকো কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এদিকে পূর্ণিমার শারীরিক কষ্ট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটেনি। ব্যথার চিকিৎসায় এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করাতে হলেও তাঁকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে। পূর্ণিমার মতো বহু নারী শ্রমিকের সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু অস্ত্রোপচার করানো বা না করানোর নয়; বরং স্বাস্থ্য, জীবিকা ও পরিবারের ভরণপোষণের মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেই কঠিন সিদ্ধান্তের। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অসুস্থতাজনিত ছুটি, সহজলভ্য সরকারি চিকিৎসা, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া অস্ত্রোপচার প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের ঋণনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ জরুরি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের জনশূন্য ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গিকে ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে।   এদিকে, গোয়াদর মহাসড়কের কাছে একটি হোটেলে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলটির ভেতরে চার হামলাকারীকে ঘিরে রাখা হয়েছে।   পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে গত ১২ বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক জঙ্গি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।   তবে গোয়াদরের চলমান অভিযানগুলোর বিস্তারিত এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে ৭ জাহাজে হামলা ও মাইন বিস্ফোরণের দাবি ইরানের
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান।   তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।   হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের মধ্যে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক বিদেশি
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরনগরী ডারবানে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে জনতার পিটুনিতে এক বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জনের একটি দল ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ডারবানের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। এ সময় প্রায় ৫০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা প্রকাশ করেনি পুলিশ। তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছে। দেশটির ডারবান শহর এসব বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুই সপ্তাহ আগে সেখানে অভিবাসীবিরোধী মিছিলের পর লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।   গত জুন থেকে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা আফ্রিকান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এসব কর্মসূচির কিছু সহিংসতায় রূপ নেয়।   নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, মালাউইসহ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের নাগরিকদের কেউ কেউ বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে কয়েকটি দাবির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।   সহিংসতা এড়াতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় অনেক বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।   আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ পাড়ি জমান। তবে দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।   দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনথিভুক্ত অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারছেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

শিক্ষা
স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ