সর্বশেষ

বিএনপিও গণভোটে রাজি, জামায়াত আগে চায় সংবিধান আদেশ

Admin অক্টোবর ০৫, ২০২৫

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের ব্যাপারে একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে গণভোট কখন হবে– তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন নেতারা। গতকাল রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের চূড়ান্ত পর্বের প্রথম দিন দলগুলো এমন অবস্থান জানায়। এর আগে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে ঐকমত্য কমিশন।

সংলাপে বিএনপি আগের অবস্থান থেকে সরে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনে রাজি। দলটি ১০৬ অনুচ্ছেদের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণের প্রস্তাব থেকেও সরে এসেছে। বিএনপি বিরোধিতা করলেও গণভোটের আগে সংবিধান আদেশ জারির মাধ্যমে সনদ কার্যকরের ব্যাপারে অনড় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ডিসেম্বরে গণভোট আয়োজনে জোর দিলেও জাতীয় নির্বাচনের দিন এটি আয়োজনের ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে বলে মত দিয়েছে।

বিএনপি সংস্কারের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্টসহ (আপত্তি) সনদকে গণভোটে দেওয়ার প্রস্তাব করলেও এনসিপি ৮৪ সংস্কারের সবগুলো নিয়ে ‘হ্যাঁ’-‘না’ প্রশ্ন চেয়েছে। একই অবস্থান জামায়াতের। তবে এনসিপিরও নির্বাচনের দিন গণভোটে আপত্তি নেই।

বিএনপি বলছে, যেসব সংস্কারে আপত্তি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন না করার এখতিয়ার নির্বাচনে জয়ী দলের থাকবে। তবে জামায়াত বলছে, রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্টের চেয়ে জনগণের অভিপ্রায় শক্তিশালী। নোট অব ডিসেন্টসহ গণভোট হতে পারে না।

আগামীকাল মঙ্গলবার দলগুলোর সঙ্গে আবার সংলাপ হবে। দুদিনের বিরতিতে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় দলগুলোকে মতপার্থক্য কমানোর আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্তসহ ৯ সংস্কারে বিএনপির আপত্তি। বিএনপি ও এনডিএম ছাড়া বাকি দলগুলো উচ্চকক্ষে পিআর চায়। সংলাপ সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি উচ্চ কক্ষে পিআরের আপত্তি তুলে নিলে, বাকি বিষয়ে গণভোটের ব্যাপারে আপত্তি থাকবে না।

সংলাপে যুক্তি পাল্টা যুক্তি, সওয়াল-জবাব

গতকালের সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মতামত দেন– সংবিধানে হাত না দিয়ে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ’ জারি করে নির্বাচন কমিশনকে গণভোট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব। কারণ, সংবিধানে বলা নেই, জাতীয় ইস্যুতে গণভোট করা যাবে না। গণভোটে আগামী সংসদ সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের তথা কন্সটিটুয়েন্ট ক্ষমতা (সংবিধান প্রণয়ন বা রহিত) পাবে। গণভোটে জুলাই সনদ জনগণ অনুমোদন করলে, তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে আগামী নির্বাচনে গঠিত সংসদ। সেখানে সাংবিধানিক সংস্কারের পর আরেকটি গণভোট হবে ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী।

প্রস্তাবটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, জুলাই সনদে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার রয়েছে। ১৪২ অনুচ্ছেদ স্পর্শ না করে কীভাবে গণভোটে সংস্কার করা হবে? জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণভোটে সংবিধান সংস্কার হবে না। বরং সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আগামী সংসদে বাস্তবায়নের জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে।

শিশির মনির সাংবিধানিক আদেশে নির্বাচনের আগে সনদ কার্যকরের কথা বললে তাতে আপত্তি জানায় বিএনপি। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন তখন বলেন, সাংবিধানিক আদেশ নাম দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বা অন্য কোনো নাম দেওয়া যেতে পারে সমঝোতার জন্য।

সালাহউদ্দিন আহমেদ এর আগে বলেন, গণভোট হলে সংবিধান আদেশ জারি বা ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের মতামত গ্রহণ জরুরি নয়। সংবিধান আদেশ জারির বিষয়ে শিশির মনিরের যুক্তি খণ্ডন করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের সংবিধান প্রণয়ন বা রহিতের ক্ষমতা (কন্সটিটুয়েন্ট পাওয়ার) এবং সংবিধান সংশোধন (অ্যামেন্ডমেন্ট পাওয়ার) ক্ষমতা নেই। থাকলে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যের জন্য ডাকত না।

এর আগে শিশির মনির বলেন, শুধু জনগণের কনস্টিটুয়েন্ট এবং অ্যামেন্ডমেন্ট ক্ষমতা রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গঠিত সরকারকে জনগণ এ দুই ক্ষমতা দিয়েছে। এ ক্ষমতা বলে সংবিধান সংস্কার হলে ভবিষ্যতে আদালতে তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

সালাহউদ্দিন আহমেদ এ বক্তব্য খণ্ডন করে পরে বলেন, গণভোট তথা জনগণের সার্বভৌম মতামতে জুলাই সনদ গৃহীত হলে তা ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ হবে না। নির্বাচনের দিনে গণভোট হলে আগামী সংসদ সাধারণ সংসদের মতো হবে না। সংসদ নিজের মতো নয়, সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করবে। আগামী সংসদ অন্তর্বর্তী সরকারের সব কাজের বৈধতা দেবে সংবিধানের চতুর্থ তপশিলে।

নোট অব ডিসেন্ট প্রশ্নে শিশির মনির আদালতের রায়ের নজির দিয়ে বলেন, ভিন্নমত পোষণকারী বিচারকের রায় কার্যকর হয় না। রায় হয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। সংস্কারের সিদ্ধান্তে থাকা, কিছু দলের নোট অব ডিসেন্টও তেমন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তে নোট ডিসেন্ট দালিলিকভাবে থাকলেও তা কার্যকর নয়।
নিজের মতামতে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই সনদ আদালতের রায় নয়; রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। পরে বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিশির মনির বলেন, গণভোট সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেও হতে পারে। তবে আগে সাংবিধানিক আদেশে সংস্কার কার্যকর হতে হবে, যা পরের সংসদ অনুমোদন করবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সংস্কারের জন্য আগামী সংসদকে গণভোটের মাধ্যমে কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার দিতে হবে।

গণভোটে রাজনৈতিক ঐকমত্য : কমিশন

সংলাপের পর কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সনদ বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। তাদের সম্মতির জন্য গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে, যা সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, ১১, ১৪ ও ১৭ সেপ্টেম্বর সংলাপের পর দলগুলোকে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। তারা গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে একমত হয়েছে।

আগামী সংসদের কাঠামো সম্পর্কেও প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গঠিত সংসদকে এমন বৈশিষ্ট্য দিতে হবে, যাতে জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার করা যায়। এতেও দলগুলো সম্মত হয়েছে। তারা দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে জাতীয় ঐক্য তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে মনে হয় এগোতে পেরেছি: সালাহউদ্দিন

সংলাপ শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। মোটা দাগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে মনে হয় আমরা এগোতে পেরেছি।

গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল সমগ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে কিনা– এ প্রশ্ন রয়েছে। তাই জনগণের সম্মতি নিতে, গণভোট একটি চূড়ান্ত অভিমত। গণভোটে যে জনরায় আসবে, তা সার্বভৌম ক্ষমতার রায়। সব সংসদ সদস্য তা মানতে বাধ্য হবেন।

আগামী সংসদে জুলাই সনদের বিরোধী এমপিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়, তবে কি তারা গণরায় মানতে বাধ্য থাকবেন– সাংবাদিকদের প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, জনরায় চূড়ান্ত।
গণভোট দিয়ে আগামী সংসদকে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে বাধ্যবাধকতা দেওয়া যায় কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, সংসদ সব সময় সার্বভৌম। তবে গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা যায় না।

নোট অব ডিসেন্ট থাকা সংস্কারের বিষয়ে কী হবে– প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, জুলাই সনদ প্রণীত হবে, স্বাক্ষরিত হবে, অঙ্গীকারনামায় সবাই সই করবেন। জনগণ জানবে জুলাই সনদে কী আছে। যারা ম্যান্ডেট পাবে, তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুসারে যেতে পারবে।

সংবিধান আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকরে আপত্তি কেন– প্রশ্নে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সংসদ ছাড়া আর কী ফোরাম আছে, যদি আপনারা বলে দিতেন?’

নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত

সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনের আগে গণভোট দাবি করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, আইনি ভিত্তির জন্য গণভোটে বিএনপিসহ সব দল একমত। জনগণ গণভোটে অভ্যস্ত নয়। তবে জামায়াত মনে করে, জাতীয় নির্বাচন কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়া করতে গণভোট নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরে হতে পারে। সংসদ নির্বাচনের তপশিলের আগেও হতে পারে। গণভোট হয়ে গেলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে কোনো বাধা নেই। এতে আমরাও বাঁচি, জাতিও বাঁচে। তবে গণভোট আগে না পরে– এটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

হামিদুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। আবার সংসদও প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না।

বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব নেই দাবি করে তিনি বলেন, গণভোটের ফল বিপক্ষে গেলেও জামায়াত মেনে নেবে। গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য জামায়াত সব সময় সোচ্চার ছিল। সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণভোটের পক্ষে সবাই মত দিয়েছে।

সনদের আইনি ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে উঠছে

জুলাই সনদের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ধীরে ধীরে ঐকমত্য গড়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, প্রায় সব রাজনৈতিক দল একটি জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে– জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আগে নিশ্চিত করতে হবে।

তুষার বলেন, কমিশন এক সময় প্রস্তাব দিয়েছিল সংবিধান আদেশ জারির। কিছু দল আবার বলেছিল ‘লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার’ বা ‘রেফারেন্ডাম অধ্যাদেশ’ করতে। এনসিপি বলছে, নাম যাই হোক, এর ভিত্তিতে গণভোট হতে হবে এবং তা নির্বাচনের দিনেই করা যেতে পারে।

এনসিপির দাবি ছিল সংসদের আগে গণপরিষদ গঠন। তুষার বলেন, পরবর্তী নির্বাচিত সংসদকে দ্বৈত ক্ষমতাসম্পন্ন করতে হবে। শুধু আইন প্রণয়নকারী সংসদ হিসেবে কাজ করবে না। সাংবিধানিক পরিবর্তন আনার এখতিয়ারও থাকতে হবে। কিছু সংস্কার শুধু সাংবিধানিক সংশোধনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। যেমন প্রধানমন্ত্রীর পদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্টে বেঞ্চ স্থাপন। বিএনপিও এখন কিছুটা নমনীয় হয়েছে গণভোটে।

নোট অব ডিসেন্টসহ গণভোটের বিরোধিতা করে সারোয়ার তুষার বলেন, গণভোট হবে পুরো জুলাই সনদ নিয়েই। ৮৪ বা ৮৬টি প্রশ্নে গণভোট হয় না। প্রশ্ন থাকবে– জনগণ জুলাই সনদ অনুমোদন করে কিনা– এ ধরনের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ প্রশ্ন।

গণভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আপত্তির আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এখনকার সংবিধানের আলোকে কথা বলে। রাজনৈতিক দলগুলো এক হলে জনগণও জুলাই সনদ এবং গণভোট মেনে নেবে।

প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

সংলাপের আগে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ঐকমত্য কমিশনের সভা হয় যমুনায়। প্রধান উপদেষ্টা এ কমিশনের সভাপতি। আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের কমিশনের অগ্রগতির বিষয়ে সরকার প্রধানকে জানান। তিনি দ্রুততার সঙ্গে সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি সুপারিশের তাগিদ দিয়েছেন।

আলী রীয়াজ জানান, কমিশনের বর্ধিত মেয়াদ অর্থাৎ ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই সুপারিশ চূড়ান্ত করে সরকারকে দেওয়া হবে। সনদ সইয়ের জন্য ৩০ রাজনৈতিক দলের তিন-চতুর্থাংশ দল দলীয় প্রতিনিধির নাম দিয়েছে।

সভা সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, সনদ বাস্তবায়নে সরকারপ্রধানকে শক্ত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য না হলে, কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল যেসব পরামর্শ দিয়েছে, সেভাবে সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সাংবিধানিক আদেশ জারির মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করে নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট কিংবা আগামী সংসদকে নির্ধারিত সময়ের জন্য গণপরিষদ হিসেবে গণ্য, সেখানে সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। যমুনার সভা সূত্র জানিয়েছে, সরকারপ্রধান রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন। তা সম্ভব না হলে, তখন কী করা হবে, এ সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রহণের কথা বলেছেন ড. ইউনূস।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইনানীর রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন ইনানী গ্রামের পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।   কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল ৮টার দিকে ইউনিট দুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।   তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের বাজারেও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে বাংলাদেশের পোশাক

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৬ হাজার যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকিরকে গুলি করে হত্যা

সাতক্ষীরার বস্তিতে জরিপকৃত বাস্তুচ্যুত পরিবারের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন; খানি বাংলাদেশ এর গবেষণা

ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর ওপর গত অগাস্ট মাসজুড়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জরিপকৃত পরিবারের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আছেন এদের মাত্র ৭.৫ শতাংশ পরিবার। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১ গ্রহণের পাঁচ বছর পরও এর অঙ্গীকারগুলো এই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জীবনে পৌঁছায়নি।   আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশ, খানি সদস্য স্বদেশ সাতক্ষীরা এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক -প্রান সাতক্ষীরায় আয়োজিত এক বহুপাক্ষিক সংলাপে খানি বাংলাদেশ ও প্রান এর গবেষণা ‘ডিসপ্লেসড, ডিনায়েড’-এর এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ বছর দিবসটির দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সহিষ্ণুতার শুরু নিজ ঘর থেকেই’ সংলাপে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রানের প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর উম্মে সালমা। গবেষণায় সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩৫টি বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ১,৩৪১ জন সদস্যের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে এমন প্রায় ৭,৫৭৩টি পরিবার বাস করছে, যাদের বড় অংশ শ্যামনগর ও আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এসেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জরিপকৃত ৯৫.৫ শতাংশ পরিবারে কোনো না কোনো সদস্য বেলা বাদ দিয়েছেন, আর ৫২.২ শতাংশ পরিবারে কেউ পুরো একদিন না খেয়ে থেকেছেন। খাবার জোগাড় করতে ৫৭.৩ শতাংশ পরিবার উৎপাদনশীল সম্পদ বা প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করেছে। ৯৬.৯ শতাংশ পরিবার আংশিক বা পুরোপুরি লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। গত এক মাসে অর্ধেক পরিবারে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।   সরকারি জমিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে বসবাসকারী পরিবারের ৫৯ শতাংশ উচ্ছেদ বা উচ্ছেদের হুমকির মুখে পড়েছে। গত ১২ মাসে ৭৯.১ শতাংশ পরিবার কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পায়নি, আর সহায়তা না পেলে বা প্রয়োজন হলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হয় তা জানে না ৯২.৭ শতাংশ পরিবার। ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ৩৩.২ শতাংশ স্কুলে নথিভুক্ত নয়; এদের ৩০ শতাংশ শিশুশ্রমে নিয়োজিত। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মইনুল ইসলাম মইন, সভাপতিত্ব করেন স্বদেশ সাতক্ষীরা এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মাধব চন্দ্র দত্ত। খিলনায় উন্নয়ন সংগঠন সিইপিআর-এর নির্বাহী পরিচালক গৌরাঙ্গ নন্দী এর সঞ্চালনায় সাতক্ষীরা পৌরসভার বস্তিতে বসবাসরত জলবায়ু বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ ৮১ জন সংলাপে অংশ নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান,  সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা নির্বাচন অফিসার মো. হযরত আলী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. জাহিদ পারভেজসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।   স্বাগত বক্তব্যে স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত বলেন, জলবায়ু বাস্তুচ্যুতরা তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুপেয় পানির প্রবেশগম্যতা মিলিয়ে সার্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তায় কী অবস্থায় আছে এবং এই সংকট প্রশমনে স্থানীয়ভাবে কী সামর্থ্য রয়েছে, তা খুঁজে বের করতেই এই সমীক্ষা।   বাস্তুচ্যুতদের পক্ষে নিজেদের সংকটের কথা তুলে ধরেন ফাতেমা বেগম, সোনিয়া বেগম, সালমা, রিজিয়া বেগম, তন্বী খাতুন, পারুল পারভিন। তারা বলেন, পরিবারের পুরুষেরা মূলত ভ্যান চালান, যাতে আয় খুবই সামান্য। দিনে দুশো টাকার মজুরিতে সংসার চলে না, তাই অনেক পরিবার অল্প টাকার বিনিময়ে শিশুদের গ্যারেজে কাজে পাঠাচ্ছে; এসব শিশুর কেউ কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। আয় অনিয়মিত হওয়ায় শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দিতে পারেন না তারা। বিধবা বা বয়স্ক ভাতাসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা।   তারা জানান, ছোট্ট এক টুকরো জায়গায় গাদাগাদি করে ঘর, তার ভেতরেই রান্নাঘর ও শৌচাগার। কোনোমতে ঘর তুলতে ঋণ নিতে হয়, কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় অনেকে ঋণ দিতেও ভরসা পান না। আবার কেউ একবার ঋণ নিলে নিয়মিত আয় না থাকায় ঋণের চক্রে জড়িয়ে পড়েন এবং শোধ দিতে না পেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন এমন নজিরও আছে।   উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও অন্যান্য বক্তারা বলেন,  বাস্তুচ্যুতির পরবর্তী খাদ্য অনিরাপত্তা কোনো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি প্রকৃতপক্ষে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনের একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যর্থতা। বস্তিতে কতজন মানুষ বাস করেন এবং বসতিভেদে তাদের সংকট আর চাহিদা কী, সে তথ্যগুলো জড়ো করা গেলে তাদেরকে বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এই জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা নিয়ে এখনকার যে পরিসংখ্যানের উপর সবাই কথা বলছে, সেটা নতুন করে জরিপ করলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি পাওয়া যাবে। মানুষ একেকবারেই এলাকা ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে এখানে চলে আসছে তা বুঝতে তাদের আদি এলাকাতেও গবেষণা দরকার। এ গবেষণা ভবিষ্যৎ কাজের জন্য তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে।অনেকেই এদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করা শোষণ করে। সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে, এবং কার্ড পেতে কাউকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন বক্তারা।   সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত বলেন, বস্তিবাসীদের মধ্যে যারা বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন না, তাদের তালিকা পাঠালে ভাতার আওতায় আনা হবে। পৌর এলাকার বাইরের ভূমিহীনরা আবেদন করলে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী ২ একর পর্যন্ত জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। শিশুদের জন্য স্কুলভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি এবং তরুণদের কাজে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘দলগতভাবে কাজ করলে ফল ভালো হয়।’   জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা মো. জাহিদ আরজু রিপন বলেন, বাস্তুচ্যুতদের বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধানে পৌর এলাকায় অধিদপ্তরের সরাসরি কাজের সুযোগ নেই। তবে কোনো নাগরিক সংগঠন দায়িত্ব নিলে বস্তিতে যৌথ কল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা সম্ভব।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়ে জানান, বস্তিবাসীদের মধ্যে যারা এখনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতার আওতায় আসেননি, তাদের তালিকা প্রদান করা হলে দ্রুত ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পৌরসভার বাইরের ভূমিহীনরা আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি পরিবারকে ২ একর পর্যন্ত কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। জলবায়ু বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। যেসকল বস্তিবাসী বয়স্ক বা বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাদের তালিকা পাওয়া মাত্রই ভাতার আওতায় আনা হবে। পৌর এলাকার বাইরের প্রকৃত ভূমিহীনরা আবেদন করলে নীতিমালা অনুসরণ করে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   বক্তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এই জনগোষ্টীর সংযোগ ঘটাতে হবে। দুর্যোগকবলিত মানুষকে নিজ এলাকায় রাখতে খাদ্য, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেন তারা। বক্তারা হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরির তাগিদ দিয়ে বলেন, এর ভিত্তিতে তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিলে পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবা সমন্বিত না হলে পাঁচ বছর পর এ সংকট দ্বিগুণ হবে। সেবা পেতে বিদ্যুৎ বিল, ভোটার আইডি ও জমির পরচা বাধ্যতামূলক হওয়ায় বাস্তুচ্যুতরা বঞ্চিত হচ্ছেন।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মোঃ মইনুল ইসলাম মইন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অভিবাসন একটি সাধারণ বিষয়, কিন্তু এখানে বাস্তুচ্যুতি শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ বাস্তুচ্যুত মানে মানুষ ইচ্ছে করা স্থানবদল করেনি বরং বাধ্য হয়েছে। বস্তিতে সবজি চাষের জায়গা নেই, পানি নেই, শোভন জীবনযাপনের কোনো সুবিধা নেই। তিনি বলেন, পৌরসভাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্স ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে কোন বস্তিতে কী সহায়তা দরকার, তা ঠিক করা গেলে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারে। বস্তি নিয়ে পৌরসভা এখনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পায়নি, তাই তাদের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র গ্রহণ করে। এতে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর খাদ্য, পানি, আবাসন, জীবিকা ও দলিলপত্রের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে এবং নিজ এলাকায় ফিরতে অক্ষম মানুষদের বর্তমান আবাসস্থলে স্থানীয়ভাবে একীভূত করার কথা বলা হয়েছে। আইওএম ও বাংলাদেশ সরকারের ২০২৫ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দুর্যোগের কারণে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।   গবেষণায় পরিবার নির্বাচনে স্নোবল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তাই তথ্যগুলো জরিপকৃত পরিবারের অবস্থা নির্দেশ করে, সাতক্ষীরার সকল বাস্তুচ্যুত পরিবারের পরিসংখ্যানগত প্রাক্কলন নয়।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৪, ২০২৬

চুরি হওয়া সেই ল্যাপটপ ফিরে পেলেন জার্মান পর্যটক

ছবি: সংগৃহীত

২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসিসহ ১১ জন

গত ৩ দিনে বাংলাদেশ-রিয়াদের ১০টি ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রীর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে মোহাম্মদপুরে অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ

ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের বিষয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকেরা। এতে মোহাম্মদপুর, বসিলা ও গাবতলীমুখী সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।   রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন চালকেরা।   চালকদের এই কর্মসূচির কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ওই পথে চলাচলকারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।   এর আগে, তিন দিনের মধ্যে ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী। এর প্রতিবাদেই চালকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।   অবরোধের কারণে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড় ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।   সড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তি এড়াতে এই এলাকায় চলাচলকারীদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ চাকরিপ্রার্থীদের

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ভালোবাসা ধরে রাখার ৬ উপায়

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন জহরত আদিব চৌধুরী

0 Comments