অর্থনীতি

তৈরি পোশাক নির্ভরতায় ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের রপ্তানি

মারিয়া রহমান মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ গত দুই দশকে উচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, বিপুল রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং তরুণ কর্মশক্তির কারণে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান নীতির ধারাবাহিকতা থাকলে দেশটির অর্থনীতি মাঝারি মানের প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারবে। তবে অতিমাত্রায় তৈরি পোশাক নির্ভরতা পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক জার্নালের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এসব কথা বলা হয়েছে।


সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অ্যাস এ ফ্রান্টিয়াল মার্কেট : গ্রোথ, ইনফ্রাস্ট্র্যাকচার, গ্যাপস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিস্কস’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের উন্নয়নে জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৭ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি, যা রপ্তানিমুখী খাতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দিয়েছে। তবে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৬০.৯ শতাংশ থেকে ৫৮.৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যার প্রধান কারণ নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪.৮ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬.৩ শতাংশ হতে পারে।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, আর্থিক ও রাজস্ব স্থিতিশীলতা নীতির ওপর নির্ভর করে ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪.৭ শতাংশ অর্জিত হবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে তৈরি পোশাক রপ্তানির মোট মূল্য প্রায় ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে প্রায় ৫০ শতাংশ ও ১৮.৭২ শতাংশ অংশ দখল করে। যুক্তরাজ্য ও কানাডা মিলিয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ এবং জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও তুরস্কসহ অপ্রচলিত বাজারগুলো প্রায় ১৬ শতাংশ রপ্তানি আয়ের উৎস।


গত দুই দশকে পোশাক রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০১৬ সালের ২৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ পোশাক খাত থেকে আসে, যা একটি একক খাতের ওপর কাঠামোগত নির্ভরতা নির্দেশ করে। সেই সঙ্গে প্রবাস আয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীলতার উপাদান হিসেবে কাজ করছে। যদিও উচ্চমূল্যের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আইএমএফের মতে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং জটিল বিধি-নিষেধ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও ঋণ পরিবেশকে প্রভাবিত করছে।


তাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) উন্নয়ন, চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি এবং বৈশ্বিক শুল্ক সংস্কার বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে, বিশেষত পোশাক খাতে নির্ভরতার কারণে। ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যার ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার, যেখানে প্রায় ১৮ শতাংশ পোশাক রপ্তানি যায়। এই নির্ভরতা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ শৃঙ্খলার নিয়ম-কানুন, শ্রমমান তদারকি এবং সম্ভাব্য শুল্ক পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করছে। যদিও উৎপাদন খরচ কম, তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় না এবং প্রায় ১৯ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, যা লাভের মার্জিন কমায়।

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ফলে বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতেও রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এই সুবিধা কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই শ্রম, পরিবেশ ও পণ্যের মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকি কমাতে চামড়া, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল খাতসহ উচ্চমূল্যের পণ্যে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। উচ্চ প্রবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিভিন্ন কাঠামোগত ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আইএমএফের মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি ৯-১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা ব্যবসার খরচ বাড়ায় এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৫ সালে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে থাকবে, যা অবকাঠামো উন্নয়নে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

রপ্তানি খাতের ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাকনির্ভর হওয়ায় এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে, কারণ বৈশ্বিক চাহিদা বা নীতির পরিবর্তনে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে উচ্চমূল্যের পোশাক, চামড়া, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, ফার্মাসিউটিক্যাল ও আইসিটি খাত উন্নয়ন জরুরি।

অবকাঠামো ও লজিস্টিক সমস্যাও বিনিয়োগের দক্ষতা কমায়। বন্দর জট, পরিবহন বিলম্ব ইত্যাদি রপ্তানি ব্যয় বাড়ায়। যদিও গভীর সমুদ্রবন্দর ও রেল উন্নয়ন প্রকল্প চলছে, তবে বাস্তবায়নে বিলম্ব ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা। এলডিসি উত্তরণের ফলে উচ্চ শুল্ক ও কঠোর মানদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ডিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বগতি, লেনদেন ৮৮৭ কোটি টাকা

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮৭ কোটি ৭৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ টাকা। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইতে মোট ২ লাখ ২১ হাজার ৭০৩টি  ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯৭টি সিকিউরিটিজের মোট ৩০ কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭১টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৯টির, কমেছে ১৬৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১টির শেয়ারদর। বাজারে ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।  এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৫ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- সিটি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, তৌফিক ফুডস, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ব্যাংক এশিয়া, ডমিনেজ স্টিল, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, এশিয়াটিক ল্যাবস ও সাইহাম কটন। দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, বিডি থাই ফুড, স্কয়ার নিটিং, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড-১, স্কিম-১, প্রাইম ব্যাংক আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, মীর আখতার, রানার অটো, সাইহাম কটন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বিআইএফসি, আইএসএন, প্রাইম ব্যাংক, আলহাজ টেক্সটাইল, সাইফ পাওয়ার, ব্যাংক এশিয়া, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, এসএবি ব্যাংক, জেমিনি সি ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স। এদিকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০৯টি কোম্পানির মধ্যে ৮৮টির দর বেড়েছে, ৯৯টির কমেছে এবং ২২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৮১টি কোম্পানির মধ্যে ৪৪টির দর বেড়েছে, ৩২টির কমেছে এবং পাঁচটি অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১০৭টি কোম্পানির মধ্যে ৪৭টির দর বেড়েছে, ৩৬টির কমেছে এবং ২৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘এন’ ক্যাটাগরিতে আজ কোনো লেনদেন হয়নি। মিউচুয়াল ফান্ডের ৩৪টি ইউনিটের মধ্যে ১৪টির দর বেড়েছে, চারটির কমেছে এবং ১৬টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ডের চারটির মধ্যে তিনটির দর বেড়েছে এবং একটির কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজের সাতটির মধ্যে সবগুলোর দর কমেছে। দিন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬৯ কোটি ৭৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭২ টাকা। এর মধ্যে ইকুইটি সিকিউরিটিজে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৮ কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৮৭ টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে ২ হাজার ৫৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫ টাকা এবং ঋণ সিকিউরিটিজে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৭১ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ২৩৯ টাকা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

২৮ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৬.২ শতাংশ বৃদ্ধি

ছবি : পিআইডি

করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই

ছবি : পিআইডি

ব্যবসাবান্ধব সংস্কার ও সহজ কর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি এনবিআর চেয়ারম্যানের

ছবি : সংগৃহীত
সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক, গণভোট প্রচারে অনুদান প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংক

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) জানিয়েছে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-কে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি-কে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। মোট ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেওয়া হয়, যা সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ ছিল। এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী এই অর্থ দেওয়া হয়েছে এবং এটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার ও নির্বাচনী বিতর্ক আয়োজনের জন্য ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সিএসআর তহবিল রাজনৈতিক বা গণভোটের প্রচারণায় ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক। এদিকে একই তহবিল থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারের জন্য ২০ কোটি টাকা চেয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে তারা নিবন্ধিত সংগঠন না হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার পরই এই অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব আসে বলে জানা গেছে, তবে পরে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং তা আর এগোয়নি।এ ঘটনায় এখন বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি নিয়ে অডিট তদন্ত শুরু করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সিএসআর তহবিল সাধারণত দারিদ্র্য ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যবহৃত হওয়ার কথা, রাজনৈতিক বা ভোট প্রচারণায় নয়। তারা বলছেন, এই ধরনের অর্থ ব্যবহারের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য স্বচ্ছ হওয়া উচিত।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট আসছে, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে জোর

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: সংগৃহীত

ডিএসইতে লেনদেন বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ারের মূল্যহ্রাস

ফাইল ছবি
স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির অডিটে ৭২ হাজার ৩৪১ আয়কর রিটার্ন

রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ৭২ হাজার ৩৪১টি আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।  আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর। এনবিআর জানায়, রিস্ক বেইজড অডিট ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে ২০২৩-২৪ করবর্ষের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব রিটার্ন নির্বাচন করা হয়েছে। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে র‌্যান্ডম সিলেকশন পদ্ধতিতে ১৫ হাজার ৪৯৪টি রিটার্ন অডিটের জন্য বাছাই করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি সার্কেলের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ এবং সর্বনিম্ন ২০ জন করদাতাকে অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকায় অডিট নির্বাচন পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়েছে, যা করদাতা ও সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এনবিআর আরও জানায়, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় অডিটের জন্য নির্বাচিত টিআইএন নম্বরের তালিকা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে, তেমনি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে বিসিসিসিআই কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান বিসিসিসিআই’র

আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে তামাক খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড, কর ফাঁকি ধরলে পুরস্কার

ছবি: সংগৃহীত

ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ: বৈশ্বিক-বাণিজ্যে আপডেট থাকতে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ

0 Comments