ভালো ফলাফলের প্রত্যাশায় ভারতের হিমাচল প্রদেশের শিমলার উদ্দেশ্যে সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ যুব টেবিল টেনিস দল। দলটি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী হয়ে শিমলায় পৌঁছাবে
৩০তম এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বাছাইপর্ব আগামী ৮ থেকে ১১ এপ্রিল ভারতের শিমলায় অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ছাড়াও এতে অংশ নিচ্ছে স্বাগতিক ভারতসহ সার্কভুক্ত দেশসমূহ। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বালক ও বালিকা বিভাগে সিঙ্গেলস, ডাবলস, মিক্সড ডাবলস এবং টিম ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবে
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (বিটিটিএফ)-এর সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেটের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিমলায় যাচ্ছে। দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রাক্তন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও বিটিটিএফ-এর ২য় সহ-সভাপতি তাহমিনা তারমিন বিনু। কোচ হিসেবে থাকছেন বিকেএসপির ধনঞ্জয় শীল তীর্থ এবং আইটিটিএফ লেভেল-২ কোচ রিগ্যান বড়ুয়া
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলের খেলোয়াড়রা হলেন মোঃ নাফিজ ইকবাল (অধিনায়ক), আবুল হাসেম হাসিব, মোঃ তাহমিদুর রহমান সাকিব ও মোঃ জয় ইসলাম। অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দলের খেলোয়াড়রা হলেন খই খই সাই মারমা (অধিনায়ক), রেশমী তনচংগ্যা, ঐশী রহমান ও নুসরাত জাহান। অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দলের খেলোয়াড়রা হলেন মোঃ শাহীন আহম্মেদ (অধিনায়ক), মোঃ মিদুল রহমান, তামজিদুুল ইসলাম পরশ ও রাব্বি ইসলাম। অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা দলের খেলোয়াড়রা হলেন মোছাঃ রাফিয়া চৌধুরী (অধিনায়ক), জান্নাত ইসলাম রোজা, মোসাম্মদ জান্নাতুল রোজা ও সাবিহা আক্তার পাপিয়া
যুব দলের মোট ১৬ জন টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের মধ্যে ১২ জনই বিকেএসপির বর্তমান এবং ২ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ১ জন গ্রিন টেবিল টেনিসের প্রতিনিধি। বাকি ২ জনের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ১ জন রংপুর টেবিল টেনিস সংস্থার
দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন, প্রতিযোগিতার প্রসপেক্টাস হাতে পাওয়ার আগেই আমরা দল নির্বাচন করে বিকেএসপিতে ৩৩ দিনের একটি নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করেছি। গত বছর কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে বাংলাদেশ ৭টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করলেও প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ না হওয়ায় এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ালিফাই করতে পারিনি। তবে এবার আমরা কোয়ালিফাইং নিয়ে খুবই আশাবাদী
তিনি আরও বলেন, এবারের সাউথ এশিয়ান জুনিয়র আমাদের কয়েকজন শীর্ষ খেলোয়াড়ের জন্য শেষ টুর্নামেন্ট। আমরা বিশ্বাস করি তারা তাদের শেষ আসরটিকে স্মরণীয় করে দেশের জন্য সম্মানজনক ফলাফল বয়ে আনবে
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্ট্রেচারে করে যখন মাঠ ছাড়েন শাভি সিমন্স, তখনই মনে হচ্ছিল গুরুতর কিছু। টটেনহ্যাম হটস্পার জানিয়েছে, অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্টে (এসিএল) চোট পেয়েছেন তাদের এই ডাচ মিডফিল্ডার। এখন শল্যবিদের ছুরিকাঁচির নিচে যেতে হবে তাকে। এসিএল চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হতে বছর খানেকের মতো সময় লাগে। আগামী জুনে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। যেখানে খেলার স্বপ্ন আগেভাগেই শেষ হয়ে গেল ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলারের। বিশ্বকাপের জন্য রোনান্ড কুমানের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনে করা হচ্ছিল সিমন্সকে। তাকে হারানো নেদারল্যান্ডসের জন্য তাই বড় ধাক্কা। বিশ্ব মঞ্চে দ্বিতীয়বার খেলার অপেক্ষায় ছিলেন সিমন্স। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় তার। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচ খেলে ছয়টি গোল করেছেন তিনি। গত মাসে সবশেষ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এই ফুটবলার। প্রিমিয়ার লিগে গত শনিবার উলভারহ্যাম্পটন ওয়ার্ন্ডারার্সের বিপক্ষে টটেনহ্যামের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে চোট পান সিমন্স। ৬৩তম মিনিটে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় তাকে। টটেনহ্যাম সোমবার জানিয়েছে, সিমন্সের ডান হাঁটুতে দ্রুতই অস্ত্রোপচার করা হবে। আগামী সপ্তাহে শাভির অস্ত্রোপচার করা হবে। এরপর আমাদের মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবেন তিনি। চোট পাওয়ার পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেন সিমন্স। মানুষ বলে জীবন নিষ্ঠুর হতে পারে, আজ সেরকমই মনে হচ্ছে। মৌসুমে আমার পথচলা হুট করে থমকে গেল এবং সবকিছু মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি। সত্যি বলতে, ভেঙে পড়েছি… কেবল নিজের দলের হয়ে লড়াই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেই সুযোগ আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে...সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নও। এই গ্রীষ্মে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপে পড়েছে নেদারল্যান্ডস। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান, সুইডেন ও তিউনিশিয়া। আগামী ১৪ জুন এশিয়ার দেশ জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে ডাচরা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তী সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানান উদ্যোগ নিচ্ছেন তামিম। সম্প্রতি ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের ক্রিকেট নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব আর ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বের মধ্যে অনেক ফারাক আছে বলে মনে করেন তামিম। তার মতে, জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকা আর বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিনায়ক হিসেবে যেখানে কেবল দল ও খেলার দিকেই মনোযোগ দিতে হয়, সেখানে সভাপতি হিসেবে ভাবতে হয় পুরো কাঠামো—খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, এমনকি বোর্ডের কর্মীদের নিয়েও। এ প্রসঙ্গে তামিম ইকবাল বলেন, ‘এখানে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই, দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’ নিজের খেলোয়াড়ি অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্ব পালনে সহায়ক বলেও মনে করেন তামিম। ড্রেসিংরুমে থাকাকালীন বোর্ড নিয়ে খেলোয়াড়দের ভাবনা-চাহিদা সম্পর্কে ধারণা থাকায় এখন সেই জায়গাগুলোতে উন্নতির সুযোগ দেখছেন তিনি। এখানে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই, দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তামিম ইকবালের ভাষ্যমতে, ‘কিছু কিছু বিষয় আছে যা আমাকে অবশ্যই সাহায্য করছে। আমি এটাও বুঝি যে আধুনিক খেলোয়াড়রা কীভাবে চিন্তা করে -তারা কী পছন্দ করে আর কী করে না। আমার মনে আছে, খেলোয়াড় হিসেবে ড্রেসিংরুমে আমরা ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে কী আলোচনা করতাম। আমি জানি খেলোয়াড়রা বোর্ডের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করে এবং কী চায়। আমরা সবসময়ই বলেছি যে খেলোয়াড় এবং বোর্ডের মধ্যে একটা পার্থক্য ছিল, তারা একে অপরের মানসিকতা বুঝত না, কিন্তু আমি কোনো পক্ষকেই দোষ দিতে চাই না। তামিম ইকবাল বলেন, ‘যখন আমি বোর্ডের বাইরে ছিলাম, তখন এমন অনেক ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ভাবতাম যেগুলোর সমাধান করা প্রয়োজন ছিল। খুব শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তাই বোর্ড সভাপতি হিসেবে আমার হাতে বেশি সময় নেই। আর অবশ্যই, বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক বড় সিদ্ধান্ত ও বিনিয়োগ করার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু ছোট ছোট বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমেও পরিবর্তন আনা যায়।’ বোর্ডের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতিদের একজন তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনেও সক্রিয় হতে চান। আইসিসি এবং অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করে বাংলাদেশের ক্রিকেটের লক্ষ্য ও প্রয়োজন তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমি সবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। অংশীদারদের সাথে কাজ করার সময় আপনাকে আরও কৌশলগত এবং যৌক্তিক হতে হবে। আমি নিশ্চিত যে, আমি যদি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিশন সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারি, তবে সব বোর্ডই এর প্রশংসা করবে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেখানে পৌঁছাতে চায়, সেখানে যাওয়ার জন্য প্রতিটি ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে আমাদের কী ধরনের সমর্থন প্রয়োজন, সে বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই। আমি এটিকে একটি বৃহৎ পরিবার হিসেবে দেখি, যেখানে বয়োজ্যেষ্ঠরা কনিষ্ঠ সদস্যদের বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেন।’ দর্শকদের কথাও ভাবছেন তামিম। তার ভাষায়, ‘২০০ টাকার টিকিট কিনে আসা একজন দর্শক ২৫০ টাকার খাবার কীভাবে কিনবেন?’ স্টেডিয়ামে বিনামূল্যে পানি সরবরাহ, উন্নত টয়লেট সুবিধাসহ অবকাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মিরপুর স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নারী ক্রিকেট নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান তামিমের। তার মতে, উন্নয়নের আগে নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। অতীতের কিছু অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘একজন অভিভাবকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার সন্তানের নিরাপত্তা। সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম কাজ।’ জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চান না তামিম। পেশাদার কাঠামো বজায় রেখে নির্বাচক ও কোচদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পক্ষেই তিনি। তবে সার্বিক পর্যবেক্ষণ রাখবেন বলেও জানান। বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে যাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তামিম। তার মতে, একসময়কার জনপ্রিয় কয়েকজন ক্রিকেটারের বিদায়ের পর এই ধাক্কা এসেছে। তাই নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে আসা এবং তাদের নিয়ে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো জরুরি।
মাঠে ফেরার লড়াইয়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি ছিলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু বিধি বাম। যে পেশির সমস্যা থেকে সেরে ওঠার পথে ছিলেন, সেখানেই ফের চোট পেয়েছেন তিনি। শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল, পায়ের সমস্যায় আসরের প্রথম দুই সপ্তাহ ধোনিকে পাবে না চেন্নাই সুপার কিংস। কিন্তু আইপিএল শুরু হওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় এক মাস। চেন্নাই এরই মধ্যে আটটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে, একটিতেও সফলতম অধিনায়ককে পায়নি তারা। চেন্নাইয়ের সঙ্গে মার্চ থেকে আছেন ধোনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, দলটির সঙ্গে অনুশীলন ম্যাচে খেলছেন তিনি, নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন নেটে। সব কিছু মিলিয়ে, চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার কাছেই ছিলেন তিনি। কিন্তু এক অনুশীলন ম্যাচে বাঁধে বিপত্তি। আগে চোট পাওয়া পায়ের পেশিতে নতুন আঘাত পান তিনি। রোববার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে হারের পর, ধোনির ফিরতে এত সময় লাগার কারণ তুলে ধরেন চেন্নাইয়ের কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং। সে খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। তবে পেশির চোট বেশ জটিল…যদি পেশি আবার ছিঁড়ে যায়, তাহলে সব সম্ভাবনাই শেষ হয়ে যাবে। শুরুর দিকে কিছুটা চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমার জানামতে প্রস্তুতি ম্যাচে সে আবারও চোট পেয়েছে। এরপর থেকে সে মুভমেন্ট স্বাভাবিক করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। কিন্তু আবারও চোট পাওয়ায় (তার ফিরতে) ভাবনার চেয়েও বেশি সময় লাগছে। ধোনিকে নিয়মিত নেটে ব্যাটিং করতে দেখা গেছে। তবে সেখানে তিনি মূলত থ্রোডাউনে অনুশীলন করেন। শনিবার অবশ্য ফিজিওর সঙ্গে দৌড়াতেও দেখা গেছে তাকে। এরপর নেটে স্পিনারদের পাশাপাশি ব্যাটিং কোচ মাইক হাসির থ্রোডাউনে ব্যাট করেন। ফিজিও সঙ্গে সে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং পুনর্বাসনের সব কিছু করছে, আমরা কেবল সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছি। গুজরাটের বিপক্ষে হেরে পয়েন্ট টেবিলে এখন ষষ্ঠ স্থানে আছে চেন্নাই। আগামী শনিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হবে তারা।