জাতীয়

মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি মা-বোনদের শিক্ষিত করার লক্ষ্যে মেয়েদের মেট্রিক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে দেশ পরিচালনার সময় মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করা হয়েছিল।

 

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শের দল হিসেবে তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করা হবে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পায়।

 

তিনি আরও বলেন, যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ আরও উৎসাহিত হয়।

 

বিস্তারিত আসছে...

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে অপপ্রচারে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক স্বার্থে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের প্রশ্রয় না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল এখন গণভোটকে ভিন্ন পথে পরিচালিত এবং দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করছে এবং জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’ সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জান্নাতের ‘বায়বীয় টিকিট’ বিক্রিকারীরা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জনগণের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরের অংশ হিসেবে উলাশী খালের পুনঃখনন কাজ এবং যশোর মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী করা হবে।’ বিকেলে জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপি সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ‘তারা জনগণের রায় মেনে নিতে না পেরে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ এসব বুঝে গেছে। জনগণ বিএনপির সঙ্গেই আছে’, বলেন তিনি। জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।’ সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো পুনরায় শুরু করা হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্রায় দুই দশক আগে যশোর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করে। আমরা সেই প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দিচ্ছি, যাতে এই অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পায়।’ নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের কোটি নারীকে এর আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া গৃহস্থালির জ্বালানি সুবিধা সহজলভ্য করতে এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে করা হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষি ঋণ মওকুফের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১২ লাখ কৃষককে ঋণমুক্ত করা হবে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’ তারেক রহমান বলেন, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।   খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২ মে থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ ও সম্মাননা দেওয়া হবে। জনসভায় তিনি দেশ গঠনে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্য ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। আমরা একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।’ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আম্মারের মাকে কড়া প্রশ্ন ছাত্রদল নেত্রীর

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে : প্রতিমন্ত্রী

ছবি : পিআইডি

শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাবার স্মৃতি বিজড়িত শার্শার উলসী খাল পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শা এলাকায় কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে ঐতিহাসিক উলসী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। তিনি সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ১১ টা ৪২ মিনিটে খাল খনন স্থলে আসেন। এসেই খালের উপরের অংশে নির্মিত উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর দরবারে দোয়া ও মোনাজাত করেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শার উলসী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে খনন করেছিলেন যা ‘জিয়ার খাল’ নামে পরিচিত। এই খালটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে পুনঃখনন করা হচ্ছে। উদ্বোধন করা ফলকে লেখা আছে, ‘যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন উলসী খাল(জিয়ার খাল)পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী.. ২৭ এপ্রিল, ২০২৬।’ তার ঠিক পাশের ফলকে লেখা আছে, 'গণযোগ' উলসী- যদুনাথপু-বেতনা নদী সংযোগের প্রকল্প।  দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক গণ-উপযোগ অনুগামী প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উদ্বোধন করলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, 'উলসী গ্রাম, যশোহর'। ১ নভেম্বর ১৯৭৬। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর খালকাটা কর্মসূচিকে ঘিরে  শার্শা ও তার আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে ভোর থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। তাদের সবার হাতে ছিলো গোলাপ আর রজনীগন্ধা ফুল। চোখে মুখে ছিলো খুশির আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রী খালে নেমেই প্রথমে চারপাশে অপেক্ষায় থাকা মানুষজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তারা থেমে থেমে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন,‘ প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’। এলাকাবাসী বলছেন, খাল খননের ফলে তাদের পানির সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া ভবিষ্যতে সেচ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ দশক আগে যশোরের শার্শার উলসী এলাকায় কৃষকদের দুঃখ ছিল জলাবদ্ধতা। বিস্তীর্ণ জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকত। সেই কষ্ট দূর করতে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর নিজে কোদাল হাতে খাল খননের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ ৫০ বছর পর সেই মৃতপ্রায় খালটি পুনরায় খননের মাধ্যমে সচল করার কাজে উদ্যোগী হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ৫৪ জেলায় একযোগে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।  ওইদিন তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

এলপিজি কার্ড’ চালুর ঘোষণা, জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন উদ্যোগ

ছবি : সংগৃহীত
দেশের ৮টি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর দেশের ৮টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচলা কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।   সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, বিমানবন্দরগুলো সব সময় নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ থাকে। এরপরও পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর তা আরও বাড়ানো হয়েছে। এটি নিয়মিত কাজের অংশ।   জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।   আরও জানা গেছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে। কোনও কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। বেবিচকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হুমকি আমরা পাইনি। তারপরও আগাম সতকর্তা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামা করে না সেগুলোকেও রাতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ সদর দফতর যে চিঠি দিয়েছে তারই প্রেক্ষিতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমনটি না, আমরা মাঝে মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে থাকি। প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাফতরিক চিঠির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই সতর্কতা জারি করা হয়। পুলিশ সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তবে সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, হুমকি না থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দফতর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৫৭৬৬ জন হজযাত্রী, ৪ জনের মৃত্যু

ফাইল ছবি

হকার উচ্ছেদ নয়, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাই সমাধান

ছবি : সংগৃহীত

যশোরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন আজ

0 Comments