বিশ্ব

শতাধিক এনজিও-নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিল বুরকিনা ফাসো সরকার

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে। ছবি: সংগৃহীত
বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে। ছবি: সংগৃহীত

শতাধিক এনজিও ও নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিয়েছে বুরকিনা ফাসো। দেশটির সামরিক সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘মৌলিক অধিকারের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগে দেশটিতে একটি ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলও ভেঙে দিয়েছিল সরকার।

বুধবার এক ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রশাসন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বর্তমান আইনি বিধান অনুযায়ী’ ১১৮টি এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলোর সবই বুকিনা ফাসোভিত্তিক। সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ মানবাধিকার রক্ষার কাজে যুক্ত ছিল।

২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার এনজিও, শ্রমিক সংগঠন, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সামরিক শাসনের বিরোধিতার ওপর কঠোর দমন চালিয়ে আসছে।

গত জুলাইয়ে ট্রাওরে একটি আইনের মানবাধিকার সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম সীমিত করেন। এর এক মাসের মধ্যেই প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে সরকার ২১টি সংগঠনের অনুমোদন বাতিল করে এবং আরও ১০টিকে তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

বুধবারের ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রশাসনমন্ত্রী এমিলি জারবো নতুন করে নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনগুলোর নেতাদের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যে কেউ আইন ভঙ্গ করবে, তাকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি দেশটিতে নাগরিক সমাজের ওপর ‘ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের’ প্রমাণ। সংস্থাটির সাহেল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওসমানি ডিয়ালো বলেন, সংগঠন গঠনের স্বাধীনতার ওপর এই স্পষ্ট আক্রমণে আমরা উদ্বিগ্ন ও গভীরভাবে চিন্তিত। এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দেওয়া বুরকিনা ফাসোর সংবিধানের পরিপন্থি।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশটির আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে নাগরিক সমাজকে চুপ করিয়ে দেওয়ার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এর মাধ্যমে দমনমূলক আইন, ভয়ভীতি, হয়রানি, ইচ্ছামতো আটক এবং মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তিনি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইব্রাহিম ট্রাওরের সরকার বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। গত নভেম্বরে সব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওকে তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে নতুন রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকে স্থানান্তর করতে বলা হয়। এছাড়া জানুয়ারিতে তিন বছর স্থগিত থাকার পর সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়া হয়।

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ও আইএসআইএল সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে প্রায়ই এসব গোষ্ঠীর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি বা সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়ে থাকে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান, স্বস্তি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে হয়েছে। খবর বিবিসির।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা পূর্বে ঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ শুরু করার ঘোষণা দেয়। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত তেল পরিবহন পথটি কার্যত বন্ধ করে রাখে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।  

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ছাড়ে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আনতে পারবে বাংলাদেশ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার | ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে ‘সবকিছু’ করবে যুক্তরাজ্য: স্টারমার

ছবি: সংগৃহীত

অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করল ইরান

ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টার। ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ প্রাণ গেল ৮ জনের

ইন্দোনেশিয়ায় একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশটির পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের মেলাউই জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর আজ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্সের।   এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দুইজন ক্রুসহ হেলিকপ্টারে আটজন যাত্রী ছিলেন; তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে একজন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন। বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি একটি এয়াবাস এইচ১৩০ এয়ারক্রাফট এবং সেটির মালিক স্থানীয় একটি বিমান পরিষেবাদাতা সংস্থা। তারা আরও জানায়, বৃহস্পতিবার মেলাউইর একটি পাম-বাগান থেকে উড্ডয়নের ৫ মিনিট পরেই হেলিকপ্টারটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। যে এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি খাড়া পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গলে আবৃত একটি অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী সেকাদাও জেলার অন্তর্গত। দুর্গম পথ এবং ঘন বনাঞ্চলের কারণে দুর্ঘটনাস্থলে যেতে উদ্ধারকারী বাহিনীর বেশ সময় লেগে যায়। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে হেলিকপ্টারটির লেজের অংশটি আলাদা হয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে পড়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লেজের অংশটি হেলিকপ্টারের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু কী কারণে বিচ্ছিন্ন হয় তার উত্তর মেলেনি। এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
সাইদ খাতিবজাদেহ। ছবি: সংগৃহীত

‘সাময়িক নয়, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায় ইরান’

অস্ত্র হাতে লেবাননের যোদ্ধারা। ছবি : সংগৃহীত

‘ইসরায়েল চুক্তি ভাঙলে কঠোর জবাব’: ট্রিগারে আঙুল রাখার বার্তা

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ সংকটে ৪০ দেশের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকের আহ্বান

বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে। ছবি: সংগৃহীত
শতাধিক এনজিও-নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিল বুরকিনা ফাসো সরকার

শতাধিক এনজিও ও নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিয়েছে বুরকিনা ফাসো। দেশটির সামরিক সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘মৌলিক অধিকারের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগে দেশটিতে একটি ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলও ভেঙে দিয়েছিল সরকার। বুধবার এক ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রশাসন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বর্তমান আইনি বিধান অনুযায়ী’ ১১৮টি এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলোর সবই বুকিনা ফাসোভিত্তিক। সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ মানবাধিকার রক্ষার কাজে যুক্ত ছিল। ২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার এনজিও, শ্রমিক সংগঠন, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সামরিক শাসনের বিরোধিতার ওপর কঠোর দমন চালিয়ে আসছে। গত জুলাইয়ে ট্রাওরে একটি আইনের মানবাধিকার সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম সীমিত করেন। এর এক মাসের মধ্যেই প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে সরকার ২১টি সংগঠনের অনুমোদন বাতিল করে এবং আরও ১০টিকে তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। বুধবারের ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রশাসনমন্ত্রী এমিলি জারবো নতুন করে নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনগুলোর নেতাদের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যে কেউ আইন ভঙ্গ করবে, তাকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি দেশটিতে নাগরিক সমাজের ওপর ‘ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের’ প্রমাণ। সংস্থাটির সাহেল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওসমানি ডিয়ালো বলেন, সংগঠন গঠনের স্বাধীনতার ওপর এই স্পষ্ট আক্রমণে আমরা উদ্বিগ্ন ও গভীরভাবে চিন্তিত। এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দেওয়া বুরকিনা ফাসোর সংবিধানের পরিপন্থি। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশটির আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে নাগরিক সমাজকে চুপ করিয়ে দেওয়ার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এর মাধ্যমে দমনমূলক আইন, ভয়ভীতি, হয়রানি, ইচ্ছামতো আটক এবং মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তিনি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান। ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইব্রাহিম ট্রাওরের সরকার বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। গত নভেম্বরে সব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওকে তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে নতুন রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকে স্থানান্তর করতে বলা হয়। এছাড়া জানুয়ারিতে তিন বছর স্থগিত থাকার পর সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়া হয়। বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ও আইএসআইএল সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে প্রায়ই এসব গোষ্ঠীর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি বা সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়ে থাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে টানা ৪৯ দিন ইন্টারনেট বন্ধ, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

সিনেটে ভোটের পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল সমর্থনে বড় পরিবর্তন

শাহবাজ শরিফ। ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তি, ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের

0 Comments