বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির পরিবর্তে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) অ্যাওয়ে জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। অতীতের সাফল্যের কারণে এই জার্সিকে অনেকেই দলের জন্য ‘সৌভাগ্যের’ প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
খেলাধুলায় অনেক দল ও খেলোয়াড়ই বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার বা বিশ্বাস অনুসরণ করেন, যা তাদের মানসিকভাবে আত্মবিশ্বাসী থাকতে সহায়তা করে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেভি ব্লু জার্সি পরার সিদ্ধান্তকে তেমনই একটি বিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এর আগে দুইবার নেভি ব্লু জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল এবং দুইবারই জয় পেয়েছে। তবে ২০০২ বিশ্বকাপে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে হেরেছিল লা আলবিসেলেস্তে।
২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড চাইছে নেভি ব্লু জার্সি পরা আর্জেন্টিনার কাছে হারের ধারার অবসান ঘটাতে এবং ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জিততে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নেভি ব্লু জার্সি পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রেকর্ড ২ ম্যাচে ২ জয়। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রথম এ জার্সি পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩০ জুন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র হলেও টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা।
সেই ‘হ্যান্ড অব গোল’-এর স্মৃতি
১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেভি ব্লু জার্সি পরে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর এডসন পাসোস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি নাটকীয় মোড় নেয়। ৫২তম মিনিটে দিয়েগো ম্যারাডোনা ‘হাত দিয়ে’ বল জালে পাঠান। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের গোলের স্বীকৃতি দেন। পরে এই গোলই ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।
এর মাত্র তিন মিনিট পর ম্যারাডোনা আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৮১তম মিনিটে গ্যারি লিনেকার ইংল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরে সেই বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতে তারা।
১৯৯৮ বিশ্বকাপ: নাটকীয় লড়াই ও টাইব্রেকারের জয়
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ছিল দারুণ নাটকীয়। ফ্রান্সের স্টেড জিওফ্রোয়া-গিশারে ম্যাচের শুরুতেই দিয়েগো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা।
চার মিনিট পর মাইকেল ওভেনকে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডের সমতা ফেরান অ্যালান শিয়ারার। এরপর ওভেন দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হাভিয়ের জানেত্তি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফেরান। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেভিড বেকহ্যাম সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর লাথি মারার অভিযোগে ডেনমার্কের রেফারি কিম মিল্টন নিয়েলসেনের কাছ থেকে লাল কার্ড দেখেন।
এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোনো দল গোল করতে না পারায় টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী সেমিতে আগে ওঠায় ম্যাচে ইংল্যান্ডের পোশাকি নাম টিম ‘এ’। আর টিম ‘এ’ জার্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড নিজেদের জন্য সাদা জার্সি বেছে নিলে টিম ‘বি’ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ‘অ্যাওয়ে’ মানে নীল জার্সিতে খেলতে হতো। আর ইংল্যান্ড যদি অ্যাওয়ে, অর্থাৎ লাল জার্সি বেছে নিত, তবে আর্জেন্টিনাকে সাদা-আকাশি জার্সি পরে খেলতে হতো।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনভাবে জার্সি বেছে নিতে হয়, যেন সাদা-কালো পর্দায় দুই দলকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এ ছাড়া বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা যাতে দুই দলকে গুলিয়ে না ফেলেন, সেটাও খেয়াল রাখা হয়। এ জন্য ব্যবহার করা হয় ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামের একধরনের প্রযুক্তি। ইংল্যান্ড যাতে কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার নীল জার্সি পরা থামাতে না পারে, তাই আগেভাগেই নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে বসেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। ঢাকার বিপক্ষে আরও একটি শতক হাঁকিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন এই ব্যাটার। অন্যদিকে, দিনের আরেক ম্যাচে রংপুরের বোলারদের দাপটে মাত্র ১৭৯ রানেই গুটিয়ে গেছে সিলেট বিভাগের প্রথম ইনিংস। রোববার (১৮ অক্টোবর) কক্সবাজার একাডেমি মাঠে ঢাকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা আশাব্যঞ্জক ছিল ময়মনসিংহের। ওপেনিং জুটিতে মাহফিজুল ইসলাম রবিন ও খালিদ হাসান দলকে ভালো সূচনা এনে দেন। তবে ইনিংসের ১৯তম ওভারে আরিফ আহমেদের আঘাতে ভাঙে সেই জুটি। দলীয় ৫০ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ইনিংসের হাল ধরেন রবিন ও আব্দুল মজিদ। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে উইকেটে থিতু হয়ে দলের সংগ্রহ এগিয়ে নিতে থাকেন রবিন। ১৪৫ বল মোকাবিলা করে পূর্ণ করেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকলেও রান তুলতে হিমশিম খান মজিদ। শেষ পর্যন্ত ৮৩ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাট চালিয়ে যান রবিন। দিনের শেষ ভাগে রিজান হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ২১৬ বল মোকাবিলা করে তুলে নেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। প্রথম দিনের খেলা শেষে ১১৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন রবিন। অন্য প্রান্তে ৪৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন রিজান হোসেন। তাদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় দিনের খেলা শেষে ময়মনসিংহের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪ উইকেটে ২২৬ রান। রংপুরের বোলিং তোপে বিপর্যস্ত সিলেট এদিকে, দিনের অন্য ম্যাচে রংপুর বিভাগের বোলারদের সামনে সুবিধা করতে পারেননি সিলেটের ব্যাটাররা। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে সিলেট। ইনিংসের সপ্তম ওভারে সৈকত আলী আউট হওয়ার পর দ্রুতই বিদায় নেন অমিত হাসান। একপর্যায়ে মাত্র ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সিলেট। বিপর্যয়ের মুখে দলের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন অধিনায়ক জাকির হাসান ও জাকের আলী। তবে জাকের ৫৬ বল খেলে মাত্র ১৭ রান করে আউট হলে আবারও চাপে পড়ে দল। অন্যদিকে, দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বাঁহাতি ওপেনার জাকির হাসান। ১১১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর নিজের ইনিংস আরও বড় করার পথে ছিলেন তিনি। কিন্তু পেশিতে টান লাগায় ১৩৫ বলে ৭১ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সিলেট অধিনায়ক। জাকির মাঠ ছাড়ার পর সিলেটের ব্যাটিং লাইনআপে আর কেউ উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। আশরাফুল হাসান রিহাদ ও তোফায়েল আহমেদও দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত ১৭৯ রানেই থামে সিলেটের প্রথম ইনিংস। রংপুরের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেহেদী ও স্বাধীন ইসলাম। দুজনই শিকার করেছেন তিনটি করে উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম দিনেই ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে রংপুর। এনসিএলের তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে একদিকে রবিনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ময়মনসিংহের ব্যাটিং দাপট, অন্যদিকে রংপুরের বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। পরের দিনের খেলায় এই দুই ম্যাচের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৭১ রানের জবাবে তাওহীদ হৃদয়রা থেমেছে ১৭২ রানে; তাও আবার ৩৩.৪ ওভারেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ২১ অক্টোবর তাদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। ফাইনালে যেতে সে ম্যাচ জেতার বিকল্প নেই বাংলাদেশের জন্য। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স বলছে, কাজটা বেশ কঠিনই হবে। আবুধাবির এই উইকেটে লক্ষ্যটা হাতের নাগালে না থাকলেও অসম্ভব কিছু ছিল না। বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল দারুণ। উদ্বোধনী জুটিতে ৬.৩ ওভারে ৪৭ রান এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। সৌম্য ৯ রান করে ফেরার পরই ছন্দপতন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত, হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান—কেউই দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি। বাংলাদেশও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ ১২৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়। বাংলাদেশের হয়ে এক তামিম ছাড়া আর কেউ বলার মতো ইনিংস খেলতে পারেননি। নিউম্যান নিয়াম্বুরির বলে রায়ান বার্লের হাতে ধরা পড়ার আগে ৪৬ রান করেন এই ওপেনার। সাইফের ২৬ রান বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শেষ দিকে রিশাদ ২৩ রান করলেও সেটা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। বাংলাদেশকে অলআউট করার পথে সবচেয়ে বড় অবদান ব্রাড ইভান্সের। ৪৫ রানে ৪ উইকেট নেন এই পেসার। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের চিত্রটা অবশ্য ভিন্ন ছিল। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় বাংলাদেশের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় তারা। দুজনের ব্যাট থেকে আসে ১৭৪ রান। চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রান যোগ করেন টেলর ও আরভিন। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ৪০তম ওভার শেষে তাঁদের স্কোরবোর্ডে ওঠে ২০১ রান। অর্থাৎ মাঝের ৩০ ওভারে ১৭১ রান তোলে তারা। ভয়ংকর হয়ে ওঠা টেলর-আরভিন জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন সাইফ। ৩৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই টেলরকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যাচ বানান। ১০১ বলে ১০ বাউন্ডারিতে টেলর ফিরলে ভাঙে ১৫০ রানের জুটি। টেলর ফিরলেও সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন আরভিন। কিন্তু নড়বড়ে নব্বইয়ের ঘরে কাটা পড়েন তিনি। শরীফুল ইসলামের বলে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ধরা পড়ার আগে ৯৩ রান করেন আরভিন। ১০৬ বলে ৯ চারে সাজানোর তাঁর ইনিংস। মাঝে ওয়েসলে মাধেভেরে (১৭) ও সিকান্দার রাজাকে (৪) হারায় জিম্বাবুয়ে। শেষদিকে বাংলাদেশের ওপর ছোট ঝড় বইয়ে দেন নিউমান নায়ুম্বুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তাঁদের জুটিতে আসে ৩৭ রান। দুজনেই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটি আরও একবার স্বর্ণাক্ষরে লিখলেন ব্রেন্ডন টেলর। শনিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়ার পাশাপাশি ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার কীর্তি গড়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। পেছনে ফেলেছেন জিম্বাবুয়ের আরেক কিংবদন্তি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৪০তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন টেলর। এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে তার দশম অর্ধশতক। অভিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যাটিংয়ের ধারও যে কমেনি, এই ইনিংসে সেটিই যেন আরেকবার প্রমাণ করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি এত দিন ছিল অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের দখলে। ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দাপট দেখানো এই উইকেটকিপার-ব্যাটার ২১৩ ওয়ানডেতে করেছিলেন ৬ হাজার ৭৮৬ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে রেকর্ডটি ভাঙতে টেলরের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩০ রান। নিজের ২১১তম ওয়ানডে খেলতে নেমে সেই লক্ষ্য পূরণ করেন তিনি। শতকের হিসাবেও জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন টেলর। দেশটির হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ১১টি সেঞ্চুরি রয়েছে তার। তবে টেলরের ক্যারিয়ারে উত্থানের পাশাপাশি কঠিন সময়ও এসেছে। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী আইন ভঙ্গের দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাড়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা পান তিনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সাজা শেষ করে গত বছরের ২৫ জুলাই সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেটে ফেরেন এই জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার। ফেরার পর ৪০ বছর বয়সেও ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার। ১০১ বল খেলে টেলর শেষ পর্যন্ত আউট হন ৮১ রানে। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করার সুবাধে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৭১।