২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় বদিউজ্জামান নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী আদুরী খাতুন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার দিন বিকেলে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে গিয়ে ট্রলির ওপর স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। পরে বাড়িতে মরদেহ গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন আদুরী।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়।
৩০ বছর বয়সী আদুরী খাতুনের গ্রামের বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়। তার স্বামী বদিউজ্জামান নারায়ণগঞ্জের নিট কনসাট গ্রুপে চাকরি করতেন। আদুরী নিজেও নারায়ণগঞ্জের বনানী গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। ২০১৩ সালে বিয়ের পর তারা নারায়ণগঞ্জের এসিআই পানিরকল এলাকায় বসবাস করতেন।
জবানবন্দিতে আদুরী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে নাশতা শেষে তার স্বামী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিতে চাষাঢ়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। এরপর তার সঙ্গে আর ফোনে যোগাযোগ হয়নি। বিকেল ৫টার দিকে দেবর স্বাধীন তাকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে যেতে বলেন।
হাসপাতালে গিয়ে তিনি স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। বারান্দায় একটি ট্রলির ওপর মরদেহটি রাখা ছিল বলে জানান তিনি। এ সময় শামীম ওসমানের লোকজন দ্রুত মরদেহটি হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আদুরী।
পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাসায় নিয়ে যান। সেখানে গোসল ও জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। গ্রামেও গোসল ও জানাজা শেষে বদিউজ্জামানকে দাফন করা হয়।
আদুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামীর মরদেহ গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান উপস্থিত লোকজন। দাফনের তিন-চার দিন পর তিনি আবার নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, শামীম ওসমান ও তার সহযোগীরা বদিউজ্জামানকে মারধর করে হত্যা করেছেন। তার দাবি, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া গোলচত্বরের সামনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমান, অয়ন ওসমান, টিপু এবং আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন বলে তিনি সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন।
আদুরী আরও জানান, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের নামের তালিকা সংবলিত সরকারি গেজেটে তার স্বামী বদিউজ্জামানের নাম ৪৯১ নম্বরে রয়েছে। জবানবন্দির শেষে স্বামী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কালো ধোঁয়ার যুগ পেরিয়ে নতুন গতিতে ছুটবে ট্রেন। অপেক্ষা এখন বৈদ্যুতিক রেলের। এরইমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে পৌনে চার হাজার কোটি টাকার নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রকল্প। এডিবির অর্থায়নে ২০২৮ সালের মধ্যে এই রুটে ঝুলবে ওভারহেড ক্যাটেনারি তার, গড়ে উঠবে পাওয়ার সাব-স্টেশন। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, ১৬ সেট রোলিং স্টক কিনব। একটা সেটের সঙ্গে মিনিমাম ৬টি কোচ সংযুক্ত থাকবে। আমরা যদি এই ইলেকট্রিক ট্রাকশনটি চালু করতে পারি, প্রচুর রেভিনিউ আয় করা যাবে। রেলওয়ে বলছে, নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর প্রকল্প মূলত পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের প্রথম কৌশলগত ভিত্তি। ধারাবাহিকভাবে এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে। এই লক্ষ্যে টঙ্গী-আখাউড়ার ৯৭ কিলোমিটার লাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করেছে রেলওয়ে, যার খরচ ধরা হয়েছে সাড়ে ১৪ হাজার টাকার বেশি ১৪ হাজার ৫৮৭ কোটি। আর মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত। অন্যদিকে, লাকসাম-চট্টগ্রামের ১৩১ কিলোমিটার পথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকার ডিপিপি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়। যেখানে নতুন লাইন নির্মাণের সময়ই নেওয়া হবে ইলেকট্রিক ট্রাকশন প্রকল্প, বসানো হবে ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা। এই প্রকল্পটিও শেষ হতে পারে ২০৩২ সালে। ফকির মো. মহিউদ্দীন আরও বলেন, আশা করছি, ২০৩২-৩৩ সালের মধ্যে ব্রডগেজ রূপান্তরের কাজটি সম্পন্ন হবে এই করিডোরে। ইলেকট্রিক ট্রাকশনের কাজটিও ওই প্রকল্প চলার মধ্য থেকেই শুরু করব, যাতে ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে ইলেকট্রিক ট্রাকশনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যেতে পারে। এরইমধ্যে আখাউড়া-লাকসামের নতুন ডাবল লাইন চালু হয়েছে। একই সাথে ঢাকা-টঙ্গী লাইনেও তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত ট্র্যাক। তবে দ্রুতগতির ট্রেন নিরাপদে চালাতে ঝুলন্ত ক্যাটেনারি তার এবং সব লেভেল ক্রসিংয়ে অটোমেটিক সিগন্যাল বসানো বড় চ্যালেঞ্জ—বলছেন বিশেষজ্ঞরা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যপক হাদিউজ্জামান বলেন, ৫২ কিলোমিটার যেটি রান করব, যে রোলিং স্টক নিয়ে আমরা কথা বলছি, সেটি কিন্তু আবার দূর-পাল্লার জন্য তৈরি করা হয় না। রোলিং স্টকের রিকোয়েরমেন্টটা কী হবে, তার স্পেসিফিকেশন কী হবে, সেটি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা ও পরিকল্পনা এখনই থাকতে হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশে ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে, ভবিষ্যতে এই ইলেকট্রিক ট্রেনের সেবায় যুক্ত হতে পারে পর্যটন শহর কক্সবাজারও।
মাগুরায় আবারও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ উঠেছে। এবার মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা বিল এসেছে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের নজরে আসার পর বিলটি সংশোধন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের চা দোকানি বাবু মোল্যার ক্ষেত্রে। বাবু মোল্যা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে আসে। কিন্তু চলতি মাসের বিলে মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা উল্লেখ করা হয়। বিলের অঙ্ক দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। গত বুধবার বিল পরিশোধের জন্য মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে বিলটি যাচাই করে সংশোধন করে দেওয়া হয়। সংশোধিত বিলে আগের তিন মাসের বকেয়া এবং চলতি মাসের বিল মিলিয়ে মোট ৭০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিলম্ব ফি যোগ হয়ে পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়িয়েছে ৭১২ টাকা। বিল পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ অক্টোবর ২০২৬। বাবু মোল্যা বলেন, তার বাড়িতে সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো বিল আসে। ২০ ইউনিট ব্যবহারের জন্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বিল দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে বিদ্যুৎ অফিসে বিষয়টি জানালে কর্তৃপক্ষ বিল সংশোধন করে দেয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এস এম শাহিন আহসান বলেন, বিলের কাগজ না দেখে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুরোনো কোনো বকেয়া বিলের অর্থ যুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এত টাকা বিল হওয়ার কথা নয়। এর আগেও শতকোটি টাকার বিল এর আগে মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আরও বড় ধরনের অস্বাভাবিকতার ঘটনা সামনে এসেছিল। এক আবাসিক গ্রাহক ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তার নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়া হয়েছিল। ওই বিল প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিল সংশোধন করে নতুন বিল দেওয়া হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই এবার ২০ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিলের ঘটনা সামনে এসেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ বিলটি সংশোধন করেছে, পরপর এমন অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে বিল তৈরির আগে মিটার রিডিং, পূর্ববর্তী বকেয়া এবং অন্যান্য তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিল প্রস্তুত ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে বিলম্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তদন্তের পর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এজাহারে যেসব অভিযোগ মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে যাত্রীদের চাপ থাকায় বিমানবন্দরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে গালাগাল, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ সময় বিমান মন্ত্রীকে নিয়েও তিনি অশালীন মন্তব্য করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য আনা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলার এজাহারে রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এর আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিনি একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।