ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেতে যাচ্ছে ৩৬টি আসন। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্ররা পাবে একটি আসন।
আগামী ১২ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দল ও জোটের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমানসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন পেলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না; সেক্ষেত্রে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে বৈধ প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল শিগগির ঘোষণা করা হবে, যেখানে মনোনয়নপত্র জমার দিন, বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন গেজেট প্রকাশ করা হয়। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়েছে। তাদের মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলে রয়েছে। তাদের জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল আদালতের আদেশে গেজেট আকারে প্রকাশ বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব আসনের ফল সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বলে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে একজন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার এবং একজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচন ভবনে তাদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।
ইতোমধ্যে ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাই নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর শুরু হবে। দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড বা স্থায়ী কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন—আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রেহেনা আক্তার রানু, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও চৌধুরী নাদিরা আক্তার।
এছাড়া আলোচনায় আছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, সালিমা বেগম অরুনি, শাকিলা ফারজানা, খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়া, নিপুণ রায় চৌধুরী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, খায়রুন নাহার, মাহমুদা হাবিবা, আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নাসিমা আক্তার কল্পনা, সাবরিনা শুভ্র, মাহারীন খান ও বীথিকা বিনতে হোসাইন।
আরও সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, নাহারিন খান, সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা, ডালিয়া রহমান, মানসুরা আক্তার, ফারহানা চৌধুরী বেবী ও সাবরিনা খান।
দলীয় সূত্র বলছে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিত নারীদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করা হতে পারে। একই সঙ্গে মিত্র দলগুলোর নারীনেত্রীদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন পাবে। এর মধ্যে জামায়াত পেতে পারে ১১টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি এবং এনসিপি একটি আসন।
জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনে দলের মহিলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ নেত্রীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এছাড়া আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদেরও বিবেচনায় আনা হতে পারে।
এনসিপির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেতে যাচ্ছে ৩৬টি আসন। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্ররা পাবে একটি আসন। আগামী ১২ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দল ও জোটের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমানসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন পেলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না; সেক্ষেত্রে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে বৈধ প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল শিগগির ঘোষণা করা হবে, যেখানে মনোনয়নপত্র জমার দিন, বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন গেজেট প্রকাশ করা হয়। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়েছে। তাদের মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলে রয়েছে। তাদের জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল আদালতের আদেশে গেজেট আকারে প্রকাশ বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব আসনের ফল সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বলে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে একজন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার এবং একজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচন ভবনে তাদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ইতোমধ্যে ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। বিএনপি জোটে কারা আলোচনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাই নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর শুরু হবে। দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড বা স্থায়ী কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন—আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রেহেনা আক্তার রানু, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও চৌধুরী নাদিরা আক্তার। এছাড়া আলোচনায় আছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, সালিমা বেগম অরুনি, শাকিলা ফারজানা, খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়া, নিপুণ রায় চৌধুরী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, খায়রুন নাহার, মাহমুদা হাবিবা, আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নাসিমা আক্তার কল্পনা, সাবরিনা শুভ্র, মাহারীন খান ও বীথিকা বিনতে হোসাইন। আরও সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, নাহারিন খান, সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা, ডালিয়া রহমান, মানসুরা আক্তার, ফারহানা চৌধুরী বেবী ও সাবরিনা খান। দলীয় সূত্র বলছে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিত নারীদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করা হতে পারে। একই সঙ্গে মিত্র দলগুলোর নারীনেত্রীদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াত জোটে কারা আলোচনায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন পাবে। এর মধ্যে জামায়াত পেতে পারে ১১টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি এবং এনসিপি একটি আসন। জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনে দলের মহিলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ নেত্রীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এছাড়া আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদেরও বিবেচনায় আনা হতে পারে। এনসিপির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের উদ্যোগে সপ্তম ‘বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিট’ শুরু হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয়। সাউথ ইস্ট ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার থেকে প্রকাশিত দুটি জার্নালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামিট আয়োজনের জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান ঢাবি উপাচার্য। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণা জার্নাল প্রকাশ ও একাডেমিক উপস্থাপনা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের গবেষণাধর্মী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীলতা সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফনান ওসমান ও জান্নাতুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র নির্বাহী সহ-সভাপতি আবদুস সবুর খান এবং ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের সভাপতি অনির্বাণ ঘোষ। উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই সামিটে এলডিসি উত্তরণ, শ্রম, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা এবং জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র ফেলো, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এসব প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।
ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা গ্রেপ্তার হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা এ নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে জামায়াতের ভোলা পৌরসভার নারী কর্মী বিবি সাওদাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে উপস্থাপন করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক তার পোস্টে লিখেছেন, ভোলার জামায়াতকর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা পুরনো ফ্যাসিবাদী নিপীড়নেরই অনুকরণ। তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে এভাবে বিনা অপরাধে নিজ বাসা থেকে মধ্যরাতে তুলে নেওয়া কেবল অমানবিক নয়, বরং ভিন্নমত দমনে নবগঠিত সরকারের সুপ্ত মনোবাসনারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, “যারা একসময় নিজেরাই ফ্যাসিবাদের শিকার ছিলেন, তাদের শাসনামলে এমন অযৌক্তিক গ্রেপ্তার ও হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে জামায়াতকর্মী বিবি সাওদার মুক্তি ও সকল প্রকার প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারের মনে রাখা উচিত, ক্ষমতার দাপটে নিপীড়ন শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই শুভ হয় না। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ‘থ্রি এস চেম্বার্স’-এর হেড অব চেম্বার ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির লিখেছেন, এক সাওদার লিখনীতে কেঁপে উঠলো ক্ষমতার মসনদ। সহ্য করতে পারলেন না। জুলাই জেগে উঠুন। আজাদি। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান সরকার কি হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চায়? হাসিনার পরিণতি কি এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেছে তারা? বিএনপির সরকার চালায় কারা? সরকারের সমালোচনামূলক একটা পোস্ট শেয়ার দেয়ার কারণে সাঁইত্রিশ বছরের নারীকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার কি বার্তা দিতে চায় আমাদেরকে? কিসের জোরে তারা দিন দিন এমন হঠকারিতা আর স্বেচ্ছাচারিতার দিকে ধাবিত হচ্ছে? তারা কি ভাবতেছে তাদের লাগাম টেনে ধরার মতো কেউ নাই? চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, দেশের বাস্তবচিত্র গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক জনসমক্ষে তুলে ধরার অধিকার রাখেন। এটি তার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। রাষ্ট্র এই অধিকার হরণ করতে পারে না। এই অপরাধে বিবি সাওদা সুমিকে গ্রেফতার করা ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণের নামান্তর। অবিলম্বে বিবি সাওদা সুমিকে মুক্তি দিতে হবে। কার নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকেও চিহ্নিত করতে হবে। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, এই পোস্টের জন্য এই ভদ্রমহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটু আগে তার পোস্ট শেয়ার দিয়েছিলাম এখন আইডিই উধাও। নিঃশর্ত মুক্তি চাচ্ছি। পুলিশের প্রতিবেদনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক জুয়েল হোসেন খান উল্লেখ করেছেন, নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বিবি সাওদা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাদের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা আবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্র ও সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে জানা যায়–বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ‘Redmi Note 9’ মোবাইল ফোনে লগইনকৃত ফেসবুক আইডি সাওদা সুমির থেকে রাষ্ট্র এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং নির্দেশনা প্রাপ্ত হয়ে বিবি সাওদার হেফাজত থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি সরকার, রাজনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। মোবাইল ফোনটির কারিগরি সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানায়, বিবি সাওদা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর শাস্তিযোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, “ভোলা পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদাকে রোববার রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাই। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।