পাকিস্তান নতুন করে আফগানিস্তানে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, এই অভিযানে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানি বাহিনী দক্ষিণ আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে একটি প্রযুক্তিগত সহায়তা অবকাঠামো এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাকিস্তানের দাবি, এসব স্থাপনা আফগান তালেবান ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের নিরীহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করছিল।
আরেকটি হামলায় কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামের গোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রাখা ছিল।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের যথাযথ সমাধান না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে কান্দাহারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায় এবং পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এক বাসিন্দা জানান, একটি সামরিক বিমান পাহাড়ের ওপর অবস্থিত একটি স্থাপনার দিকে উড়ে যাওয়ার পরই বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। দূর থেকে আগুনের শিখাও দেখা যাচ্ছিল।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কান্দাহারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় স্পিন বোলদাক এলাকাতেও বিমান হামলার শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে পূর্ব সীমান্তবর্তী খোস্ত প্রদেশে শনিবার রাতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
তবে পাকিস্তানের এই হামলার দাবি নাকচ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং একটি খালি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান যেসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলছে, সেগুলো ওই দুই স্থানের অনেক দূরে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের তিনটি স্থানে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, কাবুল নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করে একটি ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়। তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোয়েটায় দুই শিশু এবং কোহাট ও রাওয়ালপিন্ডিতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।