চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১ এপ্রিল থেকে সরকার নির্ধারিত ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া কোনো গ্রাহক জ্বালানি তেল ক্রয় করতে পারবেন না। তবে কৃষকদের জন্য এক্ষেত্রে বিশেষ শিথিলতা রাখা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জ্বালানি তেলের মজুত, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহারসংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সভায় সহকারী কমিশনার আলাউদ্দিন আল আজাদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক উজ জামান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার এবং জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কাউকে তেল সরবরাহ করা হবে না। এ লক্ষ্যে আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ দুই দিন ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে। কার্ড সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং এক কপি ছবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। কার্ডটি বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, জেলায় মোট ২২টি তেল পাম্প রয়েছে এবং আগামী সোমবার থেকে সব পাম্পে একযোগে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তেল বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকবে।
এদিকে কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা রেখে বলা হয়েছে, তারা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া জরুরি সেবায় নিয়োজিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের জন্য চুয়াডাঙ্গার দুটি নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। প্রতিটি উপজেলায় জরুরি সেবার জন্য একটি করে পাম্প নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।
সভায় জানানো হয়, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তেল পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
এদিকে, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের দায় নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান জানান, ৩০ মার্চ থেকে জেলায় রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে মাদারীপুরের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে মাদারীপুর সদরে খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। নিহত বৃষ্টি ওই এলাকার এটিএম বাজারের জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। তার মা আলভী বেগম। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির বাবা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে বিশেষ অনুষ্ঠান ও ঈদের সময় তারা আসতেন। বৃষ্টির বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং বড় ভাই জাহিদ হাসান একজন প্রকৌশলী। ছোটোবেলা থেকেই বৃষ্টি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টির সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার এবং তার এক সহপাঠীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তারা। গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মৃত্যুর খবর কেউ মেনে নিতে পারছেন না। স্থানীয়রা দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে দেশে আনা এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, বৃষ্টি আপু অনেক মেধারী ছিলেন। অনেক ভালো ছিলেন। সকালে জাহিদ ভাইয়া (বৃষ্টির বড় ভাই) তার ফেসবুকে আপু মারা যাওয়া নিয়ে পোস্ট দেন, তা দেখে আমরা প্রথমে জানতে পারি। তবে এর আগে থেকেই আপু নিখোঁজ ছিলেন। কিভাবে, কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা আমরা কিছুই জানিনা। তার এক সহপাঠীকেও হত্যা করা হয়েছে। শুনেছি তার লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু আপুর লাশ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। নিহতের আরেক চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, আমরা কিছুতেই এ মৃত্যু মেনে নিতে পারছিনা। আমরা অপরাধীদের শাস্তি চাই। আর বৃষ্টির লাশ দেশে আনার দাবী জানাই। নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন বলেন, বৃষ্টি অনেক মেধাবী ছিল। সে বেচে থাকলে হয়তো দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারতো। কিন্তু তার আগেই তাকে হত্যা করা হলো। আমরা এই হত্যার বিচার চাই। নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন মুঠোফোনে বলেন, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায় বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সবশেষ গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টির সঙ্গে আমাদের কথা হয়। এরপর থেকেই বৃষ্টি নিখোঁজ। পরবর্তীতে আমরা বৃষ্টি ও তার সহপাঠীর মৃত্যুর খবর পাই। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই। এটা নিশ্চিত হয়েছি। তার মরদেহ উদ্ধার করে দেশে আনার দাবি জানাই। দোষীদের শাস্তি চাই। মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, আমি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি বৃষ্টি নামে মাদারীপুরের এক শিক্ষার্থী আমেরিকা মারা গেছে। এ ক্ষেত্রে মূল কাজ করবে দূতাবাস। আমার কাছে তার পরিবার যদি কোন সহযোগিতা চান, আমি সেটা করব। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, বিষয়টি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। নিহতের পরিবার থেকে এখনও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যোগাযোগ করলে আমরা লাশ আনার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের সেক্রেটারি এমাজউদ্দীন মন্ডল বলেছেন, আমরা গুপ্ত ছিলাম বলেই আজ তোমরা সরকারে। অতএব ‘গুপ্ত’ হওয়া আমাদের জন্য সম্মানের। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে রাজশাহীতে আয়োজিত গণমিছিল ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য জোট এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে এমাজউদ্দীন মন্ডল স্লোগান তুলে বলেন, ‘তুমি কে, আমি কে?’—এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জবাবে বলেন, ‘গুপ্ত, গুপ্ত।’ তিনি আরও বলেন, এই গুপ্তদের কারণেই বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, এটি আমাদের অহংকার। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্র বন্ধ করুন। শেখ হাসিনা পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন। আর আপনি গুপ্তদের কারণেই লন্ডন থেকে দেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। পরিবারতন্ত্র বন্ধ না হলে আর জীবনে বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন না। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল করতে বিএনপি সন্ত্রাসী ক্যাডারদের ব্যবহার করছে এবং তারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বিকাল ৫টায় মহানগরের আলুপট্টি মোড় থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাটার মোড়ে সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণকে বিদ্যুৎ দিতে না পারলে ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার এই সরকারের নেই। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের রাজশাহী মহানগরের নায়েবে আমির ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন সরকার, ব্যবসা ও শিল্পবিষয়ক সম্পাদক একেএম সারোয়ার জাহান প্রিন্স, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ইমরান নাজির প্রমুখ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আট ফুট দীর্ঘ একটি অজগর উদ্ধার করে পাহাড়ে অবমুক্ত করেছে সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেস (থ্রি-এসএ)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নীপবন শিশু বিদ্যালয়ের সামনে সাপটি দেখা যায়। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জমাদিউল আউয়াল সুজাত সাপটি দেখে সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেসকে খবর দেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আট ফুট দীর্ঘ সাপটি একটি বার্মিজ পাইথন। অজগর সাপ সাধারণত বেশ লম্বা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা সাপ হল রেটিকুলেটেড পাইথন। তবে আমাদের দেশে বার্মিজ পাইথনই বেশি দেখা যায়।’ উদ্ধার করা সাপটি ক্যাম্পাসের পাহাড়ি অঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে রফিক বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সাপ অবমুক্ত করার নির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করি না। তবে এটুকু বলা যায়, ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী পাহাড়ি ও বনাঞ্চল এলাকায় এটি অবমুক্ত করা হয়েছে।’ সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহীম খলিল আল হায়দার বলেন, বার্মিজ পাইথন আমাদের আদি সাপ। আমাদের দেশে তিন ধরনের পাইথন পাওয়া যায়। তার মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এই সাপ ১৭ থেকে ১৮ ফুট হতে পারে। এটা জুভেনাইল বা সাব-এডাল্ট সাপ। তিনি বলেন, এই সাপের কোনো বিষ নেই। মানুষের জীবন ঝুঁকি হবে এমন কোনো ক্ষতি করে না। তবে পুকুরে নেমে মাছ খেয়ে বা খামারের মুরগি বা হাঁস খেয়ে ক্ষতি করে। এছাড়া কোনো ক্ষতি করে না। এর আগে গত ১০ ও ১২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে দুটি কিং কোবরা উদ্ধার করা হয়।