গ্রীষ্ম এলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, আর সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে মাসিক বিলের চাপ। বিশেষ করে ইন্ডাকশন চুলা ও এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বেশি ব্যবহার করলে খরচ দ্রুত বেড়ে যায়। তবে কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে সহজেই এই খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহারে সতর্কতা
ইন্ডাকশন চুলা দ্রুত রান্নার সুবিধা দিলেও এর সঠিক ব্যবহার না জানলে বিদ্যুতের অপচয় হয়। রান্নার জন্য সবসময় ম্যাগনেটিক বেসযুক্ত উপযুক্ত হাঁড়ি ব্যবহার করা জরুরি। পাতলা বা অনুপযুক্ত পাত্রে শক্তি বেশি খরচ হয়। প্রয়োজন ছাড়া চুলা প্রাক-গরম না করাই ভালো। এছাড়া অতিরিক্ত তাপমাত্রায় রান্না না করে মাঝারি তাপমাত্রা বজায় রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
এসি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ান
গরমে আরাম পেতে এসির বিকল্প নেই, তবে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সাধারণত ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য যথেষ্ট। এর চেয়ে কম তাপমাত্রা নির্ধারণ করলে বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যায়। নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখা উচিত, কারণ ধুলাবালি জমলে যন্ত্র বেশি শক্তি ব্যবহার করে। পাশাপাশি ফ্যানের সঙ্গে এসি ব্যবহার করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়, ফলে এসি কম সময় চালালেই চলে।
দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস বদলান
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এলইডি লাইট বা সোলার ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। অপ্রয়োজনে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখা ঠিক নয়। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সব ডিভাইস বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। স্মার্ট কন্ট্রোল বা টাইমারযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়তা করে।
পরিকল্পিত ব্যবহারে কমবে বিল
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মূল চাবিকাঠি হলো পরিকল্পনা ও সচেতনতা। রান্না, শীতলীকরণ এবং আলোকসজ্জায় ছোট ছোট পরিবর্তন আনলেই মাস শেষে বিলের অঙ্ক অনেকটাই কমে আসতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দিনমজুর থেকে হঠাৎ কোটিপতি হওয়া, চোরাকারবারি থেকে অনলাইন ক্যাসিনো—মেহেরপুরে অস্বাভাবিক অর্থনৈতিক উত্থান ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান। এ ঘটনায় জেলার আরও ৯ জনকে তলব করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মানি লন্ডারিংসংক্রান্ত অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এনসিপি নেতা, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা, চোরাকারবারি, অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট, তাদের সহযোগী এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কম্পিউটার প্রশিক্ষকসহ মোট ৯ জনকে তলব করা হয়েছে। তলবকৃতরা হলেন—এনসিপি নেতা তামিম ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মেহেরপুর শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের কম্পিউটার প্রশিক্ষক এস এম রাসেল, যুবলীগ নেতা আঙ্গুর আলী, নাদিম খান, মারুফ সুলতান বর্ষণ, দিনমজুর থেকে কোটিপতি হওয়া মাসুম বিল্লাহ, মনজুর রহমান ওরফে মজনু, মইনুদ্দিন ও মাদার আলি। সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে তাদের তলব করা হয়। ৩০ ও ৩১ মার্চ ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ২০১৯-এর ৫১(৯) ধারা অনুযায়ী এই তলব করা হয়েছে। এ ধারায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশনা অমান্য বা তথ্য গোপন করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনসংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুমন কুমার সাহা জানান, বিএফআইইউর নির্দেশনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি দুদক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, আয়কর অফিস ও সঞ্চয় ব্যুরোতেও তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে গত এক বছরে মেহেরপুর জেলা থেকে মোট ৩৪ জনকে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তলব করা হলো, যা জেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার হক মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে প্রায় ৫-৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রোববার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, একটি জুতার দোকানের শর্ট সার্কিট থেকে থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এবং দোকানে জুতায় মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পরে। দোকানিরা অনেকে বাইরে চলে আসলেও ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতা এতো বেশি ছিল যে মার্কেটের আশে পাশের প্রায় ৮ থেকে ১০ টির বেশি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পরে। এবং প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবির সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে এই অগ্নিকাণ্ডে ৫-৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ ঢাকা পোস্টকে জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে শর্ট সার্কিট থেকে। বাকিটা ফায়ার সার্ভিস ভালো বলতে পারবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানা যায়নি। সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জালাল আহমেদ জানান, আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে আসি। এসে বুঝতে পারি আগুনের তীব্রতা খুব বেশি। যার কারণে আমরা শান্তিগঞ্জ ইউনিটকে খবর পাঠাই পরবর্তীতে দুই ইউনিট একত্রে কাজ করেছি। আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। ডাম্পিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ২ যাত্রী নিহত হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। রোববার (২৯ মার্চ) ভোরে উপজেলার বাটাজোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ইতি চক্রবর্তী (৪৫) ও পবিত্র মজুমদার (৫০)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন গুরুদাস চক্রবর্তী (৪৫), তার মেয়ে উপমা চক্রবর্তী (১৬) এবং আরও কয়েকজন যাত্রী। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, ইতি চক্রবর্তী বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা গুরুদাস চক্রবর্তীর স্ত্রী এবং পবিত্র মজুমদার কাটপট্টি এলাকার সুন্দরী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী। এদিকে, ইতি চক্রবর্তী দুর্ঘটনাস্থলেই এবং আহত পবিত্র মজুমদার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ‘গ্রিনভিউ পরিবহন’ নামের বাসটি ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে বাসটি বাটাজোড় এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে বাসটি উল্টে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. শামিম শেখ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি দুপুরের দিকে র্যাকার দিয়ে খাদ থেকে তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ১৯ জন আহত হয়। একই দিন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়।