ফিলিপাইনের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পালাওয়ান দ্বীপের কাছে একটি ফেরিতে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এসময় নিখোঁজ হয়েছেন আরও ৮৭ জন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড।
তারা বলছে, এম/ভি জুন অ্যাস্টার নামের সেই ফেরিটিতে যখন আগুন লাগে, সে সময় সেটি সাগরতীর থেকে থেকে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে ছিল। যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে সেখানে ছিলেন ১৩৪ জন যাত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনে পুড়তে থাকা সেই ফেরিটির ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেসব ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরো ফেরিতে আগুন ধরে যায়।
কোস্টগার্ড ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবায়াব বলেন, আগুন লাগার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফেরিটি থেকে ৪২ জনকে জীবিত এবং ৫ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৮৭ জন নিখোঁজ অবস্থায় আছেন।
জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৩৮ জন যাত্রী। বাকি চার জন ওই ফেরিটির ক্রু। নোয়েমি আরও বলেন, আগুন লাগার পর অনেক যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে সাগরে ঝাঁপ দেন। কমপক্ষে ৮৭ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ। তাদের অনুসন্ধানে তৎপরতা চলছে।
এদিকে ঠিক কী কারণে ফেরিটিতে আগুন লেগেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে কিছুটা বেশি বেড়েছে। বুধবার প্রকাশিত সংশোধিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০.৫ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক হিসাব ছিল ০.৪ শতাংশ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। আগামী মাসের বার্ষিক বাজেট ঘোষণার আগে এই তথ্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে। যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি ০.৫ শতাংশ বাড়লেও এটি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড করা ০.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম। ওএনএসের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালক লিজ ম্যাককিওন বলেন, সর্বশেষ প্রান্তিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি আগের হিসাবের তুলনায় কিছুটা বড় হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে তার লেবার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন বার্নহাম। তবে আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেট ঘোষণায় কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। চলতি মাসে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি সরকারি বন্ডের সুদহার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট উপস্থাপন করতে যাওয়া অর্থমন্ত্রী জন হিলি কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কুইল্টার শেভিওটের ফিক্সড-ইনকাম গবেষণার প্রধান রিচার্ড কার্টার বলেন, প্রবৃদ্ধি প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্য ভালো হলেও পরিস্থিতি এখনো কঠিন। তার মতে, উচ্চ ঋণ নেওয়ার খরচ, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং শ্রমবাজারের গতি কমে যাওয়ার কারণে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর থেকে জ্বালানি ও ঋণের খরচ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি কেন দেওয়া হয়নি তার কারণ ব্যাখ্যা করেছে পাকিস্তান। বিষয়টিকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত’ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই’র এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আলোচনার সৃষ্টি হলে পাকিস্তানের তরফে এ ব্যাখ্যা এল। খবর এএনআইয়ের। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব অনুমতির আবেদন তারা নির্ধারিত নিয়ম ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রোটোকল অনুযায়ী প্রক্রিয়া করে। পাকিস্তান হাইকমিশন বলেছে, ‘প্রতিবেদনগুলোতে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তা ফ্লাইট রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থাপনার বিষয় বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়।’ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকমিশন আরও বলেছে, পাকিস্তান দুই দেশের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর আগে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পাঠানো ইউরেনিয়াম জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পৌঁছায়নি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।’ তিনি জানান, রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও এএনআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে জ্বালানি গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা তাদের জানান, আকাশসীমা পরিষ্কার নয়। ফলে চালানটি পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং নতুন করে সময় নির্ধারণ করতে হতে পারে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটিতে রোসাটম কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বহনকারী রুশ কার্গো বিমান সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ বিকিরণ-নিরাপদ কনটেইনারে করে এসব জ্বালানি সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হস্তান্তর শুরু হয়েছিল। সূত্র : এএনআই
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রবিবার গোপন এক সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সফরে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। ইসরায়েলি একটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি স্বীকার করেনি। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল ‘ইরান’ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, দুই নেতার এই গোপন বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ইসরায়েল এবং আরব আমিরাতের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সহযোগিতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যেও দুই দেশ একে অপরের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এমন গোপন ও নজিরবিহীন সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু ও তার বিরোধীরা কে কত বেশি ফিলিস্তিনবিরোধী অবস্থান নিতে পারেন, সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। হামাসের হামলা ও আমিরাতের সতর্কতা প্রসঙ্গ এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ প্রকাশ করেছিল যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরায়েলকে সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছিল আমিরাত। যদিও নেতানিয়াহুর দপ্তর শুরু থেকেই এই ধরনের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যস্থল ছিল আরব আমিরাত।