বিশ্ব

‘নিউ গাজা’ নিয়ে যেসব পরিকল্পনা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৩, ২০২৬


যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে ‘নিউ গাজা’ নামে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনায় গাজাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ভূমধ্যসাগরের তীরজুড়ে সারি সারি উঁচু ভবন, আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করা।

সেখানে ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনার স্লাইডে দেখা যায়, গাজার উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১৮০টি উঁচু ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি রাফাহ এলাকায় বড় আকারের আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। একটি মানচিত্রে দেখানো হয়, প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে আবাসন, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হবে।

পরিকল্পনায় আরও রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, আধুনিক কারখানা, পার্ক, খেলাধুলার সুবিধা এবং উপকূলীয় পর্যটন এলাকা। মিসর সীমান্তের কাছে একটি নতুন সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিসর ও ইসরায়েল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ সীমান্ত পারাপার ব্যবস্থার কথা বলা হয়।

মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, গাজার পুনর্গঠন কাজ চারটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে রাফাহ থেকে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে গাজা শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মানচিত্রে মিসর ও ইসরায়েল সীমান্ত বরাবর একটি খালি অঞ্চল দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি নিরাপত্তা এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যেখানে গাজা পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করতে পারে।

পরিকল্পনায় নিউ রাফাহ এলাকায় এক লাখের বেশি স্থায়ী আবাসন, ২০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধের আগে রাফাহ শহরে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। তবে ইসরায়েলি হামলায় শহরটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বর্তমানে এটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অনুষ্ঠানে জানান, গাজায় প্রায় ৯০ হাজার টন গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। তিনি বলেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই নিউ রাফাহ নির্মাণ শেষ করা সম্ভব এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

কুশনার জানান, হামাস নিরস্ত্রীকরণের একটি চুক্তিতে সই করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে। তার ভাষায়, এখানে প্ল্যান বি বলে কিছু নেই। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ছাড়া গাজায় কোনো বিনিয়োগ সম্ভব নয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ফিলিস্তিনি প্রশাসন; ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় হামাসের সঙ্গে কাজ করবে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন দেশ গাজা পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে বলে জানান কুশনার।

এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা যেতে পারে। সেসময় ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিশ্বজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে।

এদিকে হামাস বরাবরই বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। তবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামাসকে অস্ত্র ছাড়তেই হবে, না হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের পদত্যাগ ও বাকস্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল তিউনিসিয়া

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের নীতি ও শাসনের বিরুদ্ধে রাজধানী তিউনিসে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার (১৭ অক্টেবর) আয়োজিত এই বিশাল বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা দেশে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের জোরালো দাবি জানান।     তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, তিউনিসিয়ার প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ‘তিউনিসিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন’ (ইউজিটিটি), বিভিন্ন সুশীল সমাজ সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের সদর দপ্তরের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর রাজপথে পদযাত্রা করার সময় সরকারবিরোধী তীব্র স্লোগান দেন এবং প্রেসিডেন্ট সাঈদের পদত্যাগ দাবি করেন।     এই প্রতিবাদ মিছিলে পিপলস মুভমেন্ট, আন-নাহদা আন্দোলন এবং ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টসহ তিউনিসিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও কর্মীরা অংশ নেন।     বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে মিউনিসিপ্যাল থিয়েটারের সামনে আয়োজিত সমাবেশে ইউজিটিটি-এর মহাসচিব সালাহ উদ্দিন সালমি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি সংলাপ বা আলোচনা পাশ কাটিয়ে চলে, তবে রাজপথ ও জনবহুল চত্বরগুলোই হয়ে উঠবে আলোচনার মূল মঞ্চ।     তিনি তিউনিসিয়ার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তিউনিসিয়াকে কোনো একক ব্যক্তির শাসনব্যবস্থা বা এমন কোনো সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া যায় না, যারা কেবল নিজেদের কথাই শোনে।     বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মুনির জেলাসি নামের এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মূলত দুটি প্রধান কারণে এই মিছিলে যোগ দিয়েছেন। প্রথমত, দেশে দিন দিন বাকস্বাধীনতার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর নানা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে নিজ দেশেই স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।   সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানে প্রতিবাদে মুখে ঐতিহাসিক রামলীলা মন্দির সিলগালা করল কর্তৃপক্ষ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির কিংডম সেন্টারের কর্মীদের বাধ্যতামূলক হোম অফিসের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

হুতিদের হামলা, সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত মিশর

ছবি: সংগৃহীত
ছয় মাস পর্যন্ত শিশুদের খাবারে অতিরিক্ত চিনি নিষিদ্ধের প্রস্তাব ভারতের

ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের খাবারে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজের মতো বাড়তি চিনি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর মাধ্যমে শিশুখাদ্যে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সংস্থাটি।     ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) জানিয়েছে, শিশুরা যাতে কম বয়সে বাড়তি চিনির সংস্পর্শে না আসে, এটি কমানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। কারণ অতিরিক্ত চিনির সঙ্গে শিশুদের স্থূলতার ঝুঁকির সম্পর্ক আছে।     বর্তমান নিয়মে শিশুখাদ্যে শর্করার উৎস হিসেবে ল্যাকটোজ ও গ্লুকোজ পলিমারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে ছয় মাস পর্যন্ত শিশুদের খাবারে এসব চিনি যোগ করা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।     ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বিভিন্ন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানোর পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কতামূলক লেবেল ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।     চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভারতে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ৪৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬

আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ

সৌদি আরবের নাজরানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, দুই ক্রু নিহত

রয়টার্স ছবি

গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭৪ হাজার, আহত পৌনে দুই লাখ

আর্থিক সংকটের মধ্যেও বড় ও ব্যয়বহুল উদ্যোগে নিউইয়র্কের মেট অপেরা

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসের পক্ষে একাধিক নতুন ও ব্যয়বহুল সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়া কঠিন বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বড় পরিসরে ও সাহসী উদ্যোগ নেওয়াই সংকট কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে ভালো পথ।   এরই অংশ হিসেবে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি মহাদেশে দুটি নতুন অপেরার বিশ্ব-প্রিমিয়ারের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   এই উচ্চাভিলাষী আয়োজনের শেষ ধাপ হিসেবে সোমবার মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’। জর্জ সন্ডার্সের বুকার পুরস্কারজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই অপেরায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ব্যক্তিগত শোকের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা লিংকন কীভাবে তার ১১ বছর বয়সী ছেলের মৃত্যুশোক সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন, তা-ই এই গল্পের মূল বিষয়।   উদীয়মান মার্কিন সুরকার মিসি মাজোল্লির লেখা ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ মঞ্চস্থ হওয়ার আগে ওয়ারশতে মেট অপেরার অর্থায়নে নির্মিত ‘দ্য মাদার্স অব খেরসন’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে। ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের সেই মায়েদের গল্প নিয়ে অপেরাটি নির্মিত, যারা রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অপহৃত সন্তানদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন।   ১৪৩ বছরের পুরোনো মেট অপেরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ বর্তমান বিভক্ত মার্কিন সমাজের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি কাজ। অন্যদিকে, ‘দ্য মাদার্স অব খেরসন’ এমন একটি যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরে, যা এখনো বিশ্বরাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।   মেট অপেরার মহাব্যবস্থাপক পিটার গেল্ব এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সংকট ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো সাহসী উদ্যোগ নেওয়া এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেট যে অপরিহার্য, তা প্রমাণ করা।’   তিনি বলেন, নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার অর্থ হবে ‘নিশ্চিত ব্যর্থতা’। পিটারের ভাষায়, ‘এই মহান প্রতিষ্ঠানকে চিরস্থায়ী করে রাখাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৮, ২০২৬

সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার

প্রযুক্তিগত সাফল্যে আবারও আলোচনায় মাস্ক

ফ্রান্সে সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

0 Comments