জাতীয়

সরকারি দল

মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশটি বিধিসম্মত ছিল না

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান ইস্যুতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দলীয় সদস্যরা। এ সময় স্পিকার তাদেরকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানানো হলেও তারা তা আমলে নেয়নি। এ সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিরোধী দল যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছেন, সে বিষয়ে আনীত মূলতবি প্রস্তাবের নোটিশটি বিধি সম্মত ছিলো না। ফলে এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই।


আজ বুধবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ কথা বলার জন্য ফ্লোর নেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) যে এজেন্ডাটা আমরা উত্থাপন করেছিলাম এটা ছিল মূলতঃ গণভোট ও গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কারের প্রস্তাব। এজন্য যে পরিষদটা গঠন হওয়ার কথা সেই পরিষদের সভা আহ্বান সংক্রান্ত। এটাই ছিল মূল নোটিশের বিষয়।


একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবে আমি রেসপন্স দিতে গিয়ে বলেছিলাম যে যেহেতু আলোচনাটা হয়েছে সংস্কার পরিষদের ওপর, যদি এইটাকে কেন্দ্র করে কোন কমিটি বিশেষ কমিটি গঠন হয় তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবে সেটা ভেবে দেখবো। এবং একই সাথে বলেছিলাম যে সেখানে সরকারি দল এবং বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিলে এটা অর্থবহ একটা কমিটি হিসেবে রূপ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। 
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত।


তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে এবং সংকট নিরসনে এই কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
জবাবে স্পিকার জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার নজির খুব কম থাকলেও বর্তমান অধিবেশনে আলোচনার স্বার্থে তা গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার অবারিত সুযোগ রয়েছে এবং আগামীতেও এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।

তবে স্পিকারের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধী দল। বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তাদের মূল নোটিশকে ধামাচাপা দিতে অন্য একটি নোটিশ সামনে আনা হয়েছে। তিনি একে ‘জনগণের রায়ের অবমূল্যায়ন’ এবং ‘সংসদীয় রীতির লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। বলেন, ‘প্রতিকার চেয়েছিলাম। এ বিষয়টা কোনও দলের সাথে সম্পর্কিত না। যে বিষয়টা নির্বাচনের আগে সরকারি দল বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলেন এর সপক্ষে কোথাও বলেছেন ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরা প্রতিকার যে পেলাম না এতে আমরা না এতে দেশবাসীর তাদের রায়ের প্রতিফলন হলো না মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না একারণে তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।’ পরে তিনি দলের সকল সদস্য নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার ঘোষণা দেন।

ওয়াকআউটের সময় স্পিকার তাদেরকে সংসদে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরা বক্তব্য শুনেছি। আপনারা ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার কিন্তু আমি বলতে চাই যে আজকে একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। সেখানে আমার মনে হয় যে আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে আপনারা আরও কথা বলতে পারবেন। সুতরাং আমার অনুরোধ হলো আপনারা ওটা শুনেন তারপর যদি ওয়াকআউট করতে পান প্লিজ ফিল ফ্রি। আগে প্রস্তাবটির ভাগ্য কি নির্ধারণ হয় সেটি আপনি দেখার জন্য একটু অপেক্ষা করে দেখতে পারেন। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই সংসদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ফ্লোর নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতিতে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক বিষয়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে যে কথাগুলো রেকর্ডেড হয়ে গেল তার বিপরীতে আমাদের বক্তব্যটা এক দুই মিনিট রেকর্ডে থাকা ভালো। যে মূলতবি প্রস্তাবটা আপনার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার প্রিসাইড করেছেন উনি গ্রহণ করেছিলেন। তখনই আমি আপত্তি উত্থাপন করেছিলাম যেটা ৬৮ বিধিতে হতে পারে। কিন্তু মূলত প্রস্তাব, যে রুলস অফ প্রসেস আছে তার মধ্যে আপনি রাইটলি আইডেন্টিফাইড করেছেন সেটা আমি আগে উত্থাপন করেছি। যে বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে সেরকম কোন বিষয় মূলতবি প্রস্তাবে আলোচনা করার বিধান নাই। এটা আপনাদের উদারতা, হাউজের অভিভাবক হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে। আপনি আলোচনার জন্য রেখেছেন এবং সেটা দু’ঘন্টা আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু নিষ্পত্তি কি হবে সেজন্য ভোটাভুটি দেওয়ার কোন বিধান নাই। তিনি আরো বলেন, আমরা কোন মূলতবি প্রস্তাব এখানে রিড আউট করি নাই। উনি (বিরোধী দলের নেতা) যেটা বলেছেন সেটা অসত্য বলেছেন, যেটা মূলতবি প্রস্তাব আমিও শুনেছি, আজকে একজন বেসরকারি সদস্য উত্থাপন করতে পারেন। সেটা আপনাকে বিবেচনা করতে হবে। যেহেতু একই বিষয়ে আপনি বিরোধী দলের নেতার একই রকম মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এজ এ ম্যাটার অফ রাইট বেসরকারি সদস্য সেটা ক্লেইম করতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, মূল্যস্ফীতি হবে না

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের টাকা বরাদ্দকরণ ও মূল্যস্ফীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা যেহেতু টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না। নারীরা যারা টাকা পাচ্ছেন, নিশ্চয় তারা সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। সেই লোকাল অর্থনীতিতে তারা খরচ করবেন।   বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এই প্রথম সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের প্রশ্নে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নোত্তরের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল।   আখতার হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার ইতিবাচক কিছু দিক রয়েছে। জানার বিষয় হলো, ঠিক কতজন ব্যক্তি বা পরিবারকে এর আওতায় নিয়ে আসা হবে? তাতে কতটুকু বাজেট বরাদ্দ করা হবে? এবং সেই বাজেট বরাদ্দ সমন্বয় করতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি-মুদ্রাস্ফীতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারের পরিকল্পনা কী? জবাবে তারেক রহমান বলেন, স্বাভাবিকভাবে এর বাজেট কত, এটি আমরা এখনই বলছি না। অর্থাৎ আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে জিনিসগুলোকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। কৃষক কার্ড যারা পাবেন, তারা বছরে পাবেন আড়াই হাজার টাকা এবং ফ্যামিলি কার্ড যারা আছেন নারী, তারা মাসে পাবেন আড়াই হাজার টাকা।   প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যেহেতু প্রতি মাসে এটিকে এক্সটেন্ড (বৃদ্ধি) করতে থাকব, অর্থাৎ অধিক সংখ্যক নারী কৃষক কার্ড পাবেন, অধিক সংখ্যক কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন। একবারে সবাইকে দিচ্ছি না; পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষে এটি একবারে দেওয়া সম্ভব না করা। সে জন্য প্রতি বছরই আমরা বাজেটে স্যাংশন বাড়াব। প্রতি বছরই আমরা বাজেটে টাকা এলট (বরাদ্দ) করব। এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে ধীরে ধীরে এগোব।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেহেতু টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না। বরং আমরা মনে করি, এই টাকাগুলো যখন মার্কেটে যাবে, যারা কৃষক কার্ড পাচ্ছেন, সেই সকল কৃষক, প্রান্তিক পর্যায়ের যে নারীরা পাচ্ছেন টাকা, নিশ্চয় তারা সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। সেই লোকাল অর্থনীতিতে তারা খরচ করবেন। একজন নারী স্বাভাবিকভাবে সেটি দিয়ে তার সন্তানের লেখাপড়ার পেছনে খরচ করবেন। অথবা সেটি দিয়ে তার সন্তানের বা পরিবারের একটু ভালো খাবারের ব্যবস্থা করবেন অথবা তিনি লোকালি কোনো ছোট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। ফলে যেই টাকাটা সরকারের কাছ থেকে তার কাছে যাচ্ছে, সেই টাকা লোকাল ইকোনমিকে শক্তিশালী করছে। এতে মূল্যস্ফীতি হবে না, বরং অর্থনীতি সচল হবে।   এর ফলে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ উন্নত জীবন পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশটি বিধিসম্মত ছিল না

ছবি : সংগৃহীত
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ২৩ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এই পর্যন্ত প্রত্যাহার হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।  বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এ সব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট এক লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।  তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়, তার পরিসংখ্যান সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। শুধুমাত্র বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল সে সম্পর্কে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট এক লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করে।  মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশে করা হয়েছে, জনস্বার্থে মামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তা নেই এবং মামলা চালালে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে মর্মে পরিলক্ষিত হলে ওই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য ২০২৬ সালের ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত ৬ (ছয়) সদস্যবিশিষ্ট ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’ মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।  তিনি বলেন, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

হামের জরুরি টিকাদান শুরু রোববার

ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। সংগৃহীত ছবি

এপ্রিলে তেল নিতে লাগবে কিউআর ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’

সংগৃহীত ছবি

চলতি বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৩০ হাজার পরিবার : প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি, নিন্দা আশা করেছিলাম: রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে অসন্তোষ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ইরান। তেহরানের প্রত্যাশা ছিল, মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই আগ্রাসনের সরাসরি নিন্দা জানাবে। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‌ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি। এই বিবৃতি আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র এবং আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। আমরা আশা করেছিলাম বাংলাদেশ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে নিন্দা জানাবে, কিন্তু সেটি হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং এমনকি স্পেনের মতো দেশগুলোও এই হামলার সরাসরি নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কেবল ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের এই অবস্থানে অসন্তুষ্টি থাকলেও এ বিষয়ে ঢাকাকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেবে না ইরান। তবে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরবর্তী কোনো সাক্ষাতে তিনি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি ঈদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সৌজন্যমূলক ও স্বাভাবিক আলাপ হয়েছে। আঞ্চলিক অস্থিরতার দায় প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি বলেন, আমরা কোনো প্রতিবেশী মুসলিম দেশে হামলা করছি না, বরং ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছি। যারা নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে, সাধারণ মানুষের মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই অঞ্চলে সংকট থাকা সত্ত্বেও কেন আরব দেশগুলো আমেরিকাকে ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিচ্ছে। ক্ষোভ থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেয়, তবে তেহরান তাকে স্বাগত জানাবে। এছাড়া ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। রাষ্ট্রদূত মনে করিয়ে দেন, জাতিসংঘ ও ওআইসির সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সব দলের অংশগ্রহণ চান চিফ হুইপ

ছবি : সংগৃহীত

ধোলাইখালে ফুটপাত দখলমুক্তে অভিযান শুরু, অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত

শিল্পবর্জ্যে দূষিত গজারিয়া খাল, ক্ষতির মুখে ত্রিশালের কৃষক

0 Comments