ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মালভিয়া নগরের হাউজ রানি এলাকায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৮ সদস্যও রয়েছেন। হোটেলটির পাশের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন স্বজনকে দেখতে এসে তারা দুর্ঘটনায় পড়েন। খবর এনডিটিভির।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিবেক আগরওয়াল, তার স্ত্রী তারজানি আগরওয়াল, তাদের দুই কন্যা জীবিশা আগারওয়াল ও ভার্যা আগরওয়াল এবং আরও চার স্বজন।
পরিবারটি মূলত গুরুগ্রামের সেক্টর-৪৬ এলাকার বাসিন্দা। বিবেক আগরওয়ালের বাবা রাধে শ্যাম আগরওয়াল দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে দেখতে পরিবারসহ দিল্লিতে এসেছিলেন তিনি। থাকার জন্য তারা হোটেলটিতে দুটি কক্ষ ভাড়া নেন।
বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা হোটেলের রেস্তোরাঁয় নাশতা করছিলেন। এ সময় আগুনের সূত্রপাত হলে দ্রুত তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পরিবারের আট সদস্যই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বিবেক আগরওয়ালের ৮০ বছর বয়সী বাবা রাধে শ্যাম আগরওয়ালই পরিবারের একমাত্র জীবিত নিকট আত্মীয় হিসেবে রয়ে গেছেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচতলা ভবনটিতে আগুন লাগে এবং সরু কাঠামোর কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় হোটেলে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যাদের অধিকাংশই ঘুমিয়ে ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আগরওয়াল পরিবারের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ‘লুকাস’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে ড্রোনটি ধ্বংস হয়। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি দাবি করেছিলেন, ইরানের ‘শাহেদ-১৩৬’ চালকবিহীন আকাশযানের অনুকরণে যুক্তরাষ্ট্র ‘লুকাস’ ড্রোন তৈরি করেছে এবং সেটিকে নিজেদের সামরিক অস্ত্রভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মুসাভি ইরানের বিভিন্ন ধরনের ‘শাহেদ’ শ্রেণির ড্রোনের সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এসব ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনা, নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোনকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সত্য-ওয়াদা’ বা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-১’-এ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড গড়া হয়েছে। ওই অভিযানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ইউনিট এসব ড্রোন পরিচালনা করেছিল।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শনিবার রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। একই দিনে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মস্কো-সমর্থিত ক্রিমিয়ার প্রধান সের্গেই আকসিওনভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে ড্রোন হামলার কারণে ‘বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে’। তবে এতে কতটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি। ক্রিমিয়ায় ২৫ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে উপদ্বীপটি দখল করে নেয় রাশিয়া। এরপর থেকে ক্রিমিয়া নিয়মিত ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। এদিকে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভের একটি এলাকায় ইউক্রেনের পৃথক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কো-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর দেশটির ২০টির বেশি অঞ্চলে ৬১৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দিনের বেলায় রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রিয়ানস্ক সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইয়েগর কোভালচুক। টেলিগ্রামে তিনি আরও জানান, ক্লিমোভস্কি জেলায় ড্রোন হামলায় ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। পোগারস্কি জেলায় একটি কৃষিপ্রতিষ্ঠানের মিনিবাসে ড্রোন আঘাত হানলে দুই ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। এ ছাড়া ক্লিমোভো গ্রামের একটি বিপণিবিতানে ড্রোন হামলায় দুজন আহত হন। ক্লিনৎসভস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানান গভর্নর। রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মস্কো থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওরিওল অঞ্চলে শুক্রবার রাতে একটি কারখানায় হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় তলিয়াত্তি শহরেও ব্যাপক ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে ভলগা নদীর তীরবর্তী শহরটির শিল্প অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ইলিয়া সুখিখ। অন্যদিকে, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শনিবার অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানজা জানান, সিনেলনিকোভে শহরে রুশ ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় আগুন ধরে যায়। আহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক মেয়েও রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান তিনি। এদিকে সুমি অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি খামারে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে ৩১ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। খারকিভ অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ টেলিগ্রামে জানান, লোজোভা শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশার প্রতিবাদে ফ্রান্সে আয়োজিত গণবিক্ষোভের শেষ দিনে সহিংসতার জেরে প্রায় ১ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া বিক্ষোভের শেষভাগে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর বিবিসি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের এই বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন, অন্যদিকে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৮ লাখ। যেকোনো ধরনের বড় ধরনের সহিংসতা ও লুটপাট এড়াতে দেশটির সরকার প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছিল। শনিবারের বেশিরভাগ সময় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও দিনের শেষভাগে প্যারিস, মার্শেই, বোর্দো ও লিয়ঁর মতো বড় শহরগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্যারিস: একটি শান্তিপূর্ণ মার্চ শেষ হওয়ার পর মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী গাড়ি ডিলারশিপের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। মার্শেই ও বোর্দো: দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্শেইতে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ময়লার ঝুড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বোর্দোতেও একই কায়দায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। লিয়ন: স্থানীয় প্রশাসনের নিষিদ্ধ করা এলাকায় জমায়েত হওয়া একটি ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুন্যেজ জানিয়েছেন, চলমান সংঘর্ষে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন— যাদের একজন দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর তুলৌসে এবং অন্যজন মধ্য ফ্রান্সের ক্লেরমন্ড-ফেরান্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগের সপ্তাহেও দেশটিতে দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল, যেখানে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং শত শত কোটি ইউরোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আসন্ন ছয় মাসের মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, আর এই পরিস্থিতির জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তার মন্ত্রীদের দায়ী করছে। এদিকে ফরাসি সরকার শুধুমাত্র স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মাধ্যমে বিক্ষোভ আয়োজনের অনুমতি দিলেও সাধারণ জনগণের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি এদিন আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এবং ইতালির মিলানেও একই ধরনের জনরোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।