সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাকে দেখা গেল আইকনিক ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট জেমস বন্ড বা ০০৭-এর অবতারে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে তিনি নিজেকে ‘ট্রাম্প ০০৭’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগের সঙ্গে যোগ দিয়েছে হোয়াইট হাউসও। তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে একটি চমৎকার ইলাস্ট্রেশন পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পকে দেখা যাচ্ছে টাক্সিডো পরা অবস্থায়, হাতে একটি সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল। এই ছবির নিচে সোনালী অক্ষরে লেখা রয়েছে তার বিখ্যাত স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’।
বুধবার যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেন্ডেন্টসহ বেশ কয়েকটি মাধ্যমে খবরটি এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিজের তুলনা করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ট্রাম্পের। এর আগে তিনি নিজেকে এলভিস প্রিসলি, স্যার উইনস্টন চার্চিল, মাদার তেরেসা এবং এমনকি যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন
বন্ড ইমেজের পাশাপাশি ট্রাম্প নিজেকে প্রচার করছেন অন্যভাবেও। একটি জনসভার ছবি শেয়ার করে তিনি নিজেকে ঘোষণা করেছেন ‘দ্য গ্রেটেস্ট অ্যাট্রাকশন’ বা ‘সেরা আকর্ষণ’ হিসেবে।
মজার বিষয় হলো, যখন আমাজন এমজিএম স্টুডিও ড্যানিয়েল ক্রেগের উত্তরসূরি হিসেবে নতুন জেমস বন্ড খুঁজছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই বন্ড সাজার শখ রাজনৈতিক মহলে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক প্রচারণা আর পপ কালচারের এই মিশ্রণ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংকে এক নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছে চার সদস্যের একটি নতুন দল। বৃহস্পতিবার তারা মহাকাশ স্টেশনে ডকিং করে। সেখানে তারা প্রায় ছয় মাস অবস্থান করবেন। ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ক্রু-১৩ মিশনের চার সদস্যকে বহনকারী স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। উৎক্ষেপণের ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট পর স্পেসএক্সের ‘গ্রেস’ নামের ড্রাগন ক্যাপসুল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি ডকিং পোর্টে যুক্ত হয়। নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো মার্কিন মহাকাশযানের আইএসএসে পৌঁছানোর সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের রেকর্ড। নাসা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল (২৮ হাজার ১৬৩ কিলোমিটার) বেগে মহাকাশে ছুটতে থাকা ক্যাপসুলটি ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ডকিং সম্পন্ন হওয়ার পর মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা ঘোষণা করেন, ‘ড্রাগনের হার্ড ক্যাপচার সম্পন্ন হয়েছে।’ এরপর ক্যাপসুলের হ্যাচ বা দরজা খোলা হবে। এর মাধ্যমে নতুন চার সদস্য চাপ-নিয়ন্ত্রিত সংযোগপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করবেন। নতুন ক্রু সদস্যরা হলেন—যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা ওয়াটকিন্স ও লুক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার সের্গেই তেরেতিয়াতনিকভ। মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের সময় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে কতটা দূরে রয়েছে, তার ওপর স্টেশনে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে তা অনেকটাই নির্ভর করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করা সর্বশেষ একটি ক্রুকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল। নতুন ক্রু-১৩ দলের মূলত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আইএসএসে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি লিক ধরা পড়ায় তাদের উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়া হয়। ক্রু-১৩ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দায়িত্ব নেবে বর্তমান ক্রু-১২ দলের কাছ থেকে। ক্রু-১২-এর সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ফ্রান্সের সোফি আদেনো এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই ফেদায়েভ। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ক্রু-১২ দলের সদস্যরা আগামী সোমবারের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন। গত ২৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটি নিয়মিতভাবে মানুষের বসবাসের বাইরে যায়নি। তবে পুরোনো হয়ে যাওয়া এই মহাকাশ স্টেশনকে ২০৩০ সালের দিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে পৃথিবীর কোনো একটি মহাসাগরে পতন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তিতে ভাটা পড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের অন্যান্য অংশীদার দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে আইএসএস নিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো আছে। অনেকের বিশ্বাস এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সেখানে মাঠপর্যায়ে সমীক্ষার কাজ শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল। দলটির উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানিয়েছেন, কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাডার স্ক্যানে মাটির নিচে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। কাঠামোটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি নাকি মানুষের সৃষ্টি- তা জানতে গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে। ভূতাত্ত্বিক ওই কাঠামোটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ইলহান দুরুপিনার নামে এক ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার প্রথম এর সন্ধান পান। তখন তিনি তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে উড়োজাহাজে করে পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে জরিপ চালাচ্ছিলেন। ওই আবিষ্কারের পর দাবি ওঠে এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার অবশিষ্টাংশ হতে পারে। এরপর তুরস্ক ও বিদেশের বহু গবেষক সেখানে অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়েছেন। সবশেষ গবেষণাটি শুরু হয় গত মে মাসে। এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। গবেষণায় অংশ নেন পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী। তারা তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী ওই স্থানে টানা ৯০ দিন ধরে কাজ করেছেন। সেখানকার ভূখণ্ডের নকশা বা মডেল তৈরি করতে গবেষকরা ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচে স্ক্যান করার জন্য ব্যবহার করা হয় নতুন প্রজন্মের একটি রাডার সিস্টেম। স্থানটির বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটির প্রায় ১ হাজার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়েছে। এরপর নমুনা পাঠানো হয় গবেষণাগারে। ‘পুরো কাঠামোটি মাটির তৈরি’ গবেষক দলের উপপ্রধান জোনস বলেন, তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো- কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। জোনস বলেন, অনেকের ধারণা ছিল এটি প্রাকৃতিক কাঠামো। হয়তো শক্ত কোনো পাথরখণ্ড বহু বছর ধরে ক্ষয়ে জাহাজের আকার ধারণ করেছে। তবে খননের পর দেখা গেছে, পুরো কাঠামোটিই মাটির তৈরি। কিছু বড় পাথরখণ্ড থাকলেও, কোর ড্রিলিং মেশিন দিয়ে খননের সময় ক্রমাগত মাটির নমুনাই উঠে এসেছে। এই ফলাফল থেকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি বলেও জানান জোনস। তিনি বলেন, এটি কোনো প্রাকৃতিক কাঠামো হতে পারে। আবার মানুষের তৈরি কাঠামোও হতে পারে। এখন শুধু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তদন্ত করা হচ্ছে। গবেষকরা ভূপৃষ্ঠের নিচে গাঢ় রঙের মাটির সন্ধান পেয়েছেন। এটি পচে যাওয়া কাঠ নাকি মানুষের কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ- তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। গত আগস্ট মাসে করা রাডার স্ক্যানেও মাটির নিচে কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়। জোনস বলেন, প্রাথমিক ফলাফলে কিছু নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত হয়েছে। সেগুলো কোনো অস্বাভাবিক বস্তু বা কাঠামোর নমুনা বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন রাডার বিজ্ঞানীদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর বিস্তারিত জানা যাবে। সবশেষ খননের মাধ্যমে তারা মাটির ওই অস্বাভাবিক নমুনা পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। প্রথমবার কোর ড্রিলিং অ্যান্ড্রু জোনস জানান, ১৯৫৯ সালে স্থানটি আবিষ্কারের পর থেকে গবেষকরা বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চালিয়েছেন। তবে আগের কাজগুলোতে ভূপৃষ্ঠের ওপরের কাঠামোর ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। জোনস বলেন, মাটির নিচে কী আছে তা দেখতে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সরকারের অনুমোদন নিয়ে খনন করেছেন। এখন রাডার থেকে পাওয়া তথ্য এবং মাটির নমুনাগুলো একসঙ্গে মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, গবেষণাটির মাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে অ্যান্ড্রু জোনস এ ধরনের দাবির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কাজ শেষ হয়নি। এখনো গবেষণাগারে পরীক্ষা ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা বাকি। ডেইলি সাবাহ তুরস্কের ইস্তাম্বুলভিত্তিক ইংরেজি ভাষার গণমাধ্যম। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)।
রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বুধবার ভোরে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো সাতজন। কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্স জানায়, কিয়েভ নগর সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে হামলায় দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বলেছেন, হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যক্তিগত বাড়ি, একটি দোকান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন, এলাকাটিতে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি শিশু নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় অবকাঠামো, বাড়িঘর, গুদাম ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রোমানিয়া ও পোল্যান্ড রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় সামরিক যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে ব্যক্তিগত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অঞ্চলটি তেল উৎপাদন ও পরিশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে সড়কপথে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-তে এ তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।