দেশে মব-গণপিটুনির ঘটনা ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে গেছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৩৫৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছে ১৩৭ জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৯০ জন। পাঁচ বছরের ব্যবধানে (২০২১-২০২৫) দেশের মব-গণপিটুনির ঘটনা প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। এতে নিহতের মাসিক গড় সংখ্যা বেড়ে ৫.৬৭ গুণ এবং আহতের সংখ্যা ৩৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের পাঁচ বছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২১ সালে দেশে ৪৪টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছিল। তখন নিহতের সংখ্যা ছিল ২৯ এবং আহতের সংখ্যা ১৪। ২০২২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১১৩টি, নিহত ৬১ ও আহত ৭৬ জনে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে ১৪৫টি গণপিটুনিতে নিহত ৮৬ ও আহত ৫৮ জন। ২০২৪ সালে ১৬৯টি গণপিটুনির ঘটনায় ১৪৬ জন প্রাণ হারান এবং ১২৬ জন আহত হন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতি মাসে গড়ে গণপিটুনির ঘটনা ৩৫.৬টি এবং মৃতের সংখ্যা ১৩.৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪টি ঘটনা ও ১২.১৭ জন মৃত্যু। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেই গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে—২০২৪ সালে ৪৪ জন, ২০২৫ সালে ৪৭ জন।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, এই ক্রমবর্ধমান মব-সংক্রান্ত অপরাধ শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যর্থতাই নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। তিনি বলেন, মানুষ রাজনীতি, সরকার ও আইনের প্রতি আস্থা হারালে এমন সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। বিচারহীনতার পরিবেশ জনমনে হতাশা তৈরি করে, যা সমষ্টিগত সহিংসতায় রূপ নেয়।
ড. ফারুক আরও বলেন, আইন হাতে নেওয়া বা মব ভায়োলেন্স দণ্ডনীয় অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বিধান রয়েছে। তবু যেহেতু সুষ্ঠু বিচার হয়ে থাকে না, তদন্তে গাফিলতি থাকে এবং অপরাধীরা সুযোগ নেয়, তাই এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মব-সংক্রান্ত ঘটনার ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। এছাড়া জনআস্থা পুনর্গঠনের উপর জোর দিতে হবে।
মোবাইল কোর্ট ও দ্রুত বিচার কার্যকর হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং গণপিটুনি ও মব-ভায়োলেন্সের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদকে প্রকাশ্যে হেনেস্তা করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপি পন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান, ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক হেনেস্তা করা শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই আইনানুগ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিস্পত্তি করতে হবে এবং এই নিষ্পত্তির একমাত্র পথ আইন ও প্রশাসনিক তদন্ত, কোনোভাবেই ‘মব জাস্টিস’ নয়। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সাদা দল। তারা বলেন, একই ঘটনা ইতিপূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে হয়ে আসছে যা শিক্ষার পরিবেশকে হুমকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গত ৩/৪ মাসে ক্যাম্পাসগুলোতে মব সংস্কৃতি ও শিক্ষক নিপীড়নের প্রবণতা আবার বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল এসব আগ্রাসী ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। সাদা দল মনে করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অবশ্যই একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তারা আরও বলেন, একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাদা দল জোড়ালো দাবি জানাচ্ছে, যারা ২৪ শের জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে সেসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও হেনেস্তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যেন অতি দ্রুত আইনানুগ ও সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রকৃত অপরাধী যেন দীর্ঘদিন শাস্তির আওতার বাইরে না থাকে। একইসঙ্গে ভিন্ন মতলম্বী হলেও নিরপরাধ কাউকে যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হতে না হয়।
রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৫৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে দুই দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মোট ১০৯ জন প্রার্থী। রবিবার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত আপিলের দ্বিতীয় দিনে ৫৮টি আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। শুনানিতে সাতটি আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং ছয়টি আবেদন বিবেচনার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) অপেক্ষমাণ থাকা মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের আপিল মঞ্জুর করা হয়। শনিবারই ইসি ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫২টি মঞ্জুর করে। এর মধ্যে ৫১ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ১৫ জন প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর করা হয়, আর তিনজনের আবেদন বিবেচনাধীন রাখা হয়। নির্বাচন কমিশন জানায়, ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি চলবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। এরপর রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত। ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত মাদরাসাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সব জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে একটি জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি জারি করা ওই চিঠিতে বলা হয়, যেসব মাদরাসা আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেগুলোর তালিকা ও সঠিক সংখ্যা আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত ইমেইলের মাধ্যমে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবকে জানানো হয় যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠাতে হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাবে। এ কার্যক্রমে সমন্বয় ও সহায়তার জন্য চিঠির অনুলিপি দেশের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।