দেশে মব-গণপিটুনির ঘটনা ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে গেছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৩৫৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছে ১৩৭ জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৯০ জন। পাঁচ বছরের ব্যবধানে (২০২১-২০২৫) দেশের মব-গণপিটুনির ঘটনা প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। এতে নিহতের মাসিক গড় সংখ্যা বেড়ে ৫.৬৭ গুণ এবং আহতের সংখ্যা ৩৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের পাঁচ বছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২১ সালে দেশে ৪৪টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছিল। তখন নিহতের সংখ্যা ছিল ২৯ এবং আহতের সংখ্যা ১৪। ২০২২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১১৩টি, নিহত ৬১ ও আহত ৭৬ জনে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে ১৪৫টি গণপিটুনিতে নিহত ৮৬ ও আহত ৫৮ জন। ২০২৪ সালে ১৬৯টি গণপিটুনির ঘটনায় ১৪৬ জন প্রাণ হারান এবং ১২৬ জন আহত হন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতি মাসে গড়ে গণপিটুনির ঘটনা ৩৫.৬টি এবং মৃতের সংখ্যা ১৩.৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪টি ঘটনা ও ১২.১৭ জন মৃত্যু। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেই গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে—২০২৪ সালে ৪৪ জন, ২০২৫ সালে ৪৭ জন।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, এই ক্রমবর্ধমান মব-সংক্রান্ত অপরাধ শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যর্থতাই নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। তিনি বলেন, মানুষ রাজনীতি, সরকার ও আইনের প্রতি আস্থা হারালে এমন সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। বিচারহীনতার পরিবেশ জনমনে হতাশা তৈরি করে, যা সমষ্টিগত সহিংসতায় রূপ নেয়।
ড. ফারুক আরও বলেন, আইন হাতে নেওয়া বা মব ভায়োলেন্স দণ্ডনীয় অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বিধান রয়েছে। তবু যেহেতু সুষ্ঠু বিচার হয়ে থাকে না, তদন্তে গাফিলতি থাকে এবং অপরাধীরা সুযোগ নেয়, তাই এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মব-সংক্রান্ত ঘটনার ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। এছাড়া জনআস্থা পুনর্গঠনের উপর জোর দিতে হবে।
মোবাইল কোর্ট ও দ্রুত বিচার কার্যকর হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং গণপিটুনি ও মব-ভায়োলেন্সের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরকারি পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বনানী মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবির দ্রুত সমাধান চেয়ে এই কর্মসূচি নিয়েছেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শত শত ইজিবাইক, বাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজট তৈরি হয়, যা যাত্রী ও চালকদের জন্য চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই ঘণ্টা আটকে থাকার পর কিছু ক্ষুব্ধ যাত্রী শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা পর্যন্ত ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দেন। পরে বেলা দুইটার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ফিরে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবির সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নেবেন। এর আগে গত বছরের ১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল বনানী এলাকায় একই মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ দেখান। এছাড়া, গত বছরের ২০ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও সাত কর্মচারীকে ঢাকায় বদলি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুদিনে মোট ১১ কর্মচারীকে বদলি করা হলো। এদিকে এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত এবং কর্মচারীদের বদলির প্রতিবাদে আজ সোমবার আবারও কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে কর্মবিরতি পালন করা হলেও এবার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি বন্দরের প্রবেশমুখে এবং কাস্টমস মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসারের সই করা এক আদেশে নতুন করে সাত কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনের কারণে তাদের বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মচারীদের সোমবার দুপুর ১২টার আগেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। বদলি হওয়া সাত কর্মচারীর মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে এবং তিনজনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে একের পর এক কর্মচারীকে বদলি করা হচ্ছে। আজ (রোববার) সাতজনকে বদলি করা হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল ও বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। আগামীকালও (সোমবার) কর্মবিরতি চলবে।’ এর আগে গতকাল রোববার শ্রমিক ও কর্মচারীদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতির কারণে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বিকেল ৪টার পর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। পোর্ট ও শিপিং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আন্দোলনে জড়িত অভিযোগে প্রায় ১৮০ শ্রমিক-কর্মচারীর একটি তালিকা তৈরি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবার এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এরই মধ্যে তালিকায় থাকা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চার নেতাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সেক্রেটারি ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, ‘১৮০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এসব তালিকাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। খুব শিগগির নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে বিষয়টি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি হবে।’ চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তির মাধ্যমে বিনা দরপত্রে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, সাবেক বন্দর সিবিএ নেতারা এবং জাতীয় শ্রমিক জোটভুক্ত শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। শনিবার শ্রমিকরা প্রথম দিনের কর্মবিরতি পালনের পর রাতে বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এতে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ৩০ দিনের জন্য বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। এর আগে শ্রমিক ও কর্মচারীদের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্কপ চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিলেও পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরে তা স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতা ইফতেখার কামাল খান বলেন, ‘কালো পতাকা মিছিলের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত রাতে সিএমপি মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এজন্য কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন না করতে অনুরোধ করা হয়। আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছি।’ বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। এর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। বন্দর রক্ষা করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও কম নয়। শ্রমিক দলের ডাকা কর্মসূচি থেকে মিছিল-সমাবেশসহ যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট বানচালে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ মিথ্যা। বন্দর রক্ষায় পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে। তবে শ্রমিক নেতারা পুলিশের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট ঠেকাতে হয়রানি শুরু করেছে। পুলিশও দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছে। হয়রানি বন্ধ না করলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। বিস্তারিত আসছে...