লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে সহায়তা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে ‘নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু লেবানন নয়, ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহযোগীর’ ভূমিকা পালন করছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মার্চের শুরুতে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩২৪ জন নিহত এবং ১০ হাজার ২৭ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলি রিজক বলেন, ইরান হিজবুল্লাহকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে দেখে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় তেহরান সংগঠনটির স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো হিজবুল্লাহকে মেনে নিতে পারে, যদি এর বিনিময়ে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুসহ নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়। তবে এ সম্ভাবনাই ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
রিজকের মতে, ভবিষ্যতে লেবাননের পরিস্থিতি সরাসরি লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপথের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনসারিয়া, আল-খারাইব, শাবরিহা, সারাফান্দ, আদলুন ও বাইসারিয়াসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, হিজবুল্লাহর সদস্য, স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান করলে মানুষ নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ কীভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, তা নিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে কথা বলেন ৩৬ বছর বয়সি এই নেতা। তবে বৃহস্পতিবার বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তার চোখে ছিল পরিচিত কালো সানগ্লাস। বালেন্দ্র শাহকে সাধারণত পুরো চোখ ঢেকে রাখা আয়তাকার ফ্রেমের কালো সানগ্লাস পরা অবস্থায় দেখা যায়। তার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গেও সানগ্লাসটি এখন অনেকটা অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মঞ্চেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এ সময় তার পরনে ছিল নেপালের ঐতিহ্যবাহী কালো টুপি ও কালো ব্লেজার। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কখন এবং কোথায় সানগ্লাস পরবেন, সে বিষয়ে বেশ সতর্ক শাহ। সংসদ অধিবেশন, সরকারি অনুষ্ঠান, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় তিনি সানগ্লাস পরে থাকেন। তবে মন্ত্রিসভার বৈঠক, ব্যক্তিগত আলোচনা কিংবা যৌথ বৈঠকে তিনি সাধারণত সানগ্লাস পরেন না। কেন সানগ্লাস খুলতে চান না শাহ? র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা শাহের এই সানগ্লাস তার পরিচয়ের অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বেশি যোগাযোগ করেন এবং সাধারণত সাক্ষাৎকার বা সংবাদ সম্মেলনে খুব কমই অংশ নেন। ফলে তার সানগ্লাস তার ব্যক্তিত্বে এক ধরনের রহস্যময়তাও যোগ করেছে। নেপালের অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠান দারাজে এখন ‘বালেন শাহ গ্লাস’ লিখে খুঁজলে তার সানগ্লাসের আদলে তৈরি বিভিন্ন ধরনের চশমাও পাওয়া যায়। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেন শাহ। কালো পোশাক ও কালো সানগ্লাসের পরিচিত চেহারা তাকে প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা একজন নতুন মুখ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুব নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে কে.পি. শর্মা অলির সরকার পতনের পরও রাজনৈতিক প্রচারে নিজের এই পরিচিত চেহারা ধরে রাখেন তিনি। পরবর্তী মার্চের সংসদ নির্বাচনে তার নতুন দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বড় জয় পায়। পূর্বাঞ্চলের একটি আসনে অলিকে পরাজিত করে নিজেও প্রধানমন্ত্রী হন বালেন্দ্র শাহ। তবে তিনটি ঘটনায় জনসাধারণের সামনে সানগ্লাস খুলে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। জুলাইয়ে দক্ষিণ নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে প্রাণহানির পর জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সানগ্লাস খুলেছিলেন। আগস্টে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময়ও একই কাজ করেন। এর আগে একবার সমর্থকদের উদ্দেশে ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি’ বলার সময়ও সানগ্লাস খুলেছিলেন তিনি। আগস্টে সংসদে সানগ্লাস পরা নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়েছিলেন শাহ। সংসদের কার্যক্রমে কালো সানগ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেছিলেন স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল। তবে পরে কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, শাহের কার্যালয় তার সানগ্লাস পরার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিল, তীব্র আলো থেকে চোখ রক্ষায় চিকিৎসক তাকে সানগ্লাস পরার পরামর্শ দিয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি
ইয়েমেনের হুথিদের হামলা ঘিরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে তিন দেশের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বৈঠকের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশটির সেনাপ্রধান সৌদি আরব সফর করবেন এবং বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় এখনও জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি ভূখণ্ড ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর মধ্যে রিয়াদ ও ইয়ানবুর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার ঘটনাও রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কয়েকটি হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। তিন দেশের এই সামরিক বৈঠকের পেছনে রয়েছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তিতে সই করে। চুক্তির অন্যতম মূলনীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপরও আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। তিন দেশ এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত তুরস্ক বা পাকিস্তান হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি। তুরস্ক সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে, আর পাকিস্তানও চুক্তির আওতায় সৌদির নিরাপত্তায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও লোহিত সাগরসংলগ্ন এলাকায় তাদের তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সমন্বয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই বৈঠক সরাসরি নতুন কোনো বড় যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্দেশ করে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে কৃষি শ্রমিকদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় সরকার। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে হঠাৎ করে শ্রমিক সংকটে পড়ার যে ভয় তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে দেশটির খামার মালিক ও কৃষকদের মাঝে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় গম, বার্লি ও ক্যানোলা রপ্তানিকারক দেশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মাঠ থেকে ফসল তোলার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতি বছরই এই সময়ে কাজ করার জন্য প্রচুর বিদেশি মৌসুমি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সম্প্রতি সরকার সার্বিক অভিবাসী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ভিসা প্রসেসিংয়ের গতি বেশ ধীর হয়ে যায় যেখানে আগে কয়েক দিনে ভিসা পাওয়া যেত, সেখানে কয়েক মাস সময় লাগছিল। কৃষকদের এই বিপদের কথা ভেবে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ দিয়েছে সরকার। এখন থেকে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে শ্রমিকদের ভিসার জন্য দ্রুত আবেদন করতে পারবে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কৃষক সংগঠনের নেতারা। তারা জানান, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ফসল তোলার একদম সঠিক সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকদের সহজে পাওয়া সম্ভব হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, যেসব বিদেশি শ্রমিকের কৃষি কাজের বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এবং ইতোমধ্যেই কোনো খামার মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, তাদের ভিসা দেওয়ায় সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর ফলে সরকারি কড়াকড়ির মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। সূত্র: রয়টার্স।