সারাদেশ

‘কৃষক কার্ড’ কারা-কখন-কোথায় পাবেন?

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাসের মাথায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

 

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৪৬ জন ভূমিহীন, প্রায় ৯ হাজার ৪৫৮ জন প্রান্তিক কৃষক, ৮ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষুদ্র কৃষক, ১ হাজার ৩০৩ জন মাঝারি কৃষক এবং ৯১ জন বড় কৃষক রয়েছেন।

কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ক্রয়, ফসল বিক্রি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিমাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। দরিদ্র কৃষকদের বছরে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

সরকারি তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে কৃষক পরিবারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ। এসব কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে—ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক।

পাঁচ শতকের কম জমির মালিকদের ভূমিহীন, পাঁচ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিকদের প্রান্তিক, ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিকদের ক্ষুদ্র, ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিকদের মাঝারি এবং ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিকদের বড় কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তালিকায় ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের সংখ্যা ২১ হাজার ১৪১ জন। এছাড়া গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন এবং দুগ্ধ খামারির সংখ্যা ৮৫৫ জন, ৬৬ জন মৎস্যজীবী এবং তিনজন লবণ চাষিও রয়েছেন।

সরকার জানিয়েছে, ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপ প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দরিদ্র কৃষকের সংখ্যা বেশি এমন ১০টি জেলার ১১টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ধাপ শেষে আগামী আগস্টে পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর তিন ধাপে চার বছরের মধ্যে সারাদেশে কার্ড বিতরণ ও কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ধাপে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর ও বোদা, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, রাজবাড়ির গোয়ালন্দ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, জামালপুরের ইসলামপুর এবং কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় কার্ড বিতরণ শুরু হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্ডধারীরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, স্বল্পমূল্যে যন্ত্রপাতি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, প্রশিক্ষণ, কৃষি বিমা এবং ভর্তুকি সুবিধা পাবেন।

এছাড়া মোবাইল ফোনে বাজার ও আবহাওয়ার তথ্য, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শসহ নানা ডিজিটাল সেবা পাওয়া যাবে। কৃষিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও সরকারি সহায়তা সহজ হবে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বছরে অন্তত আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, যা মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত ২২ হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ৬৭১ জন এ সুবিধার আওতায় আসবেন।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, কার্ডধারীদের জন্য সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় পৃথক হিসাব খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিবছর অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে, ফলে এটি এক ধরনের ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।

প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।   নিহত ও আহত শ্রমিকেরা কাজের উদ্দেশ্যে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন। খরচ কমাতে তারা ট্রাকে করে রওনা হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৩টার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিপুর গ্রামের আবজাল হোসেন (৩৫), সোহরাব হোসেন (৪০), আবু সালেক (৪২); বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের সুমন মিয়া (২১), বিষু মিয়া (৩৪), আবু হোসেন (২৯) এবং আবদুর রশিদ (৫৮)। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দিনাজপুর থেকে একটি চালবোঝাই ট্রাকে করে ১৩ জন শ্রমিক নোয়াখালী যাচ্ছিলেন। ভাড়া কমানোর উদ্দেশ্যে তারা ট্রাকের ওপর বসে যাত্রা করেন। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। নিহত সোহরাব হোসেনের ভগ্নিপতি জসিম উদ্দিন সকালে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় এসে জানান, নিহতদের সবাই ধান কাটার শ্রমিক ছিলেন। সোহরাব পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

‘কৃষক কার্ড’ কারা-কখন-কোথায় পাবেন?

ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিককে লাঞ্ছনার অভিযোগে এএসআই ক্লোজড

কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ

কৃষকরা আমাদের জীবনের অংশ : ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ছবি : সংগৃহীত
আইন সংশোধন হলেই পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হবে বগুড়ায়

বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ সংশোধন করে সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।   রোববার (১২ এপ্রিল) এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার পর বিদ্যমান আইনকে আরও যুগোপযোগী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   সভায় সভাপতিত্ব করেন আইন সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহজাহান মিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছানাত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে, গত ৩১ মার্চ এ বিষয়ে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আলিফ রুদাবাকে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছানাত আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম, আইন কর্মকর্তা মো. ফাহিম ফয়সাল এবং সদস্যসচিব হিসেবে সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈম খন্দকার।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে কমিটিকে আট কর্মদিবসের মধ্যে আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রোববার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।   সভায় গৃহীত সুপারিশগুলো শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে তা আইন প্রণয়নের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পাস হলে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার পথ সুগম হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

দিনদুপুরে বাড়ির সামনে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদে পানি কম, তিন ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত
রাঙামাটিতে বন্য হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু

রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।   রোববার (১২ এপ্রিল) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে রাঙামাটি জেলা-এর দুর্গম এক এলাকায়। বন্য হাতির একটি দল হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়লে ওই ব্যক্তি আক্রমণের শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই বন্য হাতির দলটি বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসে। এ সময় লোকজন দিগ্বিদিক ছুটতে থাকলেও একজন ব্যক্তি পালাতে না পেরে হামলার শিকার হন।   ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার চেষ্টা চালালেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বন্য হাতির চলাচল বেড়ে গেছে, কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।   এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জব্দ বালু লুটের অভিযোগে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ

মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে বলে মন্তব্য করেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।

কাজে গাফিলতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেলে চাকরি যেতে পারে: বাবর

মেরুদণ্ডের জটিল অপারেশনের সফলতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোববার রোগীকে সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে উদযাপন করেন এবং অপারেশন টিমকে সম্মাননা জানিয়েছেন

সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো মেরুদণ্ডের সফল অপারেশন

0 Comments