সারাদেশ

কোটি টাকার ফ্ল্যাট ফাঁকা, তবু উঠতে নারাজ হরিজন পরিবার

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হতে যাচ্ছে আধুনিক আবাসিক ভবন। সরকারি এই প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা থাকলেও হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বহুতল ভবনে বাস করতে চান না। এসব দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে প্রায় দুই বছর আগের প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে চলতি মাসের শেষের দিকে।

 

বগুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বগুড়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য দুটি বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অনুমোদন অনুযায়ী, চকসূত্রাপুরে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য ৭২টি ফ্ল্যাট এবং কাটনারপাড়ায় ৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।

 

সদর উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে চকসূত্রাপুর এলাকায় হরিজন কলোনিতে ১৮ কোটি ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৩ টাকায় সাত তলাবিশিষ্ট ভবন তৈরির বরাদ্দ হয়। ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই এই কাজের জন্য ইলেকট্রো গ্লোব নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রথম দফায় কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট। সেই মেয়াদে কাজ শুরু করতে না পারায় নতুন করে চুক্তি হয়। পরবর্তী মেয়াদ করা হয় ২০২৭ সালের ২৪ আগস্ট। কাজ শেষে ভবনটি বগুড়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করবে এলজিইডি।

 

সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, দুই কলোনিতে ভবনের কাজের কথা থাকলেও কাটনারপাড়ায় এখনও কাজ ‍শুরু হয়নি। এ ছাড়া কাটনারপাড়ায় চাহিদা ছিল ৪৮টি ফ্ল্যাটের, কিন্তু স্থান সংকটে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা যাবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকারের প্রকৌশল বিভাগ।

 

এ বিষয়ে খোঁজ নিলে ওই কলোনির বাসিন্দা সবুজ হরিজন বলেন, আমাদের এখানে ৬৫ ঘর হরিজন আছে। ৪৮টি ফ্ল্যাট হলেও তো অনেকে বাদ পড়ছে। এমন হলে আমাদের ভবন দিয়ে লাভ নেই। বরং এখন যেমন আছি, এভাবেই ভালো আছি।

 

কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে কলোনির ভেতরে স্থান নির্বাচনে সমস্যায় পড়ে এলজিইডি। কলোনির পূর্ব পাশে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন বহুতল ভবন নিতে অস্বীকার করেন। এ ছাড়া তারা নিজেদের আবাস ছাড়তে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে কলোনির পশ্চিম পাশের প্রবেশপথের দিকে স্থান নির্ধারণ করা হয়।

 

এখানে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও এখনও অধিকাংশ পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বহুতলা ভবনে থাকতে চান না। সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিজন কলোনির প্রবেশমুখের ঘরবাড়ি সরিয়ে পাশের একটি জমিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে টিন দিয়ে তাদের অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর ফাঁকা ওই স্থানে ভবনের ভেতরের জন্য মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। তবে ঈদের ছুটির কারণে কাজ আপাতত বন্ধ।

 

এখানকার বাসিন্দারা জানান, বহুতল ভবন নিয়ে তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। কারণ, হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন সবাই মদপানে অভ্যস্ত। বয়স্ক নারী-পুরুষ মদ্যপ অবস্থায় উঁচু স্থানে, সিঁড়ি বেয়ে চলাচলে নিরাপদ মনে করেন না। এ ছাড়া তারা স্বাভাবিক জীবনযাপনে বহুতল ভবনে স্বস্তিবোধ করেন না।

 

অনেকে জানান, অস্থায়ী টিনের ঘরে বসবাস করতে তাদের অসুবিধা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ছে। আবার রোদে গরম লাগছে। কত দিনে ভবন নির্মাণ হবে তা নিয়ে সংশয় আছে তাদের।

 

সনি হরিজন নামে এক যুবক বলেন, ‘বিল্ডিং হলে তো সুবিধা আছে। কিন্তু আমরা তো যেতে চাই না। কারণ আমরা যেভাবে চলি, আমাদের খাওয়া-দাওয়া আপনারা জানেন। এতে সাততলা বিল্ডিংয়ে থাকা ঝুঁকির। আবার আমাদের সবার তো গ্যাসের চুলায় রান্না করার টাকা নেই। খড়ি, পাতা দিয়ে রান্না করি। বিল্ডিংয়ে থাকলে কি মাটির চুলায় রান্না করতে পারব।’

তপু হরিজন বলেন, ‘ভবন প্রথমে কলোনির পূর্ব পাশে হওয়ার কথা ছিল। ওই পাশটায় ডোম গোত্রের লোকজন বাস করে। ওরা কিন্তু ওপর থেকে পড়ে যেতে পারে, এই ভয়ের কারণে করতে দেয়নি। ওদের কথা ছিল, বর্তমান বাড়ি দোতলা করে দিলে তারা থাকবে। কিন্তু সাততলা-দশতলায় তারা যাবে না। এখন আমাদের এখানে ভবন নির্মাণে রাজি হয়েছি আমরা, কিন্তু একই ভয় তো আমাদেরও আছে।’

 

ডোমদের অংশে গিয়ে গোবিন্দ বাঁশফোড়ের সঙ্গে কথা হয়। বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ওরা যখন জায়গা দেখতে এসেছিল, আমরা বলেছিলাম এখানে যে দোতলা ঘর আছে, একটা মন্দির আছে, এগুলো ভাঙা যাবে না। কিন্তু ওরা শুনেনি। পরে ওরা সামনে বিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন।’

 

চকসূত্রাপুর কলোনির প্রবীন বাসিন্দা বিমল কুমার হাঁড়ি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বিল্ডিং বানানোর কথা হচ্ছে। এখন কবে হবে, সেই বিল্ডিং টিকবে নাকি ধসে পড়বে, সেটা আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারে না। আবার বিল্ডিং হলেও সেখানে আমরা থাকব কীভাবে? ছাদ থেকে কেউ যদি পড়ে যায়? এগুলো কি সরকার দেখবে?’

 

চকসূত্রাপুরের কলোনিতে হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০০ ঘর আছে বলে জানান বাংলাদেশ হরিজন ঐক্যপরিষদের সহসভাপতি টুটুল হরিজন। তিনি বলেন, প্রথমে জায়গা নির্ধারণ করতে গিয়ে সমস্যা হয়েছিল। ডোমরা তাদের জায়গা দেয়নি। এসব কারণে এই ভবন নির্মাণে দেরিও হলো। আগে যে সমস্যা ছিল, এখন আর সেটি নেই। ভবন হলে সবার জন্য ভালোই হবে। এটা হওয়ার পর এখানে আরেকটি দশ তলা ভবন হবে।

 

ইলেকট্রো গ্লোব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, চকসূত্রাপুর কলোনিতে প্রায় ৯ হাজার স্কয়ার ফুট আয়তনের ওপর ৭তলা ভবন হবে। নিচতলা থাকবে কমিউনিটি সেন্টার। দোতলা থেকে প্রতি ফ্লোরে ১২টি করে ছয় তলায় মোট ৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে। কাজ শুরুতে আমাদের যা দেরি হয়েছে, এখন আর কোনো সমস্যা নেই। কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলব।

 

প্রকল্পটির শুরু থেকে নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে জানান বগুড়া সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ইচ্ছা থাকলে সুন্দরভাবে ভবন নির্মাণ করে বাস করতে পারে না। এলজিইডি একটি উদ্যোগ নিয়েছে সারা দেশে। বগুড়া সদরে দুটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। চকসূত্রাপুরে পশ্চিম পাশে নির্মাণ করতে গিয়ে সমস্যা হয়েছিল। পরে পুনরায় সয়েল টেস্ট, ডিজাইন করতে হয়। এখন পুরোদমে কাজ চলবে। কাটনারপাড়ায় জায়গা সংকট আছে। সেখানে ৪৮টি হবে না। তবে আমরা ৩৬টি ফ্ল্যাট করতে পারব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
মঠবাড়িয়ায় ট্রান্সমিটার চুরির চেষ্টায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

  পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার চুরির চেষ্টাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রাসেল হাওলাদার (৩৬) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (দিনগত রাত) গভীর রাতে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।   নিহত রাসেল হাওলাদার ওই এলাকার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের মনসুর হাওলাদারের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১২টার পরে রাসেল বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে ট্রান্সমিটার চুরির চেষ্টা করেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই নিচে পড়ে মারা যান। পরদিন সকালে স্থানীয়রা খুঁটির নিচে তার দগ্ধ ও আহত দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।   খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।   ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ট্রান্সমিটার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ চুরির ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

প্রস্তুত লালদীঘির মাঠ, আজ লড়বেন সারা দেশের বলীরা

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ধার ৮ ফুট লম্বা অজগর

ছবি : সংগৃহীত

যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ৪৮ ঘণ্টা পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র

জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশজুড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, লোডশেডিং এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী—সবাই পড়েছেন চাপে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।   অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির বাড়তি দামের প্রভাব শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি পর্যন্ত পড়বে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি ধাপে ধাপে শিল্প, কৃষি উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতে ব্যয় বাড়বে, যার শেষ চাপ পড়বে ভোক্তার ওপর।   বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাপর্যায়ে প্রতিফলিত হয়।   গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব স্পষ্ট। সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির সংকট যতদিন চলবে, ততদিন অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে থাকবে। তার মতে, জ্বালানির দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের বিকল্প পথ ছিল না, তবে এর প্রভাব এখন সর্বত্র পড়ছে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পুরো অর্থনীতিতে শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপ সৃষ্টি করে।   রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। বিশেষ করে সবজি, মাছ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে এর প্রভাব বেশি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ট্রাক ও পিকআপ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় কম দামে পণ্য বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না।   বাজারে পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০ টাকা, শিম ও শজিনা ৮০-১২০ টাকা, ঝিঙ্গা, করলা ও বরবটি ৮০-১০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০-১৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০-১০০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, পেঁপে ৬০-৮০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ টাকা এবং বেগুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ২০-২৫ টাকা ও পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের লাউ প্রতি পিস ৮০-১০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   জ্বালানির প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তজেলা বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বাড়ানো হলেও বাস্তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় দেখা গেছে, প্রতি টিকিটে ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।   যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, আগে যেখানে ৫০০ টাকায় ভ্রমণ করা যেত, সেখানে এখন ৭৫০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। দরকষাকষি করে কিছুটা কমালেও ভাড়া আগের তুলনায় অনেক বেশি।   যাত্রী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাসভাড়ার তালিকা তৈরি ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। মালিকপক্ষের প্রভাবের কারণে ভাড়ার ওপর যথাযথ নজরদারি হচ্ছে না। এছাড়া ভাড়া বাড়লেও সেবার মানে তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায় না।   রাজধানীর ভেতরেও লোকাল বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
শাহ আমানত বিমানবন্দর। সংগৃহীত ছবি

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ১৬ ফ্লাইট বাতিল

ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনায় জামায়াত এমপির ওপর হামলা, ভাঙচুর করা হলো গাড়ি

ছবি : সংগৃহীত

ভুয়া কার্ডে ২০ হাজার মানুষের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুৎ খাতে স্বস্তির খবর, উৎপাদনে অগ্রগতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগামী ২৮ এপ্রিল জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে । এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হবে।   শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা কমিশনিংয়ের পূর্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তিনি আরও জানান, প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার তিন মাসের মধ্যে, অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে এবং ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানো হবে। এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় গত ৭ এপ্রিল নির্ধারিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। এখন পজিশন ভালো। সেজন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় গত ১৬ এপ্রিল লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বলেন, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ সফলভাবে লাইসেন্স অর্জন করেছেন। লিখিত, মৌখিক (ভাইভা) এবং সিমুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তারা এই লাইসেন্স পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের পর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা চালিয়ে ফাইনাল সেফটি অ্যানালাইসিস রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। কমিশনিং ধাপটি অত্যন্ত কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। সব প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে, যা ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস সময় লাগবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি হিসেবে যে পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়েছে, তাতে এনপিসিবিএল-এর অপারেটররা রাশিয়ার অপারেটরদেরসঙ্গে যৌথভাবে সফলভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। এই সাফল্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু আজ

ফাইল ছবি

কুমিল্লা-ঢাকা রুটে বাস ভাড়া বেড়েছে: আজ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হবে যাত্রীদের

ছবি: সংগৃহীত

কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা

0 Comments