বিশ্ব

খামেনি নেই, তবুও টিকে আছে ইরানের শাসনব্যবস্থা, কিন্তু কয়দিন টিকবে?

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রথম ধাপেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটিকে সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে ঠেলে দিয়েছে।

 

ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বকে আঘাত করে কমান্ড কাঠামো ভেঙে দেওয়া।

শনিবার রাতের মধ্যে খামেনির মৃত্যুর খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা কয়েক দিন আগেও কল্পনাতীত ছিল। ইরানের বড় শহরগুলোতে আনন্দ উদযাপনের বিচ্ছিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে। বিদেশে বসবাসকারী বহু ইরানির মধ্যেও একই চিত্র দেখা যায়। অনেকের কাছে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা বলে মনে হয়েছে—যা বহু বছরের নাগরিক প্রতিরোধ আন্দোলন একা অর্জন করতে পারেনি।

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নিন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও একই সুরে বলেন, শাসন পরিবর্তন সম্ভব এবং তা কাম্য।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নাম অনুযায়ী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’–র সামরিক অংশটি ছিল সমন্বিত এবং প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। তবে ইরানের জনগণের প্রতি রাজনৈতিক আহ্বান কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে এবং অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেয়।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ওপর বর্তায়। এই সদস্যরা আট বছরের জন্য সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। তবে প্রার্থী হতে হলে ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর অনুমোদন প্রয়োজন।

১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিল নিজেই নেতৃত্ব কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এর ছয়জন সদস্য সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ করেন এবং বাকি ছয়জন বিচার বিভাগের মাধ্যমে মনোনীত হয়ে সংসদের অনুমোদন পান। বিচার বিভাগের প্রধানও সর্বোচ্চ নেতার নিয়োগপ্রাপ্ত।

অর্থাৎ, খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। খামেনির মৃত্যুর পরপরই সরকার দ্রুত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সক্রিয় করে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সাধারণত ইরানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আগেভাগে প্রকাশ করা হয় না এবং পুরো প্রক্রিয়াই গোপনে সম্পন্ন হয়। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ভেতরে একটি ছোট কমিটি সম্ভাব্য নাম পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত তালিকা উপস্থাপন করতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খামেনির বড় ছেলে মোজতাবা খামেনির নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে শোনা যাচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কয়েকজন বিশ্বস্ত কমান্ডার নিহত হওয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।

১৯৮৯ সালের জুনে খামেনি নিজেও যখন অপ্রত্যাশিতভাবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন, সেই নজির দেখায় যে ফলাফল অনেক সময় অনুমানের বাইরে চলে যেতে পারে।

নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে। তবে সামরিকভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রাথমিক হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বেঁচে থাকা কর্মকর্তারাও অব্যাহত বিমান হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তবুও ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। প্রথম দুই দিনের মধ্যেই ইরানি বাহিনী কয়েকটি আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

প্রথমবারের মতো দুবাইয়ের বেসামরিক স্থাপনা এবং কুয়েতের একটি বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে, তবে তেহরান হয়ত যুদ্ধবিরতি বা তুলনামূলক অনুকূল সমঝোতার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে।

অন্যদিকে, ধারাবাহিক সামরিক চাপ এবং ব্যাপক বিক্ষোভ যদি আবার জোরদার হয়, তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কাঠামোগত ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো অংশ যদি বিভক্ত হয়ে পড়ে বা নির্দেশ মানতে অস্বীকার করে, তবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অচল হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আগামী কয়েক দিনেই বোঝা যাবে, দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর পর আইআরজিসি ও অন্যান্য নিরাপত্তা কাঠামো কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে। এই মুহূর্তে সব সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে রয়েছে—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীন, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারদের হারানো এবং চলমান সামরিক চাপের মুখে। তবুও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সশস্ত্র বাহিনী ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা এখনো রয়েছে, যা দ্রুত শাসন পরিবর্তনের পথকে জটিল করে তুলেছে।

খামেনির মৃত্যু ইরানকে এক অনিশ্চিত ও অস্থির অধ্যায়ে প্রবেশ করিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—তেহরান অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে কি না, বিক্ষোভ কতটা জোরদার হয় এবং সংঘাত কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী কয়েক দিনেই পরিস্থিতির দিকনির্দেশ স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে, যখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের সামরিক সীমা ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা পরীক্ষা করবে। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো

ইরানের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার এবং কুয়েত। গতকাল এই ছয় দেশের জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) বৈঠকে এর আভাস পাওয়া গেছে।   গতকাল ১ মার্চ জিসিসি জোটের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে অনলাইন বৈঠক হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুললতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানি। বৈঠকে যোগ দেয় মধ্যপ্রাচ্যের অপর দেশ জর্ডানও। যদিও জর্ডান জিসিসির সদস্য নয়।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মধ্যে দিয়ে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ২৮টি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী। এসব ঘাঁটির বেশিরভাগই উপসাগরীয় অঞ্চলের এই ছয় দেশে অবস্থিত। ইরানের হামলায় এই দেশগুলোতে কয়েকজন নিহত এবং আহতও হয়েছেন।   গতকালের বৈঠকে জিসিসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের পাশাপাশি বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা এবং লোকজনও ইরানের হামলার শিকার হয়েছেন এবং এসব হামলার মাধ্যমে তেহরান জিসিসি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন, এবং ভালো প্রতিবেশীসুলভ নীতির গুরুতর লঙ্ঘন করেছে।   বৈঠকে জিসিসি জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরস্পরের প্রতি সংহতি জানান এবং এসব হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে একমত হন। প্রসঙ্গত, জিসিসি সনদ এবং যৌধ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুসারে জিসিসির কোনো সদস্যরাষ্ট্র যদি হামলার শিকার হয়— তাহলে তা পুরো জিসিসির ওপর হামলা বলে বিবেচনা করা হবে এবং সেক্ষেত্রে হামলাকারীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে জিসিসি।   রোববারের বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই মর্মে একমত হন যে ভবিষ্যতে ইরান থেকে এমন আগ্রাসী হামলা অব্যাহত থাকলে জিসিসির সনদ ও যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে এই ৬ সদস্যরাষ্ট্র।   সূত্র : আরব নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

কুয়েতে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, আহত ২

ছবি : সংগৃহীত

বহু মাস ধরে পরিকল্পনার পর খামেনিকে হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযান

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের প্রতিশোধ, বিস্তারিত কতটা জানা যাচ্ছে

ছবি : সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনা কেন?

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এছাড়াও এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুধুমাত্র তেহরানেই মারা গেছেন অন্তত ৫৭জন নাগরিক। এই ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকও প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে শনিবার ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। এমন অবস্থার মধ্যে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। যেখানে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের 'কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে দাবি করে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের এই বিবৃতিতে কোথাও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নামও উল্লেখ করা হয়নি। সেই সাথে ইরানে হামলার ঘটনায়ও কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। রোববার সন্ধ্যায় ওই বিবৃতিটি প্রকাশের পর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়। এ নিয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে বিবিসি বাংলা। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন অবস্থানকে 'একপেশে' মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত হওয়া উচিত ছিল। আমরা জানি না এই বিবৃতি কী কারো চাপে পড়ে দিয়েছে, নাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকেই দিয়েছে"। এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে এই বিবৃতিতে এ-ও বলেছে, চলমান শত্রুতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণকেও বিপন্ন করবে। যা আছে বাংলাদেশের বিবৃতিতে শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরই এর জবাব দিতে শুরু করে ইরান। প্রথম ইসরায়েল ও পরে মধ্যপ্রাচ্যের যে সব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সে সব ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকও করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঐ অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিও দেয়। সেখানে বাংলাদেশ সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা পরিহার এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানায়। রোববার ভোরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে উত্তেজনা আরো বাড়তে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয়। রোববার বিকেলে ঢাকায় বিক্ষোভ করে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও। এই অবস্থার মধ্যে রোববার বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় একটি বিবৃতি দেয়। এতে ইরানে হামলার পর সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সতর্ক করে এই বিবৃতিতে বলেছে, চলমান শত্রুতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণকে বিপন্ন করবে। দেশটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং মতপার্থক্য নিরসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এই অঞ্চলের কিছু দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দাও জানায় বাংলাদেশ। কূটনীতিক বিশ্লেষকেরা কী বলছেন? মূলত এই বিবৃতির পরই এ নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা তৈরি হয় বাংলাদেশে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কূটনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানেই বলা আছে দেশের অবস্থান হবে যে কোনো ধরনের আগ্রাসন বিরোধী। কিন্তু এই ইস্যুতে বাংলাদেশ বেশ সতর্ক অবস্থানে থেকেছে বলেও মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা। সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিকে একপেশে বলে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সংবিধান বলছে আগ্রাসনের বিরোধিতা করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পক্ষে থাকতে হবে। একই সাথে কেউ যদি অবৈধভাবে বলপ্রয়োগ করে তার বিরুদ্ধেও অবস্থান থাকা উচিত"।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে সমর্থনের বার্তা দিল চীন

ছবি : সংগৃহীত

ওমান উপকূলে তেলের ট্যাংকারে হামলা, ক্রু নিহত

ছবি : সংগৃহীত

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

ছবি : সংগৃহীত
খামেনি নেই, তবুও টিকে আছে ইরানের শাসনব্যবস্থা, কিন্তু কয়দিন টিকবে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রথম ধাপেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটিকে সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে ঠেলে দিয়েছে।   ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বকে আঘাত করে কমান্ড কাঠামো ভেঙে দেওয়া। শনিবার রাতের মধ্যে খামেনির মৃত্যুর খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা কয়েক দিন আগেও কল্পনাতীত ছিল। ইরানের বড় শহরগুলোতে আনন্দ উদযাপনের বিচ্ছিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে। বিদেশে বসবাসকারী বহু ইরানির মধ্যেও একই চিত্র দেখা যায়। অনেকের কাছে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা বলে মনে হয়েছে—যা বহু বছরের নাগরিক প্রতিরোধ আন্দোলন একা অর্জন করতে পারেনি। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নিন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও একই সুরে বলেন, শাসন পরিবর্তন সম্ভব এবং তা কাম্য। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নাম অনুযায়ী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’–র সামরিক অংশটি ছিল সমন্বিত এবং প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। তবে ইরানের জনগণের প্রতি রাজনৈতিক আহ্বান কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে এবং অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেয়। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ওপর বর্তায়। এই সদস্যরা আট বছরের জন্য সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। তবে প্রার্থী হতে হলে ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর অনুমোদন প্রয়োজন। ১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিল নিজেই নেতৃত্ব কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এর ছয়জন সদস্য সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ করেন এবং বাকি ছয়জন বিচার বিভাগের মাধ্যমে মনোনীত হয়ে সংসদের অনুমোদন পান। বিচার বিভাগের প্রধানও সর্বোচ্চ নেতার নিয়োগপ্রাপ্ত। অর্থাৎ, খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। খামেনির মৃত্যুর পরপরই সরকার দ্রুত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সক্রিয় করে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সাধারণত ইরানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আগেভাগে প্রকাশ করা হয় না এবং পুরো প্রক্রিয়াই গোপনে সম্পন্ন হয়। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ভেতরে একটি ছোট কমিটি সম্ভাব্য নাম পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত তালিকা উপস্থাপন করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খামেনির বড় ছেলে মোজতাবা খামেনির নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে শোনা যাচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কয়েকজন বিশ্বস্ত কমান্ডার নিহত হওয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। ১৯৮৯ সালের জুনে খামেনি নিজেও যখন অপ্রত্যাশিতভাবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন, সেই নজির দেখায় যে ফলাফল অনেক সময় অনুমানের বাইরে চলে যেতে পারে। নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে। তবে সামরিকভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রাথমিক হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বেঁচে থাকা কর্মকর্তারাও অব্যাহত বিমান হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবুও ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। প্রথম দুই দিনের মধ্যেই ইরানি বাহিনী কয়েকটি আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। প্রথমবারের মতো দুবাইয়ের বেসামরিক স্থাপনা এবং কুয়েতের একটি বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে, তবে তেহরান হয়ত যুদ্ধবিরতি বা তুলনামূলক অনুকূল সমঝোতার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে, ধারাবাহিক সামরিক চাপ এবং ব্যাপক বিক্ষোভ যদি আবার জোরদার হয়, তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কাঠামোগত ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো অংশ যদি বিভক্ত হয়ে পড়ে বা নির্দেশ মানতে অস্বীকার করে, তবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অচল হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আগামী কয়েক দিনেই বোঝা যাবে, দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর পর আইআরজিসি ও অন্যান্য নিরাপত্তা কাঠামো কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে। এই মুহূর্তে সব সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে রয়েছে—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীন, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারদের হারানো এবং চলমান সামরিক চাপের মুখে। তবুও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সশস্ত্র বাহিনী ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা এখনো রয়েছে, যা দ্রুত শাসন পরিবর্তনের পথকে জটিল করে তুলেছে। খামেনির মৃত্যু ইরানকে এক অনিশ্চিত ও অস্থির অধ্যায়ে প্রবেশ করিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—তেহরান অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে কি না, বিক্ষোভ কতটা জোরদার হয় এবং সংঘাত কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী কয়েক দিনেই পরিস্থিতির দিকনির্দেশ স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে, যখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের সামরিক সীমা ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা পরীক্ষা করবে। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলে তীব্র আতঙ্ক , বাঙ্কারেও স্বস্তি পাচ্ছে না

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের যে দাবি প্রত্যাখ্যান করল যুক্তরাষ্ট্র

হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের পরবর্তী লক্ষ্য হিজবুল্লাহ প্রধান

0 Comments