বিশ্ব

জুনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : জেলেনস্কি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬

ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আগামী জুনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে এবং এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে ফ্লোরিডায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলো সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গতি পেয়েছে। তবে, ভূখণ্ড ইস্যুতে মস্কো ও কিয়েভের অবস্থান এখনো পরস্পর বিরোধী।

ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রাখা রাশিয়া যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগে অঞ্চলটি দখলের হুমকিও দিয়েছে মস্কো।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বক্তব্য, ভূখণ্ড ছাড় দিলে মস্কো আরো আগ্রাসী হবে। ফলে, ভবিষ্যতে রাশিয়ার পুনরায় আগ্রাসন ঠেকাতে ব্যর্থ এমন কোনো চুক্তিতে কিয়েভ স্বাক্ষর করবে না।

শনিবার ভোরে প্রকাশিত এক বক্তব্যে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইউক্রেন ও রাশিয়াকে এক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভবত মিয়ামিতে বৈঠকে বসতে প্রস্তাব দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তারা বলছে, জুনের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করতে চায়।

জানুয়ারি থেকে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বড় ধরনের বন্দি বিনিময় হলেও ভূখণ্ড প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষই জানিয়েছে, আলোচনা কঠিন ছিল।

জেলেনস্কি একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ছাড় দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

ইউক্রেন বর্তমান যুদ্ধরেখা বরাবর সংঘাত স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

এক যুগে সড়কে ঝরেছে লাখো প্রাণ, মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে

দেশের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ হচ্ছে, প্রতিদিন সড়কে নামছে নতুন নতুন বিলাসবহুল গাড়ি। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। দুর্ঘটনার ভয়াবহতাও যেন কমছে না। প্রায় প্রতিদিনই সড়কে প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, বয়োবৃদ্ধ, নারী ও শিশু।   ২০১৮ সালে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। তখন অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার বুঝি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে, থামবে মৃত্যুর মিছিল। আট বছর পর সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন কতটা ঘটেছে?   বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬৯ হাজার ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৬১ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার মানুষ। শুধু ২০২৫ সালেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯ হাজার ১১১ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, একই বছর দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৫৯।   সংখ্যার এই ব্যবধান দুই সংগঠনের হিসাবে পার্থক্য তুলে ধরলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ব্যাপকতা স্পষ্ট করে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের স্লোগান এখনো দেয়ালে আছে। কিন্তু সড়ক কি সত্যিই নিরাপদ হয়েছে?   ১২ বছরে প্রায় ৯৬ হাজার মানুষের মৃত্যু   সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সারা দেশে ৫ হাজার ৯২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৫৮৯ জন নিহত ও ১৭ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৮ হাজার ৬৪২ জন। আহত হন ২১ হাজার ৮৫৫ জন।   ২০১৬ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩১২টিতে। ওই বছর ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হন। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৯৭টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হন।   ২০১৮ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১৪টিতে। এসব দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৪৬৬ জন আহত হন। ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৫১৬টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৮৫৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ১৩ হাজার ৩৩০ জন।   ২০২০ সালে ৪ হাজার ৮৯১টি দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ জন নিহত ও ৮ হাজার ৬০০ জন আহত হন। ২০২১ সালে ৫ হাজার ৬২৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৭ হাজার ৮০৯ জন। আহত হন ৯ হাজার ৩৯ জন।   ২০২২ সালে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি আরও বেড়ে যায়। ওই বছর ৬ হাজার ৭৪৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৯৫১ জন নিহত ও ১২ হাজার ৩৫৬ জন আহত হন। ২০২৩ সালে ৬ হাজার ২৬১টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯০২ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৩৭২ জন আহত হন।   ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৩৫৯টি দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৫৪৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ১২ হাজার ৬০৮ জন। আর ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৯ হাজার ১১১ জন। আহত হন ১৪ হাজার ৮১২ জন।   অন্য হিসাবেও উদ্বেগজনক প্রাণহানি   রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সংগঠনটির হিসাবে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১৬ হাজার ৪০২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৬ হাজার ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।   বছরভিত্তিক হিসাবে, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ২১৪ জন, ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন নিহত হন।   ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন।   দুর্ঘটনার পেছনে যেসব কারণ   রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়কের অবকাঠামো, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিও দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে।   সাইদুর রহমান বলেন, ‘অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। এই গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ দরকার। যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। এজন্য সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।’   তিনি বলেন, ‘পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বিশেষ করে, নিয়োগপত্র, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকার কারণে বাস এবং পণ্যবাহী যানবাহনের অধিকাংশ চালক শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তারা সবসময় অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালান। ফলে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা এবং সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’   প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও আইনের প্রয়োগে জোর   সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষ চালক তৈরি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলেছে সংগঠনটি।   মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে সেগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড নির্মাণ, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার তৈরি, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রেল ও নৌপথ সংস্কারের মাধ্যমে সড়কের ওপর চাপ কমানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।   বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন স্ক্র্যাপ করা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক প্রসিকিউশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সচেতন নাগরিক সমাজ তৈরি করা গেলে ধীরে ধীরে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।   ২০৩০ সালের লক্ষ্য, সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ   ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গবেষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। এ লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিআইপিআরবি’র নির্বাহী উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. একেএম ফজলুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রোড সেফটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন।   মূল প্রবন্ধে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র, বাংলাদেশে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ এবং বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন ও নীতিমালার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি এ বিষয়ে সিআইপিআরবি’র বিভিন্ন কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়।   আলোচনায় সড়কে নিরাপদ চলাচলে পথচারী, যাত্রী ও চালকদের দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মুক্ত আলোচনায় অ্যাম্বুলেন্সচালকদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবার জন্য নির্দেশিকা তৈরির প্রস্তাব দেন অংশগ্রহণকারীরা।   এ ছাড়া সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দুর্ঘটনার তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা, সড়ক ব্যবহারে মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং যানবাহনে শিশুদের জন্য নিরাপদ আসন স্থাপনের উপায় নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হয়।   সভায় সড়ক নিরাপত্তায় সিআইপিআরবি’র চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির উপনির্বাহী পরিচালক ও আরটিআই প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী। তিনি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।   সমাপনী বক্তব্যে সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. আমিনুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’   ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন   সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে ‘দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো তৈরিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’   আট বছর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। এরপরও বিভিন্ন সংগঠনের পরিসংখ্যানে সড়কে প্রাণহানির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জকেই সামনে আনছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, চালকদের প্রশিক্ষণ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, আইনের প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ এসেছে বারবার। এখন এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমানোর অগ্রগতি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২২, ২০২৬

‘স্টুপিড কমেন্টস’: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে সমালোচনা মাখোঁর

জ্যাকডো গ্যাসক্ষেত্র। ছবি: আদুরা

জ্বালানি সংকটে উত্তর সাগরের জ্যাকডো গ্যাসক্ষেত্রের অনুমোদন দিল যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি

যন্তর মন্তরে কর্মসূচি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে ককরোচ নেতারা

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় কাজের সন্ধানে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় নিহত টাঙ্গাইলের তিন যুবক

নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলাম—তিনজনেরই গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে। তিনজনই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কেউ ঋণ নিয়ে, কেউ জমি বন্ধক রেখে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়া এই তিনজনের কারও ভাগ্যেই কাজ জোটেনি, উল্টো বাধ্য হয়ে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে হয়েছে তাঁদের। সেখানে তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে ড্রোন হামলায়।     কাজের জন্য রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারিত ৩০ জন তরুণ–যুবকের মধ্যে যে ২০ জন যুদ্ধক্ষেত্রে মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে এই ৩ জনও রয়েছেন। নিহত নজরুল ইসলামের ভাতিজা মোহাম্মদ শিহাব প্রথম আলোকে বলেন, চাচার সঙ্গে সর্বশেষ তাঁদের কথা হয় গত ২৯ জুলাই। নজরুল বলেছিলেন, ‘আমাদের যুদ্ধে পাঠায় দিচ্ছে। আমার মাকে দেখে রাখিস, সন্তানদের দেখে রাখিস।’ পরে তাঁর সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।     নজরুল ইসলামরা দুই ভাই, তিন বোন। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ভাই যৌথ পরিবারে একসঙ্গে থাকতেন। উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁরা যে জমি পেয়েছেন, তা এখনো ভাগ–বাঁটোয়ারা হয়নি। সেই জমি স্থানীয় একজন ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখে নজরুলকে ৯ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বড় ভাই। সেই টাকা দিয়েই নজরুল রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। এর আগে তিনি সৌদি আরবেও গিয়েছিলেন।       নজরুলের ভাতিজা বলেন, রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে চাচার মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর এখন জমি বন্ধক রাখা ব্যক্তি টাকা ফেরত দিতে না পারলে টাকার সমপরিমাণ জমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন। তিনি জানান, ৪০ বছর বয়সী নজরুল দুবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম ঘরে তাঁর দুই ছেলে আছে। একজনের বয়স ১৫ বছর, অন্যজনের ১০ বছর। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের খোঁজখবর রাখতেন তিনি। তবে নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর দুই সন্তান খুবই করুণ অবস্থায় দিন পার করছেন। এই ঘরে সোয়া এক বছর বয়সের একটি মেয়ে ও ছয় মাসের একটি ছেলে আছে তাঁর।       পরিবার সূত্রে জানা যায়, নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই সন্তান এখনো যৌথ পরিবারেই থাকছেন। কিন্তু নজরুলের বড় ভাইয়ের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তিনি একসময় ঢাকায় সবজির ব্যবসা করতেন, কিছুদিন রিকশাও চালিয়েছেন। এখন বাড়িতেই থাকছেন। যৌথ পরিবারের জমি বন্ধক থাকায় কিছু করতেও পারছেন না। টাকা ফেরত দিয়ে জমি উদ্ধার করার মতো অবস্থাও তাঁর নেই।     নজরুলের পরিবারের মতোই কষ্টে জীবন যাপন করছে পবিত্র চন্দ্রের পরিবার। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান পবিত্র পেশায় ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির কিছু অর্থ আর একটি বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সৌভাগ্যের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাশিয়ায়। তাঁকেও জোর করে পাঠানো হয় রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে। বেঁচে যাওয়া সঙ্গীদের কাছ থেকে পরিবার খবর পেয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে পবিত্রর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুশোকের সঙ্গে এখন পরিবারটিকে তাড়া করছে পাওনাদারদের অব্যাহত তাগাদা।     পবিত্রর ভগ্নিপতি তপন চন্দ্র সূত্রধর প্রথম আলোকে বলেন, পরিবারটি এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে ভাত খেতে বসলে ঋণদাতারা টাকার জন্য পেছনে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন। এখন অবশিষ্ট তিন শতাংশ জমি বিক্রি করার চিন্তা করা হচ্ছে; কিন্তু তাতেও ঋণ শোধ হবে না। তবে পরিবারটি এখনো মনে করছে—পবিত্র বেঁচেও থাকতে পারে।       টাঙ্গাইলের একই উপজেলার আমিনুর ইসলামও মারা গেছেন রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে। তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অন্য ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আমিনুর নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। তিনিও পরিবারে সচ্ছলতা আনতে ঋণ করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তা তো হলোই না, নজরুল ও পবিত্রর মতো তাঁকেও প্রাণ দিতে হলো যুদ্ধক্ষেত্রে।     ১৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানায়, গত ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের ৩ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান (তাঁদের মধ্যে এই তিনজনও ছিলেন)। নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে কাজের কথা বলে তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের নামানো হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে।     এসআরবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে বাংলাদেশিদের একধরনের টোপ হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতো। তাঁদের ওপর ড্রোন হামলা হলে হামলাকারীদের অবস্থান ও দূরত্ব শনাক্ত করা যেত।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ইরানের সঙ্গে শিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করল ইরাক

সংগৃহীত ছবি

মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

আলেকসান্ডার ভুসিচ। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

বিশ্ব বড় সামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে: সাবেক সার্বীয় প্রেসিডেন্ট

সংগৃহীত ছবি
মক্কার ঘটনায় ভারতীয় অপপ্রচার: ঢাকা-রিয়াদ সম্পর্ক বিনষ্টের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

সৌদী আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদে হারামে সংঘটিত একটি ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগাণ্ডা। আনন্দবাজার পত্রিকা ও ইন্ডিয়া টুডে-র মতো গণমাধ্যমে ঘটনাটিকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা একদিকে যেমন বাংলাদেশ ও সউদী আরবের সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ধরার অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসলামি শরিয়াহ আইন, সউদী বিচারব্যবস্থা এবং মসজিদ আল হারামের পবিত্রতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র পরিলক্ষিত হয়েছে দেশটির গণমাধ্যমে।       কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘‘অপরাধ কি কপালে চুম্বন? ঢাকাকে না জানিয়ে বাংলাদেশি ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’র ধড়-মুণ্ড কেন আলাদা করল সৌদি আরব?’’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে মক্কা চুক্তিকে টেনে এনে বাংলাদেশ সরকারের তাতে যোগদানের আগ্রহ নিয়ে কটাক্ষ এবং ঢাকা-রিয়াদ সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলে অতিরঞ্জিত দাবি করা হয়েছে।বাংলাদেশ সংবাদ       প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সউদী আরবকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এই পরিস্থিতিকে ব্যঙ্গ করে মক্কা সামরিক চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি সরকারের আগ্রহকে ‘লাফালাফি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে আরও দাবি করা হয়, তারেক রহমানের আসন্ন সউদী আরব সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এই শিরচ্ছেদের ঘটনা নাকি ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র চাপ তৈরি করেছে।       প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘কখনও হুথি হামলার কড়া নিন্দা। কখনও আবার মক্কা সামরিক চুক্তিতে যোগ দিতে চেয়ে ‘লাফালাফি’। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইস্তক সৌদি আরবকে প্রবল ভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে ঢাকা। এ-হেন পরিস্থিতিতে আচমকাই ছন্দপতন। সবাইকে চমকে দিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল রিয়াধ। শুধু তা-ই নয়, তাদের ‘সম্পূর্ণ অন্ধকারে’ রেখে এই পদক্ষেপ করায় বেজায় অস্বস্তিতে ভারতের পূর্বের প্রতিবেশী।’’       অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টুডের "Killed for kiss in Mecca mosque? Secret Saudi execution of Bangladeshis sparks outrage" শীর্ষক প্রতিবেদনে উদ্দেশ্যমূলক, অতিরঞ্জিত ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়েছে—যা বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ করতে এবং ঢাকা-রিয়াদের গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।বাংলাদেশ সংবাদ       মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন মসজিদে হারামের মতো ইসলামের পবিত্রতম স্থানে সরাসরি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে (ব্যভিচার) লিপ্ত থাকলেও, ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে হালকা করে তারা পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী ছিলেন এবং তারা কেবল "কপালে চুমু দিয়েছিল"—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন ভিত্তিহীন জল্পনা-কল্পনা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সউদী আরবের শরিয়াভিত্তিক বিচারিক ব্যবস্থাকে অস্বচ্ছ ও বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে এটিকে "সমালোচনা" ও "বিচারের চরম ব্যর্থতা" বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।       ভারতীয় গণমাধ্যমটিতে ভিয়েনা কনভেনশন ও কনস্যুলার নোটিফিকেশনের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও সউদী আরবের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে বাড়িয়ে তুলে ধরে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে দূরত্ব তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।       প্রতিবেদনটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের নির্দোষ প্রমাণ ও সউদী আরব ও দেশটির বিচার ব্যবস্থাকে বর্বর হিসেবে তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা দেখা গেছে। পাশাপাশি নজরুলের স্বভাব ও আচরণের প্রশংসা করে তার মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা নাইমুর রহমানের বক্তব্য এবং পাকিস্তানি (প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় হিসেবে চিহ্নিত) সহকর্মীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। এছাড়া কিছু চিহ্নিত ইসলাম-বিদ্বেষী, বামপন্থী ও ভারতীয় এজেন্টদের ফেসবুক পোস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে সেগুলোকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।বাংলাদেশ সংবাদ       এদিকে, মঙ্গলবার দৈনিক ইনকিলাবের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই সমস্ত অপপ্রচার ও প্রপাগাণ্ডার স্বরূপ উন্মোচন করা হয়। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয় যে, বাক-স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় যা প্রচার হচ্ছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।       প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনের কেউই উমরাহতে আসা দম্পতি নন। তারা উভয়ই মসজিদে হারামে পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে মসজিদে হারামের ভেতর কিং ফাহাদ গেটের কাছাকাছি কোনো এক নির্জন জায়গায় তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হন। এটি কোনো সাধারণ ঘটনা বা কেবল চুমু খাওয়ার বিষয় ছিল না।       প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এটি ২০২৩ সালের ঘটনা। নিজেদের যিনায় লিপ্ত হওয়ার আগে তারা আরেক সহকর্মীকে পাহারায় রেখেছিল। সেই বন্ধু সুযোগে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যকার দর-কষাকষি বা টানাপোড়েনে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যায়। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিও বর্তমানে জেলে রয়েছে।       গত ১৪ অক্টোবর সউদী আরব ঘোষণা করে যে, নজরুল ইসলাম আব্দুল বসির ও সিতি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার দায়ে আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল এবং 'তাজির' (বিচারকের বিবেচনামূলক শাস্তি) ধারার অধীনে উচ্চতর আদালত ও রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়।       সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটিকে বড় ইস্যু বানিয়ে রিয়াদ-ঢাকার ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সউদী আরব বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের জন্য একটি প্রধান গন্তব্য এবং বাংলাদেশের জন্য রেমিট্যান্সের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রায় ত্রিশ লাখ বাংলাদেশি দেশটিতে বসবাস ও কাজ করেন, যার ফলে শ্রম অভিবাসন, কনস্যুলার সুরক্ষা এবং কর্মীদের কল্যাণের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বর্তমান বিতর্কটিকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে উমরাহ-হজে আসা লাখো মা-বোনেরাও বর্তমানে যে নিরাপত্তার সাথে নির্বিঘ্নে মক্কায় চলাফেরা করেন তা ভূলণ্ঠিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।বাংলাদেশ সংবাদ       দুই বাংলাদেশির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের ইসলামি স্কলাররা বলছেন, ‘‘অবিবাহিত হিসেবে তাদের প্রকাশ্যে একশত বেত্রাঘাত প্রাপ্য হলেও তাজির (বিচারকের বিবেচনামূলক শাস্তি) হিসেবে তাদের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি যথাযোগ্য হয়েছে। কেননা বাইতুল্লাহর মতো পবিত্র স্থানে এই অনৈতিক কাজ সংঘটিত হয়েছে। তাই সউদী আদালত এটিকে সাধারণ অপরাধের চেয়ে বহুগুণ গুরুতর হিসেবে গণ্য করেছে। আর শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন অপরাধের ভয়াবহতা যদি সমাজ ও ধর্মের পবিত্রতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে, তবে জনস্বার্থে এবং অপরাধের চরম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে বিচারক সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা তাজিরান কতলের রায় ঘোষণা করতে পারেন। সে হিসেবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিচারিক ফয়সালা হিসেবে ঠিক আছে। মানবাধিকারের ধুয়া তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা নিয়ে মায়াকান্না করে লাভ নেই।       এ বিষয়ে জামিয়া সিদ্দীকিয়া যাদুরচর মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী বলেন, জিনা জঘন্যতম কবীরা গুনাহ। বাইতুল্লাহর মতো পবিত্র স্থানে এই অনৈতিক কাজ সংঘটিত হওয়ায় সউদী আদালত এটিকে সাধারণ অপরাধের চেয়ে বহুগুণ গুরুতর হিসেবে গণ্য করেছে। অবিবাহিত হিসেবে তাদের প্রকাশ্যে একশত বেত্রাঘাত প্রাপ্য হলেও পবিত্র মক্কার হারামের পবিত্রতা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করায় এবং জনস্বার্থে বিচারক সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ‘তাজিরান কতল’ বা শিরচ্ছেদের রায় ঘোষণা করেছেন। এটি সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত ও যথাযথ হয়েছে।       বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রায় ত্রিশ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর কর্মসংস্থান এবং রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস সউদী আরব। বর্তমান বিতর্কটিকে কোনোভাবেই দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। উমরাহ ও হজে আসা লাখো মা-বোনের নিরাপত্তা এবং পবিত্র স্থানগুলোর সম্মান রক্ষার্থে এই ধরনের অপরাধের কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি ছিল। সুতরাং, অনুমান বা জল্পনা-কল্পনার ওপর ভিত্তি করে না, বরং যাচাইকৃত তথ্যের আলোকেই জনপরিসরে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা উচিত।       ইসলামি স্কলাররা আরও বলছেন, ‘‘যারা উল্টাপাল্টা ফেসবুকে লেখেন, তাদের লেখাগুলোর জন্য তারা দুনিয়ার আদালতে না, আল্লাহর আদালতে তারা অপরাধী হবেন। যেহেতু তারা কোনো প্রকৃত ঘটনা জানেন না। না জানার কারণে তাদের পক্ষে লেখালেখি তারা ওমরায় গিয়েছিলেন, চুমু দিছে, দাঁড়াইছে এই মিথ্যা কথাগুলো যারা লিখতেছেন, এটা মারাত্মক অন্যায়। এই অন্যায় থেকে সবাইকে বিরত থাকার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬

মস্কোয় জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পাঠাল জাপান

ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থানীয়দের লভ্যাংশ দেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

0 Comments