ইরানের নেতৃত্ব এবং সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান ব্যাপক হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক বাহিনীকে তাদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ইরানের জনগণকে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলেছেন।
জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েল, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান।
রোববার ইসরায়েল 'তেহরানের কেন্দ্রে' নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছে, আর ইরান পুরো অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হতে পারে সেটি নিশ্চিত করা।
"আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব। এটি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে," তিনি সোশ্যাল ট্রুথে পোস্ট করা আট মিনিটের এক ভিডিওতে বলেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করলে পুরোপুরি দায়মুক্তি পাবে, তা না হলে 'নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি' হবে।
এরপর তিনি ইরানের জনগণকে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতের জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান:
"আমরা যখন কাজ শেষ করবো তখন আপনারা আপনাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিবেন। এটি আপনাদের হবে। সম্ভবত প্রজন্মের পর প্রজন্মে এটাই হবে আপনাদের একমাত্র সুযোগ।"
অপারেশন এপিক ফিউরি নামের এই বিশাল সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প হুমকি দেওয়ার পর। তিনি বলেছিলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেবেন।
ইরান বারবার বলে এসেছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, যেসব জায়গা থেকে তাৎক্ষনিক হুমকি এসেছিল, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা ইরানি শাসনের নিরাপত্তা বলয়গুলো ভেঙ্গে দিতে চায়।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের 'সন্ত্রাসী শাসনের তৈরি অস্তিত্বগত হুমকি' নিরসনে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।
শনিবার সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে তেহরান, কারাজ, ইসফাহান ও কওম (মধ্যাঞ্চল) এবং পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ।
যেসব রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে, সে অনুযায়ী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি'র স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক বিমানঘাঁটি।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ জানিয়েছে, পশ্চিম ও মধ্য ইরানে 'ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলায়' প্রায় দুশো যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা দেন। রবিবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল তা নিশ্চিত করে।
ইরানে এখন প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। ফলে দেশটি থেকে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানের সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকবে।
দেশটির রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে দুশোর বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজ একটি গোয়েন্দা সূত্র ও একটি সামরিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হামলায় প্রায় ৪০ জন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
আইডিএফ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ইরানের সাতজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন ইরানের ডিফেন্স কাউন্সিল সেক্রেটারি আলি শামখানি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদে এবং আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, শনিবারের হামলা 'তেহরানের পথে অগ্রসর হওয়ার পথ তৈরি করেছে' এবং রোববারের হামলা শহরের মূল অংশে কেন্দ্রীভূত ছিল।
রোববার ইরানে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে ইসরায়েল দাবি করেছে যে কমান্ড সেন্টার ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।
ওদিকে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনীর নয়টি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নৌ সদর দপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বার আরাঘচি সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে অবৈধ একটি যুদ্ধ শুরুর দায়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছেন।
"আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী এই দিনের জন্য প্রস্তুত ছিল এবং আগ্রাসীদের তাদের প্রাপ্য শিক্ষা দেব," তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন।
সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ব্যাপক আকারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলে একাধিক হামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলায় বেইত শেমেশ শহরের একটি সিনাগগ ধ্বংস হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আরও প্রায় ৪৫০ জন আহত হয়েছেন।
কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতসহ যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
যদিও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে জানা গেছে। ওমান ও সৌদি আরবও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
রোববার বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন নৌঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্দর ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং কুয়েতে একজন মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, এই যুদ্ধে তিনজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের বাহিনী শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে সফলভাবে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলেছে।
ওই অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ-মিশন জানিয়েছে যে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড জাহাজগুলোকে রেডিও বার্তায় সতর্ক করেছে যে উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়েই হয়।
ইইউর ফরেন পলিসি প্রধান কাজা কাল্লাস রোববার বলেছেন লোহিত সাগর, উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে অতিরিক্ত জাহাজ মোতায়েন করে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করা হবে।
ইরান পরে সেখানে তিনটি তেলের ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সেগুলো পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
রোববার আলিরেজা আরাফির নাম অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার আনুষ্ঠানিক নির্বাচন জনগণের সরাসরি ভোটে হয় না।
বরং ৮৮ জন সিনিয়র ধর্মীয় নেতার সমন্বয়ে নিয়ে গঠিত একটি সংস্থা এই কাজটি করে থাকে। এই সংস্থার নাম অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস।
এর সদস্যরা প্রতি আট বছর পরপর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এই ধর্মীয় নেতাদের এখন যত দ্রুত সম্ভব নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে হবে। তবে দেশ যখন হামলার মুখে তখন নিরাপত্তাজনিত কারণে এ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এটি কোভিড-১৯ মহামারির পর বৈশ্বিক ভ্রমণে সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্নগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উইজ এয়ার ৭ই মার্চ পর্যন্ত ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবি, জর্ডানের আম্মান এবং সৌদি আরবে মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বুধবার পর্যন্ত তেল আবিব ও বাহরাইনে ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সুইস ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে: "সুইস এবং লুফথানসা গ্রুপ এর বিমান সংস্থাগুলো ৭ই মার্চ পর্যন্ত তেল আবিব, বৈরুত (লেবানন), আম্মান, ইরবিল (ইরাক) এবং তেহরানে ফ্লাইট স্থগিত রাখবে।"
কুয়েতের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানে সব ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
ইমেরেটস সাময়িকভাবে দুবাই থেকে ও দুবাইগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া, ভার্জিন আটলান্টিক এবং তার্কিশ এয়ারলাইন্সও তাদের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
ইরাক ও জর্ডানসহ কিছু দেশ তাদের তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা আংশিক ও সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাকিস্তানে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধের নির্দেশের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও। সোমবার (১৩ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে এ দরপতনের দৃশ্য দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ কমেছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ পতন লক্ষ করা গেছে। তবে তেলের বাজারে অস্থিরতা ছিল সবচেয়ে বেশি। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে রয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেও একটি আশার আলো দেখছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষকরা। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি সোমবার বাজারে যে বড় ধরনের ধস নামত তার মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। শুরুতে পতনের হার ১২ থেকে ৯ শতাংশ থাকলেও এখন তা ১ শতাংশের আশপাশে নেমে এসেছে। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। সাধারণত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বাজারকে আতঙ্কিত করলেও সপ্তাহের শেষে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার বা তার অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ফলে বাজার এখন বড় ধরনের ধাক্কাগুলো সামলে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করছে, যার কারণে প্রতি সপ্তাহে দরপতনের হার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে।
হাঙ্গেরিতে ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন। রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী নেতা পিটার ম্যাজারের নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টি বড় জয় পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা দিচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, তিসা পার্টি সংসদের ১৯৯টি আসনের মধ্যে ১৩৮টি আসন লাভ করেছে। ফলে তারা ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে অরবানের দল ফিদেজ মাত্র ৫৫টি আসন পেয়েছে। ফল ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই অরবান পরাজয় স্বীকার করে বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানান এবং বিরোধী দলে থেকে দেশের সেবা করার কথা বলেন। জয়ের পর রাজধানী বুদাপেস্টে হাজার হাজার মানুষ আনন্দ উদযাপন করে। পিটার ম্যাজার জনগণের উদ্দেশে বলেন, এই জয় দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তিনি দুর্নীতি দমন, সরকারি সেবার উন্নয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এই নির্বাচনের ফল আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন নেতা এটিকে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রায় ৩৫ বিলিয়ন শেকেল (সাড়ে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। মূলত সামরিক অভিযান এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে এ হিসাব ধরা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। ইসরায়েলি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, এই ব্যয়ের ফলে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি বেড়েছে সরকারি ঋণের বোঝা। মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, মোট খরচের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে। এই অর্থ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অভিযানের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেটে এই অতিরিক্ত অর্থ ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অর্থ ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেটে যোগ করা হয়েছে। সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাজনিত ক্ষতি, ব্যবসায়িক উৎপাদন হ্রাস এবং কর্মীদের অবৈতনিক ছুটির জন্য সরকারের ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনার মোট ব্যয় প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। বেসামরিক খাতে আরও প্রায় ৩২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের কার্যক্রম, জরুরি সেবা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের খরচ। খরচ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির সঠিক ব্যবস্থাপনা যুদ্ধের ময়দানে সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই বিশাল সাফল্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মীরাও সমান ভাগীদার।