অবশেষে ইরান যুদ্ধে যোগ দিল ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে দক্ষিণ ইসরাইলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে লড়াই শুরু করেছে গোষ্ঠীটি। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।
ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর এই প্রথমবারের মতো ইয়েমেন থেকে ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটল।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। হুমকি মোকাবিলায় এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী আন্দোলনের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের হামলা বাড়ালে তারা ইরানের সমর্থনে যুদ্ধে যোগ দিবে।
যদিও যুদ্ধের শুরু থেকেই এই অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল, তবে সরকারিভাবে ইয়েমেন থেকে আসা কোনো হামলার কথা ইসরায়েল এই প্রথম স্বীকার করল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ওমান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (২৮ মার্চ) আইআরজিসির খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানি বাহিনী ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা পূর্বেই যেমন ঘোষণা করেছি, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সম্মান করে। এদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি বলেন, ‘আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীকে সমর্থনকারী একটি রসদবাহী জাহাজকে ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে বেশ কিছুটা দূরে আইআরজিসি লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।’ এর আগে, বুধবার ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছিল যে, তারা উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা ইরানের নৌ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অভিযানটির বর্ণনা দিয়েছে। পিস টিভি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ইরনার তথ্যমতে, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেছেন, ‘শত্রু’ বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকনের গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। রণতরিটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাল্লার মধ্যে প্রবেশ করলেই সেটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এর ফলে রণতরিটিকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে তেহরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তেহরান পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করেছে। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় নতুন করে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ)। গত ১০ দিনের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনার কাছে হামলার ঘটনা ঘটল। শুক্রবার (২৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, তেহরান তাদের নিশ্চিত করেছে, হামলায় চলমান রিঅ্যাক্টরের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি। কেন্দ্রটি বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তিনি বলেছেন, ‘কোনো রিঅ্যাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শন করতে হবে।’ একই দিন তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ইরানের আরাক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে আগে থেকে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার করণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইরান। হামলা চালানোর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ফারসি ভাষায় এক সতর্কবার্তা দিয়ে আরাক শহরের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল এবং পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি খির আবাদ এলাকায় থাকা বেসামরিক লোকজনকে সরে যেতে বলে। তারা জানায়, ওই এলাকায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে আরাক হেভি ওয়াটার প্ল্যান্টটি অন্যতম। তবে ওই হামলার পর থেকে পুনরায় চুল্লিটির নির্মাণকাজ চালিয়ে আসছিল তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, আরাক পারমাণবিক স্থাপনার নির্মাণ পরিকল্পনা শুরু থেকেই ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। কারণ, এই ধরনের ভারি পানি রিঅ্যাক্টর থেকে প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করা সম্ভব, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। এ কারণে ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী ইরান এই স্থাপনাটির নকশা পরিবর্তনে রাজি হয়, যাতে প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের পথ বন্ধ করা যায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মাসব্যাপী হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির রাজপথে সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর মহড়া চলছে। তেহরানে আইআরজিসির সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপপ্রধান রহিম নাদালি জানিয়েছেন, দেশের এই সংকটে নিরাপত্তা টহলে অংশ নেওয়ার বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছর করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে ১২ বছর বা তারচেয়ে বেশি বয়সি শিশুরাও সশস্ত্র টহল ও চেকপোস্টে যোগ দিতে পারবে। বর্তমানে তেহরানের রাস্তায় মুখোশধারী বাহিনী এবং মেশিনগানবাহী পিকআপ ট্রাকের টহল একটি সাধারণ দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। আলজাজিরার খবর জানায়, ড্রোন হামলার ঝুঁকি এড়াতে এসব বাহিনী এখন নির্দিষ্ট স্থানে না থেকে ঘনঘন জায়গা পরিবর্তন করছে। রাজপথের এই সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি ইরান সরকার সাধারণ মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের মসজিদে জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিন্দা জানানো এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানিদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য রাজপথে নামার আহ্বান জানাচ্ছে। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানের মধ্যেই ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নারীসহ সাধারণ মানুষের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার দৃশ্য প্রচার করে রাজপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা এখন ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শুক্রবারের (২৭ মার্চ) বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যে সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপগুলো দখলের উদ্দেশ্যে আরও সৈন্য মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, এমন কিছু ঘটলে তারা কঠোর প্রতিশোধ নেবে।