অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। এটা কঠিন সময়, আমাদের স্বীকারই করতে হবে। একে তো অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে এই যে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে, সেটার কারণে অর্থনীতির উপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ যদি চলতে থাকে চাপটা আরও বাড়তে থাকবে।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায় খুব সজাগ আছি। ইতোমধ্যে আমাদের জ্বালানি যে প্রকিউরমেন্ট—ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখনো অব্যাহত আছে। যাতে জ্বালানির অভাবে মিল-কারখানা, পাওয়ার সেক্টর বাধাগ্রস্ত না হয়। সেটা এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।
সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনো পর্যন্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের চাপ সামাল দিতে চেষ্টা করছে সরকার। তবে ভবিষ্যতের চাপ সামলাতে জনগণকেও সংযমী হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য চেষ্টা করছি। যুদ্ধ যদি বেশিদিন অব্যাহত থাকে, চাপটা বাড়তে থাকবে। সেই চাপটা আলটিমেটলি জনগণের উপর আসবে। যেভাবে বিশ্বব্যাপী আসছে, সেটা বাংলাদেশেও আসবে। এটার জন্য জনগণের সমর্থন, সহযোগিতা, সহানুভূতি লাগবে, সংযম লাগবে।
আমির খসরু বলেন, সবাই মিলে তো সমাধান করতে হবে। সরকার সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু করছে। আমরা জনগণের সহযোগিতা ও সহানুভূতি চাই এবং সংযমও আমাদের মধ্যে থাকতে হবে। সংযমের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।
যুদ্ধ তো আমাদের হাতে নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যু্দ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়। এটার প্রতিফলন ঘটছে বাংলাদেশে। সবদেশে কম-বেশি। বাংলাদেশে বেশি কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের জ্বালানির মূল সোর্সটা। আমাদের উপর চাপটা অনেক বেশি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা জ্বালানিতেও চেষ্টা করছি। অলটারনেটিভ অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা জ্বালানি আনার চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু শুরুও হয়েছে। এই পর্যন্ত একটা ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে আমরা মোটামুটি ভালো জায়গায় আছি।
এ সময় চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে টেকসই স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে হলে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা : বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, অতীতে জবাবদিহিতার অভাব এবং অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণের ফলে অর্থনীতিতে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়েছে; যার প্রভাব এখনো বিদ্যমান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের বাইরে কোনো আলাদা সত্তা নয়; জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমেই একটি সুস্থ অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ সংযোগ ও স্বচ্ছতা ভেঙে গেলে অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। কিন্তু অতীতে এমন কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যেগুলোর যথাযথ যৌক্তিকতা ছিল না এবং প্রকৃত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের আওতাধীন বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগের (ওগঊউ) পর্যালোচনায়ও অনেক প্রকল্পে দুর্নীতি ও অকার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে; যাতে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই লাইসেন্স ও নিবন্ধন সেবা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এলএনজি, ক্রুড অয়েল ও সার আমদানির খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে; যা সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য করজাল সম্প্রসারণ অপরিহার্য। ব্যক্তিগত করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আসন্ন বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে। তিনি বেসরকারি খাতকে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করা সম্ভব।’ ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রাক-বাজেট আলোচনায় জেনারেল ইকনমিকস ডিভিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
কলম্বিয়া গতকাল শুক্রবার ইকুয়েডরের আমদানি পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করেছে। এর আগের দিন ইকুয়েডর একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পর এই পাল্টা ব্যবস্থা নেয় কলম্বিয়া। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। দুই দেশ কয়েক মাস ধরে এক ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ইকুয়েডরের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া অভিযোগ করে আসছেন যে বামপন্থী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার ও অবৈধ খনন দমনে ব্যর্থ হয়েছেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার কলম্বিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করে ইকুয়েডর। এর জবাবে পেত্রো বোগোতায় নিযুক্ত কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেন। বছরের শুরু থেকে দুই দেশ একে অপরের শুল্ক বৃদ্ধির পাল্টা হিসেবে ধারাবাহিকভাবে শুল্ক আরোপ করছে, যা শুরু হয়েছিল ৩০ শতাংশ থেকে এবং এখন তা ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে শুক্রবার বিকেলে পেত্রো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর পোস্টে জানান, কলম্বিয়ার শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাঁচামালের ওপর শুল্ক শূন্য শতাংশ থাকবে। কলম্বিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রী ডায়ানা মোরালেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছি।’ পেত্রো সাবেক ইকুয়েডরীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাসকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ বলে মন্তব্য করেন। ফলে এই সপ্তাহে উভয় দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গ্লাস ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রথমে বামপন্থী নেতা রাফায়েল কোরেয়ার এবং পরে লেনিন মোরেনোর সরকারের অধীনে কাজ করেন। দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতে শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স প্রবাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। আজ প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক (মার্চ ২০২৬)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যা ছিল ৩৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫.১১ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, একই সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা একটি ইতিবাচক প্রবণতা নির্দেশ করে। রিজার্ভের এই সঞ্চয় দেশের তারল্য বৃদ্ধি করেছে এবং ব্যালেন্স অফ পেমেন্টে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছে। এই উন্নতির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৩ হাজার ২০ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে এটি কাঠামোগত উন্নতি। উচ্চ আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (আরইইআর) ভিত্তিক বিনিময় হার নিম্নমুখীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির সংকেত দেয়। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার স্থিতিশীল বিনিময় হার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার সাফল্যকেই প্রতিফলিত করছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা কল্যাণে বড় অগ্রগতি হিসেবে চালের মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চালের মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪.২৪ শতাংশ, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৩৯ শতাংশে। বিশেষ করে মোটা চালে ঋণাত্মক মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে এবং মাঝারি ও উন্নত মানের চালের দাম কমেছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক। উন্নত সরবরাহ ব্যবস্থা, মৌসুমি ফসল এবং সরকারি মজুত থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে এই প্রবণতা দেখা গেছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রেখেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৮.১৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) অধীনে ব্যয় এবং ব্যবহারের হারও ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেশজুড়ে অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। ব্যাংকিং খাতেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে, যেখানে আমানত প্রবৃদ্ধি বছরে ১০.৪৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি জনগণের আস্থা ও সঞ্চয়ের অনুকূল পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি সতর্ক ও সক্রিয় নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে।