জাতীয়

জাপান সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর তিন লক্ষ্য

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো এবং দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ-এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখে টোকিও সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের এই সফরে জাপানের সঙ্গে অন্যান্য চুক্তি ও সমঝোতার পাশাপাশি ইপিএ কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। 

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ-১ অধিশাখা) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ইপিএ কার্যকর হলে জাপানের সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে। সেই লক্ষ্য নিয়ে এ চুক্তি করা হয়। তিনি জানান, আগামী সংসদ অধিবেশনেই ইপিএ অনুমোদন হতে পারে। এলডিসি উত্তরণ সামনে রেখে ইপিএ দুদেশের জন্যই একটি সম্ভাবনাময় চুক্তি হিসাবে দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অনেক বিষয় থাকলেও ইপিএ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে বলে আশা করছি। 

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইপিএ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই চুক্তিটি অনুমোদন হতে পারে। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ২৭ অক্টোবর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ছাড়াও কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনে আগ্রহী। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও গাড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর আগে গত ৬ অক্টোবর টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। ইপিএ’র আওতায় জাপানি গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্যে শুল্কসংক্রান্ত সুবিধা ও বিনিয়োগের নিয়ম সহজ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জাপানি গাড়ি বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশের তালিকায় না থাকায় স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের বাণিজ্যিক যুক্তিও তৈরি হতে পারে। ফলে টয়োটার পরিকল্পনা বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর গাড়ির বাজারকে ধীরে ধীরে উৎপাদনমুখী শিল্পে রূপান্তরের সম্ভাবনা তৈরি করছে। এরই মধ্যে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বাংলাদেশের রানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। ফলে জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে।

 

ইপিএ কার্যকর হলে ৭ হাজার ৩৭৯ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা : বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি হিসাবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইপিএ সই হয়। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে এ চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় নিয়ে এসেছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ির ৯৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে বাংলাদেশও জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে; অন্য অনেক পণ্যে পর্যায়ক্রমে ১৮ বছর পর্যন্ত শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ইপিএ শুধু শুল্ক কমানোর চুক্তি নয়। এতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, শুল্ক প্রক্রিয়া এবং বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম ও নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে। সংসদীয় অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি কার্যকরের পথ সুগম হবে। তাই আসন্ন সফরে ইপিএ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধাগুলো কার্যকর করার বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। 

 

৩০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা : জাপান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির অন্যতম সম্ভাবনাময় বাজার। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এছাড়া বিজিএমইএ খুব শিগ্গিরই এই রপ্তানি আয় ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এলডিসি উত্তরণের পরও পরবর্তী ৩ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল রাখার কথা দিয়েছে জাপান। অন্যদিকে জাপানের বার্ষিক পোশাক আমদানির বাজার প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ বিশাল এ বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ইপিএ’র আওতায় শুল্ক সুবিধা অব্যাহত থাকলে জাপানের ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে নিট ও ওভেন পোশাক, ডেনিম, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য এবং বৈচিত্র্যময় পোশাক রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। 

 

পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যেও বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, জাপানি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসাবে বিজিএমইএ গত মাসে তাদের উত্তরার কার্যালয়ে একটি ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করেছে। এছাড়া এশীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোকে আকর্ষণ করতে আগামী মাসে হংকংয়ে একটি রোডশোর আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর বড় ধরনের অংশগ্রহণ থাকবে। এছাড়া ইপিএ ও বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি জাপানের কাছ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে। তথ্যমতে, ২০২৬-৩১ মেয়াদে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজ প্রস্তাব করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। এতে সহজ শর্তের ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সমন্বয় থাকবে। প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহণ অবকাঠামো, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বন্দর ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন শিল্পে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাতারবাড়ীকে ঘিরে বন্দর, সড়ক-রেল যোগাযোগ ও শিল্প অবকাঠামো উন্নত করা গেলে রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য পরিবহণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ হবে। জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়িত মেট্রোরেল ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো প্রকল্প দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার উদাহরণ। এবারের সফরে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, নতুন অর্থায়ন এবং জাপানি ঋণের সুদহার কমানোর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

 

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে রাষ্ট্রদূত থাকছেন ঢাকায় : এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী ঢাকায় থাকবেন। ইতোমধ্যে তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই সফরের কূটনৈতিক বিষয়াবলি তদারকি এবং সার্বিক আয়োজন সমন্বয়ের বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সময়ে তিনি টোকিওতে থাকবেন এবং দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক কাজগুলোতে প্রধান ভূমিকায় থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে নজর তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরে

ভারতের দিল্লিতে কোথাও যেন অপেক্ষা করছে একটি করমর্দন। তবে এখনো এর সঙ্গে যুক্ত হয়নি কোনো চূড়ান্ত তারিখ, সফরসূচি কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।   তবে সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে নভেম্বর মাসের কথা বিবেচনা করা হলেও দুই পক্ষই আগে রাজনৈতিক পরিবেশের অনুকূলতা খুঁজছে। ভারত ও বাংলাদেশের দুই শীর্ষ নেতার করমর্দন কেবল ছবি তোলার আনুষ্ঠানিকতা নয়। বরং ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, বাণিজ্য ও দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী গভীর অবিশ্বাসের সময় পেরিয়ে কার্যকর সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে পারবে কি না, তারও ইঙ্গিত বহন করবে এই সাক্ষাৎ।     বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তারেক রহমানের আবির্ভাব সেই সুযোগ তৈরি করেছে।     তবে এই সফর সম্পর্কের মোড় ঘোরানো ঘটনায় পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করবে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে দুই সরকার কী নিয়ে আলোচনা, সমঝোতা ও বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত, তার ওপর। নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন     প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন তারেক রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বড় পরিবর্তন আসে, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তার প্রত্যাবর্তন। তার দেশে ফেরা ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্য একটি আবেগঘন মুহূর্ত।   তারেক রহমান এমন এক সময়ে দেশে ফেরেন, যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চাপের মুখে, অর্থনীতি নানা সংকটে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই মারা যান তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার জানাজায় ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয় এবং বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।     তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শক্তিশালী হলেও জটিলতামুক্ত নয়।   বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে তার বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। এই উত্তরাধিকার বিএনপির ভেতরে তারেক রহমানের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে বংশানুক্রমিক রাজনীতি, তার নিজস্ব রাজনৈতিক রেকর্ড এবং বিরোধী দলে থাকার সময়কার অভিযোগ নিয়েও তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।   নির্বাসিত জীবনে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংস্টনে থাকতেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যস্ততা থেকে দূরে তার জীবনযাপন ছিল তুলনামূলক শান্ত। রিচমন্ড পার্কে হাঁটা এবং ইতিহাসের বই পড়া ছিল তার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে।     টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে স্বল্পভাষী ও চিন্তাশীল হিসেবে দেখা গেছে। সেখানে দেশের চ্যালেঞ্জ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। যুক্তরাজ্যে সাধারণ জীবনযাপনের স্বাধীনতা (যেমন জনসাধারণের ভিড় কিংবা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের চাপ ছাড়াই হাঁটতে পারা) নিয়েও কথা বলেছেন তারেক রহমান।     দেশে ফেরার পর আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তিনি। তবে এখন তার জীবন নিরাপত্তা, দায়িত্ব ও জন-প্রত্যাশার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নির্বাসিত জীবনে অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শাসন পরিচালনায় কতটা কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।     এদিকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়। তবে এখন তার দায়িত্ব কেবল ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত বোধ করা একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়া নয়; বরং বিভক্ত একটি দেশকে পরিচালনা করা।     দিল্লির বার্তা ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আসে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর। তার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত শোকবার্তা তার হাতে তুলে দেন।     ওই সময় জয়শঙ্কর আশা প্রকাশ করেন, খালেদা জিয়ার ‘দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ’ দুই প্রতিবেশীর অংশীদারত্বের বিকাশে পথ দেখাবে। কারণ শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ভারতে তার অবস্থান, দেশত্যাগের পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের কারণ হয়ে ওঠে।     ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতি দিল্লির সঙ্গে আগের তুলনায় কম ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হয়। নিরাপত্তা, প্রকাশ্য বক্তব্য ও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাশা নিয়েও মতপার্থক্য তৈরি হয়।     বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের বিভিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে স্পষ্ট করা জরুরি ছিল। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুটি ঘটনাই ভারতের আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশের অংশ হলেও এগুলো আলাদা ঘটনা।     নির্বাচনের পরও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে ভারত। বিএনপির বিজয়ে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে টেলিফোনে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে ভারত থাকবে।’ দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন মোদি।     এই বক্তব্য সহযোগিতার পথ খুলে দিয়েছে, তবে দুই দেশের কঠিন সমস্যাগুলো মিটে গেছে—এমন ইঙ্গিত দেয়নি। একই সঙ্গে নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বদলে গণতান্ত্রিক বৈধতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে।     আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাগত তারেক রহমানের বিজয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিএনপি ও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। চীনও নির্বাচনে বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানায়। এসব বার্তা থেকে বোঝা যায়, বড় শক্তি ও আঞ্চলিক অংশীদারেরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।     তারেক রহমানের জন্য এই আন্তর্জাতিক মনোযোগ যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি চাপও বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়োজন বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। একই সঙ্গে কোনো একটি বহিরাগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব স্বার্থে নীতি গ্রহণের সুযোগও ধরে রাখতে হবে।     নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়ানোর কথা বলেছেন। দিল্লি, বেইজিং ও ওয়াশিংটন তার এই ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দেশটির নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে; শুধু ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারত রাজনৈতিক সমন্বয় ধরে নিতে পারে না। একইভাবে, বাংলাদেশের পক্ষেও সবচেয়ে বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।       ভারতের প্রতি তারেক রহমানের অবস্থান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বক্তব্যের পাশাপাশি তার সরকারের পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।       অন্যদিকে, বিএনপির ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়ানোর প্রতিশ্রুতি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দেয়। সেই ভারসাম্যের পরীক্ষায় থাকবে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের মতো অমীমাংসিত বিষয়।       দূত নিয়োগ ও নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া দিল্লির পক্ষ থেকে সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়ার আরেকটি সংকেত। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ত্রিবেদীর মতো একজন রাজনীতিবিদের এ পদে নিয়োগ ব্যতিক্রমী, কারণ সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকেরাই এ দায়িত্ব পালন করেন। দুই দেশ যখন আগের সময়ের টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তখনই ঢাকায় আসেন তিনি।     বাংলাদেশও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে ভারতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। তিনি এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। হামিদুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।     দায়িত্বরত পররাষ্ট্রসচিবকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো হলে ওই পদে কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়ে। এতে একজন জ্যেষ্ঠ পেশাদার কূটনীতিক দুই দেশের নিয়মিত যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অমীমাংসিত মতপার্থক্য সমাধানের প্রচেষ্টার কেন্দ্রে থাকবেন। গত ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়োগে অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তখনো নিশ্চিত হয়নি।     তবে শুধু দূত নিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দুই সরকার ধারাবাহিকভাবে এবং প্রকাশ্য বিরোধ কমিয়ে কঠিন বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে পারলে এ নিয়োগের সুফল পাওয়া যাবে।     এদিকে সম্ভাব্য নভেম্বরের সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাইকমিশনার ত্রিবেদী সংযতভাবে বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে এবং তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই।     বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, আলোচনা চলছে। তবে সফরের জন্য দুই পক্ষের অনুকূল পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।       তারিখ নিয়ে জল্পনার চেয়ে এসব বক্তব্য বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, অর্থবহ ফল পেতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে দুই পক্ষই স্বীকার করছে। তাড়াহুড়ো করে আয়োজিত বৈঠক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম তৈরি করতে পারে; আর সতর্ক প্রস্তুতির মাধ্যমে আয়োজিত বৈঠক পরবর্তী কাজের জন্য কার্যকর কাঠামো তৈরি করতে পারে।     ছবির বাইরেও সম্পর্কের বাস্তবতা আরও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে দুই দেশ নানা বাস্তব সুবিধা পেতে পারে। উন্নত পরিবহন যোগাযোগ ব্যবসার ব্যয় কমাতে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে পারে। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা শিল্প ও গৃহস্থালি—উভয় ক্ষেত্রেই সহায়ক হতে পারে। শিক্ষার্থী, রোগী, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করতে পারে পূর্বানুমানযোগ্য ভিসাব্যবস্থা। ভৌগোলিক নৈকট্যের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।     তবে অগ্রগতির জন্য পারস্পরিক ছাড় ও সহযোগিতা প্রয়োজন। পানিবণ্টন, বাণিজ্য এবং বিদ্যমান চুক্তিগুলো থেকে সুবিধা পাওয়ার ভারসাম্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ শুনতে হবে ভারতকে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য যেন বৈরিতার অজুহাত না হয়ে ওঠে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো দেশই অপর পক্ষের কাছে প্রতিটি দাবি মেনে নেওয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না; তবে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য ফল বয়ে আনে—এমন প্রক্রিয়া উভয়ের জন্যই লাভজনক হতে পারে।     যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানিবণ্টন, ভিসা ও যাতায়াত এবং দুই দেশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ—সবকিছু নিয়েই ধারাবাহিক মনোযোগ প্রয়োজন। তিস্তার পানিবণ্টন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল বিষয়। অন্যদিকে, আন্তসীমান্ত নিরাপত্তা ও বৃহত্তর আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে ভারতেরও উদ্বেগ রয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাপান সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর তিন লক্ষ্য

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে হুতি হামলার নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন মির্জা আব্বাস

ছবি: সংগৃহীত
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে মস্তিষ্কের বদলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক, বিতর্ক

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ায় প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।   গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   তবে মুদ্রণমালিকেরা জানিয়েছেন, বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বই সংগ্রহ করে সংশোধন করতে হলে বাড়তি খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে।   এনসিটিবির বই ছাপানোর হিসাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই ছাপানোর কাজে ধীরগতি রয়েছে। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা বই সংগ্রহ করে পরিমার্জন শেষে আবার শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছানো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।    এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে। আপাতত ছাপার কাজ বন্ধ রাখা এবং মাঠে চলে যাওয়া বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, ‘বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’   নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, দাঁড়িপাল্লা মূলত একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক। এ কারণে প্রতীকটি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।   বইয়ে যেভাবে এসেছে দাঁড়িপাল্লা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে চারটি স্তর রয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক।   উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে একটি বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে ব্যবহার করা হয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা।   এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।   আগের বইয়ে ছিল মস্তিষ্কের ছবি আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক ব্যবহারের পরিবর্তনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।   তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।   প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতিতে প্যাঁচা ও বইয়ের মতো প্রতীকও প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সংশোধনের পর ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে কোন ছবি রাখা হবে- তা এখনো জানায়নি এনসিটিবি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ফাইল ছবি

ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে

ভারতের নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সাঁধু, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশি। ছবি: সংগৃহীত

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দুই কমিশনারের চিঠি ফেরত পাঠালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ফাইল ছবি

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ফাইল ছবি
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২১৪ জনে।      এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও এক হাজার ১৩৫ শিশু।    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া, হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ১১০ শিশু।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এক হাজার ১০৩ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু।    দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ২৩ হাজার ২৭৩ জন। মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট কারচুপি হলে মাগুরার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না: ১১-দলীয় জোট

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত সাহেদের মরদেহ পৌঁছাল গ্রামের বাড়িতে

ছবি: সংগৃহীত

উইপোকা ও ইঁদুরে নষ্ট সঞ্চয়ের টাকা ফিরে পেলেন কৃষক তোফাজ্জল

0 Comments