জনগণের সঙ্গে সরকার ধোঁকাবাজি করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের নিজ এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রী বলেছেন অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়া হবে। দেশবাসীর প্রশ্ন, লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে ফেরতকৃত টাকা কীভাবে পৌঁছাবেন তিনি? এটা দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
জামায়াত আমির বলেন, ঈদের সময় যাত্রীরা টিকেট কিনতে গিয়ে দেখেছেন অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। যে আশা নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবে, সেমাই খাবে তার আনন্দ তো এখানেই মাটি হয়ে গেল।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে। অনিয়ম হলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি, যাতে দেশটা অচল না হয়। আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন, তাহলে সারাদেশের মানুষ কিন্তু জুলাই যোদ্ধা, এই মানুষগুলো আপনাদের ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, আমরা সরকারের কণ্ঠে শুনতে চাই, ‘আর বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, মানুষের ওপর জুলুম করা হবে না।’ আমরাও সরকারকে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, যদি সরকার কথা ও কাজে এটা প্রমাণ করতে পারেন, আমরা সরকারের সকল ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করব, সমর্থন করব। কিন্তু যে পদক্ষেপ জনস্বার্থের বিপক্ষে যাবে আমরা তার প্রতিবাদ করবো। এতেও কাজ না হলে, আমরা প্রতিহত করব।
প্রাণবন্ত এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, সিলেট মহানগর মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানী, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান, উপজেলা নায়েবে আমির জাকির আহমেদ, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা শূরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমেদ প্রমুখ।
নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ঈদের প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও নিজ এলাকায় আসায় জনগণ অত্যন্ত খুশি। বাড়িতে প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন। এসময় তাকে বিশাল মোটর সাইকেল বহর নিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। আজ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় ৪ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন ও মেহমানদের সঙ্গে তিনি দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লাল কাপড় না পেয়ে রেললাইনের ধার থেকে সংগৃহীত কলার মোচা উঁচিয়ে ট্রেন থামালেন এক নির্মাণ শ্রমিক। তার উপস্থিত বুদ্ধিতে নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা। সোমবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে রিবামপুর-ফুলবাড়ী স্টেশনের মাঝামাঝি চন্ডিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনের লোকোমাস্টার তহিদার রহমান জানান, তিনি ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস নিয়ে পঞ্চগড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী লোকো মাস্টার আসাদুজ্জামান খান। ট্রেনটি জয়পুরহাট ছেড়ে পরবর্তী গন্তব্য পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে ছুটছিল। বিরামপুর স্টেশন পার হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন, রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি লাঠির মাথায় লাল রঙের কিছু একটা নিয়ে ট্রেন থামার জন্য সংকেত দিচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি ৮২ কিলোমিটার গতিতে থাকা ট্রেনটি দাঁড় করাতে সক্ষম হন। ইঞ্জিন থেকে নেমে দেখেন রেললাইনের ৯ ইঞ্চির মতো একটি অংশ ভেঙে পড়ে আছে। পরে রেললাইন মেরামত শেষে ৪০ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি ছেড়ে আসে। তিনি বলেন, ট্রেনটি না থামানো গেলে নিশ্চিত দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হতো। ট্রেনের লোকোমাস্টার ট্রেন থামানো ব্যক্তির ছবি দিতে পারলেও পরিচয় দিতে পারেননি। পরে ছবির সূত্র ধরে সমকালের অনুসন্ধানে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার নাম মো. এনামুল ইসলাম। বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রাকপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে। তিনি মৃত ফজলুল হকের ছেলে। পেশায় তিনি নির্মাণ শ্রমিকের সহকারী। নির্মাণ শ্রমিক এনামুল হক সমকালকে জানান, তিনি ফজরের নামাজের পর রেললাইনের ধার দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ তার চোখে পড়ে রেললাইনের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে গেছে। কি করতে হবে ভেবে পাচ্ছিলেন না। হাতের কাছে কোনো লাল কাপড়ও ছিল না। পাশে পড়ে থাকা কলার মোচার লাল অংশ লাঠির মাথায় বেঁধে উঁচিয়ে ধরেন। এটি লোকোমাস্টারের নজরে আসলে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে যায়। পার্বতীপুর প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর ও হিলি সেকশনের মধ্যে ২৪ কিলোমিটার রেলপথ খুবেই ঝুকিপূর্ন। এর মধ্যে হিলি সেকশনে ১২ কিলোমিটার, পার্বতীপুর সেকশনে ৬ কিলোমিটার ও ডিও সেকশনে রয়েছে ৬ কিলোমিটার রেলপথ। পশ্চিম রেলে গত এক বছরে শতাধিক রেললাইন ভাঙার ঘটনা ঘটলেও শুধু হিলি সেকশনেই রেল ভাঙার ঘটনা ঘটেছে ৬২ বারের বেশি। পার্বতীপুর রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ আল আমিন বলেন, পুরাতন রেলের কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২০ অক্টোবর হিলি স্টেশনের কাছে চিলাহাটি ট্রেনকে বঁচিয়েছেন এক ইট ভাঁটা শ্রমিক। রেললাইন ভাঙার খবর পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলে ফিসপ্লেট লাগিয়ে রেল পথ সচল করা হচ্ছে। এতে স্লিপারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকতে হয় আমাদের। তিনি ট্রেনের দ্রুত গতিকেও লাইন ভাঙার একটি কারণ বলে মনে করেন। পার্বতীপুর রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, পার্বতীপুর-সান্তাহার পথের ২৪ কিলোমিটার পথে রেললাইন ভাঙার ঘটনা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৩ সালে নির্মিত রেললাইন এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে ওই পথে। ৯০ পাউন্ডের রেললাইন গুলো অনেক আগেই মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ১২০ পাউন্ডের রেললাইন বসানো হলে লাইন ভাঙা রোধ করা সম্ভর হবে। বিষয়টি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ঢাকা মহানগরীর ফুটপাত ও রাস্তা হতে দোকান, শোরুম, রেস্টুরেন্ট, ওয়ার্কশপ ইত্যাদির বর্ধিতাংশ অপসারণসংক্রান্তে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। সোমবার (২৩ মার্চ) ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের ফুটপাত ও রাস্তা থেকে মালপত্র ও সরঞ্জামাদি অনতিবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকান—যেমন খাবারের রেস্তোরাঁ, যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, পোশাকসামগ্রীর দোকান ও আসবাবপত্রের দোকান—নিজ নিজ দোকানের বাইরে অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা ব্যবহার করছে। এসব কারণে ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় সড়কে যানজটও তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় মহানগরীর সব এলাকার সংশ্লিষ্ট দোকান, ওয়ার্কশপ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ফুটপাত ও রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে রাখা মালপত্র ও সরঞ্জামাদি অনতিবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় আগামী ১ এপ্রিল থেকে ডিএমপির বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে কোদাল, অপরাধসংশ্লিষ্ট মালপত্র বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছে।
দেশজুড়ে যখন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মাতোয়ারা সব শ্রেণিপেশার মানুষ, ঠিক তখনই গাজীপুরের মনিপুর হোতাপাড়ার গিভেন্সী গ্রুপ পরিচালিত বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভিন্ন এক চিত্র। উৎসবের উচ্ছ্বাস সেখানে থমকে গেছে চার দেয়ালের ভেতর। এই কেন্দ্রে থাকা শতাধিক প্রবীণের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর সন্তানদের সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন। ঈদের মতো বড় উৎসবেও তাদের খোঁজ নিতে আসেন না অধিকাংশ সন্তান। কেউ কেউ ফোন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখেন না। কথায় আছে, বাবা মানে মাথার ওপর তপ্ত রোদে বটবৃক্ষের শীতল ছায়া, আর মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম পরিহাসে সেই, জান্নাত আজ অবহেলিত ঠিকানায়। ঈদের সকালে যেখানে নাতি-নাতনি আর সন্তানদের কোলাহলে ঘর মুখর থাকার কথা, সারা দেশে যখন নতুন পোশাকে শিশুদের কোলাহল সেখানে এই প্রবীণ নিবাসে বিরাজ করছে এক পিনপতন নীরবতা তখন এই কেন্দ্রের বারান্দায় বসে থাকা বাবা-মায়েদের চোখে কেবল অপেক্ষা। রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকা সেই দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকে একটাই প্রশ্ন আজ কি আসবে আমার সন্তান? একাধিক প্রবীণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকেই এক সময় সমাজে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের কর্তা ছিলেন। কারো সন্তান প্রকৌশলী, কারো মেয়ে প্রবাসে। কিন্তু কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক অজুহাত কিংবা সম্পর্কের টানাপড়েনে তারা আজ স্থান পেয়েছেন এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে। মনিপুর বৃদ্ধাশ্রমের হোস্টেল সুপার মোহাম্মদ হাবিবা খন্দকার বলেন, আমরা পরম মমতায় তাদের সেবা করার চেষ্টা করি। নতুন পোশাকে তারা সেজেছেন ঠিকই, কিন্তু সেই উজ্জ্বল রঙের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ধূসর বিষাদ। সন্তানের ফোন এসেছিল কিনা, বার বার একি প্রশ্ন তারা আমাকে করে যায়। তিনি বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি তাদের মুখে হাসি ফোঁটানোর। নতুন এক পরিবার গড়ে তুলেছি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এই মানুষগুলোকে নিয়ে। এখন একে অপরের পরমাত্মীয়। একে অপরের দুঃখ ভাগ করে নিতে নিতেই কাটছে তাদের নিঃসঙ্গ জীবন। ষাটোর্ধ পাখী বেগম, যিনি এক সময় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন, জানান সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের সবকিছু দিয়েছি। এখন তারা ব্যস্ত আমি তাদের জন্য বোঝা। তার মতো আরও অনেকের কণ্ঠে একই সুর অভিমান বেদনা আর না বলা প্রশ্ন। কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক ও বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও অধিকাংশ প্রবীণের মুখে ছিল না প্রত্যাশিত আনন্দ। বরং দিনভর তারা জানতে চেয়েছেন আমার ছেলের ফোন এসেছে কিনা। নগরায়ণ একক পরিবার ব্যবস্থা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে দিন দিন বাড়ছে প্রবীণদের নিঃসঙ্গতা। এই বাস্তবতা শুধু আবেগের নয়, একটি বড় সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। যেখানে একসময় বাবা-মা ছিলেন পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু, সেখানে এখন অনেকেই হয়ে পড়ছেন অপ্রয়োজনীয়। ঈদের আনন্দ যখন সাময়িক, তখন এই প্রবীণদের নিঃসঙ্গতা দীর্ঘস্থায়ী। উৎসব শেষে আলো নিভে গেলে, তাদের জীবনে থেকে যায় কেবল নীরবতা আর দীর্ঘশ্বাস। প্রশ্নটা এখন ব্যক্তিগত নয় সমিষ্টিক আমরা কি এমন এক সমাজের দিকে এগোচ্ছি যেখানে বাবা-মা হয়ে উঠবেন অবহেলার প্রতীক? সময় এখনও আছে।আজকের এই অবহেলা, আগামী দিনের প্রতিচ্ছবি। এবারের ঈদের অঙ্গীকার হোক কোনো বাবা-মায়ের শেষ আশ্রয় যেন আর বৃদ্ধাশ্রম না হয়।